ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৬:০৬:১১

সাব্বাস রাজা

সাব্বাস রাজা

  আমার বেলায় যেমন তেমন, তোমার বেলায় রাধ-রমন। তাহার বেলায় চন্ডি বাউল,যেমন খুশি, আউল-ফাউল। একতারা ভুলে গিটার বাজায়,বাউল বসে; রাজা গান গায়। তাতা-থৈথৈ, তাতা-থৈথৈ, তালে বেতাল, তাল হারিয়ে বেজায় মাতাল। রজকিনীর তালে বোলে, গিটারে ঝঙ্কার, একতারা ফেলে। ডিম-টমেটো-স্যন্ডেল যত, উড়ে আসে শত শত। গান ছাড়িয়া, প্রাণটি লইয়া, দ্বিগ-বিদ্বিগ, চৌদিকে ধাইয়া, দৌড়ে পালায় গাইন, আহা!! কি ফাইন!!, কি ফাইন!!জুতা খুলে, প্যান্ট ঢিলে, কাদা মাটি বুকে ঠেলে, ছুটছে দেখো কেমন রাজা, এক্সকিউজ মি! একটু হবে কি গাঁজা, হৈ হৈ বোলে, হুল্লোড় করে,দুষ্টুরা সব তাড়া করে। আহা কি যে ক্যাচাল,ধরতে পারলে, তুলে নেবে ছাল।দুষ্টুতো নয়, পিছে যেনো আস্ত মাইন, রাজা দৌড়ায়, কি ফাইন!! কি ফাইন!! বেল গাছ ছাড়িয়া, তাল পুকুরের তাল গাছে চড়িয়া, মদ্য খায় রাজা,মধ্যমা দেখাইয়া, সবাই দ্যাখো, দ্যাখো সবাই , ধরিয়া লাইন, সাব্বাস রাজা! কি ফাইন! কি ফাইন!
বই মেলায় সুবর্ণ আদিত্যর ফারদুন সিরিজের নতুন বই 

সুবর্ণ আদিত্য। বাংলা ভাষার কবি। বসবাস করেন ঢাকায়। ফারদুন সিরিজ- দ্বিতীয় কবিতার বই। যা ২০১৯ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে পেন্সিল প্রকাশনী প্রকাশ করেছে।     সুবর্ণ আদিত্য বিশ্বাস করেন- পৃথিবীতে ভালোবাসার কাছাকাছি কোনো চেতনা নেই। তিনি যাই-ই লেখেন, সেই লেখায় প্রেম-ভালোবাসা প্রাধান্য পায়। কবিতার বই ফারদুন সিরিজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কবিতা মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়-ভালোবাসাতে শেখায় কিংবা ভালোবাসতে নিবেদিতভাবেই উদ্বুদ্ধ করে। এবং যেহেতু জীবন একটাই এবং বেঁচে থাকাই চরম ব্যর্থতা মানুষের জন্য আর সমস্ত জীবনজুড়ে তীব্র হাহাকার রেখে যেতে চান থমকে যাওয়া পৃথিবীতে। সেজন্য একমাত্র, চূড়ান্ত আশ্রয় প্রেম—যা নিয়ে হাজির হওয়া কবিতার মঞ্চে। নিজের গায়ের চামড়া যেহেতু বেচি ভালোবাসার পাপে সেহেতু রোমান্টিক কবিতার ক্ষেত্রে ‘ফারদুন সিরিজ’অদ্বিতীয়। তার মতে, আমার ২য় কবিতার বই ফারদুন সিরিজ। সমগ্র কবিতাই একটা পরম্পরা ধরে এগিয়ে এক সুরঙ্গপথ আপনাকে সাগরে নিয়ে যাবে। ফারদুন মূলত একজন চরিত্র, যাকে নানান ফিরিস্তি দিয়ে সম্মোধন করা হয়েছে। যিনি পৃথিবীর সকল মানুষের আরাধ্য। এই যে আরাধনা—এটা যারাই করেন, (সবাই করেন, যেহেতু দিন শেষে আপনি বাসায় ফেরেন, আসতে হয়, এই যে আসতে হয় তাইই ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসার দ্বারাই পৃথিবী আর্বতিত হয়। সুতরাং আমি প্রেম-ভালোবাসা—মানে রোমান্টিকতাকে আঁকড়েই বেঁচে আছি, থাকতেও চাই।) তিনি প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা যেইই হোন না কেন—ফারদুন সিরিজ তাদেরই জন্য। শুধু বলতে পারি—কতটা বিশুদ্ধ কবিতা হয়েছে তা জানি না, তবে আপনাকে ফারদুন শেষ অব্দি টেনে নেবেই। এই সিরিজের সব কবিতাই একইসাথে আপনার মন ও মগজে আঘাত করবে। আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য—এমনকি হৃদয়ে রক্তক্ষরণে মরে যেতেও পারেন ভালোবাসার নামে। আর সব সময়ই আমি যা বলে এসেছি—যারা প্রেমে যাবৎজ্জীবন দন্ডিত এই কবিতা বই তাদের মুক্তি দিতে পারবে না। বরং ধ্বংসযঙ্গে দাঁড়িয়েও দ্বীধাহীন কণ্ঠে ঘোষণা করবেন—আমিই সেই বদ্ধমূল সাজা, কারারুদ্ধ করেছি জীবন। যদি প্রেমী হন—ফারদুনকে এড়িয়ে যাবার সাধ্য আপনার নেই। সমগ্র বাংলায় তোলপাড় দিতে, ভালোবাসা নিয়ে আপনাকে মুর্হুমুহু স্বাগতম জানাচ্ছে ফারদুন সিরিজ।হে হৃদয়সকল—আপনারা প্রস্তুত তো! ফারদুন সিরিজ থেকে ৫টি কবিতা দেয়া গেল। মুখ ও মুখোশ একদিন স্বপ্নের ভেতর তোমার হাত নিয়ে উড়ে গেলাম। ডানা কাটা আঘাত নিয়ে তুমি অলিম্পিকে গেলে। সাঁতারে গোল্ড জিতে ফিরে এসে আমার পা দু’খানা খুলে নিলে লং জাম্পে লড়বে বলে। উড়তে গিয়ে মোমের আকাশে আমার বুকের হাপর খুলে গেলোচালতার আচারের বোয়ামে রোদে শুকোতে দিলে ফুটন্ত হৃদপিন্ড। এখন তো আর তোমার হাত ফিরিয়ে দিতে পারি নাভালোবাসি—বলতে পারি নাআয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই...পুরোনো চেহারাটা খুঁজে নিতে নিতেমুখোমুখি হয়ে যাই মুখোশের ফারদুন—আমার মুখ, ফিরিয়ে দাও। হাড়ক্ষয় রোগ   হাসপাতালের বেডে...নরম ইনসুলিন চলছে—আমার রক্তের ভেতর নড়েচড়ে উঠছো ফারদুন হাড়ক্ষয় রোগ নিয়ে জন্মেছিলাম। এক স্বচ্ছ আকাশ রোদ আমাদের বাড়ি ঘিরে রাখে। ভেতরবাড়ির উল্লাস, কাঁপনের দরজা খুলে মা বাবাকেডাকেনদাদার আর কোনো ছেলেপুলে ছিল নানাতির সাথে গল্প করবেন ভেবে আমার আয়ুর বিনিময়ে প্রতিদিননিজেকে ইটভাটায় পোড়ান দাদার অবশিষ্ট হাড়বুকের পাজরে নিয়ে এখন আমি বাবার সাথে গল্প করি। ধ্যানবিদ্যা   ধ্যানবিদ্যা আত্মস্থ করতে করতে ধ্যানি হই। ফারদুনের ঠোঁটের কাছে নিজেকে অবনত করি প্রেম ও শোকে। যেহেতু আমাদের পৃথিবী ও বৃক্ষরা খুব উদার। মানুষ বলেই বারবার অসুখে পড়ি, রোগী হই। কোনো কোমল নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে ভেবে তৃতীয়বার ফারদুনকে ডাক্তার হবার পরামর্শ দিই। সমস্ত গরিমা নিয়ে হেঁটে যায় ফারদুন। আকাশের মত এক গমগমে পৃথিবী ফারদুনকে কেন্দ্র করে ঘোরে। ফারদুন—আমাকে স্পর্শ করো, খোলাচুলে বুকের কাছাকাছি ঝুঁকে আসো, ঘন নিঃশ্বাসে গাঢ় করে কপালে সেবন করাও মৃত্যু নিরঙ্গম। এরপর নত হতে হতে, তোমার বুক সমান আধিপত্য নিয়ে ফুল আর পাখির কাছে শিখে নিই সমূহ উড়াল জীবন। ফারদুনবিষয়ক চমৎকার পাখি একটি চমৎকার নিয়ে পাখিটি ডানা খুলে উড়াল দিলআমরা যেতে যেতে দেখলাম তার পালক পড়ে আছেযে পালকগুলি চড়া দামে কিনে এনেছিল তার প্রিয়তম প্রেমিক পাশেই পড়ে আছে যোগ-বিয়োগআমরা বুঝে নিইফারদুন গণিতে কাঁচাএকটা টিউটর নিয়োগ দিলে পাখিদের ভাষা শিখে নিতে পারত এইভেবে প্রতিদিন বাজারে হাট বাড়াইপাখিটি আরো আরো দৃশ্যবন্দি খাঁচায়নাম আটকে রাখে ফারদুন পাখি আঁকেযেহেতু সে গির্জায় শেষবার রেখে এসেছিল পিয়ানোতিলকনূপুরকবুতর আরদুটি হাত আমরা তার আঙুলসদৃশ কিছু কুড়িয়ে আনিপুনরায় পাখিটি চমৎকার নিয়ে উড়ে যায় আমরা মানুষ মানুষ ভাব ও মুখোশ নিয়েপ্রতিদিন তাকে ফোন করিতার স্বরে ভেসে আসে তীব্র করুণনীলকণ্ঠবেলুন কুয়াশা ভরা মোমের পুকুর এঁকেআরো কিছু দলছুট মাছ ও শিকারি বকপ্রতিবার শীত ডাকেঋতুর ভিড়ে শীতেরও দুঃখ থাকে নদীটা গণিতে খাটোগাছটা ছায়া বাঁকাএকদিনহঠাৎ... ফারদুন চমৎকার উড়ে গেল ঘুম ফারদুনের ঘুম পায়...প্রতিদিন তার জন্য ঘুম কিনে আনি বাবাও আমার জন্য ঘুম আনতেনমাতার সাথে অপেক্ষা মিশিয়ে দরজা খুলে রাখতেনভোর অবধি আমাকে ঘুমিয়ে দিয়েবাবা রোগী দেখতে বের হতেন একদিন এক রোগী এলো  মা’কে পাশে নিয়ে বাবা হাস্নাহেনার নিচে তিন যুগ ধরে ঘুমাচ্ছেন... রোগীর চোখে ঘুম দিয়ে আমি বাবা-মা’র পাশে শুয়ে পড়লাম... এসি    

তোমার স্বপ্নের চেয়ে তুমি যে অধিক পিতা

তোমাকে পাহাড়ে দেয় সারাক্ষণ অনিবার্য মৃত্যুর ফেরেস্তা;কবর তোমাকে পেতে কী নির্মম অপেক্ষায় তোমার পাশেইসর্বদা হা করে থাকে!চেয়ে চেয়ে দ্যাখে কখন দায়িত্ব শেষেদেবদূত চলে যাবে অন্যদিকে-অন্য কোনো শিকারের কাছে। জল্লাদের হাতে ধরা রশিটাও বহু দিন ধরে গুণতে থাকেকখন আসবে সেই যুগশ্রেষ্ঠ কয়েদির অন্তিম প্রহর;দিন যায় মাস যায় দুঃসময় স্থির যেন ঘড়ির কাঁটায়বিধ্বস্ত ভাটিজ ভুমি ডুবে থাকে এক রক্তাক্ত উপত্যকায়। এটা কোন কল্পকথা কিংবা কোন পাতালের রুপকথা নয়তোমার না থাকা নিয়ে তুমি ছিলে সবখানে গোপন বারুদঅগ্নিদগ্ধ জনপদে কী দারুণ সাহসী তোমার সন্তানেরামৃত্যুর বিরুদ্ধে এসে দলে দলে দাঁড়িয়েছে সে বারুদ বুকে;রক্তে ভাসে নীলপদ্ম,অকাতরে কত প্রাণ ঝরে পথে ঘাটে;শোকের বিছানা পেতে পড়ে থাকে বিধবার করুণ কঙ্কাল;ধর্ষিতা মা ও মেয়ের আর্তনাদে অমাবস্যা নেমে আসে,আরশোকার্ত মায়ের চোখে দিন আসে সুর্যহীন ভোরের আকাশেবিজয়ের রথে চড়ে সূর্য এলো,তবু যেন বিজয় অপূর্ণ। সেদিন যদিও উড়ে পতাকার সাথে সাথে উড়ে প্রাণের উল্লাস;উল্লাসে ছিল না প্রাণ,কণ্ঠে কণ্ঠে গান সুরহীন,আলো ছিল-আলোর ভেতরে তভ্য একটুকরো অন্ধকার ছিল?সেদিন ছিল না কেউ আলো থেকে দূর করে সেই অন্ধকার। যাঁর নামে মাতৃভূমি গায়ে দেয় অবিনাশী রক্তের পোশাকপ্রসন্ন নদীর জলে কে আবার তার নামে নৌকা বেয়ে যাবে?শত্রুকে তাড়ালো যারা তারা আজ তুমিহীন নিরানন্দে থাকে–তোমার স্বপ্নের চেয়ে তুমি যে অধিক প্রিয় পিতা সন্তানের চোখে। কী করে তোমাকে ছাড়া নিজয়ের মহোৎসবে পাহাড় সমুদ্রবীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেনের রক্ত বুকে দুর্বিনীত মহানন্দা নদীগাছপালা তরুলতা জঙ্গলের পশুপাখি বাউল সাধকসবাই মিলিত স্বরে গৌরবের জয়ধ্বনি দেবে - জয় বাংলা। অপেক্ষার তসবি হাতে জায়নামাজে বসে আছে তোমার সন্তান-পিতা!তুমি ফিরে আসবে প্রকৃত বিজয়ী বীর যোদ্ধার পোশাকে।(অতঃপর) কত গিরি নদীপথ পেরিয়ে তুমি এলে স্বপ্নের মতন;যেন মাঠে সোনা ফলে কৃষকের হাসি জমে ধানের গোলায়ফিনিক্স পাখির মত চিতাভস্মে জেগে ওঠে তোমার স্বপ্নেরদুঃখিনী সোনার বাংলা- শহীদের রক্তজাত প্রিয় বাংলাদেশ।    

এলিজি নেতার জন্য

(জননেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মরণে) যখন মাঠের মধ্যে নিত্য চলে নৃত্য অশুভের আমার পতাকা ওড়ে ঘাতকের বাড়ি ও গাড়িতে গোলাপের নাভিকুঞ্জে সুন্দরের মৈথুন কলায় অন্ধকার কাঁধে নিয়ে দেও-দৈত্য দু’হাত বাড়ায় অগ্নিদগ্ধ গণতন্ত্রে লাশ হয় আমার সতীর্থা রাশেদার প্রিয় স্বামী কলেজের নিরীহ শিক্ষক নব পরিণীতা অই মেয়েটির সুখের বাসরে উঁচিয়ে সঙ্গীন হাতে ছুটে আসে বুলেটসন্ত্রাস বিপন্ন মানুষ কাঁদে বুকে নিয়ে দীর্ঘ হাহাকার প্লাবনে বন্যার জলে এক সাথে শিয়াল কুকুর  আহা! পরস্পর মুখ চাটে পরম নির্ভরতায় তখন দেখেছি তাঁকে কী নির্ভীক ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় হাল ধরে পাড়ি দিতে বিপন্ন সময় কোন লোভ ঈর্ষা কিংবা কারো প্রতি চরম বিদ্বেষ কখনো দেখেনি জাতি এই অতি প্রচারবিমুখ কিছুটা নিঃসঙ্গ, অনেকটা ঘরকোনো স্বভাবের স্বপক্ষ বা প্রতিপক্ষ সকলের কাছে খুব প্রিয় নির্মোহ সরলমনা এমন সোনার মানুষটির সেই বহু দিন ধরে প্রতীক্ষিত মহাপ্রয়াণের দুঃসংবাদ যখন পেলাম মুহূর্তের মধ্যে আমি ক্রমশ পাথর হয়ে যাই; মনে পড়ে বহু স্মৃতি:   প্রকৃত মানবগুণে একজন রাজনীতিবিদ কী করে যে আলোকিত জীবনের পোশাক পরেন কখনো তা কাছে গিয়ে কখনও বা দূর থেকে দেখে রীতিমত অবাক হয়েছি; বুঝতে পারি রাজনীতি মানবজন্মকে দেয় এমন মহিমা যার জন্যে সকলেই নয়- কেউ কেউ যারা জন্মগতভাবে বাঁচেন অন্যের জন্য, যাদের নিজের কিছু নেই;   দেশ ও দশের জন্য নিজেদের সবটুকু যারা এমন কী নিজের প্রাণটাও হাসতে হাসতে নির্দ্বিধায় পারেন বিলিয়ে দিতে অকাতরে- তেমন শহীদ গর্বিত পিতার একজন পুত্র সৈয়দ আশরাফ কর্কট রোগের কী দুঃসহ যন্ত্রণাকে উপেক্ষায় পাশে ঠেলে রেখে দেশটাকে ভালোবেসে পিতাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার ব্রত নিয়ে নিরন্তর লড়াই করেন - তা জাতি কী করে ভুলবে !   হ্যাঁ, আমি পাথর হয়ে কারও বুকে আঘাত দেবো না: মনে ঈর্ষা কিংবা চোখে বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে কারও প্রতি অভিমানে রাগ করে নির্ঘুম প্রহর কাটাবো নির্মল চিত্তে স্বরচিত সজল পয়ারে না, আমি তেমন কোনো কবি নই, যার নামে বসন্তে পাতার নিচে গাইবে গান বিরহী কোকিল আমি অতি তুচ্ছ এক নাগরিক দুঃখিনী দেশের, যে দেশে পিতার রক্তে ভেসে যায় সন্তানের বুক: সন্তানের কান্না শোক জমে জমে পাথর হয়েছে, যে পাথরে নির্জনতা শুয়ে নাচে মৃত্যুর নেশায় নিজেকে জাগাতে আমি সে পাথরে প্রবল আক্রোশে হাতুড়ি চালাবো বলে যেইমাত্র সিদ্ধান্ত নিলাম অমনি পেছন থেকে কে যেন আমাকে কাছে ডাকে অদৃশ্য দু’হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, আসলে জীবন বলে কিছু নেই, দু’দিনের মায়া খুচরো পয়সার মতো দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে; মৃত্যুই চূড়ান্ত সত্য; তারপরও এও ধ্রুব জানি জীবন ফুরিয়ে গেলে শোনা যায় অন্য এক গান, যে গানে নতুন সত্যে জন্ম নেয় আরেক জীবন। লেখক : সাবেক সচিব।   এসি   

তুমি বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ

আমায় একটি রাত দাও, তোমাকে দেখার জন্য।   তোমার বিশ্বাস কাল হয়েছে, সোনার বাংলার মাটির বুকে।   তোমার কি ইচ্ছে করে না ফিরে আসতে! আমার কিন্তু ইচ্ছে করে, ১৯৭১ এর  সময় আমার জন্ম হলো না কেন?   আমাকে বলতে পারো, তোমার না বলার কথা।   আমি রাতের আলোতে, তোমার আওয়াজ শুনি।   তোমার শক্তি, আমার বিশ্বাসের পথ চলার আলো।   বাংলাদেশর জনক তুমি, বাংলা ভাষার প্রাণ তুমি।   নজরুলের কবিতার বল তুমি। আমি তরুণ তোমার পথ চেয়ে, নতুন গল্প লেখি ! তোমায় না দেখার কষ্ট নিয়ে।   কৃষকের হাসির  আওয়াজ, বার বার বলে দেয়! তুমি বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ।   আমি রক্তের বিছানা বানাবো!   তোমার নাম যেন, ঘুমের আঁধারে হারিয়ে না যায়।   আমার মৃত্যু বলে দিবে! তোমার সোনার বাংলাদেশ।   তোমার হাসির জন্য, আজও কান্না করে। বাঙ্গালির হৃদয়ের ছবি!   আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলবো! যে গল্প শেষ হবার নয়।   আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য বেঁচে আছি । সোনার বাংলার আকাশ, বঙ্গবন্ধুর নাম লেখে। অন্ধকারের আঁধারের মাঝে!   রাত আমি ভয় পাই! ১৫ আগস্টের নীরবতা দেখে।   বাংলাদেশ আমায় ক্ষমা করো! রাত আমি ভুল করেছি।   তোমাদের জাতির জনককে, আলো দিয়ে। ঘাতকদের হাত থেকে, রক্ষা করতে পারি নাই।   আমি দিনের আলো বলছি , আমায় ক্ষমা করো বাংলাদেশ।   আমি তোমাদের নেতার দেহকে ! দিনের আলোতে, সবাইকে দেখাতে পারি নাই ।   ওরা ঘাতক !  ওরা মানুষ নামক জানোয়ার।   ভয় নয় আর ঘাতকদের দেখে ! এবার সময় এসেছে। ঘাতকের মৃত্যুর বিছানা, তৈরি করার জন্য। লেখক: পোর্ট  সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

কবি আল মাহমুদের ৮৩তম জন্মদিন আজ

আধুনিক বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৮৩তম জন্মদিন আজ ১১ জুলাই। ১৯৩৬ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।পঞ্চাশের দশকে আবির্ভূত কবি আল মাহমুদ কবিতা ছাড়াও লিখেছেন উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী ইত্যাদি।১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের প্রথম কবিতার বই `লোক লোকান্তর`। এর তিন বছর পর ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় তার আরও দুটি কবিতার বই `কালের কলস` ও `সোনালী কাবিন`। এর মধ্যে `সোনালী কাবিন` তাকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। এ ছাড়া তার `মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো`, `অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না`, `একচক্ষু হরিণ`, `মিথ্যাবাদী রাখাল` ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ উল্লেখযোগ্য।`কাবিলের বোন`, `উপমহাদেশ`, `ডাহুকি`, `আগুনের মেয়ে`, `চতুরঙ্গ` ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। `পানকৌড়ির রক্ত`সহ বেশ কিছু গল্পগ্রন্থও রচনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া `যেভাবে বেড়ে উঠি` তার উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।সৃজনশীল সাহিত্য রচনার জন্য অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আল মাহমুদ। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার ও কলকাতার ভানুসিংহ সম্মাননা উল্লেখযোগ্য।এসএ/  

রূপান্তরের গল্প

আমাদের বসবাস ওইখানে, ওইখানে শুয়ে থাকি মহাকাল মহারণে। এখানে আনন্দ-কোলাহল পরিপূর্ণ এখানে নবতর প্রত্যাশা আন্দোলিত এখানে হৃদয় প্রসারিত হয় বেলুনের মতো।        আত্মা মুক্ত, বাঁধাহীন থাকে অহরহ        হাফ ছেড়ে বাঁচা যায় নিশ্চিন্তে        হৃদয় উজার হয় নব আকাক্সক্ষায়        নির্বোধ লজ্জা পালিয়ে যায়        নিজ অন্তর প্রকাশিত হয় উদারচিত্তে        প্রত্যাবর্তন করি আনন্দঘন দিনে। এখানে রোগযুক্ত সবাই, রোগের কবলে পড়ে        আকস্মিক কান সজাগ হয়ে উঠল,        নেমে এল মৃত্যুর মতো স্তদ্ধতা। এখানে সুমিষ্ট ধূপকাঠির গন্ধ ছড়ানো এখানে দেবদারু নির্যাস পোড়ানো গন্ধ চারিদিকে।        মানুষ কী যেন ভাবে,        এক অব্যক্ত ভাষায় বিড়বিড় করে        পৃথিবীতে মানুষের বেদনা অনেক। এখানে ধূসর রঙে লুকিয়ে থাকে বিশ্বাস গোপনে        গোপন রহস্যে ঈশ্বর থাকে        ঈশ্বরের ক্ষমতা অমর        ঈশ্বরের ক্ষমতা অশেষ। আমরা চলি বক্র ও সরল পথে        আত্মতৃপ্তি !        ঘৃনিত আত্মতৃপ্তি !! ওইখানে আত্মার উত্তরণ অনিবার্য ওইখানে আত্মার নিকৃষ্টতম অশুচি পথপ্রদর্শক আলোকশিখা জ্বলে ওইখানে এখানে মানুষের বসবাস স্বর্গসুখে। একে//

কবি সিকদার আমিনুল হক’র ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আধুনিক বাংলা কবিতার ষাট দশকের অন্যতম র্শীর্ষ কবি সিদকার আমিনুল হক-এর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ মে।২০০৩ সালের এই দিনে কবি, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, কলামিষ্ট সিকদার আমিনুল হক ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।কবি সিকদার আমিনুল হক ১৯৪২ সালের ৬ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে ঢাকায় চলে আসেন। স্কুল জীবনেই তার লেখালেখি শুরু হয়। কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলাদেশ ও পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাহিত্য ম্যাগজিনে তার লেখা প্রকাশ পেতে থাকে। কবিতার পাশাপাশি সাহিত্য বিষয়ে প্রবন্ধ, কলাম লিখেন তিনি। ষাট দশকে পরাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিয়য়েও তিনি অসংখ্য কবিতা লেখেন। তার কবিতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সাধারন মানুষের জীবনযাপন, তাদের সুখ-দুঃখ এবং মানবিকবোধের নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।ষাট দশকের খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম সিকদার আমিনুল হক সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন। দৈনিক দেশ গ্রুপের‘ বিপ্লব’ নামে একটি সাহিত্য ম্যাগাজিন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। নিজের সম্পদনায় ‘স্বাক্ষর’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা দীর্ঘদিন প্রকাশ করেন।কবি সিকদার আমিনুল হকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দূরের কার্নিশ’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্য ও অন্যান্য গ্রন্থ হচ্ছে -তিন পাঁপড়ির ফুল (১৯৮২), আমি সেই ইলেকট্রা (১৯৮৫), বহুদিন অপেক্ষা বহুদিন অন্ধকার (১৯৪২), পত্রে তুমি, প্রতিদিন জলে (১৯৮৭), এক রাত্রি এক ঋতু (১৯৮৬), সুপ্রভাত এই বারান্দা (১৯৯৩), কাফরার জামা, রুমালের আলো ও অন্যান্য কবিতা, কবিতা সমগ্র, গদ্য সমগ্র, নির্বাচিত কবিতা।কবি ১৯৯৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়াও বেশকিছু পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।কবির লেখালেখি, জীবন ও কর্ম সম্পর্কে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, সিকদার আমিনুল হকের কবিতায় বৈচিত্র রয়েছে। নিজম্ব একটা ধারা সৃষ্টি করেন বয়ানে এবং কবিতার নির্মাণে। এটাই হচ্ছে একজন কবির বড় পরিচয়। আমরা একই সময় থেকে লিখতে শুরু করি। সে ছিল নিভৃতের বাসিন্দা। অত্যন্ত খোলামেলা বলতেন সব কথা ও চিন্তার বিষয়গুলো। স্পষ্টভাষী ছিলেন। সূত্র : বাসস এসএ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি