ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩৪:০২

যে কারণে জীবন্ত আগ্নেয়গিরির ঠিক নিচেই বসবাস

যে কারণে জীবন্ত আগ্নেয়গিরির ঠিক নিচেই বসবাস

আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমে আটলান্টিকের বুকে একটি দ্বীপপুঞ্জের নাম কেপ ভার্দে। অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরিতে ঘেরা এই দেশের দ্বীপগুলো, আর তা থেকে অগ্ন্যুৎপাতও হয়ে থাকে নিয়মিত। সম্প্রতি কেপ ভার্দেতে একটি আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা নি:সরণের পর তা নিচের গ্রামগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। লাভার স্রোত ঢুকে পড়েছে বহু লোকের বসার ঘরে পর্যন্ত, কিন্তু তারপরও তারা সেই বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না। সাবেক ব্রিটিশ প্যারাঅলিম্পিয়ান অ্যাথলিট এড অ্যাডেপশিয়ান দেখা করতে গিয়েছিলেন কেপ ভার্দের এমনই একজন বাসিন্দার সঙ্গে। আসলে আমি বা আপনি কি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির পাদদেশে থাকতে রাজি হব? উত্তরটা নিশ্চয়ই হবে না। অথচ কেপ ভার্দের অনেক লোকজন কিন্তু ঠিক সেটাই করছেন। আর তাদেরই একজনের বাড়িতে গিয়ে একেবারে তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন সাবেক প্যারা-অ্যাথলিট এড অ্যাডেপশিয়ান। রামিরোর বাড়িতে ঢুকেই তিনি দেখেন, ড্রয়িং রুমের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়েছে জমাট লাভাস্রোত। বিস্ময় চাপতে না-পেরে তিনি বলে ওঠেন, ‘এটা কী করে সম্ভব? এ তো অবিশ্বাস্য! দেওয়ালে পর্যন্ত ফাটল ধরে গেছে লাভার চাপে।’ ওই বাড়ির মালিক, ব্যবসায়ী রামিরো কিন্তু বলছিলেন, ‘যখন অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় আমরা একেবারেই ভাবিনি যে সেটা এত ভয়ঙ্কর হবে।’ ‘তবুও আমাদের সৌভাগ্য বলতে হবে ও আমি আর আমার ছেলে মিলে বাড়িতে যা সব দামী জিনিসপত্র ছিল তার প্রায় সবই বের করে নিতে পেরেছিলাম।’ জমাট লাভা থেকে একটা পাথরের টুকরা হাতে তুলে নিয়ে অ্যাডেপশিয়ান বলতে থাকেন, ‘বিশ্বাস করা যায় এটা একটা আগ্নেয় শিলা?’ ‘ভাবুন তো, নিজের ড্রয়িং রুমে বসে আপনি টিভিতে ইস্টএন্ডার দেখছেন আর রিল্যাক্স করছেন - এমন সময় হঠাৎ গরম লাভার স্রোত হুড়মুড় করে আপনার ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ল!’ ‘আমি তো ভেবেই স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছি- বিশ্বাসই করতে পারছি না এমন কিছু কখনও ঘটতে পারে।’ কেপ ভার্দের ফোগো আইল্যান্ডে ‘পিকো দো ফোগো’ আসলে একটি খুবই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, আর এই সাংঘাতিক কাণ্ডটি সেই ঘটিয়েছে। সেটির অগ্ন্যুৎপাতে আচমকা ভেসে গেছে নিচের দুটি গ্রাম- কিন্তু তার পরও রামিরো ও তার বন্ধুরা কিছুতেই সেই গ্রাম থেকে সরতে রাজি নন। ওই গ্রামের লাভাবিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে অ্যাডেপশিয়ান তাকে জিজ্ঞেস না করে পারেন না, ‘মাথার ওপর এত বিশাল একটা আগ্নেয়গিরি থেকে যে কোনও সময় উদ্গীরণের ভয়- সেই আতঙ্ক মাথায় নিয়ে এই গ্রামে কীভাবে পড়ে থাকতে পারেন?’ রামিরো নির্বিকারভাবে জবাব দেন, ‘আমি আসলে জীবনে দুই দুবার সাংঘাতিক অগ্ন্যুৎপাত দেখেছি- দেখেছি কীভাবে গরম ফুটন্ত লাভার স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ ‘কিন্তু বিশ্বাস করুন কখনও দেখিনি সেই অগ্ন্যুৎপাতে কাউকে মারা যেতে- আর সেটাই আমাকে এখনও এই গ্রামে রয়ে যাওয়ার ভরসা জুগিয়েছে, আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।’ সূত্র: বিবিসি একে//
নাইজেরিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত ৬০

নাইজেরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের হামলায় নিহত হয়েছেন ৬০ জন। সোমবার দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর রাণে এ ঘটনা ঘটেছে। এই জঙ্গিগোষ্ঠী সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির পরিচালক ওসাই ওজিঘো জানিয়েছেন, বেসামরিক লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বোকো হারাম। এটা নাইজেরিয়ার যুদ্ধাপরাধের ফসল। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি করেছে বোকো হারাম। সেনাসদস্যদের হত্যা করে সামরিক ঘাঁটি দখলে নিচ্ছে তারা। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা। এসএইচ/

মিশরে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদল গঠনের ডাক দিল ইখওয়ান

মিশরে সম্মিলিত বিরোধীদল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন। সামরিক শাসক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসিরি হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য দলটি এ ডাক দিয়েছে। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারির বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইখওয়ান বলেছে, সামরিক শাসকের হাত থেকে মিশর ও কারাবন্দীদের মুক্ত করার জন্য এমন ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদল গঠন করা দরকার। এজন্য সংগঠনটি বিদেশে অবস্থান করা বিচারকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিদেশে এ ধরনের ঐক্যবব্ধ সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা দেশের বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদেরকে কাজ করতে সহায়তা করবে। মিশর বিপ্লবের স্বার্থ ও বিরোধীদেরকে রক্ষার জন্য সব ধরনের সহিংসতা এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে ইখওয়ানের বিবৃতিতে। জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসি ২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে ইখওয়ানুল মুসলিমিনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করেন এবং দলের নেতা-কর্মীদের সম্পদ জব্দ করা হয়। এছাড়া, বহু নেতা-কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জেনারেল সিসির সরকার। মিশরে পুলিশের বিনা অনুমতিতে কেউ কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবে না বলে সিসি সরকার আইন পাস করে রেখেছে। জেনারেল সিসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ হাজার বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি এ তথ্য বার বার অস্বীকার করে আসছেন। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

কেনিয়ায় হোটেলে জঙ্গি হামলা, নিহত ১১

কেনিয়ার একটি হোটেলে জঙ্গি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাজধানীর একটি হোটেলে  স্থানীয় সময় ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-শাবাব। কেনিয়ার পুলিশ প্রধান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বন্দুকধারীরা হোটেলের লবিতে ঢোকার আগে কার পার্কিং এলাকার যানবাহনে বোমা ছুড়ে মারে। সেখানে একজন আত্মঘাতীও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলার ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে হোটেলের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে হোটেলটির পাশে নদীর ধারের ফুটপাতে ৬টি মৃতদেহ এবং ৫টি মৃতদেহ হোটেলের গোপন বাগানে দেখা গেছে। এ ঘটনায় আহত আরো অনেককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পরপরই সরকারি বাহিনী সেখানে অবস্থান নেয় বলে জানিয়েছেন দেশটির ‍পুলিশের মুখপাত্র। ‍পুলিশের মুখপাত্র জানান, এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি ঘটন করার কথাও জানান তিনি। তথ্যসূত্র: সিএনএন এমএইচ/    

সুদানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ: নিহত ২৪

বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে সুদানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এরইমধ্যে সহিংস রূপ ধারণ করেছে। গত মাসে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ বিক্ষোভের কারণ অনুসন্ধানে সুদান সরকারের গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান আমির ইব্রাহিম শনিবার এ তথ্য দেন। রুটির মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে সুদানের বিভিন্ন শহরে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে এই আন্দোলন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রুপ নিয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সুদানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এর আগে গত বছর রুটির ওপর ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সুদান সরকার। এই  ঘোষণার পর রুটির মূল্য দ্বিগুণ হয়ে গেলে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বাধ্য হয়ে গত নভেম্বরে আটার ওপর ৪০ শতাংশ ভর্তুকি বাড়ায় সরকার। সম্প্রতি সরকারের ভর্তুকি পাওয়া রুটি ও জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বেকারি ও পেট্রোল পাম্পে লাইন দিতে বাধ্য হয় মানুষ। ১ পাউন্ডের রুটির দাম বেড়ে তিন পাউন্ডে পৌঁছানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। এখনো সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দেশটিতে চলমান রয়েছে।   এমএইচ/

মালিতে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৩৭

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির মধ্যাঞ্চলে ফুলানি সম্প্রদায়ের একটি গ্রামে সশস্ত্র লোকদের হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাখালরা গ্রামটিতে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনা। দেশটির সরকার এ কথা জানায়। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা দোজো জাতির শিকারীদের মতো পোশাক পরে মোপতি অঞ্চলের বাঙ্কাসের কাছের কোউলোগোন গ্রামে এ হামলা চালায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের সবাই বেসামরিক লোক। হামলাকারীরা অনেক বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ফুলানি সম্প্রদায়ের আলায়ে ইয়াত্তারা বলেন, আমাগেদর গ্রামের প্রধান মুসা দিয়াল্লো এই হামলায় নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এতে তার পরিবারের এক বৃদ্ধা ও এক বালিকা নিহত হয়েছেন। ফুলানীরা ডোগোনদের জমিতে তাদের পশু চরাতে যাওয়ায় উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পানি ও জমি নিয়েই এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। সূত্র: বাসস একে//

‘মার্কিন জাহাজকে ‘পণবন্দী’ করার ক্ষমতা রাখে ইরান’

সামরিক প্রযুক্তির দিক দিয়ে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ সেকেলে এবং ইরান ইচ্ছা করলে তা পারস্য উপসাগরে ‘পণবন্দী’ করতে পারে। এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান লেখক ও কালচার ওয়ার্স ম্যাগাজিনের সম্পাদক ই. মাইকেল জোন্স। সম্প্রতি ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেছেন। গত সোমবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে মোকাবেলার জন্য আমেরিকা নতুন করে পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জন সি স্টেইনিস এবং তার সঙ্গে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে ভারত মহাসগর পাড়ি দিচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তা পারস্য উপসাগরে পৌঁছাবে। মাইকেল জোন্স বলেন, ‘জেনারেলরা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যা করে আমরা এখানে তাই দেখছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের প্রধান উপায় হিসেবে যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে বিমানবাহী জাহাজ আনা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘বিমানবাহী জাহাজ হচ্ছে বহনযোগ্য বিমানবন্দর। আপনি এগুলোকে বিশ্বের যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিতে পারেন এবং শক্তি প্রদর্শন ও লোকজনকে হামলা করতে পারেন। কিন্তু এটা এখন সামরিক প্রযুক্তির দিক দিয়ে সেকেলে হয়ে গেছে।’ মাইকেল জোন্স বলেন, যদি মার্কিন বিমানবাহী জাহাজকে পারস্য উপসাগরে নেওয়া হয় তাহলে ইরানিরা হরমুজ প্রণালীতে অন্য জাহাজ ডুবিয়ে বিমানবাহী জাহাজকে আটকে দিতে পারে। পরিস্থিতি এমন হলে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজের চলার কোনো পথ থাকবে না। অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে কিনা। কেউ এ প্রশ্নের উত্তর জানে না। কাস্পিয়ান সাগরে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথমবার যখন রাশিয়া সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো তখন ভূমধ্যসাগর থেকে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে এটা এখন অনেক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম কিনা। ফলে আমরা এখানে যা দেখছি তা হচ্ছে সেকেলে প্রযুক্তির শক্তি প্রদর্শন।  তথ্যসূত্র: পার্সটুডে  এমএইচ/

একজন বদমেজাজী পুরুষ যেভাবে বদলে গেলেন 

স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন মুহোযা জন পিয়েরে। তিনি স্ত্রীকে শুধুমাত্র সন্তান ভরণপোষণের উপলক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতেন।    "আমি আমার বাবার উদাহরণ অনুসরণ করছিলাম; তিনি কখনও ঘরের কোনো কাজ করতেন না।" পিয়েরে বলেন, "আমি কখনো ঘরে ফিরে যদি দেখতাম কোনো কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, আমি আমার স্ত্রীকে বকাঝকা করতাম এবং তাকে প্রহারও করতাম।" কিন্তু হঠাৎ অবস্থার পরিবর্তন হয় যখন পিয়েরে রান্না করতে শিখলেন। "পুরুষ মানুষ ঘরের কাজ করে না` - পুরুষদের মধ্যে বিদ্যমান সনাতন এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে অভিনব একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে রুয়ান্ডার একটি সংস্থা। এই প্রকল্পের অধীনে সন্তান লালন পালন এবং গৃহস্থালির দেখাশোনা সংক্রান্ত কিছু বিষয়েও শিক্ষাদান করা হয় স্থানীয় পুরুষদের। এই উদ্যোগটি রুয়ান্ডার পূর্বাঞ্চলের মুউলিরে গ্রামে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচালিত হওয়া একটি সামাজিক সংস্কারমূলক প্রকল্পের অংশ। রুয়ান্ডার পুরুষদের ঘরের কাজ করতে শেখানোর এই প্রকল্প হাতে নেয়ার মাধ্যমে দেশের ভেতরে পারিবারিক সহিংসতার হার কমানোর প্রচেষ্টা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সফলতা পাচ্ছে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। মানসিকতার পরিবর্তন  `বান্দেবেরেহো` নামের ঐ প্রকল্পটির স্বেচ্ছাসেবীরা জন পিয়েরে`কে এমন কিছু কাজ করতে শিখিয়েছে যেগুলো তিনি আগে মনে করতেন যে শুধু নারীদের কাজ। "এখন আমি জানি কীভাবে রান্না করতে হয় এবং বাচ্চাদের কাপড় পরিষ্কার করতে হয়।" তবে জন পিয়েরে`র মানসিকতায় পরিবর্তন আনাটা কিন্তু সহজ ছিল না। জন পিয়েরে`র বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা যখন জানতে পারলো যে তিনি ঘরের কাজ করা শিখতে যাচ্ছেন তখন তাকে সবাই তিরস্কার করেছিল। "আমার পরিবারের সদস্য আর বন্ধুরা ধারণা করেছিল যে নিশ্চয়ই আমার স্ত্রী আমাকে জাদু করেছে। তারা আমাকে বলে, আসল পুরুষ কখনো রান্নার জন্য লাকড়ি যোগাড় করে না বা খাবার তৈরি করে না।" কিন্তু জন পিয়েরে যখন দেখলেন তার এই শিক্ষায় তার পরিবার দারুণভাবে উপকৃত হচ্ছে, তিনি তখন সেসব কথায় কান দেননি। তিনি বলেন, তার সন্তানদের সাথে তার সম্পর্ক ভালো হয়েছে এবং তার স্ত্রী এখন কলার ব্যবসা শুরু করেছেন, যার ফলে তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে; তারা তাদের ঘর বড় করেছেন। "আমার স্ত্রী এখন নিজের সুবিধা-মতো ব্যবসা করে এবং ঘরের কাজও করে, যার ফলে আমাদের পরিবার আগের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থানে পৌঁছেছে। আগে আমার ধারণা ছিল স্ত্রীকে সবসময় ঘরে থাকতে হবে, যা এখন পাল্টেছে।" অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অর্জন   জন পিয়েরে`র স্ত্রী মুসাবিমানা ডেলফিন বলেন আগে তার স্বাধীনতা ছিল সামান্য এবং তার দিন পার হতো ভয়ে ভয়ে। "কখনো আমার নিজেকে শুধু একজন শ্রমিক মনে হতো যে কিনা কোনো বেতনও পায় না।" মিজ ডেলফিন বলেন, "আমি কখনো চিন্তা করিনি যে একজন নারীর নিজের হাতে টাকা থাকতে পারে। কারণ ঘরের কাজ শেষ করে টাকা উপার্জন করার মত কাজ করার সময়ই কখনো ছিল না আমার হাতে।" "স্বামী ঘরের কাজে সাহায্য করার পর থেকে আমার হাতে অনেক সময় ও স্বাধীনতা রয়েছে।" এই প্রকল্পটির মূল পরিকল্পনাটি করা হয় ল্যাটিন আমেরিকায়। পিতৃত্বের দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষকে অবগত করতে প্রচারণা চালায়, এমন একটি সংস্থা `মেনকেয়ার` এই প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছিল। `মেনকেয়ার`এর বিশ্বাস, শিশুদের দায়িত্ব এবং ঘরের কাজের অন্তত ৫০ শতাংশ পুরুষরা সম্পন্ন না করলে সত্যিকার অর্থে সমতা অর্জন করা সম্ভব না। এই প্রকল্প অংশ নেয়া দম্পতিদের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, প্রকল্পে অংশ নেয়ার দুই বছরের মধ্যে পুরুষ সঙ্গীদের কাছ থেকে সহিংসতার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসে। তবে প্রকল্পে অংশ নেয়া পুরুষদের সঙ্গীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিবেচনা করে জানা যায় যে, এখনো প্রতি তিনজন নারীর একজন পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। রুয়ান্ডার পুরুষ সম্পদ অধিদপ্তর, যাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচালনায় এই প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পন্ন হয়েছে, তারা চায় এই `বান্দেবেরেহো` প্রকল্প আরো বেশি করে ছড়িয়ে পড়ুক রুয়ান্ডায়। জন পিয়েরে আর মুসাবিমানা ডেলফিন মনে করেন এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুধু তাদের পরিবারই উপকৃত হয়নি, তাদের পুরো সম্প্রদায় উপকৃত হয়েছে। "আমাদের সম্প্রদায়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হয়, তখন আমাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। আমাদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় কারণ আমাদের পরিবারে কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা নেই", বলেন পিয়েরে। "আর নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার কথা না বললেই নয়; বিয়ের দশ বছর পর আমরা এখন আমাদের হানিমুনে আছি।" বিবিসি বাংলা এসি   

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ২০

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে আত্মঘাতী গাড়ি হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৭ জন। শুক্রবার মোগাদিসুতে অবস্থিত দেশটির অপরাধ তদন্ত সংস্থার সদর দফতরের পাশে একটি হোটেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।  ওই দেশের পুলিশ জানিয়েছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শাফি নামের ওই হোটেলটিতে পরপর দুটি হামলার পর প্রহরী ও তদন্ত কর্মকর্তারা গুলি ছুড়তে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলার প্রায় আধাঘণ্টা পরে শহরটির ব্যস্ত রাস্তায় তৃতীয় আরেকটি হামলা করেন সন্ত্রাসীরা। আলি নূর নামে পুলিশের এক ঊধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত জেনেছি এ হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই হোটেলের সামনের রাস্তা দিয়ে গপরিবহনে করে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণ ও গুলি চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। আমি নিশ্চিত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আল কায়েদার সঙ্গে জড়িত আল শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা। এসএইচ/

পেট্রল চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল ৩০ চোরের

পেট্রল চুরি করতে গিয়ে দক্ষিণ নাইজেরিয়ায় ৩০ চোরের প্রাণ গেল। নিহতরা তেল চুরি করতে গিয়ে মারা যান বলে জানান আহত এক চোর ও সেখানকার কর্মকর্তারা।  স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে আবা নামক শহরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনের বেশি। খবর আলজাজিরার। আহত নামদি তোচুকু পেট্রল চুরির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় ৩০ জনের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। নাইজেরিয়ার জাতীয় পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের এক মুখপাত্র বলেন, হতাহতরা পেট্রল চুরির উদ্দেশ্যে পাইপলাইনে ভাঙচুর করে এবং এ কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ‘আসলে এ ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সঠিকভাবে তার হিসাব আমি দিতে পারব না। তবে এ অগ্নিকাণ্ড পেট্রল চুরির সময়ই ঘটেছে,’ বলেন ওই মুখপাত্র। এসি    

নিজেকেই বিয়ে করলেন এই কন্যা!

বিয়ের মণ্ডপে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়-বন্ধুবান্ধব সবাই। আর তাদের সামনে সমস্ত রীতি-রেওয়াজ মেনে নিজের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধলেন উগান্ডার এক কন্যা। বয়স তিরিশ পেরিয়েছে! মা-বাবা চান, মেয়েকে সৎপাত্রে দান করতে। আত্মীয়-প্রতিবেশীদেরও সে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। কিন্তু মেয়ে চান স্বপ্নের ডানায় ভর করে উড়তে- এই গল্পটা খুব চেনা, প্রায় প্রতিটা ঘরের। কিন্তু এই গল্পটাকেই বদলে দিতে চাইলেন উগান্ডার বাসিন্দা ৩২ বছরের লুলু জেমাইমা। দুর্দান্ত পড়াশোনা, সামনে দুরন্ত স্বপ্নের হাতছানি। পৃথিবী বিখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ার ডাক আসছে- কিন্তু লুলুর যোগ্যতা প্রমাণের জন্য সে সব যথেষ্ট ছিল না বাবা-মায়ের কাছে। তাদের একটাই দাবি, এবার যোগ্য ছেলেকে বিয়ে করে সংসারী হোক মেয়ে। শেষমেশ বাবা-মায়ের চাপে সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেন লুলু। বিয়ে করবেন। এক গ্রাফিক শিল্পী-বন্ধুর সাহায্য নিয়ে নিমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়ে দেন বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়দের। তবে কাকে বিয়ে করছেন! সবার প্রশ্নের উত্তরে সে দিন একটাই কথা বলেছিলেন লুলু, ‘পাত্র কে, সেটা সারপ্রাইজ।’ অবশেষে এসে গেল সেই দিন। ২৭ অগস্ট। দিনটা লুলুর জন্মদিনও। সে দিনই বিয়ে করবেন কন্যা। আসরে বিয়ের সাজে হাজির হলেন লুলু। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী ঘোষণা করলেন, আর কাউকে নয়। নিজেকেই নিজে বিয়ে করছেন তিনি। কারণ তার কাছে নিজের পড়াশোনা, স্বপ্নের চেয়ে বড় কিছুই নয়। আর তাদের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধতে চান লুলু। বাবা-মা আসেননি অনুষ্ঠানে। লুলুর কথায়, ‘পরের দিন ওদের সঙ্গে কথা বলি। তখনও ওরা ধন্দে। খানিকটা আহতও হন। কিন্তু আমি শুধু বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমি বিয়ের জন্য এখনও প্রস্তুত নই।’ ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ মিডিয়া (চলচ্চিত্র) বৃত্তি পান। স্নাতক পাশ করে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য আবেদন করেন লুলু। আসে ডাকও। ২০১৭ সালের আগস্টে সেখানে যোগ দেন। এর আগে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও জনসংযোগকারী আধিকারিক হিসেবেও কাজ করেছেন। গোটা অনুষ্ঠানে লুলুর খরচ হয়েছে মাত্র ২ ইউরো। তা-ও সেটুকু যাতায়াত বাবদ। এক বান্ধবীর সৌজন্যে জোগাড় হয়ে গিয়েছিল বিয়ের গাউন। বিয়ের কেকটি বানিয়ে দিয়েছিল ভাই। আর অতিথিরা পানশালার খরচ নিজেরাই মিটিয়েছেন। তবে কোথা থেকে পেলেন এমন প্রথা ভাঙার সাহস? তার কথায়, ‘আমার ১৬ বছরের জন্মদিনে আমার বিয়ের বক্তৃতা তৈরি করে ফেলেছিলেন বাবা। আগে আমার জন্মদিনে মা আমার জন্য প্রার্থনা করতেন। ইদানিং তার সঙ্গে জুড়েছিল ভাল পাত্রের আর্জি। যে আমার যত্ন করবে, আমাকে ভাল রাখতে পারবে। আর আমি আমার ৩২ বছরের জন্মদিনে এমন একজনকে বিয়ে করলাম, যাকে নিয়ে আমি নিশ্চিত, সে আমায় ভাল রাখবেই।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি