ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:২৪:৫৬

খাঁটি নীলা চেনার উপায়

খাঁটি নীলা চেনার উপায়

জীবনে অস্থিরতা, অলসতা কাটাতে, নানা ঝুট ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে, দুর্দশা কাটাতে, মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং শনি গ্রহের প্রতিকারে নীলা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু নীলা যে কোউ চাইলেই ধারণ করতে পারেন না। বিশুদ্ধ নীলা ধারণ করার আগে ধারণকারীকে কয়েকদিন নিজের কাছে রেখে পরীক্ষা করে দেখতে হয় যে, এই রত্নটি তার সহ্য হয় কি-না। যদি এই সময়, ধারণকারীর সঙ্গে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে বা শরীর খারাপ হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি নীলা ধারণ করতে পারবেন না। শনি গ্রহের প্রতিকার করার জন্য ইন্দ্রনীলা ৫ থেকে ৮ রতি নীলা ধারণ করতে হয়। তবে মনে রাখবেন, যে কোনও রত্নই তিন মাস পর থেকে ফল দেয় আর উপরত্ন ফল দেয় ছয় মাস পরে। নীলাকে হিন্দিতে নীলম, সংস্কৃতে নীলাশ্ম, সৌপিপত্ন, ইন্দ্রনীল, তৃণগ্রাহী, মহানীল, নীলোৎপল ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। নীলকান্তমণি বা নীলা মুলত নীল রঙের হলেও এটি পীতাভ আভাযুক্ত, গোলাপী আভাযুক্ত, অপরাজিতা ফুলের মতো নীলাভ, রক্তাভ ইত্যাদি নানা রঙেরও হয়ে থাকে। রং অনুসারে এর ইন্দ্রনীলা, অপরাজিতা নীলা, রক্তমূখী নীলা ইত্যাদি বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু খাঁটি নীলা চিনবেন কী করে? খাঁটি নীলার ক্ষেত্রে একটি পাত্রে গরুর বিশুদ্ধ দুধ রেখে তার মধ্যে রত্নটি ডুবিয়ে রাখলে দুধের মধ্যে থেকে নীল রঙের আভা বিচ্ছুরিত হতে থাকে। নীলার প্রপ্তির স্থান নীলা শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, রোডেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ ভারতের কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়। কাশ্মীরের ময়ূরকন্ঠী নীলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নীলা বলে মনে করা হয়। নীলার আয়ুর্বেদিক শোধন পদ্ধতি আয়ুর্বেদ মতে, নীল গাছের রসে নীলা শোধন করা উচিত। তবে শাস্ত্রীয় মতে, গ্রহ পূজা করেও নীলা শোধন করা যায়। নীলা ধারনের কাল যে কোনও অমাবস্যায় বা শনিবার নীলা ধারনের উপযুক্ত সময় হিসেবে মনে করা হয়। নীলার ধারণের জন্য শরীরের উর্দ্ধাঙ্গ সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। তবে হাতের মধ্যমায়ও নীলা ধারণ করা যায়। নীলার ধারণের ধাতু সোনা বা সীসায় সঙ্গে নীলা ধারণ করতে হয়। সূত্র: জিনিউজ একে//
শীতে পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া ৩ টোটকা

শীতে ঠোঁট ফাটার মতোই পায়ের গোড়ালি ফাটার ভোগান্তি কম নয়। আর ফাটা পায়ের তলা বা গোড়ালি নিয়ে হাঁটা চলা করাটাও বেশ কষ্টকর। ফাটা গোড়ালি নিয়ে রাস্তাঘাটে হাঁটা চলা করতে গিয়ে ত্বকের ফাটা অংশে ধুলা লেগে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে। বাজারে ফাটা পায়ের তলা বা গোড়ালির সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে নানা রকমের ক্রিম পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলোতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের জন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঘরোয়া পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে পায়ের ফাটা গোড়ালির সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যেতে পারে। আসুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। গ্লিসারিন ও গোলাপ জলের ফুট মাস্ক- ফাটা গোড়ালি সমস্যায় প্রাথমিক পর্যায়ে এই ফুট মাস্ক ব্যবহার করে দ্রত উপকার পাওয়া যেতে পারে। উপকরণ ফুট মাস্কের জন্য আপনার লাগবে লবণ, লেবুর রস, গ্লিসারিন, গোলাপ জল ও সামান্য উষ্ণ গরম পানি। পদ্ধতি একটি বড় পাত্রে ২ লিটার সামান্য উষ্ণ গরম পানি নিয়ে তাতে ১ চা চামচ লবণ, ১ টি গোটা লেবুর রস, ১ কাপ গোলাপ জল দিয়ে এতে অন্তত ১০-১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এর পর খসখসে কিছু একটা দিয়ে যেমন, পেডিকিউরের পিউমিস স্টোন দিয়ে পায়ের গোড়ালি ভাল করে ঘষে শক্ত, মোটা ও মরা চামড়া তুলে পা ধুয়ে ফেলুন। এর পর ১ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ গ্লিসারিন ও ১ চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে পায়ে লাগান। এভাবে সারা রাত রেখে দিন। সকালে উঠে সামান্য উষ্ণ গরম পানি দিয়ে পা ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার ব্যাবহারে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই পা ফাটা একেবারে সেরে যাবে। নারকেল ও কলার ফুট মাস্ক- পা ফাটার সমস্যা মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে এই ফুট মাস্কটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সমস্যার সমাধান হবে খুব দ্রুত। উপকরণ টুকরা করে কাটা কলা, লম্বা করে কাটা ৩-৪ টুকরা নারকেল। পদ্ধতি একটি কলা টুকরা করে নিয়ে এর সঙ্গে টাটকা ৩-৪ টুকরা নারকেল একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন বা ভাল করে বেটে নিন। এর পর এই মিশ্রণটি পায়ের ফাটা জায়গায় ভাল করে লাগিয়ে নিন। প্যাক শুকিয়ে গেলে সামান্য উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি হাতের কাছে তাজা নারকেল না-ও পান তবে একটি কলা চটকে নিয়ে তাতে ২-৩ চা চামচ নারকেল তেল দিয়ে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করেও লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন। চাল বাটা ও তেল- পা ফাটার সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে প্রাকৃতিক স্ক্রাবার ব্যবহার। ঘরোয়াভাবে তৈরি এই স্ক্রাবটি প্রতিদিন ব্যবহার করে খুব দ্রুত পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। উপকরণ ২-৩ চা চামচ চাল, অলিভ অয়েল, সাদা ভিনেগার ও মধু। পদ্ধতি প্রথমে চাল একটু ভিজিয়ে রেখে ভাল করে বেটে নিন। খুব মিহি করে বাটবেন না। এর পর এর সঙ্গে ৩ চামচ ভিনেগার আর ২ চামচ মধু দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এবার একটি বড় পাত্রে সামান্য উষ্ণ গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এর পর ভেজা পায়ে ঘন পেস্টটি ভাল করে মালিশ করুন। মালিশ করার পর ১০ মিনিট রেখে দিন। এর পর সামান্য উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ভাল করে পা মুছে নিন। এর পর সামান্য অলিভ অয়েল গরম করে নিয়ে পায়ে মালিশ করুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করলে পা ফাটায় দ্রুত ভাল ফল পাবেন। সূত্র: জিনিউজ একে//

হাতের রেখাই বলে দেবে আপনার জীবনে বিপর্যয়ের সময়

আমাদের জীবন নানা সমস্যায় ভরা। যেমন, গ্রহ শুভ ও অশুভ প্রভাব বিস্তার করে, তেমনই অশুভ বাস্তুর প্রভাবেও জীবনে উন্নতি ও বাধার সৃষ্টি হয়। নানা কারণে আমাদের মানসিক অশান্তি হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় গ্রহ দোষ না থাকলেও জীবনে বাধা বিপত্তি আসছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, হস্তরেখা বিচার করলে এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। যেমন, যদি শিরো রেখা ও হৃদয় রেখা সমান্তরাল হয়, তাহলে জাতক বা জাতিকা বন্ধুত্ব ও শত্রুতা আজীবন স্বীকার করে বা মনে রাখে। আবার ভগ্ন শিরো রেখার অর্থ, জাতক বা জাতিকার মাথায় কোনও চিন্তা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। যে বয়সে এই রেখা ভগ্ন হয়, সেই বয়স থেকেই জাতক বা জাতিকা নানা মানসিক রোগের শিকার হতে পারে। কারণ এটা একটা মানসিক অশান্তির লক্ষণ বা চিহ্ন। ১) যদি কোনও জাতক বা জাতিকার হৃদয় রেখা যদি শেষ প্রান্তে এসে দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় এবং একটি বৃহস্পতির স্থানে এবং অন্যটি বৃদ্ধাঙ্গলির দিকে যায় তাহলে তার জীবন শান্তিপূর্ণ হয়। ওই জাতক বা জাতিকা উদার ও চিন্তাশীল প্রকৃতির হয়ে থাকে। ২) যদি এই রেখা দুটি ভাগে ভাগ হয়ে একটি বৃহস্পতির দিকে ও অন্যটি শনির দিকে যায়, তাহলে জাতক বা জাতিকা স্নেহপ্রবণ প্রকৃতির হয়ে থাকে। প্রেমের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যেই আঘাত পায়। ৩) যদি শিরো রেখাতে চতুষ্কোণ চিহ্ন থাকে, তাহলে তা শুভ। ওই সময়ে জাতক বা জাতিকা সব বাধা বিপত্তি থাকে নিষ্কৃতি পেতে পারেন। আবার এক বা একাধিক রেখা ওই রেখাকে কেটে চলে যাওয়া অশুভ লক্ষণ। যে বয়সে শিরো রেখার উপর দিয়ে এক বা একাধিক রেখা কেটে চলে যায়, ওই বয়সে জাতক বা জাতিকার নানা মানসিক চাঞ্চল্য ও তার ফলে আর্থিক ক্ষতি, শোক, আঘাত, অসুস্থতা বা মানসিক অশান্তির কারণ হতে পারে। সূত্র: জিনিউজ একে//

শিশুকে পরনির্ভরশীল করে গড়ে তুলবেন না

আমাদের চারপাশে তাকালে দেখা যায়, কিছু মানুষ আছেন যারা খুব পরিশ্রম করেন। বলা যায়, তারা কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল। আবার অনেকে আছেন অলস সময় পার করছেন। তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল। কেন এমনটি হয়? এর জন্য অনেকে অবশ্য পারিবারিক পরিমণ্ডল ও পারিপাশ্বিক অবস্থাকেই দায়ী করছেন।       আসলে সহযোগিতা ও যত্নের দোহাই দিয়ে আমরা শুরু থেকেই একটি শিশুকে পরনির্ভশীল করে গড়ে তুলছি। প্রাকৃতিকভাবেই শিশুর সহজাত প্রবণতা হল সে খুব দ্রুত স্বনির্ভর হতে চায়। মাতৃস্নেহ বা অতিশয় যত্ন বা সহযোগিতার নামে যখন শিশুকে কোনো কাজ করতে দেয়া হয় না তখন এই শিশু পরনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই এগিয়ে যাবে। পথে পথে বাধা আসবে। এই বাধা অতিক্রমের দায়িত্ব শিশুরই। অথচ মা-বাবা মনে করেন- সন্তানের মঙ্গলের জন্য তাকে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু অধিকাংশ পিতা-মাতাই এই জায়গায় ভুল করেন এবং তাদের অবর্তমানে এই শিশুরাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে।  এক্ষেত্রে প্রথম ভুলটি আমরা করি শিশুকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে। শিশু খেতে দেরি করবে, জামা নষ্ট করবে, আশে পাশে খাবার ফেলে পরিবেশ নোংরা করবে-এই ভেবে শিশুকে সবসময় খাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। এটি আমাদের ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। শিশুকে খাবার ধরা ও খাওয়া শিখিয়ে দিন, দেখবেন একসময় নিজে নিজেই খেতে পারছে। খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সে স্বাবলম্বী হয়ে বড় হবে। অনেক বাবা মাকে দেখা যায়, পরিণত বয়সেও সন্তানকে খাইয়ে দেন। মা-বাবার অবর্তমানে অথবা পরিবারের গন্ডি পার হলে এসব শিশুরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে।  দ্বিতীয় ভুলটি হয় শিশুর চলাচলের ক্ষেত্রে। শিশু যখন নিজের পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে শুরু করবে, হাত ধরে কিছুটা পথ হাঁটার জন্যে তাকে নিরাপদ সুযোগ করে দিতে হবে। এই সফলতার জন্যে হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানাতে হবে। যখন পুরোপুরি হাঁটতে শিখবে, তখন আর সহযোগিতা কিংবা হাততালি কোনটিরই দরকার নেই। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা প্রায়শই ভুল করেন। পথ একটু বেশি হলে আমরা সাধারণত শিশুকে কোলে নিয়ে বহন করি অথবা একটি পরিবহনের ব্যবস্থা করি। আমাদের ধারণা শিশু বেশি দূর হাঁটতে পারবে না। জীবনের শুরুতেই শিশুর শারিরীক সক্ষমতাকে অস্বীকার করে তার মধ্যে হীনমন্যতা ঢুকিয়ে দেই। যে শিশু নিজে হাঁটতে চায়, তাকে অবশ্যই সেই সুযোগটি করে দিতে হবে। শিশুকে যদি সবসময় কোলে বহন করে বেড়ানো হয়, তাহলে সে ভবিষ্যত জীবনে একা চলতে পারবে না- এটাই স্বাভাবিক।  শিশুরা মাঝে মাঝে চলাফেরা কিংবা খেলাধূলা করতে গিয়ে নিচে পড়ে গেলে মায়েরা তাদের উদ্ধারের জন্যে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন। এক্ষেত্রে মায়েদেরকে কিছুটা বাস্তববাদী ও কৌশলী হতে হবে। শিশু হোচট খেয়ে পড়ে গেলে যদি সামান্য ব্যাথা পায় অথবা জখম না হয়, তাহলে তাকে নিজে নিজে উঠতে দিন। উঠার পর হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে তাকে কোলে তুলে নিন। এর ফলে ভবিষ্যত জীবনে কখনো পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানোর সময় সে কারো জন্যে অপেক্ষা করবে না। জীবনযুদ্ধে বিপর্যয় আসলে কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয় এবং আবার কীভাবে নতুন করে পথচলা শুরু করতে হয়, এই আত্মবিশ্বাস তার মধ্যে জাগ্রত হবে। অপরদিকে, নিজে নিজে উঠার পর কোলে তুলে তাকে আদর করার ফলে তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ এবং মমতা জাগ্রত হবে। তৃতীয় ভুলটি করি সন্তানের প্রয়াসকে বাধাগ্রস্থ করে। শিশু কোনো কিছু করতে চাইলে আমরা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি- তুমি এটা পারবে না। শিশু চেয়ার ধরে দাঁড়াতে চাইলে তাকে আমরা নিজেরা ধরে দাঁড় করিয়ে দেই। অথচ এই চেয়ারটিতে উঠাই ছিল শিশুর কাছে পর্বত আরোহণের সমান। শিশু কোনো কিছু করতে চাইলে আমাদের উচিত সরাসরি সাহায্য না করে, উৎসাহ সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করা। অথচ আমরা প্রতিনিয়ত উল্টো কাজটি করছি। শিশুর প্রতিটি প্রচেষ্টায় আমরা সাহায্য করার চেষ্টা করি। এটাকে সহযোগিতা বলা যাবে না বরং এই সাহায্য হচ্ছে শিশুকে পরনির্ভরশীল করার একটি ভুল জীবনদৃষ্টি। আবার শিশুদেরকে আমরা কোনো জিনিসই সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেই না। চারদিকে শুধু বাধা আর বাধা। শিশু কোনো কিছু পর্যবেক্ষণের জন্য হাতে নিলে, আমরা চিৎকার দিয়ে উঠি। এতে শিশু পরবর্তী সময়ে কোনো কিছু আগ্রহ নিয়ে শুরু করতে সাহস পায় না। কোনো কাজ করতে গেলে ভয় কিংবা লজ্জা পায়। এভাবেই আমরা শিশুদের ছোট ছোট প্রয়াস ও সম্ভাবনকে প্রতিনিয়ত বিনষ্ট করছি।  যে কাজটি আপনার সন্তান করতে সক্ষম, তাকে সে কাজটি করতে দিন। অভিভাবক হিসেবে সন্তানের স্কুল ব্যাগ কখনো টানতে যাবেন না। ব্যাগ তাকেই বহন করতে দিন। ব্যাগের ওজন বেশি হয়ে গেলে কিছু বই খাতা আপনার হাতে নিয়ে নিন, তারপরেও সন্তানকে ব্যাগ বহন করতে দিন। ব্যাগ বহন করে আপনার মনে হতে পারে আপনি তাকে সাহায্য করছেন। আসলে তাকে সাহায্য করছেন না। বরং তার যোগ্যতাকে আপনি অবমূল্যায়ন করছেন, তার ক্ষতি করছেন এবং তাকে পরনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলছেন। প্রত্যেক মা-বাবার উচিত, সন্তানকে কষ্ট ও পরিশ্রম নির্ভর করে গড়ে তোলা। আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। এটি একটি অ’বিদ্যা। আমরা সবাই সন্তানের জন্যে একটি নিশ্চিত ও সমস্যাহীন ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে চাই। কোনো অভিভাবক যদি শিশুর জন্যে সমস্যাহীন, অতি নিরাপদ, আরামদায়ক ও পরিবর্তনহীন জীবন নিশ্চিত করেন, তা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্যে সহায়ক নয়। এ ধরনের পরিবেশ শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অন্তরায় এবং সমস্যা মোকাবিলা করার ক্ষমতাকে বিনষ্ট করে। আরামের মধ্যে বড় হলে শিশু জীবন সংগ্রামের অনেক বাস্তবতা থেকে দূরে থাকবে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বার বার ব্যর্থ হবে। একারণেই শিশুকে কষ্ট ও পরিশ্রম নির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে সে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে এবং নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শেখাবেন, পৃথিবীতে যা কিছুই তুমি অর্জন করতে চাও না কেন, পরিশ্রম করেই অর্জন করতে হবে। পরিশ্রমের বিকল্প কঠোর পরিশ্রম। এসএ/  

নাক ডাকা বন্ধ করতে ঘরোয়া ১১ টোটকা

বাস্তবিকই নাক ডাকার সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বেশ কিছু দিন আগে মিউনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তাতে দেখা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে নাক ডাকার সমস্যা থাকলে হার্টের লেফ্ট এবং রাইট ভেন্ট্রিকুলারের এত মাত্রায় ক্ষতি হয় যে নানাবিধ হার্টের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় বেড়ে। কিন্তু এমন ক্ষতি ছেলেদের থেকে মেয়েদের কেন বেশি হয়, সে সম্পর্কে যদিও জানা যায়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হার্টকে বাঁচাতে নাক ডাকা বন্ধ করা যায় কীভাবে? উপায় আছে। আসলে এমন কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে, যা খুব অল্প সময়েই নাক ডাকার সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মরতে না চাইলে এই লেখাটি পড়তে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, নাক ডাকা বন্ধ করতে যে যে ঘরোয়া টোটকাগুলো দারুন কাজে আসে, সেগুলো হল- ক্যামোমিল চা এক কাপ পানিতে ১ চামচ ক্যামোমিল ফুলের গুঁড়া ফেলে পানিটা ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে প্রথমে। তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই পানিটা পান করতে হবে। এভাবে প্রতিদিন ক্যামোমিল চা খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, যার প্রভাবে নাক ডাকার প্রবণতা তো কমবেই, সেই সঙ্গে কোনও ধরনের অ্যালার্জির প্রকোপ কমতেও দেখবেন সময় লাগবে না। মেথি অনেক সময় নানাবিধ পেটের রোগের কারণেও কিন্তু নাক ডাকার মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই নাক ডাকা বন্ধ করতে পেটের দিকে খেয়াল রাখারও প্রয়োজন রয়েছে। আর ঠিক এই কারণে প্রতিদিন মেথি খাওয়া জরুরি। আসলে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খাওয়া শুরু করলে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ তো কমেই। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো। ফলে নার ডাকার সমস্যা কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, এ ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো মেথি বীজ নিয়ে আধ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সময় হয়ে গেলে পানীয়টা পান করে শুয়ে পরতে হবে। এমনটা নিয়মিত করলে দেখবেন শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। আদা চা বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত আদা চা খাওয়া শুরু করলে দেহের ভিতরে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে ন্যাজাল ক্যাভিটি খুলতে শুরু করে। ফলে নাক ডাকার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার কোনও কারণে নাকের ভিতরে মিউকাস জমতে শুরু করলে বায়ু চলাচল ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে নাক দিয়ে বিকট আওয়াজ বেরতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে, যেমন ধরুন- পাতি লেবু, কমলা লেবু, মুসাম্বি লেবু প্রভৃতি। আসলে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটির মাত্রা বাড়তে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগ ভোগের আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নাকে সর্দি বা মিফকাস জমে নাক ডাকার প্রবণতাকেও কমায়। হলুদ অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে পরিপূর্ণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে শরীরের ভিতরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কমে নাক ডাকার প্রবণতাও। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন শুতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস গরম দুধে ২ চামচ হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করতে হবে। এমনটা করলেই দেখবেন রাতের ঘুমে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না। মধু রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে যদি এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে নাকা ডাকার সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগই পায় না। কারণ মধুর ভিতরে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান গলার প্রদাহ কমায়। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে তোলে। ফলে নাক ডাকার সম্ভাবনা কমে। ঘি নাক ডাকার সমস্যা কমাতে ঘি-এর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অল্প পরিমাণ ঘি গরম করে তার থেকে ২-৩ ড্রপ করে নিয়ে যদি নিয়মিত নাকে দেওয়া যায়, তাহলে নাসিকা গর্জ থামতে একেবারেই সময় লাগে না। আসলে ঘিয়ে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান নাকের ভিতরে বায়ু-চলাচলের পথকে খোলা রাখতে সাহায্য করে। ফলে নাক ডাকার প্রবণতা একেবারে কমে যায়। অলিভ অয়েল রাতে শুতে য়াওয়ার আগে মনে করে দু’চামচ অলিভ অয়েল খেলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রেসপিরেটরি প্যাসেজ খুলতে শুরু করে। আর একবার এমনটা হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে কোনও বাঁধার সৃষ্টি হয় না। ফলে নাক ডাকার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। রসুন নাকের ভিতরে মিউকাস জমতে বাঁধা দেয় এই প্রকৃতিক উপাদানটি। সেই সঙ্গে রেসপিরেটারি সিস্টেমের উন্নতি ঘটায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে, কমতে শুরু করে নাক ডাকার সমস্যা। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ১-২ টো রসুনের কোয়া চিবিয়ে, এক গ্লাস পানি খেয়ে শুতে যেতে হবে। তাহলেই দেখবেন নাসিকা গর্জন আর আপনাকে বা আপনার প্রিয়জনকে বিপদে ফেলতে পারবে না। এলাচ অনেক সময় নাকের ভিতরে কোনও বাঁধা থাকার কারণেও নাক ডাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমনোর আগে এলাচ চা খেলে কিন্তু দারুন উপকার মেলে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি ভিতরে উপস্থিত একাধিক উপাকারি উপাদান নাকের ভিতরের বাঁধা সরিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর একবার শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক মতো হতে থাকলে নাক ডাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। স্টিম অনেক সময় সর্দি-কাশির কারণেও নাক দিয়ে বায়ু চলাচল ঠিক মতো হতে পারে। ফলে ঘুমানোর সময় নাক দিয়ে ওয়াজ বেরতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে কিছু সময় অন্তর অন্তর গরম ভাব নিলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। তাই এবার থেকে সর্দি-কাশি হলেই এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নেবেন। দেখবেন ঘুমনোর সময় কোনও সমস্যাই হবে না। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়ার ঘরোয়া ৫ কৌশল

নারী বা পুরুষ, উভয়ের জন্যই চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বাস্থ্যবান সুন্দর চুল শুধু আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিত্বের ওপরেও প্রভাব ফেলে। কিন্তু চুলের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ একেক জনের চুলের ধরন একেক রকমের। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়ার কৌশলও আলাদা হয়। চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নারী বা পুরুষ, উভয়রই বিশেষ ৫টি বিষয় মেনে চলা জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক ঘন, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সুন্দর চুল পেতে ৫টি জরুরি বিষয় কী কী- ১) সুন্দর চুলের জন্য প্রথমেই খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। সবুজ সবজি ও ফলের রস চুলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। স্বাস্থ্যবান, ঝলমলে চুলের জন্য দুধ ও ফ্রেশ দই খেতে পারেন। নারকেলও চুলকে স্বাস্থ্যবান করে তুলতে সহায়তা করে। ২) ভিজা চুল কখনওই আঁচড়াবেন না। চুলের জট ছাড়ানোর জন্য বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। কাঠের চিরুনি ব্যবহার করতে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়। সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট ট্রাই করুন। চুলের যত্নে কখনওই কড়া কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না। ৩) সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার উষ্ণ তেল দিয়ে মালিশ করতে পারেন। চুলের গোঁড়ার আদ্রতা বজায় রাখতে এর তুলনা হয় না। মালিশের জন্য নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। আঙুলের ডগা দিয়ে চুলের গোঁড়ায় মালিশ করুন। শ্যাম্পু করার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে তেল মালিশ করুন। ৪) অবসাদ বা ক্লান্তি চুলের রং ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই স্ট্রেসমুক্ত থাকতে নানা ধরনের কৌশল যেমন, মেডিটেশন, মিউজিক থেরাপি কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। ৫) ভিজা চুল ড্রায়ার দিয়ে শুকানোর চেষ্টা না করাই ভাল। এতে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। তাছাড়া চুলের গোড়াও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। সূত্র: জিনিউজ একে//

রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন ৬ উপায়ে

ভয়ানক রাগে মুখের উপর বলে দেন যা মনে আসে তা-ই। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হতেও সময় লাগে না। এ সব বিষয় বদরাগী মানুষের স্বাভাবিক লক্ষণ। কিন্তু রাগেরও নানা প্রকতারভেদ আছে! আচমকা রেগে গিয়ে সহজেই রাগ পড়ে গিয়ে আফসোস করেন অনেকে। কেউ বা ভিতরে ভিতরে গজরান, কী করবেন ভেবে পান না। রাগ সামলানোর উপায় জানেন? হয়তো তা জানেন না বলেই এত সহজে রাগ পেয়ে বসে! আপনি বা আপনার কোনও প্রিয়জন কি এমন রাগের প্রকোপে প্রায়ই পড়েন? রাগের প্রভাবে সম্পর্ক নষ্ট থেকে শুরু করে প্রেশার-সুগার বৃদ্ধি- কোনওটাই কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকরাও বলেছেন রাগ না সামলালে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে প্রায় কয়েক গুণ! তবে চিন্তা নেই৷ রাগ হলে কী করবেন, রাগ ঠেকাতে কী করবেন, মনোবিদদের মতে এ সবেরই রাস্তা আছে৷ সে সব মেনে চললে আপনার সমস্যারও সমাধান সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক-  ১. প্রথমেই মুখে কুলুপ৷ বা কম কথার রাস্তায় হাঁটুন। প্রথম যে কথাটা মাথায় আসে সেটা কিছুতেই বলবেন না৷ বলতেই যদি হয়, ভাল করে ভেবে দেখুন কোন কথা বললে সবচেয়ে কম ক্ষতি৷ ২. রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না বা প্রতিজ্ঞা করবেন না৷ অশান্তির জায়গা থেকে সরে যেতে পারলে সবচেয়ে ভাল৷ ৩. জোরে জোরে হাঁটলে, ব্যায়াম করলে, বন্ধু-বান্ধবকে মনের কথা খুলে বললে বা কারও সঙ্গে অন্য বিষয়ে কথা শুরু করলে ১০-১৫ মিনিটে রাগের প্রথম ধাক্কা কাটে। ৪. এ সব না করা গেলে হাতিয়ার সুইচ অন, সুইচ অফ এবং ভিজ্যুয়াল ইমেজারি৷ মন থেকে ঠিক করুন, ঘটনাটা নিয়ে ভাববেন না৷ অর্থাৎ বিষয়টা সুইচ অফ করুন৷ এবার প্রিয় কোনও বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করুন৷ এতটাই গভীরভাবে যাতে ঘটনাটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে৷ একে বলে ভিজ্যুয়াল ইমেজারি৷ ৫. রাগের প্রথম ধাক্কা কাটল, কিন্তু ঘটনাটা মুছে ফেলতে পারছেন না, এ রকম হলে একটাই রাস্তা, ক্ষমা করে দিন৷ মনে রাখবেন, ক্ষমা করা মানে কিন্তু পরাজয় স্বীকার করা নয়৷ বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে নিজের শরীর এবং মনকে নানা ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো। তাছাড়া রাগ সত্ত্বেও শান্তভাবে সরে যাওয়ার অর্থ, আপনার মানসিক জোর আর পাঁচজনের চেয়ে বেশি৷ ৬. রাগের কারণ যে মানুষ প্রয়োজনে তাকে সূক্ষ্মভাবে অবহেলা করুন৷ জানবেন, অবহেলার আঘাত সবচেয়ে বেশি৷​ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

যে কারণে ঘড়ির কাঁটা বাম দিক থেকে ডান দিকে ঘোরে

ছোট্ট লাতিন শব্দ ‘ক্লক্কা’। বাংলা তর্জমা করলে যার মানে দাঁড়ায় ‘ঘণ্টি’। সাধারণত, সময়ের সঙ্গেই এই শব্দের যোগ। লাতিন ক্লক্কা থেকেই ‘ক্লক’ শব্দকে অভিধানে ঠাঁই দিল ইউরোপীয়রা। ধরে নেওয়া হয়, প্রথম ঘড়ির মডেলও তৈরি হয় ইউরোপেই। সেও প্রায় ৭০০ বছর আগে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি পুরনো হোক বা আধুনিক, যে কোনও প্রকার ঘড়ির কাঁটাই কেন বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ঘোরে? আধুনিক প্রযুক্তির ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ডের কাঁটাওয়ালা ঘড়ি আসার অনেক আগেই সূর্য ঘড়ির ব্যবহার শুরু। মিশরীয়রাই প্রথম প্রকৃতিনির্ভর এই ঘড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের চলনের উপর নির্ভর করে সূর্যঘড়ির দণ্ডের ছায়ার দৈর্ঘ্যে ও অবস্থানের উপর নির্ভর করেই সময় গুনতেন পুরনো যুগের মানুষ। তাতে কিছু ভুলচুক থাকত বইকি! পরে কাঁটা-সমেত ঘড়ি এলে নির্ভুল পরিমাপ সম্ভব হয়। কিন্তু এই ঘড়ির কাঁটা তো ডান দিক থেকে বাম দিকেও ঘুরতে পারত, কিন্তু ঘোরে না কেন? ভেবে দেখেছেন কখনও? আগেই বলেছি ইউরোপে প্রথম তৈরি হয় ঘড়ির মডেল। তার আগে সূর্যঘড়ির উপরই নির্ভর করতে হত। ইউরোপ যেহেতু পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত, তাই ভৌগোলিক নিয়মেই সেখানে সূর্য হেলে থাকে দক্ষিণ আকাশে। তাই সূর্যঘড়ি ব্যবহারের সময় তাতে যে দণ্ড থাকত, তার ছায়া বাঁ দিক থেকে ডান দিকে সরত। সেই চলন অনুযায়ীই নির্ধারিত হত সময়। সূর্যঘড়ির কাঁটা বাম দিক থেকে ডান দিকে সরায়, ঘণ্টা-মিনিট-সেকেন্ডের কাঁটা দেওয়া উন্নত প্রযুক্তির ঘড়ির কাঁটাও ঘুরতে থাকল বাম দিক থেকে ডান দিকে। এভাবেই সূর্যঘড়িতে সময় দেখার অভ্যাসেরও বদল ঘটল না। সূর্যঘড়ি অবলুপ্ত হলেও এখনও সেই উত্তর গোলার্ধে সূর্যের চলনের উপর নির্ভর করেই আমরা ঘড়ি দেখি নিয়মিত। মজার বিষয়, যদি ঘড়ির প্রথম মডেলটি অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে তৈরি হত, তাহলে ঘড়ির কাঁটা বাঁ দিকে ঘুরত। কারণ দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যঘড়ির ডান দিক থেকে বাঁ দিকে ঘোরে! সূত্র: আনন্দবাজার একে//

জিভ পুড়ে গেলে করণীয় ৪

গরম কিছু খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত অনেকেরই জিভ পুড়ে যায়। অনেকে সতর্ক থাকলেও খাবারটি কতটা গরম তা বুঝে উঠতে পারেন না বলে প্রথম কামড় বা চুমুকেই জিভ পুড়িয়ে ফেলেন। এতে জিভের স্বাদকোরকগুলো পুড়ে গিয়ে স্বাদগ্রহণ করার ক্ষমতা হারায়। সঙ্গে জিভে জ্বালাও শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অন্য কিছু খাওয়ার সময়ও জিভে জ্বালা ও ব্যথা করে। অনেক সময়ই আমরা এমন ঘটনাকে আমল দিই না। কষ্ট সহ্য করে নিই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, জিভ পুড়ে যাওয়াকে সম্পূর্ণ অবহেলা ঠিক নয়। বেশি পুড়ে গেলে জিভের প্রদাহ থেকেই মুখে নানা সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই পুড়ে গেলে তা অবহেলা না করে বরং স্বস্তি আনতে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করুন। মধু অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ও সংক্রমণ রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে মধু। তাই জ্বালা কমাতে মধুর প্রলেপ দিন পোড়া জিভে। অ্যালোভেরা পুড়ে গেলে দ্রুত ঠাণ্ডা কিছু রাখুন জিভে। এর জন্য অ্যালোভেরা খুবই কার্যকর। অ্যালোভেরা ব্যথা যেমন কমাবে, তেমনই জিভে ঠাণ্ডা ভাব এনে পোড়া জায়গায় আরাম দেবে। বরফ বরফ রাখুন জিভের পুড়ে যাওয়া অংশে। এতে ঠাণ্ডা অনুভূতি হবে ও প্রদাহ সারবে দ্রুত। বরফ একান্তই না পেলে ঠাণ্ডা পানিতে কুলকুচি করুন বার কয়েক। সোহাগার খই সোহাগার খইয়ের সঙ্গে মধু লাগালে মুখের ভিতরের যে কোনও প্রদাহ অনেকটাই কমে যায়। জিভ পুড়লে ব্যবহার করুন এটি। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

শীতে খুশকি দূর করার ঘরোয়া ৬ উপায়

খুশকি একটা বিরাট সমস্যা। শীত এলেই বেড়ে যায় খুশকির সমস্যা। তবে আগে শুধু শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়াতেই খুশকির সমস্যা দেখা দিত বা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু বর্তমানে মাত্রাতিরিক্ত দুষণের ফলে মোটামুটি সারা বছর এই সমস্যা লেগেই থাকে। অত্যধিক চুল ঝরা, রুক্ষ চুল, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশন জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ি এই খুশকি। তাই খুশকির সমস্যার সমাধানে সঠিক সময়ে তৎপর না হলে মাথা ভরা চুল ঝরে গিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই ‘গড়ের মাঠ’ হয়ে যেতে পারে। খুশকি থেকে রেহাই পেতে বাজারে নানা ধরনের শ্যাম্পু ও লোশন পাওয়াই যায়। কিন্তু সেগুলোতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কখনও কখনও উল্টো চুলেরই ক্ষতি হয়। তাহলে উপায়! উপায় আছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন বেশ কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায়, যা খুশকির সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর দামও সামান্য। তাই অল্প খরচে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই খুশকির সমস্যার সমাধান করুন। পেঁয়াজের রস দুটি পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভাল করে লাগিয়ে মালিশ করুন। কিছুক্ষণ পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দু’বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন। নারকেল তেল নারকেল তেল খুশকির প্রকোপ কমাতে খুবই কার্যকরী। এ ছাড়া চুলে গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে খুশকি এবং স্ক্যাল্প ইনফেকশনের সম্ভাবনাও অনেক কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে দু’বার চুলের গোড়ায় সামান্য উষ্ণ নারকেল তেলের মালিশ করলে দ্রুত উপকার পাবেন। টকদই খুশকির সমস্যা থেকে বাচঁতে টকদই খুব কার্যকরী। খুশকি দূর করতে টকদই মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে দু’বার এভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করা যেতে পারে। লেবুর রস দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস অল্প পানির সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ২-৫ মিনিট ম্যাসাজ করার পর চুল ধুয়ে নিন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে দু’বার এভাবে চুলে লেবু ব্যবহার করা যাবে। মেথি মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। ছেঁকে নেওয়া পানি ফেলে দেবেন না। এবার বেটে নেওয়া মেথি চুলের গোঁড়ায় মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক রেখে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভিজিয়ে রাখা পানি দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এভাবে সপ্তাহে দু’বার মেথি-মালিশ করলে উপকার পাওয়া যাবে দ্রুত। রিঠা চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠার জুরি মেলা ভার। খুশকির সমস্যার সমাধানেও এটি বেশ কার্যকর। রিঠা পাউডার বা রিঠা সিদ্ধ পানি চুলের ত্বকে লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে ভালমতো ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দু’বার রিঠা মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন। সূত্র: জিনিউজ একে//

ব্যক্তিত্ব ৪ ধরনের, আপনারটা কেমন?

আপনি কি মন খুলে কথা বলতে ভালবাসেন? নাকি নিজের মনের কথা কাউকে বলতে পারেন না? আপনার ব্যক্তিত্ব আসলে কেমন, তা জেনে নিতে চান? বিশ্বখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ ব্রিটেনের পারপেতুয়া নিও এই সংক্রান্ত একটি অভিজ্ঞতা নিয়েই সমীক্ষা করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন তিনি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন তিনি।সেই ভিত্তিতেই তিনি জানিয়েছেন, মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার কথা। সারা বিশ্বে তার নানা ব্লগ শেয়ার হয়ে থাকে। প্রচুর অনুরাগীও রয়েছে নিও-র। তার কথায়, মানুষের ব্যক্তিত্ব আসলে চার রকম, বাকি পুরোটাই ওই এক বৈশিষ্ট্যকে ঘিরেই গড়ে ওঠে। মূলত ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের দিকগুলিই নিও তুলে ধরেছেন। ১) টাইপ- এ খুব ছটফটে, মারাত্মক প্রতিযোগিতার মনোভাব রয়েছে তাদের মধ্যে। পরিকল্পনা করে কাজ করতে খুব পছন্দ করেন এই জাতীয় ব্যক্তিত্বের মানুষরা। সব সময় মানুষকে তারা অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। কারও গুণ থাকলে তা প্রকাশে সাহায্যও করেন। ২) টাইপ- বি তুলনামূলক ভাবে শান্ত প্রকৃতির তারা। খুব সহজে রেগে যান না। এ ধরণের মানুষ বেশ মিশুকেও। কথাবার্তায় একটা উষ্ণতা রয়েছে। মানুষ তাদের আশেপাশে থাকতে পছন্দ করেন। তাদের সঙ্গে দেখা হলেই বেশ একটা ভাল লাগা তৈরি হয়, জানান নিও। প্রাণোচ্ছল এই মানুষগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ৩) টাইপ- সি টাইপ এ-র মতো এই ব্যক্তিরাও রুটিনমাফিক কাজ করতে পছন্দ করেন। যাকে বলে পারফেকশনিস্ট। কিন্তু তারা একা সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করেন। তারা যে মিশুকে নন, এমনটা নয়। তারা অত্যন্ত যত্নশীল। বিজ্ঞানী, বিমান চালক, হিসাবরক্ষকরা সাধারণত এই প্রকৃতির মানুষ হন, মত নিওর। ৪) টাইপ- ডি এই টাইপের মানুষগুলো একটু দুঃখী প্রকৃতির। নিজের আবেগ সম্পর্কেও তারা সচেতন নন। মজা করে বলা কথাও তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে মনে করেন। অত্যন্ত সংবেদনশীল। সারাক্ষণ তাদের ভিতরে একটা চিন্তা কাজ করে। অন্যদের তুলনায় এরা স্বপ্নের জগতে বেশি বিচরণ করে। এরা অন্যের পাশে দাঁড়াতেও পছন্দ করেন। নিও জানিয়েছেন, মানুষ নিজে যেরকম, তা যদি বুঝতে পারেন, সে ভাবেই নিজেকে গড়ে নিতে পারবেন। নিজের ভাল দিকগুলি বুঝতে হবে। কারণ প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেই বৈশিষ্ট্যই ঠিক করে দেয় তার ব্যক্তিত্ব। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার এমএইচ/

যেভাবে পিঁয়াজ কাটলে চোখ জ্বলবে না

পিঁয়াজ কাটতে গেলেই চোখ থেকে পানি বের হয় অনেকের। এমনকি, নিজে পিঁয়াজ কাটা হচ্ছে এমন সময়ে সামনে বসে থাকলেও অনেকের চোখেই ঝাঁজ লাগে। এতে যে জ্বালার উদ্রেক ঘটে তাতে অনেকেই মনে করেন, হয়তো এতে চোখ পরিষ্কার হয়। কিন্তু চক্ষু বিশেষজ্ঞরা একেবারেই তাতে সহমত নন। বরং এই জ্বালা যেমন অস্বস্তির, তেমন এই জ্বালাপোড়া চোখের জন্যও স্বাস্থ্যকর নয়। পিঁয়াজে উপস্থিত নানা সালফার জাতীয় যৌগের কারণেই এমনটা হয়। যেমন এর অন্যতম কারণ পিঁয়াজের অ্যামিনো এসিড সালফক্সাইড। পিঁয়াজ কাটার সময় এর কোষের ভিতর থেকে অ্যালিনেজ নামক উৎসেচক ক্ষরণ হয়। এটি অ্যামিনো এসিড সালফক্সাইডকে সালফোনিক অ্যাসিডে পরিণত করে। এটি চোখের সংস্পর্শে এলেই এক নতুন যৌগ তৈরি করে যা চোখে পানি আসতে বাধ্য করে। কিন্তু বিজ্ঞানের এ সব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটা সত্ত্বেও কিছু ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে পিঁয়াজ কাটতে বসলেও একেবারেই চোখ জ্বলবে না, একটুও পানি পড়বে না চোখ থেকে। এই উপায়ে সালফার বাদ গেলেও তা খাদ্যগুণ বা পুষ্টিতে প্রভাব ফেলে না। তাই নিশ্চিন্তেই এই উপায়ে কাটুন পিঁয়াজ। ১. পিঁয়াজ কাটার সময় তার মূলের দিকটি (গোড়ার অংশ) কেটে ফেলে দিন। পিঁয়াজের বেশির ভাগ উৎসেচক পিঁয়াজের গোড়ার দিকে থাকে। ২. খুব ধারালো ছুরি বা বঁটিতে পিঁয়াজ কাটুন। এতে পিঁয়াজের কোষগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সালফার কম ক্ষরিত হয়। ৩. পিঁয়াজ কাটার আগে তার শুকনো খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ ভেজার পর এই পানি ফেলে দিন। ফের টাটকা পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে তার পর কাটুন পিঁয়াজ। এতে সবটুকু সালফার যৌগই প্রায় বেরিয়ে যায় পিঁয়াজ থেকে।  ৪. খোসা ছাড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন পিঁয়াজ। আধ ঘণ্টা পর বের করে ভাল করে ধুয়ে কাটুন তা। ৫. লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রাখুন পিঁয়াজ। মিনিট পনেরো রাখার পর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে তার পর তা কাটলে কোনও অসুবিধা হবে না। লবণ পানি পিঁয়াজের সালফারকে শোষণ করে। ৬. ছুরি বা বঁটিতে ভিনিগার মাখিয়ে তা দিয়ে পিঁয়াজ কাটুন। ভিনিগার সালফার যৌগকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় অনেকটাই। ফলে চোখের জ্বালা কমবে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

দাঁতের গোড়া বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাংঘাতিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। আর দাঁতের ব্যথা এমনই ব্যথা, যা আপনার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। আসলে দাঁতের গোড়া বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছ। যেমন- ভাঙা দাঁত, মাড়ি ব্যথা, দাঁতের ক্ষয়, দাঁত পড়ে যাওয়া, মাড়িতে সংক্রমণ, টেমপোরোমেনডিবুলার জয়েন্ট (টিএমজে) ব্যথা ইত্যাদি। দাঁতে ব্যথা হলে মাথা ব্যথা, চোখে ব্যথার মতো নানা সমস্যা এক সঙ্গে শুরু হয়। তাই দাঁতের ব্যথা বাড়লে, দেরি না করে দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সবচেয়ে ভাল। তবে কোনও কারণে যদি চিকিৎসকের কাছে যাওয়াটা সম্ভব না হয়ে ওঠে তাহলে কী করবেন? এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া খুব সহজ একটি উপায় দাঁতের ব্যথা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। আসুন এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক। উপকরণ ১) আধা চামচ নারকেল তেল, ২) আধা চামচ লবঙ্গের গুঁড়া। নারকেল তেলে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য আর লবঙ্গের গুঁড়ায় রয়েছে ইউজিনল নামের একটি রাসায়নিক উপাদান যা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহার একটি কাঁচের পাত্রে লবঙ্গের গুঁড়া এবং নারকেল তেল ভাল করে মিশিয়ে নিন। টুথব্রাশের সাহায্যে এই পেস্টটি দাঁত বা মাড়ির আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন। দিনে অন্তত তিন চার বার এই মিশ্রণটি দাঁত বা মাড়ির আক্রান্ত স্থানে লাগালে দ্রুত ব্যথা কমে যাবে। তবে দাঁতের যথাযথ যত্ন নিতে বছরে অন্তত দু’বার দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। দন্ত চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে সঠিক পদ্ধতিতে দাঁতের যত্ন নিন। সূত্র: জিনিউজ একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি