ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৩১:১০

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নাজমুল হাসান নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯ নং কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মা করে সে। সহপাঠিদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাদিম, সাগর ও আব্দুল্লাহ নামের কয়েকজন বন্ধুসহ নাজমুল হাসান ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হলের নিজ কক্ষে (২২৯ নং) ফেরে নাজমুল। কক্ষে গিয়ে সে তার বন্ধুদেরকে নিজ কক্ষে ডাকে। তার বন্ধুরা কক্ষের সামনে গেলে দরজা বন্ধ পায়। ডাকাডাকি এক পর্যায়ে সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙ্গলে কক্ষের ভেতরে রশিতে ঝোলানো অবস্থায় নাজমুলকে দেখতে পায় তারা। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদিউজ্জামান নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্তব্যবরত চিকিৎসক বদিউজ্জামান বলেন, ‘চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে নাজমুল।’ এছাড়াও প্রেশার, হাপানি ও চোখের নানা রোগে আক্রান্ত ছিল নাজমুল বলে জানা গেছে। মানসিক হতাশার কারণে নাজমুল আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে নাজমুল ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেয়। পোষ্টটি ছিল‘একটা রিক্সা চাই, শৈশব ও কৈশোর ফিরে যাবার জন্য।’ নাজমুল হাসান সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বারাত গ্রামের আব্দুল মালেক গাজী ওরফে ভোলার ছেলে। তার মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সে। তার অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠিদের মধ্যে নেমেছে শোকের ছায়া মাতম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন,‘ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষ ও লাশ পর্যক্ষেণ করা হয়েছে। লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবার আসলে কি করা যায় সে বিষয়ে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’  একে//
আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে শতবর্ষী জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে সরকার। ২০০৯ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৬০ বছরের পুরনো এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ছুটির দিন শনিবার হওয়ায় আগামী সোমবার উদযাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠার এই ১৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও সামনের দিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি পরিবর্তন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান আহরণ এবং পাঠদান দুটি কাজই হয়ে থাকে। আমারা এটি করতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মেধাবীরা ভর্তি হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও মেধাবী। শিক্ষকদের অনেকে বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। ইউজিসি এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষকরা বিভিন্ন গবেষণায় ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারুকলা, সঙ্গীত, নাট্যকলার মতো বিষয় খোলার মাধ্যমে সুকুমারবৃত্তির সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা সংকুলান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, নতুন একাডেমিক ভবন এবং গবেষণা কাজের সুবিধার্থে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ২০০ একর জমিতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষক, ১৯ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।২০১৩ সালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ছাত্রীদের জন্য এক হাজার আসন বিশিষ্ট ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে ১৬ তলা বিশিষ্ট হলটির কক্ষ নির্মাণ কাজ চলছে। এ বছরের শেষে নারী শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে।এসএ/  

জবির শিক্ষার্থী কেন গর্বিত জবিয়ান?

আগামীকাল ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশ করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের কথা তুলে ধরছেন। তাদের মধ্য থেকে জবির বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর লেখা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। কিছু কথা ছিল মনের ভিতর... আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম দিবসকে সামনে রেখে আমরা জবিয়ানরা ফেইসবুকে পোস্ট দিচ্ছি আমি গর্বিত জবিয়ান। হ্যাঁ এটা চিরন্তন সত্য কথা আমিও গর্বিত যে আমি একজন জবিয়ান কিন্তু কেন সেই গর্বটা করি সেটা প্রকাশ না করলেই নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক রাজধানী শহরের শত বছরের পথ চলার সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সদরঘাটে অবস্থিত। আমরা যারা জবিয়ান আমাদের আবাসিক হল নেই আমরা বাসে ঝুলে ঝুলে অন্তত সপ্তাহে ৪ দিন সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করে দৈনিক ৩-৪টা টিউশনি করিয়ে প্রতিমাসে নূন্যতম পর্যায়ের একটা মেসে নিজের থাকা-খাওয়ার ৭-৮ হাজার টাকা নিজেই আয় করে এই শহরে এখনো ঠিকে আছি তাই আমি বলি আমি গর্বিত জবিয়ান। অনেক সময় এলাকা থেকে অথবা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন্ধুরা ফোন দিয়ে বলে আমরা/আমি নাকি কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছি তোদের বলছি ভাই পরিবর্তন হইনি এখানকার সিস্টেম আমাদের/আমাকে পরিনর্তন করে দিয়েছে। জানি বিশ্বাস করবি না কিন্তু একটা মাসের জন্যে আমার পরিস্থিতি এসে দেখ তুই নিজেও পরিবর্তন হয়ে যাবি। সকালে না খেয়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ক্লাস করে দুপুরে না খেয়ে আবার আমাদের দৌড় শুরু হয় টিউশনির জন্যে স্টুডেন্টদের বাসায় বাসায় একটানা ৪-৫টা টিউশনি করিয়ে রাত ১০ টায় সেই অন্ধকার গলির ভিতর দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে দূরে দাড়িয়ে থাকা ক্ষুধার্ত একটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ আর্তনাদে মাথায় আসে যে আমি সারাদিন কিছুই খাই নাই। গলির মোড়ে মামার দোকান থেকে এক কাপ চা আর রুটি খেতে বসি হাতটা দোকানের উপরের সারিতে রাখা দামি খাবারের দিকে যায়না কারন এই হাতটার যে পকেটের গভীরতাও অজানা নয়। মনকে বুঝাই এখন চা আর রুটি ই খাই একটু পরই তো মেসে গিয়ে ভাত খাব মেসের পথ ধরে অন্ধকার গলি দিয়ে হাটতে হাটতে হিসেব করি এ মাসে কত টাকা কমতি আছে কত টাকা দিয়ে কতদিন চলতে হবে সে হিসাব করতে করতে গলির পথ শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমাদের হিসাব শেষ হয় না কারণ গলির পথের একটা সীমা আছে কিন্তু আমাদের এই ৫ টাকা ১০ টাকার হিসাব যে কখন শেষ করবেন সেটা সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিয়ে দৃঢ় মনোবল আর প্রত্যয় নিয়ে পথ চলতে পারি বলেই আমি গর্বিত জবিয়ান।   সারাদিনের ক্লান্তি শেষে একটু সামন্য বিনোদনে সময় পার করতে চাইলেও বাড়িতে ফোন দিয়ে বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বললেই আর সেই বিনোদনের ইচ্ছা থাকে না ভুলে যাই বন্ধুদের কথা ভুলে যাই প্রিয়জনের কথা ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে পড়তে বসে যাই কারণ বাবার করুণ কণ্ঠস্বর আর মায়ের মুখে সন্তানের আকাশচুম্বী সফলতা অর্জনের কথা শুনে আমরা জবিয়ানরা হাজারো ক্লান্তিকে হার মানিয়ে পড়ার টেবিলে বসতে পারি বলে, বন্ধুদেরকে,নিজের প্রিয়জন কে সময় দিতে পারি না বলে, বিনোদনের ইচ্ছাটুকুকে অবুঝ শিশুকে বুঝানোর মত করে নিজের মনকে প্রলোভন দেখাতে পারি বলে আমি গর্বিত জবিয়ান পুরান ঢাকার মেসের প্রতিবন্ধকতা সহ্য করে টানা ২-৩ দিনে একবার ও হোটেলে ভাত না খেয়ে শুধু রুটি আর ডালভাজি খেয়ে জীবনযাপন করি পেট ক্ষিধের জ্বালায় জ্বললেও হোটেলে গিয়ে আমরা ভাত আর রুটি-পরটার দামের পার্থক্যটা চিন্তা করে রুটি-পরটা খাই বলেই আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা টিউশনির বাসায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মুখের কটু কথা শুনেও কিছু মনে করিনা বলেই আমরা গর্বিত জবিয়ান। প্রতিবন্ধক পরিবেশে নিজের জন্যে, নিজের পরিবারের জন্যে লড়াই করে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দেওয়ার মত দৃষ্টান্ত আমরা দেখাতে পেরেছি বলে আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা ক্লাসের জন্যে ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে ঢাকা শহরের যানযটের মধ্যে ৪ঘণ্টা বাসে ঝুলতে ঝুলতে আসি আবার ক্লাস শেষে আরও ৪ ঘণ্টা ধরে বাসে ঝুলতে মেসে ফিরি বলে আমরা গর্বিত জবিয়ান আমরা সারাদিন না খেয়ে থেকেও বাড়ি থেকে ফোন আসলে হাসি মুখে আমি খেয়েছি বলার মত অভিনয়টুকু করতে পারি বলে আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা ঘাম ঝড়িয়ে,বাসে চড়ে, খেয়ে না খেয়ে, ঘিঞ্জি ঘনবসতি বস্তির মত পরিবেশে থেকে জীবন যুদ্ধে ঠিকে আছি বলেই আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা পুরান ঢাকার মত ঘনবসতি ঘিঞ্জি এলাকায় থেকেও পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়েও সুন্দর মনোরম পড়ালেখা করার মত উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীর চেয়ে ভাল কিছু করে দেখিয়েছি বলে আমরা গর্বিত আমরা জবিয়ান। বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আমরা আলাদা, আমরা অনেকখানি ভিন্ন, আমরা অনেক বেশি পরিশ্রমী বলে আমরা গর্বিত আমরা জবিয়ান। আমরা অনেকই বলি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রতিবন্ধকতা যেমন... আবাসিক হল নেই, ছোট ক্যাম্পাস, ১১ একর জায়গায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী, ক্যান্টিনের খাবারের মান ভালো না, ক্যান্টিনের সংখ্যা কম এত সব প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদেরকে জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকতে শিখিয়েছে, নিজের পায়ে দাড়াতে শিখিয়েছে। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরনের নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে। তাই আমি মাথা উচু করে বলব আমি গর্বিত একজন জবিয়ান। এগিয়ে যাক প্রাণের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বেঁচে থাকুক জগন্নাথের আকাশে ঝলঝল করতে থাকা অপার সম্ভাবনাময়ী প্রতিটা গর্বিত জবিয়ান। সাজ্জাদুল ইসলাম রিয়াদের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া। এসএইচ/

ঢাবির ‌‘ঘ’ ইউনিটের ফল বাতিল ও ভিসির পদত্যাগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার ফল বাতিল এবং উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে শিক্ষা সচিব, বাংলাদেশ সচিবালয়ের সচিব ও ঢাবি উপাচার্যের প্রতি এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফল বাতিলের দাবি করে আসছেন ঢাবির সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। ঠিক এই সময়ে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলো। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়া ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। যে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে ডিজিটাল জালিয়াতি হয়েছে। সমালোচনার মুখে পড়ে প্রথমে সোমবার এই পরীক্ষার ফল স্থগিত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার ঠিকই ফল প্রকাশ করা হয়। এমনকি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়ে প্রথম হওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে ফেল করেছিলেন। এই শিক্ষার্থীর নাম জিহাদ হাসান আকাশ। তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। এ নিয়ে শুরু হয় আরও সমালোচনা। প্রশ্নফাঁসের সন্দেহ আরও বাড়ে। এসএইচ/

ভর্তি বাতিলের দাবিতে অনশন: সংহতি জানাচ্ছে সবাই

  ভর্তি পরীক্ষা বাতিলসহ চারদফা দাবিতে অনশন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন। গত তিনদিন ধরে অব্যাহত এ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আখতার। এখনও পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়ার কোন আশ্বাস মেলেনি। ফলে অনশনে আখতারের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে যোগ দিয়েছে নিজ বিভাগর শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। অসুস্থদের দেখতে আজ সেখানে গিয়েছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকে আখতার হোসেন চারটি দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে এ আমরণ অনশন শুরু করেন। দাবিগুলো হলো- ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, পুনরায় পরীক্ষা নেয়া, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিগত বছরে যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এ মানববন্ধনে অংশ নেন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় অসুস্থ আখতারকে দেখতে আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আসেন। আমরণ অনশনে থাকা আখতার শারীরিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গতরাত (বুধবার দিনগত রাত) থেকে তিনি কোনো কথা বলছেন না। বন্ধুরা তাকে সেলাইন দিয়ে রেখেছেন। এ সময় আসিফ নজরুর বলেন, প্রশ্নফাঁস হওয়ার প্রতিবাদে একটা ছেলে বসে আছে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কতটা অসংবেদনশীল হয়ে গেছি যে, তাকে দেখতে পর্যন্ত কেউ আসেনি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে? মানববন্ধনে অংশ নেয়া আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসাইন সিফাত বলেন, আমরা আমাদের বন্ধু আখতারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তার চার দফা দাবির বাস্তবায়ন চাই। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান বলেন, এর আগে যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের সাথে আমরা ক্লাস করব না। ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করা না হলে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারি। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপরই একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। আরকে//

পথশিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করলো জাবি ছাত্রলীগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ট পুত্র শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পথশিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খাবার বিতরণ করেছে শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে এসব বিতরণ করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ জন পথ শিশুর মাঝে খাবার, খাতা, পেন্সিল, রাবার ইত্যাদি বিতরণ করা হয়।বিতরণকালে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতি একটি ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়। আমরা সেই ঘাতকদেরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পক্ষ থেকে আজকের এই দিনে জাতির কাছে আমাদের একটাই জিজ্ঞাসা- শেখ রাসেলের কী দোষ ছিল যে ঘাতকদের নিমর্মতা থেকে শেখ রাসেলও রেহাই পায়নি? আজকের এইদিনে আমাদের দাবি- বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য যে ঘাতকরা আছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে যেন বিচার কার্যকর করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এ এইচ মর্তুজা রিফাত, নাহিদ হোসেন, ইমরান হোসাইন, মাহবুবুর রহমান নীল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারেক হাসান, মো. আরিফুল ইসলাম সহ শাখা ছাত্রলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান সোহেল, তানজিলুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান শাওন, আহমেদ আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসএইচ/

জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের দীক্ষা ক্যাম্প ও তাঁবুবাস অনুষ্ঠিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস, দীক্ষা ক্যাম্প ও ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার আঞ্চলিক রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গাজীপুরে একশোজন সহচরকে তিন দিনব্যাপি ক্যাম্প শেষে দীক্ষা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান কাওসারের সঞ্চালনায় জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার এই দীক্ষা প্রদান করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পের তাঁবুবাস অনুষ্ঠিত হয়। জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকারের সভাপতিত্বে ও জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দারের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় কমিশনার মো. মোফাজ্জেল হোসেন। এসময় সাবেক শ্রেষ্ঠ রোভার মেট, শ্রেষ্ঠ সহচর ও জিনিয়াস সহচরকে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সদস্যরা নাচ, গান ও নাটক পরিবেশন করেন। এর আগে গত সোমবার ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। একে//  

‘গ’ ইউনিটে ফেল, ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ইউনিটভিত্তিক ফলে ব্যাপক তারতম্য দেখা গেছে। এক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ছাত্র অন্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থানে পাশ করেছে। এমনকি ঘ ইউনিটে মেধাতালিয়ায় ১০০ ক্রমের মধ্যে থাকা ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণই হতে পারে নি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর)। এতে ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।এর আগে ১২ অক্টোবর পরীক্ষার দিনই এই ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের মধ্যেই ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে মেধাতালিকায় থাকা কিছু শিক্ষার্থীর দুই ইউনিটের ফলাফলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে। ঘ ইউনিটের পরীক্ষার ফল যাচাই করে দেখা গেছে এই ইউনিটে সর্বোচ্চ মেধাতালিকায় থাকা একাধিক ভর্তিচ্ছু তাদের নিজের ইউনিটের পরীক্ষায় পাসই করতে পারেননি। অথচ কয়েক দিনের ব্যবধানে আরেক ইউনিটের পরীক্ষায় রীতিমতো ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, অস্বাভাবিক কোনো কিছু পেলে ভাইবাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।যদি আমার কাছে মনে হয় তখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিব। এখানে আমি কোনো ছাড় দেব না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ জালিয়াতি করে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।ভর্তি বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঘ ইউনিটে মেধাতালিয়ায় ১০০ ক্রমের মধ্যে থাকা ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। জাহিদ হাসান আকাশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর তিনি ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তির জন্য ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেন। সেখানে ব্যবসায় শাখা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার এই শিক্ষার্থী বাণিজ্য অনুষদে ভর্তির জন্য দেওয়া গ ইউনিটের পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাবির গ ইউনিটের পরীক্ষায় তিনি বাংলায় পেয়েছিলেন ১০.৮ ইংরেজিতে পেয়েছিলেন ২.৪০। অথচ এই শিক্ষার্থী ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭.৩০ পেয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আসা এই শিক্ষার্থী ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ১২০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছিলেন ৩৪.৩২। অথচ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১১৪.৩০ পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকার বাণিজ্য শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০ বছরে ১২০ এর মধ্যে ১১৪.৩০ কেউ পায়নি। এছাড়া ঘ ইউনিটে বাণিজ্য শাখায় যিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন ১২০ এর মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯৮.৪০। মেধাক্রম প্রথম থেকে দ্বিতীয় এর ব্যবধান নজিরবিহীন। আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম বিন আলম ঢাবি ঘ ইউনিটে (বিজ্ঞান শাখায়) প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ বিজ্ঞান শাখার এই শিক্ষার্থী তার নিজের অনুষদ ক ইউনিটের পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ৪৩.৭৫ পেয়ে ফেল করেছিলেন। সেই তিনিই ঢাবি ঘ ইউনিটে সে ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০৯.৫০ পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকার বিজ্ঞান শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। আরকে//

নোবিপ্রবি শিক্ষক ড.সুবোধ সরকারের কালো রসুন এর প্রবর্তন    

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. সুবোধ কুমার সরকার জাপানের হিরোশাকি ইউনিভারসিটি অব হেলথ সায়েন্স এর সাবেক বিখ্যাত প্রফেসর ড. জিন ইচি সাসাকির সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথম তিন ধরনের কালো রসুন, নোবিপ্রবি-বিজি-১ (ডিএল-বিজি), নোবিপ্রবি-বিজি-২(ডিএস-বিজি) ও নোবিপ্রবি-বিজি-৩ (সিএল-বিজি) তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।   এ গবেষণায় তিন ধরনের তৈরিকৃত কালো রসুনের সঙ্গে তিন ধরনের সাধারণ রসুনের তুলনা করা হয় এবং দেখা যায় যে, তিন ধরনের কালো রসুনের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লেভানয়েড, অ্যালকালয়েড, স্যাপোনিন, ট্যানিন, কারডিয়্যাক গ্লাইকোসাইড ও রিডিউসিং সুগার উপস্থিত আছে এবং পরীক্ষার ফলাফলে আরো দেখা যায় যে, নোবিপ্রবি-বিজি-১ এবং নোবিপ্রবি-বিজি-২ এর নির্যাস নোবিপ্রবি-বিজি-৩ এর নির্যাস এর চেয়ে গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী কার্যকারীতা প্রদর্শন করে। এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও ফাইটোকেমিক্যাল স্কিনিং পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে, জাপানের তৈরি কালো রসুনের মত নোবিপ্রবি-বিজি-১ ও নোবিপ্রবি-বিজি-২ কালো রসুনে ও শক্তিশালী জৈব যৌগিক যৌগ উপস্থিত রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বিশেষ করে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঔষুধি সম্পূরক হিসেবে উপকারী হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফলটি আরো নির্দেশ করে যে, নোবিপ্রবি-বিজি-১ এবং নোবিপ্রবি-বিজি-২ কালো রসুন নোবিপ্রবি-বিজি-৩ (সিএল-বিজি) চীনা বড় জাতের এবং জাপানি বড় জাতের (জেএল-বিজি) এর চেয়ে প্রকৃতিতে উচ্চমানের। ড. সুবোধ কুমার সরকার এই গবেষণা কাজটি পরিচালনা করেন জাপানের হিরোশাকি ইউনিভারসিটি অব হেলথ-সাইন্স এর সাবেক প্রফেসর ড. জিন ইচি সাসাকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল এহসানের সহায়তায় ফিলিপাইন এর মেরিয়ানা মারকোস ইউনিভারসিটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. শেরলি কাস্তেনেদা আরাপিস, টোকিও ইন্সিটিটিউট অব টেকনোলজি, জাপান এর ইন্সিটিটিউট প্রেফেসর ও বায়োসাইন্স এন্ড বায়োটেকনোলজি ফ্যাকাল্টির সাবেক প্রফেসর ড. হিরোস সিজেহিসা এবং সিজুওকা ইন্সিটিটিউট অব টেকনোলজির ম্যাটোরিয়াল এন্ড লাইফ সাইন্স এর সহযোগী অধ্যাপক ড. তাথসুরো মিয়াজি এই প্রকল্পে আরও একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।    বাংলাদেশে কালো রসুনের উপর কাজের জন্য ড. সুবোধ কুমার সরকার ব্লাক গারলিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ২০১৮ এবং আওমরি  ব্লাক গারলিক এসোসিয়েশন এর প্রসিডেন্ট মি. সিনিচি কাসিওজাকি এর নিকট থেকে গত ৬ই সেপ্টেম্ভর ২০১৮ তারিখে জাপানের হাচিনোহিতে অনুষ্ঠিত ৩য় আন্তর্জাতিক ব্লাক গারলিক সম্মেলন-এ “ব্লাক গারলিক অ্যামবাসিডর” হিসেবে উপাধি পান। এই উপাধিটি শুধুমাত্র জাপানের হিরোশাকি ইউনিভারসিটির সাবেক প্রফেসর, প্রফেসর ড. জিন ইচি সাসাকি ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এর সাহায্য, উৎসাহ ও সার্বিক সহযোগিতার ফলেই সম্ভব হয়েছে বলেই এই গবেষক মনে করেন। এই তিন ধরনের কালো রসুন তৈরির গবেষণার ফলাফল ২টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, একটি কম্বোডিয়ায় ফুড সেফটি ও ফুড সিকিউরিটির উপর ৪র্থ এএফএসএ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গত ১১ ই আগষ্ঠ ২০১৮ এবং একটি জাপানের হাচিনোহিতে ৩য় আন্তর্জাতিক ব্লাক  গারলিক সম্মেলন এ গত ৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে উপস্থাপন করা হয়।  এই ব্লাক গারলিক প্রকল্পের গবেষক মনে করেন সরকারী আর্থিক সুবিধা ও সার্বিক সহায়তা পেলে বেশি পরিমানে এই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লাক গারলিক তৈরি করা সম্ভব হবে এবং মানবস্বাস্থের জন্য এই ঔষধি সম্পূরকটি ব্যবহারের জন্য দেশ জুড়ে বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও এই ব্লাক গারলিকগুলি অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জণ করা সম্ভব হবে ফলে  আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। প্রসঙ্গত, কালো রসুনের অনেক ঔষুধি গুণাগুণ আছে যা এটি-অক্সিডেন্ট একটিভিটি, এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল একটিভিটি, এন্টি-ডায়াবেটিক একটিভিটি, এন্টি-টিউমার, এন্টি-ক্যানসার একটিভিটি প্রকাশ করে এবং রক্তে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। সম্প্রতি জাপান, কোরিয়া,অষ্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশে কালো রসুনের উৎপাদন শুরু হয়েছে। কালো রসুনের বাজার মূল্য শুধু কোরিয়া এবং অ্যামেরিকাতে আনুমানিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাপানে, কোরিয়া, চীন, অষ্ট্রেলিয়া, ইউকে, ফিলিপাইন ও অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্টতায় কালো রসুন তৈরির কোম্পানির প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে। কালো রসুনের ঔষুধি ও অর্থনৈতিক মূল্যের কারণে যদিও জাপান, কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউকে, অষ্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন এবং অন্যান্য দেশ এটি তৈরি করছে কিন্তু এ বিষয়ে প্রচার ও গবেষণা উভয়ের সল্পতার কারনে এটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে খ্যাতি অর্জনসহ খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় নাই। কেআই/এসি  

৪৫ বছর পর চবি অ্যাক্ট বাংলায় অনুবাদ 

১৯৭৩ সালে ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাস হয়। তখন থেকে ইংরেজি ভাষায় তৈরি আইনটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ৪৫ বছর পর সেই আইনটি বাংলায় অনুবাদ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আইনটি পড়ে যাতে সহজে বুঝতে পারেন, সেজন্য বাংলায় অনুবাদ করা।     বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩ ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করার জন্য বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতারকে প্রধান, বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাইনুল হাসান চৌধুরী ও সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইউসুফকে সদস্য করে কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্যরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ ও প্রথম সংবিধি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। পরে বাংলার অনুবাদের কপিটি ১৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে হস্তান্তর করেন।    অনুবাদের কমিটির প্রধান ও চবির উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীন আখতার বলেন, কমিটি গঠন করে দেওয়ার পর বাংলায় অনুবাদের কপিটি উপাচার্যকে দেওয়া হয়েছে। এখন সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন হলে ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩ বাংলায় ব্যবহৃত হবে। এটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলায় অনুবাদ করলো এবং আইনটি বাংলায় ব্যবহারের পথে।    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষাকবচ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাক্ট উপহার দেন। এখন আইনটি বাংলা ভাষায় রূপান্তর হওয়ায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবার আইনটি জানা প্রয়োজন। বাংলায় অনুবাদ হওয়ায় আইনটি অনেক সহজে জানা যাবে।    কেআই/এসি   

বিদেশী শিক্ষার্থীদের পছন্দে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় 

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে আসা বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক শিক্ষার্থী এখন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ বিজ্ঞান দানেশ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)।  বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয় ২২০ জন বিদেশী শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন।  তাদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ১৫২ জন এবং স্নাতকোত্তর ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর এ সকল  শিক্ষার্থীরা নেপাল, ভুটান, ভারত, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আগত।  বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখানকার শিক্ষা পদ্ধতি অনেক ভাল, শিক্ষা ব্যয়ও অনেক কম, বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে এ সুযোগ সুবিধাও অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অপরূপ সৌন্দর্যও আমাদের মনকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করে ।এখানকার শিক্ষকেরাও অনেক বেশি আন্তরিক মনে হয়েছে । ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ১ম বর্ষের নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাবিপ্রবিতে শিক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ এবং শিক্ষা ব্যয় অনেক কম। তাছাড়া এখানে বিদেশী শিক্ষার্থী  ভর্তির হার বেশি থাকায় এটা আমাদের জন্য একটা সুবিধা।সহজেই এখানে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। সিএসই অনুষদের ২য় বর্ষের নেপালী শিক্ষার্থী পেটার আকাশ বলেন, ‘আমরা প্রথমে বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বাংলাদেশ এ্যাম্বাসিতে পরীক্ষা দেই। সেই পরীক্ষায় আমাদের মার্কসের উপর ভিত্তি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার উপর আমাদেরকে এ্যাম্বাসিতে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আমরা ইচ্ছা মতো কোন বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে পারিনা। কৃষি বনায়ন বিভাগের মাষ্টার্সের সোমালিয়ান শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবদে ইসাক বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির দিকে থেকে মান উপরে, শিক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ, শিক্ষার ব্যয় কম এবং খুব সহজে ভর্তি হওয়া যায়। আর আমাদের দেশ থেকে এখানকার ব্যবহারিক ক্লাসগুলো খুব ভাল হয়।’    বিদেশী শিক্ষার্থী বেশি থাকার কারণ হিসাবে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনের পরিচালক প্রফেসর ড. বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, ‘আমাদের এখানে শিক্ষার মান উন্নত, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের এখানে বেশী সুযোগ সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করা হয় এবং তাদের ব্যয় কম হয় এ কারণে মূলত তাদের আগ্রহ বেশি থাকে। এখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খুবই সহযোগিতা পূর্ণ। এবং এখানে প্রতিবছর স্নাতক পর্যায়ে ৫০জন করে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ প্রদান করা  হয়।   কেআই/এসি   

ঢাবিতে ‘তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সুশিক্ষার প্ল্যাটফর্ম Dream Deviser এর উদ্যোগে ‘তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুপ্রেরণামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। শনিবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।        উক্ত অনুষ্ঠানে ‘স্বপ্ন-সুশিক্ষা-সুযোগ’ মডেলে, শিক্ষা ও সানন্দে স্বপ্নপূরণ বিষয়ক বক্তব্য তুলে ধরেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড. আতিউর রহমান। মূল আলোচনার আগে শিক্ষার্থীদের পেশা ও জীবন গঠনে পরামর্শমূলক আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার আলোচকবৃন্দ। গণ্যমান্য ও অনুসরণীয় ব্যক্তিবর্গ তাঁদের আলোচনায় সানন্দে বা মজায় মজায় সবাইকে নিজ নিজ স্বপ্নবুননে উদ্বুদ্ধ করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়া, ইতিবাচক থাকা, সর্বদা নিজ এবং অন্যের ভালো চাওয়া, অনলাইন বা ডিজিটাল যুগেও নিজের মূল্যবোধ ও মানসিকতা এককথায় সুন্দর মানুষ হতে অনুপ্রেরণামূলক গল্প বলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ড্রিম ডিভাইজার টিমমেটদের এমন আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন- হে তরুণ, তোমরাই ম্যাজিশিয়ান। তোমরা যত বড় স্বপ্ন দেখবে, নিজেরা তত বড় হবে। আর তোমরা যত বড় হবে, দেশ তত বড় হবে। এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি- শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ সহজ ও সুন্দর করতে নানা দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বেও অংশ নেন তিনি। এসময় সবুজ অর্থনীতি, ব্লু-ইকোনোমি, ডিজিটাল বিজনেসসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির উদাহরণ টেনে তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে স্বপ্নবোনার দিক-নির্দেশনা দেন। ড্রিম ডিভাইজার কো-ফাউন্ডার ফাতিহা তাসনীম- স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি প্রত্যেককে সুন্দর মানুষ হতে তাঁদের উদ্ভাবিত সুশিক্ষায় স্বপ্নবুনন মডেলের নান্দনিক ব্যাখা দেন। একইসাথে বাংলা ভাষা নিয়ে ড্রিম ডিভাইজারের ভিন্নধর্মী ও দেশপ্রেমী চিন্তার উপস্থাপনও উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। সুশিক্ষায় স্বপ্নবুনন মডেল ‘স্বপ্ন-সুশিক্ষা-সুযোগ’ বিষয়ে নান্দনিক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন dreamdeviser.com এর হেড হামিমুর রহমান ওয়ালিউল্লাহ এবং হেড অব বিজনেস মোঃ শাহিদুল হাসান শাওন। সেসময় তাঁরা আগামী বিশ্বের প্রত্যেক তরুণের জন্য কেন সুশিক্ষায় স্বপ্নবুনন দরকার- সেবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ও তথ্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে ভিন্নধর্মী ও শিক্ষনীয় উপস্থাপনা নিয়ে ছিলেন হেড অব কমিউনিকেশন্স দন্ত-স শামীম আশরাফ, কো-অর্ডিনেটর আয়েশা চৌধুরী আখি এবং সংবাদ উপস্থাপক রাজিউর রহমান ও জুলিয়া আলম। পুরো আয়োজনে ড্রিম ডিভাইজার টিমের শিক্ষনীয় ও ভিন্নধর্মী পারফরম্যান্স সুশিক্ষায়, সহজে ও সানন্দে স্বপ্নবুননে প্রত্যেককে অনুপ্রাণিত করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক। এছাড়াও রোদসী সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমীন, বেঞ্চমার্ক পিআর ডিরেক্টর এ এফ এম আসাদুজ্জামান, ধারাভাষ্যকার রবিউল ইসলাম রবি ও উপস্থাপক তানজিনা পৃথাসহ অনেকেই পরামর্শমূলক কথা বলেন। উল্লেখ্য, Dream Deviser হলো- সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননের প্ল্যাটফর্ম। এরা অফলাইন এবং অনলাইনে সব ভালো কাজে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। পড়ালেখা তথা লাইফস্টাইল শিক্ষার সবকিছু সহজে পৌঁছে দেয়। যে কেউ ড্রিম ডিভাইজার এর ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়ে এবং ইউটিউব এ সাবস্ক্রাইব করে যুক্ত হতে পারেন এ আয়োজনে। এবং তাঁদের dreamdeviser.net নামে সুন্দর কনটেন্ট সাইট স্বপ্নের সন্দেশেও যুক্ত হতে পারেন। আর ড্রিম ডিভাইজারে যুক্ত হতে বা তাঁদের কাজের সঙ্গী হতে বা শিখতে dreamdeviser.com নামের ওয়েব সাইটটিতেও সংযুক্ত থাকতে পারেন সব সময়। ‘স্বপ্ন-সুশিক্ষা-সুযোগ’ মডেলে ড্রিম ডিভাইজার প্রথমত: বড় হতে গেলে স্বপ্ন দেখতে হবে বলে উৎসাহিত করে; দ্বিতীয়ত: স্বপ্নপূরণে তদানুযায়ী সুশিক্ষা নেয়ার কথা বলে এবং সুশিক্ষার ভালো কনটেন্ট তৈরি করে এবং তৃতীয়ত: স্বপ্ন এবং সুশিক্ষা থাকলে ব্যক্তির সুযোগ তৈরি হবে বলে বিশ্বাস তৈরির কথা জানায়। এমনকি একটি সুযোগ যেনো ব্যক্তির নিজের এবং অন্যের আরও সুযোগ তৈরিতে স্বপ্ন দেখায় সেকাজেও অনুপ্রাণিত করে সুশিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ড্রিম ডিভাইজার। এসি  

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের  জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে: তদন্ত কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’  ইউনিটে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর  কমিটি তদন্ত শেষে এই প্রমাণ পেয়েছে। সোমবার (১৫ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ অক্টোবর (শুক্রবার) পরীক্ষার  দিন সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে একজন ভর্তিচ্ছু মেসেঞ্জারের  মাধ্যমে হাতে লেখা উত্তরসহ প্রশ্ন পায়। তদন্ত কমিটি এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।  তদন্ত কমিটির  সুপারিশে জানিয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করার সুপারিশ করেছে কমিটি। উল্লেখ্য, গত  শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার রাতেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে জানান, মেসেঞ্জারে প্রশ্ন  ও উত্তরপত্র আসার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় ছয়জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রিমান্ডে নিয়েছে। প্রসঙ্গত,গত শুক্রবার বেলা ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ৮১টি কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষার পূর্বে বেলা ৯টা ১৭ মিনিটে অনেক ভর্তিচ্ছুর হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারে সাদা কাগজে উত্তর লেখা সংবলিত প্রশ্ন আসে। অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া ৭২টি প্রশ্ন ও উত্তর হুবহু মিলে যায়। কেআই/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি