ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:১৫:০৮, বুধবার

কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনশন ভেঙ্গেছেন ঢাকা কলেজের সামনে আমরণ অনশনে থাকা চার শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ জুস পান করিয়ে এই চার শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান। অনশন ভাঙানোর আগে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ শিক্ষার্থীদের চলমান সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে রাতে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন কিছুদিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আরও জানান, সাত কলেজে শিক্ষার উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয় আজ বুধবার অধ্যক্ষ সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বৈঠকে সাত কলেজের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষকে আগামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সভায় উত্থাপন করতে পরামর্শ দেওয়া হবে। এর আগে ঢাকা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানেরা শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও তেমন কোনও আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  রাতে উপাধাক্ষ আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন। এই সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির সরকারি সাত কলেজের তীব্র সেশনজট, ত্রুটি পূর্ণ ফলাফল এবং ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতাসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে ঢাকা কলেজের গেটের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। শরুতে তিন শিক্ষার্থী দিয়ে অনশণ শরু হলেও বিকালে আরও এক শিক্ষার্থী যুক্ত হন। টিআর//
পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে তিন শিক্ষার্থী

সেশনজট নিরসন, ত্রুটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করাসহ ৫ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন করছেন। অনশনকারী তিন শিক্ষার্থী হলেন- সাইফুল ইসলাম, আবু নোমান এবং সাকিব। এরা সকলেই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা কলেজের মূল গেটের সামনে অনশন করছেন তারা। আমরণ অনশনের অংশ নেয়া ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২০১৭-১৮ সেকশনের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা যেই দাবিগুলো নিয়ে এখানে এসেছে। সেই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা আমরণ অনশন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অনশন করবো। এদিকে আজ সকালে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়া সরকারি সাত কলেজে সেশনজট নিরসন, ত্রুটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করাসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ—১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে।২. ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে।৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন চাই।৪. প্রতি মাসে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে।৫. সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রামের চালু করা। টিআর/

নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়া সরকারি সাত কলেজে সেশনজট নিরসন, ত্রুটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করাসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে মানববন্ধন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা, যা নীলক্ষেত ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এর পর সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এ সময় তারা সাত কলেজের নানা সমস্যা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘গণহারে আর ফেল নয়, যথাযথ রেজাল্ট চাই’, ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা নয়’, ‘গণহারে ফেল, ঢাবি তোমার খেল’, ‘বন্ধ কর অনাচার, সাত কলেজের আবদার’, ‘নিচ্ছ টাকা দিচ্ছ বাঁশ, সময় শেষে সর্বনাশ’- এসব স্লোগান দেয়া হয় বিক্ষোভে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৯ মাস সাত কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তার পর মানববন্ধন, অনশন কর্মসূচি সর্বশেষ সিদ্দিকের (তিতুমির কলের শিক্ষার্থী) চোঁখের বিনিময়ে ঢাবি আমাদের কার্যক্রম ধীরগতিতে শুরু করে। প্রায় দুই বছর দুই মাস অতিবাহিত হলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা কোনো সুফল ভোগ করতে পারছেন না। বিলাল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাবি আমাদের যে মান অনুযায়ী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে, সেই মান অনুযায়ী ক্লাসে পড়ানো হয় না। এমনও বিষয় আছে- পাঁচটির বেশি ক্লাস হয় না। নানা অজুহাতে ক্লাস বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের কাছে গেলে উনারা বলেন, ঢাবি তোমাদের সব কার্যক্রম করছে, আর ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে গেলে বলে সাত কলেজের শিক্ষকরা সভা করে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবেই শিক্ষাথীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ— ১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে। ২. ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে। ৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন চাই। ৪. প্রতিমাসে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে। ৫. সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রামের চালু করা। টিআর/

ঢাবিকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে হাবিপ্রবি

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ফুটবল দল। সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। একের পর এক আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিতে থাকে তারা। অবশেষে প্রথমার্ধে দলের অধিনায়ক গোলাম সারোয়ার তাকওয়া-এর আক্রমনের সুফল পায় হাবিপ্রবি ফুটবল দল। প্রথম অর্ধে ১-০ ব্যবধান রেখে মাঠ ছাড়ে হাবিপ্রবি। বিরতি শেষে আক্রমণের ধার আরো বাড়ায় হাবিপ্রবি দল। মুহুর্মুহু আক্রমণে ঢাবি রক্ষণভাগকে তারা ব্যাস্ত করে রাখে। আক্রমণের এক মুহূর্তে দলের ক্যাপ্টেন তাকওয়া তার ২য় গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় বিজয়ের দিকে। অবশেষে ২-০ গোলে বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হাবিপ্রবি ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচে হেট্রিকসহ এখন পর্যন্ত দলের হয়ে ৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হচ্ছেন দলের এই তরুণ অধিনায়ক গোলাম সারোয়ার তাকওয়া । আগামী ২৪ তারিখে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বনাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার খেলায় যে দল জয় লাভ করবে সে দলের সাথে আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে হাবিপ্রবি ফুটবল দল । উল্লেখ্য,আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় হাবিপ্রবি ফুটবল দল গ্রুপ পর্বে ১ম খেলায় জবি ফুটবল দলকে ৬-০ গোলে, ২য় খেলায় কুয়েট ফুটবল দলকে ২-০ গোলে ও ৩য় খেলায় ঢাবি ফুটবল দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। এসি  

ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শুরু ২৫

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এর উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইসিবিএম)-২০১৯’। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল ২০১৯) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে শুরু হচ্ছে শিক্ষার্থী-গ্র্যাজুয়েট ও গবেষকদের এই মিলনমেলা। দ্বিতীয়বারের মতো তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে ব্র্যাক বিজনেস স্কুল। শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি শুক্রবার (২৬ এপ্রিল ২০১৯) প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলন এর উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং, পিএইচডি। ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মাহবুব রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা ও কনফারেন্সের প্রোগ্রাম চেয়ার মামুন হাবিব উপস্থিত থাকবেন। রোববার, (২৭ এপ্রিল ২০১৯) সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। কনফারেন্সে ৪টি মূল প্রবন্ধ, ৯টি আমন্ত্রিত প্রবন্ধ, ৮টি শিল্প সংক্রান্ত প্রবন্ধ ও ২৮টি প্যারালাল সেশনে বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ১৭০টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করবেন। যার মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সুইডেন, কানাডা, নাইজেরিয়া, তাইওয়ান ও ভারতসহ ১১ দেশের ৪০ জন দেশি-বিদেশি শিক্ষক-গবেষক। সম্মেলনের শেষ দিনে ‘ইন্ডাস্ট্রি টক’ এর আয়োজন করা হয়েছে যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান এর শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন। আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সটির প্লাটিনাম স্পন্সর এসিআই লিমিটেড। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, আবদুল মোনেম লিমিটেড, আইপিডিসি ফিনান্স লিমিটেড ও রানার মটরস লিমিটেড এবং সিলভার স্পন্সর হচ্ছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিকাশ। এসএইচ/

জীবন যুদ্ধে হার না মানা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আযাহারুল

কোনো সমস্যাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আযাহারুল ইসলামের সামনে। জন্মের পর থেকেই ভালোভাবে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ হয়নি তার। নিজের উদ্যম আর ইচ্ছা শক্তি দিয়েই শেষ করেছেন পড়ালেখা। প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকলে মানুষ পৃথিবীকে জয় করতে পারে। সেটিই করে দেখিয়েছেন আযাহারুল। অনার্স ও মাস্টার্স-এ প্রথম বিভাগে পাশ করে চমকে দিয়েছেন সবাইকে।  এই অদ্যম মনোবল নিয়ে আযাহারুল এখন চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন যুদ্ধ। শুধু তাই নয় বর্তমানে রাজধানীর একটি স্কুলে খন্ডকালীন বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আযাহারুল ইসলামের জন্ম জামালপুর জেলায় এক হতদরিদ্র কৃষক পরিবারে। পরিবারে চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে আযাহারুল দ্বিতীয়। লেখাপড়া শেষ করে ভাল শিক্ষক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দেশের সেবা করতে চান তিনি। নানা-প্রতিবন্ধকতার পরও সে পড়ালেখায় সফল হয়ে সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে ভাল ফলাফল করে ভর্তি হন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে। এইচএসসি ও অনার্স-এ একই কলেজ থেকে পড়াশুনা করে প্রথম বিভাগে পাশ করে সবাইকে চমকে দেন। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজে এসে ২০০৮-২০০৯ সেশনে মাস্টার্সে ভর্তি হন আযাহারুল। ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে তোর চোখে আর ঘুম নেই। ভালো ফলাফলের আশায় দিনরাত পড়াশুনা করতে থাকেন। অবশেষে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আযাহারুল সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এম এডের শিক্ষার্থী তিনি। থাকেন ঢাকা কলেজের ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রাবাসে ৩০৮ নং রুমে। গতকাল শনিবার ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে আযাহারুলের সঙ্গে কথা হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদকের। এসময় তিনি তার জীবনের সাফল্য ও সংগ্রামের কথা বর্ণনা করেন। আযাহারুলের মা ছেলে সম্পর্কে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আযাহারুলের চোখে আলো না থাকলেও ছোটবেলা থেকে নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করতো। তার প্রবল ইচ্ছা শক্তি ও অদম্য আগ্রহ তাকে এতো দূর নিয়ে এসেছে। সে অন্যান্য স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতো কলেজে গিয়ে ক্লাস করে। নিজে মোবাইল চালায়। নিজের হাতে খাওয়া দাওয়া করে। ফুটবল-ক্রিকেট খেলাসহ নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করে। আমার ছেলে শিক্ষক হয়ে আলোকিত মানুষ গড়তে চায়। আযাহারুল ইসলাম বলেন, মা বাবার প্রচন্ড আগ্রহ ও সবার সহযোগিতায় আমি এই পর্যন্ত এসেছি। পড়াশুনা শেষ করে ভাল শিক্ষক হয়ে দেশ সেবা করতে চাই। এই অবস্থানে আসতে গিয়ে কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বাধা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এখানে আসতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় হলো যখন স্কুল কলেজে পড়তাম তখন বন্ধুরা আমাকে মেনে নিতে পারেনি। এমনকি অনেক শিক্ষক খারাপভাবে কথা বলতো। তারা বলতো- পড়ালেখা করে তুমি কি করবা, ভালো অংঙ্ক-ইংরেজি জাননা। তুমি পারবা না। এসব কথা আমাকে খুব কষ্ট দিত। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার।  আযাহারুল এক বুক কষ্ট নিয়ে বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় শিক্ষকরা আমাকে নম্বর কম দিতো। তবুও আমি হাল ছাড়েনি। আনেক সংগ্রাম আর কষ্টের পর এই অবস্থানে এসেছি। আমি সবাইকে বলবো- আপনারা আমার মতো এই সমাজে আরও যারা আছে তাদেরকে যদি সহযোগিতা করতে না পারেন, অবহেলা করবেন না। টিআর/

নদী দখল ও দুষণ মুক্ত করার দাবিতে হাবিপ্রবিতে মানববন্ধন

পরিবেশবাদী ছাত্র-যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস এর ১৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে "নদী দখল, দূষণ বন্ধ কর ও নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ নিশ্চিত করণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় দিনাজপুর জেলা শাখার ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেইট সংলগ্ন দিনাজপুর -ঢাকা মহাসড়কের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আধঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গসহ অর্ধশতাধিক লোক অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধনে কৃষি অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো.খালিদ ইমরান, কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল মান্নান ও কৃষি অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল হাসান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অনাদিকাল থেকে নদীর পানির দ্বারাই আমাদের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি, কৃষি ও মানব জীবন সিঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় একাদশ শতাব্দীতে আমাদের নদীর সংখ্যা দেড় হাজারের মতো থাকলেও এখন তা ২৩০ এ নেমে আসছে। যার ১৭টি নদীই মৃত প্রায়। নদীর পাড়ে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা, কল-কারখানার বর্জ্য নিষকাশন, যত্রতত্র কেমিক্যালের ব্যবহারের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ আজ ব্যহত হচ্ছে । ফলে আমাদের মাছে –ভাতে বাঙালির যে ইতিহাস যে ঐতিহ্য তা হারাতে বসেছি। আমাদের এখনই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে, প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই যুবরাই লড়বে, সবুজ পৃথিবী গড়বে ‘স্লোগানের স্বার্থকতা বাস্তবায়িত হবে । সভাপতির বক্তব্যে, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ খালিদ ইমরান বলেন, " নদী দখল, দূষণ বন্ধ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষে আমরা মাঠপর্যায় পর্যন্ত কাজ করবো, যাতে করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারি। পরিবেশ ও নদী দূষণের যে কুফল রয়েছে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। "আমি মনে করি, প্রত্যকে নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি আমরা সচেতন হই, তাহলে একদিন সুজলা-সুফলা সবুজ –শ্যামল পৃথিবী গড়ে ওঠবে। উল্লেখ্যে যে, পরিবেশবাদী যুব সংগঠন “গ্রীণ ভয়েস” ২০০৫ সালের আজকের এই দিনে যাত্রা শুরু করে এবং দীর্ঘ দুই বছর শেষে ২০০৭ সালে এসে নিবন্ধিত হয় । এটি পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে । এসি  

হাবিপ্রবিতে নুসরাত হত্যার বিচার দাবীতে মানববন্ধন

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেট সংলগ্ন দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তারা এই মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে। আধ ঘন্টাব্যাপী এই মানবব্ন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। মানব বন্ধনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক প্রফসর ড.মো.ফেরদৌস মেহবুব এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. এ.টি.এম সফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায়, সহ সম্পাদক প্রফেসর ডা. এসএম হারুন-উর-রশীদ, প্রফেসর ডা.বেগম ফাতেমা জোহরা প্রমুখ। কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা.আসাদুজ্জামান জেমি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দ্বীপা, রাব্বি, স্নিগ্ধাসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় একটি প্রতিষ্ঠান, সেখানেও আজ আমার বোন কিংবা মা কেউই নিরাপদ নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসেও আমরা যদি নিরাপদ থাকতে না পারি তাহলে নিরাপত্তা পাবো কোথায়? আজ আমার বোন খুন হয়েছে তো কাল অন্যজন খুন হবে। আমাদের সোচ্চার হতে হবে এখনই! এক্ষুণই এসব নরপশুদের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, যারা এই ঘৃণ্য অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের সকলকে যেন দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়। তাদের যেন এমন শাস্তি দেয়া হয়, যাতে করে পরবর্তীতে কেউ এই ঘৃণ্য অপকর্ম করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায় বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন মমতাময়ী মা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যিনি শপথ গ্রহণের পূর্বে নারী নির্যাতন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। যেখানে কোন নারী নির্যাতন থাকবে না। তারই ধারাবাহিকতায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি সকলের উপস্থিতে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে কলঙ্কমুক্ত ও নারী নির্যাতন মুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করতে চাই। এরই প্রেক্ষিতে আমি মাননীয় উপাচার্যের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাতে চাই, তদন্ত কমিটি যে রায় দিয়েছে তার ভিত্তিতে নারী নির্যাতনকারী রমজান আলী সহ এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বহিস্কার করে ক্যাম্পাসকে কলঙ্কমুক্ত, নারী নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হোক। এবং সেই সাথে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নুসরাত হত্যার সাথে জড়িত সিরাজ-উদ-দৌলা সহ সকল খুনীদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এরপর তিনি সকলকে, যেখানে অন্যায় সেখানেই প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্যও আহবান জানান । এসি  

চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ওই বিভাগের সাক্ষাৎকার (মৌখিক পরীক্ষা) বাতিলপূর্বক পুনরায় পরীক্ষা নিতে প্রার্থী মো. এমদাদুল হকের আবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এমদাদুল হকের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। পরে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, “গত ২৭ মার্চ প্রাণীবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মো. এমদাদুল হক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে পৌঁছানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী তার পথ আটকায় এবং সেখান থেকে অবরোধ করে তাকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের কোনায় নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্যাগোডায় নিয়ে গিয়েও মারধর করে।” সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে নিয়ে গিয়েও মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এবং বলা হয় যে, সে শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত। পুলিশ সাথে সাথেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছিলো। প্রক্টর ও ভিসি মহোদয়কে জানিয়েছে এ ঘটনার বিষয়ে। কিন্তু প্রক্টর ও ভিসি কোনো রকমের পদক্ষেপ নেননি। তারপর তার নিরাপত্তার কথা ভেবে পুলিশ তাকে হাটহাজারী থানায় নিয়ে গিয়ে লকাপে রাখে ৫টা পর্যন্ত। এরপর ৫টার সময় ওসি এসে পুরো ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন। মারধর করে এমদাদুল হকের গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিলো। থানার ডিউটি অফিসার তার একটি শার্ট দেন। ৫টার দিকে ছাড়া পেয়ে এমদাদুলক হক তার এক বন্ধুর বাসায় চলে যান। তার দুই দিন পর ৩০ মার্চ এমদাদুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং অনুরোধ করেন যেন তাকে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এমদাদুল হক ২০১২-১৩ সালে প্রাণীবিদ্যা বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৮৮ পেয়েছেন। তিনি এই এক্সিলেন্ট রেজাল্টের জন্য ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান। এমন ভালো রেজাল্ট করার পরও একজন শিক্ষার্থী যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পান, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরো বলেন, এই ঘটনার কোনো সমাধান না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আজকে এ আবেদনটির শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেছেন, ৩০ মার্চ এমদাদুল হক যে আবেদনটি জানিয়েছিলেন ভিসি মহোদয়ের কাছে সেটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন এবং এই সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই যেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষকের দুটো খালি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন না করা হয়, সেটার ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন। এছাড়া আদালত শুনানির এক পর্যায়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান অবক্ষয়ের বিষয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন বলে জানান ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। তিনি আরো বলেন, আদালত যেহেতু দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন, আমরা দেখবো কী হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতকে আমরা এর ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করবো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাইবো। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, আজকে আদালত যে রুল দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমদাদুল হক যে পদে আবেদন করেছেন সে পদে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ২০১৭ সালে ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও প্রভাষক পদের বিপরীতেও দরখাস্ত আহবান করা হয়। যেটিতে আবেদন করেন এমদাদুল হক। এসি  

যে কারণে আটকে গেল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না এই সম্মেলন। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হলেও যথাযথ প্রস্তুতি না থাকা এবং কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যস্ত সময় পার করায় ভেন্যু ঠিক করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। যে কারণে পেছানো হচ্ছে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের সম্মেলন। একইসঙ্গে কবে নাগাদ এই সম্মেলন করা হবে সেটাও স্পষ্ট করতে পারেনি তারা। তবে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আশার বার্তা হচ্ছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার পরপরই হবে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন । ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নানান বিষয় নিয়ে ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে বিস্তর আলোচনা হয়। এসময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ সম্মেলন নিয়ে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন। এবিষয় জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অতি শীঘ্রই হবে। কমিটি বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমরা সাক্ষাত করেছি। তিনি যেভাবে আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবে আমরা কাজ করেছি। আশা করি কিছু দিনের মধ্যেই আপনারা সুসংবাদ পাবেন। এসময় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পরপরই ঢাকা কলেজের সম্মেলন আশ্বাস দেন তিনি। এব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা কলেজ। আমাদের চিন্তা ছিল এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে সম্মেলন দেয়ার। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় আমরা এখন সম্মেলন দিতে পারছি না। গত দিন আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে কাজ শুরু করছি। তবে এতোটুকু বলতে পারি কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি দেওয়া হবে। তারপরেই ঢাকা কলেজের সম্মেলন দেওয়া হবে। সাংগঠনিক মান ও কাজের যোগ্যতা মূল্যায়ন করে কমিটিতে স্থান পাবে নেতাকর্মীরা। কমিটিতে যারা আসবেন তারা ছাত্রদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবেন। এই বিষয় জানতে চাইলে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন মাহি, বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক হয়। তখন তারা আশ্বাস দেন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে হবে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন। তবে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কারণে এখন হচ্ছে না। আশা করছি কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর ঢাকা কলেজে সম্মেলন হবে। এবং পরিশ্রমী ও যোগ্য ছাত্র নেতারা ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসবে। এবিষয় জানতে চাইলে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ মির্জা যথাসময়ে সম্মেলন হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি তিন বছর পর মূল কমিটি হতে যাচ্ছে এটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার মতো বিষয়। তিনি আরও বলেন, ত্যাগী, সংগ্রামী ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব আসুক ঢাকা কলেজে। দলের জন্য যারা ডেডিকেটেড এবং হলের ছাত্র তারাই এই কমিটিতে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক পর ২০১২ সালে অক্টোবর মাস ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ৫৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন, এফ এইচ পল্লব এবং সাধারণ সম্পাদক সাকিব হাসান সুইম। অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে এক ছাত্র নিহত হওয়ার পর ২০১৩ সালে ৩০ নভেম্বর ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বহিস্কার করা হয় ৭জনকে। এরপর এক প্রকার নেতৃত্বহীন ভাবে চলেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালে ১৭ নভেম্বর তিন মাসের জন্য নুর আলম ভুইয়া রাজুকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের ধরে ঢাকা কলেজ শাখার আহ্বায়কসহ ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। এখনও তিন মাসের আহ্ববায়ক কিমিটি দিয়ে চলছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের ইউনিট।  টিআর/    

কাফনের কাপড় পড়ে নারী শিক্ষার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ

কাফনের কাপড় পরে নারী নিপীড়ন এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। বুধবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে `ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি` শীর্ষক এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে ভিক্টিমপক্ষ নামের একটি সংগঠন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই প্রতিবাদীরা। কাফনের কাপড় পরা ছয় নারীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক তরুণীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড লেখা ছিল; “আমি ‘মানুষ’ বিচারহীন রাষ্ট্রে খুন ও ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভিক্টিম পক্ষ। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে `নারী নিপীড়ন এবং বিচারহীনতার প্রতিবাদ` শীর্ষক এ আয়োজনের উদ্যোক্তা শারমিন অর্পি। জানতে চাইলে বলেন, ফেনীতে যৌন নিপীড়নের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় নুসরাত জাহান রাফিকে। তার মতো হাজার হাজার ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে বিচারের বাইরে। এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় নতুন করে অপরাধের সাহস পাচ্ছে। রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নিপীড়নের মাত্রা বাড়ছে উল্লেখ করে শারমিন অর্পি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছে নিপীড়কের বিচার চাওয়ার চেয়ে নিজেদেরই খুন বা ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। তাই আমাদের এ ধরনের প্রতিবাদ। অভিনব প্রতিবাদের এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি