ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৩১:২১

‘শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগের চেয়ে বেশি লাভজনক আর হতে পারে না’

‘শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগের চেয়ে বেশি লাভজনক আর হতে পারে না’

একটি রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগের চেয়ে বেশি লাভজনক আর হতে পারে না। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য নিরাশভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ‘প্রথম পুণর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন চত্বরে এ পুণর্মিলনী’ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সব আন্দোলনের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে জড়িত। তাছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যতম অবদান রেখে চলেছে। এ সময় তিনি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ভালো ম্যানেজার হিসেবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংল গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, তোমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময়। তখন বহু সংকট ও সমস্যার মধ্যে দিয়ে আজ তোমরা জীবনের ভালো লাগার সময় পার করছো। তিনি আরও বলেন, তোমাদের এই পুণর্মিলনী বিশাল বন্ধুত্ব গড়ে তুলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব চেয়ে বড় প্লাটফর্ম হবে এটা। অনুষ্ঠানে রাশেদুল ইসলাম পল্লবের সভাপতিত্বে দিনা আফসানার সঞ্চলনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শওকত জাহাঙ্গীর, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম মোস্তফা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ইএমবিএ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের হেড অব এক্টিভেশন মো. সানাউল সিকদার, ওয়ালটন গ্রুপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মার্কেটিং) ফিরোজ আলম এবং শাহরিয়ার স্টিল মিলস্ লিমিটেডের ডিরেক্টর শেখ মো. আজহার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সারা দিনব্যাপী স্মৃতিচারণ, বন্ধুত্বের মেলনবন্ধন, জমকালো কনসার্ট আয়োজন করা হয়। কনসার্ট অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থীরা গানের তালে তালে নেচে গেয়ে অন্যরকম আমেজ সৃষ্টি করে। এসএইচ/
বিশ্ব পরিমন্ডলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শীতা অর্জনের বিকল্প নেই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ব পরিমন্ডলে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শীতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষা ছাড়া একটি জাতি উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এ জন্য চাই দক্ষ ও আলোকিত মানব সম্পদ। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন ও উক্ত বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। উপাচার্য তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে সময়ের প্রতি নিষ্ঠাবান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে যথাসময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কাঙ্খিত ভূমিকা রাখার আহবান জানান। দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের কোর্স শিক্ষক মাছুম আহমেদ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চবি প্রক্টর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোমিনুল ইসলাম ও আফরিন সাদী। নবীনদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করেন সিদরাতুল মুনতাহা। অনুষ্ঠানে উক্ত বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কেআই/

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভালোবাসা দিলেন চবি শিক্ষার্থীরা

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিনটিকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এদিনে সবাই কম বেশি প্রিয়জনদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সবাই যখন প্রিয়জনের সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছে ঠিক সে সময় ব্যতিক্রমী ভালোবাসার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত সামাজিক সংগঠন ‘পথের পাঁচালি’। বৃহস্পতিবার দুপুরে চবির বুদ্ধিজীবী চত্বরে ‘পথের পাঁচালি’ এবং ‘লাভ ফর চিল্ড্রেন’ এ আয়োজন করেন। এর মধ্যে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষা-সামগ্রী, খাবার বিতরণ, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠার দেড় বছরে পথশিশুদের শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি দিবসগুলোতে বিশেষ আয়োজন করে সংগঠনটি। তারই অংশ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়। ৩৫ জন পথশিশু ‘পথের পাঁচালি’র তালিকাভূক্ত থাকলেও আয়োজনটিতে ছিল ৫৫ জন পথশিশু। উক্ত আয়োজন সম্পর্কে পথের পাঁচালির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, আমরা সপ্তাহের দু’ দিন ঘণ্টাব্যাপী সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা দিয়ে থাকি। আমাদের সাময়িক লক্ষ্য হচ্ছে এ বছরে তাদের শিক্ষা কেন্দ্রিক সকল ব্যয়ভার বহন করা। সামনে এটা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে জুনিয়রদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন শিক্ষার্থী চাইলে আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। উল্লেখ্য, ‘মুকুলে না ঝরে প্রস্ফুটিত হোক জ্ঞানের আলোয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৭ সালের মে মাস থেকে সামাজিক কার্যক্রম শুরু করে পথের পাঁচালি। বাংলা বিভাগে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত ১৫ জন সদস্য এর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার বিকাল চারটা থেকে ঘণ্টাব্যাপী পথশিশুদের শিক্ষা দিয়ে থাকে তারা। তাদের শিক্ষা সামগ্রীর ব্যয়ভার বহনে সংগঠনের সদস্যরা নিজ থেকে চাঁদা দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিশেষ আয়োজনে সমাজের গুণিব্যক্তিদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। কেআই/  

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিঙ্গেল সোসাইটির বিক্ষোভ মিছিল

‘প্রেমের  মন্দিরে তালা, বন্ধুত্ব দরজা খোলা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সিঙ্গেল সোসাইটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শালবন বিহারে এসে শেষ হয়। এরপর মুক্তমঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। এ সময় সিঙ্গেল সোসাইটির সভাপতি কুবির ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিয়ামুল আরাফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাওন এর সঞ্চলনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তরা বলেন, যারা ডাবল হওযার চেষ্টায় আছেন তাদের পদত্যাগের জন্য বলা হয়। ফেসবুকের টাইমলাইন সিঙ্গেলের তকমা ও স্টাটাস দেওয়ার জন্য আহবান করা হয়। ‘ভালোবাসা কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না। কুবির মাটি সিঙ্গেল সোসাইটির ঘাঁটি এ রকম নানান স্লোগানে মুখরিত ছিলো পুরো ক্যাম্পাস। ১২ তম ব্যাচের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, আজকাল প্রেমগুলো শুধুমাত্র লাভ লোকসানের হিসেব নিকাশের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে দেখা যায় না অনেকেই তাই সম্পর্কগুলো খুব দ্রুত ভেঙ্গে পড়ে ও ঘটে আত্মহত্যার মতো ঘটনা। আমরা এই রকম প্রেম-ভালোবাসার তীব্র নিন্দা জানাই। ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী অপু তার ভাষ্য মতে,‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস মানে কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমকে বুঝায় না। এই দিনটিতে একটি মানুষ তার চারপাশের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সকল সদস্যদের ভালোবাসা নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করতে পারে এটাই তার বিশেষত্ব। সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাওন বলেন, বিয়ের আগে অবৈধ প্রেম পরিহার করে বৈধ প্রেমে আসার। ভালোবাসা দিবসে কেউ বঞ্চিত হবে তা হবে না তা হবে না। এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি নিয়ামুল আরফাত বলেন, প্রেম যেন সার্বজনীন হয়। বিয়ের আগে তথাকথিত প্রেম বিসর্জন দিয়ে সার্বজনীন প্রেমে আসার আহবান জানান। তিনি আরও দাবি জানান, প্রশাসন যেন ক্যাম্পাসের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় লাইটিং এর ব্যাবস্থা করে। কেআই/  

চুয়েট কর্মচারী ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কর্মচারী ক্লাবের ২০১৮-১৯ সালের নির্বাচন গত ১২ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে মো. ফজলুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আজিজুর রহমানসহ বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়েছেন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মানবিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হাছান, নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান খান এবং ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চীফ টেকনিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বিজয়ী অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মো. শাহ্ আলম মিয়া, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল ফাহাদ খান, অর্থ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান শাহ্, দপ্তর সম্পাদক মো. সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আবু সাদাত, প্রচার ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. শফিউল মোস্তফা এবং নির্বাহী সদস্য মো. বাবুল মিয়া, মো. তসলিম উদ্দীন, মো. হুমায়ূন কবির, মো. সালাউদ্দীন আলম ও মো. জিহাদ বিশ্বাস। কেআই/

পিঠা উৎসবে মেতেছে ক্যাম্পাস

‘রঙে ঐতিহ্য মিলন মেলায়, পিঠা উৎসবে আয় ছুটে আয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শেখ হাসিনা’ চত্বরে বাংলা বিভাগে পিঠা উৎসবের আয়োজন করে। এ সময় হরেক রকম পিঠায় উৎসবে মেতে উঠেছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার  দুপুরে  এ পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.খোন্দকার নাসির উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর রফিকুনেচ্ছা আলী, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. সাত্তার, ইন্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বি কে বালা, আইন অনুষদের ডিন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, রেজিষ্টার প্রফেসর ড. নুরউদ্দিন, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  জাকিয়া সুলতানা প্রমুখ। পিঠা মেলার উদ্বোধন শেষে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক -শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। গ্রাম বাংলার নানা ধরনের পিঠাসহ স্টলগুলোয় ছিল প্রায় শতাধিক প্রকারের পিঠার সমাবেশ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, চন্দ্রপুলি,রসমাধুরি,হৃদয়হরণ,ঝালকুলি,কস্তুরি পিঠা,ইলিশ পইটা,নারকেলের বরফি,পাটিসাপ্টা,নকশি পিঠা উল্লেখযোগ্য। পিঠা উৎসব সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেন,‘পিঠা পুলি বাঙালিদের অন্যতম ঐতিহ্য, কিন্তু বর্তমানে এই ইতিহ্যের চর্চা অনেকটা কমে এসেছে। মূলত এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের পিঠাপুলির সাথে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে আমরা প্রতিবছর এই উৎসব আয়োজন করে থাকি। এ উৎসবে গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠার সমাহার থাকে। আমাদের শিক্ষার্থীরা এই উৎসব অত্যন্ত উপভোগ করে। আমি মনে করি সকলের উচিত আমাদের ঐতিহ্য এ সকল পিঠাপুলি তৈরির চর্চা বৃদ্ধি করা। কেআই/

“বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আগামী প্রজন্ম” শীর্ষক সেমিনার

নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আগামী প্রজন্ম’ শীর্ষক এক সেমিনার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ -এর স্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আগামী প্রজন্ম’ শীর্ষক এক সেমিনার ও নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি খুলনা এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল করীম, বাংলাদেশ যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আলহাজ্ব মাইনুল হোসাইন খান নিখিল ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোশাররফ এম. হোসাইন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নুরুজ্জামান বলেন, ‘সুনাগরিক সৃষ্টিতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।’ তিনি সুনাগরিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর কর্মকান্ড দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সমাজ উন্নয়নে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, অবিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠে।  

জবিতে প্রেম বঞ্চিতদের বিক্ষোভ

বিশ্ব ভালবাসা দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বঞ্চিত প্রকৃত প্রেমিক সংঘের ব্যানারে  প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। ভালবাসা দিবসে নিজেরা প্রেম বঞ্চিত দাবি করে আমার ভাই সিঙ্গেল কেন জবাব চাই, কেউ পাবে, কেউ পাবে না তা হবে না তা হবে না’, ‘দুষ্টু প্রেমিক নিপাত যাক, প্রকৃত প্রেমিক মুক্তি পাক স্লোগান দিতে থাকেন তারা। বুধবার সকালে র‌্যালিটি বের হয়ে ক্যাম্পাসে প্রদক্ষিণ শেষে রফিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় সংঘটনটির সভাপতি ইমরান হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি নিবন্ধ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আয়িক হাসানসহ বঞ্চিত প্রকৃত প্রেমিক সংঘের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমানসম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

শেকৃবিতে ভালোবাসা দিবসে প্রেমবিরোধী মিছিল

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ভালবাসা দিবসে তথাকথিত প্রেম বিরোধী সংগঠন, শেকৃবি সিংগেল স্কোয়ার্ডের পক্ষ থেকে ভালবাসা দিবসের সূচনালগ্নে রাত ১২টা ১ মিনিটে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘড়ির কাঁটায় যখন ১৪ ফেব্রুয়ারির সূচনা আর ঠিক তখনই কয়েক শতাধিক ছাত্রের বিশাল মিছিলে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেরে-বাংলা হলের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে তথাকথিত প্রেম এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। আর এ নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আয়োজকদের অন্যমত মশিউর রহমান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য সিংগেল লাইফের উচ্ছাস প্রকাশ ও প্যারাহীন জীবনের গল্প শেয়ার করা। আমরা বর্তমান যুগের লুতুপুতু, শো অফ প্রেম, আর কিছুদিন পর ব্রেকাপ হয়ে যায় এ ধরনের প্রেমকে সাপোর্ট করি না। আর আয়োজক মনোয়ার হোসেন সজল বলেন, আমরা ভালবাসা বিরোধী না। তবে বর্তমান যুগের প্রচলিত প্রেম বিরোধী। আমরা চাই সিঙ্গেল লাইফে অন্য কোনও প্যারা না নিতে অযথা টাকা নষ্ট না করতে আর চাই সময় বাঁচাতে। আর সবাইকে এ বিষয়গুলো অবহিত করার জন্য আমাদের এ উদ্যেগ। একে//

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত বরণ

`ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত।` এই ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘বসন্ত উৎসব ১৪২৫’ উদযাপন করা হয়েছে।  বুধবার ভাষা শহীদ রফিক ভবন প্রাঙ্গণে এ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানুর সভাপতিত্বে বসন্ত উৎসবের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, নৃত্য, গান ও আবৃত্তি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপভোগ করেন। এছাড়া বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে তরুন তরুণীদের মধ্যে আলাদা আমেজ লক্ষ্য করা যায়। তারা হলুদ শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে ঘুরতে দেখা যায়। একজন আরেক জনের মাথায় ফুলের ঝুটি পড়িয়ে দেন। এভাবেই যেন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ  বসন্তের আনন্দে তরুণ তরুণীরা মেতে উঠে। কেআই/

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋতুরাজ বসন্ত বরণ উৎসব পালিত

ফাল্গুনের হাত ধরেই প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটে। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির  বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়েছে। বসন্তের আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সকল কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুনের প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্ত উপস্থিত হয়েছে। আর তাই তো বসন্তের আনুষ্ঠানিক বার্তা জানান দিতে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন- ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বসন্তের আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ঐকতান জানান দেয় বসন্ত এসে গেছে। আর তাই বাসন্তী রং শাড়ি পড়ে, কপালে টিপ, হাতে কাঁচের চুড়ি, পায়ে নুপুর, খোঁপায় গাঁদা ফুল আর ছেলেরা ফতুয়া-পাঞ্জাবি, ফতুয়া পড়ে ভালোবাসার বসন্ত বন্দনায় মুখরিত করে সাঁটলের ক্যাম্পাস। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে আড্ডায় ব্যস্ত ছিলো। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল নবীনের দখলে। বেশির ভাগ তরুণ-তরুণীদের ছবি তুলে সামাজিক গণমাধ্যমে শেয়ার করতে দেখা গেছে। বসন্ত অনেক ফুলের বাহারে সজ্জিত হলেও গাঁদা ফুলের রঙকেই পোশাকে ধারণ করে তরুণ-তরুণীরা। খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুলের মালা। শীতের রুক্ষতার প্রকৃতির রিক্ততায় ক্যাম্পাসে ছিল না প্রাণের জোয়ার। কিন্তু গাছে গাছে ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আর প্রজাপতির উড়াউড়ি  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণের বোটানিক্যাল গার্ডেনে এখন বসন্তের আগমনী বার্তা বইছে। বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নানা আয়োজনে বরণ করে নিয়েছে ঋতুরাজকে। উদীচীর বর্ণাঢ্য এই উৎসবের আয়োজনে বসন্তের প্রকৃতি বর্ণনা ও বন্দনা করা ছাড়াও বাঙালির জীবনে বসন্তের প্রভাব নানা ব্যঞ্জনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বসন্তের শুভেচ্ছা জানিয়ে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বসন্তের এ দিনে আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরা অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে প্রতিহত করে সকল কুসংস্কার ও অন্ধকার শক্তিকে নিধন করে আলোর প্রজ্জ্বলন ঘটিয়ে দেশ তথা বিশ্বকে আলোকিত করবে এটিই হোক বসন্তের শপথ।’ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আহমদ সুমন বলেন, ‘বসন্ত সব সময় মনেই থাকে। প্রকৃতি তাকে রাঙিয়ে তোলে কেবল’ রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শবনম তন্বী বলেন, ‘সকাল থেকেই শাড়ি পড়ে এসেছি। আজ খুবই ভালো লাগছে। বন্ধুদের সাথে ছবি তুলেছি, ঘুরছি। বসন্ত আমার কাছে ঈদ উৎসব।’ বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে আমরা পালন করি ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে পালন করি। এ উৎসব এখন পরিণত হয়েছে বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে। বসন্তের প্রথম মুহূর্তকে ধরে রাখতে তাই তো সবাই মেতে ওঠে নানা উৎসব ও সাজে। বাসন্তি রঙের শাড়িতে বাঙালি নারীকে অপরূপ দেখায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকা চৌধুরী আদ্রিতা, আফিয়া ফারজানা, তুলতুল রামিছা এবং তৌসি বসন্তকে বরণ করতে নিজেদের উদ্যোগে বসিয়েছে মেহেদী দেওয়ার স্টল। যেখানে তরুণীরা এসে লাগিয়ে নিচ্ছেন ইচ্ছে মত মেহেদী। কেআই/

বশেমুরবিপ্রবিতে বসন্ত বরণ উৎসব পালিত

কোকিলের সুমধুর ডাক আর রঙ বেরঙের ফুলের সমারোহ নিয়ে আগমন ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। বসন্ত নিয়ে বাঙালির উন্মাদনা চিরকালের। এই উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। প্রকৃতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও রঙ-বেরঙের ফুল আার বেলুনে সাজিয়ে তুলেছে সমগ্র ক্যম্পাসকে। ঋতুরাজকে বরণের উদ্দেশ্যে বাংলা বিভাগ প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বসন্ত বরণ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। শোভাযাত্রার সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরুদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলা  বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরাসহ  অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। দিনটি উপলক্ষে সমগ্র ক্যাম্পাস হয়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। শিক্ষার্থীরা বসন্তের সাজে সাজিয়ে তুলেছে নিজেদেরও। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুরভী জানান, ‘বসন্ত মানেই আনন্দ, রঙের সমারোহ। সকল বাঙালীর কাছেই এ দিনটি আনন্দের। আমরা চাই বসন্তের এই আনন্দ রঙ প্রতিটি মানুষকে স্পর্শ করুক। সকলের জীবনের প্রতিটি দিনই হয়ে উঠুক এমন আনন্দময়। মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এটাই তাদের শেষ বসন্ত। আর শেষ বসন্তকে স্মরণীয় করে রাখতে আজকের দিনকে ঘিরে তাদের উৎসাহ এবং পরিকল্পনা তুলনামূলক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী স্মিতা বিশ্বাস বলেন, ‘বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের ছোয়া, বসন্ত বরণ উৎসব বাঙালির সম্প্রীতিরই একটি অংশ। আমরা প্রত্যাশা করি, বসন্তের আগমনে যেমন প্রকৃতি তার সকল রুক্ষতা ভুলে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে তেমনি আমরাও আমাদের সকল দুঃখ এবং হতাশা ভুলে নতুন সম্ভবানার পথে এগিয়ে যাবো। কেআই/

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত বরণ উৎসব

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে বাসন্তী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কৌতুক, নাচ, গানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বরণ করে নেয় ঋতুরাজ বসন্তকে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আয়োজনে এ উৎসব পালন করা হয়। এছাড়া মার্কেটিং বিভাগের পক্ষ থেকেও বাসন্তী উৎসব পালিত হয়। জানা যায়, বসন্ত বরণে সকাল সাড়ে ১১টায় রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে বাসন্তী শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বাংলা মঞ্চে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। শোভাযাত্রায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হলুদ শাড়ি এবং ফতুয়া-পাঞ্জাবী পরে বর্ণাঢ্য বাসন্তী শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভিসি প্রফেসর ড. হারুন উর রাশিদ আসকারী। বিভাগের শিক্ষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভিসি প্রফসের ড. শাহিনুর রহমান, বাংলা বিভাগের প্রফসের ড. সরওয়ার মুর্শেদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের প্রফসের ড. রবিউল ইসলাম অনু। সভায় ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘কংক্রিটের শহরে জীবনে ছয় ঋতুর স্বাদ, গন্ধ এবং বাতাস পাওয়া সম্ভব না। বাঙ্গালীর জন্য ঋতুর পৃথক গন্ধ শরীরে মাখতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে হবে। বৈষয়িক উষ্ণতায় আজ ঋতুর পার্থক্য এবং রূপ হারিয়ে যাচ্ছে। সবার উচিৎ বাঙ্গালি ঐতিহ্য এবং ইতিহাস ধরে রাখতে পরিবেশের ভারসম্য বজায় রাখতে কাজ করা।’ আলোচনা সভা শেষে বসন্তকে বরণ করা হয় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। দুপুর ১টার দিকে বিভাগের শিক্ষার্থী অনি আতিকুর রহমান এবং ইতির সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও নাটক পরিবেশন করা হয়। কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি