ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ২:১১:২৪

গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্মমত

গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্মমত

প্রাচীন ভারতে অসংখ্য ধর্ম ও শাস্ত্রগ্রন্থ রচিত হলেও কোনো ইতিহাস- গ্রন্থ রচিত হয়নি। পৌরাণিক কাহিনিতে সমকালীন সমাজ- ইতিহাসের উপাদান ইতিহাসনির্মাণ সহায়ক হলেও, সঙ্গত কারণেই তা ইতিহাস নয়। ফলে নানা ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তির জীবন ও কর্মকাণ্ডের স্থান-কাল নির্ধারণ নিয়ে ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব মতান্তরের কথা মনে রেখেও বলা যায়, গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাবকাল খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দ। গৌতমের জন্ম কপিলাবস্তু রাজ্যের ক্ষত্রিয় রাজা শাক্ষ্য বংশে । ক্ষত্রিয় ওককের পুত্র অঞ্জন খ্রিস্টজন্মের ৬৯১ বছর আগে ‘অঞ্জনাব্দ’ ‘কোলি’ জনপদের রাজা নামে সাল গণনার প্রচলন করেন। কপিলাবস্তুর রাজা শুদ্বোধনের ওরসে মায়াদেবীর (অঞ্জনের কন্যা) গর্ভে ৬৮ অঞ্জনাব্দের বৈশাখী পূর্ণিমায়-মঙ্গলবাসরে ভগবান শাক্য সিংহ জন্ম গ্রহণ করেন। প্রখ্যাত পুরাতত্ত্ববিদ পূর্ণচন্দ্র মুখোপারদ্ধায়... শাক্য সিংহের আবির্ভাবকাল ৬৮ অঞ্জনাব্দ অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দকে যথার্থ বলে মনে করেন। তবে এনসাইক্লপিডিয়া ব্রিটানিকায় বুদ্ধের জন্মসাল ৫৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ ও জৈনধর্মের প্রবর্তক মহাবীর প্রায় সমসাময়িক ছিলেন। মহাবীরের জন্ম ৫৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। এই হিসেবে মহাবীরের চেয়ে গৌতম বুদ্ধ ছত্রিশ বছরের কনিষ্ঠ। তবে উভয়েই বেশ কয়েক বছরের জন্য একই সময়ে জীবিত ছিলেন। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান কপিলাবস্তুর অবস্থান নিয়ে মতান্তর রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্ববিদের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত নিদর্শনাদি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভারতের উত্তর প্রদেশ ও নেপাল সীমান্তবর্তী তরাই অঞ্চলে এই কপিলাবস্তু জনপদ ও তাঁর রাজধানী অবস্থিত ছিল। শাক্য রাজপুত্র গৌতম বা শাক্য সিংহের জন্ম হয়েছে পথিমধ্যে, লুম্বিনী নামক বনে। সন্তানসম্ভবা মায়াদেবী শাক্য রাজগৃহ থেকে পিতৃগৃহে যাওয়ার পথে শালবনে (মতান্তরে অশোকবনে) শাক্য সিংহ ভূমিষ্ঠ হন। বুদ্ধের এই জন্মস্থানটিতে একটি অশোক স্তম্ভ আবিষ্কৃত হওয়ায় ‘লুম্বিনী’ গৌতমের জন্মস্থান হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। বংশগত নাম শাক্য সিংহের গৌতম নামের পাশাপাশি আরেকটি মিথোলজিকাল নাম হচ্ছে সিদ্ধার্থ। শাক্য সিংহ  শৈশবেই মাকে হারান, বিমাতা গৌতমের কাছে তিনি বড় হয়ে ওঠেন। গৌতমির নামানুসারেই শাক্য সিংহ নামের সাথে ‘গৌতম’ যুক্ত হয় বলে কথিত আছে। পক্ষান্তরে শাক্য সিংহের জন্মের পর কপিলাবস্তু রাজ্যের প্রজাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় রাজা শুদ্বোধন নবজাত পুত্রের নাম রাখেন সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থ নামের অর্থ সিদ্ধিলাভ বা সব কাজে সফলকাম হওয়া। বৌদ্ধ সাহিত্যে তাকে ‘শাক্যমুনিও’ বলা হয়েছে।  শাক্যমুনি  শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘শাক্যকূলের প্রাজ্ঞ’ । তবে বুদ্ধত্ব লাভের পূর্ব পর্যন্ত বুদ্ধ ‘সিদ্ধার্থ’ গৌতম নামেই পরিচিত ছিলেন।      জাগতিক ব্যাপারে উদাসীন রাজপুত্র সিদ্ধার্থকে রাজা শুদ্বোধন মাত্র ষোল বছর বয়সে (মতান্তরে ১৯ বছর) ৫৪৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিয়ে দেন। সুন্দরী গোপা-র গর্ভে সিদ্ধার্থ এক পুত্র রাহুল জন্মগ্রহণ করে ৫৩৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। স্ত্রী-সন্তান ও রাজকীয় বিলাসী জীবন সিদ্ধার্থকে ঘরে ধরে রাখতে পারল না । ৫৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি গৃহত্যাগ করেন। প্রাচীন ভারতীয় ঋষি অথবা বিশ্বের অন্যান্য অনেক ধর্মগুরুর মতোই কোন অরণ্য, পাহাড়, অথবা লোকালয়  থেকে  দূরবর্তী কোন  নির্জনস্থানে  ধ্যানমগ্ন হয়ে সত্যানুসন্ধানে ব্রতী হন সিদ্ধার্থ।     তিনি জাগতিক সকল আরাম আয়েশ সর্বসুখ বিসর্জন দিয়ে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনার সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি  গৃহত্যাগ করেন। প্রথমে একাধিক ধর্মগুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তাদের কাছে শাস্ত্রপাঠ ও দুঃখ নিরাকরণের পথানুসন্ধানে কঠোর সাধনায়  ব্রতী হন। এভাবে কাঙ্ক্ষিত সত্যের সন্ধান না পাওয়ায় প্রাচীন ঋষিদের মতো নিভৃত বনের ছায়ায় অথবা পর্বতের পাদদেশে কঠোরতম কৃচ্ছ্রসাধনায় মগ্ন হন। রাহুল সাংকৃতায়ন  বলেছেন, গিরিরাজ হিমালয়ের পাদদেশে যেমন তার আবির্ভাব হয়েছিল, তেমনি তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন গয়া, রাজগৃহ , ইসিপতম  মৃগদার, মৃৎকুল–পর্বত (বিহার), পরিলেয়  বন (মিজাপুর), সুংসুমার গিরি (চুনার) , চালিয় পর্বত (বিহার), শ্রাবন্তির জেতবন প্রভৃতি  স্থানসমূহে।   বর্তমান বিহার রাজ্যের গয়া শহর থেকে ৭ মাইল দূরবর্তী  প্রাচীন মগধ রাজ্যের উরুবিশ্ব নামক স্থানের নিরঞ্জনা নদীতীরের একটি বিশাল অশথ গাছের নীচে তিনি কঠোর সাধনায় ব্রতী হন। ছয় বছর নিরবচ্ছিন্ন তপশ্চর্যার পর সিদ্ধার্থ তার পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে এক পূর্ণিমা  তিথিতে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ‘সম্বোধি’ লাভ তথা বুদ্ধত্ব অর্জন করেন। এই স্থানটি পরবর্তীকালে বুদ্ধ গয়া ও অশথ গাছটি বোধিদ্রুম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে । বুদ্ধ অর্থ অবগত, জ্ঞাত, বিদিত, অথবা প্রাজ্ঞ, জ্ঞানী, জ্ঞানপ্রাপ্ত, জাগরিত কঠোর সাধনা ও কৃচ্ছ্রতার ভেতর দিয়ে যিনি জীব জগতের দুঃখ- কষ্ট, লোভ- লালসা- মোহ এসব থেকে পরিত্রাণের তথা নির্বাণ লাভের পথ সম্পর্কে জ্ঞাত এবং পারঙ্গমতা  অর্জন করেছেন তিনিই বুদ্ধ। বোধি অর্থ ‘জ্ঞান’ আর বুদ্ধ অর্থ ‘জ্ঞানী’। যার মধ্যে বোধি বা জ্ঞানের পরিপূর্ণতা রয়েছে তাকে বুদ্ধ বলা হয়। গৌতম সিদ্ধার্থ বা শাক্য বংশ ‘বন্ধুত্ব’ অর্জনের ভিতর দিয়ে ‘গৌতম বুদ্ধ’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন ।ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সূচিত ধর্মন্দোলন ‘বৌদ্ধধর্ম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ‘বৌদ্ধ’ শব্দটির অর্থ (স. বুদ্ধ+ অ অণ) অর্থ বুদ্ধদেবের মতাবলম্বী, বুদ্ধদেব সম্পর্কিত, বুদ্ধদেব কতৃক প্রবর্তিত বা প্রচারিত।অর্থাৎ এশিয়ার আলোকবর্তিকা। গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বাণী ও জীবনাদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে এ ধর্মমত।আগেই উল্লেখ করেছি, বৈদিক ব্রাহ্মণধর্ম একদিকে বিদ্যমান চাতুবর্ণ ` প্রথার কঠোরতা এবং ভারতীয় বৈশিষ্ট্যর দাসশ্রম উৎপাদিকা শক্তির বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল: অন্যদিকে যাগযজ্ঞ,পশুবলি,নানা ধরনের ধর্মীয় রীতি-নীতি, প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব অচলায়তনে পরিণত হয়েছিল। ধর্মের নামে যুদ্ধ, কলহ-বিবাদ, এবং অর্ন্তমুখীনতা ভারতীয় সমাজের চলচ্ছক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। বৌদ্ধধর্মের বিকাশকালে ভারতীয় সমাজ উচ্চ-নীচ, শাসক-শাসিত, শোষক-শোষিত হিসেবে পরিপূর্ণ রূপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সমাজে শূদ্র,দাস এবং এমনকি অস্পৃশ্য একদল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে নীচ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা সমাজের উৎপীরিত মানুষ।তার পরবর্তীকালে অত্যাচারিত ও শোষিত মানুষের হতাশা এবং উৎপীড়নের ফলে অসহায়তার এক বিশেষ মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব ঘটেছিল। জীবনের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি এবং পরবর্তী জীবনে সুখের স্বাদ এবং এমনকি জন্ম-মৃত্যুর চক্র হতে মুক্তি বা পরিপূর্ণ আনন্দের আশ্বাস সৃষ্টি করেছিল এই ধর্মমত। গৌতম বুদ্ধ ও মহাবীর, উভয়েই বিদ্যমান এই ধর্মমতকে, তার সর্বগ্রাসী বিশ্বাস, রীতিপ্রথাকে আঘাত করে। গৌতম বুদ্ধ ও মহাবীর উভয়েই ছিলেন অহিংস মতবাদে বিশ্বাসী এবং নিরীশ্বরবাদী । `মহাবীর নিজেকে যেমন নতুন কোনো ধর্মের প্রবক্তা বলে ঘোষণা করেন নি, বরং বলেছেন যে, তিনি তার পূর্বতন ২৩ জন তীর্থংকরের মতকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছেন মাত্র সেই রকম গৌতম বুদ্ধ ও নিজেকে কোনো নতুন ধর্মমতের প্রবক্তা বলে ঘোষণা করেন নি, বরং বলেছেন যে তার পূর্বে বহু বুদ্ধ এসেছেন এবং পরেও আসবেন। দামোদর ধর্মানন্দ কোশাম্বী এ বিষয়ে আরেকটু এগিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। তার মতে ` বুদ্ধ কখনো নতুন ধর্মমত প্রবর্তবনের দাবি করেন নি। বরং বুদ্ধ সমাজের অন্তর্নিহিত নিয়মগুলিকে অনুধাবন করেছিলেন এবং তিনি সমাজের দুঃখ দূর্দশার কারণ বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং এর থেকে মুক্তির পথ নির্দেশ করেছিলেন কেশাম্বী যুদ্ধের এ ভয়াবহতাকে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও এ দুটি ধর্ম আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত দুটি পৃথক ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠত হয়। নানা ঐতিহাসিক কারণে জৈনধর্ম ব্যাপক জনগণের মধ্যে স্থায়ী হতে পারেনি। বৌদ্ধধর্ম একসময় সর্বভারতীয় রূপ নেয় এবং ভারতের সীমানা পেরিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সূত্র : লেখাটি নূহ-উল-আলম লেনিনের লেখা বাঙালি সমাজ ও সাহিত্যে সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতা এবং মৌলবাদ বই থেকে নেওয়া। / এআর /
উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাত ফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বুদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও মানব জাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’।‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ- এই স্মৃতি বিজড়িত এ দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসাবে পালন করেন বুদ্ধ ভক্তরা।সারাদেশে রাষ্ট্রীয় ছুটির এদিনের শুরুতে শান্তি শোভাযাত্রা এবং বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলোতে দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করে বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়।বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে গৌতম বুদ্ধ ও তার আদর্শকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন। সূত্র : বাসসএসএ/

মানবমুক্তির পথ বৌদ্ধ দর্শন

বৈশাখী পূর্ণিমা হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। এই পবিত্র তিথিতে ভগবান বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। গৌতম মানুষের কষ্টে ক্রন্দন করতেন, জাগতিক দুঃখ মুক্তির উপায় খুঁজে চলছিলেন তিনি। জন্ম মৃত্যু জ্বরা-এ তিনটি সত্য তো আছেই এ থেকে মুক্তির উপায় কি-জ্বরা ব্যাধি মৃত্যূ রোধ কি করে হয়? এটারই সাধনা করেছিলেন তিনি, একটা ধরলে একটা আসে। লোভ থেকেই শুরু তারপর হিংসা বিদ্বেষ যা কিনা খুন পর্যন্ত গড়ায়। তিনি ধর্মচক্র প্রবর্তনের ভেতর দিয়ে পরিষ্কার দেখিয়ে দিয়ে গেছেন মানুষকে মুক্তির পথ। অহিংসা পরম ধর্ম-অতিরিক্ত চাহিদা লোভ দুঃখের একমাত্র কারণ। এ দিনটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণ স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। ভক্তগণ প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশেভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া বুদ্ধগণ এই দিনে বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেদ প্রার্থনা করে থাকেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতি বছরই পালিত হয় গৌতম মানুষের কষ্টে ক্রন্দন করতেন। জন্ম মৃত্যু জ্বরা। এ তিনটি সত্য তো আছেই এ থেকে মুক্তির উপায় কি জ্বরা ব্যাধি মৃত্যু রোধ কি করে হয়-এটারই সাধনা করেছিলেন তিনি। একটা ধরলে একটা আসে লোভ থেকেই শুরু তারপর হিংসা বিদ্বেষ যা কিনা খুন পর্যন্ত গড়ায় তিনি ধর্মচক্র প্রবর্তনের ভেতর দিয়ে পরিস্কার দেখিয়ে দিয়েেছেন মানুষকে মুক্তির পথ অহিংসা পরম ধর্ম। এই বুদ্ধ পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধের অহিংসা আর সম্প্রীতির বাণীতে শান্তি নেমে আসুক পৃথিবীতে। সবাইকে বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা। লেখক: কথা সাহিত্যিক

বুদ্ধের জীবন, ধর্ম ও দর্শন

বুদ্ধ পূর্ণিমা বিশ্ববৌদ্ধদের সবশ্রেষ্ট ধর্মীয় উৎসব। এ দিনটি বিশ্ববৌদ্ধদের নিকট পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। ভগবান বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার বিশাখা নক্ষত্রে রাজকুমার সিদ্ধার্থ রূপে কপিলাবস্তুর লুম্বিনী কাননে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে আলোকপ্রাপ্ত অর্থাৎ সর্বতৃষ্ণার ক্ষয় সাধন করে বোধিজ্ঞান লাভ করে জগৎ পূজ্য বুদ্ধ হয়েছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। বুদ্ধের জীবনে মহাপবিত্র ত্রি’স্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের নিকট অতি গৌরবের ও মহাপবিত্র দিন হিসেবে উদযাপিত হয়। ২৫৬১ বুদ্ধবর্ষ এবছরের বুদ্ধ পূর্ণিমা। বাংলাদেশের বৌদ্ধরাও নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে এ পবিত্র দিবসটি উদযাপন করছে। বুদ্ধবর্ষ গণনায় বৈশাখই প্রথম মাস। সেই হিসেবে বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোও তাদের পহেলা বৈশাখ বৈশাখের প্রথম দিনে উদযাপন করে। বিশেষতঃ থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা ভারতের কিছু কিছু প্রদেশ। বাংলাদেশও বৈশাখ মাসের প্রথম দিবসটি পহেলা বৈশাখ হিসেবে উদযাপন করে। প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধের সময়কাল থেকেই বাঙালি জাতি বৈশাখকে প্রথম মাস হিসেবে গণনা করতেন। তাঁর কারণ এদেশে বাঙালি সাংস্কৃতির বিকাশে পাল রাজাদের ভূমিকা ছিল। পাল রাজা বাঙালি ও বৌদ্ধদের পৃষ্টপোষক ছিলেন। তাদের চারশত বছরের অসাম্প্রদায়িক শাসন কালকে ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে। এটা বৌদ্ধধর্মের প্রভাবের কারণে সমগ্র এশিয়ায় বৈশাখই বৎসর গণনায় প্রথম মাস। বুদ্ধের জন্মোৎসবের কারণেই এ ইতিহাসিক ঘটনা। তাই ভগবান গৌতম বুদ্ধও একজন ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে বিশ্বস্বীকৃত। সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম একজন সাধারণ মানুষের মতো হয়েছিল। পিতা রাজা শুদ্ধোধন ও মাতা রাণী মহামায়া। শাক্য রাজ্যের রাজধানী কপিলাবস্তু হতে মায়াদেবীর পিতৃগৃহে যাওয়ার পথে বর্তমান নেপাল রাজ্যের রম্মিদের স্থানে লুম্বিনী কাননে। শাক্য বংশে জন্ম হয়েছিল বলে গৌতম বুদ্ধকে শাক্যসিংহ বলা হয়। তাঁর পারিবারিক নাম রাজকুমার সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থের জন্মের সাত দিন পর মহামায়া মারা যান। বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী লালন পালন করেছিলেন বলে পরবর্তীতে গৌতম বুদ্ধ নামে বিখ্যাত হন। সিদ্ধার্থ গৌতম কেন রাজপুত্র হয়েও সন্ন্যাস জীবন বা অনাগারিক জীবন বেছে নিলেন? মানুষ যে জন্ম, জ্বরা, ব্যাধি, মৃত্যুর অধীন, এর কষাঘাতে জর্জরিত মানবের মুক্তির পথ খুঁজতে তিনি রাজসুখ ত্যাগ করে পথে বেরিয়ে ছিলেন। তখন তাঁর বয়স উনত্রিশ বৎসর। ভরা তারুণ্য তাঁর মধ্যে। এ বয়সেই জগৎকে দেখেছিলেন শুধু দুঃখ আর দুঃখময়রূপে। আর সুখের পরিমাণ সামান্য, তাও মরিচিকাবৎ। বুদ্ধের ভাষায়-দুঃখই উৎপন্ন হয়, দুঃখই বিরাজ করে, দুঃখ ছাড়া অন্য কিছু উৎপন্ন হয় না, দুঃখ ছাড়া অন্য কিছু নিরোধও হয় না। তিনি মহানিষ্ক্রমণ বা সংসার ত্যাগ করে ঋষি আড়ার কালাম ও রাজপুত্র রুদ্রকের নিকট ধ্যান সমাধি করেন। এতে তাঁর চিত্ত রমিত না হলে কৃচ্ছসাধনায় মনোনিবেশ করেন- ইহাসনে শ্যুষ্যতু মে শরীরং ত্বগস্থি মাংসং প্রলয়ঞ্চ যাতু, অপ্রাপ্র বোধিং বহ কল্প দুলভং নৈবসনাৎ কায়মতশ্চলিষ্যতেজ। এদেহ শুকিয়ে যাক, তক, অস্থি, মাংস প্রলয়ে যাক, বোধিজ্ঞান অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমি এ আসন থেকে উঠব না। এ কঠোর বজ্র দৃঢ় সংকল্পের কারণে সিদ্ধার্থ গৌতমের শরীর-জীর্ণ শীর্ণ হয়ে গেল। চলৎশক্তি হারিয়ে বিষম দুর্বল হয়ে গেলেন। কৃচ্ছ্র সাধনায় যে বিমুক্তিলাভ অসম্ভব সিদ্ধার্থ গৌতম উপলব্ধি করলেন। পরে জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে মধ্যম পন্থা গ্রহণ করলেন। বৈশাখী পূর্ণিমা দিনে বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষমূলে চরম ও গরম প্রাপ্তি বোধিজ্ঞান লাভ করলেন। বোধিজ্ঞান লাভ করে যে উদান বাণী তিনি উচ্চারণ করলেন-‘ এ দেহ রূপ গৃহ নিমার্তার সন্ধান করতে গিয়ে অনেক জন্ম পরিভ্রমন করেছি। বুঝতে পেরেছি পুনঃপুনঃ জন্মগ্রহণ দুঃখজনক। হে গৃহ নিমার্তা, আমি তোমার সন্ধান পেয়েছি। তুমি পুনরায় এ গৃহ আর নির্মাণ করতে পারবে না। তোমার সমুদয় পার্শ্বক ভাগ্ন ও গৃহকূট ভেঙ্গে দিয়েছি। সংষ্কারমুক্ত চিত্ত সমুদয় আমি তৃষ্ণার ক্ষয় সাধন করেছি।’ এটা বুদ্ধত্ব লাভের পর আন্দোচ্ছ্বাসে উদান বাণী পরিবেশন করেছিলেন। বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম যে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের (কৌন্ডিন্য, ভদ্রিয়, বপ্প, অশ্বজিৎ ও মহানাম) ধর্ম ভাষণ করেছিলেন তাকে ’ধর্মচক্র প্রবর্ত্তন সূত্র’ হিসেবে ইতিহাসে দেখা যায়। তথাগত বুদ্ধ এ সূত্রে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদেরকে বুঝিয়েছেন তিনি যে মধ্যম পথ অধিগত হয়েছেন যা চক্ষু উৎপাদনকারী, জ্ঞান উপশম ও অভিজ্ঞতা উৎপাদনকারী এবং যা মানুষকে সম্বোধি ও নির্বাণের দিকে সংবর্তিত করে।’ বোধিলাভের পর দীর্ঘ পয়তাল্লিশ বছর ব্যাপী বুদ্ধ তাঁর ধর্ম প্রচার করেছিলেন। বুদ্ধের ধর্ম প্রচারের বৈশিষ্ট্য ছিল মানুষের বাহ্যিক আচরণের উপর নয়, অন্তর জগতকে পূর্ণতায় ভাসিয়ে দিতে। ইন্দ্রিয় সংযম, বাক সংযম, চিত্তের সংযম, আহারে-বিহারে মাত্রা জ্ঞান বা সংযম-এগুলোই ছিল তাঁর উপদেশ। আসব ক্ষয় না হলে কেবল শীল ও ব্রত সম্পন্ন হলে বা বহু শাস্ত্র জ্ঞান লাভ করলে, এমন কি নির্জনে বাস ও সমাধি লাভ করলেও যে নির্বাণ লাভ করা যায় না, বুদ্ধ এ কথা বারবার বলেছেন তাঁর শিষ্যমণ্ডলীকে । বুদ্ধত্ব লাভের পর পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদেরকেও একই উপদেশ দিয়েছেন…….. ‘হে ভিক্ষুগণ! প্রব্রজিতদের দুই অন্ত পরিত্যাগ করা উচিত। সে দুই অন্ত কী? প্রথম হীন গ্রাম্য ইতরজনভোগ্য অনার্য, অনর্থ সংযুক্ত কাম্য বস্তুর উপভোগ, দ্বিতীয় দুঃখময় অনার্য, অনর্থ সংযুক্তদেহ নিযার্তন। এ দুই অন্ত অতিক্রম করে তথাগত বুদ্ধ মধ্যম পথ আবিষ্কার করেন। এ পথে দৃষ্টি লাভ হয়, জ্ঞান লাভ হয়, প্রাণ প্রশান্ত হয়, অভিজ্ঞা সম্বোধ ও নির্বাণ লাভ করা যায়। হে ভিক্ষুগণ! তথাগত যে মধ্যম পথন আবিষ্কার করেছেন, তা কোন পথ? তা এ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ …..১. সম্যক দৃষ্টি, ২.সম্যক সংকল্প ৩. সম্যক বাক্য ৪. সম্যক কর্মান্ত ৫. সম্যক আজীব ৬. সম্যক ব্যাম ৭. সম্যক স্মৃতি ৮. সম্যক সমাধি। সংযুক্ত নিকায় ৫৬/১১/১/৪। লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন।

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ। বৌদ্ধ ধর্মমতে আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেওয়া হয় ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবে আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ ও লালন করে সবাই বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করে আসছেন। এ সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সমুন্নত রাখতে বৌদ্ধধর্মের নেতাদেরও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসএ/  

বুদ্ধের ১০ উপদেশ

সমাজ বাস্তবতায় বিভিন্ন নৈতিক উপদেশ দিয়েছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রবাদপুরুষ গৌতম বুদ্ধ। এগুলো ত্রিপিটকের গ্রন্থসমূহে সংকলিত রয়েছে। আমাদের এই আয়োজনে গৌতম বুদ্ধের ১০ টি নৈতিক উপদেশ তুলে ধরা হলো। ১)  মা যেমন তার একমাত্র পুত্রকে নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করে থাকে, সেরূপ সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রীভাব পোষণ করবে। ২) রাগের সমান অগ্নি নেই। দ্বেষের সমান গ্রাসকারী নেই। মোহের সমান জাল নেই। তৃষ্ণার সমান নদী নেই। তাই রাগ-দ্বেষ-মোহ ও তৃষ্ণা পরিত্যাগ করতে হবে। ৩)  আরোগ্য পরম লাভ, সন্তুষ্টি পরম ধন, বিশ্বাস পরম জ্ঞাতি, নির্বাণ পরম সুখ। ৪) মাতা-পিতার সেবা করা, স্ত্রী-পুত্রের উপকার সাধন করা এবং নিষ্পাপ ব্যবসা বাণিজ্য দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা উত্তম মঙ্গল। ৫) পণ্ডিত ব্যক্তির সেবা করা এবং পূজনীয় ব্যক্তির পূজা করা উত্তম। ৬) সঠিক পথে পরিচালিত চিত্ত যতটুকু উপকার করতে পারে মাতা-পিতা বা আত্মীয় স্বজনও তা করতে পারে না। ৭) জ্ঞানী ব্যক্তির জয়, অজ্ঞানী ব্যক্তির পরাজয় ঘটে। ধর্মানুরাগী জয়ী হন কিন্তু ধর্ম হিংসাকারীর পরাজয় ঘটে। ৮) ক্রোধ সংবরণ কর। অহংকার পরিত্যাগ কর। সকল বন্ধন অতিক্রম কর। ৯) অল্প বুদ্ধি সম্পন্ন মূর্খেরা দুঃখদায়ক পাপ কাজের দ্বারা নিজেকে নিজের শক্রুতে পরিণত করে। ১০) নিজেই নিজের ত্রাণ কর্তা। অন্য কেউ নয়। নিজেকে সুসংহত করতে পারলে মানুষ নিজের মধ্যেই দুর্লভ আশ্রয় লাভ করতে পারে। এমএইচ/টিকে

আগামীকাল বুদ্ধ পূর্ণিমা

আগামীকাল শুভ বুদ্ধ। দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করবে। মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান লাভ এবং পরিনির্বাণ-এ তিনটি ঘটনা এই দিবসে সংঘটিত হয়েছিল। তাই বৌদ্ধদের জন্য দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যময়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকবাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিবসটি উৎসবমূখর এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপনের জন্য দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কমৃসূচির মধ্যে রয়েছে আগামীকাল সকাল দশটায় বুদ্ধপূজা, মহাসংঘদান এবং সন্ধ্যে ৬টায় আলোচনা সভা । এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রধান অতিথি। শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত ক্রিসেন্ট ডি সিলভা রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া ও আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। সভাপতিত্ব করবেন একুশে পদকে ভূষিত উপসংঘরাজ ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। বাসস   আর

ধম্মপদ

ধম্মপদ অনন্ত প্রশান্তির পথ বুদ্ধং শরণং গচ্ছাদি ধম্মং শরণং গচ্ছাদি সঙ্ঘং শরণং গচ্ছাদি বাংলার ঘরে ঘরে একদা উচ্চারিত হতো এই বুদ্ধবাণী। মহামতি বুদ্ধ জীবনের সত্যকে খুব সহজভাবে বর্ণনা করেছেন। জীবনে দুঃখ আছে। দুঃখের কারণ আছে। দুঃখের কারণ আসক্তি। আসক্তির কারণ অবিদ্যা। অবিদ্যা দূর হবে শীল  অর্থাৎ সদাচরণ ও প্রজ্ঞা দ্বারা। সৎমন প্রস্ফুটিত হবে সৎকর্মে। তখনই আসক্তির বৃত্ত ভেঙে যাবে। দুঃখের বিনাশ ঘটবে। তৃপ্ত জীবন লীন হবে অনন্ত প্রশান্তিলোকে। [অনন্ত প্রশান্তিলোকে পৌঁছার পথ ত্রিপিটকের ধম্মপদ। প্রখ্যাত দার্শনিক এস রাধাকৃষ্ণন এর ইংরেজি অনুবাদ The Dhammapada থেকে কিছু হাথার সরল বাংলা মর্মার্থ হচ্ছে ধম্মপদ কণিকা] ১) চিন্তা বা অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটে স্বভাব বা প্রকৃতিতে। যদি কেউ মন্দ অভিপ্রায় নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে দুঃখ তাকে অনুগমন করে। আর কেউ যদি সুচিন্তা নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে সুখ তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে। [যমকবগ্‌গো: ১-২] সূত্র: কোয়ান্টাম কণিকা একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি