ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:৩১:৩৯

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

  আজ শুভ জন্মাষ্টমী। সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক ও প্রাণপুরুষ মহাবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। তাই এই দিনটি উপলক্ষ্যে আজ রোববার সনাতন ধর্মাবলম্বিরা বিভিন্ন  কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গীতাযজ্ঞ, জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, আলোচনা সভা, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গীতিনৃত্য, নাটক প্রভৃতি। এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কংসের কারাগারে জন্ম নেন তিনি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনে তিনি ব্রতী ছিলেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ তাই ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত। পৃথক বিবৃতিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীরউত্তম, ঊষাতন তালুকদার ও হিউবার্ট গোমেজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতিদ্বয় উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার বাপ্পী ও অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ বড়ূয়া এবং সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। রাষ্ট্রপতি সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির দু`দিনের কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব রোববার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে শুরু হচ্ছে। রোববার সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ, বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির সংলগ্ন পলাশীর মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা এবং রাতে কৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্থানীয় এমপি হাজি মো. সেলিম।  আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার উপস্থিত থাকবেন।   এমএইচ/ এসএইচ/
জাপানের যে শহর দেবী লক্ষ্মীর নামে

বৌদ্ধ ধর্মের জাপান৷ বৌদ্ধদের জাপান৷ সে জাপানে একটা শহরের নামই রাখা হয়েছে হিন্দুদের দেবী লক্ষ্মীর নামে৷ টোকিওর অদূরেই একটি ছোট্ট শহর কিছিজোজি৷ এই শহরের নামকরণ করা হয়েছে দেবী লক্ষ্মীর নামে৷ এমনই জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল টাকাইউকি কিটাগাওয়া৷ তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ জাপানের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের ওতপ্রোত সম্পর্ক, এমনই জানান কনসাল জেনারেল৷ তিনি বলেন টোকিও শহরের কাছে অবস্থিত একটা মন্দির লক্ষ্মী মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে। জাপানি ভাষায় কিছিজোজি কথার অর্থ হল লক্ষ্মী মন্দির৷ তিনি আরও বলেন, এক জাপানি পণ্ডিতের মতে প্রায় ৫০০ জাপানি শব্দের উৎপত্তি হয়েছে তামিল এবং সংস্কৃত শব্দ থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জাপানীরা ৭ জন দেবতাকে সৌভাগ্যের দেবতা হিসেবে পুজা করেন৷ তার মধ্যে ৪ জনই হিন্দু ধর্ম প্রভাবিত৷ তাই কিছিজোজিতে যে দেবী লক্ষ্মীর মন্দির রয়েছে, সেখানে জাপানীরাই প্রার্থনা করেন৷ ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে জাপানের কনসাল জেনারেল বলেন, জাপানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ভারতের সরাসরি প্রভাব রয়েছে৷ তাই জাপানের বহু মন্দিরেই ভারতীয় দেবদেবীর পুজা হয়। এছাড়াও তিনি জানান, জাপানি ভাষাতেও বহু শব্দ ভারতীয় ভাষা থেকে অনুপ্রাণিত। জাপানি স্ক্রিপ্টে সংস্কৃত শব্দ থেকে গৃহীত বহু শব্দের নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে কনসাল জেনারেল বলেন, জাপানী খাবার সুশি ভাত ও ভিনিগার দিয়ে তৈরি হয়৷ সুশির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত সারি শব্দটি৷ এই সারি সংস্কৃত শব্দ জালি থেকে এসেছে, যার অর্থ ভাত৷ সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

রামকৃষ্ণ মিশনে হচ্ছে ১০ তলা ভবন

সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কেন্দ্র ঢাকার মঠ। রাজধানীর টিকাটুলি ইত্তেফাক মোড়ের নিকবর্তী এ মঠে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ তলা অত্যাধুনিক ভবন। ভবনের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী ভবন’। যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগার, সংস্কৃতিশালা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র খোলা হবে। মিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৮ সালের মধ্যে এ ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। ভবনের ৫ম তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করে সেখানেই মিশনের সব সেবা দেওয়া হবে। নতুন এ ভবনে সেবার পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে জানায় মিশন কর্তৃপক্ষ। মিশনের আইটি বিভাগের প্রধান অরুণ মহারাজ বলেন, মানব সেবাই আমাদের মিশন নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সে সেবা কার্যক্রমগুলো সবার মাঝে আরো সহজভাবে পৌঁছে দিতে চলতি বছরেই ভবন নির্মাণ শেষ করা হবে। জানা গেছে, মানব সেবায় ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের অনেক তাত্পর্যপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে চিকিত্সা সেবা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা দান উল্লেখযোগ্য। সংক্ষেপে এর বিশেষ কিছু কার্যক্রম তুলে ধরা হলো। বিদ্যালয় : ১৯১৪ সালের ৮ নভেম্বর শ্রী রামকৃষ্ণ অবৈতনিক বিদ্যালয় নামে দরিদ্র ছেলেদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়। ১৯১৬ সালে ওয়ারী ও মৌশুন্ডির ভাড়া বাড়ি থেকে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি হাইস্কুলে উন্নীত করা হয়। বিদ্যার্থী ভবন : পঞ্চাশের দশকে লম্বা টালির চালার একটি ঘরে কিছু ছাত্র থাকতে শুরু করে। ষাটের দশকে দোতলা ‘বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী’ ভবনটি নির্মাণ হয়। ২০০৪ সালের দিকে ছাত্রদের থাকার অভাব পূরণে হাসপাতাল সংলগ্ন দোতলায় আরেকটি নতুন ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকার বাইরের থেকে যেসব শিক্ষার্থী নটরডেম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয় তারাই এখানে থাকার সুযোগ পায়। প্রতিবছর দরিদ্র ও মেধাবী কয়েকজন ছাত্রকে বিনা খরচে বা আংশিক খরচে এখানে থেকে পড়াশুনার সুযোগ দেওয়া হয়। সংস্কৃতি ভবন : ১৯৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশের তত্কালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম। ১৯৭৭ সালে এই সংস্কৃতি দ্বিতল ভবনের দ্বারোত্ঘাটন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন বেলুড় মঠের জেনারেল সেক্রেটারি স্বামী গম্ভীরানন্দ। সংস্কৃতি ভবনের নিচতলায় গ্রন্থাগার, দোতলায় বিবেকানন্দ হল। পাঠাগার : ১৯১১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্য স্বামী পরমানন্দ মিশনে পাঠাগার স্থাপন করেন। পাঠাগারে ধর্মীয় গ্রন্থ, রামকৃষ্ণের বাণী, স্বামী বিবেকানন্দের উপদেশাবলিসহ বহু প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষিত আছে। সাধারণ পাঠকসহ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় গ্রন্থ, পত্রিকা ও সাময়িকী রয়েছে এই পাঠাগারে। বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ : ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত কিছু যুবক ঢাকা মঠের তত্কালীন অধ্যক্ষ স্বামী অক্ষরানন্দের সান্নিধ্যে এসে বিবেকানন্দের মানবসেবা শিক্ষা এবং সংস্কৃতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ’ গঠন করে। বর্তমানে দেশজুড়ে এই পরিষদের ৩৮টি সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ত্রাণকার্য এবং অন্ধ দরিদ্র ও শিশুদের প্রয়োজনে সেবাকাজ করে যাচ্ছে এ পরিষদ।   প্রশিক্ষণ কর্মসূচি : চিকিত্সালয় সংলগ্ন ভবনের নিচতলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মোটরগাড়ি  মেরামত, ওয়েল্ডিং এবং অন্যান্য শক্তিচালিত যন্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। যুগের চাহিদার সাথে যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য চালু করা হয় ‘কম্পিউটার ট্রেনিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। চিকিত্সা সেবা : মিশনের সেবা বিভাগ চালু হয় ১৯০৮ সালে। শুরুতে মিশনের সেবকরা বাড়ি বাড়ি দিয়ে রোগীদের সেবা দিতো। পরে নবাব সলিমুল্লার আর্থিক সহায়তায় মিশনে ১৯১৩ সালে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে ৮ অক্টোবর ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বোধন করেন লর্ড কার্জন। নাক, কান ও গলা, দন্ত, চোখসহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। আছে প্যাথলজি বিভাগ। উন্নতমানের এক্সরে মেশিনে রোগীরা স্বল্পমূল্যে এক্সরে করার এবং আলট্রাসনোগ্রাফি করার সুযোগ রয়েছে এখানে। দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে বিশ্ব ধর্ম-মহাসভায় বক্তৃতার পর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ বিভিন্ন দেশ ও জায়গায় পরিভ্রমণে বের হন। পরিভ্রমণ শেষে ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে কলকাতায় ফিরে আসেন স্বামীজী। ওই বছরই পহেলা মে কলকাতায় ধর্ম প্রচারের জন্য এবং সামাজিক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘রামকৃষ্ণ মিশন’। এটি ছিল শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, চিকিত্সা-সংক্রান্ত এবং দাতব্য কাজের মধ্য দিয়ে জনগণকে সাহায্য করার এক সামাজিক-ধর্মীয় আন্দোলনের প্রারম্ভ। রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শের ভিত্তিই হচ্ছে কর্মযোগ। ১৮৯৯ সালে ১৮ জানুয়ারি, স্বামীজী অসুস্থ, কিন্তু কাজ করে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে। ভগবান বুদ্ধের বাণী প্রচারের জন্য যেমন তার অনুগামীরা দূর-দূরান্তে গিয়েছিলেন তেমনি শ্রী রামকৃষ্ণের বাণী প্রচারের জন্য তার অনুগামীদের সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন স্বামীজী। এই সিদ্ধান্তনুসারে স্বামীজী  স্বামী বিরজানন্দ ও স্বামী প্রকাশানন্দকে বাংলাদেশে যাবার আদেশ দেন। স্বামী বিরজানন্দ তখন স্বামীজীকে বিনীতভাবে বলেন, ‘স্বামীজী, আমি কী প্রচার করব? আমি তো কিছুই জানি না।’ স্বামীজী তখন বলেন, ‘তবে যা, তাই বলগে। ওটাও তো একটা মস্ত বড় কাজ।’ তারপর স্বামীজী নরম স্বরে বলেন, ‘বাবারা, কাজে লেগে যা, মনপ্রাণ দিয়ে কাজে লেগে যা। ওই হচ্ছে কাজের কথা; ফলের দিকে দৃষ্টি দিবি না। যদি অপরের কল্যাণ সাধন করতে গিয়ে নরকগামী হতে হয়, তাতেই বা ক্ষতি কি? স্বার্থপরতা নিয়ে নিজের স্বর্গলাভ করার চেয়ে এ ঢের ভালো।’ এরপর ১৮৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্বামী বিরজানন্দ ও স্বামী প্রকাশানন্দ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তারা ঢাকায় পৌঁছে কায়েতটুলিতে কাশিমপুরের জমিদার সারদা রায় চৌধুরীর বাড়িতে ওঠেন। ওখানে থেকেই তারা প্রচার কাজ শুরু করেন। এর আগেই ১৮৯৮ সাল থেকে মোহিনীমোহন দাসের বাড়িতে শ্রী রামকৃষ্ণের মতবাদ প্রচারের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮৯৯ সালকেই ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাকাল ধরা হয়। ১৯১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পূজা ও হোমের পর আশ্রমের বর্তমান স্থানে স্বামী ব্রহ্মানন্দ ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও স্বামী প্রেমানন্দ রামকৃষ্ণ মিশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার জমিদার, ধর্ম ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক যোগেশ চন্দ্র দাসের দান করা সাত বিঘা জমিতে এ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই মঠ এবং মিশনের মূল মন্দির, সাধু নিবাস, চিকিত্সার জন্য হাসপাতাল, স্কুল, সংস্কৃতি ভবন নির্মিত হয়। মন্দিরটি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে। শেষ হয় ২০০৫ সালে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বেলুড় মঠের সহাধ্যক্ষ স্বামী গহনানন্দজী মহারাজ। আরকে// এআর

আজ সরস্বতী পূজা

আজ সোমবার সনাতন ধর্মাম্বালীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। এ পূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।  পূজার পাশাপাশি  পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। হিন্দুদের ধর্মীয় বিধান অনুসারে সাদা রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসবেন এবং বিদ্যার আলো ছড়াবেন বলে বিশ্বাস ভক্তদের। সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী খুশি হলে বিদ্যা ও বুদ্ধি অর্জিত হবে। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সনাতন ধর্মীয় রীতিতে আজ প্রত্যুষে দেবীকে দুধ, মধু, দধি, ঘৃত কর্পূর, চন্দন দিয়ে স্নান করানো হবে। সকালের দিকে হবে বাণী অর্চনা। পুরোহিতরা `সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যা কমল-লোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যংদেহী নমোহস্তুতে` মন্ত্রে দেবী আরাধনা করবেন।   এম/টিকে

আজ লক্ষ্মীপূজা

আজ বৃহস্পতিবার সৌভাগ্য ও ধন সম্পদের দেবী কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। ধর্মীয় মর্যাদায় বিভিন্ন মঠ-মন্দির ছাড়াও হিন্দুদের প্রতিটি ঘরে ঘরে নানা আয়োজনে পালিত হবে কোজাগরী লক্ষী পূজা। কোজাগরী শব্দটি এসেছে `কো জাগর্তী` থেকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী ধন-ধান্যে ভরিয়ে দিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আসেন। আর ধন-ধান্যের আশায় এই পূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায়। শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধন-সম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। এ ছাড়া আধ্যাত্মিক ও পার্থিক উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবীও তিনি। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এই পূজা করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, লক্ষ্মী দেবী সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে অর্থকষ্ট থাকবে না। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে এদিন লক্ষ্মী মর্ত্যে নেমে আসেন। বাঙালি বিশ্বাসে লক্ষ্মীদেবী দ্বিভূজা ও তার বাহন পেঁচা এবং হাতে থাকে শস্যের ভাণ্ডার। প্রায় প্রতিটি বাঙালি হিন্দুর ঘরে লক্ষ্মীপূজা করা হয়। এ উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করেন।   /আর/এআর

শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

ষড়ঋতুর চক্রাবর্তে ঘুরে আসে শরৎ আর শরতের আগমনী সুর জানান দেয় শারদীয় দুর্গোৎসবের কথা। আবহমান বাংলার শ্বাশত সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ পূজোকে ঘিরে যখন ঢাক-ঢোলের আওয়াজ কানে ভেসে আসে তখন বাল্যকালের কথা মনে পড়ে যায়। মায়ের হাত ধরে জেলেপাড়ার দুর্গোৎসব উপভোগের স্মৃতি নতুন করে জেগে ওঠে মনে। চারযুগ আগের কথা। উত্তর-পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের বাড়ির পাশে জেলেপাড়ায় পূজোমণ্ডপে উৎসবের আয়োজন হতো। তিন-চার দিন ধরে ঢোলবাদ্যের আওয়াজ, আলোকসজ্জা আর নাচগানের মাধ্যমে আনন্দ-উল্লাসের ঢেউ বয়ে যেতো জেলেপাড়ায়। তৈরি হতো উৎসবের অন্য রকম এক আবহ। গ্রামে তখন বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না বলে বিশেষ ব্যবস্থার সেই দুর্গোৎসবের আলোঝলকানিতে মুসলিম নর-নারীরাও একাকার হয়ে যেতো। দুর্গোৎসব পরিণত হতো সামাজিক মহোৎসবে। বেশ ক’বছর ধরে অবশ্য জেলেরা অর্থাভাবে পূজামণ্ডপ তৈরি করতে পারে না। এখন জেলেরা হিন্দুপাড়ায় আয়োজিত বিভিন্ন পূজোমণ্ডপ পরিভ্রমণ করে দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। ঈদ-পূজোপার্বনসহ বিভিন্ন ধর্মীয়উৎসব সিংহভাগ মানুষের জীবনে আনন্দের বদলে বেদনা, আর্শিবাদের পরিবর্তে অভিশাপ হয়ে আসে। ধর্মীয় এসব উৎসব কালক্রমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে নিছক সামাজিকতায় রূপান্তরিত হয়েছে। ঈদ-পূজোর কেনাকাটার সময় বেশিরভাগ অভিভাবকের বিমর্ষ চেহারা, সন্তানদের যৌক্তিক দাবী পূরণ করতে না পারার মানসিক যাতনার কারণে ধর্মীয় উৎসবগুলো সবার জন্যে সমানভাবে আনন্দ বয়ে আনতে পারে না। প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সবকিছুর মূলে আর্থিক সামর্থই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে ও রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক যে বৈষম্য রয়েছে, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে তার  প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যদি সবাই কমবেশি ভাগাভাগি করতে না পারে, তাহলে তখন কোনো ধর্মীয় উৎসব সর্বজনীন হয়ে ওঠে না। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য; তাহার উপরে নাই’- চণ্ডীদাসের এ উক্তি ধর্মীয় চেতনাই মানুষকে সেবাধর্মে অনুপ্রাণিত করে। জগতের ধর্মপ্রবক্তা ও ধর্মগুরুরা সেবাধর্মকে জীবনের শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন। ধর্মীয় চেতনাই মানুষকে সেবাধর্মে অনুপ্রাণিত করে আসছে। বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রে, বিশেষ করে কুরআন, রামায়ণ-মহাভারত, মহাকাব্যে, পুরাণে জনসেবা-ই শ্রেষ্ঠধর্মের মর্যাদায় ভ‚ষিত হয়েছে। মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিহিত রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের কণ্ঠে তাই উচ্চারিত হয়েছেÑ ‘জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’। পরের তরে জীবন উৎসর্গ করার মাধ্যমে মানবজীবন সার্থকতায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অপরের কল্যাণে নিজকে নিয়োজিত করতে পারলেই জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠে। বিশ্বের সব ধর্ম শান্তির কথা বলে। যা কিছু ভালো, সুন্দর, সর্বজনীন তাই মূলত ধর্মের মর্মবাণী। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে। প্রতিটি ধর্মের শ্লোগান, হিংসা, ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে। সকল প্রকার অপকর্ম, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ধর্মগুরুরা প্রচারণা চালান। কোরআন, বাইবেল, গীতা, ত্রিপিটক থেকে শুরু করে বিশ্বে যত ধর্মগ্রন্থ আছে, সবখানে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, সাম্যের কথা বলা হয়েছে। কাউকে খুন করা, কারো ক্ষতি করা, মসজিদ-মন্দির- গীর্জা-পেগোডা ধ্বংস করার কথা কোনো ধর্মগ্রন্থে নেই। সব ধর্মের মূলকথা পারস্পরিক সহাবস্থান, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সুশৃঙ্খলভাবে জীবনযাপন করা। মিথ্যা কথা না বলা, চুরি-ডাকাতি না করা। সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। সত্যিকার ভাবে মনেপ্রাণে যদি আমরা যার যার ধর্ম পালন করি, শতভাগ পালন করার দরকার নেই, শতকরা ২০ ভাগও যদি পালন করি তাহলে তো দুনিয়াটা ‘স্বর্গ’ হয়ে যায়। পুলিশ-র‌্যাবের দরকার হতো না। শান্তির সুবাতাস বইতো সর্বত্র। মানুষরূপী জানোয়ারগুলোর কুৎসিত চেহারা আমাদের দেখতে হতো না নানা ভঙ্গিমায়। সংখ্যালঘু ধর্মালম্বীরা নানাভাবে নির্যাতিত হতো না। আমরা ধর্মীয় চেতনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি না। ধর্মগ্রন্থ ভালোভাবে অনুধাবন ও আত্মস্থ করি না। ধর্মজ্ঞান অর্জন করার তেমন কোনো আগ্রহবোধ আমাদের নেই। ধর্মনিষ্ঠার চেয়ে ধর্মান্ধতার পাল্লা ভারী। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। আবহমানকাল থেকে দেশে দেশে ধর্ম শাসন-শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মিশরীয় সভ্যতাসহ বিভিন্ন সভ্যতার যুগে ধর্মকে ঘিরে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হতো। এখনও আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রে নানা কৌশলে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’- স্বাধীনতার চার দশক পরেও এই কথাটি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ধর্ম একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু ধর্মকে রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলে রাষ্ট্রে এমন এক জটিল অবস্থা তৈরি করা হয়েছে যে, রাজনীতিতে সহিংসতা, অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা, মারামারি, খুনোখুনি এসব লেগেই আছে। রাজনীতির সাথে ধর্ম একাকার হয়ে যাওয়ায় রাজনীতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠির উপকারে আসছে না, ধর্মেরও বারোটা বাজছে। ধর্মকে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে ধর্মব্যবসায়ীরা। ধর্মের লেবাসধারী তথাকথিত নেতারা ধর্মের মানমর্যাদা নিয়ে ছিনিমিনি খেললেও প্রকৃত ধর্মচর্চাকারীরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার নন। আবার ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সেটাকে ধর্মবিদ্বেষী কিংবা ধর্মদ্রোহিতা হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রয়াস চালানো হয়। কোনো ব্যক্তি, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান যা-ই হোন না কেন, তিনি যদি প্রকৃত ধার্মিক হন, ধর্ম সম্পর্কে যদি তার পরিষ্কার ধারণা থাকে, ধর্মীয় বিধিবিধান আন্তরিকতার সাথে পালন করেন, তাহলে তিনি হবেন একজন প্রকৃত ধার্মিক মানুষ। সব ধর্মে মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন ধার্মিক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না বলেই বকধার্মিকরাই হাঁকডাক করে বেড়ায় সর্বত্র। ধর্ম নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও চর্চা কোনো ধর্মেই পরিলক্ষিত হয় না। গতানুগতিক ধারায় চলছে ধর্ম-কর্ম সবকিছুই। এ চলার শেষ কোথায় জানি না। ধর্ম সচেতন ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের সংখ্যা কবে নাগাদ কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছাবে- তা বলা খুবই মুশকিল। ধর্মীয় নানা কুসংস্কার ও মৌলবাদের রাহুগ্রাস থেকে আমাদের আদৌ মুক্তি মিলবে কিনা তা-ও বলা যাচ্ছে না। দুর্গোৎসব নিয়ে লিখতে গিয়ে ধর্ম নিয়ে গল্প জুড়ে দেয়ার জন্যে দুঃখিত। প্রতিবছরের মতো এবারও ক্যালেন্ডারের পাতায় শারদীয় দুর্গোৎসব ফিরে এসেছে। দুর্গোৎসব হয়ে ওঠুক প্রাণের উৎসব, জীবনের উৎসব ও পূণ্যার্জনের মহোৎসব। সনাতনী জনগোষ্ঠির এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুধু উৎসবে সীমিত না থেকে চিন্তাচেতনায় ও সাহসিকতায় সংশ্লিষ্টদের আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে সকল দানবীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে। দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সবার প্রতি রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।লেখক: প্রধানসম্পাদক, চাটগাঁর বাণী।

প্রতিমা বিসর্জন আজ

আজ বিজয়া দশমী। পূজামণ্ডপ ঘিরে শুধুই বিষাদের ছায়া। বিদায়ের সুর বাজছে মণ্ডপগুলোতে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দুর্গাপূজা। দেবীকে বিদায় দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শেষ মুহূর্তের পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করছেন। এদিন ঢাকঢোল, কাসর-শঙ্খ বাজিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গার বিদায়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টিৃ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকায় ২৩১ মণ্ডপে পূজা হচ্ছে এবার।   আর/টিকে  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি