ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৩২:৩৩

আজ শুভ বিজয়া দশমী

আজ শুভ বিজয়া দশমী

বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে। দোলায় চড়ে আজ মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গতিনাশিনী উমা। ফিরবেন কৈলাশে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও কল্যাণ এবং সকল সমপ্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি ও সমপ্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আজ সমাপন ঘটবে হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা।
যেভাবে শুরু হলো দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজা কবে কখন এবং কোথায় শুরু হয়েছিলো তা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। এছাড়া আর্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবতাদের। অপরদিকে অনার্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবীদের। তারা পূজীত হতেন আদ্যাশক্তির প্রতীক রুপে। ইতিহাস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় প্রায় ২২০০০ বছর পূর্বে ভারতে প্যালিওলিথিক জনগোষ্ঠী থেকেই দেবী পূজা প্রচলিত হয়েছিলো। সিন্ধু সভ্যতায় এসে তা অারো অাধুনিক এবং বিস্তৃত হয়। এছাড়া প্রাচীন সাহিত্যের দিকে তাকালে অামরা দেখতে পাই মূল বাল্মীকির রামায়ণে দূর্গাপূজার কোন অস্তিত্ব নেই কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়ণে এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কবি কৃত্তিবাস ওঝা  সংস্কৃত রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করার সময় মূল রামায়নের বাহিরে তৎকালীণ বাঙ্গালী সমাজে প্রচলিত বাংলার সামাজিক রীতিনীতি ও বিভিন্ন অনুসঙ্গ প্রবেশ করিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাংলা রামায়ণ অারো অধিক সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তিনি কালিকা পুরাণের ঘটনা অনুসরণে ব্রহ্মার পরামর্শে রামের দূর্গাপূজা করার কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে শক্তিশালী রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজয় নিশ্চিত করতে শরৎকালে শ্রী রামচন্দ্র কালিদহ সাগর থেকে ১০১ টি নীলপদ্ম সংগ্রহ করে প্রাক প্রস্তুতি গ্রহণ করে দেবী দূর্গার কৃপালাভ করেন বলে কৃত্তিবাস ওঝা বর্ণনা করেছেন। দুর্গাপূজার সবচেয়ে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় মার্কন্ডেয় পুরাণে। এই পুরাণের মধ্যে ১৩ টি অধ্যায় দেবীমহাত্ম্যম নামে পরিচিত। বাংলায় শ্রীশ্রী চন্ডি নামে সাতশত শ্লোক বিশিষ্ট দেবী মহাত্ম্যম পাঠ আছে যা দুর্গাপূজার প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। শ্রীশ্রী চন্ডি অনুসারে এই দেবীই `নিঃশেষদেবগণশক্তিসমূহমূর্ত্যাঃ` বা সব দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি। দেবী দূর্গার বাহন সিংহ। বাংলায় দেবী দূর্গার যে মূর্তিটি সচরাচর দেখা যায় সেটি পরিবারসমন্বিতা বা সপরিবার দূর্গার মূর্তি।এই মূর্তির মধ্যস্থলে দেবী দূর্গা সিংহবাহিনী ও মহিষাসুরমর্দিনী, তাঁর ডানপাশে উপরে দেবী লক্ষী ও নিচে গণেশ, বামপাশে উপরে দেবী স্বরস্বতী ও নিচে কার্তিক। সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দূর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী,  মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ নামে অাখ্যায়িত।দূর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষী পূজায় তার সমাপ্তি। অাধুনিক দূর্গাপূজার প্রাথমিক ধাপ ১৮ম শতকে নানা বাদ্যযন্ত্র প্রয়োগে ব্যক্তিগত, বিশেষ করে জমিদার, বড় ব্যবসায়ী, রাজদরবারের রাজকর্মচারী পর্যায়ে প্রচলন ছিল।বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১৮ শতকের মঠবাড়িয়ার নবরত্ন মন্দিরে (১৭৬৭) দূর্গাপূজা হতো বলে লোকমুখে শোনা যায়। এছাড়া পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পাটনাতে ১৮০৯ সালের দূর্গাপূজার ওয়াটার কালার ছবির ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। ওরিষ্যার রামেশ্বরপুরে একই স্থানে ৪০০ শত বছর ধরে সম্রাট অাকবরের অামল থেকে দূর্গাপূজা হয়ে অাসছে।জমিদার বাড়ি থেকেই এই পূজার প্রচলন হয়েছিল। বর্তমানে দূর্গাপূজা মূলত দুইভাবে হয়ে থাকে ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিক ও সমষ্টিগতভাবে -ব্যক্তিগত পূজাগুলি নিয়মনিষ্ঠা ও শাস্ত্রীয় বিধান পালনে বেশি অাগ্রহী হয়। এ ধরনের পূজাগুলো বিত্তশালী বাঙ্গালী পরিবারগুলোতে হয়ে থাকে অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে যৌথ উদ্যোগে যে পূজাগুলো হয় সেগুলো মূলত সর্বজনীন বা বারোয়ারি পূজা নামে পরিচিত। বৃটিশ শাসনের অবসানের পর এই পূজা বাংলায় অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাঙ্গালী হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসবের মর্যাদা পায়। এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই পূজা ব্যাপক সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ব্যাপক সমারোহের মাধ্যমে এই সার্বজনীন দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরিশেষে অামরা অামাদের সমাজের সর্ব প্রকার দমন,  উৎপীড়ন,  নিপীড়ন, নির্যাতন, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বর্গীয় অমীয় শান্তি স্থাপনের মধ্যদিয়ে সমাজের জন্যে সার্বিক কল্যানকর কাজ করবো,  এবারের দূর্গাপূজার প্রণাম মন্ত্র থেকে এই হোক সকলের দৃঢ় অঙ্গীকার। ( লেখক: সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী) অা অা//

মহাসপ্তমীর রাতে মুখর পুজাপন্ডপগুলো (ভিডিও)

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীর রাতেও মুখর ছিলো রাজধানীর পুজাপন্ডপগুলো। তবে নিরাপত্তা নিয়ে শংকা-উদ্বেগ ছিলো না কারো মাঝে। রমনা কালী মন্দিরের সভাপতি জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ষষ্ঠী তিথিতে দুগর্তিনাশিনী দেবীর অর্চনায় শুরু হয় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা। আদ্যশক্তি মহামায়ার মহারূপ দর্শনে মহাসপ্তমীর মধ্যরাতেও রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে ভক্তদের ভীড়। দশভূজা সিংহবাহনা দেবীর প্রতিমা নান্দনিক রূপে স্থাপন করা হয় এখানের পুকুরটিতেও। বাহারি আলোকসজ্জা পুরো এলাকা জুড়ে। নিঃশংকচিত্তে ধর্মীয় আচার পালন করতে পেরে খুশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রমনা মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যবারের চেয়ে বেশি। ভক্তদের ভীড় ছিলো ঢাকেশ্বরী মন্দির, কলাবাগান মাঠসহ রাজধানীর বিভিন্ন পূজা মন্ডপে। শারদীয় দুর্গোৎসবে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মহিষাসুর বিনাশী এই দেবী সকল দুঃখ কষ্ট দূর করবেন- এমন বিশ্বাস সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

মহামায়ার আরাধনা শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা: স্বামী স্থিরাত্নানন্দ

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মেরই তিনটা দিক আছে। দর্শন,পূরাণ ও অনুষ্ঠান। দর্শন হলো তত্ত্ব বা আসল রহস্য। পৌরাণিক কাহিনীর মাধ্যমে তত্ত্বকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করা হয়। আর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও স্থূল করে বোঝানো। দুর্গাপূজার তত্ত্ব বা কী আর এর পৌরাণিক কাহিনী বা কী, তা জানার আগ্রহ আমাদের সকলেরই আছে। গল্পের আকারে বললে বুঝতে সহজ হয়। শ্রীশ্রীচন্ডী গ্রন্থকে দেবীমাহাত্ম্য বলা হয়ে থাকে। দেবীর মাহাত্ম্য অর্থাৎ তাঁর মহিমা আমাদের জানা খুব দরকার। গীতায় ভগবান বলেছেন...নাহঃ প্রকাশঃ সবর্স্য যোগমায়াসমাবৃতঃ। মোঢ়োহয়ং নাভিজানাতি মামজমব্যয়ম্।(গীতা৭/২৫)..অর্থাৎ স্বত্ত্ব, সজঃ ও তমোগুণ স্বরূপ ত্রিগুণাত্মক মায়ায় আমি আবৃত থাকি বলে সকলের কাছে আমি প্রকাশিত হই না। কেবল কোনো কেনো ভক্তের কাছে আমি প্রকাশিত হই। সেই জন্য এই মোহে অন্ধ জগতের মানুষ জন্ম মৃত্যু শুন্য আমার স্বরূপ জানতে পারে না। উপমায় বলা হয়েছে,সামনে রাম পরমাত্না, পেছনে লক্ষণ জীবাত্মা, আর মাঝে মহামায়া সীতা। সীতা একটু সরে না গেলে লক্ষণরূপ জীব রামরূপ পরমাত্মাকে দেখতে পায়না। ভগবান যে মায়ার কথা বলেছেন, তার প্রভাব জানতে পারলে আমরা তাঁকে প্রসন্ন করে মুক্ত হতে পারি। ঈশ্বরলাভ করে জীবনের উদ্দেশ্য পূ্র্ণ করতে পারি। নইলে মনুষ্য জীবনলাভই ব্যর্থ হয়ে যায়। এখানে শ্রী শ্রী দূর্গাপূজার স্বার্থকতা। মার্কন্ডেয় পূরাণে আছে, সূরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দুর্গাপূজা করেছিলেন। সূরথরাজাকে একবার শত্রু সৈন্যরা যুদ্ধে পরাজিত করলো। তিনি নিজের রাজ্যে আছেন। কিন্তু এখানেও তার লোভী, দুষ্ট ও বলবান রাজকর্মচারীরা তার রাজকোষ দখল করলো। সেনাবাহিনীর কর্তৃত্বও নিজের হাতে নিয়ে নিল। রাজা সূরথ হরিণ শিকার করবার ছলে ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে জঙ্গলে চলে এসেছেন। সে বনে বাঘ সিংহ এসব হিংস্র প্রাণীরা  খুব শান্ত স্বভাবের-হিংসা করে না। কারণ সেখানে আছে একটা আশ্রম। আশ্রমে থাকেন এক মুনি ও তার শিষ্যরা। সে মুনির নাম মেধস মুনি। সুরথ রাজাকে মেধস মুনি খুব সমাদর করলেন। রাজা মুনির আশ্রমে কতক্ষণ ঘুরে ঘুরে কাটালেন। তার মন বড় খারাপ। তার দুশ্চিন্তা হলো, তাঁর রাজ্য পূর্বপুরুষরা রক্ষা করেছেন আর তিনি তা পরিত্যাগ করে এসেছেন। দুষ্ট কর্মচারীরা ধর্ম অনুসারে রাজ্য পরিচালনা করছে কিনা...তার প্রিয় মহাবল হস্তীবাহিনী কি ঠিকমতো খাদ্য পাচ্ছে? যেসব কর্মচারী রাজার কাছ থেকে পুরস্কার, ভোজন, বেতন পেয়ে রাজার অনুগত ছিল তারা এখন অন্য রাজার চাকর হয়ে কত কষ্ট পাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে রাজকোষে যে ধন তিনি সঞ্চয় করেছিলেন, তাও তার দুষ্ট কর্মচারীরা দ্রুত শূন্য করে ফেলবে। রাজা এসব অনেকক্ষণ ধরে ভাবতে ভাবতে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। এমন সময় রাজা সুরথ আশ্রমের কাছে এক বৈশ্যকে দেখলেন। তিনি হলেন সমাধি বৈশ্য। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কে? এখানে তিনি কেন এসেছেন? তার মন খারাপ কেন? তিনি শোকগ্রস্ত হলেন কেন? উত্তরে সমাধি বৈশ্য বলেন, তার নাম সমাধি বৈশ্য। তিনি ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী পুত্রগণ অসাধু। তারা তার ধন সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। আত্মীয় বন্ধু যারা ছিল তারা কেউ তাঁর কথা জিজ্ঞেসও করেনা। তাই দুঃখিত হয়ে তার বনে চলে আসা। পরিবার পরিজন কেমন আছে এসব চিন্তা করে তার মন খারাপ। কিন্তু যে পরি পরিজনরা তার ধন কেড়ে নিয়ে তাঁকে পরিত্যাগ করেছে, তাদের প্রতি কেন বৈশ্যের স্নেহের উদ্রেগ হচ্ছে, এ প্রশ্নের কোনো সদোত্তর দিতে পারলেন না বৈশ্য। তবু তার মন খারাপ হচ্ছে কেন? তার কেন মমতা হচ্ছে?  কারণ তার আত্মীয়স্বজনকে তিনি শত্রু ভাবতে পারছেন না। যারা তাকে দুঃখ দিয়েছে তাদের প্রতিও তার মন আকৃষ্ট হচ্ছে। কেন এরকম হচ্ছে তা বৈশ্য বুঝেও বুঝতে পারছে না। ভ্রান্তি, মোহ ও আসক্তির জন্য এরকম পৃথিবীর সকলেরই হয়ে থাকে। রাজা সুরথ আর বৈশ্য সমাধি ভাবলেন, এ বনেই তো মেধস মুনির তপোবন। দুজনই যাওয়া যাক মেধস মুনির কাছে। মুনির কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন,আমাদের মন খারাপ হচ্ছে কেন?  রাজা বললেন, রাজ্যহারা হয়ে আমি বনে এসেছি, তবু তাদের কথা মনে করে আমার অশান্তি কেন? আমি রাজ্যহারা হয়েছি তবু সে রাজ্যে আমার রাজ্য আমার শরীরের মত বোধ হয় কেন? এই বৈশ্য আত্মীয়স্বজনরা তাড়িয়ে দিয়েছে,ধন কেড়ে নিয়েছে। তবুও তিনি তাদের ভুলতে পারছেন না কেন?  তাদের প্রতি করুণার ভাব আসছে কেন? আমাদের এই মোহ হচ্ছে কেন? তখন মেধা মুনি বলেন, এর কারণ হলেন মহামায়া। প্রাণীরা দিয়ে দৃশ্য দেখে, কান দিয়ে শব্দ শোনে,নাক দিয়ে ঘ্রান নেয়,জীভ দিয়ে স্বাদ গ্রহণ করে আর চামড়া দিয়ে ইত্যাদি স্পর্শ করতে পারে। কাকতো রাতে দেখেনা, দিনে দেখে।কিন্তু পেঁচা আবার রাতে দেখে, দিনে দেখেনা । কেচো দিনেও দেখেনা, রাতেও দেখেনা, বিড়াল আবার রাতেও দেখে দিনেও দেখে। মানুষেরই কেবল রুপ, রস, গন্ধ,শব্দ, স্পর্শ সম্পর্কে জ্ঞান আছে তা নয়,পশু,পাখি হরিণ,মাছ ইত্যাদি প্রানীরও বিষয়জ্ঞান আছে। খাওয়ার ব্যপারে, ঘুমানোর ব্যাপারে মানুষ ও পশু প্রায় একি রকম। আর একটা দেখার জিনিস এই যে,পাখিরা জানে যে বাচ্চারা খেলে নিজের পেট ভরবে না তবুও নিজেরা না, খেয়ে বাচ্চার জন্য মুখে করে খাবার নিয়ে আসে।বাচ্চাদের  কতো স্নেহ দিয়ে রক্ষা করে। মানুষও উপকার পাবার আসায়, ছেলে বড় হয়ে আমাদের দেখবে,এই মনে করেই সন্তানের প্রতি আসক্ত হয়। তবুও মানুষ মহামায়ার প্রভাবে ভ্রমে পরে,আর আমার আমার করে কষ্ট পায়,এই মোহ এবং মমতাই সংসারের জাল।এই মহামায়া জগৎপতি বিষ্ঞুর যোগনিদ্রা। এই শক্তি জগতের সকল মোহকে আচ্ছন্ন করে রেখে আসল ব্যাপারটা দেখতে দেয়না। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই,জগত মানেই এই মোহের খেলা। বুদ্ধিমান দিগের মনও মহামায়া মোহযুক্ত করে ফেলেন। এই সমস্ত প্রাণী,বস্তু তিনি সৃষ্টি করেন। তিনি খুশি হলো মানুষকে এই মোহ ও মমতার বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারেন। যে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করলে সকলেই মুক্ত হতে পারে, সেই ব্রহ্মজ্ঞান তিনিই। আবার সংসারের বন্ধনের কারণে যে অবিদ্যা বা অজ্ঞান তাও তিনি। রাজা সুরথ জিজ্ঞেস করলেন,যাকে আপনি মহামায়া বলছেন তিনি কে?তিনি কিরূপে কোথা হতে উৎপন্ন হয়।মেধা ঋষি বলেন,এই মহামায়ার উৎপত্তি ও নেই,বিকাশও নেই।এইযে জগতের সবকিছু,সবই তার বিরাট শরীর।দেবগণের কার্যসিদ্ধির জন্য তিনি আবির্ভূতা হন।সুতরাং মানুষ যে শোক, মোহ নিয়ে সংসারে কষ্ট পাচ্ছে,তার থেকে মুক্তি লাভের জন্য এই মহামায়ার শরণ নিতে হবে। শক্তিকে ধরেই শক্তিমানকে জানতে হবে।আগুন আর তার পুড়িয়ে ফেলার ধরণ যেমন অভিন্ন,সেরকম ইশ্বর আর তার সৃষ্টি-স্থিতি, প্রলয়ের শক্তি অভিন্ন।সৃষ্টি,স্থিতি আর প্রলয়ের শক্তি না থাকলে তাকে ঈশ্বরই বলা যাবেনা।দুর্গাপুজা তাই ভগবানের সৃষ্ট দেবতার আরাধনা নয়,মাতৃভাবে ঈশ্বরেরই আরাধনা। দূর্গাতিনাশিনী দূর্গার পুজা তাই মাহাত্ন্যপুর্ণ।দেবতা আর অসুরের সংগ্রাম।মহাকাব্যে মহাকবি এই দ্বন্দ্ব বর্ণনা করেছেন।দেবতা ও অসুরদের সংগ্রামে দেবতাদের সবসময় জয় হয়,কারণ তারা ভগবানের শরণাপন্ন হয়েছেন।অসুরেরা অসুতে রত,মানে ইন্দ্রীয়পরায়ণ।দেবতারা ভোগের দেশের অধিবাসী।সে দেবতারাও স্বর্গভ্রষ্ট।স্বর্গ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে মহিষাসুর স্বর্গের রাজা হয়ে বসেছেন।দেবতাদের অধিকার হরণ করেছে।এই দুর্গাপূজা করে,দুর্গা দেবীকে সন্তুষ্ট করে দেবতারা মহিষাসুরের থেকে স্বর্গরাজ্য এবং তাদের অধিকার ফিরে পেলেন।রামচন্দ্রের রাবণের সাথে যুদ্ধে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার আরাধনা করেন।অর্জুনের সঙ্গে যুদে্ধ শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধ জয়ের জন্য অর্জুনকে দুর্গান্তব করতে বলেছিলেন।   এই পূজা করে রাজা সুরথ তার রাজ্য ফিরে পেয়েছেন। আবার সমাধি বৈশ্য সমস্ত মোহ আর মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে পরম আনন্দ অনুভব করলেন। আর তার সংসারের দুঃখে জন্মগ্রহণ করতে হবেনা । তিনি মুক্তিলাভ করলেন। প্রাচীনকালে যেমন সত্য ছিল বর্তমানকালেও তাই। বর্তমানেও মানুষ ধন-পুত্র, যশ-রূপ, জয় ইত্যাদি লাভের জন্য দুর্গাপূজা করে থাকে। ভক্তি ও মুক্তিলাভের জন্য মহামায়ার পুজা করে ধন্য হয়। আমরাও দুর্গা দেবীকে প্রণাম জানাই--- যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেন সংস্তিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ --যে দেবী সকল প্রাণীতে শান্তিরূপে বিরাজিতা, তাঁকে কায়-মন বাক্যে প্রণাম জানাই। আমরা তাঁর শরণাগত: সর্বস্বরূপে সর্বেশে সর্বশক্তিসমান্বিতে। ভয়েভ্যস্ত্রাহি নো দেবী দূর্গে দেবী নমোহস্ত তে।। -হে দেবী, আপনি সর্বরূপিনী সর্বেশ্বরী, সর্বশক্তিময়ী। আপনি আমাদের সকল আপদ থেকে রক্ষা করুন। হে নারায়ণী আপনাকে প্রণাম। আরকে//

শুভ মহালয়া আজ (ভিডিও)

আজ শুভ মহালয়া, শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার আবাহনই মুলত মহালয়া হিসেবে পরিচিত। এদিন থেকেই শুরু হলো দূর্গা পূজার দিন গননা অর্থাৎ দেবীপক্ষের সুচনা। রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে মা দূর্গাকে বরণেও ছিল নানা আয়োজন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশ এবং জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা ছিল সকলের। পুরাণ মতে, শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। আর সেই দাম্ভিকতায় মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তখনই দেবতাদের মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দশভুজা দেবী দূর্গার। অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত দেবী অসীম শক্তিতে পরাজিত করেন মহিষাসুরকে। সে অনুযায়ী এ দিনটিই মহালয়া। এদিন থেকেই শুরু হলো শুভ্র বসনা মা দূর্গার আগমনের ক্ষণ গননা অর্থাৎ দেবীপক্ষের শুভ সুচনা।   গুলশান বনানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বনানী মাঠে ছিল শুভ মহালয়ার আয়োজন। ভোরে শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠ, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় দেবীর আগমনী ক্ষনকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন এটি। এর মাধ্যমেই সমাজের সকল কুপমন্ডকতা দূর হোক সে কামনা ছিল পুর্নার্থীদের। রমনা কালি মন্দিরেও মহালয়া উপলক্ষে দেবী দূর্গার আগমনী আয়োজন ছিল ভক্তদের। মহালয়া মানেই আর ছয় দিনের প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আগামী ১৫ আক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মুল আয়োজন দূর্গা পূজা।

দেশজুড়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি(ভিডিও)

শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ী, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার কারিগররা। তবে ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এদিকে, পূজা নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। দুর্গোৎসব সামনে রেখে নিপুন হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দূর্গা, স্বরসতী, লক্ষ্মী, গনেশ, কার্তিকসহ বিভিন্ন প্রতীমা। এবার মেহেরপুরের তিন উপজেলায় ৪৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অর্চনা সম্পন্ন করার আশা করছেন কমিটির নেতারা। এদিকে, রাজবাড়ীতে প্রতিমা তৈরি এখন শেষের দিকে। রংয়ের কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কারিগররা। তবে কারিগরদের অভিযোগ, দিন-রাত পরিশ্রম করলেও কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না তারা। সিরাজগঞ্জে এগিয়ে চলেছে প্রতীমা তৈরির কাজ। জেলায় ৫০৫ টি পুজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গা পূজা। গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও নিরাপদে পুজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। ১৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা।

প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা [ভিডিও]

শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ী, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার কারিগররা। তবে ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এদিকে পুজা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। দুর্গোৎসব সামনে রেখে নিপুন হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দূর্গা, স্বরসতী, লক্ষ্মী, গনেশ, কার্তিকসহ বিভিন্ন প্রতিমা।এবার মেহেরপুরের তিন উপজেলায় ৪৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অর্চনা সম্পন্ন করার আশা করছেন কমিটির নেতারা। এদিকে, রাজবাড়ীতে প্রতিমা তৈরি এখন শেষের দিকে। রংয়ের কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কারিগররা। তবে কারিগরদের অভিযোগ, দিন-রাত পরিশ্রম করলেও কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না তারা। সিরাজগঞ্জে এগিয়ে চলেছে প্রতিমা তৈরির কাজ। জেলায় ৫০৫ টি পুজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গা পূজা।গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও নিরাপদে পুজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা। একে//

শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে চলছে প্রতিমা আর মন্ডপ তৈরি (ভিডিও)

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের স্থানে চলছে প্রতিমা আর মন্ডপ তৈরির কাজ। অধিকাংশ মন্ডপে প্রতিমায় মাটির কাজ শেষ করে রংয়ের আচর আর সাজসজ্জায় ব্যস্ত কারিগররা। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শরতের কাশফুল, ঢাকের বদ্যি আর প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। পূজা উপলক্ষ্যে বাগেরহাটের মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দূর্গাপূজার আয়োজন হয় বাগেরহাট সদরের সিকদার বাড়িতে। সেই ধারাবাহিতকায় এবছরও মন্ডপে ৭০১টি প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া পুরো জেলায় ৬০৭ টি মন্ডপে নেয়া হয়েছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতীমা তৈরীর কাজ। এবার মহানগরীর ১শ’ ৭৭টি স্থানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। মন্দিরগুলোতে প্রতীমা তৈরীর পাশাপাশি সাজসজ্জায় ব্যস্ত সংশ্লিষ্টরা। লক্ষ্মীপুরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে দেবীকে মন্ডপে পৌছে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। আগামী ৯ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। দেবীদূর্গা এ বছর আসবেন ঘোড়ায় চড়ে আর যাবেন দোলায়। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দেবীর বোধন, আমন্ত্রন, কুমারী পূজা, নবমী আর সবশেষে বিসর্জন।

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

  আজ শুভ জন্মাষ্টমী। সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক ও প্রাণপুরুষ মহাবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। তাই এই দিনটি উপলক্ষ্যে আজ রোববার সনাতন ধর্মাবলম্বিরা বিভিন্ন  কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গীতাযজ্ঞ, জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, আলোচনা সভা, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গীতিনৃত্য, নাটক প্রভৃতি। এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কংসের কারাগারে জন্ম নেন তিনি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনে তিনি ব্রতী ছিলেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ তাই ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত। পৃথক বিবৃতিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীরউত্তম, ঊষাতন তালুকদার ও হিউবার্ট গোমেজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতিদ্বয় উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার বাপ্পী ও অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ বড়ূয়া এবং সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। রাষ্ট্রপতি সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির দু`দিনের কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব রোববার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে শুরু হচ্ছে। রোববার সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ, বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির সংলগ্ন পলাশীর মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা এবং রাতে কৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্থানীয় এমপি হাজি মো. সেলিম।  আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার উপস্থিত থাকবেন।   এমএইচ/ এসএইচ/

জাপানের যে শহর দেবী লক্ষ্মীর নামে

বৌদ্ধ ধর্মের জাপান৷ বৌদ্ধদের জাপান৷ সে জাপানে একটা শহরের নামই রাখা হয়েছে হিন্দুদের দেবী লক্ষ্মীর নামে৷ টোকিওর অদূরেই একটি ছোট্ট শহর কিছিজোজি৷ এই শহরের নামকরণ করা হয়েছে দেবী লক্ষ্মীর নামে৷ এমনই জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল টাকাইউকি কিটাগাওয়া৷ তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ জাপানের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের ওতপ্রোত সম্পর্ক, এমনই জানান কনসাল জেনারেল৷ তিনি বলেন টোকিও শহরের কাছে অবস্থিত একটা মন্দির লক্ষ্মী মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে। জাপানি ভাষায় কিছিজোজি কথার অর্থ হল লক্ষ্মী মন্দির৷ তিনি আরও বলেন, এক জাপানি পণ্ডিতের মতে প্রায় ৫০০ জাপানি শব্দের উৎপত্তি হয়েছে তামিল এবং সংস্কৃত শব্দ থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জাপানীরা ৭ জন দেবতাকে সৌভাগ্যের দেবতা হিসেবে পুজা করেন৷ তার মধ্যে ৪ জনই হিন্দু ধর্ম প্রভাবিত৷ তাই কিছিজোজিতে যে দেবী লক্ষ্মীর মন্দির রয়েছে, সেখানে জাপানীরাই প্রার্থনা করেন৷ ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে জাপানের কনসাল জেনারেল বলেন, জাপানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ভারতের সরাসরি প্রভাব রয়েছে৷ তাই জাপানের বহু মন্দিরেই ভারতীয় দেবদেবীর পুজা হয়। এছাড়াও তিনি জানান, জাপানি ভাষাতেও বহু শব্দ ভারতীয় ভাষা থেকে অনুপ্রাণিত। জাপানি স্ক্রিপ্টে সংস্কৃত শব্দ থেকে গৃহীত বহু শব্দের নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে কনসাল জেনারেল বলেন, জাপানী খাবার সুশি ভাত ও ভিনিগার দিয়ে তৈরি হয়৷ সুশির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত সারি শব্দটি৷ এই সারি সংস্কৃত শব্দ জালি থেকে এসেছে, যার অর্থ ভাত৷ সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

রামকৃষ্ণ মিশনে হচ্ছে ১০ তলা ভবন

সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কেন্দ্র ঢাকার মঠ। রাজধানীর টিকাটুলি ইত্তেফাক মোড়ের নিকবর্তী এ মঠে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ তলা অত্যাধুনিক ভবন। ভবনের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী ভবন’। যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগার, সংস্কৃতিশালা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র খোলা হবে। মিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৮ সালের মধ্যে এ ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। ভবনের ৫ম তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করে সেখানেই মিশনের সব সেবা দেওয়া হবে। নতুন এ ভবনে সেবার পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে জানায় মিশন কর্তৃপক্ষ। মিশনের আইটি বিভাগের প্রধান অরুণ মহারাজ বলেন, মানব সেবাই আমাদের মিশন নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সে সেবা কার্যক্রমগুলো সবার মাঝে আরো সহজভাবে পৌঁছে দিতে চলতি বছরেই ভবন নির্মাণ শেষ করা হবে। জানা গেছে, মানব সেবায় ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের অনেক তাত্পর্যপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে চিকিত্সা সেবা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা দান উল্লেখযোগ্য। সংক্ষেপে এর বিশেষ কিছু কার্যক্রম তুলে ধরা হলো। বিদ্যালয় : ১৯১৪ সালের ৮ নভেম্বর শ্রী রামকৃষ্ণ অবৈতনিক বিদ্যালয় নামে দরিদ্র ছেলেদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়। ১৯১৬ সালে ওয়ারী ও মৌশুন্ডির ভাড়া বাড়ি থেকে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি হাইস্কুলে উন্নীত করা হয়। বিদ্যার্থী ভবন : পঞ্চাশের দশকে লম্বা টালির চালার একটি ঘরে কিছু ছাত্র থাকতে শুরু করে। ষাটের দশকে দোতলা ‘বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী’ ভবনটি নির্মাণ হয়। ২০০৪ সালের দিকে ছাত্রদের থাকার অভাব পূরণে হাসপাতাল সংলগ্ন দোতলায় আরেকটি নতুন ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকার বাইরের থেকে যেসব শিক্ষার্থী নটরডেম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয় তারাই এখানে থাকার সুযোগ পায়। প্রতিবছর দরিদ্র ও মেধাবী কয়েকজন ছাত্রকে বিনা খরচে বা আংশিক খরচে এখানে থেকে পড়াশুনার সুযোগ দেওয়া হয়। সংস্কৃতি ভবন : ১৯৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশের তত্কালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম। ১৯৭৭ সালে এই সংস্কৃতি দ্বিতল ভবনের দ্বারোত্ঘাটন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন বেলুড় মঠের জেনারেল সেক্রেটারি স্বামী গম্ভীরানন্দ। সংস্কৃতি ভবনের নিচতলায় গ্রন্থাগার, দোতলায় বিবেকানন্দ হল। পাঠাগার : ১৯১১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্য স্বামী পরমানন্দ মিশনে পাঠাগার স্থাপন করেন। পাঠাগারে ধর্মীয় গ্রন্থ, রামকৃষ্ণের বাণী, স্বামী বিবেকানন্দের উপদেশাবলিসহ বহু প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষিত আছে। সাধারণ পাঠকসহ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় গ্রন্থ, পত্রিকা ও সাময়িকী রয়েছে এই পাঠাগারে। বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ : ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত কিছু যুবক ঢাকা মঠের তত্কালীন অধ্যক্ষ স্বামী অক্ষরানন্দের সান্নিধ্যে এসে বিবেকানন্দের মানবসেবা শিক্ষা এবং সংস্কৃতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ’ গঠন করে। বর্তমানে দেশজুড়ে এই পরিষদের ৩৮টি সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ত্রাণকার্য এবং অন্ধ দরিদ্র ও শিশুদের প্রয়োজনে সেবাকাজ করে যাচ্ছে এ পরিষদ।   প্রশিক্ষণ কর্মসূচি : চিকিত্সালয় সংলগ্ন ভবনের নিচতলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মোটরগাড়ি  মেরামত, ওয়েল্ডিং এবং অন্যান্য শক্তিচালিত যন্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। যুগের চাহিদার সাথে যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য চালু করা হয় ‘কম্পিউটার ট্রেনিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। চিকিত্সা সেবা : মিশনের সেবা বিভাগ চালু হয় ১৯০৮ সালে। শুরুতে মিশনের সেবকরা বাড়ি বাড়ি দিয়ে রোগীদের সেবা দিতো। পরে নবাব সলিমুল্লার আর্থিক সহায়তায় মিশনে ১৯১৩ সালে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে ৮ অক্টোবর ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বোধন করেন লর্ড কার্জন। নাক, কান ও গলা, দন্ত, চোখসহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। আছে প্যাথলজি বিভাগ। উন্নতমানের এক্সরে মেশিনে রোগীরা স্বল্পমূল্যে এক্সরে করার এবং আলট্রাসনোগ্রাফি করার সুযোগ রয়েছে এখানে। দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে বিশ্ব ধর্ম-মহাসভায় বক্তৃতার পর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ বিভিন্ন দেশ ও জায়গায় পরিভ্রমণে বের হন। পরিভ্রমণ শেষে ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে কলকাতায় ফিরে আসেন স্বামীজী। ওই বছরই পহেলা মে কলকাতায় ধর্ম প্রচারের জন্য এবং সামাজিক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘রামকৃষ্ণ মিশন’। এটি ছিল শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, চিকিত্সা-সংক্রান্ত এবং দাতব্য কাজের মধ্য দিয়ে জনগণকে সাহায্য করার এক সামাজিক-ধর্মীয় আন্দোলনের প্রারম্ভ। রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শের ভিত্তিই হচ্ছে কর্মযোগ। ১৮৯৯ সালে ১৮ জানুয়ারি, স্বামীজী অসুস্থ, কিন্তু কাজ করে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে। ভগবান বুদ্ধের বাণী প্রচারের জন্য যেমন তার অনুগামীরা দূর-দূরান্তে গিয়েছিলেন তেমনি শ্রী রামকৃষ্ণের বাণী প্রচারের জন্য তার অনুগামীদের সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন স্বামীজী। এই সিদ্ধান্তনুসারে স্বামীজী  স্বামী বিরজানন্দ ও স্বামী প্রকাশানন্দকে বাংলাদেশে যাবার আদেশ দেন। স্বামী বিরজানন্দ তখন স্বামীজীকে বিনীতভাবে বলেন, ‘স্বামীজী, আমি কী প্রচার করব? আমি তো কিছুই জানি না।’ স্বামীজী তখন বলেন, ‘তবে যা, তাই বলগে। ওটাও তো একটা মস্ত বড় কাজ।’ তারপর স্বামীজী নরম স্বরে বলেন, ‘বাবারা, কাজে লেগে যা, মনপ্রাণ দিয়ে কাজে লেগে যা। ওই হচ্ছে কাজের কথা; ফলের দিকে দৃষ্টি দিবি না। যদি অপরের কল্যাণ সাধন করতে গিয়ে নরকগামী হতে হয়, তাতেই বা ক্ষতি কি? স্বার্থপরতা নিয়ে নিজের স্বর্গলাভ করার চেয়ে এ ঢের ভালো।’ এরপর ১৮৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্বামী বিরজানন্দ ও স্বামী প্রকাশানন্দ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তারা ঢাকায় পৌঁছে কায়েতটুলিতে কাশিমপুরের জমিদার সারদা রায় চৌধুরীর বাড়িতে ওঠেন। ওখানে থেকেই তারা প্রচার কাজ শুরু করেন। এর আগেই ১৮৯৮ সাল থেকে মোহিনীমোহন দাসের বাড়িতে শ্রী রামকৃষ্ণের মতবাদ প্রচারের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮৯৯ সালকেই ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাকাল ধরা হয়। ১৯১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পূজা ও হোমের পর আশ্রমের বর্তমান স্থানে স্বামী ব্রহ্মানন্দ ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও স্বামী প্রেমানন্দ রামকৃষ্ণ মিশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার জমিদার, ধর্ম ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক যোগেশ চন্দ্র দাসের দান করা সাত বিঘা জমিতে এ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই মঠ এবং মিশনের মূল মন্দির, সাধু নিবাস, চিকিত্সার জন্য হাসপাতাল, স্কুল, সংস্কৃতি ভবন নির্মিত হয়। মন্দিরটি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে। শেষ হয় ২০০৫ সালে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বেলুড় মঠের সহাধ্যক্ষ স্বামী গহনানন্দজী মহারাজ। আরকে// এআর

আজ সরস্বতী পূজা

আজ সোমবার সনাতন ধর্মাম্বালীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। এ পূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।  পূজার পাশাপাশি  পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। হিন্দুদের ধর্মীয় বিধান অনুসারে সাদা রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসবেন এবং বিদ্যার আলো ছড়াবেন বলে বিশ্বাস ভক্তদের। সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী খুশি হলে বিদ্যা ও বুদ্ধি অর্জিত হবে। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সনাতন ধর্মীয় রীতিতে আজ প্রত্যুষে দেবীকে দুধ, মধু, দধি, ঘৃত কর্পূর, চন্দন দিয়ে স্নান করানো হবে। সকালের দিকে হবে বাণী অর্চনা। পুরোহিতরা `সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যা কমল-লোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যংদেহী নমোহস্তুতে` মন্ত্রে দেবী আরাধনা করবেন।   এম/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি