ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ২১:৩৮:৪৪

স্মৃতিতে তুমি আজও অমলিন দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান 

স্মৃতিতে তুমি আজও অমলিন দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান 

সন্দ্বীপের মাটি ও মানুষের পরম আপনজন দ্বীপবন্ধু মোস্তাফিজুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০০১ সালের ২০ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন সন্দ্বীপ তার প্রিয় সন্তানটিকে হারিয়েছিল। দ্বীপবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করা সত্যি কষ্টের। তোমার সঙ্গে স্মৃতিগুলো মনের আকাশে উঁকি দিচ্ছে বারংবার। ছোটবেলায় দাদু আমাকে সব অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। ১৯৯৭ সালের কথা তখন চারদিকে দ্বীপবন্ধুর অনেক নাম ডাক। বাড়ির সামনে দিয়ে দ্বীপবন্ধুর জলপাই রঙের জিপ গাড়িটি গেলে আমরা দৌড় দিতাম তাকে এক নজর দেখতে। ভীরের মধ্যে তাকে অনেকবার দেখেছি। কিন্তু কিছুতেই মন ভরতো না। ছোট্ট এই আমি দ্বীপবন্ধুর সাক্ষাৎ পেতে মনটা ভীষণ অস্থিরতায় ভুগতো। অবশেষে স্বপ্ন পূরণের পালা এলো। কিছুদিন পর সন্দ্বীপ পাবলিক হাই স্কুলের মাঠে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। দাদু আমাকে নিয়ে গেলেন সেই অনুষ্ঠানে। সেখানেও গিয়েও দাদুকে বারবার প্রশ্ন করছিলাম দাদু মোস্তাফিজ কোথায়? বিকেলে মুস্তাফিজুর রহমানের গাড়ি স্কুলে পৌঁছালে হাজারো জনতা তাকে অভিবাদন জানায়। তিনি ধীরে ধীরে মঞ্চে এলেন। সেই শীতের সন্ধ্যায় মঞ্চে আমি ছিলাম দাদুর কোলে। আমার সঙ্গে দ্বীপবন্ধুর পরিচয় করিয়ে দিলেন দাদু। আমাকে তার কোলে তুলে নিলেন। আমাকে আদর দিয়েছেন ,ভালোবেসে বুকে টেনে নিয়েছেন। আমার নাম জানতে চাইলেন? তারপর আমার গেঞ্জিতে কি লিখা আছে তা পড়তে বললেন। বুকে লেখা ছিল congratulation… বাংলায় এর অর্থ কী জানতে চাইলেন? উওরে বললাম,অভিনন্দন। তিনি আমাকে বললেন তোমাকে অভিনন্দন। তারপর স্বভাব সুলভ হাসি। আমার মুখে তখন এত বড় শব্দ শুনে কিছুটা অবাক হয়েছেন? আমাকে তিনি বললেন তোমাকে এই শব্দের অর্থ কে শিখিয়েছেন? আঙ্গুল দিয়ে দাদুকে দেখিয়ে দিলাম। দ্বীপবন্ধুর পাশের চেয়ারে বসে থাকা দাদুকে বললেন, কাজী সাহেব আপনার নাতি সঠিক অর্থ বলতে পেরেছে। তার কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে মাল্যদান করা হয় দ্বীপবন্ধুকে। একই মঞ্চে থাকা দাদুর গলায় মালা পরিয়ে দেন দ্বীপবন্ধু। হঠাৎ করে দ্বীপবন্ধু আমাকে কোলে নিয়ে টেবিলে দাঁড় করিয়ে দেন। তার নিজের গলার মালাটা আমাকে পড়িয়ে দিলেন। আর তখন উৎসুক জনগণের মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে আমাকে অভিনন্দিত করছিলো। সেই করতালির শব্দ এখনো কানে বাজে। সেই ছোঁয়া এখনো হৃদয়ে শিহরণ জাগায়। এরপর দাদু আমাকে কোলে নিতে চাইলে তিনি দিলেন না। বললেন থাক না আমার কোলে, ছোট মানুষ। ওর ঠাণ্ডা লাগছে। দ্বীপবন্ধুর তার গায়ের শাল দিয়ে আমার হাত পা মুড়ে দিলেন। দাদুর সঙ্গে গল্প করতে করতে তিনি আমাকে কমলার কোষ আর বাদাম খাইয়ে দিলেন। দ্বীপবন্ধুর এই অকৃপণ ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রথম পরিচয় ঘটে তার হৃদয়ের বিশালতার সঙ্গে। শিশু সুলভ দ্বীপবন্ধু চমকে দিলেন আমাকে। ওনার সাদা শাল দিয়ে আমাকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। যত খানি তিনি জড়ালেন, তার চেয়ে বেশি ভালোবাসার একটি আকাশের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটলো। আমি অনেক বেশি ভাগ্যবান যে, দ্বীপবন্ধুর ভালোবাসা আমি পেয়েছি। আসলেই মহৎ হৃদয়বান মানুষগুলো বোধ হয় এমনই হয়। সেই কবেই শৈশবের স্মৃতিতে তুমি মিশে আছো। আজও আছ, পরম আপন হয়ে। সেই অনুষ্ঠানের পরদিন আমার এলাকায় অনেকে জানতে চেয়েছে মুস্তাফিজ সাব তোমাকে কি বলেছে? কি দিয়েছে? কথাটা আজও মনে পড়লে হাসি আসে। তিনি যা দিয়েছেন তা তো আজ মনে রেখেছি। আমার মরণ অবধি এই স্মৃতি আমাকে পরম আনন্দ দিবে, শক্তি দিবে। আমি ভাগ্যবান, আমি এক পরম ভালো মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। তারপরে অনেক বার তাকে দেখেছি, সে সব দিনের স্মৃতি আজও অমলিন। বাড়ির সামনে দিয়ে তোমার জলপাই রঙের জিপটি গেলে, মনে হতো এই তো তুমি? মরণে অমরতা সবাই পাই না, তুমি পেয়েছ তোমার কর্মের গুণে। কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র মৃত্যুকে নিয়ে লিখেছেন –‘যে তারা জাগিয়া থাকে তারে লয়ে, জীবনের খেলা ভুবনের মেলা/যে তারা হারালো দ্যুতি/যে পাখি ভুলিয়া গেল গান/এ ভুবনে কোথা তার স্থান? তোমার স্থান গণমানুষের হৃদয়ে, আমার হৃদয়ে, হাজার হৃদয়ে, লাখ ও মানুষের মনোমন্দিরে। তোমার নাম লিখা হয়ে গেছে সন্দ্বীপের ইতিহাসের সোনালী পাতায়। তুমি ঘুমাও, পরম মমতায় এই দ্বীপ তোমাকে ধরে রাখবে, মানুষ মনে রাখবে। এসএইচ/  
কবি ওমর আলীর আজ ৭৯তম জন্মদিন

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ওমর আলীর ৭৯তম জন্মদিন আজ। কবি ওমর আলী ১৯৩৯ সালের ২০ অক্টোবর শহরের দক্ষিণের দুর্গম চরশিবরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সদর উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী প্রত্যন্ত কোমরপুর গ্রামের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি। গুণী এই মানুষ পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। মৃত্যুর পর ২০১৬ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। তার ৪৩টি কাব্যগ্রন্থ ও ২টি উপন্যাস রয়েছে। ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর সমকালে `অর্থাভাবে কবি ওমর আলীর চিকিৎসা হচ্ছে না` শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককালীন দুই লাখ টাকা সহায়তা দেন। এ ছাড়া তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শামীম আহমেদ। মৃত্যুর পর তৃতীয় জন্মদিন পালনের জন্য পাবনার ফোল্ডার কবিতা সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন আজ সন্ধ্যায় পাবনা প্রেস ক্লাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।এসএ/

ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর তিনি ইন্তেকাল করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ১৯৪৮ সালের ২৯ মার্চ তৎকালীন সরকার তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের জন্য বহিস্কার করে। পরে ২০০৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিকে তিনি ডেমোক্রেটিক লীগ নামে একটি দল গঠন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। অলি আহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে আজ। এসএ/

স্বজনের খোঁজে ডেনমার্ক থেকে ঢাকায় ডালিয়া(ভিডিও)

স্বজনের খোঁজে ৪২ বছর পর ডেনমার্ক থেকে ঢাকায় এসেছেন ডালিয়া। ১৯৭৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মগবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ডালিয়াকে এক পথচারী ভর্তি করে হলি ফ্যমিলি হাসপাতালে। ১৫ দিন পর সুস্থ হলে ডালিয়ার কোন অভিভাবক না পাওয়ায়, তাকে একটি এতিমখানায় দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে ডেনমার্কের এক দম্পতি দত্তক নেয় ডালিয়াকে। সেখানে তার নাম রাখা হয় ডালিয়া রানতজাউ মাথিয়াসেন। এখন তিনি চার সন্তানের জননী ও ডেনমার্কে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সম্প্রতি ডেনমার্কে নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করান ডালিয়া। তার ডিএনএ পরীক্ষার উদ্দেশ্য বাংলাদেশে তার স্বজনদের খুঁজে পাওয়া। এদিকে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা ইসলাম কৌতূহলবশত নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করান। বাবা মো. রেজওয়ানুল ইসলামের সঙ্গে লন্ডনে থাকেন তিনি। ডালিয়া জানান, নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন শাপলা এনএল-এর মাধ্যমে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করান। শাপলা গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশ থেকে দত্তক যাওয়া ব্যক্তিরা। হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের খুঁজে দিতে সংগঠনটি বিনা খরচে ডিএনএ পরীক্ষা করে তা ম্যাচিংয়ের ব্যবস্থা করে। আর তাতেই লন্ডনে অবস্থানরত রেজওয়ানা ইসলামের সঙ্গে ডেনমার্কের ডালিয়ার ডিএনএর মিল ধরা পড়ে বলে জানা যায়। তাদের দুজনের ডিএনএ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এঁরা দুজন ‘থার্ড কাজিন’। অর্থাৎ তারা দুজনই কোনো ব্যক্তির পুতি (নাতি/নাতিনের সন্তান)। এ তথ্য জানার পর ডালিয়া গত জুনে লন্ডনে গিয়ে রেজওয়ানার সঙ্গে দেখা করেন। একই দিন বৃহস্পতিবার দুজনই এসেছেন ঢাকায়। ডালিয়া তার দত্তক মাকে নিয়ে ডেনমার্ক থেকে আর রেজওয়ানা লন্ডন থেকে। রেজওয়ানার মা সৈয়দা ফাহলিজা বেগম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অধ্যাপক ফাহলিজা জানান, আমার নানা শ্বশুর এবং তার স্বজনেরা মগবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। ডালিয়ার দুর্ঘটনাও ঘটেছিল মগবাজার এলাকায়। সে ক্ষেত্রে একটা যোগসূত্র অনুমান করা যায়। ফাহলিজা বেগম আরও জানান, আরেকটি বিষয় হচ্ছে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের ফল অনুযায়ী ডালিয়ার ডিএনএর সঙ্গে রেজওয়ানার বাবার দিকের ডিএনএ মিলেছে। এরপর থেকে নিজেদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ডালিয়ার মা-বাবা, দাদা-দাদিকে খোঁজাখুঁজি করেছেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছু জানতে পারেননি। অধ্যাপক সৈয়দা ফাহলিজা বেগম বলেন, কাউকে খুঁজে না পেলেও ডালিয়া আমাদের স্বজন। কারণ, ডিএনএর প্রতিবেদন মিথ্যা হওয়ার সুযোগ নেই। এসএইচ/

কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রখ্যাত কবি ফররুখ আহমদের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন তিনি। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন এবং ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ীভাবে চাকরি করতেন ঢাকা বেতারে। ১৯৪২ সালের নভেম্বরে খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলিকে বিয়ে করেন তিনি।সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও ফররুখ আহমদের কবি পরিচিত ছিল প্রধান। তার রচনায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব দেখা যায়। এ ছাড়া আরবি ও ফারসি শব্দের প্রাচুর্য তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাত সাগরের মাঝি, সিরাজুল মুনীর, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, পাখির বাসা, হাতেম তায়ী, নতুন লেখা, হরফের ছড়া, ছড়ার আসর ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য রচনা। দেশের স্বনামধন্য এই কবি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এসএ/  

আজ জাতীয় অধ্যাপক সালাহ্‌উদ্দীন আহ্‌মদের মৃত্যুবার্ষিকী

জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহ্‌উদ্দীন আহ্‌মদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর ৯২ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিক কারণে ইন্তেকাল করেন এই জ্ঞানতাপস।সালাহ্‌উদ্দীন আহ্‌মদের জন্ম ১৯২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে। কলকাতার আলিপুরের তালতলা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং রিপন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি।১৯৪০ সালে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে। ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সালাহ্‌উদ্দীন আহ্‌মদের শিক্ষকতা জীবনের শুরু। এসএ/  

ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ

তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের ৯৪তম জন্মদিন আজ। ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের ঝিনাইদহে। তার বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন অবিভক্ত বাংলার ডেপুটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল।কমিউনিস্ট নেত্রী ইলা মিত্রের নেতৃত্বে ১৯৪৬-৪৭ সালে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের ওপর কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলার ১৯টি জেলায় গড়ে ওঠে তেভাগা আন্দোলন। রাজশাহীর নাচোল অঞ্চলে কৃষকদের সংগঠিত করায় তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। এ কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে নির্যাতিত হন। ইলা মিত্র ছিলেন কৃষক, সাঁওতালসহ আদিবাসীদের ‘রানীমা’। ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর কলকাতায় পরলোকগমন করেন তিনি। এসএ/  

আজ অজয় রায়ের প্রয়াণবার্ষিকী

রাজনীতিক অজয় রায়ের দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী আজ। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চের সমন্বয়ক এবং দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এই মানুষটি ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন অজয় রায়। তার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে। প্রগতিশীল বাম আন্দোলনের নেতা অজয় রায় আজীবন আপসহীন নীতিনিষ্ঠ একজন দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠক লেখালেখিও করতেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে ‘বাঙলা ও বাঙালী’, ‘আমাদের জাতীয়তার বিকাশের ধারা’, ‘বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলন ১৯৪৭-৭১’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।সত্তরের দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।পরে কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে দিলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে তার সক্রিয়তা ছিল আমৃত্যু। সব শেষে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তিনি।এসএ/  

আজ কবি হাসান হাফিজের জন্মদিন

সত্তর দশকের কবি হাসান হাফিজের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার। তিনি ১৯৫৫ সালের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এলাহিনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।১৯৭৬ সালে সাংবাদিকতা পেশায় আসেন কবি হাসান হাফিজ। তিনি দৈনিক বাংলা, কলকাতার সাপ্তাহিক দেশ, দৈনিক জনকণ্ঠ, বৈশাখী টেলিভিশন, দৈনিক আমার দেশ এবং পাক্ষিক অনন্যায় কাজ করেছেন। তার মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৬৩। এর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ৫৫টি। তার কবিতা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, আরবি ও ফার্সি ভাষায়।সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য হাসান হাফিজ শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, ডাকসু সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, কলকাতার সৌহার্দ্য কবিতা উৎসব সম্মাননা, জাতীয় প্রেস ক্লাব লেখক সম্মাননা ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য। এসএ/

আজ ইলা মিত্রের প্রয়াণ দিবস

কমিউনিস্ট নেত্রী ও সংগঠক ইলা মিত্রের ১৬তম প্রয়াণ দিবস আজ। তিনি ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর কলকাতায় পরলোকগমন করেন। ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই নেত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ইলা মিত্র জীবনের প্রথম দিকে কৃতী ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভারতবর্ষে পরিচিতি অর্জন করেন। একটানা তিন বছর জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সের বাংলা চ্যাম্পিয়ন ছিলেন তিনি। বেথুন কলেজ থেকে আইএ, বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি বামপন্থি সংগঠন ছাত্র ফেডারেশন, মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি ও কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। চল্লিশের দশকে তেভাগা আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ইলা মিত্র রাজশাহীর নাচোল অঞ্চলে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। সাঁওতাল ও কৃষকদের কাছে তিনি ছিলেন ‘রানী মা’। কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত করার জন্য পাকিস্তান সরকারের হাতে নির্যাতিত হতে হয় এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এসএ/  

আজ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র মৃত্যুবার্ষিকী

কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্যারিসে মারা যান। পেশায় কূটনীতিক হলেও একাধারে তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও সাংবাদিক। তার অমর সাহিত্যকর্ম ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ ও ‘লালসালু’। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্ম নেন। ১৯৩৯ সালে কুড়িগ্রাম হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ১৯৪১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯৪৩ সালে ডিসটিংশনসহ বিএ পাস করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে দৈনিক স্টেটসম্যানের সাব-এডিটর পদে যোগদানের মধ্য দিয়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র কর্মজীবনের শুরু। ১৯৪৭ সালে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রের সহকারী বার্তা সম্পাদক হয়ে ঢাকায় আসেন। ১৯৫১ সালে যুক্ত হন কূটনৈতিক পেশায়। ফরাসি নাগরিক অ্যান মেরির সঙ্গে ১৯৫৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তার প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন মেরি। পরে উপন্যাসটি ১৯৬৭ সালে ‘ট্রি উইথআউট রুটস’ নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়। ওয়ালীউল্লাহর লেখা উপন্যাস ‘চাঁদের অমাবস্যা’ ও ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এ ছাড়া তিনি ছোটগল্প এবং নাটকও রচনা করেছেন। তার দুটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের নাম ‘নয়নচারা’ এবং ‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প’। তার লেখা নাটক তিনটি হচ্ছে ‘বহিপীর’, ‘তরঙ্গভঙ্গ’ ও ‘সুড়ঙ্গ’। এসএ/

আজ শিল্পী এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরে ইন্তেকাল করেন তিনি। এসএম সুলতান ছিলেন যুগপ্রবর্তক চিত্রশিল্পী। এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরতলির মাছিমদিয়ায় রাজমিস্ত্রি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে সুলতান কমপ্লেক্স চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন বাংলাদেশের এ কিংবদন্তি শিল্পী। আজ জেলা প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সকালে সুলতান কমপ্লেক্স চত্বরে কোরআনখানি, শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। ছোটবেলায় শিল্পী সুলতানের নাম ছিল ‘লাল মিঞা’। চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই তার মধ্যে ছিল ছবি আঁকার প্রবল ঝোঁক। সে বয়সে পুইয়ের পাকা ফলের রঙ আর কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ছবি আঁকতেন তিনি। মাত্র ১১ বছর বয়সে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতি এঁকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। নড়াইলের জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায় তার আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হন। ১৯৪৭ সালে ভারতের সিমলায় তার প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী হয়। ১৯৫১ সালে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন সুলতান। ১৯৫৫ সালে সবার অলক্ষ্যে করাচি থেকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্কুল অব আর্টস। শিল্পী এসএম সুলতান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। সেসব দেশে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করেছেন এবং বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন। দেশে চারটি দলবদ্ধ, দুটি একক চিত্রপ্রদর্শনী এবং লন্ডনে একটি দলবদ্ধ প্রদর্শনী করেছেন তিনি। তেলরঙের মাধ্যমে ছবি এঁকেছেন। জলরঙ, কাঠ-কয়লা দিয়েও ড্রইং করেছেন। অকৃতদার এসএম সুলতান ছিলেন প্রচারবিমুখ ও সংসারবিরাগী। বরেণ্য এ শিল্পী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ খেতাব লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা পান। এসএ/  

ভাষাসংগ্রামী মতিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বামপন্থি এই রাজনীতিক। আবদুল মতিন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ধুবালিয়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। ১৯৪৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৫২ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে ‘জীবনপথের বাঁকে বাঁকে’, ‘গণচীনের উৎপাদন ব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রথা’, ‘ভাষা আন্দোলন : ইতিহাস ও তাৎপর্য’ (আহমদ রফিকের সঙ্গে যৌথভাবে), ‘বাঙালি জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন’, ‘২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গে’, ‘ভাষা ও একুশের আন্দোলন’ অন্যতম। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য তিনি ২০০১ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। আজীবন সংগ্রামী মানুষটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বার্থে দেহ দান করে গেছেন। এসএ/   

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি