ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৪৩:৫৬

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৭৮তম জন্মদিন আজ

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৭৮তম জন্মদিন আজ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও বরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৭৮তম জন্মদিন আজ শনিবার। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিশ্ববরেণ্য এই পরমানু বিজ্ঞানী ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেহপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৭ বছর বয়সে তিনি ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে রংপুর মহানগরী এবং তার জন্মস্থান পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেহপুর গ্রামে ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদ (ডিডব্লিউএসএস), ড. ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড. ওয়াজেদ মিয়া’র পরিবার, রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠনগুলো তার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, স্মৃতিচারণ, ফাতেহ পাঠ, কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রয়াত বিজ্ঞানীর ভাতিজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম জানান, শনিবার সকালে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হবে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।তিনি তার সমগ্র কর্মজীবনে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।পিতা মরহুম আব্দুল কাদের মিয়া ও মাতা মরহুমা ময়জুনেসার চার পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। গ্রামের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি ও পীরগঞ্জ থানার হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষে তিনি ১৯৫২ সালে রংপুর শহরের সরকারি জেলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে এই স্কুল থেকে ডিস্টিংশনসহ ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৬১-’৬২ শিক্ষা বছরের জন্য হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হন। ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনের চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৩-’৬৪ শিক্ষা বছরে তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ‘ডিপ্লোমা অব ইম্পেরিয়াল কলেজ কোর্স’ কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের ‘ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে তাকে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকার আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রে পদস্থ করা হয়। তিনি ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১৯৬৯ সালে ইতালির ট্রিয়েস্টের আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র তাকে এসোসিয়েটশিপ প্রদান করে। তিনি ১৯৬৯-’৭৩ ও ১৯৮৩ সালে ওই গবেষণা কেন্দ্রে প্রতিবার ছয় মাস ধরে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের ড্যারেসবেরি নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কার্লসরবয়ে শহরের ‘আণবিক গবেষণা কেন্দ্রে’ আণবিক রিঅ্যাক্টর বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লির ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি অনেক জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তার অনেক গবেষণামূলক ও বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় এবং সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সাত বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্রদের জন্য দু’টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার লেখা ৪৬৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এবং ৩২০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালের জন্য তিনি পরপর দু’বার বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি পরপর তিনবার ওই বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চার বছর তিনি বাংলাদেশ পদার্থ বিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দু’বছর মেয়াদের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়াও তিনি ওই বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৮৯ সালে দু’বছর মেয়াদের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়া তিনি ওই বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পরপর দু’বছর মেয়াদকালের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরপর দুই দু’বছর মেয়াদকালের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।এ ছাড়া তিনি ওই সমিতির একজন আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার দু’বছর মেয়াদকালের জন্য তিনি ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানজীবী সমিতি’র সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তিনি ওই সমিতির একজন আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকার রংপুর জেলা সমিতির আজীবন সদস্য এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দু’বছর মেয়াদকালের জন্য এই সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং ঢাকার বৃহত্তম রংপুর কল্যাণ সমিতি, উত্তরবঙ্গ জনকল্যাণ সমিতি, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ এবং রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। এসএইচ/
সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্তরূপে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নিহত হন তিনি। সেই সময়ে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব অভিযুক্তের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী যে গণআন্দোলন চলছিল, সার্জেন্ট জহুরুল হকের হত্যাকাণ্ডে তা আরও তীব্রতা লাভ করে। বাংলাদেশের মানুষ দেশমাতৃকার মুক্তিপ্রয়াসী এই বীর যুবককে সেদিন কেবল শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেননি, দেশে স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার নামে শপথ গ্রহণ করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ সেদিন ইকবাল হলের নাম পরিবর্তন করে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল নাম প্রবর্তন করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে বিমানবাহিনীর চট্টগ্রাম বেইজও সার্জেন্ট জহুরুল হক নামাঙ্কিত হয়। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় আজিমপুর নতুন কবরস্থানে পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং পরিবারের যৌথ উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোর চিত্রশিল্পী ছাড়াও আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত বীর যোদ্ধারা এবং দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। জহুরুল হক ১৯৩৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার সোনাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৬ সালে জগন্নাথ কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে একই বছর পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন। এসএইচ/

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৭৮তম জন্মদিন কাল

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও বরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৭৮তম জন্মদিন আগামীকাল শনিবার। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিশ্ববরেণ্য এই পরমানু বিজ্ঞানী ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেহপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৭ বছর বয়সে তিনি ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে রংপুর মহানগরী এবং তার জন্মস্থান পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেহপুর গ্রামে ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদ (ডিডব্লিউএসএস), ড. ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড. ওয়াজেদ মিয়া’র পরিবার, রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠনগুলো তার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, স্মৃতিচারণ, ফাতেহ পাঠ, কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রয়াত বিজ্ঞানীর ভাতিজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম জানান, শনিবার সকালে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হবে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।তিনি তার সমগ্র কর্মজীবনে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।পিতা মরহুম আব্দুল কাদের মিয়া ও মাতা মরহুমা ময়জুনেসার চার পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। গ্রামের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি ও পীরগঞ্জ থানার হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষে তিনি ১৯৫২ সালে রংপুর শহরের সরকারি জেলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে এই স্কুল থেকে ডিস্টিংশনসহ ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৬১-’৬২ শিক্ষা বছরের জন্য হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হন। ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনের চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৩-’৬৪ শিক্ষা বছরে তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ‘ডিপ্লোমা অব ইম্পেরিয়াল কলেজ কোর্স’ কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের ‘ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে তাকে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকার আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রে পদস্থ করা হয়। তিনি ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১৯৬৯ সালে ইতালির ট্রিয়েস্টের আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র তাকে এসোসিয়েটশিপ প্রদান করে। তিনি ১৯৬৯-’৭৩ ও ১৯৮৩ সালে ওই গবেষণা কেন্দ্রে প্রতিবার ছয় মাস ধরে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের ড্যারেসবেরি নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কার্লসরবয়ে শহরের ‘আণবিক গবেষণা কেন্দ্রে’ আণবিক রিঅ্যাক্টর বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লির ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি অনেক জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তার অনেক গবেষণামূলক ও বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় এবং সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সাত বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্রদের জন্য দু’টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার লেখা ৪৬৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এবং ৩২০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালের জন্য তিনি পরপর দু’বার বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি পরপর তিনবার ওই বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চার বছর তিনি বাংলাদেশ পদার্থ বিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দু’বছর মেয়াদের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়াও তিনি ওই বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৮৯ সালে দু’বছর মেয়াদের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়া তিনি ওই বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পরপর দু’বছর মেয়াদকালের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরপর দুই দু’বছর মেয়াদকালের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।এ ছাড়া তিনি ওই সমিতির একজন আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার দু’বছর মেয়াদকালের জন্য তিনি ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানজীবী সমিতি’র সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তিনি ওই সমিতির একজন আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকার রংপুর জেলা সমিতির আজীবন সদস্য এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দু’বছর মেয়াদকালের জন্য এই সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং ঢাকার বৃহত্তম রংপুর কল্যাণ সমিতি, উত্তরবঙ্গ জনকল্যাণ সমিতি, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ এবং রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। এসএইচ/

শাহ আবদুল করিমের ১০৪তম জন্মদিন আজ

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১০৪তম জন্মদিন আজ। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ভাটির জল-হাওয়া, মাটির গন্ধ আর কালনী-তীরবর্তী জনজীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ, দারিদ্র্য-বঞ্চনা, জিজ্ঞাসা, লোকাচার, স্মৃতি প্রভৃতি তার গানে এক বিশিষ্ট শিল্প-সুষমায় পরিস্ম্ফুট।  তার কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’, ‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে‘, ‘বসন্ত বাতাসে’ ইত্যাদি।শাহ আবদুল করিম ৬টি গানের বই লিখেছেন। এগুলো হলো- ‘আফতাব সঙ্গীত’, ‘গণসঙ্গীত’, ‘ধলমেলা’, ‘কালনীর ঢেউ’, ‘ভাটির চিঠি’ ও ‘কালনীর কূলে’। দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালি গানেও দখল ছিল তার। তিনি ১৬ শতাধিক গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ, দুদ্দু শাহ, দুরবীন শাহর দর্শনে অনুপ্রাণিত ছিলেন আবদুল করিম। সঙ্গীতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক। পেয়েছেন সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, সিলেট সিটি করপোরেশন নাগরিক সংবর্ধনা, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি, অভিমত, শিল্পকলা একাডেমি, খান বাহাদুর এহিয়া সম্মাননাসহ বহু পদক, সম্মাননা ও সংবর্ধনা। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী শিল্পী।এসএ/

সফর আলীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম সফর আলী মিয়ার ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৮৫ সালের আজকের এই দিনে মারা যান। সফর আলী মিয়া ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। পরে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে মুজিবনগর সরকারের শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংবিধানপ্রণেতা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর সফর আলী মিয়াকে মরণোত্তর আইডিইবি স্বর্ণপদক-২০১৮ প্রদান করেন। তার রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ উপজেলা সদরের সফর নিবাসে কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসএ/  

কবি নবীনচন্দ্র সেনের জন্মবার্ষিকী আজ

আজ কবি নবীনচন্দ্র সেনের জন্মবার্ষিকী। ১৮৪৭ সালের আজকের এই দিনে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম হয়। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি।চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার অন্তর্গত পশ্চিম গুজরার (নোয়াপাড়া) সুপ্রসিদ্ধ প্রাচীন জমিদার পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতার নাম গোপীমোহন রায় এবং মাতার নাম রাজরাজেশ্বরী।পাঁচবছর বয়সে তিনি লেখাপড়া শুরু করেন। ১৮৬৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম স্কুল (বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল) থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথমশ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা যান। ১৮৬৫ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এফএ এবং জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইন্সটিটিউশন (স্কটিশচার্চ কলেজ) থেকে ১৮৬৯ সালে বিএ পাশ করেন।বি.এ. পাশ করার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ সাট্ক্লিফ এর সুপারিশে নবীনচন্দ্র কলকাতার বিখ্যাত হেয়ার স্কুলে তৃতীয় শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান। কিছুদিন পরে বেকার হয়ে পড়েন। পরে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হন। প্রথমে ১৭ জুলাই ১৮৬৮ বেঙ্গল সেক্রেটারীয়েটের এসিষ্ট্যাণ্ট পদে যোগ দেন। ২৪ জুলাই ১৮৬৯ যশোরে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে তাকে পদায়ন করা হয়। কর্মজীবনে তিনি বাংলা, বিহার, ত্রিপুরার অনেকস্থানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দুই দফায় মোট প্রায় আটবছর ফেনীতে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসময় তিনি অনন্য কর্মদক্ষতায় একটি জঙ্গলাকীর্ণ স্থানকে মনোরম শহরে পরিণত করেন। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ফেনী হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল। প্রায় ছত্রিশ বছর সরকারি চাকুরি করার পরে ১ জুলাই ১৯০৪ অবসর গ্রহণ করেন।নবীনচন্দ্রের প্রথম কবিতা কোন এক বিধবা কামিনীর প্রতি প্রকাশিত হয় তৎকালীন অন্যতম খ্যাতনামা পত্রিকা এডুকেশন গেজেট-এ, যখন তিনি এফ.এ (বর্তমান উচ্চ মাধ্যমিক) শ্রেণীর ছাত্র। তার প্রথম বই ‘অবকাশরঞ্জিনী’র প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয় ১২৭৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ এবং এর দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয় ২৯ জানুয়ারি, ১৮৭৮। শেষের কাব্য তিনটি (রৈবতক, কুরুক্ষেত্র, প্রভাস) আসলে একটি বিরাট কাব্যের তিনটি স্বতন্ত্র অংশ। এই কাব্য তিনটিতে কৃষ্ণচরিত্রকে কবি বিচিত্র কল্পণায় নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। কবির মতে আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির সংঘর্ষের ফলে কুরুক্ষেত্রযুদ্ধ হয়েছিল। এবং আর্য অনার্য দুই সম্প্রদায়কে মিলিত করে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমরাজ্য স্থাপন করেছিলেন। নবীনচন্দ্র ভগবতগীতা এবং মার্কণ্ডেয়-চণ্ডীরও পদ্যানুবাদ করেছিলেন। নবীনচন্দ্রের কবিত্ব জায়গায় জায়গায় চমৎকার কিন্তু কবি এই চমৎকারিত্ব সব জায়গায় বজায় রাখতে পারেন নি। এই কারণে এবং কাব্য বাঁধুনি না থাকায় নবীনচন্দ্রের কবিত্বের ঠিকমত বিচার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নবীনচন্দ্র কিছু গদ্যরচনাও করেছিলেন। তার আত্মকথা আমার জীবন একটি উপন্যাসের মত সুখপাঠ্য গ্রন্থ। তিনি ভানুমতী নামে একটি উপন্যাসও রচনা করেছিলেন। কবি নবীনচন্দ্র সেন মৃত্যুবরণ করেন ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি।এসএ/

কবি আল মাহমুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গতকাল শনিবার রাতে তাকে ধানমণ্ডির শংকরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার পারিবারিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আল মাহমুদ নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। উল্লেখ্য, আল মাহমুদ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিক, চেতনা ও বাক-ভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- লোকলোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি।এসএ/

চলে গেলেন সোহরাওয়ার্দীপুত্র রাশেদ সোহরাওয়ার্দী

উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা, গণতন্ত্রের মানষপুত্র-খ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে রাশেদ সোহরাওয়ার্দী আর নেই। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনের বেলা হঠাৎ করেই তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে আকস্মিক মৃত্যুর খবরটি এসে পৌঁছায়। যুক্ত পাকিস্তানের একসময়ের প্রধানমন্ত্রী ও নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে রাশেদ সোহরাওয়ার্দী, বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনে নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে ইন্তেকাল করেন। গত রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) অক্সফোর্ড ইউনিয়নে `আল জাজিরা : হেড টু হেড` অনুষ্ঠান রেকর্ডকালে দর্শকসারিতে শেষবার তার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মরহুমের বন্ধু যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। সুলতান শরীফ জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরার অনুষ্ঠানে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা তার সাথে আড্ডা দিয়েছি। হঠাৎ করে আজ তার মৃত্যুর খবর স্তম্ভিত করে দিয়েছে। মৃত্যুপরবর্তী তার মরদেহ এখন কোথায় আছে, শেষকৃত্য কখন- এগুলো এখনও কিছুই জানা যায়নি। সুলতান শরীফ বলেন, মরহুমের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সব তথ্য জানার পর সবাইকে তা জানানো হবে। রাশেদ সোহরাওয়ার্দী রাজনীতিতে না থাকলেও বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন। উল্লেখ্য, রাশেদ সোহরাওয়ার্দী রবার্ট অ্যাশবী নামে খ্যাতিমান ব্রিটিশ লেখক ও অভিনেতা হিসেবে সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। এই খ্যাতিমান ব্রিটিশ অভিনেতা লিজেন্ড (২০১৫), ডক্টর হু (১৯৬৩) ও জিন্নাহ (১৯৯৮) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তার মা ছিলেন খ্যাতিমান রাশিয়ান অভিনেত্রী ভেড়া আলেক্সান্দ্রভনা ট্রিসেঙ্কো, যিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার পিতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খ্যাতিমান বাঙ্গালি রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষে ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৫৭ সালের ১৭ অক্টোবর পদত্যাগের আগে পর্যন্ত পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। আরকে//

রাশেদ সোহরাওয়ার্দী আর নেই

উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা, গণতন্ত্রের মানষপুত্র-খ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে রাশেদ সোহরাওয়ার্দী মারা গেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনে নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে ইন্তেকাল করেন। গতকাল শুক্রবার তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়। গত রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অক্সফোর্ড ইউনিয়নে ‘আল জাজিরা : হেড টু হেড’ অনুষ্ঠান রেকর্ডকালে দর্শকসারিতে শেষবার তার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মরহুমের বন্ধু যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। সুলতান শরীফ জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরার অনুষ্ঠানে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা তার সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি। হঠাৎ করে তার মৃত্যুর খবর স্তম্ভিত করে দিয়েছে। সুলতান শরীফ আরও বলেন, মরহুমের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সব তথ্য জানার পর সবাইকে বিস্তারিত জানানো হবে।রাশেদ সোহরাওয়ার্দী রাজনীতিতে না থাকলেও বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। উল্লেখ্য, রাশেদ সোহরাওয়ার্দী রবার্ট অ্যাশবী নামে খ্যাতিমান ব্রিটিশ লেখক ও অভিনেতা হিসেবে সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। এই খ্যাতিমান ব্রিটিশ অভিনেতা লিজেন্ড (২০১৫), ডক্টর হু (১৯৬৩) ও জিন্নাহ (১৯৯৮) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তার মা ছিলেন খ্যাতিমান রাশিয়ান অভিনেত্রী ভেড়া আলেক্সান্দ্রভনা ট্রিসেঙ্কো, যিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এসএ/  

‘নৌকা আনোয়ারে’র ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

একুশে পদকপ্রাপ্ত (মরণোত্তর) চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেনের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (০৮ ফেব্রুয়ারি)। যিনি নৌকা আনোয়ার নামেও পরিচিত। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক উত্তীর্ণের পর থেকেই শিল্পী আনোয়ার হোসেন নানা বৈচিত্র্যময় ছবি এঁকেছেন। ক্যানভাস হিসেবে দিয়াশলাইয়ের খাপের কাঠের অংশের উপর নৌকা এবং অনিবার্যভাবে ব্যতিক্রমভাবে নদীর দৃশ্যও চিত্রায়িত করেন। এছাড়া তিনি ছবির উপকরণ হিসেবে আঠা, গাছের পাতা, ছাল, মাছের কাটা, হাড়, টুকরা কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করতেন। তাই তিনি মর্ডান আর্ট শিল্পী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। এই গুণী শিল্পী সবার কাছে নৌকা আনোয়ার হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। ১৯৮৮ সালের বন্যার ছবি এঁকে একক চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। সেই ছবি বিক্রির টাকায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনে দুর্গত মানুষদের সহায়তা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশে বিদেশে ২২ টিরও বেশি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে তার ছবি। তার আঁকা ছবি রক্ষিত আছে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় চিত্রশালা, বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়, দেশের অনেক আর্ট গ্যালারিসহ বাংলাদেশের প্রায় ৬০টি সার্কিট হাউজে।২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রংতুলি হাতে নিয়েই তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত অনুরাগীদের রেখে মারা যান।২০১৬ সালে শিল্পকলায় (চিত্রকলা) মাদারীপুরের চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। শুক্রবার এই শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার কাজীবাড়ির নিজ বাসভবনসহ জেলা শহরের মসজিদগুলোতে বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন তার ছোট ছেলে কাজী আশিকুর হোসেন অপু।এসএ/

বুধবার মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী মৃত্যুবার্ষিকী

সিদ্দিকী, এম.আর (১৯২৬-১৯৯২) শিল্পপতি, রাজনীতিক। পুরো নাম মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ সালে তিনি মারা যান। বুধবার তার মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডে তাঁর জন্ম। পিতা মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডের সদস্য। মাতা মোস্তফা বেগম। তিনি সীতাকুন্ডে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা এবং ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৮-১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস থেকে ট্যাক্সেশন অ্যান্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছর তিনি লন্ডনের Royal Economic Society এবং Royal Statistics Society-এর সদস্য নির্বাচিত হন। এম.আর সিদ্দিকী ১৯৫৫ সালে জেমস ফিনলে পি.এল.সি-এর মুখ্য হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির (বর্তমানে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের শাখা) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি এ.কে খান জুট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল মটরস লিমিটেড, ক্রিসেন্ট মটরস লিমিটেড, ১৯৬৮ সালে থেরাপিউটিক্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং ১৯৬৯ সালে এস.কে.এম জুট মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তিনি সিডকো লিমিটেড এবং ১৯৮৫ সালে সিডকো (গার্মেন্টস বিভাগ) লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের (বর্তমানে পূবালী ব্যাংক) স্পন্সর পরিচালক এবং আল বারাকা ব্যাংক বাংলাদেশের (অধুনা বিলুপ্ত, বর্তমানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড) ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এম.আর সিদ্দিকী ১৯৬২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৬৪-১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। চট্টগ্রামের প্রতিরোধ যুদ্ধে তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তাঁকে পূর্বাঞ্চলীয় জোনাল কম্যান্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। বিদেশে প্রবাসী সরকারের পক্ষে জনমত গঠনের জন্য মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জুলাই মাসে আমেরিকা সফর করেন। ১৯৭২ সালে এম.আর সিদ্দিকী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও বৈদেশিক ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে ১৯৭৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স এবং পশ্চিম জার্মানি সফর করেন। এ সময় তিনি কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে এ সকল দেশের সমর্থন ও সহায়তা অর্জনে সফল হন। ১৯৭৫ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৮০ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এম.আর সিদ্দিকী ১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান লায়ন্স আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৬০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম জেলা আক্রান্ত হলে তিনি উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে তৎপর হন। এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব ১৯৬২ সালে তাঁকে The Lion Humanitarian Award পদকে ভূষিত করে। তিনি ১৯৬২-৬৩ এবং ১৯৬৩-৬৪ সালে প্রাদেশিক লায়ন্স জেলা ৩১৫-এর জেলা গভর্নর এবং ১৯৭২-৭৩ ও ১৯৭৩-৭৪ সালে বাংলাদেশ লায়ন্স জেলা ৩১৫-এর জেলা গভর্নর নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৮৩ সালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল। এছাড়া তিনি OISCA (Bangladesh Chapter)-এর সভাপতি, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি (১৯৮৪), বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের আহবায়ক (১৯৮৫), মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি (১৯৮৫ ও ১৯৮৬), UCEP বাংলাদেশের চেয়্যারম্যান (১৯৮৮) এবং বাংলাদেশ-জাপান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। তিনি সীতাকুন্ডের কুমিরায় লতিফা সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭৩) এবং লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজ (১৯৮৫) প্রতিষ্ঠা করেন।    

ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ 

আজ ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারির এই নেতা ২০১২ সালের এই দিনে ভোর ৪ টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। মস্তিষ্কের ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।      ২০১০ সালের নভেম্বরে টিংকুর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়লে তাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করানো হয়েছিল রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র টিংকু ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে জাতীয় ছাত্রলীগের (পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে একীভূত হয়) সর্বশেষ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। পরে মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন বাকশাল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হলে জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুও আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কর্মজীবনে টিংকু ছিলেন একটি নির্মাণ সংস্থার চেয়ারম্যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাউজানে গ্রামের বাড়িতে তার কবর রয়েছে। প্রতি বছর এই দিনে ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই প্রয়াত ছাত্রনেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজনের ভেতর দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হয়। আআ/এসি     

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি