ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৭:৩২:০৮

সাংবাদিক রণেশ মৈত্র হাসপাতালে

সাংবাদিক রণেশ মৈত্র হাসপাতালে

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও রাজনীতিক রণেশ মৈত্র গুরুতর অসুস্থ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ছেলের বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিপুল অধিকারীর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে পৌঁছার পরপরই তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউ-২-তে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি হওয়ার পর তাকে গতকাল বুধবার কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।বিএসএমএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘রণেশ মৈত্রের শ্বাসকষ্ট রয়েছে। আরও কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তবে আগের তুলনায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’ রণেশ মৈত্র ১৯৬১ সালে পাবনায় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকরা তাদের পেশার স্বীকৃতি পান। সেই বছরেই প্রতিষ্ঠিত পাবনা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক নির্বাচিত হন রণেশ মৈত্র। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে জেলার সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।সফল আইনজীবী হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে আইন পেশা থেকেও স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ২০১৭ সালে তিনি সাংবাদিকতায় একুশে পদক লাভ করেন। তার স্ত্রী পূরবী মৈত্র বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি। রণেশ মৈত্রের প্রকাশিত গ্রন্থ ‘রুদ্র চৈতন্যে বিপন্ন বাংলাদেশ’ পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়।এসএ/  
আজ জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী

জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্ব্বর নয়াপল্টনের নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান।কবীর চৌধুরী ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। নোয়াখালী জেলার চাটখিলে উদার ও মুক্তচিন্তার এক পারিবারিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠেন তিনি। তার ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী, বোন ফেরদৌসী মজুমদার বাংলাদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৮ সালে তাকে জাতীয় অধ্যাপক করা হয়। নব্বইয়ের দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সমমনাদের নিয়ে গঠন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ছয় সঙ্গী, প্রাচীন ইংরেজি কাব্যসাহিত্য, আধুনিক মার্কিন সাহিত্য, শেক্সপিয়র থেকে ডিলান টমাস, সাহিত্য কোষ, ইউরোপের দশ নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচনা ও নন্দনতত্ত্ব পরিভাষা, শেক্সপিয়র ও তার মানুষেরা, অ্যাবসার্ড নাটক, পুশকিন ও অন্যান্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়, ছোটদের ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস, ছবি কথা সুর ইত্যাদি। কবীর চৌধুরী ১৯৯১ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।এসএ/

মওলানা ভাসানীর জন্মদিন আজ

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৯তম জন্মদিন আজ। ১৮৮০ সালের আজকের এ দিনে সিরাজগঞ্জের ধানঘড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।১৯৩১ সালে সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় ও ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন তিনি। পরে ১৯৩৭ সালে মওলানা ভাসানী কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন। মওলানা ভাসানী ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলন সমর্থন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত যান এবং মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। ২৫ মার্চ রাতে মওলানা ভাসানী সন্তোষে তার গৃহে অবস্থান করছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী তার সন্তোষের বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে মওলানা ভাসানী একটি বিবৃতি দেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকাে যুক্ত ছিলেন। আসামে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন এ রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে।এসএ/  

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের শাহাদাতবার্ষিকী আজ

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি খুলনায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের ছোড়া বোমায় দগ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ করেন। এ উপলক্ষে আজ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নগরে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনার রূপসা নদীতে মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী যুদ্ধজাহাজ পলাশের ইঞ্জিন রুমের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার-আলবদর বাহিনীর ছোড়া বোমা ইঞ্জিন রুমে আঘাত করলে তাতে আগুন ধরে যায়। দগ্ধ রুহুল আমিন ঝাঁপিয়ে পড়েন রূপসা নদীতে। পাড়েও এসে পৌঁছান একসময়। অপেক্ষমাণ রাজাকারের দল বেয়নেট দিয়ে হত্যা করে এই বীরসন্তানকে।তার তিন মেয়ে জাকিয়া খাতুন, নূরজাহান বেগম, ফাতেমা বেগম ও দুই ছেলে মোহাম্মদ আলী বাহার ও শওকত আলীর মধ্যে মোহাম্মদ আলী বাহার মারা গেছেন।এসএ/

নূর অাহামদ : শ্রমিক রাজনীতির কিংবদন্তী

‘মৃত্যু’। চিরাচরিত সত্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু তারপরও কিছু মৃত্যু অামাদের নাড়া দেয়। জগৎ সংসারে এনে দেয় কিছু শুণ্যতা। কিছু মৃত্যুর অভাব কখনোই পূরণ হয় না। পূরণ করার কথা কেউ ভাবেও না। তোমনি ভাবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি শুণ্যতার সৃষ্টি হলো। চলে গেলেন কিংবদন্তী তুল্য শ্রমিক রাজনীতিবিদ নূর অাহমেদ। যিনি গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় নিজেকে গণমানুষের কাজে লাগিয়েছেন। সীতাকুন্ড- বাড়বকুন্ড- ফৌজদারহাট শিল্পাঞ্চলে তিনি ছিলেন মহিরূহ। পুঁজিবাদী রাজনীতির ঝনঝনানি নয়, পেশী শক্তির দাপট নয়, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার অাদায়ের রাজনীতিই তাকে করে তুলেছিল রাজনীতির নায়ক। নূর অাহমেদ কখনো এমপি, মন্ত্রী হননি। চকচকে গাড়ীও তার ছিল না। তবু ছিলেন সীতাকুন্ডের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের নেতা।প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নূর অাহমেদ- এর জন্ম হয়েছিল সাধারণ একটি পরিবারে। অাশেপাশের খেটে খাওয়া মানুষদের লড়াই দেখতে দেখতেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। নূর অাহমেদের রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ছয় দফা অান্দোলনে। সমসাময়িক কালে অন্য অনেকের মতো তিনিও বাঙ্গালীর এ মুক্তির সনদকে প্রথম দীক্ষা হিসেবে নিয়েছিলেন। ৬৯- এর গণঅভ্যুথানে তিনি ছিলেন সীতাকুন্ডের প্রথম সারির সংগঠক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুখোমুখি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে তার সাহস ও ব্যক্তিত্ব তার পরবর্তী রাজনীতির গতি নির্ধারণ করে দিয়েছিল।মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শেখ ফজলুল হক মণি বাংলাদেশ অাওয়ামী যুবলীগ গঠন করলে তিনি সীতাকুন্ড উপজেলায় (তৎকালীণ সীতাকুন্ড থানা) এর অাহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সারাদেশে যেসব নেতাকর্মী মোশতাক- জিয়া সরকারের রোষানলে পড়েছিল নূর অাহামেদ ছিলেন তাদের একজন। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি সীতাকুন্ড থানায় বাকশাল- এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। সভাপতি হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল অালম। একই সময়ে তিনি বাড়বকুন্ড-কুমিরা- ফৌজদারহাট শিল্পাঞ্চলে জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা ও সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যা বর্তমানে উপজেলা শ্রমিক লীগের কাঠামোতে পরিচালিত হয়। নূর অাহমেদ কতোটা জনপ্রিয় তা একটা সহজ বিষয়ে প্রমাণিত, তা হলো তিনি মৃক্যুকালীন মুহুর্তেও এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একটি সংগঠনে টানা এতোদিন নেতৃত্ব ধরে রাখা প্রমাণ করে নির্মোহ ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ ছিলেন। ৮০ ও ৯০ - এর দশকে এ অঞ্চলের রাজনীতি ছিল শ্রমিক নির্ভর। স্বৈরাচার বিরোধী অান্দোলনকে দাউ দাউ অাগুনে রূপ দিয়েছিল ছাত্ররা ও শ্রমিকরা। অার শ্রমিকদের মধ্যমণি ছিলেন নূর অাহামেদ। সে সময় তিনি সীতাকুন্ড উপজেলায় অাট দশ, সাত দল ও পাঁচ দলের সমন্বয়ে গঠিত বাইশ দলীয় ঐক্যজোটের অাহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এতোটাই জনপ্রিয় ছিলেন তাকে এরশাদ সরকারের পুলিশ গ্রেফতার করলে স্থানীয় জনগণ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। তুলে ফেলা হয়েছিল রেললাইনের স্লিপার। বাধ্য হয়ে সরকার তাকে মুক্তি দিয়েছিল। অামাদের দেশে অন্য অনেক রাজনীতিবিদরা এমন জনপ্রিয়তার সুযোগ গ্রহণ করে। অনেকের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হয় জনপ্রিয়তা। কিন্তু নূর অাহামেদ ছিলেন ব্যতিক্রম। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৮৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। এরশাদ সরকারের দেওয়া ঐ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ছিলেন সীতাকুন্ডে বাকশাল ও অাওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তৎকালীন সরকারের পাতানো নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট বাক্স ছিনতাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। সীতাকুন্ডেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নূর অাহামদের নিশ্চিত বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা চেয়েছিল এর পাল্টা জবাব দিতে। কিন্তু বাধ সাধেন নূর অাহামদ। তিনি বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান হতে গিয়ে যদি অামাকে পেশীশক্তি প্রয়োগ করতে হয় তাহলে অামার চেয়ারম্যানগিরি দরকার নেই।’ তার এই নীতিবোধ মর্যাদার দিক থেকে তাকে অন্য অনেকের উর্দ্ধে তুলে দিয়েছিল।জাতীয় রাজনীতির অাদর্শিক প্রশ্নে ১৯৯১ সালের ১৪ অাগস্ট বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগ ও বাকশাল এক হয়ে যায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অানুগত্য প্রকাশ করেন অাব্দুর রাজ্জাক। সারা দেশের মতো সীতাকুন্ডেও বাকশাল অাওয়ামী লীগে মিশে যায়। নূর অাহামদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা অাওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। মৃত্যুকালীন সময়েও  উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির পাশাপাশি তিনি এ দায়িত্ব পালন করছিলেন। পর পর তিনবার তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়াত রাজনীতিবিদ অাহসান উল্লাহ মাষ্টারের বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন নূর অাহামদ।শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষে তিনি ইরাক, থাইল্যান্ড, লিবিয়া ও লেবানন সফর করেন। এসব সফরকালীন সময়ে তিনি সঙ্গে করে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে যেতেন। ইরাক সফরকালীন সময় ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন- এর হাতে নৌকা তুলে দিলে সাদ্দাম হোসেন তাকে অনেক্ষণ জড়িয়ে ছিলেন।নূর অাহামদ একা নন, তার পুরো পরিবারটিই বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের রাজনীতিতে দু:সময়ে ভুমিকা রেখেছিলেন। যা সীতাকুন্ড- উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। নূর অাহামদ- এর অাপন সহোদর নুরুল অামিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহজালাল হল ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অারেক ভাই অাজম খান সীতাকুন্ড ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তার ভাই নাসির অাহামদ স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন অাওয়ামী লীগে অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব ছিলেন বেশ কয়েকবার। নূর অাহামদ- এর ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ইউসুফ খান সীতাকুন্ড ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।বর্তমানে তিনি সৌদি অারবস্থ রিয়াদ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের এক নিষ্ঠতার সাথে লেগে থাকা খুব কঠিন ব্যাপার। অার সেই কঠিন কাজটি করে গেছেন নূর অাহামদ ও তার পরিবার।নূর অাহামদ অাজ নেই। স্ত্রী অানোয়ারা বেগম, চার মেয়ে, তিন ছেলে, পাঁচ ভাই, তিন বোন, দলীয় অসংখ্য নেতা কর্মী, হাজার হাজার শ্রমিক রেখে পাঁচ ডিসেম্বর তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।সাদা পাঞ্জাবী, সাদা পাজামা, কাঁধের উপর শাল ছিল তার নিয়মিত পোষাক। ধূমপান করতেন। ধীর পায়ে ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তিনি হাঁটতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষের মাঝ দিয়ে। তিনি সচেতন ছিলেন কিন্তু অহংকারী ছিলেন না। তার মধ্যে কোন ছলচাতুরী বা ভন্ডামী ছিল না। কোন জটিল মারপ্যাঁচের ধার ধারতেন না। তিনি ছিলেন তার মতো। এ অঞ্চলের মানুষ অারেকজন নূর অাহামদ পাবেন না। কিন্তু চাইলে পেতে পারে তার অাদর্শ, সংগ্রাম। যা টিকে থাকে যুগের পর যুগ। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা।অা অা//  

বিপ্লবী বরুণ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিপ্লবী প্রসূন কান্তি বরুণ রায়ের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হাসননগরের বাসভবনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।বরুণ রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় নিবেদিত ছিলেন কৃষক ক্ষেতমজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। এ জন্য বিভিন্ন সময় তাকে প্রায় ১৪ বছর কারাবরণ করতে হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ-তাহিরপুর) আসন থেকে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য এবং এর আগে এমএলএও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।বরুণ রায়ের বাবা করুণা সিন্দু রায় ছিলেন স্বদেশী আন্দোলনের নেতা। যদিও জমিদারির মতো ছোটখাটো মিরাশদারিও ছিল তাদের, তবুও ব্রিটিশ ও জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধেই তার বাবা ছিলেন নির্ভীক সংগ্রামী। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ লালন করেই জীবন কাটিয়েছেন বরুণ রায়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশ ও মানুষের পক্ষের সব আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রভাগের যোদ্ধা।প্রয়াত এই বিপ্লবীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরুণ রায় স্মৃতি সংসদের আয়োজনে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ জেলার শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভা শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হবে। এসএ/

হাছন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মরমি কবি ও বাউল সাধক হাছন রাজার ৯৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর হাছন রাজা সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা তীরে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হাছন রাজা উত্তরাধিকার সূত্রে বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন। হাছন রাজা মুখে গান রচনা করতেন। তার গানে তার চিন্তা-ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। যদিও তার রচিত গানের সঠিক হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ‘হাছন উদাস’ গ্রন্থে তার ২০৬টি গান সংকলিত হয়েছে।তার উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো- লোকে বলে, বলেরে, ঘরবাড়ি ভালা নায় আমার, মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে, আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপরে, সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা, কানাই তুমি খেইল খেলাও কেনে, একদিন তোর হইবে রে মরণ রে হাছন রাজা। আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হবে। তার গাওয়া কিছু গান : এসএ/

তারেক মাসুদের জন্মদিন আজ

খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ৬২তম জন্মদিন আজ।  বরেণ্য এই চলচ্চিত্র নির্মাতা ১৯৫৭ সালের এই দিনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তারেক মাসুদ ১৯৮৫ সালে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোনার বেড়ী’ নির্মাণ করেন। একই বছরের শেষ দিকে নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র ‘আদম সুরত’। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফুটেজ ব্যবহার করে দুটি তথ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ ও ‘মুক্তির কথা’ নির্মাণ করেন। ‘নারীর কথা’, ‘ইন দ্য নেইম অব সেফটি’, ‘আ কাইন্ড অব চাইল্ডহুড’, ‘ভয়েসেস অব চিলড্রেনে’র মতো প্রামাণ্যচিত্রগুলো নির্মাণ করেন তারেক মাসুদ।তারেক মাসুদ নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিগুলো হলো- সে (১৯৯৩), নরসুন্দর (২০০৯), শিশু কথা (১৯৯৭), নিরাপত্তার নামে (১৯৯৯), বিপন্ন বিস্ময়, নিরপরাধ ঘুম, সুব্রত সেনগুপ্ত ও সমকালীন বঙ্গসমাজ এবং ইউনিসন (অ্যানিমেশন)। ‘মাটির ময়না’ (২০০২) তার প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র, যার জন্য ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ডিরেক্টর ফোর্টনাইট’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য অস্কারে মনোনীত হয়েছিল। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘রানওয়ে’ মুক্তি পায় ২০১০ সালে।২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণের স্থান নির্বাচন করে মানিকগঞ্জ থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ। ২০১২ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়।এসএ/  

নেলসন ম্যান্ডেলার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ৫ ডিসেম্বর। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের অবিসংবাদিত নেতা ও দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের এই দিনে জোহানেসবার্গের বাড়িতে ৯৫ বছর বয়সে থেমে যায় আজীবন সংগ্রামী এই মানুষটির জীবন।১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার উমতাতু প্রদেশের এমভাজো গ্রামে জন্ম নেলসন ম্যান্ডেলার। দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে তিনি মাদিবা নামে বেশি পরিচিত। মাদিবা আসলে তার গোত্রের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন যুবলীগের। ১৯৪৮ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনের সারিতে আসেন নেলসন ম্যান্ডেলা।১৯৬২ সালে অন্তর্ঘাতসহ নানা অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে শ্বেতাঙ্গ সরকার। যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয় তার। বোরেন দ্বীপের কারাগারে ২৭ বছর কাটিয়ে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান তিনি। ১৯৯১ থেকে `৯৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট।১৯৯৪ সালে তার নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়লাভ করে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন ম্যান্ডেলা। তারপরের ইতিহাস আরও উজ্জ্বল। সারা জীবন যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, যাদের বর্ণবাদী আক্রমণে রক্তাক্ত হয়েছে দেশ, সেই বর্ণবাদী আফ্রিকান ন্যাশনাল পার্টির এফডব্লিউডি ক্লার্কদের নিয়ে গঠন করেন জাতীয় ঐক্যের সরকার। জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরালো করতে গঠন করেন ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন।সারা জীবনে নেলসন ম্যান্ডেলা পেয়েছেন প্রচুর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।এসএ/

ভাষাসংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কবি, লেখক, সাংবাদিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। তিনি ১৯৩৫ সালে ৯ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন তিনি।ছাত্রজীবন থেকে প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয় তোফাজ্জল হোসেন এদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামসহ ভাষা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট কবি ও গীতিকার হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সাংবাদিকতাসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছয় দশক ধরে তার বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভাষাসৈনিক সম্মাননা, পদক্ষেপ, পদাতিকের সম্মাননা ছাড়াও ঋষিজ পদক ও একুশে পদক পেয়েছেন।তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো- হৃদয় রক্তরাগে, একুশ ভুবননয়, নতুন যুগের ভোরে, কবিতাসমগ্র কাব্যগ্রন্থসহ বেশ কয়েকটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ (জনসংখ্যা বিস্ম্ফোরণ ও আগামী পৃথিবী, শিশু :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট, বিপন্ন পৃথিবী বিপন্ন জনপদ, কাশ্মীর :ইতিহাস কথা কয়, সাফল্যের সন্ধানে, জাতিসংঘ এবং লিন্ডন জনসন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাদ মাগরিব শ্যামলীর নিজ বাসভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সব শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। এসএ/  

‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের এক হোটেলে মৃত্যুবরণ করেন। ৭১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে জাতীয় ৩ নেতার মাজারে তাঁর সমাধি রয়েছে। আজ বুধবার (৫ ডিসেম্বর) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও আদর্শ জাতিকে সবসময় প্রেরণা যুগিয়ে আসছে।’   তিনি বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশে সারাজীবন কাজ করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, উপমহাদেশের মেহনতি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আজীবন সংগ্রাম করেছেন। একজন প্রতিভাবান সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ আরও বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা।     প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।    এদিকে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সোহরাওয়ার্দীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। উল্লেখ্য, তিনি ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সোহরাওয়ার্দী। তার বাবা  প্রখ্যাত বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী। পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৪৭ এ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এছাড়া ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার নেতৃত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি যুক্তফ্রন্ট গঠনের অন্যতম নায়ক ছিলেন। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই নেতা সুধী সমাজের পক্ষ থেকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ উপাধিতে ভুষিত হন। কেআই/এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি