ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫৪:৫৫

কবি পাবলো নেরুদার প্রয়াণ দিবস আজ

কবি পাবলো নেরুদার প্রয়াণ দিবস আজ

নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদা। আজ তার প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে মৃত্যু ঘটে তার। ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই  চিলির পাররাল শহরে জন্ম নেয় নেরুদা। তার প্রকৃত নাম ছিল নেফতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ালতো। পাবলো নেরুদাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী লেখক মনে করা হয়। তার রচনা অনূদিত হয়েছে একাধিক ভাষায়। নেরুদার সাহিত্যকর্মে বিভিন্ন প্রকাশ শৈলী ও ধারার সমাবেশ ঘটেছে। তিনি রচনা করেছেন পরাবাস্তববাদী কবিতা, ঐতিহাসিক মহাকাব্য, এমনকি প্রকাশ্য রাজনৈতিক ইস্তাস্তেহারও। ১৯৭১ সালে নেরুদাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কলম্বিয়ান ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস একদা নেরুদাকে ‘বিংশ শতাব্দীর সকল ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি’ বলে বর্ণনা করেন। উল্লেখ্য, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিন পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় পাবলো নেরুদার। কিন্তু পরবর্তিকালে এই মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।  দাবি করা হয়- ক্যান্সারে মৃত্যু হয়নি নেরুদার। নেরুদার দেহাবশেষ থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের মধ্যে একদল ফরেনসিক গবেষক দাবি করেছেন, প্রস্টেটের ক্যান্সারে মৃত্যু হয়নি নেরুদার। এর ফলে ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী নেরুদার মৃত্যু ঘিরে শুর ‍হয় রহস্য। ঠিক কী কারণে নেরুদার মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি গবেষক দল। তবে তাকে পরিকল্পিত খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন না তারা। ১৯৭৩ সালে কমিউনিস্টতার মৃত্যুর পর জানানো হয়েছিল নেরুদা প্রস্টেটের ক্যান্সারে মারা গিয়েছেন। কিন্তু একনায়ক অগাস্টো পিনোশের ক্ষমতা দখলের দুই সপ্তাহের মধ্যে নেরুদার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল তখনই। কমিউনিস্ট নেরুদার প্রাক্তন গাড়িচালক ম্যানুয়েল আরায়া দাবি করেছিলেন- ক্যান্সার নয়, বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে এই কবিকে। তার দাবি, নেরুদা যখন ঘুমে ছিলেন, তখন তার দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। আর এতেই ‍মৃত্যু ঘটে নেরুদার। এসএ/    
প্রবোধচন্দ্র সেনের মৃত্যুবার্ষকী আজ

বাংলা সাহিত্যে ছন্দবিশেষজ্ঞ প্রবোধচন্দ্র সেনের মৃত্যুবার্ষকী আজ ২০ সেপ্টেম্বর। ১৯৮৬ সালের আজকের এই দিনে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়। কুমিল্লার মনিয়ন্দ গ্রামের জন্ম নেওয়া এই বিখ্যাত মানুষটির আদিনিবাস ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইলের চুন্টা গ্রামে। তার পিতার নাম হরদাস সেন, মাতা স্বর্ণময়ী সেন। প্রবোধচন্দ্র সেন গিরিধারী পাঠশালা ও ইউসুফ হাই ইংলিশ স্কুলে প্রাথমিক লেখাপড়া করেন। তিনি কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ১৯১৫ সালে ম্যাট্রিক, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯২০ সালে আইএ, সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে ইতিহাসে অনার্সসহ বিএ এবং প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। উনিশ শতকের যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনার ধারক প্রবোধচন্দ্র সেন মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বে একটি ‘ইচ্ছাপত্র’ লেখেন, যাতে তাঁর বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত হয়েছে। তিনি কেবল প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন তাই নয়, প্রচলিত সামাজিক আচারের প্রতিও তিনি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর মৃত্যুতে শ্রাদ্ধ, উপাসনা, প্রার্থনা, স্মরণসভা এবং তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন না করতে নির্দেশ দেন। তবে উল্লিখিত পত্রে তিনি তাঁর শ্মশানযাত্রায় ধর্মীয় গানের পরিবর্তে ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা’র মতো দেশাত্মবোধক গান গাওয়া এবং ললাটে চন্দনের পরিবর্তে দেশের মাটি লেপে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থাগার এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব সন্তানদের ওপর দিয়ে তাঁর আবাসভূমি বিশ্বভারতীকে দান করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন। রাজদ্রোহী সন্দেহে তিনি ১৯১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হলে অন্যান্য তরুণ কারাবন্দীর সঙ্গে তিনি মুক্তি (১৯১৮) পান। এ সময় কুমিল্লায় ‘ন্যাশনাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি বিনাবেতনে এ প্রতিষ্ঠানে ছাত্র স্বেচ্ছাসেবকরূপে চার বছর কাজ করেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় খুলনার দৌলতপুর হিন্দু একাডেমীতে (বর্তমান দৌলতপুর কলেজে) ইতিহাস ও বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক পদে নিযুক্তি (১৯৩২-৪২) লাভের মধ্য দিয়ে। ১৯৪২ সালে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহবানে তিনি বিশ্বভারতী বিদ্যাভবনে রবীন্দ্র-অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হলে প্রবোধচন্দ্র সেন বাংলা বিভাগের প্রধান হন (১৯৫২-৬২) এবং রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিক উৎসবকালে পুনর্গঠিত রবীন্দ্রভবনের প্রথম রবীন্দ্র-অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ (১৯৬২-৬৫) পদ লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করলে তাঁকে বিশ্বভারতীর প্রফেসর ইমেরিটাস করা হয়। প্রবোধচন্দ্র সেনের ছন্দ নিয়ে উৎসাহ ও ঔৎসুক্য ছিল। ১৯২২ সালে কলেজে পড়ার সময়ে তিনি ‘বাংলাছন্দ’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখেন, যা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত-এর প্রশংসা ও সম্মতি লাভ করে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রবোধচন্দ্র সেনের ছন্দবিষয়ক এ প্রবন্ধ পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ‘ছান্দসিক’ বলে অভিহিত করেন। পরে এ বিষয়ে প্রবোধচন্দ্র চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মোহিতলাল মজুমদার, কুমুদরঞ্জন মল্লিক, কালিদাস রায়, যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখের স্বীকৃতি লাভ করেন। বাংলা ছন্দ বিষয়ক তাঁর গ্রন্থগুলির মধ্যে বাংলা ছন্দে রবীন্দ্রনাথের দান (১৯৩১), ছন্দোগুরু রবীন্দ্রনাথ (১৯৪৫), ছন্দ পরিক্রমা (১৯৬৫), ছন্দ-জিজ্ঞাসা (১৯৭৩), বাংলা ছন্দচিন্তার ক্রমবিকাশ (১৯৭৮), ছন্দ সোপান (১৯৮০), আধুনিক বাংলা ছন্দ-সাহিত্য (১৯৮০), বাংলা ছন্দে রূপকার রবীন্দ্রনাথ (১৯৮১), নূতন ছন্দ পরিক্রমা (১৯৮৫) প্রধান। দীর্ঘ চৌষট্টি বছর প্রবোধচন্দ্র সেন ছন্দ-চর্চায় নিবিষ্ট ছিলেন এবং বাংলা ছন্দের আদ্যন্ত ইতিহাস বিজ্ঞানসম্মতরূপে রচনা করেন। বার বার তাঁকে বাংলা ছন্দের পরিভাষা পরিবর্তন করতে দেখা যায়। এর কারণ, তিনি বাংলা ছন্দের তিনটি রীতির অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যকে চূড়ান্তভাবে ধরে দিতে চেয়েছেন। জীবনের একটা বৃহৎ সময় তিনি ছন্দ-বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিতর্ক-আলোচনা শেষে বাংলা ছন্দের তিন রীতির নামকরণ করেন মিশ্রবৃত্ত, কলাবৃত্ত ও দলবৃত্ত। বাংলা সাহিত্যে ছন্দবিশেষজ্ঞরূপে পরিচিত প্রবোধচন্দ্র সেন প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির ছাত্র ছিলেন। এমএ পাশ করার পর তিনি প্রাচীন বাংলার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা আরম্ভ করেন প্রথমে ঐতিহাসিক রামকৃষ্ণ গোপাল ভান্ডারকর এবং পরে হেমচন্দ্র রায়চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে। বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাস নিয়ে তাঁর আগ্রহের মূলে ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় প্রচারিত স্বদেশপ্রীতি এবং বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ‘স্বদেশী আন্দোলন’। তাঁর ইতিহাসপ্রীতির মূলে ছিল স্বদেশপ্রীতি। এ সূত্রে তিনি আকর্ষণবোধ করেন বাংলার ভৌগোলিক ইতিহাসের প্রতি। তাঁর ‘বাংলার জনপদ পরিচয়’ পর্যায়ের বেশ কিছু প্রবন্ধ এ আকর্ষণের ফল। বাংলার ইতিহাস সাধনা (১৯৯২) গ্রন্থটি তাঁর ইতিহাস রচনার ইতিহাস (হিস্টরিয়োগ্রাফি) হিসেবে বিশেষ মূল্যবান বিবেচিত হয়েছে। তাঁর অপর গ্রন্থ তিনটি- বাংলায় হিন্দু রাজত্বের শেষ যুগ (১৯৩০), ধর্মবিজয়ী অশোক (১৯৪৭), ধম্মপদ-পরিচয় (১৯৫৩) এ বিষয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল সম্রাট অশোক ও বৌদ্ধধর্মের প্রতি। শেষোক্ত গ্রন্থ দুটি এর প্রমাণ। প্রথম জীবনে তাঁকে বৈদিক ধর্মের প্রতি আগ্রহী দেখা গেলেও পরে তিনি বৌদ্ধধর্মে আস্থাশীল হয়ে ওঠেন। প্রাচীন ভারতের সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে রচিত দুটি গ্রন্থ রামায়ণ ও ভারত সংস্কৃতি (১৯৬২), ভারতাত্মা কবি কালিদাস (১৯৭৩) বাংলা সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ বলে বিবেচিত হতে পারে। ছন্দচর্চা ও ইতিহাসচর্চার সঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা প্রবোধচন্দ্র সেনের আরেক সাধনা। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তিনি বহু প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে রবীন্দ্র দৃষ্টিতে অশোক (১৯৫১), রবীন্দ্র দৃষ্টিতে কালিদাস (১৯৬১) এবং ভারতপথিক রবীন্দ্রনাথ (১৯৬২) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে তাঁর রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা (১৯৬১), ইচ্ছামন্ত্রের দীক্ষাগুরু রবীন্দ্রনাথ (১৯৭৮) এবং সম্পাদিত গ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ (১৯৬২)। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা গ্রন্থটি প্রবোধচন্দ্র সেনের রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাবিষয়ক আলোচনায় একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অবদান। প্রবোধচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক তথ্যানুসন্ধানের ফলেই ভারতবর্ষের জাতীয়সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গানটি সম্বন্ধে প্রচলিত ভ্রান্তির নিরসন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভারতবর্ষের জাতীয় সঙ্গীত (১৯৪৯) ও Indian’s National Anthem (১৯৪৯) গ্রন্থ দুটির কথা উল্লেখ করা যায়। সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রবোধচন্দ্র সেন বিভিন্ন সময়ে অনেকগুলি পুরস্কার লাভ করেন। তার মধ্যে প্রফুল্ল স্মৃতি পুরস্কার (১৯৬৯), বঙ্কিমস্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৫), কেশবচন্দ্র গুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৮), ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি (১৯৮০), কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ডিলিট. (১৯৮৩), উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তক প্রদত্ত ডিলিট. (১৯৮৩) এবং এশিয়াটিক সোসাইটির পক্ষ থেকে মরণোত্তর রবীন্দ্রশতবার্ষিকী স্মারক পদক (১৯৮৭) উল্লেখযোগ্য। এসএ/    

ভারতীয় চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের জন্মদিন আজ

ভারতের পিকাসো খ্যাত আধুনিক শিল্পকলার সেরা শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন। ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী শিল্প-সংস্কৃতির জগতের অগ্রপথিক মকবুল ফিদা হোসেন সাধারণ্যে যিনি এম এফ হুসেন নামে বেশি পরিচিত। সমকালীন শিল্পীদের থেকে তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র, কারণ তিনি রঙ-তুলি-ক্যানভাসের ভেতরে নিজেকে আটকে রাখেননি। তার প্রতিভার বর্ণচ্ছটায় আলোকিত হয়ে উঠেছিল শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যম। মকবুল ফিদা হুসেন ছিলেন একাধারে কবি, ভাস্কর, বাড়ির নকশাকার এবং চিত্রনির্মাতা। স্পেনের শিল্পী পাবলো পিকাসোর মতো মকবুল ফিদা হুসেনও ভারতীয় চিত্রকলায় নিয়ে আসেন বৈচিত্র্য। আর এজন্য তিনি আবহমান ভারতীয় শিল্প ঐতিহ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় শিল্পশৈলী `কিউবিজম`-এর মিলন ঘটান। এর মাধ্যমেই আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলা ও মকবুল ফিদা হুসেন হয়ে ওঠেন সমার্থক। কালজয়ী চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন ১৯১৫ সালের আজকের দিনে পরাধীন ভারতের পান্ধারপুরে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার জন্মদিন। শিল্পের যাদুকর মকবুল ফিদা হুসেন ১৯১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পরাধীন ভারতের তৎকালীন বোম্বে প্রেসিডেন্সি এলাকার পান্ধারপুরের খুব সাধারণ ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন তদানীনত্মন ইন্দর রাজ্যের (বর্তমানে মধ্য প্রদেশ) কাপড়ের কলের কর্মচারি। ছেলেবেলা থেকেই ফিদা যা দেখতেন, তা-ই এঁকে ফেলতেন। ছেলের আগ্রহ দেখে বাবা তাকে ভর্তি করলেন এক আর্ট স্কুলে। তবে সেখানে মকবুল ফিদা হুসেনের মন টিকেনি। ১৯৩৭ সালে বাবা চলে এলেন মুম্বাইয়ে, শুরু করলেন ঘি`এর ব্যবসায়। তিনি চাইলেন ছেলেও ব্যবসা দেখুক। কিন্তু ফিদা রাজি হলেন না। ভর্তি হলেন জে জে আর্ট স্কুলে। এ স্কুল থেকেই শুরু হলো তার শিল্পী জীবন। তবে তার জন্য সহজলোভ্য ছিল না ছবি আঁকার সরঞ্জাম। এ সবের জোগাড়ের জন্য তিনি সিনেমার পোস্টার এঁকেছেন, লিখেছেন সাইনবোর্ড পর্যন্ত। অনেক দিন পর্যন্ত শহরের গ্রান্ট রোডের একটি গ্যারেজ ছিল তার স্টুডিও। শত প্রতিকূলতাতেও থেমে থাকেননি ফিদা। থামিয়ে দেননি ছবি আঁকা। মাতৃস্নেহ বঞ্চিত ছিলেন ফিদা। হয়ত এ কারণেই তার চিত্রকর্মে খুঁজে পাওয়া যায় মাতৃরূপ। অসংখ্য নারীর চিত্রকর্মের মাধ্যমে মাতৃরূপের কল্পিত মুখখানি খুঁজে দেখার ছাপ পাওয়া যায়। মকবুল ফিদা হুসেনের অসংখ্য চিত্রকলার ভেতর উল্লেখযোগ্য হলো- `বিটুইন দ্য স্পাইডার এ্যান্ড দ্য ল্যাম্প`, `বীণা পেস্নয়ার`, `গণেশ`, `মাদার তেরেসা`, `মাদার ইন্ডিয়া`, `দ্য ওরামা` ইত্যাদি।১৯৬৭ সালে Through the Eyes of a Painter নামে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। যা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয় এবং গোল্ডেন বিয়ার অর্জন করে। তিনি বলিউডের নায়িকাদের কাছ থেকে ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা পান। তার প্রিয় নায়িকার তালিকায় ছিলেন আনুশকা শর্মা, অমৃতা রাও, মাধুরী দীক্ষিত, টাবু, বিদ্যা বালান ও উর্মিলা মাতন্ডাকার। মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘গজগামিনী’। ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ দেখার পর বলিউডের এ শীর্ষ নায়িকার অন্ধ ভক্ত হয়ে যান তিনি। টাবুকে নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘মিনাক্ষী’।শিল্পী হিসেবে মকবুল ফিদা হুসেন স্বীকৃতি পেয়েছেন অনেক। ১৯৫৫ সালে তিনি `পদ্মশ্রী` পদক লাভ করেন । ১৯৭১ সালে পাবলো পিকাসোর সঙ্গে সাওপাওলো সম্মেলনে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে লাভ করেন `পদ্মভূষণ` আর ১৯৯১ সালে তাকে সম্মানিত করা হয় `পদ্মবিভূষণ` দিয়ে। মকবুল ফিদা হুসেনের শিল্পকর্ম সময়কে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১১ সালের ৯ জুন তিনি লন্ডনে ৯৫ বছরে মৃত্যুবরণ করেন।এসএ/

শিল্পী নিতুন কুন্ডুর প্রয়াণবার্ষিকী আজ

আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী নিতুন কুন্ডুর ১২তম প্রয়াণবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন তিনি। এ কীর্তিমান শিল্পীকে স্মরণ করতে অটবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। ১৯৩৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া নিতুন কুন্ডু সিনেমার ব্যানার এঁকে নিজের আয়ে শিক্ষা অর্জন করেন। নিতুন কুন্ডু ঢাকায় মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে যোগ দিয়ে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অধীনে তথ্য ও প্রচার বিভাগে ডিজাইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে গড়ে তোলেন ‘অটবি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান, বর্তমানে যা বাংলাদেশের একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ শিল্পী তেলরঙ, জলরঙ, অ্যাক্রিলিক, এচিং, সেরিগ্রাফ, পেনসিল বা কালিকলম মাধ্যমে চিত্র রচনা করেন। তার নির্মিত ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু, সাবাস বাংলাদেশ, সাম্পান, কদমফুল ও সার্ক ফোয়ারা। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পুরস্কার ও পদকের ট্রফি, ক্রেস্ট, মেডেল প্রভৃতির নকশাকার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে নকশা করেছেন একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ, এশিয়া কাপ ক্রিকেট পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। চিত্রশিল্পী ও শিল্পপতি হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চিত্রকলা পুরস্কার।এসএ/  

নিসর্গসখা দ্বিজেন শর্মার প্রয়াণবার্ষিকী আজ

নিসর্গসখা দ্বিজেন শর্মার প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী আজ। গত বছরের আজকের এই দিনে ৮৮ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দ্বিজেন শর্মা মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে ১৯২৯ সালের ২৯ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম চন্দ্রকান্ত শর্মা ও মায়ের নাম মগ্নময়ী দেবী। তিনি ১৯৪৭ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৪৯ সালে আগরতলার মহারাজা বীরবিক্রম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে জীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৫৪ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষকতা পেশা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এর পর তিনি নটর ডেম কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার মস্কোতে প্রগতি প্রকাশনীর অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি এশিয়াটিক সোসাইটিতে যোগ দেন। বাংলাদেশে প্রকৃতি ও নিসর্গবিষয়ক লেখালেখিরও পথিকৃৎ দ্বিজেন শর্মা। উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তার আকরগ্রন্থ `শ্যামলী নিসর্গ`। তার লেখা অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- `সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস`, `ফুলগুলি যেন কথা`, `চার্লস ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি`, `সমাজতন্ত্রে বসবাস`, `ডারউইন :বিগল যাত্রীর ভ্রমণকথা`, `নিসর্গ, নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা`, `বাংলার বৃক্ষ`, `আমার একাত্তর ও অন্যান্য`, `প্রকৃতিমঙ্গল`, `বৃক্ষ ও বালিকা গল্প` ইত্যাদি। এ ছাড়া দেড় যুগ মস্কোর প্রগতি প্রকাশনীতে কাজের সময় ৫০টির মতো বই অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন। দ্বিজেন শর্মা তার কর্মময় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে একুশে পদক, ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র পদক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন পরিবেশ পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।এসএ/  

আম্বেদকর পেরেছেন,আপনিও পারবেন

কিসের অভাব আপনার? কেন আপনি ক্লাসে ১ম হতে পারবেন না? কেন গোল্ডেন এ প্লাসটা আপনার দখলে আসবে না? কেন মেডিকেলে চান্স পাননি বলে জীবনকে ব্যর্থ মনে করতে হবে? কেন অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারেননি বলে হতাশায় ভেঙে পড়তে হবে? আপনিও পারবেন চেষ্টা করলে। চেষ্টায় সব হয় এমন কথা সত্য প্রমাণিত করেছেন ড. বি আর আম্বেদকর। নিম্ন বর্ণের হয়েও ভারতের মতো দেশের একজন স্মরণীয় ব্যক্তি হয়ে রয়েছেন। ড. বি আর আম্বেদকর। জন্ম ১৯ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক দলিত পরিবারের ১৪ নম্বর সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। অস্পৃশ্য হওয়ায় স্কুলে তাকে বসতে হতো ক্লাসের বাইরে বারান্দায়। এমনকি তেষ্টা পেলে স্কুলের উচ্চবর্ণের দফতরটি ছোঁয়া বাঁচিয়ে ওপর থেকে পানি ঢেলে না দেওয়া পর্যন্ত পানি খাওয়ার অনুমতিটুকুও ছিল না তার। এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে ১৯ মাইল দূরের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে গাড়োয়ান তাকে গরুর গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছিল অস্পৃশ্য হয়ে গাড়িতে ওঠার অপরাধে। এতকিছুর পরও হার মানেননি। দারিদ্র্য আর রোগ-শোকের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া মাত্র পাঁচ ভাইবোনের একজন ছিলেন তিনি এবং একমাত্র তিনিই পেরোন হাইস্কুলের গণ্ডি। ভারতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম দলিত সম্প্রদায়ের সদস্য, যিনি কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ও লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে আইন ও অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রিসহ অর্জন করেন কয়েকটি ডক্টরেট ডিগ্রি। দেশে ফিরে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীর পাশাপাশি তিনি হয়ে ওঠেন সমকালীন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। দলিত সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে জীবনকে উৎসর্গ করেন। স্বাধীন ভারতের সংবিধান প্রণয়নের গুরুদায়িত্ব পালন করেন উদার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে, যা অর্জন করে সবার সপ্রশংস সমর্থন। বাবা আম্বেদকর নামে ভারতবর্ষে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়। প্রতিবছর তার জন্ম ও মৃত্যু দিবসে হাজারো মানুষ সমবেত হয় তার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবার উদ্দেশ্যে। বাবা আম্বেদকর যদি পারেন, তাহলে আপনিও পারবেন।কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশেন থেকে সংগ্রহীত। এসএইচ/

চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্মদিন আজ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বড় ক্যানভাসে গতিশীল ও পেশিবহুল মানুষের ছবি আঁকতে ভীষণ পছন্দ তার। তার চিত্রকর্মে বিচ্ছুরিত হয় রমণীর অলৌকিক ও অসীম শক্তি। একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শাহাবুদ্দিন এখনও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তার ছবির মোটিফ, রঙ ও কম্পোজিশনে অতুলনীয়ভাবে উপস্থাপন করে চলেছেন। তার ছবির মুখ্য বিষয় হলো সমসাময়িক মানুষ ও সময়। তার ছবিতে আশাবাদী মনোভঙ্গির প্রকাশ পায়। তিনি অনবরত আঁকেন বঙ্গবন্ধু, মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথকে। তিনি শুধু তাদের পোর্ট্রেট করেন না, তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন মানবীয় অনুভূতি, আবেগ এবং আত্মপ্রকাশ। শাহাবুদ্দিন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী একজন স্বপ্নচারী শিল্পী। বাঙালির সংগ্রাম ও অর্জনকে তিনি মহাকালিক স্পেসে প্রতিস্থাপন করেছেন। তিনি বসবাস করছেন পাশ্চাত্যের শিল্পের নগরী প্যারিসে। ১৯৭৩ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি পেয়ে প্যারিসে যান, তারপর সেখানেই বসতি স্থাপন করেন। দেশ-বিদেশে নামকরা বহু গ্যালারিতে তার একক ও যৌথভাবে চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়েছে। শাহাবুদ্দিন আহমেদের বিভিন্ন চিত্রকর্ম বাংলাদেশ ছাড়াও বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রখ্যাত গ্যালারি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত আছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই শিল্পী। বিরল প্রতিভার অধিকারী এই চিত্রশিল্পী ফ্রান্সের সম্মানজনক `নাইট` উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। শিল্পী শাহাবুদ্দিনের ৬৯তম জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেছে যৌথভাবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় কমিটি। তার জন্মদিনকে ঘিরে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বিকেল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে জন্মদিনের মূল অনুষ্ঠান।এসএ/  

বিপ্লবী বাঘা যতীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীনের ১০৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১০ সেপ্টেম্বর, সোমবার। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ১৯১৫ সালের এই দিনে উড়িষ্যার বালাশোরের চষাখে ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি। অন্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে তিনি বলেছিলেন ‘আমরা মরব দেশ জাগবে’। ব্রিটিশ ভারতে বাঙালিসহ ভারতবর্ষের সব জাতিসত্তার স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল এক সূত্রে গাঁথা। প্রধান লক্ষ্য ছিল ইংরেজদের বিতাড়ন করা। আর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে যারা স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন, যাদের আত্মদান ইংরেজ শাসকদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে, তাদের অন্যতম বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। যিনি ‘বাঘা যতীন’ নামে বেশি পরিচিত। দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা, অপরিসীম সাহস ও শৌর্যবীর্য তাকে অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের প্রথম পঙ্‌ক্তিতে স্থান দিয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ তার জন্মস্থান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে ‘কয়া চাইল্ড হেভেন গার্লস হাই স্কুল’ প্রাঙ্গণে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কয়া শাখার উদ্যোগে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এসএ/  

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ রোববার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের আজকের এই দিনে তার কেশবপুরস্থ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৭৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সাগরদাঁড়িস্থ আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিকাল সাড়ে ৩টায় কেশবপুরস্থ আবু শারাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে সকাল ৯টায় মরহুমের স্মরণে দোয়া মাহফিল, স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি থাকবেন মরহুম এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। এএসএইচকে সাদেক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন। এছাড়াও যশোর-৬ কেশবপুর আসন থেকে ১৯৯৬ সালে ও ২০০১ সালে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের আওয়ামীলীগ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে কার্যকর ভূমিকার জন্য ২০১০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান। এমএইচ/একে/

‘টিউশনির টাকায় বঙ্গবন্ধুর নামে জমি ক্রয় করেছিলাম’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলাম "চ্যালেঞ্জ কোচিং সেন্টার"। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্ররা সেই কোচিং সেন্টারে শিক্ষক ছিলেন । কোচিং সেন্টারটি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।  সে সময় যারা এই কোচিং সেন্টারের ছাত্র ছাত্রী ছিলেন তাদের অনেকেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। সেই কোচিং সেন্টারের আয় থেকে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সন্নিকটে শেখপাড়া বাজারে একখণ্ড জমি ক্রয় করেছিলাম। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার অকাল প্রয়াত হারুন। আমার স্বপ্ন ছিল সেখানে `বঙ্গবন্ধু পল্লী` প্রতিষ্ঠা করার। আমি জমিটি জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে রেজিস্ট্রি করার জন্য নেত্রীর অনুমতি নিতে গেলে নেত্রী সেদিন অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলেন জমি ক্রয়ের টাকা কোথায় পেলাম। আমি তখন কোচিং সেন্টারের আয় থেকে জমানো টাকার কথা বললাম। ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধু ভবনে তখন মরহুম জিল্লুর রহমান (সাবেক রাষ্ট্রপতি), মরহুম আব্দুর রাজ্জাক (সাবেক মন্ত্রী), ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীণ সভাপতি এ কে এম এনামুল হক শামীম উপস্থিত ছিলেন । বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন হাসতে হাসতে হাসতে বলেছিলেন আমার কাছেতো সবাই চাইতে আসে, তুমি আমাকে দিতে এসেছো? নেত্রী সেদিন আরও বলেছিলেন আমিইবা কয়দিন বাঁচবো। জমিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে দলিল করতে বলেছিলেন। জমিটি বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের নামেই দলিল করা হয়েছিল । অনেক দিন পর পুরনো ফাইলের মধ্যে সেই দলিলটি খুঁজে পেলাম । ছাত্র রাজনীতি নিয়ে অনেক নেতিবাচক আলোচনা আছে । কিন্তু অনেক ইতিবাচক দিকও আছে । ছাত্রলীগ কর্মীরা টিউশনির টাকা জমিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে জমি ক্রয় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত এটা অস্বীকার করার উপায় আছে কি ? লেখক: সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ। আআ// এসএইচ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি