ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩৯:২৮

হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম

হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম

হৃদরোগ মানেই সামান্য পরিশ্রমেও বিপদের ভয়, আর হাত ধরে নাকচ প্রায় সব কষ্টসাধ্য ব্যায়াম! অনেকে এমনটাই ভাবেন।কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টা মোটেও এমন নয় বরং নিয়ন্ত্রিত ব্যায়ামই হৃদরোগে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। তবে তা একেবারেই তাড়াহুড়ো করে শরীরকে জোর করে মানিয়ে নয়। বরং কী ভাবে ব্যায়াম করছেন আর কী কী ব্যায়াম করছেন তার উপরেই নির্ভর করবে আপনি হৃদরোগের সঙ্গে কত সক্রিয় ভাবে লড়তে পারবেন। জানেন কি, কেমন হবে হৃদরোগীর ব্যায়ামের নিয়ম? ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘হঠাৎ করে কিছু করবেন না৷ ধীরেসুস্থে এগোন, বিশেষ করে ব্যায়ামের অভ্যাস যদি না থাকে, বয়স বেশি হয় এবং হাইপ্রেশার বা হাঁটু–কোমর ব্যথা থাকে তা হলে আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে৷ বরং বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নিন কোন ধরনের ব্যায়াম আপনার শরীরে এঅকান্তই প্রয়োজন৷’ ব্যায়াম করলে মূল করোনারি ধমনীগুলির পাশাপাশি বেশ কিছু ধমনী থাকে যারা সচরাচর তেমন কাজ করে না৷ নিয়মিত ব্যায়াম করলে আস্তে আস্তে এরা সজীব হয়৷ রক্ত সঞ্চালন শুরু হয় এদের মধ্যে দিয়ে৷ যত তা বাড়ে, তত তরতাজা হয় হার্ট৷ ধকল সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ে৷ হৃদয় ও ফুসফুসকে ভাল রাখতে দরকার কিছু কার্ডিও এক্সারসাইজ৷ অর্থাৎ হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার, খেলাধুলা ইত্যাদি৷ শুয়ে–বসে থাকার অভ্যাস থাকলে তা আগে ত্যাগ করুন। বরং হাঁটতে পারলে ব্যায়ামের প্রাথমিক ভাগটা শুরু করুন হাঁটা দিয়ে৷ প্রথমে ধীরে, তার পর অভ্যাস হয়ে গেলে মাঝারি গতিতে৷ দিনে অন্তত আধঘণ্টা হাঁটুন৷ শরীর তৈরি না থাকলে প্রথম দিকে মিনিট পনেরো হাঁটলেও চলবে৷ সম্ভব হলে দিনে দু’বার হাঁটুন৷ হাঁটার জন্য কিছু নিয়ম মানুন। একই গতিতে একটানা হাঁটুন৷ সকালের দিকে ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে পারলে ভাল৷ সকালে সময় না পেলে বিকেলে বা সন্ধেয় হাঁটুন। শীতের ভোরের কুয়াশা ও ধুলো–ধোঁয়ার মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়৷ কাজেই একটু রোদ উঠলে বেরন৷ বিকেলে হাঁটলে চেষ্টা করুন আলোকিত ও পরিচিত রাস্তায় হাঁটতে৷ যে গতিতে হাঁটলে শীতকালে অল্প ঘাম হয়, শ্বাসের হার ও নাড়ির গতি বাড়ে, একটু হাঁপিয়ে যান সেই গতিতে হাঁটুন৷ যদি খুব হাঁপিয়ে যান, বেশি ঘাম হয়, সারাদিন ক্লান্ত–অবসন্ন লাগে, বুঝবেন বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে৷ তখনই ব্যায়াম কমাতে হবে৷ আলাদা করে হাঁটার সময় না পেলে অফিস বা বাজার–হাট সেরে ফেরার সময় আধঘণ্টার মতো পথ হেঁটে আসতে পারেন৷ হাঁটুতে সমস্যা না থাকলে লিফ্‌টের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন৷ কাছাকাছি কোথাও যেতে হলে হেঁটে বা সাইকেলে যান৷ ঘরে নিজের কাজ নিজে করতে পারলে ভাল৷ মাঝেমধ্যে ঘর–বাড়ি বা গাড়ি ধোয়ামোছা করতে পারেন৷ নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে দিনে ২০–৩০ মিনিট জগিং করতে পারেন৷ দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার, ট্রেডমিল করা যেতে পারে সবই৷ কত দূর হাঁটলে বুকে ব্যথা হয় না, তা বুঝে ততটুকু হাঁটুন৷ বিশ্রাম নিন৷ আবার হাঁটুন৷ আবার বিশ্রাম নিন৷ কিছু দিন পর হার্ট আগের চেয়ে বেশি ধকল নিতে পারবে৷ গতির ব্যাপারেও এক নিয়ম৷ যে গতিতে হাঁটলে কষ্ট হয় না, সেই গতিতে হাঁটুন৷ সময়ের সঙ্গে গতি বাড়বে৷ ক’ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর বুকে চাপ ধরে তা বুঝে উঠুন ধীরেসুস্থে৷ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে স্ট্রেচিং, যোগা, মেডিটেশন করতে পারেন৷ এতে যে শুধু মানসিক উদ্বেগ কমে ও শরীরের নমনীয়তা বাড়ে এমন নয়, হৃদরোগের প্রকোপও কম থাকে৷ এর বাইরে কোনও ব্যায়াম করতে চাইলে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ মতো ট্রেডমিল টেস্ট করে নিন ও তাঁর পরামর্শ মেনে চলুন। ধীরে ধীরে একতলা সিঁড়ি ওঠানামা করতে পারেন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পরেও। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পর প্রথম ১–২ সপ্তাহ সাইক্লিং বা পায়ের অন্য ব্যায়াম, ভারী জিনিস তোলা বা ঠেলা বারণ৷ হাঁটাচলা করতে পারেন৷ অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে বন্ধ পথ খুলে দিলে ও হার্ট ঠিকঠাক পাম্প করলে বয়স ও ফিটনেস অনুযায়ী যা যা ব্যায়াম করা যায়, সব করতে পারেন৷ তবে ডাক্তারের মতামত নিয়ে৷ বাইপাস সার্জারির পর এক–দেড় মাস ডাক্তারের পরামর্শ মতো ব্যায়াম করুন৷ যেমন, ঘরে হালকা পায়চারি করা, বাড়ির সামনে অল্প হাঁটা, একতলা সিঁড়ি ওঠানামা করা, বাইরে একটু–আধটু বেরনো৷ এ ভাবে এগতে এগতে একটা সময় আসবে যখন অফিস, মর্নিংওয়াক সবই করতে পারবেন৷ হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা ঠিক থাকলে জিম, সাঁতার, ট্রেকিংও করা যায়৷ হার্ট অ্যাটাকের পর মাস খানেক গ্রেডেড এক্সারসাইজ করার পর ব্যায়ামের অনুমতি দেওয়া হয়৷ ট্রেডমিল টেস্ট করে অবস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার৷ তবে হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কিছু বিধিনিষেধ থাকে৷ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হালকা যোগা, স্ট্রেচিং ও শ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন৷ তবে খুব সাবধানে৷ ভারী জিনিস তোলা, ঠেলা বা পরিশ্রমের কাজ করবেন না৷ সকালে বা বিকেলে হাঁটুন৷ রক্ত সঞ্চালন বেড়ে হার্টের সমস্যা কমতে শুরু করবে৷ তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/
গাজরের পুষ্টিগুণ

শীতের সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় গাজর। এটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও সুস্বাদু। গাজর তার নিজ গুনেই গুনান্বিত। শীতের সময় প্রচুর পরিমান গাজর পাওয়া যায় বলে দামটাও তুলনামূলক একটু কম থাকে। এজন্যই এ মৌসুমে সবার উচিত প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় একটি করে গাজর রাখা। গাজরের রয়েছে নানা গুণ।গাজর খেলে কি কি উপকার পাওয়া যাবে এটি জেনে নিন। ১.গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং রাত কানা রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। ২.ত্বক সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছু ব্যবহার করি কিন্তু প্রতিদিন যদি একটি করে গাজর খাই তবে গাজরের মাধ্যমে পাওয়া এন্টি অক্সিডেন্ট ত্বককে সুন্দর টানটান ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। ৩.গাজরে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড যা হৃৎপিন্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে সেই সাথে হৃৎপিন্ডের বিভিন্ন। সমস্যা দুর করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ৪.প্রতিদিন গাজর খেলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় কারণ এতে রয়েছে ফ্যালক্যারিনল ও ফ্যালক্যারিনডায়ল নামক রাসায়নিক পদার্থ যা অ্যান্টিক্যান্সার উপাদান গুলোকে শক্তিশালী করে তোলে। ৫.গাজরে রয়েছে কিছু পরিমান আয়রন ও ক্যালসিয়াম নামক মিনারেলস যা দাঁত কে মজবুত রাখে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও লাইকোপেন যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং আজ থেকেই আপনার খাদ্য তালিকায় সালাদ হিসেবে যোগ করে নিন গাজর। পুষ্টিবিদ, তাসনিম আশিকনর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতাল।

সিজার কখন জরুরি ও সিজারের প্রস্তুতি  

সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত একটা পদ্ধতি সিজার। মা যখন প্রসবকালীন সময়ে অসহনীয় ব্যথা সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করেন তখন সিজারের মাধ্যমে প্রসব করানো হয়। আবার অভিযোগ আছে, বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে অনেক ডাক্তার স্বাভাবিক সন্তান প্রসব পদ্ধতি এড়িয়ে গিয়ে মাকে বা মায়ের আত্মীয় স্বজনকে সিজারের জন্য প্রলোভিত করে। এমন অভিযোগ সবসময় সত্য না হলেও কখনো কখনো অবশ্যই সত্য।        তবে সিজার- এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। রয়েছে নানা ক্ষতিকর দিক। শুধু প্রসবকালীন সময়েই নয়, সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করলে সারা জীবন একজন মাকে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হয়। মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও সিজার ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কখনো কখনো মায়ের ও গর্ভস্থ সন্তানের নানা দিক বিবেচনায় সিজার করা জরুরি হয়ে পড়ে। তাই বুঝতে হবে কখন সিজার করা আবশ্যক। আজ আমরা একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য সে বিষয়ে আলাপ করব। সিজার করতে হবে এটা কখন বুঝব তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোন সময় নাই। এমন হতে পারে ৩৭ সপ্তাহের পর দেখা গেল বাচ্চার পজিশন তখনো ঠিক হয়নি। কাজেই তখন সম্ভাবনা থাকে যে সিজার করতে হবে। যদি আগের দুটো বা তিনটি বাচ্চা সিজারে প্রসব হয় তাহলে আমরা প্রথম থেকেই নিশ্চিত থাকি যে এবারো সিজার করতে হবে। আবার কখনো কখনো সিজার জরুরি কী জরুরি নয় এ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। দেখা গেল প্রথম থেকে বাচ্চা ও মায়ের সবকিছু ঠিক আছে। প্রসব বেদনাও স্বাভাবিকভাবে উঠল। কিন্তু শেষ মুহুর্তে গিয়ে দেখা গেল মা বা বাচ্চার শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তখন সিজারের সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপায় থাকে না। যখন আমরা (ডাক্তার) সিদ্ধান্ত নিই সিজার করতেই হবে, তখন আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়। যদিও আমি শতভাগ রোগীকে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারী) জন্য চেষ্টা চালিয়ে থাকি, তবুও সকল প্রসূতির মানসিক এ প্রস্তুতি থাকা দরকার, পরিস্থিতি যে কোন সময় সিজারের দিকে যেতে পারে। অর্থাৎ, আপনাকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ট্রায়াল দিচ্ছি তার মানে এই নয় যে, আপনার স্বাভাবিক প্রসব হবে। শেষ মুহুর্তে গিয়ে সিজার লাগলেও লাগতে পারে। তাই পুরো গর্ভকালীন সময়টা শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। পাশাপাশি এটাও দেখা উচিত, আপনি যে হাসপাতালে প্রসব কালীন সময়ে ভর্তি হবেন সেই হাসপাতালের খরচ কেমন বা হঠাৎ সিজার জরুরি হয়ে পড়লে কেমন টাকা লাগবে তা সংগ্রহে রাখতে হবে। সিজার কালীন সময়ে আপনার সাথে হাসপাতালে কে কে থাকবেন, সেটা পরিবারের লোক, আত্মীয় স্বজন বা সাহায্যকারী - তা আগে থেকে ঠিক করে রাখতে হবে। আপনার যে রক্তের গ্রুপ সেই গ্রুপের একজন বা দু`জন রক্তদাতা আগে থেকে যোগাযোগ করে রাখতে হবে। যেন দরকার হলেই তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত সংগ্রহ করা যায়। আপনি যে হাসপাতালে ভর্তি হবেন সেই হাসপাতালে যাতায়াত কীভাবে করবেন, নিজের গাড়ি না থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে যেন গাড়ির ব্যবস্থা করা যায় সেই প্রস্তুতি রাখতে হবে। লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (এমবিবিএস, এফআরসিপিএস, এমসিপিএস)। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল। গাইনী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ। আআ//এসি    

এক লাখ ষাট হাজার টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব   

এক সময় আমাদের দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতো না। এর জন্য যেতে হতো অন্য কোনো দেশে। যা ছিল ব্যয়বহুল। কিন্তু বর্তমানে খুব সহজে কম খরচে দেশেই কিডনি প্রতিস্থাপন করা এখন সম্ভব।      বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এক লাখ ষাট হাজার টাকার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এখানে খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। পৃথিবীর কোথাও এত অল্প খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে এর চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হয়।    আবার কেউ যদি সিঙ্গাপুরে যান তাহলে সেখানে পঞ্চাশ লাখ থেকে এককোটি টাকার মতো খরচ হয়। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে খরচ হয় প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা। আবার কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচটাই শেষ নয়। এরপরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত আরও অনেক খরচ হয়ে যায়। প্রতিস্থাপনের পরে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব ওষুধ খাওয়া হয় তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তখন হুট করে দৌড়ে কিন্তু ভারতে যাওয়া যায় না। একেকবার যেতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়। দেশের মানুষ যদি দেশের ডাক্তারদের উপর আস্থা রাখে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এত অল্প খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে তা যদি গণমাধ্যমে প্রচার হয় তাহলে দেশের অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হবে। (লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।) আআ//এসি      

যেসব খাবার ক্যান্সারের জন্য দায়ী 

ক্যান্সারের নাম শুনলে আঁতকে উঠেন না এমন মানুষ কমই আছেন। ক্যান্সার হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে জিনগত সমস্যা, জীবনযাপন, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ, বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের কারণে হওয়া বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা অন্যতম।       ভুল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব- ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে ভরসার কথা হল বিষয়টা আপনার নিয়ন্ত্রণে। ক্যান্সারের ঝুঁকির জন্য ধূমপান অবশ্য দায়ী। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, পুষ্টিকর খাবার, বিশেষত উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার খাওয়া ইত্যাদির বিকল্প নেই। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড’য়ের মতে, আমেরিকাতে ২০ শতাংশ ক্যান্সার রোগীরই রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মেদ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও অপুষ্টি। সবগুলো কারণই মোকাবেলা করা সম্ভব, তাই খাদ্যাভ্যাস থেকে বাদ দিতে হবে কিছু খাবার। গবেষণায় দেখা গেছে আট ধরনের খাবার সবসময়ই ক্যান্সারের জন্য দায়ী। তাই এবিষয়ে সতর্কতার বিকল্প নেই। আসুন আমরা সে খাবারগুলো নিয়ে আলাপ করি।   প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম চিনি: শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত চিনি ক্যান্সার কোষের প্রিয় খাবারগুলো মধ্যে অন্যতম। অর্থাৎ এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক। মেডিসিন বিভাগে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত জার্মান চিকিৎসক ওটো ওয়ারবার্গ ১৯৩১ সালে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যে টিউমার ও ক্যান্সার কোষ বেড়ে উঠতে উচ্চ মাত্রায় ‘ফ্রুক্টোজ’যুক্ত চিনির উপর নির্ভরশীল।   তাই প্রক্রিয়াজাত কিংবা কৃত্রিম চিনির পরিবর্তে মধু, গুড়, ম্যাপল সিরাপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। প্রক্রিয়াজাত মাংস: যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই’য়ের করা এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত মাংস অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ৬৭ শতাংশ। এতে থাকে উচ্চমাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ ও খাদ্য সংরক্ষক। আরও থাকে নাইট্রেইট, যা এর স্বাদ বাড়ায়। তবে ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষ হিসেবে এর পরিচিতি আছে। ‘স্মোকড মিট’ বা কাঠের ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত মাংস খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য সুবিধার নয়, কারণ এই ধরনের খাবার তৈরির সময় মাংসে ‘টার’ অর্থাৎ ধোঁয়া থেকে সৃষ্টি বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে নেয়। তাই খেতে হবে চর্বিহীন মাংস অথবা মাংস ঘরেই রাঁধতে হবে।   চাষ করা মাছ: বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছ যেমন- স্যামন, অত্যন্ত জনাকীর্ণ পরিবেশে বড় হয়। মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবির আক্রমণ থেকে বাঁচতে ব্যবহার হয় বিভিন্ন জীবাণুরোধকারী ওষুধ, কীটনাষক ও অন্যান্য ‘কারসিনোগেনিক’ রাসায়নিক উপাদান। প্রাকৃতিক মাছের তুলনায় চাষ করা মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও কম থাকে। তাই যতটা সম্ভব নদী বা সমুদ্রের মাছ খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আচার ও ধোঁয়ায় প্রস্তুতকৃত খাবার: এসব খাবারে সাধারণত খাদ্য সংরক্ষক উপাদান যেমন, ‘নাইট্রেইট’ থাকে। দীর্ঘদিন এসব খাবার খেলে ওই খাদ্য সংরক্ষক উপাদানগুলো শরীরে জমা হতে থাকে। ফলে একসময় এই বিষাক্ত উপাদানগুলো কোষের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ক্রমেই ক্যান্সারের দিকে এগিয়ে যায়। আবার ধোঁয়ায় প্রস্তুতকৃত খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হলে এতে থাকা ‘নাইট্রেইট’ পরিণত হয় আরও বেশি ক্ষতিকর ‘নাইট্রাইটস’য়ে। তাই এ ধরনের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। হাইড্রোজেনেইটেড অয়েল বা ট্রান্স-ফ্যাট: মানুষের তৈরি এই উপাদান রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত করা হয়। আবার এর গন্ধ ঢাকতে ও স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক পদার্থ। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে, বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে থাকা ‘হাইড্রোজেনেইটেড’ ও আংশিক ‘হাইড্রোজেনেইটেড’ উদ্ভিজ্জ তেল স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় দ্বিগুণ। তাই এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে ‘এক্সট্রা-ভার্জিন অলিভ অয়েল’, ‘এক্সট্রা-ভার্জিন কোকোনাট অয়েল’ কিংবা ‘পাম অয়েল’ আলুর চিপস: ‘হাইড্রোজেনেইটেড ভেজিটেবল অয়েল’য়ে ভেজে তৈরি করা হয় এই চিপস, সঙ্গে থাকে অতিরিক্ত লবণ। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন মাত্র ১ আউন্স চিপস খেলেই বছরে গড়ে প্রায় দুই পাউন্ড ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাটও থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। আর লবণে থাকা সোডিয়াম বাড়ায় রক্তচাপ। আলুর চিপসকে মচমচে বানানোর জন্য উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা হয়। এতে ‘অ্যাক্রিলামাইড’নামক ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। যা সাধারণত সিগারেটে মেলে। এজন্য দোকান থেকে চিপস কেনার পরিবর্তে ঘরেই চিপস বানিয়ে খাওয়া অভ্যাস করা ভালো।   মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন: খাওয়া সহজ এবং তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাকস পপকর্ন। তবে, ঝামেলা হল এর প্যাকেটে। বেশিরভাগ মাইক্রোওয়েভ পপকর্নের প্যাকেটের গায়ে থাকে ‘পারফ্লুরোঅক্টানোইক’ অ্যাসিড নামক রাসায়নিক উপাদান। যা স্তন, বৃক্ক, মুত্রথলি, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট, ফুসফুস, থাইরয়েড, লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমা ক্যান্সারের জন্য দায়ী।    পরিশোধিত সাদা আটা: আটা পরিশোধনের সময় এর প্রায় সকল পুষ্টিগুণই নষ্ট হয়ে যায়। পরে একে ক্লোরিন গ্যাসের সাহায্যে ব্লিচ করা হয় ক্রেতার চোখে আকর্ষণীয় করার জন্য। এই আটার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রাও অনেক বেশি। অর্থাৎ শরীরে পুষ্টি সরবরাহ ছাড়াই ইনসুলিনের মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিশোধিত সাদা আটার পরিবর্তে গম, কাঠবাদাম বা বার্লির আটা খাওয়া ভালো। (লেখক: ইসরাত জাহান, ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশিয়ানিস্ট, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা।) এসি    

নরমাল ডেলিভারিতে সাইড কাটা কখন জরুরি 

আমাদের দেশে সাধারণত দুই পদ্ধতিতে সন্তান প্রসব করানো হয়। একটি হলো স্বাভাবিক সন্তান প্রসব পদ্ধতি। যেটাকে ‘নরমাল ডেলিভারি’ বলা হয়। অন্যটি হলো সিজার। এ পদ্ধতিতে মায়ের শরীর থেকে অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে সন্তান নিয়ে আসা হয়। কখনো কখনো স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব করানোর ক্ষেত্রেও যোনিপথ কিছুটা কাটতে হয়। যা ‘সাইড কাটা’ নামে পরিচিত। ‘সাইড কাটা’ নিয়ে অনেক ভীতিকর কথা প্রচলিত রয়েছে। রয়েছে অনেক ভুল ধারণাও।         কেউ কেউ বলে থাকেন, সাইড কাটার চেয়ে সিজার ভাল। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যোনিপথ কাটা বা সাইড কাটার ব্যাপারটা কী, কেন বা কখন সাইড কাটতে হয়, এর ইতিবাচক দিক কী, কেন সাইড কাটা ক্ষতিকর কিছু নয়, সাইড কাটা ও সিজারের মধ্যে পার্থক্য কী- এসব নিয়ে আজ একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য আলাপ করব।    নরমাল ডেলিভারিতে সবসময়ই যে সাইড কাটা (যোনিপথ কাটা) হয় তা কিন্তু না। সাইড কাটতে হবে তাও এমন জরুরি কিছু না। আবার আমরা সবারই যে সাইড কাটি তাও কিন্তু না। প্রসবকালীন সময়ে যখন বাচ্চার মাথা আসতে থাকে তখন আমরা (ডাক্তার) বুঝার চেষ্টা করি যে, যোনিপথের যে প্রশস্ততা আছে তা দিয়ে সহজে বাচ্চার মাথা আসবে কিনা। কখনো কখনো দেখা যায় মায়ের যে স্পেস রয়েছে (যোনিপথের প্রশস্ততা) সেই তুলনায় বাচ্চার মাথা বড়। সেক্ষেত্রে মাথা বের করে নিয়ে আসতে গেলে আশপাশের সব ছিঁড়ে যাওয়ার ও ক্ষতবিক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন একটুখানি সাইড কেটে দিলে বাচ্চার মাথাটা সহজভাবে চলে আসে। পরে সেই সাইডটুকু সেলাই করে দিলে তা সহজে শুকিয়ে যায় এবং শারীরিক কোন সমস্যা হয় না। এখন প্রশ্নহলো সাইড কাটা নিয়ে কেন ভীতি কাজ করে? ভীতির কারণ অনুসন্ধান করতে হলে আমাদেরকে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। আগের দিনে মায়েরা সন্তান প্রসব করতেন বাড়ীতে। সেখানে কোন প্রশিক্ষিত বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাদের ডেলিভারি করাতেন না। সেসময় বেশিরভাগ ডেলিভারি করাতেন মা খালারা বা দাই (সে সময় গ্রামে যারা প্রসব কাজে সহযোগিতা করতেন তাদের দাই বলা হতো)। তারা সাইড কাটতেও জানতেন না বা সেলাই করতেও জানতেন না। ফলে সেসময় বেশীরভাগ বাচ্চা এবড়ো থেবড়ো ভাবে ছিঁড়ে বের হতো। এই মায়েরা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হতেন। প্রসাব- পায়খানা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তেন। স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করতে গিয়ে কষ্ট পেতেন। এজন্য আমরা এখন বলি, সন্তান প্রসব অবশ্যই হাসপাতালে করাবেন। হাসপাতালে সন্তান প্রসব এজন্যই নিরাপদ, যখনই আমরা দেখি মায়ের যোনিপথ প্রশস্ত নয় বা বাচ্চার মাথা জোর করে বের করে আনতে গেলে ক্ষতি হবে তখনই আমরা একটুখানি সাইড কেটে দিই। তখন বাচ্চার মাথাটা সহজে চলে আসে। সন্তান প্রসবের পরপরই এই সাইডটা এতো সুন্দর করে সেলাই দেওয়া হয়, দেড়মাস পর মা খুঁজেও পাবেনা কোথায় সাইড কাটা হয়েছিল। তাই এটা নিয়ে ভয়ের কিছুই নেই। অনেকে বলে থাকেন, সাইড কাটার চেয়ে সিজার ভাল। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কেননা, সিজার মানে পেট এপাশ- ওপাশ কেটে ফেলা। সেটার ভোগান্তি সারাজীবন ভুগতে হয়। হাতের আঙ্গুলে কোথাও চামড়া কেটে গেলে সেই চামড়া পরে জোড়া লেগে যায় বা সেলাই করে দিলে হয়। রান্না বান্না করতে গিয়ে বা তরকারি কাটতে গিয়ে অনেক সময় হাত কেটে যায়। কয়েকদিন পর সেই কাটার আর কোন চিহ্ন থাকে না। ঠিক তেমনি সাইড কাটাও এতোটাই সামান্য ব্যাপার যে পরে আর সেই কাটা বা কাটার দাগ বা সেলাইয়ের দাগ কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে প্রসাব- পায়খানা বা স্বামীর সাথে মেলামেশা সহ যে কোন কাজে এই সাইড কাটা নিয়ে কোন ধরনের অস্বস্তিতে পড়তে হয় না। (আগামী পর্বে: সাইড কাটা মায়েদের পরবর্তীতে করণীয়) লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (এমবিবিএস, এফআরসিপিএস, এমসিপিএস)। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল। গাইনী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ। আআ/এসি       

হেপাটাইটিস সি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

  পৃথীবি জুড়েই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারন হেপাটাইটিস সি ভাইরাস। পাশ্চাত্যে বেশিরভাগ লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনই করা হয়ে থাকে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস জনিত লিভার রোগের কারনে। অথচ ১৯৮৯ সালে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আবিষ্কৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষের এই ভাইরাসটি সম্বন্ধে কোন ধারনাই ছিল না । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৭-২০ কোটি যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩%। আর এই সংখ্যাটি বিশ্বের এইডস রোগীর চেয়ে প্রায় ৪ গুন বেশী। বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লক্ষ লোক এ ভাইরাসে আক্রান্ত। তবে পাশ্চাত্যে এবং বিশেষ করে ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চলে হেপাটাইটিস সি -এর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশী। প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ লোক এই ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। ব্লাড ট্রান্সফিউশনের পূর্বে তা হেপাটাইটিস সি ভাইরাস মুক্ত কিনা সেটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা ও ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরী হওয়ায় উন্নতবিশ্বে যখন হেপাটাইটিস সি’র সংক্রমন একদিকে কমে আসছে, তখন অন্যদিকে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস মূলত ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। দূষিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে অনেকেই নিজেদের অজান্তে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তাছাড়া একই শেভিং রেজার, ব্লেড কিংবা ক্ষুর ব্যবহারের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে অথবা গর্ভস্থ শিশুর হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্বভাবনা খুবই কম। সামাজিক মেলামেশা যেমন হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি এবং রোগীর ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন গ্লাস, চশমা, তোয়ালে, জামা-কাপড় ইত্যাদির মাধ্যমেও এ রোগ ছড়ায় না। শরীরে একবার হেপাটাইটিস সি ভাইরাস প্রবেশ করলে তা শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে লিভারে স্থায়ী ইনফেকশন তৈরী করে যাকে আমরা বলে থাকি ক্রনিক হেপাটাইটিস সি। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগের কোন লক্ষণ থাকে না বললেই চলে। অথচ ১০-১৫ বছরের মধ্যে এদের বেশীরভাগই লিভার সিরোসিসের মত মারাত্বক রোগে আক্রান্ত হন, যাদের অনেকেরই পরবর্তীতে লিভার ক্যান্সার দেখা দেয়। আর তাই হেপাটাইটিস সি-কে বলা হয়ে থাকে ”তুষের আগুন” - যা ভিতরে ভিতরে লিভারকে পুড়িয়ে ছাড়খার করে ফেললেও, বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না। মহিলা এবং অল্প বয়স্কদের লিভারে হেপাটাইটিস সি তুলনামুলকভাবে কম ক্ষতি করে থাকে। অন্যদিকে যারা অ্যালকোহল সেবন করেন তারা হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের লিভারে মারাত্বক রোগ সৃষ্টির আশংকা খুবই বেশী। হেপাটাইটিস সি-কে অনেকে নীরব ঘাতকও বলে থাকেন, কারন এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ভ্যাকসিন নেই। তবে ইদানিং নতুন নতুন ওষুধ চলে আসায় চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময়যোগ্য। সত্যি বলতে কি সাধারন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সর্দি-কাশির ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন ঔষধ না থাকলেও, হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। আরও সুখবর এই যে, এ রোগের অন্যতম নতুন যে ওষুধগুলো যেমন, সফুসবোভির, ভেলপাটাসভির, ডাকলাটাসভির আর লেডিপাসভির - এ সবই উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশেও পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা এই ওষুধগুলো এখন এদেশেই তৈরী হচ্ছে। সত্যি বলতে কি আমেরিকায় হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের একটি ট্যাবলেটের দাম যেখানে ১০০০ ডলার সেখানে এদেশে তা পাওয়া যাচ্ছে অনেক অনেক কমে। প্রতিদিন পৃথিবীর নানা দেশের লোক এদেশে এসে হেপাটাইটিস সি’র ওষুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন আর এসব ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। হেপাটাইটিস সি’র চিকিৎসার অগ্রগতিতে আর এসব ওষূধকে বিশ্বব্যাপি সহজলভ্য করায় বাংলাদেশের সরকার আর আমাদের ওষুধ শিল্প তাই গর্ব করতেই পারে। পাশাপাশি প্রত্যেক সচেতন ব্যাক্তির উচিত শরীরে হেপাটাইটিস সি-র জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করে জেনে নেয়া আর থাকলে দ্রুত লিভার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া। তেমনি হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রোগীর উচিত লিভার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করার পাশাপাশি রক্ত দান, অঙ্গ ও কর্ণিয়া দান আর সেলুনে সেভ করা থেকে বিরত থাকা । ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়    টিআর/

কী নিয়ম মেনে চললে সিজার এড়ানো সম্ভব  

সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত একটা পদ্ধতি সিজার। মা যখন প্রসবকালীন সময়ে অসহনীয় ব্যথা সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে তখন সিজারের মাধ্যমে প্রসব করানো হয়। আবার অভিযোগ আছে, বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে অনেক ডাক্তার স্বাভাবিক সন্তান প্রসব পদ্ধতি এড়িয়ে গিয়ে মাকে বা মায়ের আাত্মীয় স্বজনকে সিজারের জন্য প্রলোভিত করে। এমন অভিযোগ সবসময় সত্য না হলেও কখনো কখনো অবশ্যই সত্য। তবে সিজার- এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। রয়েছে নানা ক্ষতিকর দিক। শুধু প্রসবকালীন সময়েই নয়, সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করলে সারা জীবন একজন মাকে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হয়। মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও সিজার ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কী কী নিয়ম মেনে চললে সিজার এড়ানো সম্ভব একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য আমরা আজকে তা নিয়ে আলাপ করবো। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, আমাদের মা- খালাদের সময়ের কথা চিন্তা করলে এখনকার সময়ে সিজারের হার অনেক বেশী। আমি বা আমাদের বয়সের যারা আছেন তাদের অনেকেরই ডেলিভারী হয়েছে ঘরে। বেশিরভাগ মায়েদেরই হয়েছে নরমাল ডেলিভারী। সিজার ডেলিভারীর পরিমাণ তখন খুব কম ছিল। আজকের সময়ে এসে সিজারের পরিমাণ হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। এই তুলনা থেকে একটা বিষয় নিশ্চিত করে বলা যায়, আমাদের জীবনযাত্রায় এমন কোন পরিবর্তন নিশ্চয় এসেছে যার ফলে সিজার- এর পরিমাণ বাড়ছে। আসুন, আমরা এর কারণগুলো নির্ণয় করি। প্রথমত, এখনকার মেয়েদের সহ্য ক্ষমতা একেবারেই কমে গেছে। তারা এখন নরমাল ডেলিভারীর কথা চিন্তা করতে পারেনা। তারা ব্যথাটা নেওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেনা। আগে মেয়েদের মধ্যে একটা প্রেরণা ছিল যে, আমাকে ব্যাথাটা মেনে নিতে হবে। ঘরেই ডেলিভারী করাতে হবে। ফলে তারা সিজারমুখী হতো না। অর্থাৎ মানসিক একটা প্রস্তুতি ছিল। যেটা এখনকার অধিকাংশ মেয়েদের নেই। দ্বিতীয়ত, এখন অনেক সহজে হাসপাতাল, ডাক্তার ও যাবতীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়। মাত্র তিনদিন হাসপাতাল থেকে সিজার রোগী বাসায় ফিরে যেতে পারছে। ফলে তারা এটাকে খুব ভয়ানক বা জটিল মনে করছে না। তৃতীয়ত, ডাক্তার হিসেবে আমি বলব গর্ভধারণের শুরু থেকেই তার খাওয়া দাওয়া, চলা ফেরা এমন হতে হবে যাতে তার নরমাল ডেলিভারী নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। যেমন: গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড বা ফার্স্টফুড এগুলো না খাওয়া ভাল। এগুলোতে তার ওজন বাড়বে। ফলে সাত- আট মাসের সময় ডায়াবেটিস, প্রেসার এ জাতীয় সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হবে। চতুর্থত, সারাদিন শুয়ে বসে থাকার অভ্যাস যদি কারো থাকে তা প্রত্যাহার করতে হবে। অনেকে গর্ভধারন করার সাথে সাথে চাকরি, ব্যবসা, পড়াশুনা, কাজ কর্ম সব বাদ দিয়ে সারাদিন শুয়ে বসে থাকে। এর ফলে অসুখ বিসুখের প্রবণতা বাড়বে। তা না করে তিনি যদি সবসময় স্বাভাবিক কাজকর্মের ভেতরে থাকে তাহলে প্রসবকালীন সময়ে জটিলতা এড়িয়ে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব। পঞ্চমত, নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই। সকালে নির্দিষ্ট সময়ে সকালের নাস্তা করবে, নির্দিষ্ট সময়ে দুপুরের ও রাতের খাবার খাবে, প্রতিদিন রুটিন মেনে কমপক্ষে আধাঘন্টা হাঁটাহাঁটি করবে, রাতে ঘুমাবে- এভাবে যদি প্রথম থেকেই মেনে চলতে পারে তাহলে একটা স্বাভাবিক ও আদর্শ ওজন বজায় থাকে। শরীর ফিট থাকবে। এরফলে তিনি স্বাভাবিক প্রসব করার চেষ্টা করার সুযোগ থাকবে বা সফল স্বাভাবিক প্রসব হবে। ষষ্ঠত, অনেকে আমাকে বলেন, প্রথম বাচ্চাটা আমি শখ করে সিজার করেছিলাম। এখন আমাকে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করে দিন। আমি বলব, এই কাজ (শখ) কখনো করবেন না। প্রথম ডেলিভারীর পরিকল্পনা যখন করবেন তখন এমন ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারী) সম্ভব কিনা। এমন ডাক্তার খুঁজে বের করুন যিনি অন্তত স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করবেন। যার প্রথম সন্তানটি স্বাভাবিক প্রসবে হয়, তার পরবর্তী সন্তান খুব সহজেই স্বাভাবিক ভাবে হয়। তাই প্রথম সন্তানের বেলায় সিজার এড়ানোটা পরবর্তীতে সিজার এড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (এমবিবিএস, এফআরসিপিএস, এমসিপিএস)। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল। গাইনী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ। আআ/এসি        

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি