ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ৪:৫৪:২২

মেডিটেশন হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়  

মেডিটেশন হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়  

আরমান আহমেদ (ছদ্মনাম)। পেশায় ডেন্টাল সার্জন। নিজে চিকিৎসক ছিলেন বলে স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন বরাবরই। প্রতিদিন নিয়ম করে একঘণ্টা হাঁটতেন, খাবারেও অতিরিক্ত তেল-চর্বি এড়িয়ে চলতেন সবসময়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল কিছুই তার ছিল না। ওজনও ছিল শতভাগ নিয়ন্ত্রণে। হঠাৎ একদিন শোনা গেল, তার হার্ট অ্যাটাক করেছে। তিনি সিসিউতে ভর্তি আছেন। আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব কারোরই বিশ্বাস হতে চাইলো না খবরটা। এমন পরিমিত আর নিয়মনিষ্ঠ জীবনযাপন যার, তার কীভাবে হার্ট অ্যাটাক হলো। দিন কয়েক বাদে ধীরে ধীরে একটু সুস্থ হতে শুরু করলে ডাক্তার তার কেস-হিস্ট্রি নিতে গিয়ে বুঝলেন, আরমান সাহেবের হার্ট অ্যাটাকের কারণ মূলত তার মানসিক চাপ। পারিবারিক কিছু অশান্তিতে ভুগছিলেন, মাস কয়েক ধরে একটা অসহনীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, অসহ্য এক স্ট্রেস প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খাচ্ছিল তাকে। যার অন্যতম পরিণতি এই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক।     ধূমপান, মেদস্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার ইত্যাদির পাশাপাশি টেনশন ও স্ট্রেস হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। গত শতকের শেষভাগে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গবেষণার ফলে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ, বিশেষত হৃদরোগের সাথে স্ট্রেসের যোগসূত্রের বিষয়টি তো এখন স্পষ্ট। মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিচটন বলেন, হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ মানসিক চাপ। দীর্ঘ গবেষণার পর তিনি দেখিয়েছেন যে, কোলেস্টেরল বা চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে করোনারি আর্টারিতে রক্ত চলাচল কমিয়ে দিলেই যে হার্ট অ্যাটাক হবে এমন কোনো কথা নেই। দেখা গেছে, করোনারি আর্টারির ৮৫% বন্ধ অবস্থা নিয়েও একজন ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিয়েছে; আবার শুধুমাত্র স্ট্রেস, টেনশন বা মানসিক চাপের কারণে একেবারে পরিষ্কার আর্টারি নিয়ে আরেকজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেয়ার ফ্রেডম্যান তার সহকর্মী রোজেনম্যানকে নিয়ে পঞ্চাশের দশকে একটি গবেষণা-প্রতিবেদন তৈরি করেন। তাতে বলা হয়, হৃদরোগের সাথে অস্থিরচিত্ততা, বিদ্বেষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি, তীব্র অনুভূতিপ্রবণতা অর্থাৎ নেতিবাচক জীবনদৃষ্টির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। আর এ ধরনের ব্যক্তিত্ব-বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যাদের মধ্যে তাদেরকে গবেষকদ্বয় অভিহিত করেন টাইপ এ ব্যক্তিত্ব (Type A Personality) হিসেবে। ১৯৭৪ সালে তারা এ নিয়ে একটি বইও লেখেন-‘টাইপ এ বিহেভিয়ার এন্ড ইয়োর হার্ট’। বইটি তখন বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। মূলত তখন থেকেই টাইপ এ পার্সোনালিটি বাক্যটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূলধারায় ব্যাপক পরিচিতি পায়। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্যে চাই মানসিক প্রশান্তি ও সঠিক জীবনদৃষ্টি। আর মানসিক প্রশান্তি ও চাপমুক্ত জীবনের জন্যে মেডিটেশনের ভূমিকা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মহাসচিব জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক তার আত্মজীবনী ‘জীবনের কিছু কথা’ বইয়ে লিখেছেন, ‘শরীরের ওপর মনের প্রভাব অপরিসীম। তাই দেহের পাশাপাশি মনের যত্ন নেয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মন বা আত্মা ভালো না থাকলে শরীরও ভালো থাকে না। কাজেই আমাদের দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্যে নিয়মিত নামাজ, প্রার্থনা ও মেডিটেশন করা উচিত। চাপমুক্ত জীবনযাপন, মানসিক সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্যে রিলাক্সেশন বা শিথিলায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্বে তাই এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে’। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি এখন প্রমাণিত সত্য যে, মেডিটেশন হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় দুক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখে। সাধারণভাবে, রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। মেডিটেশন এই অস্বাভাবিক বেশি কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে আনতে পারে। মেডিকেল কলেজ অব জর্জিয়ার ফিজিওলজিস্ট ডা. বার্নেস ১১১ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর একটি গবেষণা চালান। তিনি বলেন, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ ব্যবহার করে আগে যে ফল পাওয়া যেত, তা-ই পাওয়া সম্ভব মেডিটেশনে। ২০০৭ সালে আমেরিকান সাইকোসোমাটিক সোসাইটির বার্ষিক কনফারেন্সে তিনি এ রিপোর্টটি পেশ করেন। এ-ছাড়াও ১৯৭৯ সালে দুজন গবেষক এম জে কুপার এবং এম এম আইজেন ২৩ জন উচ্চ কোলেস্টেরল রোগীর মধ্যে ১২ জনকে মেডিটেশন করান। ১১ মাস পর দেখা যায় যে, মেডিটেশনকারী দলের কোলেস্টেরল ২৫৫ থেকে ২২৫-এ নেমে এসেছে। মেডিটেশন করোনারি ধমনীর ব্লকেজ ও রক্তচাপ কমায়-বিজ্ঞানীরা এতদিন জানতেন শুধু এটুকুই। কিন্তু মেডিটেশনের মনোদৈহিক প্রভাব সম্বন্ধে সাম্প্রতিক যে তথ্যটি এখন তাদের আলোচনার বিষয় তা হলো, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধসহ হৃদরোগজনিত যে-কোনো অকালমৃত্যু ঠেকাতে মেডিটেশন অত্যন্ত কার্যকরী। আমেরিকায় ২০১ জন আফ্রো-আমেরিকান হৃদরোগীকে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় শতকরা ৪৭ ভাগ কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে গবেষকদের একজন থিওডর কচেন্ বলেন, মানুষ ওষুধ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিন্তু আমাদের গবেষণায় এটাই প্রমাণিত হলো যে, স্ট্রেসজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকরী পন্থা মেডিটেশন। রিডার্স ডাইজেস্ট-এ প্রকাশিত হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা বিষয়ক একটি স্বাস্থ্য-প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়। শুধু তা-ই নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে মেডিটেশনের ভূমিকার সত্যতা এখন স্থান পেয়েছে কার্ডিওলজির প্রধান প্রধান পাঠ্যবইয়ের সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোতেও। হার্ট’স: দি হার্ট Hurst`s : The Heart বইটির দ্বাদশ সংস্করণে বলা হয়েছে-‘... মেডিটেশন জীবনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। শরীর স্থির হয়, মন হয়ে ওঠে প্রশান্ত। এর ফলে একটি নিরাময়ের অনুরণন সৃষ্টি হয়, যা হৃদরোগের ভীতিকর বুকব্যথা থেকে মুক্তি দেয় এবং জীবনমানের উন্নতি ঘটায়। হৃদরোগীদের জীবনধারা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাই এর ভূমিকা রয়েছে এবং এটি এথেরোরিগ্রেশন করে বা করোনারি ধমনীতে জমে থাকা কোলেস্টেরলের নিঃসরণ ঘটায়।’ (পৃষ্ঠা ২৪৬৮)। Braunwald`s Heart Disease বইটির অষ্টম সংস্করণে ১১৫৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে-‘... মেডিটেশন, যোগ ব্যায়াম, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস (প্রাণায়াম) ব্যথা-বেদনা ও দুশ্চিন্তা দূর করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এ পদ্ধতিতে মানসিক চাপ কমে ও রোগনিরাময় সুসম্পন্ন হয়। এ-ছাড়াও মেডিটেশন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।’ তাই হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্যে মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন করুন। আর তা সম্ভব নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যানমগ্নতায়। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট মেডিটেশন আপনাকে নিয়ে যাবে নতুন আনন্দলোকে। প্রশান্তি হবে আপনার নিত্যসঙ্গী। অযাচিত সব দুঃখ-কষ্ট আর নেতিবাচকতা আপনার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে দূরে, অনেক দূরে। আপনি হয়ে উঠবেন সুস্থ সুন্দর প্রাণবন্ত এক নতুন মানুষ। তথ্যসূত্র :   Hurst`s : The Heart (12th edition)Braunwald`s Heart Disease (8th edition)রিডার্স ডাইজেস্ট (সেপ্টেম্বর ২০১০) এসি     
স্তন ক্যানসারের কী চিকিৎসা: ডা. আফরিন সুলতানা

স্তন ক্যানসার এই সময়ের একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। এই রোগটি দিন দিন বাড়ছে। ক্যানসার আক্রান্তরা স্বভাবতই আতঙ্কে থাকেন। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েও সমাজে নানা কথা প্রচলিত। এখনও অনেকে মনে করেন স্তন ক্যানসারের কোনো চিকিৎসা নেই। মৃত্যু অনিবার্য! কিন্তু আপনি জানেন কি দেশেই স্তন ক্যানসারের নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খরচও তুলনামূলক কম। স্তন ক্যানসার শুনলেই একটা কথাই মাথায় আসে। সেটা হলো স্তন পুরোটাই কেটে ফেলতে হবে। বহির্বিশ্বে স্তন ক্যানসারের যে চিকিৎসা চলছে তাতে পুরো স্তন না কেটে আক্রান্ত অংশ কাটলেই রোগ নিরাময় হয়ে যায়। আমাদের দেশেও বর্তমানে সেই চিকিৎসা চালু হয়েছে। সাধারণত রোগীদেরে আমরা যে চিকিৎসা দেই তাতে সবার মাথায় একটাই প্রশ্ন থাকে, আমার ব্রেস্ট যেহেতু থেকে যাচ্ছে (কাটা হয়নি এমন অংশ) সেখানে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে কি-না? অনেকের ধারণা, যেহেতু আমি স্তন কেটে ফেলছি, তখনই রোগটা পুরোপুরি সেরে গেল। কিন্তু এই ধারনা বদলানোর সময় চলে এসেছে। একটা স্তন পুরোপুরি কেটে ফেললে ক্যান্সারের যতোটুকু সম্ভাবনা থাকে, না কাটলেও কিঞ্চিৎ এক বা দুই ভাগ বেশি সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য আমরা রোগীদের উৎসাহিত করছি, বিশেষ করে যারা প্রাথমিক পর্যায়ে আসছেন তারা এই চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। কারণ, স্তন একটা রেসপেক্টিবল অর্গান। এটার শারীরীক দিক ছাড়াও মনস্তাত্বিক, সামাজিক ও পারিবারিক অনেকগুলো দিক অাছে। অামাদের দেশে যারা স্তনের সার্জন হিসেবে কাজ করছে তারা এই চিকিৎসা দিচ্ছেন। অামাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে অামাদের অার্থ- সামাজিক ও পরিবেশগত মিল অাছে অনেকখানি। যেহেতু তারা এটা গ্রহণ করতে পারছে সেহেতু আমরাও পারব। ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে খরচ একটা বড় ব্যাপার। যেকোনো ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অামাদেরকে একটা বড় সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হয়। শুধু অপারেশন করলেই এটা শেষ হয়ে যায় না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় কেমোথেরাপী, রেডিওথেরাপী, হরমোন থেরাপী নিতে হয়। অামি বলব, দেশের বাইরে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে দেশেই নেওয়া ভালো। খরচও কম হয়। কারণ আমরা একই ধরনের চিকিৎসা বাংলাদেশে দিতে পারছি। অারেকটা বিষয় লক্ষ্য করা যায়, যারা ব্রেস্ট ক্যান্সারে অাক্রান্ত হন বা চিকিৎসা নেন, তারা মানসিকভাবে বড় হতাশায় ভোগেন। এক্ষেত্রে তার পরিবার, সমাজ বা অাশেপাশে যারা অাছেন সবার একটা বড় ভূমিকা অাছে তার পাশে দাঁড়ানোর। **লেখক: ডা. অাফরিন সুলতানা এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমঅারসিএস  কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অা অা/ এআর

ব্রেস্ট ক্যানসার হলে কী স্তন পুরোপুরি কেটে ফেলতে হয়: ডা. আফরিন

স্তন ক্যানসার শুনলেই একটা কথাই মাথায় আসে। সেটা হলো স্তন পুরোটাই কেটে ফেলতে হবে। বহির্বিশ্বে স্তন ক্যানসারের যে চিকিৎসা চলছে তাতে পুরো স্তন না কেটে আক্রান্ত অংশ কাটলেই রোগ নিরাময় হয়ে যায়। আমাদের দেশেও বর্তমানে সেই চিকিৎসা চালু হয়েছে। সাধারণত রোগীদেরে আমরা যে চিকিৎসা দেই তাতে সবার মাথায় একটাই প্রশ্ন থাকে, আমার ব্রেস্ট যেহেতু থেকে যাচ্ছে (কাটা হয়নি এমন অংশ) সেখানে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে কি-না? অনেকের ধারণা, যেহেতু আমি স্তন কেটে ফেলছি, তখনই রোগটা পুরোপুরি সেরে গেল। কিন্তু এই ধারনা বদলানোর সময় চলে এসেছে। আরো পড়ুন :  স্তন ক্যান্সার, অন্তর্বাস ও কিছু কথা: ডা. ফারহানা সীমা একটা স্তন পুরোপুরি কেটে ফেললে ক্যান্সারের যতোটুকু সম্ভাবনা থাকে, না কাটলেও কিঞ্চিৎ এক বা দুই ভাগ বেশি সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য আমরা রোগীদের উৎসাহিত করছি, বিশেষ করে যারা প্রাথমিক পর্যায়ে আসছেন তারা এই চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। কারণ, স্তন একটা রেসপেক্টিবল অর্গান। এটার শারীরীক দিক ছাড়াও মনস্তাত্বিক, সামাজিক ও পারিবারিক অনেকগুলো দিক অাছে। অামাদের দেশে যারা স্তনের সার্জন হিসেবে কাজ করছে তারা এই চিকিৎসা দিচ্ছেন। আরো পড়ুন : স্তনে ব্যথা হলে কী করবেন: ডা. অাফরিন সুলতানা (ভিডিও) অামাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে অামাদের অার্থ- সামাজিক ও পরিবেশগত মিল অাছে অনেকখানি। যেহেতু তারা এটা গ্রহণ করতে পারছে সেহেতু আমরাও পারব। ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে খরচ একটা বড় ব্যাপার। যেকোনো ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অামাদেরকে একটা বড় সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হয়। শুধু অপারেশন করলেই এটা শেষ হয়ে যায় না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় কেমোথেরাপী, রেডিওথেরাপী, হরমোন থেরাপী নিতে হয়। আরো পড়ুন : স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা অামি বলব, দেশের বাইরে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে দেশেই নেওয়া ভালো। খরচও কম হয়। কারণ আমরা একই ধরনের চিকিৎসা বাংলাদেশে দিতে পারছি। অারেকটা বিষয় লক্ষ্য করা যায়, যারা ব্রেস্ট ক্যান্সারে অাক্রান্ত হন বা চিকিৎসা নেন, তারা মানসিকভাবে বড় হতাশায় ভোগেন। এক্ষেত্রে তার পরিবার, সমাজ বা অাশেপাশে যারা অাছেন সবার একটা বড় ভূমিকা অাছে তার পাশে দাঁড়ানোর। **লেখক: ডা. অাফরিন সুলতানা এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমঅারসিএস  কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অা অা/ এআর ভিডিও

স্তন ক্যান্সার, অন্তর্বাস ও কিছু কথা: ডা. ফারহানা সীমা

নারী শরীর মানেই আকর্ষণীয় কিছু। তেমনি নারীর অন্তর্বাসও। তাই ‘নো ব্রা ডে’ নিয়েও আছে বেশ ফিসফিস গল্প, কিছু ভুল ধারণা। “নো ব্রা ডে” মানে কী? ব্রা খুলে অশ্লীলতা প্রদর্শন করা? না ব্যাপারটা মোটেও সেটা নয়। “নো ব্রা ডে” মানে তুমি মাসে অন্তত একবার তোমার বক্ষবন্ধনী খোলো আর নিজ হাতে সেগুলো পরীক্ষা করো। এখানে অশ্লীলতার কিছুই নেই। আরো পড়ুন : স্তনে ব্যথা হলে কী করবেন: ডা. অাফরিন সুলতানা (ভিডিও) ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মাঝে অন্য যেকোনো ক্যান্সারের চাইতে, ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব বেশি। প্রাণঘাতী ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে সকলের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতেই পালন করা হয় ‘নো ব্রা ডে’। প্রাচীন গ্রীসে নারীরা একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করতেন। একে বলতো অ্যাপোডিসমোস যার অর্থ ‘স্তন-বন্ধনী’। এক টুকরো কাপড় সামনে থেকে স্তনযুগলকে ঢেকে পিঠ বরাবর বাঁধা হতো। সেই থেকে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নারীদের মধ্যে বক্ষবন্ধনীর প্রচলন হয়। আরো পড়ুন : স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা খুব স্বাভাবিকভাবেই, আমাদের দেশের নারীরা ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে একেবারেই সচেতন নন। এমনকি ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, এমন নারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। অজ্ঞতা, অসচেতনতা, বিভ্রান্তিমূলক ধারণা, জড়তা ও সঠিক তথ্যের প্রচারণার অভাবে প্রতি বছর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা বেড়ে চলছে ক্রমেই। আরো পড়ুন : স্তনের নিপলে যেসব রোগ হয়ে থাকে: ডা. আফরিন সুলতানা (ভিডিও) বলা হয়ে থাকে সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করার মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে পুরোপুরি নিস্কৃতি পাওয়া সম্ভব। অথচ প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। যে কারণে নীরব ঘাতক ব্রেস্ট ক্যান্সারে অকালে প্রাণ হারাতে হয় অনেক ভুক্তভোগীকেই। ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ জানা থাকলে একদম শুরু থেকেই সতর্ক হওয়া যায়। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করলে, সুস্থ হয়ে ওঠা যায়। লক্ষণসমূহ হলো– ১. স্তন্য ও বগলের নিচের দিকে পিন্ড (লাম্প) বা চাকার মতো বোধ হওয়া। ২. স্তন্যের ত্বকের রঙ পরিবর্তন হওয়া। আরো পড়ুন : সাদা স্রাব গেলে কী করবেন : ডা. কাজী ফয়েজা ৩. স্তনের আকার ও আকৃতিতে পরিবর্তন আসা। ৪. স্তনের ত্বক কুঁচকে যাওয়া। ৫. স্তনের বোঁটা (নিপল) ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া। ৬. স্তন বোঁটা ও বোঁটার চারপাশে ফুসকুড়ি কিংবা র‌্যাশের মতো দেখা দেওয়া। ৭. বোঁটা থেকে সাদা কিংবা হলদেটে তরল বের হওয়া। জেনে রাখা ভালো যে, স্তন্যের ৯০ শতাংশ টিউমারই নিরীহ। সব টিউমারই ক্যান্সার নয়। তবে নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা জরুরি। প্রতি মাসে পিরিয়ডের প্রথম অথবা দ্বিতীয় দিন নিজেই হাত দিয়ে স্তন পরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই এটা চিহ্নিত করা সম্ভব। আরো পড়ুন : স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি: ডা. মো. হাবিবুল্লাহ এবার আসা যাক নো ব্রা ডে প্রসঙ্গে। “নো ব্রা ডে” পালন করা শুরু হয় ২০১১ সালের ৯ জুলাই। প্রথম তিন বছর জুলাইয়ে নো ব্রা ডে পালন করা হলেও, পরবর্তীতে অক্টোবরের ১৩ তারিখ থেকে পালন করা হয়ে আসছে এই বিশেষ দিনটি। কারণ অক্টোবর হলো “ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস মান্থ”। স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতেই মূলত এই নো ব্রা দিবস পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবং অনেকই মনে করেন ব্রা ব্যবহারের ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি একটু বেশিই বৃদ্ধি পায়, ব্রা ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে আসবে। কিন্তু তেমন কোন প্রমাণ কোন গবেষণাতেই পাওয়া যায়নি। এটা একটা ভুল ধারণা। আরো পড়ুন : মেনোপোজ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করা যায় যেভাবে: ডা. কাজী ফয়েজা এখন কৌতূহলী হয়ে অনেকেই জানতে চাইবেন- ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে নো ব্রা ডে কেনো? বিশেষত এই দিনটিতে সব নারীদের স্তন পরীক্ষা করানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। যার প্রতীকী রূপে দিনটিকে বলা হয়ে থাকে নো ব্রা ডে। জড়তা ও লজ্জা ভেঙে প্রতিটি নারীকেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। একজন সচেতন নারী যদি আরও দশজনকে সচেতন করতে পারেন, তবেই বাড়বে সচেতনতা। কমবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুর হার। “আমি সুন্দর” ভেবে আনন্দিত হবার চাইতে নারী যখন বলবে “আমি বাঁচতে চাই” তখনই নারী একজন নারী নয় শুধু, মানুষ হয়ে উঠবে। লেখক: সহকারী অধ্যাপক কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ / এআর /

জরায়ু ক্যান্সার বুঝার উপায় ও এর সঠিক চিকিৎসা কী?

আমাদের দেশে প্রতিবছর ৯ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে।বিশেষ করে গ্রামের নারীরা জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা দেওয়া তো দূরের কথা অন্যের কাছে এবিষয় শেয়ারও করে না। অনেক নারী চিকিৎসা না নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। গ্রামের দারিদ্র ও অপরিচ্ছন্নরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। জরায়ু ক্যান্সারের বিভিন্ন দিক দিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: জরায়ু ক্যান্সার কি? ডা. মো. হাবিবুল্লাহ : সাধারণত জরায়ুর নিচের সরু অংশ যা জরায়ুর মুখ বা সারভিক্স বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। যোনিপথের ওপরের অংশ থেকে শুরু করে জরায়ুর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই অংশটি বিস্তৃত। জরায়ু-মুখের ক্যান্সার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নারীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের শতকরা ৩০ ভাগই হচ্ছেন জরায়ু মুখের ক্যান্সারের শিকার। একুশে টিভি অনলাইন: কি কি কারণে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে? ডা. মো. হাবিবুল্লাহ : বিভিন্ন কারণে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভাইরাসের কারণ। ভাইরাসের নাম হলো এইচ ডব্লিউ পি। এই ভাইরাস আক্রান্ত হলেও সব কিন্তু ক্যান্সার না। অনেক ক্ষেত্রে এই ভাইরাস চিকিৎসা ছাড়া ভাল হয়ে যায়। তবে এমন ভাইরাস দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য কারণেও জারায়ু ক্যান্সার হতে পারে। যেমন: # ২টি বয়সে বেশি দেখা যায়৷ ৩৫ বছরে এবং ৫০-৫৫ বছরে৷ # অল্প বয়সে বিয়ে হলে (১৮ বছরের নিচে) বা যৌন মিলন করে থাকলে। # ২০ বছরের নিচে গর্ভধারণ ও মা হওয়া। # অধিক ও ঘনঘন সন্তান প্রসব। # বহুগামিতা। # স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং জননাঙ্গের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা। অপুষ্টি নিয়ে যদি কেউ জন্মগ্রহণ করে। বিভিন্ন রোগ জীবাণু দ্বারা জরায়ু বার বার আক্রান্ত হলেও জরায়ু ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেমন - হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। একুশে টিভি অনলাইন: জরায়ুতে ক্যান্সার আক্রান্ত হলে কি কি লক্ষ দেখা দিতে পারে? ডা. মো. হাবিবুল্লাহ: প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ নাও থাকতে পারে।  তবে নিচের লক্ষণগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়- অনিয়মিত ঋতুস্রাব হওয়া। ঋতু সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১ বছর পরেও রক্তস্রাব দেখা যাওয়া। যৌনসঙ্গমের পর রক্তস্রাব হওয়া। যোনিপথে বাদামি অথবা রক্তমিশ্রিত স্রাবের আধিক্য দেখা দেওয়া। অনেক সময় স্বামী স্ত্রী যৌনসঙ্গমের কারণে ব্যাথা হয়। অনেক সময় দেখা যা কারণ ছাড়া ব্যাথা দেখা দেয়। সাদা দুর্গন্ধযুক্ত যোনিস্রাব হওয়া। একদিন বা একমাসে হঠাৎ করে জরায়ু-মুখে ক্যান্সার হয় না। জরায়ু মুখ আবরণীর কোষগুলোতে বিভিন্ন কারণে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে ক্যান্সারের রূপ নেয় এবং এই পরিবর্তন হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। আমাদের দেশে জরায়ু-মুখ নিয়মিত পরীক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠেনি। এর ফলে জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ রোগীরা আসেন শেষ পর্যায়ে এবং ইতিমধ্যে ক্যান্সার ছড়িয়ে যায় এবং অপারেশন করা আর সম্ভব হয় না। একুশে টিভি অনলাইন: এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে করণীয় কি? ডা. মো. হাবিবুল্লাহ: রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধ অর্থাৎ রোগটা হতে না দেওয়া হলো বুদ্ধিমানের কাজ। যদিও সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব হয় না, তবে জরায়ু-মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই জরায়ু-মুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন। ক্যান্সারপূর্ব অবস্থাধরা পড়লে সামান্য চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে জরায়ু ফেলে দেবার প্রয়োজন হয় না এবং চিকিৎসার পরও সন্তান ধারণ সম্ভব। ভিজুয়াল ইন্সপেকশন অফ ছারভিক্স উইথ এছিটিক এসিড (VIA) এই পদ্ধতির জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব –ক্যান্সার হওয়ার আগে খালি চোখে জরায়ু মুখে কোনরকম ক্ষত বা চাকা দেখা যাবে না৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে পদ্ধতিতে জরায়ু মুখের ক্যান্সারপূর্ব অবস্থা শনাক্ত করা হয় তাকে ভায়া বলে৷ একুশে টিভি অনলাইন: এ রোগের চিকিৎসা কি? ডা. মো. হাবিবুল্লাহ: দ্রুত রোগ ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া যেতে পারে৷ কিন্তু দেরি হয়ে গেলে রোগ ছড়িয়ে পরবে৷ কেমোথেরাপি এবং রেডিও থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়। যদি কেউ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে আসে তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা নিলে শতাভাগ মুক্তি লাভ করা সম্ভব। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ডা. মো. হাবিবুল্লাহ: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ।

স্তনে ব্যথা হয় ৪ কারণে: ডা. আফরিন সুলতানা (ভিডিও)

স্তন ক্যানসার বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত রোগ। স্তন ক্যাসার ছাড়াও স্তনে নানা ধরণের ব্যথা নিয়ে রোগীরা আমাদের কাছে আসেন। নানা কারণেই এই ব্যথা হতে পারে। এক . রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী অনেকক্ষেত্রে ব্যথাটা মাসিকের অাগে অাগে হয়ে থাকে। মাসিক বন্ধ হলে ব্যথাটা চলে যায়। এক্ষেত্রে বলা যায়, ব্যথাটা প্রাকৃতিক নিয়মেরই একটা অংশ। প্রত্যেক মাসে যে পিরিয়ডটা হচ্ছে, তার কারণে হরমোনের যে পরিবর্তনটা হচ্ছে সেজন্যই ব্যথাটা হয়ে থাকে। এই ব্যথা নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। এটা প্রাকৃতিক ব্যথা। সাধারণত এটি নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। আরো পড়ুন : স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা দুই: ব্যথা যদি তীব্র হয়, যদি ননসাইকেল ব্যথা হয় অর্থাৎ যেটা মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি দীর্ঘসময় ব্যথা থাকে সেক্ষেত্রে অামি বলব অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যথাটা নানা কারণে হতে পারে। তিন. এমনও হতে পারে ব্যথাটা ব্রেস্ট থেকে হচ্ছে। এমন ক্ষেত্রে ব্যথাটা ৫% ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণে হতে পারে। যদিও ব্রেস্ট ক্যান্সার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যথা বিহীন, কিন্তু ৫% ক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে। এজন্য দীর্ঘ সময় ব্যথা হলে অামরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিই। আরো পড়ুন : স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি: ডা. মো. হাবিবুল্লাহ চার. এগুলো ছাড়া অন্য কারণেও ব্যথা হতে পারে। অামাদের বুকের যে পাঁজরটা অাছে সেখানেও ব্যথা হতে পারে। সেই ব্যথাটাও ব্রেস্টে ছড়াতে পারে। কারণটা যাই হোক, ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য একজন ডাক্তারের কাছে এসে রোগটা নির্ণয় করা উচিত। আরো পড়ুন : স্তনের নিপলে যেসব রোগ হয়ে থাকে: ডা. আফরিন সুলতানা (ভিডিও) যদি স্বাভাবিক ব্যথা হয়, তাহলে অামরা রোগীদের অাশ্বস্ত করি। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন ব্যথায় রোগী ভয় পেয়ে যায়। এরপরও যদি সুফল না অাসে তাহলে রোগীকে কিছু পরামর্শ দিই। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে বলি। তারপরও উপকার না মিললে ওষুধ দিই। লেখক: ডা. অাফরিন সুলতানা এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমঅারসিএস কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অনুলিখক : আলী আদনান। অা অা// এআর ভিডিও

স্তনে ব্যথা হলে কী করবেন: ডা. অাফরিন সুলতানা (ভিডিও)

স্তনের সমস্যা নিয়ে যেসব রোগীরা অামাদের (ডাক্তার) কাছে অাসেন তাদের মধ্যে প্রধান সমস্যাটি হলো স্তনের ব্যথা। এই ব্যথার সিনড্রোম নিয়ে সব বয়সের নারীরাই অামাদের কাছে অাসেন। কিশোরী যাদের মাত্র পিরিয়ড শুরু হয়েছে তারা যেমন অাসেন, তেমনি বয়স্করাও অাসেন। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী অনেকক্ষেত্রে ব্যথাটা মাসিকের অাগে অাগে হয়ে থাকে। মাসিক বন্ধ হলে ব্যথাটা চলে যায়। এক্ষেত্রে বলা যায়, ব্যথাটা প্রাকৃতিক নিয়মেরই একটা অংশ। প্রত্যেক মাসে যে পিরিয়ডটা হচ্ছে, তার কারণে হরমোনের যে পরিবর্তনটা হচ্ছে সেজন্যই ব্যথাটা হয়ে থাকে। এই ব্যথা নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। এটা প্রাকৃতিক ব্যথা। সাধারণত এটি নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। আরো পড়ুন : স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা কিন্তু যদি ব্যথাটা তীব্র হয়, যদি ননসাইকেল ব্যথা হয় অর্থাৎ যেটা মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি দীর্ঘসময় ব্যথা থাকে সেক্ষেত্রে অামি বলব অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যথাটা নানা কারণে হতে পারে। একটা হতে পারে ব্যথাটা ব্রেস্ট থেকে হচ্ছে। এমন ক্ষেত্রে ব্যথাটা ৫% ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণে হতে পারে। যদিও ব্রেস্ট ক্যান্সার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যথা বিহীন, কিন্তু ৫% ক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে। এজন্য দীর্ঘ সময় ব্যথা হলে অামরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিই। আরো পড়ুন : স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি: ডা. মো. হাবিবুল্লাহ এগুলো ছাড়া অন্য কারণেও ব্যথা হতে পারে। অামাদের বুকের যে পাঁজরটা অাছে সেখানেও ব্যথা হতে পারে। সেই ব্যথাটাও ব্রেস্টে ছড়াতে পারে। কারণটা যাই হোক, ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য একজন ডাক্তারের কাছে এসে রোগটা নির্ণয় করা উচিত। আরো পড়ুন : স্তনের নিপলে যেসব রোগ হয়ে থাকে: ডা. আফরিন সুলতানা (ভিডিও) যদি স্বাভাবিক ব্যথা হয়, তাহলে অামরা রোগীদের অাশ্বস্ত করি। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন ব্যথায় রোগী ভয় পেয়ে যায়। এরপরও যদি সুফল না অাসে তাহলে রোগীকে কিছু পরামর্শ দিই। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে বলি। তারপরও উপকার না মিললে ওষুধ দিই। লেখক: ডা. অাফরিন সুলতানা এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমঅারসিএস কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অনুলিখক : আলী আদনান। অা অা// এআর আরো পড়ুন : মেনোপোজ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করা যায় যেভাবে: ডা. কাজী ফয়েজা সাদা স্রাব গেলে কী করবেন : ডা. কাজী ফয়েজা ভিডিও

যেসব সমস্যা দেখা দিলে মেয়েদের ডাক্তার দেখানো জরুরি 

আমাদের দেশের মেয়েরা শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে নিজেরাই বেশি অবহেলা করে থাকে। নানান আজুহাতে তারা নিজেদের রোগগুলো গোপন করে রাখে। ছোটখাটো অসুখ হলে তা এমনিতেই সেরে যায় বটে, তবে আপাতদৃষ্টিতে ক্ষুদ্র কোনো সমস্যার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো অসুখ। তাই এমনকিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখা মাত্রই সংকোচ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি- মেয়েদের সেসব সমস্যা গুলো নিম্নে আলোচনা করা হল-  * মাসিক ঋতুচক্রে অতিরিক্ত রক্তপাত হলে। * ঋতুচক্রে অত্যন্ত কম রক্তপাত হলে। * তলপেটে ভারীভাব অনুভূত হলে। * প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি বা জ্বালাভাব দেখা দিলে। * ছয়মাস বা তারও বেশি সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও গর্ভধারণ না হলে। * ডিসমেনোরিয়া হচ্ছে (পিরিয়ডের সময় অস্বস্তি/ পেটব্যথা) এবং যত দিন যাচ্ছে সেটা ক্রমশ বাড়ছে। * মলত্যাগের সময় যন্ত্রণা করলে। * যৌনাঙ্গ থেকে কোনো ক্ষরণ হচ্ছে এবং তার একটা তীব্র গন্ধ আছে। * স্তনে কোনো লাম্প হলে । * তলপেটে ফোলাভাব দেখা দিলে । চিকিৎসকদের মতে, নারীরা সাধারণত অনিয়মিত ঋতুচক্র বা ঋতুকালীন সমস্যায় বেশি ভোগেন। এছাড়া সাদা স্রাব, বন্ধ্যাত্ব বা তলপেটে ভারীভাবের সমস্যাগুলোও থাকে। শরীর স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে চলে গেলে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে নিন, কারণ ঋতুচক্র সংক্রান্ত কিছু সমস্যা কিন্তু কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বা জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলে বা ওজন কমালেই সামলানো যেতে পারে।  মেয়েদের এসব সমস্যাগুলো বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয়ে থাকে। স্বভাবতই মেয়েরা অনেক সময় এসব সমস্যা লুকিয়ে রাখে যা তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রকট আকার ধারণ করে থাকে। এই সব সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে মূলত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।   কেআই/এসি    

স্তনের নিপলে যেসব রোগ হয়ে থাকে:  ডা. আফরিন সুলতানা (ভিডিও)

বর্তমান সময়ে স্তনের রোগ বাড়ছে। স্তন ক্যানসারসহ নানা অসুখ দেখা দিচ্ছে। সতর্ক হলে এই রোগ থেকে বাঁচা যায়। সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করা যায়। স্তনের অসুখগুলো খুব কমন একটা অসুখ নিয়ে রোগীরা আমাদের কাছে আসেন। তা হলো নিপলের (বোটা) ভেতর দিয়ে পানি নি:সরন হওয়া। সেই রসটা হতে পারে পানির মতো, অনেক ক্ষেত্রে সেটা পুঁজের মতো হতে পারে, সেটা রক্তও হতে পারে। আবার কখনো কখনো সেটা দুধ হতে পারে। স্তনে বোটা থেকে যেকোনো ধরনের নি:সরণের ক্ষেত্রে প্রথমেই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াটা ভালো। তবে আমি ধারণা দিতে চাই কী কী কারণে নিপলে এই নি:সরণ হতে পারে। যেমন মিল্ক ডিসচার্য হতে পারে। তথা যারা বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছেন বা যাদের বেবী হতে পারে তাদের ক্ষেত্রে দুধ নি:সরণ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এগুলো ছাড়াও অনেকের মিল্ক ডিসচার্য হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আরো পড়ুন : স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা কেননা, অনেক সময় মাথার টিউমারের জন্য এমন ডিসচার্য হয়। হরমোনের লেভেল পরিবর্তন হওয়ার জন্যও এসব ডিসটার্য হয়। যদি পুঁজ ডিসচার্য হয়, তাহলে বুঝতে হবে কোন এক জায়গায় ইনফেকশন আছে। তাই কী কারণে পুঁজটা বের হচ্ছে তা আমরা দেখি। সমস্যাটা শনাক্ত করে এন্টিবায়োটিক দিলে রোগীরা সাধারণত ভাল হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ডিসটার্য সেটা হলো পানি ডিসচার্য হওয়া বা রক্ত ডিসচার্য হওয়া। এখানে একটা বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। সেটা হলো এই যে নি:সরনটা কী নিজে নিজে হচ্ছে? নাকি চাপ দিলে বের হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো কয়টা ছিদ্র দিয়ে এটা বের হচ্ছে। যদি একটা ছিদ্র দিয়ে বের হয়, নিজে নিজে বের হয়ে আসে, সেটা যদি পানির মতো হয় অথবা রক্তের মতো হয়- তাহলে অবশ্যই আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে একজন সার্জারী চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। কারণ, এসব ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লেখক: ডা. আফরিন সুলতানা এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমঅারসিএস কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল ও ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অা অা/  এআর আরো পড়ুন মেনোপোজ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করা যায় যেভাবে: ডা. কাজী ফয়েজা ভিডিও

স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা

স্তন ক্যানসার বর্তমান সময়ের একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। গত কয়েক বছরে এর বিস্তার হয়েছে। আমাদের আশপাশের অনেকেই এই রোগে ভোগছেন। এই রোগে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। স্তন ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না সেটি ঘরে বসেই পরীক্ষা করা সম্ভব। ঘরোয়া পদ্ধতিটি জানা থাকলে পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। আসুন, স্তনে ক্যানসার কোষের বিস্তার হয়েছে কি-না তা নিজে নিজে বুঝার উপায়গুলো জেনে নিই- *যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তাদেরকে আমরা (ডাক্তার) বলি মাসিক শেষ হওয়ার পর স্তন পরীক্ষা করার জন্য; *গোসল করার সময় স্তন পরীক্ষা করলে ভালো। কারণ, তখন কোষগুলো খুব নরম থাকে; *স্তন দু’টোকে হাতের দুপাশে রেখে ও উপরে তুলে দেখতে হবে স্তনে কোনো পরিবর্তন আছে কি-না? পরিবর্তনগুলো হলো: স্তনের আকারে কোনো পরিবর্তন আছে কি-না, নিপল ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে কি-না, চামড়ায় কোনো টোল পড়ছে কি-না, বগলে বা গলার কাছে কোন চাকা দেখা যায় কি-না? আরো পড়ুন : স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি: ডা. মো. হাবিবুল্লাহ *ডানপাশের স্তন পরীক্ষা করার জন্য বাঁ হাতের তিন আঙ্গুল ও বাঁ-পাশের স্তন পরীক্ষা করার জন্য ডান হাতের তিন আঙ্গুল দিয়ে স্তনের উপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে হবে স্তনে কোনো ধরনের পরিবর্তন আছে কি-না? একই পরীক্ষা শুয়ে শুয়েও করা যায়। সেক্ষেত্রে পিঠের নিচে বালিশ দিলে ভালো। *আর যাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে বা যাদের মাসিক অনিয়মিত, তাদের আমরা বলি মাসে অন্তত একটা দিন নির্ধারণ করে নেওয়ার জন্য এবং সেই নির্ধারিত দিনে একইভাবে পরীক্ষাটা করতে হবে। আমার কথা বুঝতে হয়তো কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু নিজে অনুশীলন করে দেখুন বিষয়টা খুবই সহজ। আরো পড়ুন : পুরুষের যে সমস্যায় সন্তান হয় না: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (ভিডিও) প্রথম প্রথম আপনি হয়তো বিষয়টা বুঝবেন না। কিন্তু প্রতি মাসে একবার করে পরীক্ষা করলে যদি কোনো পরিবর্তন থাকে তাহলে নিজেই নিজের স্তনের পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন। আরও পড়ুন : জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ লেখক: ডা. আফরিন সুলতানা (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমআরসিএস)। কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল। ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অনুলিখক : আলী আদনান আ আ / এআর ভিডিও

পানি বেশি খেলে কী কিডনী ভালো থাকে: ডা. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী

অনেকের ধারণা, পানি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে। প্রকৃতপক্ষে, দিনে পানি অথবা তরল খাবার দুই-তিন লিটার খেলেই যথেষ্ট। পানি বেশি খেলে পায়ে পানি চলে আসতে পারে। আবার কিডনি রোগ থাকলে অতিরিক্ত পানি পান শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। কেউ বেশি তাপমাত্রায় বসবাস করলে দুই-তিন লিটারের বেশি পানি পান করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার ঘণ্টা পরপর প্রস্রাব হওয়া উচিত। আবার প্রস্রাবের চাপ আটকে রাখা উচিত নয়। এতে মূত্রনালিতে প্রদাহ বা ইনফেকশন হতে পারে। স্বাস্থ্যসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরো পড়ুন : জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে ছয় মাস পরপর প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। অনেক সময় একজন সুস্থ–সবল মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করে। অনেকে জীবনে চিকিৎসকের কাছে জাননি বলে গর্ব করেন। এতে গর্বের কিছু নেই। যেকোনো সময় মানবদেহে সমস্যা হতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কিডনি রোগ ও ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত কর্মসূচি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি জেলায় নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগ চালু ও ২০ থেকে ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে প্রান্তিক মানুষের সেবা গ্রহণে অনেক সুবিধা হবে। আরো পড়ুন :  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম সঠিক চিকিৎসা প্রদান করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করলে দেশেরই আর্থিক ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে হার্ট ও ক্যানসার চিকিৎসায় বেশ উন্নতি হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ২০০ নেফ্রোলজিস্ট সেবা প্রদানে বাংলাদেশে আসবেন। আশা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে আরও ৩০০ থেকে ৪০০ চিকিৎসক তৈরি হবেন এবং আরও উন্নতি হবে। পরামর্শদাতা :  ডা. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী  বিভাগীয় প্রধান কিডনি বিভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ। কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ  আরও পড়ুন :  প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কী কিডনী রোগের লক্ষণ : ডা. এম এ সামাদ

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কী কিডনী রোগের লক্ষণ : ডা. এম এ সামাদ

প্রচণ্ড বমিভাব, ক্ষুধামান্দ্য, চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, শরীর চুলকানো, প্রস্রাব কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি উপসর্গ কিডনি বিকলের প্রাথমিক লক্ষণ। কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘কিডনি রোগ ব্যাপক ও মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য’। কিডনি রোগ অনেকটা সমুদ্রে ভাসমান বরফখণ্ডের মতো। এর সামান্য অংশ পানির উপরিভাগে দৃশ্যমান থাকে। আর বেশির ভাগই পানির নিচে অদৃশ্য থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের, দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। দেশে ঘণ্টায় পাঁচজনের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে কিডনি বিকল হয়ে। শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিডনি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানির ভারসাম্য রক্ষা, লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য হরমোন উৎপাদন, অস্থিমজ্জাকে শক্ত রাখা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিডনি করে থাকে। আরো পড়ুন : জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ কিডনি বিকল হওয়ার উপসর্গ সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আগে বোঝা যায় না। কিছু লক্ষণ কিডনি রোগের সংকেত বহন করে। যেমন প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব লাল হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, কোমরের দুই পাশে ও তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, শরীর-মুখ ফোলা ইত্যাদি। তিন মাসের চিকিৎসায় কিডনি রোগ ভালো না হলে এটিকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হিসেবে ধরা হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিস (কিডনির বিভিন্ন সমস্যা)—এই তিন রোগের কারণে ৮০ ভাগ লোকের কিডনি নষ্ট হয়। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। আরো পড়ুন :  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম বিশ্ব কিডনি দিবসে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলপর্যায় থেকে শিশুদের কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করা গেলে কিডনি রোগ ছাড়াও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ওজন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খাবার পরিমিত ও সুষম হতে হবে। দিনে পরিমিত  পানি পান করতে হবে। ধূমপান ও মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেদনানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে প্রস্রাব ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করাতে হবে। পরামর্শদাতা: এম এ সামাদ  বিভাগীয় প্রধান কিডনি বিভাগ বিআরবি হসপিটালস লিমিটেড (কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ)  

আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কী: ডা. হোসাইন ইমাম (ভিডিও)

আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা হচ্ছে ক্ষতস্থানে নরমাল পানি ঢালা। যতক্ষণ পর্যন্ত হাতের কাছে প্রয়োজনীয় মলম বা ড্রেসিংয়ের ব্যবস্থা না করা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্য বিষয়ক একুশে টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারিত ‘দ্যা ডক্টরস’ অনুষ্ঠানে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা নিয়ে এ কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হোসাইন ইমাম। আগুনে পোড়ার বর্তমান ও পরবর্তী চিকিৎসা বিষয়ক এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। পাঠকের উদ্দেশ্যে ডা হোসাইন ইমামের কথাগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো- ডা হোসাইন ইমাম বলেন, মানুষ বিভিন্নভাবে অগ্নিদগ্ধ হতে পারে। তার মধ্যে বেশিরভাগ গৃহস্থলীর কারণে। যেমন রান্না করতে গেছে। শরীরের কোথাও গরম পানি পড়ে গেল। এটাও এক ধরণের বার্ন। তবে সম্প্রতি আমরা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বেশি দেখছি। গ্রামে দেখা যায় অনেকে ছাইয়ে পুড়ে যায়। এছাড়া শিল্পকারখানায় অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। ক্যামিক্যাল বার্ন হয়। তবে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো বৈদ্যুতিক বার্ন। আরো পড়ুন : প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম কারো যদি বৈদ্যুতিক ওভেনে হাত বা শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। তবে তার প্রথম কাজ হবে হাত নাড়াচাড়া কম করা। এরপর আমরা সিলভার সালভাডাইজিং ক্রিম দিতে পারি। আমরা ড্রেসিং দিতে পারি। যদি পোড়াটা কোনো গিরা বা জয়েন্টে হয় তবে আমরা সাপোর্ট হিসেবে কিছু ব্যবহার করে শরীরের সেই অংশটা ইমমোবিলাইজেশনের ব্যবস্থা করি। আরো পড়ুন : জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ গরম পানিতে যদি কারো বার্ন হয়। তবে এটা খুব বেশি গভীরে যায় না। এক্ষেত্রে হাতের কাছে থাকা সিলভার সালফাডাইজিং মলম দিতে হবে।হাইড্রো কোয়ালিট ড্রেসিং দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে মলম বা ড্রেসিং কাছাকাছি না পাওয়া পর্যন্ত পানি দেওয়া সর্বোত্তম। এক্ষেত্রে ঠান্ডা বা গরম নয়, নরমাল পানি হলেই হবে। আরো পড়ুন : মেনোপোজ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করা যায় যেভাবে: ডা. কাজী ফয়েজা আগুনে পোড়া সেরে ওঠার পরে এক ধরণের দাগ তৈরি হয়। এ ধরণের দাগে আমরা সিলিকন জেল ব্যবহার করতে পারি। দিনে দুই বার ব্যবহার করা যেতে পারে। তিন থেকে ছয় মাস এটা ব্যবহার করতে হতে পারে। দাগ পুরোপুরি না গেলেও অনেকটা ফেড হয়ে যাবে। ভিডিও   আরকে//  

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি