ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৩:৪৮:২৩

ডিম কেন খাবেন, কয়টা খাবেন, কীভাবে খাবেন

ডিম কেন খাবেন, কয়টা খাবেন, কীভাবে খাবেন

ডিম খেতে কার না ভাল লাগে। পুষ্টিকর এই খাবারের গুণাগুণের কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি। `ডিম` ও `দুধ` এ দুটো খাবারকে আমরা সুপারফুড বলি। কারণ, আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অনেকখানি আমরা এই দুটি খাবার থেকে পাই।    আমরা আজকে ডিমের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি ডিম কোন সময় খেতে হবে, কোন বয়সী মানুষের কয়টা ডিম খাওয়া উচিত, ডিম কী সেদ্ধ করে খাওয়া ভাল নাকি ভাজি করে খেতে হবে, কুসুম খাব কী খাবনা- এসব নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করব।    আপনি যখন বাচ্চাদের ডিম খেতে দিবেন তা সেদ্ধ করে দিতে পারেন। চাইলে পোচ, অয়েল পোচ বা পানি পোচ করেও দিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখব ক্যালরিটা যাতে ঠিক থাকে। বাচ্চারা যেহেতু দৌড়ঝাঁপ বেশী করে তাই তার ক্যালরি বেশি লাগে। একটা ডিম সেদ্ধ করে খেলে সেখান থেকে যে ক্যালরি পাওয়া যায় অয়েল পোচ করে খেলে তার ক্যালরিটা অনেক বেড়ে যায়। সেটা বাচ্চাদের জন্য অনেক উপযোগী।     কিন্তু যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ডিম অয়েল পোচ না খেয়ে সেদ্ধ খাওয়া উচিত। যাদের কোলস্টেরলের সমস্যা তারা অনেক সময় কুসুমটা ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশ খেয়ে থাকেন। তাদের জন্য সুখবর হলো দেশে এখন ওমেগা- ৩ সমৃদ্ধ ডিম পাওয়া যাচ্ছে যা খেলে আপনার কখনো হৃদরোগের সমস্যা হবে না বরং হার্ট থাকবে ভাল। ওমেগা -৩ হলো এক ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, সম্পৃক্ত চর্বি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তেল-চর্বিযুক্ত খাবার একটা বয়সের পর সে কারণে খেতে মানা। কিন্তু অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেতে বাধা নেই,বরং এটি রক্তে উপকারি চর্বির পরিমাণ বাড়ায় এবং দেহের নানা উপকার করে। প্রকৃতিতে কয়েক ধরনের ওমেগা-৩ চর্বি আছে।       গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়া খুব জরুরি। কারণ, অনেকে মাছের গন্ধটা নিতে পারছেন না কিন্তু তার প্রোটিনটা নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে ডিম খাওয়া উচিত। আবার যদি এমন হয় বারবার মাছ বা মাংস খেতে ভাল লাগছে না সেক্ষেত্রেও ডিম খেতে পারেন যা আপনার প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে। যারা লিভার, হার্ট বা ডায়াবেটিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- যখন আপনি ডিম খাবেন তখন আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এ্যালবুমিনের পরিমাণটা কত আছে। এ্যালবুমিনের পরিমাণ যদি কম থাকে তাহলে দৈনিক চারটা ডিম খেতে পারেন। তবে তার আগে অবশ্যই কনসালটেন্টের পরামর্শ নিতে হবে। এখানে বলে রাখা আবশ্যক, অন্য সব খাদ্য উপাদান বিকল্প উৎস থেকে পাওয়া গেলেও এ্যালবুমিন অন্য কোন খাদ্য উৎস থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এ্যালবুমিন শুধু মাত্র ডিমে পাওয়া যায়।   তাই প্রত্যেকের সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনের জন্য প্রত্যেকদিন একটা করে ডিম খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।     লেখক: নিউট্রিশিয়ানিস্ট ও ডায়াটেশিয়ান, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা।     আআ/এসি        
টেস্টিং সল্ট নাকি বিষ

টেস্টিং সল্ট বা স্বাদ লবণ এবং এর রাসায়নিক নাম হচ্ছে মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট। এই টেস্টিং সল্ট খাবারে ব্যাবহার করা হয় শুধু মাত্র খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য। অন্য কোন পুষ্টি গুণাগুণ এই লবণের নেই। এবং এটা খাবারে ব্যাবহারের ফলে খাবারে কোন পুষ্টিগুণ বৃদ্ধিও পায় না।   আমাদের দেশে বিভিন্ন খাবারের টেস্টিং সল্ট ব্যাবহার করা হয় যেমন ফাস্টফুড, চাইনিজ খাবার, চিপস, ফ্রাইড রাইস, স্যুপ, ফ্রাইড চিকেন, নুডলস সহ আরো অনেক খাবারে।  টেস্টিং সল্ট সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যেমন- মাথা ব্যাথা,বমি বমি ভাব, ঝিমুনি ভাব, শরীরে লাল লাল রেশ উঠা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, এলার্জি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষন দেখা দেয়। এছাড়া টেস্টিসল্টের গ্লুটামেট অর্থাৎ গ্লুটামিক এসিড আমাদের দেহের জন্য একটি অপ্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড, যা দেহে নিজে থকেই তৈরি হয়। ফলে আমরা যখন অধিক পরিমাণে টেস্টিং সল্ট দেয়া খাবার গুলো গ্রহণ করি তখন দেহে এই গ্লুটামিক এসিড রক্তে বেড়ে যায় এবং তা রক্তের মাধ্যমে ব্রেইনে প্রবেশ করে ব্রেইনের স্নায়ু তন্ত্র গুলো কে উত্তেজিত করে এর ফলে যারা অধিক পরিমানে টেস্টিং সল্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে তাদের মধ্যে দেখা যায় অস্থিররতা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, কিছু বল্লেই রেগে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ।  আমাদের দেশে বেশির ভাগ শিশুরা প্রতিদিন চিপস খেয়ে থাকে এমনকি অনেক শিশু দিনে ৩/৪ টা চিপসও খেয়ে থাকে। একটু লক্ষ্য করলেই আমরা তাদের মধ্যে এই লক্ষণ গুলো দেখতে পাব। এছাড়া সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে যদি কোন গর্ভবতী মা অতিরিক্ত পরিমানে টেস্টিং সল্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে থাকেন তাহলে তার গর্ভের সন্তান মানসিক প্রতিবন্ধী অর্থাৎ মানসিক সমস্যা নিয়ে জন্ম লাভ করবে। কারণ টেস্টিং সল্ট এর গ্লুটামেট ব্রেইনের নিউরনে বিভিন্ন ভাবে আঘাত করে এর স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দেয়।  টেস্টিং সল্ট আমাদের জিহ্বার স্বাদ গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে ফলে যারা টেস্টিং সল্ট সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থাকেন তাদের অন্য কোন খাবার ভাল লাগেনা এবং তারা টেস্টিং সল্ট দেয়া খাবার ফাস্টফুড, চাইনিজ ফুড, চিপস, চিকেন ফ্রাই এসমস্ত উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমানে খেতে অভস্থ হয়ে পরে ফলে তাদের মধ্যে দেখা দেয় স্থুলতা বা অতিরিক্ত শারীরিক ওজন।  অনেকে টেস্টিং সল্টের ভয়াবহতা না জেনে বাসায় তৈরি করা খাবারেও টেস্টিং সল্ট ব্যাবহার করে থাকেন। এত স্বাস্হ্য সমস্যা সৃষ্টিকারি টেস্টিং সল্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া থেকে শিশু ও গর্ভবতী মা সহ আমাদের সবাই কে বিরত থাকা উচিত।   লেখক: মাহ্ফুজা নাসরীন (শম্পা) ফুড এন্ড নিউট্রিশন আল-রাজী ইসলামিয়া হাসপাতাল।   টিআর/  

অবাধ্য সন্তানদের সু’পথে ফিরিয়ে আনার উপায়

বাবা মায়ের সবচেয়ে আপন তার সন্তান। সকল বাবা মা চায় তার সন্তান ভাল থাকুক। পড়াশুনা করুক। ক্যারিয়ারে ভাল করুক। ফলে সবাই সন্তানকে নিয়ে উদ্বিগ্নতার মধ্যে থাকেন। প্রত্যেক অভিভাবক নিজেদের মধ্যে গল্প করার সময় যে বিষয়টা নিয়ে অভিযোগ করেন তা হলো তার সন্তান কথা শুনেনা।     তারা তার বাচ্চার অবাধ্যতার কথা বলতেই থাকেন। তারা যখন আমাদের কাছে আসেন তখন অনেকগুলো অভিযোগ নিয়ে আসেন। আমার বাচ্চা কথা শুনেনা, ঠিকমতো চলে না, অবাধ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগটা বেশী করে তা হলো, ছেলে মেয়ে রাত করে ঘরে ফিরে। সারা রাত ফেসবুকিং করে, ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকে ইত্যাদি। আবার কোন কোন বাবা মা বলেন, তার ছেলে মেয়ের সংসারের প্রতি কোন মনোযোগ নেই, দায়িত্ববোধ নেই ইত্যাদি।  এবার আসুন বিষয়টার ভেতরের দিকে যাই। আমরা এ অভিযোগ কার সর্ম্পেক করছি। আমাদের সন্তান কিন্তু আমাদেরই প্রতিচ্ছবি। তাহলে সে কেন এমন হলো? সে কেন আমার কথা শুনছে না?কেন সে রাত জেগে টিভি দেখছে, ফেসবুকিং করছে। কেন সে কথা না শুনে লেটনাইটে বাইরে চলে যাচ্ছে। কেন সে স্কুলে না গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। কেন সে পরিবারকে সময় দিচ্ছেনা? আমরা কী কখনো কারণটা ভেবেছি। আমার বাচ্চা কী শুধু খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে বলেই এমন করছে? না, মনে রাখতে হবে, এর জন্য আমরা বাবা মায়েরা অনেকাংশে দায়ী। আমরা কী অস্বীকার করতে পারি, আমাদের পরিবারগুলো এখন অনেকটা ইউনিক পরিবার হয়ে গেছে। বাবা, মা, সন্তান ও বড় জোর একজন কাজের লোক। এই ছোট্ট পরিসরে সে কোন আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেনা। তাকে না হয় কোন আনন্দ দিতে পারলাম না। কিন্তু তার সঙ্গে তার মতো করে কী কোন আলাপ করি? কখনো তার সঙ্গে কোন বিষয় নিয়ে গল্প করেছি? আমরা সবসময় আশা করি, আমার সন্তান আমাকে বুঝবে। আমার কথা শুনবে। আমার কথামতো চলবে। কিন্ত আমরা কী আমাদের সন্তানকে বুঝি বা বুঝার চেষ্টা করি। আমরা কী কখনো তার পছন্দের কথা ভাবি? আমাদের ভাবার সময় এসেছে, আমাদের এই ইউনিক পরিবার আমাদের র্কমব্যস্ত জীবনে আমাদের সন্তানদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে অন্তরায় নয় কী? পাশাপাশি সে যখন পড়াশুনার পাশাপাশি বড় হয়ে উঠছে তখন তার সামাজিকীকরণটাই বা কতটুকু হচ্ছে?   এখানে প্রশ্ন এসে যায়, যৌথজীবন মানে কী সবটুকু খারাপ? আজকাল যৌথপরিবার খুঁজেই পাওয়া যায়না। এমনকী গ্রামাঞ্চলেও যৌথজীবন খুঁজে পাওয়া কঠিন। একবাড়ীতে হয়তো থাকছে। তবে সেখানেও আলাদা আলাদা। যে যার মতো। কেউ কারো সাথে মিশছে না। তার মানে কী? সবার জীবনটা, চিন্তা ভাবনাটা, দেখার দৃষ্টিভঙ্গীটা খুব ছোট হয়ে গেছে। ফলে মানসিক বিকাশটা কমে যাচ্ছে। সাথে ভাল লাগার মাত্রাটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। তাই ভাল লাগার জন্য, আনন্দের জন্য আমরা বাইরের দিকে যাচ্ছি।  এখন প্রশ্ন হলো সন্তান কেন কথা শুনছে না? আমরা কী কখনো তার সঙ্গে নরম সুরে বলেছি,তুমি কী এটা করেছ? কেন করেছ? এখন যে এটার জন্য এ সমস্যাগুলো হচ্ছে এটা তোমার কেমন লাগছে? এভাবে কী কখনো তার সঙ্গে কথা বলেছি?  আমরা যখন বাবা মা হই তখন সাধারণত সন্তানের মতামতকে খুব একটা গুরুত্ব দিই না। আমাদের মধ্যে একটা দৃঢ় বিশ্বাস থাকে, সন্তান মানেই সে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সে অনেক বেশী সমস্যায় পড়বে বা আমরা অনেক সমস্যায় পড়ব। হতে পারে, কিছু কিছু সময় সন্তানরা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ভুলটাকে যদি আমরা মেনে নিয়ে তা সংশোধন করার জন্য তাকে সহযোগিতা করি তাহলে কিন্তু অনেক ঝামেলা কমে যায়।     সাধারণত দেখা যায়, বাবা মা কোন কিছু নিয়ে শাসন করলে তা যদি নেগেটিভও হয়, সন্তান যতোদিন ছোট থাকে- ততোদিন তা মেনে নেয়। সেটা সাত আট বছর বয়স পর্যন্ত। কিন্ত সে যখন একটু বড় হয় বা বয়:সন্ধিকালের দিকে যেতে থাকে তখন তারা মানসিক ভাবে যুক্তিসম্পন্ন হতে থাকে। তাদের চিন্তার পরিধি বাড়তে থাকে। যুক্তি দিয়ে অনেক কিছু বুঝতে শিখে থাকে। তখন তারা বাবা মায়ের সব শাসন কে ইতিবাচক ভাবে নিতে পারেনা। নেতিবাচককে নেতাবাচকই মনে হয় তখন। তখন থেকে শুরু হয় তাদের আরও বেশী বিরোধী আচরণ। এভাবেই শুরু হয় বাবা মায়ের বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রবণতা। আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের বুঝতে শিখি। আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে তাদের সমস্যার সমাধান করে তাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করি।      লেখক: তন্বিতা ঘোষ, সাইকোলজিস্ট ও থেরাপিউটিক কাউন্সিলর, বিআরবি হসপিটাল।        আআ/এসি         

যে কারণে ছেলেদের বীর্যের ক্ষতি হয়

একটা ছেলে দেখতে সুদর্শন হতে পারে। সেক্সুয়ালি সে এ্যাক্টিভও হতে পারে। তার মানে এই নয় যে সে বাবা হতে সক্ষম। সে বাবা হতে সক্ষম হবে কি হবে না তা নির্ভর করবে তার বীর্যের শুক্রানুর মান ও  পরিমাণের উপর। এজন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।      বীর্যের শুক্রানুর কোয়ালিটি ও পরিমাণ কখনো কখনো জেনেটিক ভাবে নির্ভর করে। আসলে সব রোগেরই কিছু জেনেটিক ব্যাপার থাকে। তবে সে যদি ধুমপান করে বা নিয়মিত মদ পান করে তাহলে তার সিমেনে বা বীর্যে প্রভাব পড়বে ও স্পার্মের কোয়ালিটি কমে যাবে।  আরও পড়ুন- বন্ধ্যাত্ব ও সন্তান ধারণে অক্ষমতা কী একই: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তারসে (ছেলে) যদি কোন গরম আবহাওয়াযুক্ত পরিবেশে কাজ করে বা গরম আববহাওয়ায় বেশী সময় দেয় তাহলেও তার স্পার্ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কেউ কেউ রোজ গরম পানিতে গোসল করেন, অনেকে খুব টাইট অন্তর্বাস পরেন, এগুলো স্পার্মের কোয়ালিটি নষ্ট করার জন্য কমন সমস্যা।       এছাড়া ছেলেদের যদি ডায়াবেটিস থাকে বা মানসিক চাপ থাকে, এক্ষেত্রে সে যদি কোন ওষুধ নেয়, যে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে স্পার্মের কোয়ালিটি নষ্ট হয় তাহলে ছেলেদের স্পার্ম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আরও পড়ুন-পিল খেলে কি ক্ষতি হয়: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার  [লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তর, এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল ও সহকারী অধ্যাপক, গাইনী, প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন।]        আআ/এসি       

সকালের নাস্তায় কার্বোহাইড্রেটের অভাবে অ্যালজাইমারে আক্রান্ত হবেন

সুপ্রিয় পাঠক, আমরা এর আগে সকালের নাস্তার গুরুত্ব নিয়ে আলাপ করেছি। সকালের নাস্তা শরীরের জন্য কেমন দরকার, নিয়মিত সকালের নাস্তা না খেলে কী কী ক্ষতির আশংকা থাকা সেসব নিয়ে কথা বলেছিলাম সে আলোচনায়। আজ আমরা আলাপ করবো সকালের নাস্তায় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা কেন দরকার।   আমরা যারা কর্মজীবী, আমাদের জন্য সকালটা খুব তাড়াহুড়ার সময়। এসময় আমরা কোনোভাবে একটা চা ও দুটি বিস্কিট বা শুধু একটা চা খেয়েই অফিসের দিকে দৌড়াই। অফিসে গিয়ে কাজের ভীড়ে সকালের নাস্তাটা করতেই ভুলে যাই। যেসব বাচ্চারা সকালে স্কুলে যায় তারাও অনেক সময় সকালের নাস্তা খেতে চায়না। খালীপেটে তারা স্কুলে চলে যাচ্ছে এবং চার পাঁচ ঘন্টা পর তাদের টিফিন টাইম শুরু হয়। অনেক বয়স্ক লোক আছেন যারা নানা ধরনের শারিরীক সমস্যার (বমি বমি ভাব) কারণে সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান। উঠতি বয়সের অনেক ছেলেমেয়ে আছে যারা সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেনা। দশটা এগারোটার সময় উঠে কিন্তু তখন অলরেডী ব্রেকফাস্টের সময় শেষ।  কিন্তু স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলছে দিনের প্রথম খাবার অর্থাৎ সকালের নাস্তায় কার্বোহাইড্রেট থাকা আবশ্যক। কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে গ্লুকোজ তৈরী হয় যা ব্রেনের একমাত্র খাবার। ব্রেন সচল ও কর্মক্ষম রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই কার্বোহাইড্রেট নিতে হবে যেখান থেকে ভেঙ্গে সুগার ও গ্লুকোজ আসছে। তাই কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া যাবেনা। যারা রুটি পছন্দ করেন তারা রুটি খেতে পারেন। পাস্তা বা নুডলস খেতে পারেন। চাইলে আপনি ওটস খেতে পারেন। লাল চিড়া খেতে পারেন। অর্থাৎ রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটা শর্করা আপনাকে নিতেই হবে যেখান থেকে ব্রেন তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিতে পারে। দিনের কখন কী খাবেন কতোটুকু খাবেন : ইসরাত জাহান না বললেই নয়, ব্রেন যখন সকালে গ্লুকোজ পায়না তখন সারাদিন ব্রেনে একটা প্রেসার পড়ে যায়। ফলে ব্রেন স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়। স্মৃতিশক্তির যে সেল তা আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে সকালের নাস্তা খাচ্ছেন না তাদের মধ্যে অ্যালজাইমার বা ভুলে যাওয়া রোগ তৈরী হয়। এই রোগ হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতা দিন দিন লোপ পায়। যার ফলে বিভিন্ন প্রকার মানসিক ও পরে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অ্যালজাইমার আক্রান্তদের মানসিক অবসাদ ও সব কিছু ভুলে যাওয়া, দুশ্চিন্তা, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, স্মৃতিশক্তি বিলুপ্ত হওয়া, খাওয়ার প্রতি অনীহা, স্বাভাবিক কাজকর্মে উদ্দ্যমহীনতা, পারিবারিক ও সামাজিক আচরণ পরিবর্তন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। যা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের থেকে কখনো কাম্য নয়। সুস্থ, সুন্দর, স্বাভাবিক কর্মক্ষম থাকার জন্য আপনার ব্রেনকে সতেজ রাখতে হবে। ব্রেন তখনই সতেজ থাকবে যদি রাতে একটা ভাল ঘুম দিয়ে সকালে একটা স্বাস্থ্যসম্মত নাস্তা নেন যেখানে কার্ডোহাইড্রেট থাকবে। সবাই স্বাস্থ্যের নিয়মকানুন মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন সেটাই প্রত্যাশা।   লেখক: ইসরাত জাহান, ডায়াটেশিয়ানিস্ট ও নিউট্রিশিয়ানিস্ট, বিআরবি হসপিটাল, ঢাকা। আআ/এসি  

গর্ভবতী নারীর প্রসব তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করবেন 

গর্ভবতী নারীর জন্য প্রসব তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই তারিখের উপর প্রসূতি ও পরিবারের যেমন অনেক প্রস্তুতি নির্ভর করে তেমনি একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ শিশুর আগমনও নির্ভর করে। তাই সকল গর্ভবতী নারী আমাদের (ডাক্তার) কাছে জানতে চান, ‘আমার প্রসব তারিখ কবে?’          সকল গর্ভবতী নারীদের প্রসব তারিখ নিয়ে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। মাসিক অনুযায়ী একটা তারিখ পড়ে। প্রথম আলট্রাসনোগ্রামে একটা তারিখ আসে। এরপর যতোবার আলট্রাসনোগ্রাম করে ততোবারই নতুন করে একটা তারিখ আসে। তখন মাকে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয় যে, আসলেই প্রসব তারিখ কোনটা? এক্ষেত্রে আমরা যেটা বলি, যদি তার শেষ পিরিয়ডের তারিখ ঠিক থাকে অর্থাৎ মা যদি সঠিক ভাবে বলতে পারেন, আমার অমুক মাসের অমুক তারিখে শেষ পিরিয়ড হয়েছিল এবং তার আগে নিয়মিত পিরিয়ড ছিল। পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল না। এমনক্ষেত্রে আমরা মাসিকের তারিখটাকে ধরি। এই তারিখের সঙ্গে নয়মাস সাতদিন যোগ করে যে তারিখটা পাই, সেই তারিখটাকে তার প্রসব তারিখ হিসেবে ঠিক করি। যদি এমন হয় কোন মায়ের পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল, দেড়- দু`মাস পরপর পিরিয়ড হতো, কিংবা পিরিয়ড বন্ধ থাকতো, সেক্ষেত্রে সে তার শেষ পিরিয়ডের তারিখটা ভুলে গেছে বা বলতে পারছে না-এমন ক্ষেত্রে আমরা প্রসব তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করব? এক্ষেত্রে প্রসব তারিখ নির্ধারণের সহজ উপায় হচ্ছে প্রথম তিনমাসের মধ্যে একটা আলট্রাসনোগ্রাম করা। এই আলট্রাসনোগ্রামে যে তারিখটা আসে সেই তারিখটাকে আমরা তখন ঠিক ধরি। পরবর্তীতে গর্ভকালীন সময়ের পাঁচ বা ছ`মাসের সময় আলট্রাসনোগ্রাম করলে বা আট মাসের সময় আলট্রাসনোগ্রাম করে তখন আগের তারিখের সঙ্গে এক বা দু`সপ্তাহ এদিক সেদিক হয়। যদি দেখি প্রথম আলট্রাসনোগ্রামের তারিখের সাথে দ্বিতীয় বা তৃতীয় আলট্রাসনোগ্রামের তারিখের এক থেকে দু`সপ্তাহ এদিক সেদিক সেক্ষেত্রে আমরা প্রথম আলট্রাসনোগ্রামের তারিখটাকে সঠিক ধরে থাকি। একজন গর্ভবতী মা প্রথম যে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিবেন তিনি প্রথম থেকেই একটা প্রসব তারিখ নির্ধারণ করে রাখবেন। ডেলিভারীর কাছাকাছি এসে কবে ডেলিভারী হবে তা নিয়ে মাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ার মতো অবস্থা সাধারণত কখনো হয়না। এজন্য সবসময় বলি গর্ভধারন করার প্রথম তিনমাসের মধ্যে অন্তত একটা আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য। এই আলট্রাসনোগ্রামটা প্রসব তারিখ নির্ধারণে সাহায্য করে। কিন্তু যদি মাসিকের তারিখ ঠিক থাকে, নিয়মিত মাসিক হয়ে থাকে তাহলে শেষ মাসিকের তারিখ অনুযায়ী যে তারিখটা নির্ধারণ হবে সেটাই শতভাগ চূড়ান্ত।   লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস)। প্রসূতি ও নারীরোগ বিশেষজ্ঞ। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল।   আআ/এসি    

‘মৃত্যুর আগে কিডনি দিন, অন্যের জীবন বাঁচান’ (ভিডিও)

কিডনির কাজ হলো শরীরে প্রসাব তৈরি করা। প্রসাব তৈরির মাধ্যমে কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বাইরে বের করে দেয়। আর যেগুলো শরীরের কাজে লাগে সেগুলো শরীরের কাজে সংরক্ষিত করে রাখে। কিন্তু যখন দুটো কিডনি ফেইলিউর হয়ে যায় তখন তারা শরীরের বর্জ্য বাইরে বের করতে পারেনা। এগুলোকে বের করার জন্য দরকার রিপ্লেসমেন্ট থেরাপী। রিপ্লেসমোন্ট থেরাপী দু`ভাবে হতে পারে। একটা হচ্ছে ডায়ালাইসিস। অন্যটি হলো কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান। আমরা এখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান নিয়ে আলাপ করব। মূলত কিডনি সংযোজন বা প্রতিস্থাপন ট্রানাসপ্লান্টেশান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। আমাদের দেশে ১৯৮২ সালে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান চালু হয় তৎকালীন পিজি হসপিটালে যা এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা অত্যান্ত সফলতার সাথে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান করে যাচ্ছি। রোগী যখন প্রাথমিক ভাবে বুঝতে পারে তার প্রসাবের পরিমাণ কম হচ্ছে বা শরীর ফুলে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগছে অথবা তার রক্তশূণ্যতা দেখা দিচ্ছে এরকম পর্যায়ে সে কিডনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। তখন আমরা তাকে পরামর্শ দিই যে, আপনার কিডনি রিপ্লোসমেন্ট থেরাপী লাগবে। ট্রান্সপ্লান্টেশানের অনেকগুলো ধাপ বা প্রক্রিয়া আছে। আমাদের দেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান নিয়ে  আইন  আছে। যেটা প্রথম ১৯৯৯- এ পাস হয়। সেটাকে রিভিউ করে ২০১১ সালে অনেককে এটার সাথে এড করা হয়। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন আমাদের দেশে এখন এমন এক পর্যায়ে এসেছে, অর্থাৎ আমরা লিভিং রিলেটেড ট্রান্সপ্লান্টেশন করে থাকি। অর্থাৎ  আপনি যদি  আপনার ভাইকে কিডনি দিতে চান সেটা হবে লিভিং রিলেটেড ট্রান্সপ্লান্টেশন। একইভাবে স্বামী স্ত্রী, বাবা মা, ভাই বোন, চাচা, মামা, ফুপু, সকল ধরনের কাজিন, এগুলো সব লিভিং রিলেটেড ট্রান্সপ্লান্টেশন। এ  আইনের মধ্য থেকে অনেকে চাইলে কিডনি ডোনেট করে  আত্মীয় স্বজনকে বাঁচাতে পারেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশানের  আরেকটা পদ্ধতি  আছে। সেটাকে বলা হয় braindeath কিডনি ডোনার। এটা আমাদের দেশে এখনো চালু করতে পারিনি। কিন্তু  আমরা চেষ্টায়  আছি। কেউ যদি মরনোত্তর বা braindeath কিডনি ডোনেট করতে না চায়  আমরা তো জোর করে কিডনি নিতে পারি না। এজন্য  আমাদের জনসচেতনতা দরকার। গণমাধ্যমকর্মীরা এই জনসচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারেন।  আমাদের দেশে এখন প্রচুর রোড এক্সিডেন্ট হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। braindeath মানেই কিন্তু একজন রোগী মারা যাওয়া। সেই রোগীকে ventilation- এর মাধ্যমে  আইসিইউতে রাখা হয়। কিন্তু ventilation খুলে ফেললে সেই রোগীর  আর জ্ঞান থাকে না। দেশের জনগণকে যদি এই জিনিশটা বুঝানো যায়, যে  আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু  আমার কিডনি দিয়ে  আরেকজন মানুষ বাঁচুক- তাহলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ডিভিশন, বিএসএমএমইউ। ভিডিও দেখুন:  

দাঁতের ক্ষয় রোধে করণীয় : ডা. হুমায়ুন কবীর বুলবুল

আমরা যদি দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করি তাহলে দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্ত আমরা অনেকেই সঠিক নিয়য়ে পরিচর্যা না করার কারণে আমাদের মূল্যবান দাঁতগুলো অকালে হারিয়ে ফেলছি। আমরা যদি দিনে দুই বার ব্রাশ করে তাহলে দাঁতে সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় রোগ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন কারণে দাঁত ক্ষয় হয়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়িয়ে দাঁতকে ভালো রাখা যায়। দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর বুলবুল। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: সাধারণত কী কী কারণে দাঁতের ক্ষয়রোগ হতে পারে ? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: সাধারণত দাঁত পরিচর্যা সঠিক ভাবে না করলে দাঁতে বিভিন্ন ক্ষয় রোগ দেখা দিতে পারে। মজার বিষয় হলো এসব দাঁতে ক্ষয় রোগীরা সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে আসে ১০ মিনিটে চিকিৎসা দিলে আজীবন এ রোগ ভাল হয়ে যায়। তবে সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে খুব কম রোগীরা আসে। একুশে টিভি অনলাইন: দাঁত ক্ষয়ের কারণ, যেটাকে ‘ডেন্টাল ক্যারিজ বলছেন— এর প্রধান কারণগুলো কী? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল:  সঠিক ভাবে ব্রাশ না করলে এসমস্যা দেখা দিতে পারে। আরেকটি আমার যে সব খাবার গ্রহণ করি সেই সব খাবারে অনেক সময় দাঁতে লেগে থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেট বা সুগার থাকে। যদি খাবার আটকে থাকে এবং একে বের না করা হয় এখানে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করবে। এমন ভাবে অনেক দিন চলতে থাকলে ডেন্টাল ক্যারিজ দেখা দিতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে  এখান থেকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যা দেখার শুরুর দিকে যদি ডাক্তারের কাছে  আসে তাহলে অবশ্যই তাড়াতাড়ি এসব রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। একুশে টিভি অনলাইন: শুরুতে কী দেখলে বোঝা যাবে দাঁতের ক্ষয় হয়েছে? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: দাঁত যদি ঠিক মতো পরিচর্যা না করেন। না ঠিক মতো ব্রাশ না করেন তাহলে অনেক সময় আমার দাঁতে খাবার আটকে থাকছে। দাঁত বিভিন্ন রোগ ধারণ করে। এরপর এখানে ব্যাথা শুরু করে। এক সময় দেখা একটা গর্ত রয়ে গেছে। অর্থাৎ ক্যারিজ বা ক্যাভিটি হয়ে গেছে। অনেক সময় দাঁতের মাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস। যার কারণে অল্প রয়সে দাঁত পড়ে যায়। একুশে টিভি অনলাইন: শুরু বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন ? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: প্রাথমিক ভাবে দাঁতে ব্যথা হচ্ছে না, কেবল খাবার আটকে থাকছে- এই সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে আমরা একটি ফিলিং করে দেই। মুলত আমার দেশের মানুষ দাঁতে ব্যাথা না দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে আসে না। দাঁতে ব্যাথা দেখা দেওয়া মানে দাঁত ইনফেকশন দেখা দেওয়া। ইনফেকশন দেখা দেওয়া মানে দাঁত ক্ষয় হয়ে যাওয়া।  এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মানে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা ছাড়া মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চায়। হাসপতালগুলো দাঁত ব্যাথা ছাড়া কোন রোগী আসছে বলে আমার মনে পড়ে না। একুশে টিভি অনলাইন: দাঁতের ক্ষয় রোগ যেন না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিরোধের জন্য কী করণীয়? ডা:হুমায়ুন কবীর বুলবুল: প্রতিরোধের প্রথম কথা হলো সঠিক উপায়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। নরম টুথব্রাশ নিয়ে, গুণতগত মানের পেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এক থেকে দুই মিনিট ব্রাশ করতে হবে। সঠিক উপায়ে ব্রাশ করার বিষয়টি জানতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: একুশে টিভি অনলাইন পরিবারকেও ধন্যবাদ।       

এইডসের লক্ষণ ও সুরক্ষা 

ঘাতক ব্যাধি এইডস পুরোপুরি নিরাময়ের উপায় এখনও পাওয়া যায়নি। তাই জনমনে এ রোগ নিয়ে নানা ভীতি কাজ করে। একই সঙ্গে এই রোগ নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নানা রকম ভ্রান্ত ধারণাও প্রচলিত আছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা অনেক কম। অনেকে জানেনই না, এই রোগের লক্ষণ কী কী? কীভাবে এইডস প্রতিরোধ করা যায়। সমাজের প্রত্যেক মানুষের উচিত, এইডস আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করা। এইডস আক্রান্ত রোগীকে অবহেলা না করে তার প্রতি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা দেওয়া, যেন মানসিকভাবে তিনি একটু শান্তি পেতে পারেন।    এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত হলে শরীরের ওজন অনেক কমে যাবে, অনেক বেশি ক্লান্ত লাগবে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বর থাকবে, মুখে বা গলায় ঘা হতে পারে। বমি বমি ভাব, এক মাসের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। মাথা, চোখ এবং মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ ছাড়া শরীর ম্যাজম্যাজ করতে পারে, ত্বকের ওপরে ফুসকুড়ি ও ঘা হতে পারে। ঠোঁট ও যৌনাঙ্গের চারপাশে ধীরে ধীরে ফোসকা ও ঘা হবে এবং ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়বে। এইডস প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষ নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন। এসবের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার, অন্য মানুষের দাড়ি কামানোর ব্লেড, ক্ষুর ব্যবহার করা যাবে না। মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বর্জন করতে হবে। এইডস আক্রান্ত নারীদের গর্ভধারণ করা উচিত নয়। কেননা, তাতে সন্তানের এইডস নিয়ে জন্মগ্রহণের প্রবল আশঙ্কা থাকবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে এইডস আক্রান্ত নারীরা এইডসবিহীন সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাই সন্তান নিতে চাইলে আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো কারণে রক্ত গ্রহণ করতে হলে বা দিতে হলে আগে এইচআইভি পরীক্ষা করে নিতে হবে। সুচ ও সিরিঞ্জ একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যন্ত্রপাতি ভালোভাবে পরিস্কার ও জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে বোধগম্য ও সহজ ভাষায় এইডস সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেন এইডস সম্পর্কে শিশুরা কৈশোরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক জ্ঞান পায়। পেশাদার রক্তদাতাদের রক্ত প্রদানে বাধা দিতে হবে। আইন প্রণয়ন করে রক্ত বেচাকেনা বন্ধ করার পাশাপাশি সুস্থ মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে হবে। রেডিও, টেলিভিশন, নাটক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিনোদনের মাধ্যমে এইডস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। এইডস কখনও বলে-কয়ে হয় না। অন্য কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারলে আপনিও শিকার হতে পারেন। অথচ সামান্য সতর্কতা ও এই রোগ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আপনাকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে পারে। তাই অজ্ঞতা নয়। আসুন, এইডস সম্পর্কে জানি এবং নিজেকে ও আপনজনকে সুরক্ষিত রাখি।    লেখক: ডিন, মেডিসিন অনুষদ অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এসি        

দিনের কখন কী খাবেন কতোটুকু খাবেন : ইসরাত জাহান

সুস্থতার কোন বিকল্প নেই। শারীরিকভাবে যদি মানুষ সুস্থ না থাকে তাহলে টাকা পয়সা, সম্মান, ক্ষমতা সব অর্থহীন হয়ে যায়। শারীরীক সুস্থতার যেমন পুষ্টিকর খাওয়ার খেতে হয় তেমনি মানতে হয় বেশ কিছু নিয়ম কানুন। এর অাগে অামরা সকালের নাস্তা নিয়ে অালাপ করেছি। অাজকে অামরা অালাপ করব, দিনের কখন কী খেতে হয়। সকালের নাস্তার পর অামরা সাধারণত মিড মর্নিংয়ে খাই। বিশেষ করে যারা বাসায় থাকে তাদের জন্য মিড মর্নিংয়ে খাওয়া সহজ। অামি বলব মিড মর্নিংয়ে ফল জাতীয় খাবার খেতে। ফল জাতীয় খাবার ভালো হজম হওয়ার জন্য সকাল দশটা থেকে এগারোটা ভালো সময়। অায়ুর্বেদিকের ছাত্রী হিসেবে অামি জানি শারীরিক কার্যক্রম সূর্যের সঙ্গে জড়িত। সূর্য যতো উপরের দিকে উঠতে থাকে অামাদের হজম ক্ষমতা ততো বাড়তে থাকে। যখন সূর্য মাথার উপরে থাকবে তখন শরীর সবচেয়ে বেশী পাওয়ারাইজড থাকে। তখন যে খাবারটা খাবেন সেটা খুব তাড়িতাড়ি হজম হয়। এজন্য পশ্চিমারা সন্ধ্যার পর কোন ভারী খাবার খায় না। যারা অফিস করে বা বাইরে যেতে হয় তারা সঙ্গে করে কোন ফল নিয়ে যেতে পারেন। সেটা অাপেল, পেয়ারা, নাশপাতি বা কলা হতে পারে। যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে এসময় কুসুম ছাড়া একটা সেদ্ধ ডিম খেতে পারেন। দিনের গুরুত্বপূর্ণ খাবার দুপুরে খাবার বা মধ্যাহ্নভোজ। অবশ্যই দুপুর দুটা থেকে অাড়াইটার মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভালো। অাপনার শরীরে ক্যালরি অনুযায়ী এ সময় দুই থেকে তিন কাপ ভাত নিতে পারেন। একশ গ্রাম ভাত থেতে একশ কিলো ক্যালরি অাসে। অাধা কাপ ডাল খাবেন। অাধা কাপ সবজি খাবেন। সালাদ রাখবেন। অবশ্যই লেবু নিবেন। মাছ বা মাংস থেকে যে কোন একটা নিবেন তবে তা অবশ্যই মাঝারি সাইজের। অনেকে দুপুরের খাওয়ার পর চা খাওয়ার অভ্যাস অাছে। অামরা অবশ্যই সেই অভ্যাস ত্যাগ করব। কেননা, চা বা কফির যে ক্যাফেইন তা পুষ্টি কার্যকরে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। সন্ধ্যায় অামরা একটা রং চা বা গ্রীনটি খেতে পারি। সঙ্গে লেক্সাস বিস্কুট থাকতে পারে। মুড়ি থাকতে পারে। চাইলে একমুঠো চীনাবাদাম খেতে পারি। এটা অামাদের শরীরের জন্য খুব দরকার। রাতের খাবারটা অবশ্যই ন`টা থেকে সাড়ে ন`টার মধ্যে শেষ করা উচিৎ। রাতের খাবারটাও দুপুরের খাবারের মতোই হবে। তবে যারা ওজনটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা ওটস খেতে পারেন। ভাত খেতে পারেন তবে তা কম পরিমাণে। রুটিও খেতে পারেন। বেডটাইম মিল হিসেবে যাদের ওজনের সমস্যা নেই তারা পাতলা করে একগ্লাস দুধ খেতে পারেন। যাদের ওজনের সমস্যা অাছে তারা টকদই বা মিষ্টিদই খেতে পারেন। সারাদিন চায়ের সাথে কালোজিরা খেতে পারেন। খাবার বেশি খাওয়া যেমন উচিৎ নয় তেমনি কম খাওয়াও উচিৎ নয়। খেতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ও পরিমাণ মতো। তবে যা পাব তাই খাব- এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। লেখক: নিউট্রিশিয়ান ও ডায়াটেশিয়ানিস্ট, বিঅারবি হাসপাতাল। আআ/এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি