ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০:৩৩:২২

ঘরে বসেই পরীক্ষা করুন রক্তচাপ! জেনে নিন সহজ পদ্ধতি 

ঘরে বসেই পরীক্ষা করুন রক্তচাপ! জেনে নিন সহজ পদ্ধতি 

চাইলে যে কোনো ক্লিনিক, হাসপাতাল বা ফার্মেসিতে আপনি রক্তচাপ পরিমাপ করতে পারেন। কিন্তু সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি নিজেই ঘরে কিনে রাখেন একটি রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্র এবং নিজেই পরিমাপ করতে পারেন। কারণ, নিয়মিত কোনও ক্লিনিকে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর চেয়ে নিজে রক্তচাপ পরীক্ষা করা শিখে নিয়ে একটি মেশিন কিনে ঘরে রাখলেই নিয়মিত হিসাব রাখতে পারবেন। আসুন শিখে নেওয়া যাক কী ভাবে মেশিনের মাধ্যমে রক্তচাপ পরিমাপ করতে হয়। রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্র দু’ ধরণের হয়, ডিজিটাল এবং অ্যানালগ। ডিজিটাল যন্ত্রে খুব বেশী কিছু করতে হয় না। এটি নিজে থেকেই রক্তচাপ পরিমাপ করে হিসেব বাতলে দেয়। অ্যানালগ পদ্ধতিতে যে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হয় তার দুটি অংশ রয়েছে। একটি হচ্ছে মূল যন্ত্র যাতে রয়েছে একটি বাহুবন্ধনী, পরিমাপের মিটার এবং পাম্পার, যার মাধ্যমে রক্তচাপের পরিমাণ দেখা যায়। আর একটি হচ্ছে স্টেথোস্কোপ যা দিয়ে হার্ট বিট শুনে রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। অ্যানালগ পদ্ধতিতে রক্তচাপ পরিমাপের পদ্ধতি: • প্রথমে মূল যন্ত্রের বাহুবন্ধনী কুনুইয়ের ঠিক উপরে পেঁচিয়ে নিন ভাল করে। বাহুবন্ধনীর নিচে কুনুইয়ের ভাজে রক্তের শিরার উপরে চেপে ধরে রাখুন এবং কানে লাগান স্টেথোস্কোপটি। • এর পর মূল যন্ত্রের পাম্পারটির বাতাস বের হওয়ার স্ক্রুটি ভাল করে আটকে পাম্পার দিয়ে পাম্প করতে থাকুন এবং পাম্পারে লাগানো মিটারের কাটার দিকে নজর রাখুন। ২০০ থেকে ২২০ পর্যন্ত কাটা ওঠে, এমন ভাবে পাম্প করে পাম্পারে চাপ দেওয়া বন্ধ করে দিন। • এবারে সাবধানে বাতাস বের হওয়ার স্ক্রুটি অল্প করে খুলে অল্প করে বাতাস ছাড়তে থাকুন এবং মিটারের কাটার দিকে লক্ষ্য করুন। • মিটারের কাটা যে দাগে এলে আপনি স্টেথোস্কোপে প্রথম হার্টবিট শুনতে পাবেন সেই সংখ্যাটি লিখে রাখুন এবং মিটারের কাটা যে দাগে এলে আপনি স্টেথোস্কোপে সর্বশেষ হার্টবিট শুনতে পাবেন এই সংখ্যাটিও লিখুন। এই দুটি সংখ্যাই মূলত রক্তচাপের পরিমাপ নির্দেশ করে থাকে। • প্রথম যে হার্টবিটের সংখ্যাটি লিখেছেন, তা হচ্ছে সিস্টোলিক চাপ এবং সবার শেষের হার্টবিটের যে সংখ্যাটি লিখেছেন, তা হচ্ছে ডায়াস্টোলিক চাপ। একজন সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণ বয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপের পরিমাপ হচ্ছে ১২০/৮০। এই পরিমাপটি বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। এ ছাড়াও আপনি যদি হেঁটে, দৌড়ে বা কোনও কাজ করে আসেন তাহলে আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় পরিবর্তিত হবে। সে জন্য রক্তচাপ মাপার আগে অবশ্যই স্বাভাবিক থাকা জরুরি। • রক্তচাপের পরিমাপ যদি ১২০/৮০ থেকে উপরে থাকে, তাহলে উচ্চ রক্তচাপ, আর যদি নিচে থাকে তাহলে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যাকে নির্দেশ করে। জিনিউজ  এসি  
মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়

দাঁত নিয়ে অনেকের কষ্টের শেষ নেই। দাঁতের ব্যাথায় সুন্দর মুহুর্তগুলো হয়ে উঠে বিষাদময়। নানা কারণে দাঁতের সমস্যা হতে পারে। আবার কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে আমাদের দাঁত এবং মাড়ি প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে, দাঁতের সুরক্ষা নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. অরূপ রতন চৌধুরী।    মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যে রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ভুল উপায়ে দাঁতের যত্ন নিলে লাভ হবে না বরং পুরোটাই ক্ষতি হবে। তাই প্রয়োজন দাঁতের সঠিক যত্ন। এ জন্য আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঙ্গে মুখের একটা সম্পর্ক আছে। মুখে যদি কোন ঘা হয়, প্রদাহ হয়, ইনফেকশান হয় তাহলে তার প্রভাব আমাদের শরীরে পড়ে। কীভাবে পড়ে? ধরুন, মুখে একটা ইনফেকশান হলো। সেটা মাড়ির রক্তের সঙ্গে মিশে হৃদপিন্ডে চলে যেতে পারে। এই প্রদাহ থেকে যে কোন একটা হার্ট ডিজিজ হতে পারে। তেমনি ভাবে ফুসফুসে হতে পারে, মস্তিষ্কে হতে পারে। লিভারে বা কিডনীতে হতে পারে। যৌন শক্তির উপর প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ মুখের স্বাস্থ্যের সাথে দেহের স্বাস্থ্যের একটি মিল রয়েছে। এখন জানতে হবে এজন্য আমাদের করণীয় কী? নাস্তার আগে দাঁত ব্রাশ নয়    আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করি। এটা প্রাচীন কালের অভ্যাস। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, আমরা সকালের নাস্তার পরে যেন দাঁত ব্রাশ করি। কারণ, সকালের নাস্তায় মুখের খাবার লেগে থাকে। দাঁত ব্রাশ না করলে সেটা নিয়ে আমরা অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে চলে যাই, ছেলে মেয়েরা স্কুলে চলে যায়। ফলে সারাদিন মুখে খাবার লেগে থাকে ও ব্যাকটেরিয়া উৎপাদিত হয়। এর ফলে মুখে প্রদাহ হয়, দাঁতে ক্যাবিজ হয়।   রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ আরেকটি কথা বিজ্ঞান খুব জোর দিয়ে বলছে। সেটি হল রাতে খাবারের পর ও ঘুমানোর আগে যেন অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করি। ব্রাশ করে বিছানায় যাওয়ার পরে আমরা আর কিছুই খাবনা। ছেলে মেয়েদেরকেও এ ব্যাপারে সচেতন করব। এ নিয়ম মানলে অন্তত ৩০ ভাগ দাঁতে যে ক্যারিজ হয় তা আমরা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব। ধূমপান, জর্দা ও তামাক পাতা বর্জন না বললেই নয়, মুখের রোগের সঙ্গে জর্দা, সাদা পাতা, ধূমপান এসবের সম্পর্ক রয়েছে। বিজ্ঞান বলছে, ধূমপায়ী, তামাক পাতা ও জর্দা যারা খেয়ে থাকেন তাদের মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সুতরাং এখন থেকে যদি আমরা তামাক পাতা ও জর্দা খাওয়া বন্ধ করি, ধূমপান বন্ধ করি তাহলে ক্যান্সারের যে ঝুঁকি তা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।    নিয়মিত সালাদ খাওয়া   আরেকটি কথা বলে আমি শেষ করব সেটা হলো আমাদের মুখের স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন কিছু পুষ্টিকর খাদ্য প্রয়োজন। আমরা ছেলেমেয়েদের শুধু ফার্স্টফুড খাওয়ানোর অভ্যাস করি। সেটা না করে আমরা তাজা ফল মূল ও শাক-সব্জি খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি। তাহলে তাদের দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকবে। যেমন ধরুন, প্রতিদিন একবাটি সালাদ আমরা দিতে পারি। এই সালাদে থাকবে শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস পাতা। একটি লেবু চিপে তার পুরো রসটি সালাদের উপর দেওয়া যেতে পারে। তাহলে মুখে ও মাড়ীতে যে রোগগুলো হয়, মাড়ীর রক্তক্ষরণ হয় তা থেকে রক্ষা পাব। ভিটামিন সি ও ডি- এর অভাবে দাঁতে কেরিজ হয় সেগুলো আমরা প্রতিরোধ করতে পারি। তাই প্রতিদিন কিছু তাজা ফল পেয়ারা, আমলকি, জাম্বুরা, কমলালেবু- এই ধরনের ফল যদি খাই তাহলে আমাদের শরীরে ভিটামিন সি- র অভাব দূর হবে এবং দাঁত ও মাড়ী সুস্থ থাকবে। আআ/এসি    

মুঠোফোন ব্যবহারে ক্ষতি হয় গর্ভস্থ শিশুর

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আবিষ্কারের মাধ্যমে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। মুঠোফোন পারষ্পরিক যোগাযোগ, চাকরি ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষাখাতে গতি এনেছে এবং শিল্প সাহিত্যের বিকাশে অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে। দূরত্বের বাধা অতিক্রম করে গোটা বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। তবে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও আছে। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে আমাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ ব্যাপারে আমরা অনেকেই সচেতন নই। মোবাইল থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে এক ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ যাকে বলা হয় মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন। এই রেডিয়েশন আপাতদৃষ্টিতে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের শরীরের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই রেডিয়েশন বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গর্ভস্থ শিশু: গর্ভবতী নারীদের গর্ভস্থ ভ্রুনের উপর মোবাইলের রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। একজন গর্ভবতী নারী দীর্ঘসময় মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করলে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে এই শিশুদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটি, আচরণগত ত্রুটি, অস্থিরতা, মনোযোগের অভাব পরীলক্ষিত হতে পারে। কমিয়ে দেয় পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা: পুরুষরা যারা রোজ দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করে এবং শরীরের সংস্পর্শে বিশেষ করে প্যান্টের পকেটে ফোন রাখে তাদের ক্ষেত্রে শুক্রানুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় (৩০ শতাংশ) কমে যেতে পারে। যার ফলে তাদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। শিশু-কিশোরদের আচরণে প্রভাব: বর্তমান বিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারী ৮০% মানুষই মোবাইলে আসক্ত। শিশু কিশোরদের মধ্যে এই প্রবনতা অনেক বেশি। এই মোবাইল আসক্তি শিশুদেরকে পড়ালেখায় অমনোযোগী, জেদী ও আক্রমনাত্মক স্বভাবে করে দিতে পারে। এছাড়া মোবাইল ব্যবহার করার ফলে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে সেগুলো হল- মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তিবোধ করা, মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, বিষন্নতা ইত্যাদি। এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। লেখক : ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম হাসপাতাল। অনুলিখন: আলী আদনান অা অা/ এআর

পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমায় মোবাইল ফোন

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আবিষ্কারের মাধ্যমে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। পারষ্পরিক যোগাযোগ, চাকরি ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষাখাতে গতি এনেছে এবং শিল্প সাহিত্যের বিকাশে অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে। দূরত্বের বাধা অতিক্রম করে গোটা বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। তবে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও আছে। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে আমাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ ব্যাপারে আমরা অনেকেই সচেতন নই। মোবাইল থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে এক ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ যাকে বলা হয় মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন। এই রেডিয়েশন আপাতদৃষ্টিতে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের শরীরের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই রেডিয়েশন বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কমিয়ে দেয় পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা: পুরুষরা যারা রোজ দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করে এবং শরীরের সংস্পর্শে বিশেষ করে প্যান্টের পকেটে ফোন রাখে তাদের ক্ষেত্রে শুক্রানুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় (৩০ শতাংশ) কমে যেতে পারে। যার ফলে তাদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। হ্রাস পাবে শ্রবনশক্তি: পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ ইন চন্ডিগড়, ইন্ডিয়ার পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১২৫ জন ব্যক্তি যারা বিগত এক বছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন তাদের তুলনা করা হয়েছে ৫৮ জন ব্যক্তির সঙ্গে যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। পরীক্ষা নীরীক্ষা করে দেখা গেছে, মোবাইলফোন ব্যবহারকারীদের শ্রবনশক্তি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গবেষকদের মতে যারা রোজ ৬০ মিনিট মোবাইল ফোনে কথা বলেন তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে শ্রবনশক্তি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশী। মোবাইল ফোন ব্যবহারে মস্তিষ্কে টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি: একজন ব্যক্তি যখন ১০ মিনিট মোবাইল ফোনে কথা বলে বিশেষ করে কানের সঙ্গে চেপে ধরে, সেই অবস্থায় মোবাইল ফোনের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের শরীরের সংবেদনশীল অংশ বিশেষ করে কান, চোখ, নাক এবং মস্তিষ্কের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন সায়েন্স তাদের সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করেছে যে, দশ বছর ধরে নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে মস্তিষ্কে টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার প্রবনতা ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শিশুদের মস্তিষ্কের ক্যান্সার, টিউমার ও দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পেতে পারে: মোবাইল ফোন ব্যবহারে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মোবাইলের রেডিয়েশন ক্লাস টু বি কারসিনোজেনিক অর্থাৎ ক্যান্সার সৃষ্টি করার সম্ভাবনা তৈরি করে। যেহেতু শিশুদের মাথার খুলি বড়দের তুলনায় অনেক পাতলা তাই বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ বা রেডিয়েশন তাদের মস্তিষ্কে দ্রুত প্রবেশ করতে পারে। শিশুরা বড়দের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করছে ( যারা দীর্ঘসময় মোবাইল নিয়ে খেলছে বা কথা বলছে)। যার ফলে তাদের মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা বড়দের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে সম্প্রতি অনেক শিশুকে চশমা ব্যবহার করতে দেখা যায়। অনেক অভিভাবকরা শিশুদের হাতে খেলনা হিসেবে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু এর ফলে শিশুরা কী পরিমাণ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে তা সম্পর্কে বাবা মায়ের কোনো ধারনাই নেই। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গর্ভস্থ শিশু: গর্ভবতী নারীদের গর্ভস্থ ভ্রুনের উপর মোবাইলের রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। একজন গর্ভবতী নারী দীর্ঘসময় মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করলে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে এই শিশুদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটি, আচরণগত ত্রুটি, অস্থিরতা, মনোযোগের অভাব পরীলক্ষিত হতে পারে। শিশু-কিশোরদের আচরণে প্রভাব: বর্তমান বিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারী ৮০% মানুষই মোবাইলে আসক্ত। শিশু কিশোরদের মধ্যে এই প্রবনতা অনেক বেশি। এই মোবাইল আসক্তি শিশুদেরকে পড়ালেখায় অমনোযোগী, জেদী ও আক্রমনাত্মক স্বভাবে করে দিতে পারে। এছাড়া মোবাইল ব্যবহার করার ফলে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে সেগুলো হল- মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তিবোধ করা, মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, বিষন্নতা ইত্যাদি। এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। লেখক : ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম হাসপাতাল। অনুলিখক: আলী আদনান অা অা/ এআর

যেভাবে বুঝবেন আপনি রক্তাল্পতায় ভুগছেন  

রক্তাল্পতা অনেক বড় কোনো রোগ নয়। কিন্তু যে কোন বড় অসুখের শুরু হতে পারে এই রক্তাল্পতা থেকেই। তাই শুরু থেকেই রক্তাল্পতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।    একজন পূর্ণবয়স্ক মহিলার জন্য রক্তে হিমোগ্লোবিন ১২.১ থেকে ১৫.১ গ্রাম/ডেসিলিটার, পুরুষের রক্তে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ গ্রাম/ডেসিলিটার, শিশুদের রক্তে ১১ থেকে ১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার থাকা স্বাভাবিক। কারও রক্তে হিমোগ্লোবিন এর চেয়ে কমে গেলে তিনি রক্তাল্পতায় আক্রান্ত বলেই মনে করা হয়। এ বার রক্তাল্পতার লক্ষণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। রক্তাল্পতার লক্ষণ: ১) রক্তাল্পতা হলে রোগী অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন। সামান্য কাজ করলেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ২) অনেক সময় রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বক ফ্যাকাশে হতে থাকে। ৩) আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা হতে পারে। এই আয়রনের অভাবে অতিরিক্ত চুল ঝরে যেতে শুরু করে। ৪) রক্তাল্পতায় আক্রান্তকে বিষণ্ণতায় ভুগতে দেখা যায়। সারাক্ষণ দুর্বলতা এবং মাথাব্যথা হওয়ার কারণে রোগীকে বিষণ্ণতা গ্রাস করে। ৫) এ ছাড়াও রক্তাল্পতার আর একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হল, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। রক্তাল্পতার কারণে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত দেহে সঞ্চালনের জন্য পাম্প করতে পারে না। ফলে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। এ বার রক্তাল্পতার কারণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:— ১) পুষ্টিহীনতা এবং শরীরে আয়রন এবং ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি। ২) দীর্ঘদিন ধরে যারা ব্যথার ওষুধ সেবন করেন, তারাও রক্তাল্পতায় ভোগেন। ৩) থ্যালাসেমিয়া-সহ কিছু জন্মগত রোগে আক্রান্তরা রক্তাল্পতায় ভোগেন। ৪) পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্ষত বা আলসারের কারণে ক্রমাগত বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্তক্ষরণ হওয়া, অন্ত্রে কৃমির সংক্রমণ বা অর্শরোগে (পাইলস) রোগীর অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণেও রক্তাল্পতা হতে পারে। রক্তাল্পতায় প্রতিকারের উপায়:— শরীরে আয়রনের ঘাটতিজনিত কারণে রক্তাল্পতা হলে আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। রক্তাল্পতায় অনেকে আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। তবে ইচ্ছামতো আয়রন ট্যাবলেট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো আয়রন খাওয়াই ভাল। কিছু পুষ্টিকর খাবার আছে যা খাওয়ার মাধ্যমে কোনও ওষুধ ছাড়াই রক্তাল্পতা দূর করা সম্ভব। যেমন, দুধ, শাক-সবজি, মধু, বিভিন্ন ফল ইত্যাদি। যারা ফল খেতে ভালবাসেন না তারা প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন খুব সহজেই শরীরের কাজে লাগাতে পারেন। মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় এবং শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় শরীরে আয়রনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া দরকার। এর পাশাপাশি আয়রন সমৃদ্ধ ওষুধও খেতে পারেন। সূত্র: জিনিউজ এসি   

পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ৮ কারণ

গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর বহু মানুষের হয়ে থাকে। সাধারণত চলিশোর্ধ নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। বেশ কিছু কারণে পিত্তথলিতে পাথর হতে পার। পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান ডা. শেখ ফিরোজ কবীর। *খাবারে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেশি থাকলে পিত্তথলিতে পাথর হয়। *যেসব নারী হরমোন নেন, নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়। *বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকে ওষুধ খেলেও পিত্তথলিতে পাথর হয়। *গর্ভধারনও গরব্লাডারে পাথর হওয়ার একটা কারণ। কেননা গর্ভধারন করলে চলাফেরা কম করা হয়। এর ফলে পিত্তথলির ফাংশনটা কমে যায়। *যারা শারীরীক পরিশ্রম কম করে তারাও পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে ভোগেন। *স্থুলকায় শরীর পিত্তথলির পাথরের প্রধান কারণ। এজন্য দেখা যায় আমেরিকার দশ ভাগ লোক গলব্লাডারে পাথর নিয়ে চলছে। *পরিবারে কারো গলব্লাডারে পাথর থাকলে অন্যদেরও পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। *শিশুর ক্ষেত্রে যদি রক্তে লোহিত কণিকা যদি ভেঙ্গে যায় সেক্ষেত্রে বেশী হতে পারে। চিকিৎসা অনেক রোগী আমাদেরকে বলে থাকে, স্যার ওষুধ দিয়ে পাথর গলানো যাবে কি-না? আসলে পাথর গলানোর কোনো ওষুধ নাই। তবে বিদেশে এক ধরনের পদ্ধতি আছে - যারা পেট কাটতে চায় না তাদের জন্য। এই পদ্ধতিতে কিডনীর পাথর যেভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হয় ঠিক সেভাবে গলব্লাডারের পাথরও ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু ভেঙে দেওয়া পাথরটা বের করার জন্য ইআরসিপি করতে হয়। কিন্তু ইআরসিপি করা অনেক বড় ব্যপার। তাই সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে অপারেশন করা। এর ফলে গলব্লাডারের পুরো থলিটাই ফেলে দিলাম। / এআর /

গলব্লাডারে পাথর হওয়ার কারণ ও চিকিৎসা

গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর বহু মানুষের হয়ে থাকে। সাধারণত চলিশোর্ধ নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। যেসব নারী হরমোন নেন, নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়ে থাকে। যারা শারিরীক পরিশ্রম কম করেন তাদেরও এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। পরিবারের কারো পিত্তে পাথর থাকলে পরবর্তী প্রজন্মেরও পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি সরিয়ে ফেলতে হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান ডা. শেখ ফিরোজ কবীর। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: গলব্লাডারে পাথর বা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণ কী? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার জন্য কতগুলো কারণ কাজ করে। সাধারণত চল্লিশোর্ধ নারীদের এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়। খাবারে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেশি থাকলে পিত্তথলিতে পাথর হয়। যেসব নারী হরমোন নেন, নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়। বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকে ওষুধ খেলেও পিত্তথলিতে পাথর হয়। গর্ভধারনও গরব্লাডারে পাথর হওয়ার একটা কারণ। কেননা গর্ভধারন করলে চলাফেরা কম করা হয়। এর ফলে পিত্তথলির ফাংশনটা কমে যায়। যারা শারীরীক পরিশ্রম কম করে তারাও পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে ভোগেন। স্থুলকায় শরীর পিত্তথলির পাথরের প্রধান কারণ। এজন্য দেখা যায় আমেরিকার দশ ভাগ লোক গলব্লাডারে পাথর নিয়ে চলছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কিন্তু সবার তো পাথর হয় না? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: সবার হয় না। এখানে ফ্যামিলি হিস্ট্রিও একটা বড় ব্যাপার। পরিবারে কারো গলব্লাডারে পাথর থাকলে অন্যদেরও পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অবশ্য আজকাল সব রোগেরই জেনেটিক দিক থাকে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: গলব্লাডারে পাথর হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: এখন যেটা বেশীরভাগ দেখা যায় সেটা হলো কেউ রুটিন চেকআপ করতে গিয়ে দেখল তার পিত্তথলিতে পাথর আছে। বা অন্য কোনো কারণে ডাক্তারের কাছে গেল, ডাক্তার নানা ধরনের পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখল তার গলব্লাডারে পাথর আছে। আমাদের আশপাশে খুব বড় সংখ্যার মানুষ আছে যাদের গলব্লাডারে পাথর আছে। কিন্তু তারা জানে না তাদের পাথর আছে। আমাদের বহু রোগী আছে যারা নানা ধরনের ব্যথা নিয়ে আমাদের কাছে আসে। সেই ব্যথা কখনো পেটে, কখনো শরীরের একপাশে, কখনো পেছনের দিকে বা কখনো হাতের বাহুতে হতে পারে। আবার কেউ কেউ আমাদের কাছে আসে জন্ডিস নিয়ে বা গলব্লাডারের প্রদাহ নিয়ে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমরা দেখি ডায়াবেটিস রোগীদের এই প্রদাহ বেশী হয়? তখন কী সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন করা উচিত নাকি প্রদাহ সারিয়ে অপারেশন করতে হবে? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: ডায়াবেটিস রোগীদের গলব্লাডারে পাথর হলেও কোনো ব্যথা হয় না বা খুব কম ব্যথা হয়। আমি এমন রোগীও পেয়েছি যাদের পিত্তথলি পচে গেছে কিন্তু কোন ব্যথা নাই। এজন্য আমরা বলি ডায়াবেটিস রোগীদের পাথর ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করানো উচিত। এ সব ক্ষেত্রে অপারেশন ওই প্রদাহ থাকা অবস্থায় করাতে হয়। নয়তো ডায়াবেটিসও ভালো হবে না প্রদাহও কমবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাথর ছাড়াও তো পিত্তথলিতে ব্যথা হতে পারে। ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: হ্যাঁ, পাথর ছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। আমরা এটাকে বলি এ ক্যালকুলাস। একই রকম ব্যথা, একই রকম সিনড্রোম। রোগীর মনে হবে তার পাথর আছে। তখন আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওষুধ দিই। বলি, আপনার অপারেশন করা লাগবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটি পাথরে যে লক্ষণ হবে অনেকগুলো পাথর থাকলেও কী একই রকম লক্ষণ হবে? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: আমাকে অনেক রোগী জিজ্ঞেস করে, স্যার আমার পাথর কয়টা? সাইজ কী রকম? আমি বলি, `ঘরের ভেতরে যদি সাপ থাকে সাপ একটা থাকা যা একশটা থাকাও তা।` তবে কিছু পার্থক্য আছে। যেমন পাথর ছোট হলে গলব্লাডার থেকে বেরিয়ে পিত্তনালীতে চলে আসতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি বলছিলেন নারীদের গলব্লাডারে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশী। তাহলে কি পুরুষের বা শিশুদের ঝুঁকি কম? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: গলব্লাডারে পাথর যে কারো হতে পারে। নারীদের একটু বেশি। শিশুর ক্ষেত্রে যদি রক্তে লোহিত কণিকা যদি ভেঙ্গে যায় সেক্ষেত্রে বেশী হতে পারে। আমরা অনেক সময় চার পাঁচ বা সাত বছর বয়সের বাচ্চাদের গলব্লাডারে পাথর পাই। এক্ষেত্রে শিশু পেট ব্যথা নিয়ে আসলে আলট্রাসনোগ্রাফী করলেই ধরা পড়ে যায় যে গলব্লাডারে পাথর আছে। অনেকে শিশুর পেট ব্যথা করলে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে থাকেন। পরে দেখা যায় গলব্লাডারে পাথরের কারণে পেট ব্যথা করছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাথর ধরার সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে আলট্রাসনোগ্রাফ। এছাড়া আর কী উপায়ে পাথর শনাক্ত করা যায়? ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: এমআরসিপি করতে পারি। সিটি স্ক্যান করা যেতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এবার গলব্লাডারে পাথর হলে তার চিকিৎসা নিয়ে বলুন। ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: অনেক রোগী আমাদেরকে বলে থাকে, স্যার ওষুধ দিয়ে পাথর গলানো যাবে কিনা? আসলে পাথর গলানোর কোনো ওষুধ নাই। তবে বিদেশে এক ধরনের পদ্ধতি আছে - যারা পেট কাটতে চায় না তাদের জন্য। এই পদ্ধতিতে কিডনীর পাথর যেভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হয় ঠিক সেভাবে গলব্লাডারের পাথরও ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু ভেঙে দেওয়া পাথরটা বের করার জন্য ইআরসিপি করতে হয়। কিন্তু ইআরসিপি করা অনেক বড় ব্যপার। তাই সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে অপারেশন করা। এর ফলে গলব্লাডারের পুরো থলিটাই ফেলে দিলাম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ। ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: আপনাকেও ধন্যবাদ। পরামর্শদাতা : ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান। ভিডিও দেখুন... শ্রুতি লিখন: আলী আদনান। / এআর /

পরিবেশ দূষণে কী কী রোগ হতে পারে? 

বিশ্বে দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ, বলছে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু এরকম দূষিত পরিবেশে বসবাসের কারণে কী কী সমস্যার শিকার হতে পারেন? বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার একটি বাংলাদেশ।     বাংলাদেশে প্রতি বছর যতো মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণ জনিত অসুখবিসুখের কারণে। কিন্তু সারা বিশ্বে এধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ।    বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, শহরাঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। তারা বলছে, দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ দুষণজনিত কারণে বাংলাদেশে যেখানে ২৮ শতাংশ মৃত্যু হয় সেখানে মালদ্বীপে এই হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ আর ভারতে ২৬ দশমিক ৫। কিন্তু পরিবেশ দূষণের কারণে কোন ধরণের রোগ বেশি হয়? বাংলাদেশের পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এবং প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছেন, পরিবেশ দূষণের বেশ কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, খাদ্য দূষণ ইত্যাদি রয়েছে। এর সবগুলোর ফলেই কোন না কোনভাবে মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তিনি বলছেন, এর কিছু ক্ষতি প্রত্যক্ষভাবে হচ্ছে। যেমন কীটনাশক মেশানো লিচু খেয়ে শিশু মারা গেল বা বিষাক্ত মাছ খেয়ে কেউ অসুস্থ হলেন। আবার কিছু ক্ষতি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি। যেমন রাসায়নিক বা কীটনাশক মেশানো বা বিষাক্ত খাবার খেয়ে কারো কিডনি নষ্ট হয়ে গেলো। বা দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুতে থেকে ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হলেন। ১. শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাহত এবং স্নায়ুর ক্ষতি বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণের শিকার দরিদ্র নারী, শিশুরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কারণ তাদের বেশিরভাগই দূষিত এলাকায় বসবাস করেন, যেখানে সীসা দূষণেরও ঝুঁকি রয়েছে এর ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে এবং স্নায়ুবিক ক্ষতি হতে পারে। ২. গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক ক্ষতি দূষিত এলাকায় বসবাসের ফলে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত ও মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। এসব এলাকার দূষিত বায়ু এবং পানির কারণে তার নিজের এবং গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ৩. বায়ু দূষণে চোখ, শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান লরেন্স বের্কলি ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি বলছে, রাসায়নিক মিশ্রণ আছে, এমন দুষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে চোখ, নাক বা গলার সংক্রমণ বা ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ফুসফুসের নানা জটিলতা, যেমন ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া, মাথাব্যথা, অ্যাজমা এবং নানাবিধ অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বায়ু দূষণের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ৪. ক্যান্সার ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন বায়ু দূষণের মধ্যে থাকলে বা এরকম পরিবেশে কাজ করলে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগের দেখা দিতে পারে। এমনকি সেটা মস্তিষ্ক, লিভার বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও তৈরি করতে পারে। ৪. পানি দূষণের প্রভাব অনেক দীর্ঘস্থায়ী যুক্তরাজ্যের ওয়াটার পলুউশন গাইড, যারা পানির মাধ্যমে দূষণের মাত্রা কমাতে কাজ করছে, তারা বলছে, পানি দূষণে সাময়িক প্রভাবের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব অনেক বেশি পড়ে। বিশেষ করে শিল্প কলকারখানার বজ্য মানব দেহের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এসব পানি ব্যবহার চর্মরোগ, টাইফয়েড, জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের মতো রোগ হতে পারে। ৫. খাদ্যচক্রের মাধ্যমে ক্ষতি বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুষিত পানি বা নদীর ভেতর যেমন মাছ বা প্রাণী থাকে, যেসব ভেজষ উৎপন্ন হয়, দূষণ সেসব প্রাণীর ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর পদার্থ আবার মানব দেহের শরীরে চলে আসে। ফলে সরাসরি দূষিত পানির কাছাকাছি না থাকলেও, সেসব দুষিত পদার্থ এসব মাছের মাধ্যমে মানব দেহে আসে, যার ফলে ক্রুটি পূর্ণ জন্ম বা ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি খাদ্য চক্রের মাধ্যমে মানব শরীরে ঢুকছে সীসা, প্লাস্টিকসহ নানা ক্ষতিকর পদার্থ। ৬. শব্দ দূষণের কারণে হাইপার টেনশন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ নয়েজ কন্ট্রোল বলছে, পথের শব্দের কারণে একজনের হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যথা বা স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে থাকলে শিশুর জন্মগত ক্রুটির তৈরি হতে পারে। শব্দ দূষণের কারণে ব্লাড প্রেশার, শ্বাসের সমস্যা এমনকি হজমের সমস্যার তৈরি হতে পারে। ৭. খাদ্য দূষণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খাদ্য দূষণের কারণে অন্ত্রের নানা রোগ, লিভার, কিডনি বা পাকস্থলী কার্যকারিতা হারাচ্ছে। গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ নানা সমস্যার তৈরি হচ্ছে। কখনো কখনো এসব কারণে ক্যান্সারেরও তৈরি হচ্ছে। শিশুরা ছোটবেলা থেকে এ ধরণের দুষিত খাবার খেলে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বা বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এড়ানোর কি উপায়? ডাক্তার লেলিন চৌধুরী বলছেন, ``পরিবেশ দূষণ এড়ানোর জন্য শুধু সরকার বা কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। নিজেরা আগে পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।`` ``আইনের প্রয়োগ তো করতেই হবে, সেই সঙ্গে বায়ু দূষণ যাতে না হয়, পানি বা শব্দ দূষণ না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের নিজেদের সতর্ক হতে হবে``, বলছেন লেলিন চৌধুরী। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ``আমার যক্ষ্মা হলে সেটি যেমন চিকিৎসা করা হবে, তেমনি আমাকেও লক্ষ্য রাখতে হবে যেন যত্রতত্র থুথু না ফেলি। এভাবে সরকার, জনগণ, সব সংগঠন মিলে একটি সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে পরিবেশ দূষণ থেকে নিজেদের রক্ষা করা যাবে না।`` সূত্র: বিবিসি বাংলা এসি   

জ্বর হলে কী খাবেন, কী খাবেন না

সময়টাই যেন জ্বরজারির। এই সময়ে প্রায় প্রতি ঘরেই কেউ না কেউ জ্বরাক্রান্ত। কারো ভাইরাস জ্বর, কারো সিজনাল আবার কারো ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। জ্বর কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু খাবার দারুণ কার্যকর। তরল খাবার জ্বরের সময় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে বলে তরল খাবার হজমে সহায়তা করতে, তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে, পানিশূন্যতা রোধ ইত্যাদিতে ভালো কাজ করে। তাই এ সময় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি পানি পান করা উচিত। পানি ছাড়া তরল খাবার হিসেবে যা যা খেতে পারেন তা হলো— ফলের রস বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত লেবু, আনারস, কমলা, মালটার মতো টকজাতীয় ফলের রস বেশ উপকারী। দিনে দুই থেকে তিনবার এসব ফলের রস পান করা সম্ভব হলে তা তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোসহ জ্বরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে সাহায্য করে। জ্বরে যা খাবেন চিকেন স্যুপ চিকেন স্যুপ জ্বর হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ে, প্রয়োজন হয় বাড়তি ক্যালরির। এ সময় তাই প্রোটিনের ভূমিকা অনেক। কিন্তু মাছ-মাংসের মতো প্রোটিন তখন চিবিয়ে খেতে চান না অনেকে। পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দ্রুত আরোগ্য লাভে চিকেন স্যুপ বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ভাইরাল ফ্লুর বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে সবজি মেশালে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। সবজির স্যুপ যেহেতু জ্বরে অরুচি থাকে, তাই অনেকেই সঠিকমতো খাবার খেতে পারে না। আবার অনেকে খাবার হজমও করতে পারে না। তাই দেখা যায়, দৈনিক সবজির চাহিদা পূরণ করতে রোগীরা ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে সবজির স্যুপ বিকল্প হিসেবে কাজে আসে। সবজি ভালোমতো সিদ্ধ করে ছেঁকে তার সঙ্গে যদি আদা যোগ করা হয়, তবে সেই পানিও রোগীর জন্য অনেক উপকারী। লাল চা সর্দি-কাশিজনিত জ্বরে লাল চা বেশ উপকারী। সবচেয়ে ভালো হয় আদা, লং, এলাচ পানির সঙ্গে ফুটিয়ে অর্ধেক করে এর সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে। এ ছাড়া পান করা যেতে পারে তুলসী চা। খেতে পারেন গ্রিন টিও। নরম খাবার জ্বরের সময় প্রচুর দৈনন্দিন খাবার একটু নরম বা অর্ধতরল করে খাওয়াতে পারলে ভালো। এসব খাবার বেশি চিবোতে হয় না বলে সহজে গেলা যায়। হজমও হয় সহজে। নরম ও পাতলা মুগডালের খিচুড়ি, জাউভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম ও কাঁটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি রোগীকে দেওয়া যেতে পারে। যা খাবেন না জ্বরের রোগীদের জন্য উপকারী খাবারের পাশাপাশি অপকারী কিছু খাবার আছে, যা ওই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন—ফাস্ট ফুড, তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া, গুরুপাক খাবার, সালাদ ইত্যাদি। শক্ত খাবার, দুধ চা, কফি, কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। কেননা এসব খাবার শুধু হজমেই অসুবিধা করে না বরং দ্রুত আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। জ্বর কমাতে ব্যথার বা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হতে পারে তাই, যাতে গ্যাস না এসিডিটি না হয় সেজন্য তরল, অল্প নরম খাবার বার বার খেতে হয়। লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ এ্যাপোলো হাসপাতাল।   অা অা// এআর

অতিরিক্ত রক্তচাপ বেড়ে গেছে? ঘরে বসেই মেপে নিন ব্লাড প্রেশার 

রক্তচাপ বেড়ে গেছে। ডাক্তারের কাছে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু আপনি চাইলে ঘরে বসেই ব্লাড প্রেশার মাপতে পারেন। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন কিছু সহজ টিপস।    অফিসে আগের দিন খুব ধকল গিয়েছে। বা হয়েছে বিস্তর সুরা পান। ফল? পরদিন সকালে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখলেন, ব্লাড প্রেশার বেড়ে গিয়েছে লাগামছাড়া। আদপে কিন্তু যা হওয়ার কথা মোটেও ছিল না! এমনিতে রক্তচাপ আপনার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। ব্যাপারটা হল, আপনার একদিনের নিয়ম না মানার খেসারত তাকে দিতে হয়েছে। তাহলে চিকিৎসক কী বুঝবেন? তিনি তো ধরে নেবেন, এটাই আপনার স্বাভাবিক রক্তচাপ। চিকিৎসাও সেই মতো হবে। কী তাই তো? গড়বড় ঘটিয়ে থাকলে জেনে রাখুন, তার সুরাহাও আছে। ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার বদলে ঘরেই মাপুন ব্লাড প্রেশার। চিকিৎসকরাই বলছেন এ কথা। আরও স্পষ্ট করে বললে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ‘হোয়াইট-কোট হাইপারটেনসন’ অথবা ‘লাবাইল হাইপারটেনসন’-আক্রান্ত যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘হোম মনিটরিং’ অর্থাৎ ঘরে বসেই রক্তচাপ পরিমাপ করা বিশেষভাবে উপযোগী। কিন্তু দাঁড়ান। ‘উঠল বাই তো কটক যাই’ করে কোনও লাভ নেই। হোম মনিটর করার আগে আপনার বাড়িতে যে পরিমাপক যন্ত্রটি আছে, সেটির সঙ্গে ডক্টরস চেম্বারে থাকা যন্ত্রের তুলনা করে নিতে ভুলবেন না। বাড়িতে যখন প্রথম বার রক্তচাপ পরিমাপ করবেন, মনে করে তা করবেন সকালে এবং তা-ও আবার এই সংক্রান্ত ওষুধ খাওয়ার আগে। এর পরের সময় হল সন্ধ্যাবেলা। এইভাবে সপ্তাহে প্রতি দিন দু’বার করে মাপতে হবে রক্তচাপ। যদি কখনও হার বেশি দেখেন, ঘাবড়ে যাবেন না। আতঙ্কিত হবেন না। শুধু এটা মাথায় রাখবেন যে, দিনের প্রত্যেকটা সময় রক্তচাপ একই রকম হয় না। রিডিং আলাদা আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তা সে যাই হোক না কেন, রেকর্ডের নোট রাখতে ভুলবেন না। যখন ডাক্তারের চেম্বারে যাবেন, সেটা দেখাতে হবে তো! কীসে মাপবেন রক্তচাপ? এমনি তো ‘ট্র‌্যাডিশনাল’ যন্ত্র রয়েছেই। তবে হালে নানা ধরনের অ্যাপের আবির্ভাব হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে ব্লাড প্রেশার মাপা কোনও ঝক্কিই নয়। এই সব অ্যাপের কিছু কিছু তো আবার সরাসরি মনিটর থেকে রিডিং নিয়ে নেয়। ফলে লিখে রাখার সমস্যায় পড়তে হয় না। তবে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হোম ব্লাড প্রেশার মনিটরিং এমনিতে লাভজনক এবং উপযোগী অভ্যাস হলেও ঘন ঘন তা করা কোনওমতেই উচিত নয়। এতে লাভের বদলে ক্ষতি বেশি হবে। আতঙ্ক বাড়বে, অসুস্থতা বৃদ্ধি পাবে। তবে এমনিতেও কোনও কিছুর ‘অতি’ ভাল নয়। সেটুকু মনে রাখলেই ব্যস! ‘নো টেনশন’। বেছে নেবেন কীভাবে? বেশিরভাগ ওষুধের দোকানেই ব্লাড প্রেশার মাপার মেশিনারি থাকে। তবে বাড়িতে রাখতে চাইলে বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অনেকে অবশ্য চিকিৎসকদের কাছ থেকেও এই যন্ত্র সংগ্রহ করে রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, যদি বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হয়, তাহলে নিজের জন্য কোনটা ‘বেস্ট’, তা বুঝবেন কীভাবে? এক্ষেত্রে উপায় হল ‘কাফ সাইজ’ দেখে কেনা। এমন যন্ত্র দেখে কিনুন, যেটির কাফ আপনার বাহুর উপরাংশে রাখার পর তা যেন আপনাআপনি নিজেকে ফোলাতে বা স্ফীত করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রক্তচাপ মাপতে পারে। কাফটির স্ফীত অংশ যেন আপনার বাহুর অন্তত ৮০ শতাংশ ‘কভার’ করে থাকে। কারণ, কাফ সাইজ ছোট হলে যতবারই রিডিং নেবেন, ততবারই ‘হাই’ রিডিং আসার সম্ভাবনা আছে। আরও দেখে নেবেন যে মডেলগুলি এক বা দু’সপ্তাহের রেকর্ডিং যেন স্টোর করে রাখতে সক্ষম হয়। যন্ত্রটি সংগ্রহ করার সময় সেটা ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক কি না, তা দেখে নিতে ভুলবেন না। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে মনে রাখতেই হবে: উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ হয় অবসাদ নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা। যদি আপনিও তাঁদের তালিকায় পড়েন, তাহলে জেনে রাখুন অবসাদ নিয়ন্ত্রণ করে হাই ব্লাড প্রেশারকে কাবু করার সাতটি ‘সিওর-শট’। ১. পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ঘুম যতটা দরকার, ততটা না হলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে আপনার মানসিক স্থিতি, এনার্জি লেভেল এবং শারীরিক সক্ষমতার উপর। ২. স্ট্রেস বাস্টার হিসাবে ধ্যানের কোনও বিকল্প নেই। তাই ক্লান্ত বোধ করলেই মেডিটেশন করুন। ডিপ ব্রিদিং করুন। যোগ ব্যায়াম দারুণ উপযোগী।৩. সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরিধি আরও বৃদ্ধি করুন। সকলের সঙ্গে মিশুন, কথা বলুন। মর্নিং ওয়ার্কের পর পার্কে বসে মন খুলে গল্প করুন।৪. টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিলকে আরও ধারালো করে তুলুন। যত ভালভাবে নিজের কাজ আর পরিবারের মধ্যে সময়ের ব্যালান্স করতে পারবেন, ততই ভাল। ৫. অযথা চিন্তা করে নিজের চাপ আরও বাড়াবেন না। সমস্যা সকলেরই জীবনে থাকে। তাই উদ্বেগ করে সমস্যা বাড়াবেন না। মাথা ঠান্ডা রাখুন।৬. নিজের যত্ন নিন। এটা খুব জরুরি। দরকারে রিল্যাক্সিং ম্যাসাজ নিন, আস্তে আস্তে, চিবিয়ে খাবার খান। খাওয়ার পর হাল্কা হেঁটে আসুন। নিজের পছন্দের গান শুনুন। নিজের পছন্দের বই পড়ুন। একেবারে নিজের মতো করে সময় কাটান। দেখবেন, অনেকটা ঝরঝরে লাগবে। ৭. প্রয়োজনে সাহায্য নিন। মুখ ফুটে সাহায্য চান। নিজের লাইফ পার্টনার কিংবা মা-বাবার কাছে, প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়র কাছে। এতেও সমস্যার সুরাহা না হলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের সাহায্য নিন। ভাল থাকুন। সূত্র: সংবাদপ্রতিদিন এসি    

ডেঙ্গু জ্বর হলে কী করবেন...

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেন দিন দিন বাড়ছেই। ভাদ্র মাসের শেষ দিকে বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কোনোভাবেই নিস্তার মিলছে না ডেঙ্গু কিংবা এই রোগবাহী মশা থেকে। তবে  একটু সর্তক থাকলে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন ডিন (বিএসএমএমইউ) বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ। একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জ্বর। এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস ছড়ায়। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস আছে। এগুলো হলো ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। এর যে কোনো একটির সংক্রমণে আসলেই ডেঙ্গু জ্বর হয়।।    ডেঙ্গু জ্বর দুই প্রকারের হয়। এর মধ্যে ক্লিনিক্যাল ডেঙ্গু মোটামুটি সহনশীল হলেও হেমোরেজিক ডেঙ্গু বা হেমোরেজিক ফিভার সবচেয়ে মারাত্মক। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো- একুশে টিভি অনলাইন: ডেঙ্গু  জ্বরে আক্রান্ত হলে  করণীয় কি ? অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরমর্শ দিতে হবে। ঘরে বসে থাকা যাবে না। জ্বর তিন থেকে চারদিন হলো অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ে এমন ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গু ভাল হয়। এখন ভাইরাস জ্বরসহ যে কোন জ্বরে আক্রান্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্রতা বেশি থাকে।সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা দেখা দেয়। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচ দিনের সময় সারা শরীরে লালচে রং দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন রং, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। এই অবস্থাটা যেকোনো সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। যেমন অন্য সমস্যার পাশাপাশি যদি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়। যেমন: চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে। এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস,কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন: সাধারণত আমরা জানি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় এডিস মশার কারণে। এডিস মশা কোন কোথায় জন্ম নেন। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: এসিড মশা নোংরা পানিতে জন্ম গ্রহণ করা করে না। বৃষ্টি হলে বাসা-বাড়ির আঙ্গিনায় কোন পাত্রে পানি জমে থাকলে। এবং তিন থেকে চার দিন তা অতিবাহিত হলে ও পানি থেকে ডেঙ্গুর বংশ বিস্তার লাভ করে । এজন্য লক্ষ রাখতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে। একুশে টিভি অনলাইন: ডেঙ্গু মশা বসবাস কোথায় ? অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: ডেঙ্গু মশা বাস করে আমাদের বসত বাড়ীতে। বাড়ীর আঙ্গিনা থেকে বেশি মশা বাস করে বড় বড় বাসাগুলোতে। যে কারণে সিটি করপোরেশনের নানা উদ্যোগ তেমন কোন কাজ আসছে না। মানুষের বাসা ফ্রিজের নিচে। ফুলের বাগানের টেবে পানি জমে থেকে এডিস মশা জন্ম গ্রহণ করে। তাই আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে। নিজের বাসা বাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।  তাহলে কিছু  অংশ কমবে। একুশে টিভি অনলাইন: ধরণ পাল্টিয়েছে ডেঙ্গুর আপনি বলছেন। একটু পরিস্কার করে বলবেন কি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: জ্বর হয় সর্বোচ্চ বেশি মাত্রায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যর্থা অনুভাব করে। ধরণ পাল্টিয়েছে বলতে। এখন  সামান্য একটু জ্বর আসছে। অনেক সময় রোগী নিজেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে অনেক ভাল ধরনের অসুবিধা তৈরি হচ্ছে। তাই আমি বলতে চাই একটু জ্বর হলেই ঘরে বসে না থেকে ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে  ঠিক হয়ে যাবে। একুশে টিভি অনলাইন: চিকনগুনিয়া একবার আক্রান্ত হলে আর হয় না ডেঙ্গুর কি এমন হয়। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: চিকনগুনিয়া একবার আক্রান্ত হলে আর জীবনে আক্রান্ত হয় না। কিন্ত ডেঙ্গু এমন  না। একজন মানুষকে চার বার আক্রান্ত হয়। প্রথমবার আক্রান্ত রোগী তেমন গুরুত্বভাবে আক্রান্ত হয় না। প্রথমবার থেকে দ্বিতীয় বার রোগের তীব্রতা বেশি বাড়তে থাকে। এভাবে চারবারে আরও তীব্রতা বাড়ে। একুশে টিভি অনলাইন: ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করণীয় কি? অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে প্রথমে নিজেদের সচেতন করতে হবে। এডিস মাশা যাতে বিস্তার লাভ  না করতে পারে। সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বিশেষ করে মিডিয়াগুলো এবিষয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারে। বৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার করে ফেলতে হবে। বাসার কোথাও যাতে পানি না জমে থাকতে পারে সেদিন লক্ষ রাখতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ। / টিআর / এআর    

কেমোথেরাপি চলাকালে কি করবেন, কি করবেন না

চিকিত্সকদের মতে, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী যদি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন, সে ক্ষেত্রে চিকিত্সায় সাড়া মেলায় সম্ভাবনা আরও কমে যায়। তাই এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি জরুরি পরামর্শ ক্যান্সার আক্রান্তকে সাহায্য করতে পারে, জোগাতে পারে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বাঁচার লড়াইয়ে টিকে থাকার মানসিক শক্তি। ১) কেমোথেরাপি চলার সময়ে খাওয়া দাওয়া করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। অকারণেই বমি হয়। এ কারণে আপনার প্রিয় খাবারটি এ সময়ে না খাওয়াই ভাল। কারণ, অতি প্রিয় খাবারটি খাওয়ার পর পরই যদি বমি হতে থাকে তবে ওই খাবার খাওয়ার প্রতি একটা অনিচ্ছা, অরুচি পরবর্তিকালে কাজ করতে পারে। ২) কেমো নেবার আগে হয়তো ঘরের অনেক কাজ আপনি নিজেই করতেন। কিন্তু কেমো (কেমোথেরাপি) নেওয়া শুরু হয়ে গেলে আর সে সব কাজ করতে পারবেন না। ৩) নিজের যে কোনও সমস্যার কথা আশেপাশের মানুষকে জানান। বিশেষ করে নিজের চিকিত্সককে সব খুঁটিনাটি সমস্যার কথা বলুন। আপনার যদি কোনও ব্যাপারে মন খুঁতখুঁত করতে থাকে, তাহলে চেপে রাখবেন না। কারণ, আপনার কী সমস্যা হচ্ছে, তা আপনিই সবচেয়ে ভাল বুঝবেন আর আপনিই তা বোঝাতে পারবেন। ৪) কেমো নেবার পর প্রচুর জল পান করা উচিত। এতে ঘন ঘন প্রশ্রাব হয়। শরীরেও নানা রকম অস্বস্তি লাগতে পারে। তাই কেমো নেবার দিন খোলামেলা, আরামদায়ক জামা-কাপড় পড়া উচিত। ৫) কেমো নেবার পর বেশিরভাগ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীই ঘুমিয়ে থাকেন। আর সেটাই স্বাভাবিক। চিকিত্সকদের মত, এই সময়টা যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়া উচিত। তবে মানসিক সুস্থতার জন্য অনেক ক্যান্সার আক্রান্তকেই এ সময়টায় নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্সকরা। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই শরীরকে কষ্ট দেওয়া চলবে না। সূত্র- জি ২৪ আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি