ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৩৮:১২, বুধবার

বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ বা ডিমেনশিয়া

বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ বা ডিমেনশিয়া

দেশে বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত রোগীরা কিছু মনে রাখতে পারে না। ২০১৫ সালে দেশে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ। ২০৩০ সালে ওই সংখ্যা বেড়ে নয় লাখ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আলঝেইমার সোসাইটি। ডিমেনশিয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে আলঝেইমার্স। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য দিয়েছে। ওই সংস্থা জানিয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ওই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ হওয়ার আশঙ্কা আছে। রোগটির কারণে একটু আগে করা কাজও ভুলে যায় রোগী। সোসাইটির একজন সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘দিন দিন রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সে হিসেবে প্রতিকারের ব্যবস্থা খুব কম।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করা দরকার। তাহলে আক্রান্ত হলেও মানুষ বৃদ্ধ বয়সে করুণ পরিণতির মুখোমুখি হবে না।’ সেলিনা জাহান জানান, দেশের ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার ৪০-৫০ বছর বয়সের মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশে যারা দরিদ্রসীমার নিচে আছে তাদের ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। উচ্চবিত্ত অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু মূলত রোগটির ক্ষেত্রে বেশি দরকার সচেতনতা।’ সেলিনা জাহান বলেন, ‘ডিমেনশিয়া নিয়ে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। রোগটির তেমন চিকিৎসা নেই।’ তবে রোগটি নিয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। সেলিনা জাহান বলেন, ‘সচেতন হলে রোগটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। বৃদ্ধ বয়সের করুণ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারব।’ টিআর/
ডায়াবেটিস রোগ হয়েছে জানতে পারলে কী করবেন?

ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা বলছেন। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ বলে বলছে ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন। কিন্তু যারা আক্রান্ত তাদের ৫৭ শতাংশই জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের নানা উপায় শেখানোর মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আজ একটি `ডায়াবেটিস মেলা` আয়োজন করেছে একটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসিয়া। মেলার কার্যকরী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ডা মোঃ. ফজলে রাব্বী খান বলছেন, ডায়াবেটিস একবার আক্রান্ত হলে তা চিকিৎসায় পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। এটি তেমন রোগ নয়। কিন্তু সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আর নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়। আক্রান্ত হয়েছেন সেটা জানতে পারলে কি করবেন? সেজন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ডা মোঃ. ফজলে রাব্বী খান। খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতাকতটুকু খাদ্য গ্রহণ নিরাপদ আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেটি বুঝতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেগুলো সুষম হতে হবে। খাওয়ার পরিমাণটা বাংলাদেশের মানুষজন বুঝে উঠতে পারে না। সেটি বাংলাদেশের মানুষের চর্চার মধ্যে নেই বলে উল্লেখ করছিলেন ডাঃ খান। ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা বলছেন। কায়িক পরিশ্রম করতে হবেশুধু খেলেন আর বসে থাকলেন সেটি হলে কিন্তু চলবে না। অবশ্যই শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সেটা যেকোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রম হতে পারে। দিনে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অবশ্যই কোন ধরনের কায়িক পরিশ্রম করা উচিত। সবচেয়ে সহজ হল হাঁটতে পারা। রিফাইন করা চিনি এড়িয়ে চলতে হবে।মিষ্টিও খেতে পারবেনসাধারণের একটি ধারণা হল ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি খাওয়া যাবে না। এই ধারণাটি ভুল বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে অবশ্যই পরিমিত হতে হবে। এক বসায় এক কেজি খেয়ে ফেললেই হবে না। আর মনে রাখতে হবে মিষ্টিতে গ্লুকোজ আছে। ভাতেও কিন্তু সেটি আছে। অন্য আরও অনেক খাবারেও রয়েছে। তবে মিষ্টিতে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি সেটিই হল সমস্যা। মিষ্টি খাওয়া যাবে কিন্তু অল্প পরিমাণে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তবেই খাওয়া ঠিক হবে। জীবনাচরণ পরিবর্তনকি খাচ্ছেন আর কতটা পরিশ্রম করছেন সব কিছু জীবনাচরণের অংশ। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত কতটুকু কাজ করা দরকার, কীধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, কতটুকু খেতে হবে, কয় বার খেতে হবে, কার জন্য কতটুকু খাবার দরকার ইত্যাদি সবই এর অংশ। শরীরের ওজন কমিয়ে রাখতে হবে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।ঔষধের ব্যবহারউপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরও যদি রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের দেয়া এবং তার নির্দেশিত ঔষধ সেবন করতে হবে। বংশগত কারণধরুন আপনার বংশে আগে কারো ডায়াবেটিস ছিল। বংশগত কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। কিন্তু তার মানে অন্য কারো হবে না সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। ডায়াবেটিসের কারণে অন্য রোগডায়াবেটিস হলে কিডনি রোগ, চোখের রোগ, হার্টের সমস্যা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করলে এসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। হৃদযন্ত্রের বড় সমস্যা বা অন্ধত্ব পর্যন্ত গড়াতে পারে। তথ্য জেনে নেয়াডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি খুব সহজ বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। তথ্যও খুব সহজেই পাওয়া যায়। সেগুলো জেনে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কারণ তথ্য জানা থাকলে অনেক কিছুই সহজ মনে হয়। সূত্র-বিবিসি আরকে//

কীভাবে কমাবেন পেটের মেদ

শরীরকে সুন্দর ও ঝরঝরে রাখতে সবাই চায় মেদমুক্ত থাকতে। মেদ শুধু শরীরের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে তাই নয়, বরং অনেক রোগেরও জন্ম দেয়। শরীরের যেসব জায়গায় মেদ বেশি জমে তার অন্যতম পেট। পেটকে মেদ মুক্ত রাখতে খাওয়া দাওয়ায় সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কিছু নিয়ম কানুন। এ বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশিয়ানিস্ট নূর ই জান্নাত ফাতেমা। পেটের মেদ কমাতে শ্বাস-প্রশ্বাস: কোনো পরিশ্রম ছাড়া আমরা যে কাজটি করতে পারি তা হলো সঠিক নিয়মে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া। বেশিরভাগ মানুষই হয় দ্রুত, না হয় অনেকক্ষণ পরপর শ্বাস গ্রহণ করে। যদি এটি একটা ছন্দে করা যায়, অর্থাৎ আস্তে আস্তে শ্বাস গ্রহণ ও নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পেটের খুব ভালো একটা ব্যায়াম। পেটের ব্যায়াম: ওঠা-বসার ব্যায়াম পেটের জন্য নয়। চিৎ হয়ে শুয়ে থেকে, মাটি থেকে পা সোজা করে ১৫ ডিগ্রি উপরে ১৫ সেকেন্ড তুলে রাখুন। এভাবে দিনে পাঁচবার করুন। অভ্যস্ত হলে ১০ থেকে ১৫ বার করুন। পেটের মেদ কমাতে আমিষ: প্রচুর আমিষসমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছ, ডাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খান। প্রোটিন শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় ও চর্বি পোড়ায়। তবে প্রোটিনের সঙ্গে চর্বি যাতে শরীরে ঢুকে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ফ্যাট থেকে দূরে থাকুন: চর্বি জাতীয় খাবার থেকে সবসময় দূরে থাকুন। মাছের তেল, সূর্যমুখীর তেল শরীরের জন্য ভালো। মার্জারিন, মেয়োনেজ, কলিজা, মগজে রয়েছে প্রচুর চর্বি। এগুলো থেকে দূরে থাকুন। পেটের মেদ কমাতে শর্করা জাতীয় খাবার কম খান: তালিকা থেকে যথাসম্ভব চিনি দূরে রাখুন। চিনির বদলে সুক্রোলোজ (যা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুগার ফ্রি নামে পাওয়া যায়) ব্যবহার করুন। এমনকি মধু হলেও তা পরিমিতভাবে সেবন করুন। ভাত খাবেন মেপে মেপে। যারা ভাত বেশি খান তাদের ট্রাইজ্ঞ্নিসারাইড বেড়ে গিয়ে পেটে তো বটেই, উপরন্ত লিভারে চর্বি হিসেবে জমা হয়। সালাদ সবজি বেশি খান: টমেটো, মুলা, বিট, ক্যাপসিকাম, লেটুসসমৃদ্ধ সবজির সালাদ ও শাক সহকারে লাঞ্চ বা ডিনার সেরে ফেলুন। পানি খাবেন পরিমিত। তবে যারা বাত আর কিডনির রোগী, তাদের সবজি আহরণে সংযত হতে হবে। পেটের মেদ কমাতে ঘুম: যদি রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস থাকে, তাহলে আরেকবার ভাবুন। কারণ অসময়ের ঘুম শরীরের জৈবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে আপনার শরীরে খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। পেটে চর্বি জমার প্রবণতা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। সুপ্রিয় পাঠক, এ কয়টি নিয়ম মেনে চললেই দেখবেন, আপনার পেট হবে মেদমুক্ত। শরীর হবে ঝরঝরে ও সুন্দর। আআ/এসি  

দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত

স্বাভাবিকভাবে মাসিক গড়ে চার দিন স্থায়ী হয় এবং স্বভাবত প্রতি ২৮ দিন পরপর হয় (৭দিন কম বা বেশি)। দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে এবং মাসিকচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার (menopause)পর রক্তপাত হওয়া অস্বাভাবিক এবং তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, এটা একটি রোগ এবং সাধারণত ক্ষতিকর। ক্যান্সার বা প্রাক-ক্যান্সারের কারণে যোনি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই যে কোন ধরনের অস্বাভাবিক রক্তপাত পরীক্ষা করাটা জরুরী। এবিষয়ে সার্বিক পরমার্শ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত আফরীন নীলা। দুইটা মাসিকের মধ্যেবর্তী সময়ে কিছু রক্তপাত হওয়াকে ovulatory bleeding বা দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত বলা হয়ে থাকে। সাধারণত Oestrogen হরমোনের তারতম্যের কারণে এই ধরনের রক্তপাত হয়। এজন্য সাধারণত কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবুও যদি বেশি রক্তপাত হয়। পেটে ব্যাথা এবং অস্বস্তি লাগে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণত মাসিকের ১০-১৪ দিন পর ডিম্বাশয় বের হয় এবং Oestrogen হরমোনের তারতম্য হয়ে জরায়ু হতে রক্তপাত হয়। এছাড়াও Endometriosis Adenomyosis stress অথবা অন্যান্য কারণে রক্তপাত হতে পারে। রক্তের রং সাধারণত গোলাপী অথবা brownish-red হয়। রক্তপাত সাধারণত ১২-৭২ ঘন্টার মধ্যে থেমে যায়। টিআর/

তিতা করলার উপকারীতা

করলায় আছে পালং শাকের চেয়ে দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম আর কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম। আছে যথেষ্ট লৌহ, প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আঁশ। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট; বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখে, শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে। করলা অন্ত্রনালী কর্তৃক গ্লুকোজ শোষণ কমায়। রক্তের সুগার কমাতে করলা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। অনেক গবেষণাই করলাকে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণ করেছে। করলায় কমপক্ষে তিনটি উপাদান আছে যেগুলো রক্তের সুগার কমিয়ে ডায়াবেটিসে উপকার করে। এগুলো হচ্ছে চ্যারান্টিন, ইনসুলিনের মত পেপটাইড এবং এলকালয়েড। তিতা করলা অগ্নাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষ ‘বিটা সেল’- এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে। তাই করলা অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ করায় বলে ধারণা করা হয়। করলা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমায়। করলা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক এনজাইম বা আমিষ বৃদ্ধি করে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের কোষের ভিতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের সুগার কমে যায়। রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় কিন্তু ভাল কলোস্টেরল এইচ.ডি.এল বাড়ায়, রক্তচাপ কমায়, কৃমিনাশক, ভাইরাস নাশক-হেপাটাইটিস এ, হারপিস ভাইরাস, ফ্লু, ইত্যাদির বিরুদ্ধে কার্যকর। এছাড়াও ক্যান্সাররোধী-লিভার ক্যান্সার, লিউকোমিয়া, মেলানোমা, ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। ল্যাক্সেটিভ- পায়খানাকে নরম রাখে, কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে, জীবাণুনাশী-বিশেষ করে ই-কোলাই নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া করলা নানা রকম skin Disease কমায়। করল্লার জুস লিভারের কম ক্ষমতা বাড়াতে ও রক্ত পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। (লেখক: নূর ই জান্নাত ফাতেমা, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশিয়ানিস্ট, প্রাভা হেলথ, ঢাকা।) এসি  

গরমে কেন খাবেন সজনে ডাটা

সজনে ডাটা পুষ্টি গুনে অতুলনীয়। গরমের এই সবজি টিকে আমরা অনায়াসে খাবার টেবিলে বেছে নিতে পারি। কেন আমরা সজনে ডাটা খাব তা নিয়ে আমাদের এই আলোচনা- ঠাণ্ডা জর এবং কাশি উপশম করে- সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তাই ঠাণ্ডা জর এবং কাশি দূর করতে সাজনার তরকারি, ডাল বা সুপ করে খান। উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে- সজনে ডাটা দেহের কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই সজনে ডাঁটা খাওয়া উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়া উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসায় সজনের পাতাও বেশ উপকারী। পেটের সমস্যা সমাধানে - সজনে হজম সমস্যা সমাধানে ব্যাপকভাবে কার্যকরী। পেটে গ্যাস হলে, বদহজম হলে এবং পেটে ব্যথা হলে সজনের তৈরি তরকারী খেয়ে নিন। দেখবেন পেটের গোলমাল অনেক উপশম হয়ে যাবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে- মানুষের শরীরে চিনির সঠিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে সজিনা। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সজনে খুবই উপকারী সবজি। হাড় শক্ত ও মজবুত করে- সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে আয়রণ, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন থাকে। তাই এটি সুস্থ এবং শক্তিশালী হাড়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী এছাড়াও আমাদের শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করতেও সজনের কোন জুড়ি নেই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়- সজনে ডাটায় থাকা ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই এন্টি অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে। বসন্ত রোগ প্রতিরোধ করে- বসন্ত প্রতিরোধে সজনে ডাটা তরকারি বা ডাল রান্না করে খেলে জল বসন্ত ও গুটি বসন্তে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা অনেকাংশে কমে যায়। মুখে রুচি বাড়ে- সজনে ডাঁটার মতো এর পাতারও রয়েছে যথেষ্ট গুণ। সজনে পাতা শাক হিসেবে, ভর্তা করেও খাওয়া যায়। এতে মুখের রুচি আসে। শ্বাসকষ্ট কমায়- সজনে ডাটা এবং পাতার রস খেলে শ্বাসকষ্ট সারে। সজনে ডাটায় থাকা প্রদাহ-বিরোধী এন্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিন সি অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে, ফলে অ্যালার্জির কারণে যে শ্বাসকষ্ট হয় তা দূর করে। এছাড়াও সজনে ডাটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, লিভার ও কিডনি সুরক্ষিত রাখে। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে সজনে। লেখক: ক্লিনিক্ল্যাল নিউট্রিশিয়ানিস্ট, প্রাভা হেলথ।   আআ// এসএইচ/

সুস্থ জীবনের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার

স্বাস্থ্য ভালো থাকলেই একমাত্র সুস্থ থাকা সম্ভব। সুস্থ থাকতে হলে প্রথমত হেলদী ফুড হেবিট অর্থাৎ স্বাস্হ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে। কারণ পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমেই সুস্থ ও সুন্দর থাকা সম্ভব। - প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি পরিমানমত প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন : একটি ডিম,এক গ্লাস দুধ,মাছ,মুরগীর মাংস,বিভিন্ন ধরনের বাদাম ,পনির,টকদই রাখা যায় তাহলে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে সেই সাথে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব,এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় সেই সাথে দেহে প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি হয়ে থাকে। - খাদ্য তালিকায় থাকা উচিত পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ও মিনারেলস জাতীয় খাবার। মধ্য সকাল ও সন্ধ্যার খাবারে থাকতে পারে একটি আপেল/কমলা/মালটা/ছোট কলা/কিছু পরিমান আঙ্গুর/কিছুটা বেদানা ইত্যাদিএতে আমাদের শরীরের জন্য যে অত্যাবশকীয় ভিটামিন যেমন : ভিটামিন এ,ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ,ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। - আশ জাতীয় খাবারকেও রাখতে হবে খাদ্য তালিকায় যেমন বিভিন্ন ধরনের সবুজ ও রঙ্গিন শাকসবজি।আশ জাতীয় খাবার রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে সেই সাথে হজম শক্তি বাড়ায় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের মিনারেলস এর চাহিদা পূরণ করে। ভিটামিন ও মিনারেলস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। - সেই সাথে খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে পরিমিত কার্বোহাইড্রেট যেমন: ভাত, রুটি,মুড়ি,চিড়া,কর্নফ্লেক্স ইত্যাদি।কার্বোহাইড্রেট দেহের শক্তি উৎপন্ন করতে এবং সেই সাথে গ্লুকোজ লেভেল কে ব্যালান্স করে ব্রেইনকে সচল রাখতে সহায়তা করে। - অনেকের ধারনা ফ্যাট কি একেবারেই গ্রহণ করা যাবেনা ? এই ধারনাটি একদম ভুল অবশ্যই ফ্যাট গ্রহণ করতে হবে তবে পরিমানমত। এর উৎস হতে পারে সয়াবিন তেল, সরিষার তেল,সূর্যমুখি তেল। ফ্যাট ভিটামিন এ,ডি,ই,কে দেহে পরিবহন করে থাকে। সুতরা খাদ্যের ছয়টি উপাদান থেকেই খাদ্য গ্রহণ করুন তবে অবশ্যই তা যেন হয় পরিমান মতো। তবেই আপনি পাবেন একটি সুস্থ ও সুন্দর দেহ। লেখক : পুষ্টিবিদ,  নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতাল। টিআর/

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে কী করবেন?

আজকাল অনেকেই ব্লাড কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তিত। খুব অল্প বয়সেই বেড়ে যাচ্ছে ব্লাডে কোলেস্টেরলের মাএা। খুব বেশি বেড়ে গেলে ওষুধ খাওয়া জরুরি। এছাড়া আসুন জেনে নেই কি করে ব্লাড কোলেস্টরল কমানো যায়। হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন- শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম শুধু রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় না, উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ (বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল) ১০ শতাংশ বাড়ায়। জোরে জোরে হাঁটলেও এমন উপকার পাওয়া যায়। নৈশভোজের পর কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। কেউ যদি প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন, তাহলে উপকৃত হবেন। কেউ যদি অফিসে চাকরি করেন, তার উচিৎ অন্তত প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিট হাঁটা বা চলাফেরা করা। আপনি যে ধরনের ব্যায়াম করুন না কেন, তা নিয়মিত করতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন- কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায় হচ্ছে ডিমের কুসুম এবং অন্যান্য বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করা। তবে শুধু খাবারের কোলেস্টেরলই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য দায়ি নয়। সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- মাখন, চর্বিযুক্ত গরুর মাংস ও খাসির মাংসের পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ পর্যাপ্ত খাওয়া উচিৎ। আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান- সবজি এবং ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। শিম, বার্লিতে প্রচুর আঁশ থাকে। বেশি মাছ খান- মাছ ও মাছের তেল কোলেস্টেরল হ্রাস করে। এর মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে ফেলে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিৎ। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। মাছ খেতে অনিচ্ছুকরা মাছের তেল থেকে তৈরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ ক্যাপসুল চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। যেমন- সয়াবিন তেল, কাঠবাদামের তেল ইত্যাদি। মদ্যপান পরিহার করুন- অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। মদ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ধূমপান পরিহার করুন- ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশি ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। লেখক: ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশিয়ানিস্ট, প্রাভা হেলথ। আআ /এসএইচ/

কোন খাবার কখন খাওয়া উচিত

(বেঁচে থাকার জন্য আমরা খাবার খাই। খাবার আমাদের শারীরিক প্রক্রিয়া কে যেমন সচল রাখে তেমনি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। সেজন্য খেতে হবে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার। তবে সব খাবার গ্রহণ দিনের সব সময় উপযুক্ত নয়। এর ফলে খাদ্যের হজম প্রক্রিয়ায় বিড়ম্বনা দেখা দিতে পারে। তাই জানতে হবে কোন খাবার কখন খাব। এই বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য পরামর্শ  দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। ইসরাত জাহান একজন ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ান ও নিউট্রিশিয়ানিস্ট। রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা সেমিনারে মানুষকে পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত লিখছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য।) আমাদের বেঁচে থাকা ও শরীরের পুষ্টির জন্য সুষম খাদ্যগ্রহণ প্রয়োজন। কিন্তু কোন খাবার কখন খাবেন- এটা না জেনে খাদ্যগ্রহণ করলে শরীরে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশী থাকে। আসুন এ বিষয়ে জেনে নিই। ১. সকালে বা দুপুরে ভাত খেলে তা আমাদের শরীরে শক্তির জোগান দেয়। কিন্তু রাতে ভাত না খাওয়া ভালো। রাতে ভাত খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ২. চিকিৎসকদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম দুধ পান করতে পারলে ভালো ঘুম হয়। একই সঙ্গে ত্বক কোমল ও দীপ্তিময় হয়ে ওঠে। সকালে ব্রেকফাস্টেও দুধ খেতে পারেন। যারা সকালে জিম বা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য ব্রেকফাস্টে দুধ অপরিহার্য। তবে কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস না থাকলে দুধ অনেকেরই হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ৩. সকালে বা দুপুরে আলু খেলে এর খনিজ ও শর্করা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু রাতে আলু খেলে এতে থাকা ক্যালোরি শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়। ৪. ব্রেকফাস্টে অনেকেই আপেল খান। আপেলে থাকা পেকটিন রক্তচাপ আর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু রাতে আপেল খেলে সেই পেকটিনই রাতে হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ৫. সকালে বা দুপুরে কলা খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বাড়ে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও। কিন্তু রাতে খাবারের পর কলা খেলে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হজমেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। ৬. সকালে বা দুপুরে খাওয়ার পর কমলালেবু খেলে হজম ভালো হয়। কিন্তু সকালে উঠেই খালি পেটে কমলালেবু খেলে পেটে ব্যথা থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। ৭. সকালে বা দুপুরে খাওয়ার সঙ্গে সালাদ হিসাবে বা রান্নায় দিয়ে টমেটো খেতে পারেন। এতে হজম ভালো হয়, তরকারির স্বাদও বাড়ে। কিন্তু রাতে টমেটো খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। আআ/এসি  

গর্ভবতী মায়ের মানসিক যত্ন যেভাবে নিবেন

নারীর জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় তার গর্ভবতী অবস্থা। এসময় নারী শারীরীকভাবে যেমন নানা প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হয় তেমনি মানসিকভাবে প্রায় বিপর্যস্ত থাকে। কিন্তু আমাদের সমাজে গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে তা মায়ের মনে যেমন সুদূর প্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে তেমনি সন্তানের জন্যও ক্ষতিকর। গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কেমন যত্ন নিবেন তা নিয়ে বলেছেন, সাইকোলজিস্ট, থেরাপিউটিক কাউন্সিলর ও অ্যাডিকশন প্রফেশনাল তন্বিতা ঘোষ। তন্বিতা ঘোষ নিয়মিত রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে রোগী দেখেন ও কাউন্সিলিং করে থাকেন। লিখেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য। আগের দিনে দেখা যেত কোন মা যখন গর্ভধারণ করত তখন তাকে নিয়ে খুব আনন্দ করা হতো এবং কয়েকমাস গেলে তাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হতো। অর্থাৎ বাবা-মা ভাই-বোনসহ কাছের মানুষগুলোর সান্নিধ্যে রেখে তার মনকে সবসময় খুশীতে রাখার চেষ্টা করা হতো। সন্তান প্রসবের কিছুদিন পর সে সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে ফিরতো। কিন্তু বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমছে। এখন অধিকাংশ পরিবারই একক পরিবার। একটা মেয়ে যখন মা হন তখন তাকে অনেকগুলো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রথমত, তার শারীরিক কিছু কষ্ট থাকে। শরীরে কিছু ভাঙ্গা গড়া হতে থাকে। হরমোনাল কিছু পরিবর্তন আসে। অনেক কিছু না জানা না বুঝা দোদুল্যমানতা তার ভেতরে কাজ করে। এর সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরে কিছু বৈকল্য বা মানসিক অস্বাভাবিকতা কাজ করে। তখন সে কিছুটা আনন্দে থাকে, কিছুটা হতাশায় থাকে, একটা কষ্ট দীর্ঘ সময় নেওয়ার কারণে কিছুটা বিরক্তও থাকে। আমরা দেখি, মেয়েরা এ সময়টায় অনেক কিছু নিতে পারে না। অনেক কিছু শেয়ার করতে পারে না। এ সময় তারা খুব বেশি তার স্বামীকে কাছে পেতে চান বা তার কাছের মানুষকে আগলে ধরতে চান। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা সেই সুযোগ পান না। তখন তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা তৈরি হতে থাকে।   আমরা দেখি, কর্মজীবী নারীদের তাদের গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ছুটিটা সেভাবে নেওয়া হয় না। এই সময়টায় আমরা মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। সেটা হয়ে থাকে গাইনি ডাক্তার। অর্থাৎ গর্ভবতী নারীর শারীরিক স্বাস্থ্য, তার গর্ভস্থ সন্তান- এসব নিয়ে নিয়মিত একটা ফলোআপ পাওয়া যায়। কিন্তু তার মনের খবরটা রাখা হয় না। এসময় অনেক গর্ভবতী মায়ের ঘুমের সমস্যা হয়। বমির ভাব থাকে। খাওয়ার রুচি থাকে না। এই সব লক্ষণ মায়ের মানসিক কী কী সমস্যা হতে পারে তা নিয়ে খোঁজ নেওয়া জরুরি। কারণ, মায়ের মানসিক অবস্থার প্রভাব তার বাচ্চার ওপরও পড়ছে। যে সব মা গর্ভাবস্থায় অনিদ্রায় ভোগেন, দেখা যায় সে সব মায়ের সন্তান খুব অস্থির প্রকৃতির হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় পর দেখা যায় বাচ্চা অনিদ্রায় ভুগছে। কখনো দেখা যায় বাচ্চা সারা রাত ঘুমায় না কিন্তু দিনে ঘুমায়। তাই সবার আগে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মায়ের গর্ভকালীন আমরা মায়ের খাওয়া, শারীরিক যত্নের দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে থাকি। ঠিক তেমনিভাবে এখন জরুরি হয়ে গেছে মা কী পছন্দ করে, কী করলে তাকে হাসি খুশী রাখা যায় সে সব দিকে খেয়াল রাখা। তার পছন্দের মানুষ বা প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্যে তাকে রাখা, ভালো সিনেমা দেখানো, ভালো বই পড়তে দেওয়া- এসব করা জরুরি। পাশাপাশি মা যেন এ সময় ভালো সৃজনশীল কিছু চিন্তা করে সেজন্য তাকে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় বাবা মা যা যা চিন্তা করেন, পরিকল্পনা করেন- তা তাদের সন্তানের উপর প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে সন্তানের জীবনে ও ভবিষ্যতে সেই প্রভাব পড়ে।   আআ// এসএইচ/

ডায়েট করার সঠিক নিয়ম

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ সবসময় চায় মেদবিহীন একটি ঝরঝরে শরীর। মেদ কমাতে গিয়ে `ডায়েট` করা বর্তমানে খুব প্রচলিত ও পরিচিত একটি শব্দ। অনেকেই কোন নিয়ম কানুন না জেনে হুট করে ডায়েট করা শুরু করে। এর ফলে লাভের চাইতে বিপদের সম্ভাবনাই বেশী। আমাদের (পুষ্টিবিদ) কাছে অনেকে এসে বলেন, ‘আচ্ছা আমি একটু ডায়েট করলেই মাথা ঘুরে। এখন আমি কী করব?’ তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ‘নিজে নিজে ডায়েট করলে অবশ্যই বেশ কয়েকদিন পর বা ডায়েট শুরু করার সাথে সাথে মাথা ঘুরানোর সম্ভাবনা থাকে। কেননা, বেশীর ভাগ মানুষই নিজে ডায়েট শুরু করলেই প্রথমে শর্করা কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে মাথা ঘুরায়।’ আবার অনেকে এসে বলেন, আচ্ছা আমি ডায়েট শুরু করলেই ক্ষিদে বেড়ে যায়, এর পর আর ডায়েট করা হয়না, কেন? তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ‘বেশির ভাগ মানুষই যখন নিজে নিজে ডায়েট শুরু করে তখন মনে করে না খেয়ে থাকাই ডায়েট। কেউ দেখা যায় রাতে খায়না আবার কেউ সকালে আবার কেউ দুপুরে। পেটে ক্ষিদে নিয়ে বেশি দিন ডায়েট সম্ভব না।’ অনেকে বলেন, আমি ডায়েট করে এত কেজি (যে কোন একটা সংখ্যা) কমিয়েছি। এরপর আর কমেনা, কেন? তারা হয়তো জানেন না, ডায়েট করে ওজন কমানো একটা পদ্ধতি বা প্রসেস। আনুপাতিক হারে ক্যালরি কমিয়ে গ্রাজুয়েলি ওজন কমাতে হয়। আপনি একটি নির্দিষ্ট ক্যালরি দিয়ে ডায়েট শুরু করলে একমাসে কিছু ওজন কমবে। আপনার ওজন যা কমবে তার উপর আবার নতুন ক্যালরি সেট করতে হয়। তা না হলে যেটুকু ওজন কমবে তা আবার বেড়ে যাবে। খুব কমন একটি প্রশ্ন অনেকে করেন। সেটি হলো, ডায়েট করার সময় ক্ষিদে লাগলে কি খাব? আমি বলি, একজন ডায়টিশিয়ান আপনাকে আপনার ওজন এর উপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট ক্যালরি সেট করে দিয়েছেন। পানি ছাড়া সব কিছুতেই ক্যালরি। তাই ওজন কমাতে এইটুকু ছাড়তো দিতেই হবে। সত্যি কথা হচ্ছে, ডায়েট একটা ‘Journey’। আপনি যাত্রী, ড্রাইভারের সিটে একজন ডায়টিশিয়ানকে বসিয়ে নিলেই আপনার যাত্রা শুভ হবে। আসুন, আমরা একজন দক্ষ ডায়েটেশিয়ানের শরণাপন্ন হয়ে ডায়েট শুরু করি। তাহলে ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। শরীর হবে মেদমুক্ত ঝরঝরে। [তামান্না চৌধুরী। কর্পোরেট ডায়েটেশিয়ান ও নিউট্রিশিয়ানিস্ট। রাজধানীর অ্যাপোলো হসপিটালে প্রধান পুষ্টিবিদ হিসাবে কর্মরত আছেন। নিয়মিত বিভিন্ন সভা সেমিনারের পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানেও পরামর্শক হিসেবে অংশ নিয়ে থাকেন তিনি। লিখছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য।] আআ/এসএ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি