ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৫৬:০৭, বুধবার

প্রথম দেখার আগে মাথায় রাখুন ৮টি বিষয়

প্রথম দেখার আগে মাথায় রাখুন ৮টি বিষয়

প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে। আর বিশ্বায়নের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমন ফাঁদই পাতা থাকে। আর এমন ফাঁদে ধরা পড়তে রয়েছে নানা রকমের অনলাইন ডেটিং ওয়েবসাইটও। তাই হাল আমলে অনেকেই সহজেই ডুব দেয় অনলাইন চ্যাটিং, ডেটিং অ্যাপ এইগুলোতে। কিন্তু প্রেম কি আর হাতের মুঠোয় চারচৌকো বস্তুটির মধ্যে রেখে দিলে চলে! অগত্যা মাঠে নেমে পড়ো। অনলাইন ডেটিং সাইট থেকে পরস্পরের হোয়াটসঅ্যাপে জায়গা করে নেওয়া আর তার পরের ধাপেই সাক্ষাতের পরিকল্পনা। কিন্তু কতটা নিরাপদ একজন সম্পূর্ণ অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া? বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎ প্রেম বা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু অনেক সময়ে তা হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাও প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে। কারণ উল্টো দিকের মানুষটি অপরিচিত। তাই এক্কেবারে অচেনা একজনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখা উচিত। ১. প্রথমেই আসে নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। যেহেতু একদম অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করবেন, তাই ফাঁকা নির্জন এলাকা এড়িয়ে যান। চেষ্টা করুন কোনও কফিশপ বা রেস্তোরাঁয় দেখা করার। তাও এলাকাটা নিজের চেনাজানা আয়ত্তের মধ্যে হলে ভাল হয়। ২. অ্যাপক্যাবে একসঙ্গে উঠলে অবশ্যই নিজের ফোন থেকে সেই ক্যাব বুক করুন। পারলে বন্ধু বা পরিবারের কারও সঙ্গে লোকেশন শেয়ার করুন। ‌হাতের কাছে মজুত রাখুন অ্যাপক্যাবের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ও অ্যালার্ট মেনু। ৩. কোনও অচেনা এলাকা বা অন্য শহরে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা না করাই ভাল। বিশেষ করে হোটেল বা রিসর্ট এড়িয়ে চলুন। ৪. আপনি যার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন সে কি আপনার উপরে কোনও বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন? যেমন তার পছন্দ মতো স্থানেই যেতে হবে বা তার পছন্দ মতো খাবারই অর্ডার করতে হবে। যদি প্রথম দিনই এমন হয় তাহলে বুঝবেন সর্ম্পক গভীর হলে আপনি অবদমনের শিকার হতে পারেন।​ ৫. প্রথম দিনেই সমস্তটা বলে ফেলা যায় না। তবে চেষ্টা করুন সেই অচেনা মানুষকে মুগ্ধ করার জন্য কোনও মিথ্যে না বলতে। নজর রাখুন সেই ব্যক্তিও আপনাকে মিথ্যে কথা বলে মুগ্ধ করার চেষ্টা করছেন কি না। তবে সম্পর্কের কিছু প্রাথমিক শর্ত থাকে। সে সব প্রথম দিনই কথায় কথায় ইঙ্গিত দিয়ে রাখুন। ৬. খেয়াল রাখুন অন্য কোনও মানুষের প্রসঙ্গ উঠলে তার সর্ম্পকে কি শুধুই নেতিবাচক মন্তব্য করছেন সেই ব্যক্তি। নিজের প্রাক্তন সঙ্গীর সম্পর্কেও যদি তিনি অনবরত নেতিবাচক মন্তব্য করে আপনার থেকে সমবেদনা পেতে চান, তাহলে সাবধান হোন। কারণ আপনিও কোনও দিন তার ‘প্রাক্তন’ হয়ে উঠতে পারেন। ৭. ওই ব্যক্তি কী বিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন সে দিকে নজর রাখুন। নিজেদের পছন্দ-অপছন্দগুলো কতটা পরস্পরের সঙ্গে মানানসই সে দিকে নজর দিন। তবে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত বিষয় টানবেন না। ৮. কোনও রেস্তরাঁয় গেলে সেখানকার ওয়েটারদের সঙ্গে ওই ব্যক্তি কেমন ব্যবহার করেন দেখুন। শুধু তিনি মুখে কী বলছেন, তা-ই নয়, তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলে আর দেরি কেন! মন পছন্দ মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখাটা সেরেই ফেলুন। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে মানুষটিকে চেনার চেষ্টা করুন। ভবিষ্যতে তাহলে আর আক্ষেপ করতে হবে না।  তবে আপনার অসম্মতিতে বা হঠাৎই ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে সতর্ক হোন। অস্বস্তি হলে তা সরাসরি জানান। দরকারে বুদ্ধি খাটিয়ে সঙ্গ ত্যাগ করুন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//
নিয়মিত যোগ-ধ্যানে বাড়ে মস্তিষ্কের শান   

মানবদেহের সবগুলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে মস্তিষ্ক হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একটা সময় মস্তিষ্কই মানুষকে পাথরের অস্ত্র বানাতে শিখিয়েছে। তার অনেক’ বছর পরে মস্তিষ্কের জেনেটিক উত্তরসূরিরাই বানিয়েছে মহাশূন্য যান। পা রেখেছে চাঁদে। আমরা হয়তো বলতে পারি যে, বেতন তালিকা, হিসাব তালিকা, মহাশূন্য যানের গতিপথ নির্ণয়ের কাজ তো কম্পিউটার মস্তিষ্কের চেয়ে দ্রুত করতে পারে। পারে সত্যি। কিন্তু কম্পিউটারকে কে বানিয়েছে? মানুষই কম্পিউটারের প্রোগ্রাম বানিয়েছে, তার মস্তিষ্ককে ব্যবহার করে।  মস্তিষ্ক শরীরের অনেক সূক্ষ্ম কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের হার্ট ও দম মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। ধরুন, গরম কিছুতে ছ্যাকা লাগার সাথে সাথে হাত সরিয়ে নেই আমরা। কে সরাতে সাহায্য করে? মস্তিষ্ক। এ নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হয় মানুষের সচেতনতার অজ্ঞাতে। কম্পিউটারকে সুইচ অফ করে বন্ধ করা যায়। কিন্তু মস্তিষ্ককে বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। আমরা কাজ করি বা ঘুমিয়ে থাকি, মস্তিষ্ক সবসময়ই সক্রিয় থাকে। কীরকম সক্রিয় তার একটি উদাহরণ দেই।  ড. ম্যানফ্রেড ইগান, জার্মানির বিখ্যাত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালে তিনি কয়েকটি নিরীক্ষায় দেখেন যে, মস্তিষ্কের কোনো কোনো কেমিক্যাল রি-একশন সংগঠিত হতে সময় লাগে মাত্র এক সেকেন্ডের ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ সময়। তিনি বলছিলেন যে, ধরুন একটি দ্রুতগামী গড়ি আসছে। তার নিচে চাপা পড়া থেকে বাঁচার জন্যে এক পা পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া ও তা কার্যকরী করার জন্যে মস্তিষ্কের এক লক্ষ নিউরোনের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। যে কারণে আমরা নিরাপদে ফুটপাতে এসে দাঁড়াই। পায়ের পেশি কিন্তু আমাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে আনে নি। মস্তিষ্ক পায়ের পেশিকে সরে যেতে যা যা করার করেছে। অর্থাৎ আমাদের মস্তিষ্ক এমনিতেই শাণিত। ব্যায়াম মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায়  মানবদেহের এগুরুত্বপূর্ণ অঙ্গস্থ্য রাখার জন্য/ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করবো । যেমন ব্যায়াম বা যোগ ব্যায়াম মেপিটেশন বা ধ্যান চর্চা। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে, শরীর থেকে অতিরিক্ত ওজন ঝরাতে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা কার্যকরীÑএটুকু আমরা কমবেশি সবাই জানি। এছাড়াও শরীরকে দৃঢ় ও সবল এবং পেশির শক্তি বাড়াতেও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ব্যায়াম মস্তিষ্কের শক্তিও বাড়ায়।  দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা প্রতিদিন অথবা নিদেনপক্ষে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম করেন তাদের মস্তিষ্কের শক্তি ও কার্যকারিতা বাড়ে, মস্তিষ্ক হয়ে ওঠে অধিকতর সচল ও কর্মক্ষম।  গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত ব্যায়ামে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। মস্তিষ্কের রক্তনালীর সংকোচন প্রতিরোধে সাহায্য করে, মস্তিষ্ক কোষ নিউরোনকে সবল করে, এমনকি নতুন নতুন নিউরোন তৈরিতে সাহায্য করে। আর এ গবেষণা-প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়। এ ব্যাপারে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির প্রফেসর জাস্টিন এস রোডস ব্যাপক গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানিয়েছেন, নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটা, সাঁতার ইত্যাদি দৈহিক পরিশ্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুফলটি হলোÑএর ফলে মস্তিষ্কের সার্বিক ক্ষমতা ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। নিউরোসায়েন্টিস্টরা এতকাল ধরে বলে আসছেন যে, শিশুর জন্মের সময় তার মস্তিষ্কে যে সংখ্যক নিউরোন থাকে, বয়স বাড়লেও সেই সংখ্যাটি থাকে অপরিবর্তিত এবং একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে এর ক্ষয় শুরু হয়। কিন্তু নতুন গবেষণার ভিত্তিতে তারা এখন আশার বাণী শোনাচ্ছেনÑব্যায়াম কেবল মস্তিষ্ককে সবল করেই তোলে না, উপরন্তু মস্তিষ্কে তৈরি হতে থাকে নতুন নিউরোন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় নিউরোজেনেসিস।  বিজ্ঞানীরা আরো উল্লেখ করেন, তারা একদল ইঁদুরকে কয়েক সপ্তাহ ধরে উন্মুক্ত পরিবেশে রাখেন এবং অপর দলকে আবদ্ধ স্থানে রাখা হয়। পরবর্তীতে এদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখা যায়, যে দলটি উন্মুক্ত পরিবেশে ইচ্ছেমতো ছোটাছুটির মধ্যে ছিল তাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে নতুন নিউরোন তৈরি শুরু হয়েছে, কিন্তু অন্য দলের ক্ষেত্রে তা হয় নি।  তাই বলে তড়িঘড়ি এখনই জিমে ছুটতে হবে এমন নয়, খালি হাতের ব্যায়ামই আদর্শ। হাঁটাও দারুণ কাজে দেবে। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আর্ট ক্রেমারের মতে, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ৪৫ মিনিট করে হাঁটলে আমাদের স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। কারণ, ব্যায়ামের ফলে নিউরোনের সুস্থতার জন্যে প্রয়োজনীয় নিউরোট্রান্সমিটারগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। সেইসাথে মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশে বাড়ে গ্রে-ম্যাটার বা ধূসর পদার্থের পরিমাণ। উল্লেখ্য, মস্তিষ্কের এই প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স থেকেই উৎসারিত হয় আমাদের সুখ ও আনন্দের মতো ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতিগুলো। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে নতুন সিন্যাপ্সের উৎপত্তি ঘটে এবং নিউরোনগুলোর মধ্যে তড়িৎ যোগাযোগ সুদৃঢ় হয়। শাণিত বুদ্ধিমত্তা অর্জনের জন্যে যা অত্যন্ত প্রয়োজন। ক্রেমার বলেন, নিউরোনগুলোর মধ্যে সংযোগায়নের এ প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে, এর ফলে স্মৃতিশক্তি, পরিকল্পনা-দক্ষতা এবং একসাথে অনেক কাজ সামলানোর ক্ষেত্রে একজন সত্তরোর্ধ্ব মানুষের মস্তিষ্কও হয়ে ওঠে ৩০ বছরের তরুণ মস্তিষ্কের মতোই তুখোড় ও সৃজনশীল।  পেশির শক্তি বাড়ানোর আশায় অনেকে ভারোত্তোলন আর নানারকম শক্ত ব্যায়াম করে থাকেন। এর ফলে পেশির শক্তি বাড়ে ঠিকই, কিন্তু কীভাবে? গবেষণায় দেখা গেছে, এতে পেশির কোষগুলোর মধ্যে একধরনের রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক আন্তঃপারস্পরিক যোগাযোগের সৃষ্টি হয়। ফলে পেশিতন্তুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পেশি হয়ে ওঠে অধিকতর শক্তিশালী ও মজবুত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও আসলে বাড়ানো সম্ভব এভাবেই মস্তিষ্কের কোষ অর্থাৎ নিউরোনগুলোর মধ্যকার আন্তঃপারস্পরিক সংযোগ বাড়িয়ে। এতে মস্তিষ্কের সম্ভাবনা বাড়ে বহুগুণ। গবেষকদের মতে, এর অন্যতম উপায় হলো মেডিটেশন বা ধ্যান। যার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করে আমরা হয়ে উঠতে পারি আরো চৌকস, আরো সৃজনশীল আর তীক্ষ্ণধী।  মস্তিষ্কের কাঠামো ও কর্মপ্রক্রিয়া উন্নত করার উপায় নিয়ে পরিচালিত অনেকগুলো গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেন, এর একটি জাদুকরী প্রক্রিয়া হচ্ছে মনোযোগ, যা মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন করতেও সক্ষম। পর্যাপ্ত মনোযোগের মাধ্যমে নিউরোনগুলোর মধ্যকার বৈদ্যুতিক সংযোগ-পথ হয়ে ওঠে আরো বিস্তৃত। এটি বোঝানো হয়েছে একটি উদাহরণ দিয়ে। যেমন, গভীর মনোযোগে একটি সুর যদি ক্রমাগত শোনা হয়, মস্তিষ্কের যে অংশের মাধ্যমে এটি অনুভূত হয় তা ক্রমশ বিকশিত হতে থাকে। আর মূলত এ মনোযোগই কোনো একটি কাজে আমাদেরকে দক্ষ ও চৌকস করে তোলে।  ব্রেনে ডোপামিনের প্রবাহ বাড়িয়ে স্মৃতিশক্তিকে উদ্দীপিত করার জন্যে ইদানীং কিছু কিছু ওষুধ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পেনসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট মার্থা ফারাহ্ পরিচালিত একটি গবেষণায় একদল স্বেচ্ছাসেবককে দুটি গ্রুপে ভাগ করে এক গ্রুপকে এসব ওষুধ সেবন করানো হয় আর অন্য গ্রুপকে শুধু প্লাসিবো অর্থাৎ ইতিবাচক বিশ্বাসে উজ্জীবিত করা হয়। পরবর্তীতে দুটি দলের কর্মদক্ষতায় ফারাহ্ কোনো পার্থক্য খুঁজে পান নি। এ গবেষণার ফলাফলে তিনি বলেন, ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে ডোপামিনের প্রবাহ বাড়িয়ে আপনি নিজেই আপনার ব্রেনকে উদ্দীপ্ত করতে পারেন। উপরন্তু, ইতিবাচক চিন্তার ফলে আপনার বিশ্বাসের শক্তি বাড়বে, যা কখনো ওষুধের মাধ্যমে সম্ভব নয়।  স্ট্রেস মস্তিষ্কের নিউরোনের ক্ষতির কারণ। স্ট্রেসের ফলে নিঃসৃত কর্টিসোল হরমোন নিউরোনের আবরণ মায়েলিন শিথ্-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেবল তা-ই নয়, নিউরোনগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগকেও বাধাগ্রস্ত করে তোলে কর্টিসোল। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন, স্ট্রেসমুক্ত থাকতে পারলে মস্তিষ্কের সম্ভাবনাকে বহুগুণে বাড়াতে পারবেন। আর মেডিটেশন যে স্ট্রেসমুক্ত করে, দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ দূর করে তা এখন প্রমাণিত সত্য।  হলো, বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্ককে শাণিত করে তোলা সম্ভব আমাদের সবার পক্ষেই। এজন্যে প্রথমত প্রয়োজন মেডিটেশন। কারণ, মস্তিষ্কের যে অংশটি আমাদের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত মেডিটেশনে তার পুরুত্ব বাড়ে। আর কাজে মনোযোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে আমাদের কর্মদক্ষতা। মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্টিস্ট আমিশি ঝা বলেন, মেডিটেশনের প্রভাবে মনোযোগ বাড়ে এবং আমাদের মস্তিষ্কের কর্মকাঠামো পরিবর্তিত হয়। আমরা হয়ে উঠি আগের চেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত, চৌকস ও কর্মতৎপর।  নিয়মিত মেডিটেশন করলে মনোযোগ এবং আরো বেশি সচেতনতা নিয়ে কাজ করা যায়। কেউ কেউ বলেন, তাহলে দুপুরের খাওয়ার পর কিছুটা ঘুমিয়ে নিলেও কি একইভাবে চাঙ্গা হওয়া যায় না? না, বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব কেন্টাকির বায়োলজির প্রফেসর ব্রুস ওহারা। তিনি একদল কলেজ ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে একটি গবেষণা চালান, যেখানে নিদিষ্ট সময়ের জন্যে তাদের কিছু সংখ্যককে মেডিটেশন, কিছু সংখ্যককে ঘুম এবং বাকিদেরকে টেলিভিশন দেখানো হয়। এরপর একটা নির্দিষ্ট স্ক্রিনে বাতি জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বলা হয় একটি নির্দিষ্ট বোতাম টিপতে। এ পরীক্ষায় দেখা গেল, যারা মেডিটেশন করেছে তারা অন্যদের চেয়ে দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে তা করতে পেরেছে। যারা ঘুমিয়ে ছিল তাদের তৎপরতা ছিল তুলনামূলক ধীর। অর্থাৎ মেডিটেশনের ফলে মস্তিষ্কের সু-সমন্বয় এবং তৎপরতা বাড়ে। মেডিটেশনের এ ইতিবাচক প্রভাবের কারণেই ডয়েচ ব্যাংক, গুগল বা হাগস্ এয়ারক্রাফটের মতো বড় বড় ব্যবসায়িক কর্পোরেশনগুলো তাদের কর্মীদের জন্যে মেডিটেশন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে। তারা দেখছে, এতে করে তাদের কর্মীদের মেধা শাণিত হবার পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কর্মীদের অসুস্থতার হার কমেছে, কমেছে কাজে অনুপস্থিতির হারও। ভারতীয় বিদ্যাভবনে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে পড়ুয়াদের পাঁচ মিনিট মেডিটেশন করাচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। একেবারে ক্ষুদেরাও যেমন রয়েছে, তেমনি বাদ যাচ্ছে না একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারাও। চীনের স্কুলগুলোতে মেডিটেশন চর্চার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। নতুন স্কুল, নতুন ক্লাস, নতুন সেমিস্টার এবং নতুন সিলেবাস নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে সাধারণ ভীতি কাজ করে, তা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন স্কুলে গঠন করা হয়েছে মেডিটেশন ক্লাব। প্রতি বৃহস্পতিবার এই ক্লাবের সদস্য শিক্ষার্থীরা মেডিটেশন ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়। ফলে দেখা গেছে, অন্যান্যদের তুলনায় তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে এবং পরীক্ষায় তাদের ফলাফলও আগের থেকে ভালো।    টিআর/   

কথাবার্তায় পারদর্শী হওয়ার ৭টি উপায়

মানুষের কথোপকথন বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার গোপন রহস্য আসলে কী - তা কখনোই মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়নি। কথোপকথনকে আরও ধারালো ও উন্নত করতে পারলে সবদিকেই সফল হওয়া যায়। ব্রিটিশ লেখক মাইকেল রোজেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে কীভাবে কথোপকথনকে আরও ভাল করে তোলা যায় সেটা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। নিজ বাড়ি থেকে শুরু করে অফিসের বোর্ডরুম কিংবা বৈশ্বিক পরিসরে যেকোনো ধরণের সমস্যার সমাধান বা দ্বন্দ্বের অবসানে একটি কার্যকর কথোপকথনের কোন বিকল্প নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত `দ্য টকিং রেভোলিউশন` বইটির লেখক এডি কানফোর-দুমা এবং পিটার অসবর্নের সাথে রোজেন মিলে - কথোপকথন কীভাবে ভাল করে তুলতে হয় তার সাতটি উপায় বের করেছেন। ১. আগে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন: আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিনিয়ত `ট্রান্সমিট মোড` বা কথা বলার মোডে থাকে। এবং তাদের পক্ষে সেই মোড পরিবর্তন করে `রিসিভিং মোড` অর্থাৎ অন্যের কথা শোনার মোডে যাওয়াটা অনেক কঠিন মনে হয়। এই পরিবর্তন করতে না পারাই ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সম্পর্কগুলোয় সমস্যা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। বইটিতে, বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাতটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়। আর এ ব্যাপারে স্টিফেন কোভি বলেছেন, অন্য কেউ আপনাকে বুঝবে এটা আশা করার আগে আপনি অন্যকে বোঝার চেষ্টার করুন। আর এ জন্য অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং নিজের মতামত দেয়ার আগে বা চ্যালেঞ্জ করার আগে তারা কী বলছে সেটা পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করা বেশ জরুরি। ২. আপনি যে বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রকাশ করুন: যদি আপনি অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন, তাহলে সেটা প্রকাশ করুন। আপনি কি শুনেছেন বা বুঝেছেন সেটা তাকে বলুন। কিছু যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন, যেমন "ঠিক বলেছেন" বা "আমি আপনার জায়গায় হলে এতো ভাল থাকতে পারতেন না।" -এই কথাগুলো এটাই ব্যাখ্যা করে যে আপনি এই কথোপকথনের তরঙ্গে ভাসছেন। যখন অপর ব্যক্তি বুঝতে পারে যে আপনি তাকে বুঝতে পারছেন, তখনই আপনি তাকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা তার কোন বক্তব্য বা ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে সেটা অবশ্যই তখন করবেন, যখন আপনি তার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা বেশ জরুরি - সেটা তার কথা শোনার মাধ্যমে, তার প্রয়োজনকে শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে বা সেটাকে বোঝার মাধ্যমে হতে পারে। এভাবে আপনি একটি সংযোগ তৈরি করেন যার মাধ্যমে প্রকৃত যোগাযোগ প্রবাহিত হতে পারে। ৩. সৃজনশীল সমাধানে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা: এডি এবং পিটার `সৃজনশীল কথোপকথন` নামে একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন যেটা কিনা একজনের ব্যাপারে আরেকজনের মধ্যে নতুন চিন্তাভাবনা এবং বোঝাপড়া তৈরি করতে সাহায্য করে। এজন্য অন্য মানুষের কথার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়া এবং আপনি তাকে কতোটুকু বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। এটি মানুষের মধ্যে কখনও কখনও নতুন অন্তর্দৃষ্টি জাগিয়ে তোলে যেটা কিনা আলাদাভাবে হয় না। এছাড়াও, আপনি যদি আপনার বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি অপর ব্যক্তিকে আরও খোলামেলা হতে, ভাগ করে নিতে, আরও বেশি নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করতে সাহায্য করে। যা তাদের নিজেদের চিন্তাধারাগুলোকে অন্বেষণ করতে সহায়তা করে। এছাড়া আপনার মধ্যেও এমন নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং যেটা আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেও সাহায্য করবে। ৪. অভ্যাসে বিরতি নিন: আমরা আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকেই নিজেদের কথোপকথনের অভ্যাস পেয়েছি। অনেক সময় আমরা নিজেদের সেই কথোপকথনের ব্যাপারে সচেতন থাকিনা। অনেক সময় আমরা অন্যের কথার মাঝখানে কথা বলতে শুরু করি বা অপ্রাসঙ্গিক অন্য কোন আলাপের দিকে চলে যাই। এতে কোন কথারই কোন মানে থাকেনা। এবং কথোপকথন তার রেশ হারায়। চেষ্টা করুন কখন এই সমস্যাটি হয়, এটার কোন প্যাটার্ন থাকলে সেটা বের করার। এই অভ্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের কথা শোনার এবং তা বোঝার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ৫. সমালোচনার জন্য শুনবেন না: কিছু লোক শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে আর তা হল অন্যের সমালোচনা করতে এবং বিরোধী পক্ষকে পাল্টা তীরের ছুঁড়ে ঘায়েল করতে। রাজনীতির জগতে আমরা প্রতিদিন এমন কিছু দেখি, যেখানে মানুষ বিভিন্ন দল গঠন করে এবং এই বিভাজন নিয়ে কথা চালিয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, আপনার কথা শোনার কারণ যেন অন্যকে ঘায়েল করা না হয় - এজন্য একটি যুক্তির দুটি দিক সম্পর্কেই ভালভাবে শুনে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ৬. অনুশীলন নিখুঁত করে তোলে: এডি এবং পিটার দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি অনুশীলনের আয়োজন করে যেখানে ওই দুই ব্যক্তির সেটাই প্রথম দেখা। অনুশীলনের সময় দুইজনকে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। একজনকে বলা হয় নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে, এবং অপরজনকে বলা হয় সেই কথা শুনে বুঝতে। এর মাধ্যমে তাদের এমন একটি বিষয় খুঁজে বের করতে বলা হয় যার ব্যাপারে দুজনই ভিন্নমত পোষণ করে। এটি সেই ব্যক্তিদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কারও কান ধার পাওয়াটা কতো বিরল এবং আশ্চর্যজনক একটি উপহার। এই দক্ষতাটি বন্ধুদের সাথে অনুশীলনের চেষ্টা করতে পারেন যাতে আপনি যখন সত্যি সত্যি কোন দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের মুখে পড়বেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎরে যেতে পারেন। ৭. যোগাযোগের জন্য আপনি কোন মাধ্যমটি চান সেটা বেছে নিন: মুখোমুখি যোগাযোগকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এরপর আপনি যতোই সেখান থেকে সরে আসবেন, আপনার যোগাযোগের মাধ্যমটি ততোই সংকীর্ণ হতে থাকবে। উদাহরণস্বরূপ টেলিফোনে, আপনার শারীরিক কোন উপস্থিতি নেই - সেখানে আপনার কণ্ঠ দিয়েই সব কাজ করতে হবে। আবার যখন আপনি কাউকে ক্ষুদে-বার্তা পাঠান সেখানে কোন শব্দও থাকেনা, থাকে শুধু লিখিত কথা। এবং যদি আপনি টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলিতে নাম পরিচয় গোপন করে কিছু পোস্ট করেন, সেখানে যোগাযোগের মাধ্যমটি আরও সংকীর্ণ থাকে। কেননা সেখানে ব্যক্তির পরিচয় ছদ্মনাম দ্বারা লুকানো থাকায় তার কথোপকথন অপমানজনক এবং অবমাননাকর হতে পারে। তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাধ্যমের ক্ষমতা বুঝতে পারাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর কথোপকথনের জন্য যখন যেখানে সম্ভব মুখোমুখি যোগাযোগের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। বিবিসি বাংলা এসি  

সম্পর্কে ভাল থাকার ৫ কৌশল

যে কোনও সম্পর্কেই ভাল-মন্দের আলো-ছায়ার খেলা চলতেই থাকে। আর প্রেমের সম্পর্ক হলে তো কথাই নেই! মান-অভিমান, আবেগ, উত্তেজনা ও আরও নানা জটিল মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ জড়িয়ে থাকে এ জাতীয় সম্পর্কে। তাই খুব সাবধানে, সচেতনভাবে সম্পর্কের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে সামলাতে হয়। সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি বা অবিশ্বাস সম্পর্ককে শেষ করে দিতে পারে চিরতরে! তাই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী বা চিরস্থায়ী করতে মেনে চলুন এই ৫টি অব্যর্থ কৌশল- ১) কাজের চাপ যতই থাকুক না কেন, শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও একে অপরের জন্য সময় বের করুন। দু’জনে দু’জনকে যতটা সম্ভব সময় দিন। সঙ্গীর সঙ্গে যতটা সময় কাটাবেন ততই একে অপরের পছন্দ আপছন্দ সম্পর্কে জানবেন। একে অপরকে বুঝতে পারবেন। ২) একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন। ইতিবাচক কথা। সঙ্গীর প্রতি আপনার ভালবাসা ব্যক্ত করুন, কৃতজ্ঞতা জানান, তার প্রশংসা করুন। এর ফলে সম্পর্ক আরও সুন্দর, আরও গভীর হবে। ৩) উপহার পেতে আমরা সবাই খুব ভালবাসি। মাঝে মধ্যেই, কোনও বিশেষ কারণ বা উপলক্ষ ছাড়া ছোট ছোট উপহার দিন আপনার সঙ্গীকে। এর ফলে আপনারা একে অপরের জন্য কতটা ভাবেন বা একে অপরের কতটা খেয়াল রাখেন, তা বোঝা যায়। ৪) স্পর্শ যে কোনও সম্পর্কের জন্যই খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। স্পর্শ একে অপরের প্রতি অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। সম্পর্কের আবেগ, উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ মানুষের কাছ থেকে বিশেষ স্পর্শ বা ছোঁয়া মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অক্সিটোসিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সঙ্গীর হাত ছোঁয়া, হাত ধরা, ভালবেসে জড়িয়ে ধরা, কাঁধে বা বুকে মাথা রাখা সম্পর্কের গভীরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ৫) শুধু কথায় নয়, মুখে যা বলছেন, সঙ্গীর জন্য কাজে তা করে দেখান। পরিস্থিতি বা সুযোগ বুঝে সঙ্গীকে এমন কিছু করে দেখান, যাতে তিনি বোঝেন আপনার জীবনে তার জায়গা বা গুরুত্ব কতটা! সূত্র: জি নিউজ একে//

মশা তাড়াতে চান? এসব গাছ লাগান

শীতের আমেজ প্রায় শেষ। একটু একটু করে প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। গরম বাড়তেই ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব। তাই মশা তাড়ানোর ধূপ, তেলের বিক্রি বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু মশা তাড়ানোর বাজার চলতি ওই সব ধূপ, তেলের রাসায়নিক যুক্ত ধোঁয়া মশা তাড়ায় ঠিকই, তবে তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যেও মারাত্মক ক্ষতিকর! রাসায়নিক যুক্ত এই ধোঁয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আমাদের শ্বাসযন্ত্র। ভাবছেন, তাহলে কি সারাদিন মশারি টাঙিয়ে তার মধ্যে ঢুকে বসে থাকবেন? মোটেই না! এমন বেশ কয়েকটি গাছ আছে, যেগুলির গন্ধ মশা মোটেই সহ্য করতে পারে না। ওই গাছগুলি যদি বাড়ির আশেপাশে লাগানো যায়, তাহলে তার গন্ধের চোটে এলাকা ছেড়ে পালাবে মশার দল! আসুন এ বার জেনে নেওয়া যাক কোন কোন গাছ লাগালে মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব... ১) গাঁদা ফুলের গন্ধে শুধু মশা নয়, যে কোনও পোকা-মাকড়ই এর ধারে কাছে ঘেঁষে না। তাই বাড়ির চারপাশে গাঁদা গাছ লাগান। দূরে থাকবে মশা, মাছি, পোকা-মাকড়। একই সঙ্গে বাড়বে বাড়ির শোভাও! ২) তুলসির একাধিক স্বাস্থ্য ও আয়ুর্বেদিক গুণের আমরা অনেকেই জানি। তুলসি গাছ পরিবেশকে জীবাণুমুক্ত, বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। তুলসির গন্ধ মশা, মাছি, পোকা-মাকড়কে দূরে রাখে। তাই বাড়িতে টবে হলেও তুলসি গাছ লাগান। ৩) লেবু পাতার গন্ধ মশা, মাছি একেবারেই সহ্য করতে পারে না। তাই মশা তাড়াতে বাড়িতে লেবু গাছ লাগাতে পারেন। ৪) রসুন শুধু রান্নায় স্বাদ বাড়ায় না, একই সঙ্গে দ্রুত ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। কিন্তু জানেন কি, বাড়িতে রসুন গাছ লাগালে মশার উপদ্রব থেকেও সহজে মুক্তি পাওয়া যায়! বিশ্বাস না হলে বাড়িতে রসুন গাছ লাগান আর ফল পান হাতেনাতে। এ ছাড়াও ল্যাভেন্ডারের গন্ধ মশা, মাছি একেবারেই সহ্য করতে পারে না। বাড়িতে ল্যাভেন্ডার গাছ লাগাতে না পারলেও ল্যাভেন্ডারের গন্ধ যুক্ত সুগন্ধি বা রুম ফ্রশনার ছড়িয়ে দিন। এতেও মশার উপদ্রব থেকেও সহজে মুক্তি পাওয়া যাবে! সূত্র: জি নিউজ এসি  

সুস্থ সম্পর্ক গড়তে প্রয়োজন ৮টি উপকরণ

প্রেম করা আর সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা এক নয়। সত্যিই যারা দীর্ঘস্থায়ী এবং সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান তাদের ভালবাসার মানুষের সঙ্গে, তাদের কাজটা কিন্তু খুব সহজ নয়। ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং মনস্তত্ত্ববিদ আন্দ্রেয়া বনিওর একটি প্রতিবেদনে লিখেছেন সেই ৮টি উপকরণ প্রসঙ্গে, যা প্রয়োজন সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে- বিশ্বাস এটি সম্পর্ক তৈরির মূল ভিত্তি। এটা না থাকলে কোনও সম্পর্কই ভালভাবে দানা বাঁধতে পারে না। যতই আবেগপ্রবণ হোক সম্পর্ক, অচিরেই ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা যদি বিশ্বাস না থাকে।  আচরণ পারস্পরিক যোগাযোগ যত ভাল হবে, ততই বা পরস্পরের প্রতি প্রকাশভঙ্গিমা সৎ এবং সশ্রদ্ধ হবে। আন্দ্রেয়া লিখছেন, সব ক্ষেত্রেই এমনটা করতে পারেন না বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু যদি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক চান কেউ, তবে নিজেকে সংশোধন করা যায়।   ধৈর্য সব ক্ষেত্রেই এটা প্রয়োজন এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য তো বটেই। সহমর্মিতা সম্পর্কে রয়েছেন মানেই দু’জন মানুষের চিন্তাভাবনা এক নাও হতে পারে। পার্টনারের মতামতের প্রতি সহমর্মিতা না থাকলে সুস্থ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে না। স্নেহ এবং আকর্ষণ এই দুয়েরই প্রয়োজন সঠিক মাত্রায়। ভালবাসার মানুষের প্রতি স্নেহশীল হওয়াটা যেমন প্রয়োজন, তেমনই তার প্রতি একটা আকর্ষণও থাকতে হয়। নমনীয়তা সম্পর্কে আপসের একটা বড় ভূমিকা থাকে। আন্দ্রেয়া লিখেছেন যে একদিন-আধদিন নয়, প্রতিদিন একাধিক বিষয়ে দু’জনকে যদি দু’জনের প্রতি নমনীয় থাকতে হবে। স্বীকৃতি ভালবাসাটাই বড় কথা নয়, ভালবাসার স্বীকৃতিটা প্রয়োজন। ছোট-বড় সমস্ত বিষয়ে পার্টনারের অবদানকে প্রকাশ্যে স্বীকার করাটা দরকার। প্রগতি সম্পর্ক তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন সেই সম্পর্ক এগিয়ে চলে, এক জায়গায় স্থবির হয়ে পড়ে না। সূত্র: এবেলা একে//

প্রেমিকা বা স্ত্রী বয়সে বড় হলে মাথায় রাখুন ৭টি টিপস

বয়সটা যে বিয়ের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নয়, সেটা বহু যুগ ধরেই সবার জানা। শুধু পুরুষতান্ত্রিক ঔদ্ধত্যে এতদিন দস্তুর ছিল এটাই যে স্বামী হবেন বয়সে বড়, স্ত্রী নন। তবে সামাজিক এই ট্যাবু কাটিয়ে উঠছেন অনেকেই। প্রেমিকা বা স্ত্রী যদি বয়সে বড় হন, তবে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত- ১. তিনি বয়সে বড় মানেই তিনি সবজান্তা নন। এমনটা যদি তিনি মনেও করেন তবে প্রথমেই এই ভ্রম কাটিয়ে দিন। বয়সের কারণে যদি তিনি ডমিনেট করতে থাকেন তবে সম্পর্কটা অচিরেই বিষিয়ে উঠতে বাধ্য। ২. প্রেমিকার বয়স ভুলে গিয়ে তার সঙ্গে সমবয়সীর মতো মিশতে হবে, তবেই সম্পর্কটা প্রাঞ্জল থাকবে এবং প্রেমিকার মনে কোনও কমপ্লেক্স তৈরি হবে না। ৩. স্ত্রী বা প্রেমিকার সামনে অল্পবয়সী মেয়েদের প্রশংসা করার সময়ে একটু সচেতন থাকতে হবে। এমন কিছু মন্তব্য না করে ফেলেন যাতে তার মনে আঘাত লাগে। ৪. এই ধরনের সম্পর্ককে পরিবার মেনে নিলেও, আত্মীয়স্বজনরা সব সময় মেনে নিতে পারেন না। খেয়াল রাখতে হবে যেন তারা আপনার প্রিয় মানুষীর বয়স নিয়ে কোনও বিদ্রুপ না করেন। যদি কেউ করেনও তেমন কিছু, প্রতিবাদ করাটা একজন পার্টনারের দায়িত্ব। ৫. শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেমিকা বয়সে বড় হলে তিনি অনেক সময় অল্প উৎকণ্ঠায় ভুগতে পারেন। খুব সংবেদনশীলতার সঙ্গে সেটাকে ডিল করতে হবে। তাকে বুঝতে দেওয়া চলবে না অথচ তিনি যাতে উৎকণ্ঠা থেকে বেরিয়ে আসেন, সেটা দেখতে হবে। ৬. আপনার বন্ধুরা প্রেমিকার থেকে বয়সে অনেকটা ছোট হলে তারা আপা বলবেন না প্রেমিকাকে নাম ধরে ডাকবেন সেটা একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন। এক এক জন মেয়ের এক এক মত থাকে এই বিষয়ে। সেটা জেনে নিয়ে বন্ধুদের আগে থেকে জানিয়ে দিন। ৭. প্রেমিকা বয়সে অনেকটা বড় হলে এটা সম্ভব যে হয়তো তিনি পেশাগতভাবে অনেকটা বেশি প্রতিষ্ঠিত আপনার চেয়ে। সেটা যেন হীনমন্যতার জন্ম না দেয়, বয়স ভুলে প্রেমটা যতটা সহজে গ্রহণ করেছেন, এই বিষয়টাও ততটাই সহজে গ্রহণ করুন। সূত্র: এবেলা একে//

নিশ্চিত ব্রেকআপ বাঁচাতে করণীয়

প্রেম ভেঙে যাচ্ছে- এই সংকেত প্রত্যেকেই পায়। প্রেমিক বা প্রেমিকা, দু’জনেই বুঝতে পারেন ভিতরে ভিতরে কীভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের সেতু। ব্রেকআপ জিনিসটা এমনই তার ধাক্কা সুদূরপ্রসারী হয় অনেক সময়ই। তবে চাইলে ব্রেকআপকে আটকানো সম্ভব। জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রেকআপ বাঁচাতে কী কী করতে হবে- প্রথমে এটা ভেবে দেখুন, সত্যিই কি এই সম্পর্কটা আপনার কাছে আগের জায়গাতেই আছে? নাকি, সত্যিই সেটা ভেঙে দেওয়ার সময় এসেছে! এ প্রশ্নের উত্তর আপনাকেই দিতে হবে। ভাল করে ভেবে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। যদি সত্যিই আপনার সম্পর্ক আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে আর কোনও রকমের আনন্দ না দেয়, তার মানে সেই সম্পর্ক এবার সত্য়িই শেষ হওয়া দরকার। ব্রেকআপ থেকে বাঁচার সব থেকে ভাল উপায়, তেমন কারও সঙ্গে গভীর সম্পর্কে না যাওয়া, যার সঙ্গে আদৌ আপনার কোনও সম্পর্ক তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। যদি ভাল করে না ভেবে কোনও সম্পর্কে চটজলদি চলে যান, দেখবেন কিছু দিন যেতে না যেতেই সেই সম্পর্কের ভিতরকার অন্তঃসারশূন্যতা আপনার কাছে প্রকট হয়ে উঠবে। আপনার প্রেম যদি দীর্ঘকালীন হয় তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখুন কখনও অজ্ঞাতসারে যাতে কোনও সমস্যা আপনাদের সম্পর্কে ফাটল তৈরি করতে না পারে। এ ব্যাপারে সচেতন থাকুন। শুরুতেই যদি সেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তবে অনায়াসেই তা থেকে বড় অঘটনের সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায়। আপনার সঙ্গীকে সম্মান করুন। তিনি আপনাকে সম্মান করছেন কি না সেটাও খেয়াল রাখুন। এবং অবশ্যই দু’জনে দু’জনকে প্রয়োজনীয় স্পেস দিন। যদি তা সত্ত্বেও দেখেন পানি ক্রমশ নাকের কাছে পৌঁছে গেছে, তাহলেও ঘাবড়াবেন না। একটা শেষ ও মরিয়া চেষ্টা করতেই পারেন। সঙ্গীর সঙ্গে লম্বা কথাবার্তা চালান। যদি সেও সমান মরিয়া হয় সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে, তাহলে সমাধানের সূত্র বেরিয়ে আসবেই। প্রেমে পড়ার সময় থেকেই একটা ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। যে কোনও সম্পর্ক, তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, মাথায় রাখুন তা ভেঙে যেতেই পারে। আপনি নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন তা টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু যদি তা না টেকে, তাহলে ভেবে রাখুন সত্যিই সম্পর্ক ভেঙে গেলে নিজেকে কী ভাবে সামলাবেন। এবং সেটা আগেভাগেই ভেবে রাখতে হবে। তাহলে ব্রেকআপ হয়ে গেলেও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না। কষ্ট হবে। কিন্তু তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবেই। সূত্র: এবেলা একে//

শাশুড়ির মন জয় করার ৭ উপায়

এমনটা নয় যে একমাত্র পুত্রবধূরই দায়িত্ব শ্বশুরবাড়ির সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তৈরি করা। কিন্তু কিছুটা দায়িত্ব তার দিক থেকেও থেকেই যায়। শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কটা সহজ হয়ে গেলেই কিন্তু অনেকটা নিশ্চিন্ত হন মেয়েরা। রইল কয়েকটি সহজ টিপস— ১. শাশুড়িকে মা বলে ডাকতে অনেকের অসুবিধা হয় আর সেই আড়ষ্টতা ধরা পড়ে যায়। সেটা কিন্তু শাশুড়ির মোটেই ভাল লাগে না। তাই নতুন কোনও আদুরে নাম পাতিয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভাল। যেমন ‘মামণি’ বা ‘মামমাম’ ধাঁচের। এতে শাশুড়ি বরং খুশিই হবেন। ২. বিয়ের পরেই বেশিরভাগ মায়ের মনে হয় যে ছেলে বুঝি এখন বউয়ের, আর মায়ের নেই। ভাবনাটা অযৌক্তিক বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। তাই বিয়ের পর পরই ঝামেলা এড়াতে এবং শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কটা সহজ করতে প্রথম প্রথম একটু বেশি সময় দিন তাকে, সেটা বসার ঘরে হোক বা কিচেনে। ৩. শাশুড়ি যা ভালবাসেন, বই বা সিনেমা বা শপিং, সেই হবিতে তার সঙ্গী হয়ে যান। কখনও হঠাৎ করে বই উপহার দিন অথবা সিনেমার টিকিট কেটে সারপ্রাইজ দিন। এতেই তিনি বেশ খুশি হবেন। ৪. শাশুড়িকে সম্ভব হলে নিজে হাতে সাজান। একটু নতুন ধাঁচে চুল বেঁধে দেওয়া বা যেমন শাড়ি তিনি পরেন, তার চেয়ে অন্য রকম শাড়ি তাকে উপহার দেওয়া এই আর কী। নতুন হেয়ারকাটও ট্রাই করতে পারেন। ৫. মাঝেমধ্যে শাশুড়ির সঙ্গে সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করুন এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য আত্মীয়দের ট্যাগ করুন। এতে সম্পর্ক আরও সহজ হবে। ৬. কখনও শ্বশুর বা স্বামী অথবা শশ্বরবাড়ির অন্য কারও সঙ্গে শাশুড়িকে নিয়ে হাসিঠাট্টায় অংশ নেবেন না। বরং এ সব ক্ষেত্রে শাশুড়ির পক্ষ নিন অথবা চুপ করে থাকুন। ৭. স্বামীর উপর আপনার অধিকার বেডরুমের বাইরে খুব একটা প্রকাশ না করাই ভাল। ছেলেকে খেতে দেওয়া, ছেলের জামাকাপড় গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি বিষয়গুলো শাশুড়িরা ছেলের বিয়ে দেওয়ার পরেও করতে থাকেন। এই সবে বেশি মাথা ঘামাবেন না। আগ বাড়িয়ে সে সব কিছু করতে গেলে বরং উলটো সমস্যা হতে পারে। শাশুড়িকে বরং সময় দিন, যাতে তিনি নিজেই ওই সব দায়িত্ব আপনার হাতে তুলে দেন। সূত্র: এবেলা একে//

মেয়েদের মন জয় করার সহজ ৫ উপায়

মনে করা হয়, মেয়েদের মনমতো উপহার খুঁজে পাওয়া খুবই শক্ত। আসলে শক্ত কিছুই নয় যদি সহজ করে ভাবতে পারা যায়। উপহার যে দামি হতে হবে তেমনটা নয়, উপহার নির্বাচন থেকে উপহার দেওয়ার কায়দা- পরতে পরতে আবেগটা থাকা চাই ভরপুর, তাহলেই মন গলবে। নিচে রইল এমন ৫টি উপহারের কথা যেগুলো ‘দামি’ নয় কিন্তু প্রিয় মানবীর মন জয় করবে সহজেই- ফটো ফ্রেম ফটো ফ্রেম, দামি, কমদামি সব রকমই পাওয়া যায়। এমন একটি ফ্রেমে প্রেয়সীর সঙ্গে নিজের ছবি বন্দি করে হাতে দিন। যে কোনও মেয়েই চায় ভালবাসার মানুষের সঙ্গে নিজের ফ্রেমবন্দি মুহূর্তটা অনন্ত হোক। কফি মগ প্রেয়সী যদি খুব গুরুগম্ভীর, ইন্টালেকচুয়াল ধাঁচের না হন, তবে এই উপহারটি দিয়ে দেখতে পারেন, আশাহত হবেন না- একটি কফি মগে লিখে দিন ‘পৃথিবীর সেরা প্রেমিকা’ অথবা ইংরেজিতে ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট গার্লফ্রেন্ড এভার’। মন গলতে বাধ্য। স্কার্ফ স্কার্ফ হল পোশাকের এমন একটি অংশ, যা সব সময়েই কাজে লাগে এবং মেয়েরা সব রকম পোশাকের সঙ্গেই এটি ক্যারি করতে পারেন। তাছাড়া যে কোনও বয়সেই মেয়েদের এই উপহারটি দেওয়া যায়। উপহার নিয়ে দ্বন্দ্বে থাকলে চোখ বুজে একটা ভাল স্কার্ফ কিনে ফেলুন। আংটি আংটি হল এমন একটা গয়না, যা সব মেয়েরাই তাদের প্রেমিকের থেকে পেতে পছন্দ করেন। ব্যতিক্রমদের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা। আর আংটি মানেই তা মহার্ঘ হতে হবে এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি। তবে আংটি দেওয়া মানে কিন্তু প্রেমে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া, প্রায়-এনগেজমেন্ট হয়ে যাওয়া। তাই আংটি দেওয়ার আগে একটু ভেবে নেওয়া জরুরি। আংটি পাওয়ার পরে বেশিরভাগ মেয়েই মনে করে যে এবার প্রেমটি পাকাপোক্ত সম্পর্কের দিকে এগোবে। ফুল ফুল- যখন-তখন, যে কোনও সময়। কথায় বলে, যে মানুষ ফুল এবং শিশুদের পছন্দ করে না, সেই মানুষের মধ্যে খুনে-সত্তা লুকিয়ে থাকে। আর যে প্রেমিক কখনও প্রেমিকাকে ফুল উপহার দেননি, তিনি আদতে প্রেমিকই নন। এই সহজলভ্য উপহারটিতে মেয়েদের মুখে হাসি ফোটানো যায় সবচেয়ে সহজে। সূত্র: এবেলা একে//

সম্পর্ক ভালো রাখার দাওয়াই ‘স্পর্শ’: গবেষণা

দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্কের শুরুটা সব সময়েই ভাল হয় কিন্তু দীর্ঘ সময় সেটা ভাল রাখাটাই হল আসল চ্যালেঞ্জ। দু’জন দু’জনকে মনে মনে পাগলের মতো ভালবাসলেই হবে না, সেটা কাজে প্রমাণ করাটা প্রয়োজন যেমন, তেমনই স্পর্শ করে বুঝিয়ে দেওয়াটাও দরকার, এমনটাই বলছেন মনোবিদ এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত একবার উত্তেজক স্পর্শ প্রয়োজন দম্পতিদের মধ্যে। প্রতিদিনের এই রোম্যান্টিক মুহূর্তগুলো যদি না থাকে, তবে আর সম্পর্ককে প্রেম-ভালবাসা না বলে বিজনেস পার্টনারশিপ বলাই ভাল। ‘স্পর্শ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে একাধিক গবেষণা রয়েছে-  ১. মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টাচ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর মনোবিদ টিফানি ফিল্ড এই বিষয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক যাবত গবেষণা করছেন। তার বক্তব্য, ভালবাসার মানুষের স্পর্শ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, সেটা সম্পর্কজনিত স্ট্রেস হোক বা পেশাগত অথবা অন্য কোনও স্ট্রেস। ২. প্রায় একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পাভেল গোল্ডস্টেইনের বক্তব্যে। ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে স্বামী বা স্ত্রী অথবা প্রিয় মানুষের স্পর্শ শারীরিক যন্ত্রণা প্রশমতি করতে প্রভূত সাহায্য করে। ৩. ভালবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরলে বা তাকে স্পর্শ করলে যে সম্পর্কের টান বাড়ে, সেটা বুঝতে গবেষণাপত্রের প্রয়োজন নেই। এই বিষয়ে কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষক হেলেন ফিশারের বক্তব্য, ‘স্পর্শ করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, আমাদের মস্তিষ্কই ওইভাবে তৈরি হয়েছে।’ এই সব দিক বিচার করেই সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, থেরাপিস্ট, মনোবিদদের বক্তব্য, দিনের মধ্যে যত বেশিবার ভালবাসার মানুষকে স্পর্শ করা যায়, ততই ভাল থাকবে সম্পর্ক। কারও মতে, দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ বার মিনিংফুল টাচ-এ বৈবাহিক সম্পর্ক মজবুত হয়। আবার প্রেমিক-প্রেমিকারা যদি দিনে অন্তত একবার পরস্পরকে স্পর্শ করেন, তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।  সূত্র: এবেলা একে//

বন্ধুর মুখোশে লুকিয়ে থাকা শত্রু চেনার ৫ উপায়

বিষয়টা নতুন কিছু নয়, কমবেশি সবাইকেই জীবনে এমন মানুষের পাল্লায় পড়তে হয়েছে। ইংরেজিতে এই ধরনের মানুষের জন্য রয়েছে একটি মজার শব্দ- ‘ফ্রেনেমি’। অর্থাৎ এমন এক ‘ফ্রেন্ড’, যে কি না আদতে ‘এনিমি’। তাহলে কী করে চিনবেন এমন বন্ধুর মুখোশে শত্রুকে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি লক্ষণ- ১. আপনি ভাল কিছু করলে, কোনও কঠিন কাজে সফল হলে, সেই বিশেষ ’বন্ধু’টি কিন্তু খুশি হন না। সেটা তার হাবেভাবে প্রকাশ পাবেই। যতটা উচ্ছ্বাস আপনি আশা করছেন, ততটা যদি না হয়, তবে সেটা একটি বড় লক্ষণ। ২. এই ধরনের মানুষ সর্বক্ষণ আপনার খুঁত ধরতে থাকে। আপনার চিন্তা-ভাবনা, রুচি-পছন্দ, কাজ, পোশাক-আশাক, আত্মীয়স্বজন, অন্য বন্ধুবান্ধব- সব কিছুই যেন তার চোখে খারাপ। ৩. ফ্রেনেমি চেনার সবচেয়ে বড় উপায় হল যদি সেই ব্যক্তি যখন-তখন মজা করার ছলে আপনাকে জনসমক্ষে অপমান করেন। কোনটা মজা আর কোনটা অপমান, যে কোনও পরিণত মানুষ সেটা বোঝে। এমন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন। ৪. এই ধরনের মানুষেরা অত্যন্ত স্বার্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকেন। নিজের কাজের সময়টুকু নিয়ে তারা খুব সচেতন। আপনার কোনও প্রয়োজনেই তারা কিন্তু সেই সময়টুকু দেবে না। ৫. ফ্রেনেমিরা সচরাচর খুবই উচ্চকিত ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট পছন্দ করেন। যে কোনও বন্ধুত্বেই ওঠাপড়া থাকে। কিন্তু ফ্রেনেমিরা সব সময় বন্ধুত্বে ক্রাইসিস চায়। ভাল থাকা তাদের পোষায় না। সূত্র: এবেলা একে//

হার্টের অসুখ ঠেকাতে রুটিনে যোগ করুন এই অভ্যাস

অনেকেই মনে করেন, হার্ট ভাল রাখতে গেলে সপ্তাহে পাঁচদিন কম করে ৩০ মিনিট বা সব মিলিয়ে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাপের এমন ব্যায়াম করতে হয়, যাতে হার্টরেট বাড়ে। যেমন, জোর কদমে হাঁটা, জগিং, সাঁতার, সাইকেল চালানো ইত্যাদি৷ এবার হার্ট ভাল রাখতে আরও কিছু কৌশল ও উপায়ের কথা জানালেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেল, এর পাশাপাশি দিনে মিনিট ২০ যোগা, প্রাণায়াম, ধ্যান করলে শুধু যে হার্ট ভাল থাকে তা নয়, যে যে কারণে ইসকিমিক হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে- যেমন, ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রণে থাকে৷ বিভিন্ন গবেষণাপত্রে এর স্বপক্ষে যুক্তিও পাওয়া গেছে৷ ইউরোপিয়ান জার্নাল অব কার্ডিওভ্যাসকুলার নার্সিং পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে গবেষকরা জানিয়েছেন, অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের রোগীরা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট হালকা যোগা করলে ১২ সপ্তাহের মাথায় তার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ অনেক স্থিতিশীল হয়৷ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়৷ উন্নত হয় জীবনযাপনের মান৷ ইসকিমিক হৃদরোগের এক বড় কারণ হল শুয়ে-বসে থাকা। গবেষকরা দেখেছেন, সপ্তাহে অন্তত দিন দুয়েক যোগা করলেও দশ সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ আগের চেয়ে বেশি নিয়মনিষ্ঠ ও কর্মক্ষম হন৷ হৃদরোগের আশঙ্কা কমে৷ ‘অল্টারনেটিভ থেরাপিস ইন হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন’ জার্নালে‌ প্রকাশিত হয়েছিল এই প্রবন্ধ৷ এ ছাড়াও ‘আমেরিকান জার্নাল অব হাইপারটেনশন’-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন মোটামুটি ৮ সপ্তাহ যোগা ও প্রাণায়ামের করার পরই উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ কমতে শুরু করে৷ শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও মানসিক চাপ কমানোই এর অন্যতম কারণ৷ এই গবেষণার জন্য ৪০ জন হৃদরোগীকে যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি ৮–১০ সপ্তাহের মধ্যে ১৬ বার যোগা করানো হয়। দেখা যায়, অন্যান্য উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি তাদের শ্বাসকষ্ট প্রায় ২২ শতাংশ কমে গেছে৷ ‘মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স ইন স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই প্রবন্ধ৷ জার্নাল অফ অ্যামেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ থেকে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে যে এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন নামে দ্রুত ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের যে মারাত্মক অসুখ আছে, যা থেকে যখন–তখন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, তার প্রকোপও কম থাকে নিয়মিত যোগা করলে৷ যদিও এই তত্ত্বকে দৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে আরও গবেষণার দরকার, কিন্তু কিছুটা যে উন্নতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মনে সন্দেহ নেই৷ ৪৯ জন এট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের রোগীকে যোগা করানোর পর দেখা যায় তাদের রক্তচাপ ও হার্টরেট খানিকটা কমেছে৷ ও বেশ কিছু দিন নিয়মিত করার পর বিপদের আশঙ্কা আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে৷ আসলে হৃদরোগ, মেদবাহুল্য, ডায়াবিটিস, মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপ থাকলে যোগা শুরু করার আগে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ যোগা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি৷ অন্য ক্রনিক অসুখ থাকলেও একই কথা৷ ব্যথা–বেদনা থাকলে যথাযোগ্য সাবধানতা না গিয়ে যোগা করলে ব্যথা বেড়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়তে পারেন৷ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি