ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৪২:১৪

বাবার জন্য দোয়া চাইলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে

বাবার জন্য দোয়া চাইলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে

সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজওয়ার বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন। বাবাকে হারিয়ে নির্বাক আহনাফ মুখ দিয়ে একটি কথাই বেড়িয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, ‘বাবার জন্য দোয়া করবেন।’ শনিবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রামের দক্ষিণ পূর্ব মাদারবাড়িতে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। পরিবারে পক্ষ থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ গ্রহণ করেন তার মামা আব্দুল হালিম লোহানী। সেখানেই এসব কথা বলেন আহনাফ। এদিকে প্রিয় শিল্পীকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দক্ষিণ পূর্ব মাদারবাড়িতে হাজির হন হাজারো ভক্ত। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তার কফিন সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। জানাজা শেষে তাকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। এসএ/
নানা বাড়িতে আইয়ুব বাচ্চু, মানুষের ঢল

কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর নিষ্প্রাণ দেহ নেওয়া হয়েছে তার নানা বাড়িতে। শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে শাহ আমানত বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছায়। সেখানে ১০টা ৫০ মিনিটে মরদেহটি গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। পরে ১১টা ১০ মিনিটে মরদেহবাহী গাড়ি দক্ষিণ পূর্ব মাদারবাড়িতে আইয়ুব বাচ্চুর নানার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। এদিকে প্রিয় শিল্পীকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দক্ষিণ পূর্ব মাদারবাড়িতে হাজির হয়েছেন হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী। বিশৃঙ্খলা এড়াতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন শিল্পীর নানার বাড়িতে ভীড় না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। নানার বাড়ি থেকে তার মরদেহ জানাজার জন্য নেওয়া হবে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদে। সেখানে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তার কফিন সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। জানাজা শেষে তাকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।আইয়ুব বাচ্চুর মামা আব্দুল হালিম লোহানী বলেন, ‘আমাদের আইয়ুব বাচ্চু দেশবরেণ্য শিল্পী হয়েছিল। কিন্তু এত বড় শিল্পী হওয়ার পরও সে আমাদের খুব শ্রদ্ধা করতো। বাচ্চু বলতো, আপনি তো মামা, মানে মা মা, দুইটা মা। পায়ে ধরে সালাম করতো। খুব দানবীর ছিল। ৬০টা গিটার ছিল তার। এগুলো নিলামে দিয়েছিল। পরে সেটা বন্ধ করে দেয়। আমাকে বলেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দিতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কথা বলতে। পরে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। তার মনোবল খুব শক্ত ছিল। আমরা সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই।’ এসএ/

‘যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, আইয়ুব বাচ্চু সেটা বাজায় না’ 

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। নব্বই এর দশকে ধ্রুবতারার মতো আগমন ঘটে আইয়ুব বাচ্চুর। তার নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশে বিদেশে। তাকে নিয়ে এখন অনেকেই স্মৃতিচারণ করছেন, লিখছেন, বলছেন নানা মাধ্যমে।    আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে একটি লেখা স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুকে দেখা যায়। যেখানে গিটার প্রেমিক আইয়ুব বাচ্চুর দেশপ্রেমের এক দারুণ গল্প উঠে এসেছে। সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর সেই গল্পটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। লেখাটির সঠিক উৎস জানা যায়নি। সংগৃহীত বলে লিখেছেন।    আবেগঘন সেই স্ট্যাটাসে লেখা হয়েছে, `বিদেশি এক গিটারের দোকানে গিয়ে এক বাংলাদেশি ভদ্রলোক কাছাকাছি রাখা গিটারগুলো নেড়েচেড়ে দেখছেন। হঠাৎ অদূরেই একটা গিটারের উপর চোখ পড়ল তার। কাঁচের বাক্স বন্দী। দোকানিকে এটার কথা বলতেই সে ভদ্রলোকের আপাদমস্তক একবার পরখ করে নিল। কোন দেশ থেকে এসেছে -জিজ্ঞেস করল। তারপর যা বলল তার অর্থ দাঁড়ায়, `এই গিটার তোমার মত বাংলাদেশি লোকের জন্য না, এটা এখানকার সবচেয়ে দামি গিটার, তুমি বরং অন্যটা দেখ`। ভদ্রলোক যারপর নাই ব্যথিত হলেন। সবচেয়ে কষ্ট পেলেন এই ভেবে যে বাংলাদেশের এক লোককে তারা মোটামুটি অপমানই করল। দোকানিকে বললেন, `তুমি একবার আমাকে একটু দেখতে দাও, আমি এবং আমার টিমের কাছে যত ডলার আছে আশা করি আমরা এটা নিতে পারব`। কিছুটা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে গিটারটা দেখতে দিল সে। তারপরেরটা একটা ইতিহাস।’ গিটার হাতে পেলেই ভদ্রলোক যেন কেমন হয়ে যান। এমনই বাজানো শুরু করলেন যে আশপাশে জনসমাগম হয়ে গেল। সেই দোকানির চোখ তখন আকাশ স্পর্শ করেছে। গিটার ফেরত দিতে গেলে দোকানি বলল, `তুমি তো অসাধারণ বাজাও, এই গিটারতো তোমার জন্যই, এটা আমি তোমাকে অর্ধেক দামেই দিব`। ভদ্রলোককে বিনয়ের সঙ্গে বাচ্চু বললেন, `এটা তুমি আমাকে বিনে পয়সায় দিলেও নিব না, তুমি আমার দেশকে অপমান করেছ`। দোকানি ক্ষমা চাইলেও সেই গিটার আর দিতে পারল না। যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।` বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। এসি  

‘সাত জনমের সৌভাগ্য যে, তার ভাই হতে পেরেছি’ 

হিমঘরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। শহীদ মিনার, জাতীয় ঈদগাহ এরপর শুক্রবার বিকেলে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানাজার আগে আইয়ুব বাচ্চুর ছোটভাই ইরফান ছট্টু কিছু কথা বলেন।      তিনি বলেন, ‘সাত জনমের সৌভাগ্য যে, আমি আইয়ুব বাচ্চুর ভাই হতে পেরেছি। আমার ভাইয়ের জন্য মানুষ কতটা পাগল, তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তার জন্য মানুষ আমাকেও চেনে, সম্মান করে। ভাইয়ের জন্য আরেক ভাই সম্মান পায়, এটা অনেক বড় পাওয়া। একটাই অনুরোধ, আইয়ুব বাচ্চু হিসেবে তাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা রেখে দেবেন। আর কিচ্ছু চাই না।’    ইরফান ছট্টু আরও বলেন, ভাইজান সব মানুষের আপন ছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর দেশ ও বিদেশের মানুষ তার জন্য কাঁদছেন, এতেই প্রমাণ হয় ভাইজান মানুষের কত আপন ও প্রিয় ছিলেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তার জন্য শুধু দুহাত তুলে দোয়া করবেন। তিনি যেন ভালো থাকেন। কারও মনে ভুলেও কষ্ট দিয়ে থাকলে সেসব ক্ষমা করে দেবেন।’ নামাজে জানাজায় চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজসহ উপস্থিত ছিলেন ইবনে হাসান খান, আব্দুর রহমান, হেলাল খান, ইজাজ খান স্বপন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আব্দুর নূর তুষার, তানভীর খান, নির্মাতা সালাহ্উদ্দিন লাভলু, বাপ্পা মজুমদার প্রমুখ। আইয়ুব বাচ্চুর দুই সন্তান মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব অস্ট্রেলিয়া ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব কানাডা থাকেন। তারা দেশে আসছেন। ফিরলেই তারা চট্টগ্রামে শনিবার মায়ের কবরের পাশে তার মরদেহের দাফন করা হবে। বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ ইসহাক ও মা নূরজাহান বেগম। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছিলেন সোলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট। এসি    

তার মতো শিল্পী সবার জন্য আদর্শ ও অনুপ্রেরণা: সুবর্ণা মুস্তাফা

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।      সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সর্বস্তরের মানুষ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তত্ত্বাবধানে অনুরাগী-শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, অভিনয় শিল্পী সংঘ, ডিরেক্টরস গিল্ডসহ অনেক রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, নাসির উদ্দিন ইউছুপ বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ, শাাফিন আহমেদ, রবি চৌধুরী, ফকির আলমগীর, অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাসহ আরও অনেকে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘এমন শিল্পীর জন্ম বারবার হয় না। আইয়ুব বাচ্চু ক্ষণজন্মা। তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড আন্দোলনের একজন অন্যতম পথিকৃৎ। সুরে সুরে তিনি তিন প্রজন্মকে এক সুঁতোতে বেঁধেছিলেন। তার মতো শিল্পী সবার জন্য আদর্শ ও অনুপ্রেরণা।’  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জুমার নামাজের পরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। সেখানে বাদ জুমা প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাদ আছর চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে। সেখানে আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাংলাদেশের কিংবদন্তী এই ব্যান্ড সঙ্গীতশিল্পীর মরদেহ ফের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আর সেখান থেকে শনিবার সকালে তার মরদেহ চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে তার মায়ের পাশে কবর দেওয়ার জন্য। মায়ের কবরের পাশেই চট্টগ্রাম নগরীর বাইশ মহল্লা কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চু মারা যান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ ইসহাক ও মা নূরজাহান বেগম। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছিলেন সোলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট। এসি    

শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু

কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জনতার ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন সেখানে।সম্মিলিত সংস্কৃতি জোটের উদ্যোগে তার মরদেহ আজ সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন এ গিটার জাদুকর। এরপর আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সেখানে বাদ জুমা তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মগবাজারে তার নিজের স্টুডিও এবি কিচেনে।আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে এই শিল্পীর মরদেহ ফের হিমঘরে রাখা হবে।অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তারা এলে চট্টগ্রামে শনিবার শেষ জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আইয়ুব বাচ্চু।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চু মারা যান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।এসএ/  

না ফেরার দেশে শিল্পী রঙ্গলাল দেব চৌধুরী

না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রঙ্গলাল দেব চৌধুরী (৮২)। কানাডার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় টরেন্টোর সেইন্ট মাইকেল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পি। মুক্তিযুদ্ধের এই শব্দসৈনিক শিল্পীর মৃত্যুতে টরেন্টোর শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিল্পীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। টরেন্টো ফিল্ম ফোরাম রঙ্গলাল দেব চৌধুরীর মৃত্যুতে গভেীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।  রঙ্গলাল দেব চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ৭ জুলাই মাসে মৌলভীজারের শ্রীমঙ্গলে জন্মগ্রহণ করেন। খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের আহ্বানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সঙ্গীত জীবনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে বাঙালির প্রাণের আকাঙ্ক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন খ্যাতিমান এই সঙ্গীত শিল্পী। তিনি খ্যাতিমান সুরকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথম ঢাকা ও চট্টগ্রামে বেতারে সঙ্গীত লাইব্রেরি প্রথা তার হাত দিয়েই শুরু হয়। একে//

বাচ্চুর জন্য কেঁদেছে জেমস, কাঁদলো গিটার

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর জেমস যখন পান, তখন তিনি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন মেলার কনসার্টে যোগ দিতে বরগুনার পথে। সেখান থেকেই তিনি আইয়ুব বাচ্চুর জন্য শ্রদ্ধা জানান। সেই সঙ্গে নিজের আক্ষেপও প্রকাশ করেন এই তারকা।মঞ্চে পা রেখে আইয়ুব বাচ্চুর নাম নিতে গিয়ে চাপা কান্নায় নিজের হারিয়ে ফেলেন জেমস। আবেগতাড়িত কন্ঠে ঘোষণা দেন আজকের কনসার্ট আইয়ুব বাচ্চুর জন্য উৎসর্গ করবেন তিনি। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে নগর বাউল জানান, ‘আজকের অনুষ্ঠান হোক এটাই চাইছিলাম না। কিন্তু বাচ্চু ভাইয়েরই একটা কথা মনে পড়ে গেল। একটা গল্প বলি। অনেক আগে একটা শোতে হাস্যোজ্জ্বল বাচ্চু ভাই বলেছিলেন- যাই হোক দ্যা শো মাস্ট গো অন! আজও অন। আমি চেষ্টা করছি।’এরপর আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে গিটারে সুর তোলেন জেমস। সেই সময় তিনিও কাঁদছিলেন, আর তার গিটারের সুরে ছিল কান্না। শুধু বরগুনার মঞ্চ নয়, বাচ্চুর জন্য জেমসের সেই কান্নার আবেগ ছুঁয়ে গেছে সারা বাংলাদেশ। কান্নার সেই ভিডিও শোভা পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবু সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমে। দেখুন ভিডিও : এসএ/  

সন্তানদের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর অপেক্ষা  

স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে আছেন বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। নিজ বাস ভবন থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।             বাচ্চুর দু’সন্তান। দুজনই থাকেন দেশের বাহিরে। সন্তানদের অপেক্ষায় শুয়ে আছেন হিমঘরে। বাবা-মা চিরকালই সন্তানের অপেক্ষায় থাকে। ঘর থেকে সন্তান বাইরে কোথাও বের হলেই এই অপেক্ষার শুরু হয়। এখনও সন্তানদের পথ চেয়েই যেন আছেন তিনি।   তার দুই ছেলে মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন। ছেলে আহনাফ তাজোয়ার পরিসংখ্যান নিয়ে পড়াশুনা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে। তিনি কানাডাতেই থাকেন। বাবার মৃত্যুর সময় তাই পাশে থাকতে পারেননি। আজ দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। মেয়ে রাজকুমারী থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। দু’সন্তানই বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশের উদ্যেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। সন্তানদের জন্যই আগামীকার দুপুরে জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। শুক্রবার বাদ জুম্মা জাতীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষ করে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করবে সবাই। এরপর শনিবার দুপুরে মায়ের কবরেই সমাহিত করা হবে আইয়ুব বাচ্চুকে। এসি    

দুর্গাপূজার বিশেষ অনুষ্ঠান ‘আনন্দময়ী’ 

আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর রাতে শিউলি ফোটার মৌ মৌ গন্ধের সঙ্গে ঢাকের বাজনা অনমনা মনটিতে কি যেন এক মিষ্টি মধুর ভাব এনে দেয়। শরতের এমনি দিনে দেবীর আরাধনার কাজটি গান ছাড়া অচল। তাই দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুই পর্বের পূজার গান আনন্দময়ীর আগমনে শিরোনামে গানের অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে।        মূলত: পূজা ও শরৎ নিয়ে বিভিন্ন কবিদের গাওয়া গানগুলিই এখানে স্থান পেয়েছে। পূজার নবমী দিন প্রচারিত হবে অনিমা রায় ও দেবলিনা সুরের গাওয়া গান। উপস্থাপনায় থাকবেন চম্পা বণিক। আর দশমী দিন গান করবেন প্রিয়ংকা গোপ ও সমরজিৎ রায়। এখানে শুধু গান থাকবে না থাকবে শিল্পীদের পূজোর আনন্দের নানা কথোপকথনের গল্পও। আনন্দময়ী অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন রঞ্জন মল্লিক। একুশে টেলিভিশন-এ ১৮ ও ১৯ তারিখ রাত ১০টায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে। এসি   

কেউ জানবেও না আমাদের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি কতটা জায়গা: জেমস

  আইয়ুব বাচ্চু আর জেমস বাংলাদেশের গানের গতি ধারাকে পরিবর্তন করে দেন। বাংলাদেশে রক ইতিহাসের দ্বৈরথ বলা হয় আইয়ুব বাচ্চু-জেমসকে। প্রায় তিন দশক তারা দুজনে মিলে শাসন করেছেন দুই বাংলার রক কিংবা ব্যান্ড সংগীত।    হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে চলে যান আইয়ুব বাচ্চু। এ সময় কনসার্টে অংশ নিতে এখন বরগুনায় অবস্থান করছেন জেমস। আইয়ুব বাচ্চু আর নেই এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাউন্ডচেক আর প্র্যাকটিস পর্ব বন্ধ করে দেন। বিমর্ষ হয়ে পড়েন জেমস। গত চার দশক ধরে একসঙ্গে অসংখ্যা শো আর এ্যালবাম করেছেন তারা। আর দুজনের শুরুটাও হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেই। জেমস বলেন, ‘তিনি বাংলা গানের একজন কিংবদন্তি। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে আমাদের পরিচয়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আমরা একে অপরের সুখে-দুঃখে মানে-অভিমানে কাটিয়েছি। একসঙ্গে প্রচুর শো করেছি, গান করেছি, দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। উনি অকস্মাৎ এভাবে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন, খবরটা শুনে মানতে পারছি না। রক সংগীতে তার যে অবদান সেটা এই জাতি চিরদিন মনে রাখবে বলেই বিশ্বাস করি।’ একটু থেমে আর্দ্রকণ্ঠে জেমস বলেন, ‘উনি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ ছিলেন। প্রচণ্ড রসাত্মবোধ ছিল তার মধ্যে। ওনার সাথে আমার যে সম্পর্কটা সেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে আমরা একজন আরেকজনের পাশে ছিলাম। সম্পর্কের এই গভীরতার কথা কখনও বোঝাতে পারবো না। কেউ হয়তো জানবেও না আমাদের হৃদয়ে একে অপরের জন্য কতটা জায়গা।’ জেমস বললেন, ‘আমি এখন বরগুনা আছি। এটা আমার জন্য দুর্ভাগ্যজনক। ঢাকায় থাকলে ছুটে যেতে পারতাম। বরগুনা স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যায় একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাইতে হচ্ছে। আমি খবরটি পেয়েই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের (আসাদুজ্জামান নূর) সঙ্গে কথা বলেছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজকের কনসার্টটি উনাকে (আইয়ুব বাচ্চু) ডেডিকেটেড করে করবো। কতটা প্রাণখুলে গাইতে পারবো জানি না।’ একসঙ্গে জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু আজ, ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক করেন গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু। তড়িঘড়ি তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশে প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ ও ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২) এবং সর্বশেষ ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ হলো তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)। আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’। এর কথা ও সুর তারই। শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় আরও রয়েছে ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি। রক ঘরানার গানের এই শিল্পী আধুনিক আর লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ ছবির ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানটিও পেয়েছে আকাশছুঁই জনপ্রিয়তা। এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি