ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৩৯:৪৬, বুধবার

ব্রিটেনে শিক্ষার্থীদের হাতে অনেক শিক্ষকই নির্যাতনের শিকার হন

ব্রিটেনে শিক্ষার্থীদের হাতে অনেক শিক্ষকই নির্যাতনের শিকার হন

ব্রিটেনে প্রকাশিত এক জরীপ বলছে সেখানে বহু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দ্বারা সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন। দেশটিতে জাতিয় পর্যায়ের শিক্ষকদের একটি ইউনিয়নের পাঁচ হাজারের মতো সদস্যদের উপর এই জরীপটি চালিয়েছে। অন্তত ২৪ শতাংশ শিক্ষক বলছেন তারা সপ্তাহে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হন। প্রতি ১০ জনে চারজন বলছেন তার মৌখিকভাবে হুমকি পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে মৌখিক দুর্ব্যবহার তাদের জীবনের দৈনন্দিন ব্যাপার বলে জানাচ্ছেন একজন শিক্ষক। তিনি বলছেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আমি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে চরম অধঃপতন দেখছি।’ তিনি আরও বলছেন, ‘এখন শিক্ষকদের কাছে আশাও করা হয় যে তারা মৌখিক দুর্ব্যবহার সহ্য করবে। এমন আচরণ ঠেকাতে কোন ধরনের পদক্ষেপে কারোরই যেন কোন আগ্রহ নেই।’ আরেক শিক্ষক বলছেন, ‘আমার স্কুলতো গত কয়েক বছরে রীতিমতো একটা ভীতিকর যায়গায় পরিণত হয়েছে। আমি করিডোরে বের হই এমন সময়ে যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে রয়েছে। তা না হলে আমার মনে হয় যে আমি বোধহয় ওদের পায়ের নিচেই চাপা পড়ে যাবো, নতুবা ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবো। তা না হলে কোন ধরনের গালি খেতে হবে আমাকে।’ ব্রিটেনের শিক্ষা অধিদপ্তরের এক তথ্যমতে এমন ঘটনা বাড়ছে। সংস্থাটির হিসেবে ২০১৬/১৭ সালে ৭৪৫ জন শিক্ষার্থীকে স্কুলে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক কর্মকর্তা, কর্মচারী অথবা শিক্ষককে শারীরিক হেনস্থার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীকে একই অপরাধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ৬৫৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো মৌখিক দুর্ব্যবহারের জন্য। এর এক বছর আগে এই সংখ্যা কম ছিল। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/
পর্তুগালে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৯

পর্তুগালে একটি পর্যটকবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮ জনই নারী। নিহতরা সবাই জার্মানির নাগরিক। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৬ জন। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদেইরা দ্বীপের ক্যানিকো শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পর্তুগালের সংবাদ সংস্থা লুসার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বাসেরর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকবার পাক খেয়ে একটি বাড়ির ছাদের কিনারে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ২৮ জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক নারী মারা যান। ক্যানিকো শহরের মেয়র ফিলিপে সোওসা জানান, বাসটিতে মোট ৫৫ যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিও কস্তা জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে শোক বার্তা পাঠিয়েছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/  

রক্ষা পেয়েছে ‘যিশুর মুকুট’

কাঁটার মুকুট। সকলে চেনেন ‘ক্রাউন অব থর্নস’ বলে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, স্বয়ং যিশু খ্রিস্টের মাথায় ছিল সেই মুকুট। প্যারিসের নোত্র দামে রাখা থাকত প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সেই মুকুট। কাল যখন দাউদাউ করে জ্বলছে ক্যাথিড্রাল, অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ভিতরে হয়তো  পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে সেই মুকুট। তবে সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি শেষমেশ। প্যারিস শহরের মেয়র অ্যান হিদালগো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রক্ষা করা গিয়েছে ‘ক্রাউন অব থর্নস’-কে। শুধু ওই মুকুটই নয়। প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী অজস্র দুর্মূল্য শিল্প সামগ্রী আর স্মারকে ঠাসা ছিল ওই ক্যাথিড্রাল। যার বেশির ভাগই উদ্ধার করা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তালিকায় রয়েছে সন্ত লুইয়ের টিউনিক, রোজ় উইন্ডোজ (চতুর্দশ শতকের নকশা করা তিন থাকের কাচের জানলা), ক্যাথিড্রালের মূল ঘণ্টা। কাঠের যে ক্রশে যিশুকে বিদ্ধ করা হয়েছিল বলে মনে করা হয় তার টুকরোও রাখা থাকত নোত্র দামে। সেটিও সুরক্ষিত বলে জানা গিয়েছে। বাঁচানো সম্ভব হয়েছে ‘গ্রেট অরগ্যান’কেও। প্যারিস সিটি হলের মুখপাত্রও আলাদা করে জানিয়েছেন, নোত্র দামে রাখা বেশির ভাগ মূল্যবান স্মারক ও শিল্পকর্মই আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচানো গিয়েছে। কিন্তু হোলি নেলস বা পবিত্র নখ আদৌ সুরক্ষিত কি না, তা জানা যায়নি আজ। একই ভাবে জানা যায়নি ক্যাথিড্রালে রাখা ‘ট্রু ক্রস’ কী অবস্থায় রয়েছে। কালকের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যাথিড্রালের স্থাপত্যও। যদিও টুইন বেল টাওয়ারের কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা। ক্যাথিড্রালের এই দুই স্থাপত্য আইফেল টাওয়ার তৈরির আগে পর্যন্ত প্যারিস শহরের সর্বোচ্চ সৌধ ছিল। আগুনের পরে খোঁজ নেই বেশ কিছু শতাব্দী প্রাচীন ছবিরও। যার মধ্যে রয়েছে ১৬৩০ সাল থেকে ১৭০৭ সালের মধ্যে আঁকা ৭৬টি ছবির একটি সমগ্র। মাদার মেরির জীবনী-চিত্রটিও সুরক্ষিত রয়েছে কি না, জানা যায়নি রাত পর্যন্ত।                               তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

যেসব কারণে নটরডাম এতো গুরুত্বপূর্ণ

ভয়াবহ আগুনে প্যারিসের নটরডামের ছাদ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভবনটির পুরো কাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। জরুরি বিভাগ আগুন নেভানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম এবং অমূল্য সম্পদগুলো ক্যাথেড্রাল থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে ভবনটির কাঠের চমৎকার কাজগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু ৮৫০ বছর পুরনো এই গোথিক ভবনটির আর কি বৈশিষ্ট্য রয়েছে? তেরশো শতকের পুরনো এই ক্যাথেড্রালে তিনটি রোজ উইন্ডো রয়েছে. যেটি এই ভবনটির সবচেয়ে বিখ্যাত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। আগুনের পর এর কোনটি এখন আর টিকে আছে কিনা, তা পরিষ্কার নয়। প্রথমটি স্থাপন করা হয় ১২২৫ সালে এবং সেখানে যেভাবে নানা রঙের কাচ বসানো হয়, তা সবার নজর কাড়ে। তবে কোন জানালাতেই আর প্রাচীন সেই রঙিন কাচগুলো নেই, কারণ আগের আগুনে সেসব নষ্ট হয়ে গেছে। নটরডাম দেখতে আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থী ভবনের সামনের দুইটি গোথিক গম্বুজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেন। দুই গম্বুজ-নটরডাম দেখতে আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থী ভবনের সামনের দুইটি গোথিক গম্বুজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে থাকেন যেটি ক্যাথেড্রালের পশ্চিম ফটকে অবস্থিত। ১২০০ সালের দিকে পশ্চিম ফটকের কাজ শুরু হয়। তবে প্রথম টাওয়ারটি, উত্তর পাশে যেটি রয়েছে, সেটি বানাতে সময় লাগে ৪০ বছর। আর দক্ষিণ পাশের টাওয়ারটির কাজ শেষ হয় আরও ১০ বছর পরে, ১২৫০ সালে। দুইটি টাওয়ারই ৬৮মিটার উঁচু, যেখানে উঠতে ৩৮৭ পদক্ষেপ লাগে। এখান থেকে পুরো প্যারিস শহরটিকে চমৎকারভাবে দেখা যায়।সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ভবনের ছাদের ওপর বসে থাকা একটি মূর্তি, যে শহরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। গার্গোয়েলস-যারা ক্যাথেড্রালের সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে প্যারিস শহর দেখার জন্য উপরে উঠেছেন, তাদের এই ক্যাথেড্রালের আরেকটি আকর্ষণীয় উপাদান পার হয়ে যেতে হয়েছে, সেটা হলো গার্গোয়েলস। অনেক পশুর আকৃতি মিলিয়ে পৌরাণিক এই ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ভবনের ছাদের ওপর বসে থাকা একটি মূর্তি, যে শহরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ঘণ্টা-এই ক্যাথিড্রালে দশটি ঘণ্টা রয়েছে। সবচেয়ে বড়টির নাম ইমানুয়েল, যার ওজন ২৩ টন এবং সেটি বসানো হয়েছে ১৬৮৫ সালে। ২০১৩ সালে ৮৫০ বছরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে উত্তর টাওয়ারে সবচেয়ে ছোট ঘণ্টাটি বসানো হয়। যদিও ফরাসি বিপ্লবের সময় আসল ঘণ্টাগুলোকে তরল করে কামানের গোলা বানানো হয়েছিল। তবে প্রতিকৃতি বসানোর সময় একেকজন সেইন্টের নামে একেকটি ঘণ্টার নামকরণ করা হয়। ভিক্টর হুগোর উপন্যাসের নায়ক কোয়াসিমোডো এরকম একটি ঘণ্টার বাদক হিসাবে কাজ করতেন।বামে এক বছর আগে তোলা গির্জার বুরূজের ছবি, আর ডানেরটি তোলা সোমবারে যখন এটি আগুনে পুড়ছিলো গোথিক স্পিয়ার-নটরডামের আরেকটি বিখ্যাত স্থাপনা হলো ১২ শত শতকে স্থাপিত গোথিক স্পিয়ার, যা অনেকটা পিরামিডের মতো উপরে উঠে গেছে। তবে সোমবারের আগুনে এটি ভেঙ্গে পড়েছে। ভবনের ইতিহাসে অনেকবার এটিতে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ফরাসি বিপ্লবের সময় এটি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং ১৮৬০ সালে পুনরায় নির্মিত হয়। পুরো ক্যাথেড্রালের এসব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে পাওয়াকে ফরাসি গোথিক স্থাপত্যকলার ওপর অপূরণীয় আঘাত বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। শেষ চিহ্ন-নটরডামকে মনে করা হতো প্যাশন অফ ক্রাইস্টের ভগ্নাবশেষের শেষ ঠিকানা, যার মধ্যে রয়েছে ক্রসের একটি টুকরো, একটি নখ এবং পবিত্র কাঁটার মুকুট। তবে এই মুকুটটি আগুন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফরাসিদের কাছে নটরডাম কতটা গুরুত্বপূর্ণ?-বিবিসির সংবাদদাতা হেনরি আস্টিয়ার বলছেন, নটরডামের মতো আর কোন স্থাপনাই এভাবে ফ্রান্সকে প্রতিনিধিত্ব করে না। জাতীয় প্রতীক হিসাবে এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যেতে পারে প্যারিসের আরেকটি স্থাপনা আইফেল টাওয়ারকে, যেটি মাত্র একশো বছরের কিছু বেশি পুরনো, যদিও নটরডাম প্যারিসে দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বাদশ শতক থেকে। এই ভবনের নাম উঠে এসেছে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা উপন্যাস, ভিক্টর হুগোর হ্যাঞ্চব্যাক অফ নটর-ডামে। ফরাসি বিপ্লবের সময় সর্বশেষ এই ভবনটি বড় ধরণের ক্ষতির শিকার হয়। তখন ধর্মবিরোধী উগ্রবাদীদের হামলায় বেশ কয়েকজন সেইন্টের ভাস্কর্য কেটে ফেলা হয়। দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সত্ত্বেও টিকে গিয়েছে ভবনটি। প্যারিসে বসবাসকারী যেসব জিনিস নিয়ে গর্ব করে থাকেন, এই ভবনটি তারই একটি। শুধু পর্যটকদের কাছেই আকর্ষণীয় নয়, বছরে এখানে অন্তত ২০০০ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

আসঞ্জ দূতাবাসে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন: ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট

লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসকে ‘গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন জুলিয়ান আসঞ্জ। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো এ কথা বলেন। উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতার আশ্রয় বাতিল করার সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো দেশের ইন্ধন নেই বলেও জানান তিনি। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে প্রেসিডেন্ট মোরেনো বলেন,ইকুয়েডরের সাবেক সরকার অন্য রাষ্ট্রের কার্যক্রমে ‘হস্তক্ষেপ’ করার উদ্দেশ্যে তাদের দূতাবাসের ভেতরে সহায়তা প্রদান করতো। আসঞ্জে’র আইনজীবী একুয়েডরের বিরুদ্ধে ‘যাচ্ছে-তাই অভিযোগ’ আনার অভিযোগ তুলেছেন। ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট মোরেনো দূতাবাসে আসঞ্জের সাত বছরের আশ্রয় বাতিল করার কারণ সম্পর্কে বলেছেন, ‘অস্থিতিশীলতা তৈরি করার যে কোনো প্রচেষ্টাই একুয়েডরের জন্য নিন্দনীয়, কারণ আমরা একটি সার্বভৌম দেশ এবং আমরা অন্যান্য দেশের রাজনীতির সম্মান করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের বাড়ি - যেই বাড়ির দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে - সেটিকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে পারি না।’ প্রেসিডেন্ট মোরেনো ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়ান আসঞ্জের স্বাস্থ্যের খারাপ অবস্থা সম্পর্কে সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া পাওলা রোমো’র মন্তব্যেরও প্রসঙ্গ টানেন। আসঞ্জের আইনজীবী জেনিফার রবিনসন ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই’য়ে এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। রবিনসন বলেন, ‘দূতাবাসের ভেতরে ব্রিটিশ পুলিশকে ঢুকতে দেয়ার বেআইনি এবং বিস্ময়কর সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে একুয়েডর গত কয়েকদিনে কিছু গর্হিত অভিযোগ এনেছে।’ তিনি আরো বলেন, আসঞ্জ যে সন্দেহ করছিলেন যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে, তা আরো ঘনীভূত হয়েছে এই সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে আনা পেন্টাগনের কম্পিউটারে হ্যাক করার অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর। ২০১২ সালে একুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় ৪৭ বছর বয়সী আসঞ্জ ১২ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারেন। সুইডেনের হাতে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আসঞ্জ। সুইডেনে ধর্ষণসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসঞ্জের বিরুদ্ধে। লন্ডনে ইকুয়েডর-এর রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানিয়ে জুলিয়ান আসঞ্জকে তাদের হাতে তুলে দেন। এর আগে একুয়েডর সরকার আসঞ্জ-এর রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে।  ইকুয়েডর-এর প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, জুলিয়ান আসঞ্জ-এর আচার-ব্যবহারের কারণে তাদের ধৈর্যের সীমা একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে। সম্প্রতি ভ্যাটিকান সম্পর্কিত কিছু দলিলপত্র ফাঁস করে দেবার বিষয়টি উল্লেখ করেন ইকুয়েডর-এর প্রেসিডেন্ট। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে এসব দলিলপত্র ফাঁস করা হয়। ইকুয়েডর-এর প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এসব কাগজপত্র ফাঁস করার মাধ্যমে বিশ্ব নিশ্চিত হয়েছে যে উইকিলিকস-এর সাথে তার এখনো সম্পর্ক আছে এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করছে।’ ইকুয়েডর-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানেও তিনি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, আসঞ্জ দূতাবাসের ভেতরে স্কেটবোর্ডিং করতেন এবং ফুটবল খেলতেন। এ নিয়ে তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা করেছেন। ইকুয়েডর দূতাবাস সাত বছর তাকে আশ্রয় দিলেও জুলিয়ান আসঞ্জ কোন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন না। বরং ইকুয়েডর দূতাবাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তার উপর নজরদারী করছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বৃটেনকে কোন পথে নিয়ে যাবেন থেরেসা মে?

ব্রেক্সিট ইস্যুতে বৃটেনকে কোন পথে নিয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে! এ প্রশ্ন আজ সবার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া কার্যকর করতে ব্রিটেনকে আরও সময় দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ সদর দফতরে গত বুধবার বিকেলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আরো সময় চেয়েছেন। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের নেতাদের সামনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের মধ্যে প্রায় ৫ ঘণ্টা আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যে ব্রিটেন কিভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসবে সে উপায় নির্ধারণ করবে। তবে আগামী জুন মাসে এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ কার্যকর করার কথা ছিল গত ২৯ মার্চ। সেটি কার্যকর করতে না পারায় ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ব্রিটেন কোন পথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসবে সেটি চূড়ান্ত করতে পারেনি দেশটির পার্লামেন্ট। ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র একের পর এক প্রস্তাব বাতিল হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। বুধবার ব্রাসেলস সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আবেদন করেছিলেন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত করার জন্য। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন সে সময়সীমা আরও চার মাস বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। এ সম্মেলনে সবচেয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্র। তিনি বলেন, ৩০ জুনের মধ্যেই ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি কার্যকর করতে হবে। তবে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বিষয়টি নিয়ে নমনীয় ভাব দেখান। তারা দুজনেই চেয়েছেন ব্রেক্সিটের জন্য ব্রিটেনকে যাতে যথাযথ সময় দেওয়া হয়, যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্রিটেন পুনরায় চিন্তা করতে পারে। প্রসঙ্গত, ৪০ বছরের বেশি সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের থাকার থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩ জুন একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেখানে সে দেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা উচিত, নাকি উচিত না? ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে, আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। সূত্র: বিবিসি

জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ড: ক্ষমা চাইবে না ব্রিটেন

দলমত নির্বিশেষে দাবি তুলেছিলেন ব্রিটিশ এমপি-দের অনেকে। তা সত্ত্বেও জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য আপাতত ক্ষমা চাইল না টেরেসা মে সরকার। আজ পার্লামেন্টের ওয়েস্টমিনস্টার হলে বিষয়টি নিয়ে হাউস অব কমন্সের বিতর্ক ছিল। প্রস্তাব এনেছিলেন কনজারভেটিভ পার্টিরই এক এমপি। কিন্তু ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে আর্থিক দায়বদ্ধতা জড়িত। তাছাড়া মন্ত্রী, শীর্ষ কর্তারা এবং নয়াদিল্লির ব্রিটিশ হাইকমিশনার বিষয়টি নিয়ে এখনও কাজ করছেন। আগামী ১৩ এপ্রিল ওই মর্মান্তিক ঘটনার শতবর্ষ। ভারতের ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জালিয়ানওয়ালা বাগে ফুল দিয়ে আসার জন্য। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এ এক লজ্জার অধ্যায়। ব্রিটিশ সরকার ঠিক সময়েই তার নিন্দা করেছিল। এ বারও গভীর শোকের সঙ্গে শতবর্ষ পালিত হবে ব্রিটেনে।’’ কিন্তু দাবি তো ছিল সরকারি ভাবে ক্ষমা চাওয়ার। সেই পথে কেন হাঁটতে নারাজ ব্রিটেন? অনেকের মতে, ব্রিটিশ পাঠ্যসূচিতে পঞ্জাবের ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার অন্তর্ভুক্তি, হতাহতদের উত্তরাধিকারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ, ইত্যাদি দাবি আজকের বিতর্কে ওঠে। অনেকের মতে, সেই কারণেই মন্ত্রী আর্থিক প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি একটু গোঁড়ামনস্ক। ঔপনিবেশিক ইতিহাসের জন্য ক্ষমা চাইতে আমারও একটু অনীহা। তা ছাড়া সরকারি দফতরের ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপতে পারে বলেও একটা চিন্তা রয়েছে।’’ এই যুক্তিতে হতাশ অনেকেই। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

লন্ডনে মা ও মেয়ে এসিড হামলার শিকার

ব্রিটেনে এক মা ও তার তরুণী মেয়ের ওপর দুর্বৃত্তরা এসিড হামলা চালিয়েছে। সোমবার দেশটির রাজধানী লন্ডনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।  রাস্তায় সহিংসতা বন্ধে যখন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী লাগাতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তখন এই হামলার ঘটনা ঘটল। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর ক্রয়ডন এলাকায় দপুরের দিকে এসিড হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে ৬০ বছর বয়সী একজন মা ও তার তরুণী মেয়ে আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা আশংকাজনক নয়। পুলিশের মুখপাত্র বলেন, ভিক্টিমদের মুখমণ্ডলে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং পুলিশ তাদরেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি গাড়ি থেকে মুখমণ্ডল ঝলসে দেয় এমন বস্তু তাদেরকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারা হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরেকটি শিশু সম্ভবত আহত হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারে  নি। বেশ কিছুদিন ধরে ব্রিটেনের বড় শহরগুলোর রাস্তায় এ ধরনের সহিংসতা চলে আসছে। গত বছর দেশটিতে ছুরি মারার ঘটনায় প্রায় ৩০০ ব্যক্তি নিহত হয় যার মধ্যে লন্ডনেই ঘটেছে ১২০টি মৃত্যুর ঘটনা। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ছুরি মারার ঘটনায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে এসিড হামলার ঘটনাও বেড়েছে। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রে এবার ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী কার্সজেন নিয়েলসেন পদত্যাগ করেছেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে তিনি পদত্যাগ করেন। নিয়েলসেন ২০১৭ সালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত সীমান্ত নীতি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। এদিকে তার পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশন কমিশনার কেভিন ম্যাকলিনানকে ভারপ্রাপ্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। পদত্যাগের পর নিয়েলসেন বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব সামলানো ‘আজীবন সম্মানের’। তবে কী কারণে পদত্যাগ করলেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নিয়েলসেনকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি