ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:০৮:২৩

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করল চীন

কানাডায় ওয়াংঝু গ্রেফতার

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করল চীন

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়াংঝুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বেইজিং-এ নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টেরি ব্র্যানস্ট্যাডকে তলব করেছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।কানাডা সরকার যাতে মেং ওয়াংঝুকে অবিলম্বে মুক্ত করে দেয় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মার্কিন অনুরোধে সাড়া দিয়ে কানাডার পুলিশ গত ১ ডিসেম্বর হুয়াওয়ের সিএফও মেং ওয়াংঝুকে আটক করে। অটোয়া চীনা কোম্পানির এই কর্মকর্তাকে মার্কিন সরকারের কাছে হস্তান্তরের চিন্তাভাবনা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।মেং ওয়াংঝু হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট রেন ঝেংফেইয়ের মেয়ে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করেছেন ওয়াংঝু।এর আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াংঝুকে ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানাতে বেইজিং-এ নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত জন ম্যাককালামকে তলব করে। বেইজিং ম্যাককালামকে জানিয়ে দেয়, ওয়াংঝুকে আটক করার পর এখন তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দিলে কানাডাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সূত্র : পার্সটুডে এসএ/
ধর্মযাজকের কন্যা থেকে ‘ইউরোপের সাম্রাজ্ঞী’ মের্কেল

জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মের্কেল। গতকাল শুক্রবার এক আবেগময় বিদায়ী ভাষণে মের্কেল তার দেশের ভেতরে এবং বাইরে জার্মানির উদার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সুদীর্ঘকাল এঙ্গেলা মের্কেল জার্মানির ক্ষমতায় আসীন রয়েছেন। নিজেকে তিনি একজন বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী নেতা হিসাবে প্রমাণ করেছেন। এক সময় তাকে বর্ণনা করা হতো ‘জার্মানির রানি’ হিসেবে এমনকি কেউ কেউ তাকে ডাকতেন ‘ইউরোপের সাম্রাজ্ঞী’ বলে। আঠারো বছর তিনি তার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর পরপর চার মেয়াদে দেশটির চ্যান্সেলারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দলের নেতৃত্ব এখন ছাড়লেও চ্যান্সেলার হিসেবে তার চতুর্থ মেয়াদ শেষ করবেন ২০২১ সালে। তখন দেশটির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মের্কেল। কাজেই ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির নেতৃত্বে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত থাকলেও এটা এক অর্থে হবে সাময়িক দায়িত্বপালন। মের্কেলের ক্ষমতার শক্ত ভিত প্রথম নড়ে যায় যখন শরণার্থীদের জন্য জার্মানির উন্মুক্ত-দ্বার নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে পড়তে হয়। তার এই নীতির ফলশ্রুতিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দেশটির চরম ডান-পন্থীরা এবং তার দল প্রায় ৭০ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে ২০১৭ সালে। মের্কেল বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক পদ নিয়ে তার ভবিষ্যত কোনও পরিকল্পনা নেই। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে দুই জার্মানি একত্রিত হওয়ার পর থেকে তিনি কোনও না কোনও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখন পর্যন্ত একাটার পর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন। ১৯৫৪ সালের ১৭ জুলাই জার্মানির হামবুর্গ শহরে এঙ্গেলা কাসনারের। যখন তার বয়স মাত্র দু’মাস তখন তার বাবাকে পূর্ব জার্মানির এক ছোট্ট শহরের এক গির্জার ধর্মযাজকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কম্যুনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে বার্লিনের উপকণ্ঠে এক গ্রাম এলাকায় বড় হয়েছেন এঙ্গেলা মের্কেল। পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট করে এঙ্গেলা কাজ নেন পূর্ব বার্লিনের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিতে রসায়নবিদ হিসাবে। ১৯৭৭ সালে সহপাঠী ছাত্র উলরিখ মের্কেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু চারবছর পর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৯৮৯ সালের মধ্যে তিনি পূর্ব জার্মানিতে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গতিশীল হয়ে ওঠে তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এঙ্গেলা। এরপর বার্লিন প্রাচীর যখন ভেঙে ফেলা হয়, তখন পূর্ব জার্মানিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তিনি পূর্ব জার্মান সরকারের মুখপাত্র হিসাবে কাজ নেন। ১৯৯০ সালে জার্মানির একত্রীকরণের দু’মাস পর তিনি মধ্য দক্ষিণপন্থী ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট পার্টিতে (সিপিইউ) যোগ দেন। পরের বছর চ্যান্সেলার হেলমুট কোলের সরকারে তিনি নারী ও তরুণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কোল অবৈধ অর্থ লেনদেনের এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে মের্কেল ১৯৯৯ সালে তার পদত্যাগ দাবি করেন। ২০০০ সালে সিপিইউ দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলার হন। তার রাজনৈতিক জীবনের গোড়াতে তাকে দেখা হতো অনাকর্ষণীয় প্রাদেশিক সাদামাটা একজন নেতা হিসেবে। কিন্তু প্রথম থেকেই সেই ভাবমূর্তি তিনি ঝেড়ে ফেলতে উদ্যোগী হন তার পোশাক আশাক ও চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়ে। তিনি চুলের স্টাইল বদলান, উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরতে শুরু করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ইয়োকিম সয়ারকে বিয়ে করেন। তার প্রথম সরকার তিনি গঠন করেন মধ্য বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রাটদের সঙ্গে একটা মহাজোট করে। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি ব্যবসা-বান্ধব ফ্রি ডেমোক্রাট দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেন। ইউরোপ যখন অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি ব্যয় সঙ্কোচের প্রতীক হয়ে ওঠেন। দক্ষিণ ইউরোপের উপর্যুপরি ঋণ সমস্যার মোকাবেলায় তিনি ব্যাপক বাজেট হ্রাস এবং কড়া নজরদারির সুপারিশ করেন। সমালোচকরা বলেন, তিনি অর্থসঙ্কট সামাল দিতে বাড়তি অর্থ সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে প্রথমদিকে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু ইউরোজোনের আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে জার্মানিই পরে সবচেয়ে বড় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এবং ইউরোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ইইউর প্রয়াসের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন এঙ্গেলা মের্কেল। গ্রিস ও স্পেনে বিক্ষোভকারীরা ব্যয় সংকোচন নীতি বলবৎ করার জন্য জার্মানিকে দোষারোপ করে এবং মের্কেলকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু এই সঙ্কটের মধ্যে জার্মানির শক্ত অর্থনৈতিক অবস্থান, বেকারত্বের নিচু হার এবং বেশ ভাল মাত্রার রফতানি দেশের ভেতর তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। জার্মানির মানুষ ব্যাপকভাবে মনে করে কঠিন সময়ে তিনি দেশের জন্য নিরাপদ একজন নেতা। ২০১৩ সাল নাগাদ ব্যয় সংকোচ নীতি সম্পর্কে তিনি অপেক্ষাকৃত নমনীয় মনোভাব নেন। তিনি বলেন বেকারত্ব সমস্যা মোকাবেলার জন্য ইউরোপের শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা দরকার, যাতে তরুণরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ খোঁজার সুযোগ পান। মের্কেলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে যখন অভিবাসী ও শরণার্থীরা তাদের গন্তব্য হিসেবে বিপুল সংখ্যায় পাড়ি জমায় সফল অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে, দেখা যায় জার্মানিতে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কয়েকবছর ধরে অপেক্ষারত এক শরণার্থী নারীকে চ্যান্সেলার সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ এটাকে ভাল চোখে দেখেনি। তারা মনে করেছে, তিনি সহমর্মিতা দেখাননি। কিন্তু দলে দলে নতুন শরণার্থী আসার স্রোত যখন বাড়তে থাকে তিনি জার্মানির সীমান্ত খুলে দেন। শরণার্থীরা ইইউর যে দেশ দিয়ে ইউরোপে ঢুকছে সেখানে তাদের আশ্রয়াপ্রার্থী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ইইউ নীতি তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেন। জাতিসংঘ তার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গীর ভূয়সী প্রশংসা করে। তিনি টাইম সাময়িকীতে সে বছরের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচিত হন এবং তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘প্রকারান্তর নেতা’ ঘোষণা করা হয়। লাখ লাখ জার্মান নাগরিক তার এই বার্তায় কণ্ঠ মিলিয়ে বলে ‘আমরা মানিয়ে নেব’। কিন্তু এই উন্মুক্ত-দ্বার নীতিকে সবাই স্বাগত জানায়নি। চরম দক্ষিণপন্থীরা এই নীতির বিরোধিতা করে প্রচারণায় নামে। দেশের পূর্বাঞ্চলে তারা ইসলাম-বিরোধী প্রচারণায় তৎপর হয়ে ওঠে। প্রচারণা পূর্বাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যত্রও। এরপর নববর্ষের এক অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের দিক থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং গ্রীষ্মকালে ইসলামী চরমপন্থী গোষ্ঠির হামলা এই প্রচারণাকে শক্ত ভিত্তি দেয়। ধাক্কা খায় মের্কেলের জনপ্রিয়তা। মের্কেল স্পষ্ট করে না বললেও এক রকম স্বীকার করতে বাধ্য হন তিনি ভুল করেছেন। তিনি বলেন, যদি পারতাম ঘড়ির কাঁটা কয়েক বছর পেছনে নিয়ে যেতাম, শরণার্থীর ঢল সামাল দেওয়ার জন্য দেশকে আগে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচনে মের্কেলের সিডিইউ দল খুবই খারাপ ফল করে। ১৯৪৯ সালের পর এটাই ছিল দলের সবচেয়ে শোচনীয় ফল, যা ছিল মের্কেলের প্রতি জনসমর্থন তলানিতে যাওয়ার ইঙ্গিত। এরপর থেকে জোট গঠন ও নির্ভরযোগ্য সরকার গঠন নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন মের্কেল। প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট দলের প্রতি ও দলের নেতাদের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের অভাব। বেশ কয়েক মাস আগেই মের্কেল ঘোষণা করেছিলেন, দলের প্রধানের পদের জন্য তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এবং বর্তমান মেয়াদের পর চ্যান্সেলার পদের জন্যও তিনি আর দাঁড়াবেন না। সমালোচকরা অনেকেই বলেছেন, দলের খারাপ ফল থেকে এটা পরিষ্কার তার আগামীতে জেতার সম্ভাবনা সম্ভবত ক্ষীণ। কিন্তু কারণ যাই হোক ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট দলের তিনিই সবচেয়ে বেশি মেয়াদে থাকা দলীয় প্রধান এবং আধুনিক জার্মানিতেও তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতাসীন নেতা। সূত্র: বিবিসি একে//

ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিন

দারিদ্রপীড়িত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের ওপর থেকে আগ্রাসী সৌদি আরবের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইয়েমেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সুইডেনে যখন শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে তখন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানালেন।এর পাশাপাশি তিনি ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন ও পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির অনুগতদের প্রতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার এক টুইটার বার্তায় তিনি বলে, ‘স্টকহোমে ইয়েমেন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর ঘটনাকে আমি স্বাগত জানাই। দুপক্ষের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি যে, যুদ্ধাবসান ও জনগণের ভোগন্তি দূর করার জন্য তাদের হাতে যে ক্ষমতা আছে তা যেন তারা ব্যবহার করেন। ইয়েমেনিরা আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না।’পরে গুতেরেসের এক মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ইয়েমেনের হুদাইদা বন্দর উন্মুক্ত রাখার জন্য সবপক্ষের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আহ্বান জানিয়েছেন। ইয়েমেনে যে সামান্য পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করে তা এই বন্দর দিয়েই আসে। এসএ/  

তেলের লেনদেনে ডলার বাদ দিচ্ছে ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তেল চুক্তির ক্ষেত্রে ডলার বাদ দিয়ে নিজস্ব মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করবে। এসব চুক্তির মূল্যমান হবে ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন কমিশনারের বরাত দিয়ে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যে খবর পেয়েছি যা একজন ইউরোপীয় কমিশনার নিশ্চিত করেছেন তার ভিত্তিতে বলা যাচ্ছে যে, এখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেল চুক্তির ক্ষেত্রে সব দেশের সঙ্গে মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইউরো ব্যবহার করবে।’আলী আকবর সালেহি জানান, এর আগে ইউরোপ অন্য দেশ থেকে তেল নেয়ার ক্ষেত্রে শতকরা ৮৫ ভাগ দাম পরিশোধ করত ডলারে কিন্তু এখন থেকে সে পদ্ধতি বাদ দিয়ে সব অর্থ পরিশোধ করবে ইউরোর মাধ্যমে।যদি এই পদ্ধতি কার্যকর হয় তাহলে মার্কিন ডলার সারা বিশ্বের অনেকটা একঘরে হয়ে পড়বে এবং বর্তমানে ডলার ব্যবহার করে আমেরিকা সারা বিশ্বে যে প্রভাব-প্রতিপত্তি তৈরি করেছে তা অনেকটাই নস্যাৎ হবে।এর একদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডলারের একক আধিপত্য কমানো এবং ইউরোর ভূমিকা বিশেষ করে তেল সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউরোর ব্যবহার জোরদার করার জন্য তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরে। এসব দেশ ডলারের আধিপত্যে দিন দিন আমেরিকার ওপর হতাশ হয়ে পড়ছে।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/

জাপান উপকূলে মার্কিন বিমানের সংঘর্ষ : ৫ মেরিন নিখোঁজ

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আমেরিকার দুটি বিমানের সংঘর্ষে অন্তত ৫ মেরিন সেনা নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি রিফুয়েলিং বিমান ও একটি জঙ্গিবিমানের মধ্যে সংঘর্ষে ওই ৫ সেনা নিখোঁজ হয়। বিমান দুটি সাগরের বুকে ভেঙে পড়েছে বলে জাপান ও আমেরিকার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়া সাত মেরিন সেনার মধ্যে দুজনকে পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে জড়িত এফ/এ-১৮ হর্নেট বিমান এবং কেসি-১৩০ হারকিউলেস বিমানের আরোহী ছিলেন তারা। উদ্ধার করা এক সেনার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে তবে দ্বিতীয় জনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলে নি জাপানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাপান উপকূল থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে স্থানীয় সময় বুধরাত রাত ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমান দুর্ঘটনার পর ছয়টি হেলিকপ্টার ও তিনটি জাহাজ অনুসন্ধান তৎপরতায় যোগ দেয়। বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে জাপান ও আমেরিকা পরস্পরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় করছে বলে জানিয়েছেন জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকেশি ইয়োয়াইয়া।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/

হুয়াওয়েইর ডেপুটি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েইর প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইর মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রধান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান মেং ওয়ানঝৌ কানাডায় গ্রেফতার হয়েছেন। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়।কানাডার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মেংকে শনিবার ভ্যানকৌবার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।হুয়াওয়েই জানিয়েছে, তারা মেং’র বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে তেমন কিছুই জানে না। এমনকি তারা তার কোন অপরাধ সম্বন্ধেও অবগত নয়।কানাডার বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) জামিনের জন্য শুনানির সম্মুখীন হবেন মেং। সূত্র : বিবিসি এসএ/

শান্তি নেই ব্রিটেনের রাজ পরিবারে

ব্রিটিশ রাজপরিবারের দুই পুত্রবধু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ায় জড়িয়েছেন। এই ঝগড়া এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে,  আসছে বড় দিনে একসঙ্গে দেখা যাবে না রাজ পরিবারকে।  চলতি বছরের মে মাসের ১৯ তারিখ রাজপরিবারের পঞ্চম উত্তরসূরি প্রিন্স হ্যারি মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামসের স্ত্রী কেট মিডলটনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়েছেন রাজপরিবারের নতুন এই সদস্য। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, বিবাদের সূত্রপাত ছোটজনই করেন। তা-ও রাজপরিবারের বউ হয়ে আসার আগেই। কেটের এক পরিচারিকাকে কড়া কথা শুনিয়েই বড় বউকে বেজায় চটিয়েছিলেন মেগান। দুই জায়ের কথা কাটাকাটিও হয়। স্ত্রীয়ের হয়ে মুখ খোলেন হ্যারি। আর স্বামী উইলিয়ামকে পাশে পান কেট। এই ঘটনার পরে দূরত্ব বাড়ে দুই ভাইয়ের। রাজপরিবার সূত্রের দাবি, মেগানের বিয়ের প্রস্তুতির সময়ে তার ব্যবহারে কেঁদেও ফেলেন কেট। গত বছর বড়দিনের ঠিক আগেই হ্যারি অভিযোগ করেন, ইউলিয়াম ও ক্যাট মেগানকে আপন করে নিতে পারছেন না। বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য চার্লস স্যান্ড্রিংহামের প্রাসাদে দুই পক্ষকেই বড় দিন কাটানোর জন্য নিমন্ত্রণ করেন। তাতে লাভ হয়নি। কারণ, তার আগেই নাকি বেশ বড়সড় ঝগড়া হয়েছিল কেট ও মেগানের। একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড জানায়, সেই তিক্ততা এড়াতে এবার বড়দিনে মেগান-হ্যারি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে স্যান্ড্রিংহামে ছুটি কাটাবেন। আর কেট যাবেন বাপের বাড়ি বার্কশায়ারে। যদিও রাজপরিবারের এই খবর উড়িয়ে দিয়েছে।  এমএইচ/

মায়ের জীবন বাঁচালো চার বছরের শিশু   

সম্প্রতি ব্রিটেনে একটি শিশুর বুদ্ধিমত্তার কারণে বেঁচে গেছে তার মায়ের জীবন। চার বছরের ওই ছোট্ট মেয়েটির নাম কেইটলিন রাইট। যুক্তরাজ্যের ডোরসেট অঞ্চলের ছোট গ্রাম আসকার্সওয়েলের বসবাস করে কেইটলিন রাইট ও তার পরিবার। গত মাসের শুরুর দিকে কেইটলিনের মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। ঘটনার দিন কেইটলিন তার মা শার্লিনের সঙ্গে বাড়িতেই ছিল। এক পর্যায়ে মা শার্লিন ভীষণ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। এমন ঘটনায় ঘাবড়ে যায়নি কেইটলিন। বরং সে স্থানীয় জরুরি নম্বরে ৯৯৯ এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে নেয়। এতো ছোট বয়সে এমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় কেইটলিনের প্রশংসা এখন সবার মুখে মুখে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাউথ ওয়েস্টার্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস- সোয়াস কর্তৃপক্ষ জানান, "এতোটুকু বয়সে এই মেয়েটি যে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে, সেটা তুলনাহীন।" "সে যেভাবে ফোনের অপর-প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে, তার মায়ের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছে সেটা আশ্চর্য হওয়ার মতোই।" পরে প্যারামেডিক্সরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শার্লিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরিমধ্যে ওই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটি শিশুটির সঙ্গে তাদের টেলিফোনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে। সেখানে কেইটলিনকে বলতে শোনা যায় যে, "মা অজ্ঞান হয়ে পড়েছে এবং তার দেখাশোনা করা প্রয়োজন।" এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটির মুখপাত্র জানান, "চার বছরের শিশু আমাদের ফোন করে তার উপস্থিত বুদ্ধি, প্রজ্ঞা আর ভীষণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।" এ ব্যাপারে মিসেস রাইট তার মেয়ে কেইটলিনকে "লিটল গার্ডিয়ান এঞ্জেল" বা "ক্ষুদে রক্ষাকারী পরী" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "সেইদিনটার কথা আমার এতোটুকুই মনে আছে যে, কেইটলিনের বাবা কেইটলিনকে বাসায় নিয়ে এসেছেন আর আমার কাছে জানতে চেয়েছেন বাজার করার প্রয়োজন আছে কিনা। তারপর কেইটলিনের বাবা চলে গেলেন। পরে শুধু এটাই মনে আছে যে একজন প্যারামেডিক আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।" রাইট প্রায়ই এভাবে অসুস্থ হয়ে হাত পা কাঁপিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এ কারণে তার এমন পরিস্থিতির বিষয়ে আশেপাশের মানুষ বেশ সচেতন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "আমি প্রায় দিনই এভাবে অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার তিন সন্তানই জানে যে সে সময়ে ঠিক কি করতে হবে। আমরা তাদের সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শিখিয়ে-পড়িয়ে রেখেছি।" এতো অল্প বয়সে এতোটা সচেতন কিভাবে? কেইটলিনের বাবা সায়মন রাইট বলেছেন, "আমরা কেইটলিনকে এটুকুই শিখিয়েছি যে, টেলিফোনের একটি ছোট বোতাম তিনবার চেপে এবং এরপর একটি সবুজ বোতাম চেপে, কিভাবে সাহায্য চাইতে হয়।- এই ছোট শিক্ষাটাই আজ শার্লিনকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে।" "যদি কেইটলিন এমনটা না করতো, তাহলে তো আমাদের আজকে এভাবে একসঙ্গে বসে থাকা সম্ভব হতো না। এটা সত্যিই বিস্ময়কর।" মিসেস রাইট আরও বলেছেন "আমার প্রথম চিন্তা এটাই ছিল যে, আমি আমার তিন সন্তানের সাথেই নিরাপদ। এটি সম্ভবত বিশ্বের সেরা অনুভূতিগুলির মধ্যে একটি।" তিনি আরও বলেন, "আপনি যদি অসুস্থ বা বিপর্যস্ত থাকেন, দুর্বল হন বা শারীরিক পরিস্থিতি ভাল না হয়, তাহলে এ বিষয়টা খুবই ভীতিকর। কিন্তু আমি জানি যে আমার এই ছোট মেয়েটাও আমার জীবন বাঁচাতে পারে।" "সে আমাকে সেদিন বাঁচিয়েছে, আসলে এমন অনেক কিছুই ঘটতে পারতো যখন সেখানে কেউ ছিল না।"  তথ্যসূত্র: বিবিসি  এমএইচ/

‘খাশোগি হত্যার ব্যাপারে সৌদি যুবরাজকে কঠোর বার্তা দিয়েছি’

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্সআয়ার্সে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সৌদির ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। শনিবার জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ইউরোপের পক্ষ থেকে এ কঠোর বার্তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন। ম্যাকরন বলেন, ইউরোপ যে খাশোগি হত্যার ব্যাপারে সৌদি আরবের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় সে বিষয়টি তিনি বিন সালমানের সামনে তুলে ধরেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সৌদি যুবরাজকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, খাশোগি হত্যার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্ত হতে হবে। সৌদি রাজতন্ত্র-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন। সৌদি সরকার ১৭ দিন ধরে খাশোগির অবস্থান সম্পর্কে কোনো কিছু জানা থাকার কথা অস্বীকার করেন । পরে তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে ১৯ অক্টোবর স্বীকার করে যে, খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। সৌদি সরকারের হাতে আটক ও খুন হওয়ার আশঙ্কায় স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন জামাল খাশোগি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যেই সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হতে হয়। হত্যাকাণ্ডের দায়ে এক ডজনেরও বেশি সৌদি কর্মকর্তাকে আটক করা হলেও তুরস্কের তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের হাতে থাকা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বলেছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সরাসরি নির্দেশে খুন হন জামাল খাশোগি।  তথ্যসূত্র: পার্সটুডে  এমএইচ/  

জার্মানির মুসলিম অনুষ্ঠানে শুকরের মাংস, অতপর..

জার্মানির একটি মুসলিম সম্মেলনের খাদ্য তালিকায় শুকরের মাংসের সসেজ থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে বার্লিনে ওই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষজনের কথা চিন্তা করে ওই খাবারগুলো বাছাই করা হয়েছিল। তবে কেউ যদি ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত পেয়ে থাকেন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হলো।   এই অনুষ্ঠানটির আয়োজিত হয় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্স্ট শিহোফেরের উদ্যোগে, যিনি গত মার্চ মাসে মন্তব্য করেছিলেন যে, `জার্মানিতে ইসলাম খাপ খায়না।` ওই ইসলামিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ ব্যক্তি মুসলমান ছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, শুকর খাওয়া মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। যে সসেজটি ওই অনুষ্ঠানে খেতে দেওয়া হয়েছিল, তার স্থানীয় নাম ``ব্লাড সসেজ``-যেটি শুকরের রক্ত এবং মাস দিয়ে তৈরি করা হয়। এ ঘটনার পর জার্মানির সাংবাদিক টেনচে ওযডামার তার টুইটারে লিখেছেন, `শিহোফেরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে কি বার্তা দিতে চায়? যারা শুকর খায় না, সেই মুসলমানদের জন্য খানিকটা শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত।` জানা যাচ্ছে, সম্মেলনের শুরুতে শিহোফের মন্তব্য করেছেন যে, তিনি জার্মানিতে `জার্মান ইসলাম` দেখতে চান। সাংবাদিক ওযডামার লিখেছেন,  ‘শিহোফেরের এরকম আত্মম্ভরি আচরণের মাধ্যমে `জার্মানির মুসলমানদের বেশিরভাগের কোন সমর্থন পাওয়া যাবে না।` এসব সমালোচনার মুখে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের খাদ্য তালিকায় ১৩ রকমের খাবার ছিল। যার মধ্যে হালাল, নিরামিষ, মাংস এবং মাছ ছিল। সব খাবার বুফেট পদ্ধতিতে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল এবং কোনটা কি খাবার, তা পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল। জার্মানির কিছু সংবাদপত্র লিখেছে, ২০০৬ সালে জার্মানির প্রথম ইসলামিক কনফারেন্সে হ্যাম আকারে শুকরের মাংস দেওয়া হয়েছিল। গত মার্চ মাসের মন্তব্যে  শিহোফের বলেছিলেন, `জার্মানিতে ইসলাম খায়না, কারণ খৃষ্টান ধর্মের আদলেই জার্মানি গড়ে উঠেছে।` ধারণা করা হয়, চরম ডানপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, `যে মুসলমানরা আমাদের মধ্যে বসবাস করছেন, তারা অবশ্যই জার্মানি...কিন্তু তার মানে এই নয় যে, অন্যদের জন্য ভুলভাবে ভাবতে গিয়ে আমরা নিজেদের রীতি বা ঐতিহ্যকে জলাঞ্জলি দেবো।‘ তবে গতমাসে ব্যাভারিয়ার নির্বাচনে শিহোফেরের ক্রিশ্চিয়ান সোস্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) দল বড় ধরণের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। বিবিসির জার্মানি সংবাদদাতা বলছেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অভিবাসীদের নিয়ে তার কঠোর বাক্য এবং নীতি যেন তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি   এমএইচ/

ক্রিমিয়ায় অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করল রাশিয়া

ক্রিমিয়ায় নতুন করে আরো এক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ মোতায়েন করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সঙ্গে যখন রাশিয়ার সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে তখন নতুন করে এস-৪০০ মোতায়েনের খবর এলো। রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বহরের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছেন, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চল  জাংকোই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনের আগে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়। সম্প্রতি ক্রিমিয়ার কাছে আজোভ সাগরের কের্চ প্রণালী থেকে রুশ সেনারা ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ আটকের পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। রুশ পদক্ষেপের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেংকো তার দেশে এক মাসের জন্য সামরিক আইন জারি করেছেন। এছাড়া, তিনি জার্মানি ও আমেরিকার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। এদিকে আজোভ সাগর থেকে ইউক্রেনের নাবিকদের আটক করার ঘটনা সমর্থন করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার দেশের সেনারা সীমান্ত রক্ষার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তথ্যসূত্র : পার্সটুডে এমএইচ/

বিভীষিকাময় ৫৩৬ খৃস্টাব্দ   

আজকের এই দিনে আমরা অনেকেই ভাল আছি, আবার অনেকেই ভাল নেই, কারো দুঃখের সীমা নেই, পার করছেন কঠিন থেকে কঠিনতম সময়। তারপরও আমরা অনেক সৌভাগ্যবান, আমরা ৫৩৬ খৃষ্টাব্দে আমরা পৃথিবীতে ছিলাম না।   বছরটা সুনির্দিষ্ট না হলেও সময়টা ছিল সবচেয়ে খারাপ। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত যত খারাপ সময় গেছে সেই সময়টা ছিল সবচেয়ে খারাপ, মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে কঠিন সময়। এই বিষয়ে মতামত দিয়েছেন  হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যযুগ বিষয়ক ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ মাইকেল ম্যাককরমি । বিজ্ঞানীরা বলেছেন,  পৃথিবীতে সূর্যের আলো এসে পৌছাতে পারেনি টানা দেড় বছর। সমান হয়ে গিয়েছিল দিন রাত। রহস্যময় কুয়াশায় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু অংশ ঢেকে গিয়েছিল অন্ধকারে। মাইকেল ম্যাকরমিক বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী সায়েন্সে এসব কথাই লিখেছেন । ৫৩৬ খৃষ্টাব্দের গ্রীস্মে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২৩০০ বছরের ইতিহাসে ওই দশকটাই পৃথিবী ছিল সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা। চীনে গ্রীষ্মকালেও তুষারপাত হয়েছিল। শস্যহানি হয়েছিল। খাবারের অভাবে থাকতে হয়েছিল লোকজনকে।   এসব তথ্য আইরিশ ক্রনিকলের রেকর্ডে আছে। উল্লেখ আছে "৫৩৬ থেকে ৫৩৯ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত রুটির মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছিল।" তারপর ৫৪১ খৃস্টাব্দে মিশরের পেলসিয়াম বন্দরে দ্রুত সংক্রামক ব্যাধি প্লেগ আক্রমণ করে। এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক জনগোষ্ঠী বিনাশ হয়ে যায়। রোমান সাম্রাজ্যের পতনও ত্বরান্বিত হয় । অন্ধকার এক সময়  ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পৃথিবীতে প্রচণ্ড এক অন্ধকার নেমে এসেছিল, ইতিহাসবিদরা জানতেন  বহুকাল আগে থেকেই। সেই যুগ কেই বলা হয় অন্ধকার যুগ। কেন তৈরি হয়েছিল মেঘের মতো কুয়াশার চাদর, কী কারণে এই অন্ধকার নেমে এসেছিল, সেটা থেকে গেছে রহস্য হিসেবেই । মানব ইতিহাস নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিজ্ঞানী গবেষণা করছেন সেই রহস্যের একটা ব্যাখ্যা তারা দিয়েছেন। তারা এই গবেষণাটি চালিয়েছেন সুইস হিমশৈল থেকে কিছু বরফ নিয়ে । বলছেন, ৫৩৬ খৃস্টাব্দের সময়কার বরফে দুটো আণুবীক্ষণিক কণা পাওয়া গেছে যা আসলে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট ছাই। সেসময় আইসল্যান্ড কিম্বা উত্তর আমেরিকার আগ্নেয়গিরিতে আকস্মিকভাবে বড় রকমের অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছিল। অগ্নুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো উত্তর গোলার্ধে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, সেই ছাই বাতাসে করে প্রথমে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র ইউরোপে জুড়ে এবং আরো পরে ছড়িয়ে পড়ে এশিয়ায়। সাথে করে নিয়ে আসে তীব্র ঠাণ্ডা। তারপর ঘটে আরো বড় দুটো অগ্ন্যুৎপাতের মত ঘটনা, যা ঘটেছিল ৫৪০ এবং ৫৪৭ খৃস্টাব্দে। ফিরে এলো কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় পরপর ঘটে যাওয়া বড় ধরনের দুটো আঘাত- প্লেগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা - এসব প্রায় ৬৪০ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত অর্থাৎ এক শতাব্দী কাল স্থায়ী হয়েছিল  এটা । মধ্যযুগীয় অর্থনীতি তখন মন্দাবস্থা কাটিয়ে ওঠতে শুরু করে তার ইঙ্গিত দেয় ওই বরফ থেকে পাওয়া তথ্য। বিজ্ঞানীরা হিমশৈলতে তখন প্রচুর পরিমাণে বাতাসে বয়ে আসা সীসার স্তর দেখতে পান। এথেকে বোঝা যায় যে তখন খনি থেকে রুপার উত্তোলন বেড়ে গিয়েছিল। এটা কমে গিয়েছিল ৫০০ শতাব্দীতে । ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইল হারপার মধ্যযুগ এবং রোমান সাম্রাজ্যের ওপর গবেষণা করেন । তিনি বলছেন, মানব সৃষ্ট দূষণ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যযয়ের যে ইতিহাস বরফের গায়ে জমাট বেঁধে আছে তা থেকে পাওয়া যায় নতুন তথ্য- দেখা যায় কী কী কারণে পতন হয়েছিল রোমান সাম্রাজ্যের।   এসি   

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি