ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৪৯:৫৮, বুধবার

শ্রীলংকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯

শ্রীলংকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯

শ্রীলংকায় চার গির্জা, তিন হোটেল ও এক বাড়িতে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছ। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। আজ বুধবার শ্রীলংকার পুলিশবাহিনীর মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারে জানান, রোববারের বোমা 
গির্জায় ঢোকার আগে শিশুর মাথা স্পর্শ করেছিলো সন্দেহভাজন হামলাকারী

ইস্টার সানডে`তে কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে একের পর এক বিস্ফোরণের পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শ্রীলংকায়। সন্দেহ করা হচ্ছে একটি ইসলামপন্থী সংগঠনকে এবং মনে করা হচ্ছে তারা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে হামলার ধরণ থেকে তারা কথিত ইসলামিক স্টেটের একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছে। দেশটিতে আজ শোক দিবস পালিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে নিহতদের শেষকৃত্যও শুরু হয়েছে। তবে কেনো আগে থেকে সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরেও সরকার হামলা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি তা নিয়েও দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। শ্রীলংকায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে খ্রিস্টান, মুসলিম ও হিন্দুরা সংখ্যালঘু। যদিও দেশটির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ইতিহাসে খ্রিস্টানদের জড়িত হবার উদাহরণ কমই। রয়টার্স বলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী এফবিআই এজেন্ট পাঠানো হচ্ছে শ্রীলংকায়। তারা ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেয়ারও প্রস্তাব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো এ ঘটনার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের হামলার ধরণের মিল পাচ্ছে। যদিও ইসলামিক স্টেট সাধারণত তাদের হামলাগুলোর বিষয়ে দ্রুতই দায় স্বীকার করে। পুলিশ বলছে তারা একজন সিরিয়ান সহ ৪০ জনকে আটক করেছে। সিএনএন-এ প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হামলাকারীদের একজন ভারী ব্যাগ বহন করছে পিঠে। সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় প্রবেশের আগে সে একটি শিশুর মাথা স্পর্শ করছে। হামলার ঘটনায় কিংবা আগেই হামলাকারীদের থামানো যেতো কি-না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যকার কোন্দলের বিষয়টি উঠে আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। সরকার আগেই এনটিজের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খবর পেয়েছিলো ভারতীয়দের কাছ থেকে। যদিও সরকারেরই একজন মন্ত্রী বলছেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহকে এটি জানানো হয়নি। আবার প্রেসিডেন্টে মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা বিষয়ক সভাগুলোতেও যোগ দেননি তিনি। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

শ্রীলঙ্কায় আজ জাতীয় শোক দিবস

ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় ৩১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আজ ২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস পালন করছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা মঙ্গলবার দিবসটি পালনের ঘোষণা দেন।  এদিকে নিহতদের স্মরণে আজ মঙ্গলবার সকালে তিন মিনিট নীরবতা পালন করেন লঙ্কান নাগরিকরা। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, এই অকল্পনীয় ট্রাজেডির মুখে লঙ্কান জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা আবশ্যক। প্রসঙ্গত, রোববার সকালে দেশটিতে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়। ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান এসএ/

ভোট দিয়ে তৃপ্ত মোদী

ভারতে তৃতীয় দফায় সবথেকে বেশি কেন্দ্রের নির্বাচন হচ্ছে আজ। ১১৭টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভোটাররা। বহু হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্যনির্ধারণ হবে এদিন। তবে এদিন সকাল থেকে লাইমলাইট কাড়লেন মোদী। মায়ের হাতে খাওয়া থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র, এদিন সকাল থেকেই নজর ছিল প্রধানমন্ত্রীর দিকে। আমেদাবাদে গিয়ে ভোট দেওয়ার পর বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, ‘আজ তৃতীয় দফার ভোট। আজ নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুম্ভমেলায় স্নান করে যে পবিত্রতার আনন্দ হয়, গণতন্ত্রের যজ্ঞে ভোট দিয়ে সেই পবিত্রতার অনুভূতি হচ্ছে।’ দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যাতে প্রত্যেকে উৎসাহের সঙ্গে বুথে গিয়ে ভোট দেন।’২১ শতকে যারা জন্মেছে এবার লোকসভা নির্বাচনেই প্রথম তারা ভোট দিতে চলেছেন। সেইসব প্রথম ভোটারদের স্বাগত জানিয়েছেন মোদী। ১০০ শতাংশ ভোট দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তাদের কাছে। মোদী বলেন, ‘ভারতের মানুষ বিচক্ষণ। জল আর ক্ষীরের তফাৎ জানেন তারা।’ ভোট দেওয়ার আগে গুজরাটের রাজধানী শহর গান্ধিনগরে মা হীরাবেন মোদীর সঙ্গে দেখা করেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে গিয়ে নিজের বাড়িতে যান মোদী। বাড়িতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। ছেলেকেও আশীর্বাদ করেছেন মা হীরাবেন মোদী। সূত্র : কলকাতা২৪ এসএ/      

তিনশ’ ছাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশের চারটি হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আটটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা তিনশ’ ছাড়িয়েছে। সবশেষ এ সংখ্যা ৩১০ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন চার শতাধিক। নিখোঁজও রয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। শ্রীলংকা পুলিশের এক মুখপাত্র রোয়ান গুনাসেকেরা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  রোয়ান বলেন, রোববারের ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রোববার সকালে দেশটিতে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়। ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। সূত্র : এএফপি এসএ/

সন্ত্রাসী হামলার পর শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন

শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে রোববারের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত (এনটিজে) নামে একটি জঙ্গি ইসলামী গোষ্ঠীর নাম আসার পর শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে ব্যবসার সূত্রে কলম্বোতে থাকেন বাংলাদেশের নাগরিক খালেকুজ্জামান সোহেল। সোমবার দুপুরে শহরের ওয়াল্লাওয়া এলাকায় এক মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি দেখতে ২০-২৫ জন সশস্ত্র পুলিশ মসজিদটি পাহারা দিচ্ছে। তিনি বলেন, "ভেতরে মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো তারা যতটা না আতঙ্কগ্রস্ত তার চেয়ে বেশি লজ্জিত এবং দুঃখিত। তারা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে তাদের সম্প্রদায়ের কেই দেশের ভেতরে এই ধরনের হামলা করতে পারে।" কলম্বোতে মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল শুরা কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা আজমান আব্দুল্লাহ বলেন, আতঙ্কের চেয়ে মুসলিমরা `ক্ষুব্ধ, ব্যথিত`। " আতঙ্ক যে একবারেই নেই তা বলবো না, নানা ধরণের গুজব শোনা যাচ্ছে, তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের খ্রিষ্টান ভাইয়েরা বুঝতে পারছেন যে শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা কোনোভাবেই তাদের ক্ষতি চায় না।" আব্দুল্লাহ জানান, শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতারা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, হামলার তীব্র নিন্দা করে মসজিদে মসজিদে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। "আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে সব সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করেন। কোনো সমস্যা নেই। তবে শুধু মুসলমান হিসেবে নয়, এদেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমি উদ্বিগ্ন। এদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।" শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ইতিহাস এমনিতেই খুব ভালো না। গত বছর ক্যান্ডি এবং আশপাশের বেশ কিছু শহরে মসজিদ এবং মুসলিম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কট্টর বৌদ্ধদের হামলার পর সাময়িক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে রোববারের হামলার সঙ্গে মুসলিম একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের কথা প্রকাশ হওয়ার পর স্বভাবতই অনেক মুসলিম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গলের সাংবাদিক ফারহান নিজামউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, মুসলিমরা ক্ষুব্ধ এবং তারা হামলাকারীদের `সর্বোচ্চ সাজা`র দাবি করছেন। "সোশ্যাল মিডিয়াতে শত শত মুসলিম লিখছেন এই সন্ত্রাসের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।" সোশ্যাল মিডিয়াতে গলের একজন মুসলিম লিখেছেন, "আমার জন্ম মুসলিম পরিবারে, কিন্তু আমি পড়াশোনা করেছি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে। ফলে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি আমার হৃদয়ের খুব কাছের।" আরেকজন লিখেছেন, "শ্রীলঙ্কায় দুটো গোষ্ঠী - একটি শ্রীলঙ্কান এবং আরেকটি সন্ত্রাসী।" ব্রিটেনে প্রবাসী শ্রীলঙ্কান মুসলিমদের শীর্ষ সংগঠন শ্রীলঙ্কান ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ব্রিটেনে শ্রীলঙ্কান মুসলিমদের সব সংগঠন রোববারের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে সোমবার একটি জরুরি বৈঠকে বসছে। সংস্থার সচিব মঞ্জুলা ওসমান বিবিসিকে বলেছেন, কীভাবে এই সন্ত্রাসী হামলা সামাল দিতে প্রবাসী শ্রীলঙ্কান মুসলিমরা সাহায্য করতে পারে সেটাই এখন তাদের প্রধান চিন্তা। "এটা সত্যি যে শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তবে রোববারের হামলার সঙ্গে ইসলামি একটি সংগঠনের যোগসাজশ নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বড় কোনো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কবলে আমরা এখনও শুনিনি... আমরা `ওয়েট অ্যান্ড সি আপ্রোচ` নিচ্ছি।" সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য মুসলিম আশ্বস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেছেন, "হামলাকারীরা দেশের সিংহভাগ মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমি তাদের মুসলিমই বলবো না। এদেশের সাধারণ মুসলিমরা অত্যন্ত সজ্জন এবং অন্য সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তারা সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করেন।" শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম। তথ্যসূত্র: বিবিসি।এসএইচ/

শ্রীলঙ্কায় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

শ্রীলঙ্কায় রোববার একের পর এক চালানো যে বোমা হামলায় ২৯০ জন নিহত হয়েছেন, তা স্থানীয় একটি গোষ্ঠী সন্ত্রাসীদের আন্তর্জাতিক এক নেটওয়ার্কের সহায়তায় ঘটিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন। গির্জা ও হোটেলে একযোগে চালানো হামলায় আরও অন্তত ৫০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতিও রয়েছে। এছাড়া, মিস্টার সেলিমের জামাতাও হামলায় আহত হয়েছেন। এই হামলার জন্য স্থানীয়ভাবে অচেনা একটি জিহাদি গ্রুপ, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতকে দায়ী বলে মনে করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। ফলে তদন্তকারীরা এখন এই গ্রুপটির প্রতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। যদিও কোন গোষ্ঠী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা বলছেন, এরা স্বল্প পরিচিত নতুন একটি গোষ্ঠী, যাদের সম্পর্কে কিছুদিন আগেও তেমন একটা জানা ছিল না। কিছুদিন আগে একটি বুদ্ধ ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনার সঙ্গে এই গ্রুপটি জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হয়। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ২০১৬ সালে গোষ্ঠীটির একজন নেতাকে গ্রেফতারের পর প্রথম এটি আলোচনায় আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত গ্রুপটি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী ধ্যানধারণা লালন করে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, এই গ্রুপটি কাট্টাকুডি নামের একটি মুসলিম অধ্যুষিত শহরে ২০১৪ সালে গঠিত হয়। তবে এর আগে কোন মারাত্মক কোন হামলার চালানোর সঙ্গে এদের নাম শোনা যায়নি। তবে দলটি তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপকে সমর্থন করতো বলে জানা যাচ্ছে। অ্যালান কিনান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের শ্রীলঙ্কাবিষয়ক পরিচালক। তিনি ধারণা দিচ্ছেন যে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত সম্ভবত সেই গোষ্ঠী, যারা গত বছরের একটি "ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ" একটি ঘটনায় জড়িত ছিল। তিনি বলেন, "ডিসেম্বরে মারওয়ানেলা শহরে ... বুদ্ধের কয়েকটি মূর্তি ভাঙ্গচুর করা হয়েছিল এবং এরপর পুলিশ এমন কয়েকজন তরুণকে গ্রেফতার করেছিল, যারা একজন ধর্মপ্রচারকারীর ছাত্র ছিলেন বলে বলা হয়েছে। এই ধর্মপ্রচারকারীর নাম যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, তা গতকালই বেরিয়েছে।" শ্রীলঙ্কার ওই হামলায় ২৯০ জন নিহত হলেও, এখনো কেউ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেনি। দেশটির সরকারও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি ঠিক কারা ওই হামলা করেছে, যদিও তারা এর মধ্যেই অন্তত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। আগাম সতর্কবার্তা- তবে ১০ দিন আগে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের দ্বারা চার্চে হামলার ব্যাপারে "বন্ধুপ্রতীম একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা" শ্রীলঙ্কার পুলিশকে সতর্ক করে দিয়েছিল বলে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে। ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মনোযোগ এখন ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের দিকেই বেশি পড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দি স্টাডি অব ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম-এর পরিচালক অ্যানি স্পেকহার্ড বলছেন, এই গ্রুপটির উদ্দেশ্য কোন বিপ্লব করা নয়, তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জিহাদীদের আন্দোলনকে শ্রীলঙ্কায় ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে ঘৃণা, ভয় ও বিভেদ তৈরি করা। রোববার একসঙ্গে চার্চ ও বিদেশি পর্যটক অধ্যুষিত হোটেলে হামলা চালানো হয়েছে, যার সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বড় বড় ইসলামপন্থী জঙ্গি গ্রুপগুলোর হামলার মিল রয়েছে, বলছেন মিজ. স্পিকহার্ড। সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্না বলেছেন, ইসলামিক স্টেট গ্রুপের শ্রীলঙ্কার শাখা হচ্ছে ওই ছোট সংগঠনটি, যারা চরমপন্থীদের হয়ে লড়াই করতে সিরিয়া আর ইরাকেও গিয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কার সরকার বা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বোমা হামলাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় গ্রুপ জড়িত থাকলেও তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হামলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট অথবা আল কায়েদা এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এরই মধ্যে এই হামলাকে সমর্থন করে আইএস জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসাবেই এই হামলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহযুদ্ধ চলার সময় তামিল টাইগাররা আত্মঘাতী হামলাকে এক প্রকার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতো। সে সময় সরকারি কর্মকর্তা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা করা হতো। কিন্তু গির্জা এবং হোটেলে হামলার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় একেবারে নতুন। "দেশের ভেতরে থাকা একদল ব্যক্তি এসব হামলা করেছে এটা আমরা বিশ্বাস করি না," কেবিনেট সেক্রেটারি রাজিথা সেনারত্নে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা বলেন। তিনি বলেন, "এখানে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে, যাদের ছাড়া এ হামলা সফল হতো না"। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যদের ধরতে অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। অ্যান্টি-টেরোরিজম বিশেষজ্ঞ আলটো লাবেটুবান বলছেন, ``মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মেলালে দেখা যায় ইসলামিক স্টেট এবং আল কায়েদার সঙ্গে এসব হামলার মিল রয়েছে।`` তিনি বলেন, ``যে মাত্রায় হামলাটি করা হয়েছে, তাতে আমার মনে হয় না যে শুধু স্থানীয়রা এটি ঘটিয়েছে। সম্ভবত বিদেশি গ্রুপ বা লোকজন এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে - বিশেষ করে ভারত বা পাকিস্তান থেকে লোকজন আসতে পারে।`` নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলছেন, ``যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের বিশেষ অপারেশন ক্ষমতা আর দক্ষ কমান্ডার রয়েছে তা বোঝা যায়।`` প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার দপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শ্রীলঙ্কান জঙ্গিদের সঙ্গে বিদেশি সন্ত্রাসী চক্র জড়িত রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

কাল ভারতের তৃতীয় ধাপের ভোট

  ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপে ১১৫টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর আগে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ করা হয় ১১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ করা হয় ১৮ এপ্রিল। এই দুই ধাপের ভোটে ব্যালট বাক্স ভাঙচুরসহ জাল ভোটের অভিযোগ উঠে। এছাড়াও সহিংসতা হয় এই দুই ধাপের ভোটে। তৃতীয় ধাপের ভোট নিয়ে ভারতজুড়ে দলগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ রামপুরহাট থেকে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর। রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও ওই সভায় হাজির ছিলেন। সেখান থেকে বাংলার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শাহ। তিনি বলেন, “বাংলায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। তাদের উপড়ে ফেলতে হবে।” অমিত শাহ অভিযোগ করেন, মা-মাটি-মানুষ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার। কিন্তু বাংলার উন্নয়নে কোনও কাজ করেনি তারা। একমাত্র বিজেপিই বাংলাকে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। বাংলার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই টাকা ভারতের সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছয়নি বলেও অভিযোগ করেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, “ইচ্ছাকৃতভাবে মমতার সরকার বাংলাকে কাঙাল করে রেখেছে। নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত হতে হবে না।” সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বলেন মমতা ও রাহুল। কোনওভাবেই কি তা সম্ভব? সন্ত্রাসকে নির্মূল করাই মোদি সরকারের লক্ষ্য। পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সারদা ও রোজভ্যালির টাকা খেয়েছে তৃণমূল। নরেন্দ্র মোদিকে ফের সরকার গড়তে দিন। ৯০ দিনের মধ্যে সব চোরকে জেলে পোরা হবে। কলকাতা মেট্রোর জন্যও ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি। কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল—এতদিন যারাই ক্ষমতায় এসেছে বাংলাকে কাঙাল করে রেখেছে। দরিদ্র মানুষের মাথার উপর ছাদ গড়ে দিতে ১৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু দরিদ্র মানুষের মাথার উপর ছাদ গড়ে ওঠেনি। এদিক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আজ মোট তিনটি সভা তৃণমূল নেত্রীর। প্রথম সভা করেন জামালপুরে। এর পর বর্ধমান শহর লাগোয়া দেওয়ানদিঘিতে নির্বাচনি জনসভা করেন। এর পর রায়নার সভায় যোগ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগের দুই সভায় বিজেপি তথা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জামালপুরের সভায় তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদি শুধু বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। দেশের জন্য কিছুই করেননি। উল্টে নোটবন্দি-জিএসটি-তে সাধারণ মানুষের সর্বনাশ করেছেন।’’ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে বার বার বলছেন, এ রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী চালু করবেন। কিন্তু জামালপুরের সভা থেকে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘এ রাজ্যে কিছুতেই নাগরিকপঞ্জি চালু করতে দেব না।’’ বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধেও এ দিন পাল্টা আক্রমণ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২৯ এপ্রিল চতুর্থ দফায় রাজ্যের মোট ৮টি আসনে ভোট। এই দফাতেই বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট নেওয়া হবে বহরমপুর, আসানসোল, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বীরভূম, বোলপুর, কৃষ্ণনগর এবং রানাঘাট আসনেও। ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’—রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রায় প্রতিটি জনসভায় এই ভাষাতেই মোদিকে আক্রমণ করছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই স্লোগান নিয়েই এ বার বিপাকে কংগ্রেস সভাপতি। নিজের বক্তব্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার অভিযোগে সোমবার শীর্ষ আদালতে দুঃখপ্রকাশ করতে হলো তাকে। বিজেপির দায়ের করা আদালত অবমাননার জেরে লিখিত বিবৃতিতে রাহুল আদালতে জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক প্রচারের উত্তেজনা’তেই এই ভুল করে ফেলেছেন। রাহুলকে দুঃখপ্রকাশ করতে হল কেন? ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ এপ্রিল। রাফাল চুক্তির আগের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায় বিরোধীরা। রাফাল চুক্তির ফাঁস হওয়া নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়। আদালত সেই সব নথি খতিয়ে দেখে সেগুলি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। রাহুল সে দিন অমেঠীতে ছিলেন। সেখানেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘এ বার সুপ্রিম কোর্টও কার্যত মেনে নিল, চৌকিদার চুরি করেছেন।’’ এই নিয়েই বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষী লেখি সুপ্রিম কোর্টে একটি আদালত অবমাননার মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, আদালতের রায়কে বিকৃত করেছেন এবং নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন রাহুল। ভারতের এই নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে ভারতজুড়ে। আর পাশের দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এর প্রভাব কম নয়। তাই নির্বাচন নিয়ে বেশ আগ্রহ সবার মধ্যে। এসএইচ/

বোমা ফাটল শ্রীলঙ্কায়, ভারতে ভোট চাইলেন মোদি

চলছে দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯। গতকাল রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিনটি সভা ছিল। প্রথমটি নিজ-রাজ্য গুজরাতের পাটানে। যেখানে দল কঠিন লড়াইয়ের মুখে। তখনও শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পুরো রিপোর্ট পাননি। কিন্তু সেখানেও পুরোদমে জাতীয়তাবাদের তাস খেলতে শুরু করেন। নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সুকৌশলে টেনে আনেন বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের কথা। মোদির দাবি, অভিনন্দনকে না-ছাড়লে যে পাকিস্তানকে ফলভোগ করতে হবে, সেই কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আমেরিকার এক কর্তাও বলেন, মোদি ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি রেখেছেন। পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনেই অভিনন্দনকে ছাড়ার ঘোষণা করে। তা না-হলে ‘কোতলের রাত’ হত। পরমাণু অস্ত্র নিয়েও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদি বলেন, পাকিস্তানের হুমকিতে ভয় পাওয়া ছেড়ে দিয়েছে ভারত। রোজ পরমাণু বোতামের কথা বলত। আমাদের কাছে তবে কী আছে? আমরা কি তা দীপাবলির জন্য বাঁচিয়ে রেখেছি? মোদির পরের সভা ছিল রাজস্থানের চিতোরগড়ে। ততক্ষণে শ্রীলঙ্কার নাশকতার খবর পেয়ে গেছেন। এবার তিনি বললেন, রানা প্রতাপের জমি থেকে রাজস্থানের প্রচার শুরুর পথেই শুনলাম, আমাদের বন্ধু পড়শি দেশ শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদীরা অনেক ‘বোম- ধামাকা’ করেছে। গির্জায়, হোটেলে। আজ পুরো বিশ্ব ইস্টারের পবিত্র পর্ব পালন করছে, প্রভু যিশুর শান্তির বার্তা আত্মস্থ করতে পূজাপাঠ করছে, সেই সময় নরাধম সন্ত্রাসবাদীরা শত শত নির্দোষের উপরে রক্তের খেলা খেলল। সঙ্কটের মুহূর্তে ভারত শ্রীলঙ্কার পাশে রয়েছে পুরো শক্তিতে। এর পরে এক নিঃশ্বাসে মোদি বলে চলেন, ‘ভাই ও বোনেরা, আপনারা যখন পদ্মচিহ্নে ভোট দেবেন, মনে রাখবেন, এই সন্ত্রাসবাদ খতম করার জন্য বোতাম টিপছেন আপনারা। আপনার আঙুলে শক্তি আছে। আপনি পদ্মে ভোট দেবেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমার লড়াইয়ে শক্তি আসবে। বলুন, এই সন্ত্রাসবাদ কে খতম করতে পারে?… মোদি ছাড়া আর কোনও নাম দেখছেন আপনারা? আর কেউ করতে পারে?… ফলে যখন ভোট দেবেন, বীর সৈনিকের মতো সচেতন থাকা উচিত। দেশের জন্য ভোট দিলে সেই ভোট মোদির কাছে যাবে।’ রাহুল গান্ধী যতই বেকারত্ব, কৃষক দুর্দশার মতো মৌলিক বিষয় নিয়ে প্রচার করছেন, মোদি ততই চড়াচ্ছেন উগ্র জাতীয়তাবাদের সুর। সে কারণে দিল্লিতে সার্জিকাল স্ট্রাইকের ‘হিরো’ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি এস হুডাকে সামনে আনল কংগ্রেস। যার নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গড়েছেন রাহুল গান্ধী। সেই টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টও প্রকাশিত হল। সঙ্গে এলেন পি চিদম্বরম আর জয়রাম রমেশ। সেনা নিয়ে মোদির রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হলেন রাহুল। বললেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট। তার পরেও সেনা নিয়ে কোনও রকম রাজনীতি দুঃখজনক।’ চিদম্বরম বললেন, ‘এই চড়া জাতীয়তাবাদে মুগ্ধ হওয়ার কিছু নেই। সেনাকে সব সময় খোলা পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া রয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ফের দেবে।’ কংগ্রেসের আক্রমণ আসবে মোদি জানতেন। তাই বাড়মেরে তৃতীয় তথা এ দিনের শেষ সভায় ফের কংগ্রেসকে বিঁধলেন। বেশ কয়েক বার ‘পাকিস্তান’ ‘পাকিস্তান’ করলেন। বললেন, ‘২৩ মে যখন ফের মোদি সরকার আনবেন আপনারা, তার আওয়াজ শোনা যাবে সীমান্তপারে। সন্ত্রাসবাদকে শিক্ষা দেওয়ার পণ করেছি আমি। ঘরে ঢুকে মারি। কিন্তু কংগ্রেস বলে, শৌর্যের কথা বলা উচিত নয়। কেন? আমি কি ভজনমণ্ডলী করতে এসেছি?’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি