ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:১৩:০৬

বিশ্বের প্রথম ডাউন সিন্ড্রোম মডেল

বিশ্বের প্রথম ডাউন সিন্ড্রোম মডেল

জিনগত ত্রুটি ডাউন সিন্ড্রোমের ফলে শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ভারসাম্যও অনেকক্ষেত্রে নষ্ট হয়৷ অথচ এ সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেডেলিন হয়ে উঠেছেন বিশ্বের প্রথম ডাউন সিন্ড্রোম মডেল৷ যেভাবে হলো শুরু ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে মা রোসানে স্টুয়ার্টের সঙ্গে এক ফ্যাশন প্যারেড দেখতে গিয়েছিলেন মেডেলিন৷ আলোর ঝলকানিতে উজ্জ্বল রানওয়েতে হাঁটতে থাকা দুর্দান্ত সব সুন্দরীদের দিকে সবার নজর৷ তখনই মায়ের দিকে ফিরে দৃঢ় কণ্ঠে জানান মেডেলিন, তিনি মডেল হতে চান৷ মেয়ের চোখের প্রত্যয় দেখে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পূর্ণ সমর্থন দেন রোসানে৷ স্থূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত অন্যদের মতোই মেডেলিনও অতিরিক্ত স্থূলতায় ভুগছিলেন৷ তবে মডেলিং শুরুর আগেই শারীরিক সমস্যার কারণে ওজন কমাতে রীতিমতো লড়াইয়ে নামেন মেডেলিন৷ ২০১৫ সালেই রোসানে অন্যদের উৎসাহিত করতে অনলাইনে তার মেয়ের কিছু ছবি শেয়ার করেন৷ এক সপ্তাহে ৭২ লাখ মানুষ সে পোস্ট দেখে৷ সংবাদ পরিবেশিত হয় ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে৷ প্রথম ক্যাটওয়াক অনলাইনে মেডেলিনের জনপ্রিয়তা দেখে সাউথ আফ্রিকার ফ্যাশন ডিজাইনার হেনড্রিক ভেরময়লেন নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইক শো-তে তার সঙ্গে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান৷ এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে৷ একের পর এক বিশ্বখ্যাত ডিজাইনাররা মেডেলিনকে বেছে নেন তাদের মডেল হিসেবে৷ ব্যস্ততম সূচি, বিশ্বজোড়া খ্যাতি মেডেলিনের বয়স এখন ২১ বছর৷ গত চার বছরে লন্ডন, প্যারিস, দুবাইয়ের মতো ফ্যাশন শহরগুলোতে ৬০টিরও বেশি ক্যাটওয়াকে অংশ নিয়েছেন মেডেলিন৷ ২০১৮ সালের নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইক শো-তে সাত জন ফ্যাশন ডিজাইনারের হয়ে রানওয়েতে হেঁটেছেন মেডেলিন৷ তবে বছর শেষ হতে বাকি এখনও আরও তিন মাস৷ এর আগেই লন্ডন ফ্যাশন উইকে আরও সাত ডিজাইনারের পোশাক পড়ে ক্যাটওয়াক করবেন তিনি৷ সমালোচনা, জবাব অনেকেই রোসানের বিরুদ্ধে মেডেলিনকে দিয়ে জোর করে কাজ করানোর অভিযোগ করেছেন৷ তবে রোসানে বলছেন, ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্তরা অনেক একগুঁয়ে প্রকৃতির হয়৷ ফলে তাদের দিয়ে জোর করে কখনোই কিছু করানো যায় না৷ রোসানের ধারণা, মেডেলিনকে দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ক্যাটওয়াক করানোর চেষ্টা করলে সে হয়তো মাঝপথে হাঁটু গেড়েই বসে থাকতো৷ মেডেলিনের বয়ফ্রেন্ড রোসানে চেয়েছিলেন সব বাধা সত্ত্বেও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাক মেডেলিন৷ হয়েছেও ঠিক তাই৷ মডেলিংয়ে খ্যাতির পাশাপাশি নিজের জন্য খুঁজে নিয়েছেন বয়ফ্রেন্ডও৷ রবির সঙ্গে মেডেলিনের পরিচয় হয় চার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় এক স্পেশাল অলিম্পিকে৷ রবিও আক্রান্ত ডাউন সিন্ড্রোমে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//
যে কারাগারে শিশুরা পায় প্রাপ্তবয়স্কদের সাজা

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আরোপের দিক থেকে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি অস্ট্রেলিয়া। প্রতিবছর দেশটিতে হাজারও অভিবাসীকে মানব-পাচারের অভিযোগে কারাবন্দী করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সেই সব অভিবাসী কারাগারে গিয়ে দেখা যায় প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে শিশু-কিশোরদেরও আটকে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। আর এ বিষয়ে ওই শিশুদের স্বজনদেরও কিছু জানানো হয়নি। মানবাধিকার কর্মীদের বিষয়টি চোখে পড়লে তারা আইনি লড়াইয়ে নামেন। আর তাতে বেরিয়ে আসে এমন কয়েকজনের দু:সহ অভিজ্ঞতার কথা। তেমন একজনের মা সিটি রুডি। থাকেন ইন্দোনেশিয়ার রট দ্বীপের ওয়েলাবা গ্রামে। যার অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার বেশ কাছাকাছি। তার ছেলে আবদুল একদিন কাজে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। সেটা ২০০৯ সালের কথা। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকমাস পর্যন্ত সন্তানের কোনও খবর না পেয়ে সিটি রুডি ভেবেছিলেন তার ছেলে হয়তো সমুদ্রে ডুবে মারা গেছে। তারপর একদিন হঠাৎ তার ফোন বেজে ওঠে। ‘অনেকদিন পর আবদুল আমাকে ফোন করে। জানায় যে সে অস্ট্রেলিয়ায় আছে। সেখানকার কারাগারে। ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। দিন রাত শুধুই কেঁদেছি। কারণ ছোট ছেলে হিসেবে একমাত্র সেই আমার দেখাশোনা করতো।’ সে সময় ভাল বেতনের কারণে নৌকায় চাল আনা নেওয়ার কাজ নিয়েছিলেন আবদুল। এই চাল কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায়, তার কিছুই জানতেন না। এভাবে এক পর্যায়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ তাকে সমুদ্র সীমার কাছ থেকে আটক করে এবং তাকে মানব-পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। যারা কি-না আশ্রয় প্রত্যাশীদের সমুদ্র পথে অবৈধভাবে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসে। সে সময় আবদুলের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। অস্ট্রেলিয়া পুলিশ ওই বয়সেই তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। প্রাপ্ত বয়স্কদের আইন অনুযায়ি আদালত আবদুলকে দোষী সাব্যস্ত করে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা যেই কারাগারে সব প্রাপ্তবয়স্ক আসামীদের সঙ্গে কিশোর আবদুলকে আড়াই বছর থাকতে হয়েছিল। ‘শুরুর দিকে আমার অনেক ভয় লাগতো। আতঙ্কে থাকতাম, হয়তো আমাকে অনেক মারধোর করা হবে। কারণ সেখানকার সবাই আমার চেয়ে বয়সে আর অপরাধেও অনেক বড় ছিল। ধীরে ধীরে আমি কারাগারের জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি ঠিকই তবে পরিবারের থেকে এতো দূরে এভাবে থাকা অনেক কঠিন ছিল।’ হাতেগোনা কয়েকটি দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত আইন বেশ কড়া হলেও ২০০৯ সালে প্রচলিত সীমান্ত নীতি অনুযায়ী যদি সমুদ্র সীমায় উদ্ধারকৃত কোন আরোহী শিশু হয় তাহলে তাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। কোন অভিযোগ দায়ের করা যাবে না। আবদুল এখন পরিণত যুবক। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে তারমতো ১২০ জনের বেশি শিশুকে অবৈধভাবে কারাবন্দি করেছিল অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে অস্ট্রেলিয়ার আইনজীবীরা আবদুলের গ্রামের বাড়িতে যায়। আবদুলকে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে এখন তারাও একটি মামলা দায়ের করেছে যেন তারা মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী, অস্ট্রেলিয়া কমনওয়েলথ ও বয়স পরীক্ষার চিকিৎসকের থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে। অস্ট্রেলীয় আইনজীবী মার্ক ব্যারো মনে করেন, কর্তৃপক্ষের থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে আছে। ‘শিশু কিশোরদের এভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারে বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর কোনও নিয়ম জাতিসংঘে নেই। তাকে তার পরিবারের সঙ্গে রাখাই নিয়ম।’ ব্যারো বলেন, ‘যদি কোনও অস্ট্রেলীয় শিশু ইন্দোনেশিয়ায় আটকা পড়তো তাহলে দ্রুত তার পরিচয় শনাক্ত করে, শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হত।’ কারাবন্দি শিশুদের অনেকেই শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন ওই আইনজীবীরা। অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও অনেকে সেই মানসিক উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। যদিও সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি জেল ফেরতরা। সূত্র: বিবিসি এমএইচ/একে/

নিউজিল্যান্ডের ওমাউইতে যে কারণে বিড়াল পালন নিষিদ্ধ

নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের ছোট্ট একটি শহর ওমাউই। সেখানে বন্য প্রাণী রক্ষার চেষ্টা হিসেবে চরম এক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে- আর তা হলো সব ধরনের পোষা বিড়ালের ওপর নিষেধাজ্ঞা। এনভায়রনমেন্ট সাউথ-ল্যান্ড-এর প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ওমাউইতে যত বিড়াল-প্রেমী আছেন তাদের বিড়ালকে বন্ধ্যা করতে হবে, সেগুলোর শরীরে মাইক্রোচিপ বসাতে হবে এবং বিড়ালকে নিবন্ধিত করতে হবে। তাদের পোষা বিড়ালের মৃত্যু হলে ওই সম্প্রদায়ের বিড়াল-প্রেমী লোকজন নতুন করে বিড়াল পালনের অনুমতি পাবেন না। এটা বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে বটে, কিন্তু উদ্যোক্তাদের যুক্তি- প্রতিবছর কোটি কোটি পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর জন্য দায়ী এ সব বিড়াল। সেখানকার একটি পাখি সংরক্ষণাগার দ্য স্মিথসোনিয়ান মাইগ্রেটরি বার্ড সেন্টারের প্রধান ডক্টর পিটার মারা এই বিষয়ে অনেক গবেষণাপত্র এবং বই লিখেছেন। যদিও তার সম্পর্কে বিতর্কিত ধারণা প্রচলিত আছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি বিড়াল বিদ্বেষী নন কিংবা বিড়াল পালনের বিপক্ষেও নন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘বিড়াল চমৎকার পোষা প্রাণী-তারা দেখতেও দারুণ! কিন্তু তাই বলে তাদের যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া যাবে না-এটাই অবধারিত সমাধান।’ কর্মকর্তারা বলছেন, ওমাউইতে এই পদক্ষেপ যথাযথ। কারণ ক্যামেরায় দেখা গেছে, ঘুরে বেড়ানো বিড়ালেরা ওই এলাকার পাখী, পোকা-মাকর এবং সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী শিকার করছে। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতে বিড়ালের দ্বারা অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে। ‘তাই ওমাউইতে আপনার বিড়াল যেভাবে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে সেভাবেই কাটাতে পারবে। কিন্তু যে মুহূর্তে সেটি মারা যাবে আপনি এর পরিবর্তে আর কোনও বিড়াল পালতে আনতে পারবেন না’- বলছিলেন বায়ো-সিকিউরিটি অপারেশন্স ম্যানেজার আলি মিয়াদে। ওমাউই ল্যান্ড কেয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জন কলিনস অতি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিড়াল পালনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ‘আমরা বিড়াল বিদ্বেষী নই কিন্তু আমরা চাই আমাদের বন্যপ্রাণী-সমৃদ্ধ পরিবেশ থাকুক।’ বিড়াল আসলে কতবড় হুমকি? বিড়াল এবং স্থানীয় ইকো-সিস্টেম নিয়ে বিতর্ক যে শুধু ওমাউইতে- তা নয়। বিশ্বব্যাপী ইকো-সিস্টেমের ওপর বন্য এবং পোষা- দুই প্রজাতিই বিড়ালের প্রভাব নিয়ে বহু আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন বন সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা। এবং বিড়াল বিশ্বের ১০০টি ভয়ংকর আক্রমণাত্মক নন-নেটিভ প্রজাতির মধ্যে জায়গা পেয়েছে। ডক্টর মারা বলেন, ৬৩ রকমের প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে যারা বিড়ালের আক্রমণের আতঙ্কে আছে। নিউজিল্যান্ডের মত অত্যন্ত সংবেদনশীল ইকো-সিস্টেম যেখানে, সেখানে এই সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ‘এটা চরম বলে মনে হতে পারে কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’ তিনি মনে করেন, বিশ্বজুড়ে বিড়াল প্রেমীদের এই প্রাণীটির প্রতি আলাদা চিন্তা-ভাবনা গড়ে তুলতে হবে। তার মতে, বিড়ালকে বন্ধ্যা করে দেওয়া, এবং বাড়িতে খেলনা দিয়ে খেলানো কিংবা বাড়ির ভেতরে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে -যেমন শিকলে বেধে রাখা যেতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই বিপজ্জনক অবস্থার দোষ বিড়ালের নয় এটা মানুষের দোষ।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং মেমেতে জনপ্রিয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী পোষা প্রাণীদের সংখ্যায় কোনও ঘাটতি নেই। ‘তারা দেখতে `কিউট`- ফলে তাদের সম্পর্কে মানুষের অনুভূতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।’ সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন তবে আমেরিকাতে ৮৬ মিলিয়ন পোষা বিড়াল আছে। অর্থাৎ প্রতি তিনটি পরিবারে একটি বিড়াল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় চার বিলিয়ন পাখি এবং ২২ বিলিয়ন স্তন্যপায়ী প্রাণী বিড়ালের দ্বারা হত্যার শিকার হয়। ব্রিটেনেও এই সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং সে জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন বিড়ালকেই। স্তন্যপায়ী প্রাণী বিষয়ক গবেষণা ও সংরক্ষন সংগঠন ম্যামাল সোসাইটি বলছে, প্রায় ৫৫ মিলিয়ন পাখি প্রতিবছর আক্রান্ত হয়। প্রকৃতিগতভাবেই ঘাতক! নিউজিল্যান্ডে এই প্রথম বিড়ালের এমন ভীতিকর চেহারা উঠে এসেছে তেমনটি নয়- দেশের মোট পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক পরিবারেই পোষা বিড়াল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও বিষয়টি বড় চিন্তার কারণ। যেখানে প্রতি রাতে বিড়াল বহু বিরল প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে সেখানে বিড়ালের কবল থেকে প্রাণীকুলকে বচাতে বিশ্বের বৃহৎ ক্যাট-প্রুফ বেড়া দেওয়া হয় এবং গৃহপালিত বিড়ালের কারণে সেখানে জাতীয়ভাবে কারফিউ পর্যন্ত জারি করা হয়। রাতে বিড়াল যেন বাড়ির বাইরে না যায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মাঠে নামেন কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকারি প্রতিনিধিরা। তবে এ সমস্ত কর্মকাণ্ড ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। গত বছর কুইন্সল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল অফিস বন্য বিড়ালের খুলির জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলে তীব্র ধিক্কার জানায় প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো। ওমাউইতে স্থানীয় লোকজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা বিড়াল পালনের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার খবরে `হতবাক`। এটি প্রত্যাখ্যানও করেছেন অনেকে। নিকো জারভিস বলেন, তার তিনটি বিড়াল রয়েছে এবং সেগুলো তার বাড়িতে ইঁদুর মারে। বিড়াল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবকে তিনি তুলনা করেন `পুলিশ রাষ্ট্র` হিসেবে। ফেসবুক পেজে বিড়াল প্রেমীদের যে পাতা রয়েছে সেখানেও এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে। সেখানে কেউ কেউ যুক্তি তুলে ধরেন যে `বিষ, গাড়ি এবং মানুষও বন্য প্রজাতি ধ্বংস করতে পারে`। স্থানীয় বাসিন্দাদের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত তাদের মতামত জমা দিতে হবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে। সূত্র: বিবিসি একে//

পাঁচ লাখ গোলাপে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পিরামিড!

ইকুয়েডরে পাঁচ লাখের অধিক সংখ্যক লাল গোলাপ দিয়ে বিশাল এক পিরামিড তৈরি করেছে টাবাকুন্ডো শহরের অধিবাসীরা। এটাই ফুল দিয়ে তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বৃহৎ কাঠামো, যা এরই মধ্যে গিনেস বুকের বিশ্ব রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। শহরের মূল চত্বরে বানানো পিরামিডটির প্রায় সব ফুলই লাল গোলাপ। শুধু পিরামিডের উজ্জ্বলতা আর কিনারাগুলো আলাদা করতে ৬ শতাংশ সাদা, হলুদ আর পিংক রঙের গোলাপ ব্যবহার করা হয়। এতে সর্বমোট ফুলের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৪টি। প্রায় এক হাজার পাঁচশ’ লোক সপ্তাহব্যাপী গড়ে ১৬ ঘণ্টা করে শ্রম দিয়ে এক হাজার একশ’ বর্গমিটারের এ পিরামিড তৈরি করেন বলে জানা যায়। মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এল ইউনিভার্সাল জানায়, ফুল দিয়ে বানানো বিশাল ওই পিরামিড ইকুয়েডরের উত্তরে পেদ্রো মোনকায়ো প্রদেশে ইনকা সভ্যতারও আগে নির্মিত কোচাস্কি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার পিরামিডগুলোর আদলে তৈরি করা হয়। আয়োজকদের অন্যতম রোজা সিজনেরজ বলেন, আসলে এ শহর দেখাতে চেয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ কোথা থেকে আসে। নিঃসন্দেহে এর পর থেকে ইকুয়েডরে যাওয়া যেকোনো পর্যটকের কাছে এই গোলাপ পিরামিডের শহর অন্যতম সেরা আকর্ষণের জায়গা বলে বিবেচিত হবে। আরকে//

পাঁচ শতাধিক নরনারী নগ্ন হলেন যার ডাকে

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন মহানগরী। গত সোমবারের এক ফুটফুটে সকাল। পাঁচ শতাধিক নগ্ন নারী-পুরুষ। উদ্দেশ্য একেবারেই নির্মল। ছবি তোলানো। সংবাদ সংস্থার খবরে প্রকাশ, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহর সাক্ষী থাকল এক বিরল দৃশ্যের। প্রায় ৫০০ নরনারী স্বেচ্ছায় নগ্ন হলেন খ্যাতনামা মার্কিন ফোটোগ্রাফার স্পেনসার টিউনিকের এক বিশেষ ফোটোশ্যুটের জন্য। ৫১ বছর বয়সি স্পেনসার টিউনিকের খ্যাতি এক অদ্ভুত জাতের ছবি তোলার জন্য। তিনি বিশালাকৃতির ন্যুড শ্যুট করে থাকেন। আজ পর্যন্ত প্রায় ৭৬টি প্রকাণ্ড মাপের হিউম্যান ইনস্টরেসন তিনি করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়। সম্প্রতি ইনস্টলেশনের জন্য টিউনিক বেছে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মহানগর মেলবোর্নকে। তার ক্যামেরায় নিজের নগ্নতাকে বন্দি করার জন্য আবেদনপত্র জমা পড়েছিল ১২ হাজারেরও বেশি। তার মধ্যে থেকে ৫০০-র আশেপাশের মানুষকে বেছে নেওয়া হয় শ্যুটের জন্য। এক সুপারমার্কেটের ছাদে এই শ্যুট সংঘটিত হয়। শ্যুটে অংশ নেওয়া মানুষ মুক্তকণ্ঠে জানিয়েছেন যে, এই অভিজ্ঞতা একেবারেই অনন্য। যদিও খুব কম সময়ের মধ্যেই টিউনিক তার কাজ সারেন, তবু এই অভিজ্ঞতাকে সারা জীবনে ভোলা যাবে না বলেই মন্তব্য করেছেন প্রতিযোগীরা। প্রসঙ্গত, টিউনিক ২০০১ সাল থেকে শুরু করেছেন তার এই কাজ। মন্ট্রিল, লন্ডন, ক্লিভল্যান্ড, আমস্টারডামসহ বিভিন্ন শহরে তিনি এই ন্যুড হিউম্যান ইনস্টলেশনের প্রজেক্ট করেছেন। তার মতে, পোশাকমুক্ত অগণিত মানব এক অনন্য দৃশ্য রচনা করে, যার কোনও তুলনাই হয় না। নগ্নতা সেখানে যৌনগন্ধী নয়। তা এক অন্য দ্যোতনায় উদ্ভাসিত হয় তখন। সূত্র: এবেলা একে//

যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আর্চবিশপের কারাদণ্ড

শিশুর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার এক আর্চ-বিশপকে সর্বোচ্চ ১২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ১৯৭০ সালে ঘটে যাওয়া ওই যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্বের বয়োজ্যেষ্ঠ এ চার্চ-বিশপের এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বিশপের নাম ফিলিপ উইলসন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে একটি গির্জায় চার্চের দায়িত্ব পালন করছেন। গত মাসে তিনি আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন। নিউ সাউথ ওয়েলসের এক ধর্মযাজকের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার আদালত উইলসনকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দেয়। তবে ওই ১২ মাস তাকে জেল খাটতে হবে না। বরং গৃহবন্দি-ই থাকতে হবে। এদিকে দোষী সাভ্যস্ত হলেও আর্চবিশপ উয়িলসন গির্জার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেননি। সূত্র: বিবিসিএমজে/

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ  

সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ।   নওরোজ আমিন নামে ২৬ বছরের এই বাংলাদেশি ২০১৬ সালে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টার সময় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে দেয়। তার লাগেজে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক জিনিসপত্র পাওয়া যায় বলে তখন পুলিশ অভিযোগ করেছিল। বার্তা সংস্থা এএফপি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলছে, যেসব জিনিসপত্র তার লাগেজে পাওয়া গিয়েছিল তাতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থন ছিল। পুলিশ অভিযোগ করছে, "নওরোজ আমিন বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এমন সব লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে, যারা তার মত একই ধরণের আদর্শে বিশ্বাসী। এরপর তারা অস্ট্রেলিয়ার বাইরে সম্ভবত একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর কথা ভাবছিলেন।" অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সীমানায় গিয়ে বৈরি কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগও আছে। এসব অভিযোগে তার যাবজ্জীবন সাজা পর্যন্ত হতে পারে। নওরোজ আমিন ঠিক কোন দেশে এই সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন, তা জানা যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা লোকজনের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী আদর্শের বিস্তার নিয়ে সম্প্রতি বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরকম অনেকে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে তাদের পক্ষে লড়াইও করেছে। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয় যাতে করে সন্দেহভাজন জিহাদির বিদেশ ভ্রমণ আটকে দেয়া যায়। কে এই নওরোজ আমিননওরোজ আমিন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য এখনো জানা যায় নি। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকা জানাচ্ছে, তিনি অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। সেখানকার ইঙ্গেলবার্নে তিনি বসবাস করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে তিনি বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সাদিয়া আমিন নামে তিরিশ বছরের এক তরুণীকে গ্রেফতার করে। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাদিয়া আমিন একটি নিষিদ্ধ জঙ্গী গোষ্ঠী জামাতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়া নিবাসী নওরোজ আমিনের স্ত্রী। র‍্যাব আরও মনে করে, নওরোজ আমিনই আসলে সাদিয়াকে জঙ্গীবাদে দীক্ষা দেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা এসি    

অনাগত সন্তানের মৃত্যুতে বল টেম্পারিংয়ের খেসারত

বল টেম্পারিং কাণ্ডে জেরবার অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার যে শাস্তি পেয়েছেন তা হয়তো সবাই জানেন। তবে এই টেম্পারিংকাণ্ডে তাকে যে খেসারত দিতে হয়েছিল তাকি কেউ জানেন? হ্যা কেউ জানেন না হয়তো। তাকে এমন একটি খেসারত দিতে হয়েছিল যা শুনলে আতকে উঠবেন হয়তো। এতদিন বুকের ভেতরে সেই দুঃখটা চেপে ধরেছিলেন তিনি। জানা গেছে, দোষ স্বীকার করে গত মার্চে ওয়ার্নারের অশ্রুসিক্ত সংবাদ সম্মেলনের সপ্তাহ খানেক পরই গর্ভপাত ঘটেছে তাঁর জীবনসঙ্গী ক্যানডিস ওয়ার্নারের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের জন্য অভিযুক্ত হন স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন ব্যানক্রফট ও ওয়ার্নার। এই ঘটনায় তিন ক্রিকেটারকেই নিষিদ্ধ করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ক্যানডিস জানিয়েছেন, সে সময় প্রবল মানসিক চাপ আর উড়োজাহাজে করে কষ্টসাধ্য ফ্লাইটের জন্যই এই গর্ভপাত। অস্ট্রেলিয়ার এক নারী সাময়িকীতে ক্যানডিস বলেছেন, ‘ডেভকে ডেকে জানাই রক্ত ঝরছে। আমরা জানতাম গর্ভপাত ঘটছে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দুজনেই কেঁদেছি। এই গর্ভপাতটা আসলে একটি ভয়ংকর সফরের মর্মান্তিক সমাপ্তি। জনতার নানা অপমানজনক কথা সহ্য করার পরীক্ষা দিতে গিয়েই এই খেসারত গুনতে হয়েছে আমাদের। ওই মুহূর্ত থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, আর কখনো কোনো কিছুকে আমাদের জীবনে এভাবে প্রভাব ফেলতে দেব না।’ ক্যানডিস আরও বলেন, ‘আমরা খুব সুখে ছিলাম। জানতাম, আরেকজন খুদে ওয়ার্নার আসছে। বাচ্চাটা আমাদের কাছে কতটা আকাঙ্ক্ষিত ছিল, সেটা বোধ হয় দুজনের কেউই বুঝতে পারি না।’ ওয়ার্নারের দুই সন্তানের মধ্যে বড় জনের নাম আইভি। তার বয়স তিন বছর। অন্যদিকে ইন্ডির বয়স দুই বছর। ক্যানডিস জানিয়েছেন, কেপটাউনে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্মিথ ও ব্যানক্রফটদের সঙ্গে ফিরতে চেয়েছিলেন ওয়ার্নার। কিন্তু তাঁদের দুজনকে আলাদা ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হয়। আর ওয়ার্নার এবং তাঁর পরিবারকে পাঠানো হয় আরেকটি ফ্লাইটে, যেটা ছিল লম্বা সময়ব্যাপী এবং কষ্টকর। ক্যানডিস বলেন, ‘আমরা বেশ কষ্টকর এবং সবচেয়ে দীর্ঘ ফ্লাইটে এসেছি। কেউ জানত না আমি অন্তঃসত্ত্বা। ডেভ আমাকে নিরাপদ রাখতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছে। ও ভয় পাচ্ছিল, এর চেয়ে বেশি চাপে পড়লে আমাদের অনাগত শিশুর বিপদ হবে। আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছিল, বিমানবন্দর থেকে আমরা নির্বিঘ্নেই বেরিয়ে যেতে পারব। কিন্তু গণমাধ্যমকে দেখার পর ভীষণ ভেঙে পড়ি—বিশেষ করে ২৩ ঘণ্টা ফ্লাইটের পর। বিশ্ব তো জানত না, আমি তৃতীয় বাচ্চা বহন করছি।’ সূত্র: টাইম নিউজএমজে/

বাঁচার সাধ নেই ১০৪ বছর বয়সী বিজ্ঞানীর

দীর্ঘ জীবন লাভের আশায় মানুষ কত কিছুই না করে। স্বাস্থ্য সম্মত জীবন-যাপন থেকে শুরু করে অনেক কিছুই থাকে সে প্রচেষ্টার মধ্যে। কিন্তু মানুষ যদি বহু বছর বেঁচে থাকে, তাহলে নিজেই কি মৃত্যু কামনা করে? দীর্ঘ জীবন থেকেও অনেকে পরিত্রাণ পেতে চান? সে রকম একজন হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ডেভিড গুডঅল। তার বয়স এখন এখন ১০৪ বছর। গুডঅল এখন আর বেঁচে থাকতে চান না। সেজন্য স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে তিনি সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। গুডঅলের বয়স ১০৪ বছর হলেও তিনি এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। কিন্তু তিনি মনে করছেন, এ বয়সে তার কোনো স্বাধীনতা নেই। অন্যের উপর তাকে নির্ভর করতে হয়। গত বছর জন্মদিনের পালনের সময় গুডঅল বলেন, " এ বয়স পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য আমি নিজেই অনুতপ্ত হচ্ছি। আমি ভালো নেই। আমি মারা যেতে চাই।" কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একটি মাত্র রাজ্য ছাড়া অন্য কোথাও স্বেচ্ছামৃত্যুর বিধান নেই। এ বিষয়টিকে খুব বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন ১০৪ বছর বয়সী গুডঅল। সেজন্য স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য তিনি সুইজারল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে যাচ্ছেন। লন্ডনে জন্ম নেয়া গুডঅল অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। ১৯৭৯ সালে তিনি পূর্ণকালীন কাজ থেকে অবসর নেন। কিন্তু এরপরও তিনি মাঠ পর্যায়ের গবেষণার সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে গবেষণা করতেন। তার বয়স বেশি হয়ে যাবার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছিল বাসায় বসে কাজ করার জন্য। গুডঅল ১০২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় তার পক্ষে আসে। গত ৭০ বছরে গুডঅল ১০০`র বেশি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন। বেশি বয়স হয়ে যাবার কারণে গুডঅলকে গাড়ি চালানো ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।তিনি একসময় থিয়েটারের সাথেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু বয়সের কারণে সেটিও তাকে ছাড়তে বাধ্য করা হয়। গুডঅলের স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ আছে। গত বছর তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টে পড়ে যান। এরপর দুইদিন পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, এমন অবস্থায় তার সেবা দেওয়ার জন্য ২৪ঘণ্টা একজনকে থাকতে হবে নতুবা তাকে একটি নার্সিং কেয়ারে স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু তিনি সেটা চাননি। গুডঅলের সাথে তার পুরনো বন্ধুদের এখন আর দেখা হয়না। চলাচল সীমিত হয়ে গেছে তার।এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তার মৃত্যুর সময় ঘনিষ্ঠ আত্নীয়রা পাশে থাকবেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা এমএইচ/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি