ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩০:২৬

ওষুধ ছাড়াই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

ওষুধ ছাড়াই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

শরীর ভাল রাখতে খাওয়াদাওয়ার প্রতি সচেতনতা বেড়েছে। কঠোর নিয়ম মেনে চলতে পারলেও খাবারের পাতে ভিটামিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেন অনেকেই। কিন্তু এত কিছু ভাবার মাঝেও বাদ পড়ে যায় অনেক কিছুই। বিশেষত ফাইবার। ডায়েটে ফাইব্রাস ফুড কম পড়ে যাচ্ছে কি না তা আমরা খুব একটা মাথায় আনি না। তাই ফাইবার নিয়ে তেমন সতর্কতাও চোখে পড়ে না। অথচ এর হাত ধরেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হানা দেয় শরীরে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি নাজেহাল করে। সে ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারই রুখে দিতে পারে এই সমস্যা। দ্রবণক্ষম ডায়েটারি ফাইবারে আস্থা তাই রাখতেই হয়। দ্রবণক্ষম ডায়েটারি ফাইবার কী? জলে দ্রবীভূত হয় যে সব ফাইবার, তারাই এককথায় ‘দ্রবণক্ষম ফাইবার’। এ সব খাবার অন্ত্রে দ্রবীভূত হয়ে জেলির ন্যায় একটি থকথকে জিনিসে পরিণত হয় যা মলত্যাগে সাহায্য করে। ওটস, ব্রাউন রাইস, তাল, আলুবোখরা এগুলিতে এমন ফাইবার থাকে। প্রতি দিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় নাজেহাল হতে হয় এমন মানুষের, জানেন কি, কী কী খাবারে রুখে দিতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা, তাও ওষুধের শরণ না নিয়েই? ​ফাইবারের জোগান ঠিক রাখতে পাতে রাখুন আমন্ড। প্রতি দিনের খাবারের তালিকায় রাখুন ব্রাউন ব্রেড বা ব্রাউন রাইস। এতে ফাইবারের পরিমাণ অন্যান্য খাবারের চেয়ে বেশি। প্রতি দিন তা করতে না পারলে অন্তত আটার রুটি রাখুন পাতে। ভাত থেকেও প্রচুর ফাইবার পাওয়া যায়। কিন্তু ওবেসিটির কারণে ভাত এড়িয়ে আটার রুটিতে আস্থা রাখুন। প্রোটিন ডায়েট শরীরের পক্ষে উপকারী। কিন্তু বেশি প্রোটিন খেতে হলে সঙ্গে ফাইবারের মাত্রা বাড়ান। প্রতি দিন সন্ধ্যায় কয়েকটা আমন্ড ও অঙ্কুরিত ছোলা খান। মুগের দানাও খেতে পারেন। কালো বা সবুজ মুগের দানা তেল ছাড়া কড়ায় নেড়েচেড়ে কৌটোবন্দি করে রাখুন। এতে ফাইবারের মাত্রা বেশ বেশি। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে বা ওজন বাড়ার ভয়ে অনেকেই যে কোনও কপি এড়িয়ে চলেন। তাই প্রতি দিনের ডায়েটে পেঁপে, ব্রকোলি, গাজর, বিট বিনস রাখুন ডায়াটে। প্রতি দিন একটা করে ফল খান। কোষ্ঠকাঠিন্যের অসুখ থাকলে বেদানা এড়িয়ে চলুন। তার বদলে আপেল, পেয়ারা, কলা খান। বিভিন্ন শস্যদানা ও সবজির বীজেও উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যে এ সব যোগ করলেও সুফল পাবেন। প্রতি দিন টক দই খান। এতে শরীরের টক্সিন দূর হয়। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/
অল্প খরচে কিডনিতে পাথর দূর করার উপায়

শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয় তা দেখা, মল-মূত্রজনিত কোনও সমস্যার প্রতি নজর রাখা, বা তলপেটে-কোমরে একটানা ব্যথা থাকলে তা  নিয়ে সতর্ক থাকা— রোজকার জীবনে কিডনির খেয়াল রাখা বলতে এইটুকুই। তবে বাস্তব বলছে, এটুকু খেয়ালও ঠিকঠাক রাখতে পারি না আমরা। তাই কিডনির নানা সমস্যা থেকে ক্রনিক অসুখ প্রায়ই হানা দেয় শরীরে। বিশেষ করে রেনাল স্টোনে ভুগছেন এমন মানুষ কম নেই। জীবনযাপনের ভুলত্রুটি, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পানি খাওয়ার অনভ্যাস ইত্যাদি রেনাল স্টোনের অন্যতম কারণ। নেফ্রোলজিস্ট অভিজিৎ তরফদারের মতে, কিডনিতে পাথর ক’টি আছে এবং কোথায়, কেমন অবস্থায় রয়েছে এগুলির উপরই এই অসুখের উপসর্গ নির্ভর করে। পাথর নানা আকারের হয়। সাধারণত, পাথরের সংখ্যা কম ও আকার খুব ছোট হলে তা কোনও রকম উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থেকে যেতে পারে। ওষুধের মাধ্যমে তা গলিয়ে দেওয়া বা শরীরের বাইরে বার করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু সংখ্যায় বেশি বা আকারে বড় হলে তা কিছু লক্ষণ প্রকাশ করে বইকি। তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও পড়ে। তেব ঘরোয়া কিছু নিয়ম মানলে এই অসুখ ঠেকিয়ে রাখা সহজ হয়। কিন্তু জানেন কি, খুব নিয়ম মেনে বা তটস্থ থেকে কিডনির যত্ন না নিয়ে সারা জীবন কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললেও কিডনি ভাল থাকে। আসুন, উপায়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। রেনাল স্টোন মূলত অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম থেকে হয়। তাই ডায়েটে নজর রাখুন। প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাবেন না। ডায়েটে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।  সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় জলটুকু রোজ জোগান দিন। এতে কিডনি সব সময় ভাল থাকবে। এ ছাড়াও কিডনিতে স্টোন রুখতে প্রতি দিন খালি পেটে উষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে তা নিয়মিত খান। গরম জলে মিশিয়ে খাওয়ার কারণে লেবু থেকে অম্লজাতীয় সমস্যাও তৈরি হয় না। তাই এই মিশ্রণ জিনে যত বার খুশি খাওয়া যেতে পারে। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনির ভিতরে কোনও পাথর তৈরি হলে, তাকে ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে দেয়। তাই তা সহজেই মূত্রনালি দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। তবে কিডনিতে ইতিমধ্যেই পাথর জমে গেলে তা ঘরোয়া উপায়ে কমানোর চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

সকালে পর্যাপ্ত শক্তি পেতে ৫ খাবার

দিনের শুরুতে সব থেকে বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যবিদরা। তারপর দিন এগনোর সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ কমানো উচিত। রাতের শেষ খাবারটা হবে সবচেয়ে অল্প আহার। এর কারণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মেটাবলিক রেট পড়ে যেতে শুরু করে। তাই খাবারে থাকা পুষ্টিগুণ আমাদের শরীর দিন শেষের সময় পুরোমাত্রায় গ্রহণ করতে পারে না। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক পরিপূর্ণ শক্তির জন্য দিনের শুরুতে কি খাবেন সে সম্পর্কে- হোল গ্রেন পাউরুটি বাজারে নানা ধরেনর পাইরুটি পাওয়া যায়। কিন্তু তার সব ক`টা যে শরীরে সমান ভাবে কাজ করে তা নয়। কোনওটায় কিছু উপকারী উপাদান থাকে, কোনওটা আবার শরীরের জন্য ততটাও ভালো নয়। এখন হোল-গ্রেন পাউরুটি খুবই সহজলোভ্য। এতে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক কোনও কিছুই নেই। হোল-গ্রেন রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তাচাপ সঠিক মাত্রায় বজায় রাখতেও সাহায্য করে। প্রোটিন সকালের শুরুতে প্রোটিন খাওয়া ভালো। কারণ সেক্ষেত্রে চট করে অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। এর প্রধান মাধ্যম হতে পারে ডিম। ডিম সিদ্ধ করে, তাকে পিস পিস করে কেটে নিন। তার সঙ্গে কাঁচা টমেটো চাকা চাকা করে কেটে নিন। আর হোল-গ্রেন ব্রেডের সঙ্গে নিয়ে বানিয়ে ফেলুন স্যান্ডউইচ। এতে পিওর অলিভ অয়েলে অল্প ভাজা স্পিনাচ মিশিয়ে নিতে পারেন। তাতে ভিটামিন আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পেয়ে যাবেন। হয়ে গেল প্রোটিনের পূরণ। রান্না করবেন না সকাল বেলা রান্না করতে চান না? তাতেও কোনও অসুবিধা নেই। সেক্ষেত্রে স্যান্ডউইচ বানানো বা ডিম সিদ্ধ করার পরিকল্পনা রাখতে পারবেন না। তাহলেও পূরণ হতে পারে প্রোটিনের চাহিদা। এ জন্য আপনার দরকার ইয়োগার্ট। পেট ভরবে। ক্যালসিয়াম আর প্রোটিনও থাকে ইয়োগার্টে। ফলে সেদিক থেকেও আপনি লাভবান। সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন পছন্দের ফল। মরশুমি ফলে ভিটামিনের পরিমাণ থাকে খুবই বেশি। তাতে ইয়োগার্ট যেমন সুস্বাদু হয়ে গেল, তেমনই পুষ্টিগুণও পেলেন পুরোমাত্রায়। সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন খেজুর-কাজু-কিসমিসের মতো শুকনো ফলও। স্মুদি স্যান্ডউইচ, ডিম সিদ্ধ তো নয়ই, সকালে ইয়োগার্ট খেতেও যদি পছন্দ না করেন, তাহলে আপনার ব্রেকফাস্টের সহজ সমাধান স্মুদি। ইয়োগার্টের সঙ্গেই কয়েকটা জিনিস মিশিয়ে যে স্মুদি তৈরি করে ফেলতে পারবেন, তাতে মিটে যাবে ব্রেকফাস্টের এনার্জির চাহিদা। হাফ কাপ নন-ফ্যাট ইয়োগার্টে সঙ্গে হাফ কাপ অরেঞ্জ জুস, কিছুটা শুকনো বেরি জাতীয় ফল আর কলা। এই হল সারা সকাল চালানোর মতো পুষ্টিগুণ সম্পন্ন স্মুদি তৈরির উপাদান। এগুলোকে একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে স্মুদিমেকারে চালিয়ে নিন। অরেঞ্জ জুস পছন্দ না হলে ম্যাঙ্গো জুসও দিতে পারেন। এমনকী গরমের সময় মিশিয়ে নিতে পারেন অল্প কয়েক টুকরো আমও। রেডি দুর্দান্ত স্মুদি। পর্যাপ্ত পানি পুষ্টির বিষয়টা তো না হয় সামলানো গেল। কিন্তু মনে রাখবেন, খাবারের সঙ্গে শরীরকে পর্যাপ্ত পানি দিতে হবে। কারণ শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে গেলে পুষ্টিগুণ কাজে আসবে না। এবং ভারী খাবার খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি না খেলে সেই খাবার হজম করতেও সমস্যা হবে। তাই এই বিষয়টির দিকেও নজর দিতে হবে। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই এমএইচ/

যে অভ্যাসগুলো বন্ধ্যাত্ব নিয়ে আসে  

আমাদের জীবনে বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান না হওয়া অনেক বড় একটা সমস্যা। সচেতন হলেও এ সমস্যাকে ঝেড়ে ফেলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও নানা ভাবে জীবনযাত্রা বদলের কথাই বলে আসছেন। বিরাট কোনও শারীরিক অক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় নাজেহাল হতে হচ্ছে কমবেশি অনেককেই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রায়ই।    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মার্থা হাজরা বলেন, ‘বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে আগে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা ছিল। এখনও শিক্ষার আলো যেখানে কম, সেখানে সমস্যাটা রয়ে গিয়েছে। মানুষ ব্যক্তিগত স্তরে কিছুটা সচেতন হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনও এ নিয়ে কিছুটা অজ্ঞানতা রয়েই গিয়েছে। বন্ধ্যাত্ব বেড়ে যাওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে মূলত জীবনযাপনের কায়দাকানুন অন্যতম। কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধ খেয়ে বা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার শরণ নিয়ে সে সব স্বাভাবিক করার চেয়ে জীবনযাত্রার কিছুটা বদল আনলেই তা অনেকটা সমাধান হয়ে যায়। আর এই বদল আনা উচিত সন্তান ধারণের অনেক আগে থেকেই।’ নিজেদের বেশ কিছু অভ্যাসে রাশ টানলেই বন্ধ্যাত্বের সমস্যাকে অনেকটা কাটিয়ে ওঠা যায়। দেখে নিন তেমনই কিছু রোজনামচা, যা পিতা-মাতা হয়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ধূমপান: এই বদভ্যাস পারলে আজই ছাড়ুন। তামাক শরীরের অন্যান্য ক্ষতি যেমন করে, তেমনই মহিলা ও পুরুষের যৌন হরমোন ক্ষরণের মাত্রা কমায় ও স্পার্ম কাউন্টও কমিয়ে দেয়। পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই তাই ধূমপান বর্জনীয়। অ্যালকোহল: টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমানোর নেপথ্যে অন্যতম দায়ী অ্যালকোহল। তাই মদ্যপানের আসক্তি কমান। মানসিক অবসাদ: মানসিক অবসাদ স্পার্ম কাউন্ট যেমন কমায়, তেমনই যৌন জীবনকে অসুখী করে তোলে। হতাশা বা মানসিক চাপ আসে এমন বিষয় এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যত দ্রুত হতাশা কাটাতে পারবেন ততই সমস্যা মিটবে। ওজন: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। যে কোনও উপায়েই ডায়েট মেনে চলা, হাঁটাহাঁটি, কিছু হালকা শারীরিক কসরতকে রাখতেই হবে রোজনামচায়। অতিরিক্ত ওজন স্পার্মের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন যৌন সমস্যাকেও ডেকে আনে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হোন আজ থেকেই। টিউমার: শরীরে কোনও অসুখের জন্য যদি টিউমার হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। টিউমারের কারণেও স্পার্ম কাউন্ট কমে। এক জায়গায় বসে কাজ: আজকাল বেশির ভাগ অফিসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে হয়। ওঠা-হাঁটা কম হওয়ার কারণেও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা দেয় অনেক সময়। কাজের ফাঁকে পেশি ও স্নায়ুকে সক্রিয় রাখতে মাঝে মাঝেই ডেস্ক ছেড়ে উঠে হাঁটুন।   সময়: আজকাল ছেলে-মেয়ে উভয়েই দেরিতে বিয়ে করেন, ফলে পরিবার পরিকল্পনা করতেও অনেকটা দেরি হয়ে যায়। দু’জনের বয়স ৩৫ পেরলে বন্ধ্যাত্বের রিস্ক ফ্যাক্টর বাড়ে। সুতরাং খুব দেরি করে মা-বাবা হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়ুন। জীবনে কাজের সঙ্গে পরবিবারও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিয়ে বা পরিবার পরিকল্পা দু’টোর ক্ষেত্রেই খুব একটা গড়িমসি করবেন না। আনন্দবাজার    এসি   

সিঙ্গারার জন্ম কোথায় জানেন  

বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে সিঙ্গারা ভালবাসেন এ দেশের হাজার হাজার খাদ্য রসিক মানুষ। তবে জানেন তো, এই সিঙ্গারা আদপে কোনও বাঙালি খাবার নয়!     একদল ইতিহাসবিদের মতে, ফার্সি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকেই এই সিঙ্গারা শব্দের উত্পত্তি। তাঁদের দাবি, গজনবী সাম্রাজ্যে সম্রাটের দরবারে এক ধরনের নোনতা মুচমুচে খাবার পরিবেশন করা হতো। যার মধ্যে কিমা, শুকনো বাদাম জাতীয় অনেক কিছু দেওয়া হতো। এটাই নাকি সিঙ্গারার আদি রূপ। বিখ্যাত ইরানি ইতিহাসবিদ আবুল ফজল বায়হাকির দাবি, ইরান থেকেই নাকি সিঙ্গারা এ দেশে এসেছে। অর্থাত্, তাঁর মতে সিঙ্গারার জন্মস্থান ইরান। আবুল ফজল বায়হাকির ‘তারিখ-এ-বেহাগি’ বইয়েও ‘সাম্বোসা’র উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল ফজলের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এই ‘সাম্বোসা’ই সিঙ্গারার আদি রূপ। আমির খসরুর রচনাতেও এর উল্লেখ রয়েছে। তবে সিঙ্গারার জন্মভিটে নিয়ে মতান্তর এবং বিতর্ক থাকলেও ভারতে আসার পর যে এর স্বাদ আর উপকরণে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই! যেমন, ষোড়শ শতকে পর্তুগিজরা ভারতের মাটিতে পা রাখার পর এ দেশের মানুষের পরিচয় হয় ‘আলু’ নামের চমত্কার এক সবজির সঙ্গে। পরবর্তিকালে এই সবজিকে এ দেশের মানুষ যে কতটা আপন করে নিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য! ষোড়শ শতকের পর থেকে সিঙ্গারার মূল উপকরণ হয়ে ওঠে এই আলু। এ দেশে মাংসের সিঙ্গারা, ফুলকপির সিঙ্গারা, পনিরের সিঙ্গারা, ক্ষিরের সিঙ্গারা ইত্যাদি নানা রকমের বা নানা স্বাদের সিঙ্গারার চল থাকলেও আলুর পুর দেওয়া সিঙ্গারাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই তো আলু ছাড়া সিঙ্গারার কথা আমরা ভাবতেই পারি না! এসি    

ডায়াবেটিস সম্পর্কে যে ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল!  

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যে রোগে অষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে তা নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু কোনও ভাবেই সেটিকে সম্পূর্ণ ভাবে নিরাময় করা সম্ভব নয়। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরে কি ধরণের সমস্যা হয় তা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই অবগত। কিন্তু সমস্যা হল, ডায়াবেটিস সম্পর্কে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা রোগ এবং রোগীর সমস্যা অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ডায়াবেটিস সম্পর্কে তেমনই কয়েকটি প্রচলিত ধারণা, যেগুলি মোটেই সঠিক নয়।    ১) ডায়াবেটিস ধরা পড়লে স্টার্চ বা শর্করা জাতীয় খাবার একেবারেই খাওয়া চলে না, এমনটাই ধারণা বেশির ভাগ মানুষের। তবে বাস্তবে এ ধরণা সম্পূর্ণ ভুল! কারণ, ডায়েটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল স্টার্চ বা শর্করা জাতীয় খাবার। তাই কখনই শর্করা জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং কম পরিমাণে খাওয়া উচিত। ২) বেশির ভাগ মানুষেরই এটা ধারণা যে, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মিষ্টি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। বাস্তবে এ ধরণা মোটেই সঠিক নয়! কারণ, নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মিষ্টি সকলেই খেতে পারেন। বরং চিকিত্সকদের মতে, শুধু ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেই নয়, বেশি মিষ্টি খাওয়া যে কোনও মানুষের পক্ষেই ক্ষতিকর। ৩) ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কখনই রক্তদান করতে পারেন না, এমনটাই ধারণা বেশির ভাগ মানুষের। তবে এ ধরণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ, শুধুমাত্র যাঁরা নিয়মিত ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেন, তাঁরাই শুধু রক্তদান করতে পারেন না। বাকিদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে, রক্তদানে কোনও সমস্যা নেই। ৪) অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের সব সময় উচিত খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণে রেখে যতটা সম্ভব কম পরিশ্রম করা। তবে এ ধরণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ, নিয়ম মেনে চললে আর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিকরাও বাকিদের মতোই স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। ৫) অনেকেই মনে করেন, চিকিত্সক ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মানেই রোগী মোটেও নিয়ম মেনে চলছেন না। বাস্তবে এ ধরণা সম্পূর্ণ ভুল! কারণ, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে (T2D) রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও একটা সময়ের পর ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। জি নিউজ এসি    

আপেলের যে বিষয়টি না জানলে মৃত্যু হতে পারে!

আপেলের একাধিক স্বাস্থ্য উপকারীতার জন্য অসুস্থ হলে চিকিত্সকেরাও রোগীকে আপেল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়াও ভালবেসে দিনে একটি বা দুটি আপেল অনেকেই খান। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ-এর গবেষকদের মতে, আপেল খেলে অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২৩ শতাংশ কমে যায়। তাদের দাবি, আপেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনল থাকে যা অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। এ ছাড়াও নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা আপেলের মধ্যে ট্রিটারপেনয়েডস নামের এক ধরনের উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। এই ট্রিটারপেনয়েডস স্তন, লিভার এবং কোলোন ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। এ ছাড়াও আপেল খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৮ শতাংশ কমে যায়। কারণ আপেলের মধ্যে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করারর ভারসাম্য সঠিক রাখতে সাহায্য করে। তবে এই উপকারী ফলের কয়েকটি ক্ষতিকর দিকও রয়েছে, যা আপনার স্বাস্থ্যহানি, এমনকি মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে! আসুন এবার সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক- ১) কৃত্রিম উপায়ে আপেলের ফলন বাড়াতে এবং কীট-পতঙ্গের হাত থেকে বাঁচাতে আপেলেই যে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, একাধিক সমীক্ষায় তার প্রমাণ মিলেছে। আমাদের শরীরে এই কীটনাশকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মারাত্মক ক্ষতিকর! পানি দিয়ে ধোওয়ার পরও আপেলকে কীটনাশকের প্রভাবমুক্ত করা যায় না। ফলে স্বাস্থ্যহানির একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। ২) আপনার বা পরিবারের কারও অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে আপেল থেকে দূরে থাকাই ভাল। কারণ আপেলের গায়ের লেগে থাকা মোম অ্যালার্জির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আপেলের গায়ে লেগে থাকা মোমে যে সালফার ডাই অক্সাইড থাকে তার প্রভাবে গলা খুসখুস করা, বমি বমি ভাবসহ একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৩) আপেলের বীজ আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর! আপেলের বীজ পেটে চলে গেলে তা স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি। একটি বা দুটি বীজে তেমন কোনও মারাত্মক ক্ষতি না হলেও পেটে খিঁচুনি, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তিসহ একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বেশ কয়েকটা আপেলের বীজ চিবিয়ে খেলে তা থেকে শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। আপেলের বীজে থাকা অ্যামিগডালিন অত্যাধিক পরিমাণে শরীরে মিশলে তা রক্তের অক্সিজেনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। বাধাপ্রাপ্ত হয় রক্তে অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ। ফলে মিনিট খানেকের মধ্যেই মৃত্যু অনিবার্য! তাই যত খুশি আপেল খান। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উল্লেখিত এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলেই চলবে। সূত্র: জি নিউজ একে//

ধনে পাতার পুষ্টিগুণ

ভারতীয় উপমহাদেশে ধনে পাতার ব্যবহার নতুন নয়। এটি সাধারণত যে কোনও তরকারি বা সালাদের সাথে বেশি ব্যবহার হয়। কেউ কেউ সবজির সাথে ধনে পাতা মিশিয়ে খাবার বানিয়ে থাকে। এর মধ্যে থাকা ম্যঙ্গানিজ , ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন সি ও কে এর অন্যতম উৎস। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপতারী। এবার আসুন আলোচনা করা যাক ধনে পাতার প্রধান প্রধান উপকারিতা সম্পর্কে: # আমাদের শরীরের ক্ষতিকারক ক্লোরেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। # হজম শক্তি বাড়াতে এবং লিভার কে আরও বেশী সক্রিয় করতে সাহায্য করে। # ব্লাড সুগার রোগীদের সুগার লেবেল কন্ট্রোলে রাখে। # ভিটামিন K আলজাইমার রোগের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। # anti-inflammatory গুণ পাওয়া যায় ধনে পাতাতে যা আরথারাইটিস রোগের উপকারী। # মুখের আলসার সারিয়ে তুলতে পারে এই ধনে পাতা, এর মধ্যে থাকে অ্যান্টি- সেপ্টিকের ভরপুর গুণ। # আমাদের স্নায়ু সচল রাখতে ধনে পাতার উপকারিতা অসামান্য। # এই পাতা পেটের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং বমি বমি ভাব রোধ করতে সাহায্য করে। # অ্যান্টি অ্যালারজির খুব ভালো উপশমের কাজ করে ধনে পাতা। # মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পারে এই ধনে পাতা # প্রচুর ক্যালসিয়াম এবং মিনারেলসের সোর্স এই ধনে পাতা যা আমাদের শরীরের হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে। # প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ভিটামিন ‘এ’ ভিটামিন ‘সি’ফসফরাস থাকার কারণে এই পাতা দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে এবং চোখের ওপর স্ট্রেস পরতে দেয় না। তথ্যসূত্র: কলকাতা ২৪×৭ এমএইচ/

সকালের নাস্তা  স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ভালো?

দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো সকালের নাস্তা বা ব্রেকফাস্ট । তবে প্রাতঃরাশ করলে সেটি শরীরের ওজন কমাতে খুব সহায়ক হবে না। গবেষণায় তাই বলা হচ্ছে। আগের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় ২৬০ ক্যালোরির বেশি খায়, তাদের ওজন যারা সকালে নাস্তা করে না তাদের তুলনায় অন্তত এক পাউন্ড বেশি হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে স্বাস্থ্যসম্মত সকালের নাস্তা হতে পারে ক্যালসিয়াম এবং আঁশ জাতীয় খাবারের ভালো উৎস। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সকালের ভালো নাস্তা মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রাতঃরাশ আপনাকে দেবে শক্তি। সকালে ভরপেট নাস্তা করলে দিনের পরের দিকে আপনার খুব বেশি ক্ষিদে লাগবে না। ফলে বার বার এটা-সেটা খাওয়ার দরকার পড়বে না। আর আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর জন্য নাস্তা বেশ জরুরী। এর আগে পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক যেসব গবেষণা হয়েছে, তাতে বলা হচ্ছিল শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকালের নাস্তা বেশ সাহায্য করে। সকালের নাস্তা খাওয়ার সাথে ভালো ওজনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন অস্ট্রেলিয় গবেষণায় বলা হচ্ছে, সকালে নাস্তা খেলেই যে শরীরের ওজন স্বাস্থ্যসম্মত পর্যায়ে রাখা যাবে, তার প্রমাণ নেই। সকালের নাস্তা নিয়ে মোট ১৩ টি গবেষণার পর্যালোচনা করেন অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা। মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকদল তাদের পর্যবেক্ষণ থেকে বলছেন যে, সকালে নাস্তা করা বন্ধ করলে তা দৈনিক ক্যালোরির পরিমাণ হ্রাস করার ভালো একটি উপায় হতে পারে। তারা গবেষণায় দেখতে পেয়েছে, নিয়মিত প্রাতঃরাশ গ্রহনকারীদের সার্বিক ওজন বাড়ে এবং অন্যদিকে যারা সকালের নাস্তা বর্জন করছে তাদের দুপুরে খুব বেশি খিদে পাচ্ছে না। এবং তারা এও বলছে যে, বয়স্কদের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রাতঃরাশের সুপারিশ করার সময় সর্তক থাকা প্রয়োজন- কারণ এর বিপরীত প্রভাবও থাকতে পারে। অবশ্য গবেষকরা এটিও স্বীকার করছেন, তাদের পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই গবেষণায় অংশগ্রহনকারীদের অল্প সময়ের জন্যে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়- মাত্র দুই থেকে ১৬ সপ্তাহের জন্য। সেই সাথে সকালের নাস্তা গ্রহনকারী বা বর্জনকারীদের শক্তিসঞ্চয়ের পরিমাণও অল্প সময়ের জন্যে তুলনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদে ব্রেকফাস্ট করা এবং না করা ব্যক্তিদের নিয়ে আরো দীর্ঘমেয়াদে বিস্তারিত গবেষণা হওয়া উচিৎ বলে মত দেন এই গবেষকদল। স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা কোনটি? শক্তিসঞ্চয় করতে চাইলে- অ্যাপেল পাই খেয়ে দেখতে পারেন। সাথে চাই দারুচিনি ও সেদ্ধ করা মটরশুটি ও সেঁকা রুটি। আমিষের ঘাটতি মেটাতে চাইলে- সেঁকা রুটি বা টোস্টের সাথে থাকবে শাক-সবজী এবং ডিম ভুনা, অথবা কম চর্বিযুক্ত গ্রিক দৈ এর সাথে ফল ও বাদাম। হালকা কিছু- ফল, কলা এবং শাকপাতা দিয়ে ঘন সরবত বা থাকতে পারে সেঁকা রুটি বা টোস্টের সাথে ঘন করে অ্যাভোকাডো। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েব সাইট এসএইচএস ভালোমত ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার পেতে হলে লন্ডনের কিংস কলেজের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং পুষ্টিবিদ অধ্যাপক কেভিন ভেলান বলেন যে, ‘এই গবেষণা এটি বলছে না যে প্রাতঃরাশ করা শরীরের জন্যে খারাপ।’ ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে সকালের নাস্তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষকরে দুধের সাথে সিরিয়াল ভালো উৎস্য হতে পারে ক্যালসিয়াম এবং আঁশের।’ কিন্তু বিএমজি`র গবেষকরা এই বিষয়টি নিয়ে সেভাবে কাজ করেননি। প্রফেসর কেভিনের মতে, তারা এটি বলছেন না যে ব্রেকফাস্ট করা বা সকালের নাস্তা করা স্থুলতার কারণ।   তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন

সন্তান মেধাবী ও বুদ্ধিমান হোক সব মায়েরাই তা চান। আর এটা নির্ভর করে অনেকটা মায়ের সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। যদি একজন মা পুষ্টিকর খাবার না খান তাহলে তার শরীরে যে ঘটাতি তৈরি হয় সেটা সন্তানের ওপর গিয়ে পড়ে। যেমন ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, লোহা ইত্যাদির অভাব হলে শরীরে কিছুটা ঘাটতি থেকে যাবে। আর এর প্রভাব সন্তানের ওপর এসে পড়বে।      মায়ের সঠিক খাবারের অভাবে শিশুর মানসিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় মা কী খায় সেটা সন্তানের শারীরিক ও মানসিক গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। গর্ভাবস্থায় আপনি এমন কিছু খাবার খেতে পারেন যা আপনার বাচ্চার আইকিউ (ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট) বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার সন্তান যখন জন্মগ্রহণ করে ওর মস্তিষ্কের মাপ যে কোনও পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ২৫% হয়। ২ বছর বয়সে সেটা বেড়ে হয় ৭৫% যা স্বাভাবিক মস্তিষ্ক। প্রথম দুই বছর সন্তানের জন্য দরকার মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ। আসুন জেনে নিই গর্ভাবস্থায় কী কী খাবার খেলে আপনি বুদ্ধিমান সন্তানের জন্মদিতে পারবেন। মাছ: স্যালমন, টুনা, ম্যাকারেল ইত্যাদি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড সমৃদ্ধ। এগুলো বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুবই জরুরি। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় সপ্তাহে দুবারের বেশি মাছ খায় তাদের সন্তানের বুদ্ধি বা আইকিউ বেশি হয়। ডিম: ডিম এ্যামিনো এ্যসিড কোলিন সমৃদ্ধ, যাতে মস্তিষ্কের গঠন ভাল হয় ও স্মরণশক্তি উন্নতি হয়। গর্ভবতী নারীদের দিনে অন্তত দুটো করে ডিম খাওয়া উচিত যার থেকে কোলিনের প্রয়োজনের অর্ধেক পাওয়া যায়। ডিমে থাকা প্রোটিন ও লোহা জন্মের সময় ওজন বাড়িয়ে দেয়। দই: সন্তানের স্নায়ু কোষগুলো গঠনের জন্য আপনার শরীর প্রচুর পরিশ্রম করে। এ জন্য আপনার বাড়তি কিছু প্রোটিন লাগবে। আপনাকে প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে যেমন : দই। দইয়ে ক্যালসিয়াম আছে যেটা গর্ভাবস্থায় লাগে। আয়রন: আয়রন খুবই দরকারি একটি উপাদান। যা সন্তানকে বুদ্ধিমান হতে সাহায্য। এই খাবারগুলো গর্ভাবস্থায় অবশ্যই খাওয়া উচিত। আয়রন আপনার গর্ভের সন্তানের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শে আপনার আয়রনের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত। ব্লুবেরি: ব্লুবেরির মত ফল, আর্টিচোক (ডাটা গাছ), টমেটো ও লাল বিন্সে এ্যান্টি ওক্সিডেন্ট থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় এই ফলগুলো আপনার সন্তানের মস্তিষ্কের টিস্যুকে রক্ষা করে ও বিকাশে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডি: এটা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুব দরকার। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েদের ভিটামিনের মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কম থাকে তাদের বাচ্চার মস্তিষ্ক দুর্বল হয়। ডিম, চিজ, বিফ, লিভার ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন-ডি এর ভাণ্ডার সূর্য্যের আলো তো আছেই। আয়োডিন: আয়োডিনের অভাব, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহে সন্তানের আইকিউ কম করে দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় আয়োডিনযুক্ত লবণ খান। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ, শামুক, ডিম, দই ইত্যাদি খেতে পারেন। সবুজ শাক-সবজী: পালং শাক, ডাল ইত্যাদি ফলিক এ্যাসিড সরবরাহ করে। এছাড়াও ফলিক এ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট ভিটামিন বি-১২- এর সঙ্গে খাওয়া উচিত। মস্তিষ্কের কোষ গঠনে ফলিক এ্যাসিড খুব প্রয়োজনীয়। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীরা গর্ভবস্থায় সন্তান প্রসবের চার সপ্তাহ আগে ও আট সপ্তাহ পর অবধি ফলিক এ্যাসিড নিয়ে থাকে তাদের ৪০ শতাংশ অটিস্টিক সন্তান জন্ম দেয়ার আশংকা কম থাকে। তাই ফলিক এ্যাসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এসি   

বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন বাধাঁকপি ও গাজরের পায়েস

শীতকাল মানেই বাজারে নতুন গুড়। আর গুড় মানেই তো হরেক রকম পিঠে ও পায়েস। কিন্তু পায়েস মানে তো সেই চাল বা ছানার পায়েস। কিন্তু এই শীতে যদি চাল বা ছানা ছাড়া সবজি বা ফল দিয়ে পায়েস করা যায় তবে কেমন হয়? ভাবছেন তো সবজি বা ফলের আবার পায়েস হয়? যদি হয়ও তাহলে তা কেমন লাগবে খেতে। তাহলে জেনে নিন রেসিপিগুলো। তারপর বানিয়ে নিজেও খেয়ে দেখুন আর পরিবারের সকলকে খাইয়ে দেখুন৷ তারা কী বলে। বাঁধাকপির পায়েস উপকরণ: *বড় বাঁধাকপি- ১টি *দুধ- ২ লিটার *গুঁড়ো দুধ- ২ কাপ *খেজুরের গুড়- আধা কেজি *চিনি- ১ কাপ *চালের গুঁড়ো- ১ কাপ *ছোট এলাচ- ৪টি *দারুচিনি- ২ টুকরো পরিমাণ মতো পেস্তাবাদাম, কিশমিশ, গোলাপজল প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে বাঁধা কপিটি ভালো করে ছাড়িয়ে সাদা অংশটি বের করে নিন। তারপর সাদা অংশটি কুচি কুচি করে কেটে নিন। অল্প সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর একটি পাত্রে দুধ, চালের গুঁড়ো, এলাচ, দারুচিনি, পেস্তাবাদাম, পানি ঝরানো কপি দিয়ে অল্প আঁচে নাড়ুন। আলাদা একটি পাত্রে গুড় ও অল্প জল দিয়ে আঁচে রাখুন। পায়েস আঠালো হয়ে এলে নামানোর আগে গুড়ের রস মিশিয়ে দিন। নামিয়ে ঠাণ্ডা করে কিশমিশ, পেস্তাবাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন বাঁধাকপির পায়েস। গাজর-ফুলকপির পায়েস উপকরণ: *গাজর আধা কেজি *পোলাওয়ের চাল আধা কাপ *দুধ ২ লিটার *কনডেন্সড মিল্ক ১ প্যাকেট *দারুচিনি ৬ টুকরো *এলাচ ৪ টি *ফুলকপি আধা কাপ *চিনি আধা কাপ *গোলাপজল ১ টেবিল চামচ *জাফরান আধা চা চামচ *কিশমিশ ২ টেবিল চামচ *পেস্তাবাদাম কুচি ৪ টেবিল চামচ প্রস্তুত প্রণালি গাজর ও ফুলকপি ঝুরি করে কেটে নিতে হবে৷ জাফরান গোলাপজলে ভিজিয়ে রাখুন৷ পোলাওয়ের চাল ধুয়ে জলে ভিজিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ৷ তারপর জল ঝরিয়ে চাল আধা ভাঙা করে নিন৷ দুধ ও চাল একসঙ্গে জাল দিন৷ ফুটে উঠলে গাজর ও ফুলকপি দিতে হবে৷ এরপর এলাচ, দারুচিনি দিন৷ চাল ও গাজর সেদ্ধ হয়ে এলে কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে দিন৷ এরপর গোলাপ জলে ভেজানো জাফরান দিতে হবে৷ নামিয়ে ঠাণ্ডা করে কিশমিশ ও কিছু পেস্তাবাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন গাজর-ফুলকপির পায়েস৷ তথ্যসূত্র: কলকাতা ২৪×৭ এমএইচ/

খাবারে সচেতনতা প্রয়োজন      

ঢাকা শহরের ৯০ শতাংশ ফুচকা ও ঝালমুড়িতে রয়েছে টাইফয়েডের জীবাণু। ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ভেলপুরি, ফুচকা ও ঝালমুড়িতে কলেরার জীবাণু ই কোলাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ভেলপুরি ও তিনটি ঝালমুড়ির নমুনায় টাইফয়েডের জীবাণু সালমোলিনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে খাবারের মান পরীক্ষায় দেশের একমাত্র রেফারেন্স প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি। এ ছাড়া ৩০টি ফুচকার নমুনায় জীবাণু আছে, ১২টি ভেলপুরির নমুনায় ৭৫ শতাংশ, ঝালমুড়ির ১৩টি ও চারটি আচারের নমুনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় ইস্ট পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। অতি সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে খাদ্য নিরাপত্তা সমীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।     গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরের ৪৬টি থানায় অবস্থিত স্কুলের সামনে থেকে ৪৬টি ঝালমুড়ি, ৩০টি ফুচকা, ১৬টি ভেলপুরি ও ৪২টি আচারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনার মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য ইস্ট ও মোল্ড, কলিফর্ম, সালমোনিলা, ই কোলাইয়ের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এতে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ভেলপুরি, ফুচকা ও ঝালমুড়িতে ই কোলাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এক বছর ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার ৪৬টি স্কুলের সামনে থেকে ঝালমুড়ি, ফুচকা, ভেলপুরি ও আচারের নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ফুড সেফটির নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। এতে কৃত্রিম রং, ইস্ট, ই কোলাই, কলিফর্ম, মাইক্রোটক্সিন ও সালমোলিনার মতো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। রাজধানীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৫টি নুডলসের গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ১৪টি নডুলসে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে প্রোটিনের পরিমাণ কম আছে। লেডের পরিমাণ নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম ও বেশ কয়েকটিতে শূন্য মাত্রা পাওয়া গেছে এবং বিভিন্ন মাত্রার টেস্টিং সল্ট পাওয়া গেছে। আরো ৪৬৫টি খাবারের নমুনার গুণগত মান পরীক্ষা করে তাতে টেস্টিং সল্ট, পেস্টিসাইড, রং, আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ পদের রাস্তার খাবার পাওয়া যায়। এসব খাবারের কোনোটিরই গুণগত মানের নিশ্চয়তা নেই। এর পরও লাখো মানুষ প্রতিনিয়তই এসব ভয়ংকর অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, এসব খাবারের বেশির ভাগই ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাওয়া হয় না, উপাদেয় ও মুখরোচক হিসেবে খাওয়া হয়। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, ১০ টাকার ঝালমুড়ি বা ফুচকার কারণে ভয়ংকর রোগে জীবন বিপন্ন হওয়া ছাড়া হাজার হাজার টাকা পকেট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট শিশুও এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খায় এবং প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় মা-বাবাও তাঁদের সন্তানদের এসব খাবার কিনে দেন এবং খেতে উৎসাহিত করেন, নিজেরাও খান। বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর আচার ও অজানা, অচেনা ব্র্যান্ডের আইসক্রিম শিশুদের অতি প্রিয়। কিন্তু ক্ষতিকর এসব খাবার শিশুদের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। মা-বাবা এই সাধারণ কথাটি বুঝতে চেষ্টা করেন না। মা-বাবার প্রতি আহ্বান জানাই, ঘরের বাইরে তৈরি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাইয়ে আপনাদের শিশুদের জীবন বিপন্ন করবেন না। শিশুরা অবুঝ বলে হয়তো অস্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দ করে ও খায়। কিন্তু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে নিশ্চিন্তে, নির্দ্বিধায় এসব খাবার প্রতিনিয়ত খেয়ে চলেছে, তা আমার বুঝতে কষ্ট হয়। অনেক ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সস্তা ও উপাদেয় বলে তারা এসব রেডিমেড খাবার খায়। সস্তায় নাশতার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার কারণেও তাদের রাস্তার খাবার খেতে হয়। উন্নত দেশের স্ট্রিট ফুড স্বাস্থ্যসম্মত, উপাদেয় ও আকর্ষণীয় হয়। বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশে রাস্তায় যেসব খাবার তৈরি ও বিক্রি হয় তা বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। খেতে উপাদেয় বা মুখরোচক হলেও এসব স্ট্রিট ফুড অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত ও পরিবেশিত হয় বলে বিভিন্ন জটিল ও মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। ঢাকার প্রায় সব স্ট্রিট ফুডের দোকান খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত অবস্থায় তৈরি, বিক্রি ও সাজিয়ে রাখা হয়। তাই এসব খাবার পোকা-মাকড়, মাছি দ্বারা দূষিত হয়। এজাতীয় খাবার খেলে মানুষ যেসব রোগে আক্রান্ত হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, অ্যালার্জি, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ, আলসার, হৃদরোগ ইত্যাদি। রাস্তায় খাবার তৈরি হয় মূলত আটা, ময়দা, বেসন, মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও তেল দিয়ে। দিনের পর দিন একই তেল ব্যবহার করা হয় বলে তা পুড়ে যায় এবং এই তেল হৃদরোগ সৃষ্টি করে। অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন কাপড়চোপড় পরে ময়লা ও জীবাণুযুক্ত হাতে রাস্তার খাবার তৈরি করা হয় বলে এসব খাবার খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তার খাবার তৈরিতে প্রায়ই ব্যবহার করা হয় দূষিত পানি। খাবার পানিও বিশুদ্ধ খাকে না। ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করা হয় না বলে পানিতে ই কোলাই ও প্রটিয়াস বেসিলাসজাতীয় জীবাণু থাকে। যেসব ঠোঙা, থালা-বাসন বা পাত্রে খাবার পরিবেশিত হয়, সেগুলোতে প্রায়ই ক্ষতিকর জীবাণু থাকে। এসব জীবাণুর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অ্যাপেডারমিডিস ও সালমোনেলা প্রজাতির জীবাণু। রাস্তায় তৈরি বিভিন্ন ফলের রসে থাকে অসংখ্য জীবাণু। যেসব যন্ত্রপাতি বা আনুষঙ্গিক ব্যবহার্য দিয়ে ফলের রস তৈরি হয় এবং যেসব গ্লাস বা পাত্রে তা পরিবেশিত হয়, সেগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ময়লা ও জীবাণুতে ভর্তি থাকে। ময়লা ও দুর্গন্ধময় পানি দিয়ে বারবার একই গ্লাস ধোয়া হয়। রাস্তায় তৈরি খাবারে অনেক সময় নিষিদ্ধ উপকরণ ও রং ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন শহরে তৈরি খাবারের মধ্যে মেটানিল ইয়েলো, কমলা রং ২, রোডামিন বি, অরোমিন অরেঞ্জ জি-জাতীয় নিষিদ্ধ রঙের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। খাবারকে আকর্ষণীয় করার জন্য অনেক বিক্রেতা বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রং পর্যন্ত ব্যবহার করে থাকে। রাস্তায় তৈরি কোমল পানীয়তে অনেক সময় আলকাতরার রংও ব্যবহৃত হয়। এসব খাবারে আরো থাকে তামা, লৌহ ও সিসার মতো ভারী ধাতু, যা শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। শীতকাল এলে রাস্তায় তৈরি খাবারের ধরন পাল্টে যায়। শীতকালে উল্লিখিত খাবার ছাড়া তৈরি ও বিক্রি হয় হরেক রকম উপভোগ্য পিঠা। এই পিঠার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভাপা পিঠা, পোয়া পিঠা ও চিতল পিঠা। চিতল পিঠার সঙ্গে থাকে নানা রকম ঝাল চাটনি, গাঢ় আখের রস বা গুড়। খেতে সুস্বাদু হলেও এসব খাবারও তৈরি হয় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। যারা পিঠা তৈরি ও পরিবেশন করে তাদের পরিধেয় কাপড়চোপড় ও হাত থাকে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। যে হাতে টাকা আদান-প্রদান করে, সেই একই হাত দিয়ে তারা পিঠা তৈরি ও পরিবেশন করে। এতে পিঠা জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে। অনেক দরিদ্র মহিলা ফুটপাতে বসে আটার রুটি তৈরি করে সাধারণ তরিতরকারি বা গুড় দিয়ে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে। অনেকে আবার বাসাবাড়ি থেকে ভাত রান্না করে এনে সাধারণ তরিতরকারিসহ বিক্রি করে টুপাইস উপার্জন করে। এসব খাবারের মূল খরিদ্দার হলো রিকশাচালক, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের মানুষ। আমি আগেও বহুবার লিখেছি, বাংলাদেশের কাগজের টাকার নোটগুলো সংক্রামক রোগ বিস্তারের আরেক বড় মাধ্যম। এসব ময়লা নোটে থাকে শত প্রকারের মারণঘাতী জীবাণু। যারা টাকার নোট স্পর্শ করে বা আদান-প্রদান করে, তাদের খাবার স্পর্শ করা একদম ঠিক নয়। কারণ টাকা আদান-প্রদানের পর খাবার স্পর্শ করলে টাকার অসংখ্য জীবাণু খাবার দূষিত করে ফেলে। এই দূষিত খাবার খেলে যে কেউ মারাত্মক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আমি হরহামেশাই দেখি, আমাদের দেশে যারা টাকা আদান-প্রদান করছে তারাই আবার সেই ময়লা হাত দিয়ে খাবার পরিবেশন করছে। কাগজের টাকার মধ্যে গ্রাম পজিটিভ, গ্রাম নেগেটিভ—দুই ধরনের জীবাণুই পাওয়া যায়। রিকশাচালক, গণপরিবহন কন্ডাক্টর, মাছ, মাংস ও শাকসবজি বিক্রেতাদের দ্বারা টাকা সবচেয়ে বেশি দূষিত হয়। টাকায় বিদ্যমান জীবাণুর মধ্যে রয়েছে ই কোলাই, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস, মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকোলোসিস, ভিব্রিও কলেরি, করিনেব্যাকটেরিয়াম, মাইক্রোকক্কাস, ক্লেবসিলা, সালমোনেলা, সিওডোমোনাস ও বেসিলাস প্রজাতির ক্ষতিকর জীবাণু। এসব ক্ষতিকর জীবাণুর কারণে খাদ্য বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মের সংক্রমণ, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ মারণঘাতী রোগ মেনিনজাইটিস ও সেপ্টেসেমিয়া সৃষ্টি হতে পারে। রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার খায়। স্বল্পমূল্য ও মুখরোচক বলে এ ধরনের খাবার জনপ্রিয় হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখছে। যেকোনো দেশের পর্যটনের বিকাশে সে দেশের স্ট্রিট ফুড ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সাশ্রয়ী হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পর্যটকরা রকমারি খাবারের স্বাদ নিতে স্ট্রিট ফুড বেছে নেয়। বিকেল থেকেই এসব শহরের রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান বসে যায়। ব্যয়বহুল রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় না, এমন অনেক খাবার এসব দোকানে পাওয়া যায়। ঢাকায়ও রাস্তার ধারে এখন স্ট্রিট ফুডের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায়। বিদেশের স্ট্রিট ফুডের সঙ্গে বাংলাদেশের স্ট্রিট ফুডের পার্থক্য এই যে বিদেশে এসব খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে। কিন্তু বাংলাদেশে এসবের বালাই নেই। গত ৫ নভেম্বর সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে খাদ্যদ্রব্যে রাসায়নিক দূষণ ও জীবাণু সংক্রমণ বিষয়ে এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তার খাবারেই ই কোলাই, সালমোনেলা ও ইস্ট মোল্ডের মতো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেছে। স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার উপেক্ষা করা যাবে না, বন্ধও করা যাবে না। কারণ এসব রাস্তার খাবার যতই খারাপ বা অস্বাস্থ্যকর হোক না কেন, এ দেশের মানুষ তা খাবে। এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে জানা সত্ত্বেও মানুষ রাস্তার খাবার খাবে। এটি এ দেশের মানুষের অভ্যাস ও সংস্কৃতির অঙ্গ। কাজেই রাস্তার খাবার কিভাবে কতটা নিরাপদ করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিষয়ে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেশ কয়েকটি নামকরা স্কুল রয়েছে। ফুলার রোডে রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এই ব্রিটিশ কাউন্সিল ও স্কুলে অবস্থাপন্ন পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই পড়াশোনা করে। ব্রিটিশ কাউন্সিল ও স্কুলের সামনে প্রতিদিন বসে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ দোকান, যেখানে বিক্রি হয় হরেক রকম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার। আমি প্রতিদিন দেখি, একটুও চিন্তাভাবনা না করে কিভাবে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, তাদের মা-বাবারা গণহারে এসব খাবার খাচ্ছেন। আমি আশ্চর্য হই এই ভেবে, স্কুল কর্তৃপক্ষ কিভাবে স্কুলের সামনে এসব নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করার অনুমতি দিচ্ছে। বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানায় সব ধরনের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করা বন্ধ করতে হবে, নতুবা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। সারা দেশে না হোক, অন্তত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাইয়ে তাদের আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। যাঁরা বলেন, ‘শরীরের নাম মহাশয় যা করে তা সয়’—এ কথাটি মোটেই ঠিক নয়। পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের সবার একটু পড়াশোনা করা দরকার। আপনি এবং আপনার পরিবারের সব সদস্যের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। সুস্বাস্থ্য আমাদের জীবনে শুধু আনন্দই বয়ে আনে না, সুস্বাস্থ্য আমাদের উপহার দেয় অফুরন্ত কর্মচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা, শক্তি—যা আপনার জীবনে বয়ে আনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তাই আসুন, আমরা সবাই খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে সুস্থ থাকতে সচেষ্ট হই। লেখক : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসি    

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি