ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৩১:১৬

স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা

ভিডিও

স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না বুঝবেন যেভাবে: ডা. আফরিন সুলতানা

স্তন ক্যানসার বর্তমান সময়ের একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। গত কয়েক বছরে এর বিস্তার হয়েছে। আমাদের আশপাশের অনেকেই এই রোগে ভোগছেন। এই রোগে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। স্তন ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না সেটি ঘরে বসেই পরীক্ষা করা সম্ভব। ঘরোয়া পদ্ধতিটি জানা থাকলে পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। আসুন, স্তনে ক্যানসার কোষের বিস্তার হয়েছে কি-না তা নিজে নিজে বুঝার উপায়গুলো জেনে নিই- *যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তাদেরকে আমরা (ডাক্তার) বলি মাসিক শেষ হওয়ার পর স্তন পরীক্ষা করার জন্য; *গোসল করার সময় স্তন পরীক্ষা করলে ভালো। কারণ, তখন কোষগুলো খুব নরম থাকে; *স্তন দু’টোকে হাতের দুপাশে রেখে ও উপরে তুলে দেখতে হবে স্তনে কোনো পরিবর্তন আছে কি-না? পরিবর্তনগুলো হলো: স্তনের আকারে কোনো পরিবর্তন আছে কি-না, নিপল ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে কি-না, চামড়ায় কোনো টোল পড়ছে কি-না, বগলে বা গলার কাছে কোন চাকা দেখা যায় কি-না? আরো পড়ুন : স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি: ডা. মো. হাবিবুল্লাহ *ডানপাশের স্তন পরীক্ষা করার জন্য বাঁ হাতের তিন আঙ্গুল ও বাঁ-পাশের স্তন পরীক্ষা করার জন্য ডান হাতের তিন আঙ্গুল দিয়ে স্তনের উপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে হবে স্তনে কোনো ধরনের পরিবর্তন আছে কি-না? একই পরীক্ষা শুয়ে শুয়েও করা যায়। সেক্ষেত্রে পিঠের নিচে বালিশ দিলে ভালো। *আর যাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে বা যাদের মাসিক অনিয়মিত, তাদের আমরা বলি মাসে অন্তত একটা দিন নির্ধারণ করে নেওয়ার জন্য এবং সেই নির্ধারিত দিনে একইভাবে পরীক্ষাটা করতে হবে। আমার কথা বুঝতে হয়তো কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু নিজে অনুশীলন করে দেখুন বিষয়টা খুবই সহজ। আরো পড়ুন : পুরুষের যে সমস্যায় সন্তান হয় না: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (ভিডিও) প্রথম প্রথম আপনি হয়তো বিষয়টা বুঝবেন না। কিন্তু প্রতি মাসে একবার করে পরীক্ষা করলে যদি কোনো পরিবর্তন থাকে তাহলে নিজেই নিজের স্তনের পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন। আরও পড়ুন : জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ লেখক: ডা. আফরিন সুলতানা (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমআরসিএস)। কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারী, সিটি হাসপাতাল। ল্যাপ্রস্কোপিক, ব্রেস্ট, কলোরেক্টাল সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অনুলিখক : আলী আদনান আ আ / এআর ভিডিও
পানি বেশি খেলে কী কিডনী ভালো থাকে: ডা. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী

অনেকের ধারণা, পানি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে। প্রকৃতপক্ষে, দিনে পানি অথবা তরল খাবার দুই-তিন লিটার খেলেই যথেষ্ট। পানি বেশি খেলে পায়ে পানি চলে আসতে পারে। আবার কিডনি রোগ থাকলে অতিরিক্ত পানি পান শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। কেউ বেশি তাপমাত্রায় বসবাস করলে দুই-তিন লিটারের বেশি পানি পান করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার ঘণ্টা পরপর প্রস্রাব হওয়া উচিত। আবার প্রস্রাবের চাপ আটকে রাখা উচিত নয়। এতে মূত্রনালিতে প্রদাহ বা ইনফেকশন হতে পারে। স্বাস্থ্যসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরো পড়ুন : জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে ছয় মাস পরপর প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। অনেক সময় একজন সুস্থ–সবল মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করে। অনেকে জীবনে চিকিৎসকের কাছে জাননি বলে গর্ব করেন। এতে গর্বের কিছু নেই। যেকোনো সময় মানবদেহে সমস্যা হতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কিডনি রোগ ও ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত কর্মসূচি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি জেলায় নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগ চালু ও ২০ থেকে ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে প্রান্তিক মানুষের সেবা গ্রহণে অনেক সুবিধা হবে। আরো পড়ুন :  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম সঠিক চিকিৎসা প্রদান করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করলে দেশেরই আর্থিক ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে হার্ট ও ক্যানসার চিকিৎসায় বেশ উন্নতি হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ২০০ নেফ্রোলজিস্ট সেবা প্রদানে বাংলাদেশে আসবেন। আশা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে আরও ৩০০ থেকে ৪০০ চিকিৎসক তৈরি হবেন এবং আরও উন্নতি হবে। পরামর্শদাতা :  ডা. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী  বিভাগীয় প্রধান কিডনি বিভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ। কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ  আরও পড়ুন :  প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কী কিডনী রোগের লক্ষণ : ডা. এম এ সামাদ

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কী কিডনী রোগের লক্ষণ : ডা. এম এ সামাদ

প্রচণ্ড বমিভাব, ক্ষুধামান্দ্য, চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, শরীর চুলকানো, প্রস্রাব কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি উপসর্গ কিডনি বিকলের প্রাথমিক লক্ষণ। কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘কিডনি রোগ ব্যাপক ও মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য’। কিডনি রোগ অনেকটা সমুদ্রে ভাসমান বরফখণ্ডের মতো। এর সামান্য অংশ পানির উপরিভাগে দৃশ্যমান থাকে। আর বেশির ভাগই পানির নিচে অদৃশ্য থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের, দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। দেশে ঘণ্টায় পাঁচজনের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে কিডনি বিকল হয়ে। শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিডনি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানির ভারসাম্য রক্ষা, লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য হরমোন উৎপাদন, অস্থিমজ্জাকে শক্ত রাখা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিডনি করে থাকে। আরো পড়ুন : জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ কিডনি বিকল হওয়ার উপসর্গ সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আগে বোঝা যায় না। কিছু লক্ষণ কিডনি রোগের সংকেত বহন করে। যেমন প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব লাল হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, কোমরের দুই পাশে ও তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, শরীর-মুখ ফোলা ইত্যাদি। তিন মাসের চিকিৎসায় কিডনি রোগ ভালো না হলে এটিকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হিসেবে ধরা হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিস (কিডনির বিভিন্ন সমস্যা)—এই তিন রোগের কারণে ৮০ ভাগ লোকের কিডনি নষ্ট হয়। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। আরো পড়ুন :  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম বিশ্ব কিডনি দিবসে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলপর্যায় থেকে শিশুদের কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করা গেলে কিডনি রোগ ছাড়াও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ওজন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খাবার পরিমিত ও সুষম হতে হবে। দিনে পরিমিত  পানি পান করতে হবে। ধূমপান ও মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেদনানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে প্রস্রাব ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করাতে হবে। পরামর্শদাতা: এম এ সামাদ  বিভাগীয় প্রধান কিডনি বিভাগ বিআরবি হসপিটালস লিমিটেড (কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ)  

৯ ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করে পোস্ত

হার্ট ভাল রাখতে পোস্তর জুড়ি নেই। ওবেসিটি বা স্থুলতা, ভুল খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চায় অনীহা এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বুঝতে হবে আপনার হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন প্রয়োজন। এরই সঙ্গে নিয়মিত যদি পোস্ত খাওয়া যায়, তাহলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। শুধু হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য সমস্যাই নয়, শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এই খাদ্য উপাদানটি খুবই কার্যকরী। শুধু রসনার তৃপ্তিই নয়, নানা গুণে ভরা পোস্ত শুধু জিভের স্বাদই পূর্ণ করে না, শরীরও রাখে চাঙ্গা। কারণ পোস্ততে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং মিনারেল। চলুন জেনে নেওয়া যাক নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় পোস্তর কার্যকারীতা- আলসার প্রতিরোধ করে পোস্ত দানা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। মুখের আলসার প্রতিরোধ করে। পোস্ত বাটার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে খেলে মুখে আলসারের ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়। হাড় শক্তিশালী করে পোস্তয় থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর পোস্তয় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক। শুকনো ভাতের সঙ্গে পোস্তবাটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যে আরাম পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পোস্তয় থাকা প্রচুর জিঙ্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শুকনা কাশি দূর হয় আবহাওয়া বদলের সময় শুকনা কাশি সেরে যায় পোস্ত দিয়ে তৈরি যে কোনও খাবারে। এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ পোস্ত নারকেল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শুকনা কাশি দ্রুত কমে যায়। ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে পোস্তয় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাটি অ্যাসিড। ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় পোস্তয় থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ। হার্ট অ্যাটাক কমাতে রোজ ডায়েটে অল্প হলেও পোস্ত রাখা জরুরি। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ক্যালসিয়াম, আয়রন আর কপার থাকায় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় পোস্ত। অনিদ্রা দূর করে উত্তেজনা কম করে, অনিদ্রা দূর করতে চায়ের কাপে দিন কয়েক দানা পোস্ত। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আধঘণ্টা আগে খান পোস্ত দেওয়া চা, দারুন ঘুম হবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কী: ডা. হোসাইন ইমাম (ভিডিও)

আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা হচ্ছে ক্ষতস্থানে নরমাল পানি ঢালা। যতক্ষণ পর্যন্ত হাতের কাছে প্রয়োজনীয় মলম বা ড্রেসিংয়ের ব্যবস্থা না করা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্য বিষয়ক একুশে টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারিত ‘দ্যা ডক্টরস’ অনুষ্ঠানে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা নিয়ে এ কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হোসাইন ইমাম। আগুনে পোড়ার বর্তমান ও পরবর্তী চিকিৎসা বিষয়ক এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। পাঠকের উদ্দেশ্যে ডা হোসাইন ইমামের কথাগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো- ডা হোসাইন ইমাম বলেন, মানুষ বিভিন্নভাবে অগ্নিদগ্ধ হতে পারে। তার মধ্যে বেশিরভাগ গৃহস্থলীর কারণে। যেমন রান্না করতে গেছে। শরীরের কোথাও গরম পানি পড়ে গেল। এটাও এক ধরণের বার্ন। তবে সম্প্রতি আমরা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বেশি দেখছি। গ্রামে দেখা যায় অনেকে ছাইয়ে পুড়ে যায়। এছাড়া শিল্পকারখানায় অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। ক্যামিক্যাল বার্ন হয়। তবে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো বৈদ্যুতিক বার্ন। আরো পড়ুন : প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম কারো যদি বৈদ্যুতিক ওভেনে হাত বা শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। তবে তার প্রথম কাজ হবে হাত নাড়াচাড়া কম করা। এরপর আমরা সিলভার সালভাডাইজিং ক্রিম দিতে পারি। আমরা ড্রেসিং দিতে পারি। যদি পোড়াটা কোনো গিরা বা জয়েন্টে হয় তবে আমরা সাপোর্ট হিসেবে কিছু ব্যবহার করে শরীরের সেই অংশটা ইমমোবিলাইজেশনের ব্যবস্থা করি। আরো পড়ুন : জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ গরম পানিতে যদি কারো বার্ন হয়। তবে এটা খুব বেশি গভীরে যায় না। এক্ষেত্রে হাতের কাছে থাকা সিলভার সালফাডাইজিং মলম দিতে হবে।হাইড্রো কোয়ালিট ড্রেসিং দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে মলম বা ড্রেসিং কাছাকাছি না পাওয়া পর্যন্ত পানি দেওয়া সর্বোত্তম। এক্ষেত্রে ঠান্ডা বা গরম নয়, নরমাল পানি হলেই হবে। আরো পড়ুন : মেনোপোজ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করা যায় যেভাবে: ডা. কাজী ফয়েজা আগুনে পোড়া সেরে ওঠার পরে এক ধরণের দাগ তৈরি হয়। এ ধরণের দাগে আমরা সিলিকন জেল ব্যবহার করতে পারি। দিনে দুই বার ব্যবহার করা যেতে পারে। তিন থেকে ছয় মাস এটা ব্যবহার করতে হতে পারে। দাগ পুরোপুরি না গেলেও অনেকটা ফেড হয়ে যাবে। ভিডিও   আরকে//  

প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় অ্যান্টেবায়োটিক খাওয়া কী ঠিক: ডা. সালাম

আমি প্রধানত ইউরোলজিক্যাল ক্যানসারের চিকিৎসা প্রদান করি। দেখা যায়, রোগীদের অর্ধেকের বেশিই কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি রোগ মানুষের জন্য নীরব ঘাতক। আর কিডনির নীরব ঘাতক হলো ডায়াবেটিস ও হাইপার টেনশন। এ দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিডনি রোগ বা হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া মানেই মূত্রনালিতে ইনফেকশন নয়। ইনফেকশন হলো সেই অবস্থা, যেখানে রোগীর জ্বরও থাকবে। জ্বর না থাকলে এ ক্ষেত্রে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। কিন্তু অনেক চিকিৎসক এ বিষয়ে সচেতন নন। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। জ্বালাপোড়ার মূল কারণ নির্ণয় করতে হবে। এভাবেও কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুর কিডনিতে কোনো অসুখ আছে কি না, তার প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য শিশুর অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দুই-তৃতীয়াংশ কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সব রোগের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ প্রদান করা যাবে না। পরামর্শদাতা : ডা. এম এ সালাম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ।    

জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি: ডা. হারুন অর রশিদ

দুই ধরনের কিডনি রোগ হয়। একটি হঠাৎ হয় এবং অন্যটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, যা বোঝা যায় না। এ দুটিই প্রতিরোধ করা যায়। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে একজন মানুষের কিডনিতে সমস্যা হবে না। জনস্বাস্থ্য বলতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মশা-মাছিমুক্ত পরিবেশে বসবাস করা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা ইত্যাদি। এসব অনিয়মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কিডনি সমস্যা হচ্ছে। জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া ঠিক না। এতে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সুপ্ত কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। এজন্য রোগী ছাড়াও চিকিৎসকদের উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। জ্বরের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন আছে কি না, তা বুঝতে হবে। বাংলাদেশে কিডনি রোগের এটি তৃতীয় বা চতুর্থ কারণ। কিডনি রোগের আরও একটি কারণ হলো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা। একমাত্র প্যারাসিটামল ছাড়া যেকোনো ব্যথার ওষুধ ৮০ ভাগই কিডনির ক্ষতি করবে। লিভার বা আলসারের সমস্যা না থাকলে প্যারাসিটামল শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার জন্য খুবই নিরাপদ একটি ওষুধ। কিডনি রোগের প্রথম দুই স্তর পর্যন্ত নিরাময়যোগ্য। তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের রোগী পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ বছর রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। পঞ্চম স্তরে রয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ ভাগ রোগী। এই শূন্য দশমিক ২ ভাগ রোগীর জন্য গোটা দেশে হইচই ফেলে দিচ্ছি। কিডনি পরীক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিককে কাজে লাগাতে হবে। রোগীর মধ্যে যেকোনো ধরনের উপসর্গ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দিতে হবে। সচেতন হলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের এক কোটি রোগী কিডনি রোগের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে যাবে। পঞ্চম স্তরের রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞরা কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিসে সাহায্য করবে। নেফ্রোলজিস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। রোগীর তুলনায় নেফ্রোলজিস্টের সংখ্যা অনেক কম। সে জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এ জন্য অনেকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। এসডিজিকে কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, দীর্ঘস্থায়ী হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার—সবগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন ও বিআরবি কাজ করছে। সরকারেরও এগিয়ে আসা উচিত। তবেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পরামর্শদাতা : হারুন অর রশিদ  প্রতিষ্ঠাতা, কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ঢাকা। (কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ)  

কিডনির পাথর দূর করতে ঘরোয়া ৪ উপায়

কিডনি মানবদেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। কারণ কিডনি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিক বের করে এবং শরীরে পানি, খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু নানা কারণে কিডনিতে পাথর জমতে থাকে। আর কিডনিতে পাথর জমলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত সার্জারির মাধ্যমে অপসরণ করা হয় কিডনির পাথর। তবে প্রাকৃতিক উপায়েও কিডনির পাথর দূর করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু উপায়- পানি কিডনির সুরক্ষার জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখে। সেইসঙ্গে কিডনির কার্যকারিতা এবং হজমশক্তি ঠিক রাখে। যাদের কিডনিতে পাথর জমে তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এর ফলে ইউরিনের মাধ্যমে তা কমে যেতে পারে। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। অলিভ অয়েল আর লেবুর রস এই মিশ্রণ কিডনির পাথর জমা অপসারণে দারুন কার্যকরী। তাই নিয়মিত এই মিশ্রণটি খেতে পারেন যতদিন পাথর না সরে যায়। আপেল সিডার ভিনেগার এটি কিডনির পাথর জমা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। পাথর কিডনি থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে দুই চামচ আপেল সিডার দিয়ে পান করুন। ডালিমের জুস পুষ্টিসমৃদ্ধ পানীয়টি শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখে। নিয়মিত এই জুস পান করুন। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে কিডনির পাথর সরে যায়। শধু তাই নয়, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়।     সূত্র: এনডিটিভি একে//

লিভারের রোগগুলো যেভাবে ছড়ায়: ডা. স্বপ্নীল

লিভারের অনেক রোগ রয়েছে। তাই এগুলো প্রতিরোধে সচেতন থাকা জরুরি। লিভার রোগের প্রধান সমস্যা হলো হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এমন তরুণদের বি অথবা সি ভাইরাস পজিটিভ থাকলে তাদের ভিসা দেওয়া হয় না। এসব ভাইরাস একজনের কাছ থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। তবে এসব রোগ প্রতিরোধে কিছু প্রতিষেধক আছে। বিশেষ করে বি ভাইরাস। প্রতিষেধকগুলো নিতে হবে। এক সিরিঞ্জ যারা বারবার শেয়ার করে, বিশেষ করে মাদক নেয় যারা, তাদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হতে পারে। সেক্সচুয়াল ট্রান্সমিশনের মধ্য দিয়ে অনেক সময় হতে পারে। একই ব্লেড ব্যবহারের কারণেও এ রোগ ছড়াতে পারে। এ ছাড়া এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। এন্ডোস্কোপি বা ল্যাপারেস্কোপির করার সময় ব্যবহূত যন্ত্রগুলো ভালোভাবে পরিশোধন করা না হলে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরাশর্ম নিন, সুস্থ থাকুন। লেখক: ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হেপাটোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। একে//

মেনোপোজের চিকিৎসা: ডা. কাজী ফয়েজা

একটা মেয়ের বয়স যখন ১২- ১৩ তখন তাঁর মাসিক হয় শুরু হয়। বয়স ৫২ বা তার কাছাকাছি বয়সে গিয়ে মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যদি পুরো এক বছর মাসিকটা বন্ধ থাকে, তখনই আমরা বলি ওই নারী মেনোপোজে গেছে। মেনোপোজ হলে কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে তখন তারা স্বামী কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে শারীরীক মিলন করতে পারে না। করলেও প্রচুর ব্যথা অনুভব করে। একজন নারীর মাসিক চলাবস্থায় তার শরীরে হরমোনের একটা সাপোর্ট থাকে। কিন্তু মেনোপোজ হওয়ার পর তার শরীরে হরমোনের সেই সাপোর্ট যেহেতু থাকে না, তখন তারা খুব ঘন ঘন প্রসাবের ইনফেকশনে ভোগেন। মেনোপোজের আগের সময়টাতে নারীর কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো তার একটা হট ফ্ল্যাশ হয়। হট ফ্ল্যাশ হচ্ছে শরীরের এমন একটা অবস্থা, যখন ওই নারী খেয়াল করে দিনে বা রাতে তার কান দিয়ে হঠাৎ প্রচুর তাপ বের হচ্ছে। মনে হচ্ছে, পুরো মাথা ভেপে আছে। এর পরপরই পুরো শরীর প্রচুর ঘাম দিয়ে ভিজে যাচ্ছে। এটাকে বলা হয় `হট ফ্ল্যাশ`। হট ফ্ল্যাশ খুব ভোগায়, কষ্ট দেয়। এসময় নারীরা রাতে ঘুমাতে পারেন না। তার প্রেসার বেড়ে যায়।  বিভিন্ন রকম শারীরিক ঝামেলায় তারা পড়ে। মেনোপোজের আরেকটা ক্ষতিকর দিক হচ্ছে এর ফলে তার হাড়ের ক্ষয় বাড়তে থাকে। তখন ওই নারী যদি হাঁটাচলায় পড়ে যায়, তাহলে খুব সহজে তার ফ্যাকচার বা হাড় ভেঙ্গে যায়। এ লক্ষণগুলো মেনোপোজের আগে থেকে শুরু হয়, যখন তার হরমোন কমতে থাকে। কিন্তু মেনোপোজের পরপর বেড়ে যায়। চিকিৎসা এমন অবস্থায় নারীরা আমাদের (ডাক্তার) কাছে আসে। আমরা তাদের কিছু ট্রিটমেন্ট দিই। ট্রিটমেন্টের মধ্যে কিছু নন হরমোনাল ট্রিটমেন্ট আছে। আবার কিছু আছে হরমোনাল ট্রিটমেন্ট। হরমোনাল ট্রিটমেন্টে খুব তাড়াতাড়ি তাদের সমস্যাগুলো সমাধান হয়। কিন্তু হরমোনাল ট্রিটমেন্ট খুব বেশি দিন কন্টিনিউ করা যায় না। কারণ, এই ট্রিটমেন্টে স্ট্রোক হওয়ার, হাইপার টেনশান বাড়ানোর,  ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য আমরা ছ`মাস বা এক বছরের জন্য খুব কম ডোজে এই ওষুধ দিয়ে থাকি। এরপর যখন রোগী তার সমস্যাগুলো নিয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন আমরা তাকে নন হরমোনাল ওষুধ ব্যবহার করতে বলি। লাইফস্টাইলে পরিবর্তন এসময় খাবার দাবারে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। শাকসব্জি ও পানি বেশি খেতে হবে। রিচ ফুড ( পোলাও, মাংস জাতীয় খাবার) খাওয়া যাবে না। রোজ ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়ামের মধ্যে ইয়োগা, ভারোত্তোলন- এগুলো করা ভালো। তবে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যায়াম ভুলেও করা যাবেনা। এ সময় সূর্যস্নান করা ভালো। এর ফলে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম ধারণ করতে পারে। ফলে হাড় শক্ত হবে। আর আমরা তাদেরকে সাপ্লিমেন্টারী ক্যালসিয়াম মুখে দিয়ে থাকি। অন্তত ১৫০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম মুখে খাবে। সঙ্গে যদি ক্যালসিয়াম রিচ খাবার খায় সেটা আনো ভাল। এগুলোর ফলে হাড় ভাল থাকে। আর যোনিপথের পিচ্ছিলতার জন্য আমরা তাদেরকে কিছু জেলী ব্যবহার করতে বলি। এর ফলে যোনিপথ পিচ্ছিল হয়। ফলে দাম্পত্য জীবন সুখী হয়। আর ইউরিন ইনফেকশানের জন্য আমরা তাদেরকে এন্টিবায়োটিক দিয়ে রাখি। এভাবেই মেনোপোজাল নারীদের আমরা চিকিৎসা দিই। শরীর- স্বাস্থ্যের সব নিয়ম মেনে চলুন। জীবনকে উপভোগ করুন। লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার, এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল ও সহকারী অধ্যাপক, গাইনী, প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। শ্রুতি লেখক: অালী অাদনান। অা অা/  এআর

মেনোপোজের আগে যেসব শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়: ডা. কাজী ফয়েজা

একটা মেয়ের বয়স যখন ১২- ১৩ তখন তাঁর মাসিক হয় শুরু হয়। বয়স ৫২ বা তার কাছাকাছি বয়সে গিয়ে মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যদি পুরো এক বছর মাসিকটা বন্ধ থাকে, তখনই আমরা বলি ওই নারী মেনোপোজে গেছে। একটা সময় মানুষের ধারণা ছিল, মেনোপোজ হলো মানেই নারীর সব শেষ। আমাদের দাদী-নানীদের সময় এমনটাই মনে করা হতো। তাদের (মেনোপোজ) জীবনে আর কোন আনন্দ, প্রাপ্তি, প্রত্যাশা নেই। তখন অনেকে স্বামীর সঙ্গে বিছানাও আলাদা করে ফেলত। কিন্তু এখনকার লাইফস্টাইল ভিন্ন। এখনকার মেয়েরা তাদের দাম্পত্য জীবনটাই শুরু করে চল্লিশের দিকে। ফলে ৫২ - তে তারা মেনোপোজে আগের মতো অক্ষম হয়ে যায় না। এখন তারা চায় সাপ্লিমেন্ট। অর্থাৎ তারা এমন কোন কিছু চায় যা তাদের জীবনটাকে উপভোগ করতে পারে। আমাদের দেশের চাইতে বিদেশে এটা আরো বেশি প্রকট। লক্ষণ মেনোপোজ হলে কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে তখন তারা স্বামী কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে শারীরীক মিলন করতে পারে না। করলেও প্রচুর ব্যথা অনুভব করে। আরও পড়ুন :  পুরুষের যে সমস্যায় সন্তান হয় না: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (ভিডিও) একজন নারীর মাসিক চলাবস্থায় তার শরীরে হরমোনের একটা সাপোর্ট থাকে। কিন্তু মেনোপোজ হওয়ার পর তার শরীরে হরমোনের সেই সাপোর্ট যেহেতু থাকে না, তখন তারা খুব ঘন ঘন প্রসাবের ইনফেকশনে ভোগেন। শারীরিক পরিবর্তন মেনোপোজের আগের সময়টাতে নারীর কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো তার একটা হট ফ্ল্যাশ হয়। হট ফ্ল্যাশ হচ্ছে শরীরের এমন একটা অবস্থা, যখন ওই নারী খেয়াল করে দিনে বা রাতে তার কান দিয়ে হঠাৎ প্রচুর তাপ বের হচ্ছে। মনে হচ্ছে, পুরো মাথা ভেপে আছে। এর পরপরই পুরো শরীর প্রচুর ঘাম দিয়ে ভিজে যাচ্ছে। এটাকে বলা হয় `হট ফ্ল্যাশ`। আরও পড়ুন : ছেলেদের স্পার্ম ক্ষতিগ্রস্থ ৬ কারণে: ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও) হট ফ্ল্যাশ খুব ভোগায়, কষ্ট দেয়। এসময় নারীরা রাতে ঘুমাতে পারেন না। তার প্রেসার বেড়ে যায়।  বিভিন্ন রকম শারীরিক ঝামেলায় তারা পড়ে। মেনোপোজের আরেকটা ক্ষতিকর দিক হচ্ছে এর ফলে তার হাড়ের ক্ষয় বাড়তে থাকে। তখন ওই নারী যদি হাঁটাচলায় পড়ে যায়, তাহলে খুব সহজে তার ফ্যাকচার বা হাড় ভেঙ্গে যায়। এ লক্ষণগুলো মেনোপোজের আগে থেকে শুরু হয়, যখন তার হরমোন কমতে থাকে। কিন্তু মেনোপোজের পরপর বেড়ে যায়। চিকিৎসা এমন অবস্থায় নারীরা আমাদের ( ডাক্তার) কাছে আসে। আমরা তাদের কিছু ট্রিটমেন্ট দিই। ট্রিটমেন্টের মধ্যে কিছু নন হরমোনাল ট্রিটমেন্ট আছে। আবার কিছু আছে হরমোনাল ট্রিটমেন্ট। হরমোনাল ট্রিটমেন্টে খুব তাড়াতাড়ি তাদের সমস্যাগুলো সমাধান হয়। কিন্তু হরমোনাল ট্রিটমেন্ট খুব বেশি দিন কন্টিনিউ করা যায় না। কারণ, এই ট্রিটমেন্টে স্ট্রোক হওয়ার, হাইপার টেনশান বাড়ানোর,  ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর পড়ুন : ৩৫ এর পর মা হওয়া কী ঝুঁকিপূর্ণ : ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও) এজন্য আমরা ছ`মাস বা এক বছরের জন্য খুব কম ডোজে এই ওষুধ দিয়ে থাকি। এরপর যখন রোগী তার সমস্যাগুলো নিয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন আমরা তাকে নন হরমোনাল ওষুধ ব্যবহার করতে বলি। এর মধ্যে অন্যতম হলো সে খাবার দাবারে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। শাকসব্জি ও পানি বেশি খেতে হবে। রিচ ফুড ( পোলাও, মাংস জাতীয় খাবার) খাওয়া যাবে না। রোজ ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়ামের মধ্যে ইয়োগা, ভারোত্তোলন- এগুলো করা ভালো। তবে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যায়াম ভুলেও করা যাবেনা। এ সময় সূর্যস্নান করা ভালো। এর ফলে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম ধারণ করতে পারে। ফলে হাড় শক্ত হবে। আর আমরা তাদেরকে সাপ্লিমেন্টারী ক্যালসিয়াম মুখে দিয়ে থাকি। অন্তত ১৫০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম মুখে খাবে। সঙ্গে যদি ক্যালসিয়াম রিচ খাবার খায় সেটা আনো ভাল। এগুলোর ফলে হাড় ভাল থাকে। আর যোনিপথের পিচ্ছিলতার জন্য আমরা তাদেরকে কিছু জেলী ব্যবহার করতে বলি। এর ফলে যোনিপথ পিচ্ছিল হয়। ফলে দাম্পত্য জীবন সুখী হয়। আর ইউরিন ইনফেকশানের জন্য আমরা তাদেরকে এন্টিবায়োটিক দিয়ে রাখি। এভাবেই মেনোপোজাল নারীদের আমরা চিকিৎসা দিই। শরীর- স্বাস্থ্যের সব নিয়ম মেনে চলুন। জীবনকে উপভোগ করুন। লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার, এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল ও সহকারী অধ্যাপক, গাইনী, প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। শ্রুতি লেখক: অালী অাদনান। অা অা/  এআর আরো পড়ুন ডিম্বাশয় না থাকলে কী সন্তান হয় : ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও) দীর্ঘদিন পিল খেলে কী পরে সন্তান হয় না: ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও) মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে কী চিকিৎসা: ডা. কাজী ফয়েজা  

স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি: ডা. মো. হাবিবুল্লাহ

দেশে প্রতিবছর স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২২ হাজার নারী প্রাণ হারান। অসচেতনতাই এর মূল কারণ। একটু সচেতন হলেই এই ক্যান্সার থেকে আমরা বাঁচতে পারি। এমনকি ঘরে বসেই আপনিই নির্ণয় করতে পারবেন স্তনে ক্যানসার হয়েছে কি-না? আসুন জেনে নিই সেই পদ্ধতি। স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি প্রতিমাসে ঋতুবতী নারীদের মাসিক শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ, সে সময়ে স্তন্ কিছুটা হালকা হয়ে থাকে এবং ব্যথা কম হয়। যাদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে অথবা জরায়ু অপারেশন হয়েছে তারা মাসের যেকোনো একটি দিন বেছে নিতে পারেন। মনে রাখার সুবিধার্থে যে কোন একটি উল্লেখযোগ্য তারিখ ঠিক করে নিতে পারেন। পরীক্ষা স্থানের সীমানা স্তন্য টিস্যুর উপরের দিকের কণ্ঠহাড থেকে নিচে ব্রা লাইন এবং বুকের মধ্যভাগ হতে বগলের নিচ পর্যন্ত পরীক্ষা করে স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়। প্রতি মাসে নিজে পরীক্ষা করার সময় এই পুরো এলাকাই ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। প্রথমত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পর্যাপ্ত আলোর মাঝে দু’বাহু দেহের দু’পাশে ঝুলিয়ে দাঁড়াতে হবে; দু’বাহু মাথার উপরে বা পেছনে উচিয়ে ধরতে হবে; আরও পড়ুন : স্তন সুন্দর ও আর্কষণীয় করার উপায় দু’হাত কোমরে চেপে দাঁড়াতে হবে; হালকা করে স্তনের বৃন্ত চেপে দেখতে হবে, কোন রস বের হয় কি-না;  লক্ষ্য করার বিষয় স্তনের আকার, আকৃতি ও রং এর পরিবর্তন হচ্ছে কি-না; স্তনের ত্বকের কোনো পরিবর্তন (পুরু বা পাকা কমলার খোসার মত) আছে কিনা; স্তনের বোঁটা ভিতরের দিকে ডেবে গেছে কিনা; স্তনের বোঁটা দিয়ে নিঃসৃত রসের রং কি এবং রক্ত বের হয় কি-না; এমনটি হলে বুঝতে হবে স্তন ক্যান্সার হয়েছে।   দ্বিতীয়ত: স্পর্শ করে অনুভব করুন দুই অবস্থানে (বিছানায় শুয়ে এবং গোসলের সময়) এ পরীক্ষাটি দুইবার করতে হবে। বিছানায় শুয়ে ডান স্তন্য পরীক্ষা করার সময় ডান কাঁধের নিচে ছোট বালিশ বা তোয়ালে ভাঁজ করে দিতে হবে যাতে বুক ও স্তন্ মোটামুটি একই সমান্তরালে থাকে। তেমনিভাবে বাম স্তন্ পরীক্ষার সময়ও কাঁধের নিচে বালিশ বা তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। আবার গোসলের সময় হাতে সাবান মেখে পরীক্ষা করতে হবে। ডান স্তন্ পরীক্ষা করার সময়ে ডান হাত মাথার উপর রেখে বাম হাত ব্যবহার করতে হবে এবং বাম স্তনের জন্য বাম হাত মাথার উপরে রেখে ডান হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা আঙ্গুলের স্পর্শে সহজেই অনুভূত হয়। প্রথমে একটু হালকা চাপ, পরবর্তীতে আরও একটু ভারী চাপ এবং তৃতীয় পর্যায়ে বেশ জোরে চাপ দিয়ে স্তন্য টিস্যু সম্বলিত পুরো এলাকা পরীক্ষা করতে হবে। স্তন্য টিস্যুতে চাপ রাখা আঙ্গুলের প্যাড (ঘুরন্ত লাটিমের মত) একটি অক্ষের উপর কয়েকবার করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অনুভব করুন। সব ক্যান্সারই টিউমার, সব টিউমার ক্যান্সার নয়. স্তনে পিন্ড বা চাকা হলে যেমন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি সব চাকাই যে ক্যান্সার, তাও কিন্তু নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা  গেছে যে, স্তনের চাকার ক্ষেত্রে শতকরা ১০ ভাগ শেষ পর্যন্ত ক্যান্সার হিসাবে চিহ্নিত হয়, বাকি ৯০ ভাগই বিনাইন টিউমার বা অন্য কোন সাধারণ রোগ যা সহজেই নিরাময় করা সম্ভব। সুতরাং সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ধরণ জানা অত্যন্ত জরুরী। পরামর্শদাতা : ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট। আরও পড়ুন : মেনোপোজ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করা যায় যেভাবে: ডা. কাজী ফয়েজা মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে কী চিকিৎসা: ডা. কাজী ফয়েজা সাদা স্রাব গেলে কী করবেন : ডা. কাজী ফয়েজা দীর্ঘদিন পিল খেলে কী পরে সন্তান হয় না: ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও)

থাইরয়েড সমস্যায় ভোগছেন কি-না বুঝবেন কিভাবে?

থাইরয়েড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। থাইরয়েডের প্রধান কাজ হলো মেটাবলিজম এবং মস্তিষ্ক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করা। সমস্যার শুরুটা হয় যখন থাইরয়েড গ্রন্থির গোড়ায় ছোট একটি মাংসপিণ্ড বেড়ে ওঠে, যা হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। থাইরয়েডে সমস্যার লক্ষণগুলো কিছুটা অস্পষ্ট থাকে। শুরুতে এর লক্ষণগুলো অবহেলা করার কারণে পরবর্তিতে এটি বড় আকার ধারণ করে থাকে। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি  ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ অনিয়মিত হওয়া ইত্যাদি সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া থাইরয়েডের আরও কিছু উপসর্গ আছে যা মানুষ জানেন না কিংবা গুরুত্ব দেন না। ১. হতাশা: থাইরয়েডে সংক্রমণ দেখা দিলে হরমোনের উৎপাদন বেড়েও যেতে পারে। এই হরমোনের তারেতম্যের কারণে মন-মেজাজ এই ভালো তো এই খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায়। আর হতাশাগ্রস্ততার প্রথম উপসর্গই এটি। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এই হরমোনের তারতম্য অস্বস্তি এবং মানসিক অশান্তিও তৈরি করতে পারে। ২. ঘাম: গরমে ঘাম যেমন স্বাভাবিক এবং উপকারী তেমনি ঠাণ্ডা পরিবেশে ঘাম হওয়া আশঙ্কাজনক। কর্মশক্তি নিয়ন্ত্রক হরমোন যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না তখন অস্বাভাবিক মাত্রায় এবং অস্বাভাবিক পরিবেশ ঘাম হতে পারে। ৩. শুষ্ক ত্বক: মানুষ ভেদে ত্বক এবং ত্বকের সমস্যার ধরন ভিন্ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুষ্ক ত্বকের জন্য মানুষ ঋতু পরিবর্তনকেই দায়ী করে। তবে এখানেও থাইরয়েডের হাত আছে। কারও ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা হয়ত অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে ঘাম নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কারণে ঘাম হওয়ার মাত্রা কমে যেতে পারে। ঘাম কম হওয়ার কারণে আর্দ্রতার অভাবেও শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দেখ দিতে পারে। ৪. অবসাদ: প্রতিদিনই যদি নিজেকে অবসাদগ্রস্ত মনে হয় তবে এর সঙ্গে থাইরয়েডের সম্পর্ক থাকতে পারে। স্বাভাবিকের চাইতে কম সক্রিয় থাইরয়েড বা ‘হাইপোথাইরয়ডিজম’ পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদনের পথে বাধা দেয়। ফলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অবসাদগ্রস্ত মনে হয়। এমনকি পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও এবং সারাদিন কোনো কাজ না করলেও নিজেকে ক্লান্ত মনে হয়। ৫. অনিয়মিত ঋতুস্রাব: ঋতুস্রাবের সঙ্গে থাইরয়েডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হতে পারে। একজন নারী থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হলে খাওয়ার রুচি কমে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়; যা লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা কমায় এবং পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় ঋতুস্রাব। তাই যেকোনো ধরনের অনিয়মকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। ৬. কোষ্ঠকাঠিন্য: মলত্যাগের অস্বস্তি বা কোষ্ঠকাঠিন্য মাঝেমধ্যে হওয়া স্বাভাবিক। তবে তা নিয়মিত হয়ে গেলে বুঝতে হবে থাইরয়েডেরও সেখানে প্রভাব আছে। থাইরয়েড গ্রন্থির প্রধান কাজ ‘মেটাবলিজম’ নিয়ন্ত্রণ করা, তাই সেখানে সমস্যা দেখা দিলে বিপাক পক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলবে। হরমোন উৎপাদন কমে গেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। তাই দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে থাকলে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত। ৭. স্বাদ-গ্রন্থির সমস্যা: খাবারের স্বাদ বোঝার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে থাইরয়েড। যে খাবারগুলো একসময় আপনার অত্যন্ত পছন্দ ছিলো সেগুলোতে এখন আপনার অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার পেছনে দায়ী হতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা। এর ফলে কিছু হরমোন অতিমাত্রায় তৈরি হতে পারে যা খাওয়ার রুচি নষ্ট করে দেয়।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি