ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:১৫:১৭, বুধবার

সাধারণত পেটে ব্যথার কারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা

সাধারণত পেটে ব্যথার কারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা

পেটে ব্যথা স্বাভাবিক সমস্যা। অনেকেই এতে আক্রান্ত হয়। পেটে ব্যথা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ব্যথার ধরন অনুযায়ী এবং পেটের কোন জায়গায় ব্যথা রয়েছে, সে সবের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত পেটে ব্যথার কারণ অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এছাড়া কারও পিত্তথলি, কিডনিতে পাথর হলে অথবা অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা হলেও পেট ব্যথা হতে পারে। মূত্রনালি অথবা মূত্রাশয়ে সংক্রমণ হলেও পেটে ব্যথা হতে পারে। পেটের ওপরের দিকে ব্যথা হলে বুঝতে হবে এসিডিটি সমস্যার কারণে হয়েছে। পিত্তথলির ব্যথা হয় পেটের ওপরের ডান পাশের পাঁজরের নিচে। অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা হয় পেটের ডান দিকে এবং মূত্রাশয়ের ব্যথা হয় পেটের নিচের দিকে। এসিডিটির সমস্যা হলে তা খুব সাধারণ। এ সমস্যায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করলে ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া ব্যথার সঙ্গে বমি, পেটের ব্যথা তীব্র হলে এবং তা শরীরের কোন জায়গায় হচ্ছে-এ সব শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন অথবা পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে অগ্রসর হোন, ভালো থাকুন। লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশে প্রথমবারের মতো রক্তপাতহীন লেজার সার্জারি সম্পন্ন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পায়ুপথে (কলোরেক্টাল) কোনো রকম কাটাছেঁড়া ছাড়াই রক্তপাতবিহীনভাবে সফল লেজার সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু তাহেরের নেতৃত্বে আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সফলভাবে এ অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার (২০ এপ্রিল) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসএমএমইউর জনসংযোগ অফিসার প্রশান্ত কুমার মজুমদার। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শনিবার তিন রোগীর লেজার সার্জারি সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে পাইলস, ফিস্টুলা ও ফিশার রোগে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে এ অস্ত্রোপচার করেন কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু তাহের। এসময় কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহাদত হোসেন ও অধ্যাপক ডা. মো. সাহাদত হোসেন শেখ উপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এ অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে ডা. আহসান, ডা. অরুন, ডা. ইশতিয়াক, ডা. শ্যামল, ডা. রাকেশ, ডা. মো. ওয়াজিবুল্লাহ, ডা. আলী রেজা, ডা. সাবরিন প্রমুখ সার্জনরা অংশগ্রহণ করেন। লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনোরকম কাটা ছাড়াই রক্তপাতবিহীন পায়ুপথের রোগসমূহে আক্রান্ত রোগীদের সফলভাবে সার্জারি সম্পন্ন করায় কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। প্রসঙ্গত, এসব রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পায়ুপথের সমস্যায় ভুগছিলেন। যথাসময়ে এই ধরনের রোগীদের অস্ত্রোপচার করা না হলে পায়ুপথে রক্ত যাওয়া, ব্যাথা অনুভূত হওয়া, পুঁজ পড়া, চুলকানি ও পায়ুপথের চারদিকে ভিজে থাকা ইত্যাদি সমস্যায় রোগীরা কষ্ট পেয়ে থাকেন এবং আরো নানা ধরণের অসুবিধা ভোগ করেন।   এসএইচ/

ঢাকা ও আশপাশে ডায়রিয়ার প্রকোপ (ভিডিও)

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ। আইসিডিডিআরবিতে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে গড়ে সাড়ে ৮শ মানুষ। রোগীর চাপ সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রীষ্মের কারণেই এই ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। দীর্ঘ এই লাইন রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। এসব রোগীর অধিকাংশই ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার। গত কয়েক দিনের তাপদাহে ঘন্টার গড়ে অর্ধ শতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত এসব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত গরমের কারণেই এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বয়স্কদের পাশাপাশি রয়েছে শিশুরাও। তবে আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তীব্র গরমে ঘরে তৈরি খাবার, বিশুদ্ধ পানি পানসহ রসালো ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ তাদের।

কাশি সারাতে ঘরোয়া ৫ টোটকা

শুকনো বা কফওয়ালা কোনও না কোনও কাশির সমস্যায় ভুগছেন বহুদিন যাবৎ। অথচ কথায় কথায় ডাক্তারের কাছে যেতেও ভালো লাগে না। বরং আপনি হয়তো এমন উপায় খুঁজছেন যাতে বাড়ি বসেই সেরে যায় কাশির দমক। উপায় অবশ্যই আছে এবং তা আপনার হাতের নাগালের মধ্যেই। বাইরে গিয়ে আর মেটাতে হবে না কাশির সমস্যা, প্রয়োজন পড়বে না ডাক্তারের ওষুধের। শুধু নিচের থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দমত যে কোনও সমাধান আর মেনে চলুন নিয়মিত। এক নয় বেছে নিতে পারেন একাধিক উপায়ও, এতে আখেরে লাভ আপনারই। শিউলিপাতার রস খান অনেকের বাড়িতেই থাকে শিউলি ফুলের গাছ। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে গাছের থেকে ২-৩টি পাতা তুলে নিন। ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন যাতে পোকামাকড়ের নোংরা না লেগে থাকে। এরপর পুরে নিন মুখে। ভালো করে চিবিয়ে যতটুকু রস আছে খেয়ে নিন, ফেলে দিন ছিবড়েটুকু। আপনার কাশিতে যদি কফ বের হয় তবে এর থেকে ভালো ওষুধ বাজারে পাবেন বলে মনে হয় না। এর রস যদিও অত্যন্ত তেতো প্রকৃতির, কিন্তু এটি নিয়মিত খেলে কাশির দমক তো কমবেই, গায়েব হবে কফের চিহ্নও। তুলসী পাতা খান কাশির সমস্যা মেটাতে অন্যতম ভালো ভেষজ হল তুলসিপাতা। তুলসীর পাতা শরীরের থেকে কাশি ও কফ দূর করতে অসম্ভব উপকারী। সকালে ঘুম থেকে উঠে গাছের থেকে আট দশটা ছোট তুলসী পাতা তুলে ভালো করে ধুয়ে পানি দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। এর ছিবড়ে হয় না, ফলে পুরোটাই আপনার পেটে যাবে। তুলসিপাতায় অ্যান্টিটিউসিভ ও এক্সপেকটোরেন্ট নামক দুটি উপাদান থাকে যা বুকে জমে থাকা কফকে তরল করে বেরোতে সাহায্য করে। মধু খান কাশির সমস্যা মেটাতে আরেক ধনন্তরি হল মধু। শিউলি আর তুলসীর মতই মধুর উপকারিতার শেষ নেই। আপনার কাশি যদি খুসখুসে প্রকৃতির হয়, তবে প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খান। প্রথমে আদা থেতো করে একচামচ মত রস বের করে নিন। এরপর এক চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। নিয়মিত এটি মেনে চললে দেখবেন কয়েকদিনের ভিতরেই আপনার কাশি একেবারেই কমে গেছে। বুকে যদি কফ জমে থাকে তবেও কিন্তু মধু সমান কার্যকরী। এ ক্ষেত্রে মধু খাওয়ার পদ্ধতি অন্যরকম। মধু খেতে হবে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে, অথবা সকালের চায়ের সঙ্গেও খেতে পারেন। গরম পানি বা চায়ের সঙ্গে মধু খেলে আপনার বুকে জমা কফগুলোকে মধু গলিয়ে দেয়, ও শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আনারস বেছে নিন হঠাৎ আনারস কেন? আসলে আনারসে এমন একটি উপাদান থাকে যা আপনার গলায় জমে থাকা মিউকাসকে পরিস্কার করে। এই মিউকাসের জন্যই সাধারণত কাশি হয়। আনারসের এই উপাদানের নাম ব্রোমেলাইন। এটি শুধু আনারসেই মেলে। অনেকেই খাবার পরে নিয়মিত ফল খান‌। এবার থেকে তবে খাবার পরে ফল হিসেবে আনারস বাছুন, খেতেও ভালো লাগবে, কাশির সমস্যাও মিটবে। গার্গল করুন শেষের উপায়টি সবথেকে সহজ ও করতেও বেশ সুবিধা। অল্প গরম পানিতে হাফ চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করুন। এতে গলার খুসখুসানি কমে যাবে, কাশি ছাড়াই গলায় জমা কফও সহজে বেরিয়ে আসবে। নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল, দেখা দেয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সে কারণেই ওষুধের বদলে আজকাল অনেকেই এ সব প্রাকৃতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন। আপনিও তাই বেছে নিতে পারেন এই সমাধানগুলো। এতে আপনার ভালো হবেই। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ বা ডিমেনশিয়া

দেশে বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত রোগীরা কিছু মনে রাখতে পারে না। ২০১৫ সালে দেশে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ। ২০৩০ সালে ওই সংখ্যা বেড়ে নয় লাখ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আলঝেইমার সোসাইটি। ডিমেনশিয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে আলঝেইমার্স। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য দিয়েছে। ওই সংস্থা জানিয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ওই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ হওয়ার আশঙ্কা আছে। রোগটির কারণে একটু আগে করা কাজও ভুলে যায় রোগী। সোসাইটির একজন সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘দিন দিন রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সে হিসেবে প্রতিকারের ব্যবস্থা খুব কম।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করা দরকার। তাহলে আক্রান্ত হলেও মানুষ বৃদ্ধ বয়সে করুণ পরিণতির মুখোমুখি হবে না।’ সেলিনা জাহান জানান, দেশের ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার ৪০-৫০ বছর বয়সের মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশে যারা দরিদ্রসীমার নিচে আছে তাদের ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। উচ্চবিত্ত অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু মূলত রোগটির ক্ষেত্রে বেশি দরকার সচেতনতা।’ সেলিনা জাহান বলেন, ‘ডিমেনশিয়া নিয়ে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। রোগটির তেমন চিকিৎসা নেই।’ তবে রোগটি নিয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। সেলিনা জাহান বলেন, ‘সচেতন হলে রোগটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। বৃদ্ধ বয়সের করুণ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারব।’ টিআর/

অতিরিক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে যে ক্ষতি হয়

দাঁত মাজার সময় টুথব্রাশে একটু বেশি পেস্ট লাগিয়ে নিতে আমরা অনেকেই পছন্দ করি। বেশি পেস্ট মানে মুখের ভেতর বেশি ফেনা এবং দাঁত ঝকঝকে পরিষ্কার! এই ধারণা আমাদের অনেকেরই আছ। বিশেষ করে বাচ্চার দাঁত মাজানোর সময় একটু বেশি পেস্ট দেওয়ার প্রবণতা অনেকেরই থাকে। কিন্তু একে বিপজ্জ্বনক আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত পেস্ট দাঁতের ক্ষয় ডেকে আনতে পারে বলে সাবধান করছেন তারা। দাঁত মাজার সময় টুথব্রাশের ব্রিসলের আগা থেকে শেষ পর্যন্ত টুথপেস্টে ঢেকে দিই আমরা। কিন্তু কখনও মনে হয়েছে যে ঠিক কতটা পেস্ট নেওয়া স্বাস্থ্যকর? বিশেষ করে বাচ্চারা অতিরিক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে তাদের দাঁতে খুব তাড়াতাড়ি ক্যাভিটি ধরে যেতে পারে। পেস্টের চটচটে উপাদানের কারণেই এটি হয়ে থাকে। তাই ছোট্ট একটা মটরশুটির দানার আকারের পেস্ট নিন, তার বেশি কখনোই নয়। দন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে টুথপেস্টে থাকা ফ্ল‌ুরাইডের অনেক উপকারিতা থাকলেও এটি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। তাই তিন বছরের ছোট বাচ্চাকে একটা চালের দানার সমান পেস্ট দিতে বলছেন তারা। না হলে দাঁতে ক্যাভিটি ধরে গিয়ে দাঁত নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। সূত্র: এই সময় একে//

নোয়াখালীতে আশংকাজনক হারে বেড়েছে শিশুরোগ (ভিডিও)

নোয়াখালীতে আশংকাজনক হারে বেড়েছে শিশুরোগ। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, অক্সিজেন ও বেড ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব, সংকিত না হয়ে যতœ নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শুধু শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে দেড় শতাধিক শিশু। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর, ডাইরিয়াসহ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত এসব শিশু। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হলেও অনেকের মিলছে না বেড, থাকতে হচ্ছে বারান্দার ফ্লোরে। আবার পাচ্ছে না পর্যাপ্ত ওষুধ, অক্সিজেন ও সঠিক চিকিৎসা। এদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, ওষুধ ও বেড না থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব, তাই সংকিত না হয়ে যতœ নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সংকটময় মুহুর্তে কর্তৃপক্ষকে আরো গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দেয়ার আহ্বান ভুক্তভোগীদের।     

গরমে সুস্থ্য থাকতে কি করবেন, কি করবেন না

রোদের তীব্রতা বেশি থাকে বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত । জরুরি কাজ না থাকলে এ সময় বাইরে বের হবেন না। শরীরে যেন সরাসরি রোদ না লাগে তার জন্য ছাতা, চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি কিংবা ক্যাপও ব্যবহার করতে পারেন। আর যারা মাঠে কাজ করেন তারা মাথায় মাথাল জাতীয় টুপি ব্যবহার করতে পারেন। গরমের সময় ঘাম হয়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিষ্কার পানি বের হয়ে যায় বলে এই সময়টাতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। অল্প পরিমান লবণ মিশিয়ে পানি পান করতে পারলে আরো ভালো। ফলের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালো, তবে জুসটা যেন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সাদা রঙের কাপড়, সুতির কাপড়, নরম কাপড় শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। জিন্সের কাপড়, মোটা কাপড়, কালো ও গাড় রঙের কাপড় এড়িয়ে চলুন। পায়ে বাতাস চলাচলের জন্য খোলামেলা জুতা, চামড়ার জুতা পরুন। সিনথেটিকের জুতা ও মোজা এড়িয়ে চলা ভাল। যে সব খাবার হজম করতে সময় বেলি লাগে, শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন, খাবারের মেন্যু থেকে বাদ দিন তেলযুক্ত খাবার, মাংস, বিরিয়ানি, ফাস্টফুড। গরমে ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খান। রান্না করে রাখা খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিতে হবে খাবারটি নষ্ট হয়েছে কি না, পুরনো খাবর এড়িয়ে চলা ভাল। ঘড় ঠান্ডা রাখতে ফ্যানের নীচে পানি ভর্তি পাত্র রাখুন, যা ঘড়কে অনেকটা ঠান্ডা রাখবে। শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রত্যেকাদিন গোসল করুন, একাধিকবার শরীর ধুয়ে নিতে না পারলে অন্তত হাত, পা, মুখ ভাল করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সঙ্গে ভিজা রুমাল রাখুন , কিছুক্ষণ পর পর মুখ মুছুন। প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন, যার লক্ষন -মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বল লাগা ও প্রচণ্ড পিপাসা হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব দেখা গেলে প্রেশার পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বাগেরহাটে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বাগেরহাটে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে শহরের সিভিল সার্জন অফিসের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে বাগেরহাট মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, স্বাস্থ্য বিভাগ, নাসিং ইনস্টিটিউটসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। পরে সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের এসিলাহা মিলনায়তনে সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য দেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন পুলক দেবনাথ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গুরু পদ ঘোষ, মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীপ কুমার বকশি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা দিতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। সেবা নিতে এসে রোগী ও রোগীর স্বজনরা যেনো বিড়ম্বনার স্বীকার না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।

মুখের ঘা হতে পারে কোনও মারণ রোগের প্রাথমিক উপসর্গ!

মুখের ভেতরের মাংসে বা জিভে ঘা হলে তা খুবই কষ্টকর! কিছু খেতে গেলেই জ্বালা করে, ব্যথা করতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, প্রায় ২০০ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায় মুখগহ্বরের ঘা-এর থেকেই। বর্তমানে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ থেকে শুরু করে ক্যানসার, এমনকি এইডস-এর মতো মারাত্মক রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। শুধু তাই নয়, গর্ভাবস্থাতেও শরীরে নতুন করে বাসা বাঁধা অনেক রোগের লক্ষণ মুখগহ্বরের ঘা-এর থেকেই প্রকাশ পায়। অনেকেরই মুখে বা জিভে ঘা হলে জ্বালা করা, ব্যথা ছাড়াও পুঁজ বের হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাধারণত, মুখে গালের ভেতরের অংশে বা জিভে কোনভাবে কেটে ছড়ে গেলে ঘা হতে পারে। শক্ত ব্রাশের খোঁচা লেগেও এই সমস্যা অনেকেরই হয়। খুব গরম খাবার বা পানীয় খেতে গিয়ে ছাল উঠে গেলে বা গালের ভেতরে কামড় লাগলেও এই রকম ঘা হতে পারে। মুখের ঘায়ের ক্ষেত্রে এগুলো খুবই সাধারণ কারণ। তবে এ ছাড়াও নানা মারণব্যধির প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে মুখের ভেতরে ঘা হতে পারে। যাদের হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস আছে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম এবং দীর্ঘদিন ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের মুখেও এক ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বেঁধে বাড়তে থাকে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ধূমপান বা জর্দা দিয়ে পান অথবা নানা ধরনের পান মশলা খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের মধ্যে মুখের ঘা বা মুখে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। বিশেষত, যারা পানের সঙ্গে জর্দা খান এবং অনেকবার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশি হয়। সাধারণত, ভিটামিন বি-১২ বা আয়রনের অভাবেই এই সমস্যা বেশি হয়। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন, ফল, দুধ, শাক-সবজি, মাছ এবং চর্বি ছাড়া মাংস খাওয়া জরুরি। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, আয়রন, জিঙ্ক থাকায় মুখের ঘা-এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মুখ আমাদের শরীরের খুবই স্পর্শকাতর একটি অংশ। তাই নিজে নিজে কোনও ওষুধ ব্যবহার করতে যাবেন না। যা-ই করবেন, তা অবশ্যই যেন হয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল চিকিৎসার পরও মুখের ঘা যদি দু’সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বায়োপসি বা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ মুখের বেশ কিছু ঘা বা সাদা ক্ষতকে বিজ্ঞানীরা ‘প্রি-ক্যান্সার লিশন’ বা ক্যানসারের পূর্বাবস্থার ক্ষত বলেই ব্যাখ্যা করে থাকেন। সুতরাং, আগেভাগেই সতর্ক হওয়া জরুরি আর মুখের ভিতরের অংশে ঘা হওয়া মাত্রই চিকিৎসার ব্যবস্থা নিন। সূত্র: জি নিউজ একে//

ব্লাড ক্যানসার সারানো যাবে?

এ বার কি ব্লাড ক্যানসার পুরোপুরি সারিয়ে ফেলা যাবে? সেই সম্ভাবনাই জোরালো করে তুলল বেঙ্গালুরুর এক গবেষকদল। নতুন একটি স্টেম সেল প্রোটিন আবিষ্কার করে। যার নাম- ‘আস্রিজ’। গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ব্লাড’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়। গবেষকদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বেঙ্গালুরুর জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ (জেএনসিএএসআর)-এর গবেষক সালোনি সিন্‌হা। রক্তে এক ধরনের রোগ হলে পূর্ণাঙ্গ রক্তকোষের সংখ্যা হঠাৎই খুব বেড়ে যায়। সেই রোগের নাম- ‘মায়েলো-প্রলিফারেটিভ ডিজিজ’। আসলে ওই রোগের ফলে রক্তকোষগুলির ‘বংশবৃদ্ধি’ (মিউটেশন) হয় অস্বাভাবিক দ্রুত হারে। দু’টি কোষ থেকে চারটি, চারটি কোষ থেকে ১৬টি, কোষের সংখ্যা এই ভাবে বেড়ে যায়। অনেকটা যেন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের মতো, যাদের অস্বাভাবিক দ্রুত হারে সংখ্যাবৃদ্ধির কারণ মিউটেশনই। শুধুই অস্বাভাবিক দ্রুত হারে রক্তকোষের সংখ্যাবৃদ্ধি হলে তা যতটা উদ্বেগের হত, তার চেয়েও এই ঘটনা বেশি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। কারণ, ওই পূর্ণাঙ্গ রক্তকোষগুলিই ক্যানসার কোষ হয়ে ওঠে। আর সেটাও হয় অস্বাভাবিক দ্রুত হারে। সেই কোষগুলি রক্তে থাকে বলে রক্তস্রোতের সঙ্গে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তেও মোটেই সময় নেয় না। গবেষকরা দেখেছেন, রক্তকোষের এই অস্বাভাবিক দ্রুত হারে সংখ্যাবৃদ্ধির পিছনেও কলকাঠি নাড়ে একটি প্রোটিন। তার নাম- ‘পি-৫৩’। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমাদের শরীরের যে কোনও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যে কোনও ধরনের দুর্বলতা, যে কোনও রকমের রোগে ‘নারদ’-এর ভূমিকাটা পালন করে কোনও না কোনও প্রোটিন। আমাদের শরীরে এখনও পর্যন্ত ২০ হাজার প্রোটিনের হদিশ মিলেছে। বিভিন্ন সময়ে সেই প্রোটিনগুলির বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম আমরা জানতে পেরেছি। তবে কোনও প্রোটিন যে শুধুই কোনও একটি কাজের দায়িত্ব নিয়ে বসে রয়েছে, তা কিন্তু নয়। একই প্রোটিন একাধিক কাজ করে। নানা ভাবে কাজ করে। যে প্রোটিন কোনও ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে উপকারী, সেই প্রোটিনই অন্য কোনও ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে আমাদের পক্ষে বিপজ্জনক। গবেষকরা কাজ করেছেন ইঁদুরের উপর। তাঁরা যে প্রোটিনটি (আস্রিজ) আবিষ্কার করেছেন, দেখা গিয়েছে, তা ব্লাড ক্যানসার সারাতে কাজে লাগছে। আবার তাঁরা এও দেখেছেন, পি-৫৩ প্রোটিনটি রক্তস্রোতে অস্বাভাবিক দ্রুত হারে রক্তকোষগুলির সংখ্যাবৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। অন্যতম গবেষক মনীষা এস ইনামদার জানিয়েছেন, রক্ত ছাড়া আর যে সব ধরনের ক্যানসার হয়, তার ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আসল কলকাঠিটা নাড়ে ওই পি-৫৩ প্রোটিন। কারণ, ক্যানসার মানেই অস্বাভাবিক দ্রুত হারে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি। এটাও দেখা গিয়েছে, ব্লাড ক্যানসারের ১১ শতাংশ ক্ষেত্রে নারদের ভূমিকা নেয় পি-৫৩ প্রোটিন। শুধু তাই নয়। মনীষার কথায়, ‘‘আমরা দেখেছি, রক্তস্রোতে যদি পি-৫৩ প্রোটিন কোষগুলির অস্বাভাবিক দ্রুত হারে বংশবৃদ্ধি বা মিউটেশনে সাহায্য না-ও করে, তা হলেও রক্তে আস্রিজ প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকলে ক্যানসার হয়। ফলে, পূর্ণাঙ্গ কোষের অস্বাভাবিক দ্রুত হারে সংখ্যাবৃদ্ধি রোখা যায় না। সে ক্ষেত্রে অনিবার্য হয়ে ওঠে ক্যানসার।’’ মূল গবেষক সালোনি সিন্‌হা জানিয়েছেন, তাঁরা বুঝতে চেয়েছিলেন, আস্রিজ না থাকলে কেন পি-৫৩ প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায় আর তার পর রক্তের স্টেম সেলগুলি সংখ্যায় অস্বাভাবিক দ্রুত হারে বেড়ে ক্যানসার কোষে পরিণত হয়। এত দিন জানা সম্ভব হয়নি, কেন পি-৫৩-র মিউটেশন ছাড়াও ক্যানসার হয় রক্তে। এই গবেষণা সেই প্রশ্নের জবাব দিতে পেরেছে বলেই দাবি সালোনির। ফলে, এই গবেষণা রক্তের ক্যানসার সারানোর নতুন দিশা দেখাবে বলেই বিশ্বাস গবেষকদের। সূত্র-আনন্দবাজার আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি