ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:২৫:৩৯

বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস পালিত

বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস পালিত

সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালিত হয়েছে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিশুরাও মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু অনকোলজি বিভাগে ২০১০ থেকে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত ৪৫৫ শিশুকে ক্যান্সার আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, সঠিক ডায়াগনস্টিক করা গেলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোশারফ হোসেন বলেন, বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে কোলন ও লিভার ক্যান্সার বেশি হয়। এর অন্যতম কারণ তারা শাক-সবজি খুব কম খায়। ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় বেশি খায়। কোমল পানীয়র মধ্যে টক্সিন নামের একটি উপাদান লিভার ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জানা যায়, শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০২ সালে চাইল্ড ক্যান্সার ইন্টারন্যাশনাল (সিসিআই) কর্তৃক এ দিবসটি পালন শুরু হয়। সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়াও এ দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য হল মৃত্যুহার হ্রাস করা, এবং ক্যান্সার সম্পর্কিত ব্যথা এবং এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা শিশুদের দুর্দশা হ্রাস করা। এ লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ক্যান্সার নির্ণয় করা শিশুদের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ বেঁচে থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরে শিশুদের জন্য আইসিসিডির থিম হলো `নো মোর পেইন` এবং `নো মোর লস`, তাদের এবং পরিবারের জন্য বেঁচে থাকা। শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- ১. সিসিআই অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতি বছর, তিন লাখেরও বেশি শিশুর জন্মের ১৯ বছরের মধ্যে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ১০ জনের ৮ জনই অল্প এবং মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে যেখানে তাদের বেঁচে থাকার হার মাত্র ২০ শতাংশ। ২. সারা বিশ্বে প্রতি ৩ মিনিটে একটি শিশু ক্যান্সারে মারা যায়, যদিও ৮০ শতাংশেরও বেশি শিশু ক্যান্সারের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে এবং মানসম্মত যত্নের সঙ্গে পূর্ণ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। ৩. শিশু ক্যান্সারের মধ্যে সবচেয়ে বেশির ভাগই হলো লিউকেমিয়া (শিশুদের মধ্যে সব ক্যান্সারের এক তৃতীয়াংশ লিকিমিয়া), কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার, নিউরোব্লাস্টোমা, নেফ্রাব্লাস্টোমা, মেডেলোব্লাস্টোমা এবং রটিনোব্লাস্টোমা ধরনের। ৪. শিশু ক্যান্সারের মাত্র কয়েকটি পরিচিত ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে রয়েছে- গর্ভ, চিকিৎসা পরিস্থিতি, সংক্রমণের সঙ্গে সংক্রমণ, বিকিরণের সঙ্গে যোগাযোগ, পূর্ববর্তী ক্যান্সারের চিকিত্সা, ইত্যাদি। ডাক্তাররা বিশ্বাস করে, দ্রুত এবং কার্যকর চিকিত্সার মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু ক্যান্সার চিকিত্সাযোগ্য। প্রাপ্তবয়স্ক ক্যান্সারের তুলনায়, সাধারণভাবে, শিশুদের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আরও সফলভাবে চিকিত্সা করা শিশুদের বৃহত্তর অনুপাতের সঙ্গে চিকিত্সা করা হয়। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, এই পার্থক্য শৈশবের ক্যান্সার থেরাপির জন্য বেশি প্রতিক্রিয়াশীল এবং এটির কারণে, যখন প্রয়োজন হয় তখন একটি শিশু আরও তীব্র থেরাপি সহ্য করতে পারে। এসএইচ/
হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম

হৃদরোগ মানেই সামান্য পরিশ্রমেও বিপদের ভয়, আর হাত ধরে নাকচ প্রায় সব কষ্টসাধ্য ব্যায়াম! অনেকে এমনটাই ভাবেন।কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টা মোটেও এমন নয় বরং নিয়ন্ত্রিত ব্যায়ামই হৃদরোগে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। তবে তা একেবারেই তাড়াহুড়ো করে শরীরকে জোর করে মানিয়ে নয়। বরং কী ভাবে ব্যায়াম করছেন আর কী কী ব্যায়াম করছেন তার উপরেই নির্ভর করবে আপনি হৃদরোগের সঙ্গে কত সক্রিয় ভাবে লড়তে পারবেন। জানেন কি, কেমন হবে হৃদরোগীর ব্যায়ামের নিয়ম? ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘হঠাৎ করে কিছু করবেন না৷ ধীরেসুস্থে এগোন, বিশেষ করে ব্যায়ামের অভ্যাস যদি না থাকে, বয়স বেশি হয় এবং হাইপ্রেশার বা হাঁটু–কোমর ব্যথা থাকে তা হলে আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে৷ বরং বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নিন কোন ধরনের ব্যায়াম আপনার শরীরে এঅকান্তই প্রয়োজন৷’ ব্যায়াম করলে মূল করোনারি ধমনীগুলির পাশাপাশি বেশ কিছু ধমনী থাকে যারা সচরাচর তেমন কাজ করে না৷ নিয়মিত ব্যায়াম করলে আস্তে আস্তে এরা সজীব হয়৷ রক্ত সঞ্চালন শুরু হয় এদের মধ্যে দিয়ে৷ যত তা বাড়ে, তত তরতাজা হয় হার্ট৷ ধকল সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ে৷ হৃদয় ও ফুসফুসকে ভাল রাখতে দরকার কিছু কার্ডিও এক্সারসাইজ৷ অর্থাৎ হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার, খেলাধুলা ইত্যাদি৷ শুয়ে–বসে থাকার অভ্যাস থাকলে তা আগে ত্যাগ করুন। বরং হাঁটতে পারলে ব্যায়ামের প্রাথমিক ভাগটা শুরু করুন হাঁটা দিয়ে৷ প্রথমে ধীরে, তার পর অভ্যাস হয়ে গেলে মাঝারি গতিতে৷ দিনে অন্তত আধঘণ্টা হাঁটুন৷ শরীর তৈরি না থাকলে প্রথম দিকে মিনিট পনেরো হাঁটলেও চলবে৷ সম্ভব হলে দিনে দু’বার হাঁটুন৷ হাঁটার জন্য কিছু নিয়ম মানুন। একই গতিতে একটানা হাঁটুন৷ সকালের দিকে ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে পারলে ভাল৷ সকালে সময় না পেলে বিকেলে বা সন্ধেয় হাঁটুন। শীতের ভোরের কুয়াশা ও ধুলো–ধোঁয়ার মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়৷ কাজেই একটু রোদ উঠলে বেরন৷ বিকেলে হাঁটলে চেষ্টা করুন আলোকিত ও পরিচিত রাস্তায় হাঁটতে৷ যে গতিতে হাঁটলে শীতকালে অল্প ঘাম হয়, শ্বাসের হার ও নাড়ির গতি বাড়ে, একটু হাঁপিয়ে যান সেই গতিতে হাঁটুন৷ যদি খুব হাঁপিয়ে যান, বেশি ঘাম হয়, সারাদিন ক্লান্ত–অবসন্ন লাগে, বুঝবেন বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে৷ তখনই ব্যায়াম কমাতে হবে৷ আলাদা করে হাঁটার সময় না পেলে অফিস বা বাজার–হাট সেরে ফেরার সময় আধঘণ্টার মতো পথ হেঁটে আসতে পারেন৷ হাঁটুতে সমস্যা না থাকলে লিফ্‌টের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন৷ কাছাকাছি কোথাও যেতে হলে হেঁটে বা সাইকেলে যান৷ ঘরে নিজের কাজ নিজে করতে পারলে ভাল৷ মাঝেমধ্যে ঘর–বাড়ি বা গাড়ি ধোয়ামোছা করতে পারেন৷ নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে দিনে ২০–৩০ মিনিট জগিং করতে পারেন৷ দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার, ট্রেডমিল করা যেতে পারে সবই৷ কত দূর হাঁটলে বুকে ব্যথা হয় না, তা বুঝে ততটুকু হাঁটুন৷ বিশ্রাম নিন৷ আবার হাঁটুন৷ আবার বিশ্রাম নিন৷ কিছু দিন পর হার্ট আগের চেয়ে বেশি ধকল নিতে পারবে৷ গতির ব্যাপারেও এক নিয়ম৷ যে গতিতে হাঁটলে কষ্ট হয় না, সেই গতিতে হাঁটুন৷ সময়ের সঙ্গে গতি বাড়বে৷ ক’ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর বুকে চাপ ধরে তা বুঝে উঠুন ধীরেসুস্থে৷ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে স্ট্রেচিং, যোগা, মেডিটেশন করতে পারেন৷ এতে যে শুধু মানসিক উদ্বেগ কমে ও শরীরের নমনীয়তা বাড়ে এমন নয়, হৃদরোগের প্রকোপও কম থাকে৷ এর বাইরে কোনও ব্যায়াম করতে চাইলে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ মতো ট্রেডমিল টেস্ট করে নিন ও তাঁর পরামর্শ মেনে চলুন। ধীরে ধীরে একতলা সিঁড়ি ওঠানামা করতে পারেন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পরেও। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পর প্রথম ১–২ সপ্তাহ সাইক্লিং বা পায়ের অন্য ব্যায়াম, ভারী জিনিস তোলা বা ঠেলা বারণ৷ হাঁটাচলা করতে পারেন৷ অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে বন্ধ পথ খুলে দিলে ও হার্ট ঠিকঠাক পাম্প করলে বয়স ও ফিটনেস অনুযায়ী যা যা ব্যায়াম করা যায়, সব করতে পারেন৷ তবে ডাক্তারের মতামত নিয়ে৷ বাইপাস সার্জারির পর এক–দেড় মাস ডাক্তারের পরামর্শ মতো ব্যায়াম করুন৷ যেমন, ঘরে হালকা পায়চারি করা, বাড়ির সামনে অল্প হাঁটা, একতলা সিঁড়ি ওঠানামা করা, বাইরে একটু–আধটু বেরনো৷ এ ভাবে এগতে এগতে একটা সময় আসবে যখন অফিস, মর্নিংওয়াক সবই করতে পারবেন৷ হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা ঠিক থাকলে জিম, সাঁতার, ট্রেকিংও করা যায়৷ হার্ট অ্যাটাকের পর মাস খানেক গ্রেডেড এক্সারসাইজ করার পর ব্যায়ামের অনুমতি দেওয়া হয়৷ ট্রেডমিল টেস্ট করে অবস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার৷ তবে হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কিছু বিধিনিষেধ থাকে৷ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হালকা যোগা, স্ট্রেচিং ও শ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন৷ তবে খুব সাবধানে৷ ভারী জিনিস তোলা, ঠেলা বা পরিশ্রমের কাজ করবেন না৷ সকালে বা বিকেলে হাঁটুন৷ রক্ত সঞ্চালন বেড়ে হার্টের সমস্যা কমতে শুরু করবে৷ তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

আহত বা অসুস্থ হলে প্রাথমিক পরিচর্যাগুলো কী কী?

বাড়িতে হঠাৎ কোনও প্রিয়জন অসুস্থ হতে পারেন। রাতের দিকে তা হলে আরও অসুবিধা। বা রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনায় কেউ চোট পেতে পারেন। সেই সময়ের মতো রোগীকে স্থিতিশীল করা। তার কষ্ট কিছুটা কমানো খুব জরুরি পরবর্তী চিকিৎসার জন্য। প্রত্যেকেরই তার জন্য প্রাথমিক কিছু নিয়মকানুন জেনে রাখা দরকার। জ্বর হলে বড় বা বাচ্চাদের জ্বর হলে যদি খিঁচুনি না থাকে তাহলে তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ঘরে যদি থার্মোমিটার না থাকে তাহলে তাপমাত্রা মোটামুটি আন্দাজ করে বাচ্চার মাথা ধুয়ে দিতে হবে এবং শরীরের অন্য অংশ ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে মুছে দিতে হবে।  তবে সুচিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। জ্বর হলে শরীরে স্পঞ্জিং করা উচিত। ভেজা নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে শরীর একটানা কয়েক বার আলতো করে মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং রোগী আরাম বোধ করেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং শিশুদের গামলায় বসিয়ে স্পঞ্জ করাই সুবিধাজনক। স্পঞ্জিং আলো-বাতাসযুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে করা দরকার। রোগীকে প্রচুর পানি ও পানীয় পদার্থ খেতে দিতে হবে। জ্বর বাড়লে রোগীর মাথায় পানিপট্টি দিতে হবে। বিশ্রামে রাখতে হবে। যেখানে সেখানে রোগীকে কফ, থুথু ফেলতে দেওয়া যাবে না, তাতে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। স্বাস্থ্যকর, খোলামেলা, শুষ্ক পরিবেশে আলোবাতাস বেশি আসে এমন ঘরে রোগীকে রাখতে হবে। কেটে গেলে ছোটখাটো কাটায় সমস্যা নেই কিন্তু যে কাটায় রক্তপাত বেশি বিপদ সেখানেই। তখন প্রথমেই দরকার রক্ত বন্ধ করা। ঘরের কাজ বিশেষ করে তরকারি কাটতে গিয়ে কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সে ক্ষেত্রে প্রথমেই সেই ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রেসার ব্যান্ডেজ দিয়ে কিংবা গজ বা কাপড় দিয়ে সেই ক্ষতস্থান বাঁধতে হবে। হাতে কেটে গেলে হাত কিছুক্ষণ উঁচু করে ধরুন। এতে রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ হয়ে আসবে। ক্ষতস্থানে হলুদ গুঁড়া, গাঁদা পাতা বাটা বা চিনি দিলেও রক্ত বন্ধ হয়। তার পর অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ওই স্থান পরিষ্কার করে অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম লাগিয়ে ড্রেসিং করুন। কামড়ানো কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর বা বাঁদরের কামড়ে ক্ষতস্থান ভাল করে পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রতিষেধক ইনজেকশনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে। সর্পদংশন সাপের কামড় বা অজানা জীবের কামড়ের ক্ষেত্রে যে অঙ্গে কামড় বসেছে তা বেশি নাড়াচাড়া করা যাবে না। কোনও বাঁধন দরকার নেই। বরং রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পোড়ার ক্ষত উনুন, গ্যাস, স্টোভ, গরম পানি, গরম পাত্র প্রভৃতি থেকে শরীরে ছ্যাঁকা লাগতে পারে বা শরীর ঝলসে যেতে পারে। জ্বালাভাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশে ঠাণ্ডা পানি দিতে হবে অথবা ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। শরীরে বা পোশাকে আগুন লেগে গেলে কম্বল জাতীয় কিছু দিয়ে আগে আগুন নেভাতে হবে। ক্ষতস্থানে লোশন, মলম বা তেল ব্যবহার এ বিরত থাকুন। আহত ব্যক্তির যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তার আগে তিনি যাতে ঠিকঠাক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কেউ অ্যাসিডে পুড়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিতে হবে। রোগীকে যত দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাবে ক্ষতি তত কম হবে। হাড় ভাঙা  বাড়িতে বা রাস্তায় পড়ে গিয়ে বা আঘাত লেগে হাত- পা ভাঙার ঘটনা ঘটে। তখন চেষ্টা করতে হবে রোগীর ভাঙা অংশটিকে নাড়াচাড়া না-করে যতটা সম্ভব স্থির রাখা। অনেকে অযথা হাত দিয়ে মুচকে হাড়জোড়ার চেষ্টা করেন। এটা মারাত্মক। ওই অংশে কোনও ব্যথার মলম ঘষে লাগানো যাবে না। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। চোখে কিছু ঢুকলে চোখ একেবারে ডলা চলবে না। শুধু বারংবার পানির ঝাপটা দিতে হবে। কনজাংটিভাইটিস রোগীকে চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। চোখের পানি বা ময়লা মোছার জন্য নির্দিষ্ট ছোট তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করতে হবে। ঘুম থেকে উঠেই চোখ ভাল করে পানি দিয়ে ধুতে হবে। শ্বাসকষ্ট ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হলে ভেজা তোয়ালে, রুমাল বা কাপড়ের টুকরা রোগীর মুখ ও নাক বেঁধে দিতে হবে। রোগীকে আধশোয়া করে দিতে হবে, ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। শ্বাসকষ্ট বিভিন্ন কারণে হতে পারে তাই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিৎ।  কানে কিছু ঢুকলে অনেক সময় কানের ছিদ্র দিয়ে কীট পতঙ্গ কানের ছিদ্র পথে প্রবেশ করে। অলিভয়েল বা নারিকেল তেল দিতে হবে। গরম সেঁক দিতে হবে। তবে তেল দেওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে, রোগীর কানের পর্দায় কোনও ছিদ্র নেই। কীটনাশক সেবন অনেক ক্ষেত্রে ভুল করে বাচ্চারা কীটনাশক পান করে থাকে। কেউ আবার রাগ বা অভিমানে তা খেয়ে ফেলেন। যদি রোগীর স্বাভাবিক জ্ঞান থাকে তবে প্রাথমিকভাবে তাকে বেশি করে পানি খাইয়ে বমি করাতে হবে এবং হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।  নাক দিয়ে রক্ত পড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়লে প্রথমেই রোগীকে সোজা করে বসিয়ে দিতে হবে। অথবা ঘাড়ের নিচে সাপোর্ট দিয়ে মাথা পিছন দিকে হেলিয়ে দিতে হবে। তারপর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে নাক চেপে রাখতে হবে।  বমি ও পায়খানা ঘন ঘন পায়খানা কিংবা পায়খানা ও বমি একসাঙ্গে হলে মানুষের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ দেহের বাইরে বেরিয়ে যায়। শরীর জল শূন্য যায়। এমতাবস্থায় বাড়িতেই রোগীকে লবণ ও চিনির পানি, পাতলা স্যূপ, ডালের পানি বারে বারে খাওয়ানো দরকার। পেট খারাপে টক দই ভাল কাজ দেয়। হাইপোগ্লাইসেমিয়া যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের মধ্যে এই হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে। নিয়মিত এবং নিয়ম মতো ওষুধ না খাওয়া বা ইনসুলিনের ডোজ বেশি  হলেও যে কোনও ডায়াবেটিক ব্যক্তি হঠাৎ এমন অসুস্থতা বোধ করেন। যেমন বুক ধড়ফড় করা,  প্রচণ্ড ঘেমে যাওয়া কিংবা নেতিয়ে পড়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে চিনির পানি বা গ্লুকোজের জল খাইয়ে দিতে হবে এবং রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দাঁতে ব্যথা বৃদ্ধ কিংবা ছোট যে কোনও বয়সেই কারও দাঁতে ব্যথা বা দাঁতের যন্ত্রণা হতে পারে। ব্যথা শুরু হলে প্রাথমিক অবস্থায় গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। লবঙ্গের তেল দাঁতে লাগানো যেতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা একমাত্র মুক্তির উপায়। খিঁচুনি  প্রথমে রোগীকে এক পাশ করে শোয়ানো দরকার। তাঁর দাঁতে দাঁতে লেগে যেন জিভ কেটে না-যায় তার জন্য দুই পাটি দাঁতের মাঝখানে শক্ত কিছু দিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মৌমাছি, বোলতার কামড় ভাল করে দেখতে হবে কামড়ানোর জায়গায় হুল আছে কি না। যদি থাকে চেষ্টা করতে হবে সেগুলো বের করার। যন্ত্রণা ও চুকানি কমানোর জন্য বড় ভরসা বরফ, চুন, বেকিং সোডার মিশ্রণ বা ক্যালামাইন লোশন। যদি শ্বাসকষ্ট বা বুক ব্যথা হয় তাহলে দ্রুত হাসপাতাল যেতে হবে। পেট ব্যথা অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ, জোয়ানের আড়ক বা ইসবগুলের ভুষি খেলে প্রাথমিক উপকার পাওয়া যায়। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

হৃদরোগ নিরাময়ে মেডিটেশন

হৃদরোগ বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা এবং একটি আতংক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বের মৃত্যুর একটি বড় কারণ এই হৃদরোগ। বাংলাদেশ হার্ট ফাউন্ডেশনের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে- বর্তমান বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের শতকরা ১০ ভাগ হৃদরোগে আক্রান্ত এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আমরা যদি একটু অতীতে ফিরে যাই তাহলে দেখব- এতো হৃদরোগ, এত অসুস্থতা আমাদের চারপাশে ছিল না। আগে কোন গ্রামে বা মহল্লায় হয়তো দু-একজন বা তারও কম হৃদরোগী ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই চিত্র ভয়াবহ। এখন ঘরে ঘরে হৃদরোগী, প্রতিটি ঘর একটি ওষুধের ডিসপেনসারিতে। এর কারণ কি? জীবন সম্পর্কে ভ্রান্ত ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, ভুল বা অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাবাস, কায়িক পরিশ্রম না করা, বদ অভ্যাস (ধূমপান, মদ্যপান) এবং পারিবারিক আশান্তিসহ সর্ব প্রকারের টেনশনই হলো হৃদরোগের প্রধান কারণ। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শহর কিংবা গ্রাম, সব জায়গায়ই আমাদের হাটার পরিমান কমে গেছে। সর্বত্রই যানবাহনে চলাচল করি। আমাদের জীবনযাত্রা হয়ে গেছে শারীরিক পরিশ্রমহীন। খাদ্যাবাসেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। নিয়মিত শাকসব্জির পরিবর্তে আমরা এখন খাচ্ছি ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত এবং অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার। আর ধূমপানের কথা না বললেই নয়। সিগারেটের নিকোটিন হৃদপিন্ডের ধমনীকে সংকুচিত করে। ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, যা করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিক জীবনের নানা সমস্যা ও টেনশন। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এই রোগের পরিণতি খুব একটা সুখকর নয়। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বহু মানুষ তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় এই রোগের পেছনে খরচ করতে বাধ্য হয়েছেন। হাজার হাজার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। আর দুর্ভোগের কথা নাই বললাম। এছাড়া চিকিৎসা করেও যে আপনি খুব স্বস্তিতে থাকতে পারবেন, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। করোনারি হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা বলতে আমরা বুঝি এনজিওপ্লাস্টি, বাইপাস সার্জারি, রোবটিক সার্জারি ইত্যাদি। কিন্তু খোদ চিকিৎসকরাই এখন স্বীকার করছেন- এগুলো কোন স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ সার্জারির পর রোগীরা আবার ডাক্তারের কাছে আসেন সমস্যা বা পুনঃব্লকেজ নিয়ে। ফলে বেশিরভাগ রোগীই হৃদরোগের দুষ্ট চক্রে পড়ে যান। অন্যদিকে বাড়তি ঝামেলা হিসেবে আছে সার্জারির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়ভার। মার্কিন কার্ডিওলজিস্ট ডা. ক্রিচটন দীর্ঘ গবেষণার পর দেখিয়েছেন –হৃদরোগের মূল কারণ হলো মানসিক চাপ। তিনি বলেছেন, কোলেস্টেরল বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমে করোনারি আর্টারিকে প্রায় ব্লক করে ফেললেই যে হার্ট এট্যাক হবে, এমন কোন কথা নেই। করোনারির আর্টারির ৮৫ শতাংশ ব্লকেজ নিয়েও একজন ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। আবার এমন দেখা গেছে, পরিস্কার আর্টারি নিয়েও বহু মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। আসলে অত্যাধিক মানসিক চাপ ও দুঃশ্চিন্তা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, প্রচলিত এই চিকিৎসা ব্যবস্থায় মানসিক চাপ বা দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তির কোন সমাধান নেই। ১৯৮৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ডিওলজিস্ট ডা. ডিন অরনিশ ৪০ জন গুরুতর হৃদরোগী নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এসব হৃদরোগীকে এক বছর ধরে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার গ্রহণ করানোর মাধ্যমে হৃদরোগ থেকে মুক্ত করে তিনি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। ডাক্তারদের রক্ষনশীল চিন্তামূলে আঘাত হেনে তিনি প্রমান করতে সক্ষম হন- হৃদরোগ হলেই বাইপাস বা এনজিওপ্লাস্টি করাতে হবে, এটা আসলে ঠিক নয়। ওষুধ বা সার্জারি ছাড়া যে হৃদরোগ নিরাময় করা যায়, এটা তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন। তার এই গবেষণা কাজকে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সে বছর প্রথম পৃষ্ঠার খবর হিসেবে প্রকাশ করে। মেডিটেশনের মাধ্যমে হৃদরোগ নিরাময়ে অসাধারণ সাফল্যের ওপর তার বিখ্যাত বই “প্রোগ্রাম ফর রিভার্সিং হার্ট ডিজিস” বেস্ট সেলার গ্রন্থে রূপান্তরিত হয়। মেডিটেশনের মাধ্যমে হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে ডা. ডিন অরনিশের গবেষণা কাজ এতো ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে যে এটি এখন আর বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। সার্জারি ছাড়া হৃদরোগ নিরাময়ের এ চিকিৎসা পদ্ধতিই এখন সবচেয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। গত দু-দশকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বেই এটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমরা সবাই জানি, মন সেরা ডাক্তার আর দেহ সেরা ফার্মেসি। শরীরের চেয়ে মন অনেক বেশি শক্তিশালী। মনের গতি, শক্তি ও পরিধি সবই ব্যাপক। মনের এই দুর্দমনীয় শক্তির প্রভাবে শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এমনকি রোগ নির্মূলেও সাহায্য করে। যুগে যুগে মহামানবরা, নবী-রসূলরা এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধপুরুষরা রোগ নিরাময়ে ধ্যানের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন। তাই এটি নতুন কিছু নয়। এটি হাজার বছরের শাশ্বত চেতনারই একটি আধুনিক ও সমন্বিত রূপ। বর্তমানে হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধের এ প্রক্রিয়া সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে গ্রহনযোগ্য ও সর্বজন স্বীকৃত। আসলে মেডিটেশন করলে মন প্রশান্ত হয়, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়, হৃদস্পন্দন ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। সর্বোপরি দেহ ও মন শিথিল হয়। মেডিটেশনের প্রথম প্রাপ্তিই হলো প্রশান্তি। নিয়মিত মেডিটেশনে মনের এই প্রশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। ব্রেনে আলফা ওয়েভ সৃষ্টি হয় বলে, টেনশন থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। আস্তে আস্তে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে আসে এবং জীবনে আসে এক চমৎকার ছন্দ। যার ফলে রোগী নিরাময় লাভ করে। তাই হৃদরোগের সুস্থতার জন্য নিয়মিত মেডিটেশন করুন। এসএইচ/  

খাবার চিবিয়ে না খেলে যে বিপদ হতে পারে

রোজ সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়ায় যত কম্প্রোমাইজ খাওয়ার সঙ্গে। কোনও রকমে নাকেমুখে গুঁজে খাওয়াতেই অভ্যস্থ অধিকাংশই। ট্রেন মিস, অফিসে পৌঁছাতে দেরি হলে বসের বকুনি সবেতেই অজুহাত ‘খেতে গিয়েই দেরি’। অফিস যাত্রীরাই শুধু নয়, স্কুল পড়ুয়ারাও কোনওরকমে চটপট খেয়ে ছুট। এই অভ্যাসে সময় বাঁচলেও শরীরের ক্ষতি হয়। তাড়াতাড়িতে খাবারটা প্রায় না চিবিয়ে গিলে খান অধিকাংশই। ফলে খাবার হজম ঠিক মতো হয় না। বলা ভাল, গিলে খেলে সেই খাবার এমন জটিলরূপে থাকে যে তা শরীর হজম করতে পারে না। সেই খাদ্যকে আবার চিবিয়ে নিলে সেটা থুতুর সঙ্গে মিশে একটা সহজ রূপ ধারণ করে। ফলে শরীর তা স্বচ্ছন্দে হজম করতে পারে। এই হড়বড় করে খাওয়ার দীর্ঘ অভ্যাস থেকে সবচেয়ে চিন্তাজনক যে রোগ শরীরে বাসা বাঁধে তা হল মেটাবলিক সিনড্রম। মেটাবলিক সিনড্রম একটা শারীরিক অবস্থা যার মধ্যে পড়ে- উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এইচডিএল (ভাল কোলেস্টেরল)- এর খামতি। এই সবকিছু মিলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। ২০১৭ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞান সমাবেশে স্পষ্ট জানানো হয় ৫ বছর ধরে একটি গবেষণা এটা প্রমাণ করেছে যে, খাবার যদি না চিবিয়ে তাড়াতাড়ি খাওয়া হয় তাহলে মেটাবলিক সিনড্রোম এবং স্থূলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই মেটাবলিক সিনড্রোমের প্রবণতা যারা তাড়াতাড়ি খায় তাদের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। আর যারা স্বাভাবিকভাবে চিবিয়ে খান, তাদের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, থুতুতে একটি এনজাইম থাকে যাকে বলে সালিভারি অ্যামায়লেস। যেটা খাবারে স্টার্চ এবং মালটোডেক্সট্রিন্স নামক একটি কার্বোহাইড্রেট হজম করতে সাহায্য করে। যদি খাবার এই থুতুর সঙ্গে মেশার সময় না পায় তবে হজমের সমস্যা হবেই। খাবার না চিবিয়ে তাড়াহুড়ো করে খেলে, শরীরে অপ্রয়োজনীয় বায়ু প্রবেশ করে। ফলে গ্যাস-অম্বল-ঠেঁকর ওঠার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পেট ফেঁপে ওঠা ও বুক জ্বালার আর একটা কারণ হল যে, সহজরূপে খাদ্য শরীরে প্রবেশ করার কথা তার বদলে না চিবিয়ে সেটা জটিলরূপে শরীরে প্রবেশ করে তাই। তখন  অন্ত্রে যে হরমোনগুলো আছে সেগুলো ভাগাস স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় যে পেট ভরে গেছে, কিন্তু সেই বার্তা পৌঁছাতে ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। তাড়াতাড়িতে এই বার্তায় মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে না। ফলে অল্প সময়ে অনেকটা খাওয়া হয়ে যায়। এ ছাড়া খাবার শ্বাসনালীতে আটকে হঠাৎ শ্বাসরোধ হয়ে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। তাই যতই তাড়া থাকুন খান ধীরে সুস্থে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন একে//

চট্টগ্রামে কাল থেকে ৩ দিনব্যাপী ডায়াবেটিস মেলা শুরু

‘আর নয় ডায়াবেটিস ভয়, সচেতন হয়ে করবো জয়’। আসুন, ডায়াবেটিস সম্পর্কে সতেন হই, ডায়াবেটিস মুক্ত পরিবার গড়ি’-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী ডায়াবেটিস মেলা। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এই উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী জানান, বিশ্বে ৪০ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আক্রান্ত রোগীর ৬৫ শতাংশই বাস করে শহরে। আর যাদের ওজন বেশী অর্থাৎ স্থুল তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২০ গুন বেড়ে যাবে। যারা ধুমপায়ী তাদেরও ৬০শতাংশ বেড়ে যাবে। এ জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি। ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা  নিয়ে গণ সচেতনতা গড়ে তুলতে মূলত এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কেআই/      

বিএসএমএমইউতে হেপাটোলজি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের উদ্বোধন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং প্রথম বার্ষিক সভা ২০১৯। সকালে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনির্ভাসিটি গ্রান্ট কমিশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, রংপুর বেগমরোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সসেলর অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ শায়লা খাতুন, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ এর প্রো-ভাইস চ্যান্সসেলর (এডমিনিসট্রেশন) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, বিএসএমএমইউ এর প্রো-ভাইস চ্যান্সসেলর (রিসার্চ এন্ড ডেভলোপমেন্ট)অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার, বিএসএমএমইউ এর ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর সভাপতি এবং বিএসএমএমইউ এর লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব স্বপ্নীল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুর রহিম। প্রধান অতিথি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান তার বক্তব্যে বলেন- বাংলাদেশে অ্যালামনাই এসোসিয়েশন আনেক আছে। লিভার বিভাগের এই অ্যালামনাই এসোসিয়েশন যেন শুধু বার্ষিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে আমি অনুরোধ করবো এই এসোসিয়েশনটা যেন সারা বছর জুড়েই ছোট করে হলেও সামাজিক কাজে নিয়োজিত থাকে। তিনি আরও বলেন, একটা সময় ছিল যখন একজন চিকিৎসকের কাছে সব রোগে চিকিৎসা নিতে হত কিন্তু এখন প্রত্যেকটা বিভাগের আলাদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছে। এখন বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা দেশকে নিয়ে গর্ব করতে চাই, দেশের মানুষকে নিয়ে গর্ব করতে চাই। আমি লিভার বিভাগের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সাফল্য কামনা করি। জাতীয় অধ্যাপক ডা. শায়লা খাতুন বক্তব্যে বলেন, আমরা যখন রোগী দেখতাম তখন সব বিষয়ের চিকিৎসা আমাদের একজনকেই দিতে হত কিন্তু বর্তমানে যারা চিকিৎসা দেন তারা প্রত্যেকেই যার যার বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাই আমরা আশাবাদী লিভার বিভাগের অ্যালামনাই এসোসিয়েশন শিক্ষার প্রসার এবং রোগীর বিষয়ে রিসার্চ করবে এবং দিন দিন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বিএসএমএমইউ এর উপার্চায অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, লিভার বিভাগের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের মাধ্যমে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি এবং দেশের মানুষের কল্যানে এই এসোসিয়েশন কাজ করে যাবে। অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার বলেন, লিভার বিভাগের অ্যালামনাই এসোসিয়েশন চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে এবং আরও ভালো নতুন গবেষণা করবে। ডা. রফিকুল আলম বলেন আমি এই এসোসিয়েশনকে সাধুবাদ জানাই এবং এর উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করি। লিভার বিভাগের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব স্বপ্নীল তার বক্তব্যে সব ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের জন্য ছোট্র পরিসরে একটি লাইব্রেরী করা হয়েছে এই লাইব্রেরিতে একটি করে হলেও সকলকে বই দান করার জন্য অনুরোধ করেন এবং কমিটির সব সদস্যদের পরিচিতি তুলে ধরেন। এরপর এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গাম্ভীরা ও বাউল গান পরিবেশন করা হয় । র‌্যাফেল ড্র ও বৈজ্ঞানিক সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এসএইচ/

পেপটিক আলসারের কারণ ও প্রতিকার

পেট খালি থাকলে আমাদের পেটের উপরিভাগে যে ধরনের ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয় তাকে সচরাচর আমরা গ্যাস্ট্রিক পেইন বলে থাকি। গ্যাস্ট্রিক শব্দের প্রকৃত অর্থ পাকস্থলী বা স্টমাক। পেটের উপরি অংশে এ ধরনের ব্যথা অনুভূত হলে, চিকিৎসাগত পরিভাষায় তাকে পেপটিক আলসার বলা হয়। বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা হতে পারে। খাদ্যগুলো পাকস্থলীতে জমা হয়। সেখান থেকে এসিড নিঃসরণ হয়। এই এসিড নিঃসরণ যেন চারদিকে না ছড়িয়ে যায়, তার জন্য কিছু ব্যবস্থা মানুষের শরীরে আছে। সব সময় এটি একটি ভারসাম্যের মধ্যে থাকে। এই ভারসাম্য যদি কোনও কারণে এসিডের দিকে বেশি চলে যায় এবং উপাদানের ক্ষমতা যদি কমে আসে, তাহলে পেপটিক আলসার রোগ হতে পারে। আর আলসার মানে সহজ বাংলায় হলো ঘা। ঘায়ে দীর্ঘ সময় সুরক্ষা ক্ষমতা না থাকলে আলসার হতে থাকবে। সহজ ভাষায় বললে পেপটিক হলো খাদ্যভাণ্ডার পাকস্থলীর ঘা। অনেক কারণে এটি হতে পারে। অনেকে  ভাবে, বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খেলে গ্যাস্ট্রিক হয়। অথবা শুধু ঝাল খেলে হয়। শুধু ঝাল খেলে যে গ্যাস্ট্রিক আলসার হবে- এমন কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু দেখা গেছে, যারা অনেক বেশি টিনজাত খাবার খায় বা খাবার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদার্থ আছে, এর ব্যবহার করলে তার গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার প্রবণতা বেশি। আবার শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেড়ে গেলে গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হ্যালিকোবেকটার পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া আছে। এটি ক্ষুদ্রান্তে থাকে। এসিডের মাত্রা অথবা সুরক্ষার ক্ষমতা বেড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া চলে আসে। তখন এই আলসার অথবা ঘাকে আস্তে আস্তে বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক দিনের গবেষণার পর এটি জানা গেছে। বর্তমানে এই সমস্যা হলে আগের ওষুধের পাশাপাশি আমরা অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহার করে থাকি। তাই সমস্যার শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, ভালো থাকুন। লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

স্মরণশক্তি লোপ পেলে কী করবেন?

আপনি যদি প্রায়ই জিনিসপত্র কোথায় রেখেছেন তা মনে করতে না পারেন বা যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ কথা সময় মতো মনে করতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার স্মরণ শক্তি লোপ পাচ্ছে। এই স্মরণ শক্তি লোপ পাওয়া ধীরে ধীরে অসুস্থতায় পরিণত হতে পারে। নিজের স্মরণশক্তি দৃঢ় করে তোলার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন বা সংসারের কাজ করুন। গবেষণা করে দেখা গেছে, বার্ধক্যের ফলে যাদের মধ্যে আলজাইমারের লক্ষণ দেখা যায়, তারা যদি নিয়মিত ব্যায়াম করে বা প্রতিদিন সংসারের কাজ করে, তাহলে তাদের স্মৃতি শক্তি ফিরে আসতে পারে। গবেষণা থেকে জানা গেছে যে শরীর ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো এবং সস্তা উপায় হল নিয়মিত ব্যায়াম করা। আমেরিকার রশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এরোন এস বুচম্যান বলেছেন, যারা এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিল, গড়ে দুই বছর বাদেই তারা মারা যায়। আমরা তাদের শারীরিক গতিবিধির পরীক্ষা করে দেখেছিলাম। মৃত্যুর পর তারা নিজেদের শরীর দান করার জন্য তাদের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে, তাদের জীবনশৈলী সক্রিয় হওয়ার জন্য তাদের মস্তিষ্কের ওপরে তা রক্ষাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছিল। গবেষকদের মতে মস্তিষ্কে যখন আলজাইমারের লক্ষণ দেখা যায়, তখন শরীর সক্রিয় রাখতে পারলে আমাদের স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। সূত্র: এনডিটিভি একে//

নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হলে কী করবেন?

নাক থেকে আচমকা ব্লিডিং? ভয় পাবেন না। রক্তক্ষরণ বন্ধের উপায় আছে। আসলে শীতকালে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ অনেকের কাছেই পরিচিত, আতঙ্কেরও। কিন্তু এমনটা হওয়ার পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণ কী? চিকিৎসকরা বলছেন, নিশ্বাস ফুসফুসে যাওয়ার আগে নাককে আর্দ্র করে দেয়। তাই আবহাওয়া খুব ঠাণ্ডা ও শুষ্ক হলে শ্বাসও শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় নাকের ভিতরের আর্দ্রতা কমে যায়। তখন নাকের ভিতরের অংশ শুকিয়ে যায়। এর ফলে নাকের অস্বস্তি বাড়ে। চুলকানি হয়। এই সময় আঙুল দিয়ে নাকের ভিতর খোঁচাখুঁচি করলে শুষ্ক ত্বক সহজেই ফেটে যায় এবং সেখানকার রক্তবাহ থেকে রক্তপাত হয়। এই পরিস্থিতিতে কোন কোন বিষয় বিপদজনক, তাও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা- ১. ব্লাড প্রেশার বাড়লে বিপদ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। তাই যখনই এমন হবে, আগে প্রেশার চেক করে নিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনা মাঝে মাঝে হতে পারে। তাতে প্রথমেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কিছু নেই। দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ব্লাড প্রেশার কমানোর ওষুধ খান। কিছু হাই ডোজের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ সেবনের জন্যও এমন হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। যে কোনও ওষুধের সাইড এফেক্ট জেনে খাওয়া উচিত। তক্ষুনি কী করবেন? যে কোনও কারণেই নাক দিয়ে রক্ত পড়ুক না কেন, প্রথমেই দু’আঙুল দিয়ে দুই নাসারন্ধ্র চেপে ধরুন। তারপর ওই অবস্থায় মাথা হেলিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো পজিশন করে বসে থাকুন। এতে রক্তপাত বন্ধ হয়। দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে। ২.পলিপ বা টিউমার থাকলে চিন্তা আচমকা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হলে চিন্তা হওয়া এমনি স্বাভাবিক। কিন্তু শুষ্কতা, হাই প্রেশারের কারণে হলেও চিন্তার কিছু নেই। নাকে কোনও খাবারের গুঁড়ো, বীজ, মরা পোকামাকড় আটকে গেলে অনেক সময় তার উপরে আপনা থেকেই টিস্যু তৈরি হয়ে যায়। পাতলা চামড়ার প্রলেপ পড়ে। এমন কোনও ফরেন বডির কারণে তৈরি হওয়া টিস্যু যেহেতু স্বাভাবিক নয়, তাই মাঝে মাঝে এগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু নাকে কোনও পলিপ থাকলে সামান্য আঘাতে প্রায়ই রক্তক্ষরণ হতে পারে। পলিপ বা টিউমারের মতো নাকে কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে অবশ্যই তা থেকে বিপদ হতে পারে। এমন হলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। পরামর্শমতো বায়োপসি করিয়ে দেখে নেওয়া উচিত অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অংশ ক্যানসারযুক্ত কি না। ভুল ধারণা অনেকের ধারণা, শরীর ভিতরে গরম হয়ে গেলে তার লক্ষণ নাক দিয়ে রক্ত পড়া। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। নাক দিয়ে রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে অনেকে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করেন। শীতেও গরম পানি ব্যবহার করেন না। এদের এই ধারণারও চিকিৎসাশাস্ত্রে কোনও ভিত্তি নেই। প্রতিরোধের উপায় ১.নাক শুষ্ক হওয়ার কারণে রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে বা রক্তপাত এড়াতে বিশেষ ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা যায়। এই স্প্রে নাকের ভিতরে করে দিলে নাক আর্দ্র হয়ে যায়। ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা স্প্রে ব্যবহার করাই উচিত। ২.নাক দিয়ে ব্লিডিং শুরু হয়ে যাওয়ার পর নাক চেপে ধরেও যদি না কমে তখন আর এক রকমের স্প্রে পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করলে তৎক্ষণাৎ রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। এটিও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে কিনে রাখা উচিত। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন একে//

সর্দি-কাশি সারাতে বাড়িতেই বানান কফ সিরাপ

আবহাওয়ার বদলে লেগেই রয়েছে হাঁচি-সর্দি-কাশির মতো সমস্যা৷ আবার সঙ্গে রয়েছে গলা ধরে যাওয়ার উৎপাত৷ এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে নিশ্চয়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছেন চিকিৎসকের কাছে৷ সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, কফ সিরাপ৷ এত কাণ্ড করেও ফলাফল শূন্য৷ সর্দি-কাশি-হাঁচির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনই না৷ পরিবর্তে চিন্তা বাড়াচ্ছে রোগ, তাই তো? ওষুধ খেয়ে সর্দি-কাশি সারছে না মানে বড় কোনও রোগের ইঙ্গিত নয় তো? এই প্রশ্নও নিশ্চয়ই এতদিনে আপনার ভাবনা বাড়াতে শুরু করেছে? চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধে রোগ সারছে না তো কী হয়েছে? এত চিন্তা করার কিছুই নেই৷ জানেন কি ঘরোয়া কফ সিরাপেও সারতে পারে মৌসুমি নানা রোগ৷ আপনার বাড়িতে থাকা খুব পরিচিত উপকরণের সাহায্যেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করা সম্ভব এই কফ সিরাপ৷ জেনে নিন পদ্ধতি৷ আপনার রান্নাঘরে থাকা সামান্য কিছু উপকরণেই আপনি খুব কম সময়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন কফ সিরাপ৷ মধু এবং আদা মৌসুম পরিবর্তনের যে কোনও রোগকে দূরে রাখার জন্য অত্যন্ত উপকারী৷ তাই কফ সিরাপ তৈরির জন্য নিন মধু ও আদা৷ এক কাপ পানিও নিতে হবে আপনাকে৷ এছাড়াও সঙ্গে লাগবে লেবুর রস৷ গোলমরিচও আমাদের শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে৷ তাই এই কফ সিরাপে দিতে হবে সামান্য পরিমাণ গোলমরিচ৷ এছাড়াও ১ চামচ ভিনিগার দিতে হবে ওই কফ সিরাপে৷ এ তো নয় গেল উপকরণের কথা৷ এবার জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন কফ সিরাপ৷ একটি পাত্রে এক কাপ পানি ঢেলে দিন৷ এবার গ্যাস জ্বেলে ওই পাত্রটি বসান৷ পানির মধ্যে একে একে লেবুর রস, মধু, আদা কুচি, গোলমরিচ, ভিনিগার দিয়ে দিন৷ পুরোপুরি ফুটে যাওয়ার পর নামিয়ে ফেলুন৷ ঠাণ্ডা হয়ে গেলে মিশ্রণটি একটি কাচের গ্লাসে ছেঁকে নিন৷ গোলমরিচ যে কোনও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে৷ মধু সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে৷ তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ওই কফ সিরাপ পান করলে দেখবেন কাশি আপনার কাছ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য৷ সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন একে//

গাজরের পুষ্টিগুণ

শীতের সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় গাজর। এটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও সুস্বাদু। গাজর তার নিজ গুনেই গুনান্বিত। শীতের সময় প্রচুর পরিমান গাজর পাওয়া যায় বলে দামটাও তুলনামূলক একটু কম থাকে। এজন্যই এ মৌসুমে সবার উচিত প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় একটি করে গাজর রাখা। গাজরের রয়েছে নানা গুণ।গাজর খেলে কি কি উপকার পাওয়া যাবে এটি জেনে নিন। ১.গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং রাত কানা রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। ২.ত্বক সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছু ব্যবহার করি কিন্তু প্রতিদিন যদি একটি করে গাজর খাই তবে গাজরের মাধ্যমে পাওয়া এন্টি অক্সিডেন্ট ত্বককে সুন্দর টানটান ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। ৩.গাজরে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড যা হৃৎপিন্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে সেই সাথে হৃৎপিন্ডের বিভিন্ন। সমস্যা দুর করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ৪.প্রতিদিন গাজর খেলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় কারণ এতে রয়েছে ফ্যালক্যারিনল ও ফ্যালক্যারিনডায়ল নামক রাসায়নিক পদার্থ যা অ্যান্টিক্যান্সার উপাদান গুলোকে শক্তিশালী করে তোলে। ৫.গাজরে রয়েছে কিছু পরিমান আয়রন ও ক্যালসিয়াম নামক মিনারেলস যা দাঁত কে মজবুত রাখে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও লাইকোপেন যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং আজ থেকেই আপনার খাদ্য তালিকায় সালাদ হিসেবে যোগ করে নিন গাজর। পুষ্টিবিদ, তাসনিম আশিকনর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতাল।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি