ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৭:৫৪

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যুক্ত খাবার কেন খাবেন

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যুক্ত খাবার কেন খাবেন

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট আমাদের দেহের জন্য খুব কম পরিমানে দরকার হলেও এগুলো শরীরের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এবং এসব নিউট্রিয়েন্ট শরীরের জন্য অত্যাবশকীয়। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট গুলো হলো ভিটামিন এবং মিনারেলস অর্থাৎ খনিজ উপাদান। বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এর কাজের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। খাদ্যের মাধ্যমে এসব ভিটামিন এবং মিনারেলস গুলো গ্রহণ করতে হবে। কেন ভিটামিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত? *চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং দেহের কোষ ভালো রাখার জন্য ভিটামিন এ যুক্ত খাদ্য গ্রহন করা জরুরী। *দেহে যে ফ্রী রেডিকেল তৈরি হয় ফলে ত্বকের ক্ষতি হয় তা দূর করতে ভিটামিন ই সাহায্য করে। *ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং দেহের অস্হি গঠনে সহায়তা করে। *ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে এবং স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।এবং এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।* শরীরের এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে ভিটামিন বি১ যুক্ত খাবার সাহায্য করে।*রক্তের লোহিত কনিকা তৈরি করতে সহায়তা করে ভিটামিন বি৬। *নার্ভ সিস্টেম ঠিক রাখতে এবং ব্রেইন কে সচল রাখতে ভিটামিন বি১২ যুক্ত খাবার সাহায্য করে। ভিটামিনের পাশাপাশি দেহের জন্য খনিজ উপাদান গ্রহন করাটা খুব জরুরী। খনিজ উপাদান যুক্ত খাবারের গুনাগুন অনেক ।যেমন:*দেহের পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে খনিজ উপাদান ভূমিকা পালন করে। *ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা দাঁত ও হার মজবুত করতে খুব জরুরী। *রক্তসল্পতা বা এনিমিয়া রোগ দূর করতে আয়রন সহায়তা করে।*দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এবং ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরিতে জিংক প্রয়োজন। *এছারাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে,হরমোন ব্যালান্স সচল রাখতে , রক্তে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এবং দেহের বিপাকিয় ক্রিয়া সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য খনিজ উপাদান এবং ভিটামিন যুক্ত খাবার ভূমিকা পালন করে থাকে। যেসব খাদ্য থেকে ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যাবে যেমন: বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফল, সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি,মুরগীর মাংস,ছোট মাছ,সামুদ্রিক মাছ,ডিম ,দুধ, বিভিন্ন ধরনের বাদাম,বীজ জাতীয় উপাদান ,ডাবের পানি ইত্যাদি । সুতরাং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্য উপাদানের পাশাপাশি ভিটামিন ও মিনারেলস যুক্ত খাদ্য উপাদানকেও সঙ্গি বানিয়ে নিন। সেই সাথে সুস্থ ও সুন্দর থাকুন। লেখক: পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক
গর্ভবতী নারীর প্রসব তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করবেন 

গর্ভবতী নারীর জন্য প্রসব তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই তারিখের উপর প্রসূতি ও পরিবারের যেমন অনেক প্রস্তুতি নির্ভর করে তেমনি একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ শিশুর আগমনও নির্ভর করে। তাই সকল গর্ভবতী নারী আমাদের (ডাক্তার) কাছে জানতে চান, ‘আমার প্রসব তারিখ কবে?’          সকল গর্ভবতী নারীদের প্রসব তারিখ নিয়ে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। মাসিক অনুযায়ী একটা তারিখ পড়ে। প্রথম আলট্রাসনোগ্রামে একটা তারিখ আসে। এরপর যতোবার আলট্রাসনোগ্রাম করে ততোবারই নতুন করে একটা তারিখ আসে। তখন মাকে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয় যে, আসলেই প্রসব তারিখ কোনটা? এক্ষেত্রে আমরা যেটা বলি, যদি তার শেষ পিরিয়ডের তারিখ ঠিক থাকে অর্থাৎ মা যদি সঠিক ভাবে বলতে পারেন, আমার অমুক মাসের অমুক তারিখে শেষ পিরিয়ড হয়েছিল এবং তার আগে নিয়মিত পিরিয়ড ছিল। পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল না। এমনক্ষেত্রে আমরা মাসিকের তারিখটাকে ধরি। এই তারিখের সঙ্গে নয়মাস সাতদিন যোগ করে যে তারিখটা পাই, সেই তারিখটাকে তার প্রসব তারিখ হিসেবে ঠিক করি। যদি এমন হয় কোন মায়ের পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল, দেড়- দু`মাস পরপর পিরিয়ড হতো, কিংবা পিরিয়ড বন্ধ থাকতো, সেক্ষেত্রে সে তার শেষ পিরিয়ডের তারিখটা ভুলে গেছে বা বলতে পারছে না-এমন ক্ষেত্রে আমরা প্রসব তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করব? এক্ষেত্রে প্রসব তারিখ নির্ধারণের সহজ উপায় হচ্ছে প্রথম তিনমাসের মধ্যে একটা আলট্রাসনোগ্রাম করা। এই আলট্রাসনোগ্রামে যে তারিখটা আসে সেই তারিখটাকে আমরা তখন ঠিক ধরি। পরবর্তীতে গর্ভকালীন সময়ের পাঁচ বা ছ`মাসের সময় আলট্রাসনোগ্রাম করলে বা আট মাসের সময় আলট্রাসনোগ্রাম করে তখন আগের তারিখের সঙ্গে এক বা দু`সপ্তাহ এদিক সেদিক হয়। যদি দেখি প্রথম আলট্রাসনোগ্রামের তারিখের সাথে দ্বিতীয় বা তৃতীয় আলট্রাসনোগ্রামের তারিখের এক থেকে দু`সপ্তাহ এদিক সেদিক সেক্ষেত্রে আমরা প্রথম আলট্রাসনোগ্রামের তারিখটাকে সঠিক ধরে থাকি। একজন গর্ভবতী মা প্রথম যে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিবেন তিনি প্রথম থেকেই একটা প্রসব তারিখ নির্ধারণ করে রাখবেন। ডেলিভারীর কাছাকাছি এসে কবে ডেলিভারী হবে তা নিয়ে মাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ার মতো অবস্থা সাধারণত কখনো হয়না। এজন্য সবসময় বলি গর্ভধারন করার প্রথম তিনমাসের মধ্যে অন্তত একটা আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য। এই আলট্রাসনোগ্রামটা প্রসব তারিখ নির্ধারণে সাহায্য করে। কিন্তু যদি মাসিকের তারিখ ঠিক থাকে, নিয়মিত মাসিক হয়ে থাকে তাহলে শেষ মাসিকের তারিখ অনুযায়ী যে তারিখটা নির্ধারণ হবে সেটাই শতভাগ চূড়ান্ত।   লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস)। প্রসূতি ও নারীরোগ বিশেষজ্ঞ। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল।   আআ/এসি    

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আপনার কি মুখে দুর্গন্ধ হয়? বিষয়টিকে শিকড় থেকে খোঁজাই ভাল। আর তাতেই দ্রুত সমস্যা মেটানো সম্ভব। মুখের এই দুর্গন্ধ কেন হয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বহু গবেষণা চলছে। সে সব গবেষণা থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। সেগুলো হল- প্রতিবার খাবার গ্রহণে মুখের ভিতরে খাদ্য আবরণ দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির ভিতর জমে থেকে ডেন্টাল প্লাক সৃষ্টি এবং তা থেকে মাড়ির প্রদাহ (পেরিওডেন্টাল ডিজিজ)। এছাড়াও আরও কারণ রয়েছে। সেগুরো হল- দাঁতের ফাঁকে মুখের ভিতরে খাদ্যকণা ও জীবাণুর অবস্থান, মুখের ভিতরে ছত্রাক ও ফাঙ্গাসের কারণে ঘা (ক্যানডিজিস), মুখের যে কোনও ধরনের ঘা বা ক্ষত, ডেন্টাল সিস্ট বা টিউমার, মুখের ক্যানসার, দুর্ঘটনার কারণে কোনও ফ্র্যাকচার ও ক্ষত। তাছাড়া দেহের অন্যান্য রোগের কারণেও মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমন- পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ, কিডনি রোগ, লিভারের রোগ, গলা বা পাকস্থলীর ক্যান্সার, হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ, এইডস, নাক, কান, গলার রোগ। এমন পরিস্থিতিতে মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য কয়েকটি ঘরোয়া উপায় কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। ১) দিনে অন্তত ২ বার দাঁত মাজা দরকার। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী, ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু মুখে বাসা বাঁধতে পারে না। ২) বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য গ্রীন টি বা যে কোনও কালো চা (ব্ল্যাক টি) খুবই উপকারী। চা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুগুলোকে জন্মাতেই দেয় না। ৩) মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের দুর্গন্ধ কমে যায়। এসেন্সিয়াল অয়েল যুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহারে মুখের দুর্গন্ধ কমে যায়। মাউথ ওয়াশে টি ট্রি অয়েল, পিপারমেন্ট অয়েল এবং লেমন অয়েল থাকলে তা খুবই উপকার দেয় মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে। ৪) পার্সলে, রোজমেরি জাতীয় হার্বস ভেষজ উপাদান চিবালেও মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা কমে যায়। ৫) গাজর, আপেল জাতীয় ফল নিয়মিত খেলেও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু মুখে বাসা বাঁধতে পারে না। ৬) জিভ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনও কিছুতেই যদি কোনও কাজ না হয় তাহলে অবশ্যই চিকিত্‍সকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।   সূত্র: জিনিউজ একে//

মরণব্যাধি কোলন ক্যানসারের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

যখন বৃহদান্ত্রের কোষগুলো অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে কোলন ক্যানসার বলে। নারী ও পুরুষ, উভয়ের মধ্যেই দেখা যায় কোলন ক্যানসার। অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী পলিপ, দীর্ঘস্থায়ী আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগ, ডায়বেটিস, অনিয়ন্ত্রিত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপানের অভ্যাসের ফলে কোলন ক্যানসার হতে পারে। পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের কোলন ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এবার চিনে নিন কোলন ক্যানসারের লক্ষণগুলো- ১) পায়খানার সঙ্গে রক্তক্ষরণ, ২) হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা, ৪) তীব্র পেটব্যথা, ৫) রক্তশূন্যতা, ৬) সব সময় বমি বমি ভাব। তবে খাবার এবং কিছু নিয়মের মাধ্যমে মারাত্মক এই ব্যাধিটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। গবেষকরা বলেন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে কোলন ক্যানসারের শতকরা ৪৫ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে ঠিক কী কী করণীয়। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন আপনি যদি কোলন ক্যানসার হওয়া থেকে নিজের শরীরকে রক্ষা করতে চান তাহলে অবশ্যই আজ থেকে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন ৩০ মিনিটের ব্যায়াম আপনাকে বাঁচাতে পারে এই ভয়াল রোগ থেকে। ধূমপান ত্যাগ করুন ৪০ বছর বয়স পেরনোর পর প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ এই কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন ধূমপানের খারাপ অভ্যাসের কারণে। আপনি যদি একজন ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে শরীরের সুস্থতার জন্য আজ থেকেই এই ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করার চেষ্টা শুরু করুন। লাল মাংস খাবেন না বেশি পরিমাণে লাল মাংস (রেড মিট) খেলে পেটের সমস্যা হয়, বৃহদান্ত্রের চর্বি বৃদ্ধি পায়। যা থেকে হতে পারে কোলন ক্যানসার। তাই কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে এই লাল মাংস (রেড মিট) খাওয়া কমিয়ে দিন। প্রয়োজনে রেড মিটের পরিবর্তে অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। পেটের মেদ কমিয়ে আনুন পেটের অতিরিক্ত মেদ হওয়া কোলন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাই যতটা সম্ভব ডায়েট এবং শরীরচর্চার অভ্যাস করে এই পেটের মেদ ঝরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। বেশি করে শাকসবজি আর ফলমূল খান আপনার শরীরের হজমকে সঠিক মাত্রায় পরিচালিত করতে সবুজ শাক-সবজি আর ফলমূল খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই যতটা সম্ভব সবুজ শাক-সবজি আর ফলমূল খান এবং শরীরকে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের উপযুক্ত করে তুলুন। গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন গ্রিন টিতে অনেক ধরনের উপকারী উপাদান রয়েছে, যা কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। তাই কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং নিজেকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখুন। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। তাই নিয়ম করে এই কালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খান এবং শরীরকে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের উপযুক্ত করে তুলুন। সূত্র: জিনিউজ একে//

অ্যালার্জির সমস্যা থেকে বাঁচতে এড়িয়ে চলুন ৫ বিষয়

অ্যালার্জির সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। অ্যালার্জির সমস্যার কারণে অনেকেরই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়। যাদের এই সমস্যা নেই, তাদের কাছে অ্যালার্জি তেমন একটা গুরুতর ব্যাপার মনে না হলেও, যারা ভুক্তভুগী তারা জানেন, শরীর আর মন দুটিই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অ্যালার্জির জ্বালায়। আবার অ্যালার্জির সমস্যা এড়াতে গিয়েই বেশিরভাগ মানুষই মারাত্মক কিছু ভুল করে ফেলেন, যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিপদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কী সে সব ভুল, আসুন জেনে নেওয়া যাক। ১) ঘরে যথেষ্ট আলো-বাতাস ঢুকলে ঘর থাকবে জীবাণুমুক্ত। এমন ধারণার বসবর্তি হয়ে অ্যালার্জির রোগীরাও জানালা হাট করে খুলে দেন। কিন্তু এর ফলে বিভিন্ন ফুলের পরাগরেণু বা ধুলাবালি ঢুকে পড়ে অ্যালার্জির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ২) অ্যালার্জির জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই ফার্মেসিতে গিয়ে নানা রকম ওষুধ কিনে খান। কিন্তু ঠিক কি কারণে আপনার অ্যালার্জি হচ্ছে তা না জেনেই যদি ওষুধ খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে উল্টো ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। শুরুতেই চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। পরীক্ষা করিয়ে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার অ্যালার্জি ঠিক কি ধরণের। এর পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩) আপনার জুতা, কাপড়, চুলে লেগে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী ধুলাবালি প্রতিনিয়তই ঘরে ঢুকে যায়। আপনার ঘরের পোষ্যটির মাধ্যমেও দিনের মধ্যে একশ বার একই ঘটনা ঘটে। এ সব কারণে যতটা সম্ভব পরিষ্কার থাকতে উপযুক্ত সতর্কতা নেওয়া উচিত্। শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে এসে মাথার চুল ধুয়ে ফেলাটাও অনেক জরুরি। নয়তো চুলে লেগে থাকা ধুলাবালি বালিশেও লেগে যাবে এবং রাতভর সেই ধুলা লাগা বালিশে ঘুমালে অ্যালার্জির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। 8) অ্যালার্জির সমস্যা যাদের আছে বিশেষ কিছু ফল বা সবজি খেলে তাদের অ্যালার্জির সমস্যা অনেক বেড়ে যায়। মুখে এবং গলায় চুলকানি, অস্বস্তি দেখা দেয়। কখনও এই সব খাবার কাটাকাটি করলে, ধুতে গেলে বা রান্না করতে গেলেও অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে। আপনার যদি জানা থাকে যে, কোন কোন খাবারে আপনার অ্যালার্জি বেড়ে যায়, তাহলে সেই সব খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। ৫) অনেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় চিকিত্সকের দেওয়া নাজাল স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই নাজাল স্প্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেই নিয়ম মেনে চলেন না। নাজাল স্প্রের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে নাকের ভেতরের অংশে এবং সাইনাসে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সূত্র: জিনিউজ একে//

‘মৃত্যুর আগে কিডনি দিন, অন্যের জীবন বাঁচান’ (ভিডিও)

কিডনির কাজ হলো শরীরে প্রসাব তৈরি করা। প্রসাব তৈরির মাধ্যমে কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বাইরে বের করে দেয়। আর যেগুলো শরীরের কাজে লাগে সেগুলো শরীরের কাজে সংরক্ষিত করে রাখে। কিন্তু যখন দুটো কিডনি ফেইলিউর হয়ে যায় তখন তারা শরীরের বর্জ্য বাইরে বের করতে পারেনা। এগুলোকে বের করার জন্য দরকার রিপ্লেসমেন্ট থেরাপী। রিপ্লেসমোন্ট থেরাপী দু`ভাবে হতে পারে। একটা হচ্ছে ডায়ালাইসিস। অন্যটি হলো কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান। আমরা এখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান নিয়ে আলাপ করব। মূলত কিডনি সংযোজন বা প্রতিস্থাপন ট্রানাসপ্লান্টেশান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। আমাদের দেশে ১৯৮২ সালে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান চালু হয় তৎকালীন পিজি হসপিটালে যা এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা অত্যান্ত সফলতার সাথে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান করে যাচ্ছি। রোগী যখন প্রাথমিক ভাবে বুঝতে পারে তার প্রসাবের পরিমাণ কম হচ্ছে বা শরীর ফুলে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগছে অথবা তার রক্তশূণ্যতা দেখা দিচ্ছে এরকম পর্যায়ে সে কিডনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। তখন আমরা তাকে পরামর্শ দিই যে, আপনার কিডনি রিপ্লোসমেন্ট থেরাপী লাগবে। ট্রান্সপ্লান্টেশানের অনেকগুলো ধাপ বা প্রক্রিয়া আছে। আমাদের দেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশান নিয়ে  আইন  আছে। যেটা প্রথম ১৯৯৯- এ পাস হয়। সেটাকে রিভিউ করে ২০১১ সালে অনেককে এটার সাথে এড করা হয়। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন আমাদের দেশে এখন এমন এক পর্যায়ে এসেছে, অর্থাৎ আমরা লিভিং রিলেটেড ট্রান্সপ্লান্টেশন করে থাকি। অর্থাৎ  আপনি যদি  আপনার ভাইকে কিডনি দিতে চান সেটা হবে লিভিং রিলেটেড ট্রান্সপ্লান্টেশন। একইভাবে স্বামী স্ত্রী, বাবা মা, ভাই বোন, চাচা, মামা, ফুপু, সকল ধরনের কাজিন, এগুলো সব লিভিং রিলেটেড ট্রান্সপ্লান্টেশন। এ  আইনের মধ্য থেকে অনেকে চাইলে কিডনি ডোনেট করে  আত্মীয় স্বজনকে বাঁচাতে পারেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশানের  আরেকটা পদ্ধতি  আছে। সেটাকে বলা হয় braindeath কিডনি ডোনার। এটা আমাদের দেশে এখনো চালু করতে পারিনি। কিন্তু  আমরা চেষ্টায়  আছি। কেউ যদি মরনোত্তর বা braindeath কিডনি ডোনেট করতে না চায়  আমরা তো জোর করে কিডনি নিতে পারি না। এজন্য  আমাদের জনসচেতনতা দরকার। গণমাধ্যমকর্মীরা এই জনসচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারেন।  আমাদের দেশে এখন প্রচুর রোড এক্সিডেন্ট হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। braindeath মানেই কিন্তু একজন রোগী মারা যাওয়া। সেই রোগীকে ventilation- এর মাধ্যমে  আইসিইউতে রাখা হয়। কিন্তু ventilation খুলে ফেললে সেই রোগীর  আর জ্ঞান থাকে না। দেশের জনগণকে যদি এই জিনিশটা বুঝানো যায়, যে  আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু  আমার কিডনি দিয়ে  আরেকজন মানুষ বাঁচুক- তাহলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ডিভিশন, বিএসএমএমইউ। ভিডিও দেখুন:  

বর্তমানে অতিমাত্রায় অ্যালর্জিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণ কি?

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্বের শিশুদের মধ্যে খাবারের মাধ্যমে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার হার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। গত আগস্টে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ছয় বছরের এক মেয়ে দুগ্ধজাত খাবারের অ্যালার্জিতে মারা যায়। এছাড়া সম্প্রতি তিল এবং চিনাবাদাম খাওয়ার কারণে দুই ব্রিটিশ শিশুর মৃত্যুর খবর বিষয়টিকে নতুন করে সামনে আনে। গত কয়েক দশকে পশ্চিমা দেশগুলোতে এই অ্যালার্জি প্রবণতা বেড়ে যাওয়া চোখে পড়ার মতো। উন্নয়নশীল দেশে এই অ্যালার্জির হার কম হলেও একেবারে যে নেই তা বলা যাবেনা। জরিপে দেখা গেছে গ্রামের চাইতে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যেই এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আর ব্যস্ত নগরে কারো খাবার নিয়ে এ ধরণের বাধা নিষেধ সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বোঝা হতে পারে। অ্যালার্জির হার কেন বাড়ছে এবং একে মোকাবেলা করার উপায় খুঁজতে তা নিশ্চিত করতে গবেষকরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অ্যালার্জি হওয়া না হওয়া সাধারণত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। শরীরের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত পরিবেশের নানা উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। যেটা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। শরীরের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বলা হয় অ্যালার্জেন। এই অ্যালার্জেন যদি কখনও সংক্রমিত হয় তাহলে নানা ধরণের অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন: ত্বকের লাল রঙ ধারণ, চামড়ায় লাল চাকা চাকা হয়ে যাওয়া, বা শরীরের কোন অঙ্গ ফুলে ওঠা। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে - বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা অ্যানফিল্যাকটিক শক দেখা দিতে পারে। শিশুরা কয়েক ধরণের খাবারে অ্যালার্জিক হয়ে থাকে সেগুলো হল-দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট, পাইন বাদাম, ব্রাজিল নাটস, পিক্যান্স, তিল, চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক ইত্যাদি। অ্যালার্জি কেন এতোটা বেড়ে গেছে? বিশ্ব দিনে দিনে কেন খাদ্য অ্যালার্জিক হয়ে উঠছে তার কোন একক ব্যাখ্যা নেই। তবে এ নিয়ে বিজ্ঞানের কিছু তত্ত্ব রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল, বর্তমানের উন্নত স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান। এখনকার শিশুরা আগের মতো সংক্রমণ রোগের শিকার হয় না বললেই চলে। রোগজীবাণুর সংস্পর্শে আসার বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কীভাবে কাজ করবে এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। খাবারের প্রতি মানুষের ক্রমেই এতোটা সংবেদনশীল বা অ্যালার্জিক হয়ে ওঠার পেছনে আগে পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয়কে মূল কারণ বলে ভাবা হতো। এর সঙ্গে পশ্চিমা জীবনযাত্রার সংশ্লিষ্টতাও খোঁজেন অনেকে। জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসীদের নিজ দেশের তুলনায় গৃহীত দেশে হাঁপানি ও খাদ্য অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিবেশগত পার্থক্যের কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। এছাড়া দূষণ, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং রোগজীবাণুর সংস্পর্শে কম আসাকেও অ্যালার্জির হার বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ বলে ধরা হয়। করণীয় কি? আমাদের শরীর ঠিক যে প্রক্রিয়ায় অ্যালার্জির সঙ্গে মোকাবিলা করে ঠিক একইভাবে এটি পরজীবী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানোর প্রতি নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভিটামিন ডি আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যার কারণে শরীরের অ্যালার্জি প্রতিরোধের ক্ষমতা বেড়ে যায়। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ডি পায় না। এর প্রধান কারণ হল তারা সূর্যের তাপে কম সময় ব্যয় করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ভিটামিন ডি অভাবের হার গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। একটি নতুন, "ডুয়েল অ্যালার্জেন এক্সপোজার" তত্ত্ব দিয়েও অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়। এই তত্ত্ব বলছে যে খাদ্য অ্যালার্জিতে শিকার হওয়া না হওয়া নির্ভর করে ওই খাবার গ্রহণের সময়, পরিমাণ এবং ফর্ম অফ এক্সপোজার বা কিভাবে অ্যালার্জিক আক্রমণ হয় তার ওপর। শিশুকে দুধ পান করানোর সময় মা যদি নিজে সব ধরণের খাবার খেয়ে থাকেন তাহলে এর ফলাফল বেশ ভাল হয়। এতে মা ও শিশুর অ্যালার্জি সংক্রমণের হার কমে যায়। কেননা এ সময় অন্ত্রের ইমিউন সিস্টেম যে কোন ধরণের ব্যাকটেরিয়া বা নতুন খাবারের নানা অপরিচিত উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত থাকে। এছাড়া শিশুদের একদম অল্প বয়স থেকেই অ্যালার্জি সংবেদনশীল খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করলে তাদের এই সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা থাকেনা। লন্ডন কিংস কলেজের গবেষকরা এ নিয়ে পাঁচ বছরের শিশুদের ওপর জরিপ চালায়। সেখানে দেখা গেছে যে, যারা ছোট থেকেই নিয়মিত চিনাবাদাম খায় তাদের এই বাদামে অ্যালার্জির হার ৮০ শতাংশ কমে যায়। সচেতনতা ও চিকিৎসা: বর্তমান বিশ্বে খাদ্য অ্যালার্জির কোন প্রতিকার নেই। এটি পুরোপুরি নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের নিয়ন্ত্রণের ওপরে। যার অন্যতম শর্ত হল সংবেদনশীল খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিটি খাবারের সঠিক লেবেলিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গবেষকরা। যদি আক্রান্ত হয়েই যান তাহলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়াকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে অ্যালার্জি সংক্রমণ নির্ণয় করা একটি চ্যালেঞ্জ। কেউ কোন বিশেষ ধরণের খাদ্যে অ্যালার্জিক কিনা এটা বুঝতে হলে তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেই খাবারটি ধীরে ধীরে বেশি পরিমাণে খেয়ে পরীক্ষা করতে হবে। তবে, এই পদ্ধতি শিশুদের জন্য বিরক্তিকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রচলিত মেডিকেল পরীক্ষা মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাচাই করা যায় ঠিকই এতে অনেক সময় ভুল তথ্য পাওয়া। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, পরীক্ষায় একটি খাবারে শিশুর অ্যালার্জি সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ওই শিশুর হয়তো এমন কোন সমস্যাই নেই। তাই অ্যালার্জি সংক্রমণ আছে কিনা তা বুঝতে কিংস কলেজের গবেষকরা বিকল্প হিসেবে রক্ত পরীক্ষার কথা বলেছেন। তাদের উদ্ভাবিত এই পন্থায় নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। তবে পরীক্ষায় যদি সঠিক ফলাফলও পাওয়ায় তাও ট্রিগার ফুড বা বিভিন্ন সংমিশ্রিত খাবার চাইলেও সবসময় এড়িয়ে চলাটা কঠিন। আর এসব খাবার খেলে যেকোনো সময় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। অ্যালার্জি ইমিউনোথেরাপি -এই পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জিক পদার্থের অল্প পরিমাণে সরবরাহ করা হয় - যা রোগীদের সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি অকস্মাৎ আক্রান্ত হওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়।  তথ্যসূত্র: বিবিসি  এমএইচ/

দাঁতের ক্ষয় রোধে করণীয় : ডা. হুমায়ুন কবীর বুলবুল

আমরা যদি দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করি তাহলে দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্ত আমরা অনেকেই সঠিক নিয়য়ে পরিচর্যা না করার কারণে আমাদের মূল্যবান দাঁতগুলো অকালে হারিয়ে ফেলছি। আমরা যদি দিনে দুই বার ব্রাশ করে তাহলে দাঁতে সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় রোগ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন কারণে দাঁত ক্ষয় হয়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়িয়ে দাঁতকে ভালো রাখা যায়। দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর বুলবুল। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: সাধারণত কী কী কারণে দাঁতের ক্ষয়রোগ হতে পারে ? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: সাধারণত দাঁত পরিচর্যা সঠিক ভাবে না করলে দাঁতে বিভিন্ন ক্ষয় রোগ দেখা দিতে পারে। মজার বিষয় হলো এসব দাঁতে ক্ষয় রোগীরা সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে আসে ১০ মিনিটে চিকিৎসা দিলে আজীবন এ রোগ ভাল হয়ে যায়। তবে সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে খুব কম রোগীরা আসে। একুশে টিভি অনলাইন: দাঁত ক্ষয়ের কারণ, যেটাকে ‘ডেন্টাল ক্যারিজ বলছেন— এর প্রধান কারণগুলো কী? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল:  সঠিক ভাবে ব্রাশ না করলে এসমস্যা দেখা দিতে পারে। আরেকটি আমার যে সব খাবার গ্রহণ করি সেই সব খাবারে অনেক সময় দাঁতে লেগে থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেট বা সুগার থাকে। যদি খাবার আটকে থাকে এবং একে বের না করা হয় এখানে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করবে। এমন ভাবে অনেক দিন চলতে থাকলে ডেন্টাল ক্যারিজ দেখা দিতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে  এখান থেকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যা দেখার শুরুর দিকে যদি ডাক্তারের কাছে  আসে তাহলে অবশ্যই তাড়াতাড়ি এসব রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। একুশে টিভি অনলাইন: শুরুতে কী দেখলে বোঝা যাবে দাঁতের ক্ষয় হয়েছে? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: দাঁত যদি ঠিক মতো পরিচর্যা না করেন। না ঠিক মতো ব্রাশ না করেন তাহলে অনেক সময় আমার দাঁতে খাবার আটকে থাকছে। দাঁত বিভিন্ন রোগ ধারণ করে। এরপর এখানে ব্যাথা শুরু করে। এক সময় দেখা একটা গর্ত রয়ে গেছে। অর্থাৎ ক্যারিজ বা ক্যাভিটি হয়ে গেছে। অনেক সময় দাঁতের মাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস। যার কারণে অল্প রয়সে দাঁত পড়ে যায়। একুশে টিভি অনলাইন: শুরু বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন ? ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: প্রাথমিক ভাবে দাঁতে ব্যথা হচ্ছে না, কেবল খাবার আটকে থাকছে- এই সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে আমরা একটি ফিলিং করে দেই। মুলত আমার দেশের মানুষ দাঁতে ব্যাথা না দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে আসে না। দাঁতে ব্যাথা দেখা দেওয়া মানে দাঁত ইনফেকশন দেখা দেওয়া। ইনফেকশন দেখা দেওয়া মানে দাঁত ক্ষয় হয়ে যাওয়া।  এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মানে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা ছাড়া মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চায়। হাসপতালগুলো দাঁত ব্যাথা ছাড়া কোন রোগী আসছে বলে আমার মনে পড়ে না। একুশে টিভি অনলাইন: দাঁতের ক্ষয় রোগ যেন না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিরোধের জন্য কী করণীয়? ডা:হুমায়ুন কবীর বুলবুল: প্রতিরোধের প্রথম কথা হলো সঠিক উপায়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। নরম টুথব্রাশ নিয়ে, গুণতগত মানের পেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এক থেকে দুই মিনিট ব্রাশ করতে হবে। সঠিক উপায়ে ব্রাশ করার বিষয়টি জানতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। ডা: হুমায়ুন কবীর বুলবুল: একুশে টিভি অনলাইন পরিবারকেও ধন্যবাদ।       

হেপাটাইটিস বি-এর প্রথমিক ৭ লক্ষণ

হেপাটাইটিস বি প্রাণঘাতী মারাত্মক রোগ। পৃথিবীর প্রায় ৩ কোটি মানুষ প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিত্সকদের মতে, হেপাটাইটিস-বি এইডসের চেয়ে বেশি সংক্রামক। এইডসের কারণে পৃথিবীতে এক বছরে যত জনের মৃত্যু হয়, প্রতিদিন তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয় হেপাটাইটিস বি-এর কারণে। হেপাটাইটিস বি-এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হল, এর উপসর্গ বা লক্ষণগুলো অত্যন্ত সাধারণ। ফলে হেপাটাইটিস বি-র সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেও পারেন না যে তিনি এই রোগের শিকার। কিন্তু প্রথমিক স্তরেই যদি এই প্রাণঘাতী এই রোগের চিকিত্সা শুরু করা যায়, তবেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু তার জন্য এ রোগের লক্ষণগুলোকে প্রথমিক পর্যায়ে চেনা অত্যন্ত জরুরি। চলুন চিনে নেওয়া যাক হেপাটাইটিস বি রোগের প্রথমিক লক্ষণগুলোকে- ১) সব সময় অবসন্ন বোধ করা। ২) বেশিরভাগ সময়েই মাথা ব্যথা করা। ৩) হঠাত্ হঠাত্ গা চুলকাতে থাকা। ৪) হাড়ের জয়েন্টে (অস্থিসন্ধিতে) ব্যথা থাকা, বিশেষ করে ডান দিকের উপরিভাগের অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব করা। ৫) সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব অনুভূত হওয়া বা শরীরে ম্যাজমেজে অনুভূতি হওয়া। ৬) সারাক্ষণ বমি বমি ভাব থাকা এবং যখন তখন বমি হওয়া। ৭) চোখ ও প্রস্রাবের রঙ হলুদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সূত্র: জিনিউজ একে//

ভয়াবহ স্তন ক্যানসারের ৮টি লক্ষণ

স্তন ক্যানসারের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং ক্যানসারের প্রচলিত ওষুধে কাজ হচ্ছে না। প্রচলিত বেশির ভাগ কেমোথেরাপিও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই বর্তমানে সারা বিশ্বের নারীদের কাছেই স্তন ক্যানসার একটি আতঙ্কের নাম। এমন পরিস্থিতিতে স্তন ক্যানসার দিনে দিনে আরও চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিত্সকদের। কারণ চরিত্র বদলে বিপুল আগ্রাসী হয়ে উঠছে স্তন ক্যানসার। এই রোগ দেখা দিচ্ছে অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সীদের মধ্যে, যাদের বয়স ২৫-৫০। স্তন ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় ভয়ের দিক হল, এক বার সেরে যাওয়ার এক থেকে দু’বছরের মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ আবার ফিরে আসছে রোগীর দেহে! আসুন এবার চিনে নেওয়া যাক স্তন ক্যানসারে প্রধান লক্ষণগুলো- ১) কমবেশি সব নারীদের স্তনেই লাম্প (পিণ্ড) থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যানসারাস ও কয়েকটি নন-ক্যানসারাস। যে লাম্পগুলো টিপলে শক্ত লাগে এবং অবস্থান পরিবর্তন করে না, সেগুলি ক্যানসারের উপসর্গ হতে পার। ২) বগলে ব্যথা অনুভব। ৩) স্তনে ব্যথা অথচ তা মাসিক চক্র সম্পর্কিত নয়। ৪) স্তনের আকার কিংবা সাইজের পরিবর্তন। ৫) স্তনের রং পরিবর্তন। স্তন হঠাত্‌ লাল কিংবা লালচে রঙের হয়ে যাওয়া। ৬) স্তনের ত্বক কুঁচকে যাওয়া। ৭) স্তন বৃন্ত থেকে তরল নির্গমন হওয়া। ৮) স্তনের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়া। প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় ভালভাবে স্তন পর্যবেক্ষণ করা উচিত। উল্লেখিত লক্ষণগুলোর যে কোনও একটি চোখে পড়লেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পরীক্ষা করান। সূত্র: জিনিউজ একে//

শীতে খোস পাঁচড়া লক্ষণ ও প্রতিকার : ডা. হরশিত কুমার পাল

শীত আসলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়, বিশেষ করে শীতে ত্বকে বেশি সমস্যা দেখা দেয়। বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া কারণে আমাদের শরীর শুষ্ক হয়ে যায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চার দিয়ে ত্বক তৈলাক্ত রাখা যায়। অন্য সময়ের থেকে শীতকালে ত্বক নিয়ে একটু বাড়তি সর্তক থাকতে হবে। শীতের একই পোশাক বেশির ভাগ সময় পরে থাকেন। কাপড়-চোপড় নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এসব কারণে শীতে খোস পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস বেশি দেখা যায়। স্ক্যাবিস একটি ছোঁয়াচে রোগ। সারকপটিস স্ক্যাবি নামক ক্ষুদ্র মাইটের সংক্রমণে এটি হয়ে থাকে। এ পরজীবীটি উষ্ণ পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। স্ত্রী মাইটগুলো ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি করে ডিম পাড়ে। পরে ডিমগুলো থেকে বাচ্চা মাইটের জন্ম হয়। শীতকালে শীতের পোশাক পরিধানের কারণে ত্বক উষ্ণ থাকে। এতে করে খোস পাঁচড়ার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়। যেহেতু  এটা ছোঁয়াচে, সেহেতু খুব সহজেই পরিবারের অন্য সদস্যা আক্রান্ত হয়। একারণে সচেতন হতে হবে। মাইট শরীরের বাইরে অর্থাৎ কাপড়-চোপড়, কাঁথা-বালিশ, আসবাবপত্রে দুই থেকে তিনদিন বেঁচে থাকতে পারে। ফলে এ সময় এগুলো কেউ ব্যবহার করলেও হতে পারে খোস পাঁচড়া। খোস পচড়া লক্ষণ: সাধারণত শরীরের উষ্ণ অংশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্ক্যাবিস হয়ে থাকে। সাধারণত, হাতের আঙুলের ফাঁকে, কবজিতে, কনুই ও কনুইয়ের সম্মুখভাগে, স্তনের বোঁটায়, স্তন ও বুকের ত্বকের মধ্যস্থানে, নাভি, তলপেট এবং যৌনাঙ্গের আশপাশে এবং শরীরের ভাঁজগুলোতে। তা ছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গের অগ্রভাগে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হাত ও পায়ের তলায়, মাথায়, ঘাড় ও গালেও দেখা যায়। স্ক্যাবিস চেনার জন্য চিকিৎসকের দরকার নেই। রাতের বেলা অস্বাভাবিক চুলকানিই স্ক্যাবিসের প্রধান লক্ষণ। রাতের বেলা বিছানার গরমের জন্য মাইটগুলো চামড়ার নিচে চলাচল করতে শুরু করে। এতে রাতের বেলা বেশি চুলকানি অনুভূত হয়। চুলকানোর ফলে নখের আঁচড়ে চামড়া উঠে যায়। এ জন্য শরীরে আঁচড়ের দাগও পাওয়া যায়। আক্রান্ত স্থানে ত্বকের ওপর কালো সুতার মতো ছোট ছোট রেখা দেখতে পাওয়া যায়, এটাকে বারো বলে। এ রেখার শেষভাগে ছোট দানা অথবা পানিযুক্ত ছোট দানা থাকে। এমন দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে। এদানাগুলোই মাইটদের আবাসস্থল। এখানেই এরা ডিম পাড়ে। মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত স্তনের বোঁটার চারপাশে ও পুরুষের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ ও যৌনাঙ্গে চুলকানিযুক্ত ছোট দানা দেখা যায়। অনেক সময় স্ক্যাবিসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। বছরের অন্য সময় এরোগ বেশি দেখা না গেলেও শীতের সময় এর রোগের লক্ষণ বেশি দেখা যায়। লেখক: বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক  ডা. হরশিত কুমার পাল।    টিআর/

এইডসের ঝুঁকিতে ২৩ জেলা

দেশে এইচআইভি বা এইডস রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত বছর এ রোগে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৮৬৫ জন। ফলে দেশে এখন এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৬৫ জনে। এমন অবস্থায় সারাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের ওপর জরিপ করে ২৩ জেলায় এই ঘাতক ব্যাধির অধিকমাত্রায় সংক্রমণের প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস/এসটিডি কর্মসূচি। ফলে ওই এলাকাগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, কুমিল্লা, যশোর, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে এইডস রোগীর সংখ্যা ১৮৯১, চট্টগ্রামে ১৬৭১, সিলেটে ১০৬২, খুলনায় ৫০৩, বরিশালে ১৩৭, রাজশাহী ১৪৪, ময়মনসিংহে ৬৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫৩ জন। কর্মসূচি সংশ্নিষ্টরা জানাচ্ছেন, দেশের এই ২৩টি জেলায় তুলনামূলকভাবে মাদকসেবী, পতিতাবৃত্তি, সমকামিতা, শিরায় মাদক নেওয়া, অশোধিত রক্ত দান ও গ্রহণসহ যে সব আচরণ এইচআইভি সংক্রমণ ঘটায় এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায়ও দেখা গেছে এ সব আচরণে অভ্যস্তদের মধ্যে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এইচআইভিতে আক্রান্ত। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজের সন্ধানে যাওয়া বাংলাদেশিদের মাধ্যমে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রেক্ষপটে তারা আন্তর্জাতিক ও সরকারি-বেসরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশে এইডস আক্রান্তের ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও। এমন অবস্থায় আজ শনিবার (১ নভেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। দিবসটি বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘এইচআইভি পরীক্ষা করুন, আপনার অবস্থা জানুন।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি