ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০:৩২:৩৩

গাইবান্ধায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

পানি নেমে যাওয়ার পর, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিপর্যস্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি। হারিয়ে গেছে অনেক বাড়িঘর। মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে উঁচু স্থানে। ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার পর বিপদসীমায় বইতে থাকা তিস্তা নদীর পানি এখন কমতে শুরু করেছে। তবে এর তীরর্বতী বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। সেই সঙ্গে প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দুর্গতরা। ভাঙন শুরুর আতঙ্কে লোকজন ঘড়বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে চরের গ্রামগুলোতে নড়বড়ে হয়ে যাওয়া বাড়িতে ফিরতে পারছে না বন্যাকবলিতরা। কবলিত এলাকায় এখনো হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ওই সমস্ত এলাকার বহু কাঁচাপাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেখা দিয়েছে গোখাদ্য সংকট। বন্যাকবলিতদের মধ্যে এখনো কয়েক হাজার পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। অনেক পরিবারে এখনো খাবার সংকট বিরাজ করছে। এসব মানুষের যোগাযোগ বাহন বলতে নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়িঁয়েছে। র্বতমানে নৌকার অভাবে সঠিক সময়ে বাড়ি থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারছেনা অনেক শিক্ষার্থী। যমুনার পানি কমলেও, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এছাড়াও দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবারপানি সংকট। ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি কমেছে। তবে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জে এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল।এদিকে ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা ফেলে নদীর ভাঙ্গন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এসএ/  

প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে লাশ হল কিশোর-কিশোরী

প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে কুড়িগ্রামে দুই কিশোর-কিশোরীর নিহত হয়েছে। নিহতরা হল- সেলিনা আক্তার (১৪) ও কিশোর জাহাঙ্গীর আলম (১৬)। সেলিনা কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ডাকুয়াপাড়া গ্রামের জাবেদ আলীর মেয়ে। সে আমিন উদ্দিন দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং জাহাঙ্গীর পূর্বকল্যাণ গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে। সে কুড়িগ্রাম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীর কাছে নলেয়ারপাড় এলাকায় পরিত্যক্ত সেচ পাম্পের পাশ থেকে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, নিহত দুজনকে সাইকেলে করে মঙ্গলবার ঘুরতে দেখেছেন অনেকেই। স্থানীয়দের ধারণা, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা বের হয়েছিল। ভোরে ওই স্থানে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম জানান, সদর থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায়। মরদেহ দুটির গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। সুরতহাল রির্পোট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এসএ/

দিনমজুর মায়েদের জন্য ভিন্ন রকম শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র [ভিডিও]

গাইবান্ধায় গড়ে উঠেছে ভিন্ন রকম শিশুর দিবাযত্ন কেন্দ্র। মাত্র ৩০ টাকার বিনিময়ে শিশুর দিবাযত্ন কেন্দ্রে দিনমজুর মায়েরা সন্তানদের নিরাপদে রেখে কাজে যেতে পারছেন। শিশুর নিরাপত্তার জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। শিশুদের কোলাহলে মুখরিত ডে কেয়ার সেন্টার। গাইবান্ধার ফুলছড়ির গজারিয়া, উদাখালী, উড়িয়া, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীতে শ্রমজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য গড়ে উঠেছে ৭টি ডে কেয়ার সেন্টার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় নারী দলের উদ্যোগে পরিচালিত হয় এটি। ২০১৩ সালে ২টি ডে কেয়ার সেন্টার গঠিত হলেও ২০১৬ সালে আরও ৫টি সেন্টার চালু হয়। এই শিশুদের প্রত্যেকের মা-বাবা দিনমজুর। এখানে প্রত্যেক শিশুর জন্য মাসে দিতে হয় ৩০ টাকা করে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের দেখাশোনা করেন ডে কেয়ারের কর্মীরা। তবে ডে কেয়ারের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন শ্রমজীবী বাবা- মায়েরা। একে//

লালমনিরহাটে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

লালমনিরহাটে ট্রাকের চাপায় আশরাফুল ইসলাম নাহিদ (২৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের লালমনিরহাট বড়বাড়ি ডাক বাংলো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাহিদ কুড়িগ্রাম সদরের পশু হাসপাতাল এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী মালবাহী একটি ট্রাক বড়বাড়ি ডাক বাংলো এলাকায় কুড়িগ্রামগামী ওই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই মোটরসাইকেল আরোহী। একে//

নবাবগঞ্জে জামায়াতের উপজেলা আমিরসহ ১১ নেতাকর্মী আটক

নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গোপনে নাশকতার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপজেলা শাখার আমিরসহ ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। রোববার দিবাগত রাতে এদের আটক করা হয়। আটকৃতরা হলেন- নবাবগঞ্জ উপজেলার জামায়াতের আমির ও কুড়াহার গ্রামের ফজল উদ্দিনের পুত্র মাওলানা আবুল কাশেম, জামায়াতকর্মী মুরাদপুর গ্রামের নুরনবী, রামপুর বাজারের খলিলের পুত্র মশফিকুর রহমান, কামরপাড়া আব্দুর গফুরের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক, আফতাবগঞ্জ বাজারের রিপন, সাজেদুর রহমান, মনিরুল, কামরুজ্জামান, শাহিন, মাহাবুবুর রহমান, রেহেনুর রহমান। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো.ফজলার রহামান বাদী হয়ে গোপনে নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহি কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন যার নং-২৭, তারিখ ১৬ ই সেপ্টেম্বর। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান জানান, তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কেআই/এসএইচ/

সাদুল্যাপুরে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হাত পাখায় (ভিডিও)

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের জামালপুর ও রসুলপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে অভাব লেগেই থাকতো। লবণ আনতে যেন পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা ছিল এই গ্রামগুলির। ভাগ্য পরিবর্তনে নেমে পড়েছেন তারা হাত পাখা তৈরিতে। হাত পাখা তৈরি করেই ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছেন তারা। এখন অভাবকে বিদায় জানিয়েচেন গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুরের এসব গ্রামের বাসিন্দারা। নারী পুরুষ পাশাপাশি বসে দিনরাত নিপুন হাতের কারুকাজ আর সুই-সুতা দিয়ে তরি করছেন হাত পাখা। বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন কয়েক গ্রামের অনেকেই। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে এখানকার মানুষ পাখা তৈরি শুরু করলেও সেখানে রয়েছে বর্ণালী শিল্পকর্মের ছোঁয়া। গ্রামের অনেক পরিবার এখনও হাত পাখার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আর সেই চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে এ পাখার গ্রাম। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে অন্তত ১১ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে উপজেলার নাম সাদুল্যাপুর। সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক গ্রাম। পাশে রসুলপুর ইউনিয়নের খামারিপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামেও তৈরি হচ্ছে হাত পাখা। সে কারণে মানুষের মুখে মুখে এই গ্রামগুলোর নামের পাশে পরিচিত লাভ করেছে পাখার গ্রাম নামে। পাখা তৈরিতে পারদর্শী খামারীপাড়া গ্রামের আয়নাল হক, মতিন মিয়া, সালেহা, নয়নতারা, মর্জিনা বেগম, খুশি আকতারসহ অর্ধশত নারী পুরুষ। সবাই পাখা তৈরি করে সংসার চালান ও পাশাপাশি নিজের সন্তানদের পড়ালেখার খরচ যোগার করেন। পাখার কারিগর নয়নতারা বলেন, হামরা (আমরা) সংসারের সব কাজ করেও পাখা বানাই। পাখা তৈরির পর মহাজনের হাতে তুলে দিয়ে নগদ ট্যাকা নেই। হাত খরচ করি, ট্যাকা জমাই এবং যখন খুশি নিজের মতো খরচ করি। দিনভর পাখা তৈরি করে বিক্রি করে। হাতে সময় থাকে না। সংসারের কাজের সঙ্গেও আমরা পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় করছি সংসারে। ভালো চলছে সংসারে। জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল জানান, অভাবের ক্লান্তি ভুলে হাসিমুখে সমান তালে পাখা তৈরি করছেন এ গ্রামের নারী-পুরুষরা। সারাদিন বাঁশকাটা, চাক তৈরি, সুতা  গোছানো, কাপড় কাটা, আবার কেউ সুই দিয়ে সেলাই করে রং বে-রংয়ের ডিজাইন তৈরি করছেন।  উত্তপ্ত আবহাওয়া ও অতিরিক্ত গরমে বৃদ্ধির কারণে হাত পাখার চাহিদা বেড়েছে। সে অবস্থায় সমানতালে পাখা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। নারী-পুরুষ মিলে প্রতিদিন ১২শ’ থেকে ১৫শ’ পর্যন্ত হাত পাখা তৈরি হয় এ গ্রামে। প্রতিটি পাখা তৈরি করতে সুতা, বাঁশের হাতল, কাপড় ও পারিশ্রমিকসহ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ টাকা খরচ হয়। এ পাখা পাইকারি এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে, দোকানে এবং মেলায় বিক্রি করা হয় ২৩ টাকা থেকে ২৫ টাকায়। আগে এ গ্রামে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও পাখা বিক্রির টাকায় ফিরেছে সচ্ছলতা। সংসার, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ অন্য সব খরচ আসে এ পাখা বিক্রির আয় থেকেই। পাখা তৈরির গ্রাম হিসেবে পরিচিত পেলেও কারিগরদের তৈরি পাকার ভালো দাম না পাওয়ায় তারা অনেকটা হতাশ। কারিগরদের অনেকেই বলেন, তাদের তৈরি পাখা সারাদেশে বাজারজাত করার ব্যবস্থা থাকলে সহজেই ভালো দাম মিলতো। এ শিল্পকে ধরে রাখতে হলে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, কাচামাল ও সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। গাইবান্ধা বিসিকের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক মো. নুরুল  ইসলাম বলেন, এদিকে হাত পাখা তৈরি ও বাজারজাতকরণের বিপপণ ব্যবস্থা তৈরি, প্রশিক্ষণ ও সহজে ঋণ প্রদানের ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।   এসএইচ/  

রংপুরে বাস উল্টে নিহত ৩

রংপুরে একটি বাসের ধাক্কা খেয়ে আরেকটি বাস উল্টে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় চার রাস্তার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রংপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর বলেন, রংপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে এম কে পরিবহন বাসের চালক চার রাস্তার মোড়ে বাসটি ঘুরিয়ে মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বাসটার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী মায়ের আশীর্বাদ বাসের চালক ধাক্কা দিলে এ ম কে পরিবহণের বাসটি উল্টে এক নারীসহ দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এম কে পরিবহণ বাসচালকের সহকারী মারা যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে আছে বলে জানান পুলিশ সুপার অতিরিক্ত। একে//

রংপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

রংপুরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শওকত আলী ঘুঘু (৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি জেলার শীর্ষ ডাকাত বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব-১৩ এর মিডিয়া উইং কর্মকর্তা খন্দকার গোলাম মর্তুজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে নগরীর ১৪নং ওয়ার্ডের রাধাকৃষ্ণপুর ঘাঘটপাড়া এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। নিহত ঘুঘু ডাকাত নগরীর ১৪নং ওয়ার্ডের দেওডোবা ডাঙিরপাড় এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ১৩টির অধিক ডাকাতি ও মাদকের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গোলাম মর্তুজা জানান, শুক্রবার ভোরে ঘুঘু রাধাকৃষ্ণপুর ঘাঘটপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা করছিলেন। এ সময় র‌্যাবের একটি দল সেখানে উপস্থিত হলে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ঘুঘু ও তার সহযোগীরা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ঘুঘু ডাকাত নিহত হন এবং অন্যরা পালিয়ে যায়। একে//

মুরগি পালন করে মাসে ২ লাখ টাকা আয় করেন তিনি

বেকারত্বের বেড়াজাল ছিল যার নিত্যসঙ্গী, কঠোর শ্রম আর মেধায় তিনি-ই এখন গ্রামের তরুণদের কাছে সফল উদ্যোক্তা। মুরগি পালন করে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে উপজেলার বিডাংশেরঘাট গ্রামের জিয়াউল হকের সংসারে জ্বলছে এখন আলোর বাতি। জানা যায়, জিয়াউল তার এলাকায় ২ বছর পূর্বে নিজ জমির উপর একটি খামার গড়ে তুলেন। সেখানে প্রথমদিকে ২ হাজার মুরগি পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার ফার্মে ৮ হাজার মুরগি রয়েছে। মুরগি পালন ব্যপারে জিয়াউল জানান- আমি একজন বেকার ছিলাম। কিন্তু আমার বহুদিনের প্রবল ইচ্ছা ও মনোভাব থাকায় আমি আমার নিজ জমিতে একটি ফার্ম করে মুরগি পালন শুরু করি। মুরগি পালনে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি এবং আমার ফার্মে ৪ জনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আমার ফার্মে এ বছর শুধু ব্রয়লার ও সোনালী জাতের মুরগি রয়েছে। প্রতি মাসে সেখান থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা উপার্জন হয়। এসআই/ এমজে  

সুন্দরগঞ্জে অধ্যক্ষকে পেটানোর অভিযোগে কমিশনার সাজু গ্রেফতার

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কমিশনার মো. সাজু মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবদুর সোবহানের নেতৃত্বে তাকে আজ মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। তিনটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আবদুর সোবহান জানান, সাজুকে তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আতোয়ার রহমান সরদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬১০ পিচ ইয়াবা ও তিনটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ১৯(১) ৯ (খ)১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও ১৯(চ) ১৮৭৮ সালের দেশীয় অস্ত্র হেফাজতে রাখার অপরাধে মামলা করা হয় এবং বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। ওসি সোবহান আরও জানান, তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা রয়েছে। সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন থেকে মাদকের ব্যবসা করার অভিযোগ করেছেন এলাকার অনেকেই। এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক টিআই মকবুল হোসেন প্রামাণিক জানান, সাজু মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। সে মাদকের সঙ্গে জড়িত কি না আমি জানি না। তবে যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, শুনেছি তারাও তার সঙ্গে জড়িত। আর কারা এর সঙ্গে জড়িত তা থানায় লিস্ট আছে।  সুন্দরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানুল করিম চাঁদ জানান, সাজু এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তবে, তাকে সমর্থন দিচ্ছে একটি গ্রুপ। এসএইচ/

পঞ্চগড়ে নৈশকোচের ধাক্কায় নিহত ৩

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নৈশকোচের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই সন্তানসহ বাবা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরতর আহত হয়েছেন আরও একজন। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধনীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের ওসি রবিউল হাসান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- আক্তারুজ্জামান (৪৫), তার ৬ বছর বয়সী মেয়ে আফসা ইবনাত আদিয়া এবং ১৪ মাস বয়সী আব্দুল্লাহ। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন মা তানিয়া আক্তার (৩৫)। নিহত আক্তারুজ্জামানের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলি ইউনিয়নের কাউনিখুয়া গ্রামে। তিনি জেলা শহরের একটি ইলেক্ট্রনিক পণ্যের শো-রুমের বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আক্তারুজ্জামান শিশু আবদুল্লার চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলেন। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পঞ্চগড় ফেরার পথে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি নৈশকোচ তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই আক্তারুজ্জামান মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুই সন্তানও মারা যায়। একে//

গাইবান্ধায় ট্রাক্টরচাপায় মটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় সজিব চন্দ্র ঘোষ (২২) ও নোর উত্তম (২৫) নামে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা সম্পর্কে মামা-ভাগনে। বুধবার সকালে উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের চিথুলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব চন্দ্র ঘোষ ভরতখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ উল্লা ঘোষপাড়া গ্রামের গৌরাঙ্গ ঘোষের ছেলে। আর নোর উত্তম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা গ্রামের সুনীল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বড় দরগাহ এলাকায় সজিব ও নোর উত্তমের বইয়ের দোকান আছে। সেখান থেকে বুধবার সকালে গাইবান্ধা দিয়ে দক্ষিণ উল্লা গ্রামে বাড়ি ফেরার পথে চিথুলিয়া এলাকায় পৌঁছলে সাঘাটার দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক্টর তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ট্রাক্টর চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে গেছেন। একে//

নবাবগঞ্জের জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আশুড়ার বিলের ধার ঘেঁষে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ এবং জাতীয় উদ্যানে পাখির হাঁড়ি লাগানোর কাজ উদ্বোধন করেন ইউএনও মো. মশিউর রহমান। এতে স্কাউটের সদস্যগণ সহায়তা করেন। দুই পাশে সবুজ শালবন। যা জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত। এর মাঝে আছে আশুড়ার বিল। পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক অনন্য পুরাকীর্তি সীতাকোট বিহার। যাকে ঘিরে রয়েছে সীতার বনবাসের পুরান অনেক গল্প কাহিনি। কিন্তু অবহেলায় এ দর্শনীয় স্থানের জৌলুশ এখন মলিন। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার এই হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় উদ্যান, আশুড়ার বিল এবং সীতাকোট বিহার নিয়ে এক ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নবাবগঞ্জ। এখানে পর্যটন ও বিনোদনের অনেক সম্ভবনা আছে। তবে এর সৌন্দর্য বিকশিত করতে যতটা অর্থের প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে সুষ্ঠু পরিকল্পনা। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে নবাবগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো। এ ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে তিনি স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসকের পরামর্শক্রমে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। শিগগিরই নবাবগঞ্জের জাতীয় উদ্যানসহ আশুড়ার বিল দেশের একটি অনন্য পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। উপজেলা প্রশাসনের এ কাজে বন বিভাগ ও চরকাই বন গবেষণাকেন্দ্র সহযোগিতা করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আশুড়ার বিলের সব অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করা হবে। সেখানে লাগানো হবে লাল শাপলা। বিলের ধার দিয়ে লাগানো হবে প্রাথমিক অবস্থায় পাঁচ হাজার কৃষ্ণচূড়া, জামরুল, শিমুল ও সোনালী ফুলের গাছ লাগানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে জাতীয় উদ্যানে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে পাঁচ হাজার মাটির হাঁড়ি লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া সীতাকোট রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ অংশের ২৫১ হেক্টর এবং বিরামপুর অংশের ১০৯ হেক্টর নিয়ে মোট ৩৬০ হেক্টর এলাকাজুড়ে এই আশুড়া বিল। এখানে বিভিন্ন দেশীয় মাছসহ লাল খলশে, কাকিলাসহ আট প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। ২০১০ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে চরকাই রেঞ্জের নবাবগঞ্জ উপজেলার আশুড়ার বিলসহ নবাবগঞ্জ বিটের ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টও সংরক্ষিত বনাঞ্চর নিয়ে নবাবগঞ্জ  জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির আট বছর পেরোলেও এখন পর্যন্ত কোনও বরাদ্দ পাওযা যায়নি। পলে অপূর্নতায় ভুগছে শালগাছ শহ সমূদ্ধ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান। ২০১০ সালের ৪ নভেম্বর মাসে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বিরামপুর চরকাই রেঞ্জের নবাবগঞ্জ বিটের ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টও সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে নবাবগঞ্জে জাতীয় উদ্যানের ঘোষণা করা হয়। সংরক্ষিত বনে উদ্ভিদ, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন এবং পযর্টন সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে এ পযর্ন্ত তিন বছরে এ উদ্যানে দুটি ইট সিমেন্টের তৈরি বসার বেঞ্চ এবং নবাবগঞ্জ বিট কার্যালয়ের সামনে একটি মাত্র দোলনা, অল্প কিছু শোভা বর্ধনকারী গাছ এবং বনের ভেতরে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতীর গাছের বাগান এ ছাড়া  আর কোনও কিছুই করা হয়নি। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষন আইন অনুযায়ী জাতীয় উদ্যান বলতে বোঝায় মনোরম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর এলাকা যার মূখ্য উদ্দেশ্য উদ্ভিদ রক্ষা করা এবং সংরক্ষন করা। এ ব্যাপারে চরকাই রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. গাজী মনিরুজ্জামান কোনও বরাদ্দ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি পূণাঙ্গ জাতীয় উদ্যানে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, নেচার হিস্ট্রি জাদুঘর, সীমানা প্রাচীর, বিশ্রামাগার, গণ শৌচাগার, বিভিন্ন ওষধি ও শোভা বর্ধনকারী বাগান তৈরিসহ শতাধিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরঞ্জাম, অর্থ ও জনবল থাকা দরকার। এ সবের জন্য প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা বারাদ্দের প্রয়োজন। জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন তুষকুটার শ্রী লিটন সরকার বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল পুরোটাই শালগাছ  দ্বারা পরিবেষ্টিত। এ ছাড়াও সেগুন, গামা কড়ই, জামসহ প্রায় ২৫-৩০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। এছাড়াও বন বিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, কাঠ বিড়ালী, শেয়াল, বেজিসহ বিভিন্ন প্রকার বন্য প্রাণী ও পাখি দেখতে পাওয়া যায় এই বনে। আর বনের পাশেই রয়েছে এক হাজার চারশত হেক্টর আয়তনের ঐতিহাসিক আশুড়ার বিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আশুড়ার বিলকে জাতীয় উদ্যানের অন্তর ভুক্ত করা হয় নাই। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক থাকাকালে মরহুম আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার উদ্যোগে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ১৯৬৮ সালে খননের মাধ্যমে সীতাকোট বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল। বিহারটি নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টিয় পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে। কিন্তু অযত্নে আর অবহেলায় এ অনন্য পুরাকীর্তিটি ধ্বংস হতে চলেছে। এই সীতাকোট আর আশুড়ার বিলকে ঘিরে রয়েছে পুরানো অনেক গল্প কাহিনি। একে//

দিনাজপুরে ট্রাক-নৈশকোচ সংঘর্ষে নিহত ২

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় নৈশকোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ যাত্রী। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পীরেরহাট মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। কাহারোল থানার ওসি আইয়ুব আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ওই উপজেলার পীরেরহাট মোড়ে যশোর থেকে পঞ্চগড়গামী একটি ট্রাকের সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা নৈশ্যকোচ কেয়া পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে আগুনে পুড়ে গেছে ট্রাকটি। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে দিনাজপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ ঘটনায় আহত কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। একে//

নিজেদের উদ্যোগেই বাল্য বিয়ে  বন্ধ করছে ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা

এক সময় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বিয়ে দেওয়া হতো অল্পবয়সী মেয়েদের। অভিভাবকের চাপে মেয়েরা বাধ্য হতো বিয়ের পিড়িতে বসতে। কিন্তু এখন সেই দৃশ্যপট ভিন্ন, বেড়েছে সচেতনতা। নিজেদের বাল্য বিয়ে  ঠেকাতে প্রশাসনের সহায়তা নিচ্ছে মেয়েরা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০০৯, ১০ ও ১১ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শতকরা ৫৫ ভাগ মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়তো। তাদের অধিকাংশই বাল্য বিয়ের শিকার। দরিদ্রতা, যৌতুক এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিতেন অভিভাবকরা। আর অল্প বয়সেই সন্তানের মা হওয়ায় জটিল রোগে আক্রান্ত হতো এসব মেয়ে। পাশাপাশি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটতো অহরহ। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামে একটি উদ্ভাবনী ধারণা পাঠান। সেই ধারণা থেকেই ২০১৬ সালে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে স্টুডেন্টস ডাটা বেজ ও সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়। এখন অভিভাবকরা তাদের স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের গোপনে বিয়ের ব্যবস্থা করলেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছে এসব মেয়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, ব্যাপক প্রচারনায় গ্রামাঞ্চলে গণজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৬২টি স্কুল ও মাদ্রাসার ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে স্টুডেন্ট ডাটা বেজের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া কাজী ও নিকাহ রেজিস্ট্রার এবং পুরোহিতদের পাশাপাশি পাড়া মহল্লায় গঠন করা হয়েছে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটি।   একে// 

হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ায় গাছের নিচে সন্তান প্রসব

প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু নার্সরা তাকে ভর্তি না করে তাড়িয়ে দেন। অনেক অনুনয়ের পরও একবারও ফিরে তাকায়নি হাসপাতালের কেউ। উপয়ন্তর না পেয়ে গাছের তলায় পিঁপড়ার বাসার উপর সন্তান প্রসব করেন এক মা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার ভোরে সন্তান প্রসবের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় প্রসব ব্যথায় কাতর রিনা পারভীনকে (৩৫)। এ সময় চিৎকার করে ডাকার পরও কোনো সেবিকা বা হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তার সেবায় এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার শত শত মানুষ হাসপাতালটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। একই সঙ্গে তারা অমানবিক আচরণ করা বিশেষত সেবিকাদের শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার শিকার রিনা পারভীন পার্বতীপুর উপজেলার হামিপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক আবু তাহেরের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রসব বেদনা শুরু হলে রিনা পারভীনকে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। দায়িত্বরত নার্স রোজিনা আক্তার ও আফরোজা খাতুন প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা রিনাকে চেকআপ না করেই ‘এখানে হবে না’ বলে পার্শ্ববর্তী টিএম হেলথ কেয়ার এমদাদ-সিতারা কিডনি সেন্টারে নিয়ে যেতে বলেন। স্বজনরা অন্তত একবার প্রসূতিকে দেখার অনুরোধ জানালে ওই দুই নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে প্রসূতি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বিতাড়িত হয়ে স্বজনরা প্রসূতিকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান। কারণ প্রচণ্ড ব্যথায় প্রসূতিকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এ অবস্থায় স্বজনরা রোগীকে হাসপাতাল চত্বরের পূর্ব পাশে কামরাঙা গাছতলায় তড়িঘড়ি শুয়ে দেন। একপর্যায়ে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে এক চা দোকানির স্ত্রীর সহযোগিতায় রিনা পারভীন একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। ঘটনার সময় রিনা পারভীনের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে রিপন চিৎকার করে ডেকে ও কাছে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করেও ওই দুই নার্সের মন গলাতে পারেনি। তারা কেউ প্রসূতির কাছে আসেননি। আর প্রসূতিকে যেখানে রাখা হয় সেখানে পিঁপড়ার বাসা থাকায় পিঁপড়ার কামড়ে মা ও শিশুর শরীর ফুলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার শত শত মানুষ এসে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা এমন অমানবিক আচরণের জন্য দোষী নার্সদের শাস্তি দাবি করে। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে দোষীদের শাস্তির নিশ্চয়তা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে সদ্যোজাত সন্তান নিয়ে মা রিনা পারভীন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঞ্চয় কুমার গুপ্ত বলেন, হাসপাতালে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। তাই অনেক সময় সব চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে নার্সদের খারাপ আচরণের বিষয়টি নিয়ে সকালে আমরা মিটিং করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে। দোষী নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরকে//

ঠাঁকুরগাওয়ে স্টেভিয়া চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা(ভিডিও)

ঠাঁকুরগাওয়ে ঔষুধি গুণসম্পন্ন স্টেভিয়া চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ার পর এবার কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ চাষে কৃষক লাভবান হবে বলেই মনে করছে তারা। বায়ো-টেকনোলজি গবেষণা কেন্দ্রে স্টেভিয়া গাছের বংশ বিস্তার ও গুণাগুণ যাচাই করে ইক্ষু গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা। পরে ২০০১ সালে থাইল্যান্ড থেকে গাছটি সংগ্রহ করা হয়। গত বছর পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা আসে। এরপরই কৃষক পর্যায়ে স্টেভিয়া চাষ ছড়িয়ে দিতে চারা উৎপাদন শুরু হয়। প্রশিক্ষণও দেয়া হয় কৃষকদের। কৃষকও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্টেভিয়া চাষে। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রাকৃতিক মিষ্টিসমৃদ্ধ স্টেভিয়া পাতার নির্যাস ডায়াবেটিক রোগে খুবই কার্যকর। এছাড়া দাঁতের ক্ষয়রোধ, রক্তচাপ, স্কিন-কেয়ার, ব্যাকটেরিয়া সাইডালসহ এগারোটি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে উদ্ভিদটি। থাইল্যান্ড, ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো, চীন, জাপান ও কোরিয়াসহ অনেক দেশেই বিভিন্ন খাবার ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয় স্টেভিয়ার উপাদান। ১৯৬৪ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম বাণিজ্যক চাষ শুরু হলেও বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে স্টেভিয়া।

রংপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের বেহাল দশা(ভিডিও)

বেহাল দশা রংপুর নগরীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের। অপেক্ষা কক্ষের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ছে। পার্কিং খানাখন্দে ভরা। আর অল্প বৃষ্টিতেই জমে হাঁটু পানি। এতে দুর্ভোগে পড়তে করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এই চিত্র রংপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের। কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয় যাত্রীদের। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোসহ দেশের অন্যান্য জায়গাতেও বাস চলাচল এ টার্মিনাল থেকে। ভুক্তভোগিরা বলছেন, দীর্ঘদিন সংস্কার নেই টার্মিনালের। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা। এরমধ্যেই চলে যাত্রী ওঠানামা। চালকরা জানালেন খানাখন্দ পড়ে প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। জায়গায় জায়গায় খসে পড়ছে যাত্রী অপেক্ষাগারের ছাদের পলেস্তার। যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। মালিক সমিতির অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত টোল আদায় করলেও সংস্কারে নেই কোন উদ্যোগ । তবে নগর কর্তৃপক্ষ দুষছে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে। মেয়র জানালেন, নতুন উদ্যোগের কথা। টার্মিনালটি দ্রুত সংস্কারের দাবি যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

নীলফামারীতে গরু খামারীরা ব্যস্ত (ভিডিও)

ঈদুল আযহা সামনে রেখে প্রায় ৫০ হাজার পশু কোরবানীর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নীলফামারীতে খামারীরা ব্যস্ত প্রস্তুতকরণের কাজে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকিতে, প্রাকৃতিক উপায়েই পশু মোটাতাজা করছেন তারা। গেল ঈদে প্রায় ৪৮হাজার পশু কোরবানী হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার ধরে পশু প্রস্তুত হচ্ছে জেলার ২৩ হাজার খামারে। কোনো রকম হরমোন ও কেমিক্যাল ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে এসব পশুকে। তবে বাজারদর কম হওয়ায় এবং ভারতীয় গরু আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছেন খামারীরা। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং মনিটরিংয়ের ফলে ওষুধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়নি বলে জানান প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। জেলার মোট খামারের মধ্যে ১৭ হাজার ৫শ’ ৮৯টি গরু এবং ৬ হাজার ১১টি ছাগলের খামার রয়েছে।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি