ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৫:৩৯

রূপচর্চায় লেবু-ডিম-ভিনেগার কতটা উপকারী জানেন?

রূপচর্চায় লেবু-ডিম-ভিনেগার কতটা উপকারী জানেন?

ইন্টারনেট, ইউটিউবের যুগ আসার আগে রূপ চর্চার নানা টিপস দিতেন মায়েরা। এছাড়াও রাঁধুনি, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, মানসিক সমস্যায় কাউন্সেলিং করতেন তারা। কিভাবে ত্বক মসৃণ হবে, দীঘল কালো কেশ হবে ঘরোয়া নানা সামগ্রীর ব্যবহার করেই সেগুলো অর্জনের চেষ্টা চলতো। ছোটবেলা থেকে হয়ত বাড়িতে দেখেছেন মুখমণ্ডলে বেসন মেখে রীতিমতো ভুত সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে বড় বোন। অথবা সপ্তাহে একদিন চুলে ডিম বা দই লাগাচ্ছেন অন্য কেউ। খাওয়ার সামগ্রী কিন্তু সেগুলো দিয়ে ঘরোয়াভাবে রূপচর্চা করা হতো বা এখনও হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগে কি-না সে নিয়ে মন্তব্য করছেন আসল বিউটিশিয়ানরা। এর ব্যবহার সম্পর্কে হয়ত শুনেছেন। বেসন পানি দিয়ে মাখিয়ে থকথকে করে নিতে হবে। তার পর সেগুলো ত্বকে মাসাজ করতে হবে। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু প্রসাধন বিজ্ঞানী ফ্লোরেন্স আদেপজু বলছেন, ‘ঘি খুব আঠালো বস্তু। এতে যে উচ্চমাত্রায় চর্বি রয়েছে যা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। আমি বিউটি টিপ হিসেবে এটিকে না বলবো। আর ছোলা দিয়ে বানানো বেসন হয়ত ত্বক মসৃণ করতে কিছুটা আসতে পারে। কিন্তু দেখুন এগুলোতো ত্বকে লাগানোর জন্য বানানো হয় না। তাই রূপ চর্চায় এর ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।’ নরম চুল পেতে ডিম খসখসে চুল অনেকেরই খুব অপছন্দ। শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার দিলে চুল নরম হয় বলে বিউটিশিয়ানরা বলে থাকেন। নারীর দীঘল কালো চুল নিয়ে এই উপমহাদেশে নানা গল্প রয়েছে। চুলে ডিম মাসাজ করে তা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধোয়ার পর নাকি চুল নরম হয়। কাচা ডিমের গন্ধ একদম সুখকর না হলেও বহু মেয়েদের এটি ব্যাবহার করতে দেখা যায়। হেয়ার আর্টিস্ট টলু আগোরো বলছেন, ‘আমাদের চুলের ভেতরটাতে রয়েছে প্রোটিন। আমাদের শরীরে সঠিক পরিমাণে প্রোটিন থাকলে সেটি চুলের গোঁড়াকে শক্ত করে। এতে চুল ভাঙা বা আগা ফাটা কমে।’ ‘তবে ডিমে যে প্রোটিনের অণু রয়েছে তা চুলের কাণ্ডের জন্য অনেক বড়। ক্ষতিগ্রস্ত চুল মেরামতে তা কাজ করে এই ধারনার সঙ্গে আমি একমত নই।’ লেবুর রসে শরীরে পশম ব্লিচ করা শরীরের লোম অনেকের অপছন্দ। অনেকেই হাত, পা ও মুখমণ্ডলের ত্বকের অতিরিক্ত লোম তুলে ফেলেন। অনেকে পাতলা লোম ব্লিচ বা সাদা করেন। লেবুর রসের এই ক্ষমতা আছে বল মেনে করা হয়। লেবুর রসে মধু মিশিয়ে লোমের উপর লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে রোদে বসে থাকলে লোমের রঙ হালকা হয় বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। স্টাইলিস্ট ম্যাগাজিনের বিউটি এডিটর লুসি পার্টিংটন ঠিক সরাসরি বলছেন যা এটি কাজে আসে। তবে তিনি এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে সাবধান করে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘ত্বকে মধু মিশ্রিত লেবুর রস লাগিয়ে রোদে বসে থাকলে সূর্যের আলোতে ত্বক কি পরিমাণে পুড়ে যাবে চিন্তা করুনতো একবার। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি শরীরের লোমকে সহজভাবে নিন। লোকে কি ভাবল তাতে কি আসে যায়?’ চুল চকচকে করতে ভিনেগার কুচকুচে কালো লম্বা চুল রীতিমতো আভা ছড়াচ্ছে। এ অঞ্চলে সুন্দর মেয়েদের যখন বর্ণনা দেওয়া হয় তখন এমন চকচকে চুল তাদের থাকতেই হবে। এক বাটি হালকা গরম পানিতে ভিনেগার গুলিয়ে তা দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একবার চুল ধুলে নাকি তেমন আভা ছড়ানো চুল পাওয়া যায়। হেয়ারড্রেসার ড্যানিয়েল ফারলে ম্যাকসুইনি বলছেন, ‘ভিনেগারের পরিষ্কার করার ক্ষমতা আসলেই আছে। এতে যে অ্যাসিড রয়েছ তা যা চুলে জমা যে কোনও ময়লা পরিষ্কার করে। তাতে চুল চকচক করবে সেটাই স্বাভাবিক। অ্যাসিড হয়ত চুল মসৃণও করে। তবে যাদের চুল শুষ্কও তাদের এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।’ সূত্র: বিবিসি এমএইচ/একে/  
সানস্ক্রিন ছাড়াই ত্বকের সতেজতা আনুন ৫ উপায়ে

প্রচণ্ড রোদে বাইরে বের হওয়া মুশকিল। এতে ত্বক পুড়ে গিয়ে কালচে হয়ে যায়। সানস্ক্রিন দিয়ে ত্বকের পুড়ে যাওয়া ভাব না হয় কমাবেন, কিন্তু সানস্ক্রিনের কেমিক্যালসে ত্বকের অভ্যন্তরীন ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয় না। তাই সানস্ক্রিন ছাড়াই কিছু সহজ উপায়ে ত্বকের জেল্লাদার ফিরিয়ে আনুন। ১) সরষের তেল রোদে পুড়ে বাড়ি ফিরলে ত্বকে মখে নিন সরষের তেল। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ট্যান বলে কোনও বস্তুই আর নেই ত্বকে। ২) আলুর রস আলু বেটে সেই রস লাগান ত্বকে। আলুর রস ত্বকের ট্যান তো কমাবেই, এ ছাড়া চামড়ার জেল্লা বাড়াতেও সাহায্য করে আলুর রস। ৩) গোলাপ জল গোসলের সময় জলে কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। গোলাপ জল সানবার্ন কমাতে ওস্তাদ। তবে সব চেয়ে ভাল হয়, যদি বাড়িতেই গোলাপের পাপড়ি বেটে সেই রস ঘষতে পারেন ত্বকে। ৪) অ্যালোভেরা জেল অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য খুব উপকারী। পোড়া দাগ তোলায় এর জুড়ি নেই। সরাসরি অ্যালোভেরার জেল লাগান পোড়া ত্বকে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি মুখ ধুয়ে শশার রস মেখে নিন। খানিক ক্ষণ রেখে আবার ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা পানি। পোড়া দাগের সমস্যা মিটবে সহজেই। ৫) টি ব্যাগ কয়েকটি টি ব্যাগ পানি ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। খানিকক্ষণ বাদে সেই পানি নরম একটা কাপড় ভিজিয়ে নিন। পোড়া ত্বকের উপর সেই বরফশীতল তোয়ালে রাখুন। কমবে পোড়া দাগ। সূত্র : আনন্দবাজার। কেএনইউ/  

ত্বকে অতিরিক্ত ফেসিয়ালে ৭ ক্ষতি হতে পারে   

ত্বককে ফর্সা ও কালো দাগ দূর করার জন্য ফেসিয়াল করা হয়। ফেসিয়ালের মাধ্যমে ত্বকের ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করা হয় এবং ত্বকের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। কিন্তু ত্বকের প্রকৃতি না বুঝে ফেসিয়াল করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত ফেসিয়ালের ফলে ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে অল্পতেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।        অতিরিক্ত ফেসিয়াল করা এবং নিয়ম না মেনে ফেসিয়াল করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে সেগুলো জেনে নেওয়া যাক- ১) ত্বক চুলকায় পার্লারে ফেসিয়াল করার সময় যেসব ক্রিম কিংবা পণ্য ব্যবহার করা হয় তাতে অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে। যেগুলো পরবর্তীতে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। কেমিক্যালগুলো ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। ফলে ত্বক জ্বালাপোড়া করে এবং চুলকায়।    ২) মুখের ত্বক ঝুলে যাওয়া অনেকেই আছেন যারা একদিন পর পর কিংবা প্রতিদিন ফেসিয়াল করতে চান, তাদের ত্বক অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। কেননা মুখের চামড়া খুবই নরম হয়ে থাকে, আর সেই ত্বকে যদি প্রতিদিন ম্যাসাজ করা হয় তাহলে চমড়া ঝুলে যাবে। এতে দ্রুত নিজেকে বার্ধক্য দেখাবে। ৩) ত্বকে অ্যালার্জি বাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়ালে ভিন্ন ভিন্ন পণ্য ব্যবহার করা হয়। অনেকেই আছেন যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে এসব পণ্য ব্যবহারে অ্যালার্জি আরও বেড়ে যায়। এতে ত্বকে লাল লাল ফুসকুড়িসহ আরও নানা সমস্যা হতে পারে। ৪) ত্বক বিবর্ণ হয়ে পড়ে নিয়মিত ফেসিয়াল করালে ত্বকের আর্দ্রতার উপস্থিতি কমে যায়। এতে বাইরের ত্বক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ত্বক অমসৃণ এবং বিবর্ণ হয়ে পড়ে। ৫) লালচে ভাব ত্বকে চলে আসে ফেসিয়ালের সময় এমন কিছু শক্তিশালী কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা আপনার ত্বকের সঙ্গে খাপ নাও খেতে পারে। এতে ত্বকে একটা লালভাব চলে আসে। এমনকি ত্বকের উজ্জ্বলতাও চলে যায়। ৬) ত্বক শুষ্কতা ভাব চলে আসে নিয়মিত ফেসিয়াল করলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা এবং ত্বকের পিএইচ-এর ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। ৭) ত্বকে বিভিন্ন ধরনের দাগ দেখা দিবে   মুখের কালো দাগ কমাতে অনেক সময় বিউটিশিয়ানরা তাদের নখ কিংবা নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এর বিপরীতে গেলেই কেটে যেতে পারে কিংবা আরও বড় কোন দাগ হতে পারে। কেএনইউ/এসি    

ত্বকের যত্নে ঘি!

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় রান্নাঘরে একটি প্রধানতম খাদ্য উপাদান হলো ঘি। ঘি এমন একটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যা ভিটামিন A, D, E এবং K দিয়ে ভরা। ঘি স্রেফ স্বাস্থ্যের জন্যই নয় বরং আপনার চুল এবং ত্বকের জন্যও ভালো ও উপকারী। আপনি যদি আপনার সৌন্দর্যের রুটিনে ঘি যোগ করতে চান তবে আপনার চুল, ঠোঁট এবং ত্বকের জন্য এ তিন উপায়ে ঘি ব্যবহার করতে পারেন। ঘি দিয়ে চুলের মাস্ক-একটি বাটির মধ্যে, সম পরিমাণ নারকেল তেলের সঙ্গে তিন থেকে চার টেবিল চামচ ঘি মেশান। এতে যোগ করুন এক টেবিল চামচ লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা। ভালো করে মিশিয়ে নিন। আপনার চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর এটি প্রয়োগ করুন। কমপক্ষে দুই ঘণ্টা এভাবেই রেখে দিন। এবং উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুল অনেক মসৃণ হবে এবং নরমও। ঠোঁটে লাগান ঘি-কম আঁচে একটি পাত্র বসিয়ে তাতে চার টেবিল চামচ ঘি যোগ করুন। গলে গেলে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং এক টেবিল চামচ মধু যোগ করুন। মিশ্রণটি তরল হয়ে গেলে, একটি ছোট সমতল পাত্রে ঢেলে নিয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। যখন এটি জমে শক্ত হয়ে যাবে তখন লিপবাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আবার ফ্রিজেই রেখে দেবেন। ঘি আপনার ঠোঁট নরম ও কোমল করে তোলে। বডিস্ক্রাবার ঘি-একটি বাটির মধ্যে চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচ ঘি, তিন টেবিল চামচ বাদামি চিনি মেশান। দু টেবিল চামচ মধু এবং অবশেষে ভ্যানিলা এসেন্সি এক চা চামচ যোগ করে দিন ওই মিশ্রণে। কাঁচের ভালো পাত্রে ফ্রিজের মধ্যে রেখে দিন। মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত এই মিশ্রণ চামড়ার শুষ্কতা দূর করে সতেজ করে তুলবে আপনার ত্বক। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি। এসএইচ/

চুল পড়া বন্ধে ঘরোয়া ৫ উপায়

মেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত চুল পড়া। পাতলা চুলে ফ্যাশন করা যায় না বলে মেয়েদের খুব মন খারাপ হয়। তাছাড়া অল্প চুলে সৌন্দর্য কম থাকে। তবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে পুষ্টির অভাব। এক্ষেত্রে খাওয়ার উপর সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করতে জেনে রাখুন কিছু ঘরোয়া উপায়- ১) মেহেদী, ডিমের সাদা অংশ ও টকদই মেহেদীর নির্যাস চুলের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, ডিম মাথার ত্বকে সঠিক পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে এবং টকদই চুল ও মাথার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে চুল পড়া বন্ধের সহায়তা করে। এক্ষেত্রে মেহেদী পাতা বাটা বা গুঁড়ো চুলের ঘনত্ব ও লম্বা অনুযায়ী নিন। এতে মেশাম একটি ডিমের সাদা অংশ এবং দুই টেবিল চামচ টকদই। যদি চুল অনেক শুষ্ক হয় তাহলে ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল দিয়ে ভালো করে হেয়ার প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে নিন এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর চুল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করলেই চুল পড়া অনেকাংশে কমে যাবে। ২) ভিটামিন ভিটামিন সি এবং বায়োটিনের মতো কিছু ভিটামিন চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। এই ভিটামিন খাবার থেকেও নিতে পারেন বা ভিটামিন ট্যাবলেট খেতে পারেন। খেতে পারেন লেবু জাতীয় ফল, ব্রকোলি এবং পালং শাক। এতে চুল উঠা বন্ধ হবে। ৩) স্ট্রেস কমাতে হবে সম্পর্ক, চাকরি বা আর্থিক বিষয়ে স্ট্রেস চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। স্ট্রেস কমাতে পারলে চুল সুস্থ হয়ে উঠবে। এর জন্য ইয়োগা বা মেডিটেশন করে দেখতে পারেন। ৪) অলিভ অয়েল, মধু ও দারুচিনি পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, এক চামচ দারুচিনি গুঁড়ো এবং তিন টেবিল চামচ মধু ব্যবহার করে আপনি একটি হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে পারেন। অলিভ অয়েল ও মধু একসাথে গরম করে নিন। এতে দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই মাস্ক মাথার তালুতে এবং চুলের গোড়ায় মাসাজ করে নিন। বাকি থাকলে তা চুলে মাখিয়ে নিন। এভাবে রাখুন ৪০ মিনিট। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  ৫) অ্যাপল সাইডার ভিনেগার চুল, ত্বক ও স্বাস্থ্যের উপকারে দারুণ একটি উপকরণ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিটিক এসিড থাকে। এক কাপ পানির সাথে ২-৪ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এরপর চুলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুল পড়া কমে যাবে। কেএনইউ/

ত্বক ও চুলের যত্নে নিম

নিমকে আশ্চর্য ওষধি বলা হয়। নিমের উপকারের কথা যত লেখা যায় ততই কম মনে হয়। নিমের মধ্যে ১৩০ টি ভিন্ন জৈবিক-সক্রিয় যৌগ রয়েছে যা ত্বক, চুল এবং রক্তের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক নিমের উপকারিতা। ১) ত্বক আয়ুর্বেদে সাধারণত নিমকে ব্রণের অন্যতম ওষধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সুন্দর, উজ্জ্বল ত্বকের জন্য নিম খুবই উপকারী। নিমের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ কমায়, ব্ল্যাক বা হোয়াইট হেডস কমাতেও সাহায্য করে। ক্ষত, জ্বালা, পোড়া এবং সংক্রমণের মতো ত্বকের সমস্যাও এই নিম দ্বারা সুস্থ হতে পারে। ২) চুল খুশকি এবং শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যা সমাধান করে নিম। আবহাওয়ার পরিবর্তন আপনার স্ক্যাল্পের পিএইচ ভারসাম্যকে নষ্ট করে। নিমপাতার অ্যান্টিব্যাটারিয়াল উপাদান শুষ্ক স্ক্যাল্প এবং খুশকি সমস্যা প্রতিহত করে। চুল মজবুত এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করার জন্যও নিম সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ। ৩) রক্তের শোধন পরিবর্তিত ঋতু শরীরে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর খাবার আর অগোছালো জীবনধারা তো আছেই। নিম প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং এর অন্য বৈশিষ্ট্য আছে যা কার্যকরী রক্ত ​পরিশোধক হিসাবে কাজ করে। লিভার এবং কিডনি - যা শরীর থেকে বর্জ্য এবং বিষক্রিয়াজনিত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, নিম সেই সব প্রত্যঙ্গের সুস্থতার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে। নিম শরীরে রক্ত ​​সঞ্চালনকেও সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিম গুরুত্বপূর্ণ। ৪) হজমের সহায়ক বলা হয় সতর্কতা সব সময়ই নিরাময়ের চেয়ে ভালো। তাই লিভার সুস্থা রাখতে নিম খুব উপকারী। বর্ষাকালে প্রায়ই পেটের নানান সমস্যা এবং সংক্রমণ ঘটে থাকে। এর মধ্যে পেটের কৃমি, বমি বমি ভাব, ব্যথা না কমা বা ঘা তারাতারি না শুকানো। তাই এই সমস্যা সমাধানে নিম ব্যবহার করতে পারেন। ৫) মৌখিক স্বাস্থ্য বেশিরভাগ টুথপেস্ট আর মাউথওয়াশে সক্রিয় উপাদানের হিসেবে নিম ব্যবহার করা হয়। বর্ষাকালে দাঁতের শিরশির বাড়ে। নিম মাড়ির যন্ত্রণা আর দাঁতের ব্যথার জন্য খুবই আরামদায়ক ওষুধ। নিমডাল দিয়ে ব্রাশ করলে মুখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল আর অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান থাকায় নিম মুখের বাঁ জিভের ঘা সারাতেও সাহায্য করে।  সূত্র: এনডিটিভি এমএইচ/একে/

ত্বক-চুলের যত্নে তেজপাতা

রান্নার স্বাদ ছাড়াও আপনার সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তুলতে উপকারী তেজপাতা,রান্নায় তেজপাতা দেওয়া মানে তার স্বাদ একেবারে বদলে যায়৷ সামান্য রান্নাও সুস্বাদু করে তোলার ক্ষমতা রাখে তেজপাতা৷ তবে তেজপাতার গুণাগুণ আপনার ত্বক এবং চুলের জন্যও উপকারী। চুলের খুসকি থেকে উকুন, ব্রুণ সবেতে মক্ষোম হল এই তেজপাতা৷ ব্রুণ দূর করতে এবং কমাতে সাহায্য করে তেজপাতা৷ ৮-১০ টি তেজপাতা গুঁড়া করে পানির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন৷ গ্যাসে কম আঁচে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন মিশ্রণটি৷ একটি জায়গায় ঢেকে রেখে দিন৷ তারপর ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন৷ ভালো করে ঠাণ্ডা হওয়া মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে মুখে লাগান৷ রেখে দেবেন না৷ পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার মতোই এই পানিটি দিয়ে ধুয়ে নিন৷ এক সপ্তাহ এই পদ্ধতিতে মুখ দেওয়ার পরই দেখবেন মুখ পরিষ্কারও হয়েছে এবং ব্রুণের সমস্যাও কমেছে৷ দাঁতের সাদাভাব ফিরিয়ে আনতে উপযোগী হল যে পেস্ট আপনি ব্যবহার করেন তার সঙ্গে তেজপাতার গুঁড়া অল্প করে মিশিয়ে নিন৷ এতে আপনার দাঁতের হলদে ভাব দূর হবে৷ অতি লজ্জ্বার ব্যাপার হল উকুন৷ মাথায় উকুন থাকলে সমস্যা তো বটেই লজ্জাও বটে৷ আগের পদ্ধতির মতোই রসটি তৈরি করে মাথার তালুতে ভালো করে মাসাজ করুন৷ ২-৩ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন৷ দেখবেন দুইদিনের মধ্যেই উকুন সেরে গেছে৷ উকুনের পাশাপাশি খুশকিও একই রকমভাবে লজ্জাজনক৷ তেজপাতা গুঁড়া করে টকদইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিন৷ একটি পেস্ট তৈরি হলে সেই পেস্ট চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন৷ স্ক্যাল্প পর্যন্ত যাতে পেস্টটি পৌঁছায়৷ কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে নিন ভালো করে৷ এক সপ্তাহ করার পরই খুশকি দূর হয়ে যাবে৷ সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

সস্তায় চুল প্রতিস্থাপনের নগরি তুরস্ক

বিশ্বে চুল প্রতিস্থাপনের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর জন্য মানুষ কাড়ি কাড়ি টাকাও খরচ করছে। তবে তুরস্কে তুলনামূলক সস্তায় এবং নিরাপদে চুল প্রতিস্থাপন করা হয়। তুরস্কে চুল প্রতিস্থাপন করতে আসা এরকম একজন হলেন পল রেডম্যান। যিনি ইস্তাম্বুলে এসেছেন  চুল প্রতিস্থাপন করার জন্য।তিনি মনে করেন এটি তার জীবনকে বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমি এটা লুকিয়ে রাখতে অপছন্দ করি এবং সবসময়েই নাড়াচাড়া করি। সেলুনে যেতেও আমার বিব্রত বোধ হয়। টাক মাথায় চুল প্রতিস্থাপন করতে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে এসেছেন। ব্রিটেনে এর খরচ আট হাজার ডলার হলেও তুরস্কে খরচ হবে দুই হাজার ডলার। ইস্তাম্বুল শহরকে বলা হচ্ছে চুল প্রতিস্থাপনের নগরী। এখানে প্রায় তিনশ-এর মত ক্লিনিক রয়েছে যেখানে চুল প্রতিস্থাপনের জন্য সার্জারি করা হয়। প্রতিবছর পলের মতো লাখ-লাখ মানুষ ইস্তাম্বুল নগরীতে আসে আট ঘন্টার এ অপারেশন করাতে। চুল প্রতিস্থাপনের কাজটি কষ্টকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সূঁচহীন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে অনুভূতিহীন করে নেওয়া হয়। এরপর মাথার পেছন থেকে চুলের গোঁড়ার অংশ সংগ্রহ করে যেসব জায়গায় চুল নেই সেখানে পুনরায় স্থাপন করা হয়। ভালো ফলাফল দেখতে হলে তাকে অন্তত ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্লাস্টিক সার্জনরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমের কারণে দিন দিন চুল প্রতিস্থাপনের চাহিদা বাড়ছে। ৪২ শতাংশ সার্জন বলছেন, মানুষ মুখের সার্জারি করছেন, কারণ তারা সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে সুন্দর দেখাতে চান। এ কারণেই হয়তো মানুষ এখন অনেক বেশি চেহারা সচেতন হয়ে উঠেছে। চুল প্রতিস্থাপনের একমাস পরে, পলের চুলের গোঁড়াগুলো পড়ে যেতে শুরু করেছে। নতুন চুল ভালোভাবে গজাতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। সার্জারি সম্পর্কে পল বলেন, আমি মাথার দিকে তাকিয়ে থাকি, এবং ভাবি আহা, এটা দেখতে ভালোই লাগছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা এমএইচ/  

অতিরিক্ত ধূমপান: ঠোঁটের রং ফেরানোর ঘরোয়া ৪ উপায়

অতিরিক্ত ধূমপানে বদলে যায় ঠোটের রং। লাল ঠোঁটে কালো আবরণ পড়ে যায়। স্বাভাবিক সৌন্দর‌্য হারিয়ৈ এ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। কয়েকটি ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলেই ফিরে পাওয়া যায় ঠোঁটের স্বাভাবিক রং। চিনি ও পাতিলেবুর রস কালো ঠোঁটে রং ফেরানোর আরও একটি উপায়ও রয়েছে। এক চামচ চিনির মধ্যে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস দিন। এটি ঠোঁটে লাগিয়ে দিন। কয়েক মিনিট এভাবে স্ক্রাব করুন। এরপর জল দিয়ে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন। গ্লিসারিন ও পাতিলেবু ময়শ্চারাইজ করার জন্য গ্লিসারিন খুব উপকারী। লেবু স্বাভাবিক স্ক্রাবার। আর যখন এই দু’টি উপাদান একসঙ্গে কাজ করবে তখন ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তাই এই প্যাকটি বাড়িতে তৈরি করে দেখতে পারেন। গ্লিসারিন ও পাতিলেবু একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। কয়েক মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে দিন। বীটরুট প্যাক বীট ঘষে তার রস লাগান ঠোঁটে। গোলাপি রং ফিরে আসবে। এছাড়া ঠোঁটের ফাটা ভাব কমাতেও সাহায্য করে বীট। তবে শুধু বীটের রস ব্যবহার না করে তার সঙ্গে পাতিলেবু মিশিয়েও ঠোঁটে মালিশ করতে পারেন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। বেশ কয়েকদিন এই প্যাক লাগালে ঠৌঁটের স্বাভাবিক রং ফিরে আসবে। টুথব্রাশ শুধু দাঁতের জন্য কিন্তু টুথব্রাশ নয়। আরও অনেক কাজে লাগে এটি। তার মধ্যে একটি হল ঠোঁটের যত্ন। ঠোঁটে একটু পেট্রলিয়াম জেলি লাগিয়ে ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ঘষুন। পাঁচ মিনিট প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান। এবার জল দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ফের পেট্রলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন। / এআর /

চুল পড়া রোধে তিন উপায়

ঋতু পরিবর্তন আর দূষণ- দুয়ের মিশেলে চুল পড়ায় সমস্যায় ভুগছে না এমন লোক পাওয়া ভার। আর যারা পুষ্ঠিহীনতা বিশেষ করে প্রোটিনের অভাবে ভুগছেন, তাদের চুল পড়া তো এক মহাচিন্তার কারণ। কিন্তু জানেন কি? নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব। আপনার চুলের যদি ক্ষতি হওয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে থাকে তবে কীভাবে চুলকে রক্ষা করবেন জেনে নিন।প্রোটিং সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণআমাদের হাড়, কার্টিলেজ, ত্বক, চুল এবং শরীরের অন্যান্য অংশের গঠনের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চুল প্রোটিন থেকেই তৈরি। আমাদের দেহের বিভিন্ন কোষের গঠনের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। দেহে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবে আমাদের চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।চুল পড়া ও অন্যান্য সমস্যা দূর করতে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন যোগ করুন। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য, বাদাম ইত্যাদি হল প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস। আপনার যদি মনে হয় আপনি দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণে অক্ষম তবে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।মাথায় ম্যাসাজ করানসপ্তাহে কমপক্ষে একদিন অপরিহার্য তেল দিয়ে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করান। নারকেল, আমন্ড, ভৃঙ্গরাজ বা ক্যাস্টার তেল আমাদের চুলের জন্য উপকারী। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন 5-10 মিনিট মাথায় ম্যাসাজ করান। এর ফলে মাথার ফলিকলগুলো অ্যাক্টিভ থাকবে এবং মাথার তালুতে পর্যাপ্ত রক্তসঞ্চালন সম্ভব হবে ও চুল পড়া বন্ধ হবে।গরম জলে চুল ধোয়া বন্ধ করুনআমরা জানি গরম জলে স্নান করতে দারুণ লাগে কিন্তু চুলের জন্য গরম জল অত্যন্ত ক্ষতিকর। গরম জল আমাদের চুল শুষ্ক করে দেয়। এর ফলে চুল পড়ার সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তাই চুল পরার সমস্যা দূর করার জন্য ঠাণ্ডা জলে চুল ধোয়া উচিত।এমজে/

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী ৫ ফেসিয়াল মাস্ক

তৈলাক্ত ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ত্বকের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া। ফলে ব্রণ থেকে শুরু করে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। তৈলাক্ত ত্বকের মানুষদের বারবার মুখ পরিষ্কার করতে হয়। রাসায়নিক সমৃদ্ধ বিভিন্ন ফেস মাস্ক ত্বকের অয়েলি ভাব কমায়। কিন্তু এগুলো ত্বকের ক্ষতিও করে। রাসায়নিকের ব্যবহারের ফলে যা ক্ষতি হয় তা তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষতির চেয়েও বেশি ভয়াবহ। তবে ত্বকের এই সমস্যা দূর করার কয়েকটা সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়ও আছে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি বিভিন্ন ফেসিয়াল মাস্ক ত্বকের  তৈলাক্তভাব দূর করে। নিম্নে এ রকম কিছু ফেসিয়াল মাস্ক নিয়ে আলোচনা করা হলো- ১) লেবু এবং দই ফেস মাস্ক লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে যা আমাদের ত্বক থেকে নির্গত হওয়া তেল প্রতিরোধে সাহায্য করে। দইতে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে যা প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করে। এই ফেস প্যাক ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে এবং ব্রণ দূর করে ত্বক সুন্দর করে।  এর জন্য আপনাকে ২ টেবিল চামচ দই এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মেশাতে হবে। ফেস প্যাক ব্রাশের সাহায্যে মুখে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট রেখে দিয়ে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর ওয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। সপ্তাহে একদিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর হবে। ২) মুলতানি মাটি এবং শশা ফেস মাস্ক মুলতানি মাটি ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত একটা প্রাচীন উপাদান। এটা ত্বকের ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল দূর করে। ব্রণর সমস্যা দূর করতে মুলতানি মাটি ব্যবহৃত হয়। আর শশায় ভিটামিন সি এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান আছে যা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করতে, সিবাম দূর করতে এবং ময়লা এবং মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। এর জন্য ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি আধ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর মধ্যে ১ টেবিল চামচ পাতি লেবুর রস এবং ২ টেবিল চামচ শশার রস যোগ করতে হবে। শুষ্কতা দূর করতে প্রয়োজনে দুধ ব্যবহার করতে পারেন। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিয়ে তারপর ঠাণ্ডা বা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। তেল এবং ময়লার পাশাপাশি এই ফেস প্যাক আপনার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন হতে সাহায্য করবে। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ২-৩ দিন এটা ব্যবহার করুন। ৩) কমলা লেবুর খোসার মাস্ক কমলা লেবুর খোসা আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করে। এর জন্য আপনাকে কমলা লেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করতে হবে। তারপর তার মধ্যে কিছুটা পানি, দুধ বা দই মেশান। তারপর মুখে লাগিয়ে রেখে দিন। এই মাস্ক ত্বকের তেল, ময়লা দূর করে এবং ত্বক করে তোলে উজ্জ্বল এবং মসৃণ। ৪) ডিমের সাদা অংশের মাস্ক ডিমের সাদা অংশ আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করার পাশাপাশি এটি আমাদের ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে। দইয়ের সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং ভাল ফল পাওয়া যায়। একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক টেবিল চামচ দই মেশান। আলাদা করা ডিমের কুসুম দিয়ে আপনি চুলের মাস্ক বানাতে পারেন। দই এবং সাদা অংশ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঈষদুষ্ণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন এই মাস্ক ব্যবহার করুন এবং পরিষ্কার, তেল বিহীন ত্বক পান। ৫) ওটস এবং অ্যাভোক্যাডো মাস্ক ওটস অত্যন্ত উপকারী। এটা আমাদের ত্বকের সিবাম দূর করে ফলে অতিরিক্ত তেল ময়লা দূর হয়। অ্যাভোক্যাডোতে প্রয়োজনীয় ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ওটসের সঙ্গে অ্যাভোক্যাডো মিশিয়ে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর হয় এবং অতিরিক্ত তেল দূর হয়।   এই মাস্ক তৈরির জন্য হাফ কাপ ওটমিল এবং অর্ধেকটা পাকা অ্যাভোক্যাডো প্রয়োজন। ওটস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন আর অ্যাভোক্যাডোর খোসা টুকরো করুন। পাঁচ মিনিট পর ভিজে ওটসের সঙ্গে চটকে অ্যাভোক্যাডোটা মিশিয়ে ফেলুন। এরপর সেই মিশ্রণ ১০-১৫ মিনিট মাস্ক হিসাবে মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে আপনি কোমল, মসৃণ ও পরিষ্কার ত্বক পাবেন। সূত্র: এনডিটিভি এমএইচ/একে/

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করুন ঘরোয়া ৪ উপায়ে

গরম মৌসুম চলছে। প্রচন্ড রোদে বাইরে বেরোলেই শরীর ঘেমে যায়। এভাবে কিছুক্ষণ থাকলে শরীরে চরম দুর্ঘন্ধ তৈরি হয়। কেমন জানি অস্বস্তি কাজ করে। শরীরে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির কারণেই ঘামে দুর্গন্ধ দেখা দেয়। ঘামের দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকেই বডি স্প্রে ব্যবহার করেন। এতে রয়েছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক। যা শরীরের বেশ ক্ষতি করে। ঘরোয়া উপায়েই ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার কৌশল জেনে নিন। মধু: একটি পাত্রে সামান্য উষ্ণ গরম জল নিয়ে তাতে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে রেখে দিন। গোসল শেষে মধু মিশ্রিত পানি গায়ে ঢেলে নিন। এই মিশ্রণটি ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করবে। বেকিং সোডা: বেকিং সোডা পেস্ট বানিয়ে বগলে লাগিয়ে নিন। এটি ঘামের কটূ গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়া বগলের অতিরিক্ত ঘাম রোধ করার জন্য বেকিং সোডার সঙ্গে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিতে পারেন। গোলাপজল: ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হল গোলাপজলের ব্যবহার। স্নানের জলের সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপজল মিশিয়ে নিয়ে স্নান করুন। এই উপায়টি দীর্ঘক্ষণ দেহকে ঘামের দুর্গন্ধ থেকে দূরে রাখে। এটি খুব কার্যকরী। নিম পাতা: নিম পাতার ব্যবহারে ঘামের দুর্গন্ধ রোধ করা যায় সহজেই। ঘামের দুর্গন্ধ হওয়ার জন্য শরীরে যে ব্যাকটেরিয়া দায়ি, সেই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করার জন্য নিম পাতা খুব উপকারী। কিছু নিমপাতা জলে দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। স্নান করার সময় এই জল ব্যবহার করুন। এই পদ্ধতি শরীরের টক্সিন রোধ করে এবং ঘামের কটূ গন্ধ দূরে রাখে। সূত্র : জিনিউজ। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি