ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ৩:২৯:৫৪

সাতক্ষীরায় ৮ বিঘা জমিজুড়ে বটগাছ (ভিডিও)

সাতক্ষীরায় ৮ বিঘা জমিজুড়ে বটগাছ (ভিডিও)

বনবিবির বটগাছ। বয়স তিনশ বছরের বেশি। অবস্থান আট বিঘা জমিতে। খুঁজে পাওয়া যায় না এর গোড়া। সাতক্ষীরার দেবহাটায় রহস্যঘেরা এই বৃক্ষ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করে অনেক মানুষ। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা সদর থেকে কিছু দূর গেলেই বনবিবির বটগাছের দেখা মিলবে। প্রায় ৮ বিঘা জমিজুড়ে এর অবস্থান। জনশ্র“তি আছে, তিনশ বছর আগে জমিদার ফনীভূষণ ম-ল গাছটিকে দেবী জ্ঞান করে, নাম রাখেন বনবিবির বটগাছ। তখন থেকেই শুরু হয় এর পূজা। এই বৃক্ষের মূল কোথায়, তা জানা সম্ভব হয়নি। এটি দেখতে প্রতিদিনই জড়ো হয় দূর-দূরান্তের মানুষ। বিশাল এই গাছ নিয়ে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। এর একটি হলো- যিনি এর ডাল কাটবেন, তিনি বিপদে পড়বেন। দীর্ঘদিন কেউ ডাল না কাটায়, বেড়েছে এর আকার-আয়তন। স্থানটি পর্যটকবান্ধব করতে উদ্যোগের কথা জানালেন জেলা প্রশাসক। সাতক্ষীরার এই বনবিবির বটগাছ ঘিরে প্রতিবছর বৈশাখে আয়োজন করা হয় মেলার।
গাজীপুরের গোলাপী পদ্মে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা (ভিডিও)

গোলাপী পদ্ম সৌন্দর্যে রআভা ছড়াচ্ছে গাজীপুরের চিলাই বিলে। জলজ ফুলের রাণীর আকর্ষণে রোজ সেখানে ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। বিলের আশপাশের এলাকা সংরক্ষণ করে পর্যটক-বান্ধব করে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের। বর্ষায় জন্ম; তবে শরতেই পূর্ণতা পায় জলজ ফুলের রাণী পদ্ম। গ্রামবাংলার বিল-ঝিলে প্রকৃতির শারদীয় স্নিগ্ধতা বাড়িয়ে দেয় বাহারী রঙের এ ফুল।  গাজীপুরের চিলাই বিলে যেনো ফুলেল চাদরের বিছানা পেতে রেখেছে প্রকৃতি। নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখতে রোজই বিলপাড়ে আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী। জেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরের বিলটি পর্যটকবান্ধব করার দাবি তাদের।  পর্যটন সম্ভাবনাময় এই এলাকাকে চিহ্নিত করে, সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিতে চিলাই বিল হতে পারে অন্যতম দর্শনীয় স্থান, এমনটা মনে করেন স্থানীয়রা।

তিতলির প্রভাবে কুয়াকাটায় কমেছে পর্যটক(ভিডিও)

ঘুর্ণিঝড় তিতলীর প্রভাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে কমেছে পর্যটক। থমকে  আছে পর্যটন নির্ভর সকল ব্যবসা-বাণিজ্য। পর্যটন শিল্প বিকাশে টেকসই উন্নয়নের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মত বিরল দৃশ্য উপভোগ করার একমাত্র নয়নাভিরাম লীলাভূমি এই সমূদ্র সৈকতটি। সুবিশাল এই সৈকত যেন বারাবার হাতছানি দেয় দেশ-বিদেশীপর্যটকদের। কিন্তু এখন প্রাকৃতিক বিরূপ আচারণে পর্যটক নেই বললেই চলে। গত ৪দিনে তিতলীর প্রভাবে পটুয়াখালীসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়য়ার কারনে হোটেল-মোটেল ব্যবসার ধসের কথা জানালেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্যোগকালীন সময়ে পর্যটকদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। পর্যটনকদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্যকরী ব্যবস্থা নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার দর্শণীয় স্থানগুলো ঘুরে আসতে চাইলে…

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় রয়েছে অনেক দর্শণীয় স্থপনা ও স্থান। এখানে মনোমুগ্ধকর অনেক কিছুই দেখার রেয়েছে। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এই জেলার সুনাম অনেক। জেলায় রয়েছে অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী ও দর্শণীয় স্থান। সময় ও সুযোগ থাকলে ঘুরে আসতে পারেন এই জেলার দর্শণীয় ও মনোমুদ্ধকর জায়গুলো।  সতীদাহ মন্দির   ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিদ্যাকুল ইউনিয়নের অন্যতম ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান এই মন্দির। আনুমানিক ১৭০০ সালের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে স্মৃতিসৌধ সতীদাহ মন্দির নির্মাণ করা হয়। সতীদাহ প্রথা ১৯২৯ সালের আগস্ট মাসের ১ তারিখ বাতিল করা করা হয়, তার আগে বিদ্যাকুট গ্রামের দেওয়ান বাড়ির ভরতদ্যাজ রায় বর্মন সম্প্রদায় ভূক্ত স্বর্গীয় কীর্ত্তি চন্দ্র রায় বর্মনের স্ত্রী স্বর্গীয় চন্দ্রকলা রায় বর্মন স্বামীর সঙ্গে সহমরণ করেন। যেভাবে যাবেন-  মন্দিরটি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থিত। উপজেলা সদর হতে মাত্র ১৫ টাকা নৌকা ভাড়া দিয়ে মেরকুটা বাজার পর্যন্ত যেতে হবে, সেখান থেকে ২০ টাকার রিকসা ভাড়া দিয়ে মন্দির পর্যন্ত যাওয়া যায় । নাসিরনগর মেদিনী হাওড় অঞ্চল ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার উপজেলা নাসির নগর একটি প্রাচীন জনপদ। এর অপূর্ব সৌন্দর্যের প্রতীক মেদিনী হাওড়। মেদিনী হাওড় পরিচিতি পেয়েছে মেদীর হাওড় নামে। বাল্যাজুড়ি, শিংজুড়ি, উত্তর বাল্যাসহ কয়েকটি ছোট ছোট হাওড়ের  মিলিত নাম মেদিনী হাওড়। অপূর্ব হাওড়ের আকর্ষণে সারা বছরই দর্শনার্থীরা এখনে ছুটে আসে। একেক ঋতুতে একেক সাজে সেজে উঠে হাওড়টি। তীব্র খরায় খাঁ খাঁ করা মাঠ সেজে উঠে বৃষ্টিস্নাত সবুজ গালিচায়। কখনো ঢেকে যায় কুয়াশার চাদরে। কখনোবা ভেসে যায় শ্রাবন ঢলে,  বর্ষায় হাওড়টি যখন তার পরিপূর্ণরুপ প্রকাশ করে তখন পাশের গ্রামগুলিকে মনে হয় পানির উপরে ভাসছে। আর রাতের বেলা মনে হয় আকাশের তারাগুলি হাওড়ের জলে মিট মিট করে জ্বলছে। মাছ ধরার ছোট ছোট নৌকাগুলি মাছ ধরা ব্যস্ত। রাতটা কখনো জোস্না মাখা আবার কখনো আলো আধাঁরী লুকোচুরি। ইচ্ছে করলে নাসিরনগর উপজেলায় একটি ডাক বাংলোতে থাকতে পারেন। যেভাবে যাবেন- ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদর হয়ে ডাক বাংলোর পাশে গেলেই দেখতে পাবেন বিশালাকার মেদিনী হাওড়। এমপি টিলা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ধরাভাঙ্গা গ্রামে এমপি টিলা অবস্থিত। প্রতিবছরই এখানে অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসেন। বিভিন্ন ঋতুতে এমপি টিলা বিভিন্ন সাজে সেজে উঠে বলে বছরের সব সময়ই এখানে দর্শনার্থীদের সমাগম হয়। এমপি টিলা খুব কাছ দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘনা নদী , তাই এমপি টিলা ভ্রমণে গেলে মেঘনা নদীর সৌন্দর্য দেখে আসতে ভুলবেন না। যেভাবে যাবেন: নবীনগর অথবা নরসিংদী হতে হতে লঞ্চে করে যাতায়াত করতে পারেন।   আরিফাইল মসজিদ মসজিদটি মোঘল আমলে ঐতিহাসি নিদর্শন। ৭০ ফুট দৈর্ঘ আর ২০ ফুট প্রস্থের মসজিদটির দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। মসজিদটির স্থাপত্য কলা কৌশল ও অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর কারণে দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো হবে। মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন দূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন। যেভাবে যাবেন: ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চত্বর থেকে প্রায় ১ কি.মি. পশ্চিমে মসজিদটির রয়েছে। তাই দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড মোড় এসে সেখান থেকে সিএনজি করে সরাসরি মসজিদ দেখতে যেতে পারেন। উপজেলা চত্বর থেকে রিকসা যোগে কিংবা একটু কষ্ট করে পায়ে হেটেও যেতে পারেন সেখানে। হাতিরপুল কথিত আছে দেওয়ানরা হাতির পিঠে করে এখান দিয়ে যাতায়াত করতে করতে যখন ক্লান্ত বোধ করতেন তখন পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম নিতেন, আর এই জন্যে পুলটি হাতির পুল নামে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় সৌন্দর্য পিপাষুরা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার উৎসাহীরাও বিকেলবেলার খানিকটা সময় এখানে এসে কাটিয়ে যান। অনেকেই পুল থেকে নিচে তাকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে নৌকা চলাচল করা দেখেন । যেভাবে যাবেন : ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বারিউড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০০ গজ পূর্বদিকে রাস্তার বামপাশেই হাতিরপুলটি রয়েছে। তাই দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড মোড় এসে সিএনজিতে করে সরাসরি যেতে পারেন উপজেলা চত্বর থেকে সিএনজিতে করেও হাতির পুল দেখতে যেতে পারেন । জয়কুমার জমিদার বাড়ি প্রায় ১২০ বছরের পুরুনো এই বুড়িশ্বরের জমিদার বাড়িতে বসবার করে মাত্র চারজন লোক। জায়গটা  এতই নির্জন যে কোন সাধারণ মানুষ এখানে যেতে সাহস দেখায় না। যারা সাহস করে যান তারা দেখতে পান বাড়ির পাশেই রয়েছে দুটি খুবই সুন্দর পুকুর। যেভাবে যাবেন: ব্রাক্ষণবাড়িয়ার গংগানগর থেকে নৌপথে যেতে পারেন। অথবা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বুড়িশ্বর থেকে ১০ মিনিট পায়ে হেটে জমিদার বাড়িতে যেতে পারেন৤ এছাড়া বুড়িশ্বর ইউনিয়নের যেকোন স্থান থেকে যাতায়াতের জন্য অটোরিকসা  অথবা সিএনজি পেয়ে যাবেন। কেল্লা শহীদ মাজার কেল্লা শহীদ মাজারটি কেল্লা শহীদের দরগাহ হিসেবে সমগ্র দেশব্যাপী পরিচিত। বছরের সব সময়ই মাজারের ভক্তগণ ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। আর প্রত্যেক বছর কেল্লা শহীদের মাজারে ওরসের সময় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এখানে। আর তাই প্রাণচঞ্চল পরিবেশ দেখতে ইচ্ছে হলে ওরশের সময় যাওয়া উত্তম, আর যদি চান নীরিবিলি পরিবেশে দেখতে তাহলে বছরের অন্য দেখে আসতে পারেন।  যেভাবে যাবেন: ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুরে মাজারটি অবস্থিত। কাউতলী থেকে লোকাল সিএনজিতে করে যাতায়াত করা যায়।   এসএইচ/

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভীড় (ভিডিও)

শরতের স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বাড়ছে পর্যটকদের ভীড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারও পর্যটক এখানে আসেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। প্রকৃতির মাঝে এসে পরিত্রাণ পায় যান্ত্রিক জীবন থেকে। মুগ্ধ হয় হরেক প্রজাতির বণ্যপ্রাণী দেখেও। উদ্যানটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে বন বিভাগ। ছোট বড় টিলা আর চা বাগানে ঘেরা অপার সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। টিলার ভেতর দিয়ে ৭টি ছড়া বয়ে যাওয়ায় নাম সাতছড়ি। হবিগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জ থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। চারপাশে চা বাগানে ঘেরা মনোরম পরিবেশে অবস্থান সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের। ভেতরে ৬০ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার থেকে বিশাল এ উদ্যানকে উপভোগ করা যায়। ব্যস্ত নাগরিক জীবন থেকে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে প্রতিদিনই এখানে আসেন অসংখ্য পর্যটক। সাতছড়িতে তাদের অভ্যর্থনা জানায় এখানকার বন্য প্রাণী আর মুক্ত বিহঙ্গের দল। নিরাপত্তার কারণে বিকেল ৫টায় বন্ধ করে দেয়া হয় বনের প্রবেশ পথ। তবে সাতছড়িকে পর্যটকবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর সাতছড়িকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ফেনীর দর্শণীয় স্থানগুলোতে যাবেন যেভাবে

ফেনী ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ জেলায় রয়েছে অনেক দর্শণীয় স্থান। বিজয় সিংহ দীঘি, রাজাঝীর দীঘি, শিলুয়ার শীল পাথর,  পাগলা মিঞাঁর মাজার, সোনাগাজী মুহুরী সেচ প্রকল্প, চৌধুরী বাড়ি মসজিদ, শমসের গাজী দিঘী, জংলী শাহ মাজার, আবদুল্লাহ শাহ মাজার, বিলোনিয়া স্থল বন্দর, শিলুয়ার শীল পাথরসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। সময়-সুযোগ থাকলে ঘুরে আসতে পারেন দর্শণীয় স্থানগুলো। বিজয় সিংহ দীঘি ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দিঘীর মধ্যে বিজয় সিংহ দীঘি অন্যতম। এটি অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত।  দিঘীর চৌপাড় খুব উঁচু ও বৃক্ষ শোভিত। অনেক বৃক্ষরোপন করায় এর পরিবেশ আরও দৃষ্টি নন্দন হয়েছে। বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের কীর্তি হয়ে আজো রয়েছে এ বিজয় সিংহ দীঘি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা বছরের সব সময়ই এ দিঘী দেখার জন্য ছুটে আসেন। যেভাবে যাবেন- ১) ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট কিংম্বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজিতে করে দিঘীটি দেখযে যাওয়া যায়।  অথবা  রিকসা যোগে মহিপাল ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে দক্ষিণ- পশ্চিম দিকে সার্কিট হাউজ রোড দিয়ে যেতে হবে। দীঘিটি ফেনী শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনেই অবস্থিত। রাজাঝীর দীঘি স্থানীয় ভাষায় ঝি বলতে কন্যাকে বুঝানো হয়। রাজা তার মেয়ের জন্য দীঘিটি খনন করায় রাজাঝীর দীঘি নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে যে ত্রিপুরা মহারাজের প্রভাবশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে রাজা প্রায় ৫/৭ শত বছর পূর্বে এ দীঘি খনন করেন । সুপ্রাচীন  দীঘির পাড়ে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ,অফিসার্স ছাড়াও শিশু পার্কসহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে। ১০.৩২ একর আয়তনের দীঘিটি ফেনীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি। ১৮৭৫ সালে ফেনী  মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে  তার সদর দফতর গড়ে তোলা হয়েছিল এই রাজাঝীর দীঘির পাড়ে। যেভাবে যাবেন- রেলওয়ে স্টেশন থেকে, মহিপাল বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকসায় অথবা সিএনজি করেই আপনি যেতে পারবেন রাজাঝীর দীঘিতে।  ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে এ দিঘীর অবস্থান শিলুয়ার শীল পাথর ব্রিটিশ আমল থেকে এ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নটি প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে আর্য সভ্যতা বিকাশের প্রমাণ পাওয়া যায় শিলামুর্তির গায়ে খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দে প্রচলিত ব্রাক্ষ্মী হরফের লিপি থেকে। যেভাবে যাবেন-  ফেনীর পূর্বভাগে ছাগলনাইয়া উপজেলায় শিলুয়া গ্রামে রয়েছে এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ। ফেনী সদর হতে সিএনজি, অটোরিক্সা এবং বাসে করে যেতে পারবেন আপনার। পাগলা মিঞাঁর মাজার প্রকৃত নাম ছিল সৈয়দ আমীর উদ্দিন (র.) পরিচিতি পেয়েছে দরবেশ পাগলা মিঞাঁ নামে। ১৮২৩ সালে ফাযিলপুর ছনুয়া গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৮৮৭ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে  মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার জন্মদিনে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারে উক্ত মাজারে উরশ অনুষ্টিত হয়। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক সমবেত হয় উরশের সময়। তিনি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর অপরিসীম প্রভাব রেখে গেছেন । তার আধ্যাত্নিক শক্তি সম্পর্কে ফেনী অঞ্চলে বহু জনশ্রুতি এখনো প্রচলিত আছে। বছরের প্রত্যেকটা দিন তার মাজারে মানুষ দলে দলে ফাতেহা পাঠ, জেয়ারত করে  আবার কেও আসেন  ‘‘মানত’’ করতে। যেভাবে যাবেন- ফেনী জিরো পয়েন্ট হতে, রেলওয়ে স্টেশন হতে সিএনজি অটোরিক্সা অথবা রিক্সা যোগে দর্শনীয় স্থানে যেতে পারবেন। সোনাগাজী মুহুরী সেচ প্রকল্প- গত আড়াই দশকে মুহুরী সেচ প্রকল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠে বিনোদন ও পিকনিক স্পট। দেশের বিভিন্ন স্থান শীত মৌসুমে থেকে দলে দলে ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড় বেশি থাকে। এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ।রয়েছে বাঁধ দিয়ে ঘেরা কৃত্রিম জলরাশি,বনায়ন,মাছের অভয়ারণ্য, পাখির কলকাকলি,  আর বাঁধের দুপাশে নীচ থেকে পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং উপরদিকে দুর্বা ঘাসের পরিপাটি বিছানা। এখানে নৌভ্রমণের সুব্যবস্থা রয়েছে। যেভাবে যাবেন-  ফেনী লালপোল হতে বাসে করে সোনাগাজী উপজেলা সদর পর্যন্ত যেতে হবে অতঃপর সোনাগাজী উপজেলা সদর হতে বাসে করে বাদামতলী পর্যন্ত গিয়ে বাদামতলী হতে রিকসা নিয়ে দর্শনীয় স্থানে পৌঁছা যায়। আর ফেনী মহিপাল মোড় হতে সিএনজি অটোরিক্সাকে করে দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়          এসএইচ/

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে ট্যুরিজম ফেস্ট 

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী ট্যুরিজম ফেস্ট। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত চলবে এ ট্যুরিজম ফেস্ট। ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় এবং এভিয়েশন আ্যন্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ-এটিজেএফবি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে এই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্যুরিজম ফেস্ট ২০১৮। উৎসবটির আয়োজক ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স। আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক। এ ছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বিকাল ৫টায় রয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে আদিবাসী ও ফোক নৃত্যের পাশাপাশি থাকছে লালন, বাউল ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের পরিবেশনা। একে//

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস

‘পর্যটনশিল্পের বিকাশে তথ্যপ্রযুক্তি’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৮টায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর রবীন্দ্রসরোবরে ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী ট্যুরিজম ফেস্ট। মাসিক পর্যটন বিচিত্রার আয়োজনে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী সপ্তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার।এসএ/  

বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন নাজমুন

নাজমুন নাহার সুপরিচিত একটি নাম। বিশেষ করে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে। সারা বিশ্ব ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি একের পর এক দেশ ভ্রমণ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন সারা বিশ্বে। তিনি বিশ্বাস করেন- ‘স্বপ্ন দেখলে আর তার জন্য কাজ করলে পৃথিবীতে সবই সম্ভব’। ইতোমধ্যে তিনি শতাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীর বাকি দেশগুলোও ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইনের।    তার জন্ম ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। মা তাহেরা আমিন। তিন ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই নাজমুন নাহার মেধাবী এবং বিনয়ী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশের পর কৃতিত্বের সহিত জেলা বৃত্তি নিয়ে উত্তীর্ণ হন। দালাল বাজার নবীণ কিশোর (এনকে) উচ্চ বিদ্যালয়  থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কিছু দিন সাংবাদিকতা করেন। পরে ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সুইডেনে যান। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন! এক আদর্শ পরিবারের ছোট সন্তান হিসেবে নাজমুনের বেড়ে ওঠা। বাবার উৎসাহ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি থেমে নেই লাল সবুজের পতাকা হাতে চলছেন দুর্বার গতিতে। বুকে তার বাংলাদেশে। হাতে লাল সবুজের পতাকা। বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি বাংলাদেশের কথা, মানবতার কথা, বিশ্ব শান্তির কথা। তিনি বিশ্বাস করেন `ওয়ান আর্থ ওয়ান ফ্যামিলি`! নাজমুন নাহার এ পর্যন্ত ১০৮টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি ঘুরে এসেছেন সেন্ট্রাল এশিয়ার কয়েকটি দেশে।  জর্জিয়া, আর্মেনিয়া কাজাখস্তান। নাজমুনের ভ্রমণ যাত্রা এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। তার ভ্রমণকৃত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ম্যাজিক্যাল সংখ্যায়। এই যাত্রার মধ্যে দিয়েই নাজমুনের শেষ হবে পুরো সেন্টাল এশিয়া ভ্রমণ।  ১১১তম ম্যাজিক্যাল সংখ্যার ভ্রমণ যাত্রায় উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাজমুন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্কুল, কলেজ ও সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনে তার মোটিভেশনাল স্পিসের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জমিয়েছেন। জনপ্রিয়তা ছুঁয়ে যাচ্ছে তার এই পৃথিবী ভ্রমণের গল্প। এযাবৎ তিনি পেয়েছেন বহু অ্যাওয়ার্ড। `ইন্সপেরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের` মাধ্যমে তিনি তার এই উদ্যোগকে বাংলাদেশে শিশু কিশোর, তরুণ-তরুণীদেরকে তাদের স্বপ্নের যাত্রা পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কাজ করে যাবেন। তরুণদের নিয়ে নাজমুনের এই অগ্রযাত্রার ভাবনা আলোকিত করবে আমাদের অনেক মানুষকেই। যে নারী মৃত্যু ভয়ে পিছিয়ে যাননি, বাংলাদেশের পতাকা হাতে জয় করে চলছেন এক এক করে প্রতিটি যাত্রা।  বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসাবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে। ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার বিশ্ব যাত্রার  শুরু।  ২০১৮ সালের ১ জুন  নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। তিনি বাংলাদেশের পতাকা হাতে জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী লিভিংস্টোন শহরে অবস্থিত পৃথিবীর বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ব্রিজের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে জিম্বাবুয়েতে পৌঁছান। ইতিহাসে তার শততম দেশ ভ্রমণের সাক্ষী হয়ে রইলো এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। নাজমুন কাছে শততম দেশ ভ্রমণের সেই অনুভূতি। তিনি বলেন, সেই দিন বাংলাদেশের পতাকা হাতে যেন আমি একা হাঁটিনি সেই দিন হেঁটেছিলো বাংলাদেশের ষোলকোটি মানুষ আমারসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো সমস্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা। সেই দিন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছি আমাদের মহান নেতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে।  শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছি যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন পতাকা তলে বেড়ে উঠেছি সেইসব যোদ্ধাদের। আর তাদের জন্যই আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা। এসএইচ/

ঘুরে আসতে পারেন কুমিল্লার দর্শণীয় স্থানগুলো

ভ্রমণপ্রেমীরা অনেক অর্থ ব্যয় করে অনেক দেশ ভ্রমণ করে থাকেন। বিশেষ করে অনেকেই দূরের কোনো দেশ ভ্রমণ করে থাকেন। কিন্তু ঢাকার কাছেই ভ্রমণ করার মতো অনেক দর্শণীয় স্থান রয়েছে কুমিল্লা জেলায়। মনকে চাঙা ও সতেজ করার জন্য ঘুরে আসতে পারেন এই দর্শণীয় স্থানগুলো। শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন শালবন বৌদ্ধ বিহার। লালমাই-ময়নামতি প্রত্নতন্ত্রের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এই বৌদ্ধ বিহার। এখানে ৭ম-১২শ শতকের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন রয়েছে। আয়াতাকার এই বিহারের প্রতিটা বাহুর দৈর্ঘ প্রায় ১৬৭ মিটার। চারদিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো নির্মাণ করা হয়েছে বিহারের চার দিকের বেষ্টনীর দিকে পিঠ করে। কক্ষের মাঝে দেয়ালগুলি ১.৫ মিটার চওয়া। বিহারের ভিতরে প্রবেশ এবং বাহিরে আসার জন্য একটা রাস্তায় রয়েছে। উত্তর ব্লকের মাঝমাঝি রয়েছে এই রাস্তাটি। কেন্দ্রীয় মন্তিরটি বিহারের মাঝে ছিল। বিহারের ১৫৫টি কক্ষ রয়েছে, যার সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল রয়েছে। কক্ষের দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে কুলুঙ্গী। কুলুঙ্গীতে রাখা হতো দেবদেবী তেলের প্রদীপসহ অনেক কিছুই। কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন, বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন। এখানে একটি হল ঘড় রয়েছে, যেটিকে খাবার ঘড় বলে ধারনা করা হয়। হল ঘড়ের অবস্থান প্রবেশ দ্বারের পাশে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে। হল ঘড়টি রয়েছে। চার দিকে দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত। এছাড়াও এখানে ৮টি তাম্রলিপি, প্রায় ৪শটি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ছাড়াও অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। কিভাবে যাওয়া যায়: দেশের যে কোন জেলা হতে প্রথমে কুমিল্লায় আসুন, কুমিল্লা থেকে ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। কুমিল্লা সেনানিবাস বাসট্যান্ড থেকে যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি, বাস, রিক্সা রয়েছে। গোমতী নদী গোমতীকে এক সময় কুমিল্লার দুঃখ বলে অনেকেই মনে করলেও এখন ধারনা ভিন্ন। নীরে উভয় তীরে বাঁধ থাকার ফলে কৃষি ও সেচ কাজে বয়ে এনেছে সুফল। নদীর উভর তীরে পাকা রাস্তা করা হয় তাহলে এটি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকাবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বুড়িচং, ব্রাক্ষ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশের অংশে নদীটির দৈর্ঘ্য ৮৩ কিলোমিটার। কিভাবে যাওয়া যায়: কুমিল্লার কোম্পানি বাজার থেকে বাস অথবা ট্যাক্সিযোগে যাওয়া যায়। দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। কবি তীর্থ দৌলতপুর (জাতীয় কবি কাজী নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত স্থান) কুমিল্লার কবি তীর্থ দৌলতপুর কাজী নজরুল ও তার স্ত্রী নার্গিস এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান । এখানে বসে কবি ১৬০টি গান ও ১২০ কবিতা রচনা করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ এছাড়াও দোলনচাপা, অগ্নিবীণা, ছায়ানট, ঝিঙ্গেফুল, পুবের হাওয়া প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। কুমিল্লা শহড় ও জেলার মুরাদনগরে পাঁচ বারে ১১ মাসের বেশি সময অবস্থান করেছিলেন। কুমিল্লায় কবির প্রথম আগমন ঘটে মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে, দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে নজরুল ছিলেন। প্রমীলা দেবীর বাড়ি, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে কবিতা গানের আসর, নানুয়া দীঘির পাড়, দারোগা বাড়ি, ঝাউতলায় গ্রেফতার হওয়া, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার, ইউছুফ স্কুল রোড, মহেশাঙ্গন, নবাব বাড়ি, ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের বাড়ি, নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও মাঠ, দক্ষিণ চর্থায় শচীন দেব বর্মনের বাড়ি, রানীর দীঘির পাড়, রেলস্টেশন, কোতোয়ালি থানা, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মুরাদনগরের দৌলতপুরসহ অসংখ্য স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কবির স্মৃতিচিহ্ন। ১৯৬২ কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কান্দিরপাড়-ধর্মপুর রেলস্টেশন সড়কের নামকরণ করেন নজরুল এভিনিউ। ১৯৮৩ সালে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহে তৎকালীন শ্বেতপাথরের ফলক লাগানো হয়। এসব ফলকে কবির গান, কবিতা, ছড়া ও বাণী তুলে ধরা হয়। নজরুল ইসলাম স্মরণে নির্মিত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন     কিভাবে যাওয়া যায়: বাসে ও ট্যাক্সিতে যাতায়াত করা যায়। উটখাড়া মাজার বাংলাদেশ ফকির-দরবেশ-আউলিয়ার দেশ । চট্রগ্রামে বার আউলিয়া, সিলেটে  তিনশত  ষাট আউলিয়া আর তিনশত আউলিয়ার বিচরণ ভূমি  কুমিল্লা। সম্ভবত- ত্রয়োদশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের প্রথম দিকে হজরত শাহজালাল (র.)এর শিষ্যদের প্রতি নির্দেশনা ছিল, তাদের এই বাহন, উটই তাদের দ্বীন প্রচার কেন্দ্র নির্দিষ্ট করে দেবে, তাদের উট যেখানে গিয়ে থেমে যাবে বা উটের পা বালি কিংবা মাটিতে গেড়ে যাবে সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন ও ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করবে। কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে এসে বালিতে উটের পা গেড়ে গিয়ে উট থেমে গেলে তারা এখানেই বসতি স্থাপন ও ইসলাম ধর্মপ্রচার শুরু করেন। বর্তমানে এলাহাবাদ গ্রামের ওই জায়গাটি উটখাড়া (গ্রামের পরিচয়ে) মাজার নামে পরিচিত এবং এ অঞ্চলে আল্লাহ্`র `আবাদ` প্রচার ও প্রসার শুরু করায় উটখাড়াসহ বিশাল এলাকা আল্লহর আবাদ থেকে কালক্রমে `এলাহাবাদ` নামে পরিচিতি লাভ করে। উটখাড়া মাজারটি  কুমিল্লা জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং দেবিদ্বার সদর থেকে পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিভিন্ন স্থাপনাসহ একটি দিঘি ও একাধিক ছোট পুকুর রয়েছে ও মাজারে ৪১টি কবর আছে। তবে বংশানুক্রমে হজরত শাহ কামাল (র.) ও হজরত শাহ জামাল (র.) এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। কিভাবে যাওয়া যায়: দেবিদ্বার শহর হতে রিকসা অথবা ট্যাক্সিযোগে যাওয়া যায়। বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন কুমিল্লার গনপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, যা কুমিল্লা টাউন হল নামে পরিচিতি পেয়েছে। পাঠাগারে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, রাজমালা থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মনীষীদের রচনাসমগ্র রয়েছে। এখানে  বাংলা ভাষার ২৪ হাজার বই ও ইংরেজি ভাষার ০৬ হাজার বই আছে। ৬৩টি আলমারি সজ্জিত আছে ৩০ হাজার বই দিয়ে। সদস্যরা একসঙ্গে এক সপ্তাহের জন্য ৩টি বই নিতে পারেন। টাউন হল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অধ্যয়নের ব্যবস্থা আছে। টাউন হলের নিচতলায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, এখানে আছে ৪৪টি জাতীয় আঞ্চলিক, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী। পুরোনো পত্রিকার কপি দেখতে ব্যাবস্থাও আছে। এ  টাউন হলে পদধূলি দিয়েছেন মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও অনেক মনীষি । কিভাবে যাওয়া যায়: রিক্সা অথবা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। শাহ সুজা মসজিদ-  শাহ সুজা মসজিদ ৩৫২ বছর ধরে স্ব মহিমায় টিকে আছে। মসজিদটি পাক ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম । এই মসজিদ  আয়তনের দিক দিয়ে খুব বেশী বড় না হলেও এর কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সার্বিক অবয়ব বহন করে আভিজাত্যের প্রতীক । এর বাহ্যিক কারুকাজ প্রমাণ করে তৎসময়ে এর প্রতিষ্ঠাতাদের স্রষ্টার প্রতি সুবিশাল আনুগত্য এবং রুচির পরিচায়ক। সাম্প্রতিকালে মসজিদের দুই প্রান্তে ২২ ফুট করে দুটি কক্ষ এবং সম্মুখ ভাগে ২৪ ফুট প্রশস্ত একটি বারান্দা নির্মাণ করায় আদি রূপ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সুউচ্চ মিনার। উত্তর দক্ষিণে লম্বা মসজিদের চার কোনে ৪টি অষ্ট কোনাকার মিনার ছিল। এগুলি মসজিদের ছাদের অনেক উপরে উঠে গেছে। সামনের দেয়ালে ছিল ৩টি দরজা এবং ভেতরে পশ্চিম দেওয়ালে ছিল ৩টি মেহরাব। কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথ ও মেহরাব অন্য দুটির চেয়ে অনেক বড়। কেন্দ্রীয় দরজাটির বাইরের দিকে কিছুটা প্রসারিত এবং দুপাশে আছে দুটি সরু গোলাকার মিনার। মসজিদের সম্মুখ ভাগে প্যানেল দ্বারা সুশোভিত ছিল এবং কার্নিশের উপরে ছিল ব্যাটলম্যান্ট, তার ওপরে ছিল একটি গম্বুজ। কুমিল্লার গোমতীর তীরের শাহ সুজা মসজিদটি পাক ভারত উপ মহাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অপূর্ব নিদর্শন। কিভাবে যাওয়া যায়: রিক্সা অথবা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী রাজধানী ঢাকা থেকে ১০০ মিলোমিটার দূরত্বে কুমিল্লার ময়নামতি-লালমাই এর পাহাড়ি অঞ্চলে কোটবাড়ির, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১৫৬ একর জমির উপর বিএআরডি ক্যাম্পাসটি অবস্থিত। সেখানে বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে রয়েছে অর্কিড গাছ, সবজি বাগান, নার্সারি, পার্ক। এখানকার রাস্তাগুলোর পাশে রয়েছে নয়নাভিরাম ছায়াবৃক্ষ। এলাকার ভৌগলিক চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি কারা হয়ছে এখানকার অফিস, বাংলো, ডরমিটরি ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাসভবনগুলো। সবুজে ঘেরা বিএআরডি ক্যাম্পাসটিতে বছরের সব সময়ই একধরনের প্রশান্তি বিরাজ করে। কিভাবে যাবেন- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী নামক স্থানে বার্ডের অবস্থান। বিএআরডি তে যেতে হলে ঢার গুলিস্থান থেকে বাসে উঠে কুমিল্লা সেনানিবাসে নেমে যাওয়াই ভাল কারন সড়কপথে বাসগুলোর গন্তব্য হল কুমিল্লা শহর আর বিএআরডি সেনানিবাসের কাছেই অবস্থিত। সেনানিবাস থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় বিএআরডিতে যেতে পারবেন যদিও অটোরিকশা চালক আপনার কাছে এর চেয়ে বেশি ভাড়া চাইতে পারে। এছাড়া সেনানিবাস থেকে বিএআরডি তে হিউম্যান হলার অথবা মিনিবাসে করে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। সেনানিবাস থেকে বিএআরডিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগবে। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি  ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বাংকুমিল্লাতে অবস্থিত কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম, এবং বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে, যার একটি কুমিল্লায় এবং অপরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। প্রতিবছর প্রচুর দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রতি সম্মান জানাতে এ সমাধিক্ষেত্রে আসেন। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, কুমিল্লাতে সমাহিত ব্যক্তিগণ যে সব দেশের বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সেগুলো হলো- যুক্তরাজ্য    ৩৫৭, কানাডা ১২, অস্ট্রেলিয়া    ১২, নিউজিল্যান্ড ০৪,  দক্ষিণ আফ্রিকা       ০১,  অবিভক্ত ভারত* ১৭৮,  রোডেশিয়া ০৩,  পূর্ব আফ্রিকা       ৫৬,  পশ্চিম , আফ্রিকা    ৮৬,  বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার)       ০১,  বেলজিয়াম  ০১,  পোল্যান্ড      ০১,  জাপান  ২৪, নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিতে পারবেন বেশ কিছুক্ষণ। এখানের পরিবেশটা সবুজে ঘেরা নানা ফুলগাছে বেষ্টিত। সময়সূচি- সমাধিস্থলটি সব সময়ই খুব সুন্দর করে সাজানো-গোছানো থাকে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন। এ ছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জন্য বছরে দুবার  তিন দিন করে মোট ছয়দিন  সমাধিস্থলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। ভেতরে প্রবেশের আগেই মূল ফটক থেকে কিছু নির্দেশাবলি দেওয়া আছে।  বসে গল্প করবেন না, গেট বন্ধ থাকলে খোলার জন্য অনুরোধ করা যাবে না, যাঁরা শায়িত আছেন তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে হবে, এখানের পরিবেশ নোংরা করবেন না, ভিতরে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করবেন না। যেভাবে যাবেন- কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। কুমিল্লা শহর হতে বাস অথবা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লাগামী বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী যেকোনো বাসে উঠে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে পর্যন্ত যেতে হবে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। সেখান থেকে উত্তরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে ১০ মিনিটের হাঁটার পথ, রিকশা অথবা অটোরিকশায়ও যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। কোথায় থাকবেন- আবাসিক হোটেলের জন্য আপনাকে কুমিল্লা শহরে যেতে হবে। নূর মানিকচর জামে মসজিদ প্রায় ৫০০ বছরের মসজিদটি দেবীদ্বারের সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ।  চুন-সুরকী দিয়ে নির্মিত মসজিদটির ভেতরে রয়েছে অপরুপ কারুকাজ। এই সমসজিদে এক সঙ্গে দাড়িয়ে প্রায় ২৫ লোক নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটি দৈর্ঘ্য ১০ ফুট বাই ৫ ফুট।  মসজিদের চারকোনায় চার গম্ভুজ, আর ছাদে রয়েছে ৭ টি গম্ভুজ। সবগুলি গম্বুজই ধ্বংশ প্রায়। কিভাবে যাওয়া যায়: নূরমাকিচর মসজিদটি কুমিল্লা শহর থেকে পশ্চিমে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে এবং `ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক`র নূরমানিকচর বাস স্টেশনের  থোকে আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। উভয় স্থান থেকে রিক্সা বা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। বায়তুল আজগর জামে মসজিদ মসজিদটির নির্মাণশৈলির দিক থেকে দেশের বিখ্যাত মসজিদগুলোর অন্যতম মসজিদ হিসেবে দাবি করা হয়। নতুন এবং পুরাতন নির্মাণ পদ্ধতির সংমিশ্রণে অসংখ্য ক্যালিওগ্রাফিতে আঁকা মসজিদটি দেশব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের এই মসজিদটির চার কোনায় ৮০ ফুট উচ্চতার ৪টি মিনার ও ০৭ টি গম্ভুজ রয়েছে। মসিজদে লিখা আল্লাহু শব্দটি অনেক দূর থেকেও দেখা যায়, জ্বল জ্বল করতে থাকে তারকার মতো। মসজিদের পাশে ফল ও ফুল বাগান এবং বিশালাকার জরাধার রয়েছে। মোঘল তুর্কী ও পারস্যের সংমিশ্রণে কারুকার্য করা এই মসজিদটিতে ইট, সিমেন্ট, বালির পাশাপাশি চিনামাটি ও টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। একটি আধুনিক মসজিদে যা কিছু থাকার কথা সবই এই মসজিদে আছে। কিভাবে যাওয়া যায়: মসজিদ`টি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে উত্তর-পশ্চিম কোনে দেবীদ্বার পৌর এলাকায় এবং দেবীদ্বার সদর থেকে ২` কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে গুনাইঘর গ্রামে অবস্থিত। দেবিদ্বার বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা বা সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। যেভাবে যাবেন- সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লাগামী বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী যেকোনো বাসে উঠে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে পর্যন্ত যেতে হবে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। সেখান থেকে আপনার গন্তেব্যে যাওয়ার জন্য সিএনজি / অটোক্সায় পেয়ে যাবেন। এসএইচ/        

বিয়ন্ড বাউন্ডারির দার্জিলিং ট্যুর

দেশের সীমানা পেরিয়ে সফলভাবে দার্জিলিং ট্যুর সম্পন্ন করেছে বিয়ন্ড বাউন্ডারি ট্র্রাভেলিং ক্লাব। সম্প্রতি ট্রাভেলিং এই ক্লাবটি সফলভাবে তাদের এই ট্যুর সম্পন্ন করেন। দেশের বাইরে এটি ছিল বিয়ন্ড বাউন্ডারি ক্লাবের ৪র্থ ট্যুর। তাদের এই ট্যুরে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন বিয়ন্ড বাউন্ডারির সম্মানিত সদস্য শাহজাদা বসুনিয়া, সহসভাপতি মো. ফরহাদ রেজা, জেনারেল সেক্রেটারি ও ট্যুর ম্যানেজার মনিরুজ্জামান চৌধুরী, ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি, শাহ মো. আবু সাইদসহ ১৮ জন মেম্বার অংশগ্রহণ করেন। দার্জিলিং ট্যুরে বিয়ন্ড বাউন্ডারি ভারতের দার্জিলিং, কালিমপংসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রসমূহে ভ্রমণ করেন। এমএইচ/

বাসি মধুচিন্দ্রমায় কলকতা…

২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ সাল নতুন বউকে ঘরে ঢুকিয়ে আনুষ্ঠানিক সেরে ছুটে গেলাম সস্মেলনস্থল এ এল খান হাই স্কুল প্রাঙ্গণ। মোহরা ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন। ওয়ার্ড ছাত্রলীগের দায়িত্ব ছেড়েই নিয়েছিলাম যুবলীগের দায়িত্ব। বিয়ের দিন যুবলীগের দায়িত্ব ছেড়ে পূর্ণ মনোযোগ জীবনে এবং জীবিকার দিকে। রাজনীতি কারো পেশা হতে পারে কখনও ভাবিনি এবং ভাবিনি ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সঙ্গে রেখেছি রাজনীতি। বিয়ের পর মুধুচিন্দ্রমা বলে একটা বিষয় আছে শুনছি, কিন্তু জীবনের টানে ছুটতে গিয়ে তার মর্মার্থ বুঝিনি। বছরখানেক পর ভাবলাম কলকাতায় জন্ম নেওয়া যে মেয়েকে বউ করেছি। তাকে নিয়ে তার জন্ম শহরটায় একবার ঘুরে আসি না কন? সাহস করে মাকে বলতেই অনুমতি মিলে গেলে। বড় ভাইও সম্মত। ভিসা হয়ে গেলো টিকিটও হলো, ঢাকা-কলকতা-ঢাকা। ঢাকাতে গিয়ে  শ্বশুর বাবাকে জানালাম, কলকতা যাবো, সঙ্গে আপনার মেয়েও, কথা বলতেই শ্বশুর বাবা খুশিতে দুহাত তুলে দোয়া করলেন। পাশে দাড়িয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের গল্প শোনালেন। কলকাতার পার্ক স্ট্রিট হয়ে পার্ক সার্কাসে উনাদের বাড়ি দেখে আসতে হবে। কলকাতা জাদুঘরে সময় নিতে দেখতে হবে। ভিটটোরিয়া মেমোরিয়াল হলে গিয়ে দেখে আসতে হবে। অবিভক্ত বাংলার ঐতিহ্যবাহি পারিবারের তালিকা। যেখানে উনাদের পরিবারের নাম ৪ নম্বরে। আরও কত কথা কত উপদেশ। সব মনোযোগ দিয়ে শুনে মনে হলো ওনার মন প্রাণে আছে আজও কোলকতায়। অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত কলকাতা যাত্রা। এয়ারপোর্ট নেমেই অ্যাস্বাসেডর ট্যাস্কিক্যাব চেপে সুদ্দর স্ট্রিট পূর্বনির্ধারিত হোটেল শিল্টন। রুমে টুকেই দেখি বউয়ের মনটা যেন কেমন মলিন। কিছু না বলেই চলে গেলেন পাশের নিউমার্কেট। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসলো হাতে বেড শিট, পিলেকাভাল লাক্স সাবান, টাওয়াল হারপিক, এসব নিয়ে। কিছু জিগ্যেস না কলেই বুঝে নিলাম পশ্চিমবঙ্গে বনেদি পরিবারেরর মেয়ের ১০০ রুপির হোটেল রুম পছন্দ হয়নি। মনটা অনেক ছোট হয়ে গেল। আজমির হয়ে দিল্লি ঘুরবো। তাই পকেটে যে পরিমাণ টাকা আছে তা দিয়ে এর চেয়ে ভালো হোটেল ওঠার সাহস হলো না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম ভবিয্যতে ভালো হোটেলে ওঠার সার্মথ্য না হওয়ার অব্দি আর বিদেশ যাবো না। আল্লাহ তা কবুল করছেন। এরপর থেকে পৃথিবীর যে প্রান্তেই গেছি ৩ তারকা মানের নিচে কোন হোটেলে থাকতে হয়নি। কলকাতা জাদুঘর পার্ক স্ট্রিক পার্ক সার্কাস ভিকটোরিয়া মেমোরিয়াল হল। ডালহৌসি রাইটার্স বিল্ডি, হাওড়া ব্রিজ ঘুরে-ঘুরে দেখা কলে স্ট্রিটে গিয়ে শরৎ রচনাবলী গীতাঞ্জলিসহ হরেক পদের বই কেনা মিউমার্কেট দাড়িয়ে সন্ধ্যায় ফুচকা খাওয়া, এভাবে দেখতে-দেখতে পাঁচ দিন শেষ হয়ে গেল। রাজধানী এক্সপ্রেস ধরে দীর্ঘ যাত্রা- দিল্লি, দিল্লি থেকে পিস্ক সিটি ট্রেন ধরে জয়পুর, এরপর বাস চেপে আজমির। বাস থেকে নামতেই বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। মাথায় টুপি, পরনে শেরওয়ানি, ২০-২২ বছরের একদল তরুণ আমাদের নিয়ে রীতিমত টানাটানি ফেলে দিল। বউ তো ভয়ে কাঁপছে। সাহস করে একটা রিকশা ডেকে উঠেই ভাঙা-ভাঙা হিন্দিতে বললাম, মুয়াল্লেম সায়েদ রহিমের বাড়ি যাবো। রিকশাওয়ালা যখন সায়েদ রহিমের বাড়ি যাবো। রিকশাওয়ালা যখন সায়েদ সাহেবের বাড়িতে পৌঁছে দিলেন তখন রাত ১০টা। পরে জানলাম বাসস্ট্যান্ডের ও যুবকগুলো বিভিন্ন মুয়াল্লেমের এজেন্ট!। সায়েদ সাহেবের বাড়িতে আতিথেয়তার অভাব অনুভব করিনি। তারপরও সকাল হতেই বিদায় নিয়ে পাশের একটি হোটেলে চলে এলাম। মনে হচ্ছিল যেন বেঁচে গেলাম। দুপুরের মধ্যে খাঁজা বাবার জিয়ারত করে বিকেলের ট্রেনে ফিরে এলাম পিক্স সিটিখ্যাত জয়পুর। স্টেশনে নামামাত্র সেই একই অভিজ্ঞতা। জনদশেক যুবক ঘিড়ে দাঁড়ালো। একজন বলে তো ইধার আও আরেকজন বলে ওধার যাও। রীতিমত টানা-হেঁচড়ার মধ্যে পড়ে গেলাম। পাশে পুলিশের সাহায্য চাইতে গেলে পুলিশ বেটা বলে ঘাবড়াও মাত? কোনো রকমে প্রায় দৌড়ে ওঠে গেলাম আটোতে। হোটেল বলতেই নিয়ে গেল কাছকাছি। এক হোটেলে অটো ড্রাইভার লোকটা ভালোই। মনের মতো দামও কম। ট্রেনের ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা জানাতেই হোটেল ম্যানেজার যা বলব, তার অর্থ হচ্ছে ওই ছেলেগুলো হোটেলের দালাল। আজমিরে ওরা মুয়াল্লেমের দালাল, জয়পুরে হোটেলের দালাল। আজমিরে ওরা মুয়াল্লেমের দালাল! দিল্লি গিয়ে কোন দালালের মখোমুখি হতে হয়, সেই চিন্তা করতে করতে পিস্ক সিটির পিস্ক রঙ আর মন দিয়ে দেখাই হল না । লেখক: চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল গ্রুপ অব)। এসএইচ/      

নেত্রনোনার দূর্গাপুরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা(ভিডিও)

পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এক উপজেলা নেত্রকোনার দূর্গাপুর। উচু- নিচু সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পুরো এলাকা। পূর্বে কলমাকান্দা ও পশ্চিমে ধোবাউড়াসহ তিন উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াত দূর্গাপুর দিয়ে। আছে পর্যটকদের আনাগোনাও। যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু উন্নয়ন পাল্টে দিতে পারে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা। ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনার একটি উপজেলা দুর্গাপুর। পুরো এলাকা জুড়ে দূর পাহাড়ের হাতছানি আর অন্যন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। হিন্দু- মুসলিমসহ গারো, হাজং, কোচ, বানাইসহ প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস দূর্গাপুরে। একইসাথে পাশের দুই উপজেলা কলমাকান্দা ও ধোবাউড়ার অধিবাসী আর পর্যটকদের আনাগোনা আছে এখানে। কৃষিপণ্য, পাথর, কয়লা, সাদামাটি আর পাহাড়ী বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ এই এলাকা। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে আছে ভোগান্তিও। ঢাকা থেকে নেত্রকোনার জারিয়া ঝাঞ্জাইল পর্যন্ত রেল লাইন আছে।  যদিও  দূর্গাপুর আর মাত্র ১২ কিলোমিটার। এই পথটুকুতে রেল সংযোগ হলে, পাল্টে যাবে দৃশ্যপট। শীঘ্রই রেল লাইন সম্প্রসারণ করে দূর্গাপুর পর্যন্ত নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটকদের যাত্রা সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হলে সমৃদ্ধ হবে  পর্যটন খাত,  এমনি প্রত্যাশা নেত্রকোনাবাসীর।

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি