ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:২৭:৫৩, বুধবার

কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনশন ভেঙ্গেছেন ঢাকা কলেজের সামনে আমরণ অনশনে থাকা চার শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ জুস পান করিয়ে এই চার শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান। অনশন ভাঙানোর আগে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ শিক্ষার্থীদের চলমান সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে রাতে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন কিছুদিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আরও জানান, সাত কলেজে শিক্ষার উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয় আজ বুধবার অধ্যক্ষ সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বৈঠকে সাত কলেজের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষকে আগামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সভায় উত্থাপন করতে পরামর্শ দেওয়া হবে। এর আগে ঢাকা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানেরা শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও তেমন কোনও আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  রাতে উপাধাক্ষ আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন। এই সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির সরকারি সাত কলেজের তীব্র সেশনজট, ত্রুটি পূর্ণ ফলাফল এবং ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতাসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে ঢাকা কলেজের গেটের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। শরুতে তিন শিক্ষার্থী দিয়ে অনশণ শরু হলেও বিকালে আরও এক শিক্ষার্থী যুক্ত হন। টিআর//

ইবিতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে বেতন ও ফি কমানোর দাবি

বেতন ও ভর্তি ফিসহ অন্যান্যা ফি কমানোর দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রশাসন ভবন অবরোধ করে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। আবরোধের সময় আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী গায়ে কেরোসিন তেল ঢালে। বেতন ফি কমানো না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় তারা। মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে তারা ক্যাম্পাসে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে সকাল ১০টা থেকে ১টা পযর্ন্ত প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক অবরোধ করে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন ভবন অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা, বাবার রক্ত যদি সেই চুষতে হবে, প্রাইভেট না হয়ে পাবলিক কেন তবে??, ছাত্রের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়, হৈ হৈ রৈ রৈ এত টাকা গেল কই, এক দফা এক দাবি বেতন ফি কমাতে হবে ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সেখানে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আনিছুর রহমান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান উপস্থিন হন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন শিক্ষকরা। পরে আন্দোলনকারীদের ১০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে উপাচার্যের আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারী দুই ছাত্র গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি ফিসহ অন্যান্যা ফি চারগুণ বৃদ্ধি করে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার করা হয়। এখন প্রতি বছর সাড়ে ৯ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। যা আগে ছিল ৩ হাজার। এত টাকা বহন করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে আমাদের অনেক বন্ধু ফরম ফিলাপ করতে পারছে না। এ সকল ফি না কমানো পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। পরে বেলা ১টার দিকে প্রশাসন ভবন থেকে সরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও কয়েক জন শিক্ষার্থী প্রধান ফটক সংলগ্ন ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের পাদদেশে অমরণ অনশন করেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পযর্ন্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ফি বৃদ্ধি করেছি। তাও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে কম। এটা একটা মিমাংসীত ইস্যু। এদিকে সকাল ১১টার সময় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অনসন চলবে জানায় শিক্ষার্থীরা। এ প্রতিবেদন লেখা পযর্ন্ত শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি যেহেতু যথাযথ প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে আসতে হবে। ফ্যাকাল্টি মিটিং হয়ে একাডেমিক সভায় আসলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবো। এসি  

মালয়েশিয়ায় কনস্যুলার সেবা পরিদর্শন করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার সেবা পরিদর্শন করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় মালয়েশিয়ার আম্পাং জালান বেছার দূতাবাসের পাসপোর্ট শাখা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রদূত মুহ. শহীদুল ইসলাম, পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার উইংপ্রধান মো. মশিউর রহমান তালুকদার, ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্ণেল শাহরিয়ার মুস্তাফিজ, সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। পরিদর্শনের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজে প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরি এবং নবায়ন থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে সেবা প্রদান করার জন্য হাইকমিশনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী সব সময় প্রস্তুত আছেন। আশাকরি এখান থেকে আপনাদের কখনই হতাশ হয়ে ফিরতে হবে না। এ সময় রাষ্ট্রদূত মুহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মিশন শ্রমিকবান্ধব হওয়ায় দূতাবাস ছাড়া দেশটির প্রত্যেকটি প্রদেশে প্রায় দেড় বছর যাবৎ আপনাদের সেবা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি মাসের শনি থেকে রোববার মালয়েশিয়ার জহুরবারু, পেনাং, মালাক্কা ও ক্লাংয়ে কনস্যুলার সেবা দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল পাসপোর্টের আবেদন কিভাবে করতে হয়, সে জন্য বসানো হয়েছে তথ্যসেবা কেন্দ্র। এ তথ্যসেবার মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারবে। এছাড়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে মোবাইলের দুইটা নম্বর যথাক্রমে ০১৬২৭৪৭৯১৭, ০১৭৬০১৪৪৮৪ নম্বরে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফোন দিয়ে তথ্য নিতে পারবে প্রবাসীরা। এসি  

দুয়েক দিনের মধ্যে আসছে ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি

চূড়ান্ত করা হয়েছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। নানা জল্পনা-কল্পনা ও বির্তকের অবসান ঘটিয়ে কমিটি তৈরি করেছে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সাবেক নেতাদের মধ্যে থাকা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে এ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান পদপ্রত্যাশি একাধিক নেতা। সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সাবেক কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিন ধরে সাবেক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়া ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্ব হয়। ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ( প্রধানমন্ত্রী) গত ১৮ এপ্রিল ৭ দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় নেতাদের তাগিদ দেন। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ৪ নেতা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করার পর এ সমঝোতা ও সমন্বয় হয়। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, সকলের সঙ্গে পরামর্শ করেই আমরা কমিটি প্রস্তুত করেছি। তারপরও বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ব্রুনাই থেকে সফর শেষে দেশে ফিরে সময় দিলেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষের দিকে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাই থেকে দেশে এসে সময় দিলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারব। এসি  

আপনি কি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছেন?

ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ছোট-বড় শহরের অনেক মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে গেলেই প্রকাশ্যে একশো বা দুইশো টাকার বিনিময়ে মোবাইলের মেমোরি ভর্তি করে গান, ভিডিও, চলচ্চিত্র নেয়া যায়। কিন্তু যিনি নিচ্ছেন, তিনি জানেন না যে, এভাবে গান বা ভিডিও নিয়ে তিনি আসলে কপিরাইট আইন ভঙ্গ করছেন। আর যে বিক্রেতা টাকার বিনিময়ে এগুলো দিচ্ছেন, তিনিও জানেন না যে, কতটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ তিনি করছেন। বাংলাদেশে কপিরাইট আইন রয়েছে ২০০০ সাল থেকে, কিন্তু সেই আইনের শক্ত প্রয়োগের অভাবে অহরহ আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এগুলোর নির্মাতারা। ফেসবুকে একজনের একাউন্টে তার তোলা একটি চমৎকার দেখে সেটা ডাউনলোড করে নিজের মোবাইলের ওয়ালপেপার তৈরি করলেন সুমন চৌধুরী (ছদ্মনাম)। সরল মনে এই কাজটি করলেও আসলে এর মাধ্যমে তিনি কপিরাইট আইন ভঙ্গ করলেন। কপিরাইট কী? মৌলিক সৃষ্টিকর্মের মালিকানা বা সত্ত্বাধিকারী নিশ্চিত করাই হচ্ছে কপিরাইট। সাহিত্য বা যেকোনো লেখা, শিল্পকর্ম, সংগীত, চলচ্চিত্র, স্থাপত্য, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, লেকচার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, নকশা অর্থাৎ যা কিছু মৌলিকভাবে তৈরি করা হবে, সবকিছুই কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কপিরাইট থাকলে বিনা অনুমতিতে সেগুলো ব্যবহার, পুনর্মুদ্রণ, অনুবাদ, প্রকাশ ইত্যাদি করা হলে এই আইনের আওতায় শাস্তি ও জরিমানা হতে পারে। ধরা যাক, একটি চলচ্চিত্র কেউ অবৈধভাবে ডাউনলোড করে বা বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে দেখলেন, তার মানে তিনি সেটির কপিরাইট লঙ্ঘন করলেন। বাংলাদেশেও কোন ব্যক্তি যদি কপিরাইট দপ্তরে আবেদন করে নিজের স্বত্বাধিকার তালিকাভুক্ত করতে হবে, তাহলেই ভবিষ্যতে কপিরাইট দাবি করা যাবে। কপিরাইটের মেয়াদ কপিরাইটেরও নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। যেমন সাহিত্য কর্মের জন্য কবি বা লেখকের মৃত্যুর পর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট থাকে। তবে চলচ্চিত্র বা আলোকচিত্রের ক্ষেত্রে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী বছর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট থাকবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কপিরাইটের মেয়াদ ৬০ বছর, তবে কখন থেকে সেই মেয়াদ শুরু হবে, বিভিন্ন ক্ষেত্র ভেদে সেটি আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশের কপিরাইট আইন বাংলাদেশে কপিরাইট আইন প্রথম তৈরি হয় ১৯৭৪ সালে। কিন্তু এরপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সিডি, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদির কারণে সৃষ্টিশীলতা ও কপিরাইট ধারণারও বদল হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০০ সালে নতুন একটি কপিরাইট আইন করা হয়, যা পরে ২০০৫ সালে সংশোধন হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এই আইনে সাহিত্যকর্ম, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, শিল্পকর্ম ও সাউন্ড রেকর্ডিং কপিরাইট আইনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়"। বাংলাদেশে কপিরাইট আইন লঙ্ঘনে কি ধরনের শাস্তি আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "চলচ্চিত্র বাদে চারটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার বছরের জেল ও দু লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ পাঁচ বছরের জেল"। বাংলাদেশের রেজিস্টার অফ কপিরাইটস জাফর আর চৌধুরী বলছেন, এই আইনে প্রতিকার পেতে হলে তাকে মেধা সম্পদটির অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। কোন ক্ষেত্রে কপিরাইট আইন বেশি লঙ্ঘন হচ্ছে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র আর সঙ্গীতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম বলেন, " গীতিকার কিংবা সুরকার বা শিল্পীর অনুমতি ছাড়া বিভিন্নভাবে তাদের গান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আইনের লঙ্ঘন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে হলেও সেটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে"। কিন্তু গীতিকার সুরকারের অনুমতি ছাড়া এখন অনেকক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে মূল সঙ্গীতকে। রিংটোন, ওয়ালপেপারে সেট হচ্ছে অর্থাৎ ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে মূল মালিকের অনুমতি ছাড়াই। এছাড়া ইন্টারনেট থেকে গান ডাউনলোড করে নেয়া, মোবাইল ফোন বা পেন ড্রাইভের ম্যাধমে গান বা চলচ্চিত্র পাইরেসির ফলে এর নির্মাতার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাইরেসি বইয়ের বিশাল একটি বাজার তৈরি হয়েছে ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায়। কম্পিউটার মার্কেটগুলোয় বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ সফটওয়্যারও পাইরেসি করা, যা কপিরাইটের লঙ্ঘন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বই বা সফটওয়্যার বিদেশী হওয়ায় কেউ কপিরাইট আইনে অভিযোগ করেননা বলে এগুলোর ব্যাপারে কোন ব্যবস্থাও নেয়া হয়না। তবে কিছুদিন আগে র‍্যাব-পুলিশ গান বা চলচ্চিত্রের পাইরেসির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেকগুলো দোকান বন্ধ করে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে সেই অভিযান থেমে যাওয়ার পর আবার শুরু হয়েছে পাইরেসির ব্যবসা। বিবিসি বাংলা এসি  

দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ব্রুনাই দারুস সালামে তাঁর তিনদিনের সরকারি সফর শেষে রাজধানী বন্দর সেরি বেগাবান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ’র আমন্ত্রনে সেখানে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় ৫টা ১৫ মিনিটে বন্দর সেরি বেগাবানের ব্রুনাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করে। ব্রুনাই এর প্রাথমিক সম্পদ এবং পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রী দাতো সেরি সেথিয়া আওয়াঙ্গ হাজী আলী বিন হাজী আপং এবং ব্রনাইয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) মাহমুদ হুসেইন বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটির হযরত শাহজালাল আস্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। এরআগে, প্রধানমন্ত্রী গত ২১ এপ্রিল তিনদিনের সরকারি সফরে ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাবানে পৌঁছেন। সফরকালে তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাসহ সুলতান এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশ-ব্রুনাই বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বেশকিছু কর্মসূচিতে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন এবং সেখানে আছরের নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি তাঁর সম্মানে ইস্তানা নুরুল ইমানে ব্রুনাইয়ের সুলতানের দেয়া এক ভোজসভায় অংশ নেন। গতকাল তিনি ব্রুনাইতে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সংবর্ধনায় যোগ দেন।আজ (মঙ্গলবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের রাজধানীতে কূটনৈতিক এলাকা জালান কেবানজাসানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি রয়েল রিগালিয়া মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। গতকাল ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরককারি বাসভবন নুরুল ইমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং এলএনজি সরবরাহ সংক্রান্ত ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাতটি চুক্তির মধ্যে- ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট। এগুলো হচ্ছে, কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড় সংক্রান্ত বিনিময় নোট। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, প্রস্তাবিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (সিয়াকো)-এর সদস্য হবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই। ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময় রোহিঙ্গা সংকটের ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সুলতানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য আমাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো উচিত’। এর পাশাপাশি সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ-ব্রুনাই বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিগুলো হচ্ছে, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এবং ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্রুনাই দারুস সালাম (এনসিসিআইবিডি)-এর মধ্যে সহযোগিতা, ব্রুনাই’র ডাইমেনশন স্ট্রাটা সেন্ডিরিয়াম বারহেড, বাংলাদেশের গ্রীণ পাওয়ার লিমিটেড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের মধ্যে পেট্রোলিয়াম জিয়োসাইন্সে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ প্রদানে যৌথ সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। অপর চুক্তিটি হচ্ছে, ব্রুনাইয়ের ঘানিম ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এবং বাংলাদেশের নিজাম গ্রুপ অব কোম্পানির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক। বাসস এসি  

পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে তিন শিক্ষার্থী

সেশনজট নিরসন, ত্রুটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করাসহ ৫ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন করছেন। অনশনকারী তিন শিক্ষার্থী হলেন- সাইফুল ইসলাম, আবু নোমান এবং সাকিব। এরা সকলেই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা কলেজের মূল গেটের সামনে অনশন করছেন তারা। আমরণ অনশনের অংশ নেয়া ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২০১৭-১৮ সেকশনের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা যেই দাবিগুলো নিয়ে এখানে এসেছে। সেই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা আমরণ অনশন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অনশন করবো। এদিকে আজ সকালে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়া সরকারি সাত কলেজে সেশনজট নিরসন, ত্রুটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করাসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ—১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে।২. ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে।৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন চাই।৪. প্রতি মাসে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে।৫. সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রামের চালু করা। টিআর/

বসানো হলো পদ্মাসেতুর ১১তম স্প্যান (ভিডিও)

বসানো হলো পদ্মাসেতুর ১১তম স্প্যান। এর ফলে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ১ হাজার ৬৫০ মিটার। জাজিরা প্রান্তে ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে স্প্যানটি। এপ্রিলের শেষ দিকে আরেকটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সকাল ৮টায় সেতুর জাজিরা প্রান্তে শুরু হয় ১১তম স্প্যান বসানোর কাজ। ৯টার দিকে, ভাসমান ক্রেনে থাকা স্প্যানটি বসানো হয় ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর। আগের বসানো কাঠামোর সঙ্গে মিলে এখন পদ্মাসেতুর দৈর্ঘ্য এক হাজার ৬শ’ ৫০ মিটার। যার মধ্যে জাজিরা প্রান্তের ৯টি স্প্যানে ১৩শ’ ৫০ মিটার এবং মাওয়ায় একটি অস্থায়ীসহ ২টি স্প্যান নিয়ে ৩শ’ মিটার। পিলার ও স্প্যানের পাশাপাশি সেতুতে রেলপথের জন্য স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে কাজ। এপ্রিলের শেষ দিকে আরেকটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যায় ধরা হয়েছে স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণে। মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দুই প্রান্তের টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক আর অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান।  

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ২ (ভিডিও)

রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে নিয়ন্ত্রণহীন বাসের বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দুইজন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে স্বাধীন পরিবহনের একটি বাস প্রাইভেট কার ও একটি স্টাফ বাসকে ধাক্কা দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাস ও চালককে আটক করেছে পুলিশ। সবাই ছুটছে নিজ নিজ গন্তব্যে। হঠাৎই শাহবাগ থেকে প্রেসক্লাবের দিকে আসা স্বাধীন পরিবহনের বেপরোয়া গতির বাস মৎসভবন মোড়ে বিপরীত দিকে থাকা অপর একটি বাস, একটি প্রাইভেটকার ও দুটি রিক্সাকে ধাক্কা দেয়। সেসময় আহত হয় চারজন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাস ও চালককে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। চালক জানান, শাহবাগ থেকেই বাসের ব্রেক কাজ করছিলো না। বেপরোয়া গতির স্বাধীন পরিবহনের একটি বাস পরমাণু শক্তি বিভাগের একটি স্টাফ বাস ও একটি প্রাইভেটকারকে মৎস ভবন মোড়ে ধাক্কা দেয়। আহত নূর আলম ও শরীফ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

ছোট স্বপ্ন থেকে সাহসী উদ্যোক্তা সাবরিনা জামান

সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার পথের বাঁকে থাকে ছোট ছোট অনেক গল্প। যে গল্প বিশ্বাসের, যে গল্প পরিশ্রমের, যে গল্প ধৈর্য্য ধারনের, যে গল্প সাহসীকতার। ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় পথচলা। নানা বাধা আসে চলার পথে। ঝুঁকি সামলে নিতে না নিতে আবার ঝুঁকি আসে। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, নিজের পেশা নিয়ে সংশয়, সফল হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়; একজন উদ্যোক্তার এসবগুলো অভিজ্ঞতাই অর্জিত হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এতসব বাঁধা পেরিয়ে সফল ও সাহসী উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করছেন ইমপ্যাক্ট পিআর-এর প্রধান নির্বাহী সাবরিনা জামান। দীর্ঘ ১২ বছর এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে কাজ করছেন। অর্জন করেছেন সুখ্যাতি। প্রথম দু’জনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠান শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অর্ধ-শতাধিক লোক কাজ করছে। রসুইঘরের বদলে এখন তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রতিষ্ঠানটি সামলানোর কাজে। তবে এই সাফল্যের পথটা মসৃণ ছিল না। নিজের সাহসী উদ্যোক্তা হয়ে উঠার সার্বিক বিষয় নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: ইমপ্যাক্ট পিআর বাংলাদেশে প্রথম পিআর এজেন্সি এটা সবাই জানে। প্রশ্ন হলো- কিভাবে এর পথচলা শুরু হয়- সাবরিনা জামান: প্রকৃত অর্থে পিআর যে আলাদা একটি সার্ভিস সেক্টর হতে পারে সেটা নিয়ে সর্বপ্রথম কাজ করে ইমপ্যাক্ট পিআর। শুরুতে আমাদের মাথায় চিন্তা আসে যে বাংলাদেশে এ ধরনের কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থ সংকটের কারণে আমরা নিজ থেকে কাজটা শুরু করতে পারেনি। কারণ আমি একটা ছোট চাকরি করি। যা দিয়ে এমন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব ছিলো না। যে কারণে আমরা উদ্যোক্তা খোঁজা শুরু করলাম। এই আইডিয়া নিয়ে দেশের বড় বড় কয়েকটি বিজ্ঞপনী সংস্থার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বোঝানোর চেষ্টা করলাম, দেশে পিআর নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তাদের কারো পক্ষেই দেশে পিআরের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়নি এবং পিআর এজেন্সি শুরুর বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বললেন- এর মাকের্ট তৈরি করা বাংলাদেশে কোন দিন সম্ভব নয়। এমন আচরণের কারণে শুরুতেই আমরা কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। একুশে টিভি অনলাইন: পিছিয়ে গিয়ে আবার কিভাবে সামনের দিকে এগুলেন? সাবরিনা জামান: তবে নিজের উপর বেশ আত্মবিশ্বাস ছিল।  মনে হয়েছে-এখানে সম্ভাবনাময় কিছু করার বেশ সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এই মাকের্টটা এমনিতেই পড়ে রয়েছে। কেউ এটা নিয়ে কাজ করছে না। পরিশেষে  আমি নিজে এবং বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রধান নির্বাহী এবং ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের সম্পাদক মো. শামসুর রহমান, নামকরা ব্যবসায়ী ইন্টারন্যাশনাল অফিস ইকুইপমেন্ট (আইওই) এর সিইও এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আফতাব উল ইসলাম এর সঙ্গে আলাপ করি। তিনি আইডিয়াটা স্বাদরে গ্রহণ করেন এবং পিআর এজেন্সি চালু করার জন্য সার্বিক সহায়তা করেন। এভাবে ২০০৫ সালে দু’জনের হাত ধরে দেশের প্রথম পিআর এজেন্সি হিসেবে ইমপ্যাক্ট পিআরের যাত্রা শুরু। তবে প্রথম ৫-৬ বছরের পথ চলা খুবই কঠিন ছিলো। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে, ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার গিয়ে বুঝাতে হয়েছে পিআর কি। তবুও তারা বুঝতে চেষ্টা করেনি। বড় বড় কোম্পানির কাছে গিয়ে পিআর সম্পর্কে ব্রিফ করতে হতো। কারণ বিষয়টি সবার কাছেই একেবারে নতুন ছিল। সেসময় এশিয়া এনার্জি নামে একটি বহুজাতিক জ্বালানী কোম্পানি এবং দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ বেক্সিমকো তাদের সবগুলো কোম্পানির পিআর এর জন্য ইমপ্যাক্ট পিআরকে দায়িত্ব দেয়। শুরুতে এই দুইটি কোম্পানি নিয়ে আমাদের পথচলা শুরু হয়। একুশে টিভি অনলাইন: বর্তমানে এই সেক্টরের অবস্থা কেমন? সাবরিনা জামান: বর্তমানেও আমরা অনেকগুলো বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হচ্ছি। এখনও মার্কেট বুঝে না পিআর কি। আপনি যদি ৫ বছর আগে প্রশ্ন করতেন পিআর কি, আমি বলতাম ভালো প্রেস রিলিজ লেখা পিআর এজেন্সির কাজ। একটা ভাল সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা করে দেওয়া পিআর এজেন্সির কাজ। গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দায়িত্ব পিআর। কিন্তু এই ধারণার পরিবর্তন এসেছে। এই জায়াগ থেকে আমরা অনেকটা বের হয়ে এসেছি। প্রথম কয়েকবছর ইমপ্যাক্ট পিআর একচেটিয়া ব্যবসা করে। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য পিআর এজেন্সি বাজারে আসলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এতএব আমরা কিছুটা হলেও এর গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। একুশে টিভি অনলাইন: দেশে এখন অনেকগুলো পিআর এজেন্সি। মূলত পিআর এর কাজ কি? সাবরিনা জামান: বর্তমানে আমরা পিআর এজেন্সির গুরুত্ব মাকের্টে তৈরি করেছি। একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন। ধরুন একুশে টিভি অনলাইনকে বাংলাদেশে ১ নম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসাবে দেখতে চায়। এজন্য পিআর এজেন্সি যা করা দরকার তাই করবে। পিআর এজেন্সি এক বছরের একটা কেলেন্ডার তৈরি করে দিবে। যেখানে এবছরে কিভাবে ১ নম্বর নিউজ পোর্টাল হবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকবে। আর পিআর এজেন্সির কাজ হলো এই এক বছরে সঠিক সেবা নিশ্চিত করে ইটিভি অনলাইনকে বাংলাদেশের ১ নম্বর নিউজ পোর্টাল হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করানো। তবে এমন সার্ভিসটা সব পিআর এজেন্সির মধ্যে নেই। সেক্টরটা এখনও নতুন এবং এর কোন প্ল্যাটফর্ম বা গাইডলাইন নেই। এ কারণে প্রতিটি পিআর অ্যাক্টিভিটির জন্য কোন স্টান্ডার্ড মূল্য নির্ধারিত হয়নি। একই কাজের জন্য একেক এজেন্সি একেক ধরণের অসম বাজেট দেয়। এতে ক্লায়েন্ট বা কোম্পানিগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়। এ কারণে পিআর এজেন্সিগুলোর একটি আলাদা প্লাটফর্ম থাকা জরুরি। একুশে টিভি অনলাইন: এই প্লাটফর্ম নিয়ে আপনাদের স্বপ্ন বা ভবিষৎ পরিকল্পনা কি? সাবরিনা জামান: আমাদের একটা ছোট স্বপ্ন আছে। সেটা হচ্ছে আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিটা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করাবো। বাংলাদেশে পিআর এজেন্সি হবে। যখন এই ইন্ডাস্ট্রিটার গুরুত্ব মানুষ ভালভাবে বুঝতে পারবে। তখন ইমপ্যাক্ট পিআর সকল পিআর এজেন্সি নিয়ে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করবে। যার মাধ্যমে সকল পিআর এজেন্সি পরিচালিত হবে। আমি অনেক বার এ ইন্ডাস্ট্রিটা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে চেয়েছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন আমার নেশার কারণে বার বার ফিরে এসেছি। বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৩০জন লোক কাজ করে। আশা করি আমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। একুশে টিভি অনলাইন: পড়ালেখার জন্য দেশের বাহিরে চলে গিয়েছিলেন। বিদেশে স্থায়ী না হয়ে দেশে কেন ফিরলেন? সাবরিনা জামান: এর মূল কারণ ছিল আমার বাবা-মা। দ্বিতীয় কারণ ছিল দেশপ্রেম, তৃতীয় আমার স্বপ্ন। যে স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দেয় না। আমি বিদেশ থেকেও ইমপ্যাক্ট পিআরে কাজ করতাম। আমি জন্মগতভাবে  ব্রিটেনের নাগরিক ছিলাম। চাইলে ওই দেশে অনেক ভালকিছু করতে পারতাম। শুধু আমার বাবা-মা, আমার দেশপ্রেম এবং আমার স্বপ্ন আমাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। একুশে টিভি অনলাইন: এমন পেশায় কেন আসলেন? সাবরিনা জামান: সত্যি কথা বলতে আমি নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে ভালবাসি। একইসঙ্গে আমি কথা বলতে খুব পছন্দ করি। এবং মানুষ আমার কথা শুনতেও পছন্দ করে। কাজেই মার্কেটিং, সেলস এসব জায়গাতেই আমার চলে যাওয়া উচিত। তবে পর্যটন, হসপিটালিটি বা সেলস-মার্কেটিং জগতে এসে ছোট-খাটো একটি চাকরি করেছি কিছুদিন। আমি যখন মাস্টার্স পরীক্ষা দেই তখন পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেখি, ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম তাদের সেলস টিমে লোক নেবে। সেখানে আমি ইন্টারভিউ দেই এবং চাকরিটা পাই। বাংলাদেশে কেএলএম-এর অপারেশন বেশ ছোট ছিল এবং তাদের সেলস আর মার্কেটিং একই টিম করতো। সেখানেও তাদের কথা সহজেই মানুষকে পৌঁছে দিতে পেরেছিলাম, এবং বুঝলাম গণসংযোগের পেশাটাই আমার জন্য উত্তম হবে। একুশে টিভি অনলাইন: এই সেক্টর সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে চান? সাবরিনা জামান: কাজ করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞাতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, এই পেশা সম্পর্কে অনেকে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। কিছু এজেন্সির নেতিবাচক চর্চার কারণে এমনটি হয়েছে। অনেকে ভাবেন টাকা দিয়ে কাজ করায় পিআর এজেন্সি। তবে যারা এমনটি করে তারা বেশিদিন মার্কেটে টিকতে পারে না। কাজের মূল্যায়ন সবখানে আছে। আমি দেখেছি, অনেক ক্লায়েন্ট আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়ে বাজেটের দিক বিবেচনা করে, আবার ফিরে এসেছে শুধুমাত্র কাজে মুগ্ধ হয়ে। অবাস্তব আশা দিয়ে কাজ নিয়ে ক্লায়েন্ট অসন্তুষ্ট করা কোন ভাবেই ঠিক নয়। এজন্যই প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে টিকে আছি। তবে এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেক্টরটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সে সঙ্গে বিদেশি বহুজাতিক পিআর এবং কমিউনিকেশন এজেন্সিগুলোর সঙ্গে দেশিও অনেক এজেন্সি সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানের পিআর চর্চা হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি বড় একটি সার্ভিস সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একুশে টিভি অনলাইন: একজন উদ্যোক্তা অর্থনৈতিক সংকট কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারে? সাবরিনা জামান: আমার মনে হয় উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন হয় না। স্বপ্ন বাস্তাবায়নে সংগ্রামের প্রয়োজন হয়। কোন ব্যক্তি যদি স্বপ্ন দেখে যে উদ্যোক্ত হতে চায়। তাহলে অবশ্যই তার অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে। পরিকল্পনার কথা বলতে হবে, যদি সে ব্যক্তি অর্থ দিতে রাজি হয় তাহলে পথে নামতে হবে। এই পথ আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। টিআর/এসি

‘ইন্দোনেশিয়া ফেয়ার’ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্দোনেশিয়া ফেয়ার ২০১৯’। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোমারনো। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ৭৫টির বেশি কোম্পানি তাদের পণ্য-সেবা নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। ইন্দোনেশিয়ান বাটিক, পোশাক, গহনা, হস্তশিল্প সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেভারেজ ও পর্যটনের উপর বিশেষ ছাড় থাকবে প্রদর্শনীতে। ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে শনিবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত, বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রদর্শনীতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত হবে বিজনেস ফোরাম, যেখানে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে তাদের অংশীদার (পার্টনার) খুঁজে নেবেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কী করে দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করা যায়। আমরা চাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে। রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোমারনো বলেন, বাংলাদেশের কাছে ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে এই প্রদর্শনী। সেই সঙ্গে আমরা চাই দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হোক। প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামরুস সোবহান। তিনি বলেন, প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি। মেলার দ্বিতীয় দিন বিজনেস ফোরামের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। টিআর/

বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুটি দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। মূল্যবোধ, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং অনেক অভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সম্মানে আজ ব্রুনাইয়ের সরকারি বাসভবন ইসতানা নূরুল ইমানে রয়েল ব্যাঙ্কুয়েট হলে সুলতান আলহাজ হাসানাল বোলকিয়ার দেয়া এক ভোজ সভায় এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই মহান দেশটি সফর করা তাঁর জন্য ছিল একটি বিশাল উপহার। এ কথা সত্য, এটি একটি শান্তির আবাস ভূমি। যেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শত শত বছরের ঐতিহ্য আধুনিকতাকেও হার মানিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী ১৯৯০ দশকের গোড়ার দিকে ব্রুনাইয়ে তার সফরের কথা স্মরণ করেন। সে সময়ে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ব্রুনাইয়ে তাঁর পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট করতে তিনি ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের আবাসিক মিশন পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেন। তিনি ১৯৯৯ সালে ঢাকায় আবাসিক মিশন করায় ব্রুনাইয়ের সুলতানকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এবং সামাজিক সেক্টরে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ আমাদেরকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশের মর্যাদা লাভের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে এক সঙ্গে কাজ করতে উভয় দেশই সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ব্যবসায়িক ফোরামে যোগ দেয়ার বিষয়টিতে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। দু’দেশের ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাইয়ের সুলতান আলহাজ হাসানাল বোলকিয়াকে তার ম্যাজেস্টি দুলি রাজা ইসতেরিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানান।

নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়া সরকারি সাত কলেজে সেশনজট নিরসন, ত্রুটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করাসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে মানববন্ধন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা, যা নীলক্ষেত ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এর পর সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এ সময় তারা সাত কলেজের নানা সমস্যা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘গণহারে আর ফেল নয়, যথাযথ রেজাল্ট চাই’, ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা নয়’, ‘গণহারে ফেল, ঢাবি তোমার খেল’, ‘বন্ধ কর অনাচার, সাত কলেজের আবদার’, ‘নিচ্ছ টাকা দিচ্ছ বাঁশ, সময় শেষে সর্বনাশ’- এসব স্লোগান দেয়া হয় বিক্ষোভে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৯ মাস সাত কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তার পর মানববন্ধন, অনশন কর্মসূচি সর্বশেষ সিদ্দিকের (তিতুমির কলের শিক্ষার্থী) চোঁখের বিনিময়ে ঢাবি আমাদের কার্যক্রম ধীরগতিতে শুরু করে। প্রায় দুই বছর দুই মাস অতিবাহিত হলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা কোনো সুফল ভোগ করতে পারছেন না। বিলাল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাবি আমাদের যে মান অনুযায়ী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে, সেই মান অনুযায়ী ক্লাসে পড়ানো হয় না। এমনও বিষয় আছে- পাঁচটির বেশি ক্লাস হয় না। নানা অজুহাতে ক্লাস বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের কাছে গেলে উনারা বলেন, ঢাবি তোমাদের সব কার্যক্রম করছে, আর ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে গেলে বলে সাত কলেজের শিক্ষকরা সভা করে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবেই শিক্ষাথীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ— ১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে। ২. ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে। ৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন চাই। ৪. প্রতিমাসে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে। ৫. সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রামের চালু করা। টিআর/

রাজধানীতে বাস ও দুটি প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

রাজধানীর মৎস ভবন এলাকায় বাস ও দুটি প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও দুজন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আজ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর মৎস ভবন এলাকায় সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, বাসের সাথে ধাক্কা লেগে একটি প্রাইভেট কার দুমড়েমুচড়ে গেছে। প্রাইভেট কারটির দরজা এবং যাত্রী আসনে রক্তে ভিজে গেছে। এ ছাড়া রাস্তার ওপরও কয়েক জায়গায় রক্তের ছোপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। টিআর/

ঢাবিকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে হাবিপ্রবি

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ফুটবল দল। সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। একের পর এক আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিতে থাকে তারা। অবশেষে প্রথমার্ধে দলের অধিনায়ক গোলাম সারোয়ার তাকওয়া-এর আক্রমনের সুফল পায় হাবিপ্রবি ফুটবল দল। প্রথম অর্ধে ১-০ ব্যবধান রেখে মাঠ ছাড়ে হাবিপ্রবি। বিরতি শেষে আক্রমণের ধার আরো বাড়ায় হাবিপ্রবি দল। মুহুর্মুহু আক্রমণে ঢাবি রক্ষণভাগকে তারা ব্যাস্ত করে রাখে। আক্রমণের এক মুহূর্তে দলের ক্যাপ্টেন তাকওয়া তার ২য় গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় বিজয়ের দিকে। অবশেষে ২-০ গোলে বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হাবিপ্রবি ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচে হেট্রিকসহ এখন পর্যন্ত দলের হয়ে ৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হচ্ছেন দলের এই তরুণ অধিনায়ক গোলাম সারোয়ার তাকওয়া । আগামী ২৪ তারিখে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বনাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার খেলায় যে দল জয় লাভ করবে সে দলের সাথে আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে হাবিপ্রবি ফুটবল দল । উল্লেখ্য,আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় হাবিপ্রবি ফুটবল দল গ্রুপ পর্বে ১ম খেলায় জবি ফুটবল দলকে ৬-০ গোলে, ২য় খেলায় কুয়েট ফুটবল দলকে ২-০ গোলে ও ৩য় খেলায় ঢাবি ফুটবল দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। এসি  

আপাতত গৃহবন্দি প্রিয়ঙ্কা সরকার

ভাল নেই অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার। সদ্য বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘বিবাহ অভিযান’-এর শুটিংয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন তিনি। বাঁ পায়ের হেয়ার লাইন ক্র্যাক নিয়ে আপাতত গৃহবন্দি। কী করে হল এ সব? বাড়িতে বসে ফোনে প্রিয়ঙ্কা বললেন, ‘‘দৌড়ানোর শট ছিল। পড়ে গেলাম। তার পরই এ সব হল। আপাতত বাড়িতে। কিন্তু আমি তো এক জায়গায় বসে থাকতেই পারি না। অথচ ডাক্তার বলেছে বিশ্রাম নিতে। ওষুধও চলছে। ডিপ্রেসড লাগছে বাড়িতে থেকে। শুটিং চলছিল, সামনে শো ছিল। সব ক্যানসেল করতে হল। তবে সহজের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারছি। ওর নতুন স্কুল শুরু হয়েছে। ফলে ওকে সময় দিতে পারছি অনেকটা।’’ বিরসা পরিচালিত এই ছবিতে প্রথমে মিমি চক্রবর্তীর অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়াতে তিনি নিজেই এ ছবি থেকে সরে দাঁড়ান। প্রিয়ঙ্কা ছাড়াও রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সরকার, অঙ্কুশ, নুসরত ফারিয়া এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যের অভিনয়ে সমৃদ্ধ এই ছবি। আনন্দবাজার এসি  

বিজয় একাত্তর হলে সিনিয়র-জুনিয়রদের হাতাহাতি!

শবে বরাতের খাবারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে সিনিয়র -জুনিয়রদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ১টার দিকে হলের অতিথি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিজয় একাত্তর হলের জিএস নাজমুল হাসান নিশান শবে বরাত উপলক্ষে রাতে তার কর্মীদের জন্য খাবারের আয়োজন করে। এরপর নিশানের অনুসারী চতুর্থ বর্ষের তোফায়েল আহমেদ সহ কয়েকজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য অতিথি কক্ষে ডাকে। তারপর অতিথি কক্ষে খেতে গেলে এদের মধ্যে কয়েকজন যারা হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের অনুসারী তারা খাবার না খেয়ে বের হতে চাইলে এক পর্যায়ে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মাঝে হাতাহাতি হয়। এই বিষয়ে বিজয় একাত্তর হলের জিএস নাজমুল হাসান নিশান বলেন, ‘শবে বরাত উপলক্ষে রাতে হলের সবার জন্য আমি খাবারের আয়োজন করেছিলাম। হলের সিনিয়ররা-জুনিয়রদের নিয়ে হলের গেস্ট রুমে খেতে গেলে এক পর্যায়ে হারুনের অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শাওন নামের তৃতীয় বর্ষের একজনকে মারধর করে। ঘটনা শুনে এরপর আমি নিচে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।’ এই বিষয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গেস্ট রুমে আমাদের সবার অনুসারীরাই ছিল। গেস্ট রুমে যখন চতুর্থ বষের শিক্ষার্থী তোফায়েল দ্বারা প্রথম বর্ষের যোবায়ের হোসেন জিদ্দাকে মারার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সেখানে যায়। এরপর মূলত তাদের সবার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।’ এই বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এজিএম শফিউল আলম ভূইয়াকে ফোন দিলে বলেন, ‘আমি ছুটিতে ঢাকার বাইরে আছি। ঘটনার বিষয়ে এখনো কিছু জানি না।’ এসি  

মাওয়ায় কাল বসবে ১১তম স্প্যান

জাজিরায় ১১তম স্প্যান বসবে কাল মঙ্গলবার। সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৩ ও ৩৪ নম্বর খুঁটির ওপর ‘৬সি’ নম্বর স্প্যানটি বসানো হবে।লিফটিং ফ্রেম ৩৫ নম্বর থেকে খুলে এনে ৩৪ নম্বর খুঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ‘৬সি’ নম্বর স্প্যান স্থাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজটি কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি নিয়ে রওয়ানা হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে এটি রওয়ানা হয়ে সাড়ে ১০টার দিকে ৩৩ ও ৩৪নং খুঁটির সামনে চলে আসে। স্প্যানবাহী জাহাজটি যথাযথ স্থানে নোঙ্গর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে স্প্যানটি খুঁটিতে বসানো হবে। এই স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর দৃশ্যমান হবে ১৬৫০ মিটার। মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ৩ হাজার ৬শ’ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই ভাসমান’ ক্রেনটি বহন করে নিয়ে যায়। ধুসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি কাল বসানো হবে। চলতি মাসেই ১২ নম্বর স্প্যানটিও বসানোর কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। তবে স্প্যানটি বসানো হবে অস্থায়ীভাবে। এই স্প্যানটি স্থায়ীভাবে বসবে ৩২ ও ৩৩ নম্বর খুঁটির ওপর। কিন্তু ৩২ নম্বর খুঁটিটি পুরোপুরি সম্পন্ন না হবার কারণে এটি ৩২ ও ৩৩ নম্বর খুঁটির কাছাকাছি কোনও খুঁটিতে অস্থায়ীভাবে বসানো হবে। কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ১২ নম্বর স্প্যানটি অস্থায়ীভাবে খুঁটির ওপর রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ওই প্রকৌশলী। এদিকে মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৫৫টি পাইল সম্পন্ন হয়ে গেছে। বাকি ৩৯টি পাইল খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থাপন করা হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। এই জুনের মধ্যে আরও ৮টি পাইল স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তারা জানান।সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে ২৩টি খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। বাকি ১৯টি খুঁটির কাজও চলছে। পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল এক প্রকোশলী জানান, সেতুর প্রস্তুত ২৩টি খুঁটি হলো ২, ৩, ৪, ৫, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২০, ২১, ২৩, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ নম্বর। স্ক্রীন গ্রাউটিং পদ্ধতিতে ৭টি করে পাইল হবে ১১টি খুঁটিতে। এগুলো হলো ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ নম্বর পিলারগুলো। পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্র জানান, ১ নম্বর পিলারের পাইল ক্যাপ হয়ে পিয়ারের এক লিফট শেষ হয়েছে। ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে পাইল ড্রাইভ স¤পন্ন হয়েছে। ১, ৬, ৭ নম্বর খুঁটি তিন মাস সময় লাগবে প্রস্তুত হতে। ৮ নম্বর খুঁটিতে ৭টি পাইলের মধ্যে দুইটি পাইল ড্রাইভ স¤পন্ন হয়েছে। ৯ নম্বর খুঁটির পাইল ক্যাপের কাজ চলছে। ১০ নম্বর খুঁটির পাইল ড্রাইভের কাজ চলছে। ১১ নম্বর খুঁটির কাজ শুরু হয়নি। ১২ নম্বর খুঁটির পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ চলছে। ২৪ নম্বর খুঁটির পাইল ক্যাপ শেষ। ২৫ নম্বর খুঁটির পাইল ক্যাপ শেষ হয়ে পিয়ারের দ্বিতীয় লিফট হয়েছে। ২৬, ২৭ নম্বর খুঁটির বিআইডব্লিউটিএ’র চ্যানেল, যেখানে এখনো কাজ শুরু হয়নি। ২৮ নম্বর খুঁটির ক্যাপের কাজ চলছে। ২৯, ৩০ নম্বর খুঁটির পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ চলছে। ৩১ নম্বর খুঁটির পাইলিং শেষে স্ক্রীন গ্রাউটিং হচ্ছে। ১ নম্বর খুঁটি থেকে ২০ নম্বর খুঁটি পর্যন্ত মাওয়া প্রান্তে আর বাকিগুলো জাজিরায় প্রান্তে। সূত্র জানায়, মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে ২১টি স্প্যান আছে। এর মধ্যে ১০টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এখন ১০টি স্প্যান আছে ইয়ার্ডে। এছাড়া ‘৬সি’ নম্বর স্প্যানটি ৩৩ ও ৩৪ নম্বর খুঁটির ওপর বসানোর জন্য নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুতে তিনটি হ্যামারের মধ্যে ১৯০০কিলোজুল ক্ষমতা সম্পন্ন একটি হ্যামার সার্ভিসিংয়ে আছে। অপর দু’টি হ্যামার কাজ করছে।২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং নদী শাসনের কাজ করছে সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি প্রতিষ্ঠানই চীনের। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। টিআর/

শ্রীলংকায় নিহত জায়ানের লাশ আসছে মঙ্গলবার

শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী (৮) মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। তার লাশ আগামীকাল মঙ্গলবার দেশে আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় শেখ সেলিমের বনানী বাসা থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি জানান, একই ঘটনায় শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী আহত হয়েছেন, যিনি কলম্বোতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রসঙ্গত শ্রীলংকায় রোববারের ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি মানুষ। বোমা হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি দেশটির সরকার। সকালে দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়। গতকাল ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। নিহতদের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী। আহত শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স কলম্বোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কলম্বোর একটি পাঁচতারকা হোটেলে দুই ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে ছিলেন শেখ সেলিম এমপির মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। সেখানেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এর আগে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলংকায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সেলিমের মেয়েজামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখানে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়েজামাই আহত হন এবং নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’ রোববার সন্ধ্যায় ব্রুনাইয়ের বন্দর সেরি বেগাবানের এম্পায়ার হোটেল অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের ইন্দেরা সামুদেরা বলরুমে ব্রুনাই দারুসসালামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাকে দেয়া এক গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার তীব্র নিন্দা এবং এই সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। টিআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি