ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩৫:৪৪

মন্ত্রীদের কাছে বয়সসীমা ৩৫-এর যৌক্তিকতা উপস্থাপন

চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করণের দাবীতে মন্ত্রীদের কাছে যৌক্তিকতা তুলে ধরলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। আজ শুক্রবার রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর কার্যালয়ে মন্ত্রীদের কাছে এ দাবি তুলে ধরা হয় বলে পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ ভূইয়াসহ ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে ৩৫ এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী মাসে চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ বছর করে দেওয়া হবে। এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা ইশতেহারে বয়স বৃদ্ধির কথা বলেছিলাম এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি তোমরা অপেক্ষা কর দ্রুত সময়ের মধ্যে বয়স বৃদ্ধি করা হবে। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তোমাদের বিষয়টি যৌক্তিক। আশা করি প্রধানমন্ত্রী অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করবেন। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। এটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। এসময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমিটির ) অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মারজুক হোসেন মিলন, সাহাব উদ্দীন শিহাব, বিজিত সিকদার, মুকুল হোসেন, ফুয়াদ আলম, হেমন্ত পাল, কামাল হোসেন, কাউসার আহমেদ সহ প্রমুখ। আরকে//

রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিতীয় ফ্রন্ট আরো বিপজ্জনক

অবর্ণনীয় ও সীমাহীন হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াওয়ের শিকার হয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কঠিন চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি মাথার ওপর পড়ছে জেনেও তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। লাখ লাখ নারী-শিশুসহ এ রকম অসহায় মানুষকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে রাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মানুষ আশ্রয় প্রদানসহ সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এ রকম অনাবিল হৃদয়স্পর্শী মানবিক ঔদার্যের পরিচয় বিশ্বে বিরল। বাঙালি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা এককথায় অভূতপূর্ব ও অসাধারণ। কিন্তু সংগত কারণেই প্রায় ১০ লাখ উদ্বাস্তু মানুষের বোঝা দীর্ঘদিন বহন করা বাংলাদেশের জন্য হবে অসহনীয় চ্যালেঞ্জ। তাই এদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক ফ্রন্টে বিরামহীন অক্লান্ত এক যুদ্ধসম পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। প্রথম ফ্রন্টের এই রাজনৈতিক কূটনৈতিক যুদ্ধে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন ও অগ্রগতি কম নয়, তবে বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন, জটিল, নির্মম ও হৃদয়হীন। বৃহৎ শক্তির ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতার কারণেই মূলত এই ফ্রন্টে চূড়ান্ত বিজয় অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব হবে বলে কেউ মনে করছে না। এ রকম পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকটের আরেকটি ফ্রন্ট সৃষ্টি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য প্রথম ফ্রন্ট থেকেও আরো বড় বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে, যার আলামত দিন যত যাচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে গঠিত গণতদন্ত কমিশন গত ২১ ও ২২ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। কমিশনের একজন সদস্য হিসেবে আমিও এই দলের সঙ্গে ছিলাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের জবানবন্দি নির্দিষ্ট ফরমে রেকর্ড করেছেন নিজ হাতে তিনজন আপিল বিভাগের বিচারপতিসহ অন্য সদস্যরা। আমি সমস্ত শিবির এলাকা ঘুরেছি। ছোট-বড়, বয়স্ক, পুরুষ-নারীসহ নির্যাতিত মানুষের কথা শুনেছি। বুঝতে চেষ্টা করেছি কেন তারা বাপ-দাদার ভিটামাটি ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। উখিয়ার স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে কী করে সম্ভব হচ্ছে, উখিয়ার কলেজ মাঠে অবস্থিত সেনাক্যাম্পে গিয়ে সে কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। কক্সবাজারের স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ বাহিনীসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। তাই দুই দিন রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানের অভিজ্ঞতার আলোকে কয়েকটি উদ্ঘাটিত তথ্য তুলে ধরি। এক. এবারের ঘটনার শুরুর দিকে বিরাজমান মানসিক বিপর্যয়কর ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা থেকে রোহিঙ্গাদের বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে অবিরাম সমন্বয়ের ফলে উদ্বাস্তুদের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটা শৃঙ্খলা ও স্বস্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুই. আগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু, যুবক, নারী-পুরুষের শ্রেণিবিন্যাসে দেখা যায় ১৫ থেকে ৩৫ বছরের যুবক ও পুরুষের সংখ্যা স্বাভাবিক থেকে অনেক কম। কেন কম, এ কথা জিজ্ঞাস করে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে যে উত্তর পেয়েছি তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মনে হয়েছে তারা কারো শেখানো কথা বলছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোহিঙ্গাদের মধ্যে বোধ হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ হবে। তিন. নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা পেলে তারা সবাই ফিরে যেতে ইচ্ছুক। চার. আরাকানের বাইরে মিয়ানমারের অন্যান্য জায়গায় অনেক মুসলমান আছে, যারা সবাই সমান অধিকার ভোগ করছে, তাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমি জানতে চেয়েছিলাম রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এত খ্যাপা কেন? তাদের উত্তর ছিল, বার্মিজরা মনে করে এত বিশালসংখ্যক রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এক জায়গায় থাকলে একদিন তারা আরাকানকে মিয়ানমার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এটাই বার্মিজদের রাগের বড় কারণ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর। ১৯৮৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বার্মিজ মূলস্রোতের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক কখনো অবিরাম মসৃণ ছিল না, এটা ঐতিহাসিক সত্য। এ রকম জটিল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টার বিপরীতে কিভাবে আরেকটি বড় সংকটের ফ্রন্ট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হতে চলেছে, সে সম্পর্কে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখসহ ছোট করে একটু বর্ণনা দিই। এক. গত সপ্তাহে কক্সবাজারের বালুখালীতে রোহিঙ্গাদের একটা সংঘবদ্ধ দল একজন বাঙালিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। ঘটনার পরম্পরা যা-ই হোক না কেন, এগুলো অশনিসংকেত দেয়। দুই. কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানালেন, কিছুদিন আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার নিজের পাঁচটি গরু মাঠে এনেছিল। এ সময় এক রোহিঙ্গা যুবক এসে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে ওই পাঁচটি গরুই তার এবং ওই স্থানীয় বাসিন্দা গরুগুলো জোর করে নিয়ে গেছে। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে রোহিঙ্গা যুবক কর্তৃক ওই অভিযোগটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্থানীয়দের ভয়, ভবিষ্যতে গরু-ছাগল বাড়ির বাইরে আনা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। তিন. এটি চট্টগ্রাম শহরের ঘটনা। এবারের সংকটটি শুরু হওয়ার প্রথম দিকে পাঁচ-ছয়জন রোহিঙ্গা যুবক কলিংবেল চেপে হঠাৎ এক বাড়িতে ঢুকে বাড়িতে অবস্থানকারী একমাত্র মহিলার কাছে দুপুরের খাবার দাবি করে। ওই সময়ে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা ও খাবারের সমস্যার কথা সবাই জানতেন। তাই মহিলা ভাত-তরকারি রান্না করে তাদের খেতে দেন। খাওয়া শেষ হতেই ওই যুবকরা পকেট থেকে ছুরি বের করে ওই মহিলাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে এবং হুমকি দেয় এখন থেকে এ বাড়ি তাদের। বুদ্ধিমান মহিলা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে তালা মেরে চিৎকার শুরু করলে পাড়া-প্রতিবেশী ও পুলিশ এসে ওই রোহিঙ্গা যুবকদের ধরে নিয়ে যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এই অল্প কয়েক দিনেই মনে হচ্ছে, তাদের উৎপাত, উচ্ছৃঙ্খলতা ও বেপরোয়া আচরণে স্থানীয়দের জীবন দুর্বিষসহ হয়ে উঠছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের অভিভাবকরা চিন্তিত, তাঁদের মেয়েরা আগের মতো অবাধে ও নিশ্চিন্তে যখন-তখন উখিয়া-টেকনাফের রাস্তা ও হাটবাজারে যাতায়াত করতে পারবে কি না। উখিয়া ও টেকনাফ, দুই উপজেলায় স্থানীয় লোকসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ, আর রোহিঙ্গা হয়ে গেছে প্রায় ১১ লাখ। তাই রোহিঙ্গারা সংঘবদ্ধ সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের জন্য মহাসংকটের সৃষ্টি করবে। ১৯৭৮ ও ১৯৯১-৯২ সালে আসা অনেক রোহিঙ্গা এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আগে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেমা্বরও হয়েছেন। স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী, অর্থলোভী প্রভাবশালী মানুষ এবং আগে আসা রোহিঙ্গারা মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদক, মানবপাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের মতো ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে অনেক আগে থেকে বহুমুখী অপতত্পরতায় লিপ্ত আছে। বর্তমান রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর চারদিক খোলা থাকায় অবাধে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠী। জামায়াত, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহ্রীরের কথা বেশি শোনা যায়। এরা নানা ধর্মীয় ছদ্মবেশে লিফলেটসহ বহুমুখী কৌশলে জিহাদিতন্ত্র ছড়াচ্ছে। এ রকম দু-একটি দল চিহ্নিত হওয়ায় তাদের ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকে রোহিঙ্গা ছদ্মবেশে ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থান করছে এমন কথাও শুনেছি। স্থানীয় কিছু সিনিয়র সাংবাদিক এটিকে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন। জানা যায়, এরা এমন কিছু জায়গা থেকে গোপন সহায়তা পাচ্ছে, যার জন্য এদের বিরুদ্ধে কিছু করার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। এটি নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করতে না পারলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। বিশ্বের বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূ-রাজনীতি ও করপোরেট স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও খেলার কাহিনি বড় নির্মম ও নিষ্ঠুর। সেখানে মানবতা শুধুই মুখের বুলি। ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষ বছরের পর বছর এবং যুগের পর যুগ ধরে শরণার্থী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কিন্তু বৃহৎ শক্তির মন টলছে না, যদিও মাঝেমধ্যে কুমিরের কান্না কাঁদতে দেখা যায়। রোহিঙ্গা সংকটের কারণ খুঁজতে মাটির ওপর থেকে শিকড় ধরে গভীরে যেতে থাকলে দেখা যাবে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ঘিরে দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তা না হলে এত বড় গণহত্যা চালাতে তারা সাহস পেত না। তাই এই রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতদের বাংলাদেশের ভূমিতে দীর্ঘদিন রাখতে হবে—এটা ধরেই সব পরিকল্পনা করা উচিত। বিদেশি শক্তির প্ররোচনা, স্থানীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় উগ্রবাদীদের অপতত্পরতা; বাস্তুচ্যুত হলেও জনসংখ্যার হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব কিছু মিলে যে চিত্রটি ক্রমান্বয়ে সামনে আসছে তা আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। সুতরাং বহুমুখী আশঙ্কা সংকটে রূপ নেওয়ার আগেই যত দ্রুত সম্ভব সব রোহিঙ্গাকে নির্দিষ্ট শিবিরে স্থানান্তর এবং সেখানে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন, যাতে দুরভিসন্ধিমূলক তত্পরতায় লিপ্ত গোষ্ঠী যেন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিপজ্জনক ফ্রন্ট সৃষ্টি করতে না পারে। লেখক : কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক sikder52@gmail.com আরকে//

যে কোন কিছুর বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই

ফরিদা খানম সাকি। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েকদিন পর আনুষ্ঠানিক ভাবে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।   ফরিদা খানম সাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তিনি নন; তার এক ভাই এবং এক বোনও মুক্তিযোদ্ধা। তার আপন সেজ মামা সাহাবুদ্দিন এসকান্দর ভুলু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সারাজীবন রাজনীতি করা মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ছিলেন শেখ হাসিনা`র ( বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) সহপাঠী। তার স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত দু`বার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ তার সাধাসিধে জীবন অন্য অনেকের চেয়ে ব্যতিক্রম করে তুলেছে তাকে। বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পাওয়া ফরিদা খানম সাকি`র ছাত্ররাজনীতির স্মৃতি মানেই ছয়দফা, গণঅভ্যুথান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছেন শেখ হাসিনাকে (আজকের প্রধানমন্ত্রী)। স্মৃতিচারন করতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমি যখন রোকেয়া হলে থাকি তখন তিনি (শেখ হাসিনা) রোকেয়া হলে খুব জনপ্রিয়। শুধু ছাত্রীরা নয়, হলে কর্মচারীরাও তাকে ভালবাসত। বঙ্গবন্ধু`র ইশারায় তখন দেশ চলে। অথচ তার মেয়ে হয়েও তিনি ছিলেন খুব সাধারণ। সবার সঙ্গে মিশতেন। অনেকে আশ্চর্য্য হয়ে যেত। এত বড় নেতার মেয়ে। অথচ কোন অহংকার নেই।   ফরিদা খানম সাকি বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, বঙ্গবন্ধু`র পরিবারের সবাই ছিল নিরহংকার ও সাধাসিধে ধরনের। ৩২ নাম্বারে গিয়ে আমরা কখনো না খেয়ে ফিরেছি এমন নজির নেই। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া ফরিদা খানম সাকি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন রাজনীতি করার। বঙ্গবন্ধু`র ছয় দফা যখন দেশের মানুষকে নতুন প্রেরণায় উজ্জ্বীবীত করে তখন থেকেই নোয়াখালীর মিটিং, মিছিলে বিচরণ শুরু করেন ফরিদা খানম সাকি। পরবর্তীতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন রোকেয়া হলে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ছিলেন তখনকার ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে নোয়াখালীর এমন কোন বাড়ী নেই যেখানে তিনি নৌকা`র পক্ষে গণসংযোগ চালাননি। ২৫ মার্চের কালো রাতে তিনি সহ সাতজন মেয়ে অনেকটা অলৌকিক ভাবে হানাদারদের বুলেট থেকে বেঁচে যান। কিন্তু নোয়াখালীতে তার পরিবার মনে করেছিল, সাকি আর বেঁচে নেই। তিনি জীবিত আছেন এখবরটি নিশ্চিত হতে তাদের সময় লেগেছিল এক সপ্তাহ। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফরিদা খানম সাকি বলেন, ২৫ মার্চের রাতে রোকেয়া হলের হাউস টিউটর সায়রা বেগম আমাদের সাতজন মেয়েকে স্টোররুমে লুকিয়ে রেখেছিলেন। নয়তো সেদিন আমাদের অবস্থা অন্যান্য হলের ছাত্রদের মতো হতো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফরিদা খানম সাকি ঢাকা শহরে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে নিজ এলাকা নোয়াখালীর মাইজদীতে চলে যান। সেখানে শহর থেকে যেসব মানুষ প্রাণ বাঁচাতে গ্রামে ফিরে যাচ্ছিল তাদের সেবায় লেগে যান। তাদের খাওয়ানো, তাদের জন্য পোশাক সংগ্রহ সহ নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেন। এরমধ্যে একদিন স্থানীয় রাজাকারদের প্ররোচনায় তার মামা সাহাবুদ্দিন এসকান্দর ভুলুকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যায় ও হত্যা করে। ফরিদা খানম সাকি তার এক বোন ও ভাই সহ ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। খুব অল্প সময়ে তিনি স্টেনগান চালানো আয়ত্ব করেন নিখুঁত ভাবে। পরবর্তীতে সেনবাগ গেরিলা যুদ্ধে তা ভাল কাজ দেয়। সেই সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর বেশ ক্ষতি হয়। নিজ বাসায় বসে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদা খানম সাকি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা, সেটাই আমার বড় পরিচয়। সংসদ সদস্য অনেকে আসবে যাবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আর আসবে না। ফরিদা খানম সাকি`র বিয়ে হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবারে। তার স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত দু`বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমবার ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয়বার ১৯৮৬ সালে। বঙ্গবন্ধু`র সরাসরি স্নেহ পাওয়া মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নোয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেকে ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন নোয়াখালী জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান। চৌমুহনী এসএ কলেজের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ পরবর্তী প্রেক্ষাপট স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে ফরিদা খানম সাকি বলেন, সে সময় জিয়াউর রহমান আমার স্বামীকে তার দলে যোগ দেওয়ার জন্য ও তার সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু আমার স্বামী তাতে রাজী না হওয়ায় বারবার তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। কারাগারে নির্যাতন চালানো হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী পণ করেছিলেন, মৃত্যু হলেও তিনি আদর্শ ত্যাগ করবেন না।  দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর রাজনীতির মাঠে থেকে এবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। কীভাবে প্রথম জানলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথম আমার স্বামীকে ফোন করে বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী ফরম নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মনোনয়ন পেয়েছি এ খবরটাও তিনি প্রথম আমার স্বামীকে ফোনে জানান। রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনে নানা চড়াই উৎরাই পার হয়েছেন। মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন। চুয়ান্ন বছরের রাজনীতিতে এই প্রথম স্বীকৃতি হিসেবে সংসদ সদস্য হলেন। এমন অবস্থায় কী ভাবছেন জানতে চাইলে ফরিদা খানম সাকি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যে কোন কিছুর বিনিময়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই। এসি     

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হলেন মাছুম পাটোয়ারী

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে তার পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়। পদোন্নতি দিয়ে তাকে মতিঝিল অফিসের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন। মাছুম পাটোয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসিসহ (অনার্স) এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। চাকরি জীবনে তিনি ব্যাংকিং সুপারভিশন, বৈদেশিক মুদ্রা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ও কৃষিঋণ বিভাগে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট ও রাজশাহী অফিসে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। আরকে//

রক্তদান বড় ত্যাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রক্তদান বড় ত্যাগ। একাত্তরে বীর মুক্তি সেনারা রক্ত দিয়েছিলেন বলেই আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তি সেনাদের  সেই মহান কাজটি করে যাচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। আর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই রক্তদাতারা মানবতার সেবা করে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মানুষের সেবাই স্রষ্ঠার প্রতি শ্রেষ্ঠ ইবাদত। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদরা যার যার অবস্থান থেকে সেবা করে যাচ্ছেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের রক্তের চাহিদা মেটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমন সেবার মাধ্যমেই দেশ ও জাতির ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার, নার্স ও সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসেছিল বলেই এতো বড় দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান সময়ের মানসিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন কোর্স মানসিক চাপ নিরাময়েও ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ১০, ২৫ ও ৫০ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন এমন ৩০০ জন রক্তদাতাকে সনদপত্র, আইডি কার্ড, সম্মাননা ক্রেস্ট ও মেডেল প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছা রক্তদাতা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং নিয়মিত রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া রোগী সানজিদা খাতুন মুন্নি তাদের অনুভূতি বর্ণনা করেন। স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম ইউনুস জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ লক্ষ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে যদি ৪ লক্ষ নিয়মিত রক্তদাতা থাকেন এবং তারা বছরে ২ বার রক্তদান করেন তবে সহজেই ৮ লক্ষ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব। বর্তমানে স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিমাণ মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ। দানকৃত রক্তের ৫৫-৬০ শতাংশ রক্তই আসে রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের কাছ থেকে আর বাকিটা আসে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে। অনুষ্ঠানের সভাপতি কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী রক্তদাতা ও অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রক্তদানের মতো এমন একটি মহৎ কাজের যথাযথ পুরস্কার মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়, স্রষ্টাই এর উপযুক্ত পুরস্কার দিতে পারেন। উল্লেখ্য, দেশে রক্ত ঘাটতির বিপুল চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গত এক যুগ ধরে এ পর্যন্ত ১০, ৫৯, ০০৩ ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহ করে মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রেখেছে কোয়ান্টাম। রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত উপকারী। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতারা দূরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকেন। তাদের হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও অনেক কম। আরকে//

যেভাবে বাংলাদেশে স্থায়ী হলো বিশ্ব ইজতেমা  

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঠিক লাগোয়া উত্তর দিকে টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে প্রতি বছর তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় শীতের সময়টায়।     সাধারণত ডিসেম্বরের কিংবা জানুয়ারি মাসে এই জমায়েত বাংলাদেশে হয়ে আসছে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে - লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে অংশ নেন, যাদের মধ্যে বিদেশীদের সংখ্যা উল্লেখ করার মতো। সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হজের পর এই বিশ্ব ইজতেমাকে বলা হয় মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় জমায়েত। এর গোড়াপত্তন হয় ভারতে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটা অর্ধ শতকের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশে হয়ে আসছে। বাংলাপিডিয়ায় দেয়া তথ্য বলছে, "১৯২৬ সালে হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) ভারতের উত্তর প্রদেশের মেওয়াত এলাকায় তাবলীগী আন্দোলনের গোড়াপত্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমার আয়োজন করেন। কালক্রমে তাবলীগ সমগ্র উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করে এবং উপমহাদেশের বাইরেও এর প্রভাব পড়ে। "১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সূত্র ধরে উপমহাদেশের ভারত, পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান - এ তিনটি অঞ্চলে মুসলমানদের অবস্থান সাপেক্ষে তাবলীগের তিনটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক এবং লেখক এ কে এম খাদেমুল হক বলেন, "১৯২০ সালের দিকে যখন এটি শুরু হয়েছিল তখন এটা একটা আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল ভারতে।" তিনি বলেন, "একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এটা শুরু হয়েছিল। তখন হিন্দুদের মধ্যে একটা সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম থেকে যারা অন্য ধর্মে চলে যাচ্ছিল তাদেরকে আবারো হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেয়ার একটা চেষ্টা ভারতবর্ষে বিভিন্ন প্রদেশে শুরু হয়। "এটা একটা প্রক্রিয়া যেটাকে আন্দোলন বলা যায়। তখন মুসলমানদের সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তখন দেওবন্দ কেন্দ্রীক মুসলমানেরা চিন্তা করলেন মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে আরো সচেতন করে তুলতে হবে। এটাকে আন্দোলন বলা হয় এই অর্থে যখন একটা গোষ্ঠী অনেক লোক নিয়ে একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে সংগঠিত করে তখন সেটা আন্দোলনের রূপ নেয়"। খাদেমুল হক বলেন, যখন এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল তখন ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ শাসন করছে। তাবলীগ জামাত কখনোই নিজেদেরকে ব্রিটিশ বিরোধী হিসেবে প্রচার করতে চায়নি। ইজতেমার বাংলাদেশ পর্ব শুরু যেভাবে: বাংলাদেশে এর সূত্রপাত হয় চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে। চট্টগ্রামের সমুদ্রবন্দর দিয়ে হজে যাওয়ার জন্য মানুষ সেখানকার হজ ক্যাম্পে জড়ো হতেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আঞ্চলিক ইজতেমার প্রক্রিয়াটা। বাংলাদেশে প্রথম তাবলীগের জামাত নিয়ে আসেন তাবলীগ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচারের কাজ করছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। ভারত এবং পাকিস্তান দুটি আলাদা দেশ হওয়ার পর মোহাম্মদ ইউসুফ দুই দেশেই জামাত পাঠানো শুরু করলেন ইজতেমা আয়োজনের জন্য। তবে তখন ছোট আকারে ইজতেমা হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, "১৯৪৬ সালে বাংলাদেশে ঢাকার রমনা পার্কের কাছে কাকরাইল মসজিদ - যেটা সে সময় মালওয়ালি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল - সেখানে এই সম্মেলনটা হয়। এরপরে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে"। বাংলাদেশ যখন পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পরিচিত ছিল, তখন ১৯৬৫ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে একটি জামাত আসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মো. খান শাহাবুদ্দিন নাফিস। তখনকার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খান শাহাবুদ্দিন নাফিস বর্তমানে তাবলীগ জামাতের শুরা কমিটির একজন উপদেষ্টা। এখন যেভাবে বিদেশ থেকে প্রচুর মুসলমান ইজতেমায় অংশ নেন, সেই সময়ে অবশ্য অন্যান্য দেশ থেকে লোকজন আসেনি বলে জানান খান শাহাবুদ্দিন নাফিস। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছিল, আর ছিল গ্রামের মানুষ"। ঢাকার পর মোহাম্মদ ইউসুফ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন। খান শাহাবুদ্দিন নাফিস বলেন, তাবলীগের জমায়েতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে ইজতেমা হয় টঙ্গীর মনসুর জুট মিলের কাছে। এর পরের বছর ঠিক করা হয় ইজতেমা হবে টঙ্গীর তুরাগ নদের কাছে। আরো পরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান টঙ্গীতেই ১৬০ একর জমি নির্ধারণ করে দেন ইজতেমার জন্য, জানাচ্ছিলেন খান শাহাবুদ্দিন নাফিস। বিশ্ব ইজতেমা নাম কীভাবে হল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষক ড. আব্দুর রশিদ বলছিলেন, `বিশ্ব ইজতেমা` তাবলীগের দেয়া নাম নয়, বরং তাবলীগের লোকজন এটাকে বার্ষিক সম্মেলন বলতেন। খান শাহাবুদ্দিন নাফিস জানান, তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে বিদেশীদের পাঠানো শুরু হয় এক সময়। "যখন বিদেশ থেকে লোক আসা শুরু করলো, তখন গ্রামের লোক এটাকে বিশ্ব ইজতেমা বলা শুরু করলো। শুরার একজন প্রবীণ ব্যক্তি বললেন জনগণের চাহিদার উপর আল্লাহতায়ালা বিশ্ব ইজতেমা করে দিয়েছেন"। `বিশ্ব ইজতেমা` নাম নিয়ে তাবলীগ জামাতের মধ্যেই শুরুতে বিতর্ক ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব ইজতেমা নামটি প্রচলিত হয়ে যায়। কেন বাংলাদেশ বিশ্ব ইজতেমার স্থান হিসেবে নির্ধারিত হল? ইজতেমার ধারণা শুরু হয়েছিল ভারতে। ভারত ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ইজতেমা হতো। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এটি ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোন দেশে না হয়ে বাংলাদেশেই স্থায়ী হয়েছে। খান শাহাবুদ্দিন নাফিস বলছিলেন, "এর একটা কারণ ছিল সে সময়ে বাংলাদেশের ভিসা পাওয়া সহজ ছিল। ইজতেমার নামে কেউ ভিসা আবেদন করলে কেউ ফেরত যেত না। এটা সরকারের একটা ভালো পলিসি ছিল"। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার এই ইজতেমাকে সমর্থন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিক্ষক এবং লেখক একেএম খাদেমুল হক বলেন যে দুটো কারণে বিশ্ব ইজতেমার স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশে হয়েছে। "একটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ। আরেকটি তাবলীগ জামাতের যে আন্দোলন সেটা পুরো দক্ষিণ এশিয়া-কেন্দ্রীক। যদিও ভারতে এর শুরু কিন্তু ভারতে মুসলিম-প্রধান দেশ না হওয়ার কারণে অনেক দেশের মুসলিমরা সেদেশে যেতে কমফোর্ট ফিল করেননি। আবার পাকিস্তানকে নিয়ে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে।" মি. হক আরও বলেন, তাবলীগের জমায়েত বাংলাদেশে শুরু থেকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যতটা পেয়েছে ততটা ভারত বা অন্য কোথাও পায়নি। এছাড়া সবচেয়ে কম খরচে মানুষ বাংলাদেশে আসতে পারতো। গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা হওয়ার পিছনে কিছু রাজনৈতিক কারণও ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, ভারতের কিছু স্থানে তখনো মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি মতবিরোধ ছিল। সে তুলনায় বাংলাদেশে মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছিল, যাকে একটা নিরাপদ পরিবেশ বলে মনে করেছিলেন তারা। তবে তিনি এও বলেন যে তাবলীগের এক সম্মেলনে ইজতেমার স্থান হিসেবে লটারির মাধ্যমে বাংলাদেশের উঠে আসে বলে অনেকে উল্লেখ করেন। অবশ্য এই তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। ভারত এবং পাকিস্তান - এই দুটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তুলনামূলক নিরপেক্ষ একটা স্থান ছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজনৈতিক কারণে তখন ভারতের নাগরিকরা যেমন সহজে পাকিস্তানে যেতে পারতেন না, তেমনি পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভারতে পাওয়া ছিল কঠিন একটি বিষয়। ফলে বাংলাদেশই ছিল ওই দেশ যেখানে সহজে সবাই আসা-যাওয়া করতে পারতেন বলে গবেষকরা মনে করেন। তবে তাবলীগের ইজতেমা যে বিশ্বের অন্য কোথাও হচ্ছে না তা নয়। পাকিস্তানের রাইবেন্ড এবং ভারতের ভোপালে বড় আকারে ইজতেমা হয় বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমার ঠিক আগে ও পরে। তবে যে সংখ্যায় বিদেশীরা বাংলাদেশের ইজতেমায় আসেন, তাতে করে তুরাগ তীরের ইজতেমাই `বিশ্ব ইজতেমা` হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে। বিবিসি বাংলা এসি      

বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লীর জুম্মার নামাজ আদায় 

বিশ্ব ইজতেমার ৫৪তম আসরের প্রথম দিবসে লাখো মুসল্লী জুম্মার নামাজ আদায় করেছে। ফজরের নামাজের পর আ’মবয়ানের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ শুরু হয়।    ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক উর্দু ভাষায় মূল বয়ান শুরু করেন। বাংলাদেশের মাওলানা নূরুর রহমান এ বয়ান বাংলায় তরজমা করে শোনান। ইজতেমার মঞ্চ থেকে মূল বয়ান উর্দুতে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ২৪টি ভাষায় তা তরজমা করে শোনানো হচ্ছে। জুম্মার নামাজের ইমামতি করেন বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বী ও কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. জোবায়ের।   ছুটির দিনেও গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লী ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ভোর থেকেই পায়ে হেঁটে ময়দানের দিকে আসতে থাকে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যরা কয়েকটি স্তরে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, ইজতেমার ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক মুসল্লী বাটা রোডসহ অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। বাসস এসি   

ওষুধ ছাড়াই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

শরীর ভাল রাখতে খাওয়াদাওয়ার প্রতি সচেতনতা বেড়েছে। কঠোর নিয়ম মেনে চলতে পারলেও খাবারের পাতে ভিটামিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেন অনেকেই। কিন্তু এত কিছু ভাবার মাঝেও বাদ পড়ে যায় অনেক কিছুই। বিশেষত ফাইবার। ডায়েটে ফাইব্রাস ফুড কম পড়ে যাচ্ছে কি না তা আমরা খুব একটা মাথায় আনি না। তাই ফাইবার নিয়ে তেমন সতর্কতাও চোখে পড়ে না। অথচ এর হাত ধরেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হানা দেয় শরীরে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি নাজেহাল করে। সে ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারই রুখে দিতে পারে এই সমস্যা। দ্রবণক্ষম ডায়েটারি ফাইবারে আস্থা তাই রাখতেই হয়। দ্রবণক্ষম ডায়েটারি ফাইবার কী? জলে দ্রবীভূত হয় যে সব ফাইবার, তারাই এককথায় ‘দ্রবণক্ষম ফাইবার’। এ সব খাবার অন্ত্রে দ্রবীভূত হয়ে জেলির ন্যায় একটি থকথকে জিনিসে পরিণত হয় যা মলত্যাগে সাহায্য করে। ওটস, ব্রাউন রাইস, তাল, আলুবোখরা এগুলিতে এমন ফাইবার থাকে। প্রতি দিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় নাজেহাল হতে হয় এমন মানুষের, জানেন কি, কী কী খাবারে রুখে দিতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা, তাও ওষুধের শরণ না নিয়েই? ​ফাইবারের জোগান ঠিক রাখতে পাতে রাখুন আমন্ড। প্রতি দিনের খাবারের তালিকায় রাখুন ব্রাউন ব্রেড বা ব্রাউন রাইস। এতে ফাইবারের পরিমাণ অন্যান্য খাবারের চেয়ে বেশি। প্রতি দিন তা করতে না পারলে অন্তত আটার রুটি রাখুন পাতে। ভাত থেকেও প্রচুর ফাইবার পাওয়া যায়। কিন্তু ওবেসিটির কারণে ভাত এড়িয়ে আটার রুটিতে আস্থা রাখুন। প্রোটিন ডায়েট শরীরের পক্ষে উপকারী। কিন্তু বেশি প্রোটিন খেতে হলে সঙ্গে ফাইবারের মাত্রা বাড়ান। প্রতি দিন সন্ধ্যায় কয়েকটা আমন্ড ও অঙ্কুরিত ছোলা খান। মুগের দানাও খেতে পারেন। কালো বা সবুজ মুগের দানা তেল ছাড়া কড়ায় নেড়েচেড়ে কৌটোবন্দি করে রাখুন। এতে ফাইবারের মাত্রা বেশ বেশি। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে বা ওজন বাড়ার ভয়ে অনেকেই যে কোনও কপি এড়িয়ে চলেন। তাই প্রতি দিনের ডায়েটে পেঁপে, ব্রকোলি, গাজর, বিট বিনস রাখুন ডায়াটে। প্রতি দিন একটা করে ফল খান। কোষ্ঠকাঠিন্যের অসুখ থাকলে বেদানা এড়িয়ে চলুন। তার বদলে আপেল, পেয়ারা, কলা খান। বিভিন্ন শস্যদানা ও সবজির বীজেও উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যে এ সব যোগ করলেও সুফল পাবেন। প্রতি দিন টক দই খান। এতে শরীরের টক্সিন দূর হয়। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

বেড়েছে মুরগি-সবজির দাম 

রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতের সবজি কমে যাওয়ায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সবজির দাম। আর গত একমাসে টানা বেড়েই চলেছে মুরগির দাম। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে বয়লার মুরগি ছিল ১২০ টাকা কেজি। আর এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ, গরু ও খাসির মাংসের দাম। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, মিরপুর-১, কাজিপাড়া ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুর-১ ও কাওরান বাজারে বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। আর বয়লারের পাশাপাশি বেড়েছে লাল লেয়ার মুরগির দাম। লাল লেয়ার মুরগি আগের সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২১০ টাকায়। অর্থাৎ দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। আর আগের সপ্তাহের মতোই পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। এ দিকে মুরগির দামের বিষয়ে মিরপুর-১ নম্বরের ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে মুরগির দাম বাড়ছে। যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে হারে ফার্ম থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণেই হয়তো বয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, শীতের সবজি শেষ হয়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে সবজি বাজারে। রাজধানীর কাওরানবাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বেশ কিছু সবজি। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, পটল ৮০থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, কচুর লতিো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে। এ দিকে, আগের মতোই প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা আর প্রায় সব ধরনের আলুই বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। আর কাঁচামরিচ প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গাজর ৩০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর বাজারে প্রতিটি বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি কলমি ও লাল শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পালং শাক ১৫ টাকা এবং পুঁই শাক ২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের মতে, শীতের মৌসুম শেষ হওয়ায় পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। নতুন সবজির আমদানি বাড়লে দাম স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া মালামাল পরিবহনের খরচও বেড়েছে। মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাজারে রাবেয়া খানম নামে এক নারী ক্রেতা বলেন, নতুন সবজিতে একটা আগ্রহ থাকে। কিন্তু নতুন প্রায় সব সবজিরই দাম বেশি। তাই কম কম করে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস ও ডিমের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। এ সব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

আশুলিয়ায় বিরল প্রজাতির গন্ধগকুল উদ্ধার

ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগকুল উদ্ধার করেছে ঢাকার বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের একটি দল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকা থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গন্ধগকুলকে দেখতে পায় একদল যুবক। পরে গন্ধগকুল আটকে পিছু নেয় তারা। প্রায় কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর বিরল প্রজাতির প্রাণীটিকে ধরতে সক্ষম হন তারা। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গন্ধগকুলটি উদ্ধার করেছি। এই প্রজাতির প্রাণী সচরাচার চোখে পরে না। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের পরিচালক মিহির কুমার দো’র তত্বাবধানে গন্ধগকুলটিকে গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। একে//

সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সোহরাওয়ার্দীর ১২শ’ রোগী

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীদের। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও হাসপাতালজুড়ে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগীদের আশপাশের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এর পর রাত ৮ টা ২০ মিনিটে প্রায় তিন ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার এক ঘণ্টার পর থেকেই হাসপাতালটি থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে দেয় স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ আরও বেগবান হয়। এই মুহূর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো নতুন রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা দেওয়া যাবে না বলে ঘোষণা করে। এর পরেই রোগীদের হাসপাতালটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। এদিকে আগুন লাগার কারণে হাসপাতলটিতে চিকিৎসারত প্রায় ১২০০ রোগী বিপাকে পড়েন। কাউকে নেওয়া হচ্ছে স্ট্রেচারে করে, আবার অনেককেই নেওয়া হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সে করে। আহমেদ নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আগুন লাগার পর পরই রোগী নিয়ে বাহিরে চলে আসি। আমার রোগীর শ্বাসকষ্ট। ধোঁয়ার কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। এখন অ্যাম্বুলেন্স আসলে ঢামেকে নিয়ে যাব। অন্যদিকে রোগীদের এই করুণ অবস্থা দেখে আশপাশের অনেক সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছেন সাহায্য করার জন্য। তারা রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশকে সাহায্য করছেন। তাছাড়া তারা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সেও তুলে দিচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা সকল রকমের পদক্ষে গ্রহণ করছি। কোনো রোগীর যেন চিকিৎসা ব্যাহত না হয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আরকে//

বর্ণাঢ্য বসন্ত বরণ ও ভালোবাসার উৎসবে মুখরিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নেওয়া হয় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাঙ্গালির এই ঐতিহ্যকে লালন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ মেতে উঠে ভিন্নধর্মী এক উৎসবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গানের সুরে,নৃত্যের তাল ও বাদ্যের ঝংকারে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গন। বসন্ত বরণের এই সাংস্কৃতিক আয়োজন মুগ্ধ করে সবাইকে। একই উৎসবেই বরণ করে নেওয়া হয় এবাবের নবীণ শিক্ষার্থীদের। বসন্তের এই রঙিন আয়োজনে সকাল থেকে শত শত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত বসন্ত মঞ্চে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বর্ণিল সাজে সাজিয়ে তোলে। নিজেদের বসন্তের সাজে সাজতে শিক্ষার্থীদের খোঁপায়-গলায় ও মাথায় শোভা পায় বিভিন্ন ফুলের মালা। হলুদ শাড়ি পরে, মাথায় খোঁপা বেঁধে মেয়েরা এসেছেন উৎসবে। আর শিক্ষক-ছাত্র সবাই যেন বাসন্তি পোশাক আর ফুল দিয়ে সেজেছেন বসন্তকে বরণ করে নিতে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ যেন আরেক রঙ্গমেলা। এভাবে নৃত্যের ছন্দ-তালে বরণ করে নেওয়া হলো ঋতুরাজ বসন্তকে। সুর ও বাদ্যের তাল আনন্দ বাড়িয়ে দেয় উৎসবের এই দিনব্যাপী আয়োজনে। উৎসবে ছিল বসন্ত কথন, প্রতী বন্ধনী, পরিবেশিত হয়েছে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। এ সময় আইন বিভাগের প্রধান মো.রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মনসুর মুসা, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মনিরুল ইসলাম মাসুম, সহকারী রেজিস্ট্রার আবু মোহাম্মদ মোকাম্মেল। আরোও উপস্থিত ছিলেন, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো.নাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র প্রভাষক ফারাহ্ ইকবাল, সহকারী প্রভাষক তৌহিদা সরকার, সহকারী প্রভাষক আজিজুল হক সুজন, সহকারী প্রভাষক সোহরাব হোসেন, সহকারী প্রভাষক শহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রভাষক মো.আল-আমিন। এদিকে, একই দিনে ক্যাম্পাসে লেগেছে ভালোবাসার ছোঁয়া, হৃদ স্পন্দনে জেগেছে ভালোবাসার আহবান।  একদিকে বসন্ত বরণ অন্যদিকে বিশ্ব ভালোবাসার এই দিনে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও লেগেছে আনন্দের হাওয়া। বসন্তের সাথে ভালোবাসা কেন্দ্রিক বিভিন্ন গান, কবিতা, নাটক ও ভালোবাসর স্মৃতিকে ঘিরে সাজানো হয় অনুষ্ঠানটি। পুরো ক্যাম্পাস আঙিনা নেচে ওঠে বসন্ত আর ভালোবাসার আহবানে। দিনব্যাপী বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও নবীন বরণের এই আয়োজনে উচ্ছাসিত হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কেআই/  

জার্মানী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদানের লক্ষে তিন দিনের সরকারি সফরে আজ বিকেলে জার্মানির মিউনিখে পৌঁছেছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। দুই দিনের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন আজ শুরু হবে। এই সম্মেলন ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও হেলথ ক্যাম্পেইনারদের সাথেও বৈঠক করবেন। দেশে ফেরার পথে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি দুপুর ১টা ১০ মিনিটের সময় (মিউনিখ সময়) মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান জার্মানীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিউনিখের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টাম-লী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনীতিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবুধাবিতে সফর করবেন সেখানে তিনি ১৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে (আইডিইএক্স-২০১৯) অংশ নেবেন। আজ সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা হোটেল শেরাটনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। দেশ দু’টিতে ছয় দিনের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির মিউনিখে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দেবেন। এছাড়াও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী কাল নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভাষণ দেবেন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর আলোচনায় অংশ নেবেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) আয়োজিত ‘হেলথ ইন ক্রাইসিস-হু কেয়ার্স’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের নোবেল বিজয়ী পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিয়াট্রিস ফিন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) শীর্ষ প্রসিকিউটর ড. ফাতৌ বেনসৌদার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সিমেন্স এজি’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও জোয়ে কায়িজার এবং ভারিদোসের সিইও হ্যান্স উল্ফগং কুঞ্জের সঙ্গে বৈঠক করবেন।তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট বোর্জ ব্রেন্ডি এবং জিগসাওয়ের সিইও জারেড কোহেনের যৌথভাবে আয়োজিত এক নৈশভোজ সভায় অংশ নেবেন। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাজ এ সিকিউরিটি থ্রেট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় যোগ দেবেন।আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ থেকে আবুধাবিতে পৌঁছাবেন এবং আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশনের (আইডিইএক্স-২০১০) উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন। এ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মাদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক এবং ইউএই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং আমিরাত অব দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রশিদ আল মাকতুম ও অন্যান্য নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা আল বাহার প্যালেসে ইউএই’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির শাসক মরহুম শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের স্ত্রী শেখা ফাতিমা বিনতে মুবারক আল কেতবির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। প্রধানমন্ত্রী সেন্ট রেগিস আবুধাবি হোটেলে অনুষ্ঠেয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ সফর চলাকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। শেখ হাসিনা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশে ফিরবেন। আরকে//

ভালোবাসা দিবসে দুস্থদের মাঝে ছাত্রলীগের খাবার বিতরণ

‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ উপলক্ষে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির ডাস চত্বরে খাবার বিতরণ করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ভালোবাসা দিবসে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে কেউ স্তব্ধ করতে পারবে না। একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগ অসহায় দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে বার বার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আওয়ামী চেতনার পাশাপাশি মানবতার চেতনার পথে শান্তি আর মুক্তির বার্তা দিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর। যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে দেশরত্ন শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ হচ্ছে ইতিবাচক ও মানবতাবাদী কাজের পথ প্রদর্শক। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাস চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ পার্শ্ববর্তী অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ হতে খাবার গ্রহণ করান নেতাকর্মীরা। খাবার বিতরণের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, আজকের এই ভালোবাসা দিবসে একটা অসহায় মানুষও যেন না খেয়ে না থাকে, সেজন্য আমাদের এই আয়োজন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি) কেআই/

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে পথশিশুদের সঙ্গে ওরা ক’জন

ওরা ক’জন ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসা ভাগাভাগি করলো পথশিশুদের সঙ্গে। কোনা প্রেমিকার সঙ্গে নয়। কোন স্বজনদের সঙ্গেও নয়। কয়েক ঘণ্টা সময় পথশিশুদের সঙ্গে কাটিয়ে ওরা পথ শিশুদের সঙ্গে মধ্যাহৃভোজের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন করলো। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয় সিদ্ধিরগঞ্জে। ওরা সাংবাদিক এবং সমাজ সচেতন ব্যক্তি। সমাজে ভালোবাসা বঞ্চিত এবং অবহেলিত শিশুদের ভালোবাসা দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছেন ওরা। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৌরভ ইমামের পরিকল্পনায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ তাজমহল চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে এ আয়োজন করা হয়। শুরুতে পথ শিশুদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে গল্পে গল্পে সময় কাটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই। জীবনে প্রথমবারের মতো এমন ভালোবাসায় আপ্লুত হয় শিশুগুলো। কোন রেস্টুরেন্টে এমন অভ্যর্থনায় অবাক হয় শিশুগুলো। ভালোবাসা দিবস বলতে তাদের কাছে আলাদা কোন বিশেষত্ব নেই। তবে, হঠাৎ এমন আয়োজনে শিশুদের চোখে মুখে আনন্দ উচ্ছাস ছিলো দেখার মতো। সবশেষে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। নানা মেন্যু দিয়ে আপ্যায়িত করা হয় পথশিশুগুলোকে। আয়োজকরা নিজ হাতে প্রত্যেকের প্লেটে খাবার তুলে দেয়। আন্তরিক মমতায় শিশুদের খাবার খাইয়ে দিয়েছেন অনেকে। তৃপ্তিসহকারে খেয়ে প্রত্যেক শিশুর অভিব্যক্তি ছিলো বর্ণনাতীত। খাবার শেষে আরও কিছুটা সময় গল্প করে বিদায় দেওয়া হয় শিশুদের। এ আয়োজনের উদ্যোগে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক হোসেন চিশতী সিপলু, আরিফ হোসেন, ফরহাদ হোসাইন, এমএ শাহীন, বিশাল আহমেদ, সমাজ সেবক আব্দুর রব ও শামীম আহমেদ। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে পড়েন। এসএইচ/

তুরাগ তীরে শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

গাজীপুর টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৪ দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা। দেশ বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় যোগদিতে আসতে শুরু করেছেন। ময়দানে এসে মুসল্লিরা জেলা ভিত্তিক খিত্তায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের ও দিল্লীর মাওলানা সা’দ অনুসারীরা আলাদাভাবে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে সব প্রস্তুতি। বিশ্ব ইজতেমা দিল্লী মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বী সা’দ ও বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারিরা বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় এবার এক পর্বে চারদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দুদিন মাওলানা জুবায়ের ও পরের দুদিন মাওলানা সা’দপন্থী সয়ৈদ ওয়াসিফ ইসলামের ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার ও সোমবার দুদিন আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বাস ট্রাকে আসা অব্যাহত রয়েছে। ময়দানে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে এসে জেলা ভিত্তিক খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। আগত মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন ও আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করছেন। বিশ্ব ইজতেমার মাঠ তৈরিসহ নানা ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনরে ময়ের মো: জাহাঙ্গীর আলম বলনে, সব বিভাগের সমন্বয়ে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলনে, বিশ্ব ইজতেমায় সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃংখলা বাহিনির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫ টি পর্যবেক্খন টাওয়ার নির্মান করা হয়েছে।পর্যাপ্ত সিসি টিভির মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান এলাকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি