ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৫২:২৭

জাতীয় নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ শুরু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এ বরাদ্দ শুরু হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বেলা ১১টায় ঢাকার ১৫টি আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সারা দেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রচার উৎসবে নেমে পড়েন প্রার্থীরা। তবে প্রচারের সময় যাতে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থীদের এ কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী-আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল গত ২৮ নভেম্বর। তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে জমা পড়ে দুই হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৪৯৮টি মনোনয়নপত্র। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল, পরে তাদের মধ্যে ২৪৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার প্রার্থিতা এখনও ফেরত পাননি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তিন আসনেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন রোববার। আজ সোমবার এ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আরকে//

মুন্সিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে প্রাইভেটকার ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফুয়াদ হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে উপজেলার কুমারভোগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ফুয়াদ রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল তার। এ ব্যাপারে লৌহজং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান জানান, ঢাকা থেকে রাতে খাওয়ার উদ্দেশে ফুয়াদসহ পাঁচজন প্রাইভেটকারে করে মাওয়া ঘাটে আসেন। ভোরে রাজধানীর উদ্দেশে ফিরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পৌনে পাঁচটার দিকে কুমারভোগ পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে মাওয়া ঘাটগামী মালবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফুয়াদ মারা যান। প্রাইভেটকারে থাকা অন্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আরকে//

সামর্থ্য না থাকায় অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন থেকে দূরে: সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, নির্বাচনি ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তাই তারা নির্বাচন থেকে দূরে।     রবিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘অনেক সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বাধ্য করছে নির্বাচনি ব্যয়। নির্বাচনি ব্যয়ই এখন গণতন্ত্রের প্রতিবন্ধক হিসেবে পরিণত হচ্ছে কিনা, সেটা আমাদের বিবেচনা করার সময় হয়েছে।’ এছাড়া নির্বাচনি ইশতেহারে শুধু প্রত্যাশার কথা না জানিয়ে বাস্তবায়নের পথ দেখাতেও আহ্বান জানান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণী আরও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, নির্বাচনি ইশতেহারে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আর রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে, ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা এবং উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘হয়তো নির্বাচনি ইশতেহারে উনারা (রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা) অনেক গগনস্পর্শী উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা আমাদের সামনে তুলে ধরবেন। কিন্তু সেটাকে অর্জন করার পদ্ধতি এবং অর্থায়নের সুযোগ উনাদের একই সঙ্গে বলতে হবে।’ তিনি জানান, গত ১০ বছরে অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা না থাকায় সমাজে বৈষম্য বেড়ে গেছে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার পতন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে সম্পদ যে পাচার হচ্ছে, জিরো টলারেন্স নীতির মাধ্যমে এটাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’ এসি    

বর্তমান সরকার উন্নয়নের রোল মডেল: পরিকল্পনামন্ত্রী 

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশে এখন বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই। সকল খাতেই বর্তমান সরকার উন্নয়নের রোল মডেল।     আজ শেরে বাংলা নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। সব খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। ২০৩০ সালে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা গেলে রেভিনিউ কালেকশন কলেবর বাড়তো। গত ১০ বছরে কর্মসংস্থান বেড়েছে, সামনে আরো বাড়বে। ১শ’টি স্পেশাল ইকনোমিক জোন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান অত্যন্ত গতিশীল হবে, বিদেশি কর্মসংস্থান ব্যাপক হারে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, পাশাপাশি আমাদের সেবা খাত অনেক বিকশিত, এই সেবা খাত বা আইসিটি খাতের মাধ্যমে আরো অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। আগামীতে এটি পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়ে আরো বেশি গতিশীল হবে- যার মাধ্যমে অর্থনীতি আরো বেশি বেগবান হবে। এডিপি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে গত পাঁচ মাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। আমরা এ বছর এডিপি পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নে সার্থক হবো। ফলে জিডিপি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৩০ হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন আগামী ৩ বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে ১০ ভাগের কাছাকাছি। আমরা যদি ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি তাহলে উন্নয়নের হাত ধরে আমাদের দারিদ্রের হার অনেক কমে যাবে, শিক্ষার আরো উন্নতি হবে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এসি  

নবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন

‘সবাই মিলে গড়বো দেশ, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানে ঢাকার নবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে উপজেলা ফটক থেকে একটি র‌্যালি বের করে উপজেলা প্রশাসন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে আলোচনা সভা করা হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শ্রী মানবেন্দ্র দত্ত এতে সভাপতিত্ব করেন। সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মন্জুর হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল আমীন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মাধুরী বণিক প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইবুর রহমান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মো. লিয়াকত হোসাইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ এস এ সামাদ আলমগীর, সদস্য বিপ্লব ঘোষ প্রমুখ। একই সময় দোহার উপজেলায় দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন, সমবায় কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন মিয়া, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কাকন রানী বসাক, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. বাদশা মিয়া, মহিলাবিষয়ক কর্মকতা সাদিয়া আফরিন, জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক প্রমুখ।   কেআই/ এসএইচ/

এত সহজে তো ফোকাস সরার কথা না: মাশরাফি

রাজনীতির প্রভাব খেলাতে পড়তে দেননি ওয়ানডে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। নানা আলোচনা সমালোচনা সংশয় দূর করে উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে নিয়েই। ৩ উইকেট ঝুলিতে ভরে নড়াইল এক্সপ্রেস হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। মাশরাফীর সামনে থেকে দেয়া অসাধারণ নেতৃত্বে ৫ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন টাইগার অধিনায়ক। পারফরম্যান্সেই দিয়ে দিলেন গত কয়েকদিনে ওঠা অনেক প্রশ্নের জবাব। মাশরাফী অবশ্য এটিকে ‘জবাব’হিসেবে দেখতে চান না। দেড়যুগ ধরে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা মাঠের বাইরের ব্যস্ততায় হাওয়া হয়ে যাওয়ার কথা নয়; সেটিই বোঝাতে চাইলেন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে। ‘জবাব দেয়ার কি আছে? জবাব দেয়ার কিছু নেই। খারাপ পারফর‌ম্যান্স হলে বলতো (খেলায় প্রভাব পড়েছে), এটাই স্বাভাবিক। আসলে জবাব দেয়ার কিছু নেই। ১৮ বছর ধরে খেলছি, সহজে ফোকাস সরার তো কথা না। প্রত্যেকটা মানুষ নিজেকে খুব ভালো করে চেনে। সবাই চেনে কিনা জানি না, আমি আমাকে চিনি। এত সহজে তো ফোকাস সরার কথা না। বিশেষ করে গেল কিছুদিন ধরে এ নিয়েই চেষ্টা করে যাচ্ছি, বলটা যেখানে করতে চাই পারছি কিনা; এটা নিয়ে ফোকাস করে যাচ্ছিলাম, জবাব দেয়ার কিছু নেই।’ জিম্বাবুয়ে সিরিজে পুরোপুরি ফিট ছিলেন না মাশরাফী। বোলিংয়ে স্পষ্ট হয়েছিল তার প্রভাব। ঊরু ও কুঁচকির চোট নিয়েই খেলে গেছেন। এখনও পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি সেটি স্বীকার করলেন অকপটে। সেইসঙ্গে দিলেন একটি দুঃসংবাদও, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিকেএসপিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছি। আজ ফিটনেস টেস্ট হওয়ার কথা ছিল, আমি চেয়েছি খেলতে।’ ফিটনেস টেস্টে নেতিবাচক কিছু এলে হয়ত খেলাই হত না মাশরাফীর। কিন্তু বোলিং দেখে কে বলবে শারীরিকভাবে এখনও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন রোববারই ২০০তম ওয়ানডে খেলা এ মহাতারকা! টিআর/

তিশার জন্যে ইমোশনাল অপূর্ব   

টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব। তিনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে টিভি দর্শকের পছন্দের সেরা অভিনেতা। এদিকে তানজিন তিশা গত একবছর ধরেই নিয়মিত অভিনয় করছেন। ইতোমধ্যে তিশা দর্শক নন্দিত হয়েছেন। এবার নতুন একটি নাটকে জুটি বদ্ধ হয়েছেন অপূর্ব ও তিশা।   গত ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরায় শুরু হয়েছে নাটকটির শুটিং। নাটকের নাম ‘ইমোশনাল ফুল’। নাটকটি  নির্মাণ করছেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ।    নির্মাতা বলেন,‘মানুষের ইমোশন (আবেগ)কে ঘিরেই এই নাটকের গল্প আবর্তিত। একটা ছেলে যে কিনা খুবই ইমোশনাল এবং একটু বোকা থাকে। সে কথায় কথায় শুধু কান্না করে। কাকতালীয়ভাবে একটা মেয়ের সাথে তার পরিচয় হয়, এরপর প্রেম হয় দুজনের। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যেগুলা স্বাভাবিক জীবনে যা আমরা প্রত্যেকে ফেইস করে আসছি। পুরো নাটকটাই ফান এবং কমেডি ধাঁচের। কমেডির মধ্য দিয়েও এখানে একটা মেসেজ দিতে চেয়েছি।      নাটকটি নিয়ে অপূর্ব বলেন, এই নাটকে আমি খুবই ইমোশনাল থাকি। সেই সঙ্গে বোকাও। একটু পর পর কান্না করি। আজকে (৮ ডিসেম্বর) সারাটাদিন শুধু কান্নার উপর দিয়েই গিয়েছে। দিনভর কান্নার দৃশ্য।’’ অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেন, ‘এই নাটকের গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং। এটা কমেডি ঘরনার একটা নাটক। মানুষকে কাঁদানো খুব সহজ কিন্ত হাসানো খুব কঠিন কাজ। সেই চেষ্টাই করেছি আমরা। কেআই/এসি     

ইউটিউবে প্রকাশ পেল সবার ‘প্রিয় এবি’ 

বাংলাদেশের সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন একটি গান অন্তর্জালে প্রকাশিত হয়েছে। গানটির শিরোনাম ‘সবার প্রিয় এবি’।      তুমি আছো, তুমি থাকবে, থাকবে এলআরবি, সেই রুপালী গিটার ফেলে, অসময়ে কাঁদায় ছবি- এমন কথামালায় গানটি লিখেছেন আশিক বন্ধু। সিডি প্লাস থেকে প্রকাশিত গানটি গেয়েছেন মামুনুল ইসলাম। সুর সংগীত করেছেন সজীব দাস। গতকাল রাতে গানটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে মাত্র একদিনে আইয়ুব বাচ্চুর ভক্তদের কাছে গানটি নিয়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা যায়। গানটি প্রসঙ্গে গীতিকার আশিক বন্ধু বলেন, আইয়ুব বাচ্চু শুধু শিল্পী নন, একজন অভিভাবকও। আমাদের মিউজিকের পথচলায় তার কাছ থেকে উৎসাহ, অনুপ্ররণা ও ভালবাসা পেয়েছি। খুব কাছ থেকে তাকে দেখেছি, তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও মানবিক গুণাবলী সম্প্ন্ন একজন দায়িত্বশীল মহান শিল্পী ছিলেন। মামুনুল খুব আবেগ দিয়ে এই গানটি গেয়েছেন। সুরকার সজীব দাস বলেন, আইয়ুব বাচ্চু সবসময় আমাদের গানে গানে থাকবেন, আমাদের শ্রদ্ধায় তিনি প্রাণের মাঝে থাকবেন। তার গান, কথা ও সুর আমরা সারাজীবন স্মরণ করে যাবো। এরই ধারাবাহিকতায় সবার প্রিয় ‘এবি’ শিরোনামের গানটি প্রকাশিত হয়েছে।   এসি    

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যুক্ত খাবার কেন খাবেন

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট আমাদের দেহের জন্য খুব কম পরিমানে দরকার হলেও এগুলো শরীরের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এবং এসব নিউট্রিয়েন্ট শরীরের জন্য অত্যাবশকীয়। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট গুলো হলো ভিটামিন এবং মিনারেলস অর্থাৎ খনিজ উপাদান। বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এর কাজের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। খাদ্যের মাধ্যমে এসব ভিটামিন এবং মিনারেলস গুলো গ্রহণ করতে হবে। কেন ভিটামিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত? *চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং দেহের কোষ ভালো রাখার জন্য ভিটামিন এ যুক্ত খাদ্য গ্রহন করা জরুরী। *দেহে যে ফ্রী রেডিকেল তৈরি হয় ফলে ত্বকের ক্ষতি হয় তা দূর করতে ভিটামিন ই সাহায্য করে। *ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং দেহের অস্হি গঠনে সহায়তা করে। *ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে এবং স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।এবং এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।* শরীরের এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে ভিটামিন বি১ যুক্ত খাবার সাহায্য করে।*রক্তের লোহিত কনিকা তৈরি করতে সহায়তা করে ভিটামিন বি৬। *নার্ভ সিস্টেম ঠিক রাখতে এবং ব্রেইন কে সচল রাখতে ভিটামিন বি১২ যুক্ত খাবার সাহায্য করে। ভিটামিনের পাশাপাশি দেহের জন্য খনিজ উপাদান গ্রহন করাটা খুব জরুরী। খনিজ উপাদান যুক্ত খাবারের গুনাগুন অনেক ।যেমন:*দেহের পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে খনিজ উপাদান ভূমিকা পালন করে। *ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা দাঁত ও হার মজবুত করতে খুব জরুরী। *রক্তসল্পতা বা এনিমিয়া রোগ দূর করতে আয়রন সহায়তা করে।*দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এবং ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরিতে জিংক প্রয়োজন। *এছারাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে,হরমোন ব্যালান্স সচল রাখতে , রক্তে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এবং দেহের বিপাকিয় ক্রিয়া সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য খনিজ উপাদান এবং ভিটামিন যুক্ত খাবার ভূমিকা পালন করে থাকে। যেসব খাদ্য থেকে ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যাবে যেমন: বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফল, সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি,মুরগীর মাংস,ছোট মাছ,সামুদ্রিক মাছ,ডিম ,দুধ, বিভিন্ন ধরনের বাদাম,বীজ জাতীয় উপাদান ,ডাবের পানি ইত্যাদি । সুতরাং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্য উপাদানের পাশাপাশি ভিটামিন ও মিনারেলস যুক্ত খাদ্য উপাদানকেও সঙ্গি বানিয়ে নিন। সেই সাথে সুস্থ ও সুন্দর থাকুন। লেখক: পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অপ্রত্যাশিত হার দেয়ালে পিঠে গিয়েছিলো। তবে পাকিস্তানে বিপক্ষে বাঁচা মরার ম্যাচে তাদেরকে হারিয়ে সেমিফাইনারে উঠলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল। আজ রোববার এসিসি ইমার্জিং টিমস কাপ আসরে ‘বি’গ্রুপের শেষ ম্যাচে দাপুটে নৈপুণ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৪ রানে জয় দেখে তারা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটে-বলে চৌকস নৈপুণ্য দেখালেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আগের ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরির সঙ্গে বল হাতে দুই উইকেট মোসাদ্দেক। করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং শেষে তিন অর্ধশতকে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সংগ্রহ পৌঁছে ৩০৯/৫-এ। সর্বোচ্চ ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন। ওপেনার জাকির হাসান ৬৯ ও ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে ইয়াসির আলী করেন ৫৬ রান। জবাবে ৪৬.৫তম ওভারে ২২৫ রানে গুঁড়িয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। বাংলাদেশের বল হাতে ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ৩৬ রানে তিনউইকেট নেন সদ্য টেস্ট অভিষেক হওয়া অফস্পিনার নাঈম হাসান। মোসাদ্দেক হোসেন নেন দুই উইকেট। টিআর/

বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেন সংগীতশিল্পী মনির খান   

বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সংগীতশিল্পী মনির খান। এখন থেকে সাংগঠনিক কোনো পদ-পদবী তিনি গ্রহণ করবেন না। আর কখনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন না।     রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। মনির খান এ সময় বলেন, আমি শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) মহাসচিব হিসেবে দলে যোগদান করি। পরবর্তীতে আমার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। সংগীত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আমি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বেগম খালেদা জিয়া আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার নির্দেশনা দেন। আমি সবসময় এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনসাধারণের পাশে থেকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। তিনি বলেন, আজ বিভিন্ন অজুহাতে আমার এলাকার জনগণকে এবং আমাকে জাতীয় নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। এমন অবস্থায় আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রাণের দাবির সঙ্গে একাকার হয়ে বিএনপির সব সাংগঠনিক পদ পদবী থেকে ইস্তফা দিলাম। তিনি আরও বলেন, আমি এখন থেকে শুধু সংগীত চর্চা করবো। মাঝখানে যে কটা দিন, যে কটা বছর রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হবার পর কেটে গেছে, এটি আমার জীবনের অ্যাক্সিডেন্ট ছিল। আমার ভুল ছিল। এই ভুলের জন্য আমি বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। এসি     

হাসপাতালের বিছানায় একাকীত্বে কাঙ্গালিনী সুফিয়া 

যার কণ্ঠের গান মানুষের হৃদয়ের মর্ম বেদনা জাগ্রত করতো, যার গানের আকুতিতে ভরে থাকে শোষিত বঞ্চিত মানুষের কথা, সেই মরমী শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার পাশে নেই কেউ।        চিকিৎসক জানিয়েছেন, সুফিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সেই সামর্থ্য নেই।     গত সপ্তাহে অসুস্থাবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে গুণী এই শিল্পীকে। রোববার কাঙ্গালিনী সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প জানান, হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে কাঙ্গালিনী সুফিয়াকে। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। ডা. রিয়াজ উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়নে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   তার চিকিৎসার ব্যাপারে পুষ্প জানিয়েছেন, ‘আমার মা ভীষণ অসুস্থ। এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। ডাক্তাররা বলেছেন, তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এদিকে আমাদের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। আমার নিজের টাকা দিয়ে আমার মাকে চিকিৎসা করাচ্ছি। ভালো চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’  উল্লেখ্য, কাঙ্গালিনী সুফিয়া হৃদরোগ ও কিডনী এবং মূত্রনালিতে সমস্যায় ভুগছেন। প্রসঙ্গত, সুফিয়া গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা খরচ বহন করছেন তার মেয়ে পুষ্প। কিন্তু অসহায় এই শিল্পীর উন্নত চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজন আর্থিক সামর্থ্য। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা কোন প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস পাননি। উল্লেখ্য, সুফিয়া অুসুস্থ শরীর নিয়ে কিছুদিন আগেও কুষ্টিয়ায় গান গেয়েছিলেন। সেখান থেকে আসার পর পরই তার শরীরের অবনতি ঘটে।   কেআই/এসি    

সাতজনের বিরুদ্ধে লড়বেন মাশরাফি  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়বেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নড়াইল-২ (সদর ও লোহাগড়া) আসনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মাশরাফি। এ আসনে জাতীয় পার্টি মহাজোটের বাইরে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।  রোববার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন মাশরাফির আসন থেকে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি আসন থেকে জাতীয় পার্টি মহাজোটের বাইরে পৃথক প্রার্থী দিয়েছে। এবার নড়াইলের দুটি আসন থেকে মোট ১২ জন নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে নড়াইল-১ আসনে পাঁচজন এবং নড়াইল-২ আসনে সাতজন নির্বাচন করছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন রোববার নড়াইল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ হাফিজুর রহমান প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া দুটি আসন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চার প্রার্থী বাদ পড়েছেন। নড়াইল-২ আসনে নির্বাচনে লড়ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনপিপির চেয়ারম্যান এ জেড এম ড. ফরিদুজাজামান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, ইসলামী আন্দোলনের এসএম নাছির উদ্দিন, এনপিপির মনিরুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফকির শওকত আলী। এসি   

নির্বাচনে যেভাবে ভোট দিবেন প্রবাসীরা  

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, যারা নির্বাচনের সময় দেশে এসে ভোটে অংশ নিতে পারছেন না, তারা পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই সুবিধা পাবেন।       নির্বাচন কমিশন তাদের জন্য এ ব্যবস্থা রেখেছেন। তবে, ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যালট পেপার চেয়ে ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে প্রবাসীদের। এক্ষেত্রে অবশ্যই নিদিষ্ট সময়সীমার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।         নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, যেসব প্রবাসী ইতিমধ্যে ভোটার হয়েছেন, তারা চাইলে প্রবাসে থেকেও তাদের পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতীকে ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রবাসী ভোটারদের তাদের নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসার অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন ডাকযোগে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর প্রবাসীদের দেওয়া বিদেশের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। তারপর পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনরায় ডাকযোগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে। আবেদনে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নম্বর, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের অপর পৃষ্ঠায় থাকা ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। বিদেশে যে ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে ওই ঠিকানা অবশ্যই আবেদনে নিদিষ্ট করে লিখতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যে খামে করে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে প্রবাসীদের কাছে তার ডাক টিকেট খরচ নির্বাচন কমিশন বহন করবে। অপরদিকে, প্রবাসীরা ব্যালট পেপারের জন্য যে আবেদন দেশে পাঠাবেন, তার ডাকটিকেট খরচ বহন করতে হবে প্রবাসীদের। সংশ্লিষ্ট অফিসার তখন আবেদনপত্রে উল্লিখিত ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়ে দেবেন। নির্বাচনের আগে ভোটার তার পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতীকে ভোট দিয়ে তা আবার নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসার বা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাতে হবে। ইসি সচিব জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটা সময়সাপেক্ষ, যেহেতু একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে, তাই প্রবাসীদের মধ্যে যারা ভোট দিতে ইচ্ছুক তাদের এখনই উদ্যোগ নিয়ে নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসার বা জেলা প্রশাসকের কাছে পোস্টাল ব্যালট চেয়ে দ্রুত আবেদন করতে হবে। এদিকে ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে আলাদাভাবে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মরত অরাজনৈতিক সংগঠন প্রবাসী বাঙালি কল্যাণ সমিতি (প্রবাকস)। ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের রিটার্নিং অফিসারের কাছে ডাকযোগে প্রদত্ত দরখাস্তের কপি প্রবাকসের কো-অর্ডিনেটর ওমর আলীর কাছে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ই-মেইলে (omarali1971@gmail.com) পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি তাদেরকে বলা হয়, যারা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করার পর অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ভালো পরিবেশে বসবাস করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী করার আশায় বাংলাদেশিরা প্রবাসে পাড়ি জমায়। বর্তমানে বিশ্বের ১৬৫ দেশে ১ কোটিরও বেশী প্রবাসী কর্মরত আছেন। আআ/এসি       

পাঁচ আসনে মশাল, তিনটিতে নৌকা নিয়ে ভোট করবে জাসদ 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) তিনটি আসনে নৌকা ও পাঁচটি আসনে দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে ভোট করবে।   রোববার দুপুরে হাসানুল হক ইনু স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠি দলের সহ-দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন।         একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, দশম সংসদের মতো একাদশ সংসদেও জাসদ জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ১৪ দলীয় নির্বাচনি মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগের জন্য সংরক্ষিত নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাসদ। নৌকা প্রতীক নিয়ে জাসদের যেসব প্রার্থী ভোট করবেন, তারা হলেন—কুষ্টিয়া-২ আসানে হাসানুল হক ইনু, ফেনী-১ আসনে শিরীন আখতার ও বগুড়া-৪ আসনে একেএম রেজাউল করিম তানসেন।   অন্য চিঠিতে বলা হয়েছে, জাসদের যেসব প্রার্থী দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে যারা ভোট করবেন তারা হলেন—ব্রাহ্মণাবাড়িয়া-৫ আসনে অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, গাইবান্ধা-৩ আসনের এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি, ময়মনসিংহ-৬ আসনে সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, রংপুর-২ আসনে কুমারেশ চন্দ্র রায় ও বরিশাল-৬ আসনে মো. মোহসীন। নির্বাচন কমিশন সচিবকে লেখা পৃথক চিঠিতে এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। এসব চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এসি    

গর্ভবতী নারীর প্রসব তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করবেন 

গর্ভবতী নারীর জন্য প্রসব তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই তারিখের উপর প্রসূতি ও পরিবারের যেমন অনেক প্রস্তুতি নির্ভর করে তেমনি একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ শিশুর আগমনও নির্ভর করে। তাই সকল গর্ভবতী নারী আমাদের (ডাক্তার) কাছে জানতে চান, ‘আমার প্রসব তারিখ কবে?’          সকল গর্ভবতী নারীদের প্রসব তারিখ নিয়ে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। মাসিক অনুযায়ী একটা তারিখ পড়ে। প্রথম আলট্রাসনোগ্রামে একটা তারিখ আসে। এরপর যতোবার আলট্রাসনোগ্রাম করে ততোবারই নতুন করে একটা তারিখ আসে। তখন মাকে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয় যে, আসলেই প্রসব তারিখ কোনটা? এক্ষেত্রে আমরা যেটা বলি, যদি তার শেষ পিরিয়ডের তারিখ ঠিক থাকে অর্থাৎ মা যদি সঠিক ভাবে বলতে পারেন, আমার অমুক মাসের অমুক তারিখে শেষ পিরিয়ড হয়েছিল এবং তার আগে নিয়মিত পিরিয়ড ছিল। পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল না। এমনক্ষেত্রে আমরা মাসিকের তারিখটাকে ধরি। এই তারিখের সঙ্গে নয়মাস সাতদিন যোগ করে যে তারিখটা পাই, সেই তারিখটাকে তার প্রসব তারিখ হিসেবে ঠিক করি। যদি এমন হয় কোন মায়ের পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল, দেড়- দু`মাস পরপর পিরিয়ড হতো, কিংবা পিরিয়ড বন্ধ থাকতো, সেক্ষেত্রে সে তার শেষ পিরিয়ডের তারিখটা ভুলে গেছে বা বলতে পারছে না-এমন ক্ষেত্রে আমরা প্রসব তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করব? এক্ষেত্রে প্রসব তারিখ নির্ধারণের সহজ উপায় হচ্ছে প্রথম তিনমাসের মধ্যে একটা আলট্রাসনোগ্রাম করা। এই আলট্রাসনোগ্রামে যে তারিখটা আসে সেই তারিখটাকে আমরা তখন ঠিক ধরি। পরবর্তীতে গর্ভকালীন সময়ের পাঁচ বা ছ`মাসের সময় আলট্রাসনোগ্রাম করলে বা আট মাসের সময় আলট্রাসনোগ্রাম করে তখন আগের তারিখের সঙ্গে এক বা দু`সপ্তাহ এদিক সেদিক হয়। যদি দেখি প্রথম আলট্রাসনোগ্রামের তারিখের সাথে দ্বিতীয় বা তৃতীয় আলট্রাসনোগ্রামের তারিখের এক থেকে দু`সপ্তাহ এদিক সেদিক সেক্ষেত্রে আমরা প্রথম আলট্রাসনোগ্রামের তারিখটাকে সঠিক ধরে থাকি। একজন গর্ভবতী মা প্রথম যে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিবেন তিনি প্রথম থেকেই একটা প্রসব তারিখ নির্ধারণ করে রাখবেন। ডেলিভারীর কাছাকাছি এসে কবে ডেলিভারী হবে তা নিয়ে মাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ার মতো অবস্থা সাধারণত কখনো হয়না। এজন্য সবসময় বলি গর্ভধারন করার প্রথম তিনমাসের মধ্যে অন্তত একটা আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য। এই আলট্রাসনোগ্রামটা প্রসব তারিখ নির্ধারণে সাহায্য করে। কিন্তু যদি মাসিকের তারিখ ঠিক থাকে, নিয়মিত মাসিক হয়ে থাকে তাহলে শেষ মাসিকের তারিখ অনুযায়ী যে তারিখটা নির্ধারণ হবে সেটাই শতভাগ চূড়ান্ত।   লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস)। প্রসূতি ও নারীরোগ বিশেষজ্ঞ। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল।   আআ/এসি    

‘অরিত্রির আত্মহত্যার জন্য সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী’  

ভিকারুননেসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রি`র আত্মহত্যার জন্য সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। তার মতে, অরিত্রির আত্মহত্যা দৃশ্যমান। কিন্তু প্রতিদিন অসংখ্য অরিত্রি অদৃশ্য হত্যার শিকার হচ্ছে।    রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা কোন ভাবে এর দায় এড়াতে পারে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অরিত্রির আত্মহত্যা পুরো শিক্ষক সমাজকে যেমন দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায় তেমনি অভিভাবকরাও দায় এড়াতে পারেন না।      সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ভিকারুননেসা স্কুলের ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আবুল কাশেম ফজলুল হক: খুবই হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। পত্রিকায় পড়ে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। অরিত্রির মতো এ বয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নানা রকম অস্থিরতা থাকে। অরিত্রি মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে আসা নিষেধ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলে অরিত্রির শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। শুধু অরিত্রি নয়, স্কুলে অরিত্রির বাবা মাও ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাতেও শিক্ষকদের মন গলেনি। তারা তাকে বলেছে ‘টিসি নিয়ে যেও’।     একুশে টেলিভিশন অনলাইন: টিসি দিয়ে দিলে কী সমস্যা সমাধা হয়ে যাবে?  আবুল কাশেম ফজলুল হক: এই ‘টিসি নিয়ে যেও’ কথাটা স্কুলের একটা বিরাট শক্তি। তারা বুঝাতে চায়, তোমার সন্তানের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে জিম্মি। শিক্ষকরা যখন অরিত্রির বাবা মাকে অপমান করে তখন অরিত্রির কাছে আর কোন সান্ত্বনা থাকে না। অরিত্রি বা যে কোন সন্ত্বানের কাছে সবচেয়ে বড় অবলম্বন তাদের বাবা মা। তার জন্যই যদি সেই বাবা মা কোথাও অপমানিত হয় বা কষ্ট পায় তাহলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোন যুক্তি তখন থাকে না। মূলত এমন জায়গা থেকে অরিত্রি অসহায় বোধ করেছে ও আত্মহত্যা করেছে। অরিত্রি আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। আমরা দেখছি পুলিশ এ ঘটনায় খুব তৎপর। একজনকে গ্রেফতার করেছে। সবাই বলছে ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকরা দায়ী। বিশেষ করে যে তিনজন টিসি দিয়েছে তারা সবচেয়ে বেশী দায়ী। কিন্তু আমার বক্তব্য ভিন্ন। একুশে টেলিভাশ অনলাইন: আপনার বক্তব্য তাহলে কী?   আবুল কাশেম ফজলুল হক: আমাদের বর্তমান যে শিক্ষা ব্যবস্থা তা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে কৌতুহল বিমুখ, শিক্ষাবিমুখ, জ্ঞানবিমুখ করছে। এখনকার স্কুল ও পাঠ্যপুস্তকগুলো ছেলেমেয়েদের জীবনের স্বাভাবিকতা রক্ষা করতে দিচ্ছে না। সৃজনশীল পরীক্ষার নামে এক অদ্ভৃৎ ব্যাপার ছেলেমেয়েদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাবিশ্বে শিক্ষার সঙ্গে আনন্দ যোগ করলেও আমাদের দেশে শিক্ষার সঙ্গে জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণী, অষ্টম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝা। সেই পরীক্ষা ভালভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারেনা। প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা অস্থিরতার জন্ম দেয় যা অবুঝ শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক কাজে উৎসাহী করে তোলে। মোবাইল ও ফেসবুকের অপব্যবহার সর্বত্র বাড়ছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মোবাইল ও ফেসবুক আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রচুর সময় অপচয় ঘটাচ্ছে। তাদের জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অরিত্রির আত্মহত্যার সঙ্গে সামাজিক বিশৃঙ্খলা কী জড়িত?  আবুল কাশেম ফজলুল হক: অবশ্যই। পুরো সমাজব্যবস্থা অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পুরো সংস্কৃতি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী হারিয়ে বসে আছে। এ অবস্থায় কোন শিক্ষার্থী যদি অপরাধ করে থাকে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব। শিক্ষার্থী বারবার ভুল করবে। তাকে ধীরে ধীরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষককেই গড়ে নিতে হবে। কেউ সম্পূর্ণ ভাল ছাত্র হয়ে বা ভাল মানুষ হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেনা। ভাল মন্দ মিলিয়েই আসে। তাকে গড়ে নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি সামগ্রীক শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। তাহলে কেমন শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া উচিত?    আবুল কাশেম ফজলুল হক: সংবিধানে একমুখী প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দেশের প্রাথমিক শিক্ষা এখন চৌদ্দ ভাগে বিভক্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন শিক্ষা নেই। পরীক্ষাসর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক কারও আনন্দ নেই। পরীক্ষায় ভাল ফল করার বাধ্য বাধকতা থেকে কোচিং সেন্টার ও গাইড বুকের প্রসার ঘটছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তরুণদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলছে না। ফলে যারা উদ্যোগী ও পরিশ্রমী তারা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতহীন ভেবে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নিচ্ছে। আমাদের সিলেবাসে দেশপ্রেম, স্বাজাত্যবোধ ও সুনাগরিকের গুণাবলী অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষক এখন গাইড বই থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী করছে। এরচেয়ে বড় লজ্জা কী হতে পারে। এর ভেতর দিয়ে ছাত্র- শিক্ষকের নীতি নৈতিকতার সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। শ্রদ্ধাবোধ বা স্নেহবোধ কোনটাই এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দোষী শিক্ষকদের ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা তো ভাল লক্ষণ।  আবুল কাশেম ফজলুল হক: যতোকিছুই করা হোক না কেন যে প্রাণ দিয়েছে সে আর ফেরত আসবে না। তার আত্মত্যাগ তখনই স্বীকৃতি পাবে যদি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢালাওভাবে সাজানো হয়। শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব ত্রুটি আছে তা যদি সারানো হয়। ছেলে মেয়েদের আনন্দদায়ক পরিবেশ দিতে না পারলে ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবেনা, এমন আত্মহত্যাও রোধ করা যাবে না। গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। আমার মনে হচ্ছে ভিকারুননিসার ঘটনায় আমরা আসল সমস্যা চিহ্নিত করতে পারছি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ছাত্র শিক্ষকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার জন্য মূলত কী দায়ী?   আবুল কাশেম ফজলুল হক: আগে ছাত্র শিক্ষকের সৌহার্দ্য গড়ে উঠত পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করে। কিন্তু এখন সেই জায়গাটি দখল করেছে গাইড ও কোচিং।   দ্বিতীয়ত, সময়ের ব্যবধানে আনুপাতিক হারে বা প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষকদের বেতন বাড়েনি। সমাজে মানসম্মত আর্থিক অবস্থান তারা সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে তারা প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্ভর করছে। প্রশ্ন ফাঁশ হওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিক্ষক ছাত্রকে প্রশ্ন ফাঁস করতে সহায়তা করছে। তার মানে তার স্কুলে কতজন ছাত্র পাশ করল তার উপর স্কুলের সুবিধা বা তাদের সুবিধা নির্ভর করছে। এর ফলে ছাত্র শিক্ষকের পারষ্পরিক নীতি নৈতিকতার অবস্থান নষ্ট হয়ে সেখানে বাণিজ্য ও স্বার্থ জায়গা দখল করে নিয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কেউ কেউ শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়ী করছেন। আপনি কী বলেন?    আবুল কাশেম ফজলুল হক: অভিভাবকরা দায় এড়াতে পারেন না। মোবাইল ও ফেসবুকের পেছনে শিক্ষার্থীরা এত বেশী সময় কেন ব্যায় করছে তা নজরদারীতে রাখা দরকার। আর সপ্তম-অষ্টম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বয়সটা এমন, শিক্ষার্থীরা অনেককিছু বুঝে। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক কিছুর ব্যালেন্স রেখে উঠতে পারেনা। এই সময় ছেলে মেয়েরা ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে। তাই অভিভাবকদের উচিত তার সন্তানকে সংযত রাখা ও পরিচালনা করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। আবুল কাশেম ফজলুল হক: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।    এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি