ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৪২:৫৩, বুধবার

ব্ল্যাকহেডস দূর করতে হলুদ ও মধুর ৩ ব্যবহার

ব্ল্যাকহেডস দূর করতে হলুদ ও মধুর ৩ ব্যবহার

বেশির ভাগ মানুষই সবচেয়ে বেশি সচেতন নিজের মুখের সৌন্দর্য নিয়ে। আর মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে মুখের ত্বকের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মুখের ত্বকের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হল ব্ল্যাক হেডস। শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য অনেকেরই মুখে, বিশেষত নাকে ও থুতনিতে ব্ল্যাক হেডস দেখা যায়। পার্লারে ফেসিয়াল বা ঘরেই নানান দামি প্রসাধনী ব্যবহার করে স্ক্র্যাবিং, ক্লিনিং ইত্যাদি কত কী না আমরা করি! কিন্তু তার পরেও সমস্যা কিন্তু থেকেই যায়! ব্ল্যাকহেডস-এর এই সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে আজ জেনে নিন ৩টি দুর্দান্ত কৌশল। এই ঘরোয়া কৌশলগুলি কাজে লাগিয়ে অনায়াসেই ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হলুদের ব্যবহার রূপচর্চায় ক্ষেত্রে প্রাচীন কাল থেকেই হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। ঘরোয়া চিকিৎসাতেও হলুদের নানা রকম ব্যবহার আমরা অনেকেই জানি। অসাধারণ ওষধিগুণসম্পন্ন এই হলুদ ব্ল্যাকহেডস দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকর। আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যা দূর করতে হলুদের দুটি অবিশ্বাস্য ব্যবহার... পদ্ধতি ১: প্রথমে পুদিনা পাতা বেটে রস করে তার সঙ্গে গুঁড়ো হলুদ বা বাটা হলুদ দিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এ বার এই মিশ্রণ ত্বকের ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত জায়গাগুলিতে ভাল করে মাখিয়ে দিন। এই প্রলেপ শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন। পদ্ধতি ২: হলুদ, চন্দনের গুঁড়ো এবং কাঁচা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন করে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণ ত্বকের ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে মাখিয়ে অন্তত মিনিট পনেরো রাখুন। তার পর জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। হলুদের এই দু’রকম প্যাক সপ্তাহে অন্তত দু-তিন বার ব্যবহার করতে পারলে ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মধুর ব্যবহার মধু একটি উচ্চ ওষধিগুণসম্পন্ন ভেষজ তরল। ভেষজ পদ্ধতিতে রূপচর্চার ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রূপচর্চায় মধু আজও অপরিহার্য। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মধু দিয়ে কী ভাবে ব্ল্যাকহেডস দূর করা যায়... প্রথমে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন। এ বার পরিষ্কার মুখে ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত অংশে ভাল করে মধু মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে সামান্য উষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বককে কোমল রাখার পাশাপাশি লোমকূপকে সংকুচিত রেখে ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/
জেনে নিন আপনার রাশিফল

রাশি নিয়ে রয়েছে নানা ভাবনা। এটাকে অনেকে বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে এটাকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়, দিনের শুরুতে মিলিয়ে নিন- কেমন যাবে আজকের দিনটি। আজ ২১ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, রবিবার। বাংলা ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ এবং ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরি। নৈসর্গিক রাশিচক্রে রবি আজ বৃষ রাশিতে অবস্থান করছে। আজ যদি আপনার জন্মদিন হয় তবে পাশ্চাত্য জ্যোতিষে আপনি বৃষ রাশির জাতক/জাতিকা। আপনার জন্ম সংখ্যা : ৩। আপনার ওপর প্রভাবকারী গ্রহ : বৃহস্পতি ও শুক্র। আপনার শুভ সংখ্যা : ৩ ও ৬। শুভ বার : বৃহস্পতি ও শুক্র। শুভ রত্ন : হীরা ও পোখরাজ। জেনে নিন আজকে আপনার রাশিতে কী আছে— মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) : জ্ঞাতি শত্রুরা ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। বিবাদ এড়িয়ে চলুন। অপরের প্রতি সদাচরণ করুন। জৈবিক কামনা-বাসনাকে সংযত রাখুন। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২০ মে) : শরীর ভালো নাও থাকতে পারে। আহারে-বিহারে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। দাম্পত্য ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে চলুন। কারো সঙ্গে বিবাদে জড়ানো ঠিক হবে না। মিথুন রাশি (২১ মে-২০ জুন) : ধর্মীয় কাজে আনন্দ পাবেন। সন্তানের কোনো সাফল্য আনন্দদায়ক হতে পারে। সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে পারেন। শরীর খুব একটা ভালো নাও থাকতে পারে। কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই) : মাতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। পারিবারিক পরিবেশ অনুকূল থাকবে। বিদ্যার্থীদের জন্য দিনটি অনুকূল থাকতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক কোনো পরীক্ষায় সাফল্য পেতে পারেন। সিংহ রাশি (২১ জুলাই-২১ আগস্ট) : ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা পেতে পারেন। কাজকর্মে উত্সাহবোধ করবেন। জ্ঞানস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। মন ভালো থাকতে পারে। কন্যা রাশি (২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর) : অধীনস্তদের কাজে লাগাতে পারবেন। মূল্যবোধ সমুন্নত থাকতে পারে। পড়া-শোনায় আনন্দ পাবেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। তুলা রাশি (২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর) : শরীর ভালো থাকবে। মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকতে পারে। ভালো ব্যবহার দিয়ে কাজ আদায় করা সহজ হতে পারে। আর্থিক দিক ভালো যাবে। অধীনস্তদের কাজে লাগাতে পারবেন। বৃশ্চিক রাশি (২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর) : গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ শেষ করতে পারবেন। সম্ভাব্যক্ষেত্রে বিদেশযাত্রার সুযোগ পেতে পারেন। আর্থিক দিক কিছুটা ব্যয়বহুল হতে পারে। বিনয়ী আচরণ দিয়ে অন্যের মন জয় করতে পারবেন। ধনু রাশি (২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর) : বড় ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। উপার্জন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা জোরদার করুন। আইনগত ঝামেলা এড়িয়ে চলুন। মকর রাশি (২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি) : কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকতে পারে। কর্মস্থলে সহকর্মীদের সহযোগিতা পেতে পারেন। সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আর্থিক দিক ভালো যেতে পারে। কোনো বন্ধুর সহযোগিতায় উপকৃত হতে পারেন। কুম্ভ রাশি (২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) : সামাজিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকতে পারে। পেশাগত দিক ভালো যাবে। কোনো আশা পূরণ হতে পারে। পিতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। পাবলিক ইমেজ বৃদ্ধি পাবে। মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) : অতীন্দ্রিয় শাস্ত্রাদির প্রতি আগ্রহবোধ করতে পারেন। পরধনপ্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। সামাজিক সংকট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কোনো সত্মানুষের পরামর্শে উপকৃত হতে পারেন। এসএ/  

ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পেতে করলা

বর্তমান প্রজন্মের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই এই সবজিটি খুব একটা ভালবেসে খায় না। কেবল ছোটরাই নয়, এমনকি বয়স্করাও যে খুব পছন্দ করেন তাও নয়। কিন্তু অপ্রিয় এই সবজিটি নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার ডায়াবেটিস সহনীয় মাত্রায় রাখতে পারবেন। ডায়াবিটিসের মোক্ষম দাওয়াই হিসেবে করলার কথা বলছেন আধুনিক চিকিৎসকরা। কিন্তু কেন? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করলায় প্রধানত তিনটি উপাদান রয়েছে। যথা, পলিপেপটাই়ড পি, ভাইসিন, চ্যারনটিন। এই তিনটি উপাদান রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে পলিপেপটাইড পি-এর ভূমিকা অনেকটা ইনসুলিনের মতো। কিন্তু কতটা খাব?  কী ভাবেই বা খাব? জার্নাল অফ এথনোফার্মোকলজিতে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, চার সপ্তাহ পরীক্ষার পরে একদল চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রতিদিন ২ গ্রাম করে করলা ডায়েটে রাখলে টাইপ ২ ডায়াবিটিস রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমাণ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন সকালেই খালি পেটে এক কাপ করলার জুস খেয়ে নেওয়ার। ডায়াবিটিস-সহ আরও বেশ কিছু  রোগের যম করলা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুধু শর্করা নিয়ন্ত্রণই নয়, করলা আরও নানা গুণের অধিকারী। জ্বর, ঋতুকালীন যন্ত্রণা, সর্দি-কাশির সমস্যাতেও কাজ দেয় এই করলা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখাচ্ছেন করলার রস ব্রেস্ট ক্যানসারের কোষকে ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই স্বাদের কথা না ভেবে, শরীরের কথা ভেবে ডায়েটে করলা যোগ করা আপনার জন্য মঙ্গলজনক। তবে পরিমিত পরিমাণে তা খেতে হবে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার ৫ উপায়

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম থাকে। এই বিভিন্ন তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ঘামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘামের মাধ্যমে শরীর অতিরিক্ত তাপ বর্জন করে দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখে। কিন্তু এই ঘামই আবার বিভিন্ন সময়ে হয়ে ওঠে লজ্জার কারণ। কোনও অনুষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে যখন লোকের সঙ্গে মেলামেশা করার প্রয়োজন পড়ে, ঘাম ও ঘামের দুর্গন্ধ আপনাকে অপ্রস্তুত করে তোলে। ফলে ঘামের সমস্যা থেকে মুক্তি একান্তই প্রয়োজন এখনের জীবনে, আর সে নিয়েই এই লেখা। মশলাদার খাবার বন্ধ ঘাম তো যে কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরই হয়, কিন্তু দুর্গন্ধের কারণ কী? আসলে আমাদের ত্বকের উপরিভাগে রোমকূপে থাকে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা ঘাম থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। ঘাম হওয়া আটকাতে গেলে প্রথমেই যে দিকে নজর দেওয়া উচিত তা হল খাদ্যাভ্যাস। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যত কম পরিমাণে ফাস্টফুড, মশলাদার খাবার ও তেলের খাবার রাখা যায় ততই ভালো। এ ধরনের খাবার পেটে ঢুকলেই প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করতে থাকে যা কমাতে শরীর ঘাম উৎপন্ন করে। তাই প্রথমেই এড়াতে হবে এই ধরনের খাবার। প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরে যথেষ্ট তাপ উৎপন্ন করে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন খাদ্য বাদ রাখুন তালিকা থেকে। বাদ দিতে হবে ক্যাফাইন জাতীয় খাবার কফিও যা প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে। বরং খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল ও শাকসবজি যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। পানীয় খাবার ও বিশেষত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি রোজ খান, এতে শরীর সহজে গরম হবে না, ফলে ঘামও হবে না। হালকা রঙের জামা পরুন গাঢ় রঙের জামা যত বেশি পরবেন, আপনার শরীর আশেপাশের তাপ আরও বেশি শোষণ করবে। ফলে ঘামও নিশ্চিত। তাই চেষ্টা করুন দিনের বেলা হালকা রঙের জামা পরতে। হালকা রঙের জামা যে কোনও রকমের তাপ প্রতিফলিত করে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি একান্তই অনুষ্ঠানে যেতে ট্রেন্ডি জামা পরতে হয় যা হালকা রঙের নয়, তবে ভিতরে পরুন একটি অন্তর্বাস। এটি আপনার ঘাম শুষে নেবে ও বাইরে আসতে দেবে না। রোদে বেরোবেন না রোদ কেন, প্রয়োজন না থাকলে কোনও বেশি তাপমাত্রার এলাকাতেই যাবেন না। চেষ্টা করুন ছায়া আছে এমন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় থাকার। জানালার পর্দা টেনে রাখুন যাতে বাইরের তাপ ঘরে এসে ঘরকে বেশি উত্তপ্ত করতে না পারে। আপনার শরীরকে যত বেশি তাপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন, ততই আপনার ঘাম কম হবে। চাপ নেবেন না প্রতিদিনের রুটিনে কত রকম কাজ থাকে, ঠিকঠাকভাবে সাফল্যের সঙ্গে তা হবে কি না তা নিয়েও চিন্তা কম নয়। চাপ নেবেন না। আপনি যত চাপ নেবেন ততই শরীরে বাড়বে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ যা আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘাম অবশ্যসম্ভাবী। প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম, চাপের থেকে মুক্তি পাওয়ার এক দারুণ উপায়। ব্যায়াম করলে ঘাম ঝলে, এ থেকে মনে হতেই পারে কী করে এটা ঘাম কমাবে? আসলে নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার সব চিন্তা ও চাপ নিজে থেকেই দূর হয়ে যাবে। ফলে আপনার মাথা সারাদিন চিন্তামুক্ত থাকবে। স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমলে কমবে শরীরের ঘাম উৎপাদনও। অ্যান্টিপারস্পিরান্ট ব্যবহার করুন ঘাম হওয়া আটকাতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যান্টিপারস্পিরান্ট। কিন্তু সবাই যে ভুল করে তা আপনি করবেন না। এটি সকালে গোসল করে বগলে গলায় বুকে দেবেন না, বরং দিন রাতে শুতে যাওয়ার সময়। লোমকূপে গিয়ে এর কাজ করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে, তাছাড়া রাতে উষ্ণতা কম থাকায় এটি ব্যবহার করে ভালো ফল মেলে। শোওয়ার আগে তাই এটি শরীরের যে অংশে বেশি ঘাম হয় সেখানে দিয়ে শুতে যান। বেশকিছু রাত এমন অভ্যাস করলে দেখবেন আপনার ঘাম হওয়া আগের থেকে অনেক কমে গেছে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

ঘরে বসেই ভ্রু ঠিক করুন এভাবে

চোখকে সুন্দর করতে গেলে নিতে হবে তার যত্ন। শুধু চোখের নয়, চোখের ভ্রু’র ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। চোখের ভ্রু নিয়ে আজকের দিনে ছেলেমেয়ে সবাই সচেতন। সেলুনে চুল কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু’র চর্চাও এখন ট্রেন্ড। ভ্রুর মেইন্টেন করাটাও খুব দরকারি। ভ্রু প্লাক অনেকেই সেলুনে বা পার্লারে গিয়ে করাতে ভালোবাসেন। কিন্তু এখন কিছু সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে এটা আপনি বাড়িতেই করতে পারেন। অনেকেই এতে ভয় পান, যদি ভুল কিছু হয়ে যায়। কিন্তু কিছু পদ্ধতি ঠিকঠাক মানলে আপনার নিজের হাতেই নিজের রূপ বৃদ্ধি পাবে। খুব বেশি কিছু যে লাগবে তাও নয়। এই পুরো কাজটা উতরাতে একটা স্পুলি ব্রাশ বা সরু ছোট দাঁতের চিরুনি, একটা কাঁচি আর একটা আয়নাই যথেষ্ট। ভ্রুর চারপাশ ওয়াক্সিং করে নিন প্রথমেই একটা চেয়ারে বসে আয়নাকে এমনভাবে সামনে রাখুন, যাতে কোনও আলো প্রতিফলিত হয়ে আপনার চোখে না পড়ে‌। আলো পড়লে আপনি ভ্রুর অংশটা ঠিক করে দেখতে পাবেন না। এরপর আপনাকে ওয়াক্সিং করে নিতে হবে ভ্রুর চারপাশের সূক্ষ্ম লোমগুলো। ওয়াক্সিং ক্রিম ও রিমুভার বাজারেই মেলে‌। ওয়াক্সিং করা থাকলে আপনি খুব সহজেই আপনার ভ্রু’র চারপাশ স্পষ্ট বুঝতে পারবেন। এতে করে আপনার প্লাক করতে সুবিধা হবে। চিরুনি দিয়ে ব্রাশ করুন ওয়াক্সিং হয়ে গেলে আপনার দুই ভ্রু’র চারপাশ ও মাঝে কোনও লোম থাকবে না। এরপর স্পুলি ব্রাশ বা চিরুনিটা দিয়ে ব্রাশ করে নিন ভ্রু-এর চুলগুলো। লক্ষ রাখতে হবে, চুলগুলো যে দিকে মুখ করে আছে ব্রাশটা যেন সে দিকেই চালানো হয়। তা না হলে কাঁচি চালানোর সময় ভুল বুঝে বেশি কাটা হয়ে যেতে পারেন। কাঁচি ব্যবহার করুন এবারে আপনাকে করতে হবে সেই কাজটা যাতে কনফিডেন্স দরকার সবচেয়ে বেশি। পদ্ধতিটা এমনিতে বেশ সহজ। আপনার ভ্রুর বড় চুলগুলো আগে দেখে নিন ভালো করে। এবার কাঁচিটি তুলে নিয়ে সাবধানে কেটে ফেলুন বড় চুলগুলোর বেড়ে থাকা অংশগুলো। আপনার ভ্রুর চুলগুলো যদি ছোট হয় তবে এই ধাপে আপনার বেশি কাজ নেই, কিন্তু চুলগুলো বড় হলে একটু সাবধানী হয়ে কাঁচি চালালেই যথেষ্ট। চিরুনি ভ্রু এর উপর ধরুন ভ্রু এর উপর এবার চিরুনি বা স্পুলি ব্রাশ ধরুন। এমনভাবে ধরতে হবে যাতে ভ্রুর চুলগুলো চিরুনি দাঁতের ফাঁক দিয়ে উঠে আসে। চিরুনিকে ত্বকের একদম কাছে চেপে ধরলে দাঁতের ফাঁক দিয়ে উপরে উঠে থাকা চুলের পরিমাণ বেশি হবে আর যদি একটু হালকা করে ধরেন তবে কম চুল উঠে থাকবে। আপনি ভ্রু বেশি পাতলা করতে চাইলে প্রথম উপায়টি আর পাতলা না করে সাধারণ রাখতে চাইলে দ্বিতীয় উপায়টি কাজে লাগান। চিরুনি আপনার প্রয়োজন মতো বসানো হলে উপরে উঠে থাকা চুলগুলো সাবধানে কেটে দিন কাঁচি দিয়ে। অল্প অল্প করে কাটুন আমাদের ভ্রুর তিনটে ভাগ। একভাগ নাকের গোড়ার দিক, আরেক ভাগ যে অংশ নাচানো হয়, সেই তির্যক অংশ ও শেষ ভাগ কানের দিকে সরু হয়ে যাওয়া অংশ। চিরুনিটি আপনার প্রয়োজন মতো বসিয়ে কাঁচি দিয়ে সাবধানে কাটুন এই তিন অংশের চুলই‌। তিন অংশের চুলই এতে সমান উঁচু থাকবে। ছোট-বড় হবে না। বাড়িতে ভ্রু প্লাক করলে আপনার পয়সা ও সময় দুইই বাঁচে। সেলুন বা পার্লারে গিয়ে লাইন দিয়ে বসে থাকার চেয়ে বাড়িতে এই কয়েকটা ধাপ ঠিকঠাক মেনে চললেই আপনি পেয়ে যাবেন একজোড়া সুন্দর ভ্রু। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

রাশিফল : কেমন যাবে আজকের দিন!

রাশি নিয়ে রয়েছে নানা ভাবনা। এটাকে অনেকে বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে এটাকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়, দিনের শুরুতে মিলিয়ে নিন- কেমন যাবে আজকের দিনটি। আজ ১৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, শুক্রবার। বাংলা ৬ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ এবং ১২ শাবান ১৪৪০ হিজরি। নৈসর্গিক রাশিচক্রে রবি আজ মেষ রাশিতে অবস্থান করছে। আজ যদি আপনার জন্মদিন হয় তবে পাশ্চাত্য জ্যোতিষে আপনি মেষ রাশির জাতক/জাতিকা। আপনার জন্ম সংখ্যা : ১। আপনার ওপর প্রভাবকারী গ্রহ : রবি ও মঙ্গল। আপনার শুভ সংখ্যা : ১ ও ৯। শুভ বার : রবি ও মঙ্গল। শুভ রত্ন : রুবী ও রক্তপ্রবাল। জেনে নিন আজকে আপনার রাশিতে কী আছে— মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) : ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে। দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। ব্যবসায়িক দিক ভালো যেতে পারে। কোনো ব্যাপারে বিবাদে জড়ানো ঠিক হবে না। বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২০ মে) : পড়াশোনায় মন বসাতে চেষ্টা করুন। কর্মপরিবেশ অনুকূল নাও থাকতে পারে। কর্মস্থলে কোনো ঝামেলা হতে পারে। শরীর ভালো যাবে না। আহারে-বিহারে সতর্ক থাকুন। মিথুন রাশি (২১ মে-২০ জুন) : কোনো আশা পূরণ হতে পারে। বিদ্যার্থীদের জন্য সময় অনুকূল থাকতে পারে। পড়াশোনায় মন বসাতে পারবেন। নিজের মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। ব্যক্তিগত সৃজনশীলতায় সুফল পাবেন। কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই) : ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। মাতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। কোনো আশা পূরণ হতে পারে। মন ভালো থাকবে। আবেগ সংযত রাখুন। সিংহ রাশি (২১ জুলাই-২১ আগস্ট) : অধীনস্তদের কাজে লাগাতে চেষ্টা করুন। কাজকর্মে উত্সাহবোধ করতে পারেন। আপনার প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। কন্যা রাশি (২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর) : শরীর ভালো থাকতে পারে। মূল্যবোধ বজায় রাখুন। পড়াশোনায় আনন্দ পাবেন। বেহাত হওয়া সম্পদের দখল ফিরে পেতে পারেন। আর্থিক দিক ভালো যেতে পারে। তুলা রাশি (২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর) : কোনো পূর্বকর্মের ফল ভোগ করতে পারেন। ভালো ব্যবহার দিয়ে কাজ আদায় করার চেষ্টা করুন। ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ পেতে পারেন। কোনো বিশেষ রঙের প্রতি আকর্ষণবোধ করতে পারেন। বৃশ্চিক রাশি (২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর) : পেশাগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে পারবেন। শরীর ভালো নাও থাকতে পারে। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। ধনু রাশি (২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর) : অসুস্থ পিতার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। আর্থিক দিক ভালো যাবে। আয়-উপার্জন বৃদ্ধি পেতে পারে। মনের কোনো গোপন ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। সাংগঠনিক কাজে সুফল পাবেন। মকর রাশি (২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি) : সামাজিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকতে পারে। কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকবে। কর্মস্থলে সহকর্মীদের সহযোগিতা পেতে পারেন। সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনো উচ্চাশা পূরণ হতে পারে। কুম্ভ রাশি (২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) : পরধনপ্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। জ্ঞানস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। মন ভালো থাকতে পারে। কোনো সেলাকের পরামর্শে উপকৃত হতে পারেন। পেশাগত দিক ভালো যাবে। মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) : জ্ঞাতি শত্রুরা ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। সামাজিক সংকট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। রিপুকে সংযত রাখুন। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এসএ/    

কাঁঠালে রয়েছে নানা রোগের সমাধান

গ্রীষ্ম যতই বেদনাদায়ক হোক, ফলাহারের জন্য এর কোনও তুলনা নেই। গরমে ঘেমে গলদঘর্ম হয়ে তাই সামনে নানা ফলে সাজানো থালা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। যতই সুস্বাদু ফলের যোগান মেলে গরম কালেই। তা দিয়ে সুস্বাদু ডেজার্টেরও রমরমা ভালই। আর এই স্বাদের নিরিখে যে তিনটি গ্রীষ্মের ফল সবচেয়ে এগিয়ে থাকে, সেগুলি হল আম, লিচু আর কাঁঠাল। আম, লিচু নিয়ে অনেক বিলাসিতা থাকলেও, স্বাদে এগিয়ে থাকলেও কাঁঠাল একটু বঞ্চিতদের দলেই থাকে। এই ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে কেউ তেমন ওয়াকিবহল নয়। তাই জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালে কী কী গুণ লুকিয়ে রয়েছে- #কাঁঠাল খেতে মিষ্টি। কিন্তু এই ফল খেয়ে ডায়াবিটিস বেড়ে যাওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই। বরং শরীরে শক্তি জোগাতে এর জুড়ি মেলা ভার। #কাঁঠাল ফাইবার-সমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে। #এই ফলে রয়েছে সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্টও ভাল থাকে। #এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন। চোখ ভাল রাখতে ভিটামিন এ যে অপরিহার্য, তা কে না জানে। #কাঁঠালে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকার ফলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। বলিরেখাও কমে। #কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন বি৬ এবং প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি। তবে এতে কোনও রকম কোলেস্টেরল নেই। #কাঁঠালে আয়রন থাকে যা রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় যাঁরা ভুগছেন তাদের কাঠাল খাওয়া উচিত। #এই ফল নিয়মিত খেলে পাইলস এবং কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে। #উচ্চমানের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফল কাঁঠাল। এতে ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই কাঁঠাল খেলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এমনকি ক্যানসার এবং টিউমারের বিরুদ্ধেও শরীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। #কাঁঠালে ক্যালশিয়াম থাকে যা হাড় শক্ত রাখে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

গরমে সুস্থ থাকতে মেনে চলুন ১০ পরামর্শ

বৈশাখ মাস শুরু হতে না হতেই বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। বুধবার দুপুর দুইটায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যদিও আর্দ্রতার কারণে বাস্তবে গরম ছিল আরো বেশি। মঙ্গলবার ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কী করতে হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক ডা. বেনজীর আহমেদ বলছেন, গরমের সময় শুধুমাত্র সতর্ক থেকে অনেক বিপদ এড়ানোর যেতে পারে। তিনি এজন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন: সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা সকাল ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা বেশি থাকে। এ সময় জরুরি কাজ না থাকলে বাইরে বের না হওয়াটাই ভালো। ছাতা ব্যবহার বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা, যাতে সরাসরি রোদের মধ্যে থাকতে না হয়। এ সময় চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে। আহমেদ বলছেন, যারা মাঠেঘাটে কাজ করেন, তারা মাথায় ‘মাথাল’ জাতীয় টুপি ব্যবহার করতে পারবেন, যা তাদের রোদ থেকে রক্ষা করবে। বেশি করে পানি পান করা গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিষ্কার পানি বের হয়ে যায়, তখন ইলেট্রোলাইট ইমব্যালান্স তৈরি হতে পারে। এ কারণে এই সময়টাতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। লবণ মিশিয়ে পানি পান করতে পারলে আরো ভালো। ফলের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালো, তবে এ জাতীয় জুস খাওয়ার সময় দেখে নিতে হবে সেটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে তৈরি কিনা। খোলা, পথের পাশের দুষিত পানি বা সরবত এড়িয়ে চলতে হবে। সূতির কাপড় পরতে হবে গরমের এই সময়টায় জিন্স বা মোটা কাপড় না পরে সুতির নরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। এ ধরণের কাপড়ে অতিরিক্ত ঘাম হবে না এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করবে। গরমের সময় কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় এড়িয়ে সাদা বা হালকা রঙের কাপর পরিধান করা ভালো, কারণ হালকা কাপড় তাপ শোষণ করে কম। সঠিক জুতা নির্বাচন গরমের সময় খোলামেলা জুতা পরা উচিত, যাতে পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। কাপড় বা সিনথেটিকে বাদ দিয়ে চামড়ার জুতা হলে ভালো, কারণ এতে গরম কম লাগে। সম্ভব হলে মোজা এড়িয়ে চলা যেতে পারে। ভারী ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন এ জাতীয় খাবার হজম করতে সময় বেশি লাগে। ফলে সেটি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে এবং শরীরের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সেটি আরো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। খাবারের মেন্যু থেকে গরমের সময় তেলযুক্ত খাবার, মাংস, বিরিয়ানি, ফাস্টফুড ইত্যাদি বাদ দেওয়া যেতে পারে। বরং শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া যেতে পারে। পুরনো বা বাসী খাবার না খাওয়া গরমে খাবার-দাবার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাসী খাবার বা আগের দিন রান্না করা খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিতে হবে যে, সেটি নষ্ট কিনা। এ জাতীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানাসহ পেটের অসুখ হতে পারে। ঘরে পানি ভর্তি বালতি রাখা এসি না থাকলেও সমস্যা নেই। ঘরের ভেতর ফ্যানের নীচে একটি পানি ভর্তি বালতি রাখুন, যা ঘরকে খানিকটা ঠাণ্ডা করে তুলবে। হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বল লাগা ও প্রচণ্ড পিপাসা হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে প্রেশার পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিদিন অবশ্যই গোছল করা গরমের সময় প্রতিদিন অবশ্যই গোছল করতে হবে, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখবে। দিনে একাধিকবার হাত, মুখ, পায়ে পানি দিয়ে ধুতে পারলে ভালো। বাইরে বের হলে একটি রুমাল ভিজিয়ে সঙ্গে রাখতে হবে, যা দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর মুখ মুছে নেওয়া যাবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

ঘুম নিয়ে ৬ প্রচলিত ধারণা আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে: গবেষণা

ঘুম সম্পর্কে ব্যাপকভাবে প্রচলিত কিছু ধারণা আমাদের স্বাস্থ্য এবং মেজাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি আমাদের আয়ু কমিয়ে ফেলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল, রাতে ভাল ঘুমের ব্যাপারে সর্বাধিক প্রচলিত ধারণা বা দাবিগুলো ইন্টারনেট থেকে খুঁজে বের করে। তারপর তারা সেই দাবিগুলোকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সাথে মেলান এবং স্লিপ হেলথ জার্নালে সেই গবেষণা প্রকাশিত হয়। তারা আশা করেন যে ঘুম নিয়ে মানুষের এমন পুরনো ধারণা বা বিশ্বাসগুলো দূর করার ফলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার উন্নতি হবে। এখন আপনাদের মধ্যে কতজন এ ধরণের ধারণায় বিশ্বাস করার জন্য আফসোস করবেন? পাঁচ ঘণ্টারও কম সময় ঘুমিয়ে আপনি নিজেকে সামলাতে পারবেন এটা এমনই এক ধারণা যেটা কখনোই যাবেনা। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল দাবি করেছেন যে প্রতিরাতে চার ঘণ্টারও কম ঘুমিয়ে তিনি একটি সপ্তাহ কাটিয়ে দিতে পারেন। ব্যবসা বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে সাফল্যের পেছনে অফিসের অতিরিক্ত সময়ে বিছানায় ঘণ্টা-খানেক ঘুমিয়ে নেয়ার যে একটা প্রভাব রয়েছে সেটা কমবেশি সবারই জানা। তবুও গবেষকরা বলেছেন যে পাঁচ ঘণ্টারও কম সময় ঘুমানোকে স্বাস্থ্যকর বলে যে ধারণা প্রচলিত আছে সেটা বরং স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। গবেষক ড. রেবেকা রবিন্স বলেন, ‘দিনের পর দিন পাঁচ ঘণ্টা বা তারও কম সময় ঘুমানো যে স্বাস্থ্যের ভয়াবহ পরিণতির ঝুঁকি অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়, তার ব্যাপক প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’ এর মধ্যে রয়েছে হৃদযন্ত্র জনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি, যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং আয়ুষ্কাল কমে যাওয়া। তাই, তিনি সুপারিশ করেন যে, সবার প্রতিরাতে একনাগাড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টার ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। বিছানা যাওয়ার আগে মদ পান করলে ঘুম ভালো হয় শরীর মন শিথিল করার এই উপায়টি পুরোপুরি বানোয়াট। গবেষক দলটি বলছে, সেটা এক গ্লাস ওয়াইন হোক, ড্রামভর্তি হুইস্কি হোক বা এক বোতল বিয়ার। ‘এটি মূলত আপনার ঘুমের প্রাথমিক পর্যায়, অর্থাৎ যে সময়ে চোখের দ্রুত নড়াচড়া কমে আসতে থাকে সেই স্তরটিকে বাধা দেয়। ঘুমের এই পর্যায়টি স্মৃতিশক্তি ও শেখার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’ তাই হ্যাঁ, মদ খাওয়ার পর আপনার হয়তো ঘুম ভাল হবে বা খুব সহজেই ঘুমিয়ে পড়বেন। তবে ঘুমের কারণে যে উপকারগুলো পাওয়ার কথা সেগুলো আর পাবেননা। বিছানায় শুয়ে টিভি দেখা শরীর  শিথিল করতে সাহায্য করে আপনি কি কখনও ভেবেছেন ‘বিছানায় যাওয়ার আগে আমার একটু শিথিল হওয়া দরকার, আমি কি তাহলে কিছুক্ষণ টিভি দেখবো?’ বিষয় হল, এই রাত করে টিভি দেখা আপনার ঘুমের জন্য খারাপ হতে পারে। ডাঃ রবিনস যুক্তি দেন: ‘ আমরা যদি টেলিভিশন দেখে থাকি, তাহলে প্রায়ই রাতের খবরগুলো দেখা হয়।’ এতে করে আপনি মানসিক চাপ সেইসঙ্গে অনিদ্রা রোগ বা ইনসোমনিয়ায় ভুগতে পারেন। যে সময় আপনার শরীর-মন শিথিল রাখার কথা সেই সময়ে অর্থাৎ বিছানায় শুতে যাওয়া থাকার আগে আপনাকে অনিদ্রা বা চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। গেম অব থ্রোনসের উদাহরণ দিতে গেলে কেউ যুক্তি দিতে পারবেনা যে, রেড ওয়েডিং পর্বটি শিথিল করার মতো ছিল। টিভির পাশাপাশি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের অন্যান্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে - এই ডিভাইসগুলো থেকে যে নীল আলো বের হয় সেটা শরীরে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদনকে বিলম্বিত করতে পারে। ঘুম না আসলে তাও বিছানায় পড়ে থাকুন আপনি ঘুমানোর চেষ্টায় অনেক সময় নষ্ট করেছেন। এমনকি সারা নিউজিল্যান্ডের দুই কোটি ৮০ লাখ ভেড়ার সবকটি হয়তো আপনি গুনে শেষ করে ফেলেছেন। তাহলে আপনার পরবর্তীতে কি করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর হল, ঘুমের জন্য এতো চেষ্টা বন্ধ রাখতে হবে। ‘আমরা অনিদ্রার সঙ্গে আমাদের বিছানার যাওয়ার বিষয়টিকে সংযুক্ত করলাম।’ ডাঃ রবিনস বলেন। ‘একজন সুস্থ মানুষের বিছানায় যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘুম চলে আসে। তবে ঘুম আসতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগলে, অবশ্যই বিছানা ছেড়ে দিতে হবে। এরপর পরিবেশ বদলে দিতে হবে। এমন কাজ করতে হবে যেখানে মস্তিষ্কের তেমন কিছু ভাবতে হবেনা। যেমন, মোজা ভাজ করা।’ বারবার স্নুজ বোতামে চাপ দেয়া অনেকেই তাদের ফোনে একাধিক সময়ে স্নুজ টাইমার সেট করাটাকেই স্বাভাবিক মনে করেন। এটা ভেবে যে বিছানায় অতিরিক্ত ছয় মিনিটেই বুঝি বিশাল কোন পার্থক্য হবে। কিন্তু গবেষক দল বলেছেন যে যখন অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে যায়, তখনই আমাদের উঠে যাওয়া উচিত। ডাঃ রবিনস বলেছেন: ‘এতে আপনার মতো সবাই কিছুটা আধো ঘুম আধো জাগা অবস্থায় থাকলেও তারা স্নুজ করার প্রলোভনকে প্রতিরোধ করতে পারবে। ‘প্রথম অ্যালার্ম বাজার পর স্নুজ দিয়ে আপনার শরীর হয়তো আবার ঘুমিয়ে পড়বে। তবে সেই ঘুম হবে অনেক নিম্নমানের পাতলা ঘুম।’ তাই এ ধরণের উপায় আর পরামর্শ উড়িয়ে দিয়ে অ্যালার্ম থামার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের পর্দা খুলে দিন, এবং যতটা সম্ভব নিজেকে উজ্জ্বল আলোর সামনে রাখুন। নাক ডাকায় কোন ক্ষতি নেই নাক ডাকা হয়তো ক্ষতিকারক নাও হতে পারে, তবে এটি স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগের একটি লক্ষণ হতে পারে। এই রোগের কারণে আমাদের গলায় যে দেয়াল আছে সেটা ঘুমের সময় শিথিল এবং সংকীর্ণ হয়ে যায়। যার কারণে মানুষ অল্প সময়ের জন্য শ্বাস নিতে পারেনা। এ ধরণের মানুষেরা উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন এমনকি হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকে। তবে এই নাক ডাকা যদি খুব জোরে হয় তাহলে সতর্ক হতে হবে। ডাঃ রবিনস পরিশেষ বলেছেন: ‘আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের মেজাজ, আমাদের ভালো থাকা এবং আমাদের দীর্ঘায়ুর উন্নয়নে আজকের রাত থেকে আপনি যা করতে পারেন তার মধ্যে ঘুম হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে একটি।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

মানুষের দ্রুত রেগে যাওয়ার কারণ কি?

বর্তমান পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের সিংহভাগই অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করে থাকে। জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনেক দেশেই দারিদ্রের হার কমছে এবং মানুষের সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল বাড়ছে। মানব জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উন্নত বিশ্বে বসবাসকারী মানুষের অধিকাংশই অন্যান্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশী নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ জীবনযাপন করছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের আশেপাশের এত মানুষকে কেন সবসময় ক্রুদ্ধ, রাগান্বিত মনে হয়? রাস্তায় চলাচল করার সময়, সামাজিক মাধ্যমে বা কোনো রাজনীতিবিদের সমালোচনা করার সময় মানুষের ক্ষোভ যেভাবে প্রকাশিত হয়, তা দেখে কেউ যদি ধারণা পোষণ করে যে পৃথিবীর মানুষ আসলে চিরস্থায়ী ক্রোধের মধ্যে ডুবে আছে - তাহলে তাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না। ব্রিটিশ সাংবাদিক এবং লেখক অলিভার বার্কেম্যানের লেখালেখির বিষয়বস্তু হলো কীভাবে সুখের সন্ধান পাওয়া যায়। এই বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়েই তিনি ‘ক্রোধ’ বিষয়টিকে আরো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করেছেন। তিনি খুঁজে বের করতে চেয়েছেন যে আমরা কেন রেগে যাই? কোন বিষয়গুলো রাগ চড়িয়ে দেয়? অথবা, রাগ করা কি আসলে খারাপ? প্রকৃতির সাথে মানুষের অভিযোজনের শুরুর দিকে, একজন ব্যক্তির আরেকজনের ওপর ক্রুদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা আসতো কীসের থেকে? যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োর হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যারন সেল বলেন, ‘ক্রোধ খুবই জটিল একটি বিষয়।’ ‘নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করলে বলা যায়, এটি মানুষের মন নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র। আরেকজন ব্যক্তির মাথার ভেতরে ঢুকে নিজেকে ঐ ব্যক্তির কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি পদ্ধতি। তাদের মন পরিবর্তন করে তাদের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জয়ী হওয়ার একটি প্রক্রিয়া।’ প্রফেসর সেল বলেন এই ‘মন নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রাখে মানুষের ‘রাগান্বিত চেহারা।’ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে, ক্রুদ্ধ হলে মানুষের ভ্রু বিস্তৃত হয়ে যাওয়া, নাসারন্ধ্র প্রসারিত হওয়া এবং চোয়ালের পুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার মত পরিবর্তনগুলো মানুষ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে - বলেন প্রফেসর সেল। ‘রাগ হলে মানুষের মুখের অভিব্যক্তিতে যেসব পরিবর্তন হয়, তার প্রত্যেকটির ফলেই মানুষকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী দেখায়।’ প্রফেসর সেল বলেন, এই বিষয়গুলো মানুষ শেখে না, বরং জন্মসূত্রে অর্জন করে কারণ ‘অন্ধ শিশুরাও একই ধরণের ক্রুদ্ধ অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।’ আপনি এমনটা ধারণা করতেই পারেন যে, আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যারা ক্রুদ্ধ হতো না এবং সংঘর্ষে জড়াতো না, তারা দ্রুত রেগে যাওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে বেশীদিন বাঁচত - তবে বিষয়টি আসলে সেরকম নয়। প্রফেসর সেল বলেন, ‘একটি বিশেষ ধাঁচের রাগ যেসব মানুষের মধ্যে ছিল, তারা অন্যদের চেয়ে বেশী হারে বংশবৃদ্ধি করেছে।’ স্বার্থের সংঘাতে বিজয়ী হয়ে এবং আরো ভালো জীবনযাপনের লক্ষ্যে ক্রমাগত দর-কষাকষির মাধ্যমে তারা সেটি সম্ভব করেছে। ‘অতীতে, যেসব লোকের কোনো রাগ ছিল না তারা নিগৃহীত হতো’, বলেন প্রফেসর সেল। অন্যান্যরা সেসব মানুষের সম্পদ চুরি করতো এবং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতো এবং ‘ফলস্বরূপ তারা মারা যেতো।’ সেসব মানুষই টিকে ছিল যারা অন্যান্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিতো এবং নিজেদের গুণকীর্তন এমনভাবে অন্যদের বারবার মনে করিয়ে দিতো, যার ফলে অন্যান্য সাধারণ মানুষ তাদের সম্পর্কে ক্রমাগত উঁচু ধারণা পোষণ করতো এবং কৃতজ্ঞতা বোধ করতো - যে কারণে ঐসব ব্যক্তিদের সাথে ভালো ব্যবহার করতো। প্রফেসর সেল বলেন, ক্রোধ ঐ ধরণের মানুষকে অভিযোজনে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ক্রোধকে বোঝার জন্য আমাদের ভাবতে হবে যে এটি আমাদের মধ্যে কী ধরণের শারীরিক পরিবর্তন ঘটায়, এর ফলে আমাদের আচরণে কী পরিবর্তন আসে, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমরা কী চিন্তা করি এবং কী চিন্তা করতে পারি না। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর রায়ান মার্টিন, যিনি ক্রোধ বিষয়ে গবেষণা করেন, বলেন রাগ হলে মানুষের সহানুভূতিশীল স্নায়ুবিক কার্যক্রম শুরু হয়। ‘রাগ হলে আপনার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হয়ে যায়, আপনি ঘামতে শুরু করবেন এবং পরিপাক ক্রিয়া ধীরগতিতে চলতে শুরু করে।’ মানুষ যখন মনে করে যে তার সাথে অবিচার করা হচ্ছে, তখন শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এধরণের উপসর্গ প্রকাশ পায়। একই সাথে মস্তিষ্কও ভিন্ন আচরণ করা শুরু করে। ‘মানুষ যখন তীব্রভাবে কিছু অনুভব করে, তখন চিন্তা ভাবনার অধিকাংশই ঐ একটি বিষয় কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।’ তখন তারা ‘টিকে থাকা’ বা ‘প্রতিশোধ নেয়ার’ বিষয়টিকেই বেশী প্রাধান্য দেয়। কোনো বিশেষ একটি অবিচার বা অন্যায়ের বিষয়ে চিন্তা করা বা তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার সময় অন্য কোনো বিষয় নিয়ে মানুষের মস্তিষ্ক চিন্তা করতে চায় না - এটিও অভিযোজনেরই অংশ। আপাতদৃষ্টিতে, বর্তমান সময়ে উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ মানুষেরই তাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম সংগ্রাম করে জীবনযাপন করতে হয়। প্রফেসর মার্টিন বলেন, ‘মানুষ আগের চেয়ে ব্যস্ত এবং তাদের জীবনে চাহিদা অনেক বেশী, কাজেই জীবনের উদ্যম কমে যাওয়ার পরিণাম চিন্তা করলে মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।’ সুপারমার্কেটে লাইনে দাঁড়ালে অথবা কোনো জরুরি সেবা নিতে গিয়ে অহেতুক অপেক্ষা করতে হলে আমরা অনেক দ্রুত রেগে যাই - কারণ আমাদের কাছে নষ্ট করার মত সময় নেই। স্বাভাবিকভাবেই, যে ব্যক্তির ওপর আমরা রেগে থাকি, তাকে আরো বেশী আঘাত দিয়ে কোনো লাভ হবে না - কাজেই রাগ কমাতে আমাদের অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হবে। জেরুসালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মায়া তামির বলেন, আমরা যতটুকু মনে করি, রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে আমাদের তার চেয়ে বেশী ক্ষমতা রয়েছে। মায়া বলেন, ‘যদি জন্মসূত্রে অর্জন করার পাশাপাশি আবেগ তৈরি করা এবং শেখা যায়, তাহলে ক্রোধের মত আবেগের ক্ষেত্রে সব মানুষ হয়তো একইরকম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবে না।’ মানুষ যদি তার ক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থান ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ক্রোধকে ব্যবহার করে, তাহলে তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। তবে মনোবিজ্ঞান এও বলে যে, ক্রোধের বশবর্তী না হয়ে মানুষ তার মনকে একীভূত করে তার বিরুদ্ধে হওয়া অবিচারের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা রাখে। দার্শনিক এবং মনোরোগ চিকিৎসক মার্ক ভারনন বলেন, প্লেটোনিক এবং অ্যারিস্টটলিয়ান চিন্তাধারায় ধারণা করা হতো যে `সঠিক ক্রোধ` বলে একটি বিষয় রয়েছে। ক্রোধ যখন কাউকে ‘সাহসের সাথে একটি অবিচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রেরণা দেয় অথবা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পটভূমি তৈরি করে দেয়’ - তখন সেই রাগকে ভালো না বলার কোনো কারণ থাকতে পারে না। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

ঠিক মতো ঘুম না হলে কি হয় মানুষের মস্তিষ্কে

বেঁচে থাকার জন্যে আমরা যেমন খাবার খাই, নিঃশ্বাস গ্রহণের সময় বাতাস নেই, ঠিক তেমনি ঠিকমতো ঘুমানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় আমরা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেই। কিন্তু ঘুম না হওয়া বা অনিদ্রা মানুষের মস্তিষ্কের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত পরিমিত ঘুম থেকে বঞ্চিত হতে থাকলে খিটখিটে মেজাজ হতে পারে। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ পরিমিত ঘুমের অভাবে অল্পতেই একজন মানুষ রেগে যায়।যে দিন ভালো ঘুম হয় না তা ত্বক দেখলেই বোঝা যায়। কারণ এর প্রথম দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে ত্বকে। ঘুম ত্বকের মেরামত করে। অপরিমিত ঘুম ত্বকের লাবণ্য কমিয়ে নিষ্প্রাণ করে ফেলে। ক্রমাগত ঘুম কম হলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ক্রনিক অনিদ্রায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।দীর্ঘদিন ঘুমে অনিয়মের ফলে রক্তের রাসায়নিক উপাদানে পরিবর্তন ঘটে যা হাইপারটেনশনের কারণ। অপরিণত ঘুমের ফলে সৃজনশীলতা, প্রাণবন্ততা, কর্মতৎপরতা কমে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে খাবার হজমে সমস্যা হয়, রক্তপ্রবাহের সমস্যার কারণে স্ট্রোক ও হার্ট এর্টাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণে। কেউ টানা চার দিন জেগে থাকলে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে আরম্ভ করবে। আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রষ্ট্রতার অন্যতম প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম। আমরা অনেকে অনিদ্রা দূর করার জন্যে ওষুধ খাই কিন্তু হাজার হাজার মেডিকেল এক্সেপেরিমেন্টে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওষুধ খেয়ে যে ঘুম তাতে কখনো গভীর নিদ্রা হয় না। কারণ স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের ঘুমের মধ্যে যতটা প্রশান্ত থাকে তা ওষুধ খেয়ে হয় না। কাজেই ওষুধ খেয়ে তিনি স্বাভাবিক ঘুমের উপকার থেকে বঞ্চিত হন। তার ভেতরে অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ ও শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণগুলো দেখা যায়। গভীর ঘুমের ক্ষেত্রে অন্তরায়গুলো কী কী ? চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, আগে মনে করা হতো, পারিবারিক বা পেশাগত কারণে যতটা ঘুম ডিসটার্বড হয়, তার চেয়ে বেশি হয় ডিজিটাল পর্দার প্রভাবে। একজন মানুষ যদি দিনে দুই হাজার বার স্মার্টফোন টাচ করে তাহলে তার ঘুম আসবে কীভাবে? আমরা সবাই আজ চারকোণা স্ক্রিনের দুনিয়ায় বন্দী। সারাদিন পর বাড়িতে ফিরে রাত জেগে বা গভীর রাত অবধি টিভি, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোনের সামনে না বসে আমরা রিল্যাক্স করতে পারি না। বাড়ির মা-বাবা থেকে ছোট্ট শিশু সন্তান সবাই যার যার ডিভাইস নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। আমরা জানি, ভোগবাদী পুজিঁপতিরা নিত্যনতুন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের মাধ্যমে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টায় তৎপর। কোনোরকম রাখঢাক না রেখে নেটফিক্স নামক সাইটটি ঘোষণা করেছে তাদের ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী/ শত্রু মানুষের ঘুম। তারপরও আমরা রাত জেগে এসব সাইটের দিকে তাকিয়ে থাকতেই বেশি ভালবাসি। ব্রেনের মেডুলা ও মিডব্রেনের মাঝখানে রয়েছে আমাদের ওয়েকিং সেন্টার বা জাগৃতি কেন্দ্র। জাগৃতি কেন্দ্র যখন কাজ করে তখন আমরা জেগে থাকি। আর এ কেন্দ্রটি যখন কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। জাগৃতি কেন্দ্রের কাজ নিয়ন্ত্রিত হয় হরমোন সংকেত দ্বারা। আর এই হরমোন নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় শরীর মনের অবস্থা দ্বারা। শরীর মনের অবস্থা অনুসারে হরমোনের মাত্রা কমতে কমতে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় এলে জাগৃতি কেন্দ্র কাজ বন্ধ করে দেয়, ফলে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু ডিজিটাল পর্দা, অর্থাৎ টিভি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ আমাদের শরীরের এই হরমোনের মাত্রা কমতে দিচ্ছে না। আমাদের ব্রেনকে ক্রমাগত জেগে থাকার উদ্দীপনা দিচ্ছে। ফলে ব্রেনের কাজ বন্ধ হচ্ছে না এবং আমরা ঘুমাতেও পারছি না। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিক রাতে টেলিভিশন, কম্পিউটার বা সেলফোন মনিটরে তাকিয়ে থাকা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কারণ টেলিভিশন, কম্পিউটার বা সেলফোন মনিটরে যে নীল আলো থাকে, তা চোখের রেটিনার মাধ্যমে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে চলে গিয়ে মেলাটোনিন নামের রাসায়নিক নিঃসরণে দেরি করিয়ে দেয়। মেলাটনিন যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ নিঃসরিত না হয় তাহলে গভীর ঘুম হয় না। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, পড়ার সময় পড়া, ঘুমানোর সময় ঘুমানো, খেলার সময় খেলা করতে হবে। আমাদের জীবনে এখন কোনো রুটিন নেই। একেক দিন একেক সময় ঘুমাতে যাচ্ছি, একেক সময় ঘুম থেকে জাগছি। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারছি না। অনেকে বলেন ক্রমাগত রাত জেগে সয়ে গেছে অর্থাৎ তার কোনো সমস্যাই হচ্ছে না। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ক্ষতি যা হওয়ার তা ঠিকই হচ্ছে, হয়তো আপনি টের পাচ্ছেন না। পানশালায় বসে থাকা একজন মাতাল ড্রাইভার যেমনি গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে বলে, আমি ঠিক আছি। কিচ্ছু হবে না। কিন্তু আপনি জানেন, তার অবস্থা ভালো নয়, এ অবস্থায় তাকে গাড়ি চালাতে দেয়া যাবে না।ঘুমোনোর স্বাভাবিক নিয়ম : আসলে ২৪ ঘণ্টায় কতটা সময় ঘুমাবেন ব্যক্তিভেদে এটা নির্ভর করে। কারো ৬ ঘণ্টা ঘুমিয়ে দিব্যি কেটে যায় আবার কারো ক্ষেত্রে ৭-৮ ঘণ্টা। কতক্ষণ ঘুমের প্রয়োজন এটা নির্ভর করে ব্যক্তির দেহঘড়ির ওপর। তার খাদ্যাভ্যাস, হরমোন প্রবাহ, পরিবেশ ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। যারা মেডিটেশন করেন তারা আধাঘণ্টা মেডিটেশন করে দুই ঘণ্টা সমপরিমাণ ঘুমের এনার্জি লাভ করে। রেম ঘুম বা গভীর ঘুম, এটার একটা চক্র আছে, ১.৫ ঘণ্টায় এক চক্র পূর্ণ হয়। আমরা চেষ্টা করব, ৩ চক্র, ৪ চক্র অর্থাৎ ৪.৫ ঘণ্টা, ৬ ঘণ্টা এভাবে ঘুমাতে। তাহলে ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি থাকবে না। মহামতি বুদ্ধের জীবনে একটি ঘটনা আছে। বুদ্ধের সাথে কয়েকজন সাধনা শুরু করেছিলেন। বুদ্ধ দিনের কিছু সময় ঘুমিয়ে কাটালেন, খিদে পেলে ফলমূল খেতেন। তার সাথের সাধকরা মনে করলেন যে, বুদ্ধকে শয়তান ধরেছে, তার সিদ্ধি লাভ সম্ভব নয়, তার সাথে থাকলে তারাও শয়তান দ্বারা আক্রান্ত হবো। তাই তাকে ছেড়ে তখন চলে গেলেন। কিন্তু তারা কেউই সিদ্ধি লাভ করতে পারেন নি। পেরেছিলেন একমাত্র বুদ্ধই। কারণ তিনি জানতেন যে-কোনো কাজে সফল হতে গেলে শরীরের যত্ন নেয়া প্রয়োজন। তাই তিনি সাধনার পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণ খেতেন এবং ঘুমাতেন। তবে কেউ যদি আবার মনে করে বসেন বেশি ঘুমালে শরীর বেশি ভালো থাকবে, তাহলে সেটিও ভুল। গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অতিরিক্ত ঘুমের সাথে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অপরিণত বয়সে মৃত্যুর সাথে সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন। সাধারণত যারা একটু আলসেমি করতে পছন্দ করেন কিংবা হতাশায় ভুগছেন তারাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমান। অতিরিক্তি ঘুম শুধু দেহের নয়, আত্মারও মৃত্যু ঘটায়। টিআর/  

প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ আনন্দদায়ক ঘুম

পরিমিত আনন্দদায়ক ঘুমই হলো সুস্থ জীবনের নির্দেশক। একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্যে, সুস্থ থাকার জন্যে যেমন ভালো খাবারের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন দুশ্চিন্তামুক্ত গভীর ঘুমের। আপনি কতটা ভালো আছেন, তৃপ্তিতে আছেন তা বোঝা যাবে, আপনার ঘুম ভালো হচ্ছে কিনা তা দেখে। জেগে থাকা যে-রকম প্রয়োজন, ঘুমও সে-রকম প্রয়োজন। আমাদের অনেকের সমস্যা হলো আমরা জেগেও থাকি না, আবার ঘুমাইও না। শুধু ঝিমাই। গভীর ঘুম না হলে শরীর কখনো ঝরঝরে হয় না। অর্থাৎ ভালো ঘুমটা অত্যাবশ্যক। পবিত্র কোরআনের সূরা ফোরকানে ৪৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি রাতকে করেছেন তোমাদের জন্যে আবরণস্বরূপ। বিশ্রামের জন্যে দিয়েছেন ঘুম। আর প্রতিটি দিনকে করেছেন প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক।‘ ভগবত গীতায় বলা হয়েছে,‘অতিভোজী, নিতান্ত অনাহারী, অতি ঘুম বিলাসী, একেবারেই কম ঘুমায় তারা কখনও ধ্যানে সফল হয় না। যিনি নিয়ম অনুযায়ী আহার করেন, কাজ করেন, বিশ্রাম নেন, যার নিদ্রা ও জাগরণ নিয়মের ছন্দে ছন্দায়িত তিনি ধ্যানে সফল হন। তার দুঃখের বিনাশ ঘটে। বিচরণ করেন আত্মার আনন্দলোকে [ধ্যানযোগ: ১৬-১৭] যার ঘুম ভালো হয়, তার অসুখ-বিসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আইরিশ একটি প্রবাদ হলো "A good laugh and deep sleep is the best cures in the doctor’s book" অর্থাৎ ডাক্তারদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাণবন্ত হাসি ও গভীর ঘুম সবচেয়ে ভালো রোগ নিরাময়কারী। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শান্তা রাজারাত্মম তার একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের পর আমাদের সুস্বাস্থ্যের তৃতীয় ভিত্তি হলো ঘুম। অল্প বা অগভীর ঘুম বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। সেই সাথে হতাশা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এখনকার প্রজন্ম আগের চেয়ে অনেক বেশি হতাশ ও বিষণ্ন? কেন ? বিজ্ঞানীরা দেখেছেন অনিদ্রা বা গভীর ঘুমের অভাব বিষণ্নতার সবচেয়ে বড় কারণ। ঘুম আর বিষণ্নতার মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কটি বিপরীতমুখী। বিষণ্নতা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, আবার অগভীর ঘুম ঠেলে দেয় বিষণ্নতার দিকে। অর্থাৎ ঘুম ভালো না হলে বিষণ্নতার মাত্রা বাড়ে, আর এর মাত্রা যত বাড়ে ঘুম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ততটাই। এ এক দুষ্টচক্র, কিছুদিন টানা চলতে থাকলে পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যে কারণে আমরা দেখতে পাই যারা বিষণ্নতাজনিত কারণে আত্মহত্যা করেছে তারা অনিদ্রা আক্রান্ত ছিল এবং গাদা গাদা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমোনোর ব্যর্থ চেষ্টা করত। পণ্য আগ্রাসী দেশ আমেরিকাতে ঘুমের সমস্যায় ভুগছে পৌনে তিন কোটি মানুষ। সে দেশে সপ্তাহে একবার ঘুমের সমস্যায় ভোগে এরকম মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি। প্রতি বছর ঘুমের ওষুধের পেছনে আমেরিকাতে ব্যয় হয় ৪১ বিলিয়ন ডলার। সুস্বাস্থ্যের জন্যে ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের নিউরোন বিশ্রাম পায়। প্রতিটি নিউরোনের বিপরীতে ১০ টি করে গ্লিয়াল সেল রয়েছে যা ঘুমের মধ্যে তৎপর হয়ে ওঠে। তেমনি এই গ্লিয়াল সেলগুলো নিউরোনের ভেতরে যে টক্সিন থাকে তা ধুয়ে মুছে পরিচ্ছন্ন করে এবং পরবর্তী দিনের কাজের জন্যে প্রস্তুত করে। অর্থাৎ তখন ব্রেনের টিস্যুগুলো রিপেয়ার হয়। ঘুম ব্রেন সেলকে সতেজ রাখে। ভালো ঘুমালে স্মৃতিশক্তি এবং ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়ে। ফলে মস্তিষ্ক ব্যবহারের সক্ষমতা, তার মানসিক অবস্থা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। ফলে তিনি পূর্ণ একাগ্রতা ও সর্তকতার সাথে প্রতিটি কাজ করতে পারেন। সারাদিনে ঘটে যাওয়া মাসেল, সেল ও হাড়ের ক্ষয়ক্ষতির মেরামত হয় ঘুমের মধ্যে। এ সময়ে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত সুগার বার্নআউট করে। যে কারণে ডায়াবেটিক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম হৃদপন্ডিকে সুস্থ রাখে তাই দেহের ভেতরে রক্তপ্রবাহ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। শারীরিক কাজ করার সামর্থ্য বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধক শক্তি বেড়ে যায়।   টিআর/

রাশিফল : কেমন যাবে আজকের দিন!

রাশি নিয়ে রয়েছে নানা ভাবনা। এটাকে অনেকে বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে এটাকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়, দিনের শুরুতে মিলিয়ে নিন- কেমন যাবে আজকের দিনটি। আজ ১৬ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, মঙ্গলবার। বাংলা ৩ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ এবং ৯ শাবান ১৪৪০ হিজরি। নৈসর্গিক রাশিচক্রে রবি আজ মেষ রাশিতে অবস্থান করছে। আজ যদি আপনার জন্মদিন হয় তবে পাশ্চাত্য জ্যোতিষে আপনি মেষ রাশির জাতক/জাতিকা। আপনার জন্ম সংখ্যা : ৭। আপনার ওপর প্রভাবকারী গ্রহ : মঙ্গল ও নেপচুন। আপনার শুভ সংখ্যা : ৭ ও ৯। শুভ বার : সোম ও মঙ্গল। শুভ রত্ন : রক্তপ্রবাল ও অ্যামিথিস্ট। জেনে নিন আজকে আপনার রাশিতে কী আছে— মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) : শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি শুভ। আজ পড়াশোনায় মন বসাতে পারবেন। সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা আছে। সম্ভাব্যক্ষেত্রে সন্তান লাভের সম্ভাবনা আছে। বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২০ মে) : মাতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। অসুস্থ মায়ের আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা আছে। বন্ধুদের কারো সহযোগিতায় উপকৃত হতে পারেন। বিলাসদ্রব্য কেনাকাটা হতে পারে। মন ভালো থাকতে পারে। মিথুন রাশি (২১ মে-২০ জুন) : ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন। ঠান্ডা ও ধুলাবালি থেকে সতর্ক থাকুন। কাজকর্মে উত্সাহবোধ করবেন। কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই) : পুরনো কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে। প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা করুন। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাগাদা দিন। মাথাব্যথায় ভোগার আশঙ্কা আছে। সিংহ রাশি (২১ জুলাই-২১ আগস্ট) : দিনটি মোটামুটি শুভ সম্ভাবনাময়। মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকতে পারে। ভালো ব্যবহার দিয়ে কাজ আদায় করার চেষ্টা করুন। কোনো বিশেষ রঙের প্রতি আকর্ষণবোধ করতে পারেন। কন্যা রাশি (২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর) : শরীর ভালো নাও থাকতে পারে। অনভিপ্রেত কোনো সংবাদ পেতে পারেন। শোকগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তুলা রাশি (২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর) : শ্রমিক-নেতাদের জন্য সময় অনুকূল থাকতে পারে। সাংগঠনিক কাজে সুফল পাবেন। মনের গভীরে লালিত কোনো আশা পূরণ হতে পারে। আর্থিক দিক ভালো যাবে। পেশাগত যোগাযোগে সুফল পেতে পারেন। বৃশ্চিক রাশি (২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর) : কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকতে পারে। কর্মস্থলে সহকর্মীদের সহযোগিতা পেতে পারেন। কোনো আশা পূরণ হতে পারে। পিতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। সামাজিক কাজে অংশ নিতে পারেন। ধনু রাশি (২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর) : সামাজিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন। সেক্ষেত্রে সাফল্য পেতে পারেন। পেশাগত দিক ভালো যাবে। জ্ঞানস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। ভ্রমণ ফলপ্রসূ হতে পারে। মকর রাশি (২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি) : দিনটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। শরীর ভালো যাবে না। অবহেলা না করে চিকিত্সা নিন। সামাজিক সংকট এড়িয়ে চলুন। রিপুকে সংযত রাখুন। কুম্ভ রাশি (২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) : ব্যবসায়িক দিক ভালো যেতে পারে। বিক্রয়-বাণিজ্যে লাভবান হতে পারেন। দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো যাবে। রোমান্টিক প্রস্তাবে সাড়া পেতে পারেন। বিবাদ এড়িয়ে চলুন। মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) : শরীর ভালো যাবে না। সাময়িক কোনো অসুস্থতায় ভুগতে পারেন। খাওয়াদাওয়ায় সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে চিকিত্সা নিন। সীমা লঙ্ঘন করা ঠিক হবে না। এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি