ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৪১:১৪

জুম’আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ করণীয়গুলো জেনে নিন

জুম’আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ করণীয়গুলো জেনে নিন

জুম’আর দিন মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি অনেক মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতের। বিশ্বনবি হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তাহের এ দিনটিকে শ্রেষ্ঠ দিন বলেছেন। তাই কোনো মুসলমানের উচিত নয় জুমআর নামাজ থেকে বিরত থাকা।    জুম`আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু করণীয় কাজ রয়েছে। এই কাজগুলো প্রত্যেক মুসলমানের জেনে নেওয়া ও আমল করা উচিত। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-        ◉ জুম’আর দিন গোসল করা। (বুখারীঃ ৮৭৭, ৮৭৮)। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ, চুল, বগলের নিচের ও নাভীর নিচের লোম কাটা একটি ভাল কাজ।◉ মিস্ওয়াক করা। (বুখারীঃ ৮৮৭, ইঃফাঃ ৮৪৩)  ◉ গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮৩)◉ উত্তম পোশাক পরিধান করে জুম’আ আদায় করা। (ইবনে মাজাহঃ ১০৯৭)  ◉ জুম’আর সালাতের জন্য কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮০)◉ মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধুমপান না করা। (বুখারীঃ ৮৫৩) (ধূমপান করা সবসময়ের জন্যই হারাম)◉ আগে আগে মসজিদে যাওয়া। (বুখারীঃ ৮৮১)  ◉ পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া। (আবু দাউদঃ ৩৪৫)◉ হাঁটার আদব মেনে মসজিদে গমন করা। ◉ পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযীলত অন্তরে জাগরূক রাখা।    ◉ মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দুই রাকাত `তাহিয়্যাতুল মসজিদ` নামায পড়া। (বুখারীঃ ৪৪৪) (যেকোন সময় মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দুই রাকাত নামায পড়তে হয়)◉ খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দু’রাকা’আত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা। (বুখারীঃ ৯৩০)◉ মুসুল্লীদের ফাঁক করে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। (বুখারীঃ ৯১০ ও ৮৮৩)◉ মুসুল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। (আবু দাউদঃ ৩৪৩ ও ৩৪৭)◉ কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা। (বুখারীঃ ৯১১, মুসলিমঃ ২১৭৭ ও ২১৭৮)◉ মুসুল্লীদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিযীঃ৫০৯, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৬)◉ ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা- ইস্তিগফার ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।    ◉ মনোযোগ সহ খুৎবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। (বুখারীঃ ৯৩৪, মুসলিমঃ ৮৫৭)◉ ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা। (আবু দাউদঃ ১১১৯)◉ ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। (আবু দাউদঃ ১১১০, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৪)◉ খুৎবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদঃ ১১০৮)◉ খুৎবাহ`র সময় কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। (নাসায়ীঃ ৭১৪, বুখারীঃ ৯৩৪)◉ খুৎবার সময় খতীবের কোন কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরীক হওয়া জায়েজ। (বুখারীঃ ১০২৯, মুসলিমঃ ৮৯৭)◉ জুম’আর দিন ফজরের নামাজে ১ম রাক’আতে সূরা সাজদা (সূরা নং-৩২) আর ২য় রাকা’আতে সূরা ইনসান (দাহর)(সূরা নং-৭৬) পড়া। (বুখারীঃ ৮৯১) ◉ সূরা জুম’আ ও সূরা মুনাফিকুন দিয়ে জুম’আর সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলা ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুম’আ আদায় করা। (মুসলিমঃ ৮৭৭ ও ৮৭৮) ◉ জুম’আর দিন ও জুম’আর রাতে বেশী বেশী দুরুদ পাঠ করা। (আবু দাউদঃ ১০৪৭)◉ জুম`আর দিন বেশী বেশী দোয়া করা। (বুখারীঃ ৯৩৫)◉ জুম’আর দিন জুম’আর পূর্বে মসজিদে যিকর বা কোন শিক্ষামুলক হালকা না করা।অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা,যদিও এটা কোন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক না কেন। (আবু দাউদঃ ১০৮৯)◉ জুম’আর দিন সূরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। (হাকেমঃ ২/৩৬৮, বায়হাকীঃ ৩/২৪৯)◉ ওজু ভেঙ্গে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার ওজু করে মসজিদে প্রবেশ করা।   (আবু দাউদঃ ১১১৪)◉ একান্ত উযর না থাকলে দুই পিলারে মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সালাত আদায় না করা। (হাকেমঃ ১/১২৮)◉ সালাতের জন্য কোন একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই সালাত আদায় করা (আবু দাউদঃ৮৬২)। অর্থাৎ আগে থেকেই নামাজের বিছানা বিছিয়ে জায়গা দখল করে না রাখা। বরং যে আগে আসবে সেই আগে বসবে।◉ কোন নামাজীর সামনে দিয়ে না হাঁটা। (বুখারীঃ৫১০)◉ এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোন কিছু না পড়া, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। (আবু দাউদঃ ১৩৩২)  ◉ জুম’আর ফরজ নামাজ আদায়ের পর মসজিদে ৪ রাকা’আত সুন্নাত সালাত আদায় করা। (বুখারীঃ ১৮২, মুসলিমঃ ৮৮১, আবু দাউদঃ ১১৩০)◉ যেখানে জুম’আর ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হল ঐ একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোন কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা। (মুসলিমঃ ৭১০, বুখারীঃ ৮৪৮)       ◉ হে আল্লাহ, আমাদেরকে সবগুলো আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।পরিশেষে, প্রত্যেক মুসলমানের উচিত জুমআর দিনের করণীয় কাজগুলো যথাযথ আদায় করা। জুমআর নামাজ গুরুত্বসহকারে আদায় করা। আল্লাহ যেন প্রত্যেক মুসলমানকে জুম’আর নামাজ আদায় করার ও ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যারা জুমআ থেকে দূরে ছিলেন তাদেরকে নিয়মিত জুমআর নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করেন।           এসি  
নামাযের ১৪টি ওয়াজিব কাজ 

নামাজের মধ্যে ১৪টি ওয়াজিব কাজ রয়েছে। ওয়াজিব কাজ বলতে ওই সকল কাজকে বলা হয়, যার কোনো একটি কাজ ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু দিয়ে নামাজকে পরিশুদ্ধ করে নিতে হয়। আর সিজদায়ে সাহু আদায় করতে ভুলে গেলে পুনরায় নামাজ পড়ে নিতে হবে। তাই নামাজের ওয়াজিবগুলো সঠিকভাবে আদায় না করলে নামাজ সঠিক হবে না। নামাজের ওয়াজিবগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-   ১. সূরা ফাতিহা পূর্ণ পড়া। (বুখারী, হাদীস নং-৭৫৬) ২. সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সূরাহ বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ মিলিয়ে পড়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৭৭৬, মুসলিম, হাদীস নং-৪৫১) ৩. ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতকে কিরাতের জন্য নির্ধারিত করা। (বুখারী শরীফ, হা নং ৭৭৬/ মুসলিম, হাদীস নং-৪৫১) ৪. সূরা ফাতিহাকে অন্য সূরার আগে পড়া। (তিরমিযি, হাদীস নং-২৪৬/ ত্বাহাবী, হাদীস নং-১১৭২) ৫.নামাযের সকল রোকন ধীর স্থিরভাবে আদায় করা। (অর্থাৎ রুকু, সিজদা এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ও দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমাণ দেরী করা।) (আবু দাউদ, হাদীস নং-৮৫৬, ৮৫৭, ৮৫৮) ৬. প্রথম বৈঠক করা (অর্থাৎ তিন অথবা চার রাক‘আত বিশিষ্ট নামাযের দুই রাক‘আতের পর বসা)। (বুখারী, হাদীস নং-৮২৮) ৭. উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৮৩০, ৮৩১/ মুসলিম, হাদীস নং-৪০২, ৪০৩) ৮.প্রত্যেক রাক‘আতের ফরয এবং ওয়াজিবগুলোর তরতীব বা সিরিয়াল ঠিক রাখা। (তিরমিযী, হাদীস নং-৩০২) ৯. ফরয ও ওয়াজিবগুলোকে স্ব স্ব স্থানে আদায় করা। (যেমন দ্বিতীয় সিজদা প্রথম সিজদার সাথে করা। প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু শেষ করে ততক্ষণাৎ তৃতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি। (বাদায়িউস সানায়ে, ১ : ৬৮৯) ১০.বিতরের নামাযে তৃতীয় রাক‘আতে কিরাআতের পর কোন দু‘আ পড়া। অবশ্য দু‘আ কুনূত পড়লে ওয়াজিবের সাথে সুন্নাতও আদায় হয়ে যাবে। (নাসায়ী হাদীস নং-১৬৯৯/ ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১১৮২/ ত্বহাবী, হাদীস নং-১৪৫৫) ১১. দুই ইদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা। (আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৩) ১২. দুই ঈদের নামাযে দ্বিতীয় রাক‘আতে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলার পর রুকুর জন্য ভিন্নভাবে তাকবীর বলা। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং-৫৭০৪/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৫৬৮৫) বি.দ্র. এ তাকবীরটি অন্যান্য নামাযে সুন্নাত। ১৩. ইমামের জন্য যোহর, আসর এবং দিনের বেলায় সুন্নাত ও নফল নামাযে ক্বিরা‘আত আস্তে পড়া এবং ফজর, মাগরিব, ইশা, জুম‘আ, দুই ঈদ, তারাবীহ ও রমযান মাসের বিতর নামাযে ক্বিরা‘আত শব্দ করে পড়া। (মারাসীলে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪১/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৫৭০০/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং-৫৪৫২) বি.দ্র. আস্তে পড়ার অর্থ মনে মনে নয়, কারণ তাতে নামায শুদ্ধ হয় না। বরং আওয়াজ না করে মুখে পড়া জরুরী। ১৪. সালাম-এর মাধ্যমে নামায শেষ করা। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৯৯৬)   এসি       

সময়ের শপথ, সময়ের মূল্য

  এ পৃথিবীতে মানুষের আয়ুষ্কাল খুবই সামান্য। এই সামান্য মুহূর্তকে যারা ভালোভাবে কাজে লাগায় তারাই কেবল শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা সহজেই জীবনে সফলতা লাভ করতে পারে। আর যারা হেলায় সময় অতিবাহিত করে তাদের জন্য অপেক্ষা করে দু:খ। তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কবি সুইনবার্গ বলেন, ‘Life is a vision of a watch between a sleep and sleep. অর্থাৎ দুই প্রান্তেই ঘুম, ঘুমের মতো অন্ধকার, মাঝে একটু বেঁচে থাকাই হলো জীবন। বাংলার লোক কবিদের কন্ঠেও উচ্চারিত হয়েছে এরকমই উক্তি, ‘এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা, মাঝখানে চর’ অর্থাৎ এপারে জন্ম ওপারে মৃত্যু মাঝখানে সীমাবদ্ধ জীবন। জীবনের এই সীমাবদ্ধতার জন্যই সময় এত বেশি মূল্যবান। জনৈক ইংরেজী কবি বলেন, ‘Time and tide wait for none’. অর্থাৎ সময় এবং স্রোত কারো জন্যই অপেক্ষা করেনা।’ বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিদের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা কেউই সময়ের মূল্য সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন না। তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল কর্মচঞ্চল ও কর্মবহুল। সময়ের মূল্য সম্পর্কে অবগত থাকাই হলো সময়ানুবর্তিতা। তাই প্রত্যেকের উচিত সময়ানুবর্তিতা মেনে জীবন পরিচালনা করা। এদিকে বিদায় হজের ভাষণে হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘হে মানুষ! প্রত্যেককেই শেষ বিচারের দিনে সকল কাজের হিসাব দিতে হবে। অতএব সাবধান হও।’ অর্থাৎ মানুষ কিভাবে তাদের জীবন পরিচালনা করেছে তার হিসাব দিতে হবে। অপরদিকে পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে যে, ‘আর একটু ঘুম, আর একটু তন্দ্রা, বিছানায় আর একটু গড়াগড়ি। এসব কিছু দরিদ্র ও অভাব দস্যুর মত তোমার অন্তরে হানা দেবে।’ (হিতোপদেশ ২৪:৩৩ ও ৩৪) ভগবত গীতায় বলা হয়েছে, ‘মানুষের অধিকার শুধু কর্মে। ফলে তার অধিকার নাই। কাজ কর। নিজেকে কর্মফলের ধারক মনে করো না। আবার নিজেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে দিও না।’ (সংখ্যা যোগ-৩৭:৩৮)   তিরমিজী শরীফে বলা আছে শেষ বিচারের দিনে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ের হিসেব দিতে হবে। ১) সময় কীভাবে ব্যয় করেছে? ২) মানসিক ও দৈহিক শক্তি কীভাবে ব্যয় করেছে? ৩) সম্পদ কীভাবে অর্জন করেছে? ৪) কীভাবে সম্পদ ব্যয় করেছে? ৫) যা সত্য বলে জেনেছে, তা কতটুকু অনুসরণ করেছে।   হযরত মোহাম্মদ (সো.) বলেছেন ৫টি অবস্থানে জীবনে অতীব মূল্যবান মনে কর। ১) বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবন কালকে। ২) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে সুস্থতাকে। ৩) দারিদ্রতা আসার পূর্বে স্বচ্ছলতাকে। ৪) ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে। ৫) মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। এ থেকে বুঝা যায় জীবনের সবক্ষেত্রেই সময়ের মূল্য দিতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করা বা সময়কে মূল্য দেওয়া নিয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদীস শরীফের বিভিন্ন স্থানে সতর্ক করা হয়েছে। সূরা আসরে বলা হয়েছে, ‘সময়ের শপথ। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্য ধরার উপদেশ দেয়।’ বিশিষ্ট সূফি সাধক শামস তাবরেজী বলেন, অনেকদিন এ সূরার মর্মবাণী উপলব্ধি করার চেষ্টা করছিলাম। একদিন বাজারে শুনতে পেলাম একজনের চিৎকার। তিনি বলছেন, হে লোক সকল আমার মূলধন পানি হয়ে যাচ্ছে। সামনে গিয়ে দেখি তিনি একজন বরফ ব্যবসায়ী। অর্থাৎ তার বরফ দ্রুত গলে পানি হয়ে যাচ্ছে। এভাবে তার মূলধনও হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জীবনে সময়ের মূল্য দিয়ে আল্লাহর নির্দেশিত পথে না চলতে পারলেও সময় কিন্তু শেষ হয়ে যাবে। পরে শত চেষ্টা করেও সময় ফিরে পাওয়া যাবে না।   পৃথিবীর বিখ্যাত, প্রতিষ্ঠিত, কালজয়ী মানুষদের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা কেউই সময়ের অপচয় করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যাকে গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয় সেই আব্রাহাম লিংকন থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত সবাই সময়ের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। আমেরিকার অন্যতম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মাত্র ৪৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তিনি মূলত আমেরিকায় এসেছিলেন অভিবাসী হয়ে। যিনি একাধারে অভিবাসী ও নিগ্রোও ছিলেন। আমেরিকানরা যাদেরকে অপছন্দ করেন তাদের সবগুণই তার মধ্যে ছিল। কিন্তু ওবামা তার নিরলস পরিশ্রম ও সময়ের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে তারা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেন। আরকে//      

রাসুল (সাঃ)-এর চরিত্র

মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মোহম্মদ (সাঃ) ছিলেন উত্তম চরিত্রে অধিকারি। তার চরিত্র ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের। কোন মানুষ তার সমকক্ষ হওয়া তো দুরের কথা তার কোন একটি গুণাবলীর সমানও হতে পারবে না। তাকে যিনি শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি হলেন মহান প্রভু আল্লাহ্‌ তায়ালা। ইসলাম র্ধম প্রচারের পাশাপাশি ইহুদী খ্রিস্টান,পারিশক প্রভৃতি তৎকালীন জাতিসমূহের ধর্ম-সংস্কার ও আচার-ব্যবহার সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ জ্ঞানলাভ করেছিলেন রাসূল। অবসর সময়ে হযরত মেষ চরাতেন। মেষ চারণের সঙ্গে পয়গম্বর জীবনের এক আশ্চয় সম্বদ্ধ দেখা যায়। অধিকাংশ পয়গম্বর মেষ চালক ছিলেন। উন্মুক্ত লীল আকাশের তলে বিশাল প্রন্তরে একপাল মেষ আর তার একজন চালক। কোন মেষ যাতে বিপথগামী না হয়। অপরের শস্যক্ষেত্র নষ্ট না করে বাঘে না ধরে, অথচ প্রত্যেকেই উপযুক্ত আহার পাইয়া হুষ্টপুষ্ট হইয়া সন্ধ্যকালে প্রভুর গৃহে নির্বিঘ্নে ফিরে আসে। এটা থাকে মেষ চালকের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের সঙ্গে পয়গম্বরের জীবনের কর্তব্য ও লক্ষ্যের মিল রয়েছে। পয়গম্বর হলো একটা জাতির পরিচালক। মেষ চালকের মতো তিনিও নর-চালক। খোদার বান্ধার পিছয়ে থাকিয়ে তিনি সুপথে পরিচালনা করে ইহলোকের ও পরলোকের খোরাক যোগায়া পরিপুষ্টি অবস্থায় সকালকে অবস্থায় সকলকে প্রভুর গৃহে সঠিক ভাবে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কর্তব্য। আর সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ পয়গম্বর হযরত মোহম্মদ (সাঃ)। কুরআন বর্ণনা করা হয়েছে, নিশ্চয় আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা আল ক্বালামঃ ৪) অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে, আর আপনি আমার চোখে চোখেই আছেন। (সুরা তুরঃ ৪৮) রাসুল (সাঃ) এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যঃ ১। ধৈর্যঃ নিজেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বদা আল্লাহ্‌ তায়ালার আনুগত্যের উপর অটল রাখা, অবাধ্যতার নিকটবর্তী না হওয়া, তার সিদ্ধান্তের কারণে হা হুতাশ না করা এবং তাতে রাগান্বিত না হওয়ার নামই ধৈর্য।রাসুল (সাঃ) ইসলামের দাওয়াতকে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করতে গিয়ে কুরাইশদের কাছ থেকে অমানুষিকভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে ধৈর্যধারণ করেছেন। তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন দুঃখের বছর, যুদ্ধক্ষেত্র, ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, ক্ষুধা ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে। কোন ষড়যন্ত্রই তাকে দুর্বল করতে পারেনি এবং কোন পক্ষই তাকে টলাতে পারেনি। ২। ক্ষমা করাঃ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নেয়ার নামই ক্ষমা। মক্কা বিজয়ের দিনে রাসুল(সাঃ)মক্কার লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করছিলেন। তারা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে তার নির্দেশেরই অপেক্ষা করছিল। তিনি বললেন: হে কুরাইশগণ তোমরা আমার কাছ থেকে আজ কেমন ব্যবহার আশা কর? তারা বলল: সম্মানিত ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মত, তিনি বললেন: তোমরা চলে যাও !!! আজ তোমরা মুক্ত!!! তারা তাকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন,তিরস্কার,সামাজিকভাবে বয়কট করা এমনকি হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন। ৩। সাহসীকতাঃ কথাবার্তা, মতপ্রকাশ ও কোন কাজ করতে যাওয়ায় সাহসীকতা প্রদর্শন একটা অত্যন্ত চমৎকার গুণাবলী। রাসুল (সাঃ) যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন সকল মানুষের চেয়ে বেশী সাহসী। তার মত সাহসী মানুষ কোন চোখ দেখেনি। বীর সিপাহী হযরত আলী (রাঃ) বলেন: যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হত তখন আমরা রাসুল (সাঃ) কে আড়াল নিয়ে আত্মরক্ষা করতাম। তিনি থাকতেন আমাদের মধ্য থেকে শত্রুদের সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে উহুদ ও হুনায়ন যুদ্ধে।   ৫। দানশীলতাঃ মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দানশীলতা ছিল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। তিনি নিজের কাছে কিছু থাকলে কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি একসময় ইয়েমেনী এক সেট পোশাক পরেছিলেন। একজন এসে পোশাকটা চাইলে তিনি বাড়ীতে গিয়ে সেটা খুলে ফেললেন। এরপর সেটা লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তার কাছে কেউ কিছু চাইলেই তিনি তা দিয়ে দিতেন। একবার একজন লোক তার কাছে এসে ছাগল চাইলে তিনি তাকে প্রচুর পরিমাণ ছাগল দিয়েছিলেন। যা দুই পাহাড়ের মধ্যকার স্থান পূর্ণ করে ফেলবে।এরপর লোকটা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল: হে আমার সম্প্রদায় তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। আল্লাহর কসম !! মুহাম্মাদ(সাঃ) এত বেশী পরিমাণে দান করেন যে কখনও দারিদ্রতার ভয় করেন না। হযরত মুসা বিন আনাস (রাঃ)হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতার সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল (সাঃ) এর ক্ষেত্রে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি যে,কেউ তার কাছে কিছু চেয়েছে অথচ, তিনি তা দেননি। তিনি বলেন: একবার তার কাছে একজন লোক আসলে তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মাঝের ছাগল। এত বেশী পরিমাণ ছাগল দিয়ে দিলেন যা দুই পাহাড়ের মধ্যস্থান পরিপূর্ণ করে দেবে। দিয়ে দিলেন। অতঃপর লোকটি নিজের সম্প্রদায়কে বলল: হে আমার সম্প্রদায়!! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। কেননা,মুহাম্মদ (সাঃ) এত বেশী পরিমাণে দান করছেন যে তিনি নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোন ভয় করেন না। (মুসলিম শরীফ-২৩১২) হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, লোকটি রাসুল (সাঃ) এর কাছে শুধুমাত্র দুনিয়াবী স্বার্থের জন্যই এসেছিল। কিন্তু, সন্ধাবেলা এমন অবস্থার সৃষ্টি হল যে,রাসুল (সাঃ)এর আনীত দ্বীন উক্ত ব্যক্তির কাছে পৃথিবী ও তার মধ্যকার সমস্ত জিনিসের চেয়ে বেশী প্রিয় ও সম্মানিত বলে গণ্য হল। (মুসনাদে আহমাদ-১৪০২৯;হাদীসটি সহীহ) ৬। ন্যায়বিচারঃ রাসুল (সাঃ) এর ন্যায় বিচারের অনেক প্রমাণ রয়েছে। তন্মধ্যে এখানে মাখজুমী গোত্রের একজন মহিলার ঘটনা উল্লেখ করব। চুরির কারণে তার উপর শাস্তিস্বরূপ হাত কাটার বিধান বাস্তবায়ন করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেননা, মহিলা ছিল উচ্চ বংশীয় লোক। সাহাবীগণ তার ব্যাপারে সুপারিশ করার জন্য রাসুল (সাঃ) এর কাছে তার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হযরত উসামা (রাঃ) কে পাঠিয়ে দিলেন। ৭। লজ্জাশীলতাঃ হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) বলেন: ঘরের ভিতরে অবস্থানকারিনী কুমারী মেয়ের চেয়েও রাসুল(সাঃ) বেশী লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোন কিছু দেখে অপছন্দ করতেন তখন তার চেহারা দেখেই আমরা বুঝতে পারতাম। (বুখারী-৬১০২, ৩৫৬২, ৬১১৯। বিশ্বনবী বই থেকে নেওয়া লেখক, গোলাম মোস্তফা টিআর/          

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে গতকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে।মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে সারাবিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উদযাপন করে থাকে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)- ৫৭০ খ্রীস্টাব্দের ১২ রবিউল আওয়াল জন্মগ্রহণ করেন।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেন। এছাড়াও গতকাল ছিল সরকারি ছুটির দিন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজান করে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ-মাহফিল, জিকির-আসকার ও এবাদত-বন্দেগী অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গভবনেও অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ-মাহফিল।এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়ার মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে বুধবার সকালে রাজধানীতে জশনে জুলুস র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়। সেখান থেকে মৎস্যভবন ঘুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে এটি শেষ হয়। মাইজভান্ডার দরবার শরিফের সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানীর নেতৃত্বে মাইজভান্ডারীয়ার অনুসারীরা এতে অংশ নেন।পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত শান্তি মহাসমাবেশ প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপি অনুষ্ঠানমালা।এছাড়াও দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ বেতারের সাথে যৌথ প্রযোজনায় বুধবার থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী মহানবী (সা.) জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম মিলনায়তনে বাদ আসর অনুষ্ঠেয় উক্ত সেমিনার রেকর্ডিং করে বাংলাদেশ বেতার ‘ক’ কেন্দ্র থেকে প্রত্যহ রাত ১০টা ১৫ মিনিটে সম্প্রচার করা হবে।সূত্র : বাসসএসএ/

রাজধানীসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত 

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে।      মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে সারাবিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উদযাপন করে থাকে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)- ৫৭০ খ্রীস্টাব্দের ১২ রবিউল আওয়াল জন্মগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। এছাড়াও আজ ছিল সরকারি ছুটির দিন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ-মাহফিল, জিকির-আসকার ও এবাদত-বন্দেগী অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গভবনেও অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ-মাহফিল। এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়ার মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে জশনে জুলুস র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়। সেখান থেকে মৎস্যভবন ঘুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে এটি শেষ হয়। মাইজভান্ডার দরবার শরিফের সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানীর নেতৃত্বে মাইজভান্ডারীয়ার অনুসারীরা এতে অংশ নেন।পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত শান্তি মহাসমাবেশ প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপি অনুষ্ঠানমালা।এছাড়াও দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ বেতারের সাথে যৌথ প্রযোজনায় আজ বুধবার থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী মহানবী (সা.) জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম মিলনায়তনে বাদ আসর অনুষ্ঠেয় উক্ত সেমিনার রেকর্ডিং করে বাংলাদেশ বেতার ‘ক’ কেন্দ্র থেকে প্রত্যহ রাত ১০টা ১৫ মিনিটে সম্প্রচার করা হবে। এসি   

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য

‘ঈদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশি, আনন্দ, উল্লাস ও ফূর্তি। আর পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) হচ্ছে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ উৎসব। এ হচ্ছে বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী (সা.)-এর পৃথিবীর বুকে শুভাগমন উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর তথা সৃষ্টিকুলের জন্য সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ উৎসব। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) গোটা মানবজাতির জন্য এমনকি সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত ও আশীর্বাদ হিসেবে ধরাধামে আবির্ভূত হন। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন, ‘আর আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত- ১০৭)আল্লাহতায়ালা অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘হে রাসূল! আমি আপনাকে বিশ্বের সমগ্র মানুষের সংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-সাবা, আয়াত- ২৮)পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)-এর গুরুত্ব এই যে, মানবজাতির মুক্তিদাতা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল, ২৯ আগস্ট ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে প্রেরণের উদ্দেশ্যে ছিল মানবগোষ্ঠীকে এ পৃথিবীতে পাপাচার, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ সব প্রকার জুলুম, নির্যাতন ও অন্যায় অত্যাচার থেকে মুক্তিদান, সুখ-শান্তি ও সৎপথে পরিচালনা এবং মৃত্যুর পরে জাহান্নামের অগ্নি থেকে পরিত্রাণের মাধ্যমে চিরসুখময় জান্নাতের যোগ্য করে গড়া। সূত্র : অনলাইন সংগ্রহগোটা মানবজাতির সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার পরই সৃষ্টির সর্বশেষ, সর্বাধিক সম্মানিত এবং সব নবী-রাসূলের সর্দার পৃথিবীতে শান্তির বাণী নিয়ে আগমন করেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোনো একটি বিশেষ দল বা সমপ্রদায়ভুক্ত নবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য বিশ্বনবী। কারণ তাঁর পরে দুনিয়াতে আর কোনো নবীর আবির্ভাব হবে না। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন যে, ‘অন্য নবীরা তাদের স্বস্ব সমপ্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন, আর আমি বিশ্বের সমগ্র মানবের জন্য প্রেরিত হয়েছি।’ নবী করীম (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেন, ‘আমি শেষ নবী আমার পরে আর কোনো নবী নেই।’রাসূলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির পর সর্বপ্রথম পবিত্র কোরআনের আয়াতের দ্বারা বিশ্বের মানুষকে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি আহ্বান জানান, হে মানব জাতি, তোমরা বলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে।তিনি মানবগোষ্ঠীর প্রতি সত্য প্রচারে নিবিষ্ট হন এবং তাদেরকে সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যাতে তারা জীবনের সফলতা অর্জনে ফলপ্রসূ হতে পারে আর ইহকালীন জীবনে শান্তি ও সৌভাগ্য লাভ করতে সক্ষম হয়।বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক সমাজে আবির্ভূত হন যেখানে লোকেরা তাদের মানবিক গুণাবলি ও চারিত্রিক আদর্শ হারিয়ে ফেলেছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের নিজের সুন্দর আচরণ, উত্তম চরিত্র মাধুর্যের দ্বারা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি ও তার আনুগত্যের মাধ্যমে মানবজীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের পথনিদের্শনা প্রদান করেন। আত্মভোলা ও পথভ্রষ্ট মানুষকে মানব মর্যাদা, স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক, মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য শিক্ষা দেন। জীবন ও মরণের উপলব্ধি সৃষ্টির দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) আরব সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা, সাম্য, মৈত্রী ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় মানব ইতিহাসে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।প্রতি বছর পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের মাধ্যমে মুসলিম জাতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও জীবনাচরণকে নিজেদের কর্মজীবনে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং নিজেদেরকে সুন্দর করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। এমনিভাবে নবচেতনার দ্বারা উজ্জীবিত হয়ে দ্বীন ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের মাধ্যমে ঈমানের বলিষ্ঠতা আমলের পরিপূর্ণতা অর্জন সার্বিক সৌভাগ্য ও কল্যাণ লাভের পথ সুগম করে। কারণ মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ মানবজীবনের উৎকর্ষ সাধন ও সাফল্যম-ন্ডত হওয়ার চাবিকাঠি। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সিরাত ও তার অমূল্য শিক্ষাবলি আলোচনার মধ্যেই যেন পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)-এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে এ মহতী উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসা নিজের হৃদয়ে সুদৃঢ় করা, তার রেখে যাওয়া বিধি-বিধান ও সু্নাতকে আঁকড়ে ধরার মতো ঈমানী শক্তি সঞ্চয় করা, যাবতীয় কর্মকা-ে তার নীতি, আদর্শ ও শিক্ষা বাস্তবায়ন করা। কেননা, জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুগত্য ও অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা তাঁর আনুগত্য ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে_‘আপনি বলুন হে রাসূল, তোমরা আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো।’অন্য আয়াতে নির্দেশ করা হয়েছে_‘ওহে যারা ঈমান এনেছ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।’আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) যা কিছু বলেছেন অথবা যা নির্দেশ দিয়েছেন, তা ওহি বা প্রত্যাদেশের দ্বারাই করেছেন। পবিত্র কোরআনে এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে, তিনি (রাসূল) মনগড়া কিছুই বলেন না, তিনি যা বলেছেন তা প্রত্যাদেশকৃত ঐশীবাণী ছাড়া আর কিছু নয়।এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শাবলি অনুসরণ ও তাঁর শিক্ষা মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করেছেন, বলেছেন_অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে সুন্দরতম আদর্শ। (সূরা-আল-আহযাব, আয়াত-২১)রাসূল্লাহ (সা.) উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন বলে বিরোধী কাফিররাও তাঁকে আল-আমিন তথা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেছিল এবং তার এই সৎচরিত্রে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, আল্লাহতায়ালা নবীকুল শিরোমণির উত্তম চরিত্র সম্পর্কে আল-কোরআনে ঘোষণা করেন নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। সূরা আল-কালাম, আয়াত-৪ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আরেকটি বিশেষ তাৎপর্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ যে, এদিনই ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ৭ জুন, ১১ হিজরি ১২ রবিউল আউয়াল মানবজাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠতম আদর্শ আখেরি নবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর ওফাত দিবস। মহানবী (সা.) পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন কিন্তু রেখে গেছেন হেদায়াতের পথনির্দেশনা। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে বিশাল জনসমুদ্রে পবিত্র কোরআন ও হাদিস অাঁকড়ে ধরার আহ্বান_আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা এর অনুশাসন মেনে চলবে, ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। এ দুটি জিনিস হলো : আল্লাহর কিতাব, আল-কোরআন এবং তাঁর প্রেরিত রাসূলের চরিত্রাদর্শ আল-হাদিস। (মিশকাত)বর্তমান সমস্যাসংকুল বিশ্বে যেখানে মানুষ মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যেখানে সন্ত্রাস ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, দেশে দেশে হানাহানি ও যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছে, নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরছে, যেখানে আন্তধর্মীয় সমপ্রীতি ও সৌহার্দ বিনষ্ট হচ্ছে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতপার্থক্য ও আচার-আচরণের বিভিন্নতা সহ্য করা হচ্ছে না, সেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম আদর্শ ও সার্বজনীন শিক্ষা অনুসরণই বহু প্রত্যাশিত শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের সবার মনে সহনশীলতা, সংযম, হৃদ্যতা, সমপ্রীতি, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সৃষ্টিতে সহায়ক হোক, আমিন।এসএ/ 

আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) 

আজ বুধবার পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। জাতীয়ভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে এ দিবসটি পালিত হবে।   পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্টপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহ’র সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন,‘ মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ আমাদের সকলের জীবনকে আলোকিত করুক, আমাদের চলার পথের পাথেয় হোক, মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।’ এ দিন সরকারি, আধাসরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্রবাহিনীর সকল স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পতাকা ও ‘কালিমা তায়্যিবা’ লিখিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোস্টে প্রদর্শিত হবে। রাতে সরকারি ভবন ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা করা হবে। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাসমূহে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনীর ওপর পক্ষকালব্যাপী আলোচনা সভা ও মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এছাড়া,এ উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধনিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হবে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। মঙ্গলবার থেকে ৪ ডিসেম্বর-২০১৮ পর্যন্ত বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর সাহানে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, মহানবী (সা) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী হবে। প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে রাত সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে বলে ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এসি   

বিদায় হজের মর্মবাণী

আরবি মাসের দশম হিজরির ৯ জিলহজ। রোজ শুক্রবার। হজের সময় আরাফা ময়দানে দুপুরের পর হজরত মুহাম্মদ (সা:) লক্ষাধিক সাহাবার সমাবেশে এ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হমদ ও সানার পর তিনি বলেন: হে মানুষ! তোমরা আমার কথা শোনো। এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারবো কি না, জানি না। হে মানুষ! আল্লাহ বলেন, হে মানব জাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো’। অতএব শুনে রাখো, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর কোনো আনারবের, অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে আল্লাহকে ভালোবাসে। হে মানুষ! শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সকল বিষয় ও প্রথা আজ থেকে বিলুপ্ত হলো। জাহিলি যুগের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।... হে মানুষ! শুনে রাখো, অপরাধের দায়িত্ব কেবল অপরাধীর ওপরই বর্তায়। পিতা তার পুত্রের জন্য আর পুত্র তার পিতার অপরাধের জন্য দায়ী নয়। হে মানুষ! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্যে চিরস্থায়ীভাবে হারাম (অর্থাৎ পবিত্র ও নিরাপদ) করা হলো, যেমন আজকের এই দিন, আজকের এই মাস, এই শহরের সকলের জন্যে হারাম।... হে মানুষ! তোমরা ঈর্ষা ও হিংসা- বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকবে। ঈর্ষা ও হিংসা মানুষের সকল সৎ গুণকে ধ্বংস করে। হে মানুষ! নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের সর্তক করে দিচ্ছি। তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করো না। তাদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সব সময় খেয়াল রেখো। হে মানুষ! অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক হও। তোমরা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে। নিজেরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাবে। শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করবে। যে মানুষ! বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি যার হাতে ও মুখ থেকে অন্যের সম্মান, ধন ও প্রাণ নিরাপদ। সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও তা-ই পছন্দ করে। হে মানুষ! বিশ্বাসীরা পরস্পরের ভাই। সাবধান! তোমরা একজন আরেকজনকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো না।... হে মানুষ! শুনে রাখো, আজ হতে বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বা কৌলিন্য প্রথা বিলুপ্ত করা হলো। কুলীন বা শ্রেষ্ঠ সে-ই যে বিশ্বাসী ও মানুষের উপকার করে। হে মানুষ! ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। বিশ্বস্ততার সাথে প্রত্যেকের আমানত রক্ষা করতে হবে। কারো সম্পত্তি- সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্যে হালাল নয়। তোমরা কেউ দুর্বলের ওপর অবিচার করো না। হে মানুষ! জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও মূল্যবান। জ্ঞানার্জন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ।কারণ জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। জ্ঞান অর্জনের জন্যে প্রয়োজনে তোমরা চীনে যাও। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত করবে। নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে,রোজা রাখবে, হজ করবে আর সঙ্গবদ্ধভাবে নেতাকে অনুসরণ করবে; তাহলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে। হে মানুষ! শুনে রাখো, একজন কুশ্রী কদাকার ব্যক্তিও যদি তোমাদের নেতা মনোনীত হয়, যতদিন পর্যন্ত সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করবে, ততদিন পর্যন্ত তাঁর আনুগত্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য। হে মানুষ! শুনে রাখো, আমার পর আর কোন নবী নেই। হে মানুষ! আমি তোমাদের কাছে দুটো আলোকবর্তিকা রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটোকে অনুসরণ করবে, ততদিন তোমরা সত্য পথে থাকবে। এর একটি আল্লাহর কিতাব। দ্বিতীয়টি হলো আমার জীবন-দৃষ্টান্ত।   হে মানুষ! তোমরা কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কেননা অতীতে বহু জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। হে মানুষ! প্রত্যেকেই শেষ বিচারের দিনে সকল কাজের হিসেব দিতে হবে। অতএব সাবধান হও! হে মানুষ! তোমরা যারা এখানে হাজির আছো, আমার! এ বাণী কে সবার কাছে পৌঁছে দিও। (এরপর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলেন) হে মানুষ! আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি? সকলে সমস্বরে জবাব দিলোঃ হ্যাঁ! এরপর নবীজি (সা:) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো! আমি আমার সকল দায়িত্ব পালন করেছি! (সংগৃহীত)   কেআই/

কুরআন হাদিসের আলোকে ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী’

পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম বিশ্বের ঈমানি প্রেরনার জয় ধ্বনী নিয়ে প্রতি বছর আমাদের মাঝে আসে রবিউল আওয়াল মাসে। পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম উৎসব। যুগে যুগে বাতিলদের শনাক্ত করার কিছু নিদর্শন ছিল। তেমনিভাবে তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সমাজে ও বাতিলদের চিনার নিদর্শন হল পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরোধিতা করা। বাতিলদের বেড়াজাল থেকে মুসলিম মিল্লাতকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি?ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল খুশী হওয়া, ফিরে আসা, আনন্দ উৎযাপন করা ইত্যাদি। আর মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে আমরা নবীজীর আগমনকে বুঝায়। আর ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে নবীজীর আগমনে খুশী উৎযাপন করাকে বুঝায়। সুতরাং অশান্তি আর বর্বরতায় ভরপুর সংঘাতময় আরবের বুকে আধারের বুক চিড়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শান্তি নিয়ে এসে মানবজাতিকে সত্যের, সভ্যতা ও ন্যায়ের দিক নির্দেশনা দিয়ে গোটা বিশ্বকে শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তুলেন। নবীজীর পবিত্র শুভাগমনে খুশী উৎযাপন করাটাই হচ্ছে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।কুরআনুল কারীমের দৃষ্টিতে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম :আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন-অর্থাৎ- আল্লাহ বলেন, হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা”- (রোজে আজলের সময়ের) যখন আমি (আল্লাহ) আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত’ অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে- যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনযন করবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে। তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ বললেন- হাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন- তোমরা পরস্পর স্বাক্ষী থেকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম। এর পরেও যে কেউ পিছপা হয়ে যাবে- তারা হবে ফাসেক। সূত্রঃ তৃতীয় পারা, সূরা আল-ইমরান ৮১-৮২ নং আয়াত।এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো (১) আয়াতের ইবারাতুন নস-এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, অন্যান্য নবীগণ থেকে আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার আদায় করেছিলেন। (২) দালালাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত নবীগণ সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। (৩) ইশারাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মূলত ঐ মাহফিলটি নবীজীর আগমনী বা মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর মাহফিল ছিল। (৪) ইক্বতেজাউন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঐ সময় সমস্ত নবীগণ কি্বয়াম অবস্থায় ছিলেন। কারণ ঐ দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই এবং পরিবেশটিও ছিল আদবের।আরো লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে- এই আয়াতে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ নবীজীর আগমন সম্পর্কে রোজ আজলের মধ্যে সমস্ত নবীগণকে উপস্থিত রেখে আলোচনা করেছেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন প্রিয় আল্লাহর রাসূল, তাঁর সাথে মানুষের তুলনা হবেতো দূরের কথা, অন্য কোনো নবীর ও তুলনা হয়না। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীদের নিকট দুটি হুশিয়ারী বাণী প্রদান করেছেন। যথা- (১) আমার বন্ধুর উপর ঈমান আনতে হবে। (২) আমার বন্ধুকে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।মানুষ যখন কোনো নেয়ামত ও রহমত প্রাপ্ত হয় তখন তার জন্য আনন্দ উৎসব করা তার স্বভাবগত কাজ, আর আল্লাহর নির্দেশও তাই। যেমন- পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন-অর্থাৎ- হে মানবকুল তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তর সমূহের বিশুদ্ধতা, হেদায়াত এবং রহমত ঈমানদারদের জন্য। হে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলুন! আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে। এটা তাদের সমস্ত ধন দৌলত সঞ্চয় করা অপেক্ষা শ্রেয়। (সূরা ইউনুছ, আয়াত নং- ৫৭-৫৮)।এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতী (রহঃ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ আদ দুররুল মুনছুর এ উল্লেখ করেন-অর্থাৎ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ (ফাদ্বলুল্লাহ) দ্বারা ইলমে দ্বীন বুঝানো হয়েছে আর (রহমত) দ্বারা সরকারে দু’আলম নূরে মোজাচ্ছম আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, (ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতালি্লল আলামীন) অর্থাৎ হে হাবীব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত করেই প্রেরণ করেছি।সূত্রঃ সূরা আম্বিয়া আয়াত নং- ১০৭, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, তাফসীরে কবির ও ইমাম সূয়ূতী (রহঃ) কৃত তাফসীরই আদ দুররুল মুনছুর, ৪র্থ খন্ড- ৩৬ পৃষ্ঠায় ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।সামান্য জাগতিক নিয়ামত লাভ করলে তজ্জন্য ঈদ উৎসব করার সরাসরি উদাহরণ আমরা পবিত্র কুরআন মাজীদে দেখতে পাই। যেমন-অর্থাৎ- মরিয়ম তনয ঈসা (আঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ! হে আমাদের রব, আমাদের উপর আকাশ থেকে একটা খাদ্য খাঞ্চা অবতরণ করুন যা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী সকলের জন্য ঈদ হবে এবং আপনারই নিদর্শন হবে, সুতরাং আমাদেরকে রিযিক দান করুন। আর আপনিইতো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিক দাতা। (সূরা মায়েদা, আয়াত নং- ১১৪)।এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে খাঞ্চাভরা খাদ্য আসলে তা যদি হযরত ঈসা (আঃ)-এর ভাষায় পূর্ব ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দ, উৎসবের কারণ ও আল্লাহর নিদর্শন হয়, তাহলে সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম সত্ত্বা, রহমতের ভান্ডার, প্রিয় নবী আকাও মাওলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মত মহান নিয়ামতের শুভাগমনের দিন কতইনা মর্যাদাবান, গুরুত্বপূর্ণও আনন্দের দিন বা মাস তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিল কি-না?আল্লামা শাহাবুদ্দীন ইবনে হাজর হায়তামী (রহঃ) বলেন, খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার নীতি প্রচলন ছিল। যেমন-অর্থাৎ- হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করবে, সে ব্যক্তি বেহেশ্তে আমার সাথী হবে”। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজীম ও সম্মান করলো, সে যেন ইসলামকেই জীবিত রাখলো”। হযরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করলো, সে যেন বদর ও হোনাইনের যুদ্ধে শরীক হলো”। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করবে এবং মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার উদ্যোক্তা হবে, সে দুনিয়া থেকে (তওবার মাধ্যমে) ঈমানের সাথে বিদায় হবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। সূত্রঃ আন নে’মাতুল কোবরা আলাল ফি মাওলিদি সাইয়্যেদ ওলদে আদম ৭-৮ পৃষ্ঠা।পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার উপকারিতা :‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার উপকারিতা সম্পর্কে বুঝার জন্য উপরোক্ত হাদীসই যথেষ্ট। এর জন্য সামান্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলে অনেক উপকারিতা রয়েছে। যেমন- বেহেস্তে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর সাথী হওয়া, ইসলামকে জীবিত রাখা, বদর ও হোনাইনের মত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সমতুল্য নেকী অর্জন করা এবং পৃথিবী থেকে ঈমানের সাথে বিদায়ের নিশ্চয়তা ও বিনা হিসাবে বেহেস্তে প্রবেশ করার মত সৌভাগ্য লাভ হয় এই ‘মিলাদুন্নবীর মাহফিলে’। খোলফায়ে রাশেদীনের অভিমত ও আমল আমাদের জন্য একটি শক্ত দলীল।‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপকারিতা সম্পর্কে জুরকানী শরীফে রয়েছে, যা আবু লাহাব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-অর্থাৎ- হযরত ছুয়ায়লি (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, হযরত আব্বাস (রাঃ) এরশাদ করেন যে, যখন আবু লাহাব মারা যায় তার এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখি যে, সে বড়ই খারাপ অবস্থায় আছে এবং সে বলছিল, তোমাদের কাছ থেকে আসার পর আমার কোনো শান্তি নসীব হয়নি। হঁ্যা এতটুকু অবশ্যই যে, প্রত্যেক সোমবার আমার আযাব হালকা করে দেয়া হয়। তা শুনে হযরত আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটি এ জন্যই যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিন দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন। আর ছোয়াইবা নামী জনৈকা ক্রীতদাসী তাকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার আগমনের শুভ সংবাদ দিয়েছিল বিধায় সন্তুষ্টি চিত্তে আবু লাহাব তাকে আজাদ করে দিয়েছিল।সূত্রঃ (ফাতহুল বারি ৯ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা, জুরকানী শরীফ ১ম খন্ড ২৬০ পৃষ্ঠা) হাদীসখানা আল্লামা বদরুদ্দিন আঈনি ও তার ওমদাতুল কারী শরহে ছহীহ বুখারীতে ২য় খন্ডের ২৯৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।উপরোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আল্লামা আবুল খায়ের শামসুদ্দীন ইবনে জাজরী (রহঃ) বলেছেন- রাসূলে মক্ববুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার বেলাদাতের রাত্রে তাঁর আগমনের সু_সংবাদ শুনে খুশী হওয়ার কারনে যদি এমন জগন্য কাফের যার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে পবিত্র কুরআনে সূরা-লাহাব নাযিল করা হয়েছে, এমন কাফেরের শাস্তিক যদি হালকা করা হয়, তাহলে একজন তাওহীদবাদী মুসলমান যদি তাঁর আগমণের তারিখে খুশী হয়ে সাধ্যমত সম্পদ ব্যয় করে, তাহলে প্রতিদানের অবস্থা কেমন হতে পারে? উনি বলেন- আমার জীবনের শপথ, নিশ্চয়ই তাঁর প্রতিদান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এই হবে যে, আল্লাহ পাক তাঁকে বিশেষ অনুগ্রহে জান্নতুন নাঈমে প্রবেশ করাবেন।আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে নাছির উপরোক্ত হাদিসের আলোকে নিজের ভাষ্য দিতে গিয়ে ছন্দ গাঁথা ভাষায় বলেছেন-অর্থ- এমন জঘন্য কাফের যার দোষ বর্ণনায় এসেছে যে, তার হাত ধ্বংস হয়েছে, তার স্থায়ী নিবাস চির জাহান্নাম। আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার আবির্ভাবে খুশী হয়ে সর্বদা সোমবার আসলে তার থেকে আজাব হালকা করা হয়, তবে কিরূপ ধারণা হতে পারে সে ব্যক্তির ব্যাপারে, যার জীবন আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার বিষয়ে আনন্দিত ছিল এবং তাওহীদবাদী হয়ে ইন্তেকাল করেছে?শেষকথাঃ উপরোক্ত কুরআন এবং হাদিস থেকে বুঝা যায় ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন হচ্ছে জান্নাত পাওয়ার মাধ্যম এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল। তাই সাহাবায়ে কেরামের সাথে একমত পোষন করে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাহফিল করা ঈমানদারদের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন যেন মোনাফিকদের খপ্পর থেকে আমাদের ঈমানকে হেফাজত করেন। “আমীন” বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ আশেক জুনাঈদ সাহেব(শিক্ষক কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা) এসএ/

আজ আখেরি চাহার শম্বা

আজ বুধবার আখেরি চাহার শম্বা। হিজরি ২৩ সনের সফর মাসের শেষ বুধবার। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ রোগ ভোগের পর সুস্থ বোধ করেন। ওই দিনটি শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে মুসলমানরা।২৩ হিজরির শুরুতে মহানবী (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, নামাজের ইমামতিও করতে পারছিলেন না। ২৮ সফর বুধবার মহানবী সুস্থ হয়ে ওঠেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। এ দিন শেষবারের মতো গোসল করেন রাসুল (সা.)। শেষবারের মতো নামাজে ইমামতি করেন।মহানবীর সুস্থতার খবরে উচ্ছ্বসিত সাহাবিরা হাজার হাজার দিনার সদকা-খয়রাত এবং বহু সংখ্যক উট-দুম্বা কোরবানি করেন। তবে ২৯ সফর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন মহানবী (সা.)। তার মাত্র ১৫ দিন পর ১২ রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন মানবতার মুক্তিদূত মহানবী (সা.)।ফারসি শব্দ ‘আখেরি চাহার শম্বা’র বাংলা অর্থ ‘শেষ বুধবার’। মুসলমানরা সাহাবিদের অনুসরণে এদিন দান-খয়রাত করেন তারা। মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন অনেকেই। এসএ/    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি