ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৪৯:০৮

আজ শুভ বিজয়া দশমী

আজ শুভ বিজয়া দশমী

বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে। দোলায় চড়ে আজ মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গতিনাশিনী উমা। ফিরবেন কৈলাশে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও কল্যাণ এবং সকল সমপ্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি ও সমপ্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আজ সমাপন ঘটবে হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা।
দুর্গা পূজা যেভাবে হলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব

দুর্গা পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবার কাছে প্রধান ধর্মীয় উৎসব নয়। মূলত বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বাংলার বাংলা ভাষাভাষী হিন্দুদের মধ্যেই এটি সবচেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিকতা এবং আড়ম্বরের সাথে পালিত হয়। এছাড়া হিন্দুপ্রধান দেশ নেপালেও এটিই সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।কিন্তু দুর্গা পূজা কীভাবে হয়ে উঠলো বাংলা ভাষাভাষী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামায়ণে দুর্গা পূজার কোন উল্লেখ ছিল না। কিন্তু রামায়ণ যখন বাংলা ভাষায় অনুদিত হলো মূলত তখন থেকেই দেবী হিসেবে দুর্গার মহাত্ম বাংলা ভাষী হিন্দুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।‘ছয়শো বছর আগে কীর্তিবাস ওঝা যখন রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেন, তখন লোকায়ত গল্পে যেখানে দুর্গার কাহিনী প্রচলিত ছিল, সেটি অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। এরপর যেহেতু বাঙ্গালী বাংলা ভাষায় রামায়ণ পেল, এবং সেখানে দেখল দুর্গার সাহায্যে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করতে পারে, তাহলে সে আমারো প্রাত্যহিক প্রয়োজনে কাজে আসবে। বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।এই ভাবেই দুর্গা প্রধানতম দেবী হিসেবে আবির্ভূত হন বাঙ্গালী হিন্দুদের কাছে। কিন্তু এরপরও প্রধান ধর্মীয় উৎসব হয়ে উঠতে দুর্গা পূজার সময় লেগেছে আরো কয়েক শো বছর।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজীন হুদা বলছেন, মূলত ব্রিটিশ শাসনের সময় হিন্দু এলিট ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দুর্গা পূজা।‘হিন্দুদের মধ্যে যে শ্রেনীভাগ ছিল, সেটা নিয়ে তখন অনেক সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যেকারণে তখন হিন্দু ধর্মকে `মডিফাই` করার দরকার হয়েছিল।তখন বাংলার এলিট শ্রেণী দেখলো যে এমন একটা শক্তির দরকার, যাকে সবাই মেনে নেবে। সেসময় দুর্গার পূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর একটা কারণ ছিল, দূর্গার মাতৃরূপ।’অধ্যাপক হুদা বলছেন, দুর্গার পূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আরেকটি কারণ বাংলায় তখনো মার্তৃতান্ত্রিক পরিবারের প্রাধান্য ছিল।ফলে দ্রুত বাঙ্গালী হিন্দুরা সেটি মেনে নেয়, এবং ক্রমে অন্য দেব দেবীর পূজাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে দুর্গার পূজা।তিনি আরো বলেছেন, আর স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত থাকার কারণেই স্থানীয় জমিদার এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রজাকে খুশী করার একটা চেষ্টা ছিল, যেকারণে দূর্গা পূজায় আড়ম্বরের মাত্রা বেড়েছিল।এছাড়া দুর্গা পূজার সময় হিসেবে শরৎ কালকে বেছে নেবার কারণ ছিল, যেহেতু এটা কিছুটা অঞ্চলভিত্তিক পূজা ছিল, ঐ সময়টাতে বৃষ্টি তেমন হয় না।তাছাড়া এটা নবান্নের সময়, এ সময় ধান ও অন্যান্য শস্য উঠত, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকত। ফলে মানুষ আনন্দ করতে পারতো।সূত্র : বিবিসিএমএইচ/

যেভাবে শুরু হলো দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজা কবে কখন এবং কোথায় শুরু হয়েছিলো তা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। এছাড়া আর্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবতাদের। অপরদিকে অনার্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিল দেবীদের। তারা পূজীত হতেন আদ্যাশক্তির প্রতীক রুপে। ইতিহাস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় প্রায় ২২০০০ বছর পূর্বে ভারতে প্যালিওলিথিক জনগোষ্ঠী থেকেই দেবী পূজা প্রচলিত হয়েছিলো। সিন্ধু সভ্যতায় এসে তা অারো অাধুনিক এবং বিস্তৃত হয়। এছাড়া প্রাচীন সাহিত্যের দিকে তাকালে অামরা দেখতে পাই মূল বাল্মীকির রামায়ণে দূর্গাপূজার কোন অস্তিত্ব নেই কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়ণে এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কবি কৃত্তিবাস ওঝা  সংস্কৃত রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করার সময় মূল রামায়নের বাহিরে তৎকালীণ বাঙ্গালী সমাজে প্রচলিত বাংলার সামাজিক রীতিনীতি ও বিভিন্ন অনুসঙ্গ প্রবেশ করিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাংলা রামায়ণ অারো অধিক সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তিনি কালিকা পুরাণের ঘটনা অনুসরণে ব্রহ্মার পরামর্শে রামের দূর্গাপূজা করার কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে শক্তিশালী রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজয় নিশ্চিত করতে শরৎকালে শ্রী রামচন্দ্র কালিদহ সাগর থেকে ১০১ টি নীলপদ্ম সংগ্রহ করে প্রাক প্রস্তুতি গ্রহণ করে দেবী দূর্গার কৃপালাভ করেন বলে কৃত্তিবাস ওঝা বর্ণনা করেছেন। দুর্গাপূজার সবচেয়ে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় মার্কন্ডেয় পুরাণে। এই পুরাণের মধ্যে ১৩ টি অধ্যায় দেবীমহাত্ম্যম নামে পরিচিত। বাংলায় শ্রীশ্রী চন্ডি নামে সাতশত শ্লোক বিশিষ্ট দেবী মহাত্ম্যম পাঠ আছে যা দুর্গাপূজার প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। শ্রীশ্রী চন্ডি অনুসারে এই দেবীই `নিঃশেষদেবগণশক্তিসমূহমূর্ত্যাঃ` বা সব দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি। দেবী দূর্গার বাহন সিংহ। বাংলায় দেবী দূর্গার যে মূর্তিটি সচরাচর দেখা যায় সেটি পরিবারসমন্বিতা বা সপরিবার দূর্গার মূর্তি।এই মূর্তির মধ্যস্থলে দেবী দূর্গা সিংহবাহিনী ও মহিষাসুরমর্দিনী, তাঁর ডানপাশে উপরে দেবী লক্ষী ও নিচে গণেশ, বামপাশে উপরে দেবী স্বরস্বতী ও নিচে কার্তিক। সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দূর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী,  মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ নামে অাখ্যায়িত।দূর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষী পূজায় তার সমাপ্তি। অাধুনিক দূর্গাপূজার প্রাথমিক ধাপ ১৮ম শতকে নানা বাদ্যযন্ত্র প্রয়োগে ব্যক্তিগত, বিশেষ করে জমিদার, বড় ব্যবসায়ী, রাজদরবারের রাজকর্মচারী পর্যায়ে প্রচলন ছিল।বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১৮ শতকের মঠবাড়িয়ার নবরত্ন মন্দিরে (১৭৬৭) দূর্গাপূজা হতো বলে লোকমুখে শোনা যায়। এছাড়া পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পাটনাতে ১৮০৯ সালের দূর্গাপূজার ওয়াটার কালার ছবির ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। ওরিষ্যার রামেশ্বরপুরে একই স্থানে ৪০০ শত বছর ধরে সম্রাট অাকবরের অামল থেকে দূর্গাপূজা হয়ে অাসছে।জমিদার বাড়ি থেকেই এই পূজার প্রচলন হয়েছিল। বর্তমানে দূর্গাপূজা মূলত দুইভাবে হয়ে থাকে ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিক ও সমষ্টিগতভাবে -ব্যক্তিগত পূজাগুলি নিয়মনিষ্ঠা ও শাস্ত্রীয় বিধান পালনে বেশি অাগ্রহী হয়। এ ধরনের পূজাগুলো বিত্তশালী বাঙ্গালী পরিবারগুলোতে হয়ে থাকে অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে যৌথ উদ্যোগে যে পূজাগুলো হয় সেগুলো মূলত সর্বজনীন বা বারোয়ারি পূজা নামে পরিচিত। বৃটিশ শাসনের অবসানের পর এই পূজা বাংলায় অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাঙ্গালী হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসবের মর্যাদা পায়। এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই পূজা ব্যাপক সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ব্যাপক সমারোহের মাধ্যমে এই সার্বজনীন দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরিশেষে অামরা অামাদের সমাজের সর্ব প্রকার দমন,  উৎপীড়ন,  নিপীড়ন, নির্যাতন, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বর্গীয় অমীয় শান্তি স্থাপনের মধ্যদিয়ে সমাজের জন্যে সার্বিক কল্যানকর কাজ করবো,  এবারের দূর্গাপূজার প্রণাম মন্ত্র থেকে এই হোক সকলের দৃঢ় অঙ্গীকার। ( লেখক: সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী) অা অা//

মহাসপ্তমীর রাতে মুখর পুজাপন্ডপগুলো (ভিডিও)

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীর রাতেও মুখর ছিলো রাজধানীর পুজাপন্ডপগুলো। তবে নিরাপত্তা নিয়ে শংকা-উদ্বেগ ছিলো না কারো মাঝে। রমনা কালী মন্দিরের সভাপতি জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ষষ্ঠী তিথিতে দুগর্তিনাশিনী দেবীর অর্চনায় শুরু হয় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা। আদ্যশক্তি মহামায়ার মহারূপ দর্শনে মহাসপ্তমীর মধ্যরাতেও রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে ভক্তদের ভীড়। দশভূজা সিংহবাহনা দেবীর প্রতিমা নান্দনিক রূপে স্থাপন করা হয় এখানের পুকুরটিতেও। বাহারি আলোকসজ্জা পুরো এলাকা জুড়ে। নিঃশংকচিত্তে ধর্মীয় আচার পালন করতে পেরে খুশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রমনা মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যবারের চেয়ে বেশি। ভক্তদের ভীড় ছিলো ঢাকেশ্বরী মন্দির, কলাবাগান মাঠসহ রাজধানীর বিভিন্ন পূজা মন্ডপে। শারদীয় দুর্গোৎসবে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মহিষাসুর বিনাশী এই দেবী সকল দুঃখ কষ্ট দূর করবেন- এমন বিশ্বাস সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

কাল মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা 

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী ছিল আজ মঙ্গলবার। আগামীকাল বুধবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।     আজ দেশের ৩১ হাজার ২৭২ টি পূজা মন্ডপে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এই শারদীয় দূর্গা উৎসবে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আগামীকাল মহাঅষ্টমীর দিনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দাস জানান, ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আজ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন।   জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক স্বপন কুমার সাহা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলা প্রাঙ্গণে মহাসপ্তমীর বিহিত পূজা ও দুপুরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বেলা সাড়ে ১০টায় দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আগামীকাল কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বুধবার মহাষ্টমীতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমীর বিহিত পূজা, দুপুরে মহাষ্টমীর মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দীদের মধ্যে বেলা ১১টায় খাদ্য বিতরণ করা হবে। এসি  

আজ দেবীর বোধন

আগামীকাল সোমবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আজ রোববার দেবীর বোধন। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা করা হবে। মণ্ডপে-মন্দিরে আজ পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বোধন দুর্গাপূজার অন্যতম একটি আচার। `বোধন` শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলশাঁখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। শরৎকালের দুর্গাপূজায় এই বোধন করার বিধান রয়েছে। বিভিন্ন পুরাণ অনুসারে, ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজা করেন। তিনি অকালে এই বোধন করেন বলেই এটি অকালবোধন নামে খ্যাত। তবে বসন্তকালে যে দুর্গাপূজা তথা বাসন্তীপূজা করা হয়, তাতে বোধন করার প্রয়োজন হয় না। পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে ১৯ অক্টোবর শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। এসএ/

মহামায়ার আরাধনা শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা: স্বামী স্থিরাত্নানন্দ

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মেরই তিনটা দিক আছে। দর্শন,পূরাণ ও অনুষ্ঠান। দর্শন হলো তত্ত্ব বা আসল রহস্য। পৌরাণিক কাহিনীর মাধ্যমে তত্ত্বকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করা হয়। আর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও স্থূল করে বোঝানো। দুর্গাপূজার তত্ত্ব বা কী আর এর পৌরাণিক কাহিনী বা কী, তা জানার আগ্রহ আমাদের সকলেরই আছে। গল্পের আকারে বললে বুঝতে সহজ হয়। শ্রীশ্রীচন্ডী গ্রন্থকে দেবীমাহাত্ম্য বলা হয়ে থাকে। দেবীর মাহাত্ম্য অর্থাৎ তাঁর মহিমা আমাদের জানা খুব দরকার। গীতায় ভগবান বলেছেন...নাহঃ প্রকাশঃ সবর্স্য যোগমায়াসমাবৃতঃ। মোঢ়োহয়ং নাভিজানাতি মামজমব্যয়ম্।(গীতা৭/২৫)..অর্থাৎ স্বত্ত্ব, সজঃ ও তমোগুণ স্বরূপ ত্রিগুণাত্মক মায়ায় আমি আবৃত থাকি বলে সকলের কাছে আমি প্রকাশিত হই না। কেবল কোনো কেনো ভক্তের কাছে আমি প্রকাশিত হই। সেই জন্য এই মোহে অন্ধ জগতের মানুষ জন্ম মৃত্যু শুন্য আমার স্বরূপ জানতে পারে না। উপমায় বলা হয়েছে,সামনে রাম পরমাত্না, পেছনে লক্ষণ জীবাত্মা, আর মাঝে মহামায়া সীতা। সীতা একটু সরে না গেলে লক্ষণরূপ জীব রামরূপ পরমাত্মাকে দেখতে পায়না। ভগবান যে মায়ার কথা বলেছেন, তার প্রভাব জানতে পারলে আমরা তাঁকে প্রসন্ন করে মুক্ত হতে পারি। ঈশ্বরলাভ করে জীবনের উদ্দেশ্য পূ্র্ণ করতে পারি। নইলে মনুষ্য জীবনলাভই ব্যর্থ হয়ে যায়। এখানে শ্রী শ্রী দূর্গাপূজার স্বার্থকতা। মার্কন্ডেয় পূরাণে আছে, সূরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দুর্গাপূজা করেছিলেন। সূরথরাজাকে একবার শত্রু সৈন্যরা যুদ্ধে পরাজিত করলো। তিনি নিজের রাজ্যে আছেন। কিন্তু এখানেও তার লোভী, দুষ্ট ও বলবান রাজকর্মচারীরা তার রাজকোষ দখল করলো। সেনাবাহিনীর কর্তৃত্বও নিজের হাতে নিয়ে নিল। রাজা সূরথ হরিণ শিকার করবার ছলে ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে জঙ্গলে চলে এসেছেন। সে বনে বাঘ সিংহ এসব হিংস্র প্রাণীরা  খুব শান্ত স্বভাবের-হিংসা করে না। কারণ সেখানে আছে একটা আশ্রম। আশ্রমে থাকেন এক মুনি ও তার শিষ্যরা। সে মুনির নাম মেধস মুনি। সুরথ রাজাকে মেধস মুনি খুব সমাদর করলেন। রাজা মুনির আশ্রমে কতক্ষণ ঘুরে ঘুরে কাটালেন। তার মন বড় খারাপ। তার দুশ্চিন্তা হলো, তাঁর রাজ্য পূর্বপুরুষরা রক্ষা করেছেন আর তিনি তা পরিত্যাগ করে এসেছেন। দুষ্ট কর্মচারীরা ধর্ম অনুসারে রাজ্য পরিচালনা করছে কিনা...তার প্রিয় মহাবল হস্তীবাহিনী কি ঠিকমতো খাদ্য পাচ্ছে? যেসব কর্মচারী রাজার কাছ থেকে পুরস্কার, ভোজন, বেতন পেয়ে রাজার অনুগত ছিল তারা এখন অন্য রাজার চাকর হয়ে কত কষ্ট পাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে রাজকোষে যে ধন তিনি সঞ্চয় করেছিলেন, তাও তার দুষ্ট কর্মচারীরা দ্রুত শূন্য করে ফেলবে। রাজা এসব অনেকক্ষণ ধরে ভাবতে ভাবতে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। এমন সময় রাজা সুরথ আশ্রমের কাছে এক বৈশ্যকে দেখলেন। তিনি হলেন সমাধি বৈশ্য। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কে? এখানে তিনি কেন এসেছেন? তার মন খারাপ কেন? তিনি শোকগ্রস্ত হলেন কেন? উত্তরে সমাধি বৈশ্য বলেন, তার নাম সমাধি বৈশ্য। তিনি ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী পুত্রগণ অসাধু। তারা তার ধন সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। আত্মীয় বন্ধু যারা ছিল তারা কেউ তাঁর কথা জিজ্ঞেসও করেনা। তাই দুঃখিত হয়ে তার বনে চলে আসা। পরিবার পরিজন কেমন আছে এসব চিন্তা করে তার মন খারাপ। কিন্তু যে পরি পরিজনরা তার ধন কেড়ে নিয়ে তাঁকে পরিত্যাগ করেছে, তাদের প্রতি কেন বৈশ্যের স্নেহের উদ্রেগ হচ্ছে, এ প্রশ্নের কোনো সদোত্তর দিতে পারলেন না বৈশ্য। তবু তার মন খারাপ হচ্ছে কেন? তার কেন মমতা হচ্ছে?  কারণ তার আত্মীয়স্বজনকে তিনি শত্রু ভাবতে পারছেন না। যারা তাকে দুঃখ দিয়েছে তাদের প্রতিও তার মন আকৃষ্ট হচ্ছে। কেন এরকম হচ্ছে তা বৈশ্য বুঝেও বুঝতে পারছে না। ভ্রান্তি, মোহ ও আসক্তির জন্য এরকম পৃথিবীর সকলেরই হয়ে থাকে। রাজা সুরথ আর বৈশ্য সমাধি ভাবলেন, এ বনেই তো মেধস মুনির তপোবন। দুজনই যাওয়া যাক মেধস মুনির কাছে। মুনির কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন,আমাদের মন খারাপ হচ্ছে কেন?  রাজা বললেন, রাজ্যহারা হয়ে আমি বনে এসেছি, তবু তাদের কথা মনে করে আমার অশান্তি কেন? আমি রাজ্যহারা হয়েছি তবু সে রাজ্যে আমার রাজ্য আমার শরীরের মত বোধ হয় কেন? এই বৈশ্য আত্মীয়স্বজনরা তাড়িয়ে দিয়েছে,ধন কেড়ে নিয়েছে। তবুও তিনি তাদের ভুলতে পারছেন না কেন?  তাদের প্রতি করুণার ভাব আসছে কেন? আমাদের এই মোহ হচ্ছে কেন? তখন মেধা মুনি বলেন, এর কারণ হলেন মহামায়া। প্রাণীরা দিয়ে দৃশ্য দেখে, কান দিয়ে শব্দ শোনে,নাক দিয়ে ঘ্রান নেয়,জীভ দিয়ে স্বাদ গ্রহণ করে আর চামড়া দিয়ে ইত্যাদি স্পর্শ করতে পারে। কাকতো রাতে দেখেনা, দিনে দেখে।কিন্তু পেঁচা আবার রাতে দেখে, দিনে দেখেনা । কেচো দিনেও দেখেনা, রাতেও দেখেনা, বিড়াল আবার রাতেও দেখে দিনেও দেখে। মানুষেরই কেবল রুপ, রস, গন্ধ,শব্দ, স্পর্শ সম্পর্কে জ্ঞান আছে তা নয়,পশু,পাখি হরিণ,মাছ ইত্যাদি প্রানীরও বিষয়জ্ঞান আছে। খাওয়ার ব্যপারে, ঘুমানোর ব্যাপারে মানুষ ও পশু প্রায় একি রকম। আর একটা দেখার জিনিস এই যে,পাখিরা জানে যে বাচ্চারা খেলে নিজের পেট ভরবে না তবুও নিজেরা না, খেয়ে বাচ্চার জন্য মুখে করে খাবার নিয়ে আসে।বাচ্চাদের  কতো স্নেহ দিয়ে রক্ষা করে। মানুষও উপকার পাবার আসায়, ছেলে বড় হয়ে আমাদের দেখবে,এই মনে করেই সন্তানের প্রতি আসক্ত হয়। তবুও মানুষ মহামায়ার প্রভাবে ভ্রমে পরে,আর আমার আমার করে কষ্ট পায়,এই মোহ এবং মমতাই সংসারের জাল।এই মহামায়া জগৎপতি বিষ্ঞুর যোগনিদ্রা। এই শক্তি জগতের সকল মোহকে আচ্ছন্ন করে রেখে আসল ব্যাপারটা দেখতে দেয়না। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই,জগত মানেই এই মোহের খেলা। বুদ্ধিমান দিগের মনও মহামায়া মোহযুক্ত করে ফেলেন। এই সমস্ত প্রাণী,বস্তু তিনি সৃষ্টি করেন। তিনি খুশি হলো মানুষকে এই মোহ ও মমতার বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারেন। যে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করলে সকলেই মুক্ত হতে পারে, সেই ব্রহ্মজ্ঞান তিনিই। আবার সংসারের বন্ধনের কারণে যে অবিদ্যা বা অজ্ঞান তাও তিনি। রাজা সুরথ জিজ্ঞেস করলেন,যাকে আপনি মহামায়া বলছেন তিনি কে?তিনি কিরূপে কোথা হতে উৎপন্ন হয়।মেধা ঋষি বলেন,এই মহামায়ার উৎপত্তি ও নেই,বিকাশও নেই।এইযে জগতের সবকিছু,সবই তার বিরাট শরীর।দেবগণের কার্যসিদ্ধির জন্য তিনি আবির্ভূতা হন।সুতরাং মানুষ যে শোক, মোহ নিয়ে সংসারে কষ্ট পাচ্ছে,তার থেকে মুক্তি লাভের জন্য এই মহামায়ার শরণ নিতে হবে। শক্তিকে ধরেই শক্তিমানকে জানতে হবে।আগুন আর তার পুড়িয়ে ফেলার ধরণ যেমন অভিন্ন,সেরকম ইশ্বর আর তার সৃষ্টি-স্থিতি, প্রলয়ের শক্তি অভিন্ন।সৃষ্টি,স্থিতি আর প্রলয়ের শক্তি না থাকলে তাকে ঈশ্বরই বলা যাবেনা।দুর্গাপুজা তাই ভগবানের সৃষ্ট দেবতার আরাধনা নয়,মাতৃভাবে ঈশ্বরেরই আরাধনা। দূর্গাতিনাশিনী দূর্গার পুজা তাই মাহাত্ন্যপুর্ণ।দেবতা আর অসুরের সংগ্রাম।মহাকাব্যে মহাকবি এই দ্বন্দ্ব বর্ণনা করেছেন।দেবতা ও অসুরদের সংগ্রামে দেবতাদের সবসময় জয় হয়,কারণ তারা ভগবানের শরণাপন্ন হয়েছেন।অসুরেরা অসুতে রত,মানে ইন্দ্রীয়পরায়ণ।দেবতারা ভোগের দেশের অধিবাসী।সে দেবতারাও স্বর্গভ্রষ্ট।স্বর্গ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে মহিষাসুর স্বর্গের রাজা হয়ে বসেছেন।দেবতাদের অধিকার হরণ করেছে।এই দুর্গাপূজা করে,দুর্গা দেবীকে সন্তুষ্ট করে দেবতারা মহিষাসুরের থেকে স্বর্গরাজ্য এবং তাদের অধিকার ফিরে পেলেন।রামচন্দ্রের রাবণের সাথে যুদ্ধে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার আরাধনা করেন।অর্জুনের সঙ্গে যুদে্ধ শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধ জয়ের জন্য অর্জুনকে দুর্গান্তব করতে বলেছিলেন।   এই পূজা করে রাজা সুরথ তার রাজ্য ফিরে পেয়েছেন। আবার সমাধি বৈশ্য সমস্ত মোহ আর মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে পরম আনন্দ অনুভব করলেন। আর তার সংসারের দুঃখে জন্মগ্রহণ করতে হবেনা । তিনি মুক্তিলাভ করলেন। প্রাচীনকালে যেমন সত্য ছিল বর্তমানকালেও তাই। বর্তমানেও মানুষ ধন-পুত্র, যশ-রূপ, জয় ইত্যাদি লাভের জন্য দুর্গাপূজা করে থাকে। ভক্তি ও মুক্তিলাভের জন্য মহামায়ার পুজা করে ধন্য হয়। আমরাও দুর্গা দেবীকে প্রণাম জানাই--- যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেন সংস্তিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ --যে দেবী সকল প্রাণীতে শান্তিরূপে বিরাজিতা, তাঁকে কায়-মন বাক্যে প্রণাম জানাই। আমরা তাঁর শরণাগত: সর্বস্বরূপে সর্বেশে সর্বশক্তিসমান্বিতে। ভয়েভ্যস্ত্রাহি নো দেবী দূর্গে দেবী নমোহস্ত তে।। -হে দেবী, আপনি সর্বরূপিনী সর্বেশ্বরী, সর্বশক্তিময়ী। আপনি আমাদের সকল আপদ থেকে রক্ষা করুন। হে নারায়ণী আপনাকে প্রণাম। আরকে//

শুভ মহালয়া আজ (ভিডিও)

আজ শুভ মহালয়া, শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার আবাহনই মুলত মহালয়া হিসেবে পরিচিত। এদিন থেকেই শুরু হলো দূর্গা পূজার দিন গননা অর্থাৎ দেবীপক্ষের সুচনা। রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে মা দূর্গাকে বরণেও ছিল নানা আয়োজন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশ এবং জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা ছিল সকলের। পুরাণ মতে, শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। আর সেই দাম্ভিকতায় মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তখনই দেবতাদের মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দশভুজা দেবী দূর্গার। অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত দেবী অসীম শক্তিতে পরাজিত করেন মহিষাসুরকে। সে অনুযায়ী এ দিনটিই মহালয়া। এদিন থেকেই শুরু হলো শুভ্র বসনা মা দূর্গার আগমনের ক্ষণ গননা অর্থাৎ দেবীপক্ষের শুভ সুচনা।   গুলশান বনানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বনানী মাঠে ছিল শুভ মহালয়ার আয়োজন। ভোরে শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠ, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় দেবীর আগমনী ক্ষনকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন এটি। এর মাধ্যমেই সমাজের সকল কুপমন্ডকতা দূর হোক সে কামনা ছিল পুর্নার্থীদের। রমনা কালি মন্দিরেও মহালয়া উপলক্ষে দেবী দূর্গার আগমনী আয়োজন ছিল ভক্তদের। মহালয়া মানেই আর ছয় দিনের প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আগামী ১৫ আক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মুল আয়োজন দূর্গা পূজা।

দেশজুড়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি(ভিডিও)

শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ী, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার কারিগররা। তবে ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এদিকে, পূজা নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। দুর্গোৎসব সামনে রেখে নিপুন হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দূর্গা, স্বরসতী, লক্ষ্মী, গনেশ, কার্তিকসহ বিভিন্ন প্রতীমা। এবার মেহেরপুরের তিন উপজেলায় ৪৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অর্চনা সম্পন্ন করার আশা করছেন কমিটির নেতারা। এদিকে, রাজবাড়ীতে প্রতিমা তৈরি এখন শেষের দিকে। রংয়ের কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কারিগররা। তবে কারিগরদের অভিযোগ, দিন-রাত পরিশ্রম করলেও কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না তারা। সিরাজগঞ্জে এগিয়ে চলেছে প্রতীমা তৈরির কাজ। জেলায় ৫০৫ টি পুজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গা পূজা। গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও নিরাপদে পুজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। ১৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা।

প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা [ভিডিও]

শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ী, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার কারিগররা। তবে ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এদিকে পুজা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। দুর্গোৎসব সামনে রেখে নিপুন হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দূর্গা, স্বরসতী, লক্ষ্মী, গনেশ, কার্তিকসহ বিভিন্ন প্রতিমা।এবার মেহেরপুরের তিন উপজেলায় ৪৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অর্চনা সম্পন্ন করার আশা করছেন কমিটির নেতারা। এদিকে, রাজবাড়ীতে প্রতিমা তৈরি এখন শেষের দিকে। রংয়ের কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কারিগররা। তবে কারিগরদের অভিযোগ, দিন-রাত পরিশ্রম করলেও কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না তারা। সিরাজগঞ্জে এগিয়ে চলেছে প্রতিমা তৈরির কাজ। জেলায় ৫০৫ টি পুজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গা পূজা।গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও নিরাপদে পুজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা। একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি