ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪০:৩৮

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মাওলানা জোবায়ের পন্থীদের আয়োজনে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে এ মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় বেলা ১১টা ৭ মিনিটে। মোনাজাতে মুসলিমসহ বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনা করা হয়। বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা জোবায়ের এ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
যেভাবে বাংলাদেশে স্থায়ী হলো বিশ্ব ইজতেমা  

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঠিক লাগোয়া উত্তর দিকে টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে প্রতি বছর তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় শীতের সময়টায়।     সাধারণত ডিসেম্বরের কিংবা জানুয়ারি মাসে এই জমায়েত বাংলাদেশে হয়ে আসছে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে - লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে অংশ নেন, যাদের মধ্যে বিদেশীদের সংখ্যা উল্লেখ করার মতো। সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হজের পর এই বিশ্ব ইজতেমাকে বলা হয় মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় জমায়েত। এর গোড়াপত্তন হয় ভারতে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটা অর্ধ শতকের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশে হয়ে আসছে। বাংলাপিডিয়ায় দেয়া তথ্য বলছে, "১৯২৬ সালে হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) ভারতের উত্তর প্রদেশের মেওয়াত এলাকায় তাবলীগী আন্দোলনের গোড়াপত্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমার আয়োজন করেন। কালক্রমে তাবলীগ সমগ্র উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করে এবং উপমহাদেশের বাইরেও এর প্রভাব পড়ে। "১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সূত্র ধরে উপমহাদেশের ভারত, পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান - এ তিনটি অঞ্চলে মুসলমানদের অবস্থান সাপেক্ষে তাবলীগের তিনটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক এবং লেখক এ কে এম খাদেমুল হক বলেন, "১৯২০ সালের দিকে যখন এটি শুরু হয়েছিল তখন এটা একটা আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল ভারতে।" তিনি বলেন, "একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এটা শুরু হয়েছিল। তখন হিন্দুদের মধ্যে একটা সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম থেকে যারা অন্য ধর্মে চলে যাচ্ছিল তাদেরকে আবারো হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেয়ার একটা চেষ্টা ভারতবর্ষে বিভিন্ন প্রদেশে শুরু হয়। "এটা একটা প্রক্রিয়া যেটাকে আন্দোলন বলা যায়। তখন মুসলমানদের সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তখন দেওবন্দ কেন্দ্রীক মুসলমানেরা চিন্তা করলেন মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে আরো সচেতন করে তুলতে হবে। এটাকে আন্দোলন বলা হয় এই অর্থে যখন একটা গোষ্ঠী অনেক লোক নিয়ে একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে সংগঠিত করে তখন সেটা আন্দোলনের রূপ নেয়"। খাদেমুল হক বলেন, যখন এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল তখন ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ শাসন করছে। তাবলীগ জামাত কখনোই নিজেদেরকে ব্রিটিশ বিরোধী হিসেবে প্রচার করতে চায়নি। ইজতেমার বাংলাদেশ পর্ব শুরু যেভাবে: বাংলাদেশে এর সূত্রপাত হয় চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে। চট্টগ্রামের সমুদ্রবন্দর দিয়ে হজে যাওয়ার জন্য মানুষ সেখানকার হজ ক্যাম্পে জড়ো হতেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আঞ্চলিক ইজতেমার প্রক্রিয়াটা। বাংলাদেশে প্রথম তাবলীগের জামাত নিয়ে আসেন তাবলীগ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচারের কাজ করছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। ভারত এবং পাকিস্তান দুটি আলাদা দেশ হওয়ার পর মোহাম্মদ ইউসুফ দুই দেশেই জামাত পাঠানো শুরু করলেন ইজতেমা আয়োজনের জন্য। তবে তখন ছোট আকারে ইজতেমা হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, "১৯৪৬ সালে বাংলাদেশে ঢাকার রমনা পার্কের কাছে কাকরাইল মসজিদ - যেটা সে সময় মালওয়ালি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল - সেখানে এই সম্মেলনটা হয়। এরপরে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে"। বাংলাদেশ যখন পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পরিচিত ছিল, তখন ১৯৬৫ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে একটি জামাত আসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মো. খান শাহাবুদ্দিন নাফিস। তখনকার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খান শাহাবুদ্দিন নাফিস বর্তমানে তাবলীগ জামাতের শুরা কমিটির একজন উপদেষ্টা। এখন যেভাবে বিদেশ থেকে প্রচুর মুসলমান ইজতেমায় অংশ নেন, সেই সময়ে অবশ্য অন্যান্য দেশ থেকে লোকজন আসেনি বলে জানান খান শাহাবুদ্দিন নাফিস। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছিল, আর ছিল গ্রামের মানুষ"। ঢাকার পর মোহাম্মদ ইউসুফ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন। খান শাহাবুদ্দিন নাফিস বলেন, তাবলীগের জমায়েতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে ইজতেমা হয় টঙ্গীর মনসুর জুট মিলের কাছে। এর পরের বছর ঠিক করা হয় ইজতেমা হবে টঙ্গীর তুরাগ নদের কাছে। আরো পরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান টঙ্গীতেই ১৬০ একর জমি নির্ধারণ করে দেন ইজতেমার জন্য, জানাচ্ছিলেন খান শাহাবুদ্দিন নাফিস। বিশ্ব ইজতেমা নাম কীভাবে হল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষক ড. আব্দুর রশিদ বলছিলেন, `বিশ্ব ইজতেমা` তাবলীগের দেয়া নাম নয়, বরং তাবলীগের লোকজন এটাকে বার্ষিক সম্মেলন বলতেন। খান শাহাবুদ্দিন নাফিস জানান, তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে বিদেশীদের পাঠানো শুরু হয় এক সময়। "যখন বিদেশ থেকে লোক আসা শুরু করলো, তখন গ্রামের লোক এটাকে বিশ্ব ইজতেমা বলা শুরু করলো। শুরার একজন প্রবীণ ব্যক্তি বললেন জনগণের চাহিদার উপর আল্লাহতায়ালা বিশ্ব ইজতেমা করে দিয়েছেন"। `বিশ্ব ইজতেমা` নাম নিয়ে তাবলীগ জামাতের মধ্যেই শুরুতে বিতর্ক ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব ইজতেমা নামটি প্রচলিত হয়ে যায়। কেন বাংলাদেশ বিশ্ব ইজতেমার স্থান হিসেবে নির্ধারিত হল? ইজতেমার ধারণা শুরু হয়েছিল ভারতে। ভারত ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ইজতেমা হতো। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এটি ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোন দেশে না হয়ে বাংলাদেশেই স্থায়ী হয়েছে। খান শাহাবুদ্দিন নাফিস বলছিলেন, "এর একটা কারণ ছিল সে সময়ে বাংলাদেশের ভিসা পাওয়া সহজ ছিল। ইজতেমার নামে কেউ ভিসা আবেদন করলে কেউ ফেরত যেত না। এটা সরকারের একটা ভালো পলিসি ছিল"। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার এই ইজতেমাকে সমর্থন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিক্ষক এবং লেখক একেএম খাদেমুল হক বলেন যে দুটো কারণে বিশ্ব ইজতেমার স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশে হয়েছে। "একটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ। আরেকটি তাবলীগ জামাতের যে আন্দোলন সেটা পুরো দক্ষিণ এশিয়া-কেন্দ্রীক। যদিও ভারতে এর শুরু কিন্তু ভারতে মুসলিম-প্রধান দেশ না হওয়ার কারণে অনেক দেশের মুসলিমরা সেদেশে যেতে কমফোর্ট ফিল করেননি। আবার পাকিস্তানকে নিয়ে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে।" মি. হক আরও বলেন, তাবলীগের জমায়েত বাংলাদেশে শুরু থেকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যতটা পেয়েছে ততটা ভারত বা অন্য কোথাও পায়নি। এছাড়া সবচেয়ে কম খরচে মানুষ বাংলাদেশে আসতে পারতো। গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা হওয়ার পিছনে কিছু রাজনৈতিক কারণও ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, ভারতের কিছু স্থানে তখনো মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি মতবিরোধ ছিল। সে তুলনায় বাংলাদেশে মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছিল, যাকে একটা নিরাপদ পরিবেশ বলে মনে করেছিলেন তারা। তবে তিনি এও বলেন যে তাবলীগের এক সম্মেলনে ইজতেমার স্থান হিসেবে লটারির মাধ্যমে বাংলাদেশের উঠে আসে বলে অনেকে উল্লেখ করেন। অবশ্য এই তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। ভারত এবং পাকিস্তান - এই দুটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তুলনামূলক নিরপেক্ষ একটা স্থান ছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজনৈতিক কারণে তখন ভারতের নাগরিকরা যেমন সহজে পাকিস্তানে যেতে পারতেন না, তেমনি পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভারতে পাওয়া ছিল কঠিন একটি বিষয়। ফলে বাংলাদেশই ছিল ওই দেশ যেখানে সহজে সবাই আসা-যাওয়া করতে পারতেন বলে গবেষকরা মনে করেন। তবে তাবলীগের ইজতেমা যে বিশ্বের অন্য কোথাও হচ্ছে না তা নয়। পাকিস্তানের রাইবেন্ড এবং ভারতের ভোপালে বড় আকারে ইজতেমা হয় বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমার ঠিক আগে ও পরে। তবে যে সংখ্যায় বিদেশীরা বাংলাদেশের ইজতেমায় আসেন, তাতে করে তুরাগ তীরের ইজতেমাই `বিশ্ব ইজতেমা` হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে। বিবিসি বাংলা এসি      

বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লীর জুম্মার নামাজ আদায় 

বিশ্ব ইজতেমার ৫৪তম আসরের প্রথম দিবসে লাখো মুসল্লী জুম্মার নামাজ আদায় করেছে। ফজরের নামাজের পর আ’মবয়ানের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ শুরু হয়।    ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক উর্দু ভাষায় মূল বয়ান শুরু করেন। বাংলাদেশের মাওলানা নূরুর রহমান এ বয়ান বাংলায় তরজমা করে শোনান। ইজতেমার মঞ্চ থেকে মূল বয়ান উর্দুতে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ২৪টি ভাষায় তা তরজমা করে শোনানো হচ্ছে। জুম্মার নামাজের ইমামতি করেন বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বী ও কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. জোবায়ের।   ছুটির দিনেও গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লী ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ভোর থেকেই পায়ে হেঁটে ময়দানের দিকে আসতে থাকে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যরা কয়েকটি স্তরে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, ইজতেমার ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক মুসল্লী বাটা রোডসহ অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। বাসস এসি   

তুরাগ তীরে শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

গাজীপুর টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৪ দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা। দেশ বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় যোগদিতে আসতে শুরু করেছেন। ময়দানে এসে মুসল্লিরা জেলা ভিত্তিক খিত্তায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের ও দিল্লীর মাওলানা সা’দ অনুসারীরা আলাদাভাবে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে সব প্রস্তুতি। বিশ্ব ইজতেমা দিল্লী মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বী সা’দ ও বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারিরা বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় এবার এক পর্বে চারদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দুদিন মাওলানা জুবায়ের ও পরের দুদিন মাওলানা সা’দপন্থী সয়ৈদ ওয়াসিফ ইসলামের ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার ও সোমবার দুদিন আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বাস ট্রাকে আসা অব্যাহত রয়েছে। ময়দানে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে এসে জেলা ভিত্তিক খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। আগত মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন ও আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করছেন। বিশ্ব ইজতেমার মাঠ তৈরিসহ নানা ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনরে ময়ের মো: জাহাঙ্গীর আলম বলনে, সব বিভাগের সমন্বয়ে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলনে, বিশ্ব ইজতেমায় সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃংখলা বাহিনির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫ টি পর্যবেক্খন টাওয়ার নির্মান করা হয়েছে।পর্যাপ্ত সিসি টিভির মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান এলাকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরকে//

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর বাণী  

মানবতার মহান মুক্তি দূত; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে আল্লাহ ছোবাহানাহু তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- তেমাদের জন্য রাসুলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তার প্রতিটি কথা, কাজ, অনুমোদন, নির্দেশনা, আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ গোটা মানব জাতির দুনিয়া– আখেরাতের কল্যাণের বার্তাবাহী। তার সে কালজয়ী আদর্শ ও অমিয়বাণী দ্যুাতি ছড়িয়ে পথপদর্শন করেছে যুগ যুগান্ততরে আলোকিত  হয়েছে মানবমণ্ডলী। সাতটি মহাপাপ সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হযরত আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- সাতটি ধ্বংসকর মহাপাপ থেকে বাঁচো। সাহাবিগণ জিজ্ঞাস করলেন, হে আলালাহর রাসুল, সে পাপগুলো কি কি? ওাসুল (সা:) বলেন- ১. আল্লাহ তালার সঙ্গে শরীক করা। ২. যাদু করা। ৩. অন্যায়ভাবে কোনও ব্যক্তিকে হত্যা করা। ৪. সুদ খাওায়া। ৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা। ৬. জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা। ৭. সাদাসিধা সৎচরিত্রা মুমিন নারীর প্রতি ব্যাভিচারের অপবাদ দেওয়া। -(বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ী) তিনটি নাজায়েজ কাজ সাহাবি হযরত সাওবান সাওরী (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেন- তিনটি এমন কাজ রয়েছে যা করা জায়েজ নয়- ১. ইমামের উচিৎ (নেতার) উচিৎ নয় মুক্তাদিদেও (অনুসারীদের) বাদ দিয়ে কেবল নিজের জন্য দোয়া করা। ইমাম (নেতা) যদি কেবল নিজের জন্য দোয়া করে, তবে সে আমানতের খিয়ানত করল। ২. দ্বিতীয় অবৈধ কাজ হলো- কারোর বাড়ির দরজায় গিয়ে বিনা অনুমতিতে ভিতরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। এমনটি যে করে তার এ কাজ বিনা অনুমতিতে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করার তুল্য, যা নিষিদ্ধ। ৩. তৃতীয় অবৈধ কাজ হচ্ছে- প্রস্রাব্ ও পায়খানার বেগ হ্ওয়া সত্ত্বেও তাতে সাড়া না দিয়ে তা ধারণ করে নামাজ শুরু করে দেওয়া বা জামাতে শামিল হওয়া। -(আবু দাউদ)  আললামা জলীল আহসান নদভী কতৃক রচিত ‘যাদেরাহ’ হাদীস গ্রন্থ থেকে সংকলিত -(আনোয়ারুল কাইয়ূম কাজল)

আজ থেকে শুরু হজ নিবন্ধন কার্যক্রম

  সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০১৯ সালে পবিত্র হজ গমনেচ্ছুদের চূড়ান্ত নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। যা চলবে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে হজ গমনেচ্ছুদের চূড়ান্ত নিবন্ধন শুরু হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। সরকারিভাবে হজ গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধনের ৩০ হাজার টাকা বাদে সমন্বয় করে প্যাকেজ অনুযায়ী বাকী টাকা নিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।অন্যদিকে বেসরকারিভাবে হজ গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধনের ৩০ হাজার টাকা বাদে প্যাকেজ অনুযায়ী নির্ধারিত টাকা থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।এবার সরকারি-বেসরকারিভাবে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ ব্যক্তি হজ করতে সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে যাবেন এক লাখ ২০ হাজার, বাকি সাত হাজার ১৯৮ জন যাবেন সরকারিভাবে।হজযাত্রীদের জন্য গতবারের তুলনায় এ বছর বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তার পর সরকার দু’টি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।প্যাকেজ-১ এর জন্য প্রতিজনের লাগবে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫শ টাকা আর প্যাকেজ-২ এর জন্য লাগবে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের জন্য সর্বশেষ প্রাক নিবন্ধনের ক্রমিক নম্বর ২২ হাজার ৭৬৪ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বশেষ ক্রমিক নম্বর চার লাখ ৭৯ হাজার ৮১৫।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে হজে গমনের জন্য প্রাক নিবন্ধনকারী ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, হজ নিবন্ধনের জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ক্রমিকের মধ্যে উল্লেখিত প্রাক নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি নিবন্ধন সম্পূর্ণ না করলে তার পরিবর্তে পরবর্তী ক্রমিকের প্রাক নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানানো হবে।এসএ/  

কাল সরস্বতী পূজা

বাণী অর্চনা, বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসবে পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন অগণিত ভক্ত। তবে পঞ্জিকা মতে পঞ্চমী তিথি আজ (শনিবার) সকাল থেকে শুরু হওয়ায় অনেক বাসাবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যেই পূজা শুরু করার বাধ্যবাধকতা আছে। সনাতন ধর্মালম্বিদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে/ বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যংদেহী নমোস্তুতে’ এই মন্ত্র উচ্চারণ করে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রণতি জানাবেন তারা। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আগামীকাল বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠান মালায় আছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে মহাসাড়ম্বরে বিদ্যা ও আরাধনার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে শুরু হবে পূজার্চনা এবং অঞ্জলি প্রদান। এছাড়াও সকালে হাতে খড়ি এবং প্রসাদ বিতরন করা হবে। সন্ধ্যায় আরতি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও হল জুড়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের বিদ্যার্থীরা পূজার আয়োজন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাত ১২ টা ১ মিনিটে প্রতিমা স্থাপন, সকাল ৯টায় পুস্পাঞ্জলি এবং পরে প্রসাদ বিতরণ। (সূত্রঃ বাসস) কেআই/  

তুরাগ তীরে চলছে ইজতেমার প্রস্তুতি (ভিডিও)

টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে জোরেসোরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি। সারা দিন মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত তাবলিগ জামায়াতের কর্মীরা। ১৫ ফেব্র“য়ারি শুরু হবে ৪ দিনের এই আয়োজন। এক পর্বেই শেষ হবে মুসলিম উম্মার এই সমাবেশ। তবে, আখেরি মোনাজাত হবে দুটি। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল বিশ্ব ইজতেমা। দিল্লী মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বী সা’দ কান্দলভী ও বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের বিবাদে, সম্প্রতি সমঝোতা হয়। সে হিসেবে টানা চারদিনের ইজতেমা শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার। টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়েছে ময়দানের কাজ। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মুসল্লীরা। বুধবারের মধ্যে ময়দান পুরোপুরি প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মুসলিম উম্মাহ’র ঐতিহ্য রক্ষায় সফল ইজতেমা আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। প্রতিবারের মতোই থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দুই পক্ষে দুটি আখেরি মোনজাত হবে। একটি শনিবার এবং অপর মোনাজাত সোমবার।

রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর দশটি অসিয়ত

মানবতার মহান মুক্তি দূত; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা:)কে আল্লাহ ছোবাহানাহু তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- তেমাদের জন্য রাসুলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তার প্রতিটি কথা, কাজ, অনুমোদন, নির্দেশনা, আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ গোটা মানব জাতির দুনিয়া– আখেরাতের কল্যাণের বার্তাবাহী। তার সে কালজ্বয়ী আদর্শ ও অমিয়বাণী দ্যুাতি ছড়িয়ে পথপ্রদর্শন করেছে যুগ যুগান্তরে আলোকিত হয়েছে মানবমণ্ডলী। সাহাবি হযরত মুয়াজ বিন (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা:) আমাকে ১০টি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন। তিনি বলেন, হে মুয়াজ! ১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। যদিও এর জন্য তোমাকে হত্যা করা হয়, বা আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ২. মাতা-পিতার অবাধ্য হয়ো না। যদিও তারা তোমার স্ত্রীকে বর্জন করতে এবং তোমার ধন সম্পদ ত্যাগ করতেও নির্দেশ দেয়। ৩. কোনও ফরজ নামাজ কখনও ত্যাগ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ত্যাগ করে, সে আল্লাহ তালার হিফাজত থেকে বঞ্চিত হয়। ৪. মদপান করবে না। কেননা তা সব অশ্লীলতা, লজ্জাহীনতা ও কুকর্মের উৎস। ৫. আল্লাহর অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত থাকো। কেননা এতে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তোষ নেমে আসে। ৬. শত্রুসেনার মোকাবেলায় পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না। যদিও তোমার বাহিনীর সব সেনা ধ্বংস হয়ে যায়। ৭. যখন ব্যাপক মহামারী দেখা দেয়, তখন সে জায়গা থেকে পালিয়ে যেয়ো না। ৮.  সাধ্য ও মর্যাদা অনুযায়ী পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করো। ৯. নিজ পরিজনের তরবিয়ত দানে (শিক্ষা) ছড়ি ত্যাগ করো না । ১০. আল্লাহর ব্যাপারে পরিবারের লোকদের সদা সচেতন ও ভীত রাখবে। ব্যাখ্যা: ২নং অসিয়ত সম্পর্কে কিছুসংখ্যক আলিমের অভিমত হলো মাতা-পিতা যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে নির্দেশ দেন তবে বিনা দ্বিধায় তালাক দেওয়া কর্তব্য। কেননা এ রকম করা পছন্দনীয়। কিন্তু আমাদের মতে এ বিষয়ে এ রকম সাধারণ ফতোয়া দেওয়া ঠিক নয়। আমাদের অভিমত হলো যদি পিতা-মাতা আল্লাহ ভীরু হন এবং পুত্রের কাছে তার স্ত্রীর সর্ম্পকে এমন কোনও যুক্তিসংগত কথা পেশ করেন, যার ভিত্তিতে তালাক প্রদান করা উচিৎ বিবেচিত হয়। পুত্রের কর্তব্য অবশ্য তালাক প্রদান করা, স্ত্রীর প্রতি যতই অনুরাগ থাকুক না কেন। কিন্ত এ ব্যাপারে পিতা-মাতার কথা যদি যুক্তি সংগত না হয়; কোনও সংগত কারণ ছাড়াই তারা যদি পুত্রকে স্ত্রী তালাক দ্ওেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করেন, তবে তার কথা আমান্য করা যেতে পার্। তবে এটা অবাধ্যতা নয়। আল্লাহ তায়ালা এবং তার রাসুল যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন স্বামী-স্ত্রীর পক্ষে যখন সেভাবে জীবন যাপন করা সম্ভব না হয়, কেবল সে অবস্হায় শেষ পন্হা হিসেবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন করা যেতে পারে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা তালাক সর্ম্পকে এই রূপ শর্তই বিবৃত করেছেন । ৯নং অসীয়তের অর্থ হলো সুশাসনে রাখা, এর মর্ম এই নয় যে, ছড়ির বলেই তরবিয়ত (শিক্ষা) করতে হবে। তাছাড়া এর উদ্দেশ্য যখন উপদেশ ও শিক্ষা দ্বারা সংশোধন না হবে তখন প্রয়োজনবোধে প্রহারও করা যেতে পারে। কিন্ত এ ব্যাপারে ও রাসুল (সা:) নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমন প্রহার করা যাবে না, যার ফলে জখম বা হাড় ভেঙ্গে যায। মুখের উপর আঘাত রাসুল (সা:) করতেও  নিষেধ করেছেন। এমন কি রাসুল (সা:) পশুদের মুখের উপর ও আঘাত করতে নিষেধ করছেন। মাতা-পিতা ও শিক্ষকদের পক্ষে তার এ সব উপদেশ স্মরণ রাখা কর্তব্য।  - (তাবরানী)   আললামা জলীল আহসান নদভী কতৃক রচিত ‘যাদেরাহ’ হাদীস গ্রন্হ থেকে সংকলিত - ( আনোয়ারুল কাইয়ূম কাজল)

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি