ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ৯:৫৮:৩০

‘সেলিনা পারভীন একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা’

সুমন জাহিদ

‘সেলিনা পারভীন একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা’

রায়ের বাজার, মিরপুর, কাটাসুর, মোহাম্মদপুর, বধ্যভূমি, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, খান সেনা, যুদ্ধ, কারফিউ- শব্দগুলো আজও আচ্ছন্ন করে দেয়। কান্নার ভাষা হয়ে ঝড়ে এই শব্দগুলো। স্বাধীনতার উত্তাল কলরোলের মধ্যে যেই খবর বেদনায়, শোকে হতবাক করে দিয়েছিল মানুষকে সেটি এক ভয়াবহ স্মৃতি। বিজয়ের সন্ধিক্ষণে যখন বাংলাদেশ ঠিক তখন অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে বাড়ি থেকে ধরে এনে বিভিন্ন টর্চার সেলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিভিন্ন জনবিড়ল স্থানে সেসব লাশ ফেলে দেওয়া হয়। আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বিজয়ের প্রাককালে পাকিস্তানি হায়নারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের। তাদের মধ্যে অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীন। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) ও ইটিভি অনলাইন’র সঙ্গে কথা বলেছেন শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের একমাত্র সন্তান লেখক ও সংগঠক সুমন জাহিদ। তার সাক্ষাৎকারটি লিখেছেন – সোহাগ আশরাফ  একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : শুভ সকাল। একুশে টিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগত জানাই।   সুমন জাহিদ : ধন্যবাদ। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীর সন্তান। আজকের দিনটি আপনার জন্য অনেক বেশি কষ্টের। তারপরও মনে করি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীর সন্তান হিসেবে আপনি গর্বতবোধ করেন। কারণ আপনার মা একজন নির্ভিক সাংবাদিক ছিলেন। তার লেখনির মধ্যদিয়ে তিনি যুদ্ধ করেছেন। আজকের দিনটিকে ঘিরে আপনার কি কি পরিকল্পনা ছিল? সুমন জাহিদ : গতকাল ছিল ১৩ ডিসেম্বর। আমাদের বাসা থেকে ওইদিন মাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। চৌধুরী মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে আল বদর বাহিনী তাকে ধরে নেয়। প্রতি বছরের মত এবারও সকালে মায়ের কবরটা জিয়ারত করেছি। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যাই। শ্রদ্ধা নিবেদন করি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে যাই (যেখানে আমার মায়ের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়)। দিবসটিকে ঘিরে প্রতিবছর এই কর্মসূচিগুলো থাকে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আমরা সেই সময়ের কথাগুলো শুনতে চাই। যদি একটু স্মৃতিচারণ করতেন। সুমন জাহিদ : আসলে অল্প সময়ে, অল্প কথায় শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনকে নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। যারা ওনার সম্পর্কে জানতে চান তারা ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীন স্মারকগ্রন্থ’টি সংগ্রহ করতে পারেন। এটা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং ইত্যাদি গ্রহন্থপ্রকাশে পাওয়া যাবে। মা সরাসরি রাজনীতি করতে না। কিন্তু রাজনীতি সচেতন ছিলেন। সভা-সমাবেশগুলোতে তিনি অংশহগ্রহণ করতেন। আমাকেও নিয়ে যেতেন। আমার তখন ৮ বছর বয়স। আমার স্পষ্ট মনে আছে। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরিতে গিয়েছি, ৭ই মার্চের ভাষণ শুনতে গিয়েছি। আপনি চিন্তা করেন ওই সময়ে একজন মহিলা একটি পত্রিকায় কাজ করছেন। একজন সিঙ্গেল ওম্যান হয়ে পত্রিকা চালাচ্ছেন আবার সংসারও দেখছেন। আমাকে লালন পালন করছেন। দুই দুটি পত্রিকার জন্য বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা, লেখা সংগ্রহ করা খুবই কঠিন কাজ ছিল। আমি দেখতাম, অনেক সময় মা আমাকে বাসায় রেখে নিজে যেতেন। কোন কোন সময় রিকসা বা বাসে না গিয়ে হেটে চলে যেতেন। উনি ওনার পত্রিকা ‘শিলালীপী’র বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতেন। আমার মনে আছে আমাকে নিয়ে মা একদিন ওষুধ কিনতে গেলেন দুই তিন দোকানে। প্রথমে বাংলামটর, তখন ওটা পাকমটর ছিল। এরপর মিটফোড হাসপাতাল। তারপর ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের সামনে। বিভিন্ন জায়গা থেকে একটু একটু করে ওষুধ কিনে আনলেন। পরে রাতে এগুলো স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দেন। এছাড়া আহত এক মুক্তিযোদ্ধা আমাদের বাসায় আসেন, তাকে মা সেবা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলেন। এরকম কিছু ছোট ছোট কাজ, যেগুলো স্বাধীনতা বিরোধিদের জন্য খুবই খারাপ দৃষ্টিতে ছিল। আরও একটা বিষয় আপনারা জানেন যে- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। ইত্তেফাক, সংবাদ জ্বালিয়ে দিয়েছে। মায়ের ‘শিলালীপী’ও বন্ধ হয়ে গেছে। মা তখন পত্রিকাটা পুনঃপ্রকাশের জন্য রাও ফরমানের কাছে যান। সেখানে যাওয়ায় উনি ওদের তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে। ব্লকলিস্ট যাবে বলে। তখন এই পত্রিকায় লিখতো- শহিদুল্লাহ কায়সার, মুনির চৌধুরী, জহির রায়হান, ড. বোরহান উদ্দিন খানসহ বিখ্যাত লোকেরা। শিল্পী হাসেম খান এটির প্রচ্ছদ করতেন। ওরা যখন জানলো তখন মাকে বলতো এটা পরিবর্তন করো, ওটা পরিবর্তন করো। মাকে দিয়ে একটি সংখ্যার প্রচ্ছদও পরিবর্তনা করানো হয়। বলা হয়- পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদ নিয়ে লেখো। উনি সম্ভবত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে একটি সংখ্যা বের করেন। সেই সংখ্যার প্রচ্ছদ পরিবর্তন করানো হয়। এসব কারণে ওদের কাছে মা চিহ্নিত হয়ে যান। তাছাড়া উনি ইত্তেফাক, ললনা, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক পাকিস্তানে লিখতেন। ওগুলোর একটা সম্মানি ছিল। সেগুলো আনতে বিভিন্ন সময় পত্রিকা অফিসে যেতে হতো। আরও অনেক কারণ ছিল। মূলত এসব কারণেই মাকে চলে যেতে হয়েছে। উনি কিন্তু ওই সময় খুব বিখ্যাত কোন মানুষ ছিলেন না। মাত্র লেখা লেখি শুরু করেছেন। প্রতি তিন মাস পর পর পত্রিকাটা বের হতো। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : ১৩ ডিসেম্বরের সেই কথাটা শুনতে চাই। কি হয়েছিল সেদিন? সুমন জাহিদ : ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে মাকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর ওনাকে অনেক নির্যাতন করা হয়। যা আমি মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৩৫ বছর পরে জানতে পেরেছি। ওই ঘটনা আমি মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে জেনেছিলাম। ওনাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার মার মৃত্যুর কারণে উনি বেঁচে যান। পেছন থেকে হাত ছুটিয়ে, চোখ খুলে দৌঁড়ে পালান তিনি। উনি এখনও বেঁচে আছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, যখন তিনদিন তাদের রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর ফিজিকাল সেন্টারে রাখা হয়েছিল ওই সময় তাদের খেতে দেওয়া হয়নি, বসতে দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রাকৃতিক কোন কাজও করতে দেওয়া হয়নি। বরং ওনাদেরকে নির্যাতন করা হয়ছে। যে লিখতো তার আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়েছে। যে চোখের ডাক্তার ছিলেন তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। বুকের পাজর ভেঙ্গে কলিজা বের করে নেওয়া হয়েছে। এটা উনি দেখেছেন। রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শেষ সময়ে যখন মাকে নিয়ে দাঁড় কারানো হয়, উনি বুঝতে পেরেছিলেন কি হচ্ছে। তখন উনি করুনভাবে বলেছেন- ‘তোমরা আমার ধর্মের ভাই। তোমরা আমার ধর্মের বাবা। আমাকে ছেড়ে দাও। ঘরে আমার আট বছরের একটা সন্তান আছে।’ ওরা মায়ের কোন কথাই শোনেনি। উল্টো বেয়নেট দিয়ে মায়ের মুখ ফেড়ে দেয়। মা চিৎকার করছে। কথা গুলিয়ে যাচ্ছে। বেয়নেট দিয়ে ওনার বুকে চার্জ করে। এরপর নিচে পরে গিয়ে যখন চিৎকার করেন তখন গুলি করে হত্যা করে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আমরা আশা রাখি দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীন ও সব শহীদদের এই যে আত্মত্যাগ তা জাতি সব সময়ই স্মরণ করবে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। সুমন জাহিদ : সত্যি কথা বলতে আমরা তাদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। তাদের যে অবদান আমাদের রাষ্ট্র কি সেই অবদান তুলে ধরতে পেরেছে? আমার মাকে যেখান থেকে ধরে নিয়ে গেছে সেই রাস্তাটা মগবাজার থেকে মৌচাক। অনেক সংগ্রাম করে এই রাস্তাটার নাম শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক করা হয়। ফ্লাই ওভার করার পর ওটা মুছে গেছে। আমি অনবরত প্রশানকে বলছি। মেয়রকে চিঠি দিয়েছি। আবেদন করেছি যে ফলকগুলো আবারও পুনস্থাপন করা হোক। কবে করবে জানি না। এই মগবাজারের চারিদিকে যে রাস্তাগুলো সবগুলো মুক্তিযোদ্ধা, শহীদদের নামে করা। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সবার কাছে চিঠি দিয়েছি যাতে এই বিষয়টার দিকে নজর দেওয়া হয়। মগবাজার যে ফ্লাই ওভারটি হয়েছে আমি দাবি করেছি এটা কোন একক জনেন নামে নয়, ৭১-এ ‘শহীদ স্মৃতি উড়াল সেতু’ হিসেবে নাম করণ করা হোক।   এসএইচ/  
রাবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন ও হলে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সকাল সোয়া ৭টায় উপাচার্য ভবন থেকে প্রভাত ফেরি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, বিভিন্ন হল প্রশাসন, বিভাগ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সমিতি ও সংগঠন, রাবি সাংবাদিক সমিতি বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এদিন বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এবং সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।     আর

বুদ্ধিজীবী দিবসে খালেদার শ্রদ্ধা

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এক বাণীতে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, অমর বুদ্ধিজীবীগণ দেশের বরেণ্য শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং মাথা উঁচু করা জাতি দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁরা ন্যায়বিচারভিত্তিক শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে মেধা-মননে পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত বিজয়ের ঊষালগ্নে এ দিনে হানাদার বাহিনীর দোসররা দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক বিজ্ঞানীসহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তাঁরা মনে করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করলেই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে এবং উন্নয়ন অগ্রগতি রুদ্ধ করে দেওয়া যাবে। স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পথে মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সে লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে। এমজে/

ইতিহাসের কলংকিত দিন ১৪ ডিসেম্বর

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পরেই পাক হানাদার বাহিনী নিশ্চিত হয়ে যায়, তাদের পরাজয় সন্নিকটে। এপর্যায়ে ১৪ ডিসেম্বর এদেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যার ঘৃণ্য নীলনকশা বাস্তবায়ন শুরু করে। হানাদাররা এদেশীয় রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় জাতির মেধাবী সন্তানদের তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তাদের লক্ষ্য ছিল বাঙ্গালী জাতি স্বাধীন হলেও যেন নেতৃত্ব ও মেধাশূন্য হয়ে যায়। মোট কতজন বুদ্ধিজীবী তারা হত্যা করেছিল তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। সারা দেশব্যাপী অসংখ্য মেধাবী পেশাজীবী হত্যা করা হয়েছিল। যদিও ১৪ ডিসেম্বরের অপারেশনটি ছিল পরিকল্পনামাফিক। বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুযায়ী, একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩জন সাংবাদিক,৪৯ জন চিকিৎসক,৪২ জন আইনজীবী, ১৬জন শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। ১৪, ১৫ ডিসেম্বরে যাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে অন্যতম ড. জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দিন হোসেন, নিজামউদ্দিন লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আনম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, রশীদুল হাসান, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীন, সায়ীদুল হাসানসহ আরো অনেকে। এ সময় বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছিল আলবদরদের হাতে। তারা ঠাণ্ডা মাথায় এসব মেধাবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষে গড়া ট্রাইব্যুনাল এই গণহত্যার জন্য মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আযম, চৌধুরী মাইনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানকে দায়ি করে। এদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ও গোলাম আযম সাজাপ্রাপ্তঅবস্থায় মারা যান। বাকি দুজন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক অবস্থায় আছেন।  

শ্যামলী নাসরীন চৌধুরীর স্মৃতিতে শহীদ আলীম চৌধুরী

ডা. আলীম চৌধুরী। মেধাবী চিকিৎসক হিসেবে দেশে-বিদেশের নামকরা হাসপাতালগুলোয় কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকায় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর, রাজাকারদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। তার মূল্য দিতে হয় নিজের জীবন দিয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র একদিন আগে তাকে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় আলবদর নেতা মাওলানা মান্নানের নেতৃত্বে থাকা বদর বাহিনী। ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে আরও অনেকের সঙ্গে তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। বাঙালি নারীর সামনে থেকে তার স্বামীকে  তুলে নিয়ে যদি হত্যা করা হয় এবং পরে তার লাশ পাওয় যায় তাহলে কেমন লাগে তা একমাত্র ভুক্তভোগীই জানেন। যেমনটি জেনেছেন ডা. আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী। চোখের সামনে দেখেছেন স্বামীর খুনিকে মন্ত্রী হতে। দাপটে বুক ফুলিয়ে বেড়াতে। নীরবে চোখ মু্ছেছেন। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছেন। আল্লাহ তার ডাক শুনেছেন। এক খুনি বিচারের আগে মারা গেলেও তিনি (শ্যামলী নাসরিন) ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে করা ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী। একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য তিনি শুনিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ সময়কালীন সেই কাহিনী। পাঠকদের জন্য তা নিজের ভাষায় লিখেছেন  প্রতিবেদক  আলী আদনান। ডা. আলীম চৌধুরী ও শ্যামলী নাসরীন চৌধুরীর পরিবারটি বাবা-মাসহ বসবাস করতেন পুরানা পল্টনের ২৯/১ নম্বর বাড়িটিতে। যুদ্ধ শুরুর পর সব সময় তার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা আসতেন। ‍আসতেন অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতাও। তাদের অন্যতম জাতীয় চার নেতাদের একজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধারা তার বাড়িটিকে নিরাপদ মনে করতেন। জুন-জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সেই বাড়িতে আশ্রয় নিতে আসেন মান্নান নামে একজন অপরিচিত মানুষ। এসেই আলীম চৌধুরীর অনেকটা পা জড়িয়ে ধরার মত করেই আশ্রয় চায়। তার স্ত্রী শ্যামলী নাসরীন এমন অপরিচিত লোককে আশ্রয় দিতে বাধা দেন। কিন্তু মান্নান যে লোকটিকে সুপারিশ করার করার জন্য নিয়ে এসেছে তার ও মান্নানের অনুনয়-বিনয়ে মন গলে আলীম চৌধুরীর। মাত্র তিন চার দিন থাকার বথা বলে উঠলেও মান্নান কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ির মালিককে ম্যানেজ করে তার পুরো পরিবার এনে তোলে ওই বাড়িতে। তার কয়েকদিন পর থেকে দেখা যায় বাড়িটা পাহারা দিচ্ছে নীল শার্ট ও এ্যাষ রংয়ের প্যান্ট পরা বেশ কয়েকজন যুবক। ডা. আলীম চৌধুরী তখন মান্নানকে ওই যুবকদের ব্যাপারে জেরা করেন। তখন সবাই জানতে পারে মান্নানের আসল চেহারা। মান্নান নিজেকে আলবদর কমান্ডার হিসেবে পরিচয় দেয়। সে জানায় ওই যুবকগুলো আলবদরের সদস্য। মূলত তারা মান্নানকে পাহারা দেয়। মান্নান চালাকি করে আরও বলে, আমার বিপদের মুহূর্তে আপনারা আমাকে এ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন, আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও যে কোনো সময় আপনাদের পাশে থাকব। সময় গড়ায়। ২৯/১ বাড়িটার নিচতলায় নানা ধরনের লোক আসে। দেখেই বুঝা যায়, এরা বিশ্বাস করে দেশ কখনো স্বাধীন হবে না। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। আলীম চৌধুরীর পরিবারটি পড়াশোনা জানা পরিবার। রাজনৈতিক সচেতন। যুদ্ধের গতি দেখে আগে থেকেই বুঝেছিল দেশ স্বাধীন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ১৫ ডিসেম্বর বিকালে বসে পরিবারের সবাই সেসব আলোচনা করছিল। আকাশে তখন চক্বর দিচ্ছে ভারতীয় মিগ। দেখে বিডিআর ক্যাম্পে চলছে একচেটিয়া বোমা বর্ষন। ডা. আলীম চৌধুরী খুব উল্লসিত। এমন সময় বাড়ির সামনে এসে একটা জিপ দাড়ায়। জিপ থেকে কয়েকজন লোক নেমে ঢুকে যায় মান্নানের বাড়িতে। বিশ থেকে ২৫ মিনিট পর বের হয়ে আসে তারা। (এখানে বলা হয়নি একই বাড়ির নীচ তলায় মান্নান ও ওপরের তলায় আলীম চৌধুরীর পরিবার ‍বাস করলেও গেট ছিল দুটি। একটি মান্নান ও অন্য গেটটি ডা. আলীম চৌধুরীর পরিবার ব্যবহার করত।) বের হয়ে সোজা আলীম চৌধুরীর দরজায় এসে জোরে জোরে করাঘাত করতে থাকে ও দরজা খুলে দিতে বলে। আলীম চৌধুরী দৌড়ে মান্নানের দরজায় গিয়ে মান্নান ভাই, দরজা খুলুন, দরজা খুলুন বলে সাহায্য চায়। কিন্তু মান্নান দরজা খোলে না। ততক্ষণে বন্দুকধারী নীল শার্ট গায়ের লোকগুলো উঠে আসে উপরে। মান্নান দরজা ফাক করে বলে, ’আপনি যান, আমি আছি’। ডা. আলীম চৌধুরীকে নিয়ে তোলা হয় গাড়িতে। তার স্ত্রী শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী তখন দৌড়ে আবার মান্নানের কাছে যান। সব আকুতি এক করে স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে বলেন। মান্নান অনেকক্ষণ নীরব থেকে বলে, চিকিৎসা করানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে। আবার দিয়ে যাবে। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। সারা দেশ হাসে। কিন্তু আলীম চৌধুরী ও তার পরিবারের মত তখন কান্নার রোল। সতের ডিসেম্বর মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় আলীম চৌধুরী ও তার মত অনেক বুদ্ধিজীবী, যাদের ধরে নেওয়া হয়েছিল শেষ সময়ে তারা কেউ বেঁচে নেই। ১৮ ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে চিকিৎসক সমাজের অহংকার ডা. আলীম চৌধুরীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পাওয়া যায়, আরেক বরেণ্য চিকিৎসক ফজলে রাব্বীর লাশ। দুজনের পিছনে হাত ও  চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। গালে মাথায় বেয়নেটের অসংখ্য চিহ্ন। পেটে, বুকে ব্রাশ ফায়ারের চিহ্ন। আজিমপুর নতুন কবরস্থানে সমাহিত করা হয় তাকে। ডা. আলীম চৌধুরী দু্ই সন্তান রেখে যান। ফারজানা চৌধুরী নিপা ও নুজহাত চৌধুরী শম্পা। দুজনই এখন প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তাদেরকে ছোট বেলায় দেখতে হয়েছে তাদের বাবার খুনী মান্নান ( ৭৫-এর পরে যে হয়ে যায় মাওলানা মান্নান) জিয়াউর রহমানের আমলে মন্ত্রী। ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরী এ সম্পর্কে একটি স্মৃতিচারণ করেন। ঘটনাটা এরকম- ১৯৯২ কী ৯৩ সালের কথা। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ফাঁসির রায়ের পক্ষে গণসাক্ষর সংগ্রহ চলছে। নুজহাত চৌধুরী তার ক্লাসের একটি ছেলেকে বলেন, সাক্ষর করতে। ছেলেটি জবাব দেয়, তোমার বাবা মরেছে। আমার বাবা তো মরেনি। আমি কেন সাক্ষর করব? একজন সন্তান হিসেবে এটা কতোটা কষ্টের তা ভুক্তভোগী ভাল বলতে পারবেন। জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির বিষয়ে শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী বলেনন, আমার জীবিত অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেখতে পেয়েছি, এটাই বড় পাওয়া। শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক হওয়ায়, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে অন্যায়ভাবে তার চাকরি জীবনে হস্তক্ষেপ করে। বর্তমানে তিনি উদ্দীপন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ‍ডিগ্রি নেওয়া এই মহিয়সী নারী ১৪টি গ্রন্থের প্রণেতা। আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মাঠে থেকেছেন। দায়িত্ব পালন করছেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে।   এসএইচ/ এআর

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য মতিউরের অন্যরকম লড়াই

পেশায় মাছ ব্যবসায়ী কিশোরগঞ্জের শেখ মতিউর রহমান। অভাবের তাড়নায় অষ্টম শ্রেণীর পর আর স্কুলে যেতে পারেন নি। মাছের ডালা মাথায় নিয়ে ফেরি করে বেড়ান জীবিকার তাগিদে। বর্তমানে থাকেন মিরপুরের লালকুঠিতে। মতিউর গত তিন বছর ধরে নিয়মিত স্বেচ্ছায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার করেন নিজ হাতে। তারও আগে থেকে নিয়মিত আসতেন ও বিভিন্ন আগাছা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতেন। কিন্তু গত তিনবছর তিনি নিজ হাতে নিয়মিত বিভিন্ন কবরের উপর পড়ে থাকা গাছের পাতা পরিষ্কার করেন। বিভিন্ন ফুলের চারায় পানি দেন। ঝোঁপ ঝাড় পরিষ্কার করেন। অনেক শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ও বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে তার জ্ঞানও বেশ ভালো। এই কাজ করার মধ্যে মতিউর একটা তৃপ্তি খোঁজে পান। মতিউরের মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখতে না পেরে বা অংশ নিতে না পেরে যে অতৃপ্তি তা কিছুটা হলেও দূর হয় এই কাজ করে। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন সেসব ‍বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর পরিস্কার করতে পেরে ধন্য মতিউর। তবে তার এসব স্বেচ্ছাশ্রমে অখুশি সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিয়মিত দর্শনার্থী জানালেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারদের কাছ থেকে স্মৃতিসৌধ পরিষ্কারের দোহাই দিয়ে টাকা পয়সা আয় করে। কিন্তু মতিউর স্বেচ্ছায় পরিষ্কার করে দেওয়ায় সিটি কর্পোরেশন কর্মীদের সেই আয়ের পথ বন্ধ। কথা হয় এখানে নিয়মিত আসা শরীফ চৌহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি প্রায়ই দেখি ছেলেটা এখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য নিজে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো সিটি কর্পোরেশনের কর্মী। পরে জানলাম, সে এখানে স্বেচ্ছায় কাজ করে। মতিউর এখন একা নন, তার দুই মেয়েকেও এ কাজে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। কেন তার এই প্রচেষ্টা জানতে চাইলে মতিউর বলেন, আমি দেশের জন্য কিছু করতে চাই। মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করল। আমরা তো সেই সুযোগ পাইনি। এটা অন্তত করি। মতিউরের এমন কাজকে অনেকে পাগলামী বলে হাসাহাসি করলেও, তাতেও দমে যান না মতিউর। তার ভাষায় কে কী বলল, তাতে কী আসে যায়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় মতিউর জানান, তার মন খারাপ। এতদিন বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে অনেক লোকের সমাগম ছিল। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের পর এখানে কেউ আসবে না। কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসেনা। মতিউরের এই দেশপ্রেমের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।   / এআর /

লোকে লোকারণ্য মীরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

এ প্রজন্ম ইতিহাস সচেতন নয়, বা এ প্রজন্ম শুধু ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত এমন অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। কিন্তু মীরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে একবার আসলেই তারা বুঝতে পারবেন, তরুণদের নিয়ে তাদের ভাবনা অনেকটাই ভুল। ১৪ ডিসেম্বর সকাল থেকেই লোকারণ্য হয়ে আছে স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন এলাকা। এদের বড় একটি অংশ তরুণ। তাদের বেশীরভাগই স্কুল কলেজ বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভিড়। সরকারের উর্ধ্বতন মহলসহ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর থেকেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণ। কিছুক্ষণের মধ্যেই কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই পাওয়া যায় না। তারা যে শুধু সময় কাটানোর জন্য বা দেখানোর জন্য এখানে এসেছেন তা কিন্তু নয়। তারা এব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করা এহসান নোমান বলেন, যতই দিন যাচ্ছে আমাদের জাতীয় জীবনে শোকাবহ ঘটনাটির গুরুত্ব ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস সম্মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হাত-পা-চোখ বাঁধা ক্ষতবিক্ষত লাশ আজও অশ্রু ঝরায় স্বজন আর পুরো বাংলাদেশের চোখে। তাই বিনম্র এবং শ্রদ্ধায় আজ জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

‘জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়’

আজ বেদনার দিন ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস সম্মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী দিবসে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দ সৈনিক ফকির আলমগীর। তার সঙ্গে কথা বলেছেন- সোহাগ আশরাফ একুশে টিভি অনলাইন : একুশের টিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনি? ফকির আলমগীর : একুশে টিভি অনলাইনকে ধন্যবাদ। বিজয়ের এই মাসে, বুদ্ধিজীবী দিবসে আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য। একুশে টিভি অনলাইন : আজ তো বুদ্ধিজীবী দিবস, এই দিনটির তাৎপর্য আপনার মুখে শুনতে চাই। ফকির আলমগীর : আমি প্রথমেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলতে চাই। এই মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু একদিনে সংগঠিত হয়নি। সেই ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৬০’র দশকের আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থ্যান, তারপরে কত রক্ত, কত আত্মদান, সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সমস্ত মানুষের কতনা অবদান এই বাংলাদেশটির জন্য। আমাদের এই জাতিকে মেধাশূণ্য করার জন্য সেই যে রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানী হায়নাদের দোসররা সেদিন হিংস্র হয়ে উঠেছিলো তারা কিন্তু আজও ৪৬ বছর পরেও আস্ফালন করে, তারা ফণা তোলে। তারা সেদিন জাতিকে মেধাশূণ্য করার জন্য আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো। আমি আব্দুল লতিফের কালজয়ী গানটির কথা বলবো। যে গান বারবার স্মরণ করিয়ে দিবে জাতিকে। ‘‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দানে পাওয়া নয় দাম দিছি প্রাণ লক্ষ কোটি, জানা আছে জগৎময় দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দানে পাওয়া নয় সতেরোশো সাতান্ন সনে, ভাইবা দেখেন পড়বে মনে দাম দিছি পলাশীর মাঠে, ইতিহাস তার সাক্ষী রয় ...’’ একুশে টিভি অনলাইন : আপনি রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন বলিষ্ঠ শব্দ সৈনিক। একটু পেছনে ফিরে যেতে চাই। অনেক ত্যাগ, রক্ত, প্রাণের পর আমরা যখন বিজয় পেতে যাচ্ছি, সেই সময়টা কেমন ছিলো? ফকির আলমগীর : আসলে আমরা তো স্বাধীন বাংলায় ছিলাম। একটি থমথমে অবস্থা। চারিদিকে আমরা বিজয়ের বার্তা পাচ্ছি। আমরা সেই সময় গান করেছি, শহীদুল হক খানের লেখায়, সুজেয় শ্যামের সুরে। ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ/খুশির হাওয়ায় ঐ উড়ছে উড়ছে ... উড়ছে ... উড়ছে ... বাংলার ঘরে ঘরে, মুক্তির আলোয় জ্বলছে মুক্তির আলোয় জ্বলছে ... মুক্তির আলোয় জ্বলছে..’ বঙ্গবন্ধু তখন জেলে। তখনও তিনি ফিরে আসেননি। এক একটি জায়গা মুক্ত হচ্ছে। আমরা বিজয় নিশান উড়াচ্ছি। সবাই একে একে ছুটে আসছে ঢাকার দিকে। ঢাকা মুক্ত হবে। সেই সময় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হলো। একে তো বঙ্গবন্ধু নেই, সেই জন্য একটি ব্যথা। কত স্বজনকে আমরা হারিয়েছি সেই ব্যথা। অনেক বেদনাদায়ক ছিলো দিনগুলো। এই বিজয়ের জন্য যারা অকাতরে যারা জীবন দিয়েছে, যে মা বোনেরা ইজ্জত হারিয়েছে তাঁদের আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। স্মরণ করি যে ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। ‘এখানে রাজপথে, দুরন্ত মিছিলে ছুটে আসে কেউ … রেসকোর্স ময়দানে বর্জ কণ্ঠ ভাসে বঙ্গবন্ধু যেনো কবিতার ঢেউ/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম … এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম …’ সেই যে রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ-এর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেটি জাতির জন্য গর্ব। আজকে আমরা বিভিন্ন, দল, মত থাকতে পারি কিন্তু বঙ্গবন্ধু হচ্ছে সবার উপরে। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা এই তিনটি জিনিস যিনি মানেননা তিনি প্রকৃত দেশপ্রেমিক নন। একজন শিল্পী হিসেবে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, স্বাধীনতার এই ৪৬ বছরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমাদের হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি সব কিছুকে বাদ দিয়ে আমরা যদি সেদিনের মত ঐক্যবদ্ধ না হতে পারি, এই তিনটি জিনিস কে শ্রদ্ধা না জানাতে পারি তাহলে মানুষ বলে গণ্য হবো না। একুশে টিভি অনলাইন : বঙ্গবন্ধু যখন সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি দিচ্ছেলেন আপনি তখন কোথায় ছিলেন? ফকির আলমগীর : আমি গর্ব বোধ করি যে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটি আমি অতি নিকট থেকে শুনেছি। অসহযোগ আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিতে পেরেছি। তারপর দেখেছি সেই ২৫ মার্চের কালো রাত। সেই বিভৎসতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ঢাকা শহরে। এই ঢাকায় কত ইতিহাস রচনা করেছি। ঢাকায় ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা, ১১ দফা, এ ঢাকায় মহান মুক্তিযুদ্ধ, এই ঢাকায় পাকিস্তানি হায়নাদের আত্মসমর্পণ সবকিছুই ঢাকায় সংগঠিত হয়েছে। একুশে টিভি অনলাইন : মুক্তিযুদ্ধে গণসঙ্গীতের ভূমিকা কতটুকু। আপনারা তখন কি কি প্রতিকুলতার মধ্যে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ, সাহস দিয়েছিলেন? সেই গল্পটা শুনতে চাই। ফকির আলমগীর : যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আসলো, যখন অবরুদ্ধ হলো বাংলাদেশ, যখন পথে-প্রান্তরে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, আমরা তখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে অনুপ্রাণিত হলাম। অসহযোগ আন্দোলনে আমরা সংগ্রাম করলাম। ঠিক ওই সময় আমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে দুর্গ গড়ে তুলেছিলাম। মুজিব নগর অম্রকাননে বঙ্গবন্ধুকে সর্বাধিনায়ক করে অস্থায়ি একটি সরকার গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। আপনারা জানেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটি অস্থায়ী বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার প্রস্তুতিকালীন সময় ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’- এই গানগুলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাজানো হয়। স্বাধীনতার প্রস্তুতিকালে এধরণের অসংখ্য গান গাওয়া হয়েছে। এরপর থেকে অনেক নতুন নতুন গান স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে এসেছে। অবরুদ্ধ দেশে মুক্তিযোদ্ধারা তখন কান পেতে আছে চরমপত্র শোনার জন্য, জাগরণী গান শোনার জন্য। ওই সময় নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, সুকান্তের গান যেমন ছিলো তারপর আমাদের সেই ‘একটি ফুলকে বাাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’ এই সমস্ত গান তৈরি হয়। যা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের, মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। একুশে টিভি অনলাইন : বিজয় দিবসে সবার উদ্দেশ্যে আপনার কি কিছু বলার আছে? ফকির আলমগীর : একজন স্বাধীন বাংলার শিল্পী হিসেবে আমি বলবো- হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, পরশ্রীকাতরতা নয় আসুন জাতীয় চেতনায় এক থাকবো। একুশে টিভি অনলাইন : একুশে টিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। ফকির আলমগীর : ধন্যবাদ একুশে টিভি অনলাইনকে। বিজয় দিবসের এই প্রাককালে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলবো মুক্তিযুদ্ধ নিরন্তর। এখনো শেষ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ বিভিন্ন কায়দা, বিভিন্ন আদলে এসেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এসএ/  

বুদ্ধিজীবী দিবসে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে ৭১ এ বিজয়ের প্রাক্কালে পাক হানাদারদের এ দেশীয় দোসরদের হাতে শহীদ হওয়া বুদ্ধিজীবিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন এদেশের মেধাবী সন্তানদের শেষ করে দেওয়ার জন্য তাদের এদেশীয় দোসরদের লেলিয়ে দেয়। আলবদর, আল শামস, রাজাকারবাহিনী নামের এসব স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের সূর্য সন্তানদের ধরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। বিজয় অর্জনের পর রায়েরবাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে একে একে পাওয়া যায় হাত-পা-চোখ বাঁধা দেশের খ্যাতিমান এই বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

আজ বেদনার দিন ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস সম্মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হাত-পা-চোখ বাঁধা ক্ষতবিক্ষত লাশ আজও অশ্রু ঝরায় স্বজন আর পুরো বাংলাদেশের চোখে। তাই বিনম্র এবং শ্রদ্ধায় আজ জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রামে মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় চলে আসছিল। নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে জাতিকে মেধাশূন্য করতে নিষ্ঠুর পরিকল্পনা সাজায় হানাদার বাহিনী। তাই তারা স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগিতায় একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর বহু গুণীজনকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি