ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:১৩:০৭

মেশিনে দেবেন প্লাস্টিক বর্জ্য, বেরিয়ে আসবে জ্বালানী তেল-গ্যাস

মেশিনে দেবেন প্লাস্টিক বর্জ্য, বেরিয়ে আসবে জ্বালানী তেল-গ্যাস

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৈনন্দিন জীবনে আমাদেরকে টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রো ওভেন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এয়ারকন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, ডিভিডি প্লেয়ার, সিএফএল বাল্ব, পানির বোতল, খেলনা, ব্যাগসহ প্লাস্টিকের বহু ব্যবহার করতে হচ্ছে। ব্যবহারের পর এসব পণ্যের ঠিকানা হয় ডাস্টবিনে।
ঢামেকে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন ইনস্টিটিউট

আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতালে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচশ’ বেডের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউট। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট’। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতালের পাশে রাজধানীর চানখারপুলে প্রায় দুই একর জমিতে ১৮ তলা বিশিষ্ট সুসজ্জিত ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরাতন ভবনের সঙ্গে একটি ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হবে নতুন এই ভবনের। আগামীকাল বুধবার এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটিতে একদিকে যেমন পুড়ে যাওয়া রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে তেমনি চিকিৎসক ও নার্সদের রোগ পেশাগত দক্ষতা সৃষ্টি ও গবেষণা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে চিকিৎসা খাতে যেসব উন্নয়ন হয়েছে এটা তার মধ্যে বড় সংযোজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের প্রতি আন্তরিকতার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ইনস্টিটিউটের নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিসংবলিত এই ইউনিটটিতে থাকছে ৫০০ শয্যা, ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার থাকছে। পোস্ট অপারেটিভ থিয়েটারও থাকছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে পোড়ার চিকিৎসার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়া হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে তিনি বলেন, এখানকার প্লাস্টিক সার্জনরা দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবেন। তিনি আরো বলেন, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের পাশে অবস্থিত ১২ তলা এই ইনস্টিটিউটে পোড়া রোগীরা যেমন উন্নততর সেবা পাবেন, তেমনি চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ পাবেন। ৫ শয্যার বার্ন ইউনিট ৫০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসায় পথিকৃৎ এই চিকিৎসক বলেন,  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘৩৫ বি’ বলে একটা ওয়ার্ড ছিল। সেখানেই পাঁচটা বেড বার্ন রোগীদের জন্য আলাদা করে চিকিৎসা শুরু করেছিলাম। একটা আলমিরা আর একটা চেয়ার-টেবিল ছিল। সেই আলমিরা এখনও আমার কাছে রয়েছে। আর এখন আমরা যাচ্ছি ৫০০ শয্যার ইনস্টিটিউটে। এই পাঁচ থেকে ৫০০ বেডে যাওয়ার পথচলা একটা যুদ্ধ, একটা গল্প। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটি নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরেকটি ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় দুই একর জমিতে ১৮ তলাবিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউটটিতে প্রথমে ৫২২ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরা হলেও পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯১২ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ ইনস্টিটিউটটি নির্মাণের অনুমোদন পায়। জানা গেছে, বহুতল বিশিষ্ট এ ইনস্টিটিউটটির মাটির নিচে তিনতলা বেজমেন্ট। সেখানে গাড়ি পার্কিং ও রেডিওলজিসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভাগ রাখা হচ্ছে। আকাশছোঁয়া এ ভবনটি তিনটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকবে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে করা হবে অ্যাকাডেমিক ভবন। দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁনখারপুলে ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একই বছরের ২৭ এপ্রিল বাংলদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এর নির্মাণ কাজ শুরু করে। অা অা/ এআর

রাইড শেয়ারিং-এ হ-য-ব-র-ল

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রাইড শেয়ারিং এর ধারণা। ব্যস্ততম শহরগুলোতে রোজ বাড়তে শুরু করেছে শেয়ার করা রাইডের সংখ্যা। কিন্তু এসবের মাঝেই রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, চালক এবং যাত্রীদের ত্রিমুখী অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় এখনই হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পরিণত হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। রাইড শেয়ার করা যানবাহনগুলোর যেখানে সেখানে পার্কিং, অ্যাপস বাদ দিয়ে চালক ও যাত্রীর রাইড শেয়ারিং সেবা আদান-প্রদান, ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ এমন নানান অভিযোগ দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। যত অভিযোগ রাইড শেয়ারিং নিয়ে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্ম, রাইড শেয়ার করা বাহনের চালক এবং সেবা নেওয়া যাত্রীদের প্রত্যেকের আছে প্রত্যেকের প্রতি অভিযোগ। সাধারণ গ্রাহক বা যাত্রীদের অন্যতম অভিযোগ চালকের দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে। আর প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি সবথেকে বেশি অভিযোগ রাইডের ভাড়া নিয়ে। যাত্রীরা বলছেন, রাইড শুরুর আগে যে ভাড়া প্রদর্শন করা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাইড শেষে আসা ভাড়ার সঙ্গে তার পার্থক্য বেশ বড় । চালকেরা অনেক সময় ইচ্ছে করেই স্বল্প দূরত্বের যাত্রা ঘুরপথে গিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করেন বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলো যাত্রীদের কোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক সমাধান বা প্রতিক্রিয়া দেয় না বলেও অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে চালকদের অন্যতম অভিযোগ হলো যাত্রীদের দেওয়া মূল্যছাড়ের অর্থ সমন্বয় না করা, বকেয়া এবং অফারকৃত বোনাসের অর্থ পরিশোধ না করা। একইসঙ্গে উবার, ও-ভাই এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আগে থেকে যাত্রীর সম্ভাব্য গন্তব্যস্থল প্রদর্শিত না হওয়া নিয়েও আছে অসন্তোষ। আর প্ল্যাটফর্মগুলোর মতে সব দোষ চালকদের। মাঠ পর্যায়ের পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ব নিয়ে রাইড শেয়ার করতে না পারলে তার দায়ভার চালকদেরই। অ্যাপস বাদ দিয়েই রাইড শেয়ারিং রাইড শেয়ারিং এর ধারণা অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে একটি স্মার্টফোন ভিত্তিক অ্যাপসের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অ্যাপস বাদ দিয়েই শেয়ার করা হচ্ছে রাইড। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অ্যাপস ছাড়াই রাইড নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য যাত্রীদেরকে আমন্ত্রণ জানাতে দেখা যায় চালকদের। আবার অনেক যাত্রীই অল্প কিছু অর্থের খরচ ঠেকাতে অ্যাপস ছাড়াই রাইড নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। মোটর বাইকের ক্ষেত্রে এ ধরণের প্রবণতা সবথেকে বেশি। আরও পড়ুনঃ করের আওতায় আসছে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো অনেক বাইক চালক পথচারীদের রাইড নিতে সরাসরি আমন্ত্রণ জানান। আবার অনেক গ্রাহকই বাইক চালক বলতে রাইড শেয়ার দেওয়া বাইক চালক মনে করে থাকেন। উভয় ক্ষেত্রেই বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হয় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের। আপাতদৃষ্টিতে সমস্যা মনে না হলেও, অ্যাপসবিহীন রাইড শেয়ারে চালক ও যাত্রী উভয়ের নিরাপত্তাই ঝুঁকিতে থাকে বলে মনে করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। তাই অ্যাপস ছাড়া অপরিচিতদের সাথে যাত্রা না করতে চালক ও যাত্রী উভয়ের প্রতি পরামর্শ তাদের।  সমস্যার মুহুর্তে নেই সমাধান চালক ও যাত্রীদের সাধারণ অভিযোগ যে, কোন সমস্যার মুহুর্তে কোনো সমাধান পাওয়া যায় না রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে। সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রামে পাঠাও-তে রাইড শেয়ার দিতে গিয়ে পুলিশ চৌকিতে সাথে থাকা যাত্রীর কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। তখন পাঠাও এর কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাননি ওই বাইক চালক। আরও পড়ুনঃ স্মার্ট অ্যাপে যুক্ত হলো সিএনজি-অটোরিক্সা   ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখান থেকে মুক্তি পান তিনি। আরেকটি ঘটনায় উবারের এক নারী যাত্রীকে রাইডের মাঝেই গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে উদ্যত হন চালক। নির্জন সড়কে আর কোন পরিবহণ পাবেন না জেনেও ওই নারী যাত্রীকে নেমে যেতে বলা হয়। সেসময়ও উবারের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ঐ নারী। কারণ গ্রাহক পর্যায় থেকে উবারের সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের সরাসরি কোনো নম্বর নেই। অ্যাপসের মাধ্যমে সমস্যা জানাতে হয় তবে সেখান থেকে সমাধান আসাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এভাবেই কোন বিশেষ মুহুর্তে বা প্রয়োজনে গ্রাহক ও চালকদের সমাধান দিতে পারছে না প্ল্যাটফর্মগুলো। সড়কে বাড়ছে বাহনের সংখ্যা, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং-এ যানজট ২০১৬ সালের শেষভাগে দেশে রাইড শেয়ারিং এর ধারণা চালু হওয়ার পর থেকে দিন দিন বেড়েছে এর পরিধি। তবে নগর পরিকল্পনাবীদেরা বলছেন, রাইড শেয়ারের কারণে রাজপথে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু রাইড শেয়ারিং করার জন্য দেশের অন্যান্য জেলা ও মফস্বল শহরগুলো থেকে আসতে শুরু করেছে বাইক ও ব্যক্তিগত গাড়ি। এছাড়াও অন্যান্য সময় যে মোটরবাইক বা ব্যক্তিগত গাড়ি তাদের নিজস্ব যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে গ্যারেজে থাকতো সেটি এখন রাইড শেয়ারের জন্য সড়কে থাকে। একই সাথে, শুধু এই খাতকে উদ্দেশ্য করে সড়কে নেমেছে নতুন নতুন গাড়ি ও মোটর বাইক। সব মিলিয়ে রাজপথগুলোকে সহ্য করতে হচ্ছে যানবাহনের বাড়তি চাপ।   আরও পড়ুনঃ ওভাই’তে একের ভিতর পাঁচ এর পাশাপাশি যত্রতত্র পার্কিং, রাইডের জন্য সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অপেক্ষমান থাকা এসব কারণে বাড়ছে যানজট। রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্ট ঝোটন শিকদার বলেন, “এই গোলচত্বর সবসময়ই খুব ব্যস্ত থাকে। এরমধ্যে মেট্রো রেলের কাজ চলছে। কিন্তু গোলচত্বরের চার মাথায়ই দেখি রাইড দেওয়া বাইক দাঁড়িয়ে থাকতে। এতে করে যানজট আরও বাড়ে। রাইড শেয়ার করে বলে আমরা হার্ডলাইনে যাই না। কিন্তু সারাদিন কতবার বলে পারা যায় বলেন!” সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোন ধরণের মন্তব্য করেনি পাঠাও, উবার এবং সহজের মতো শীর্ষস্থানীয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো। আশাজনক কোন উত্তর দিতে পারেনি দেশের পরিবহণখাতের অভিভাবক বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ। সংস্থাটির পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রাব্বানী বলেন, “রাইড শেয়ারিং খাতে বেশ কিছু অব্যবস্থাপনা এখনও আছে। এগুলো নিয়ে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত আলাপ আলোচনা করছি। তবে এটা একটা বহুমুখী সমস্যা। এর সাথে পুলিশও জড়িত। সবাইকে নিয়ে একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করছি আমরা”। আরও পড়ুনঃ রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ   / এআর /    

প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর প্রশাসন

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গুজব রোধে কঠোর হচ্ছে সরকার। এছাড়া পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের স্বার্থে নানামুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ডিএমপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মিটিং করেছে সরকার।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীসহ সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিবেন। সরকারি ৩৬টি মেডিকেল কলেজে ৪ হাজার ৬৮টি ও বেসরকারি ৬৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৫ হাজার ৭৫১টি। আসন্ন মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে ও ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষাকেন্দ্র মোবাইল ক্যালকুলেটর, ঘড়ি মেটালিক কলমসহ যে কোনও ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করে পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকগণ কেন্দ্রের ভেতরে ও পাশে অবস্থান না করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানান, সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে মোবাইল কোর্ট। পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের জন্য কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। কোনো অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার পরে কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কেন্দ্র ইনচার্জ ব্যতীত কেউ মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না। কেন্দ্র ইনচার্জকে দেওয়া হবে অ্যানালগ মোবাইলফোন। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সকল পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করা হবে। মেয়েদের তল্লাশির ক্ষেত্রে থাকবে আলাদা তল্লাশি বুথ। তল্লাশির কাজে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ। এ বিষয় জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যজনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশীদ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনেকেই সরকারকে বিব্রত করতে চায়। বিভিন্ন গুজব ছাড়াতেও চায়।  তাই মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ ও সুন্দর করতে বন্ধপরিকর। এই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস ও গুজব রুখতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ করতে হবে। ওদিন পরীক্ষা ১০টার সময় গুরু হওয়ার কথা থাকলে অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাড়ে ৯ টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, গতবছর ২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হলেও এবার ১৯টি কেন্দ্রে  (গাজীপুর কেন্দ্র ছাড়া) পরীক্ষা হবে। এ বিষয় জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আসন্ন মেডিক্যাল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও গুজব রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় কোনোভাবেই যেন প্রশ্নফাঁস না হয় সেজন্য ডিএমপির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।  বৈঠক শেষে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটবে না। এবিষয় জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, সরকারি–বেসরকারি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা দেখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন ডিএমপি। এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো হাত নেই। আর আপনি জানেন ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হয়েছে।। তাই আশা করি মেডিক্যাল পরীক্ষায় কোন ধরনের প্রশ্নফাঁস হবে না।  টিআর/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি