ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৩২:৩৩

মুক্তিযুদ্ধের ‘শেষ শহীদ’ তসলিম উদ্দিন

স্মৃতিচারণ

মুক্তিযুদ্ধের ‘শেষ শহীদ’ তসলিম উদ্দিন

পড়ন্ত বিকেল। তবে বিকেলটি অন্য দিনের মতো শান্ত-নীরব  ও সুনসান নয়। উত্তাল তরঙ্গের মতো একের পর এক মিছিলের ঢেউ আছড়ে পড়ছে তসলিমদের বাড়িতে। এ উত্তাল তরঙ্গ দেখতে বাড়ির সামনে ঝড়ো হয়েছে তসলিমের বাবা-মা, ভাই-বোনেরা। আর এরই মাঝে এক বিশাল মিছিল তসলিমদের বাড়ি অতিক্রম করে। উত্তাল মিছিলের গর্জনে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে সেদিন। মিছিলের সামনে কফিন । কফিনের পেছনে হাজারো অগ্নিগর্ভা মানুষের স্রোত। সেই স্রোতের সামনের কফিনে মোড়ানো মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ ফারুক ইকবাল। রক্তে ভেজা ফারুকের নিথর দেহ নিয়ে বাঙ্গালি মুক্তিকামী মজলুম জনতার চোখে আগুনের হলকা। এই মিছিল কোনো স্বাভাবিক মিছিল নয়। পর্বতেভেদী সেই মিছিলের তেজ তসলিমের শিরায় শিরায় আগুন ঢেলে দিয়েছে। আর সেই আগুনে ঘি হয়ে হয়ে তসলিমের হৃদয়ে বিদ্রোহের আগুন দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছে এলাকার তুমুল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আবুজর গিফারী কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস ফারুক ইকবালের মৃতদেহ।  তবে তখনো সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র তসলিম মাত্র তের বছরের শিশু। বাবা ছিদ্দিকুর রহমানের বড় ছেলে তসলিম। মিছিলের তেজে তসলিমের হৃদয়ে টান পড়ে। এরপরই মাকে বলল,  ‘দেখ মা, ফারুক ভাই কত ভাগ্যবান! হাজার হাজার জনতা তাঁর লাশ নিয়ে মিছিল করছে! তাঁর মৃত্যু নতুন ইতিহাসের সূচনা করছে!’ মা ধমক দেয়, "চুপ কর! কী সব অলুক্ষণে কথা কস!" মায়ের ধমকে তসলিম চুপসে যায়। ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে ঢাকা শহরে নেমে আসে বর্বরতা।  দেশে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। সেই বর্বরতার আরেক স্বাক্ষী তসলিম। রাতে ঢাকার চারপাশে যে আগুনে ফুলকি তসলিম দেখেছে সেই আগুনের ফুলকি তাঁর হৃদয়ে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির জন্ম দেয় ততক্ষণে। তাই তসলিমের মধ্যে বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ করেন মা-বাবা। সে কারো সঙ্গে কথা বলেনা, মেশে না।  আগের সেই চঞ্চলতা নেই; খাওয়া দাওয়াও তেমন একটা করে না। বাবা - মা জানতে চায়, কী হয়েছে? রা নেই তসলিমের মুখে। হঠাৎ একদিন তসলিমকে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারিখ ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। তবে মার্চ কিংবা এপ্রিলের কোন একটি সময় তসলিম  বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কয়েকদিন পর নিশ্চিত হওয়া যায়, একই এলাকার বাচ্চু, খোকন, তসলিমকে যুদ্ধে পাঠাতে সহযোগিতা করে তৎকালীন আলাউদ্দিন সুইট- এর ম্যানেজার আজিম। বেশ কয়েকমাস পরে তসলিম ফেরে আপন ভুবনে। মাকে এক নজর দেখতে তসলিম বাড়ি ফেরত আসে। তবে রাজাকার আর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা তার খোঁজে তাদের বাড়িতে আসছে এমন খবরে গাঁয়ে চাঁদর জড়িয়ে আবারও রওয়ানা হয় রণাঙ্গনের দিকে।  তসলিম বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরই এক সকালে তিনটি জলপাই রঙের জীপ এসে দাঁড়ায় আমাদের উঠোনে। তাদের ভারী বুটের আওয়াজে আশে পাশে ভীতি সঞ্চার হয়। লেঃ কর্ণেল পদধারী একজন পাকিস্তানি অফিসারের নেতৃত্বে অনেকগুলো পাক সৈন্য আমাদের বাড়িটি ঘেরাও করে বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কিন্তু বাবা সেদিন তাদেরকে বলেছিল, ‘ছেলেকে পড়াশোনার জন্য বকাবকি করেছিলাম। তাই ছেলে রাগ করে বাড়ি ছেড়েছে। এখন কোথায় আছে জানিনা।’ এভাবে আরও তিনবার আমাদের বাড়িতে আসে সৈনিকরা। তবে এবার ওরা একা আসতো না, সঙ্গে নিয়ে আসতেন রাজাকার আর আল-বদর সদস্যদের। তবে চতুর্থ দফায় রাজাকার ও আর্মিরা মিলে বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। সঙ্গে আরেকজনকে তুলে নিয়ে যায় তারা। তিনি পরবর্তী বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান সুলতান মাহমুদ - এর বাবা। তবে কয়েকদিন পর তাদেরকে ছেড়ে দেয় আর্মিরা। এরপর আরও তিনবার আমাদের বাড়িতে হানা দেয় পাক আর্মিরা। ভাইয়ের বিষয়ে খোঁজ দিতে বাবাকে ভয় দেখান, কিন্তু বাবা তার কথায় অনঢ়। এরইমধ্যে তসলিমদের দলটি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের আটকাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ আসে। এর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল মিলে হানাদার বাহিনীকে ঢাকার একটি এলাকায় ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করে। এই সুবাদে তসলিম মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সম্ভবত দিনটি ছিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। তসলিম গাঁয়ে মাথায় চাদর মুড়ি দিয়ে বাড়ীতে হাজির হয়। বাড়ীর সবাই মহাখুশী। মা অনেকদিন পর ছেলেকে পেয়ে চুলায় রান্না বসান। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় এক কিশোর দৌড়ে এসে খবর দেয় কয়েকজন রাজাকার পথ দেখিয়ে পাঞ্জাবী সৈন্যদের একটি দলকে এদিকে নিয়ে আসছে। এমন খবরে তসলিম মাথায় চাদর মুড়িয়ে পিছনের দরজা দিয়ে পালায়। পাঞ্জাবী সৈন্যরা আসে। সব কিছু খুঁজে দেখে। কিন্তু তাকে আর পেল না। তখনও তসলিমরা পাকিস্তানিদের রুখে দিতে ঢাকায় তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। একসময় লড়াই থেমে যায়। নতুন ভোর নেমে আসে। তখন ১৬ ডিসেম্বর; দেশ স্বাধীন। জনতার বিজয়ের উল্লাস। ছেলে তসলিম এর বিজয় উদযাপনে তার বাবা সিদ্দিক বেশ কয়েকটি ট্রাক সাজান । এরপর ১৭ ডিসেম্বর তসলিমদের বরণ করতে এলাকার ছেলে-মেয়েরা ট্রাকে ট্রাকে বিজয়ের স্লোগান তুলছে। বাবা তার ছেলের জন্য অপেক্ষা করছে। একে একে ফিরে আসেন তসলিমদের দলের প্রধান মোশাররফসহ আরও অনেকে। একেক জন মুক্তিযোদ্ধা ফিরছেন তো বাবার চোখ খুশিতে ঝলঝল করছে। তবে বাবার কাছে আর ফেরা হলো না তসলিমের। শুধু তসলিমই নয়, তিনিসহ আর ১০ জন যোদ্ধাকে ঢাকার অদূরে একটি জায়গা থেকে তাদের মৃতদেহ পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা তসলিমকে সমাহিত করা হয় মৌচাক মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ইকবালের পাশে। যে ফারুক ইকবালের মৃত্যু দেখে নবম শ্রেণী পড়ুয়া কিশোর তসলিম মৃত্যুর স্বপ্ন দেখেছিলেন। এভাবেই তসলিমরা হারিয়ে যান। তবে দেশের জন্য রেখে গেছেন লাল-সবুজের এক পতাকা। শ্রুতিলিখন : আলী আদনান। এমজে/  এআর    
বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড এবং ডাক বিভাগের ইস্যুকৃত একটি স্মারকগ্রন্থ অবমুক্ত করেন। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই ডাকটিকিট, খাম ও স্মারকগ্রন্থের অবমুক্ত করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার ও ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল। তথ্যসূত্র: বাসস। এসএইচ/  

ভিক্ষা বেশি পাওয়ার আশায় স্মৃতিসৌধে রাব্বী

ছবির পঙ্গু শিশুটির বয়স আট বছর। সাভারের আলোকদিতে থাকে। নাম রাব্বী। ওর বয়স যখন দুই বা তিন বছর, তখন রাব্বীর বাবা স্ত্রী-সন্তান রেখে পালিয়ে যান। রাব্বী তার মায়ের কাছে শুনেছে, তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেছে। রাব্বীর বড় ভাইয়ের দুই পা ও তার এক পা মোচড়ানো। মা বিড়ি বাঁধাইয়ের চাকরি করেন। তবে এখন বিড়ির ব্যবসা ভালো নয়। তাই ছেলেদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে আয়ের ওপর সংসার চলে। রাব্বী দাঁড়াতে পারে না। সে তার মোচড়ানো পা দিয়ে ভিক্ষার ঝুলিকে ঠেলে ঠেলে এগিয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলাম, আজ স্মৃতিসৌধে এত লোকের ভিড় কেন? রাব্বী বলল, আইজ দ্যাশ স্বাধীন হইছিল। পাল্টা প্রশ্ন করলাম, স্বাধীনতা কী? রাব্বী এবার ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকল। তাকে বললাম, আজ এখানে কেন এসেছ? একটু সময় ভেবে রাব্বী বলল, আইজ এখানে আইলে বেশি ট্যাকা পাওন যাইব, তাই। রাব্বীর মতো এখনও অনেকেই স্বাধীনতা মনে কী তা জানে না। অথচ স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের কতই না ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। টানা ৯ মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ বাঙালি শহীদ বরণ করেছেন। তাই সবাইকেই স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে।   /ডিডি/  

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মিষ্টি পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে অবস্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফুল, ফল এবং মিষ্টি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে তার সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর এবং সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস মিষ্টি ও এই উপহার সামগ্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবসে তাদের স্মরণ রাখার জন্য এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তারা মোহাম্মদপুরে ১৩তলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ (আবাসিক) এবং বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণসহ তাদের পুনর্বাসনে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করেন। /ডিডি/ এআর    

শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির শ্রদ্ধা

লাল-সবুজের বিজয় গাথা আজ। এবার বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকী। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বধীনতা যুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে শহীদ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তারা শ্রদ্ধা জানান তারা। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে পুলিশ পরিবারের পক্ষ থেকে আইজিপি সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ও পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আছাদুজ্জামান মিয়া এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পরে পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নেমেছে। শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্মরণ করছে তার বীর সন্তানদের। একে// এআর

আ. লীগই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে : মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগই কেবল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সামনে বিজয় দিবসের র‌্যালি উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মতিয়া চৌধুরী।  দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ যে উন্নয়ন সারাদেশে হচ্ছে, বিএনপি থাকলে এর কিছুই হতো না। স্কুল-কলেজ, ব্রিজ, রাস্তাঘাটসহ সব দিকেই দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারবেন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।’ প্রধানমন্ত্রীর মমত্ববোধের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকে মিয়ানমারের ১০ লাখ লোককে পরম মমতায় বাংলাদেশে স্থান দিয়েছেন। সারাবিশ্বের মানুষ তার মানবিকতা দেখেছেন।’ আজ বিকাল সাড়ে তিনটায় বিজয় দিবসের র‌্যালিটি উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। র‌্যালিতে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেন। /ডিডি/ এআর

সামরিক জাদুঘরে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মতো দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে রাজধানীর বিজয় স্মরণী সামরিক জাদুঘরে। সকাল থেকে লোকজনের ভিড় শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার চেতনা ও দেশপ্রেম আরও বেশি উজ্জীবিত করতে বিজয় স্মরণীর সামরিক জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস দেখতে ভিড় করে দর্শনার্থীরা। নগরবাসীর অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জন সমাগমও। স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাবার কাঁধে চড়ে বেড়াতে এসেছে ৬ বছর বয়সের আকরাম। চোখে-মুখে যেনো আনন্দের ছোয়া! জানতে চাইলে সে বলে, আমাদের দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাঁদের বিষয় জানতে এখানে এসেছি। অনেক কিছু দেখেছি। ভীষণ মজা লাগছে। এদিকে, রাশেদ ও শিরিন দম্পতি তাদের একমাত্র ছেলে আবিরকে নিয়ে এখানে এসেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে এ দম্পতি বলেন, ‘দুজনই চাকরি করি। তাই ঠিক সেভাবে সময় পাইনা। বাচ্চাকে নিয়ে ঘোরাও হয় না। আজ সুযোগ হয়েছে তাই সন্তানকে নিয়ে চলে এসেছি এখানে। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এদেশ স্বাধীন হয়েছে তাদের বিষয়ে সন্তানকে জানাতে এসেছি। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে অভিভাবকের শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মনে করেন তারা। এবিষয়ে জানতে চাইলে মিজান নামের এক সেনাবাহিনীর সদস্য বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের হয়েছেন সপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য কাজ করছে সরকার। জাদুঘরের নতুন ভবন নির্মাণ করছে। আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের আরও অনেক ইতিহাস যোগ করা হবে। এছাড়া বাহিরে যে সকল জিনিস দেখতে পারছেন এগুলো নতুন ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। এগুলোকে এ জাদুঘরে ভিতরে স্থাপন করা হবে। সকাল থেকে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি, পেশার মানুষে যেনো কানায় কানায় ভরে উঠেছে সাময়িক জাদুঘর। এদের অনেকেই এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। কেউবা এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে। আবার কেউ এসেছেন প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে সামরিক জাদুঘরে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে ২০০৪ সালে সামরিক জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের ব্যাজ, পোশাক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, ক্যানন, এন্টি এয়ারক্রাফ্ট গান এবং যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহন জাদুঘরটিতে রক্ষিত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন যানবাহন এবং অস্ত্রও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘরের সামনে মাঠে রাখা ২৬টি বিভিন্ন মডেলের ট্যাংকসহ সাঁজোয়া যানও দেখতে পাওয়া যাবে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই জাদুঘর ঘুরে দেখতে কোনো প্রবেশমূল্য লাগবে না। সপ্তাহের বুধবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে সামরিক জাদুঘর। শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে এবং অন্যান্য দিন সকাল ১০টা থেকে প্রবেশ করা যায়। মূল ভবনের দোতলায় রয়েছে ৮টি গ্যালারি। প্রথম গ্যালারিতে হাত-কুঠার, তীর, ধনুকসহ পুরনো যুগের অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। দ্বিতীয় গ্যালারিতে রয়েছে ডিবিবিএল গান, এসবিবিএল গান, বিশেষ ব্যক্তিবর্গের ব্যবহৃত হাতিয়ারসহ যুদ্ধাস্ত্র। তৃতীয় গ্যালারিতে এলএমজি, এসএমজিসহ মাঝারি অস্ত্র। চতুর্থ গ্যালারিতে রয়েছে মর্টার, স্প্যালো, এইচএমজিসহ ভারী অস্ত্র। পঞ্চম গ্যালারিতে সর্বসাধারণের প্রদর্শিত হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর শীত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক পরিচ্ছদ, ব্যাজ ও ফিতা। ষষ্ঠ গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল, সেক্টর কমান্ডারদের পোর্ট্রেট, কিছু ব্যবহার্য সামগ্রী। সপ্তম গ্যালারির নাম দেয়া হয়েছে ‘বিজয় গ্যালারি’। এতে সশস্ত্র বাহিনীর যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন তাদের পোর্ট্রেট ও সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অষ্টম গ্যালারিতে রয়েছে সাবেক সব সেনাপ্রধানের তৈলচিত্র, বীরশ্রেষ্ঠ ও বীরপ্রতীকদের নামের তালিকা। ভবনের নিচতলায় প্রদর্শিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী যে গাড়িটি নিয়ে বিভিন্ন যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন সেই জিপ গাড়িটি। এর পাশাপাশি রয়েছে গোলন্দাজ বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত ১৪.৫ মি. মি. কোয়াড বিমান বিধ্বংসী কামান, ১২০ মি. মি. মর্টার ব্রান্ডেট এ এম ৫০, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর ব্যবহৃত ৬ পাউন্ডার ট্যাংক বিধ্বংসী কামান, ১০৬ মি. মি. রিকয়েললেস রাইফেল। আরও আছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে উদ্ধারকৃত স্টাফ কার মার্সিডিজ বেঞ্জ ও সিলিন্ডার ২০০০ সি সি।   //এমআর

জহির রায়হানকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে : অনল

বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক এবং ঔপন্যাসিক জহির রায়হান। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ২১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। দেশ স্বাধীন হলে ফিরে আসেন জহির রায়হান। দেশ স্বাধীন হলেও মিরপুর ছিল বিহারী অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে বিহারীরা ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানি সৈন্যরা বাস করতো। তাদের এদেশ থেকে হটাতে জহির রায়হানসহ কিছু বাংলাদেশি সেনারা সেখানে যান। বিহারী অধ্যুষিত এলাকায় পৌঁছালে তারা গুলি চালায়। তাদের গুলিতে শহীদ হন জহির রায়হান। কথাগুলো বলছিলেন শহীদ জহির রায়হানের ছেলে অনল রায়হান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অনল রায়হান আরও বলেন, তার বাবা নিখোঁজ বা হারিয়ে যাননি। ছদ্মবেশী পাকিস্তানি সেনারা তাকে শহীদ করেন। অনেকেই তার সর্ম্পকে জানে না। যে কারণ দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে জহির রায়হানকে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার সঠিক ইতিহাস জানতে কাজ সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া পাঠ্যবইয়ে নতুন করে জহির রায়হানের সঠিক ইতিহাস সংযুক্ত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে তিনি দেশের জন্য কি করেছেন। তুলে ধরতে হবে বিশ্ববাসীর কাছে। শুধু বুদ্ধিজীবী দিবস কিংবা বিজয় দিবস আসলেই এদেরকে স্মরণ করলেই চলবে না। বছরজুড়ে তাদেরকে নিয়ে রিসার্স করতে হবে। তাদের আর্দশকে হৃদয়ে লালন করতে হবে। কিন্তু এই কাজগুলো করতে সরকার, রাষ্ট্র এমন কি আমাদের দেশের সুশীল সমাজ আজ ব্যর্থ। বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে সরকার কি ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে অনল রায়হান বলেন, সরকার পাঠ্যবইতে নতুন করে জহির রায়হান ইতিহাস সংযুক্ত করতে পারে। এছাড়া যারা দেশে রক্ষায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করতে পারে। বুদ্ধিজীবীদেব নিয়ে গবেষণামুলক কিছু একটা করতে পারে। এ বিষয়গুলোতে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু সরকার নয় বেসরকারি সংস্থাগুলোকেই একযোগ কাজ করতে হবে। এ কাজগুলো করতে আমরা খুবই ব্যর্থ, যে শুধু বুদ্ধিজীবী দিবস কিংবা বিজয় দিবস আসলে আমরা সভা, সেমিনার, টক শো করি বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে। দিবস শেষ জহির রায়হানসহ বুদ্ধিজীবীর ‍নিয়ে আলোচনা শেষ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধার সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে। বাবাকে নিয়ে স্মৃতির বিষয়ে অনল রায়হান বলেন, মিরপুর ১২ নম্বরের ডি ব্লকের যাওয়ার পথেই পড়ে মুসলিম বাজার। পাশেই একটা মসজিদ। ১৯৯৯ সালে মসজিদটা নতুন করে নির্মাণ করতে গিয়ে হঠাৎ করেই এক্সিডেন্টলি শ্রমিকরা আবিষ্কার করে মাটির সামান্য নিচে কংক্রিটের স্লাব দিয়ে মুড়ে দেওয়া একটা কুয়ো। যার মুখটা ভাঙ্গতেই পাওয়া যায় তিনটা খুলি ও বেশ কিছু কাপড় চোপড়। ভয় পেয়ে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে সে রাতেই মসজিদ কমিটির সভাপতির হস্তক্ষেপে মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ট্রাকে করে মাটি ফেলে জায়গাটা সমান করে দেওয়া হয়। কিন্তু সত্য আর কতদিন চাপা থাকে। আমি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে নিজে শনাক্ত দেখি আমার বাবার পোশাক, হাড়, খুলি, স্লাবটা খোঁড়ার পরেই বেরিয়ে এসেছিল। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বিহারী ও পাকিস্তানিদের চালানো সেই হত্যাকাণ্ডে জীবিত একমাত্র সেনা সদস্য আমির হোসেনকে, যিনি সাক্ষ্য দেন, কালো প্যান্ট, সাদা জামা ও হলুদ সোয়েটার পরা যে সাংবাদিক ছিলেন তাদের সঙ্গে, চোখের সামনে তাকে প্রথমে ব্রাশফায়ার ও পরে কোপাতে কোপাতে বধ্যভূমির দিকে নিয়ে যায় বিহারীরা। এমনকি সেই যে রাতারাতি মাটি ফেলে পাকিস্তানী-বিহারী ভাইদের পৈশাচিক গণহত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে চেয়েছিল মসজিদ কমিটি। ২০০১ সালে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুর্নোদ্যমে তড়িঘড়ি করে বধ্যভূমির পুরো জায়গাটি সমেত মুসলিম বাজারের একটা বিশাল অংশজুড়ে মসজিদ-মাদ্রাসা বানিয়ে ফেলে তারা। উদ্দেশ্য ধর্মভীরু বাঙালির ধর্মানূভূতি কাজে লাগিয়ে পূর্বপুরুষের বর্বরতার চিহ্ন মুছে ফেলা। শহীদদের স্মরণে কোন স্মৃতিস্তম্ভ তো দূরে থাক, তারা যত্নের সঙ্গে পরিষ্কার করে ফেলে সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম প্রমাণগুলোও। শেষ পর্যন্ত আর কোনো উপায়ন্তর না দেখে মসজিদের ভেতরের তিনটা পিলারের রং কালো করে দেওয়া হয় রাজমিস্ত্রিকে ধরে। বধ্যভূমির সব নাম-নিশানা মুছে ফেললেও কেউ যেন কিছু না বলতে পারে,সেটা নিশ্চিত করতে মসজিদের নাম দেওয়া হয়, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জামে মসজিদ। আজকে সবাই শুধু জানে এইখানে একটা মসজিদ আছে, কিন্তু এই মসজিদটা যে ২০-২৫ হাজার নিরপরাধ মানুষের বধ্যভূমি, সেটা কেউ জানে না। জানার কোনো উপায় নাই। এমনকি কোনো চিহ্নও রাখেনি। আর শহীদদের দেহাবশেষে ভরে থাকা মসজিদের পেছনের সেই কূপ আর ডোবার উপর এখন মসজিদের টয়লেট। বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক, ঔপন্যাসিকের দেহাবশেষ যেখানে পড়ে ছিল, সেই জায়গাটার ওপর প্রতিদিন মলমূত্র ত্যাগ করে যায় হাজারো আদম সন্তান। আমি সরকারের কাছে আবেদন করছি যে সরকার যে এই স্থানটিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে। আমি কিন্তু কোনো স্মৃতির মিনার করতে বলছি না। প্রসঙ্গত, জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কলকাতা হতে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্থানান্তরিত হন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি করেন। জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করেন। ১৯৫০ সালে তিনি যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পন ঘটে ১৯৫৭ সালে, জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। তিনি সালাউদ্দীনের ছবি যে নদী মরুপথেতেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে এ দেশ তোমার আমার এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান; জহির এ ছবির নামসঙ্গীত রচনা করেছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কখনো আসেনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেন। কলকাতায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়ার বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিত্রটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ ভূয়সী প্রশংসা করেন। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।   টিআর / এআর  

‘জিয়াকে সেনাবাহিনীতে রাখাই ছিল ভুল’

স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একটা কঠিন দু:সময় পাড়ি দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সাত কোটি মানুষের খাদ্য-বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রায় ধ্বংস হওয়া একটা দেশকে পুনর্গঠন করা। এরইমধ্যে বিভীষিকা হয়ে আসে কালো রাত্রি ১৫ আগস্ট। এসময় জিয়াউর রহমান এবং অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের কী ভূমিকা ছিল তা নিয়ে কথা বলেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম শফিউল্লাহ। তিনি মনে করেন, জিয়াকে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে সেনবাহিনীতে রাখাই ছিলো ভুল সিদ্ধান্ত। সোলায়মান হোসেন শাওনের নেওয়া তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ শেষ পর্ব। ইটিভি অনলাইনঃ স্বাধীনতা পরবর্তী প্রসঙ্গে আসি। আপনি দেশের প্রথম সেনাবাহিনী প্রধান। সে সময়ের অবস্থা কেমন ছিল? কে এম শফিউল্লাহঃ সত্যি কথা বলতে সে সময় আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। সদ্য স্বাধীন হওয়া এক দেশে আমি তরুণ সেনা কর্মকর্তা। এত বড় দায়িত্ব নিতে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমি জেনারেল ওসমানী স্যারের কাছে গেলাম। আমি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে আপত্তি করায় তিনি বললেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে তর্ক করছ? যাও বেরোও।’ এরপর গেলাম কর্নেল রব স্যারের কাছে। তিনি বললেন, ‘সিদ্ধান্ত আরও উপরের।’ তখন ওসমানী স্যারের এডিসি ছিলেন শেখ কামাল। তিনি বললেন, রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকেছেন। আমি গেলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। তিনি বললেন, ‘তুমি নাকি সেনাপ্রধান হতে চাও না?” আমি বললাম, ‘চাইনি তা বলি নি। তবে এখন আমার সময় হয়নি। সময় হলে হব।’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘যাও ওসমানীর কাছ থেকে দায়িত্ব নাও’। তখন আমি ওসমানী স্যারের কাছ থেকে দায়িত্ব নিই। আর তাকে বলি, ‘স্যার আমি ভিকটিমের শিকার’। আমি মূলত সেসময় প্রস্তুতই ছিলাম না। আমাকে জোর করে ওই পদে বসানো হয়। ইটিভি অনলাইনঃ সে সময় আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ কী ছিল? কে এম শফিউল্লাহঃ সে সময় এমনিতে কোনও চ্যালেঞ্জ ছিল না। তারপরেও যদি বলতে হয়, সে সময় আমাদের শক্তিশালী কোন সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ ছিল না। এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমিই তখন সামরিক বাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দা বিভাগ চালু করি। তখন এর নাম ছিল ডিএফআই। ডিরেক্টরেট অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স। এটাই এখনকার ডিজিএফআই। তবে অতটা শক্তিশালী ছিল না সংস্থাটি সেসময়ও। ইটিভি অনলাইনঃ অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে আপনিই কেন সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হলেন? জেনারেল জিয়াও তো তখন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন? কে এম শফিউল্লাহ : আসলে আমার প্রশ্নও সেটাই। আমিই কেন? মজার কথা হচ্ছে, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে বঙ্গবন্ধু আমার চেহারাও দেখেননি। তাহলে আমিই কেন? আমি নিজেও উত্তর জানিনা। হয়তো মুক্তিযুদ্ধে আমার বীরত্বের জন্য এমনটা করেছেন। আর জেনারেল জিয়া প্রসঙ্গে যদি বলি, তিনি আর আমি একই ব্যাচের ছিলাম। পাক আর্মিতে তিনি শুধু সিরিয়ালে আমার ১ নম্বর আগে ছিলেন। সে হিসেবে তিনি আমার সিনিয়রই। তাকে কেন সেনাবাহিনী প্রধান করা হয়নি তার সঠিক কারণ আমি জানি না। তবে আমি মনে করি, তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্যই তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই। তাকে যুদ্ধকালীন সময় থেকেই পছন্দ করা হচ্ছিল না। ইটিভি অনলাইন : কেন পছন্দ করা হচ্ছিল না? কে এম শফিউল্লাহ : যুদ্ধকালীন কিছু কর্মকাণ্ডে তিনি বিতর্ক তৈরি করেন। তাকে যুদ্ধের ময়দানে কয়জন দেখেছে বলতে পারবেন? এছাড়া তিনি জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে যান। তার কর্মকাণ্ডের জন্যই মূলত তাকে সেসময়ের রাজনীতিকেরা পছন্দ করছিলেন না। মূলত জিয়াকে সেনাবাহিনীতে রাখাই ছিল একটা ভুল সিদ্ধান্ত। ইটিভি অনলাইন : আপনাকে বঙ্গবন্ধু নিজে সেনাবাহিনী প্রধান করেন। সেই তাকেই আপনি রক্ষা করতে পারেননি। এরজন্য আপনাকে নিয়ে অনেক বিতর্কও হয়। কীভাবে দেখেন পুরো বিষয়টিকে? কে এম শফিউল্লাহ : আমি আগেই বলেছি, আমি ‘ভিক্টিমাইজড’। আমি ইতিহাসের শিকার। আমি সেনাপ্রধান হলেও আমার কিন্তু সরাসরি কোনো ক্ষমতা ছিল না। যে আমি নিজে ডিএফআই তৈরি করলাম ১৯৭৪ সাল থেকে সেই সংস্থাকে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যুক্ত করা হল। আমার কাছে তখন ডিএফআই প্রধান রিপোর্ট করেন না। আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্যও ছিল না। আমি তাহলে কী করব? সবাই সব কিছু জানত শুধু আমি জানতাম না। তারপরেও যদি বলি, সে রাতের (১৫ আগস্ট) ঘটনার খবর জানার পর থেকে টানা ৩দিন আমি এক কাপড়ে ছিলাম। ৪৬তম ব্রিগেড সব থেকে কাছে ছিল। এর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফাত জামিলকে আমি নির্দেশ দিয়েছি প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ট্রুপস পাঠাতে। ১, ২ আর ৪ নং বেঙ্গল রেজিমেন্টকে পাঠাতে নির্দেশ দিই। প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে এবং বিদ্রোহী সেনাদের দমন করতে বলি। কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত আমার নির্দেশ পালন করেনি । কেন নির্দেশ পালন করেনি তা জানি না। সে আমার নির্দেশ পালন করলে হয়তো এমন হত না। ইটিভি অনলাইনঃ সে রাতের ঘটনা যদি একটু বলেন... কে এম শফিউল্লাহঃ সে রাতে (১৫ আগস্ট) আমার ব্যাটম্যান ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। দেখি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কর্ণেল সালাহউদ্দীন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি শহরের দিকে ট্রুপস পাঠিয়েছি কী না? প্রশ্নটা শুনেই আমার শিরদাড়া দিয়ে একটা হিম স্রোত বয়ে গেল। আমি বললাম, “না। আমি পাঠাইনি”। আমি তখন আমার লাল টেলিফোন দিয়ে প্রেসিডেন্টকে ফোন করি। কিন্তু ব্যস্ত পাই। এরপর শাফাত জামিলকে ফোন করি। সেটাও ব্যস্ত পাই। এরপর কর্ণেল জামিলকে ফোন করি। জামিল তখন ডিএফআই’তে ছিল। সে আমাকে জানায়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট তাকে ৩২নম্বরে যেতে বলেন। উর্দি পড়া কিছু লোক তার বাসায় আক্রমণ করে। আমি কর্ণেলকে জামিলকে বলি- প্রেসিডেন্টকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে। কিন্তু সে নিজেও নির্দেশ পালন করতে গিয়ে নিহত হয়। যাই হোক, আমি এরপর জেনারেল শাফাত জামিলকে লাইনে পাই। রাষ্ট্রপতির বাসার দিকে ট্রুপস কেন যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, সে কিছুই জানে না। তখন তাকে আমি ওই নির্দেশ দেই। এরপর আমার কথা হয় জিয়া আর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে। জিয়া অনেকটা অবহেলা করে সব শুনে আমাকে বলেন, “তাই নাকি”? মনে হচ্ছিল সে আমার কথা বিশ্বাসই করছিল না। যাই হোক, এরপর তারা আমার বাসায় আসলে তাদেরকে নিয়ে আমি আমার কার্যালয়ে যাই। ইতোমধ্যে তারা আমার বাসায় আসার আগেই বঙ্গবন্ধুকে আমি টেলিফোনে পাই। সঠিক সময়টা মনে না থাকলেও অবশ্যই তা ভোর ৬টার আগে। তিনি বলেন, ‘ওরা মনে হয় কামালকে মেরে ফেলবে। তোমার সৈন্য পাঠাও তাড়াতাড়ি’। আমি বললাম, ‘আমি কিছু একটা করছি। আপনি কী কোনভাবে বাসার বাইরে যেতে পারেন?’ আর তার কোন উত্তর পাইনি। আফসোস! সেনাবাহিনী প্রধান হয়েও আমার কাছে কোনো সৈন্য ছিল না। এর কিছুক্ষণ পর আমার এডিসি জানায় রাষ্ট্রপতি নিহত হয়েছেন। ইটিভি অনলাইন : আপনি বলছিলেন এই ঘটনার কথা আগে থেকেই সবাই জানত। শুধু আপনি জানতেন না। কারা কী জানত? কে এম শফিউল্লাহ : ১৭ আগস্ট রেডিও স্টেশনে রশীদের সঙ্গে আমার কথা হয়। তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম এই ঘটনা কে কে জানত? সে বলল, সিনিয়র সবাই জানত। শুধু আপনি জানতেন না। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে কেন বললে না? সে বলল, বললে আপনি রাজি হতেন না। পরে জানতে পারলাম, খালেদ মোশাররফের কাছে পরিকল্পনার অংশ নিয়ে ওরা (খুনিরা) আলোচনা করে। খালেদ মোশাররফ তাদের ধমকে বের করে দেন। তার অফিস থেকে আমার অফিস মাত্র ৫০ গজ। কিন্তু সে আমাকে জানায়নি। এছাড়া অন্যরাও জানত। শুধু আমি ছাড়া। এমনকি জিয়াও জানত। ইটিভি অনলাইন : অনেকেই বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়া জড়িত। আপনি কী বলবেন? কে এম শফিউল্লাহ : অবশ্যই জিয়া জড়িত। জিয়া শুরু থেকেই সব জানত। রশীদ আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা যখন জিয়ার কাছে যায় তখন জিয়া বলে যে, একজন সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে সে নিজে অংশ নেবে না। তবে অন্য সবধরনের সহায়তা দেবে। তো এ থেকে তো বলাই যায় যে, জিয়া এর সঙ্গে জড়িত। জিয়া মূলত শুরু থেকেই অনেক উচ্চাকাংখী ছিলেন। আমি সেনাপ্রধান হবার পর থেকেই সে  বাহিনীতে ‘সমস্যা’ শুরু করছিল। এমনকি আমাকে আটক করে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যেতে আমাকে নিয়ে যখন ডালিম বের হচ্ছিল তখন জিয়া ডালিমকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল, ‘ডালিম ওয়েল ডান’। তার উচ্চাকাংখী মনোভাবের কারণেই এমনটা হয়েছে। এখানে আরেকজন মূল হোতা ছিলেন। খন্দকার মোশতাক আহমেদ। সে শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতি হতে চাইত। মূলত মোশতাকই জিয়া এবং অন্যদের ব্যবহার করেন। ইটিভি অনলাইন : জিয়া এখন বেঁচে নেই, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। এরজন্যই কী জিয়াকে দায়ী করছেন আপনারা? কে এম শফিউল্লাহ : জ্বি না। ঘটনা আসলেই এমন। আর শুধু আমিই না; সেসময় তো আরও সবাই ছিলেন। তারাও এমনটা বলবেন। যদি তাই না হয় তাহলে আমাকে বলেন জিয়া কেন বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুনর্বাসন করলেন? তাকে যখন বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিষয়ে জানানো হল, সে কেন এত নির্লিপ্তভাবে বললেন, “তো কী হয়েছে? ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে”। এই কথাগুলো কেন? ইটিভি অনলাইন : আপনারা কেন ঘটনার প্রতিবাদ করলেন না? কেন ওই সরকারকে ক্ষমতায় বসতে দিলেন? কে এম শফিউল্লাহ : আমি একা কী করব? আমি সেনাবাহিনী প্রধান হলেও আমার কাছে তো কোন সৈন্য নেই। আমাকে মেজর ডালিম যখন আটক করতে আসে তখন তার অস্ত্রের নল আমার এত কাছে ছিল যে, আমি আমার চেয়ারে বসেই তার অস্ত্রের নাগাল পাচ্ছিলাম। সে যখন আমাকে বলে, ‘আপনাকে প্রেসিডেন্ট (মোশতাক) ডেকে পাঠিয়েছেন’। আমি বলেছি, ‘আমি যতদূর জানি প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন’। সে বলেন, ‘এখন প্রেসিডেন্ট মোশতাক’। আমি বলি, ‘সে তোমার প্রেসিডেন্ট। আমার প্রেসিডেন্ট একজনই। বঙ্গবন্ধু’। খন্দকার মোশতাক তো এরপর আমাকে বিদেশেই পাঠিয়ে দিলেন। আমি বলেছিলাম যে আমি বিদেশ যাব না। সে বলে, দেশে থেকে কী করবেন? দেশে থাকলে বঙ্গবন্ধুর মত পরিনতি হতে পারে। তখন বাধ্য হয়ে বিদেশ চলে যাই। ইটিভি অনলাইন : ওই সময়গুলোতে এরশাদের ভূমিকা কেমন ছিল? কে এম শফিউল্লাহ : এরশাদ স্বার্থপর এবং সুবিধাবাদী মানুষ। যেদিকে পাল্লা ভারী সেদিকেই যান। যুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন জেনারেল এরশাদ? তিনি তখন ‘চুপ’ মেরে ছিলেন। দেশ স্বাধীন হলো। দেশে এসে আর্মিতে যোগ দিলেন। জিয়া এবং এরশাদকে সেনাবাহিনীতে রাখাই ছিল ভুল। ইটিভি অনলাইন : আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চাই। কী করছেন এখন? কে.এম.শফিউল্লাহঃ এখন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এর বাইরে লেখালেখি চলছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাই। ইটিভি অনলাইন : যে লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ করলেন সেই লক্ষ্য কী পূরণ হয়েছে? মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা কেমন এখন? কে এম শফিউল্লাহ : লক্ষ্য তো পূরণ হয়-ই নি। বরং অনেক পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমাদের। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে কিছুদিন ভালো থাকি আমরা (মুক্তিযোদ্ধারা)। তবে আওয়ামী লীগের মাঝেও কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের জন্য আমরা কাংখিত মূল্যায়ন এখনও পাচ্ছি না। আর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা যদি বলেন তাহলে বলব তাদেরকে ভাতা দিয়ে আর কিছু অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে যথাযথ সম্মান দেওয়া যায় না। আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, তাদের জন্যই আমরা আজকের স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তাদেরকে তাই সে মূল্য দিতে হবে। ইটিভি অনলাইনঃ একদম শেষে এসে আমাদের পাঠকদের জন্য কিছু বলেন। কে এম শফিউল্লাহ : এটুকু বলব যে, এখন বিজয়ের মাস। বাঙ্গালীদের আশা জাগানিয়া মাস। রক্ত দিয়ে কী লাভ হবে তা চিন্তা না করেই রক্ত দিয়েছি। সফল হয়েছি। এখন যেকোনো পাকিস্তানির সামনে মাথা উচু করে আঙ্গুল তুলে কথা বলতে পারি। এখন তরুণদের সময় এ যাত্রা অব্যাহত রাখার। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কে এম শফিউল্লাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি অনলাইনের প্রতি শুভ কামনা। / এআর /

স্মৃতিসৌধে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শনিবার বেলা ১১টা ১০মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনসহ দলের সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। পরে যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খালেদা জিয়া দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে।/ এআর /

অগণিত লাশের মধ্যে আমি তাকে পাগলের মতো খুঁজেছি: পান্না কায়সার

পান্না কায়সার বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। ১৯৬৯ সালে শহীদুল্লা কায়সারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি স্বামীকে হারান। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলবদর বাহিনীর কিছু সদস্য শহীদুল্লা কায়সারকে তাঁর ২৯ বি কে গাঙ্গুলী লেনের বাসা  থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তিনি আর ফিরে আসেননি। স্বামীকে হারিয়ে পাগল পারা হয়ে যান পান্না কায়সার। অসংখ্য লাশের মাঝে খুঁজে বেড়িয়েছেন প্রিয় স্বামীকে। কিন্তু তার কোনো হদিস পাননি। মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস ও তার জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী।  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি