ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮ ০:৩৯:৪৬

বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস আজ

বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস আজ

‘দক্ষতা বদলে দেয় জীবন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ রোববার উদ্যাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০১৮’। সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই দিবসটি উদযাপন করা হবে। একই দিনে সারাবিশ্বে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ সভায় প্রতি বছর জুলাই মাসের ১৫ তারিখকে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিবছর ১৫ জুলাই সারাবিশ্বে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের (এনএসডিসি) প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ২০১১’ প্রণয়ন করে। এ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের যুবশক্তি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পথে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এনএসডিসি সচিবালয় দেশের যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের প্রতি আপামর জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের উদ্দেশে প্রচারণামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ দিবসটি পালনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রোববার বিকেলে এ উপলক্ষে এনএসডিসি সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘দক্ষতা বদলে দেয় জীবন এবং বৃদ্ধি করে সামাজিক মর্যাদা’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর হোসেন। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সাথে সম্পৃক্ত ২৩টি মন্ত্রণালয়, ৩৫টি বিভাগ, বিভিন্ন এনজিও এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ এ সেমিনারে অংশ নেবেন। সেমিনার শেষে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এ বছর সারা দেশে আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের নেতৃত্বে গঠিত বিভাগীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরামর্শক কমিটি, প্রতিটি জেলায় জেলাপ্রশাসকগণের উদ্যোগে এবং ৪৮৯টি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ দিবস পালন উপলক্ষে জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের জন্য প্রায় ১৫০০০ (পনের হাজার) পোষ্টার বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে টক-শো, ডকুমেন্টারিসহ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এসএ/  
আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। বিশ্বায়নে জনসংখ্যা-চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত পরিবারের সুবিধাসমূহের ব্যাপারে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই দিবসটি পালনের লক্ষ্য। নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী পরিবার পরিকল্পনার লক্ষ্য নিয়ে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার’। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং দিবসের কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেছেন।দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি ও আলোচনা সভা।দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।এসএ/  

আজ আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস

আজ আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস। প্রতিবছর জুলাই মাসের প্রথম শনিবার দিবসটি পালন করা হয়। সেই হিসেবে এ বছর আজ শনিবার দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হবে দিবসটি। সমবায় অধিদপ্তর দিনের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিকেলে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘পণ্য এবং সেবার টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহার’।সমবায়ের নীতি ও আদর্শ মেনে ২০০৭ সালে নিবন্ধন নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করে দ্বারিয়ারপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। সেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করাই সমিতির মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা এক হাজার ৭৮৬ জন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এ সমিতি দুস্থ ও অসহায়দের সহায়তা প্রদান, শীতার্তদের বস্ত্র বিতরণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, যৌতুকবিরোধী র‌্যালি, খাদ্যে ভেজাল ও কেমিক্যাল মেশানোর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির মতো সামাজিক কল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।সমবায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী কৌশল। সমবায়ের ভিত্তি হলো পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা, একতা এবং সহযোগিতা।সমবায় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সমবায়ের মাধ্যমে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আট লাখ ২৬ হাজার ৭২৮ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫৭ হাজার ১৪৫টি সমবায় সংগঠনের এক কোটি ছয় লাখ ৯০ হাজার ৭২৮ জন সদস্য রয়েছে। বর্তমানে সমবায় সমিতিগুলোর কার্যকরী মূলধন প্রায় ১৪ হাজার ৫৪ কোটি টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৩২ কোটি টাকা। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সমবায়ীরা নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নানা উন্নয়নমূলক কাজে জড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখছেন।সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মজিদ বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে টেকসই সমবায় গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে দক্ষ প্রশাসন, সৎ সমবায়ী নেতৃত্ব, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর সমিতি ব্যবস্থাপনা এবং সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। সমবায়ের নামে কোনো অসাধু ব্যক্তি যাতে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।সমবায় সংগঠনের ধারণা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেই বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবেই সমবায়ের নীতিমালার মধ্যে আছে একতা, সাম্য, সহযোগিতা, সততা, আস্থা ও বিশ্বাস, সেবা এবং গণতন্ত্র।দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল ‘৭১-এর মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ দুগ্ধ ইউনিয়নের (মিল্ক্ক ভিটা) সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সমবায় সমিতিকে দিবসটি যথাযোগ্যভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর।উল্লেখ্য, ১৮৪৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৮৬৬ সালে ডেনমার্কে সমবায় আন্দোলন শুরু হয়। এক বছর পর আমেরিকায় কৃষক সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সমবায়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তারপর ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে চীন, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ সব দেশে সমবায় গঠন করা হয়। ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সমবায় মৈত্রী সংস্থা। ১৯০৪ সালে লর্ড কার্জনের সমবায় ঋণদান সমিতি আইন জারির মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে সমবায় আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪০ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদে পাস করা দি বেঙ্গল কো-অপারেটিভ সোসাইটি অ্যাক্ট দিয়ে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সমবায় পরিচালিত হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে সমবায় অধ্যাদেশ, ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ সালে প্রণয়ন করা হয় সমবায় নিয়মাবলি। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘ সমবায় দিবসের স্বীকৃতি দেয়। এসএ/  

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত জ্ঞান সাধনার তীর্থভূমিটির আজ জন্মদিন। ৯৭ বছর পেরিয়ে আজ ৯৮ বছরে পা রাখল দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি চর্চার এ বাতিঘর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯২১ সালের ১ জুলাই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দিবসটি উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সব শিক্ষার্থীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উপাচার্য।দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্বরে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন উপাচার্য। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর শোভাযাত্রাসহ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে যাওয়া হবে।এ উপলক্ষ্যে ১ জুলাই ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে হল, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অফিস সমূহ যথারীতি খোলা থাকবে।সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ওয়েবসাইট উদ্বোধন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’শীর্ষক প্রবন্ধ মূল উপস্থাপন করবেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ।এছাড়া এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।এছাড়া শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সকল অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করবে।৩টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৩টি আবাসিক হল, ৬০জন শিক্ষক এবং ৮৭৭জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল।বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৪টি গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র, ২০টি আবাসিক হল ও ৩টি হোস্টেল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪শ’ ৯৬ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ১ হাজার ৯শ’ ৯৯ জন। ৬শ’ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে এর জমির পরিমাণ ২৭৫.০৮৩ একর।/ এআর /

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস আজ

আজ ২৬ জুন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উদ্যোগে আজ ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ পালিত হচ্ছে।দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, মাদক যে কোনো দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মাদকের করালগ্রাস দেশের প্রাণশক্তি যুবসমাজকে ধ্বংসের মাধ্যমে উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদকের অপব্যবহার ও পাচার প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, এসডিজি অর্জন ও সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে দেশের যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসা প্রদান ও পুনর্বাসন করা গেলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সর্বাত্মক সহযোগিতা অপরিহার্য। মাদকের অপব্যবহার এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দেশকে মাদকমুক্ত রাখার অঙ্গীকারের বার্তা প্রতিটি জনপদে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।এসএ/

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক আওয়ামী লীগ

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শামসুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ যারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা তাদের আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। ঐতিহাসিক ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাগণ দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের দিন হিসেবে ইতিহাস থেকে ২৩ জুন তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ইতিহাস সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক দল। যদিও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার আগেই ’৪৮-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে প্রাণপ্রিয় ছাত্রপ্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একই বছরের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের উদ্যোগে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রদেশব্যাপী সফল ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রামের পথে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় সংগঠিত করে বাঙালির ইতিহাসে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এই তিনটি নাম সমার্থক হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস অবিরাম পরিবর্তন ও বিপ্লবের ইতিহাস। ’৫৪-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের ২২৮টি আসনে জয়লাভ কার্যত মুসলিম লীগের কবর রচনা করে এবং রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাম্প্রদায়িকতা বিদায় করার প্রেক্ষাপট তৈরি করে। ফলাফল, ’৪৯-এ প্রতিষ্ঠিত ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ ’৫৫-এর ২১ অক্টোবর হয় অসাম্প্রদায়িক ‘আওয়ামী লীগ’। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত ‘বজ্র  কঠিন শপথ’ চেতনায় ধারণ করে আওয়ামী লীগের সংগ্রামী পথচলা। ধাপে ধাপে বাংলার মানুষকে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। ’৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ’৬২-এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ’৬২তে আমাদের স্লোগান ছিল ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’; ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। ’৬৬-এর ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দিয়েছিলেন লাহোরে। তখন তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ’৬৬-এর ১৮, ১৯ ও ২০ মার্চ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৬ দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু আমাদের বলতেন ‘সাঁকো দিলাম, এই সাঁকো দিয়েই একদিন আমরা স্বাধীনতায় পৌঁছাব।’ ছয় দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলার আসামি করে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জাগ্রত ছাত্রসমাজ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। আমরা ৬ দফাকে হুবহু ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে আসাদ, মকবুল, রুস্তম, মতিউর, আলমগীর, সার্জেন্ট জহুরুল হক, ড. শামসুজ্জোহাসহ নাম না জানা অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে ’৬৯-এ প্রবল গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে জাতির জনককে ফাঁসিকাষ্ঠ থেকে মুক্ত করে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে পদত্যাগে বাধ্য করি। তখন আমাদের স্লোগান ছিল ‘পাঞ্জাব না বাংলা, পিন্ডি না ঢাকা’। জাতির জনককে ফাঁসির মঞ্চ থেকে ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ’৭০-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। যখন ১ মার্চ জাতীয় সংসদের পূর্বঘোষিত ৩ মার্চের অধিবেশন একতরফাভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়, তখন দাবানলের মতো আগুন জ্বলে ওঠে। শুরু হয় ১ দফা তথা স্বাধীনতার সংগ্রাম। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ’৭১-এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তরিত করেন এবং বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ৩০ লক্ষাধিক শহীদ আর ৪ লক্ষাধিক মা-বোনের আত্মত্যাগে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়! ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি যেদিন তিনি স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন, সেদিন মনে হয়েছে আজ আমরা প্রকৃতই স্বাধীন। এরপর ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করে ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আমাকে তার রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন। দেশ স্বাধীনের পর শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। গোলাঘরে চাল নাই, ব্যাংকে টাকা নাই, বৈদেশিক মুদ্রা নাই, রাস্তাঘাট-পুল-কালভার্ট সব ধ্বংসপ্রাপ্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত। বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধুর একক প্রচেষ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ’৭২-এর ১২ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ’৭২-এর ৪ নভেম্বর মাত্র ৭ মাসে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন করেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ ‘কমনওয়েলথ অব নেশনস্’, ‘জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন’, ‘ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা’ ও ‘জাতিসংঘ’সহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। আজকে যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উেক্ষপণ করা হয়েছে, তারও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু ’৭৫ বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে। ’৭৪-৭৫-এ বোরো মৌসুমে ২২ লাখ ৪৯ হাজার টন চাল উত্পাদিত হয় যা ’৭৩-৭৪-এর চেয়ে ২৯ হাজার টন বেশি। বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডিসেম্বরে ঘোষণা দেবেন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জাতির পিতা বিধ্বস্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে দেশটাকে যখন স্বাভাবিক করেছিলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই ঘাতকের নির্মম বুলেটে একাত্তরের পরাজিত শক্তি, বাংলার মীরজাফর বেঈমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। ওই সময় তার দুই কন্যা আমাদের প্রিয় বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনিচক্র মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ’৮১-এর ১৭ মে বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করেন। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ’৯৬-এর ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এই সরকারের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সাফল্য ’৯৭-এর ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’। ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন হয়। এ কালপর্বে সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা। জাতির জনককে হত্যার পর ঘাতকচক্র পবিত্র সংবিধান কলঙ্কিত করে হত্যাকারীদের রক্ষায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ’৯৬-এ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করে। নিম্ন আদালতে হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের ৫ বছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশে উন্নীত এবং মুদ্রাস্ফীতি ১.৪৯ শতাংশে কমিয়ে আনা সম্ভবপর হয়। ’৯৮-এর জুনে ৯৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার ৫ম এবং বিশ্বের ৯২তম দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়ে ওঠায় সমগ্র দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর সুফল পরিলক্ষিত হয়। মহান জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগের ৬৯-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বছরটি সবিশেষ তাত্পর্য বহন করে। ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত সাড়ে ৯ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করার পরেও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে আজ তা সমাপ্তির পথে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলপথ, বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৃথক রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ, মেট্রো রেল, এলিভেটরি এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রামপাল ও মাতারবাড়ী বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনসহ সর্বমোট ১১৯টি নতুন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন, বিদ্যুত্ উত্পাদন ৩,২০০ থেকে এই ডিসেম্বরে ১৮,০০০ মেগাওয়াট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩.৫ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার, রপ্তানি আয় ১০.৫২ থেকে ৩৪.৪২ বিলিয়ন ডলার, পায়রা বন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ শতাংশ করে জনগণের মাথাপিছু আয় ১,৭৬৫ ডলারে উন্নীত করেছেন। সবল-সমর্থ আর্থ-সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করার ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি। ২০০৮-এর নির্বাচনে রূপকল্প তথা ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছিলেন তিনি। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং মধ্যম আয়ের দেশ। ইতোমধ্যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছি এবং উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করেছি। জাতির পিতা দুটি লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করেছেন। একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আরেকটি অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেন নাই। সেই কাজটি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা করে চলেছেন। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশ হবে মর্যাদাশালী ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। আমরা সেই পথেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছি। লেখকঃ আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস আজ

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশাসনে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ পদক দিচ্ছে সরকার। ব্যক্তিগত, দলগত ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক- এই তিন ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত অবদানের জন্য স্বর্ণপদক এবং এক লাখ টাকা, দলগত অবদানের জন্য স্বর্ণপদক ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু পদক ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তরা নামের শেষে সিভিল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড (সিএসএ) টাইটেল লিখতে পারবেন। আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান। সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে পুরস্কারের প্রথা আগে থেকে চালু আছে সেসব প্রতিষ্ঠান সিভিল সার্ভিস পদক পাবে না। জেলা পর্যায়ে সামাজিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ক্ষেত্রে তিনটি করে মোট ছয়টি পুরস্কার দেওয়া হবে। এসএ/  

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস

আজ বুধবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস। শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রতি বছর আজকের এই দিনে দিবসটি পালন করে। এ বিষয়ে সংস্থাটি কিছু কর্মসূচিও পালন করবে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। যা শরণার্থী সংখ্যার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। আশ্রয়দাতা দেশের মধ্যে তুরস্ক নতুন শরণার্থী নিবন্ধনের সংখ্যায় সবচেয়ে বৃহত্তম। দেশটি সিরিয়ার ছয় লাখ ৮১ হাজার অধিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করেছিল।প্রতিবেদন অনুসারে কক্সবাজার জেলায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে দেশটির স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্পদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।২০ জুন আন্তর্জাতিক শরণার্থী  দিবসকে সামনে রেখে প্রতি বছর ইউএনএইচসিআর-এর গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয়  এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ওপর ইউএনএইচসিআর, সরকার ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থা কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরা হয়।প্রকাশিত বাৎসরিক গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাষ্ট্রহীন এবং উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন। গত আগস্টে মিয়ানমারে নৃশংস সহিংসতা চলাকালে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ শরণার্থী বাংলাদেশে আসে। সে সময় থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে, যা গত দুই দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় এবং দ্রুততম শরণার্থী প্রবাহ ছিল। কক্সবাজারের কুতুপালং, বালুখালি এখন বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী আশ্রয়স্থল। ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্যোগময় আবহাওয়ার সময় বিশেষ করে মে ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়ছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ২৭ লাখের অধিক শরণার্থী তাদের বাড়ি থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যায়, যাদের অধিকাংশ (৮৮ শতাংশ) মাত্র তিনটি দেশ (দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, মিয়ানমার) থেকে পালিয়ে গেছে।বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বৃহৎ অংশ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তাদের অর্ধেকের বেশির বয়স ১৮ বছরের নিচে, অর্ধেকের বেশি নারী ও মেয়ে শিশু এবং এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অনেকেই নিজ দেশে যৌন নির্যাতন এবং মানসিক আঘাতসহ চরম সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। ইউএনএইচসিআর মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব প্রদানসহ সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এসএ/  

আমার বাবা আমার আইডল

আমার বাবা মরহুম আলহাজ এম হজরত আলী, যাকে অঞ্চলের মানুষ `সাহেব` হিসেবে সম্মান করেন। এখনো কোথাও গিয়ে দাঁড়ালে আমাদের ভাই বোনদের পরিচয় জোটে বারইপাড়ার সাহেবের ছেলে-মেয়ে বলে। আমার দাদা মরহুম সোনাউল্লাহ সরকার ছিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার বারইপাড়ার অবস্হাসম্পন্ন সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব। তিনি তার বাড়িতেই ছেলে মেয়ের পড়াশোনার জন্য যে চার কিলোমিটার দূরের বীর বাসিন্দা গ্রামের এক পণ্ডিতকে গৃহশিক্ষক রাখেন। গ্রামে কোন স্কুল ছিল না। স্কুল ছিল ৮ কিলোমিটার দূরে। দাদা তার চাচা শ্বশুর জয়েন সরকারসহ গ্রামের বিদ্যানুরাগী নিয়ে বৃটিশ আমলে বারইপাড়া প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বাবা ছিলেন সে স্কুলের প্রথম ছাত্র। বাবা কালিহাতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৮ সালে মেট্রিক, করটিয়া সাদত কলেজ থেকে আইকম পাশ করে আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহে বিকম ভর্তি হন। এসময় তিনি সরকারি ময়মনসিংহ জেলা রেভিনিউ অফিসে চাকরিতে যোগ দেন। এ অফিসের জেলা রেভিনিউ অফিসার ছিলেন সাঈদ হোসেন সাব (নামটা ভুল হতে পারে)। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি। আব্বা অংকে ও ইংরেজীতে ভালো ছাত্র হওয়ায় তিনি তার মেয়ে ডলি, পলিদের গৃহশিক্ষকের দায়িত্ব দেন। আব্বার বন্ধু আওয়ামী লীগের, তখন ছাত্রলীগ নেতা পরে এমএন এ হাতেম আলী তালুকদার মাঝে মাঝেই ঐ বাসায় যেতেন। তিনি হোসেন সাব ও ডলি পলির আম্মাকে বলেন হজরত আমাদের বন্ধু। এর ফলে চাকরির পাশাপাশি আব্বার ক্লাস করার সুযোগ ঘটে। পরে ইস্ট পাকিস্তান জুট মার্কেটিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হলে বঙ্গবন্ধুর বোন আব্বাকে এই করপোরেশনের চাকরিতে যোগদানে সহায়তা করে। যা স্বাধীনতা পরবর্তীতে বিজেএমসি নামকরণ হয়, এখানে পারচেজিং অফিসার পদে যোগ দেন‌ আব্বা। বাবার চাকরির সুবাদে আমার স্কুল জীবনে বিভিন্ন জেলায় যুক্ত হয়েছে ৭ টি স্কুল। মানুষ হিসেবে তিনি তিনি ছিলেন সৎ আদর্শবান। আব্বা আমাদের ৫ ভাই ২ বোনকেই পড়াশোনা করাতেন নিজে। পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতেন, সে অনুযায়ী গুরুত্ব দিতেন। আমি লালমনিরহাট মডেল হাইস্কুলে ভর্তি হই ক্লাস ফাইভে, ১৯৬৬ সালে। আব্বা প্রধান শিক্ষককে বলে দিলেন নিয়ম শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করলে যেনো ক্ষমা না করা হয়। ভয়ে আমি ঠিকভাবে পড়াশোনা করে দ্বিতীয় হয়ে সিক্সে ওঠি। বাবা খুব খুশী হয়েছিলেন। বাবা আমাদের ভাই-বোনদের একটা কথা প্রায়ই বলতেন এ দেশের অসংখ্য ছেলে মেয়ে পড়ার সুযোগ পায়না, সে দিক থেকে তোমরা এটা পাচ্ছো। তিনি বলতেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করো না। যখন যে দায়িত্ব পাবে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। মনে রাখবে এটাও ইবাদতের সামিল। আব্বা যে ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন, অসৎ হলে আমাদের এতো সংগ্রাম করতে হতো না। তিনি আমাদের ৭ ভাইবোনকেই উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। এর মধ্যে যে ৪ জন স্নাতকোত্তর, দুজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, একবোন গ্রাজুয়েট। পড়াশোনা শেষে আমার ৪/৫ টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র আসে, কিন্তু আব্বার ইচ্ছেতেই বিআরসি `৮৩ ব্যাচে সোনালী ব্যাংকে যোগ দেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, আব্বা ছিলেন কসবার কুটিতে। তিনি সাহস দিয়ে চিঠি লিখতেন দেশ স্বাধীন হবেই। তার এই চিঠি আমাদের বাড়িতে থাকা ক্যাম্পের (৫০) জনের প্লাটুনের বন্ধুদের পড়ে শোনাতাম। তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ৭১ সালে তিনি ব্রাম্মণবাড়িয়ার ভারত সীমান্তবর্তী কুটিতে জেএমসির পারচেজিং অফিসার ছিলেন। একবার মুক্তিযোদ্ধারা কুটি বাজারের পাটের গোডাউনে আগুন ধরাতে গেলে তিনি তাদের পরামর্শ দেন, আগুন নয়, এটা আমাদের সম্পদ হিসেবে রক্ষা করতে হবে। কারণ স্বাধীনতার পর এই পাট রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে। বরং কোন পাট যাতে এখান থেকে কোন কোম্পানি ঢাকা না পাঠায় তা প্রতিরোধ করতে হবে। পরে তিনি অন্যান্য কোম্পানিকে বলে দেন, হেড অফিস পাট পাঠাতে বললে বলে দিবেন রাস্তা নিরাপদ নয়। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা ও এমএন এ সিরাজুল হক এ জন্য আব্বাকে ধন্যবাদ জানান। আল্লাহ আমাদের পিতা মাতার কবর আজাব মাফ করে দিন। //আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি