ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৯:০৩

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়া

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ।তিনি আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছেন। দুপুর ১২টার দিকে এখানে পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আক্তারুজ্জামানের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়া হাজিরা দেবেন বলে জানান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে  রমনা থানায় একটি মামলা করে।   একে// এআর  
সব থানাকে পর্যায়ক্রমে নারী ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে

দেশের সব থানাকে পর্যায়ক্রমে নারী ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন  পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে বলেও জানান আইজিপি। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘জেন্ডার ভিত্তিক ভায়োলেন্স থেকে শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় টেকসই উদ্যোগ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট ড. এ এফ এম মাসুম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোও, বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি লরি কাটো, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) মো. মোখলেসুর রহমান। অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, পুলিশ বা অন্য কোনো একক প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন। মিয়া সেপ্পোও তার বক্তব্যে জেন্ডার সহিংসতা নির্মূলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সাফল্য কামনা করেন। লরি কাটো বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ অর্জনে সক্ষম হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা তদন্তে ও সহিংসতা রোধে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পুলিশ। ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি চলবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানাসহ দেশের ৪টি জেলার ৫১টি থানায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় ১২টি উইমেন হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। বগুড়া জেলায় আরো ৩টি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলাসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নির্যাতিত নারী ও শিশুকে আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা দিয়ে আসছে। আর/ডব্লিউএন

পাঠ্যবই ছাপানোর প্রতিস্তরে দুর্নীতি

প্রাথমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক লেভেল পর্য্ন্ত পাঠ্যপুস্তক তৈরি, ছাপা ও বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। আর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে রয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা। টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে আসে। আজ সোমবার রাজধানীর টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন টিআইবির গবেষক মোরশেদা আক্তার। এসময় তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে যে কমিটিগুলো করা হয়, তার সবগুলোতেই সরকারপন্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।  বিপরীতে কেবল রাজনৈতিক মতের মিল না থাকায় অনেক যোগ্য ব্যক্তিকেও এসব কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব পাঠ্যপুস্তক থেকে কেবল শব্দ বা বিষয়-ই পরিবর্তন হয় না, পাশাপাশি পরিবর্তন করা হয় বিভিন্ন লেখাও। আর তা সম্পাদন করা হয়  অনিয়মতান্ত্রিকভাবে। পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে বলা হয়, পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র আহ্বানের পূর্বেই, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রাক্কলিত দরের বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবি-র কর্মকর্তারা। বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে মোরশেদা আক্তার বলেন, বিভিন্ন জেলায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠ্যবই না পৌঁছালেও প্রাপ্তি প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ থাকে।  দু’টি কারণে এ ধরণের  দুর্নীতি হয় দাবি করে মোরশেদা আক্তার বলেন, ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা আদায় ও কার্যাদেশ প্রদানে দলীয়বৃত্তিই এর জন্য দায়ী। প্রতিবেদনে এসব সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এমজে/ডব্লিউএন  

আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাই দায়িত্বে :  আইনমন্ত্রী

নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচারবিভাগে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। শনিবার বিকালে গুলশানে তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। এর আগে শনিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে (রাষ্ট্রপতির বাসভবন) পৌঁছায়।   আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরও যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নতুন একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ না দিচ্ছেন, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ বলে ততক্ষণ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি থাকবেন মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে এসকে সিনহার করা আবেদনটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে এই আবেদনপত্রটি এসেছে। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে ছুটি নিতে সরকার বাধ্য করেছে। এতে করে বিচারবিভাগের যেটুকু স্বাধীনতা ছিল সেটাও এই সরকার নস্যাৎ করেছে। উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে গত ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের ছুটি নেন পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এস কে সিনহা ছুটি নেয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। পরে প্রধান বিচারপতি সিনহা ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করতে চান- বিষয়টি উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি পাঠান। গত ১২ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে বা তার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। আর/ডব্লিউএন

৩ আফ্রিকানের অভিনব প্রতারণা

আড়াই লাখ ইউরো হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন আফ্রিকানকে আটক করেছে র‌্যাব। আটকরা হলেন- কুয়েতি ফস্তো, এমেলিয়া মাওয়াবো ও হারমান মার্টিন। এদের মধ্যে দু’জন ক্যামেরুনের নাগরিক, অন্যজন আফ্রিকান হলেও তিনি কোনো দেশের তা নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব। প্রতারক চক্রটি ফার্মার্স ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে প্রতারিত করে আড়াই লাখ ইউরো হাতিয়ে নেয়। আটকদের কাছ থেকে ৬৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ ইউরো, পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করছে র‌্যাব। এর আগে, প্রতারকদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ থাকার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার হাবিবুল আলম বীর প্রতীককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নেয় র‌্যাব। প্রতারকদের সঙ্গে তার কি সম্পর্ক সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে জানান, জার্মানি থেকে ১১ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এ প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল। শুক্রবার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘বিদেশি বিশেষ করে আফ্রিকান প্রতারকরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতারণা করে। এবার নতুন কৌশল অবলম্বন করে একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাছ থেকে আড়াই লাখ ইউরো হাতিয়ে নিয়েছে। বড় বিনিয়োগের কথা বলে প্রথমে সম্পর্ক স্থাপন ও পরবর্তীতে ছোট ছোট লেনদেন করে একসময় বড় টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয় তারা।’ র‌্যাবের মুখপাত্র আরও জানান, ফার্মার্স ব্যাংক গুলশান শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জিয়ার কাছে প্রথমে জার্মানি থেকে রোজার্স নামে একজন ফোন দিয়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তিনি জানান বাংলাদেশে ১১ মিলিয়ন ইউরো ইনভেস্ট করতে চান। তখন তার সঙ্গে আলোচনায় রাজি হন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। কিছুদিন পর রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে রোজার্সের রেফারেন্সে গুস্তাভো ফ্রাংকি স্টিভ নামে একজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন জিয়া। সেখানে কিভাবে ইনভেস্ট করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ব্যাংক কর্মকর্তা ও গুস্তাভো ফ্রাংকি স্টিভ দেখা করে ব্যবসা ও ইনভেস্টের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে একদিন সিঙ্গাপুর যাওয়ার নাম করে স্টিভ ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে চার হাজার ডলার ধার নেয় এবং কিছুদিনের মধ্যে তা পরিশোধ করে। বিশ্বস্ততা তৈরির পর ইউরোপে একটি কাজে স্টিভের আড়াই লাখ ইউরো লাগবে বলে ব্যাংক কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বাংলাদেশে একজনের কাছে স্টিভের ডলার আছে। সেই ডলার এক্সচেঞ্জ করে ইউরো করতে হবে। আর সেটার পরিমাণ আড়াই লাখ ইউরো। এজন্য তিনি ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে সাহায্য চান। ভবিষ্যতে ১১ মিলিয়ন ইউরোর ইনভেস্ট, নতুন সম্পর্ক ও অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার লোভে সাহায্য করতে রাজি হন ব্যাংক কর্মকর্তা। এরই মধ্যে গত ৩১ আগস্ট ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইউরো ম্যানেজ করে ব্যাংকে অপেক্ষা করেন। কিন্তু গুস্তাভো ফ্রাংকি স্টিভ সেদিন আর ব্যাংকে না এসে ম্যানেজারকে ইউরো বাসায় নিয়ে যেতে বলেন। কথামতো ব্যাংক কর্মকর্তা আড়াই লাখ ইউরো নিয়ে বাসায় যান। রাতে স্টিভ, কুয়েতি ফস্তো ম্যানেজারের বাসায় যান। রাতে খাবার খাওয়ার পর কুয়েতি ফস্তো ইচ্ছে করে একটি বোতল ভেঙে ফেলেন এবং বোতল থাকা তরল পদার্থ কিছুটা ব্যাংক কর্মকর্তার গায়ে ফেলেন। তখন ইউরোর ব্যাগ আফ্রিকানদের সামনে রেখে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিস্কার হতে ভিতরে চলে যান। ফিরে আসার পর আফ্রিকানরা জানায়, তারা ডলার আনতে পারেনি, আগামীকাল লেনদেন করবে। এই বলে তারা বেরিয়ে যায়। তখন তাদের রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেন ব্যাংক কর্মকর্তা। পরদিন সকালে স্টিভকে ফোন করেন ব্যাংক কর্মকর্তা। ফোনের ওপাশ থেকে স্টিভ জানান, সে ঝামেলায় আছে, পুলিশ তাকে ফলো করছে, পরে কথা বলবে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। তখন ব্যাংক কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। বাসায় থাকা ইউরোর ব্যাগ খুলে দেখেন আড়াই লাখ ইউরো সমপরিমাণ বান্ডেল আছে কিন্তু সেখানে ইউরো নেই, আছে সাদা কাগজ। রাতে তিনি পরিস্কার হওয়ার ফাঁকে আফ্রিকানরা আড়াই লাখ ইউরোর বান্ডেল হাতিয়ে নিয়ে সাদা কাগজের বান্ডেল ফেলে যায়। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে র‌্যাবকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে উত্তরা থেকে তিন প্রতারককে আটক করে। র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা তিনজনকে আটক করেছি। এর সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।’ হাবিবুল আলম বীর প্রতীককে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে র‌্যাব মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা উনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। উনার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি ভিকটিম না প্রতারকদের সঙ্গে জড়িত তা এখনও বলা যাচ্ছে না।’  কেআই/ডব্লিউএন

গুম-অপহরণ  নতুন কিছু না : আইজিপি

দেশে গুম-অপহরণ নতুন কিছু না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। আজ শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ লাইনে নবনির্মিত অত্যাধুনিক গেট উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কে এম শহীদুল হক বলেন, প্রাচীন আমল থেকে এই অপরাধ হয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশে সম্প্রতি দুটি নিখোঁজের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আমরা ৭৫ ভাগ অপহরণের ঘটনার রহস্য ও ভিকটিমকে উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকি ২৫ ভাগ নানা কারণে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যে দুটি নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে, তাদের উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশিরা প্রশংসা করেছে। ক’দিন আগে বাংলাদেশে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের যে সম্মেলন হয়েছে, সেখানে প্রায় ৫০০ বিদেশি অংশ নিয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। চাঁদপুরের পুলিশ লাইনে এ অত্যাধুনিক গেট নির্মাণে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অর্থায়ন করে চাঁদপুর পৌরসভা। আরকে/ডব্লিউএন

পিলখানা হত্যা মামলা : হাইকোর্টের রায় ২৬ নভেম্বর

আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের ওপর রায় ঘোষণার জন্য ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ রায় ঘোষণার করবেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল জানান, ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আগামী ২৬ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। যা মামলাটি রোববারের কার্যতালিকায় থাকবে। এর আগে ১৫২ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও সাজার রায়ের বিরুদ্ধে করা আসামিদের আপিল-জেল আপিলের ওপর গত ১৩ এপ্রিল শুনানি শেষ করা হয়। যার ওপর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করবেন। একই দিন ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলেরও রায় দেবেন আদালত। ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে এ মামলায় শুনানি শুরু হয়। যা চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল শুনানি শেষ হয়। ওই দিন বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের সদর দফতরে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। বিচার শুরু হয় আলিয়া মাদরাসা মাঠের অস্থায়ী এজলাসে। বিচার শেষে ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু (প্রয়াত) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে খালাস দেয়া হয়। রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। রায়ের পর দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা ১১৯টি আপিল ও ১৩৩টি জেল আপিল করে। এদের মধ্যে ৬৯ জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ একটি আপিল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ ব্যবস্থায় পেপারবুক তৈরি করা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। পরে ১৭ জানুয়ারি বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়। পরদিন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শুরু হয়। এ মামলায় ৩৫ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক পাঠ করা হয়েছে ১২৪ কার্যদিবসে। বাকি ২৪০ কার্যদিবস রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আর/ডব্লিউএন

গণভবনে বিমান হামলার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করলেন সাব্বির

বাংলাদেশ বিমানের সহকারি-পাইলট সাব্বির ইমাম প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বিমান হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার সাত দিনের রিমান্ড শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শারাফুজ্জামান এর আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি। তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাব্বির ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় গত ৩০ অক্টোবর। এরপর ৩১ অক্টোবর তাদেরকে ৭দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। সাব্বিবের মাকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাব্বিরের বাবা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, সাব্বির জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সদস্য এবং নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী। আর/ডব্লিউএন

জাল সনদে বিকেএসপিতে সাত কোচের চাকরি : দুদক

জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সাত কোচের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদক এ অনুমোদন দেয়। অভিযুক্তরা হলেন-বিকেএসপির সাবেক চিফ স্যুটিং কোচ সৈয়দ আসবাব আলী, সাবেক আরচারি কোচ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ফুটবলের বর্তমান কোচ মোহাম্মদ মাকসুদুল আমিন (রানা), জুডোর বর্তমান কোচ মো. আবু বকর ছিদ্দিক, বক্সিংয়ের বর্তমান কোচ মো.আবু সুফিয়ান চিশতী, জিমন্যাস্টিকসের সাবেক কোচ কাজী আকরাম আলী ও সাবেক বক্সিং কোচ মো. জহির উদ্দিন। দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা চাকরি নেওয়ার সময় জাল শিক্ষাসনদ ব্যবহার করেন এ ব্যাপারে ২০১৬ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ছিলেন সমন্বিত জেলা কার্যালয়  ঢাকা-২ এর উপ-পরিচালক  মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দুদক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিকেএসপির সাবেক চিফ শ্যুটিং কোচ সৈয়দ আসবাব আলী চাকরির সময় বিএসসি পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করেন। তিনি চাকরিতে যোগদান করেন ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। সাবেক আরচারি কোচ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বিএসএস (সম্মান) পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করে ২০১৬ সালে ৫ জানুয়ারি চাকরিতে জয়েন করেন এবং ২০১৬ সালের ১১ মে ইস্তফা দেন। ফুটবলের বর্তমান কোচ মোহাম্মদ মাকসুদুল আমিন (রানা) বি.এ পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করে ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারিতে চাকরিতে যোগদান করেন যা এখনও একই পদে বহাল আছেন। জুডোর বর্তমান কোচ মো.আবু বকর ছিদ্দিক বি.এ (অনার্স) পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করে ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চাকরিতে যোগদান করেন। বক্সিংয়ের বর্তমান কোচ মো. আবু সুফিয়ান চিশতীর বি.এ (সম্মান) পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করে ১৯৯৯ সালের ৪ জুলাই যোগদান করেন। জিমন্যাস্টিকসের সাবেক কোচ কাজী আকরাম আলী বিএসএস পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করে ১৯৯৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। তিনি ইস্তফা দেন ২০১৬ সালের ১২ জুন। সাবেক বক্সিং কোচ মো.জহির উদ্দিন বিএসসি (সম্মান) পাশের জাল সনদপত্র ব্যবহার করে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন আর তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল। আর/ডব্লিউএন

মুক্তিপণ আদায়কালে এসআইসহ আটক ৪

সাভারের আশুলিয়ায় মুক্তিপণ আদায়কালে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) তিন ভূয়া ডিবি পুলিশকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকেএকটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়। আটকৃত পুলিশ সদস্যের নাম এসআই মকবুল হোসেন ।তিনি আশুলিয়া শিল্প-পুলিশ-১ এ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে বাকি তিনজনের নাম প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আটককৃতদের একজন নারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মকবুলের সহযোগিতা করে আসছেন ।এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশের সুত্রটি দাবি করেন। সুত্র আরও জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়ার বাইপাস এলাকা থেকে এক ব্যক্তিতে ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় চক্রটি। পরে তার কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে ঐ ব্যক্তি বিষয়টি পরিবারকে জানালে, তার পরিবার বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপর চক্রটি তার পরিবারকে বাকি দশ হাজার টাকা নিয়ে বাইপাস এলাকায় আসতে বলে। বিষয়টি সন্দেহভাজন মনে হলে, পরিবারে সদস্যরা অপহরণের বিষয়টি আশুলিয়া থানায় জানায়। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুজন পালিয়ে গেছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় মকবুল হোসেনকে শিল্প পুলিশ-১ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক সানা শামীনুর রহমান সহকারী উপ-পরিদশক মকবুল হোসেন। এমজে/ডব্লিউএন

অনেকে ইচ্ছা করে ‘মিসিং’ হয়ে বিব্রত করছে আমাদের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুম নিয়ে অভিযোগের মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে দাঁড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তার দাবি, সরকারকে বিব্রত করতে ‘ইচ্ছা করে’ নিখোঁজ হচ্ছেন অনেকে। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে উচ্চকিত। তবে বিএনপিসহ মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবারও আগের সুরেই বলেন, “অনেকে ইচ্ছা করে মিসিং হয়ে যাচ্ছে বা আত্মগোপনে গিয়ে আমাদের বিব্রত করছে। এ ধরনের মিসিংয়ের সুরাহা করা গোয়েন্দাদের জন্য একটু কষ্টকর। তারপরও আশা করি, তাদের ফিরিয়ে আনতে পারব।” ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নিখোঁজ’ এই অনেকের সংখ্যা কত, তা জানাননি আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। কয়েক মাস আগে লেখক-কলামনিস্ট ফরহাদ মজহার নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে পুলিশ বলেছিল, তিনি নিজেই নিখোঁজের ‘নাটক’ সাজিয়েছিলেন। তারও আগে নিখোঁজদের মধ্যে কেবল বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে ভারতে পাওয়া গিয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা বলে আসছেন, নিখোঁজ যেভাবেই হোক, তাদের উদ্ধারের দায়িত্ব সরকারের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী কাজ করছে। আশা করি, তাদের ফিরিয়ে দিতে পারব।” এর আগে এক অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছিলেন এভাবে- “নানা কারণে আমাদের দেশে মানুষ গুম হয়। কোনো সময় ব্যবসায়িক কারণে, যখন দেনা হয়ে যায় তখন লুকিয়ে থাকে। কখনো বা সামাজিক কারণে লুকিয়ে থাকে। কখন বড় বড় অপরাধী যখন দেখে, পাপের ভার এমনই হয়ে গেছে যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজ শুরু করেছে, সেই সময় সে আত্মগোপনে যায়।” নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মুবাশ্বার হাসান সিজার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কামাল বলেন, “সম্পূর্ণ খবর আমার কাছে নেই। তবে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। “একজন লোক মিসিং হয়ে যাবে, আর আমাদের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী বসে থাকবে, এটা হতে পারে না। অবশ্যই আমরা দেখব কেন ও কীভাবে মিসিং হয়েছে।” পুলিশ সদস্যদের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাউকে ক্ষমা করা হয় না।” লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজন গ্রেপ্তার হওয়ায় ‘‘অনেক কিছু’ জানা গেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গ্রেপ্তারকৃতরা অনেক তথ্য দিচ্ছে। সেগুলো আপনাদের ধারাবাহিকভাবে জানাবেন আমাদের গোয়েন্দারা।” অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংস্কারকৃত অফিস উদ্বোধন এবং সদস্যদের পরিচয়পত্র তুলে দনে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। কেআই/ডব্লিউএন  

বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে থাকছে পুলিশের নজরদারি

সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে  (বিডিএস) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১০ নভেম্বর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা উপলক্ষে প্রশ্নফাঁস রোধে থাকছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের বিষয় কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে পরিক্ষার শেষ হওয়া পর্যন্ত। বুধবার ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা সভায় এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ রশিদ,  স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. বিল্লাল আলম, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বেপারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ-সচিব খান মো. নূরুল আমীন, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শিব্বির ওসমানীসহ ডিএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ডিএমপি কমিশনার বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাধ্যমে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য যে সকল ব্যক্তি প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের বিষয় কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের আশপাশের সব ফটোকপি বন্ধ থাকবে এবং কম্পিউটারের দোকানের উপর নজরদারি করা হবে। কমিশনার বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো গুজব সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে বা দেখা দিলে নিকটস্থ থানা, Hello CT  এ্যাপ, ডিএমপি ফেসবুক পেইজ, সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম এর ইনবক্সে তথ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন ইডেন কলেজ ও বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা থাকায় ওই এলাকাগুলোতে ট্রাফিক যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এসময় তিনি যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বেইকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য, ঢাকায় ৫টি কেন্দ্রে এবারের বিডিএস কোর্সে ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ২২ হাজার ৫শ ৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। বিডিএস পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ও বিজনেস স্টাডিজ বিভাগে, ঢাকা কলেজ, গর্ভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল ও তেজগাঁও কলেজে  অনুষ্ঠিত হবে। আর/ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি