ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:০৮:৩৮

ভিসি হত্যা মামলায় জামিন নামঞ্জুর: কারাগারে তৃপ্তি

ভিসি হত্যা মামলায় জামিন নামঞ্জুর: কারাগারে তৃপ্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আফতাব আহমেদ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী এ আদেশ দেন। আজ সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তৃপ্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া হাইকোর্টের আদেশের কারণে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ স্থগিত করেন। এ বিষয়ে তৃপ্তির আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, গত বছরের ২৯ মে তৃপ্তি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আদেশ পান, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছিল কোনো আদালতের পরোয়ানা ছাড়া তাকে যেন গ্রেফতার করা না হয়। সিআইডি তৃপ্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করে হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন করেছে বলে আদালতের কাছে দাবি করেন এ আইনজীবী। এর আগে ১০ আগস্ট তৃপ্তিকে আদালতে হাজির করে আফতার হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিলেন সিআইডির ইন্সপেক্টর সুব্রত কুমার সাহার। এছাড়া তৃপ্তির জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ওই দিন আদালত রিমান্ড ও জামিনের বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে তৃ্প্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেন। আফতার হত্যা মামলায় গত ৮ আগস্ট রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তৃপ্তিকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের বাসায় ঢুকে অধ্যাপক আফতাবকে গুলি করে অজ্ঞাতনামা তিন তরুণ। আরকে//
১০ শর্তে পাওয়া যাবে লাইসেন্স

আদালতের নির্দেশে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। ওই প্রতিবেদনে যে যোগ্যতার ভিত্তিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করা হয়, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল রোববার বিকালে প্রতিবেদন দাখিলের পর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। আদালতে জাবালে নূর পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে ৩০ জুলাই এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। এছাড়া চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কোন যোগ্যতার ভিত্তি দেওয়া হয় এবং সড়কে চলাচলকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বিআরটিএকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো- ১. বাংলা অথবা ইংরেজি লিখতে এবং বলতে পারা। ২. প্রার্থীর বয়স ২০ বছর হওয়া। ৩. রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপযুক্ততার মানদণ্ডে উত্তীর্ণপূর্বক শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করা। ৪. শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ অন্তত দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ডের পরিচালিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা। ৫. ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ডের পরিচালিত লিখিত, মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া। ৬. আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানার পুলিশ যাচাই প্রতিবেদন সঠিক হওয়া। ৭. রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপযুক্ত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া। ৮. অন্তত তিন বছর হালকা বা মধ্যম শ্রেণির মোটরযান চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলে কোনো আবেদনকারী মধ্যম বা ভারী (যে ক্ষেত্রে যেটা প্রযোজ্য) মোটরযান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। তবে শর্ত থাকে যে, উপযুক্ত বলে বিবেচিত কোনো শ্রেণির লোকজনকে সরকার এই বিধির কার্যকারিতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবে। ৯. কমপক্ষে তিন বছর হালকা বা মধ্যম শ্রেণির মোটরযান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা সাপেক্ষে আবেদনকারী মধ্যম বা ভারী (যে ক্ষেত্রে যেটা প্রযোজ্য) মোটরযান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে পূর্বানুরূপে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করা এবং এর মেয়াদ কমপক্ষে দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ডের পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া। ১০. পরিবহন যানের চালকদের আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) থেকে ইস্যুকৃত পাবলিক সার্ভিস ভেহিকল অথরাইজেশন (পিএসভি) প্রাপ্ত হওয়া। নবায়ন ১. মোটরযান পরিদর্শকের ফিল্ড টেস্টে কৃতকার্য হওয়া। ২. প্রার্থীদের রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় (উপযুক্ততার মানদণ্ডে) উত্তীর্ণ হওয়া। / এআর /

নড়াইলের মামলায় খালেদার জামিন

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ‘বির্তকিত’ মন্তব্য করার অভিযোগে নড়াইলে করা একটি মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জেষ্ঠ্য আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল ও সগির হোসেন লিয়ন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কামরুল ইসলাম খান। এর আগে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আসেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও আরও কয়েকটি মামলার কারণে তার মুক্তি হচ্ছে না।  নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর। / এআর /

পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের রায় আজ

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধে দায়ের করা মামলায় পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রোববার এ দিন ধার্য করেন। গত ৩০ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এটি হবে ২০১০ সালে গঠিত ট্রাইব্যুনালের ৩৪তম রায়।অভিযুক্ত পাঁচ আসামি হলো- পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের গিলাবুনিয়া গ্রামের এছাহাক শিকদার, বল্লভপুর গ্রামের সোলায়মান মৃধা, গলাচিপা গ্রামের আবদুস সাত্তার পেদা, আবদুল গণি হাওলাদার এবং মো. আউয়াল ওরফে মৌলভী আবদুল আউয়াল। সবাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে।ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামি পক্ষে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান।২০১৭ সালের ৮ মার্চ এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণসহ  বিভিন্ন অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৫ নারীকে ধর্ষণ ও ১৭ জনকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৮ জন বীরাঙ্গনা এখনও বেঁচে আছেন। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের ৪ মে স্থানীয় ১৫টি বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ রয়েছে।তারা আরও জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধের সময় এই আসামিদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সাক্ষীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানিয়েছেন, হত্যা ও ধর্ষণের যে দুটি অভিযোগ প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে এনেছে, আদালতে তারা তা প্রমাণ করতে পারেননি এবং সাক্ষীরা এই আসামিদের নাম বলেননি। তাই আসামিদের খালাস চাওয়া হয়েছে।ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ নিজ এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত হওয়ার অভিযোগ এনে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাঁচ আসামির সবাই একাত্তরে ছিল মুসলিম লীগ সমর্থক। আর ২০১৫ সালে গ্রেফতার হওয়ার সময় তারা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিল।এসএ/

জিহাদের বাবা-মা’র ব্যাংক হিসাবে ক্ষতিপূরণের টাকা

রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলের পরিত্যক্ত নলকূপের পাইপে পড়ে মারা যাওয়া শিশু জিহাদের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা তার বাবা-মার ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছে রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি শেষে ২০ লাখ টাকার চেক ও পে অর্ডার জিহাদের মা-বাবার নামে খোলা একটি যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী আব্দুল হালিম। জিহাদের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ চেয়ে এই আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন, যাতে আদালত ২০ লাখ ক্ষতিপূরণ দিতে রায় দিয়েছিল। হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস ও রেল কর্তৃপক্ষ। গত ৫ আগস্ট তা খারিজ করে দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরপরই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছে সরকারি সংস্থা দুটি। অ্যাডভোকেট হালিম গণমাধ্যমকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ১০ লাখ টাকার পে অর্ডার এবং রেলওয়ে ১০ লাখ টাকার চেক দিয়েছে। যতটুকু জেনেছি, চেক এবং পে অর্ডারটি জিহাদের পরিবারের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। তবে এখনও নগদায়ন হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে খোলা থাকা কয়েক’শ ফুট গভীর একটি নলকূপের পাইপের ভেতরে পড়ে যায় চার বছরের শিশু জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। পাইপে জিহাদের অস্তিত্বই নেই- এমন সন্দেহ রেখেই উদ্ধার অভিযান স্থগিত করার কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকজন তরুণের তৎপরতায় তৈরি করা যন্ত্রে পাইপের নিচ থেকে তুলে আনা হয় অচেতন শিশুটিকে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বেঁচে নেই। পরে ওই ঘটনার দুই দিন পর চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হালিম জিহাদকে উদ্ধারে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। তাতে জিহাদের মৃত্যুর জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আরজি জানানো হয়। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে। জিহাদের মৃত্যুর জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষতিপূরণের পক্ষে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়ে রেলওয়েকে ১০ লাখ এবং ফায়ার সার্ভিসকে ১০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ ছিল রায়ে।   কেআই/এসএইচ/

আপিল বিভাগে খালেদার জামিন বহাল

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে বোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিনের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৭ জুলাই এ মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল মো. মমতাজ উদ্দিন ফকির, মুরাদ রেজা। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও ড. বশির উল্লাহ। অন্যদিকে, আদালতে আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ ছাড়া আদালতে ছিলেন অ্যাডভেকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং তাদের সঙ্গে ছিলেন কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ। গত বৃহস্পতিবার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ২০ দলীয় জোটের অবরোধের সময় চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে আটজন যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয়জন নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে বন্দি রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একে//

কারামুক্ত হাসনাত করিম  

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার মামলায় গ্রেফতার হওয়া হাসনাত রেজাউল করিম দুই বছর কারাগারে থাকার পর অবশেষে কারামুক্ত হলেন।    বৃহস্পতিবার বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষক। তার আগে বুধবার ঢাকার আদালত গুলশান হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পুলিশের সুপারিশে হাসনাত করিমকে অব্যাহতির আদেশ দেন। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, আদালতের কাগজপত্র গত রাতে কারা অফিসে পৌঁছেছিল। আজ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়। কারাগার থেকে বেরিয়ে একটি কালো জিপে করে স্বজনদের সঙ্গে ঢাকার পথে যাত্রা করেন হাসনাত করিম। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। গত ২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর। আসামিদের মধ্যে ছয়জন কারাগারে এবং দুজন পলাতক রয়েছেন। কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দানের সুপারিশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে ও পাঁচজন হলি আর্টিজানেই নিহত হন। গুলশানের হলি আর্টিজানে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ নিহত পাঁচজন হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত ৮ জন হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান। এসি   

রাগিব আলী ও তার ছেলের সাজা বহাল 

আপিলেও রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই এর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৪ বছরের সাজা বহাল রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আপিল শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ আদেশ দেন।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী এ সম্পর্কে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতি করে তারাপুর চা বাগান দখলের মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের তৎকালীন বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো ১৪ বছরের সাজা দেন। সেই সাজার বিরুদ্ধে রাগিব আলী সিলেট বিশেষ দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। কয়েক দফা আপিল শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বহাল রাখা হয়। আদালত সূত্র জানায়, তারাপুর চা-বাগানের ভূমি আত্মসাতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন তৎকালীন সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। রায়ে রাগীব আলী ও তার ছেলেকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই সময় আদালত এ মামলার রায়কে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রায় অভিহিত করে বলেন, ‘রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই শুধু সিলেট নয়, দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তি কীভাবে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নিজের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি জালিয়াতি করে এবং মানবিকতার মুখোশ পরে জনসম্পদ আত্মসাৎ করছে তার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত এটি। এ মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এছাড়া আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাগীব আলীর পক্ষে তার মালিকানাধীন চা-বাগানের দুজন ব্যবস্থাপকও সাক্ষ্য দিয়েছেন। আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট এটিএম মাসুদ টিপু ও অ্যাডভোকেট মঈনুল ইসলাম প্রমুখ। এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি