ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৯:৩৪

তুলসি পাতার নানাগুণ

তুলসি পাতার নানাগুণ

হাজার হাজার বছরে ধরে বিভিন্ন রোগ সারাতে তুলসি পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে থাকা বেশ কিছু শক্তিশালী উপাদান নানাবিধ রোগ দূর করতে দারুণ ভাবে কাজ করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা তুলসি পাতা না চিবিয়ে জলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমাদের এ আয়োজনে তুলসি পাতার বেশ কিছু উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ১. রক্ত পরিশুদ্ধ করণে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনিটি তুলসি পাতা খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর ভিতর থেকে চাঙ্গা হয়ে ওঠে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ২. ব্রণের প্রকোপ কমে তুলসি পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুদের সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলে। ফলে ব্রণর প্রকোপ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। প্রসঙ্গত, ব্রণর চিকিৎসায় তুলসি পাতা খেতে পারেন অথবা সরাসরি মুখে পেস্ট বানিয়ে লাগাতে পারেন। দুই ক্ষেত্রেই সমান উপকার পাওয়া যাবে। ৩. ডায়াবেটিস দূরে থাকে গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা মরে যায়। এছাড়াও মেটাবলিক ড্য়ামেজের হাত থেকে লিভার এবং কিডনিকে বাঁচাতেও তুলসি পাতা দারুণ ভাবে সাহায্য করে। ৪. ক্যান্সার দূরে থাকে তুলসি পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরে যাতে ক্যান্সারের সেল জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারে কাছে আসার সুযোগ পায় না। গবেষণায় দেখা গেছে তুলসি পাতা লিভার, ওরাল এবং স্কিন ক্যান্সারের প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আসলে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের পাশাপাশি তুলসি পাতার ভেতরে থাকা একাধিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৫. স্ট্রেস কমায় তুলসি পাতা খেলে কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। ফলে স্ট্রেস লেভেলও কমতে শুরু করে। কারণ কর্টিজল হরমোনের সঙ্গে স্ট্রেসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমাতেও তুলসি পাতা দারুণ ভাবে সাহায্য করে। ৬. সর্দি-জ্বরের প্রকোপ কমায় তুলসি পাতা হল প্রকৃতির অ্যান্টিবায়োটিক। তাই জ্বর এবং সর্দি-কাশি সারাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খুবই উপকারি। যে ভাইরাসের কারণে জ্বর হয়েছে, সেই জীবাণুগুলোকে মারতে ধ্বংস করে এই তুলসি পাতা। ৭. মাথা ব্যাথা কমাতে তুলসি পাতায় সিডেটিভ এবং ডিসইনফেকটেন্ট প্রপাটিজ থাকার কারণে যে কোন ধরনের মাথা যন্ত্রণা দূর করতে সাহায্য করে। তাই আপনি যদি প্রায়শই সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে তা কমানের জন্য তুলসি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। ৮. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ছানি এবং গ্লকোমার মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন আটকাতেও সাহায্য করে। সূত্র: বোল্ড স্কাই এম/টিকে
চুল পরা বন্ধে ঘরোয়া টোটকা

চুল পরে যাওয়া কম বেশি সবার কাছেই  বাজে একটা অভিজ্ঞতার নাম। চুল পরা বন্ধ করতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি। একের পর এক প্রসাধনী ব্যবহার করি চুল পরা বন্ধ করার জন্য। তবে প্রতিদিন যদি ৫০-১০০ টি মত চুল পরে তাহলে তা খুবই সাধারণ ব্যাপার। অন্যদিকে মুঠো মুঠো চুল পরে যেতে শুরু করলে তখন তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ। এই দুশ্চিন্তাকে দূর করতে ঘরোয়াভাবে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। আমাদের এ আয়োজনে চুল পরা বন্ধ করার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো। নারকেল  নারকেল তেলের কি কি গুণ আছে, তা  আমরা সবাই জানি। তবে, অনেকেই আছেন যারা চুল পড়া শুরু হলে চুলে তেল দেওয়া বন্ধ করে দেন, যা একেবারেই উচিত নয়। কারণ নারকেল তেল চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নারকেল তেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, খনিজ উপাদান এবং প্রোটিন থাকে, যা চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে পারে। নারকেল তেলের পাশাপাশি নারকেলের দুধ চুলে ব্যবহার করা যায়। পদ্ধতি  কিছুটা নারকেল তেল গরম করতে হবে। তারপর চুলের গোঁড়া থেকে আগা অবধি ভাল করে মালিশ করতে হবে। একঘণ্টা রেখে চুলে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। পেঁয়াজের রস পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে, যা চুল লম্বা করতে এবং কোলাজেন উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। চুলের গোঁড়ায় পেঁয়াজের রস লাগালে চুল পরা বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজায়। পদ্ধতি একটি পেয়াজ টুকরো টুকরো করে কেটে তার মধ্যে থেকে রস বের করে নিতে হবে। এবার সেই রস মাথায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে এবং চুল শুকিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে দুইবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। রসুন পেঁয়াজের মতো রসুনেও উচ্চমাত্রায় সালফার থাকে। এটি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়।  পদ্ধতি কয়েকটি রসুন থেঁতো করে নিতে হবে। এবার তার মধ্যে নারকেল তেল ঢেলে কয়েক মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা করে মাথায় মালিশ করতে হবে। ৩০ মিনিট রেখে তারপর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুবার এটি করলে চুল ভালো থাকবে। হেনা  হেনা অনেকেই চুলে ব্যবহার করে থাকেন। হেনা মূলত চুলে রঙ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, হেনার বহু গুণ রয়েছে। হেনা চুলকে গোঁড়া থেকে শক্ত হতে সাহায্য করে। হেনার সঙ্গে আরও বেশ কিছু উপাদান মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে মাখলে চুল ভাল থাকে।  পদ্ধতি একটি পাত্রে ২৫০ মিলিলিটার সরষের তেল নিতে হবে। এরমধ্যে ৬০ গ্রাম পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখা হেনা পাতা অথবা মেহেন্দি পাতা দিতে হবে। এবার এটি ফুটাতে হবে এবং তেলটি ছেঁকে নিতে হবে। তারপর এই তেল প্রতিদিন মাথায় মালিশ করতে হবে। এই তেল খুব যত্ন করে হাওয়া রোধক পাত্রে রেখে দিতে হবে। জবা জবা ফুল চুলের জন্য দারুণ উপকারি। এটি চুলকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে, চুল সাদা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এমনকি, খুশকি দূর করাসহ চুল পরে যাওয়া বন্ধ করে। পদ্ধতি কয়েকটি জবা ফুলের সঙ্গে তিলের তেল এবং নারকেল তেল মিশিয়ে বেঁটে নিতে হবে। এবার চুলের গোঁড়ায় ভাল করে লাগাতে হবে। কয়েক ঘণ্টা চুলে রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। আমলকি যাদের খুব বেশি চুল পরে যাওয়ার সমস্যা আছে, তাদের জন্য আমলকী খুবই উপকারি। কারণ, আমলকীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। পদ্ধতি আমলকির রস বা আমলকী গুঁড়ো লেবুর রসের সঙ্গে মেশাতে হবে। এবার চুলের গোঁড়ায় লাগাতে হবে এবং শুকিয়ে না যাওয়া অবধি রেখে দিতে হবে। এবার অল্প গরম জলে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। ডিম ডিমের মধ্যে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা আমাদের চুল পরা বন্ধ করতে পারে। যেমন- সালফার, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, আয়োডাইন, জিঙ্ক এবং প্রোটিন। এই প্রতিটি উপাদানই চুল বৃদ্ধি করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। পদ্ধতি একটি ডিমের সাদা অংশ নিতে হবে। এরমধ্যে এক চা চামচ অলিভ অয়েল মেশাতে হবে। এই দুই উপাদান ভাল করে মিশিয়ে একটি পেস্টের মতো বানাতে হবে। এবার চুলের গোঁড়ায় লাগাতে হবে। ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জল এবং শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। সূত্র: বোল্ড স্কই এম / এআর  

খুশকি তাড়ানোর ঘরোয়া পদ্ধতি

শীতকাল আসতে একটু দেরি হলেও ইতোমধ্যে এসেছে শীতের আমেজ। একইসঙ্গে নিয়ে এসেছে ত্বক শুষ্ক হাওয়াসহ নানা সমস্যা। শীতের সময় বেশি সমস্যায় থাকতে হয় চুল নিয়ে। শীত আসলে মাথায় চামড়া শুকিয়ে যায়। খুশকির প্রকোপ কয়েকগুণ বৃদ্ধিপায়। তবে খুশকি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি।    নারকেল তেল এবং লেবুর রস সবচেয়ে উপকারি হলো নারকেল তেল। খুশকি নিবারণ করতে এর চেয়ে থেকে ভালো কিছু হয় না। আর এর সঙ্গে যদি লেবুর রস মেশানো যায়, তাহলে তো কথাই নেই। ক্ষতিকারক কেমিকেলের থেকে নারকেল তেল এবং লেবুর রসের মিশ্রণ খুশকি তাড়াতে দারুণ কাজে আসে। এক্ষেত্রে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল গরম করতে হবে। এর সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মেশাতে হবে। তারপর সেই মিশ্রন লাগাতে হবে মাথায়। ২০ মিনিট রেখে ভাল করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। মেথির হেয়ারপ্যাক মেথি ব্যবহার করলে খুব সহজে খুশকির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও মেথি চুল পড়া, অকালপক্বতা এবং উকুনের মতো সমস্যা দূর করতেও কাজে আসে। এমনকি, চুলের গোঁড়া শক্ত করতে এবং চুলকে ঝলমলে রাখতে পারে মেথি। সারা রাত অল্প পরিমাণ পানিতে মেথিদানা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর জল থেকে মেথি আলাদা করে বেঁটে নিতে হবে। এবার বেঁটে রাখা মেথি এক ঘণ্টার জন্য চুলের গোঁড়ায় মেখে রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। দই যারা চুলে হেনা করেন, তাদের অনেকেই দইও ব্যবহার করে থাকেন। দই চুলকে সুস্থ এবং উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধুমাত্র চুলকে উজ্জ্বল রাখাই নয়, চুলের নানারকম সমস্যা দূর করতেও দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। যেমন, খুশকি দূর করতে দই খুবই উপকারি একটি উপাদান। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে দই চুলের গোঁড়ায় এবং চুলে লাগিয়ে নিতে হবে। এবার এক ঘণ্টার জন্য দই লাগিয়ে রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। বেকিং সোডা খুশকি তাড়াতে বেকিং সোডাও দারুণ কাজ করে। শুধু তাই নয়, চুলের বৃদ্ধিতেও বেকিং সোডা সমান ভাবে উপকারি। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুশকি তাড়াতে হলে অবশ্যই বেকিং সোডা ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে চুল সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে এক চামচ বেকিং সোডা নিয়ে চুলের গোঁড়ায় মালিশ করতে হবে। ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড রেখে চুল ধুয়ে নিতে হবে। টি ট্রি অয়েল বাড়িতে বসে ঘরোয়া উপায়ে খুশকি তাড়াতে হলে খুব কার্যকরি উপায় হল টি ট্রি অয়েল। নিয়ম করে এই তেলটি ব্যবহার করলে খুশকি খুব সহজে দূর হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, এই তেলটির আরও গুণ রয়েছে। ত্বকের যত্নেও এই টি ট্রি অয়েল দারুণ উপকারি ভূমিকা নেয়। কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল চুলের গোঁড়ায় দিতে হবে এবং ভালো করে মালিশ করতে হবে। পাঁচ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। তারপর চুলে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। আপেল সিডার ভিনেগার খুশকি তাড়ানো এবং চুল পড়ে যাওয়া সত্যিই খুব চিন্তার বিষয়। চুলের সৌন্দর্য সারাজীবনের জন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদি এই দুই সমস্যা আপনার সঙ্গে হয়ে থাকে। তবে, এই সমস্যা থেকে আপনাকে সহজেই মুক্তি দিতে পারে আপেল সিডার ভিনেগার। এক্ষেত্রে সমপরিমাণ আপেল সিডার ভিনেগার এবং পানি নিয়ে মেশাতে হবে। এবার চুল ভিজিয়ে এই মিশ্রণটি ভেজা চুলে লাগাতে হবে। ভালো করে মালিশ করে ১৫ মিনিটের জন্য চুলে রেখে দিতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে। হেনা চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে হেনা যে কতটা বড় ভূমিকা গ্রহণ করে, তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই। চুলকে ঘন, লম্বা এবং মজবুত করতে যেমন হেনা সাহায্য করে, তেমনই হেনা খুশকি দূর করতেও কাজে দেয়। হেনার সঙ্গে চায়ের লিকার, দই এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশাতে হবে। এবার এই মিশ্রণটি ৮ ঘণ্টা ধরে একটি পাত্রে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। এবার চুলের গোঁড়ায় এবং চুলে লাগাতে হবে। টানা দুই ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে নিতে হবে। টিআর/ডব্লিউএ

কর্মক্ষমতা বাড়ায় মধু ও দারুচিনি

রোগ থেকে মুক্তির জন্য অনেক প্রাকৃতিক উপকরণ রয়েছে। কিন্তু আমরা এ প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করি না বা করতে জানি না। প্রাকৃতিক এ উপাদান গুলোর মধ্যে মধু ও দারুচিনি সবার কাছেই সুপরিচিত। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এই দুই প্রকৃতিক উপাদান যদি একসঙ্গে  খাওয়া যায়, তাহলে শরীরে ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা এবং ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। আজকে আমাদের এ আয়োজনে মধু ও দারচিনির বিভিন্ন স্বাস্থগুণ সম্পর্কে আলোচনা করব।   ১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রতিদিন পরিমাণ মতো দারচিনির পেস্টের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।এতে শরীরে বিভিন্ন উপকারী উপাদান জমা হবে । এই উপকারী উপাদান সমূহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে  পরিবারে কি ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস রয়েছে? তাহলে  আজ থেকেই দরচিনি এবং মধু খাওয়া শুরু করতে পারেন। কারণ এই দুই প্রকৃতিক উপাদান ইনসুলের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। ৩) ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে  মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দেয় ।এতে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। অন্যদিকে দারচিনিতে উপস্থিত অ্যান্টি-টিউমার প্রপাটিজ শরীরে কোথাও টিউমার হতে দেয় না। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না। ৪)  হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে  বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত দারচিনি এবং মধু খেলে স্টমাকে উপস্থিত গ্যাস বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদহজম এবং বুক জ্বালার মতো সমস্যা কমে যায়। প্রসঙ্গত, ব্লাডার ইনফেকশনের মতো রোগের চিকিৎসাতেও এই দুটি প্রকৃতিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৫)  আর্থ্রারাইটিসের প্রকোপ কমায়  নিয়মিত গরম পানিতে পরিমাণ মতো মধু এবং দারচিনি পেস্ট মিশিয়ে খেলে জয়েন্টে প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হাড়ও শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর্থ্রারাইটিসের মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। ৬)  ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়  সপ্তাহে ২-৩ দিন পরিমাণ মতো দারচিনি পেস্ট নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে  মুখে লাগাতে পারেন। এতে স্কিনের যে কোন সমস্যা কমে যায়। সেই সঙ্গে কোষের উপরের স্থরে জমতে থাকা মৃত কোষের স্থর সরে যায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণচ্ছল হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে বলিরেখা এবং বয়সের ছাপও কমতে থাকে। ৭)হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়  শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল মাত্রা কমাতে মধু ও দারচিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।এতে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।এছাড়াও মধুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের  প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই নিয়মিত মধু ও দারচিনি খেলে হার্ট ডিজিজ এবং হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকাংশ কমে যায়। সূত্র: বোল্ড স্কাই / এম / এআর    

ধূমপায়ীদের মহৌষধ কলা

কলা নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে। কেউ বলেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। আসলে কিন্তু তা নয়। ধূমপায়ীদের জন্য মহৌষধ এই ফল। একমাস সকালের নাশতায় দুটো করে পাকা কলা খেয়ে দেখুন। তফাতটা কি আপনি নিজেই বুঝবেন । আর তাছাড়া কলা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে।   ১. অ্যালার্জি কলায় থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড নন-অ্যালার্জিক। ফলে, অ্যালার্জির ধাত থাকলে কলা খেতে পারেন। ২. অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা: কলায় উচ্চমাত্রায় আয়রন রয়েছে। অ্যানিমিয়ার চিকিত্সায় অত্যন্ত জরুরি উপাদান।   ৩. ইনস্ট্যান্ট এনার্জি কলায় সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজের উপস্থিতি ইনস্ট্যান্ট এনার্জির যোগান দেয়। ফলে, শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে কলা খেতে পারেন।   ৪. কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে রোজ কলা খাওয়ার অভ্য্যাস গড়ে তুলুন। পেট পরিষ্কার হবে। ডায়েরিয়াতেও কলা উপকারী।   ৫. আমাশায়: বাচ্চাদের পেটে আম হলে, পাকা কলা চটকে খাওয়ালে ভালো কাজ দেয়।   ৬. হ্যাংওভার কাটায় অল্প মধুর সঙ্গে কলার মিল্কশেক বানিয়ে খেলে হ্যাংওভার কাটে। শরীর হয় চাঙ্গা।   ৭. ধূমপান ছাড়তে চাইলে ধূমপান ছাড়তে চাইলে রোজ কলা খাওয়ার অভ্যেস করুন। বা, যাঁরা বেশি ধূমপান করেন, তাঁরাও নিয়মিত কলা খেতে পারেন। কারণ, কলায় থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন ও ম্যাগনেশিয়াম নিকোটিনকে শরীরের বাইরে বের করে দেয়।   ৮. মেজাজ ঠিক রাখে কোনও কারণে মেজাজ চড়া? কলা খান। কলায় উপস্থিত ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড সেরোটোনিন তৈরি করে, যা মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।   ৯. মস্তিষ্ক সতেজ রাখে কলাতে থাকা পটাশিয়াম মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখে।   ১০. কিডনির সমস্যায় কলায় ভরপুর কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। একইসঙ্গে আছে স্বল্প পরিমাণ প্রোটিন। যা কিডনি ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে জরুরি।   ১১. ওভার ওয়েটে সর তোলা দুধের সঙ্গে নিয়মিত কলা খান। অতিরিক্ত ওজন কমবে।   ১২. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় কলায় উপস্থিত পটাশিয়াম বডি ফ্লুইড বা দেহরসকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোষের মধ্যে ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স করে। যার জন্য ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।   ১৩. রক্তের জন্য ভালো কলায় রয়েছে ভিটামিন বি৬। এটি হিমোগ্লোবিন ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে কাজে লাগে।   ১৪. হাড় মজবুত করে কলায় থাকা পটাশিয়াম ক্যালসিয়ামের ঘাটতি কমিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমায়। হাড়কে করে তোলে শক্তপোক্ত।   ১৫. স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় কলায় উপস্থিত পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রকে চাঙ্গা রাখে। স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিয়মিত কলা খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্তত ৪০ শতাংশ কমে।   ১৬. অন্ত্রের অসুখে অতি সহজে হজম হয়। ফলে, অন্ত্রের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য কলা ভীষণ উপকারী।   ১৭. আলসারে অ্যান্টি-অ্যাসিডের কাজ করে। ফলে, আলসারের রোগীদের জন্য ভালো। ১৮. দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে বয়স বাড়ার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ডেভেলপমেন্ট। নিয়মিত কলা (বা অন্যান্য ফলমূল) খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে পারবেন। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া কে আই/ এআর

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে চান, এই ৬ খাবার খান

মেডিকেল সায়েন্সের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে বতর্মানে প্রায় অনেকেই দৃষ্টিহীনতাসহ দুর্বল দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন। দিন দিন তা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুষ্টিহীনতাকে এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় । তবে কর্মব্যস্ততা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনসহ আরও নানা কারণে ২৫-৪০ বছর বয়সিদের শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শরীরের কার্য ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যাচ্ছে। আমাদের এ আয়োজনে এমন কিছু খাদ্য দ্রব্য নিয়ে আলোচনা করব যার মাধ্যমে দৃষ্টি শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ১) সবুজ শাক-সবজি  বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই শাক-সবজি খেতে তেমন একটা পছন্দ করেন না। কিন্তু শাক না খেলে চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটা সম্ভব নয় ।আর চোখে যদি আলো না থাকে, তাহলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় অন্ধত্বও দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে অনেকেই প্রথমে চশমা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু চশমা ব্যবহার করাটাই মূল সমাধান নয়।কেননা বয়স যত বাড়তে থাকবে  চোখের দৃষ্টি শক্তি তত কমতে থাকবে। তাই তো প্রতিদিন নিয়ম করে সবুজ শাক সবজি খেতে পারেন। কারণ এই ধরনের শাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জিয়াক্সেনথিন নামে বেশ কিছু উপকারি উপাদান থাকে। এ উপাদানগুলো ছানি ছাড়াও একাধিক চোখের রোগ থেকে আপনাকে মুক্তি দেবে। ২) চোখ ভাল রাখতে ডিম ডিমে থাকা উপকারী পদার্থ শরীরে লুটেইন, জিয়াক্সেনথিন এবং জিঙ্কের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানগুলি চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে দারুন ভাবে সাহায্য করে থাকে। ৩) লেবু জাতীয় ফল মৌসম্বি লেবু, কমলা লেবু এবং পাতি লেবু বেশি করে খাওয়া শুরু করুন। এই সব ফলে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে। এই ভিটামিগুলো  ছানি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তিরও উন্নতি ঘটায়। ৪) বাদাম বাদামে থাকা উপস্থিত ভিটামিন  চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই যদি চশমা ব্যবহার করতে না চান, তাহলে আজ থেকেই রোজের ডায়েটে বাদামকে অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। ৫) মাছ  ছোট মাছ তো বটেই সেই সঙ্গে  সামদ্রিক মাছও খেতে হবে। আসলে সামুদ্রিক মাছে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। ৬) ভূট্টা ভূট্টাতে প্রচুর পরিমাণ লুটেইন এবং জিয়াক্সেনথিন রয়েছে। এই দুটি উপাদান শরীরের জন্য খুবই উপকারী । তাই ভুট্টা নিয়মিত খেলে চোখের উন্নতি ঘটবে। সূত্র বোল্ড স্কাই এম

চশমার স্ক্রাচ দূর করার ঘরোয়া উপায়

চশমা যখন ব্যবহার করি না তখন সেটা যত্ন করে কাপড়ে মুড়ে তার বাক্সে রাখার কথা। কিন্তু আমরা অনেকেই চশমার এমন যত্ন নেই না। আলস্য কিংবা ব্যস্ততার কারণে চশমা খুলেই যেখানে সেখানে ফেলে রাখি। অনেক সময় পকেটে বা ব্যাগে অন্যান্য জিনিসের মাঝে রাখি চশমা। ব্যাগে চাবি, পয়সা কিংবা অন্য কোনো শক্ত জিনিসে ঘষা লেগে সহজেই স্ক্র্যাচ পড়ে যায় চশমার কাঁচে। এছাড়া টেবিল, মেঝে কিংবা আলমারির কাঠেও ঘষা লেগে এমন স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। তখন দেখতে যেমন সমস্যা হয় তেমনি চশমাটাও পুরনো মনে হয়। এ প্রেক্ষাপটে কাঁচের স্ক্রাচ দূর করার উপায় অনেকে জানি না বলে স্ক্রাচ পড়া চশমাটিই ব্যবহার করি। আসুন জেনে নিই চশমার স্ক্র্যাচ দূর করার ঘরোয়া উপায়। আপনার দরকার হবে এক টুকরো নরম, সুতি কাপড় আর টুথপেস্ট। স্ক্র্যাচের উপর অল্প করে টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন। এরপর কাপড়টা দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভালো করে মুছে নিন কাঁচটাকে। টুথপেস্টের দাগ মুছে গেলে দেখবেন এর সাথে সাথে স্ক্র্যাচও চলে গেছে। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে সাদা টুথপেস্ট ব্যবহার করা ভালো। সূত্র : সিলেক্টস্পিসডটকম। ডব্লিউএন

ই-সিগারেট থেকে ধূমপানে আসক্তি

কৈশোর থেকে ই-সিগারেট টানার অভ্যাস থাকলে পরে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ইলেকট্রিক সিগারেট, ই-সিগ, ভেপ ইত্যাদি আমাদের দেশেও বেশ পরিচিত। আর কিশোর, তরুণদের মধ্যে ব্যবহার করার প্রচলনও রয়েছে প্রচুর। যন্ত্রটিকে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবে দেখলেও বর্তমানে এটি নতুন ধরনের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ছড়িয়ে পড়েছে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের হাতেও। কানাডার ওন্টারিওতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, কম বয়সে ভেপ ব্যবহার করা  ছেলেমেয়েদের অধিকাংশই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে সিগারেট মুখে তুলে নিচ্ছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ডেভিড হ্যামন্ড বলেন, “ইলেকট্রিক সিগারেটের ব্যবহার ধূমপানে অভ্যস্ত হওয়াকে আরও সহজ করে তুলছে।” কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল (সিএমএজে)-তে প্রকাশিত এই গবেষণাটিতে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের ৪৪ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হয়। গবেষকরা প্রথম পর্যায়ে ৮৭টি বিদ্যালয়ে ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইলেকট্রিক সিগারেট ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণ করেন। শিক্ষার্থীদের ছয় ভাগে ভাগ করেন গবেষকরা, বর্তমান নিয়মিত ধূমপায়ী, বর্তমান অনিয়মিত ধূমপায়ী, প্রাক্তন ধূমপায়ী, ধূমপানের স্বাদ চেখে দেখছে, এখনও সিগারেটের ধোঁয়া ফুসফুসে নিতে পারে না এবং কখনই ধূমপান করেনি। দুই পর্যায়েই গবেষণা শুরুর ৩০ দিন আগে যারা ইলেকট্রিক সিগারেট ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের মধ্যে শিগগিরই সিগারেটে অভ্যস্ত হওয়ার এবং একবছর পরেও ধূমপান চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রকট ছিল বলে দাবি করেন গবেষকরা। গবেষণায় শুধুমাত্র ইলেকট্রিক সিগারেট পান করা থেকে সিগারেট পান করার সুত্রপাত নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক সিগারেটের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। হ্যামন্ড বলেন, “ইলেকট্রিক সিগারেট আর সিগারেটের মধ্যকার সম্পর্কটা পরস্পরের উপর প্রভাব বিষয়ক নয়, বরং দুটোতে অভ্যস্ত হওয়ার কারণ বিষয়ক। যেসব ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক কারণে ইলেকট্রিক সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে, ঠিক একই কারণগুলো কিশোরদের ধূমপানে অভ্যস্ত করে তুলতে পারে।” এই কারণগুলো ইলেকট্রিক সিগারেটের তুলনায় সিগারেটেই অভ্যস্ত করে বেশি। তবে ইলেকট্রিক সিগারেটের মাধ্যমে অল্পবয়সেই নিকোটিনের সংস্পর্শে আসার ফলে পরে সিগারেটে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা যে বাড়ায়- সে আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। / কে আই

জিরা  ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারীতা

বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও জিরার ব্যবহার রয়েছে। এই মশলাটি রান্নার স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়।তবে শুধু যে স্বাদের জন্যই এ মশলাটি ব্যবহার করা হয় তা ভাবা উচিত নয়। কেননা প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে জানা যায় যে এ মশলাটি  রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতেও বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশ-ভারতের পাশাপাশি সমগ্র এশিয়া মহাদেশেই  জিরার স্বাস্থ গুণাগুণের জন্য বিশেষভাবে সুপরিচিত।তবে অমরা যেমন রান্নায় জিরাকে ব্যবহার করে থাকি।অন্যান্য দেশে রান্নাসহ জিরা ভিজিয়ে রেখে এর পানি পান করে থাকে।আজকে আমাদের এ আয়োজনে থাকবে জিরা ভিজিয়ে খেলে কি কি উপকারীতা পাওয়া যায়।   ১) হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে   বাঙালি মানেই জন্ম খাদ্যরসিক। আর এমনটা হওয়া মানেই বদ-হজম এবং পেটে গ্যাস জমা । এমন অবস্থা যদি আপনারও হয়ে থাকে, তাহলে আজ থেকেই প্রতিদিন এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো জিরা ভিজিয়ে সেই পানি পান করা শুরু করুন, দেখবেন অধিক পরিমাণ খাবার খেলেও এবার থেকে আর বদ-হজন হবে না।  জিরাতে থাকা একাদিক উপাকারি উপাদান হজম শক্তির উন্নতি ঘটানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । ২. শরীরকে ভিতর থেকে তরতাজা রাখে  নিয়মিত জিরার পানি পান করলে শরীরে জলের ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে দেহের অন্দরের তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে শরীর শুকিয়ে গিয়ে কোনও ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। শরীরকে ডিহাইড্রেট করার পাশাপাশি খাওয়া মাত্র দেহের ভিতরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক হতে শুরু করে। ফলে শরীরে লিকুইড ব্যালেন্স ঠিক থাকে। সেই সঙ্গে শরীর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ৩. রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতা বাড়ায়  জিরায় উপস্থিত আয়রন শরীরে প্রবেশ করার পর লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতিও দূর করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোন রোগই ধারে কাছে আসতে পারে না । তাই সারা বছর যদি চাঙ্গা থাকতে চান, তাহল আজ থেকেই জিরা পানি  খাওয়া শুরু করতে পারেন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। ৪. ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে  প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করে জিরা পানি  খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স যেমন ঠিক থাকবে  ঠিক তেমনি পটাশিয়ামের ঘাটতিও দূর করতে সাহায্য করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড প্রেসার কমতে শুরু করে। আসলে পটাশিয়াম, শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে থাকে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা নিয়মিত যদি এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে হার্ট নিয়ে চিন্তা  অনেকটাই কমে যাবে। ৫. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে জিরায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে দেয়। ফলে খাবার এত সুন্দরভাবে হজম হতে শুরু করে যে ওজন বাড়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। ফাইবার আরেকভাবেও ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। আর কম খাবার খাওয়া মানে ওজনও কমে যাওয়া। সূত্র: বোল্ড স্কাই এম    

ওজন ঝরান ঘুমিয়ে

ডায়েট, জিমের কসরত, কিছুতেই যেন কিছু কাজ হচ্ছে না। উফ!ওজন খালি বেড়েই চলেছে। সারাক্ষণ খালি একটাই চিন্তা কী করলে ওজন কমবে?  বিজ্ঞানীরা শোনাচ্ছেন চমৎকার এক তথ্য। তারা বলছেন, ওজন ঝরাতে সবচেয়ে ভালো উপায় হল ঘুম। অন্য যে কোনও শারীরিক কসরতের চেয়ে তা অনেক বেশি কার্যকরী। তবে এর জন্য কিছু জিনিস মেনে চলতে হবে। কী কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক- হাল্কা ডিনার: রাতে শুতে যাওয়ার আগে হাল্কা খান। অত্যধিক পরিমাণে খেলে বদহজম হতে পারে, যা আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাবে। এর ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরই শরীরে আলসেমি থাকবে। একই সঙ্গে পরিমিত খাবার ওজন বাড়তে দেবে না। শুতে যাওয়ার আগে হার্বাল চা: শুতে যাওয়ার আগে হার্বাল চা খান। এটা শরীরকে রিল্যাক্স করবে, ভালো ঘুম হবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চ্যামোমাইল, পিপারমিন্ট, লেমনগ্র্যাস, রোজবাডস এই চা-গুলো শরীরের জন্য ভালো। মাংস: ভেড়া বা টার্কির মাংস রাখুন ডিনারে। ভেড়া বা টার্কির মাংসে ট্রিপ্টোফ্যান থাকে। এটি একধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড যা ঘুমকে গাঢ় করে। গবেষকরা বলছেন, ভালো ঘুম হলে শরীরে ৬ শতাংশ ক্যালোরি শরীরে কম যুক্ত হয়। দানা শস্য: দানা শস্যে প্রচুর পরিমাণে সেরোটোনিন থাকে। যা উদ্বেগ কমায়। মুড নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুমের সময় এই হরমোন মেলাটোনিনে পরিণত হয়, যা ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। ফাইবার: দিনে ২০ গ্রাম করে ফাইবার খান। কোনও সাপ্লিমেন্ট নয়, ফাইবারযুক্ত খাবার খান। ফাইবার সেরাটোনিনকে মেলাটোনিনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত করে। / কে আই  

সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে ওঠে যেভাবে

দাম্পত্য জীবন মানে দু’জন মানুষের একসাথে বাকী জীবনটুকু কাটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। এই সম্পর্কের জন্য দু’জনের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পাশাপাশি থাকা দরকার বন্ধুত্ব। তবে সুখী দাম্পত্যের মাঝে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। জেনে নিন যে অভ্যাসগুলো আপনার দাম্পত্য জীবনকে সুখী করবে। অবসর সময় কাটানো: বিয়ের সম্পর্কের মাঝে সবসময় আবেগ থাকবে এমনটা নয়। বরং একে অন্যের অবসরের সময়গুলো ভাগ করে নেওয়া, একসাথে কাটানো, বিনোদনের সঙ্গে থাকা ইত্যাদির মাঝেও থাকে অব্যক্ত ভালোবাসা, বোঝাপড়া। আপনার মনের মানুষটি প্রিয় লেখকের গল্পের বই পড়ছেন, আপনি কিছু ছোলা, বাদাম, বুট নিয়ে আপনার পছন্দের কোনো বই নিয়ে বসে পড়ুন তার কাছে। একসাথে বই পড়ার সময় বা খাওয়ার সময় গল্প করুন। এতে সম্পর্কের ভিত গভীর হয়। একে অন্যের প্রশংসা করা: খুব ছোট্ট করে জীবন সঙ্গীটার কোনো কাজের জন্য প্রশংসা করুন। প্রশংসা করার ব্যপারটা খুব সাধারণ মনে হলেও এই সামান্য কাজটিই খুব অসাধারণ! মনে রাখবেন, কারোর কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া এবং টাকা পাওয়া মনের উপর একই ধরণের প্রভাব ফেলে থাকে! আমি তোমাকে ভালোবাসি : বনি উইন্সটন-এর মতে, দিনের শুরুতে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজ সঙ্গীকে ভালোবাসি বলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিন শব্দের এই বাক্যটি ছোট হলেও অটুট বন্ধনের জন্য খুবই কার্যকর। সুস্থ সুন্দর সম্পর্কে থাকা প্রতিটি মানুষ একে অন্যকে বলা উচিত। একে অন্যকে ধন্যবাদ দেওয়া : জীবনসঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা দরকার। মনে রাখবেন শুধু কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনই নয়, এর মাধ্যমে তার প্রতি নিজের ভালোবাসাও প্রকাশিত হয়। ধন্যবাদ জানানোর জন্য স্পেশাল কোনো কাজের প্রয়োজন নেই বা খুব বড় কোনো কারণ খোঁজার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ঘরের কাজ, নিজের কাজের জন্যই একে অন্যকে ধন্যবাদ জানানো যায়। সঙ্গী মানুষটি হয়তো ঘর ঝাড়ু দিচ্ছেন, ঘর গোছাচ্ছেন কিংবা চা বানাচ্ছেন। তাকে সুন্দর করে ধন্যবাদ জানান। ‘আস্ক ফর হোয়াট ইউ ওয়ান্ট এন্ড গেট ইট’ বইয়ের লেখিকা গ্লিডা কার্লা বলেন, জীবন সঙ্গী প্রাত্যহিক জীবনের ছোটখাটো কাজের জন্য যে অবদান রাখেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাটা জরুরি। একে অন্যের হাত ধরে থাকা: কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা হাঁটতে বের হলে একে অন্যের হাত ধরে থাকুন এতে সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশিত হয়। সঙ্গীকে শুধুমাত্র স্পর্শ করার মাঝে অথবা তার সংস্পর্শে থাকার মাঝেও মানসিক এবং শারীরিকভাবে তার সাথে সংযুক্ত থাকা যায়। একসাথে হাসা : ডাক্তারের কাছে যাওয়া, দাওয়াতে অথবা অফিস শেষে ঘরে ফেরার পথে নিজেদের জন্য খাওয়ার কিছু নিয়ে আসুন। এই অভ্যাসগুলো কারোর আলাদাভাবে তৈরি করে নিতে হয় না। একসাথে আনন্দিত হওয়ার মতো উপলক্ষ খুঁজে বের করুন। সেটা হোক কোনো মজার সিনেমা একসাথে দেখা অথবা একসাথে রান্না করা। একে অন্যের প্রয়োজনগুলো শোনা : ডাক্তার কার্লা বলেন, সুস্থ সুন্দর সম্পর্কের যুগলেরা একে অন্যের সত্যিকারের অনুভূতিগুলো সরাসরি বলার প্রতি জোর দিয়ে থাকেন। তারা নিজেদের অনুভূতিগুলো একে অন্যের সাথে খোলামেলাভাবে প্রকাশ করে থাকেন। এতে একটি দাম্পত্য সম্পর্কের মাঝে কোনো লুকোছাপা থাকে না। তারা একে অন্যের কাছে মনের ইচ্ছা, মতামত, আকাঙ্ক্ষা সোজাসাপ্টা ভাবে প্রকাশ করে থাকেন।   আর/ডব্লিউএন  

আসছে শীত, আপনি কি প্রস্তুত?

শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। এই সময় আবহাওয়া আগের চেয়ে অনেকটা বদলে যায়। তার প্রভার পরে শরীরের উপর। এই সময়ে ঠোঁট ফাটা, হাত-পায়ে চামড়া উঠা এবং এলার্জি জাতীয় নানান সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ সময়ে সাবধানতা অবলম্বর করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের এ আয়োজনে এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি যা এই শীতে আমাদরে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।    শরীর ঢেকে রাখুন কম তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে শরীরে ভাইরাস ও ছত্রাক জাতীয় জীবের বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই শীতকালে যতটা সম্ভব শরীর ঢেকে রাখা ভালো। সবজি ও ফল খান এ সময়ে মৌসুমি ফল ও সবজি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ফল ও সবজি অত্যন্ত প্রয়োজন। শীতের নানা ধরনের সবজি, যেমন: গাজর, বিট, টমেটো ত্বকের জন্য ভালো। তাই প্রতিদিন তাজা ফলমূল ও সালাদ খান। পানি পান করুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ শরীর সজীব ও সতেজ রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা দরকার। এই শীতে ত্বক তো বটেই, সারা শরীরে সুস্থতার জন্যই পানির কোনো বিকল্প নেই। তাই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা দরকার। ঠোঁটের যত্নে করণীয় ঠোঁট মুখের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক গুণ বেশি নাজুক ও কোমল হয়ে থাকে। বিশেষ করে শীতের সময়ে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এই শীতকালে ঠোঁটের যত্নে জেলি ব্যবহার করুন। মধু, লেবুর রস ও গ্লিসারিন একসাথে মিক্স করে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। প্রতিদিন ব্যবহার করার মাধ্যমে ঠোঁটের রং ও নমনীয়তা বজায় রাখেতে পারবেন।    স্বাস্থ্যকর খাবার খান বিশেষ করে শীতকালে খাবার বেশ মজাদার হয়। একইসঙ্গে খাওয়াটাকে উপভোগ করা যায়। ফলে এইসময়ে শাক-সবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন ও সুস্থ থাকুন। পায়ের যত্ন শীতকালে পা ফাটার সমস্যা সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করে। এই সমস্যা এড়াতে রাতে পা ভালো করে ধুয়ে গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে লাগান। তবে পায়ে বেশি সাবান লাগাবেন না। সকালে গোসলের পর ভেজা পায়ে ক্রিম লাগিয়ে মোজা পরে নিন। হাল্কা গরম পানিতে গোসল পুরো ঠান্ডা বা প্রচণ্ড গরম পানিতে গোসল না করে শীতকালে পানির ঠান্ডাভাব কাটিয়ে গোসল করুন। এতে শরীরের প্রাকৃতিক তেল বজায় থাকাসহ শরীর সুস্থ থাকবে। এম/ডব্লিউএন

প্রেমে পড়লে শরীরে যে ধরনের পরিবর্তন আসে

প্রেমে পড়লে শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, হাত ঘামতে থাকে, পেটের ভেতর কেমন শিরশির করে-এসব তো সিনেমার কল্যাণে সকলেরই প্রায় জানা হয়ে গেছে। বাস্তবে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এক ধরণের হরমোন আমাদের মনে উত্তেজনা ছড়ায় আর তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ওইসব ঘটে ৷ প্রেমে পড়লে যে হরমোনের জন্য মন এত উতলা হয়-সেগুলো সম্পর্কে জানা যাক। আদতে প্রেমে পড়লে দেহ-মনে যেসব প্রতিক্রিয়া হয় তার জন্য দায়ী টেস্টোস্টেরন নামের এক হরমোন ৷ কেউ বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি আকৃষ্ট হলে টেস্টোস্টেরন বাড়তে শুরু করে ৷ প্রেমের ওই প্রাথমিক ধাপেই দেখা দেয় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপার মতো উপসর্গগুলো৷ দেখা গেছে, প্রেমে পড়া মানুষের দেহে অন্য সব মানুষের তুলনায় টেস্টোস্টেরন অনেক বেশি থাকে। প্রেমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে নেমে পড়ে ডোপামিন ৷ এই হরমোন-এর অন্য নাম, ‘সুখের হরমোন’৷ শুধু প্রেমে পড়লেই যে এই হরমোন ক্রিয়াশীল হয় তা কিন্তু নয়, কোকেন বা সিগারেটের নেশা করলেও ডোপামিন উজ্জীবিত হয় ৷ এ কারণেই অনেকে বলেন, প্রেমে পড়া আর নেশা করা একই। সেরোটোনিন নামে এক ধরণের হরমোন আছে যা আমাদের মনের আনন্দ আর আবেগকে স্থির রাখে ৷ প্রেমে পড়লে সেরোটোনিন কমে যায় ৷ ফলে প্রেমিক-প্রেমিকার আবেগ সংবরণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে ৷ তারা তখন ভালোবাসার মানুষটিকে ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারেনা ৷ তবে প্রেমের যে পর্যায়ে বুক ধড়ফড় করে, হাত ঘামায় তখন অ্যাড্রেনালিন নামের একটা হরমোনও খুব বেড়ে যায় ৷ এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষুধা কমে যায় ৷ কম খাওয়া-দাওয়া করার ফলে শরীর দ্রুত ভেঙে পড়তে থাকে ৷ প্রেমে পড়ার তিন-চার মাস পর সাধারণত সম্পর্কে একটা স্থিতি আসে ৷ তখন শুরু হয় আরেক হরমোন অকসিটোসিনের কাজ ৷ এই হরমোন দেহে বিশেষ বিশেষ মুহূ্র্তে, যেমন মা যখন বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তখন তৈরি হয় ৷ এই হরমোনের কারণে দু-জনের সম্পর্কটা আরেও ঘনিষ্ঠ হয় ৷ প্রেমিক-প্রেমিকা যখন চুম্বন করেন, তখনও দুজনের শরীরে অকসিটোসিন তৈরি হয় ৷ আর এভাবেই দুজন দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পথে এগিয়ে যান ৷ সূত্র : কলকাতা টুয়েন্টিফোর এমআর / এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি