ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ২৩:২১:৫২

রাজধানীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ

রাজধানীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ফালু নামে ১৪ মামলার এক আসামি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন চার পুলিশ সদস্য। গুলিবিদ্ধ ফালু মাদক বিক্রেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফিট এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এসআই নয়ন মিয়া বলেন, মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফিট এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গেলে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ফালু গুলিবিদ্ধ হলে তাকে আহতাবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। এছাড়া এ ঘটনায় আহত চার পুলিশ সদস্যকে বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশলাইনস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এসআই। একে//
হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ট্রান্সফর্মার

সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ট্রান্সফর্মার থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ট্রান্সফর্মার যদি হয় কোনো আবাসিক ভবনের সীমানা প্রাচীরের ওপর তাহলে সেটি কেমন হয়? অথবা ভবনের বারান্দা থেকে যদি হাত বাড়িয়েই ধরা যায় ট্রানফর্মারটি সেটাই বা কতটা সুবুদ্ধির কাজ? সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায়। আবাসিক ভবনের হাত দূরতে বসানো হয়েছে ট্রানফর্মারটি। যেটি ফ্ল্যাটের বেলকনি থেকে হাত দিয়ে ধরা যায়। এতে জীবন ঝুঁকিতে আছে ওই বাড়ির পাঁচটি পরিবার। ৮৯/৭ উত্তর যাত্রাবাড়ি ধলপুরের ওই ভবনটিতে গিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটিতে প্রবেশ করতে হলে কুর্নিশ করতে হবে ট্রান্সফর্মারটিকে। ভবনের মূল ফটকের ওপর এমনভাবে ট্রান্সফর্মারটি বসানো হয়েছে যে, ভবনে প্রবেশের সময় আপনা থেকেই মাথা নোয়াতে হবে। শুধু তাই নয়, দোতলার বারান্দার এত কাছে এই ট্রান্সফর্মারটি যে, বারান্দা থেকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে এটিকে। ভবনটি মালিক, মালিকের স্বজন এবং ভাড়াটিয়াসহ মোট পাঁচটি পরিবার বসবাস করেন। এদের মধ্যে সবথেকে ঝুঁকিতে আছেন ভবনে থাকা শিশুরা। ভবনটিতে পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে মোট ছয় জন শিশু-কিশোর বসবাস করে। ভবনটির এক বাসিন্দা ফাইজা তাসনিম জানান, বাড়িতে শিশুরা আছে। আমরা না হয় বুঝে চললাম। ওরা কী করবে? এখন কী ওদের বারান্দায় যাওয়া বন্ধ করব? নাকি ঘর থেকে আসা যাওয়া বন্ধ করব আমরা? এমনিতেই ঢাকা শহরে একটু ঘুরে বেড়ানোর জন্য ফাঁকা জায়গা নেই। এসব শিশুদের জন্য তো বারান্দাই খেলার জায়গা। বাড়ির মালিক আলমগীর খান ইটিভি অনলাইনকে জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে এভাবে ট্রান্সফর্মারটি বসানো হয়। আগে এটির বসানোর জায়গা ছিল আরেক জায়গায়। তারপর দুই দফা স্থান পরিবর্তনের পর আমার বাসার সামনে এভাবে বসানো হয়। আমি বারবার আপত্তি জানালেও আমার কোনো কথাই শোনেনি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। আলমগীর খান দাবি করেন, মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারের প্রতিবেদন উপেক্ষা করেই স্থানীয় কিছু লোকজনের সাহায্য নিয়ে জোর করে এই ট্রান্সফর্মার স্থাপন করেন স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস এর প্রকৌশলী ফয়েজ করিম। তিনি (আলমগীর) বলেন, ট্রান্সফর্মার যখন স্থাপন করা হচ্ছিল তখনও সুপারভাইজার সাহেব ওনাকে (ফয়েজ) মোবাইলে বলেছেন যে, এখানে ট্রান্সফর্মার বসানো বিপজ্জনক। তবুও তিনি এখানেই বসালেন। এখন পর্যন্ত তিন বার আমি লিখিত আবেদন করেছি বিদ্যুৎ অফিসে। কোনো কাজ হয়নি। প্রতিটা দিন আমাদের আতংকের মধ্যে দিয়ে কাঁটে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ওই বাসার বাসিন্দাদের জীবন ও চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন। ভুক্তভোগী ভবন বাসিন্দাদের স্থানীয় ইউএনও অথবা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি। মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধিতে ‘পাবলিক নুইস্যান্স’ নামে একটি বিষয় আছে। এই ভবনের ব্যাপারে যা জানলাম তাতে এ ধরনের একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৩২ এর লংঘন। এরজন্য ভবন মালিক চাইলে স্থানীয় ইউএনও অথবা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি পিটিশন দায়ের করতে পারেন। তার আবেদন সত্য হলে জেলা প্রশাসক বিদ্যুৎ অফিসকে ওই ট্রান্সফর্মারটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেবেন। এরপরও যদি এই উপায়ে সমাধান না হয় তাহলে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করতে পারবেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।  রাজধানীর এই এলাকার বিদ্যুতের দেখভালের দায়িত্ব আছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ডিপিডিসি। ট্রান্সফর্মারটি বিষয়ে জানতে অত্র এলাকার প্রকল্প অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়েজ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার জন্য নির্ধারিত মুঠোফোন নম্বর (০১৭৩০৩৩৫২৮৩) এ যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বদরুল আলমের ভাষ্য, ট্রান্সফর্মার বসানো তো সরকারি কাজ। আমাদেরকে এটা করতেই হবে। আমরা তো সড়কের ওপর তা বসাতে পারব না। আমাদেরকে বসাতে হবে সড়কের পর এবং ভবনের আগে। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, সড়কের পাশে থাকা ভবন নির্মাণের সময় পাঁচ ফুট জায়গা ছাড়তে হয়। ওই ভবনটির মালিক হয়তো সেই জায়গা ছাড়েননি। এ কারণেই ট্রান্সফর্মারটি হয়তো ভবনের খুব কাছে স্থাপিত হয়েছে। আর ভবন মালিক আলমগীর খানকে নতুন করে ডিপিডিসিতে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (এনওসিএস, মানিকনগর) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ভবনের মালিক নতুন একটি আবেদন করুক আমাদের কাছে। আমরা যাচাই বাছাই করে তার আবেদনের সত্যতা পেলে ট্রান্সফর্মারটি সরিয়ে দেব। তবে ভবনের বাসিন্দা এবং স্থানীয় লোকজনের প্রশ্ন, যাচাই বাছাই না করেই কী তাহলে ট্রান্সফর্মারটি বসানো হয়েছে? এতে যদি জান ও মালের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় তার দায়ভার কে নেবে? / এআর /   

রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবীরা (ভিডিও)

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবীরা। ধীরে ধীরে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছে শহর। ভিড় বাড়ছে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে। আপনজনের সাথে ঈদ ভালবাসা বিনিময় শেষে আবারও ইট পাথর আর কংক্রিটের এই শহরে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। সরকারী অফিস আদালত ব্যাংক খুললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো খোলেনি। তাই এখনো স্বাভাবিক হয়নি রাজধানীর জীবনযাত্রা। আর তাই, এর প্রভাব পড়েনি সদরঘাটে। অনেকেই পরিবার-পরিজন বাড়িতে রেখেই ঢাকা ফিরেছেন। এ কারণে লঞ্চে তুলনামূলক ভিড় কম। একই চিত্র বাস টার্মিনালেও। এদিকে সিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্রেন। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুয়েক দিনের মধ্যেই ভিড় বাড়বে। চেনা পরিবেশে ফিরবে রাজধানী।

রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

রাজধানীর মিন্টো রোডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে রিংকু (৩৪) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক রিকশাচালক। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাত পৌনে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত রিংকুর বাসা রাজধানীর ওয়ারীতে। এক সন্তানের জনক রিংকু ওয়ারীতে মুদি দোকানের ব্যবসা করতেন। তিনি পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতেন। এসআই মোশারফ হোসেন বলেন, মিন্টো রোড দিয়ে যাওয়ার সময় একটি রিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারালে রিংকু ছিটকে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।  মোটরসাইকেলের গতি খুব বেশি ছিল। এর ফলে রিকশাটি দুভাগ হয়ে গেছে বলে জানান এসআই। একে//

ঘুরতে এসে ছিনতাইয়ের শিকার জার্মান তরুণী : আবেগঘন স্ট্যাটাস

বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জার্মানির এক তরুণী। তার নাম সুইন্ডে উইদারহোল্ড। পরে কাঁদতে কাঁদতে দেশ ত্যাগ করেছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি।সুইন্ডে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফটোগ্রাফি শিখতে আর ছবি তুলতে। ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালের অস্থায়ী আবাসে ফিরতে তিনি একটি রিকশা ভাড়া করেন। রিকশাটি জিগাতলা পার হয়ে সীমান্ত স্কয়ারের ফটকে আসামাত্র একটি সাদা গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি তার ব্যাকপ্যাকটি টান মেরে নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে তার ল্যাপটপ, ক্যামেরা, ক্রেডিট কার্ড এবং তার দুটি হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছিল। সব হারিয়ে শুক্রবার ভোরে কাঁদতে কাঁদতে ঢাকা ছাড়েন ওই জার্মান তরুণী।ওই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী সুইন্ডে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত কাউকে কিংবা খোয়া যাওয়া ব্যাকপ্যাক উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) পারভেজ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিদেশি তরুণীর করা মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সংগ্রহ করা সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজও দেখা হচ্ছে। অপরাধীকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা করছি।সুইন্ডের বাংলাদেশি বন্ধু শশাঙ্ক সাহা গণমাধ্যমে বলেছেন, গত জানুয়ারিতে ধানমন্ডির পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে ফটোগ্রাফি কোর্স করতে ঢাকায় আসেন সুইন্ডে। তিনি চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্প, সুন্দরবন, কুয়াকাটাসহ অনেক জায়গায় প্রচুর ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিগুলো বিভিন্ন বন্ধুর কম্পিউটারে জমা ছিল। আবেগঘন স্ট্যাটাসওই ঘটনায় হতবিহ্বল সুইন্ডে উইদারল্যান্ডের ইনস্টাগ্রামে পোস্টও দিয়েছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘একটি ঘটনা পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণে অভিজ্ঞতাটি কালো মেঘে ঢেকে দিল। না, এটা (বাংলাদেশ) ভ্রমণের জন্য নিরাপদ নয়। একা ভ্রমণ না করাই ভালো।...আমি কেবল একটি কথাই বলতে পারি, দেখে-শুনে চলো, নিজের ক্ষেত্রে সাবধানে থেকো।...আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বাংলাদেশ ছাড়ছি।’/ এআর /

রাজধানীতে বস্তির আড়াই শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই (ভিডিও)

আগুনে পুড়ে গেছে রাজধানীর ভাটারার ফাঁসেরটেক বস্তির আড়াই শতাধিক ঘর। তবে, এ ঘটনায় কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নগদ টাকা ও সহায় সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন এসব বস্তিবাসী। রাত হতে না হতেই শেষ হলো ঈদ আনন্দের রেশ। সর্বগ্রাসী আগুন নিমিষেই ছাই করেছে, রাজধানীর ভাটারা ফাঁসের টেক বস্তি। রাত সাড়ে দশটায়, চুলার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পরো বস্তিতে।   শুধু প্রাণ নিয়ে, নিরাপদ স্থানে সরে আসতে পেরেছেন বস্তিবাসীরা। টাকা-পয়সা, চাল-চুলো, কোন কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তারা। ঘটনাস্থলে যাওয়ার রাস্তা সরু হওয়ায় দেরীতে পৌছে ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে সহায়-সম্বল সব পুড়ে ছাই।  নগদ টাকা সহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি বলে, জানিয়েছেন এসব সহায়-সম্বলহীন মানুষ।

ঈদের দিন যা থাকছে খালেদার খাবার মেন্যুতে  

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে এখনো পুরাতন কারাগারে আছেন। দুই মামলার জামিন হাইকোর্ট থেকে স্থগিত হওয়ায় ঈদের আগে আর বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই ৪ মাস ধরে কারাগারে থাকা খালেদার। তাই এবার কারাগারেই ঈদ করতে হচ্ছে খালেদাকে। ঈদের দিন কারাগারে থাকা অন্যান্য কয়েদিদের মতো তিনি পাবেন বিশেষ খাবার।       খালেদা জিয়া ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠেই পাবেন পায়েস, সেমাই ও মুড়ি যার সবই কারারক্ষীদের তৈরি। দুপুরের মেন্যুতে রয়েছে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ভাত অথবা পোলাও পাবেন খালেদা। সঙ্গে থাকবে ডিম, রুই মাছ, মাংস আর আলুর দম। রাতের আয়োজনে থাকছে পোলাও, গরু অথবা খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন, পান-সুপারি এবং কোমল পানীয়। ঈদের দিন খালেদার খাবার নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির গণমাধ্যমকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মেন্যুটা সাধারণ কয়েদিদের মতো হলেও তার জন্য রান্না হবে আলাদাভাবে।  জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ঈদের দিন অনুমতি সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এছাড়াও এদিন আমরা পরিবারের খাবার একসেপ্ট করি। তবে পরিবারের আনা খাবারগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিকে খালেদার পাশাপাশি একই খাবার পাবেন আদালতের অনুমতি নিয়ে তার সহযোগিতায় কারাগারে গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম (৩৫)। খালেদার সঙ্গে ফাতেমার পরিবারের লোকজনও তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে যাবেন বলে জানা গেছে। এদিকে খালেদার জন্য রান্না করা খাবারের রান্নার মসলা ও পরিমাণ উল্লেখ করা থাকবে কারা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী। এছাড়াও এসব মেন্যুর বাইরে খালেদা জিয়া অন্য কোনো খাবার খেতে চাইলে কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন। তবে সেই আইটেম তাকে দিতে বাধ্য নয় কারা কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা ঘোষণার দিন থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। কয়েকবার জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোয় জামিন প্রক্রিয়াটা জটিল হয়ে পড়ে। তাই এবার কারাগারেই ঈদ করতে হচ্ছে খালেদাকে।   এমএইচ/এসি     

বাচ্চু হত্যার নেপথ্যে আনসার আল ইসলাম: মনিরুল

মুক্তচিন্তার লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুর হত্যার নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনসার আল ইসলামের অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাচ্চু হত্যার সঙ্গে মিল রয়েছে। ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ জুন) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি।   মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শাজাহান বাচ্চুকে হত্যার পর সিটিটিসি`র দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। হত্যার আলামত পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও নিহত বাচ্চুর প্রোফাইল ঘেঁটে এটিকে জঙ্গিগোষ্ঠীর হত্যা বলেই মনে হয়েছে। আনসার আল ইসলামই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে আমরা সন্দেহ করছি।` তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে আনসার আল ইসলামের গ্রেফতার হওয়া সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’ এর আগে আনসার আল ইসলাম যত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেসব হত্যায় তারা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই প্রথমবার তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩ সালে মোহাম্মদপুরে রাকিব মামুন নামে এক ব্লগারকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো সাধারণত মানসম্পন্ন অস্ত্র নয়, যে কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে চাপাতি ব্যবহারের সিদ্ধন্ত নেয় তারা।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোপূর্বে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনসার আল ইসলামের সদস্যরা মনে করে, চাপাতি তাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য অস্ত্র এবং এটি অস্ত্র আইনের আওতায় পড়ে না। এটি বাড়িতে রাখা যায়, কাছ থেকে টার্গেটকে সরাসরি হত্যায় ব্যবহার করা যায় বলে চাপাতি ব্যবহার করে এই সংগঠনটি।’ তিনি বলেন, ‘আনসার আল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের কাছে থাকা অস্ত্র পালানোর সময়ও ব্যবহার করে। লালমাটিয়ায় প্রকাশক টুটুল হত্যাচেষ্টার সময়ও তাদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। আগ্নেয়াস্ত্র মূলত আত্মরক্ষার জন্য বা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা ব্যবহার করে না।` মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যার স্থানটি যেহেতু খুবই জনবহুল ছিল, চাপাতি দিয়ে খুন করে পালানো সম্ভব নয়, এমন ধারণা থেকেই তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পরে লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।` শাহজাহান বাচ্চুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যালোচনা করে ইতোপূর্বে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যার ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করছেন সিটিটিসি প্রধান। এসি    

ঈদে ফাঁকা ঢাকা শহরে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ: আইজিপি  

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, পুলিশের তৎপরতার কারণে এবার ঢাকায় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সবাই নির্বিঘ্নে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন। পুরো রোজা শেষ হয়ে গেলেও কোথাও কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি। ঈদের পরও কিছু হবে না বলে আশা করছি।   আজ শুক্রবার রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গার্মেন্টসগুলো একসাথে ছুটি হওয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে তবুও দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। ঈদে ফাঁকা ঢাকায় পুলিশ নিরাপত্তা দেবে। তবে বাসায় ভালো করে তালা মেরে যাবেন বলেও জানান পুলিশের এ নতুন মহাপরিদর্শক। এসি     

রনির সম্মান কি ফিরিয়ে দিতে পারবেন?  

রাজধানীতে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হক রনি ওরফে রনি হক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন তার স্ত্রী (নাম গোপন রাখা হল)। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রনিকে পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আর এর জন্য অভিযোগের তীর ছোড়েন প্রতিবেশীদের দিকে।    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা জানান রনির সহধর্মিণী। তিনি বলেন, “ওকে (রনি) ফাঁসানোর জন্য, আমাদের মেরে ফেলার জন্য; পুরো পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য কেউ এই ষড়যন্ত্র করছে। পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্যই এমনটা করা হচ্ছে”।  এসময় তিনি দাবি করেন যে, রনি তার মা এর কথামত দেশের বাড়ি থেকে নতুন চাল আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় তারও সাথে যাওয়া কথা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি যাননি। এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যে তার স্ত্রীকে নিয়ে বের হতে চাচ্ছিল সে কীভাবে গাড়িতে অন্য নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করবেন?” প্রায় ছয় মিনিটের ঐ ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামীকে গাড়ি থেকে বের করে এনে বিবস্ত্র করা হয়। ড্রাইভারের পরনেও লুঙ্গি ছিল। এমনকি যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয় সেখানে শুরুতে মেয়ে দুইটিকে দেখা যায়নি। মেয়েগুলোকে পরে আনা হয়েছে। মেয়েগুলো যদি গাড়িতেই থাকতো তাহলে গাড়িতে কেন আগে থেকে ভিডিও করা হল না? গাড়িতে মেয়েগুলো ছিলই না আর আমার স্বামীও উলঙ্গ ছিল না গাড়িতে”। রনির স্ত্রী দাবি করেন যে, ঐ দিন বাসা থেকে বের হওয়ার পর বাসার কাছেই কিছু মোটর সাইকেল চালকদের সাথে বাক বিতণ্ডা হয় রনির। তারা রনিদের প্রতিবেশী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি রনির স্ত্রী। তবে ঐ বাইক চালকদের থেকে রনি টাকা পাবেন বলে জানান তিনি। আর সেই টাকার জন্যই পরিকল্পিত এই ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যদি এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হতো তাহলে সবাই তাঁকে (রনি) নিয়েই থাকতো। তাঁকে তো পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমাদেরকে নিয়ে (পরিবারের সদস্যদের) কেন কথা বলা হচ্ছে? কেন আমার ছবি ছড়ানো হচ্ছে? এর কারণ আমাদের পরিবারটিকেই ছোট করা হচ্ছে”।   একই ভিডিও বার্তায় স্বামীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন রনির স্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার স্বামী (রনি) মাদক কী তাই জানে না। সে কখনও মাদক বা মদ নেয়নি। আর আমাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ চমৎকার। আমাদের মধ্যে কোন ঝামেলা নাই। আমাদের এলাকায় এসে দেখতে পারেন। আমাদের ফেসবুক আইডিতে দেখবেন আমাদের ভিতরে কতো মিল মহব্বত! সে যদি ভালো না হতো তাহলে তো তার সঙ্গে নয়-দশ বছর যাবত সংসার করতে পারতাম না। আমার স্বামী আমাকে ছাড়া ঘরে বাইরে কোথাও রাত কাটায় না”। তবে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন রনির স্ত্রী-ও। কিন্তু তদন্ত ও আদালতের রায়ের আগে রনি ও তার পরিবারের মান হানি না করার অনুরোধ জানান তিনি। এসময় সর্বসাধারণের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “আপনারা আমার স্বামীকে গালি দেওয়ার আগে একটু চিন্তা করে দেখেন যে, আপনারা কী করতেছেন এগুলি? পরে যদি প্রমাণিত হয় যে উনি (রনি) সৎ এবং নির্দোষ ছিল তাহলে কী আপনারা তার সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবেন? সে কী আর কখনও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে? আপনারা রনি’র সাথে সাথে আমাদেরকেও হেয় করতেছেন। আমাদের বাচ্চারা এতে করে স্কুলে যেতে পারবে না। আমার স্বামী যদি খারাপ কিছু করে তাহলে তদন্ত করে তার শাস্তি হোক। কিন্তু যারা অসৎ উদ্দেশ্যে এসব করেছে তাদেরও শাস্তি হোক”। প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাজধানীর কলেজগেট এলাকা থেকে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয় রনিকে। চলন্ত গাড়ি থেকে কয়েকজন মোটর বাইক চালক এবং জনতা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সমর্পণ করে। সেসময় ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরালও হয়। এ বিষয়ে একটি মামলা হলে তিন দিনের রিমান্ডে শেরে বাংলা নগর থানার পুলিশি হেফাজতে আছে রনি হক।     এসি    ভিডিও লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/adeelah.rehman.1/videos/257286568341661/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি