ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:৪৮:১৩

স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন মেয়র আনিস

স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন মেয়র আনিস

মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন প্রাকৃতিকভাবেই শ্বাস নিতে পারছেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকেরা তাঁকে এখনো ঘুম পাড়িয়ে রাখছেন। লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়রের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর পারিবারিক বন্ধু আব্দুন নূর তুষার মেয়রের স্ত্রী রুবানা হকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে  বলেন, মেয়রকে এখন পর্যন্ত ঘুম পাড়িয়ে রাখা হলেও ঘুমের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। উনি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। নিজ থেকে স্বাভাবিকভাবে ঘুম থেকে পুরোপুরি জেগে ওঠার পর তাঁর শরীরে রোগটি কতখানি প্রভাব ফেলেছে, সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহ আগে তিনি লন্ডন থেকে ফেরার সময়েই মেয়রের কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তিনি যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই শ্বাস নিতে পারছেন। গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।//এআর
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত

রাজধানীর মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা একটি বাস ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুর কাজীপাড়ার ‘লাইফ এইড স্পেশালাইজড হসপিটাল’র সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনায় ঘটে। নিহত স্কুলছাত্রীর নাম তাসলিমা আলম তৃষা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তেতুলিয়া পরিবহনের একটি বাস কাজীপাড়ার ‘লাইফ এইড স্পেশালাইজড হসপিটাল’র সামনে তৃষাকে চাপালে দিলে ওই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনায় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা বাসটিতে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করে। পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। স্থানীয়রা ওই ঘটনায় বাসটি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।   আর/টিকে

যানজট-জলযটে নাকাল রাজধানীবাসী

রাজধানীতে সকাল ছয়টার পর থেকেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। টানা বর্ষণের রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ জলযটের কারণেই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এসময়  চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষসহ সাধারণের। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন রিকশা চালকরা। তারা দ্বিগুন থেকে তিনগুন বেশি ভাড়া আদায় করছেন সাধারণদের কাছ থেকে। আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকায় আজ সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই ভোগান্তির চিত্র। নগরের নতুন বাজার থেকে জোয়ার সাহারা, সাতরাস্তা থেকে কারওয়ানবাজার মোড়, সায়েন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেট-নীলক্ষেত এলাকা, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, বাংলামোটর, মগবাজার, মৌচাক, পল্টন, গুলিস্তান, পুরান ঢাকায় যাতায়াতের সড়কগুলোয় ছিল যানজট। এতে এসব সড়কের সামনে রিকশা, সিএনজি, মাইক্রোবাস, বাস, মোটরবাইকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর, চ্যামেলীবাগ, মালিবাগ, পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোড, নাজিম উদ্দিন রোড, শহীদ নগর এলাকার অলিগলি, মধুবাজার, খিলক্ষেত এলাকাসহ মহানগীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। মালিবাগের বাসিন্দ রাবেয়া খানম জানান, সকাল ৭টায় মেয়েকে স্কুলে দিয়ে অফিসে যাব। হঠাৎ বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। রাস্তায় হাটুপানি থাকায়ে এখন কোন যানবাহন পাচ্ছি না। রিকশা চললেও তারা এই সুযোগে ভাড়া নিচ্ছেন তিনগুন বেশি। মগবাজার এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন,  বৃষ্টির জন্য দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া বেশি চেয়েছে সব রিকশাওয়ালা। ৩০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা দিয়ে সাত রাস্তায় তাঁর অফিসে পৌঁছান তিনি। রিকশা চালকরা জানান, বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালাচ্ছি, আপনাদের অফিসে পৌছে দিচ্ছি একটুতো ভাড়া বেশি দিবেন। এদিকে বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তি দেখা যায়, কারওয়ান বাজারের কূলি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের। বৃষ্টিতে ভিজেই কূলিরা তাদের কাজ চালিয়ে যান। আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা সবজিসহ কাঁচা পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েন।অনেক জায়গায় পানিতে ভাসতে দেখা যায় তাদের বিক্রির জন্য রাখা সবজি। আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সারা দেশেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটেও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।   //আর//এআর

রাজউক গ্রাহকের ৮৩৭ জনের ফ্ল্যাট নম্বর চূড়ান্ত

ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে বরাদ্দকৃত গ্রহীতাদের মধ্যে আজ ফ্ল্যাট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ৪ কিস্তি পরিশোধকারী ১,৮৩২ জন গ্রহীতার মধ্যে ৮৩৭ জনের ফ্ল্যাট নম্বর চূড়ান্ত করা হলো। এ বছরের ডিসেম্বরে সব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। রাজউক মিলনায়তনে লটারি অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নাসের এজাজ বিজয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে রাজউক ফ্ল্যাট প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আগে রাজউক শুধু প্লট উন্নয়ন করতো। ফ্ল্যাট প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে উত্তরায় ৬,৬৩৬টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আরও ৪,৮০০ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ঝিলমিল প্রকল্পে ১৪ হাজার এবং পূর্বাচলে ৭০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। পূর্বাচলে ১০০ একর জমির ওপর ১৪২ তলার একটি আইকনিক টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে পার্ক, উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, মসজিদ, স্কুল, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, কাঁচা বাজরসহ আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে। উত্তরা তৃতীয় পর্বের এলাকায় সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ লেক নির্মাণ করা হয়েছে। এ লেকের পাড় দিয়ে পায়ে হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে। অ্যাপর্টমেন্ট প্রকল্পটিও গড়ে তোলা হয়েছে লেকের পাড়ে। ফ্ল্যাটের বরাদ্দ গ্রহীতাদের উপস্থিতিতে চার কিস্তি পারিশোধকারী ১,৮৩২ জনের মধ্যে থেকে বিশেষ প্রোগ্রামিং-এর মাধ্যমে প্রথমে ৮৩৭ জনকে বাছাই করা হয়। এরপর একই প্রযুক্তিতে বেছে নেওয়া ৮৩৭ জনের মধ্যে ফ্ল্যাটের নম্বর বিতরণ করা হয়। বরাদ্দ গ্রহীতাদের উপস্থিতিতেই ফলাফল তালিকায় রাজউকের চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সদস্যগণ স্বাক্ষর করেন। অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এ লটারি সম্পাদন করায় উপস্থিত সবাই ধন্যবাদ জানান। আরকে/ডব্লিউএন

‘জঙ্গি আস্তানায়’ বোমা তৈরির সরঞ্জাম

মিরপুরের মাজার রোডের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ফের তল্লাশি শুরু করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সেখানে আরও কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ছয় তলা ওই বাড়িতে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে পঞ্চম দিনের অভিযান শুরু করেন র‌্যাব। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ তলার একটি অংশে তল্লাশি সম্পন্ন করেছিলাম। আজ সেখানে আরেকটি অংশে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে আরও কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ওই ভবনের প্রতিটি তলায় চারটি করে ইউনিট। এর মধ্যে পঞ্চম তলার দুটি ইউনিটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ পরিবার নিয়ে থাকতেন। ষষ্ঠ তলার অর্ধেক অংশে তিনি কবুতর পুষতেন। আর বাকি খোলা জায়গাও কবুতর রাখতে ব্যবহার করা হত। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ তলার একটি অংশে তল্লাশি চালিয়ে ২৩টি ফ্রিজ পাওয়া যায়। এর আগে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় গত সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মিরপুরের ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয় পাশের একটি স্কুলে। এসময় বলা হয়, ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’ আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই কর্মচারী আছেন। মঙ্গলবার র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করা হলে সন্ধ্যায় সে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়। কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই ভবনে বিকট শব্দে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। বুধবার সকাল থেকে তল্লাশি চালিয়ে বিকালে পঞ্চম তলার ওই বাসা থেকে সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া যায়। পরদিন ষষ্ঠ তলার একটি অংশে পাওয়া যায় ১০টি উচ্চ ক্ষমতার বোমা, বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে তৈরি বিস্ফোরক, ৩০টি বোতল বোমা, ৫০টি দেশীয় অস্ত্র এবং সালফার, ১০ কেজি গান পাউডারসহ বিভিন্ন বোমা তৈরির সরঞ্জাম। আর/ডব্লিউএন

কুষ্টিয়ায় আ.লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখইল গ্রামে সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নিহতরা হলেন- বিল্লাল (৩২) ও এনামুল (৩৫)। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান কেরামত উল্লাহ ও সাবেক চেয়ারম্যান বখতিয়ার রহমানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। আর/ডব্লিউএন

মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় চতুর্থ দিনের মত অভিযান

রাজধানীর দারুস সালামের বর্ধন বাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানায় চতুর্থ দিনের মত অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার থেকে এ অভিযান শুরু হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তাদের কাজ শুরু করেছে। গতকাল একটি রুম থেকে কাগজে মোড়ানো ৯-১০টি আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরক আছে কি না তা তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে। এর আগে সোমবার মধ্যরাতে বর্ধন বাড়ি এলাকার ২/৩/বি কমল প্রভা নামের বাড়িটি ঘিরে ফেলে র‌্যাব। এরপর ওই বাসার পঞ্চম তলা থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গি আবদুল্লাহ। পরেরদিন সকালে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। তখন জঙ্গিকে আত্মসমর্পনের জন্য অনুরোধ করলে সে রাজি হয়। কিন্তু কালক্ষেপন করে রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনের ৫ম তলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গি আবদুল্লাহ। এতে সৃষ্টি হওয়া অগ্নিকাণ্ডে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবার সকাল থেকে অভিযান শুরু করে বিকেল নাগাদ পুরোপুরি পুড়ে যাওয়া সাতটি মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব। বিকেলে ৫ম তলার একটি কক্ষ থেকে প্রায় ১০টি অবিস্ফোরিত আইইডি উদ্ধার করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় তৃতীয় দিনের অভিযান স্থগিত করা হয়। র‌্যাব জানায়, ৭টি মরদেহের মধ্যে জঙ্গি আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও অজ্ঞাত দুই সহযোগী রয়েছেন।   //আর//এআর

মিরপুরের আস্তানায় দগ্ধ তিন লাশ উদ্ধার

ঢাকার মিরপুরে ঘিরে রাখা ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিস্ফোরণের ঘটনার পর সকাল থেকে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের পোড়া লাশ পাওয়া গেছে। র‌্যাবের  আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ছয়তলা ভবনটির নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্চম তলায় পৌঁছেছি। জঙ্গি আবদুল্লাহ যে বাসায় ছিল তার একটি কক্ষ আমরা খুলেছি। সেখানে তিনটি পোড়া লাশ দেখা গেছে। নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না। আবদুল্লাহ নামের সন্দেহভাজন ওই জঙ্গির সঙ্গে পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজন পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন বলে আগের দিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল। মুফতি মাহমুদ বলেন, বাকি কক্ষগুলোতেও আমরা তল্লাশি চালাবো। পরে আপনাদের আপডেট জানাতে পারব।

মিরপুরের ‘জঙ্গি আস্তানার’ তল্লাশি  শুরু

রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় ঘিরে রাখা ‘জঙ্গি আস্তানায়’ রাতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের পর সকালে সেখানে তল্লাশি শুরু করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও র‌্যাব সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট নিয়ে কাজ করছি। কোথাও বিস্ফোরক বা এখনও আগুন জ্বলছে কি না তা দেখে আমরা নির্বাপনের কাজ করব। তবে ছয় তলা ওই ভবনে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে বুধবার সকাল পর্যন্ত স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারিনি। তবে তারা আত্মঘাতী হওয়ার জন্যই রাতে ওই বিস্ফোরণ ঘটায় বলে র‌্যাবের ধারণা। র‌্যাবব সদস্যরা সকালে ওই ভবনে প্রবেশের আগে এ বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও ডগ স্কোয়াড ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছে। বাহ্যিকভাবে দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণে ভবনের ওপরের অংশের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলা সুইপিং করে বিশেষায়িত দল ওই বাসায় প্রবেশ করবে। জঙ্গিদের অবস্থাও তখন বোঝা যাবে। এর আগে সোমবার টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মধ্যরাতে মিরপুরে এই অভিযান শুরু করে র‌্যাব। মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয় তলা ওই ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে নেয় হয়েছে।মঙ্গলবার ভোরেই ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ভবনের পঞ্চম তলায় আবদুল্লাহ নামের এক ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগীসহ মোট সাতজন অবস্থান করছিলেন বলে মঙ্গলবার র‌্যাব জানায়।    //আর//এআর  

মিরপুরে মধ্যরাতে আবারও বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডের এলাকার ভাঙ্গাওয়াল গলির ছয়তলা বাড়িতে আবারও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে জঙ্গি আস্তানাটি থেকে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ভবনটির ৫তলা থেকে প্রচুর কালো ধোয়া বের হতে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ভেতরে মজুদ করা দাহ্যপদার্থ, পেট্রোল ও এসিডের সংমিশ্রণে কেমিক্যাল বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। আলো স্বল্পতার কারণে রাত পৌনে ১২টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। অভিযান স্থগিত করার পরই মধ্যরাতে আবারও দফায় দফায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে র‌্যাব সদস্যরা‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখে মাজার রোডে বাঁধন সড়কের বর্ধনবাড়ি এলাকার ভাঙ্গাওয়াল গলির ছয়তলা এ বাড়িটি। র‌্যাব জানায়, বাড়িটিতে দুই স্ত্রী, সন্তান ও সহযোগীসহ দুর্ধর্ষ জঙ্গি আব্দুল্লাহ অবস্থান করছেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও মজুদ করে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পর জঙ্গীদের আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও রাত পৌনে ১০টার দিকে জঙ্গিরা কয়েকটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে র‌্যাবের ৪ সদস্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে আহত হন। এসময়  বিস্ফোরণের কারণে ওই ভবনের আগুন লেগে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে রাত পৌনে ১২টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় অভিযান।   //আর/এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি