ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১১:০২

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী হুবহু লিখলেন আনিসুর’

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী হুবহু লিখলেন আনিসুর’

সুন্দর ও দ্রুত হাতের লেখা প্রশিক্ষণ দেন আনিসুর রহমান। ২০০৬ সাল থেকে এ পেশায় রয়েছেন তিনি। রাজধানীর ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে পেইনটিং অ্যান্ড রাইটটিং স্কুলের ১৯টি শাখা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসামান্য ভালোবাসা থেকে নিজ হাতে লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে তিনি বইটি হুবহু লিখেছেন। আনিসুর রহমানের বিস্ময়কর প্রতিভা ও নিজ হাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী হুবহু লেখার গল্প নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক। ইটিভি অনলাইন: সুন্দর হাতের লেখা শেখার প্রথম দিকের গল্পটা শুনতে চাই। আনিসুর: আমার জন্ম পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে।আমার বাবা নাসির উদ্দিন মাদ্রাসার শিক্ষকতা করতেন। তিনি শিল্প সম্মত রুচির মানুষ ছিলেন।নানান ধরণের নকশা ও পাথরের উপর খোদায় করে অক্ষর লিখতে পারতেন তিনি। এসব করেই আনন্দ পেতেন। আমি তন্ময় হয়ে দেখতাম তার শৈল্পিক কাজ কর্ম। বাবার সৃষ্টিশীল কর্ম আমাকে শৈশব থেকেই আমাকে ভাবাত। আমারও ইচ্ছে করতো বাবার মতো লিখি কিংবা আঁকি। এই কাজগুলি আমার হৃদয়কে প্রায়শ আন্দোলিত করতো। আমার বয়েস যখন পাঁচ, তখন বাবা আমাকে হাতের লেখার হাতেখড়ি দিলেন। আমাকে যখন `অ` লিখতে বললেন আমি `অ` হুবহু লিখলাম।আমার কাঁচা হাতের লেখা দেখে বাবা খুশি হয়ে গেল। এরপর লেখা অক্ষরটি সবাইকে দেখালেন। এতে আমি অনেক উৎসাহবোধ করি। সবগুলি বর্ণ বাবার মতো লিখতে পারলাম। সেই থেকে লিখার প্রতি আমি আরও মনোযোগী হলাম এবং সুন্দর হাতের লেখা নিয়ে সাধনা শুরু করি। স্কুলের শিক্ষকেরা হাতের লেখার অনেক প্রশংসা করলেন। ক্লাসের সকলের লেখা অনুকরণ করতে পারতাম। যা দেখে বন্ধুরা সবাই অবাক হত। ইটিভি অনলাইন: কেন উদ্দেশে আপনি এই পেশায় এলেন? কোন কোন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন? আনিসুর রহমান: অনেকের হাতের লেখা খারাপ, যার কারণে পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করে। সুন্দর হাতের লেখা একটি শিল্প।এই শিল্প সকলের মাঝে বিকশিত হোক এই লক্ষ্য নিয়ে আমি এই প্রশিক্ষণকে কর্মসূচিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। যাদের হাতের লেখা খারাপ তাদের জন্য কাজ করার চিন্তা সেই ছোট বেলা থেকেই ছিল। মূলত এসব কারণে এটাকে পেশা হিসেবে নেয়ার কারণ। দিনভর ক্লাস নিতাম আর রাত হলেই দেয়ালে দেয়ালে প্রচারণা চালাতাম।এই ভাবেই মূলত উঠে আসা। প্রথমে অনেক কষ্ট করেছি। বাড়ি থেকে টাকা আনতাম না।আমার দুই ভাইকে আমি এই পেশায় এনেছি। এখন ওরা আমাকে স্কুল পরিচালনায় সাহায্য করে। ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পাস করেছে। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ইটিভি অনলাইন: সুন্দর হাতের লেখার স্কুল সম্পর্কে বলুন? আনিসুর রহমান: ২০০৬ সালে সুন্দর ও দ্রুত হাতের লেখা প্রশিক্ষণের স্কুল প্রতিষ্ঠা করি `পেইংটিং অ্যান্ড রাইটিং স্কুল`।প্রথমে একটি রুম ভাড়া করি। প্রথম দিকে খুব কষ্ট হত স্কুল পরিচালনা করতে। মাত্র ৫ জন নিয়ে শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুলটি শুরু করি। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ১৯টি শাখায় এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ঢাকার ফার্মগেটে, মোহাম্মদপুর, ধানমুন্দি, আজিমপুর, সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, বাসাবো, ওয়ারী, যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, বনশ্রী,গাজিপুর, সিলেটসহ আরও অন্যান্য গুলিতে প্রশিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতি শুক্রবার,শনিবার ৩টি শাখাতে আমি ক্লাস নিই। ৪০জন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধায়নে ১হাজার শিক্ষার্থী এই প্রশিক্ষণের আওতায় রয়েছে। এই পর্যন্ত ২০হাজার শিক্ষার্থীকে আমি এ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ইটিভি অনলাইন: আপনার কাজের পরিধি সম্পর্কে জানতে চাই? আনিসুর রহমান: আমি মূলত, বাংলা,ইংরেজি,আরবি ভাষায় মোট ৮০৫ প্রকার হাতের লেখা লিখতে পারি।এছাড়া ডানহাতে, বামহাতে, বিপরীত দিক থেকেও লিখতে পারি। দেয়াল লিখন, ব্যানার লিখা, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রাঙ্কনসহ হস্তশিল্পের কাজে আমি পারদর্শী। শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণ নিতে ৬০০০ হাজার টাকা দিতে হয়। ইটিভি অনলাইন: বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিজ হাতে কেন লিখলেন? গল্পটি একটু শুনতে চাই। আনিসুর রহমান: বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিজ হাতে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে হুবহু লিখেছি। প্রতি লাইনের শুরু থেকে শেষের দিক পর্যন্ত ঠিক রেখেছি। এই বইতে মোট ১০ প্রকার হাতের লেখা ব্যবহার করেছি। এমন কি পৃষ্ঠা নাম্বার, নিঘন্ত পর্যন্ত ঠিক রেখেছি। বেশ ক`বছর আগে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নাম্বার বাড়িতে গেলাম, সবকিছু দেখে আমার মন কেঁদে উঠলো। বাড়ির সামনের বুকস্টল থেকে একটা অসমাপ্ত আত্মজীবনী কিনলাম, বইটি পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি চিত্র দেখে আমার মনে হল আমি এই বইটি হুবহু নিজ হাতে লিখবো। সেই ২০১৪ সাল থেকে লেখা শুরু করলাম। ২০১৬ সালের অগাস্ট মাসে লেখার কাজ শেষ হয়। এরপর নিজহাতে লেখা বইটি বই আকারে বাইন্ডিং করলাম। বই আকারে দেখতে পেয়ে আনন্দে মন ভরে গেল। ভাবলাম বইটি যেহেতু নিজ হাতে লিখেছি,আর তাই জাতির জনকের কন্যার হাতে তুলে দিব।সেই আশায় আজোও স্বপ্ন দেখি। ইটিভি অনলাইন: বইটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? আনিসুর রহমান: সুন্দর হাতের লেখা ছাড়া আমার তো অন্য কোন পুঁজি নাই আর তাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান দেখাতে আমার এই প্রচেষ্টা। সম্পুন্ন হাতে লেখা বইটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিতে চাই। অনেক চেষ্টা তদবির করেও তিনি আজো পৌঁছাতে পারেনি। আমার বিশ্বাস এই বইটির সব থেকে ভালো হয় যদি এটি বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতে দিতে পারি। এটি জননেত্রি শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ ও সুন্দর থাকবে।    
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ২য় রানারআপও বিবাহিত

বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’র। বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিজয়ী জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল মুকুট হারানোর পর অভিযোগ উঠেছে এবার নবঘোষিত দ্বিতীয় রানার আপ রুকাইয়া জাহান চমকও ছিলেন বিবাহিত! গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের নাম। এরপর গত ছয়দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এভ্রিল ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নাম। বিজয়ী হওয়ার পর গণমাধ্যমে উঠে আসে তার বিয়ে ও বিচ্ছেদের খবর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে এসে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। তবে তার দাবি, সে সময় বয়স কম থাকায় মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার অন্তর শোবিজ এবং ওমিকন এন্টারটেইনমেন্ট রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। যেখানে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হিসেবে জেসিয়া ইসলামকে মুকুট পরানো হয়। যথাক্রমে ১ম রানার আপ ফাতেমা তুজ জোহরা, ২য়  রানার্স আপ রুকাইয়া জাহান চমক ও সঞ্চিতা রানী দত্তকে করা হয়। তবে এভ্রিলের বিতর্ক যেতে না যেতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চমকের বিয়ের খবর পাওয়া গেল! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে দেখা যায়, রুকাইয়া জাহান চমকের বিবাহিত উল্লেখ করা আছে, যেখানে তার স্বামীর নাম দেওয়া ছিল খান এইচ কবির। তাদের বিয়ের স্ট্যাটাসটি পোস্ট করা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখে। বুধবার অনেকেই তাদের এই স্ট্যাটাসটি দেখলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুজনের ফেইবুক প্রোফাইলে আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এছাড়া, সেরা দশের মধ্যে আরো ৪-৫ জনের বিয়ের খবর পাওয়া গিয়েছে বলেও জানা গেছে। আরকে//এআর

আজ ফের ঘোষণা করা হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’

বিতর্কিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নতুন করে ঘোষণা করা হবে আজ। জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের বিয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অনুষ্ঠানটির আয়োজক অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট এর একাধিক কর্মকর্তা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে হোটেল ওয়েস্টিনের বল রুমে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল ছাড়া বাকি ৯ প্রতিযোগীকে ডাকা হয়েছে। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে সব বিচারক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পুনরায় ঘোষণা করা হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ এর নাম। নতুন ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। অমিকনের ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান ও অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী উপস্থিত থেকে ‘স্বচ্ছ’ ফল ঘোষণা করবেন বলে তারা জানান। এজন্য সাংবাদিকদেরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নতুন ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে।   এসএ/এআর

কতদিন টেকবে ভালোবাসা-জানাবে এআই

ভালোবাসায় টানাপোড়েন, ভুল বোঝাবুঝি, মান-অপমান যেন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ স্বাভাবিক ঘটনাগুলো কখনও কখনও হয়ে উঠে অস্বাভাবিক। যার রেশ ধরে বিদায় নেই  ভালোবাসা। কপোত-কপোতিকে হারাতে হয় একে অপরকে। হারানোর এ বেদনা যারা পেতে চান না, তাদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এ আই প্রেমের সম্পর্ক কতদিন টিকবে তা বলে দিতে পারবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া-এর গবেষকরা এমন এআই তৈরি করেছেন। এই গবেষণায়, একটি মেশিন লার্নিং প্রোগ্রামকে ১৩৪ জোড়া দম্পটিকে নিয়ে করা এক থেরাপি সেশন শোনানো হয়েছে। গবেষকরা প্রতিটি সম্পর্কের মেয়াদের তথ্যও এতে দিয়েছেন। সম্পর্কে দুই পক্ষের মধ্যে কী পরিমাণ কথা হয়েছে, কখন আর তারা প্রকৃত স্বরের চেয়ে কোনো স্বরে বেশি কথা বলতেন তা যাচাই করা হয়েছে বলে প্রযুক্তি সাইট নেক্সট ওয়েব-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, টানাপোড়েনে থাকা দম্পতিদের সম্পর্ক নিয়ে একটি দীর্ঘ চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় পাওয়া তথ্য নিয়ে করা আমাদের পরীক্ষায় দেখা যায়, সম্পর্ক নিয়ে দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণী সরাসরি কণ্ঠের স্বর থেকে পাওয়া যায় আর এটি প্রত্যাশার জন্য ব্যবহৃত মানুষের অন্যান্য ব্যবহারের সঙ্গে তুলনাযোগ্য বা এগুলোর চেয়ে উন্নত। কোন এআই ব্যবস্থা কোন জুটির মধ্যকার আলাপ শুনছে আর তারা ঠিক কবে বিচ্ছেদ করছেন তা বলে দিচ্ছে, এ বিষয়টা শুনতে বাজে লাগলেও এক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকও রয়েছে, এমনটাই বলা হয়েছে প্রযুক্তি সাইটটির প্রতিবেদনে। এটি হচ্ছে এআইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী শুনে মানুষ বুঝতে পারবেন তারা তাদের সঙ্গীর সঙ্গে কতটা বাজে স্বরে কথা বলছেন। এরপর তারা হয়তো এটি ঠিক করে সম্পর্কটা ভালো করার চেষ্টা করতে পারবেন। আরকে//এআর

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এভ্রিলের চ্যালেঞ্জ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। যার মাথায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট। যদিও সেই মুকুট নিয়ে চলছে বিতর্ক, তবে বিষয়টিকে চ্যালঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন এই বিউটি কুইন। যাকে নিয়ে এতো বিতর্ক সেই মেয়েটি অনেক সাহসী ও প্রতিবাদী। অনেক ছেলেকে নিজ হাতে পিটিয়েছেন এভ্রিল। এ কারণে বন্ধুরা তাকে ‘মাফিয়া গার্ল’ বলে ডাকেন। বিষয়টি নিয়ে তার অবশ্য কোনো অভিযোগ নেই। বরং এ নামে ডাকাটাকে উপভোগ করেন এভ্রিল। এটা তার সাহসী ও প্রতিবাদী চরিত্রের স্বীকৃতি মনে করেন এই তরুণী। এ বিষয়ে এভ্রিলের বক্তব্য হচ্ছে- বন্ধুরা আমাকে এই নামে ডাকে। আমি মাফিয়াদের মতো আচরণ করতাম। মাফিয়া বলতে আন্ডারগ্রাউন্ডের মাফিয়া না। আমি যখনই দেখতাম, কোনো ছেলে কোনো মেয়েকে টিজ করছে তখন আমি ছেলেটাকে পিটাতাম। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, অনেক ছেলেদের আমি মেরেছি। আমাকে অনেকবার ছিনতাইকারীরা ধরেছিল। আমি ওদেরও পিটিয়েছি। আমাকে ‘মাফিয়া গার্ল’ডাকা হয় শুধুমাত্র প্রতিবাদী চরিত্রের জন্য। চট্টগ্রামে একটা নিয়ম প্রচলিত আছে। মেয়েরা একটু বেশি সুন্দরী হলেই বিয়ে দিয়ে দেয়। চারিদিক থেকে তখন প্রস্তাব আসে বিয়ের। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিলো। কিন্তু প্রতিবাদি এই মেয়ে পরিবারের সেই চাপটি সামলে নিতে বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন। এভ্রিল বলেন, আমার বয়স যখন ষোল, তখন বাবা আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আমাদের চিটাগাংয়ে একটা নিয়ম আছে, মেয়েরা একটু বেশি সুন্দরী হলে সবাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। বিয়ের জন্য ফ্যামিলিকে খুব বেশি ‘প্যারা’ দেয়। এটা চিটাগাংয়ের স্বাভাবিক ঘটনা। আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটে। ছোটবেলায় খুব সুন্দরী ছিলাম আমরা দুই বোন। প্রতিবেশীরা বাবাকে বলত, আপনাদের মেয়েকে বিয়ে দেন। এগুলোতে প্রভাবিত হয়ে বাবা রাজি হয়ে যান। আমাকে বিয়ের চাপ দেন। আমি খুব বেশি দুরন্ত ছিলাম। আমি নিজের মতো থাকতে চাইতাম। অল্প বয়সে বিয়ের প্যারার মধ্যে ঢুকে যেতে চাইনি। বাবার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ওখান (চট্টগ্রাম) থেকে চলে আসি। আমি স্টাডি করব, নিজের ক্যারিয়ার গড়ব। এখন অ্যাকচুয়ালি বাবার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ফ্যামিলির বাকিরা আমাকে সাপোর্ট দেয়। দুরন্ত এই মেয়েটির আরও একটি গুন রয়েছে। সে বাংলাদেশের প্রথম হাইস্পিড লেডি বাইক রাইডার। তার লক্ষ্য হাইস্পিড লেডি বাইকার হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেকে তুলে ধরা। এভ্রিল মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বাইক চালানো শিখেছেন। এরপর আস্তে আস্তে মোটরবাইক চালানো তার শখে পরিণত হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন নৈপুণ্য দেখাতে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন এভ্রিল। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতাসম্পন্ন এভ্রিলের বাইক নৈপুণ্য প্রদর্শনী, বাইক চালানোর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। এ কারণে  অনেক আগেই সেলিব্রেটি বনে যান তিনি। বর্তমানে এই তরুণী ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের অ্যাক্টিভিটি অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। এভ্রিল মনে করেন, মোটরসাইকেল চালানো কিংবা উচ্চতর প্রযুক্তি গ্রহণ করার মতো বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তিনি। ভবিষ্যতে তিনি বাইক-সম্পর্কিত যেকোনো উদ্‌যাপন এবং উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান। বাংলাদেশের তরুণী-নারী বাইকারদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি বাইক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালনা করারও ইচ্ছা রয়েছে তার। এভ্রিল বলেন, ১৪ বছর বয়সে বাবা আবু তাহেরের বাইকেই তার হাতেখড়ি। তবে ওই সময় বাবার এতে সায় ছিল না। কিন্তু বাইকের প্রতি তার ঝোঁক ছিল প্রচণ্ড। তাই মামার কাছ থেকে বাইক চালানো শিখে নেন। তখন তিনি ডিসকোভারী চালাতেন। এরপর সিসির ব্যাপারটা বোঝার পর হাই সিসির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ভাইয়ের হোন্ডা সিডিআই ১৫০ সিসি চালাতে শুরু করেন। বর্তমান বিতর্ককে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। এ প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার মধ্যে যে জেদটা কাজ করছে সেটা ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখাব। ভালো পারফর্ম করলে মানুষ সব ভুলে যায়। আমিও ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে গিয়ে কিছু একটা করব। বাংলাদেশকে দেখিয়ে দেব। তখন আমি সেটার জবাব দিয়ে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চে গিয়ে আমাকে পারতেই হবে। আমি যেহেতু বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, আমাকে পারতেই হবে। দেশের মান-সম্মান আমাকে রাখতেই হবে। এতগুলো মানুষ আমাকে এত কথা শুনিয়েছে, সবাইকে জবাব দিতে হবে। এটা আমার নিজের কাছে নিজের কমিটমেন্ট। ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সমালোচনার জবাব দিব।’  এক নজরে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল বয়স : ২০ বছর শখ : বাইক চালানো, বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা, দাতব্য কাজ অন্যান্য গুণ : সাঁতার, বোলিং, গান গাওয়া, জিমন্যাস্টিক দক্ষতা : বাইক চালানো, মনমরাদের মন ভালো করে দেয়া জেলা : চট্টগ্রাম স্বপ্ন : নিজেকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যেখানে মানুষ প্রতিটি কথার মূল্য দেবে সামাজিক কর্ম : ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি রক্তদাতা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত পছন্দের খাবার ; সব ধরনের বাঙালি ও চাইনিজ খাবার প্রিয় রং : কালো পোশাক : মানিয়ে যায় এমন সব পোশাক //এআর

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় উপস্থাপিকা শিনা চৌহান বিজয়ীর নাম ঘোষণার সময় ভুল করায় এটি নিয়ে বিভ্রান্তি শুরু হয়। বিচারক ও দর্শকদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছে, ঘোষণায় ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। ছয় বিচারকের একজন শম্পা রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, চ্যাম্পিয়ন ঘোষিত জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল তার মনোনীত দুজনের তালিকাতেই ছিলেন না। ঘোষণায় ফল পাল্টে দেওয়ার কথা জানিয়ে শম্পা রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, দেখুন, আমরা তো ভালো চাই। আমরা যে কাজটা করি, মন দিয়ে করি। আমার জাজমেন্টের সঙ্গে যেটা প্রকাশিত জাজমেন্ট সেটার কোনো মিল হয়নি। দুজন ছিলেন আমার তালিকায়। কিন্তু প্রথমজন আমার লিস্টেই ছিলেন না। তিনি জানান, সব বিচারকরা একমত ছিলেন। এ বিষয়ে অন্য বিচারক জুয়েল আইচ জানান, মিস বাংলাদেশ ঘোষণা নিয়ে তারও বক্তব্য আছে। তবে তিনি তা প্রকাশের আগে আয়োজকদের একদিনের সময় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আয়োজকরা আমার কাছ থেকে একদিনের সময় চেয়েছেন। একদিন পর আমি এ বিষয়ে বক্তব্য রাখব। আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচনে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’র চূড়ান্ত পর্ব হয় শুক্রবার রাতে। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে গ্র্যান্ড ফিনালে বিজয়ী হিসেবে এভ্রিলের নাম ঘোষিত হয়। সেখানে প্রথম রানার আপ ঘোষিত জেসিকা ইসলাম বিচারকদের রায়ে প্রথম হয়েছিলেন বলে দুইজন বিচারকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। প্রতিযোগিতার এই পর্বে শম্পা রেজা ছাড়াও বিচারকের আসনে ছিলেন বিবি রাসেল, জুয়েল আইচ, চঞ্চল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা ও সোনিয়া বশির কবির। অপরদিকে এনিয়ে দর্শকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আয়োজকদের সমালোচনা করেছে অসংখ্য দর্শক। বিচারকদের রায় পাল্টে দেওয়ার বিষয়ে অন্তর শো বিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আয়োজক হিসেবে আমিই তো রায় দিব। আমিই পয়সা দিয়ে বিচারক নিয়োগ করেছি। এমন সব বিচারক নিয়োগ করেছি, যারা সবাই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। তাদের প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ আমার নেই। বিচারকদের রায়েই জান্নাতুল নাঈম বিজয়ী হয়েছেন। আমরা আন্তর্জাতিক মানের একটি অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি। এটি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করা আসলেই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, ছয়জন বিচারকের সাথেই আমার কথা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনও যদি বিজয়ীকে ৯ করে দেন, আর অন্যরা ১০ করে দিলেও কিন্তু মোট যোগফলে বিচারের ফল নির্ধারিত হতে পারে। বিচারকদের মধ্যে প্রধান ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মডেল বিবি রাসেল। তার দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলই আমি প্রকাশ করেছি।‘ তিনি দাবি করেন, ভারতীয় উপস্থাপিকা শিনা চৌহান বিজয়ীর নাম ঘোষণার সময় ভুল করেছিলেন। আসলে দুজনের নাম প্রায় একই হয়ে যাওয়াতে সমস্যাটা হয়েছে। লাইভ টেলিকাস্টের কারণে আমরা হুট করেই জানতে পারি, আমাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় রয়েছে। তখন তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে। এমন ভুল অস্কার ও মিস্ ইউনিভার্সের মতো আসরেও হয়। এরপরও আমরা এ ধরনের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।’   এসএ/এআর

যে কথা কাছের বন্ধুকেও বলা বারণ

মন দেওয়া নেওয়ার বিষয়গুলো আপনি শেয়ার করে থাকেন কাছের বন্ধুর কাছে। প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দময় মুহূর্তগুলো বন্ধুকে শেয়ার না করলে যেন পেটের ভাত হজম হয় না্। তাই প্রণয়ের প্রতিটি পরতে পরতে আপনার বিশ্বস্ত জন হচ্ছে বন্ধু। তবে প্রেমের সম্পর্কের কিছু বিষয় সেই বন্ধুর কাছেও শেয়ার করা ঠিক নয়। সেটি সম্পর্কের স্বার্থেই। সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কী ধরনের বিষয়গুলো বন্ধুদেরও বলা উচিত না তা জেনে নেওয়া যাক। * প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে যেসব ব্যক্তিগত ছবি আদান-প্রদান হবে তা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নিজেদের ঘনিষ্ঠ সময়গুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য।* প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা আপনাকে খুশি করতে কী করেছে সে বিষয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গালগল্প করা ভালো, তবে তার একটা সীমা থাকা উচিত। প্রতিটি ছোটবড় বিষয় বন্ধুদের শোনানো তাদের বিরক্তি কারণ হতে পারে। সেই সঙ্গে আপনার প্রেমিকাও বিব্রত হতে পারে।* সম্পর্কের খাতিরে আপনার ও আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার মধ্যে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রবিষয়ক বিভিন্ন গোপনীয় বিষয়ে আলোচনা হবে। এই কথাগুলো বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত হবে না।* প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত মতামতের অধিকার আছে, আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকারও আছে। তবে আপনার বন্ধু সম্পর্কে আপনার প্রেমিক-প্রেমিকার মতামত বন্ধুদের জানানো সম্পর্ক নষ্টের কারণ হতে পারে।* প্রেমিক-প্রেমিকার দুর্বলতাগুলো বন্ধুদের জানানো উচিত হবে না। যদিও আপনি নিশ্চিত যে আপনার বন্ধুরা কখনও ওই তথ্যের অপব্যবহার করবে না, তবুও ভুল তো মানুষ মাত্রই হয়।* নিজের মধ্যকার আর্থিক সমস্যার কথা বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করা যাবে না।* প্রেয়সীর পুরানো সম্পর্ক কিংবা অতীতের কোনো ঘটনা বন্ধুদের বলা উচিত নয়। প্রিয় মানুষের অতীত আপনি মেনে নিলেও আপনার বন্ধুরা মেনে নাও নিতে পারে। সেই সঙ্গে পরবর্তীতে এটি আপনারই সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।* প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ঝগড়া মিমাংসা করার দায়িত্বটা অনেকক্ষেত্রে বন্ধুরাই পালন করেন। তবে ছোটখাট সব ধরনের কথা কাটাকাটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করাটা বাড়াবাড়ি।//এআর

আজকের তারুণ্যই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মানুষের প্রাণশক্তি অফুরন্ত। আমাদের শিক্ষার্থীরা বাসে ঝুলে অনেক কষ্ট-পরিশ্রম করে পড়াশোনা শিখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে তারা বেড়ে ওঠে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে অক্লান্ত প্রাণশক্তির স্ফূরণ ঘটে। আজকের এই তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে বলে আমার বিশ্বাস। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিভা নিয়ে প্রফেসর কায়কোবাদ বলেন, ১৯৯৯ সালে বুয়েটের ছাত্রদের নিয়ে আমরা একটি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় গেলাম আইআইটি কানপুরে। ভারতের আইআইটিগুলোর সুনাম সারা পৃথিবীজুড়ে। তারা খুব আশাবাদীও ছিল যে, সেই প্রতিযোগিতায় তারাই প্রথম হবে। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেল, প্রতিযোগিতায় প্রথম হলো বুয়েট আর দ্বিতীয় হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু তা-ই নয়, পরের বছরও আমরা একই প্রতিযোগিতায় গেলাম এবং প্রথম হলাম। তখন স্বাগতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আমাকে বললেন, বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে তো আমরা কখনো ইতিবাচক কিছু শুনি নি। আর গতবারের প্রতিযোগিতার পর আমি আমাদের শিক্ষকদের বলে দিয়েছিলাম কঠোর প্রস্তুতি নিতে। তারা সারা বছর প্রস্তুতি নেয়ার পরও তোমরা আবার প্রথম হলে কী করে? আমি বললাম, আমাদের শিক্ষার্থীরা বাসে ঝুলে অনেক কষ্ট-পরিশ্রম করে পড়াশোনা শিখতে আসে। যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে তারা বেড়ে ওঠে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে অক্লান্ত এই প্রাণশক্তির স্ফূরণ ঘটে। অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ তার বক্তব্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বাঙালি জাতির বিভিন্ন ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এশিয়ার প্রথম  নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন একজন বাঙালি। আমি একবার ভারতের গোয়া-য় ন্যাশন্যাল ইন্সটিটিউট অব ওশেনোগ্রাফিতে গেলাম। সেখানে দেখলাম দশজন বিজ্ঞানীর ছবি, যাদের পাঁচজনই জন্মগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের মাটিতে। আর এটা তো আজ প্রমাণিতই যে, রেডিও আবিষ্কারের স্বীকৃতি মার্কনি পেলেও মূলত স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুই ছিলেন এর আবিষ্কর্তা। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমুখী দক্ষতা প্রসঙ্গে ড. কায়কোবাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস শহরে একবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল। সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা তখন সুযোগ বুঝে বিস্তর জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। সে তুলনায় আমাদের মানুষ অনেক ভালো। আমরা এতগুলো মানুষ একটি ছোট্ট দেশে একসঙ্গে সবাইকে নিয়ে অনেক ভালো আছি।  আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় যখন বন্যা হয়, এত সম্পদ আর এত প্রস্তুতির পরও ওদের বহু মানুষ মারা যায়। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ দূর্যোগে ঠিকই বেঁচে থাকার পথ করে নেয়। আমাদের উদ্যম ও জীবনীশক্তি  অতুলনীয়। পৃথিবীর মাত্র এক-সহস্রাংশ ভূমির এই দেশে আমরা বাস করছি মোট বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর ২৪ সহস্রাংশ মানুষ! এত অল্প জায়গায় সীমিত সম্পদ নিয়ে এত মানুষ কীভাবে টিকে আছে এটাই তো একটা বিস্ময়। জাতিসংঘের উচিত পৃথিবীর অন্যান্য দেশকে বলা যে, এদের কাছ থেকে শেখো কীভাবে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়। তিনি বলেন, জাতি হিসেবে আজ আমাদের চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। তাই আমাদের উচিত একটি উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ ঘটানো। আমি মনে করি, এমনই একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যা মানুষের চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। মুক্ত অলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক সমন্বয় মিসেস সুরাইয়া রহমান।   *১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাসিক মুক্ত আলোচনায় এই বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার সাতকাহন

দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে কে না চায়? তবুও নানা কারণে সুখের আশা ফিকে হয়ে যায়। সুখ পালায় জানালা দিয়ে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তরিকতা এবং পরস্পরকে বোঝা। তারা আরও বলেন, প্রেম-ভালোবাসাই একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে হৃদয়ের অটুট বন্ধন। যা সাংসারিক বন্ধন তৈরি করে। ভালোবাসা ছাড়া কোনো সাংসারিক দাম্পত্য জীবন সুখী হতে পারে না। তাই দুজন দুজনের প্রতি মায়া-মমতা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে কল্পনা করা যায় না। তাই যত বিপত্তি আসুক না কেন দুজন দুজনকে বুঝতে হবে। ছাড় দিতে হবে। আর ভালোবাসা থাকতে হবে। দেখবেন দাম্পত্য জীবনে সুখ টেকসই হবে। আসুন জেনে নেই দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার সাত উপায়-*সঙ্গীর পছন্দকে গুরুত্ব দিন : স্বামী বা স্ত্রী দুজন দুজনের পছন্দের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিন। সব সময় নিজেকে নিয়ে ভাববেন না। ব্যস্ত থাকলেও, কাজের মধ্যে সময় বের করে খবর নিন। ভালোবাসা যেন শরীরসর্বস্ব না হয়। বরং মন জয় করুন।*বিশেষ দিনে উপহার : বিশেষ দিন যেমন, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন। এই দিন গুলোতে বিশেষ আয়োজন রাখতে পারেন। এছাড়া উভয়ে নিজেদের উপাহার দিতে পারেন। এত সংসার হবে আনন্দময়।*মনের মিল : দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের মিল। মনের মিল না থাকলে সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায় না। আর সবসময় মনের মিল না-ও হতে পারে। তাই বলে অন্য কারও তুলনা টেনে আনবেন না। এতে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারেন সঙ্গী। যে কোনো সমস্যায় দুজনে খোলাখুলি কথা বলুন। পরস্পরের পছন্দ–অপছন্দও জেনে নিন এবং গুরুত্ব দিন দেখবেন সুখেই কাটছে সংসার।  *জোর করবেন না : আপনার স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্কে জোর করবেন না বা কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। এমনও হতে পারে তিনি এমনটার জন্য ওই মুহূর্তে মানসিকভাবে প্রস্তুত না। অনেকেই মুখ ফুটে নিজের চাহিদার কথা বলতে পারেন না। ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলুন। বুঝে নিন ঠিক কী চান তিনি।*ভুল বোঝাবুঝি : সংসার জীবনে ভুল বোঝাবুঝি, ঝগড়া হতে পারে। নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করুন। ততে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। আর মনের মধ্যে কষ্ট চেপে রাখবেন না। এতে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস কমে যায়।*একান্তে সময় দিন সপ্তাহে অন্তত একদিন: দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার অন্য আরেকটি উপায় হচ্ছে ঘুরে বেড়ানো। কারণ সারা সপ্তাহ কাজ করে মন ও শরীর ঠিক রাখতে এবং রোমাঞ্চ করেত সঙ্গীর সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারেন। একসঙ্গে কোথাও যাওয়ার হলে, বারবার দেরি করার অভ্যাস ছাড়ুন। এতে তিক্ততা তৈরি হয়।*হঠাৎ পরিবর্তন : হঠাৎ আপনার স্বভাব হোক বা সাজগোজ যাই হোক না কেন, জোর করে কিছু পাল্টে ফেলার চেষ্টা করবেন না। আরোপিত কোনো কিছুই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এত করে সংসারের শান্তি নষ্ট হয়। তাই সবকিছুর মধ্যে সংযত ভাব আনুন।সূত্র : টাইম্স অব ইন্ডিয়া//এআর

ফসলের মাঠজুড়ে ‘মেরি মি’ লিখে প্রেমিকাকে প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যের ডেভনের ইস্ট অ্যানস্টে এলাকার টম প্লাম ও জেনা স্টিম্পসন দুজন দুজনকে ভালোবাসেন। আগামী বছরই বিয়ের আসরে বসছেন এই জুটি। এটি হতে যাচ্ছে তাদের প্রণয়ের পরিনতি। তবে এর আগে ঘটে গেছে অদ্ভূত যত সব ঘটনা। মাঠে ফসল লাগিয়ে সেগুলো বড় করে মেরি মি লিখে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন টম প্লাম। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৈশবে যুক্তরাজ্যের ডেভেনে দৌড়ঝাঁপ খেলে বেড়াতেন জেনা স্টিম্পসন। সেখানেই এত দিন পর তাঁর প্রেমিক হুট করে নিয়ে গেলেন তাঁকে। কিছু দূর গিয়ে চোখ বন্ধ করতে বললেন। আরও কিছু দূর যাওয়ার পর চোখ খুলে দিলেন। জেনার চোখের সামনে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে উঠল, মাঠের মাঝে ফসলের গাছ লাগিয়ে বড় লেখা ‘মেরি মি’। এই দৃশ্য দেখে আবেগে ভেসে যেতে থাকলেন জেনা। এভাবেই প্রেমিকার কাছে বিয়ের প্রস্তাব করেছেন প্রেমিক টম প্লাম (৩৯)। টমের অক্লান্ত পরিশ্রমে অভিনব এই প্রস্তাব দেখে জেনা (৩৭) শুধু আবেগে আপ্লুত হননি, প্রস্তাবে সাড়া দিতে একরত্তিও সময় নেননি তিনি। ২০১৮ সালেই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন এই জুটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, টম ও জেনা প্রায় ১০ বছর ধরে একে অপরকে ভালোবাসেন। তাঁরা বিয়েও করতে চান। এ কারণে জেনার বাবার কাছে অনুমতি নিয়েছেন টম। টমের এ রকম অদ্ভুত বিয়ের প্রস্তাব প্রসঙ্গে জেনা স্টিম্পসন বলেন, চোখ বন্ধ অবস্থায় প্রথমে গরুর শব্দ পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সে মনে হয় গরু কিনেছে। কিন্তু চোখ খুলে দেখেই আমি বিস্ময়ে অভিভূত, স্তম্ভিত। তবে ভীষণ আনন্দিতও। আমি তাঁর এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছি। পেশায় খেলোয়াড়দের ফিজিও টম বলেন, প্রেমিকার কাছে নিজেকে শুধু একজন ‘রোমান্টিক’ মানুষ হিসেবে নয়; এর চেয়েও বেশি কিছু পরিচয় দিতে চেয়েছেন তিনি। আর এ কারণেই তিনি বিস্তীর্ণ মাঠে চাষাবাদের মাধ্যমে কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ কাজে সাহায্য করেছেন তাঁর বাবা। সূত্র : বিবিসি।//এআর

সেরা ইউটিউবারের খোঁজে ‘বাংলালিংক নেক্সট টিউবার’

সেরা ইউটিউবার খুঁজছে বাংলালিংক। এজন্য ‘বাংলালিংক নেক্সট টিউবার’নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা তিনজন ইউটিউবারকে বেছে নেয়া হবে। যারা পুরস্কার হিসেবে বিপুল পরিমান অর্থ ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলালিংক। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের চিফ ডিজিটাল অফিসার সঞ্জয় ভাগাসিয়া, বাংলালিংকের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস আসিফ আহমেদ এবং বাংলালিংকের ই-অ্যাঙ্গেজমেন্ট মার্কেট (ডিজিটাল) এর প্রধান মুকিত আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সঞ্জয় ভাগাসিয়া এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ও লক্ষ তুলে ধরে বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিভাবান ভিডিও কনটেন্ট নির্মাতাদের বেছে নেয়া হবে। সুনিয়ন্ত্রিত নির্বাচন প্রক্রিয়া, অভিজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের দিয়ে তরুণ ইউটিউবার তৈরি করা হবে। এদের মধ্যে যিনি প্রথম হবেন তাকে বাংলালিংকের ডিজিটাল অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে গুগলের হেড কোয়ার্টারে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে।’ মুকিত আহমেদ জানান, আজ থেকে এই প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ এর নিবন্ধন চলছে। যাদের ইউটিউব অ্যাকাউন্ট আছে তারা একটি ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে যেসব ইউটিউবারদের ৪০ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার আছে তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। নিবন্ধন শেষে সেরা ২০ জন বেছে নেয়া হবে। যাদেরকে গ্রুমিং করবেন দেশ সেরা ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আরও চারজন ইউটিউবার। সেখান থেকে বেছে নেয়া হবে ১০ জন। পর্যায়ক্রমে সেরা তিনজন অংশ নেবেন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায়। যাদের মধ্যে বিজয়ী পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সিঙ্গাপুরে গুগলের হেড কোয়ার্টারে প্রশিক্ষণের সুযোগ। প্রথম রানার্স আপ পাবেন ১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় রানার্স পাবেন ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়াও বাংলালিংক এক বছর তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশনা ও প্রচারে সহায়তা করবে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আসিফ আহমেদ বলেন, এই প্রতিযোগিতায় যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক অংশ নিতে পারবেন। এজন্য কোনো এন্ট্রি ফি দিতে হবে না। প্রতিযোগিকে ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে ভিডিওটির ইউআরএল এন্ট্রি হিসেবে ‘বাংলালিংক নেক্সট টিউবার’-এর ওয়েবসাইটে (www.bangalink.net/en/next-tuber) সাবমিট করতে হবে। আরকে/ডব্লিউএন

৩শ’ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে ফুটপাতে ‘রাজকন্যা’

প্রাইভেট জেট, যুক্তরাজ্যের আলাদা তিন রাজ্যে তিনটি বাড়ি, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা প্রহরীদের নিরাপত্তা বলয়ে- শুনতে কেমন সিনেমাটিক মনে হয় না! তবে বাস্তবেই এমন বিলাসবহুল জীবন যাপন করে রাজকন্যার মতো বড় হয়েছেন অ্যাঞ্জেলাইন ফ্রান্সিস খু। তার বাবা ক্যা পেং মালয়েশিয়ার অন্যতম সেরা ধনী। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩শ’ মিলিয়ন ডলার। আর এতকিছু ছেড়ে গাঁটছাড়া বেঁধেছেন সাধারণ এক ছেলের সঙ্গে। প্রেমের টানে ছেড়েছেন বিলাসবহুল জীবন যাপন। ফ্রান্সিস খু’র জন্ম মালয়েশিয়ায়। ১৯৬৯ সালে তার মা-ও মিস মালয়েশিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ি দেন খু। ২০০৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করার সময়ই জেদিদিহ ফ্রান্সিস নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় তার। ফ্রান্সিসের জন্ম ক্যারিবিয়ানে। তিনি পেমব্রোক কলেজের ডেটা বিষয়ক গবেষক। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। ফ্রান্সিসকে ভালবেসে ফেলেন খু। কিন্তু তাদের এই প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ান কোটিপতি বাবা। মেয়ের ওপর ভীষণ ক্ষেপে যান খু-র বাবা। খু-য়ের সামনে দু’টো পথই খোলা ছিল। এক, ফ্রান্সিসকে ভুলে যাওয়া আর দুই, বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে বিয়ে করা। বাবার বিরুদ্ধে যাওয়াটা মোটেই সহজ ছিল না। কারণ সেক্ষেত্রে বিসর্জন দিতে হত তার এত দিনের অভ্যাসকে। বিসর্জন দিতে হবে তার বিলাসবহুল জীবনকে। খু সেটাই করলেন। ফ্রান্সিসের ভালবাসার সঙ্গে যে আর কোনও সম্পদের তুলনা করা যায় না, সেটা বুঝিয়ে দিলেন। প্রাসাদ, সম্পত্তি সমস্ত ছেড়ে হাত ধরে নিলেন ফ্রান্সিসের। সম্প্রতি তারা বিয়ে করেছেন। বন্ধুবান্ধব-সহ মোট ৩০ জনকে নিয়ে পেমব্রোক কলেজ ক্যাম্পাসেই এই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। নব দম্পতি বিয়ের পর কিছুদিন কলেজের লজেই থাকেন। এরই মধ্যে নানা চড়াই উৎরাই পার করে নিজের একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার খু। আর ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কিছু করার চিন্তা করছেন তিনি।//এআর

কম বয়সে বিয়ে করার সুফল

বিয়ের আদর্শ বয়স কোনটি তা নিয়ে নানা বিতর্ক আছে। অনেকে বিয়ে করেন ৩৫ বছর বয়সে, অনেকে কুড়িতে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌবনের শুরুতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা উচিত, এতে জীবনটা অনেক বেশি সহজ মনে হবে আপনার কাছে। বহু রোগ থেকেও মুক্তি মিলবে। কীভাবে চলুন জেনে নিই। *একটা সময় পর মানুষের যৌনাকাঙ্খা ও ক্ষমতা কমতে শুরু করে। পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। তাই বিয়ে সেরে ফেলুন সময়মত। *সন্তানের জন্য খুব ভালো পিতা-মাতার উদাহরণ হতে পারবেন যদি বিয়ে আগে করে ফেলেন। সত্যি বিষয়টি কেউ মানুন আর নাই মানুন না কেন সামগ্রিকভাবে মানুষের গড় আয়ু কিন্তু কমে এসেছে। আপনি দেরিতে বিয়ে করলে সন্তান মানুষ করার বিষয়টিও পিছিয়ে যাবে এবং আপনার মানিসকতাও কিন্তু দিনকে দিন নষ্ট হতে থাকবে। *আপনি যদি বয়স ৩০ পার করে বিয়ে করেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার বয়সের কারণে আপনার মধ্যে যে গাম্ভীর্য চলে আসবে তার জন্য সম্পর্ক খুব বেশি মধুর ও ঘনিষ্ঠ হবে না। ব্যাপারটি বরং এমন হবে বিয়ে করার কথা তাই বিয়ে করেছি। এ কারণে আগেই বিয়ে করে ফেলা ভালো, যখন আবেগ কাজ করে অনেক।*বেশি বয়সে বিয়ে করলে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের জন্য কতটা সময় পান? বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সন্তানের দায়িত্ব ঘাড়ের ওপর এসে পড়ে। আর একবার সন্তান হয়ে গেলে দুজনের একান্ত সময় কাটানো আর হয়ে উঠে না। কিন্তু অল্প বয়সেই বিয়ে করে ফেললে সঙ্গীর সঙ্গে অনেকটা সময় পাওয়া যায়। এতে সম্পর্ক অনেক ভালো ও মধুর থাকে। *‘একজনের চেয়ে দুজন ভালো’- বিষয়টি নিশ্চয়ই না বোঝার কথা নয়। একাই সুখ দুঃখ ভোগ করার চেয়ে দুজনে ভাগাভাগি করে নিলে অনেকটা সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। অল্প বয়সেই বিয়ে করলে দুজনের জীবনের সবকিছুই ভাগ করে নেয়া যায় বলে মানসিক চাপটাও কম পড়ে। *দুর্ঘটনাবশত অনেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত ঠিক নিতে পারেন না। তাই এখন ডিভোর্সের সংখ্যাও বাড়ছে। জলদি বিয়ে করার কিন্তু এই দিক থেকেও সুবিধা রয়েছে। যদি অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে অল্পতেই ভেঙে যায় তাহলে জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া যায় যা দেরিতে বিয়ে করলে পাওয়া সম্ভব হয় না। সূত্র : এই সময়।//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি