ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ১৪:১৩:৪৭

নাগরিক সেবা দেওয়ার অ্যাপ তৈরি

বাংলাদেশি তরুণের কৃতিত্ব

নাগরিক সেবা দেওয়ার অ্যাপ তৈরি

নাগরিক সেবা দেবে প্রযুক্তি। ভাবছেন সেটি কি করে সম্ভব? সত্যিই সম্ভব। নাগরিক সমস্যার সমাধান দিতে নতুন অ্যাপ তৈরি করেছেন বাংলাদেশি এক তরুণ। `ডিজিটাল মানুষ` মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক প্লাটফর্মটি তৈরি করেছেন  ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী খন্দকার আলিফ ও তার কয়েক বন্ধু। আলিফ জানান, রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাতেই অ্যাপটির সুবিধার আওতায় এসেছে। অ্যাপটিতে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছয় সহস্রাধিক সেবাদাতা দক্ষ কর্মী যুক্ত হয়েছে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ময়মনসিংহে সেবাটি চালু করা হবে বলে তিনি জানান। খন্দকার আলিফ জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তারা ভালো সাড়া পেয়েছেন। ডিজিটাল মানুষের কর্মযজ্ঞ বৃদ্ধিতে এতে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড (বিবিসিএল)। সম্প্রতি উভয় প্রতিষ্ঠান চুক্তি স্বাক্ষরও করেছে। প্ল্যাটফর্মটিতে ইলেকট্রিশিয়ান, এসি সার্ভিসিং, গ্যাস টেকনিশিয়ান, ওয়াটার ট্যাপ, ট্যাঙ্ক সার্ভিসং, বাড়ি বা অফিস স্থানান্তর, আইটি সার্ভিস, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনসহ ৮০ ক্যাটাগরির সেবা রয়েছে। অ্যাপটিতে থাকা ২২টি ক্যাটাগরি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় কাজের কর্মীটি ডেকে নিতে পারবেন। ধরুণ আপনার বাসার ফ্রিজটি কাজ করছে না। ওভেনে সমস্যা, বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি বা আপনার টয়লেটের ফ্ল্যাশটি নষ্ট হয়ে গেছে। এ সমস্যার সমাধান দেবে `ডিজিটাল মানুষ`। অ্যাপটিতে নিবন্ধনের পর গ্রাহক যে এলাকায় অবস্থান করছেন ক্যাটাগরিভিত্তিক ওই এলাকার কর্মীদের তালিকা পাবেন। এ তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী বাসায় ডেকে বাসার সমস্যা সমাধান করা যাবে। উদ্যোক্তারা বলেন, এখানে সব কর্মী নিবন্ধিত থাকায় বিপদের ভয় নেই। কেননা কর্মীদের ঠিকানা, ফোন নম্বর থেকে যাবতীয় তথ্য আগে থেকেই ডিজিটাল মানুষের ডাটাবেজে সংগ্রহ করে রাখা হয়। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। অ্যাপটি http://bit.ly/2G7Qw3D থেকে নামানো যাবে। / এআর /
তাসমিন চায় পুলিশ হতে

তাসমিনা খাতুন। বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরট উপজেলার চকসুবল গ্রামে। বাবা ওবায়দুল, মা তহুরা আক্তার। পড়াশুনা করে শঙ্কারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেনিতে। ছোটাবেলা থেকেই নেশা ঘোড়া ছোটানো। সেই নেশা থেকেই তাসমিনার সারাদিন কাটে ঘোড়ার পিটের উপর চড়ে। ঘুম থেকে উঠে একমুঠো খেয়ে ঘোড়ার পিঠে উঠে বসে তাসমিনা। দুপুরে এসে একটু খেয়ে আবারও ঘোড়া নিয়ে বের হয়। দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিযোগিতার কথা শুনলেই ছুটে চলে তাসমিনা। কিন্তু দারিদ্রের কারণে তাসমিনের বাবা তার ঘোড়াটি বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মতো নিজের ঘোড়া না থাকলেও মেয়েটির এমন আগ্রহ উলফাত কাদের নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘোড়া ভাড়া নেন তারা বাবা। এরপরই নজর কাড়া পারফরমেন্সের পর তাকে একটা ঘোড়া উপহার দেন। কিন্তু ঘোড়াটির এক চোখ অন্ধ থাকার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতো না ঘোড়াটি। তবুও থেমে থামাতে পারেনি তাসমিনাকে। কোথাও ঘোড়া প্রতিযোগিতা হবে শুনলেই তাসমিনাকে নিয়ে ছোটেন তার বাবা। নিজের ঘোড়া অন্ধ হওয়ার কারণে তাসমিনা অন্যের ঘোড়াকে জিতিয়ে নিতে কাজ করতেন। তার বদলে তার নাম ঘোষিত হয় বিজয়ী হিসাবে। তবে সব পুরস্কার ঘোড়ার মালিককে দিয়ে খালি হাতেই ঘরে ফিরতো তাসমিনা। সাত বছরের শিশু তাসমিনা বর্তমানে ১২ বছরের কিশোরী। এরই মধ্যে সে হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়সওয়ার। যেকোনো প্রতিযোগিতায় সবাইকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায় তাসমিনার দুরন্ত ঘোড়া। প্রতিযোগিতা দেখতে আসা হাজারো দর্শকের হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার ময়দান। বারবার জয়ী হয়ে তাসমিনা তার ভক্তকুলকে নির্মল আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। নওগাঁর মেয়ে তাসমিনা এরইমধ্যে প্রায় অর্ধশত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৩০টিতে অধিকার করেছে প্রথম স্থান। তাসমিনার পাওয়া পুরস্কারের তালিকাটি যথেষ্ট দীর্ঘ। তাসমিনা খাতুন সাহস, শক্তি, সংকল্প ও নারী ক্ষমতার স্বীকৃতি সরূপ এবছর তাকে নাসরীন স্মৃতি পদক প্রদান করছেন একশন এইড। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনের কাছে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাতকাটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: এতোকিছুর মাঝে কেন আপনার ঘোড়াটির পিঠে চেপে বসার স্বপ্ন তৈরি হলো?    তাসমিনা খাতুন: বাবা দরিদ্র দিনমজুর হলেও ছিল একটি ঘোড়া। বাবা যখন ঘোড়াটিকে ঘাস খাওয়াতেন, পরিচর্যা করতেন, বিষয়গুলো এইটুকুন আমাকে আকৃষ্ট করত। আমি সাত বছর বয়েসে ঘোড়া লালন-পালনে বাবাকে সহযোগিতার করতাম। এসব করতে করতে কেমন যেন এক মায়ায় জড়িয়ে পড়ি। ধীরে ধীরে একদিন ঘোড়াটির পিঠে চেপে বসে। সাহস করে দেয় ছুট। সেই যে শুরু, আর থামেনি।   একুশে টিভি অনলাইন: প্রথমে কিভাবে এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় ? তাসমিনা খাতুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আমার স্বপ্নের যাত্রা। এরপর একে একে রংপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মেলাসহ নানা আয়োজনে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। মেলা-পার্বণে অন্য আয়োজনের সঙ্গে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ বিনোদন, বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। একুশে টিভি অনলাইন: ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণে আপনার পড়াশুনার কোন অসুবিধা হয় কি? তাসমিনা খাতুন: কিছু সমস্যা তো অবশ্যই হয়। আমি যখন কোন প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখন তিন থেকে চার পড়াশুনার বাহিরে থাকতে হবে। আমি যে কারণে পড়াশুনা ভাল করে করতে পারি নি। তবে যতটুকু সময় পায় পড়াশুনা করি। একুশে টিভি অনলাইন: লেখাপড়া শেষ করে আপনি কি হতে চান? তাসমিনা খাতুন: ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় দর্শকের বিপুল সাড়া আমাকে অনেক আন্দন দেয়। সেই আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বারবার চেষ্টা করি প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে। লেখাপড়া শেষ করে পুলিশে চাকরি করতে চাই। একুশে টিভি অনলাইন: নাসরিন স্মৃতি পদক পেয়েছেন, আপনার কেমন লাগছে। তাসমিনা খাতুন: নারী ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নাসরীন পদক পাওয়ার চেয়ে আনন্দের বিষয় আমার কিছু হতে পারে না। আমি মনে করি, মানুষকে আন্দন দেওয়া একটা কাজ। চাইলেই সব নারী যে কোনো কাজে ভালো করতে পারেন। টিআর/ এমজে

শারীরিক অক্ষমতা জয় করা অদম্য ২৭ মেধাবী

শারীরিক অক্ষমতা কখনো মানুষের সফতার পথে যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২৭ মেধাবী শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী বাকি ১৩ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এদের পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বিধি অনুযায়ী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়।আর শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পায়। সার্বিকভাবে ভালো ফলাফল করেছে তারা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ১৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে রাজশাহীর পুঠিয়ার পঙ্গু শিশু নিকেতন সমন্বিত অবৈতনিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাসুম রানা। জিপিএ-৪.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। একই বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সুফিয়া খাতুন জিপিএ-৪.৭৩ ও শিখা খাতুন জিপিএ-৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাবনা সদরের দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছে জিপিএ-৪.৭৮। একই বিদ্যালয়ের ওবাইদুর রহমান জিপিএ-৪.৭২ এবং মোকাররম হোসেন ও মোহাম্মদ আলী জিপিএ-৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সিরাজগঞ্জের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিবন্ধী মাহামদুল আয়ুব আলী জিপিএ-৪.৭২, নওগাঁর মান্দা রামনগর উচ্চবিদ্যালয়ের আতাবর রহমান জিপিএ-৪.৩৩, পুঠিয়ার নাদের আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জুঁই খাতুন জিপিএ-৪.০৬, নওগাঁর ধামইরহাট মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের রাবেয়া বাসরী ইমু জিপিএ-৩.৮৯ এবং রাজশাহী নগরীর মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আদিল মাহমুদ জিপিএ-৩.২৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের এস এম সাব্বির আহমেদ, পাবনার বেড়া উপজেলার আল হেরা একাডেমির নাজিবুল আলম অনিক, বগুড়া জেলা স্কুলের কাজী ফাহিম আবরার ও এস এম বাকি বিল্লাহ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফরোজ আহমেদ আসিফ শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা প্রত্যেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ মডেল একাডেমির অহেদুর রহমান জিপিএ-৪.৮৯, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের রায়হান ইসলাম সিফাত জিপিএ-৪.৮৩, রাজশাহী সরকারি মাদরাসার হাসিবুল ইসলাম জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ার পীরহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী অনিকা বুশরা জিপিএ-৩.৭৮ রাজশাহীর বাগমারা শ্রিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাব্বির রহমান জিপিএ-৩.৬৭, নওগাঁর মহাদেবপুর সর্বমঙ্গলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তৌহিদুল ইসলাম সৌরভ জিপিএ-৩.৬১, বগুড়ার ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের রিজভী আহমেদ সাগর জিপিএ-৩.৩৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ মরদানা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাহিদ আলী জিপিএ-৩.০০ এবং রাজশাহী নগরীর মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের তাহসানুল আহনাফ হাবিব জিপিএ-২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কেআই/টিকে

জলে-স্থলে চলে জমিরের সাইকেল

সড়কের পাশাপাশি পানিতেও সমানতালে চালানোর উপযোগী করে বাইসাইকেল তৈরি করলেন ফরিদপুরের জমির হোসেন নামের এক যুবক। নিজ মেধা ও শ্রমের  বানানো এই বাইসাইকেল পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সড়কের পাশাপাশি পানিতেও সমানতালে চলতে সক্ষম বিশেষভাবে তৈরি এই সাইকেল। গত শনিবার বিশেষভাবে তৈরি জমিরের বাইসাইকেলটি পানিতে চালানো হয়। পানিতে চলা এ সাইকেল চালনা দেখতে  শত শত স্থানীয় মানুষ ভিড় করে। পায়ে চালিত এ বাইসাইকেলটি তৈরি করেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের জমির হোসেন। তার বাবার নাম পাচু মাতুব্বর। মোটরচালিত বাইসাইকেল তৈরির পর এবার সে উদ্ভাবন করলেন জলে-স্থলে একই গতিতে চলা বাইসাইকেল। যা পানিতে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বাই সাইকেল বানানো প্রসঙ্গে জমির হোসেন জানান, পানি দিয়ে চলার জন্য পায়ে চালিত প্যাডেলের সাথে পেনিয়াম সেট করে পেছনে স্পিডবোর্ডের পাখার আদলে শক্তিশালী একটি পাখা লাগানো হয়েছে। পায়ের প্যাডেল একবার ঘুরলে পাখাটি ৫০ বার ঘুরবে। এতে বেশ স্পিডে পানিতে চলবে বাইসাইকেলটি। সাইকেলটি পানিতে ভাসিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে নমনীয় বায়ুভর্তি টিউব। যখন বাইসাইকেলটি রাস্তায় চলবে তখন বাতাসবিহিন টিউব সাইকেলের পেছনের একটি বাক্সে থাকবে। যখন বাইসাইকেলটি পানিতে চলবে তখন শুধু দুটি টিউব হাওয়া দিয়ে বাই সাইকেলের নাট-বল্টুর সাথে লাগিয়ে দিতে হবে। এছাড়া স্থায়ীভাবে পানিতে চালানো বাই সাইকেলটিতে টিউবের পরিবর্তে পিভিসি পাইপ দিয়েও একই ভাবে ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া এ সাইকেলে মোটর লাগিয়েও  চালানো যাবে। যা দ্রুতগতি সম্পন্ন হবে। এটি বানাতে খরচ হবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যারা সাঁতার জানেন না তারাও এ বাইসাইকেল চালাতে পারবে। সেফটি বেল্ট থাকায় সাইকেলের চালক সিট থেকে পড়ে গেলেও চালক পানিতে ভেসে থাকবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান জমিরের  বাবা পাচু মাতুব্বর একজন ভ্যানচালক। জমির গত বছর এসএসসি পাশ করে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পড়ালেখার খরচ মেটাতে না পেরে আর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেনি। পড়ালেখা বাদ দিয়ে নিজে রিকশা-ভ্যান মেরামত ও ইলেকট্রিক কাজ করে যা আয় করেন তার থেকে কিছু বাঁচিয়ে সে নানা উদ্ভাবনী কাজে টাকা খরচ করেন। তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কেউ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি অনেক নতুন কিছু করতে সক্ষম হবেন। কেআই/ এআর    

ইচ্ছা শক্তিই পারে বিশ্বকে জয় করতে

সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত ‘বিশ্ব হুইল চেয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে’ বাংলাদেশের পক্ষে খেলে জয় করেন চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। শারীরিকভাবে অক্ষম হয়েও তিনি দেশের জন্য সম্মান আনতে সক্ষম হন। যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন জামাল উদ্দিন। তিনি ছেলেবেলায় ভুল চিকিৎসায় পা হারিয়েছিলেন। বাবাকে হারিয়েছেন স্কুল জীবনে। পাঁচ ভাই এক বোনের সংসারে দারিদ্র্য নেমে আসে। কিন্তু এ সাহসকে হারাতে দেননি জামাল উদ্দিন। জীবনযুদ্ধে এগিয়ে গেছেন নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য। শারীরিক অক্ষমতা আর চরম দরিদ্রতার কষাঘাতেও পিছপা হননি তিনি। বিশ্ব হুইল চেয়ার ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য জামাল এখন অনেকের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। সব প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে বর্তমানে তিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বে রয়েছেন। এর আগে সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় মাদ্রাসা বোর্ড থেকে যথাক্রমে দাখিল ও আলিমে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। কেবল লেখাপড়াতেই নয়, বাকপ্রতিভা আর ক্রিকেটেও লক্ষ্যপূরণ করেছেন জামাল উদ্দিন। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের ‘জব ফেয়ার অনুষ্ঠানে’ নিজের জীবনযুদ্ধে এগিয়ে চলার গল্প শুনিয়ে প্রেরণার আলো জ্বালিয়েছিলেন হাজার হাজার প্রতিবন্ধীদের মনে। তার এগিয়ে চলার গল্প শুনে ও অদম্য মানসিক শক্তি দেখে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হায়দার আলী মিয়া তাকে ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মনের প্রবল শক্তির মাধ্যমে আমরা বিশ্ব জয় করতে পারব উল্লেখ করে জামাল বলেন করেন, শারীরিক কোনো প্রতিবন্ধকতাই তাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। মনের প্রবল শক্তির জোরে আমরা্ বিশ্ব জয় করতে পারব। কারো সহানুভূতি নয়, সহযোগিতাই প্রতিবন্ধীদের কাম্য। এমএইচ/টিকে

নিউইয়র্কে উদ্যান জলাধার নির্মাণে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

নিউইয়র্কে গড়ে তোলা হচ্ছে অভিনব নগর-উদ্যান। বর্ষণজনিত কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা রোধে গড়ে তোলা হচ্ছে এ উদ্যান। মাত্র কয়েক ফুট জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠছে এটি। এর ভিতে রয়েছে একটি জলাধার, যা একসঙ্গে পানি সংগ্রহ ও উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই উদ্যান পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশি পানি বিশেষজ্ঞ সুফিয়ান খন্দকার। তার নকশায় ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার জলাধার নির্মাণ শেষ হয়েছে বা নির্মিত হচ্ছে। জানা যায়, নিউইয়র্ক সিটি ২০১০ সালে ‘সবুজায়ন’ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়কের ধারে বায়োসোয়েল নামে পরিচিত এই ভূগর্ভস্থ ক্ষুদ্র জলাধার গড়ে তোলা হচ্ছে। বাইরে থেকে এটি একটি ক্ষুদ্র উদ্যান। আর তার ঠিক নিচেই রয়েছে জলাধার বা পাকা চৌবাচ্চা। রাস্তায় জমে থাকা পানি যাতে ভূগর্ভস্থ চৌবাচ্চায় গড়িয়ে পড়ে, তার জন্য রাখা আছে বিশেষ ড্রেনের ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পানি জলাধার থেকে বের করে দেওয়ার জন্যও রয়েছে বিশেষ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। সুফিয়ান খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলোতেও এরকম উদ্যান গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলে এক দিকে জলাবদ্ধতা হ্রাস করা সম্ভব হবে। আর অন্য দিকে নগরের সৌন্দর্যবর্ধন সম্ভব হবে। খুব জটিল ও ব্যয়বহুল কোনও প্রযুক্তি ছাড়াই এই জলাধার-উদ্যান নির্মাণ সম্ভব বলে জানান তিনি। তিনি জানান, অতিবৃষ্টির ফলে শহরের রাস্তায় জমে যাওয়া পানি নিয়মিত ড্রেন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্কাশন করা যায় না। এর ফলে অতিরিক্ত পানি নিকটস্থ নদী বা জলাশয়ে প্রবেশ করে। পানির সঙ্গে সব ধরনের বর্জ্যও সেখানে মিলিত হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যায় বায়োসোয়েল নির্মাণ সম্ভব হলে এই সমস্যা বহুলাংশে কাটানো সম্ভব হবে। ঢাকায় জলাবদ্ধতা ক্রমেই জটিলতর হয়ে পড়ছে। তাই এই অবস্থায় এ সহজ পদ্ধতির ব্যবহার একসঙ্গে নানা সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করেন সুফিয়ান। একে// এসএইচ/        

তরুণরা কেন ‘চার হাজারের’ পেছনে ছুটছে

সারাদেশে বছরে বিসিএসে চাকরি হচ্ছে চার হাজার লোকের। অথচ কম করে হলেও ৪০ হাজার যুবকের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ আছে। তাহলে আমরা কেন চল্লিশ হাজারের পেছনে না ছুটে চার হাজারের পেছনে ছুটছি? তরুণদের উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন রাখেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফল এ প্রজন্মের উদ্যোক্তারা।রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে দু’দিনব্যাপী বিপিও সামিটের দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার সকালে তরুণ উদ্যোক্তাদের সেশনে বক্তৃতা করেন তরুণ উদ্যোক্তারা। স্টার কম্পিটার সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালক রিজওয়ানা খান বলেন, যেকোনো কাজ শুরু করার আগে সেই কাজ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা মনের মধ্যে পোষণ করা দরকার। কাজের মধ্যে কোনো ছোট বড় নেই। সেটা কল সেন্টারের কাজ হোক আর আউটসোর্সিং হোক।রিজওয়ানা খান এসময় উদাহরণ টেনে বলেন, `উবার` ও ` পাঠাও` এর মাধ্যমে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। এটা ইতিবাচক দিক।/এআর /

মেয়েরা জিন্স পরলে হিজড়া শিশু জন্মে

জিন্সের প্যান্ট এ যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্যাশানের একটি। যেমন স্টাইলিশ, তেমনই টেকসই। তাই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও জিন্স প্যান্টের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে ছেলেদের তুলনায় আধুনিক মেয়েরা বেশি জিন্স পরিধান করে থাকেন। তবে মেয়েদের জিন্স পরায় তাদের মারাত্মক খেসারাত দিতে হয় বলে দাবি করেছে ভারতের এক অধ্যাপক। তাঁর দাবি, যেসব মেয়েরা জিনস পরিধান করে তারা তুলনামূলক বেশি ‘হিজড়া’ সন্তান প্রসব করে থাকেন। উদ্ভট এই দাবি করা ব্যক্তি ভারতের কেরালাম কাসারাগড়ের অধ্যাপক রজিত কুমার। অধ্যাপক রজিত কুমার আরও জানিয়েছেন, শুধু জিন্সই নয়, যেকোন পুরুষ পোশাক ব্যবহারেই এমন বিপদ হতে পারে। তিনি সচেতনতা তৈরি করে বলেছেন, যেসব দম্পতির জীবন-যাপন নারী, পুরুষ বিভাজন মানে, তারাই শুধু ভালো সন্তানের জন্ম দিতে পারে। ওই অধ্যাপক আরও জানান, কেরালায় তিন লাখেরও বেশি হিজড়া রয়েছে। ডক্টর রজিত কুমার আরও বলেন, অসৎ চরিত্রের বাবা মায়ের সন্তান অটিস্টিক বা সেরিব্রাল পালসির মতো অসুখে ভোগে।’তবে এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও সব অদ্ভুত ভাবনা আগেও বিভিন্ন সমাবেশে তুলে ধরেছেন অধ্যাপক রজিত কুমার। বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে অধ্যাপক রজিত কুমারকে। তবুও তিনি দমে যাননি। সূত্র: এবেলাএমজে/  

কর্মক্ষেত্রের  নারীদের সমস্যা ও প্রতিকার: ৫ নারীর মত

পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদচারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুরুষদের সাথে টেক্কা দিয়ে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে এখনও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নারীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়গুলো অনেকের জন্য এতটা বিব্রতকর যে, এগুলো নিয়ে সরাসরি কথাও বলা যায় না। অফিসের বস কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, এই ভয়ে অনেকেই বুকে পাথর বেঁধে মাটি চাপা দেন এসব নিগ্রহের ঘটনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে যে ধরণের সমস্যা আসে আর এসব সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়েছেন ভারতের পাঁচ কর্মজীবী নারী। কর্পোরেট কর্মকর্তা তারা মেহেতা: বিবাহিত হওয়ায় আমাকে চাকরিতে নেওয়া হয়নি। ভারতে মানব মেধা সম্পদ নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তারা মেহতা একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি চাকরির ইন্টারভিউতে সবগুলো রাউন্ডে পাস করার পরেও শেষমেশ আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইন্টারভিউ এর এক মাস আগেই আমার বিয়ে হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ মনে করেছে যে, আমি হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাব। আর তাই তারা আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়নি”।এই সমস্যা মোকাবেলার কথাও জানিয়েছেন তারা মেহতা। তিনি বলেন, “আমার এক বান্ধবীও আমার মত একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। আর তাই এরপরে যখন একটি প্রতিষ্ঠানে আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলাম সেখানে আগেই বলেছি যে, আমার বৈবাহিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে আমাকে বিচার করা যাবে না। আর আমার ব্যাপারে এই ধারণাও করা যাবে না যে, আমি হয়তো খুব শীঘ্রই সন্তান নেব”।“ কর্তৃপক্ষ আমার এই সততা পছন্দ করলেন এবং আমার মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছেন”-বলছিলেন তারা। উদ্যোক্তা নলিনী শর্মা: নলিনী শর্মা নামের এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, “অফিসে আমার বস একবার মন্তব্য করলেন যে, নারীদের অন্যদের প্রভাবিত করার দক্ষতা অনেক বেশি। আর তিনি আমাকে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট দলগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন। এমনকি আমি মেয়ে বলে আমাকে দিয়ে ক্লায়েন্টস মিটিং করানো হতো। তার ধারণা ছিল আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্লায়েন্টসগুলোকে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে আমি প্রভাবিত করতে পারব। কিন্তু যে বিষয়টি আমার সবথেকে খারাপ লাগত তা হল যে, আমি মেয়ে বলেই তিনি আমার প্রশংসা করতেন। আমি মেয়ে বলেই সবাইকে প্রভাবিত করতে পারি মনে করতেন তিনি। আমার মেধা বা কাজের দক্ষতার কোন মূল্যায়নই তিনি করতেন না”। তিনি আরও বলেন, “নিজের মেধা প্রমাণ করার জন্য আমি এরপর থেকে অনেক পরিশ্রম করতে থাকি। এক পর্যায়ে আমি নিজের ব্যবসা আরম্ভ করি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হয়ে আসার সময় বসকে বলে আসি যে, শুধু নারী হয়েই না বরং নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজ লাগিয়েই আমি কাজ করি”। সরকারি কর্মকর্তা আরতি শাহ: ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তা আরতি শাহ বলেন“মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে আসার পর আমাকে অন্য অফিসে বদলি করা হয়। বদলির আদেশে বলা ছিল যে, এমন বদলি খুবই সাধারন ঘটনা। কিন্তু আমার একজন সহকর্মী বললেন যে, অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেছেন যে, যেহেতু আমি মা হয়েছি সেহেতু আমার সন্তানের জন্য অফিসের কাজের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আর তাই তারা আমাকে অন্য অফিসে বদলি করেছেন। কিন্তু নতুন অফিসে আমি আমার কাজের দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করেছি যে, মা হয়েও সফলভাবে কাজ করা যায়”-বলছিলেন  ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়েতা জোশি: মাসিক ছুটির প্রসঙ্গে নারী কর্মীদের নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ-ভারতের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়েতা জোশি বলেন, “আমাদের অফিসে একবার এই প্রসঙ্গ উঠল যে, নারী কর্মীদের মাসিককালীন সময়ে ছুটি দেওয়া যায় কি না। এই প্রস্তাবের এক প্রতিক্রিয়ায় এক পুরুষকর্মী বলেন যে, এরপর থেকে আমাদের অফিসে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়ার আগে দুই বার ভাবতে হবে। “তার কথায় আমার অনেক খারাপ লাগে। বিনয়ের সাথে আমি তার কথার প্রতিবাদ করে আমি বলি যে, শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি ঠিক নয়। আমার কিছু সহকর্মীও আমাকে সাপোর্ট দিল”। সেবিকা নমরতা: পুরুষ সহকর্মীরা কখনই আমাকে দলের অংশ মনে করেনি। ভারতের একটি হাসপাতালের সেবিকা নমরতা বলেন, “একটি হাসপাতালে কাজ করার সময় আমি এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেখানে কর্মরত পুরুষ সহকর্মীরা নিজেদের মত করে সময় কাটাতেন। অফিসে নিজেরা আড্ডা বা গল্প করতেন। আমাকে বা অন্য কোন নারী সহকর্মীদের সাথে তারা ভাব বিনিময় করতেন না। একদিন তাদের আড্ডার কাছাকাছি গিয়ে কিছু জোকস শুনতে পাই। সেখানকার এক পুরুষ সহকর্মী একদিন আমাকে জানালেন যে, তারা মাঝে মাঝে এমন জোকস করেন যা নারী হিসেবে আমাদের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এরজন্য তারা আমাদের সাথে মেশেন না”।“একদিন আমি তাদের এসব জোকসের প্রতিবাদ করি। এরপর থেকে তারা জোকস করা বন্ধ করেন। কিন্তু এরপর থেকে তারা আর আমার সাথে কথাও বলে না। আমিও যে তাদের দলেরই একজন সদস্য তারা আর সেটা মনে করেন না”। সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া/এস এইচ এস/ এমজে  

হিজাব পরেই মিস ইউনিভার্সে

হিজাব পরেই মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন মারিয়া। আর এর মাধ্যমেই গ্ল্যামার জগতের বিশেষ আকর্ষণ বিকিনি ছেড়ে সুন্দর পোশাকের নজর কাড়বেন ২০ বছর বয়সী এ তরুণী। ইতোমধ্যে ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ডের সেমিফাইনালে অংশ নিয়েছেন তিনি। জয়ী হলেই প্রথম কোন হিজাবধারী হিসেবে ফাইনালে প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছেন লাবণ্যময়ী এই তরুণী। হিজাবপরোয়া ওই সমাজকর্মী বলেন, আমার সফই ইচ্ছা-ই মুসলিমদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আনবে। এর আগেও মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় মুসলিম নারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কেউউ হিজাব পরে লালগালিচায় হাজির হননি। তবে এবার মারিয়ার মাধ্যমে হিজাবের ছোঁয়া পড়তে যাচ্ছে ব্রিটেনের মিস ওয়ার্ল্ডের সেই লাল গালিচায়। প্রথমে তিনি মিস বার্মিংহাম প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করেন। ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মারিয়া বলেন, ‘আমি যখন প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নিই, তখন আমার অনেক বাধা ছিল। আমি আয়োজকদের বলেছিলাম, আমার সাইজ আট নয়। এই জগতে প্রথমবারের মতো পা রেখেছি। তাই আমি জানি না, এখানে কিভাবে হাঁটতে হয়। তবে আয়োজকদের একজন আমাকে জানালেন, লাল গালিচায় হাঁটতে তোমার বিকিনি পরার দরকার নেই। দরকার কেবল সুন্দর পোশাকের। তোমাকে সুপার মডেল দেখানোর দরকার নেই। দরকর সুন্দর চেহারা দেখানোর।` মারিয়া আরও জানায়, শৈশবে তাকে যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। ওই সময় ওই যৌন হামলাকারী তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলো বলেও দাবি করেন মারিয়া। সূত্র: ডেইলি মেইলএমজে/  

এশিয়ার সেরা উদ্যোক্তাদের তালিকায় বাংলাদেশের দুই তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বস চলতি বছরে এশিয়ার সেরা ৩০ উদ্যোক্তার তালিকা প্রকাশ করেছে।  ওই তালিকায় এসেছে বাংলাদেশের দুই তরুণ উদ্যোক্তার নাম।‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া ২০১৮ : দ্য সোস্যাল এনট্রপ্রেনারস ব্রিঙ্গিং পজিটিভ চেইঞ্জ টু এশিয়া’শিরোনামে এশিয়ার সেরা ৩০ উদ্যোক্তার তালিকা গত সোমবার (২৬ মার্চ) প্রকাশ করেছে ফোর্বস। ফোর্বসের এই তালিকায় উঠে আসা বাংলাদেশি দুই তরুণ উদ্যোক্তা হলেন, অনলাইন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান টেন মিনিটস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক (২৬) ও পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘চেঞ্জ’ নামের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের প্রধান সাজিদ ইকবাল (২৭)। পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে সাজিদ ইকবাল ২০১২ সালে চেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। প্ল্যাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে পরিবেশসম্মত বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে ওই সময় একটি প্রকল্প চালু করেন তিনি।  ‘বোতলবাতি’ নামে তার এই প্রকল্প দ্রুত ব্যাপক সাড়া পায়। দিনের বেলায় বস্তির অন্ধকার ঘরে সূর্যের আলো ব্যবহার করে তৈরি হয় এই বোতলবাতি।  শুধু ঘরেই নয়, বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশসাশ্রয়ী বাতি পৌঁছে দিতে সোলার পাইপ লাইট নামের একটি প্রকল্প নিয়েও কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। ফোর্বস বলছে, জার্মানির একটি সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া অন্তত ৪ হাজার মানুষের ঘরে বোতলবাতির আলো পৌঁছে দিয়েছেন সাজিদ।  তার এই প্রতিষ্ঠান সৌর লণ্ঠন, সড়ক বাতি, ক্ষুদে সেচ পাম্প প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছে। এর আগে বাংলাদেশের এই তরুণ উদ্যোক্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস পদক, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, ব্রিটিশ রানির কাছে থেকে কুইন্স ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ডস-২০১৭ লাভ করেন। অন্যদিকে, শিক্ষামূলক সংগঠন হিসেবে ২০১৫ সালে ‘টেন মিনিট স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষা উদ্যোক্তা আয়মান সাদিক। ওই সময় মোবাইল অপারেটর রবির সহায়তায় তিনি এই অনলাইন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যার লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা; যেখান থেকে মানুষ শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। টেন মিনিটস স্কুল ইউটিউব এবং ফেসবুকে সংক্ষিপ্ত লেকচারসমৃদ্ধ ভিডিও প্রকাশ করে। বাংলায় ভিডিওচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি অনলাইনে লাইভ ক্লাসও নিয়ে থাকে সাদিকের এই অনলাইন স্কুল। ফোর্বস বলছে, আয়মান সাদিকের অনলাইন এ স্কুল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শত শত লাইভ ক্লাস, স্মার্ট বই, হাজার হাজার ভিডিও টিউটরিয়াল তৈরি করে।  বর্তমানে দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে সাদিকের এই স্কুল।  সম্প্রতি টেন মিনিটস স্কুলকে সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার এগিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ রানির কুইন্স ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ডস-২০১৮ লাভ করেছেন আয়মান সাদিক।  এছাড়া এই স্কুলের জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আইসিটি জোটের বেস্ট ই-লার্নিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। আরকে// এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি