ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:০৮:৫৯

একশ’ দেশ ভ্রমণ বাংলাদেশি তরুণীর

একশ’ দেশ ভ্রমণ বাংলাদেশি তরুণীর

শততম দেশ ভ্রমণের নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণী নাজমুন নাহার। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের মাটিতে পা রেখেই  তিনি শততম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। জানা গেছে, তাঁর ভ্রমণ তালিকায় পূর্ব আফ্রিকার জাম্বিয়া ছিল ৯৯তম দেশ। দেশটির লিভিংস্টোন শহর থেকে হেঁটে তিনি জিম্বাবুয়ে পৌঁছান। বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের জিম্বাবুয়ে অংশে কয়েক ঘণ্টা ঘুরে তিনি আবার জাম্বিয়ায় ফিরে আসেন।  নাজমুন নাহার তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘১০০তম দেশ ভ্রমণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের ১০০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো নিঃসন্দেহে যে কারও  জন্য গর্বের ব্যাপার, আমারও তাই হচ্ছে। জাম্বিয়ার লিভিংস্টোন শহরের গভর্নর আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তাই জিম্বাবুয়েতে বেশি সময় থাকতে পারিনি। ৫ জুন আবার জিম্বাবুয়ে ভ্রমণে যাব।’ শততম দেশ ভ্রমণের লক্ষ্যে সুইডেন থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১১ মে। তিনি প্রথমে পৌঁছান আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়ায়। সে দেশ থেকে ১৭ তারিখ তিনি পৌঁছান কেনিয়ায়। এভাবে উগান্ডা, রুয়ান্ডা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া হয়ে ১ জুন পা রাখেন জিম্বাবুয়ের মাটিতে। নাজমুন নাহার বলেন, ‘পুরো ভ্রমণটি আমি সড়কপথে করেছি। অনেক সময় দীর্ঘ পথ বাসে কাটাতে হয়েছে। কষ্ট হলেও যাত্রাটা আমি উপভোগ করেছি।’ আফ্রিকার দেশগুলোতে তিনি শুধু ঘুরে বেড়িয়েছেন এমনটি নয়-  স্থানীয় অনেক স্কুলে গেছেন,  খুদে ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজের গল্প বলেছেন। দেখেছেন প্রত্যন্ত আফ্রিকানদের জীবনযাপন। ২০০০ সালে ভারত ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর বিশ্বভ্রমণের  যাত্রা শুরু হয়। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠ শেষে রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসেন নাজমুন। এরপরে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে চলে যান সুইডেন। লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। পড়াশোনার ফাঁকে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। কয়েক মাসের জমানো টাকায় জাহাজে ভ্রমণ করেন ফিনল্যান্ড। সুইডওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় খণ্ডকালীন চাকরি করেছেন। খরচ বাদে যা জমাতেন, তা নিয়েই  নতুন কোনো দেশে যেতেন। বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। এ তালিকায় আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু, চিলি, প্যারাগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশ। এই দুই সাল মিলিয়ে এটাকে তাঁর ‘ভ্রমণবর্ষ’ বলা যায়! অনূঢ়া নাজমুন নাহার ‘ইনসপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামের একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন স্কুল ও অনাথ আশ্রমে যাবেন। বর্ণনা করবেন নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা। তিনি বললেন’ ‘টাকা জমিয়ে মানুষ সম্পদ গড়ে। আমার স্বপ্নই নতুন কোনো দেশ ভ্রমণ। আপাতত দেশে ফেরার লক্ষ্য  ঈদের পরপরই দেশে ফিরব। এরপর পরিকল্পনা করব নতুন কোনো দেশে যাওয়ার।’ কেআই/ এআর
একসময়ের কবুতর ব্যবসায়ী এখন সফল উদ্যোক্তা

‘স্কুলজীবনে বাড়ির আঙিনায় নিয়মিত সবজি চাষ করতাম। শীতে আলু, বেগুন, টমোটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচামরিচ আর কত কি। বর্ষায় কচু লাউ কাকরল। সাথে কবুতর পালন করতাম। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি সবজি বিক্রি করতাম। কয়েকটি হাটে বিক্রির টাকা জমিয়ে গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে গোপনে চলে যেতাম চট্টগ্রাম শহরে। আলমাস, লায়ন, সিনেমা প্যালেস, খুরশীদ মহল, রঙ্গম জলসা ইত্যাদি নামকো সব সিনেমা হলে ছবি দেখতাম। গ্রামের বখে যাওয়া ছেলেরা পয়াসা খেলা নামের এক প্রকার জুয়া বসতো যততত্র হরহামেশা। মাঝে মাঝে সিকি আধুলি হাতে তাদের সাথেও ওই পয়সা খেলায় নেমে পড়তাম আমিও। একদিন সবজি আর নিজের পোষা কিছু কবুতর ছানা নিয়ে গেলাম কাজির বাজারে বেচাবো বলে, সাথে আর কবুতর ছানা কোনেকাচাই আর বিক্রি হয়নি। মনে খারাপ। সবকিছু গুছিয়ে বাড়ি ফিরবে এমন সময় এক ভদ্রলোক বললেন ২০০ টাকা দেবো। তাতেই রাজি হয়ে গেলাম। ভদ্রলোক আবার শর্ত দিলে তার বাড়ি পর্যন্ত যেতে হবে আমাদের। ওতেও রাজি হয়ে গেলাম। গ্রামের কাঁচা পথ। চার পাশে ঘুটঢ়ুটে অন্ধকার। মাথায় সবজির খাঁচা, হাতে কবুতর ছানা। ভদ্রলোক সামনে আমরা তার পিছু পিছু হাটঁছি।... প্রায় ২০ মিনিট হাঁটার পর ভদ্রলোক বললেন, এখানে দাঁড়াও। আমি টাকা নিয়ে আসছি।  সবজির খাঁচা আর কুবতর কার হাতে তুলে দিয়ে আমরা দুজন অপেক্ষায় থাকলাম। ভদ্রলোক আর আসেন না। ঘুটঘুটে অন্ধকারে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ভ্রগ্ন মনোরথে বাড়ি ফিলে দেখি মা লণ্ঠন হাতে উঠানে দাড়িয়ে আছেন আমার পথ চেয়ে। নিজের ৩০ বছর ব্যবসায়ী জীবনে কত হাজার কোটি টাকার পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করেছি তার সঠিক হিসাব রাখা হয়নি। কখনো ডিসকাউন্ট কখনো অর্ডার বাতিল কখনো এয়াফ্রেইট কখনও নন-পেমেন্ট, সব মিলিয়ে কত কোটি টাকা যে কতদিকে চলে গেছে, মনে রাখিনি। কিন্তু এখনো ঠিক মনে রেখেছি সেদিনের সেই ২০০ টাকা খোয়ানোর কথা। কখনো ভুলবো না সবজি আর কয়েকটি কবুতর ছানা নিয়ে প্রতারিত হওয়ার কথা। জীবনের প্রতিটি পাতায় যেন নতুন বাঁক। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হল, ফলাফল নিয়ে নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। কারণ এই মধ্যে ফ্রিজ-টেলিভিশনের মিস্ত্রি হিসেবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে সার্টিফিকেট পেয়ে গেছি। মা’য়ের অজানাতে মামাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলাম ভিসা পাঠানোর জন্য। মামা আমার সে চিঠি পেয়েছিলো কি না জানিনা। ইতোমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক রেজান্ট রেরুলো। দ্বিতীয় শ্রেনিতে পাস করলাম। একদিন সন্ধ্যায় আমার প্রিয় বন্ধু আইয়ুব আমাদের বাড়িতে এসে হাজির। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বলল, দোস্ত তুই কোন সাবচেক্টে পড়বি। আমার দুবাই যাওয়ার স্বপ্নের কথা বন্ধু মহলে তখনো অজানা। প্রথমে আইয়ুব জানালো আমি দুবাই নিয়ে ভাবছি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে না। চোখ কপালে তুলে আইয়ুব আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ তারপর যা বলল তার অর্থ হচ্ছে তাকে ছেড়ে আমি দুবাই যেতে পারব না। কিন্তু কি আশ্চর্য! আমি আইয়ুবকে ছাড়িনি। আইয়ু্ব আমাকে ছেড়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেছে  কোন অজানায়। প্রিয় বন্ধু আমার.... আইয়ুবের পীড়াপীড়িতে অবশেষে রাজি হলাম। ও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে অর্নাস করবে । আমি  অ্যাকাউন্টিং এবং ম্যানেজমেন্টে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। অবশেষে দুবাই যেতে প্রস্তুত গরিবের ঘরে জন্ম নেওয়া যুবকের উড়োহাজটি থাকলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। আমার পিতৃতুল্য বড়ভাই এই একবিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকের মধ্যপর্বে চট্টগ্রাম উন্নয়নের রূপকার চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তখন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের দানু মিয়া মার্কেটে দুই রুমের অফিস ভাড়া নিয়ে কামফ্যাক্টারি নামে চালাত সেলাই সুতো প্যাঁচানোর কারখানা। সব সময় এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন ভাই আমার। ভাইয়ের নতুন ও কুটির ব্যবসার কথা শুনে গেলাম ভাইয়ের কাছে। মিনিট দশেক ‍বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমার সবকিছু উজাড় করে তোর পড়াশুনা চালাব। তারপর থেকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি……………..চলবে লেখক: সৈয়দ নুরুল সালাম  চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল  গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ)  

প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে একদল তরুন

নওগাঁয় বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘আশার আলো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় অছিম উদ্দিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটি। আর সেখানে সেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন একদল তরুন। শিক্ষিত করে গড়ে তুলছেন অবহেলিত শিশুদের। স্বাভাবিক শিশুর মতো শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ পায়নি সোহেল রানা। ১৫ বছর বয়সে এখন সে আশার আলো বিদ্যালয়ে। সহপাঠিদের সঙ্গে পড়ালেখা আর বিনোদনে ব্যস্ত সময় কাটে তার। শিক্ষার সুযোগ পেয়ে উজ্জল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে সোহেল। ছোট্ট বিদ্যালয় ’আশার আলো’। এখানে শিক্ষার সুযোগ হয়েছে সোহেলের মতো আরো ৩৫ জনের। এতে খুশি শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরা। প্রতিবন্ধীদের জন্য নওগাঁয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান আশার আলো। কিন্তু নানা সমস্যা নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। বিনা বেতনেই শিক্ষাদান করছেন ১২ জন শিক্ষক। সমাজে অবহেলিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সুযোগ সুবিধা বাড়াতে সহযোগিতা চাইলেন বিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে শহরের উকিলপাড়া মহল্লায় চালু করা হয় অটিষ্টিক, বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় ’আশার আলো’। একে//

ভাঙা ঘড়ি-মোবাইল যন্ত্রাংশ দিয়ে ড্রোন নির্মাণ (ভিডিও)

মৌলভীবাজারে দশম শ্রেনীর ছাত্র কিবরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে ড্রোন। উদ্ভাবন করেছে পানি থেকে বিদ্যুৎ তৈরির প্রক্রিয়া। এলাকায় কিবরিয়া পরিচিতি পেয়েছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসেবে। দেয়াল ঘড়ি ও মোবাইলের ভাঙা যন্ত্রাংশ, ছাতার ভাঙা অংশ, প্লাস্টিকের বোতল, নষ্ট টেলিভিশনের সেন্সর, খেলনা গাড়ি এবং পুতুলের মোটর ও সার্কিটসহ বিভিন্ন ফেলনা সামগ্রী দিয়ে ড্রোন তৈরি করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী কিবরিয়া। ড্রোনটির সাথে সে সংযুক্ত করেছে একটি সোলার। আকাশে উড়ার সময় এর মাধ্যমে ড্রোনটি নিজে নিজেই চার্জ নিতে পারবে। এতে সংযুক্ত করেছে মেটাল ডিটেক্টরও। স্কুলের আর্থিক সহায়তায় ও দুই সহপাঠীর সহযোগিতায় বিজ্ঞানমেলায় প্রথম পুরস্কার জিতে নেয় কিবরিয়ার ড্রোনটি। ড্রোন ছাড়াও কিবরিয়া আবিষ্কার করেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশলও। প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে কিবরিয়া একদিন বড় বিজ্ঞানী হতে পারবে, আশা তার শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের। প্রত্যন্ত জনপদে লুকিয়ে থাকা কিবরিয়ার মতো প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে ভূমিকা রাখবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

হুইল চেয়ারে বসে মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

জটিল স্নায়বিক রোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফিতে আক্রান্ত অ্যাডওয়ার্ড। তার সম্পর্কে বলা হয়েছিল, তিনি পাঁচ বছরের বেশি বাঁচবেন না। সেই তরুণই কিনা মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন, তাও আবার হুইল চেয়ারে বসে। অ্যাডওয়ার্ড সম্প্রতি ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথম কোনো আফ্রিকান গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তার লক্ষ্য এখন শুধু পৃথিবী নয় মহাকাশ জয় করা। তার পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য, স্টিফেন হকিংন্সকে শ্রদ্ধা জানানো। যিনি নিজেও মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাডওয়ার্ডের জন্ম হয়েছিল স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি নামক স্নায়ুবিক সমস্যা নিয়ে। তিনি বড় জোর পাঁচ বছর বেঁচে থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এখন তার বয়স ২৭। এ বছরের শেষে তার বয়স হবে ২৮ বছর। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বেঁচে আছেন। তার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। পেশিগুলো দিন দিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছে।অ্যাডওয়ার্ড বলেন, এমন এক মহাদেশে বাস করছি যেখানে ডিজঅ্যাবিলিটি আছে এমন অধিকাংশ শিশুই স্কুলের ক্লাসরুম কেমন তা কখনোই জানে না। আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করতে পারি। সেসব শিশুদের কথা ভেবেই আমি সেটি করেছি।বিশ্বের সব প্রতিবন্ধী মানুষই আমার অনুপ্রেরণার উৎস। যারা রোজ ঘুম থেকে উঠে নতুন একটি দিনের সঙ্গে লড়াই শুরু করে। আমি তাদের জন্য এমন একটি বিশ্ব চাই যা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।অ্যাডওয়ার্ড এখন এমন এক বিশ্ব তৈরি করতে চান যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সব সুযোগ-সুবিধা অধিকারী হবেন। তাদের স্বপ্নগুলো হয়ে উঠবে বাস্তব।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

তাঁত ব্যবসা করে স্বাবলম্বী (ভিডিও)

আফজাল হোসেন লাভলু। অভাব অনটনে লেখাপড়া করতে না পারলেও সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলে এখন তিনি সফল তাঁত ব্যবসায়ী। দেশের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারেও রয়েছে তার তৈরী শাড়ির ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া, অসহায় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন জাতীয় কারুশিল্পী পদক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা অনাহারেই সময় কাটতো মেধাবী কিশোর আফজাল হোসেন লাভলুর। অর্থের অভাবে লেখা-পড়ায়ও খুব একটা অগ্রসর হতে পারেননি তিনি। তবে অভাব-অনটন দমাতে পারেনি লাভলুকে। তাঁতের সুতি শাড়ীতে দক্ষতার সঙ্গে আধুনিকতার মিশেলে এনেছেন নিজেস্ব বৈচিত্র। আর এই বৈচিত্রই তাকে দিয়েছে খ্যাতী, এখন তিনি দেশের অন্যতম তাঁত ব্যবসায়ী। ৬টি দিয়ে শুরু করা লাভলুর তাঁতের সংখ্যা এখন আড়াইশ। দেশে প্রথম ঝর্না শেড শাড়ীর জনক লাভলুর তাঁতে প্রতিদিন তৈরী হয় প্রায় ৩ হাজার শাড়ী। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ভারতেও বেশ সমাদৃত এই শাড়ী। এছাড়া লাভলুর তাঁতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকেই। শুধু ভারত নয়, বিশ্ববাজারে তাঁতের শাড়ীর প্রসারে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন জাতীয় কারুশিল্পী পদক প্রাপ্ত আফজাল হোসেন লাভলু।

মেট্রিকে থার্ড ক্লাস পাওয়া ছেলেটাই আজ সফল উদ্যোক্তা

বন্ধু প্রফেসর তাহের ক`দিন আগে ফোন করে বলল, দোস্ত তোকে ২৪ তারিখ দূপুর ৪ টায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে। কারণ জানতে চাইলে বলল, এমবিএ কোর্সে নবাগত ছাত্র ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে একজন উদ্যোক্তা হিসাবে কিছু বলতে হবে। বন্ধুর অনুরোধে না করতে পারিনি।মনে মনে ভাবলাম হয়ত ছোট খাট কোন অনুষ্ঠান। উপস্থিত থেকে বন্ধু তাহেরকে খুশী করব। বৃহস্পতিবার ঠিক চারটায় সাউথইস্ট এশিয়া ইউনিভার্সটির অডিটোরিয়ামে হাজির হয়ে দেখি আমার নামের সাথে লেখা প্রধান অতিথি। উপস্থিত  আছেন ভিসি সাহেব,রেজিস্ট্রার সাহেব,আইবিএর একজন সিনিয়র প্রফেসর,বন্ধু প্রফেসর তাহের। আরো উপস্থিত শ`দুয়েক এমবিএর ছাত্র ছাত্রী।সবার সামনে  আমাকে কথা বলতে হবে সবার শেষে।কথা বলতে  আমি কখনো ভয় পাইনা।কিন্তু এত্ত এত্ত ইন্টেলেকচুয়ালদের সামনে কথা বলতে হবে দেখে কিছুটা ভাবনায় ছিলাম।কিন্তু কথা বলতে দাঁডাতে দেখি উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীরা নড়ে চড়ে বসছে। তৃতীয় শ্রেনীতে মেট্রিক পাশ, দ্বিতীয় শ্রেনীতে উচ্চ মাধ্যমিক,সম্মান ডিগ্রীসহ মাস্টার্স করা একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে এ`ধরণের একটি একাডেমীক সেশনে কথা বলার সুযোগ দানের জন্য বন্ধু তাহেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশির দশকে শূন্য হাতে শুরু করা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠা একজন তরুণ কিভাবে ৩০ বছরে ২৫ হাজারের উপর মানুষের কর্ম সংস্থানের ঠিকানা হতে পারে। যখন তার গল্প বলতে শুরু করলাম তখন দেখি চারিপাশে পিনপতন নিরবতা। ....আমি স্বপ্ন দেখি নির্ঘুম রাতে আর সেই স্বপ্নের পেছনা ছুটে চলি,একটি স্বপ্ন পুরণ হতেই নতুন স্বপ্ন  আবার স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা...কখন যে রাত জেগে দেখা সেই সব স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে ৩০ টি বছর চলে গেল বুঝতেই পারিনি...এভাবেই তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে রাত জেগে  আর সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে হবে  আর একটি স্বপ্ন সৃষ্টির লক্ষে। ....জীবনে এমন একটি গল্প বানাও যে গল্প শুনে তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নতুন গল্প বানানোর স্বপ্ন দেখবে...। এমবিএ শেষ করে চাকুরীর খোজে ছুটাছুটি নাকরে নিজে চাকুরী সৃষ্টির চেষ্টা করো.... ১৭ মিনিট কথা বলে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্টেজ থেকে নামতে গেলে ঘিরে ধরল বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রী।একজন জানতে চাইল, ‘স্যার  আপনি কি সত্যি সত্যি মেট্রিকে তৃতীয় শ্রেনীতে পাশ, না   আপনার গল্প বলতে গিয়ে মজা করেছেন।’ হাসতে হাসতে বললাম, না মোটেই মজা করিনি। সর্বমোট ৫৮৬ নাম্বার পেয়েও অংকে পেয়েছিলাম ২৩। এর সাথে ১০ গ্রেস মার্কস যোগ পাশ মার্ক ৩৩ করে  আমাকে তৃতীয় শ্রেনীতে পাশ দিয়েছে কুমিল্লা বোর্ড ।  আমাদের সময় কোন সাবজেক্টে গ্রেস মানেই থার্ড ডিভিশন। আমি সত্যি সত্যি তৃতীয় শ্রেনীতে মেট্রিক পাশ। লেখক: সৈয়দ নুরুল সালাম  চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল  গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ)  

নাগরিক সেবা দেওয়ার অ্যাপ তৈরি

নাগরিক সেবা দেবে প্রযুক্তি। ভাবছেন সেটি কি করে সম্ভব? সত্যিই সম্ভব। নাগরিক সমস্যার সমাধান দিতে নতুন অ্যাপ তৈরি করেছেন বাংলাদেশি এক তরুণ। `ডিজিটাল মানুষ` মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক প্লাটফর্মটি তৈরি করেছেন  ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী খন্দকার আলিফ ও তার কয়েক বন্ধু। আলিফ জানান, রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাতেই অ্যাপটির সুবিধার আওতায় এসেছে। অ্যাপটিতে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছয় সহস্রাধিক সেবাদাতা দক্ষ কর্মী যুক্ত হয়েছে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ময়মনসিংহে সেবাটি চালু করা হবে বলে তিনি জানান। খন্দকার আলিফ জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তারা ভালো সাড়া পেয়েছেন। ডিজিটাল মানুষের কর্মযজ্ঞ বৃদ্ধিতে এতে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড (বিবিসিএল)। সম্প্রতি উভয় প্রতিষ্ঠান চুক্তি স্বাক্ষরও করেছে। প্ল্যাটফর্মটিতে ইলেকট্রিশিয়ান, এসি সার্ভিসিং, গ্যাস টেকনিশিয়ান, ওয়াটার ট্যাপ, ট্যাঙ্ক সার্ভিসং, বাড়ি বা অফিস স্থানান্তর, আইটি সার্ভিস, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনসহ ৮০ ক্যাটাগরির সেবা রয়েছে। অ্যাপটিতে থাকা ২২টি ক্যাটাগরি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় কাজের কর্মীটি ডেকে নিতে পারবেন। ধরুণ আপনার বাসার ফ্রিজটি কাজ করছে না। ওভেনে সমস্যা, বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি বা আপনার টয়লেটের ফ্ল্যাশটি নষ্ট হয়ে গেছে। এ সমস্যার সমাধান দেবে `ডিজিটাল মানুষ`। অ্যাপটিতে নিবন্ধনের পর গ্রাহক যে এলাকায় অবস্থান করছেন ক্যাটাগরিভিত্তিক ওই এলাকার কর্মীদের তালিকা পাবেন। এ তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী বাসায় ডেকে বাসার সমস্যা সমাধান করা যাবে। উদ্যোক্তারা বলেন, এখানে সব কর্মী নিবন্ধিত থাকায় বিপদের ভয় নেই। কেননা কর্মীদের ঠিকানা, ফোন নম্বর থেকে যাবতীয় তথ্য আগে থেকেই ডিজিটাল মানুষের ডাটাবেজে সংগ্রহ করে রাখা হয়। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। অ্যাপটি http://bit.ly/2G7Qw3D থেকে নামানো যাবে। / এআর /

তাসমিন চায় পুলিশ হতে

তাসমিনা খাতুন। বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরট উপজেলার চকসুবল গ্রামে। বাবা ওবায়দুল, মা তহুরা আক্তার। পড়াশুনা করে শঙ্কারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেনিতে। ছোটাবেলা থেকেই নেশা ঘোড়া ছোটানো। সেই নেশা থেকেই তাসমিনার সারাদিন কাটে ঘোড়ার পিটের উপর চড়ে। ঘুম থেকে উঠে একমুঠো খেয়ে ঘোড়ার পিঠে উঠে বসে তাসমিনা। দুপুরে এসে একটু খেয়ে আবারও ঘোড়া নিয়ে বের হয়। দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিযোগিতার কথা শুনলেই ছুটে চলে তাসমিনা। কিন্তু দারিদ্রের কারণে তাসমিনের বাবা তার ঘোড়াটি বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মতো নিজের ঘোড়া না থাকলেও মেয়েটির এমন আগ্রহ উলফাত কাদের নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘোড়া ভাড়া নেন তারা বাবা। এরপরই নজর কাড়া পারফরমেন্সের পর তাকে একটা ঘোড়া উপহার দেন। কিন্তু ঘোড়াটির এক চোখ অন্ধ থাকার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতো না ঘোড়াটি। তবুও থেমে থামাতে পারেনি তাসমিনাকে। কোথাও ঘোড়া প্রতিযোগিতা হবে শুনলেই তাসমিনাকে নিয়ে ছোটেন তার বাবা। নিজের ঘোড়া অন্ধ হওয়ার কারণে তাসমিনা অন্যের ঘোড়াকে জিতিয়ে নিতে কাজ করতেন। তার বদলে তার নাম ঘোষিত হয় বিজয়ী হিসাবে। তবে সব পুরস্কার ঘোড়ার মালিককে দিয়ে খালি হাতেই ঘরে ফিরতো তাসমিনা। সাত বছরের শিশু তাসমিনা বর্তমানে ১২ বছরের কিশোরী। এরই মধ্যে সে হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়সওয়ার। যেকোনো প্রতিযোগিতায় সবাইকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায় তাসমিনার দুরন্ত ঘোড়া। প্রতিযোগিতা দেখতে আসা হাজারো দর্শকের হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার ময়দান। বারবার জয়ী হয়ে তাসমিনা তার ভক্তকুলকে নির্মল আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। নওগাঁর মেয়ে তাসমিনা এরইমধ্যে প্রায় অর্ধশত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৩০টিতে অধিকার করেছে প্রথম স্থান। তাসমিনার পাওয়া পুরস্কারের তালিকাটি যথেষ্ট দীর্ঘ। তাসমিনা খাতুন সাহস, শক্তি, সংকল্প ও নারী ক্ষমতার স্বীকৃতি সরূপ এবছর তাকে নাসরীন স্মৃতি পদক প্রদান করছেন একশন এইড। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনের কাছে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাতকাটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: এতোকিছুর মাঝে কেন আপনার ঘোড়াটির পিঠে চেপে বসার স্বপ্ন তৈরি হলো?    তাসমিনা খাতুন: বাবা দরিদ্র দিনমজুর হলেও ছিল একটি ঘোড়া। বাবা যখন ঘোড়াটিকে ঘাস খাওয়াতেন, পরিচর্যা করতেন, বিষয়গুলো এইটুকুন আমাকে আকৃষ্ট করত। আমি সাত বছর বয়েসে ঘোড়া লালন-পালনে বাবাকে সহযোগিতার করতাম। এসব করতে করতে কেমন যেন এক মায়ায় জড়িয়ে পড়ি। ধীরে ধীরে একদিন ঘোড়াটির পিঠে চেপে বসে। সাহস করে দেয় ছুট। সেই যে শুরু, আর থামেনি।   একুশে টিভি অনলাইন: প্রথমে কিভাবে এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় ? তাসমিনা খাতুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আমার স্বপ্নের যাত্রা। এরপর একে একে রংপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মেলাসহ নানা আয়োজনে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। মেলা-পার্বণে অন্য আয়োজনের সঙ্গে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ বিনোদন, বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। একুশে টিভি অনলাইন: ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণে আপনার পড়াশুনার কোন অসুবিধা হয় কি? তাসমিনা খাতুন: কিছু সমস্যা তো অবশ্যই হয়। আমি যখন কোন প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখন তিন থেকে চার পড়াশুনার বাহিরে থাকতে হবে। আমি যে কারণে পড়াশুনা ভাল করে করতে পারি নি। তবে যতটুকু সময় পায় পড়াশুনা করি। একুশে টিভি অনলাইন: লেখাপড়া শেষ করে আপনি কি হতে চান? তাসমিনা খাতুন: ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় দর্শকের বিপুল সাড়া আমাকে অনেক আন্দন দেয়। সেই আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বারবার চেষ্টা করি প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে। লেখাপড়া শেষ করে পুলিশে চাকরি করতে চাই। একুশে টিভি অনলাইন: নাসরিন স্মৃতি পদক পেয়েছেন, আপনার কেমন লাগছে। তাসমিনা খাতুন: নারী ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নাসরীন পদক পাওয়ার চেয়ে আনন্দের বিষয় আমার কিছু হতে পারে না। আমি মনে করি, মানুষকে আন্দন দেওয়া একটা কাজ। চাইলেই সব নারী যে কোনো কাজে ভালো করতে পারেন। টিআর/ এমজে

শারীরিক অক্ষমতা জয় করা অদম্য ২৭ মেধাবী

শারীরিক অক্ষমতা কখনো মানুষের সফতার পথে যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২৭ মেধাবী শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী বাকি ১৩ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এদের পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বিধি অনুযায়ী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়।আর শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পায়। সার্বিকভাবে ভালো ফলাফল করেছে তারা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ১৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে রাজশাহীর পুঠিয়ার পঙ্গু শিশু নিকেতন সমন্বিত অবৈতনিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাসুম রানা। জিপিএ-৪.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। একই বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সুফিয়া খাতুন জিপিএ-৪.৭৩ ও শিখা খাতুন জিপিএ-৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাবনা সদরের দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছে জিপিএ-৪.৭৮। একই বিদ্যালয়ের ওবাইদুর রহমান জিপিএ-৪.৭২ এবং মোকাররম হোসেন ও মোহাম্মদ আলী জিপিএ-৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সিরাজগঞ্জের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিবন্ধী মাহামদুল আয়ুব আলী জিপিএ-৪.৭২, নওগাঁর মান্দা রামনগর উচ্চবিদ্যালয়ের আতাবর রহমান জিপিএ-৪.৩৩, পুঠিয়ার নাদের আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জুঁই খাতুন জিপিএ-৪.০৬, নওগাঁর ধামইরহাট মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের রাবেয়া বাসরী ইমু জিপিএ-৩.৮৯ এবং রাজশাহী নগরীর মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আদিল মাহমুদ জিপিএ-৩.২৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের এস এম সাব্বির আহমেদ, পাবনার বেড়া উপজেলার আল হেরা একাডেমির নাজিবুল আলম অনিক, বগুড়া জেলা স্কুলের কাজী ফাহিম আবরার ও এস এম বাকি বিল্লাহ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফরোজ আহমেদ আসিফ শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা প্রত্যেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ মডেল একাডেমির অহেদুর রহমান জিপিএ-৪.৮৯, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের রায়হান ইসলাম সিফাত জিপিএ-৪.৮৩, রাজশাহী সরকারি মাদরাসার হাসিবুল ইসলাম জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ার পীরহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী অনিকা বুশরা জিপিএ-৩.৭৮ রাজশাহীর বাগমারা শ্রিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাব্বির রহমান জিপিএ-৩.৬৭, নওগাঁর মহাদেবপুর সর্বমঙ্গলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তৌহিদুল ইসলাম সৌরভ জিপিএ-৩.৬১, বগুড়ার ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের রিজভী আহমেদ সাগর জিপিএ-৩.৩৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ মরদানা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাহিদ আলী জিপিএ-৩.০০ এবং রাজশাহী নগরীর মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের তাহসানুল আহনাফ হাবিব জিপিএ-২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কেআই/টিকে

জলে-স্থলে চলে জমিরের সাইকেল

সড়কের পাশাপাশি পানিতেও সমানতালে চালানোর উপযোগী করে বাইসাইকেল তৈরি করলেন ফরিদপুরের জমির হোসেন নামের এক যুবক। নিজ মেধা ও শ্রমের  বানানো এই বাইসাইকেল পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সড়কের পাশাপাশি পানিতেও সমানতালে চলতে সক্ষম বিশেষভাবে তৈরি এই সাইকেল। গত শনিবার বিশেষভাবে তৈরি জমিরের বাইসাইকেলটি পানিতে চালানো হয়। পানিতে চলা এ সাইকেল চালনা দেখতে  শত শত স্থানীয় মানুষ ভিড় করে। পায়ে চালিত এ বাইসাইকেলটি তৈরি করেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের জমির হোসেন। তার বাবার নাম পাচু মাতুব্বর। মোটরচালিত বাইসাইকেল তৈরির পর এবার সে উদ্ভাবন করলেন জলে-স্থলে একই গতিতে চলা বাইসাইকেল। যা পানিতে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বাই সাইকেল বানানো প্রসঙ্গে জমির হোসেন জানান, পানি দিয়ে চলার জন্য পায়ে চালিত প্যাডেলের সাথে পেনিয়াম সেট করে পেছনে স্পিডবোর্ডের পাখার আদলে শক্তিশালী একটি পাখা লাগানো হয়েছে। পায়ের প্যাডেল একবার ঘুরলে পাখাটি ৫০ বার ঘুরবে। এতে বেশ স্পিডে পানিতে চলবে বাইসাইকেলটি। সাইকেলটি পানিতে ভাসিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে নমনীয় বায়ুভর্তি টিউব। যখন বাইসাইকেলটি রাস্তায় চলবে তখন বাতাসবিহিন টিউব সাইকেলের পেছনের একটি বাক্সে থাকবে। যখন বাইসাইকেলটি পানিতে চলবে তখন শুধু দুটি টিউব হাওয়া দিয়ে বাই সাইকেলের নাট-বল্টুর সাথে লাগিয়ে দিতে হবে। এছাড়া স্থায়ীভাবে পানিতে চালানো বাই সাইকেলটিতে টিউবের পরিবর্তে পিভিসি পাইপ দিয়েও একই ভাবে ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া এ সাইকেলে মোটর লাগিয়েও  চালানো যাবে। যা দ্রুতগতি সম্পন্ন হবে। এটি বানাতে খরচ হবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যারা সাঁতার জানেন না তারাও এ বাইসাইকেল চালাতে পারবে। সেফটি বেল্ট থাকায় সাইকেলের চালক সিট থেকে পড়ে গেলেও চালক পানিতে ভেসে থাকবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান জমিরের  বাবা পাচু মাতুব্বর একজন ভ্যানচালক। জমির গত বছর এসএসসি পাশ করে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পড়ালেখার খরচ মেটাতে না পেরে আর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেনি। পড়ালেখা বাদ দিয়ে নিজে রিকশা-ভ্যান মেরামত ও ইলেকট্রিক কাজ করে যা আয় করেন তার থেকে কিছু বাঁচিয়ে সে নানা উদ্ভাবনী কাজে টাকা খরচ করেন। তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কেউ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি অনেক নতুন কিছু করতে সক্ষম হবেন। কেআই/ এআর    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি