ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:২৯:৩৩

রোহিঙ্গা নিয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে: কাদের

রোহিঙ্গা নিয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একটি দল ও দালাল প্রকৃতির কিছু লোক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তাদের এ অপচেষ্টা ব্যর্থ করা হবে। সোমবার শহীদ এটিএম জাফর আলম আরকান সড়কের উখিয়া থেকে কুতুপালং পর্যন্ত সড়কের প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশে আছে সরকার ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ। মিয়ানমার থেকে আশ্রয়ের জন্য আসা কোনো রোহিঙ্গা না খেয়ে থাকবে না। আশ্রিতদের সহায়তায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮টি লঙ্গরখানা, ১২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাদের অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, স্যানিটেশনসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া নজিরবিহীন: রিজভী

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানো শুরুর প্রক্রিয়াকে নজিরবিহীন ও গণবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এখন লুটের খাত। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের আরও লুটপাটের সুযোগ করে দিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি করেন। রিজভী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অতিশয় চড়া, এর ওপর আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, কিছুদিনের মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমার কথা। কিন্তু বিদ্যুতের দাম না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন ও গণবিরোধী। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি (ফার্নেস) তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে খরচ আরও কমবে। রিজভী দাবি করেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টলের বিদ্যুৎ। এসব প্রকল্পের পেছনে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজন। তাঁদের লুটপাটের আরও বেশি সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতারিজভী অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। যার কারণে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানান।//এআর

সহায়ক সরকার নয়, নির্বাচন হবে ইসির অধীনে : কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সহায়ক সরকার নয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে কিন্তু নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে ইলেকশন কমিশনের অধীনে। শেখ হাসিনার সরকার জাস্ট ফ্যাসিলেটেড করবেন। নির্বাচনের সময় দেখবেন আমার কথা ঠিক হলো না-কি ফখরুল সাহেবের কথা ঠিক হলো। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে যান ওবায়দুল কাদের। এ সময় বঙ্গবীরের শরীরের খোঁজ-খবর নেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।রোহিঙ্গাদের বিষয়টি সরকার মানবিকভাবে দেখবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত আছে। টেকনাফ সীমান্ত থেকে স্রোতের বেগে রোহিঙ্গা শরনার্থিরা বাংলাদেশে ঢোকায় ওই অঞ্চল ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এই যে স্রোতের মতো পুশইন, এর প্রতিকার আমরা করব। সঙ্গে সঙ্গে যারা এসে গেছে, তাদের যে বিষয়টা, সেটা আমরা মানবিকভাবে দেখব। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের ফরেন অফিস অলরেডি যোগাযোগ হচ্ছে। কূটনৈতিকভাবেও এই পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রয়াস আছে।মন্ত্রী আরো জানান, সোমবার রাতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। //এআর

গাজীপুরে আ.লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। উভয় দলের পক্ষে থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। বিএপির অভিযোগ, তাদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অভিযোগ, তাদের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে বিএনপি কর্মীরা। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আল রাসু অমিত গণমাধ্যমকে বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সোমবার বিকালে বক্তারপুর এলাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে  ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। সেখানে বিএনপি কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালালে ৮-১০ জন কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম আলমগীর হোসেন, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ আলম শেখ, জামালপুর ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হাসান জুবায়ের, নাগরী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য নাঈম শেখ, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজমুল হোসেনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের সামনে প্রতিবাদ সভা ডেকেছে ছাত্রলীগ। জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার বিকালে বক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিজুল ইসলাম দর্জির বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান চলছিল। ওই সময় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালালে বিএনপির ৭-৮ জন আহত হন। কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.তরিকুল ইসলাম বলেন, বক্তারপুরে হামলার ঘটনায় ৮-১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা শুনেছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।   //আর//এআর

কাদেরের সহায়ক সরকারের ব্যাখ্যা সঠিক নয় : ফখরুল

সহায়ক সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহায়ক সরকার নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা সঠিক নয়। সহায়ক সরকার বলতে আমরা যেটা বলছি তা হলো সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ সরকার থাকবে। এ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে কাজ করবে। সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সহায়ক সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগের যে চিন্তা তার সঙ্গে বিএনপির সহায়ক সরকারের মিল নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ওপর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিশ্বাস এবং আস্থা থাকে না। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের কথা তারাও বলেছিলেন। সেই সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচনও হয়ে গেছে। জনগণ তা গ্রহণও করেছে। তিনি বলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এবং একদলীয় শাসন করার জন্য ক্ষমতায় আসার পরে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন তারা সেভাবে করেছে। এদেশের মানুষ সে নির্বাচন অংশগ্রহণ করেনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। এজন্য এ সরকারের বৈধতাও নেই। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচন যাতে সব দলের অংশগ্রহণ হয়, আমরা সেটাই চাই। কাদের সিদ্দিকী গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তার আশু রোগমুক্তি কামনা করেন বিএনপির মহাসচিব। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খানসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।//এআর

আগামী বছরের অক্টোবরে নির্বাচন: অর্থমন্ত্রী

আগামী বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সোমবার ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। তাঁরা এখন নির্বাচনের কাজ করবে। আশা করছি, বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনে আসার ব্যাপারে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। আশা করি বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিতে নোবেল পাওয়া দেশটির সরকারদলীয় নেতা অং সান সু চির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ‘ঘৃণিত’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘তিনি (সু চি) শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর তিনি যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক মহল কীভাবে তা সহ্য করছে, তা আমার বোধগম্য নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর স্টুপিডিটি সমর্থনযোগ্য নয়। আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ সকালে কার্যালয়ে এলে কর্মকর্তারা তাঁকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনিও সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

শপথ নিচ্ছি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে দেবো না : মির্জা ফখরুল

সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আবারো শপথ নিচ্ছি। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে দেবো না। বাংলার জনগণ তা হতে দেবে না। গুম-খুন-হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েম করা যাবে না। এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবেই আবার। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। গুম-খুন-হামলা-মামলার মাধ্যমে সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতেও আমরা শপথ নিয়েছি, আমরা জয়লাভ করেছিলাম। এবারও আমরা শপথ করছি আমরা জয়ী হবো ইনশাল্লাহ। শুক্রবার বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে তাদেরকে সহায়তা করুন। তাঁরা শুধু মুসলমান না, তাঁরা মানুষও। তাঁদের ওপর সে অমানুষিক অত্যাচার মিয়ানমার সরকার করছে, কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে তাঁদের এই সমস্যার সমাধান করুন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।//এআর

‘এসকে সিনহাকে সীটে বসতে দেওয়া উচিত হবে না’

ছুটি শেষে দেশের স্বার্থেই প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে একদিনের জন্যও সীটে বসতে দেওয়া উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রীমকোর্টের সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধূরী মানিক। মঙ্গলবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এবং চলমান রাজনীতি শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু একাডেমী ও সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদ। সাবেক বিচারপতি মানিক বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পাকিস্তানের কথা বলে শেখ হাসিনা সরকারকে হুমকি দেন। তার হাতে নাকি দুটো ফাইল আছে, কিছু করে ফেলতে পারেন। তিনি কি করতে পারবেন, তাকে এক দিনের জন্যও সীটে বসতে দেওয়া উচিত হবে না। তার মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়। শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়ে কোনও লাভ হবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। আর হাওয়া ভবনের কারিগর তারেক জিয়ার নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ওরা ভেবেছিল শেখ হাসিনাকে সরাতে পারলেই দেশ পাকিস্তান বানিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যত দিন থাকবে, ততদিন কেউ এ দু:স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে না। মোসতাক ও জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড উল্লেখ করে মরনোত্তর বিচার দাবি করেন সাবেক আইনমন্ত্রী।সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ও আওয়ামীলীগ নেতা ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ বলেন, সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট সামছুল হক টুকু, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সামসুল হক রেজা, ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমীন রুহুল, অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু প্রমুখ।আরকে/টিকে

আ.লীগ সংখ্যালঘুদের জমি দখল করছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার এবং তার লোকেরা সংখ্যালঘুদের জমি দখল করছে, হিন্দুদের ঘরবাড়ি, জমি দখল করছে, খ্রিস্টানদের জমি দখল করছে। তাঁদের উপাসনালয়গুলো দখল করছে। সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। মুগদা থানা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল এই মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ পাচ্ছি। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আপনারা এ দেশে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করছেন। প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তাঁকে দেশছাড়া করে কি তাঁর জমি দখল করবেন? অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে যেতে বলছেন। তিনি বিদেশে কোথায় যাবেন? তাঁকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে কি তাঁর সব দখল করবেন? আদিম মানুষের জীবনযাপন যেমন তাঁদের কিছু কর্তা নিয়ন্ত্রণ করতেন, এ সরকারও সে ধরনের বলে মন্তব্য করেন রিজভী।রিজভী আরো বলেন, এখানে বলা হয় গণতন্ত্র আছে, পার্লামেন্ট আছে, বিচার বিভাগ আছে, কিন্তু এগুলো সবই বিদেশিদের দেখানোর জন্য। আসল কথা হচ্ছে, এ দেশে গণতন্ত্র নেই, সব মিডিয়ায় দেখানোর জন্য। শুধু একজন ব্যক্তির কথাই সব চলবে।আইনগতভাবে এই সরকার ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী অবৈধ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ সবকিছু লুটপাট করছে এবং গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। মানুষের ঘরবাড়ি, মার্কেট দখল করছে। যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের পাকিস্তানের দালাল বলা হচ্ছে। মানুষ কি কথা বলতে পারবে না? সব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকার জড়িত। এই বাকশালীরা এখন গণতন্ত্রকে অপহরণ করছে। প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনি কোটি মানুষের মনে যে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, এ অবস্থায় দেশ ছেড়ে যাবেন না। আপনি যদি না যান, তাহলে বোঝা যাবে আপনি এ দেশের অনেক বীরদের একজন বীর।//এআর

বিচারপতি মানিকের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,বিচার বিভাগ নিয়ে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। আদালত নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তা স্পষ্ট আদালত অবমাননা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁর সমাধিতে বিএনপির পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সব বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে যে ভাষায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় না যে তাঁর বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা ছিল। শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। বিচারপতি মানিক বলেন, ২৫ দিনে ৪০০ পৃষ্ঠার রায় কোনোভাবেই লেখা সম্ভব নয়। উনি মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে ৪০০ পৃষ্ঠার কথা লিখেছেন, যেটা ইমপসিবল (অসম্ভব), যেটা হতে পারে না। এটা তাঁর লেখা রায় মোটেও নয়। ওই সময় প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা, তুমি শুধু প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়বা না, এই দেশ ছাড়তে হবে। এ দেশে থাকার কোনো অধিকার তোমার নাই। তুমি যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব স্বীকার করো না, যেটা বিশ্ববাসী স্বীকার করে। মানিকের ওই বক্তব্যের একদিন পর বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতির বিষয়টি জনগণ বিবেচনা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সর্বসম্মতিক্রমে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে, যে ভাষায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় না যে তাঁর বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা ছিল।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আদালত নিয়ে তিনি (ফখরুল) যা বলেছেন, তা স্পষ্টত আদালত অবমাননা। //এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি