ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:২২:৫৬

জিসিসি নির্বাচনে বিএনপিকে জামায়াতের সমর্থন     

জিসিসি নির্বাচনে বিএনপিকে জামায়াতের সমর্থন     

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সমর্থনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলেন জামায়াত প্রার্থী সানাউল্লাহ মিয়া। আজ সকালে হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবনে গিয়ে তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের হাতে ২০ দলীয় জোটের প্রতীক ধানের শীষ তুলে দেন।   জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তিনি নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন বলে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানালেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর সানাউল্লাহ মিয়া।  উল্লেখ্য আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার  (২৩ এপ্রিল) মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার আগেই সানাউল্লাহ মিয়া তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানালেন। সে হিসেবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল এখন ছয় জন।    আআ/এসি       
সুষ্ঠু নির্বাচনে আশাবাদী আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে শঙ্কা

গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তারিখ যতোই ঘনিয়ে আসছে, দুই রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ততোই বাড়ছে ব্যস্ততা। শুধু প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা-ই নয়, বরং উভয় এলাকায় আওয়ামী লীগ- বিএনপি`র সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী উত্তেজনা। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও নির্বাচনের মূল আকর্ষণ দুই সিটির মেয়র পদকে কেন্দ্র করে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যথাক্রমে সাত জন ও পাঁচ জন করে মোট ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে অন্য সকল নির্বাচনের মতো দুই সিটিতেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই হতে যাচ্ছে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যথাক্রমে জাহাঙ্গীর আলম ও তালুকদার আবদুল খালেক। তারা দু`জনেই নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ সরকারের আমলে প্রত্যেকটি নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। ইনশাল্লাহ এ নির্বাচনও সুষ্ঠ হবে। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেন। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। শাসক দল প্রশাসনকে নানা ধরণের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়তি সুবিধা নেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপির এ প্রার্থী। হাসান উদ্দিন সরকারের এমন আশঙ্কাকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, গাজীপুরে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তখনো কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। সেই নির্বাচনেও তারা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এখন ফের এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে মূলত বিএনপি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চাচ্ছে। একই বক্তব্যে বিশ্বাস করেন খুলনা সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে তিনি বলেন, জীবনে কাউন্সিলর থেকে সংসদ সদস্য হয়েছি। মেয়র হয়েছি। এখন আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এদিকে তালুকদার আবদুল খালেক সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও, একই সিটির বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের কোনো উদ্যোগ লক্ষ করছি না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের কর্মীদের উপর অযথা ধরপাকড় করা হবে, হয়রারি হবে, মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হবে এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হবে। তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হলো কই? শুধু কেন্দ্র দখল করলেই নির্বাচন জালিয়াতি হয়না। আরো অনেকভাবে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা যায়। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এমন আশঙ্কার জবাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমি হেরে গিয়েছি। তখনো কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। নির্বাচন যদি সুষ্ঠ না হয় তাহলে বিএনপি প্রার্থী জিতল কীভাবে? সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার ব্যপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আর যদি কোথাও কোনো অনিয়ম দেখেন, তাহলে মিডিয়া আছে, পর্যবেক্ষক টিম আছে, সর্বোপরি দেশবাসী আছে। এদিকে সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি`র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, সরকার যদি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের পায়তারি করার চেষ্টা করেন, তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। এমজে/

বাড্ডায় ফখরু‌লের নেতৃ‌ত্বে বিএনপির বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল

‌বিএন‌পির চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়ার মু‌ক্তির দা‌বি‌তে রাজধানী ঢাকার বাড্ডায় হো‌সেন মা‌র্কে‌টের সাম‌নে দ‌লের মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী‌রের নেতৃ‌ত্বে বিক্ষোভ মি‌ছিল অনু‌ষ্ঠিত হয়। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে হোসেন মা‌র্কেটের সাম‌নে থে‌কে শুরু হ‌য়ে মিছিলটি মধ্য বাড্ডায় গি‌য়ে শেষ হয়। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব‌লেন, বিএন‌পির চেয়ারপারসন‌ দেশ‌নেত্রী খা‌লেদা জিয়াকে রাজ‌নৈ‌তিক প্রতি‌হিংসায় কারাদণ্ড দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। তি‌নি গুরুতর অসুস্থ। তাকে সু‌চি‌কিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দেশ‌নেত্রীর মু‌ক্তি দি‌য়ে ইউনাইটেড হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসা করার সু‌যোগ দেওয়ার দা‌বি কর‌ছি। বিক্ষোভ মি‌ছি‌লে বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্ত‌রের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সহসভপতি মু‌ন্সি বজলুল বা‌সিদ আঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম পার‌ভেজ, যুবদ‌লের সভাপ‌তি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছা‌সেবক দ‌লের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জু‌য়েল, জাসা‌সের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসএইচ/

চার মেয়র প্রার্থীর যতো অমিল

গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১২ জন। এদের মধ্যে সাত জন গাজীপুরে ও পাঁচ জন খুলনায় নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। প্রার্থিতা যতোই থাকুক না কেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। তাদের যুক্তি এটি যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন, তাই ব্যাক্তি ইমেজের চেয়ে প্রতীকই প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে দুই সিটিতেই প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। গাজীপুর ও খুলনায় আওয়ামী লীগের প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তালুকদার আবদুল খালেক। অন্যদিকে হাসান উদ্দিন সরকার ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু যথাক্রমে গাজীপুর ও খুলনায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লড়ছেন। চারজন প্রার্থীর মধ্যে অনেক মিল যেমন আছে তেমনি রয়েছে অনেক অমিল। প্রথমেই আসা যাক গাজীপুরে। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বয়সে তরুন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বয়সে প্রবীণ। হাসান উদ্দিন সরকারের রাজনীতির বয়স জাহাঙ্গীরের বয়সের চেয়েও বেশি। জাহাঙ্গীর আলম ইতোপূর্বে জনপ্রতিনিধি ছিলেন মাত্র একবার। ইতোপূর্বে স্থানীয় উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পক্ষান্তরে হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গী পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাহাঙ্গীর আলমের উত্থান ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পক্ষান্তরে হাসান উদ্দিন সরকারের উত্থান জনপ্রতিনিধিত্ব করে। টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক উত্থান। জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছেন। তিনি এখন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পক্ষান্তরে হাসান উদ্দিন সরকার কেন্দ্রীয় বিএনপি`র সদস্য। তবে তার রাজনীতিতে বাঁক আছে। তিনি বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টি হয়ে পরে আবার বিএনপিতে ফিরেছেন। জাহাঙ্গীর দল বদল করেননি। একই রকম পার্থক্য দেখা যায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু করেছেন খুলনা মিউনিসিপ্যালের কাউন্সিলর হিসেবে। অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে সরাসরি সংসদ সদস্য হয়েছেন ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। রামপাল- মংলা আসনে তালুকদার আবদুল খালেক সংসদ সদস্য হয়েছেন চারবার। পক্ষান্তরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংসদ সদস্য হয়েছেন একবার। নির্বাচন কমিশনে এবার দুই প্রার্থী ( খালেক- মঞ্জু) যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তাতে দেখা যায় তালুকদার আবদুল খালেক সম্পদের দিক থেকে কোটিপতি। কিন্তু তার নামে কোনো মামলা নেই। পক্ষান্তরে বিএনপি`র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু লাখপতি। কিন্তু তার নামে মামলা আছে চারটি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনে দুই মেয়র প্রার্থী নিজ দলে নির্বাচন করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তালুকদার আবদুল খালেক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নতুনদের সুযোগ দিতে চাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় নানা হিসাব নিকাশে নির্বাচনী মাঠে নামলেন তিনি। একইভাবে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রথমদিকে মণিরুজ্জামান মনিকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন করবেন না এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি`র অভ্যন্তরীন হিসাব নিকাশে মেয়র প্রার্থী হতে হয় তাকেই। বিপরীতে গাজীপুরে দুই মেয়র প্রার্থী ভোটের আগেই নেমে পড়েছিলেন মনোনয়ন লড়াইয়ে এবং মুখোমুখি হয়েছিলেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়ন পেতে গিয়ে গাজীপুর আওয়ামী লীগের `বটবৃক্ষ` বলে পরিচিত আজমত উল্লাহ খানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হয়। একই ভাবে পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত এমএ মান্নানের সঙ্গে মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে হাসান উদ্দিন সরকারকে। তবে যতো অমিলই থাকুক না কেন, একটি বিষয়ে তাদের মিল লক্ষ্যনীয়। সেটি হচ্ছে টার্গেট। চার প্রার্থীই জয় ঘরে আনতে মরিয়া। জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। / এআর /

‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত বহন করে’

বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য রাজনী‌তি‌তে ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত বহন করে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মু‌ক্তির দা‌বি‌তে রোববার জাতীয় প্রেসক্লা‌বের সাম‌নে চি‌কিৎসক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তি‌নি একথা ব‌লেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন- ‘হায়াত মউতের মালিক আল্লাহ তায়ালা’। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়া এখনও অ‌নেক অসুস্থ।‌ কিন্তু তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এমন সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এ বক্তব্য ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত বহন করে। তাই আমরা সরকার‌কে সাবধান করে দিতে চাই। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে, তার স্বা‌স্থ্যের যদি আরও অবনতি হয়, তাহলে পুরো দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যদি সরকারের দুর্বলতার কারণে, অবহেলার কারণে, খালেদা জিয়া আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে দেশের জনগণ এ অপরাধ ক্ষমা করবে না। কারাগারে গেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দুই দিন আগে বিএন‌পির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ আমি জেলখানার গেটে অপেক্ষা করেছি কিন্তু আমাদের জানানো হয়েছে- সাক্ষাৎ হবে না। আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম, কী কারণ থাকতে পারে? এরপরের দিন খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করতে গেলে তাদেরও গেটে বসিয়ে রেখে বলা হয়- দ্বিতীয় তলা থেকে তিনি (খালেদা জিয়া) নিচে নামতে পারবেন না। তাই সাক্ষাৎ হবে না। এতেই বোঝা যায়, তার (খালেদা জিয়ার) অসুস্থতার পরিমাণ এতোই বেশি যে তিনি আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই মানবিক পরিস্থিতি ও বাস্তব অবস্থার আলোকে খালেদা জিয়ার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া হোক। তাদের (ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের) পরামর্শ অনুযায়ী তার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স হ‌য়ে‌ছে, নানা রোগে আক্রান্ত তিনি। তার চোখের অপারেশন হয়েছে। একটা চোখ অনেক লাল হয়ে গেছে। তাকে একজন ভালো ডাক্তার দেখানো দরকার। এসএইচ/

‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদার চিকিৎসা’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে বিএনপি নেতাদের দাবি বিষয়ে তিনি এ কথা বলেন। রোববার সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার বিষয়ে বলেছি, আমাদের যা যা করার তা করছি। সামনে যা প্রয়োজন হবে সেটাও আমরা করব। জেল কোড অনুযায়ী হবে, জেল কোডের বাইরে যদি কিছু করতে হয় সেটা আমরা পরামর্শ করে ব্যবস্থা করব। পরামর্শ হচ্ছে ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ। তিনি বলেন, তারা (বিএনপির দুই নেতা) ডায়াগনোসিসের (রোগ নির্ণয়) জন্য যে সব বিষয় বলেছেন, আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেসব ব্যবস্থা করব। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে। রায় ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেত্রী কারাগারে রয়েছেন। এসএইচ/

রনির প্রশংসায় এমপি সাবিনার ফেসবুক পোস্ট

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির প্রশংসা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন। যেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এমপি তুহিন তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজে লিখেছেন, রনি পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্প দিয়ে শপথ করেছো রাজকার মুক্ত দেশ গড়বে। এখন তুমি চাইলেও তো আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা তোমাকে যেতে দেব না। তোমার অপরাধ তুমি বিশ্বাস করে তোমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের টাকা তুলে দিয়েছিলে রাশেদ নামের চতুর পর অর্থে লোভী তার হাতে। এমপি তুহিন লিখেছেন, বারবার তোমাকে ঘুরানোর জন্য মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতে পার নাই, যার সুযোগ নিয়েছে সুযোগ সন্ধানীরা। রনি আমি তোমাকে চিনি না কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজগুলো দেখি আর তোমার দলের প্রতি দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখতে পাই, কারণ আমিও মাঠের কর্মী। নেতারা তোমার পক্ষে বলবে কিনা জানি না, কিন্তু তৃণমূল তোমার পাশে আছে। দলের দুর্দিনে নেত্রীর পাশে ছিল তৃণমূল আর নেত্রীর কর্মীর পাশেও থাকবে তৃণমূল। তুহিন লিখেন, নামীদামী গণমাধ্যম তোমার কথা হয়তো বলবে না, কিন্তু আমাদের হাতে আছে সোশ্যাল মিডিয়া। তোমার বাবার কষ্টের অর্থ আর তোমার সম্মান রক্ষার্থে ঝড় উঠাবো সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা। ভীষণ কষ্ট লাগে ছাত্রলীগের উপর একের পর এক নগ্ন থাবা দেখে, কারণ আমি নেতা ছিলাম না ছাত্রলীগের গর্বিত কর্মী ছিলাম এখনও বলছি আমার প্রথম প্রেম ছাত্রলীগ। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক কোচিং পরিচালকের ওপর চড়াও হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বহিস্কার করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রনিকে। / এআর /

খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এই আট দিনের মধ্যে এক দিন বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ও বাকি সাত দিন দলটির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ রোববার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। আগামীকাল ২৩ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল, ২৫ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন, ২৬ এপ্রিল সারাদেশে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল, ২৭ এপ্রিল শুক্রবার বাদজুমা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রোগ নিরাময়ের জন্য মিলাদ মাহফিল, ২৮ এপ্রিল সারাদেশে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, ২৯ এপ্রিল সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল বের করবে। এছাড়া ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানানো হয় ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে। এসএইচ/

স্বরাষ্টমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই বিএনপি নেতা

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে না পেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের দ্বারস্থ হয়েছেন বিএনপি নেতারা। দলের দুই নেতা আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন।দুই নেতা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছে না সরকার- এমন দাবি করে বিএনপি নেতারা বলছেন, ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এজন্য স্কয়ার বা বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করার দাবিও জানিয়েছে দলটির নেতারা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কারাবিধি মেনে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি সুস্থ আছেন।এর আগে সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের এক মানববন্ধনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাব আমাদের নেত্রীর বিষয়ে জানতে।চিকিৎসকদের মধ্যে অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক, এজেডএম জাহিদ হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল কুদ্দুস, রফিকুল কবির লাভু, মোস্তাক রহিম স্বপন, আবদুস সালাম, এসএম রফিবুল ইসলাম বাচ্চু ও সাহাবুদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন।পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া ‘গুরুতর অসুস্থ’ হওয়ায় দোতলা থেকে নিচে নামতে না পারায় ১১দিন ধরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যরা তার সাক্ষাৎ না পেয়ে দল ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন।গতকাল রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তে প্রতিনিধি দলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেন।জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে রোববার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এ আবেদন করবেন। প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।/ এআর /

বিজেপির আমন্ত্রণে ভারত সফরে আ. লীগ নেতারা

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে সেখানে সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। তারা বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিছুদিন আগে চীনেও সফর করেছে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। সফরকারী দলের একজন সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতেই তাদের এই সফর। এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও টেনে নিয়ে যাওয়। পাশাপাশি ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দল যেগুলো আছে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটা গভীর সম্পর্ক ছিল। ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গেও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ছিল, ক্ষমতায় আসারা পর (বিজেপি) সে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট সেভাবে কোনও এজেন্ডা তো ঠিক করিনি। দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অনেককিছু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্পর্ক আরও বন্ধুত্বপূর্ণ করার ক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে কি-না, সেক্ষেত্রে কী করণীয় এসব। অথবা যেসমস্ত সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেগুলো নিয়ে মূলত আলাপ হবে। এই সফরে বিজেপির বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে চীন সফরের পর এবার ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের এই সফর। এসব সফর হচ্ছে এমন সময় যখন বাংলাদেশে ২০১৮ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এ ধরনের সফরের সঙ্গে নির্বাচনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি? হানিফ বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে ভারত বা চীন সফরের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগ কখনও বহি:শক্তির ওপর নির্ভর করেনি। তিনি জানান, প্রায় প্রতিবছরই দলের পক্ষ থেকে চীনে সফর করা হচ্ছে রাজনৈতিক দল বা সরকারের আমন্ত্রণে। ভারতে জনতা পার্টির আমন্ত্রণে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, অনেক আগেই তারা দাওয়াত দিয়েছিল কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে বিলম্ব হয়েছে। এখন আমরা মনে করছি সঠিক সময়। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদেরও আমন্ত্রণ করা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা। সূত্র: বিবিসি একে// এআর

হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে : উপমন্ত্রী জয়

ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেছেন, ‘লন্ডনে তাকে যারা হেনস্তা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ শুক্রবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত করে হাই কমিশনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘তা না হলে ভবিষ্যতে বিদেশে মন্ত্রীদের সেমিনার সিম্পোজিয়ামে যোগদান করা কঠিন হবে।’ কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে লন্ডনে অবস্থানরত ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটে গত বুধবার। ওইদিন স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়েস্ট মিনস্টারের দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ওয়েস্টমিনস্টারের বার্কলেইজ ব্যাংকের সামনে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী উপমন্ত্রীকে ঘিরে রয়েছেন, উত্তেজিত অন্যদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। ঘটনা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিলেও ওই সময় বিএনপি সমর্থক দুজনকে পুলিশের গ্রেফতার করার কথা উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন। উপমন্ত্রী জয় জানান, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি সম্মেলনস্থলের বাইরে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন কয়েকজন এসে তার সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা গালিগালাজ শুরু করে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ তখন পুলিশ ডাকে এবং পুলিশ এনে তাকে উদ্ধার করে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সায়েদ আহমদ সাদ, শামসুর ইসলাম বাচ্চু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক। কেআই/ এসএইচ/    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি