ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:২৩, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৩, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তা প্রত্যাহারের পাশাপাশি জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপিকে অতি দ্রুত তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে তিনি তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় এই মন্তব্য করেছেন। আর তা যদি না হয়, তবে অবিলম্বে তাকে জনগণের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। আইজিপির এমন বক্তব্য পুরো পুলিশ বাহিনীর জন্য চরম অপমানজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপির এই নেতা উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনী এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে জনগণের বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়। তবে বর্তমান আইজিপি এই বাহিনীকে পুনরায় লাঠিয়াল, চাঁদাবাজ ও ক্রসফায়ারের বাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি পুলিশের নিম্নপদস্থ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ নির্দেশ মানার প্রয়োজন নেই। কারণ কর্মকর্তারা সাধারণ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন এবং তাদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে বিদেশে সম্পদ গড়েন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, বর্তমান আইজিপির অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে তিনি সমাবেশে কোনো দাপ্তরিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ দেখাননি।
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই রাজনীতিক বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে সাধারণ জনগণ, পুলিশ কিংবা মন্ত্রী—কারো নিরাপত্তা নেই। রাতে ঢাকা শহরে মানুষ বের হতে ভয় পায়, অন্যদিকে খুলনায় পুলিশও বের হতে আতঙ্কিত থাকে। চারদিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত ও চাঁদাবাজদের দাপট চলছে। মন্ত্রী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশে কেউ মন্ত্রী হলে তার পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি কাজে জড়িয়ে পড়েন। মন্ত্রীদের সন্তানেরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ে না এবং তারা নিজেরাও দেশীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন না। দেশের ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা কীভাবে থাকবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মুগদাবাসীকে অতীতের ভুল সংশোধনের আহ্বান জানান এই নেতা। তিনি ঘোষণা দেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও বিএনপির সন্ত্রাসবাদের আতঙ্ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এনসিপি তথা জনতার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

বিগত রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টার কারণে দেশ ১৭ বছর পিছিয়ে গেছে, যার সম্পূর্ণ দায় বিএনপির। দলটির শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো নজির নেই। ১৯৯৬ ও ২০০৬—উভয় বারই তারা দেশকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিনের কুবুদ্ধিতে পুনরায় একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নীলনকশা সাজানো হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি