বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা আড়াল করতেই আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: লেবার পার্টি
প্রকাশিত : ২২:০৪, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৭, ২ অক্টোবর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার এই প্রতিবাদ জানান।
লেবার পার্টির মুখপাত্র বলেন, বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলি সংকট এবং যাত্রী হয়রানি, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা ধরনের ভোগান্তির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এমন একটি গণঅসন্তোষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে বলেই সেই প্রশ্ন উত্থাপনকারী একজন নাগরিককে মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লেবার পার্টি মনে করে, বিমানবন্দরের প্রকৃত সমস্যা ও কর্তৃপক্ষের দায় আড়াল করার জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই মামলাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন রাজনৈতিক নেতা। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে যদি আইন প্রয়োগে ভিন্ন আচরণ করা হয়, সেটি হবে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। অথচ দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসীরাই বিমানবন্দরের এই চরম দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় শিকার।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর দেশে ফিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, লাগেজ ও ট্রলি সংকট এবং জমজমের পানি গায়েব হওয়া বা লাগেজ হারানোর মতো হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে কোনো একটি ঘটনাকে সামনে এনে দায় চাপানোর চেষ্টা করা হলে প্রকৃত সমস্যা আরও আড়ালে চলে যাবে।
লেবার পার্টির মুখপাত্র মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্বাপর প্রেক্ষাপট তদন্তের আওতায় আনার পাশাপাশি বিমানবন্দরের লাগেজ-ট্রলি সংকট, যাত্রী হয়রানি ও দুর্নীতির বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান।
সরকারের প্রতি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
এমএইচ
আরও পড়ুন










