ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, থাকছে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’:পানিসম্পদ মন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:০৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:১৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন এই চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মূল চুক্তির মতো 'গ্যারান্টি ক্লজ' ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ। একই সাথে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজের নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত পানির ভবিষ্যৎ ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মেগা প্রকল্প, যা দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের জীবনে সুফল বয়ে আনবে। ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এর বাস্তব কাজ মাঠে দেখা যাবে।

অন্যতম চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' নিয়ে মন্ত্রী জানান, ভারত থেকে আসা উজানের পানির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সংকট সমাধানে বুয়েটসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ চলছে। খুব দ্রুতই এর সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হবে এবং আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে মূল মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ প্রসঙ্গে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মনে করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে সই হওয়া ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ আগামী ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে করা প্রথম চুক্তিতে বাংলাদেশের পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে 'গ্যারান্টি ক্লজ' ছিল, যা ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে বাদ দেওয়া হয়। এবার চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে সেই গ্যারান্টি ক্লজটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে উভয় দেশ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, পদ্মা ও তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ ও তাদের ভালো রাখাই বর্তমান সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার চেয়ে বড় কোনো চাপ সরকারের কাছে নেই।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় শুধু পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি করতেই লেগেছিল, যা পরবর্তী সময়ে আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এটিকে চূড়ান্ত করেছে। অতীতের সরকারগুলো পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ না করায় তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব উদ্যোগে দ্রুত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই প্রকল্পগুলোকে বাস্তব রূপ দেবে।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি