ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫২:৫৫

গার্মেন্টে নারীর কর্মসংস্থান কমেছে ১৫ শতাংশ

গার্মেন্টে নারীর কর্মসংস্থান কমেছে ১৫ শতাংশ

দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক শিল্পে  ক্রমেই কমেছে নারীর কর্মসংস্থান। প্রায় ৪৪ লাখ নারী শ্রমিকের রক্তে ও ঘামে গড়ে ওঠা এ শিল্পে এখন লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। যেখানে নারীর তুলনায় পুরুষ হয়ে উঠছে বেশি উপযোগি। কিন্তু বেতন বৈষম্য রয়েছে আগের মতোই। ফলে এক সময়ে যে শিল্পে নারীর কর্মসংস্থান ছিল ৮০ শতাংশ। এখন তা কমে ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজসহ (বিআইডিএস) বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
কৃত্রিম মোটাতাজা গরু চেনার উপায় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

সামনের পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান আকর্ষণ হল কোরবানি। কোরবানি উপলক্ষে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে পশুর হাট। প্রস্তুত রাজধানীর পশুরহাটগুলো। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা বেচাকেনায় ধুম পড়েছে। অনেকে রাজধানীর হাটগুলোয় গবাদিপশু নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমাদের দেশে কোরবানিতে প্রধান্য পায় গরু। গরু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মিটে থাকে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গো খাদ্যের সঙ্গে মোটাতাজাকরণ সামগ্রী মিশিয়ে খাইয়ে গরু ফুলিয়ে ফাপিয়ে বড় করে তোলো। তারা বাড়তি মুনাফার আশায় অল্পদিনের মধ্যে গরু মোটাতাজা করতে গো-খাদ্যের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট ব্যবহার করে। মাংসপেশিতে প্রয়োগ করে নিষিদ্ধ ইনজেকশন, যা গরু ও জনস্বাস্থ্য উভয়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এবিষয় জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, এবার কোরবানি দেওয়ার জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার গবাদিপশু তৈরি রয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী যদি গবাদিপশু প্রস্তুত করতে পারি তাহলে কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করার প্রয়োজন হবে না। গো-খাদ্যে স্টেরয়েড ও রাসায়নিক মেশানো প্রতিরোধে আসন্ন ঈদে সব পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মনিটর করবে। তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে অসাধু উপায়ে কেউ যাতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে স্টেরয়েড মেশাতে না পারে সেজন্য মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করণ গুরু বিভাবে চেনা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে গরুর মাংসপেশিতে ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় এবং খাওয়ানো হয় স্টেরয়েড গ্রুপের বিভিন্ন ট্যাবলেট। গরুর প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় এ ট্যাবলেট খাওয়ালে। এর ফলে শরীরে পানি জমতে শুরু করে। ফলে গরু মোটাতাজা দেখায়। এ গরু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাই না করলে মারা যেতে পারে অথবা এর গোশত কমতে পারে। এমন গরুর গোশত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসব ওষুধ তীব্র তাপেও নষ্ট হয় না। ফলে মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ ধরনের গরুর গোশত খেলে মানুষের কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি জানান, স্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট খাওয়ানো বা ডেক্সামেথাসন জাতীয় ইনজেকশন দেওয়া গরু খুব শান্ত হয়। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। গরুর ঊরু অনেক বেশি মাংসল মনে হয়। অতিরিক্ত হরমোনের কারণে পুরো শরীরে পানি জমে মোটা দেখায়। আঙুল দিয়ে গরুর শরীরে চাপ দিলে দেবে গিয়ে গর্ত হয়ে যায়। গরুর শ্বাস-প্রশ্বাস দেখেও গরুকে ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ট্যাবলেট খাওয়ানো হলে গরু দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলে। গরুকে খুব ক্লান্ত দেখা যায় আর সারাক্ষণ হাঁপাতে থাকে। গরুর মুখে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা লেগে থাকাও কৃত্রিম উপায়ে গরুকে মোটা করার আরেকটি লক্ষণ।  প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক আরও জানান, গত বছর মোটাতাজা করা গরুর প্রতি মানুষের ঝোঁক কম ছিল। এবার প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদের নজরদারির কারণে গরু মোটাতাজাকরণ কম হয়েছে। খামারিরা অনেকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন। তিনি আরও বলেন, গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে খামারি ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস মানবশরীরে কি প্রভাব ফেলে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, ক্ষতিকারক ওষুধ খাওয়ানো হলে গরুর মাংস রান্নার পরও তার অবশেষ রয়ে যায়। ফলে ওষুধের অবশেষ অংশ মানবদেহে জমা হওয়ায় মানুষের বিপাক ক্রিয়া কমে যায়। ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত ও রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া যাদের রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা বিপদসীমার কাছাকাছি, তাদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করা গরু বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক মোটা হয়। এ ধরনের গরু ভালো করে হাঁটতে পারে না, ঝিমায়। এগুলো খেলে নিজেদের স্বাস্থ্য নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। টিআর/ এআর    

যে কারণে ব্যতিক্রম এবারের ছাত্রলীগ

বহু জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষিত হল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই সময় একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন পর ঘোষিত ছাত্রলীগের এ নেতৃত্ব নানা কারণে হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রম। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যায় তা নিয়ে রয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। বরাবরই ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে। সেই জায়গা থেকে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে ছাত্রলীগের এ পরিষদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এমতাবস্থায় রাজপথে অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার ভার এই নেতৃত্বের কাঁধে আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পক্ষান্তরে চলমান অস্থিতিশীলতা নিরসনেও ছাত্রলীগকে ভূমিকা রাখতে হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের নেতৃত্ব। ইতোমধ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝানোর ভার গতকাল প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে কথা বলেছেন। শোভন-রাব্বানী পরিষদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের নতুন সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিগত কমিটির সদস্য রেজানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বিগত কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। রেজানুল হক চৌধুরী শোভন কুড়িগ্রামের সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর গ্রামের বাড়ী মাদারীপুর। তিনিও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের ছাত্র। কে এই শোভন- রাব্বানী সিন্ডিকেটের রাহুমুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নিজে এবার ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেছেন। তার একটাই উদ্দেশ্য যাতে করে কোনো অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগে ঢুকতে না পারে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে দু:শ্চিন্তায় ফেলে। তখন থেকে তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সময় পারিবারিক রাজনীতি ও মতাদর্শকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য জোর দেন। সেই বিবেচনায় ছাত্রলীগের নব মনোনীত সভাপতি রেজানুল হক চৌধুরী শোভন ছিলেন একেবারে পারফেক্ট। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের সন্তান শোভন। শোভনের দাদা মরহুম শামসুল হক চৌধুরী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৬নং সেক্টর এর প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে (১৯৭৭ সালে) দেশ ও দলের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় নির্বাচন করেন। শোভনের বাবা, ১৯৮১ সালে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ এর সভাপতি ও ১৯৯১ সালে থানা যুবলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন । ২০০১ সালে থানা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সাল থেকে পুণরায় নির্বাচিত হয়ে এখনো তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামের সন্তান গোলাম রাব্বানীও আওয়ামী পরিবারের সন্তান। গোলাম রাব্বানীর নানা মরহুম শামসুল হক মুন্সী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও স্থানীর ইশিবপুর পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাব্বানীর মা তাছলিমা বেগম ( ১৯ জুলাই মারা যান) রাজৈর কলেজ ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯১ মেয়াদে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার মায়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা এখনও এলাকাবাসীর মুখে মুখে। গোলাম রাব্বানীর বাবা একজন সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা। তার ছোট ভাই ৩৫ তম বিসিএস- এ পুলিশ ক্যাডার লাভ করেন। কী ভাবছে বর্তমান নেতৃত্ব ছাত্রলীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আগামী দিনে সংগঠন নিয়ে নিজের ভাবনার বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন যখন আমি মা হারানোর শোকে দগ্ধ। আমার দু:খ একটাই, আমার মা আমার এ অর্জন দেখে যেতে পারলেন না। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি। সামনে জাতীয় নির্বাচন। তার আগেই প্রতিটা ইউনিটে যেসব সমস্যা আছে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন কর্মপরিকল্পনা সংগঠন সাজাব। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি এমন ইউনিটগুলোতে নির্বাচনের আগে সম্মেলন হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম রাব্বানী বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুস্মরণ করব। অনেক ইউনিটে সম্মেলন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেসব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, এখন থেকে ছাত্রলীগে কোনো `ভাই লীগ` থাকবে না। ছাত্রলীগের নেতা একজন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি বারবার পুলিশ ভাইদের বলেছি, আপনারা কোনো ছাত্রের গায়ে হাত দেবেন না। তাহলে হিতে বিপরিত হবে। প্রাধান্য পায়নি আঞ্চলিকতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনেকগুলো প্রথা ভাঙ্গতে হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আঞ্চলিকতা। নানা কারণে এক এলাকা থেকে বারবার নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার নজির থাকলেও এবার সেটি ভাঙা গেছে। বিগত পরিষদের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগও মাদারীপুরের সন্তান ছিলেন। পরিষদের মধ্যে মাদারীপুর ও উত্তরবঙ্গ থেকে নেতৃত্ব নির্বাচিত হলেও এবার মূল নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে গিয়ে আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। সম্মেলন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে রাজনীতি ঘনিষ্ট লোকজনের ধারণা ছিল আর যাই হোক উত্তরবঙ্গ- মাদারীপুর- ফরিদপুর এলাকা থেকে নেতৃত্ব আসবে না। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। তাছাড়া এবার দুটি পদে একই বেল্ট থেকে নির্বাচনের ঘটনা সম্ভবত এবারই প্রথম। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি যেমন কুড়িগ্রাম থেকে নেওয়া হয় তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকও নির্বাচিত হয় কুড়িগ্রাম থেকে। তাছাড়া এবারই দীর্ঘদিন পর বরিশাল থেকে কোনো নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়নি। কিন্তু বিগত প্রত্যেকটি পরিষদে মূল চারটি নেতৃত্বের কাউকে না কাউকে বরিশাল থেকে নেওয়া হত। সবাই এসেছেন একই ঘর থেকে বিগত সময়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণে বারবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলেও একই বিভাগ থেকে কখনও একসঙ্গে নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়নি। কিন্তু এবার ছাত্রলীগের মূল দুই কান্ডারী নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে। শুধু তাই নয়। ছাত্রলীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক পদ দুটিও বাছাই করা হয়েছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে। যদিও বা এ নেতৃত্ব বহু জল্পনা কল্পনার ফসল তথাপি এককেন্দ্রীক নেতৃত্ব সংগঠনের বিকাশে কতটুকু লাভজনক হবে তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। আমি চাইলাম যারে পাইলাম না তারে মানুষ বড় পদ চেয়ে ছোট পদ পায়। তবে ছোট পদ চেয়ে বড় পদ পাওয়ার নজির খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু তেমনই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের এই কমিটিতে। সভাপতি পদে মনোনীত হওয়া রেজানুল হক চৌধুরী শোভন শুরু থেকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিলেন। শোভন নিজে ও তার সমর্থকরা সব সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, তিনি সাধারন সম্পাদক হতে চাচ্ছেন। কিন্তু ঘোষিত কমিটিতে তাকে সভাপতি মনোনীত করা হলে বিস্মিত হয় অনেকেই। এমনকি তার ঘনিষ্ট সমর্থকদের মধ্যেও অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। পক্ষান্তরে গোলাম রাব্বানীর নাম বিভিন্ন সময়ে সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের নামের তালিকায় ছিল। কিন্তু তাকে করা হয় সাধারন সম্পাদক। বিগত কমিটিতেও পদানুসারে গোলাম রাব্বানী রেজানুল হক চৌধুরী শোভনের সিনিয়র ছিলেন। ভেঙ্গে গেছে সিন্ডিকেটের রাহু ছাত্রলীগের সাবেক এক কেন্দ্রীয় সভাপতির নেতৃত্বে একটি বলয় দীর্ঘদিন সারাদেশে ছাত্রলীগে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী মনোনীত বা নির্বাচিত করার অভিযোগ থাকলেও এবার ছাত্রলীগ পুরোপুরি সিন্ডিমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তাদের বক্তব্য এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজে যাচাই বাছাই করে নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছেন। ফলে অসাধু গোষ্টীর প্রভাবমুক্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত নেতৃত্ব কতটুকু দক্ষ তা সময়ে প্রমাণিত হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। ছাত্রলীগের সাবেক এক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনোনীত নেতৃত্ব কতক্ষণ নিজেদের সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত রাখতে পারে সেটাও একটা প্রশ্ন। উল্লেখ্য গত ১১ ও ১২ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আড়াই মাস পর নানা জল্পনা কল্পনার মধ্য দিয়ে ঘোষিত হল ছাত্রলীগের মূল নেতৃত্ব। অা অা/ এআর

উটের খামার করে সাবলম্বী মোহাম্মদপুরের জাকের

মরুভূমির প্রাণী উট। আরব্য উপন্যাসের পাতা উল্টালেই আমাদের চোখ যায় অদ্ভূত কুঁজওয়ালা প্রাণীর দিকে। সেই উট এখন বাংলাদেশে। যদিও উট চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূলে নয়, তবু সেই প্রতিকূলতাকেই এখন জয় করার পালা। দেশীয় খামারিদের কেউ কেউ প্রতিকূলতা জয়ও করেছেন। হয়েছেন সাবলম্বী। তাদেরই একজন মোহাম্মদপুরের যুবক জাকের হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েক বছর ধরেই উটের লালনপালন হচ্ছে। সেটি বড় পরিসরে না হলেও শখের বশে লালন পালন করছেন কেউ কেউ। এদের বেশিরভাগেরই টার্গেট কোরবানি উপলক্ষে চড়া দামে উট বিক্রি। কেউ কেউ আবার উটের সুস্বাধু দুধের স্বাধ নিতেও খামার করতে আগ্রহী হয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম মেনে যত্ন নিলে বাংলাদেশেও উট লালন পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব। রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বসিলা মোড় হয়ে বেড়ি বাঁধ দিয়ে ঢাকা উদ্যানের দিকে যেতে যে কারো চোখে পড়বে রাস্তার পাশে একটি উটের খামার। দুই বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই খামার। স্থানীয় যুবক জাকের হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালে এখানে গড়ে ওঠে এই খামার। ভারতের রাজস্থান থেকে আনা কয়েকটি উট দিয়ে ২০০৯ সালে এই খামার গড়ে উঠে। সেখানে একটি পুরুষ ও কয়েকটি মাদী উট ছিল। এরপর বিভিন্ন সময় আরও কয়েকটি উট ক্রয় করা হয়। এসব উট পরবর্তীতে বাচ্চা প্রসব করলে এক বছরের মধ্যে এখানে উটের সংখ্যা দাঁড়ায় সাইত্রিশে। দুই বিঘা জমির ওপর চতুর্ভুজ আকৃতিতে গড়ে তোলা হয়েছে খামারের মধ্যকার অংশ। বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করে উটের বাস উপযোগী খামার তৈরি করা হয়েছে। ১০ জন লোক সার্বক্ষণিকভাবে উট পরিচর্যায় ব্যস্ত। দু`জন পশু চিকিৎসক ২৯টি উটের চিকিৎসায় নিয়োজিত। জাকের হোসেনের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে খামারটি। এই খামারে উটকে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ঘাস, খৈল, ভুসি, খড় ইত্যাদি খাওয়ানো হয়। উদ্যোক্তা জাকের হোসেন বলেন, খামারের পরিধি বৃদ্ধি ও উটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। ঈদুল আজহায় উট বিক্রি ও সারা বছর দুধ বিক্রিই খামারের আয়ের অন্যতম উৎস। বিভিন্ন সময় ঈদুল আজহায় এখানকার উট বিক্রি করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এ খামারে উটের সংখ্যা ২৯টি। উট প্রতিপালন সম্পর্কে এই প্রতিবেদককে খামারের তত্ত্বাবধায়ক তসলিমউদ্দিন বলেন, যেহেতু উট মরুভূমির প্রাণী, তাই তারা প্রথমে খামারের ভেতরে বালু ফেলে কৃত্রিম মরুভূমির আবহ তৈরি করেছি। মরুভূমির পরিবেশ দেওয়া সম্ভব না হলেও ওই আবহ তৈরির চেষ্টা করেছি। যে কারণে উটগুলো এখানে থাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। উটের খাবারদাবার সম্পর্কে তসলিম উদ্দিন বলেন, শুষ্ক মরু অঞ্চলের প্রাণী উটের খাদ্যাভ্যাস একেবারেই সাদামাটা। এদের খাবারের চাহিদা খুব বেশি নেই। অল্প পরিমানে খড়, ঘাস ও পানিই এদের জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট। তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি মাদী উট প্রতি ১৩ মাস অন্তর অন্তত একটি করে বাচ্চা প্রসব করে। উটের বাচ্চা ৩/৪ বছর বয়সে পরিণত হয়ে ওঠে। উট পালনের খরচও কম। গড়ে প্রতিটি উটের জন্য মাসে একহাজার করে টাকা ব্যয় হয়। উটের মাংসের দাম বেশ চড়া। খামারি জাকেরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক একটি উট জবাই করলে ১০ থেকে ১৪ মণ মাংস পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মাংসের মূল্য ১৫০০ টাকা। দেশের বাজারে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক একটি প্রাপ্তবয়স্ক উটের মূল্য আট থেকে দশ লাখ টাকা। উটের দুধের বেশি চাহিদা রয়েছে এদেশে। জাকের জানান, উটের দুধ বেশ সুস্বাধু ও গাঢ়। একটি  উট রোজ ১০ থেকে ১৪ লিটার দুধ দেয়। উটের দুধের দাম প্রতি লিটার ৪০০ টাকা।  খামারের স্বত্ত্বাধিকারী জাকের হোসেন বলেন, দেশে উট প্রতিপালন ও প্রজনন একটি লাভজনক প্রকল্প হতে পারে। মাংস এবং দুধ ছাড়াও উটের চামড়াও বিক্রয়যোগ্য পণ্য। উটের চামড়া টেকসই হওয়াতে এর দামও অনেক বেশি। তিনি জানান, উট পালন অত্যন্ত লাভজনক। কারণ একটি উটের বাচ্চা লালন-পালনে মাসে ব্যয় হয় পাঁচশত টাকা। অথচ দেড় বছরের মাথায় এই উটটির বিক্রয় মূল্য দাঁড়ায় কমপক্ষে দেড়লাখ টাকা। এ সময়ে এর প্রতিপালন ব্যয় নয় থেকে দশ হাজার টাকার বেশি নয়। অন্যদিকে দেড় বছর পর মা উট আরেকটি বাচ্চা দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি দুধ দেয়। প্রতি লিটার দুধের দাম ৪০০ টাকা। উট প্রথমবার একটি বাচ্চা দেয়। দ্বিতীয়বার থেকে দুই থেকে ৩টি করে বাচ্চা দেয়। একটি উট ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এ সময় কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি বাচ্চা দেয়। উটের প্রতিপালন সম্পর্কে খামারের তত্ত্বাবধায়ক তসলিম উদ্দিন জানান, নোংড়া পরিবেশ উটের প্রধান শত্রু। মল মূত্র, পানি জমে থাকা, মশা মাছি উট সহ্য করতে পারে না। তাই কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করতে হবে। একটি উটের জন্য কমপক্ষে দশ বর্গফুট জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। উটের রোগবালাই সম্পর্কে তসলিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত উটের চর্মরোগ ও জ্বর হয়। সাধারণ চিকিৎসায় তা ভালো করা সম্ভব। উটের প্রধান শত্রু কৃমি। ছয় মাস পরপর ভ্যাকসিন দিলে কৃমি দমন করা হয়। তিনি জানান, একটি উট যেকোনো রোগ অথবা বার্ধক্যজনিত কারণে আক্রান্ত হলেও অসুস্থ অবস্থায় কমপক্ষে দু`মাস বেঁচে থেকে। এ সময়ের মধ্যে এটিকে সারিয়ে তোলা বা জবাই করে মাংস বিক্রি করা যায়। ফলে রোগ-বালাই সত্ত্বেও উট পালনে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। প্রাণিবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, উটের মাংস ও দুধে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন- ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, নানা সংক্রমণ, পেটের আলসার, হাঁপানি, জন্ডিস, পাইলস, রক্তশূন্যতা, চর্মরোগসহ প্রায় ২০ ধরনের জটিল রোগ নিরাময় সম্ভব। জাকের হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদেশে উট পালনের প্রধান শর্ত হলো নিবিড় পরিচর্যা। সেটি নিশ্চিত করা গেছে বাংলাদেশেও উট পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব। জাকের হোসেন আরও জানান, সরকার যদি আগ্রহী উদ্যোক্তাদের উটের প্রতিপালন ও প্রজননের ব্যাপারে সহযোগিতা করে, তবে উটের খামারও কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্র হতে পারে বলে মনে করেন এই উট খামারি। অবশ্য জাকের হোসেনই দেশের মাটিতে প্রথম উট চাষ করছেন এমন নয়। এর আগে রাজধানীর কমলাপুর বাজার রোডে দেওয়ানবাগী ১ টি পুরুষ উট ও নয়টি মাদি উট দিয়ে উটের অানুষ্ঠানিক চাষ শুরু করেন। সেই খামারের দুধ উৎপাদন ও পরিবেশনের জন্য ইতোমধ্যে সেখানে `সম্রাট মিল্ক প্রোডাক্টস` নামে একটি প্রতিষ্ঠাণ কাজ করছে। বর্তমানে সেই খামারে ৪৫ টি উট রয়েছে। জানা যায়, প্রতিবছর বেশ কিছু উট তারা কোরবানীর ঈদে বাজারে বিক্রি করা হয়।  আ আ / এআর

জনশক্তি রফতানি কমলেও বাড়ছে রেমিট্যান্স    

  দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের মূল উৎস্য জনশক্তি রফতানি কমেছে। জনশক্তি রফতানি কমলেও রেমিট্যান্সের প্র্রবাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি  রফতানি কমেছে ২৫ শতাংশ। আর সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনশক্তি রফতানি কমলেও রেমিট্যান্স বাড়ার অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশে ব্যাংকের গৃহীত নানাবিধ উদ্যোগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়িতে কমেছে মোবাইলে হুন্ডি ব্যবসা। হুন্ডিতে কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং চ্যানেলে। ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে ঝুঁকেছে অনেক প্রবাসী।এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধে অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে, এর প্রভাবেও রেমিটেন্স বাড়ছে। ডলারের চাহিদা মেটাতে ব্যাংক তার নিজের স্বার্থেই ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের রেমিটেন্স আনার চেষ্টা করছে। সে কারণেও রেমিটেন্স বেড়েছে। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীদের টাকা পাঠানো সবসময় একটু বাড়ে। যার প্রভাব আমরা রেমিট্যান্সে দেখতে পায়।’ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার ২৫০ জন। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম। আগের বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে পাঁচ লাখ ২০ হাজার ৪৯০ জনশক্তি পাঠানো হয়। বাংলাদেশ থেকে যত জনশক্তি রফতানি হয় তার বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দুই লাখ ৫১ হাজার ৮৮০ জনশক্তি রফতানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৮২৩ জন। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) এর যুগ্ম মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরব সেদেশে ১২ ধরনের কাজে বিদেশিদের নিষিদ্ধ করেছে। এতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে আগের মত কম দক্ষ জনশক্তি রফতানিও কমেছে। তবে জনশক্তি রফতানি কমার এ হার বছর শেষে থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বছরের শেষের দিকে জনশক্তি রফতানি আরো বাড়বে।    এদিকে জনশক্তি রফতানি কমলেও প্রবাসী আয় অব্যাহত ভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে এসেছিল এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবাসীরা ৮০২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এসেছে ৪৬৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। গতবছরের একই সময়ে এসেছিল ৩৭৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাত্ মধ্যপ্রাচ্য থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৪ শতাংশ বেড়েছে।   প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে সাতটিই মধ্যপ্রাচ্যের। এর মধ্যে সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদিআরব থেকে। সৌদি প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৫৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার। যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের ১৭ শতাংশেরও বেশি এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম      মোয়াজ্জেম বলেন, রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে একদিকে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন, অন্যদিকে পণ্য আমদানি বাড়ায় ডলারের সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রয়োজনে রেমিট্যান্স আনতে বেশি উৎসাহী হচ্ছে। এছাড়া জনশক্তি রফতানি কিছুটা কমার জন্য সৌদি আরবের কিছু নেতিবাচক দিক দায়ী। আমাদের নারী শ্রমিকরা সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরণের আতঙ্কে পড়ে গেছে। প্রাই নারীদের নানাবিধ হয়রানির কথা শোনা যায়। যা পুরুষ শ্রমিকদেরও বিদেশ যেতে নিরুৎসাহিত করে। আরকে//এসি     

বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, নেই কার্যকর উদ্যোগ

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঝড়ছে প্রাণ। এ সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী গত ছয় মাসে সড়কে ঝড়েছে তিন হাজার ২৬ প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি মৃত্যুর সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গোটা পরিবারেরই যেন মৃত্যু হয়। সড়ক দুর্ঘটনা বাড়লেও প্রতিরোধের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।  বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় রোজ মারা যাচ্ছে ৬৪ জন। অার এসব সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এভাবে প্রতিদিন সড়কে প্রাণ ঝড়লেও তা থামাবার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বিভিন্ন সভা- সমাবেশ- সেমিনারে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কার্যত সড়ক পথের অব্যবস্থাপনা এবং চালক, যাত্রী ও পথচারীদের নিয়ম না মানার প্রবণতাকে বার বার দায়ী করা হলেও নিয়ম মানার জন্যও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো উদ্যোগ। যেন বিষয়টি ‘কাজীর গরু কিতাবে অাছে গোয়ালে নেই`অবস্থা। সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি দিন দিন বাড়লেও নীরব প্রশাসন। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হচ্ছে-ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকের ছড়াছড়ি, সড়কে অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতা। সড়ক পথে দুর্ঘটনা রোধ ও গাড়ির নিয়ম মেনে চলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু এ প্রতিবেদন লেখার সময় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের এ বিভাগের কাছে কোনো ধরণের তথ্য-ই নেই। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা নিয়ে কিছু বলতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তাদের কাছে হালনাগাদ কোনো নেই। এবং এটি তাদের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে দেশে ২৮৬০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩০২৬ জন ও অাহত হয়েছেন ৮৫২০ জন। অার চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ২৩৩৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭৩০ জন আহত এবং ২৪১১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৮৮ জন চালক-শ্রমিক, ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী, ৫৯ জন শিক্ষক, ১৯ জন সাংবাদিক, ১৯ জন চিকিৎসক, ০৪ জন প্রকোশলী, ০১ জন আইনজীবী, ১৩৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ১৩৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ৪০০ জন নারী, ২৪৮ জন শিশু, ১৫৪ জন চাকরিজীবী এবং ৭৮৫৫ জন পথচারী ও অন্যান্য ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে । যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি মাসের জানুয়ারিতে ৪৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৫৩ জন আহত ও ৫১৪ জন নিহত হন। এ মাসে ১৪০টি বাস, ২০৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ০৯টি হিউম্যান হলার, ৪১টি কার ও মাইক্রোবাস, ৫২টি অটোরিক্সা, ৫৮টি মোটরসাইকেল, ৩২টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ৫৩টি নছিমন- করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ১৭৭টি। ৮০টি গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে। ৮টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চাকায় ওড়না পেছিয়ে ছয়জন, গাড়ি চাপায় ২০৫ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫২১ জন আহত ও ৪৫৯ জন নিহত হন। এই মাসে ১১৩টি বাস, ১৮৯টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৬৩টি অটোরিক্সা, ৩২টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ২৩টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ৩৫টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ২৭টি খাদে পড়ে, ছয়টি ট্রেন-যানবাহন সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৭০টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৪৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০৬ জন আহত ও ৪৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এ মাসে ১৩২টি বাস ২৩৬টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, সাতটি হিউম্যান হলার, ৩১টি অটোরিক্সা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯০টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ২৬টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫৬টি মুখোমুখি সংঘষর্, ২৭টি খাদে পড়ে ও তিনটি ট্রেন- যানবাহনের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২২২টি গাড়ির চাপায় ঘটনা ঘটে। এপ্রিল মাসে ৪৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২২৩ জন আহত, ৪৭১ জন নিহত হন। এই মাসে ১১৪টি বাস, ১৮৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ছয়টি হিউম্যান হলার, ৬১টি অটোরিক্সা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮২টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ৩৬টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ১১৮টি সংঘর্ষ, ৮৯টি খাদে পড়ে একটি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২১১টি গাড়ির চাপার ঘটনা ঘটে। মে মাসে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১২৭ জন আহত ৪৮৪ জন নিহত হন। ১০৮টি বাস, ২০৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, একটি হিউম্যান হলার, ৫৫টি অটোরিক্সা, ১৪টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮৫টি মোটরসাইকেল, ২২টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ৪১টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এছাড়া চাকায় ওড়না পেচিয়ে দু’জন নিহত এবং ১৭১টি গাড়ির চাপার ঘটনা ঘটে এ মাসে। জুন মাসে ৫২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭৯০ জন আহত ৬১৫ জন নিহত হয়। এসময় ১৩৮টি বাস, ২০৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ছয়টি হিউম্যান হলার, ৮০টি অটোরিক্সা, ৫৪টি কার ও মাইক্রোবাস, ১০৭টি মোটরসাইকেল, ২৭টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ৩৩টি নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এছাড়া চাকায় ওড়না পেচিয়ে তিনজন নিহত এবং ১৯১টি গাড়ির চাপার ঘটনা ঘটে এ মাসে। একই সংস্থার দেওয়া তথ্যানুযায়ী ২০১৭ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হয় চার হাজার ৯৮৯টি। তাতে নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ৩৯৭ জন। এর অাগের বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা চার হাজার ৩১২টি। তাতে নিহত হয় ছয় হাজার ৫৫ জন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনার বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫. ০৫ শতাংশ। যাতে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ২২. ০২ শতাংশ। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে কাজ করা `নিরাপদ সড়ক চাই`র তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি পাঁচ হাজার ৬৪৫ জনের। যা ২০১৬ সালের তুলনায় দেড় হাজার বেশি। জাতিসংঘ নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ অর্ধেকের নিচে কমিয়ে অানার কথা থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা তো কমছেই না, বরং প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ছে। জাতিসংঘ নির্ধারিত ওই কর্মসূচিতে যেসব সদস্য রাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ওই কর্মসূচি অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে অানার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলো হলো- সড়ক পরিবহন, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে প্রতিবেদনটি লেখার সময় এসব মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতিসংঘ নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুধু বিভিন্ন সড়কের বাঁক ঠিক করা ও মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ অাদালত পরিচালনা করা ছাড়া এখনও পর্যন্ত অন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেন সম্ভব হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে অাকার ইঙ্গিতে অামলাতন্ত্রকে দায়ী করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। `নিরাপদ সড়ক চাই` অান্দোলনের প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন অবশ্য বলেন ভিন্ন কথা। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে অামরা যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করি তখন দেশে মানুষ ছিল সাড়ে দশ কোটি থেকে ১১ কোটি। গাড়ির সংখ্যা ছিল হাজারের কোটায় সীমাবদ্ধ। বর্তমানে মানুষ অাঠার কোটি। রেজিষ্টার্ড গাড়ি প্রায় ৩৩ লাখ। অানুপাতিক হারে অামাদের সড়ক দুর্ঘটনা কম। তবে হ্যাঁ, অামাদের কাংখিত উন্নয়ন হয়নি। অামরা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারছি না তবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। ইলিয়াস কাঞ্চন অারও বলেন, দক্ষিন এশিয়ার এই অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা কমের দিক থেকে অামাদের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে অাছে মালদ্বীপ। তিনি অারও বলেন, উন্নত দেশগুলোতেও সড়ক দুর্ঘটনা হয়। তবে সেখানে মৃতের সংখ্যা থাকে সর্বোচ্চ ২-৩ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেখানে অামাদের হতাহতের সংখ্যা অনেক সময় ৪০-৪৫ জন ছাড়িয়ে যায়। যা খুবই দুঃখজনক। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার জন্য অনেকগুলো বিষয়কে দায়ী করেন। তারমধ্যে রয়েছে সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল ও অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন চালকরাও এর জন্য দায়ী। তিনি অারও জানান, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩৩ লাখ। তবে অনিবন্ধিতসহ মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ যানবাহন নিয়মিত রাস্তায় চলাচল করে। এসব অনিবন্ধিত যানবাহনের মধ্যে ৭২ শতাংশের কোনো ধরণের ফিটনেস নেই। গাড়ির ফিটনেস অনুমোদন পাওয়ার জন্য ৪০ ধরণের পরীক্ষা- নীরিক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র দু`একটি পরীক্ষা করেই দিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি চালনার অনুমোদন। অাবার দেশে বর্তমানে চালকের সংখ্যা প্রায় ৭২ লাখ। কিন্তু বিঅারটিএ দাবি করছে বিঅারটিএ- এর লাইসেন্স অাছে মাত্র ষোল লাখ চালকের। অর্থাৎ, বাকিরা সবাই অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন চালক সড়ক পথে গাড়ি চালাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৬ লাখ চালকের লাইসেন্স থাকলেও অন্যায় ও অবৈধ সুবিধা এবং সিবিএ কর্মকর্তাদের প্রভাবের কারণে প্রতি বছর অনেক অদক্ষ ও প্রশিক্ষণহীন চালক লাইসেন্স পাচ্ছে। ফলে যত্রতত্র বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। এভাবে মহামারীর মত বাড়তে থাকা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, অাইনে পরিবর্তন এনে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়ন সম্ভব নয়। মূল সমস্যা অব্যবস্থাপনা। অনিয়মের সংস্কৃতি বিরাজ থাকায় এখানে চালক, যাত্রী ও পথচারী কেউ নিয়ম মানতে চায় না। মোয়াজ্জেম হোসেন অারও বলেন, একজন মানুষ যখন রাস্তায় নেমে দেখবে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী চলছে তখন তিনি নিজেও নিয়ম মানার তাগিদ ভেতর থেকে অনুভব করবেন। এখানে সরকারের কোনো করনীয় অাছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সরকারের কোনো একটি সংস্থা পরিবহন সিস্টেম নিয়ে নিয়মিত কাজ করা উচিত। রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রে এ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন নিতে পারে। সড়ক পথে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও গাড়ির নিয়ম মেনে চলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু এ প্রতিবেদন লেখার সময় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের এ বিভাগের কাছে কোনো ধরণের তথ্য-ই নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, অামরা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। এসবের হালনাগাদ কোন তথ্য রাখা অামাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। মহামারীর মত এভাবে ছড়িয়ে পড়া সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট হবে, পাশাপাশি গাড়ি চালক, যাত্রী ও পথচারী নিয়ম মানতে উৎসাহী হব সেটাই প্রত্যাশা। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি