ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৩:৩৩

কারওয়ান বাজারের যমদূত

কারওয়ান বাজারের যমদূত

গান-বাজনা আর অশ্লীল শব্দ শুনে এক শ্রেণির মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত তরুণীদের দেখে আশপাশের মানুষের ভীড় আরো বেড়ে যায়। এরপর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বরোগের ওষুধ নিয়ে হাজির হন মজমার মূল ব্যক্তি। নানা রকম আশ্বাস, বিশ্বাস আর প্রমাণ উপস্থাপন করে প্রচারণা চালান। এ সময় পাশ থেকে পূর্বের ক্রেতারা এসে উপকার পেয়েছেন মর্মে আরো ওষুধ নিতে চান। উপস্থিত দর্শকদের বিশ্বাস আরো গাঢ় হয়। তারাও চেয়ে বসেন ওষুধ। জমে যায় মজমা।
সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ‘স্বপ্ন স্কুল’

সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘স্বপ্ন স্কুল’। এটি গাজীপুরের পূবাইলের নারায়ণকুল গ্রামে অবস্থিত। বাংলা ও ইংরেজি দুই মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে গতানুগতিক শিক্ষার নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সচেতন করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধাঁচে (যেমন খেলার ছলে পড়া, গ্রুপ স্টাডি, সহশিক্ষা কার্যীক্রম) পাঠদান করানো হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যাক্তিদের স্কুলে এনে ড্রিম স্পিচের ব্যবস্থা করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগানো হয়। প্রতি ক্লাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ড্রিম কার্ড। এসব ড্রিম কার্ডে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখে রাখে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সঙ্গে এখানকার শিক্ষার সমন্বয় করতে জাপানের সেরা স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে স্কাইপিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিনিময় করা হয়। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উন্নত এই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা খরচে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে স্কুলটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্কুলের শ্রেণীকক্ষে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয় মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে। রয়েছে সুদীর্ঘ খেলার মাঠসহ বৃহৎ হল রুম ও এগ্রিকালচারাল ফার্মও রয়েছে। ছয় হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তোলার জন্য সুবিশাল কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞান গবেষণাগারের সুব্যবস্থাও রয়েছে। মেধাকে শাণিত করার জন্য রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব। স্কুলের ক্লাব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণিত ক্লাব, ভলেন্টারি ক্লাব, ব্যাডমিন্টন ক্লাব, অ্যাথলেটিক্স ক্লাব ও মিউজিক ক্লাব। স্কুলের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রকিবুল হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা সম্পন্ন একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই স্কুলের লক্ষ্য। এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তাঘাটে চলার পথে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে না। পাশাপাশি রাস্তায় কোনো ময়লা দেখতে পেলে তা তুলে নিয়ে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে ময়লা রাখে। শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভিন্ন প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষক রকিব জানান, স্কুলের ক্ষুদে এসব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন একদিন তারা বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। ছুটির পর স্কুলের শ্রেণিকক্ষসহ স্কুলটি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পরিষ্কার করে। খুব আনন্দের সঙ্গেই তারা এ কাজটি করে থাকে।   জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটের সদস্য মিকি ওয়াতানাবের উদ্যোগে ২০১৩ সালে এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলটির সহযোগিতায় রয়েছে বেসিক ডেভেলপমেন্ট পাটনার্স, স্কুল এইড জাপান ও টোপিওর ইকুবুনকান  গ্লোবাল স্কুল। এখানে বাংলা ও ইংরেজি দুটি মাধ্যমের দুটি স্কুলের মধ্যে একটির নাম নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুল (বাংলা মাধ্যম) ও অপরটি নাম জাপান ইন্টারন্যাশনাল ড্রিম স্কুল (ইংরেজি মাধ্যমে)। মোট ১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত স্কুল দুটি প্রতিষ্ঠিত। জাপানের অর্থায়নে এটি পরিচালিত হচ্ছে। ইকুবুনকান গ্লোবাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্কাইপে ক্লাস করে থাকে নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বমানের একটি গ্লোবাল স্কুল গড়ে তোলাই নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুলের লক্ষ্য। ভিন্ন আঙ্গিকে পাঠদানস্কুলের পাঠ দানের কার্যক্রমটা দেশের অন্য সব বিদ্যালয় থেকে আলাদা। এ স্কুলের প্লে, নার্সারি ও ক্লাস ওয়ানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশুনায় খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সংক্রান্ত খেলনা সামগ্রী রাখা হয়। এগুলো দিয়ে তারা খেলাচ্ছলে বিভিন্ন বিষয় শিখে থাকে। শুধু একাডেমিক পড়াশুনাই নয়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য স্কুলটি সবর্দা নিবেদিত। এই স্কুলের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী একটি স্বপ্ন ধারণ করে। আর তার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে এই স্কুলটি। স্কুলের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী স্বপ্ন অন্বেষণ করেন। স্বপ্ন পূরণের জন্য সবর্দা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণশক্তি জাগানো ও জোগানোর কাজটিও করে স্কুলটি। এ লক্ষ্যে প্রতিবছর স্বপ্ন পূরণে সফল ব্যক্তিদের স্কুলে নিয়ে এসে ড্রিম স্পিচ (স্বপ্ন বক্তৃতা)-এর ব্যবস্থা করা হয়। এরই মধ্যে স্কুলটিতে ড্রিম স্পিচ দিয়েছেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রমুখ। এসব সফল ব্যক্তিদের প্রেরণা যোগানো কথা শুনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুপ্রেরণা পাওয়ার পাশাপাশি স্বপ্ন পূরণে প্রাণশক্তিও জোগায়। শুধু তাই নয়, বছরের শুরুতে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্কুলের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ড্রিম ডাইরি দেওয়া হয়। যাতে তারা নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখে রাখতে পারে। প্রতি ক্লাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ড্রিম কার্ড। এসব ড্রিম কার্ডেও শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখে রাখে। সহশিক্ষা কার্যক্রমপ্রতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর স্কুলটিতে ড্রিম ডে পালন করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। আর প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল। এই স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ফেস্টিভ্যাল। সব শিক্ষার্থীদের ছয়টি দলে ভাগ করা হয়। খেলা হয় দলগতভাবে। একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছরের অক্টোবরে স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে কয়েকটি ক্লাব বানানো হয়। ক্লাবগুলো তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরে। এছাড়া শীতকালে অনুষ্ঠিত হয় পিঠা উৎসব। বিদ্যালয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ একটি সাইন্স ক্লাব। এই ক্লাবে বিশ্বের নতুন নতুন উদ্ভাবন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আসা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এসব কাজ শিক্ষার্থীরা নিজেরাই করে থাকেন। স্কুলের মাঠে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে স্টেজ পার্ফমেন্স অনুষ্ঠিত হয় । এদিন বহিরাগত দর্শনার্থীদের জন্য স্কুলটি উন্মুক্ত রাখা হয়। অন্য রকম মিলন মেলায় পরিণত হয় দিনটিতে। বিনা খরচে পড়ালেখাসম্পূর্ণ বিনা বেতনে এ বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে স্কুল ড্রেস, বই, খাতা-কলমও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন দুপুরের খাবারও সরবহার করা হয় স্কুলের পক্ষ থেকে। স্কুলের নিয়মিত পরীক্ষার ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এমনকি বোর্ড পরীক্ষার ফিও স্কুলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে যেসব ছেলে-মেয়ে কখনো লেখা পড়া করার স্বপ্নও দেখতে পারতো না তাদের মাঝে এই স্কুলের কল্যানে এখন শিক্ষার আলো বিরাজ করছে। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছেন বড় বিজ্ঞানী হওয়ার, কেউ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা আবার নিজেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখছেন। কেউ স্বপ্ন দেখছেন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার। এমনই একজন শিক্ষার্থী রাবেয়া খাতুন। রাবেয়া এই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট বেলায়ই বাবাকে হারায় রাবেয়া। অভাবের সংসারে রাবেয়ার পড়ালেখার কথা চিন্তাই করতে পারত না তার মা। রাবেয়া খাতুন জানান, এই স্কুলে না পড়লে কোনো দিন আমার লেখাপড়াই করা হতো না। কারণ ছোট বেলায় আমার বাবা মারা গেছে। স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, স্কুল ড্রেস কেনার মতো সামর্থ্য আমার মায়ের নেই। সম্পূর্ণ বিনা বেতনে ও পড়ালেখার অন্য খরচ কেবল এই স্কুলই আমাকে দিয়েছে। শুধু রাবেয়ার পড়াশুনার খরচই নয়, তার পরিবারের খরচ চলানোর মতো একটি অবলম্বনও করে দিয়েছে এই স্কুলটি। পরিবারের খরচ মেটানোর জন্য রাবেয়ার মাকে একটি সেলাই মেশিনও কিনে দেওয়া হয়েছে স্কুলের পক্ষ থেকে। রাবেয়া জানায়, আমার মা সেলায়ের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন। বড় হয়ে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায় রাবেয়া। শুধু শিক্ষক হওয়াই নয়, বাংলাদেশে এমন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করাও তার স্বপ্ন। রাবেয়ার ভাষ্য, ‘যাতে অসহায় ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য আমি নারায়ণ স্কুল ড্রিম স্কুলের মতো একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ প্রধান শিক্ষক যা বললেন অসহায় এসব ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার আলো পাচ্ছে এতেই খুশি স্কুলটির পরিচালনায় নিয়োজিত জাপানি শিক্ষকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাতসুসি ফুরুসাওয়া। স্কুলটিকে শিক্ষার মডেল হিসেবে তৈরি করার জন্য কাজ করছেন তিনি। কাতসুসি বলেন, নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুলকে স্বপ্নের স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মোট ৬৮ জন শিক্ষক নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর তিন জন শিক্ষককে জাপান থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জাপান থেকে ও ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাস থেকে প্রতিবছর স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা পৃথিবীর সুবিধা বঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য সাহায্য করে থাকি। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে আমাদের মনে হয়েছে এটি আসলে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে না পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর কালচার এদেশে খুব বেশি। জাপান বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র-উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও গরীব ছেলে-মেয়েদের সাহায্য করার জন্যই আমরা গাজীপুরে নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের উদ্দেশ্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে স্বপ্নের শিক্ষা এদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ভর্তি প্রক্রিয়াবাংলা মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ভর্তির কার্য ক্রম শুরু হয়। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিক্ষার্থি দরিদ্র পরিবার থেকে নেওয়া হয়। ৪০ ভাগ নেওয়া মেধা কোটায়। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যয়ন্ত প্রতি ক্লাসে ১২৯ জন করে শিক্ষার্থী। প্রতি ক্লাসে তিনটি সেকশন। বর্তমানে ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের কারো কোনো বেতন বা ফি দিতে হয় না। বই-খাতা, স্কুলড্রেস, ডায়েরি, দুপুরের খাবার সব স্কুল থেকে দেওয়া হয়। প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যরন্ত ইংরেজি মাধ্যম। এই মাধ্যমেও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। তবে প্লে, নার্সারী ও ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থী বাছাইয়ে তাদের বাবা-মায়ের সাক্ষাৎকার নিয়ে। অন্যদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। প্রতি ক্লাসে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী। তবে এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতেও শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় তাদের বাবা-মায়ের বহন করতে হয়।//এআর   

হোটেল মালিক থেকে ফুটপাতে লোকমান

লোকমান হোসেন। বয়স ৫৫ পেরিয়েছে। বাড়ি পিরোজপুরের দূর্গাপুর। নাম দস্তখত লখিতে পারনে। ঢাকায় এসেছিলেন ২০ বছর আগে। সামান্য জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু শুধু জীবিকা নয়, ভাগ্যে তার চেয়ে মিলেছিল বেশি কিছু। কারওয়ান বাজারে মাছ ওঠা-নামানোর শ্রমিক থেকে হয়ে উঠেছিলেন বড় এক হোটেলের মালিক। কিন্তু বিধিবাম; সেই মালিকত্ব তার কপালে আর সইল না। ব্যবসায়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকায় প্রতিষ্ঠানে জ¦লে উঠলো লাল বাতি। যা তাকে হোটেল মালিক থেকে নামিয়ে দিল ফুটপাতে।   লোকমান ১৯৯৭ সালে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আসেন। জীবিকার তাগিদে শুরু করেন মাছ ওঠা-নামানোর কাজ। মাত্র ৬ মাস পর এ কাজ ছেড়ে দেন। শুরু করেন হোটেল ব্যবসা। প্রথমে ভাত আর এক ভাগে তরকারি দিয়েই শুরু। ছোট দুটি পাতিলে অল্প পরিসরে চলতে থাকে তার ব্যবসা। কারওয়ান বাজারের ডিআইটি মার্কেটের ছোট একটি গলিতে বসতেন তিনি। মাছ বাজারের মুটে-মজুররা-ই ছিল তার কাস্টমার। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার ব্যবসার পরিধি। কাস্টমারের তালিকায় দিন মজুরের পাশাপাশি যোগ হন স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীরাও। পেটপুরে খাওয়ানোর বিনিময়ে তিনি নিতেন মাত্র ১০টাকা।   এভাবে চলতে থাকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। গত ৩ বছরের ব্যবসায় তার হাতে জমে গেল কয়েক লাখ টাকা। যে টাকায় তিনি স্বপ্ন দেখেন বড় একটি হোটেল দিবেন। ইচ্ছা অনুযায়ী তার দরজায় সুযোগও কড়া নাড়ল। কারওয়ান বাজারের ডিআইটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি জায়গাও পেয়ে গেলেন। দেরি না করে জায়গার তত্ত¡াবধায়ককে অ্যাডভ্যান্স হিসেবে দিলেন ৩ লাখ টাকা। আর আনুসঙ্গিক খরচ হিসেবে ২ লাখ টাকা হাতে রাখলেন। ২০০১ সালে শুরু হওয়া এ হোটেলের নাম দিলেন ‘খাঁজা হোটেল’। হোটেলে সাদা ভাত, বিরিয়ানি, কয়েক প্রকার মাছ ও মাংস, রুটি,পরাটা, মুংলাই ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকত। এক বছরের মধ্যে হোটেলের পরিধি এতোটাই বেড়ে গেল যে, তার একার পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়লো। তাই কর্মচারী নিয়োগ দিলেন ২৬ জন। ম্যানেজার নিয়োগ দিলেন ২ জন। এ সময়ে রোজ তার বেচা-কেনা হতো ২৫ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা। যা থেকে রোজ ৩ হাজার টাকা দিতেন ভিট ভাড়া। কিন্তু এ বর্ধিত ব্যবসা-ই হলো তার কাল। প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকায় তা তিনি ধরে রাখতে পারলেন না। হিসাব সামলাতে না পেরে নিয়োগ করা দুই ম্যানেজারকে বুঝে দিলেন হোটেলের দায়িত্ব। হিসেবের দায়িত্ব অন্যের হাতে দেওয়ার কারণে পুরো হোটেলটা-ই চলে গেল অন্যের হাতে। হোটেলের দুই ম্যানেজার ফারুক ও মোস্তফা যুক্তি করে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকে। তারা দু’জন বিএ (¯œাতক) পাশ হওয়ায় টাকার হিসেব লোকমানকে গোজামিল দিয়ে বুঝিয়ে দিত। তারা একদিকে শ্রমিকের বেতন ও পণ্যের দাম বেড়েছে বলে। অন্যদিকে বেচা-কেনা কম হচ্ছে বলে জানাতো। এ টানা পড়েনের মধ্যে লোকমানের হোটেল ব্যবসা চলে ২০০৪ সাল পর্যন্ত। ব্যবসায় মাস শেষে যা থাকতো তা লোকমানের লোকসানেই ফেলতো। ফলে লোকমান ঋণ হতে শুরু করেন। ব্যবসায় লোকসান গেলেও তার শ্রমিক ও জায়গা ভাড়া হিসেবে ২ লাখ টাকা মাসে দিতে-ই হতো। এভাবে প্রতিমাসে লোকসান গুণতে হলেও লোকমান নিজের হাতে গড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়তে পারতেন না। কিন্তু ঋণের বোঝা বইতে গিয়ে তিনি আর শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। সব মায়া ত্যাগ করে হোটেল পজিশন বিক্রি করলেন ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে। নিজের জীবনের এ বিষাদময় কথাগুলো বলে একটি দীর্ঘ নি:শ্বাস নিলেন লোকমান। এরপর শুরু করলেন কীভাবে তার ব্যবসায় লাল বাতি জ¦লেছে। তিনি বলেন, হোটেল ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ম্যানেজার যেদিন বাড়ি যাবে, সেদিন হোটেল ক্যাশের নিচে ম্যানেজারের কাপড়ের ব্যাগে বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। যা তার দুই মাসের বেতনের সমান। বিষয়টি সন্দেহ জনক হওয়ায় খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি তারা গত ৩ বছরে বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে অনেক টাকা পাঠাতো। কাকরাইলে তাদের একজন দু:সম্পর্কের ভাই ছিল তার মাধ্যম। তারা অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু তাদের আমি কিছু বলিনি। কারণ তাদেরকে আমার এলাকা থেকে পাঠিয়েছিল আমার-ই মেজ ভাই। তাদের সম্মান নিয়ে চলে যেতে দিয়েছি। আর আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে বলেছি, আল্লাহ তুমি যদি আমার কপালে সুখ রাখ এ ফুটপাতেই রাখতে পার। তবে আমি আগের মতো গরিব-অসহায় ও স্বল্প মানুষের মাঝেই আমার জীবিকা খুঁজে পেতে চাই। সব হারিয়ে আমার এখন আফসোস নেই। কারণ আমার দুটি সন্তান ও ছোট ভাইকে লেখা পড়া করাচ্ছি। ছোট ভাই অনার্স পড়ছে। বড় ছেলে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। ছোট মেয়ে নবম শ্রেণী পড়ছে। ওরা শিক্ষিত হলে-ই আবার এমন বড় প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবো। তখন ওদের পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাবে দুই তলার বড় হোটেল ব্যবসায়ী থেকে ফুটপাতে নামতে হবে না। যা আমার জীবনে হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, লোকমান বর্তমানে কারওরান বাজারের বিজিএমইএ ভবন সংলগ্ন ফুটপাতের ওপর আগের মতোই দুটি পাতিল নিয়ে খাবার বিক্রি করছেন। নিজ হাতে বেড়ে দিচ্ছেন ভাত। তার দোকানে আগের মতো-ই মুটে-মজুর, গরিব, অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষ খেতে আসছেন। তবে এখন আর আগের মতো ১০ টাকায় পেট পুরে খাবার দিতে পারেন না তিনি। এখন ডিম ও ভাত ৩০ টাকা, ঈলিশ মাছ ও ভাত ৭০ টাকা এবং মহিশের মাংস ও ভাত ৯০টাকায় পেট পুরে খাওয়াচ্ছেন। লোকমান জানান, ফুটপাতের এ ব্যবসা পরিচালনায়ও তাকে নিতে হয়েছে ৩ জন শ্রমিক। যাদের মাসিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হচ্ছে। তবে তিনি তার জীবনে আর ব্যবসা বাড়াতে চান না, কারণ চুন খেয়ে গাল পুড়েছে দই দেখলে ভয় হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকলে তিনি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।হোটেল মালিক থেকে ফুটপাতে নেমে আসার জন্য আফসোস হয় কী না জানতে চাইলে লোকমান বলেন, আফসোস তো হয়-ই, কিন্তু আফসোস করে কী করবো। আফসোস করলে আরও বুকের যন্ত্রণা বেড়ে যাবে। তাই দুঃখ না করে সন্তানদের লেখা-পড়া করানোর চেষ্টায় আছি। মগবাজরে বাসা নিয়েছি। যেখানে ছেলে-মেয়ে, ছোট ভাই ও সহধর্মিনী আছে। সুখের অতীতকে ভুলে ফুটপাতের ব্যবসায়ী হলেও এক প্রকার সুখে-ই আছি। //এআর

ব্যস্ততা বেড়েছে কামারশালায়

আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে তাই ব্যস্ততা বেড়েছে কোরবানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের। একদিকে সরগরম গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া কেনা বেচার বাজার অন্যদিকে কামারশালায় দিনরাত ঠুং-ঠাং আওয়াজ। কোরবানির উপযোগী দা-ছুরি বানানো এবং শান দিতে ব্যস্ত কামাররা। এক রকম পাল্লা দিয়ে কাজে নেমেছেন তারা। আগামী ২ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় দা-ছুরি সংস্কারের জন্য রাজধানীবাসী ইতোমধ্যে ভিড় করছেন কামারের কাছে। কেউ দাম-দর করছেন বাজার বোঝার জন্য কেউবা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের দা-ছুরি। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার কামারশালা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। দা-ছুরি কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে সাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের এখানে বিক্রি সব সময়ই ভালো হয়। তবে সামনে কোরবানি উপলক্ষে বিক্রি বেশি হয়। কেমন দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত এক কেজি ওজনের দা ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোয়া কেজিগুলো বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। আর ছুরি ৬০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মুস্তাফিজুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, বছরের অন্যান্য দিনে এগুলোর ব্যবহার নেই। কসাই দিয়েই পশু জবাই করিয়ে নিই। তারপরও ছুরিটা লাগে তাই কিনতে আসা। হাফিজ নামের একজন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার ঈদেও কন্ট্রাক্টে পশু জবাই করব আমরা কয়েকজন। এসময় ভালো মানের দা-ছুরির প্রয়োজন হয়। এখানে ভালো মানের দা-ছুরি পাওয়া যায়। তাই কিনতে এসেছি। তবে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের আগে কামাররা দা-ছুরির দাম অনেক বেশি ধরছে। আর/ডব্লিউএন  

ভাসমান বীজতলায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বানভাসীদের

বন্যাকবলিত এলাকায় কলা গাছের ভেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় বীজতলা ডুবে যাওয়ার কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে দেশের ১৪ জেলার ৫৬টি উপজেলায় ৭২০টি ভাসমান আমনের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এসব বীজতলায় উৎপাদিত আমন চারা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কলার ভেলা বা পচা কচুরিপানার ওপর ভাসমান বীজ তলা তৈরিতেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকরা এখন ভাসমান বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভাসমান বীজতলায় নতুন আশা দেখছেন হাওর ও বন্যা দুর্গত এলাকার কৃষকরা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। মৌলভীবাজার বন্যার পানি এখনো নামেনি। এদিকে রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরির সময়ও শুরু হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের বন্যাপ্লাবিত উপজেলায় কৃষকেরা কলাগাছের ভেলায় রোপা আমনের ‘ভাসমান’ বীজতলা করেছেন। কলগাছের ওপর কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করছেন কৃষক। ছবি সংগৃহিত কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় এই ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। তিন উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি না নামায় বীজতলার জন্য কলাগাছ দিয়ে ১০ মিটারের ভেলা বানানো হয়েছে। এর প্রস্থ দেড় মিটার। কচুরিপানা বিছিয়ে ভেলার ওপর কাদামাটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বীজ ফেলা হবে। জুড়ীর কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, একেকটি ভাসমান বীজতলায় এক কেজি অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো যায়। তাতে যে চারা জন্মাবে, তা এক বিঘা জমিতে রোপণ করা সম্ভব। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে বীজতলা তৈরির মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। আর আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু নিচু এলাকার জন্য এবার বিআর-২২ জাতের রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এটি বিলম্ব জাতের। আগস্ট মাসের শেষ দিকে এই জাতের ধানের চারা রোপণ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কুলাউড়ায় ১৯ হাজার হেক্টর, জুড়ীতে ৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর এবং বড়লেখায় ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চ মাসের শেষ দিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন উপজেলায় হাকালুকি হাওরের বোরো ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে আরও দুই দফা টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় বন্যা হয়। এতে কিছু আউশ ধানও নষ্ট হয়ে যায়। কিশোরগঞ্জপ্রতিবছরই কিশোরগঞ্জে আমনের বীজতলা তৈরি নিয়ে দেখা দেয় নানা বিড়ম্বনা। সাধারণত অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যায় জমির পানি না সরলে কিংবা বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় কৃষকদের। দেখা দেয় আমন চারার সংকট। তবে কৃষকদের এ বিড়ম্বনা যেনো শেষ হতে চলেছে। কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে আমন ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি। এতে করে আশার আলো দেখছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জেলার ১০টি উপজেলায় ১৪৬টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। ভাসমান বীজতলায় মৌসুমী শাক-সবজিও চাষ করা যায়। ছবি সংগৃহিত জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে অর্ধেকের বেশি হাওর অধ্যুষিত। কৃষি বিভাগ জানায়, বাড়ির পাশের বদ্ধ ডোবা কিংবা হাওরের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। এসব মাচায় তৈরি করা হয় বীজতলা। এতে বাড়তি কোনো খরচ নেই। বীজতলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই মাচায় সবজি চাষ করা যায়। কয়েকবার সবজি চাষ করার পর মাচার পঁচা কচুরিপানা দিয়ে জমিতে জৈব সার তৈরি করা যায়। ফলে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও সোয়া এক মিটার প্রস্তের একেকটি ভাসমান মাচায় ধানের চারা দিয়ে এক বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করা যাবে। বিনা-৭ ও বিআর-২২ জাতের এসব চারা রোপন করা যাবে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর ও কিশোরগঞ্জ সদরের কয়েকটি এলাকায় এ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। //এআর

হাতিরঝিলে এতিমের নামে টাকা আদায় : বিব্রত পথচারী

রাজধানীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থান হাতিরঝিল। যেখানে সপ্তাহের প্রতিদিন-ই যাতায়াত করেন লাখো মানুষ। কেউ পথচারী, কেউবা বিনোদনের আশায়। এসব আগন্তুকদের ঘিরে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে এতিমের নামে টাকা আদায়কারী কয়েকটি চক্র। চক্রের উৎপাতে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন পথচারী ও বিনোদনপ্রেমিরা। বিরক্ত পথচারীদের কেউ কেউ এটিকে এতিমদের সাহায্যার্থে ভিক্ষাবৃত্তির নামে এক ধরনের ব্যবসা হিসেবে দেখছেন। কেউ সন্দেহ ভরা মনে এড়িয়ে চলছেন। কেউ আবার সাত-পাঁচ না ভেবেই সওয়াবের আশায় কিংবা সম্মান রক্ষায় দানও করছেন। তবে অভিযোগের সুরে অনেকেই বলছেন, রাস্তার মাঝে এভাবে টাকা আদায় বন্ধে সরকার বা প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

১ টাকায় চিকিৎসা দিয়ে শান্তি পান তিনি

‘‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না...ও বন্ধু’’— কালজয়ী এ গানে মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাদী এ সমাজ ব্যবস্থায় সবাই যখন আত্মকেন্দ্রীক তখন প্রখ্যাত শিল্পী ভুপেন হাজারিকার গাওয়া এ গানের আবেদন ক` জনের কাছেই বা গুরুত্ব পায়। তবে সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা ভেবে সবাই যে নিজেকে গুটিয়ে রাখবে তা তো নয়। সমাজে এখনও কিছু মানুষ আছেন, যারা নীরবে-নিভৃতে মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যান। ঠিক তেমনি একজন রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর স্থায়ী বাসিন্দা ডা. আসমা আক্তার। লেখাপড়া করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে। ২০১২ সালে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর ২০১৪ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তার কর্মস্থল ঢাকার মানিকগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ এর অধীনে পরিচালিত ১ টাকার  আহারের  কর্মসূচিতে  স্বেচ্ছাসেবী কর্মী হিসেবে যোগ দেন  ডা. আসমা।  যিনি সেচ্ছায় শ্রম দিতে এসে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমারের দাশের মতো নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসাসেবায়। আর তাই ১ টাকায় গরীব, দুস্থ ও ছিন্নমূল শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠে।    ১ টাকায় চিকিৎসা সেবা নিয়ে  ডা. আসমা মুখোমুখি হয়েছেন ইটিভি অনলাইনের। ইটিভি অনলাইন : কখন থেকে চিকিৎসা সেবা শুরু করলেন? ডা. আসমা : ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ১ টাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করি। ইটিভি অনলাইন : কোন কোন এলাকার মানুষ এক টাকার চিকিৎসা সেবা পান? ডা. আসমা : মিরপুরের রুপনগরের বস্তিতে বসবাসকারী মানুষ, কালসি, মিরপুর সারে ১১, বেদেপল্লী, হরিজন পল্লী, বিহারি পল্লীসহ আশে পাশের দুস্থ মানুষদের এই চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। ইটিভি অনলাইন : আপনার মতো সমাজে বহু চিকিৎসক রয়েছেন, যারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে টাকা উপার্জন  করেন। অথচ, আপনি সেদিকে না গিয়ে  নিজেকে কেন দুস্থ মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিলেন? ডা. আসমা :   দেখুন, দুস্থ মানুষের কথা তেমন কেউই ভাবে না। আমার সুযোগ আছে সেজন্য আমি এই কাজ বেছে নিয়েছি। কীভাবে তৃণমূলের দুস্থ মানুষগুলোকে সুস্থ রাখা যায় সেই চেষ্টাই করছি আমরা। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বলতে পারেন এটাই আমার `প্রাইভেট প্র্যাকটিস’ । ইটিভি অনলাইন : দুস্থ মানুষের সেবা  দিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন ? ডা. আসমা : চাকরির পর অবসরের সবটুকু সময় আমি এক টাকার চিকিৎসা সেবায় দিতে চাই। একাজ করে আমি যে  আনন্দ আমি পাই তা লাখ-কোটি টাকার চেয়ে বেশি। আমি একটা সরকারি চাকরি করি, যা বেতন পাই তাতে তৃপ্ত, এর চেয়ে বেশি টাকার প্রয়োজন বোধ করি না। অন্য সময় লাখ টাকা রোজগারের চাইতে এক টাকায় মানুষের সেবা করাই আমার কাছে পরম তৃপ্তির। এখানেই আমার সাফল্য অনেক বেশি বলে মনে করি।  ইটিভি অনলাইন : আপনার  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শুনতে চাই। ডা. আসমা : দেশের আট জেলায় এবং রাজধানীতে সুবিধা বঞ্চিতদের চিকিৎসা দিয়ে আসছি অনিয়মিতভাবে। আমরা রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখে দিই এবং তিন দিনের ওষুধ রোগীকে বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে, যারা জলে বাস করেন তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার। ইটিভি অনলাইন : আমরা জানি আপনার দেয়া চিকিৎসা সেবা পেয়ে অনেক শিশু, বৃদ্ধা উপকৃত হয়েছেন। তার মধ্য থেকে এমন কি কোনো গল্প আছে যা মনে পড়লে আপনার খুব ভালো লাগে? ডা. আসমা : হ্যাঁ , সে রকম কিছু ঘটনা আছে যা মনে পড়লে ভালো লাগে। একবার বেদে পল্লীর একশিশু জন্ম থেকে মাথায় টিউমার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। অভিভাবকরা অভাবের কারণে শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিতে পারছিলেন না। এক টাকায় চিকিৎসার কথা শুনে শিশুটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। শিশুটিকে দেখার পর তাকে মেডিকেলে ভর্তি করানোর পর থেকে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এছাড়াও,  অন্য একটি ঘটনা বলতে পারি, একজন বয়স্ক নারী যিনি আমাদের একটাকা আহারের নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকরা খেয়াল করেন যে, মহিলাটি আর খাবার নিতে আসছেন না। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তখন তাঁকে আমরা ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে সব ধরণের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করি। এরপর তিনি সুস্থ হলে বয়স্ক মহিলাটিকে আমাদের রাজবাড়ির `পারিজাত ` অনাথ আশ্রমে রাখা হয়। এখনও তিনি সেখানেই আছেন। কেআই/ডব্লিউএন

স্বপ্ন ভঙ্গে থমকে গেল মনোয়ারার জীবন

মনোয়ারা খাতুন। বয়স ২২ পেরিয়েছে। বাড়ি যশোরের চৌগাছায়। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। চরম অর্থ কষ্টের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে, পড়ছে  সম্মান শেষ বর্ষে। এতদিন পর্যন্ত পরিবার খেয়ে না খেয়ে পড়ালেখার খরচ যোগালেও এখন  আর সেটি  সম্ভব হচ্ছে না। পরিবার চাচ্ছে তাকে দ্রুত পাত্রস্থ করতে। তবে পরিবারের সে সিদ্ধান্ত মানতে পারছে না মনোয়ারা। কারণ তার দু’চোখজুড়ে রয়েছে  স্বপ্ন। পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করে স্বাবলম্বী হওয়ার তীব্র বাসনা। একদিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন, অন্যদিকে বাড়ি থেকে বিয়ের তাড়া। তাই  মনোয়ারার সামনে চাকরি খোঁজা ছাড়া বিকল্প নেই।  এরইমধ্যে  সে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আবেদনও করেছে। মনোয়ারা জানান, চাকরির আবেদনের খরচ যোগাতে কলেজে রিক্সার পরিবর্তে পায়ে হেটে যেতে হয় তার। হাত খরচ ও ছোট ছোট  শখগুলো অপূরণীয়ই থেকে যাচ্ছে। এভাবে কিছু টাকা জমায়। যে টাকা দিয়ে শুধুই চাকরির আবেদন করছে। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করে মনোয়ারা। কিন্তু কে জানে সেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিই মনোয়ারার স্বপ্নগুলো এলেমেলো করে দিবে! প্রতারক চক্র বিজ্ঞপ্তির ফাঁদে ফেলে মনোয়ারার তিল তিল করে জমানো শেষ সম্বলটাও হাতিয়ে নিয়েছে। এখন তার লেখা-পড়া শেষ করা, ভাল একটা চাকরি নেয়া এমন কি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সব আশায় গুঁড়ে বালি। স্বপ্ন ভঙ্গে থমকে গেছে তার বড় হওয়ার প্রতিতি। ঘটনার বর্ণনায় চোখেমুখে চরম হাতাশা নিয়ে মনোয়ারা জানায়, বীজ প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার  লক্ষ্যে  স্ব-স্ব উপজেলা ও ইউনিয়নে লোকবল নিয়োগের লক্ষে বিজ্ঞপ্তি দেয় ‘বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন বাস্তবায়নে শিশু বিকাশ কেন্দ্র’। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা  লেখা ছিল-১৬৭, মতিঝিল সার্কুলার রোড, ইডেন বিল্ডিং, চতুর্থ তলা । বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রতিষ্ঠানটিতে অফিস এক্সিকিউটিভ পদে আবেন করে মনোয়ারা। সাক্ষাৎকারের জন্য তাকে ডাকা হয় ১৫ জুলাই। সাক্ষাৎকার শেষে তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির তরফ থেকে। পরে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চাকরি হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়  তাকে। নিরুপায় হয়ে নিজের জমানো সম্বলটুকু চাকরি দাতাদের হাতে তুলে দেয় মনোয়ারা। টাকা দেওয়ার দিনই মেলে স্বপ্নের চাকরির কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র। চাকরি দেওয়ার নাম করে মনোয়ারার কাছ থেকে রসিদ দিয়ে জামানত বাবদ ৩৭৫০ টাকা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। মনোয়ারা জানায়, নিয়োগপত্র পেলেও তার চাকরি মেলেনি আজও। একাধিকবার ফোন দিয়েও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না মনোয়ারা। সবশেষ ‘বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন বাস্তবায়নে শিশু বিকাশ কেন্দ্র’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন চাকরিপ্রার্থী এই তরুণী। কামরুজ্জামান  তাকে আশ্বস্ত করে  বলেন,  আপনার কাজে যোগদান সময়ের ব্যাপার মাত্র। আপনি  ফিল্ড অফিসার পদে কাজ করতে আগ্রহী এমন আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসুন। তাদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ১০ হাজার করে টাকা নিবেন। তা থেকে আপনি ৪ হাজার টাকা করে পাবেন। উত্তরে মনোয়ারা জানতে চায়, ফিল্ড অফিসার খোঁজা তার কাজ না। তখন  থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে খোলা থাকলেও রিসিভ হচ্ছে না। এদিকে মতিঝিলে যে অফিস ছিল সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারা জানায়, এখন বিষয়টি তার কাছে পরিস্কার যে, সে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়েছে। তাদের কয়েকজন কয়েকদিন আগে পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। এদিকে অভিযোগের সত্যতা জানতে কথিত ওই চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামানের সঙ্গে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন। শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কিনা এ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রিমান্ড শেষে তাদের জামিনও হয়েছে। এখন মামলাটি বিচারাধীন আছে। আমরা আাইনিভাবে এটি মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি। অফিস ও শাখা না খুলে সারাদেশে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নিয়োগ দিয়েছি। আরও দিচ্ছি। ঢাকাসহ সারাদেশে শাখা খোলা হবে বলেই এসব নিয়োগ। কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ৪ আগস্ট সেটি ফের খোলা হবে বলে জানান কামরুজ্জামান। তবে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে চাইলে কামরুজ্জামান কিছুটা সময় নিয়ে ভীত কণ্ঠে জবাব দেন। না, না, আমি ব্যবস্থাপনা পরিচালক নই, আমি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু মনোয়ারা নয়, এভাবেই বহু চাকরিপ্রার্থীর সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে স্বপ্ন ভঙ্গ করছে শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মত ঢাকার বেশ কয়েকটি এনজিও নামধারী প্রতারক চক্র। বেকারদের চাকরি দেয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। পরে তারা কার্যালয় গুটিয়ে লাপাত্তা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতারক চক্র রাজধানীসহ এর  আশপাশের এলাকা  বিশেষ করে টঙ্গী ও গাজীপুরে কাজ করছে। রাজধানীতে থাকা এ ধরনের একটি চক্রের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রতারক দম্পত্তিও রয়েছে। এরই মধ্যে এ চক্রের দুই নারীসহ পাঁচ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, চাকরির প্রতারক চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক এনজিওর নাম ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর গুটিয়ে নেয় অফিস। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ২০৯০টি পদে নিয়োগের জন্য ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ধরা পড়া প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য পুলিশকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। দ্বীপক কুমার দেব নামে এক চাকরি প্রার্থীর মামলা এবং ২০-২৫ জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্র্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল তাদের মতিঝিল থেকে গ্রেফতার করে। তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল আহসান খান। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হলো- মাহবুবুর রহমান, সুজিত কুমার ঘোষ, রোকসানা আক্তার,  রবিন ও মায়া রানী রায়। প্রতারক চক্রের এ ধরনের চটকদার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ফাঁদে ফেলছে চাকরি প্রার্থীদের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, সর্বশেষ যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পত্রিকায় প্রকাশ করেছিল তার মাধ্যমে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গ্রেফতার ব্যাক্তিরা জানায়, অফিস নেয়ার পর তারা ওই অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। ১৪ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সাতটি পদে দুই হাজারের বেশি জনবল নিয়োগের কথা বলা হয়।  এসব পদের মধ্যে জেলা প্রোগ্রাম অফিসার পদে ৪০, উপজেলা প্রোগ্রামার ১৫০, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ২৫০, অফিস এক্সিকিউটিভ (নারী) ৩০০, ব্লক সুপারভাইজার ৩৫০, ইউনিয়ন সুপারভাইজার ৪০০ এবং ফিল্ড অফিসার ৬০০। এর আগে একই ধরনের পদে ৭২০ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এক মাসের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে ট্রেনিংয়ের নামে জনপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। এরপরই চাকরি প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেয়া হয়। নিয়োগপত্রে যোগদানের তারিখ দেয়া ২-৩ মাস সময় হাতে রেখে। ওই সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া চাকরি প্রার্থীদের কাছে আরও লোকবল চাওয়া হয়। তারা যেসব লোকবল এনে দেয় তাদের কাছ থেকেও একই কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি । এরপর তারা (প্রতারক) অফিস গুটিয়ে চম্পট দেয়। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তাদের চক্রের প্রধানের নাম জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। আকাশ হল গ্রেফতার রোকসানা আক্তারের স্বামী। স্বামীর সাজানো অফিসে রোকসানা রিসিপশনিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। এ বিষয়ে মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে জানান, এ চক্রের সদস্যরা অনেক দিন ধরে প্রতারণা করলেও ইডেন ভবনে তারা মাস দুয়েক আগে অফিস নেয়। এরই মধ্যে তারা ৬০-৭০ চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  চক্রের ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ চক্রের প্রধান আকাশকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান গোলাম রব্বানী।

অনুমোদন না থাকলেও অনেকের স্বস্তি ‘পাঠাও’

অনুমোদন না থাকলেও গণপরিবহনের ভোগান্তি থেকে রাজধানীবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ‘পাঠাও’ মোটরসাইকেল সেবা। অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় এবং কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ‘পাঠাও’ সেবা অনেকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ঢাকা মেটোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং বিটিআরসি বলছে এদের কোনো অনুমোদন নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীতে আড়ালে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘পাঠাও’ সেবা। যাত্রীদের অধিকাংশই চাকুরিজীবী। তবে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদেরও যাত্রী হিসেবে পান ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীরা। অন্য পেশার লোকজনের কাছে এ সেবার খবর এখনও সেভাবে পৌঁছায়নি। পুরুষের পাশাপাশি রয়েছেন নারী যাত্রীরাও। ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষিত বেকার। কেউ পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি খুঁজছেন, কেউবা মোটরসাইকেলে ঘুরতে ঘুরতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করছেন। তবে বাড়তি আয়ের এই পথ তাদের অনেকটা দুঃশ্চিন্তামুক্ত রেখেছে। বেকার জীবনে ‘পাঠাও’ সেবা তাদের কাছে অনেকটা আশীর্বাদের মতোই। ‘পাঠাও’ সেবা প্রদানকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতে তারা হীনমন্যতায় ভোগেন না। বরং যাত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই হয়। অনেক যাত্রী ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীদের কিছুটা হেয় প্রতিপন্ন করলেও তাদের সংখ্যা নগণ্য। বরং কম ভাড়ায় দ্রুত গন্তব্যস্থলে যেতে পেরে যাত্রীরা খুশি। আর যা ভাড়া পান তাতে বেশ চলে ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীদের। তাইতো যতদিন জজকোর্টে প্রাকটিস করার লাইসেন্স না পান ততদিন ‘পাঠাও’ সেবা দিয়ে যেতে চান ইহসানুল করিম। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। মাঝে মাঝে মোটরসাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। ট্রাফিক বিভাগ কিংবা বিটিআরসির অনুমোদন না থাকা সস্ত্বেও কেন এমন বেআইনী কাজ? ইহসানুল করিমের সহজ উত্তর, ‘ভাই প্রয়োজন আইন মানে না’। সাধারণত সকাল আর বিকেলে যাত্রী থাকে বেশি। দুপুর সময় তুলনামূলক কম। তাই বিকেলে বের হন ইহসানুল করিম। ‘পাঠাও’ সেবা প্রদানকারী আরো অনেকের মন্তব্য একই রকম। তাদের কাছে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি বিশেষ করে ছিনতাইকারী কিংবা অপরাধচক্রের ফাঁদ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এরকম কোনো সুযোগ নেই বলে তারা জানান। তাদের মতে, ‘পাঠাও’ অ্যাপসে রেজিষ্ট্রেশন করতে সেবা প্রদানকারীকে নাম, ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ফোন নাম্বার, মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার সব তথ্য দিতে হয়। অন্যদিকে সেবা গ্রহণকারীকেরও সব তথ্য দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়। কারো বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তা অ্যাপসের মাধ্যমে জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযাগ পেলে ‘পাঠাও’য়ের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিএনজি অটোরিক্সাওয়ালাদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডা ভালো লাগে না সিনিয়র সাংবাদিক আতিক রহমান পূর্ণিয়ার। তাইতো তিনি ‘পাঠাও’ সেবা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। ভাড়ার বিষয়টি অ্যাপসে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে বলে জানান তিনি। কোথা থেকে কোথা যাওয়া হবে সে তথ্য অ্যাপসে দিলেই মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভাড়া উঠে যায়। ফলে এ নিয়ে কারো মধ্যে বিতণ্ডা হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান ওই সাংবাদিক। তবে সব আলোর নীচে রয়েছে আঁধার। সম্প্রতি এক নারী যাত্রীকে বিরক্ত করার কারণে ‘পাঠাও’য়ের এক চালককে বরখাস্ত (ব্যানড) করা হয়। ফেসবুক পেজ ঘেটে দেখা যায়, ‘পাঠাও’ রাইডারদের সাধারণ একটি অভিযোগ হলো মোট ভাড়ার ২০ শতাংশ চার্জ হিসেবে ‘পাঠাও’ কেটে নেয়। ফলে যেসব মোটরবাইকের মাইলেজ কম তারা স্বভাবতই চার্জের এই হারে অখুশি। এক্ষেত্রে আমার মতো অনেক যাত্রীকেই রাইডারদের একটি কন্ডিশনের কথা শুনতে হয়। সেটা হলো, পাঠাও অ্যাপসের বদলে কন্ট্রাক্ট বেসিস যেতে হবে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে অন্য রাইডার খুঁজতে বলেন। এছাড়া অনেক চালক মাঝে মাঝে চাতুরিরও আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রী উঠানোর পূর্বমুহূর্তে অনেক চালক বলেন, তার মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা বা চার্জ শেষ প্রায়। তাই যে ভাড়াটি অ্যাপসে প্রথমে শো করে সেটি থেকে ১০/২০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। অনেক চালক দেড় দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীকে জানান তিনি ভুলবশত: অ্যাপস চালু করেননি অথবা মোবাইল হ্যাং করেছে। ফলে ভাড়া নিয়ে কিছুটা ঝামেলা করতে চান তিনি। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঢু মেরে দেখা গেল সেখানে রয়েছে ‘পাঠাও’ সেবা প্রদানকারী এবং গ্রাহকদের কয়েকটি গ্রুপ। গ্রুপে অনেকে মন্তব্য করেছেন পক্ষে বিপক্ষে। অনেকে দীর্ঘক্ষণেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আবার অনেকে কীভাবে কি করতে হবে জানতে চেয়েছেন। ‘পাঠাও’ সেবার ব্যাপারে তেমন কিছু অবহিত নন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ পশ্চিমের উপকমিশনার লিটন কুমার সাহা। তার মতে, এ ধরণের অভিযোগ তার দফতরে নেই। আর তার এলাকায় ‘পাঠাও’ কার্যক্রম নেই বলে জানালেন তিনি। তবে ট্রাফিক দক্ষিণের ডিসি রিফাত রহমান শামীম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা যখনি ‘পাঠাও’ মোটরসাইকেল ড্রাইভার পাচ্ছি মামলা দিচ্ছি। তার অঞ্চলের ট্রাফিক কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সজাগ আছে বলে জানান তিনি। এ পর্যন্ত কতটা মামলা দেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে পরিসংখ্যান হাতে নেই বলে ইটিভি অনলাইনকে জানান। ‘পাঠাও’ সেবাকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানান বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইটিভি অনলাইনকে জানান তিনি। ডব্লিউএন    

বিলুপ্তির পথে চাঁপাইয়ের মৃৎশিল্প

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মৃৎশিল্প নানামুখী সংকটে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। ফলে এর উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকে এই পেশায় থাকলেও সংসার চালাতে পারছেন না। অভাবের তাড়নায় নিত্য সময় কাটাচ্ছেন। কুমার সম্প্রদায়ের কোনো কোনো ঘরে চুলো জ্বলে না। একবেলা আধবেলা খেয়ে দিনানিপাত করছেন মৃৎশিল্পীরা। এক সময়ের কর্মব্যস্ত কুমারপাড়ায়  এখন শুনসান নিরবতা। মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্পটি এখন বিলুপ্তির পথে। এমনকি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে পুরো পাল সম্প্রদায়। দিন দিন আধুনিক জিনিসপত্রের ভীড়ে বিলিন হতে বসেছে বাঙালি জীবনের হাজার বছরের ঐতিহ্য বহনকারী মাটির তৈরী তৈজস সামগ্রী।   স্টিল, চিনামাটি, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাজারে আসার পর মানুষ আর মাটির তৈরি হাঁড়ি, থালা, গ্লাস, মসলাবাটার পাত্র, মাটির ব্যাংক ও খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি ব্যবহার করছেন না। এখন শুধু গবাদিপশুর খাবারের জন্য গামলা, কলস ও হিন্দুদের পূজা-পার্বণের জন্য নির্মিত কিছু সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ অবশ্য এখনও দৈনন্দিন প্রয়োজনে কিছু মাটির তৈরি পাত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্রের বাজার চাহিদা তেমন একটা নেই বললেই চলে। ফলে কুমার সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া কুমার পাড়া,নতুন বাজার, চুনারিপাড়া ও রাজারামপুর কুমার পাড়ার প্রায় ৩ শ’ পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত। মহানন্দা নদী থেকে মাটি সংগ্রহ করে ছোট বড় সবাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে রকমারি সামগ্রী তৈরির কাজে সারাদিনই ব্যস্ত থাকতেন মৃৎ শিল্পিরা। তবে কিছু দিনের ব্যাবধানে প্রায় ৫০ টি পরিবার এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। বারোঘরিয়া নতুন বাজারের কুমার ভিকু পাল বলেন, যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা মাটির জিনিস তৈরি করে আসছি। এ পেশার সঙ্গে আমরা জড়িত থাকলেও আমাদের উন্নয়নে বা আর্থিক সহায়তায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বিভিন্ন এনজিও বা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বাপ-দাদার আমলের স্মৃতিকে কোনোরকম ধরে আছি। তিনি বলেন, সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিত, তাহলে এই শিল্পকে উন্নয়নের পাশাপাশি আরও সমৃদ্ধ করা যেত। বারোঘরিয়া কুমার পাড়ার কুমার শিল্পি নিলু রানী পাল ও একই এলাকার সোনা পাল জনান, মহানন্দা নদী থেকে এক সময় মাটি সংগ্রহ করা গেলেও এখন মাটি ক্রয় করতে হয়। এছাড়া জালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। অন্যদিকে দিন দিন মাটির জিনিসের চাহিদা কমতে থাকায় এখন আমাদের এ পেশায় থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বংশীয় রীতি মতে এ পেশায় থাকলেও নতুন প্রজন্মের ছেলে- মেয়েরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যুক্ত হচ্ছে ভিন্ন পেশায়। আরকে/এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি