ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২৪:০৩

বেশি লাশের ঠাঁই আজিমপুর গোরস্থানে

পর্ব-৬

বেশি লাশের ঠাঁই আজিমপুর গোরস্থানে

রাজধানীর দুই সিটিতে বর্তমানে ৮টি কবরস্থানে প্রতিদিন সরকারিভাবে ৯০ থেকে ১১০ জনের লাশ দাফন করা হচ্ছে। এ হিসেবে বছরে সরকারিভাবে প্রায় ৩৬ হাজার লাশ দাফন করা হচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ওই কবরস্থানগুলোতে। ঢাকাতে সরকারিভাবে ৮টি কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির দাফনের ব্যবস্থা থাকলেও সবচেয়ে বেশি লাশ দাফন হচ্ছে আজিমপুর কবরস্থানে।
ভার্চুয়াল ভাইরাসের আসক্তিতে বিপর্যয়

পৃথিবীর তিন ভাগ মানুষের এক ভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত। অভ্যস্ততার এই অবস্থা অনেক সময়ই পৌঁছে যাচ্ছে আসক্তির পর্যায়ে। আর এর একটা ব্যাপক প্রভাব পরছে সমাজে; আমাদের ব্যক্তি জীবনে। গবেষকরা এই ভার্চুয়াল আসক্তিকে বলছেন ‘ভার্চুয়াল ভাইরাস’। আসক্তির দিক থেকে একজন মাদকাসক্ত আর একজন অনলাইন আসক্ত ব্যক্তির মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ডিজিটাল কোকেন অনলাইন আসক্তিকে মনবিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘ডিজিটাল কোকেন’। নতুন কোন নোটিফিকেশন, চ্যাট মেসেজ অথবা মেইলের জন্য একটু পর পরই অনলাইনে ঢু মারছেন এই কোকেনে আসক্ত ব্যক্তিরা। ফেসবুক যারা ব্যবহার করেন তাদের অনেকেই বলেছেন একটু পর পর তাদের ফেসবুকে ঢুকে দেখতে ইচ্ছে করে নতুন কোন নোটিফিকেশন আসল কী না? আর একবার ঢুকলে কীভাবে যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায় তা যেন তারা টেরই পান না! ব্রেইন স্ক্যান ফলাফলে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি আর অনলাইন আসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক মিল দেখা যায়। তাদের মধ্যে মস্তিষ্কের একই রকমের ছবি দেখা গেছে। দুদলের মানুষেরই মস্তিষ্কের সামনের দিকের হোয়াইট ম্যাটারগুলো ক্ষয়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায় ব্রেইন স্ক্যানে। মানুষের আবেগ, মনযোগ আর সিদ্ধান্তগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেইনের এই হোয়াইট ম্যাটার অংশ। আর তা ক্ষয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে এই ক্ষমতাগুলোই দিন দিন কমে যাচ্ছে। কাজেই সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার আমাদের আবেগকে ভারসাম্যহীন করতে পারে। নষ্ট করতে পারে আমাদের মনযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যকে। মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে এক ধরণের কেমিক্যাল নিঃসরণ ঘটে প্রতি মুহুর্তে। কিন্তু হঠাৎ যদি এমন কিছু ঘটে যা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো তখন আকস্মিকভাবে বেড়ে যায় এই ডোপামিনের প্রবাহ এবং ভালোলাগাকে আরও বাড়াতে ব্রেইন তখন ঐ কারণটাকেই বাড়াতে বলে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই ডোপামিন এবং ভাললাগার সাময়িক এই অনুভূতিকে ক্রমাগত বাড়াতে চাওয়া; এটার নামই আসক্তি। মুঠোফোন এবং ইন্টারনেট আসক্তি নিয়ে শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “সত্যিকারের মাদকাসক্তির সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক আসক্তির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।” মনযোগের ক্ষমতা নষ্ট কেউ কেউ মনে করেন কাজের মাঝে একটু পর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢু দিলে দক্ষ মাল্টি টাস্কার হয়ে ওঠা যায়। ধারণাটি সম্পূর্ণরুপে ভুল। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিকশন আর মাল্টি টাস্কিং দুটি দুই জিনিস। গবেষণায় দেখা গেছে, খুব বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে যে মানুষেরা, একাধিক কাজে দক্ষতা তাদের অন্যদের চেয়ে কম। বরং তাদের মনযোগ এত বেশি বিক্ষিপ্ত যে এর ফলে তাদের স্মৃতিশক্তিও লোপ পাচ্ছে অন্যদের চেয়ে দ্রুত। ফ্যান্টম ভাইব্রেশন মাঝে মাঝে আমাদের মনে হয় যে, আমাদের সাথে থাকা মুঠোফোনটি হয়তো বেজে উঠল। অথবা পকেটে থেকে ভাইব্রেশন দিল। কিন্তু মুঠোফোনটি হাতে নেওয়ার পর দেখা গেল আদতে কোন ফোন আসেনি। তবে এই রকম মনে হওয়াকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ফ্যান্টম ভাইব্রেশন। আর যারা এধরনের অনুভূতি অনুভব করেন তারা এই ফ্যান্টম ভাইব্রেশন অথবা ভৌতিক কল সিনড্রোমে আসক্ত। গবেষকেরা এর কারণ হিসেবে বলছেন, অধিক সময়ে মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহার মস্তিষ্কের ভেতরে যে হেলোসিনেশন তৈরি করেছে তাই এই ফ্যান্টম ভাইব্রেশন অনুভূতির কারণ। একটা জরিপে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের যত জন ছাত্রছাত্রীকে এই অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছে তাদের ৯০ শতাংশেরই এই ফ্যান্টম ভাইব্রেশনের অভিজ্ঞতা হয়েছে।    স্মার্টফোন আমাদের এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, একটু পর পর নিজের অজান্তেই মোবাইল হাতে তুলে নেই দেখার জন্য যে কেউ এসএমএস দিল বা মেইল করল কী না? বা সোশ্যাল মিডিয়াতে নতুন কিছু এল কী না? আত্মকেন্দ্রিকতা শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তবতা যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই আমাদেরকে অসামাজিকই করে তুলছে।  অন্তত গবেষকদের ধারণা এমনই। আমাদেরকে করছে বিচ্ছিন্ন আর স্বার্থপর। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষের সাথে কথা বলে তখন ৩০ থেকে ৪০ ভাগ নিজের বিষয়ে কথা বলে। কিন্তু একজন মানুষ যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলে তখন ৮০ ভাগ সময়ই নিজের ব্যাপারে কথা বলে। এ বিষয়ে মনবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবাই কম বেশি সেলফি তুলি। সামাজিক মেলবন্ধনে এর দরকারও আছে। কিন্তু তা যখন অসচেতন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে করা হয় তখন তা এক ধরনের মানসিক রোগ। এ ধরনের মাত্রাতিরিক্ত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সেলফি তোলার রোগের নাম হচ্ছে-স্যালিফাইটিস”। আর এ ধরণের সেলফি তোলার প্রবণতা থাকা ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয় বলে মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, “মূলত আমাদের মধ্যে অনেকেই আমরা আত্মপ্রেম বা আত্মতুষ্টিতে ভুগি। আমরা যেখানেই থাকি না কেন সেখানেই নিজেকে বড় করে উপস্থাপন করতে চাই। এতে আশপাশের মানুষেরা কে কী ভাবল অথবা তাদের ওপর কী প্রভাব পরল তা আমলে নেই না। আমরা বুঝে উঠতে পারি না যে কোথায় কখন কী করা যায় আর যায় না। এ ধরনের মানসিকতার যারা আছেন তাদের মধ্যেই এমন সেলফি তোলার প্রবণতা বেশি”। স্বপ্নভঙ্গ আমরা প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিচয়, তা থেকে প্রেম বা পরিণয়ের কথা শুনি। কিন্তু এদের একটি বড় অংশই সম্পর্কটা আর টিকিয়ে রাখতে পারে না স্বপ্নভঙ্গের কারণে। কারণ ভার্চুয়াল জগতের মানুষ আর রক্তমাংসের মানুষ বেশিরভাগ সময়ই এক হয় না। অনলাইনে যে তরুণকে অসাধারণ প্রেমিক পুরুষ মনে হয়েছিল বাস্তবে তাকে বদমেজাজী, হিংসুটে সঙ্গী হিসেবে আবিষ্কার করা খুব বিচিত্র কিছু নয়। তেমনি অপসারদের মত দেখতে ফেসবুকের আকর্ষণীয় তরুণীটিও যে বাস্তবে এমন হবে তা কে নিশ্চয়তা দিতে পারে? শুধু প্রেম-ভালবাসাই নয় বরং পরকীয়া অথবা পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি হওয়ার মত অসামাজিক কার্যকলাপের অন্যতম মূল কারণ এই সাইবার জগত। মনবিজ্ঞানী ড. মোহিত কামাল বলেন, “একটু গভীরে গেলে আমরা দেখতে পাব যে, একটি ছেলে একসঙ্গে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমে লিপ্ত। আবার একটি মেয়েও একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমে জড়িত। বিবাহিতরাও এমন করছেন। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন। এ বিষয়গুলো কেন হচ্ছে? এ বিষয়গুলো হচ্ছেই আমাদের অসতর্ক এবং অসচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে”। সাইবার বুলিং অনলাইনে ঢুকে গালিগালাজ, অশ্লীল ভাষা বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও হুমকি পেয়েছেন এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেছেন অথবা অনলাইনে গেম খেলেছেন এমন শতকরা ৭৯ জন মানুষই সাইবার বুলিং এর শিকার হয়েছেন। এবং এদের একটা বড় অংশই কম বয়সী শিশু কিশোরেরা; যাদের জীবনে এর অনেক বিরুপ প্রভাব পরেছে। যৌন হয়রানি, অর্থনাস, সম্মানহানি এমনকি আত্মহত্যায় বাধ্য হওয়ার মতও ঘটনাও ঘটছে কারও কারও ক্ষেত্রে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে ঘটে যাওয়া এসব অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের আওতাধীন সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ইউনিটের প্রধান উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান ইটিভি অনলাইনকে জানান, গত বছর ২০১৭-তে শধু এক ঢাকা মহানগরীতেই আইসিটি অ্যাক্ট এবং পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টের আওতায় মামলা হয়েছে প্রায় ২৪৬টি। এদের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ডিভিশনের কাছে ৭৬টি মামলার তদন্তভার আসে। চার্জশিট এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে মোট ২৪টি মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে পুলিশের এ বিশেষায়িত এ বিভাগ। তবে বাস্তবে সাইবার অপরাধের সংখ্যা আরও অনেক বেশি যার বেশিরভাগই আইনী আওতার বাইরে থেকে যায়। উপ-কমিশনার আলিমুজ্জামান বলেন, ‘যেহেতু এ বিষয়গুলো অনেক স্পর্শকাতর তাই অনেক সময়ই ভুক্তভোগী থানা-পুলিশে যেতে চান না। আবার অনেকে প্রাথমিক পর্যায়ে আইনের সাহায্য নিলেও পরবর্তীতে তার থেকে আর কোন সাড়া পাওয়া যায় না। যে কারণে তথ্য-প্রমাণের অভাবে অনেক সময়ই তদন্তের ফলাফল আসামির দিকে যায়”। বিশেষজ্ঞদের মতামতা এবং এসব পরিসংখ্যান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা পুরো ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত এবং অসচেতন ব্যবহারের ভয়াবহতা অনুমান করা যায়। অতএব, তথাকথিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের দেহেরর সুস্থতা, মনের সুস্থিরতা আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে।   এসএইচএস/টিকে

মৃত ব্যক্তির হাড় নিয়েও বাণিজ্য

সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর। যাকে এক শব্দে বলা হয় কবর। রাজধানীতে মানুষের এই শেষ আশ্রয়স্থল ঘিরেও বেপরোয়া দুর্নীতি, অনিয়ম ও বাণিজ্য চালাচ্ছেন কবরস্থানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এর সাথে জড়িত আছে দুই সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তারাও। কবরস্থানে জায়গা সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ রাখেছে। তবে অস্থায়ীভাবে দুই বছরের জন্য কবরের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত স্থানে নতুন কবর দেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কবরের বয়স তিন-চার মাস পার না হতেই ওই কবর ভেঙে নতুন কবর দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। অভিযোগ আছে, পুরনো কবর থেকে কঙ্কাল বা হাড়গোড় বিক্রি করে দেওয়ারও। আর এই কাজগুলো করছে কবরকেন্দ্রিক গড়ে উঠা সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু কিছু হাড় পুরনো কবরে রাখা হলেও বেশিরভাগ হাড় চলে যায় কবরস্থানের বাইরে। কবরস্থানের স্টাফ পরিচয় দেওয়া সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব হাড় একটি, দু’টি করে কবরস্থান থেকে বের করে। এভাবে ধীরে ধীরে মৃত ব্যক্তির পুরো হাড় নিয়ে তা জোড়া লাগিয়ে কঙ্কাল তৈরি করা হয়। নানা হাত ঘুরে এসব হাড় বা কঙ্কাল আকারে উচ্চমূল্যে চলে যায় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে। এমনকি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অদৃশ্য কঙ্কলের  হাট বসে। মেডিকেল কলেজগুলোতে এনাটমি বিভাগে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরপরই এ লাশের হাটের সূচনা হয়। ক্রেতার চাহিদা অনুসারে বিক্রেতারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লাশের হাটের স্থান ও ক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের অধীনে মোট ৮টি কবরস্থান ছাড়াও হিন্দুদের জন্য দু’টি শ্মশানঘাট রয়েছে। সরেজমিনে আজিজুপর কবরস্থানে গিয়ে কথা হয় বাবার কবর জিয়ারত করতে আসা ঝিগাতলার বাসিন্দা আয়েশার সঙ্গে। তিনি একুশে টিভি অনলাইনকে  জানান, দুই দিন আগে তিনি একটি কবরের পাশে কিছু মৃতব্যক্তির হাড় পড়ে থাকতে দেখেন। দুই দিন পরে এসে সেই হাড় আর চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে মৃতব্যক্তির হাড়শুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী কাছে বিক্রি করা হয়। অনেকেই পরিচ্ছন্নকর্মী নাম দিয়ে, পরিষ্কারের নাম করে হাড়গোড় চুরি করে বিক্রি করে। কবরস্থানগুলোতে চলে মাদক সেবনও।   এব্যাপারে জানতে চাইলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর বাবা  একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, শিক্ষার্থীর চাহিদার তুলনাই প্রয়োজনীয় কঙ্কালের অভাব রয়েছে। ফলে একটি চক্রের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে এগুলো কিনতে হচ্ছে। তার মেয়ের জন্য ৩৫ হাজার টাকায় একটি কঙ্কল কিনতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর সারাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। আর এসব শিক্ষার্থীর জন্য সাড়ে ৩ হাজার কঙ্কাল প্রয়োজন হয়। এ কঙ্কাল সংগ্রহ করা হচ্ছে রাজধানীর ৮টি করবস্থানসহ বিভিন্ন মেডিক্যালের বেওয়ারিশ লাশ থেকে। এবিষয় জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমাজ কল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা লুৎফর রহমান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, করবস্থানের জায়গা সংকটের কারণে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। অস্থায়ীভাবে দুই বছরের জন্য কবর বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের সময় শেষ হলে দুই বছর পর আবার নতুন কবর দেওয়া হয়। কিন্তু মৃতব্যক্তির হাড় বিক্রির মতো তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নি। যদি তেমন কোনো অভিযোগ আসে তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। টিকে

কবর নিরাত্তার নামে চাঁদাবাজি

রাজধানীতে কবর নিরাপদ রাখতে স্বজনদের গুণতে হয় মাসিক চাঁদা। সিটি কর্পোরেশনের আইন অনুযায়ী, কাউকে কবর দেওয়ার দু’বছরের মধ্যে কবরটিতে নতুন কোনো মৃত ব্যক্তির সৎকার করা যাবে না। তবে, সিটি কর্পোরেশনের আইন অমান্য করে একটি অসাধু চক্র ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছে।  স্বজনদের অভিযোগ, কবর সংরক্ষণ রাখতে তাঁদের প্রতি মাসেই কমপক্ষে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়।  শুধু তাই নয়, কবরের জায়গা পেতেও তাঁদের গুণতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। সিটি কর্পোরেশনের আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই, মৃত ব্যক্তির স্বজনরা ওই চক্রকে মাসিক চাঁদা না দিলে কবর দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ওই কবরেই নতুন কবর দেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়েই প্রতিমাসে চাঁদা দিচ্ছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। তাদের এমনই একজন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা আছিয়া আক্তার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টার দিকে মিরপুর কবরস্থানে তার স্বামীর কবর জিয়ারত করতে আসেন তিনি। আছিয়া জানান, ১ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এই কবরস্থানে তার স্বামীকে কবর দেওয়ার খরচ বাবদ গুণতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা। এই টাকা কবর দেখ ভালের কাজে নিয়োজিত লোকেরা তার কাছ থেকে নেয় বলে অভিযোগও করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, কবরের চারপাশে বেড়া দিয়ে কবরটি সংরক্ষণ করতে ওই গোরখোরদের আরও ৬ হাজার টাকা দিয়ে হয়। এ ছাড়া কবরের মাটি ভরাট ও সাজসজ্জার জন্য দিতে হয় আরও ১ হাজার টাকা। আছিয়া এই প্রতিবেদকে বলেন, “ওইসব টাকা দেওয়ার পরেও প্রতিমাসেই আমাকে আরও  ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। তারা (দালালচক্র) আমাকে হুমকি দিয়ে বলে যদি প্রতিমাসে টাকা না দেই তাহলে আমার স্বামীর কবর ভেঙ্গে দিয়ে এখানে নতুন কবর দিবে। তাই আমার স্বামীর কবরটা সংরক্ষণ করতে প্রতিমাসে প্রতিমাসে তাদেরকে টাকা দেই “ আছিয়ার সঙ্গে কবরস্থানে আসা তার সন্তান রাসেল বলেন, কবরস্থানের যারা কাজ করেন তাদের খুশি (টাকা দিয়ে) না রাখলে বেশিদিন কবর থাকে না। তাদের খুশি রাখলে কবরে সাইনবোর্ড থাকে, কবরের ওপর সবুজ ঘাস ও পাশে ফুলগাছ লাগিয়ে নিয়মিত পানি দেয়। আর টাকা না দিলে কয়েক মাসের ব্যবধানেই কবর ভেঙে যায়। সেখানে নতুন কবর দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করলে সহজে চিহ্নিত করা যায়, এমন ভালো জায়গায় বরাদ্দ দেওয়া হয়।   মিরপুর কবরস্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থান জিয়ারত করতে আসা বেশ কয়েকজন মানুষ গোরখোদকসহ অন্যদের (দালালচক্র) হাতে টাকা দিয়ে কবরটা ঠিকঠাক রাখতে অনুরোধ করছেন। মধ্য বয়সের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনা যায়, এখন পকেটের অবস্থা বেশি ভালো না। এখন ৪০০ টাকা রাখেন। আগামী মাসে বেশি করে দিবো। এদিকে টাকা পেয়েই কবরের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করে দেন গোরখোদকরা। এ বিষয়ে মিরপুর কবরস্থান গোরখোদার কাজ করেন ওহাব আলী। এভাবে মৃতব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা  নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কারো কাছ থেকে জোর করে কোনো টাকা নেই না। মৃত ব্যক্তির পরিবার খুশি হয়ে যা দেন, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তবে কবরের সৌন্দর্য-বর্ধন, সংরক্ষণ বা মৃত ব্যক্তির সৎকারের বিনিময়ে নেওয়া অর্থকে কোনোভাবেই পারিশ্রমিক বলতে চান না ওহাব আলী। তাঁর ভাষ্য, আমরা অন্য কোনো কাজ করলে টাকা পেতাম। কিন্তু সেখানে কাজ না করে মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছি। এবিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন ইটিভি অনলাইনকে বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী অস্থায়ী কবর দুই বছর রাখার বিধান রয়েছে। এবং দাফন বাবদ ৭ শত টাকা দিতে হয় স্বজনদের। আর নিয়ম অনুযায়ী কবর সংরক্ষণ করে সিটি করপোশনের কর্মীরা। তাদেরকে বাড়তি কোনো টাকা দেওয়া বিধান নেই। টাকা নিয়ে কবর রাখা বা ভেঙে ফেলার এমন কোনো অভিযোগ তার কাছে আসেনি বলেও জানান তিনি। কবরের বেড়া লাগাতে এককালীন ৬ হাজার টাকা নেওয়া ব্যাপারে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়োগকৃত কর্মী এমন কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, গোরস্থানের দাফনকৃত কবরের ওপর কোন প্রকার বাশেঁর খুটি না দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি চলতি মাসের মধ্যে করবস্থানের সৌন্দর্য্য বর্ধন, ঝোপঝার ও আগাছা পরিস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। এমজে/টিকে

দিন দিন বাড়ছে মোটর সাইকেল বিক্রি

প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস রাজধানী ঢাকায়। পুরো দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটিরও বেশি। আর বিশাল এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুই চাকার বাহন মোটর সাইকেল। বিশেষ করে ছাত্র এবং তরুণ সমাজের মধ্যে এই বাহটির কদর সবচেয়ে বেশি। আর এর ফলে বাড়ছে মোটর সাইকেল বিক্রির পরিমাণও। বাজার পরিসংখ্যাণ বিগত বছরগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সব থেকে বেশি মোটর সাইকেল বিক্রি হয় ২০১৭ সালে। বাংলাদেশের বাজারে থাকা দেশি বিদেশী প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান গত বছরে প্রায় পৌনে চার লাখ মোটর সাইকেল বিক্রি করে। ২০১৬ সালের থেকে যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। মোটর সাইকেল ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এত পরিমাণ মোটর সাইকেল বিক্রি আগের আর কোনো বছরে হয় নি। চলতি বছরে ছাড়িয়ে যেতে পারে এই রেকর্ডও। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি বছরে দেশের মোটর সাইকেল ইন্ডাস্ট্রি সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। মোটর সাইকেল ইন্ডাস্ট্রির তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে। ইঞ্জিন সক্ষমতার বিবেচনায় সব থেকে বেশি বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১১০ সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি সম্পন্ন মোটর সাইকেল। এরপরেই আছে ১৫০ সিসির মোটর বাইকগুলো। তবে মোট বিক্রি হওয়া মোটর সাইকেলের মধ্যে অর্ধেকই হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ সিসির মোটর সাইকেল। এগুলোর বাজার দর ১২৫ বা ১৫০ সিসির বাইকের থেকে কম হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে এর চাহিদা বেশি। দেশে মোটর সাইকেলের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে মূলত ভারত থেকে আনা বাইকগুলো। বাজাজ, টিভিএস, ইয়ামাহা, হিরো, হোন্ডা, সুজুকি এবং মাহিন্দ্রা  ভারতীয় বাইকগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মধ্যে ইয়ামাহা, হোন্ডা ও সুজুকির মূল সত্ত্বাধিকারী জাপানের। এর বাইরে আছে কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানও। ডায়াং, জংশেন, হিরো পাওয়ার এদের মধ্যে অন্যতম। দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে যমুনা এবং রানার। তবে ওয়ালটন দেশের প্রথম মোটর সাইকেল প্রস্তুত করলেও এখন তারা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানগুলো বাইরে থেকে মোটর সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে দেশে সংযোজন করছেন। সম্প্রতি রানার অটোমোবাইলস নিজেরাই মোটর সাইকেলের কিছু যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করছে। দেশের বাজারের মাত্র ১০ শতাংশ দখল করে আছে দেশীয় এসব প্রতিষ্ঠান। আর বাকি ৯০ শতাংশই বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে।   বিক্রি বৃদ্ধির কারণ আগে দেশের বাইরে থেকে সম্পূর্ণ ফিটিং করা মোটর সাইকেল আমদানি করা হতো। আর এতে আমদানি শুল্ক গুনতে হতো প্রায় ১৮১ শতাংশ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে ইঞ্জিন এবং যন্ত্রপাতি আমদানি করে দেশেই সেগুলো সংযোজন শুরু করে। যার ফলে সেসব মোটর সাইকেলে আমদানি শুল্ক দিতে হচ্ছে ৮৯ শতাংশ। এ পদ্ধতিতে মূলত মোটর সাইকেল বাজারজাত করছে চীন এবং কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন জংশেন, কিওয়ে ইত্যাদি। আর যমুনা বা রানারের মত প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক সময়ে মোটর সাইকেলের প্রায় সকল যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করছে। পাশাপাশি সংযোজনও করছে। এ ধরনের মোটর সাইকেলে সরকারের আরোপিত করের পরিমাণ মাত্র ৩৮ শতাংশ। মূলত এসব কারণেই মোটর সাইকেলের দাম আগের বছরগুলোর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। আর চলে আসে মধ্যবিত্ত এবং শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজের সাধ্যের মধ্যে। ইএমআই এবং মাসিক কিস্তি   সাম্প্রতিক সময়ে মোটর সাইকেল বিক্রি বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল এখন বিনাসুদে অথবা স্বল্প সুদে মাসিক কিস্তিতে মোটর সাইকেল কেনার সুযোগ করে দিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমনকি কোনো ধরনের ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে সমান মাসিক কিস্তি (ইএমআই) সুবিধায় কেনা যাচ্ছে বাইক। আর সে কারণে তরুণরা খুব সহজেই মোটর সাইকেল কিনতে পারছেন। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইএমআই (ইকুয়াল মানথলি ইন্সটলমেন্ট) গ্রাহকদের মোটর সাইকেল কেনার সুযোগ দিচ্ছে ই-কমার্স শপ দারাজ এবং পিকাবু। সর্বোচ্চ ছয় মাসের কিস্তিতে বিনা সুদে মোটর সাইকেল কেনা যায় এখান থেকে। এছাড়াও সহজ শর্ত এবং সীমিত সুদে ১২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের কিস্তিতেও মোটর বাইক কেনার সুযোগ আছে এখানে। এ বিষয়ে পিকাবুর সহকারী বিপণন ব্যবস্থাপক নাইম হোসেন বলেন, “গ্রাহকদের  আসল ব্র্যান্ড পণ্য দেওয়াই পিকাবু’র মূল উদ্দেশ্য। তারই অংশ হিসেবে আমরা হিরো মোটর সাইকেল নিয়ে এই ইএমআই সুবিধা চালু করি। শুরুতে আমরা ধারণা করেছিলাম যে, প্রথম মাসে হয়তো ১০টি মোটর সাইকেল বিক্রি হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম যে, ইএমআই সুবিধা চালুর প্রথম মাসেই ৫০টিরও বেশি মোটর সাইকেল বিক্রি হয়। ইএমআই সুবিধার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথবা সদ্য ক্যারিয়ার শুরু করেছেন এমন ব্যক্তিরাও মোটর সাইকেল কিনতে পারছেন”। “এছাড়াও রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলোর কারণেও মোটর সাইকেলগুলো বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গেছে অনেকখানি”। রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ও ই-কমার্স মোটর সাইকেল নিজেই এখন হয়ে উঠছে আয়ের এক বড় মাধ্যম। ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা ই-কমার্স এবং এফ-কমার্সে (ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মোটর সাইকেল। ই-শপ থেকে পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মোটর সাইকেল। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই মোটর সাইকেল কিনে কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের কাজটি করে থাকে। আবার অনেকে মোটর সাইকেল কিনে এসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে চুক্তি ভিত্তিতে পণ্য সরবারের কাজ করেন। এছাড়াও রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের ধারণার বদৌলতে, দিন দিন মোটর সাইকেল বিক্রির পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। পাঠাও, মুভ, স্যাম, উবার-মটো, ইজিয়ার, ওভাই এর মত রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলোতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নিবন্ধিত বাইক চালকের সংখ্যা। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ কিস্তিতে মোটর সাইকেল ক্রয় করে রাইড শেয়ারের মাধ্যমে আয় করেই পরিশোধ করছেন মাসিক কিস্তির টাকা। এছাড়াও পড়াশুনা অথবা চাকরির পাশাপাশি পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন কাজ হিসেবেও রাইড শেয়ারিং করছেন অনেকেই। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদুল ইসলাম বলেন, “পড়াশুনার পাশাপাশি আগে টিউশনি করতাম। অনেক ধরণের সমস্যা ছিল সেখানে। বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে কিস্তিতে একটি বাইক কিনি। এখন পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে রাইড শেয়ার করি। এতে কিস্তি পরিশোধের পরও হাতে যা থাকে তা টিউশনির আয় থেকে বেশি”। দেশেই তৈরি হবে সম্পূর্ণ মোটর সাইকেল বর্তমানে দেশেই মোটর সাইকেল তৈরি করছে দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরে এর সাথে যুক্ত হবে আরও বেশকিছু বিদেশী প্রতিষ্ঠান। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে ইতোমধ্যে কারখানা তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়েছে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড। ইঞ্জিন এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ বাইক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রানার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মজিবুর রহমান ইটিভি অনলাইনকে  বলেন, “দেশের বাজারে যেসব মোটর সাইকেল তৈরি হচ্ছে তার বেশিরভাগই প্রস্তুত করছে রানার। দেশের মোট মোটর বাইকের ৭ শতাংশের জোগান দিচ্ছি আমরা। এমনকি দেশের বাইরে নেপালেও আমরা আমাদের বাইক রপ্তানি করছি”। ময়মনসিংহের ভালুকায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বাইক উৎপাদন কারখানা। ভারতীয় বাজাজ বাইকের উৎপাদনের জন্য ঢাকার সাভারের জিরানীতে কারখানা নির্মাণ করছে বাংলাদেশে বাজারের পরিবেশক উত্তরা মোটরস। আগামী মার্চ মাস থেকে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন কারখানা চালু করেছে আরেক ভারতীয় ব্যান্ড হিরো মটরস। যশোরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং মাহবুব আলম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “গত বছর থেকেই বাংলাদেশে মোটর সাইকেল উৎপাদন করে আসছে হিরো মটরস। নিলয় মটরস এর পরিবেশক। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব নতুন হিরো বাইক দেখা যাচ্ছে সব আমাদের দেশেই তৈরি” ।   আর এ বছরের মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে টিভিএস এবং হোন্ডা মোটর সাইকেলের। ময়মনসিংহের ভালুকায় কারখানা নির্মাণ করবে টিভিএস। এছাড়াও টঙ্গীতে যন্ত্রাংশ সংযোজনের একটি কারখানা আগে থেকেই আছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সেলস মো. আতিকুর রহমান বলেন, “নিত্য প্রয়োজনীয় বাহন হিসেবে মোটর সাইকেল এখনো সকলের পছন্দের বিষয়। আর সরকারের এক নীতি অনুযায়ী, আমরাও দেশেই মোটর সাইকেল উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছি। এবছরই আমাদের উৎপাদন শুরু হবে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের তুলনায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে টিভিএস এর বিজনেস গ্রোথ বেড়েছে শতকরা ৫০ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা ১০০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে বলে আশা করা যাচ্ছে”। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জের আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর কারখানা নির্মাণ করছে জাপানি মোটর সাইকেল প্রতিষ্ঠান হোণ্ডা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরটি হতে যাচ্ছে মোটর সাইকেল খাতের জন্য এক স্বর্ণযুগ। টিকে

সাড়ে তিন হাত কবর নিয়েও ব্যবসা

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা ইয়াসিন আলি মৃত্যু বরণ করেন চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি। তার শেষ সৎকারের জন্য তার মরদেহকে নেওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে। তার সৎকারে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। এছাড়া নাম ফলক লাগতে গুনতে হয়েছে আরও ৩০০টাকা। আর করবটি সংরক্ষণ ও সাজসজ্জা করানোর জন্য এককালীন ১ হাজার টাকা চুক্তি হয় কবর সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে। এমনকি করবটি দেখাশুনার জন্য প্রতিমাসে ৫০০ টাকা দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিতে হয় ইয়াসিন আলির পরিবারকে। যদিও সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী কোনো মরদেহের দাফন খরচ বাবদ তার পরিবারকে ৭০০ টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে মাসিক চাঁদা দেওয়া বন্ধ হলেই ইয়াসিন আলী কবরে বসবে নতুন করব। শুধু ইয়াসিন আলির পরিবার না রাজধানী প্রতিটি পরিবারকে তার স্বজনের মৃতদেহ সৎকারের জন্য গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী এই দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে  মোট ৮টি কবরস্থানে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ জনের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা রয়েছে। আর এ চিত্র শুধু আজিমপুরের করস্থানেই নয়; রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের মোট ৮ একবরস্থানের চিত্র প্রায় একই। নানা কৌশলে মৃতদেহের সৎকারের জন্য আসা পরিবারের কাছ থেকে শুধু অতিরিক্ত টাকা আদায়ই নয়; বরং পুরানো কবরের কঙ্কাল নিয়েও চলে রমরমা ব্যবসা। এই ব্যবসার সাথে সিটি করপোরেশনের নিয়োগ করা কর্মীরা ছাড়াও জড়িত বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট। সরেজমিনে রাজধানীর জুরাইন, আজিজপুর ও মিরপুর কবরস্থান ঘুরে কবর বাণিজ্যের একই চিত্র দেখা গেছে।গত কয়েক দিন রাজধানীর আজিমপুর ও মিরপুর কবরস্থান ঘুরে কবর বাণিজ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি কবরস্থানে সিটি করপোরেশনের ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া থাকলেও কবরস্থানে সিন্ডিকেটের সদস্য রয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ জন। সিটি করপোরেশন থেকে কোনো প্রকার নিয়োগ না দিলেও তারা নিজেদেরকে সিটি করপোরেশনের সহায়ক কর্মী বলেও দাবি করে। মিরপুর কবরস্থানের নিয়ে কথা হয় কবর সিন্ডিকেটের এক সদস্য ওয়াহ আলী সঙ্গে। তিনি একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, তিনি মিরপুর কবরস্থানের ১৭ বছর ধরে কাজ করছেন। একটি কবর বেড়া দিতে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। এছাড়া কবর বাধানোর জন্য ১ হাজার টাকা, কবরের সাজসজ্জা-ঘাসের উপরে পানি দিতে এবং কবরটি সংরক্ষণের জন্য প্রতিমাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেন। তিনি বলেন, তারা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে টাকা নেন না। মৃত ব্যক্তির পরিবার খুশি হয়ে যা দেয় তাই নেন তারা। তবে কবর সিন্ডিকেটের বাইরের কোনো লোকের এসব কাজ করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন এই টাকা থেকে নির্ধারিত অংশ কবরস্থানের সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দিতে হয়। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, কবর খনন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্চন্নতার জন্য রয়েছে নির্ধারিত জনবল রয়েছে সিটি করপোরেশনের। কবরস্থানে সিটি করপোরেশনের জনবলরাই সবকিছু তদারকি করে থাকেন। বাইরের লোকের লোক কাজ করার কথা নয়। তবে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা চাইলে কবর দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীভাবে কবর বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ আছে। আর অস্থায়ীভাবে  অন্তত দুই বছর কবর রাখার নিয়ম থাকলেও কোনো কবর ৬মাস পার করার পর ওই কবরের ওপর নতুন কবরের ব্যবস্থা করে। তবে মাসিক ফি আর কবরের বেড়ার জন্য নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করলে আজীবন সংরক্ষণ করে রাখে এসব কবর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে ভুক্তভুগীরা বলছেন, কবর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সঠিকভাবে সিটি করপোরেশনের লোক পালন করলে সাধারণ মানুষের বাড়তি টাকা গুনতে হতো না। এ ব্যাপারে আজিজপুর কবরস্থানে দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের মৌলভি মিজানুর রহমান একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, সিটি করপোরেশনে লোকবল কম থাকায় মৃত ব্যক্তির স্বজনরাই কবর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওই সব লোকদের নিয়োগ করেন। সিটি করপোরেশন থেকে তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয় না। মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা খুশি হয়ে যা দেন তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। কবরস্থান দেখভালের দায়িত্বে থাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরশনের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, নীতিমালার বাইরে কবরস্থানে দাফন করার সুযোগ নেই। কবরস্থানে দায়িত্বরত সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকে

ঠাঁই নেই, বাড়ছে কবরের উপর কবর

মানুষের চাপে ঢাকা শহরের এমনিতেই ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা। এরপরও কাজের সন্ধানে, জীবিকার তাগিদে শহরমুখী মানুষের স্রোত থেমে নেই। জনসংখ্যার চাপে পিস্ট এ শহর তার বুকে ঠিকানা করে দিচ্ছে আগন্তুকদের। কিন্তু শেষ ঠিকানার নিশ্চয়তাটা মেলে না এখানে। কারণ বছর দু’য়েক ধরে ডিসিসির কবরস্থানে কেউ চাইলেও স্থায়ীভাবে কবর কিনতে পারছেন না। স্থায়ী কবরে নতুন কবর করার সুযোগ থাকে না। তাই অস্থায়ী কবরস্থানে চাপ বাড়ছে। কারণ বছর দু‘য়েক পরপর অস্থায়ী কবরে নতুন মৃতকে ঠাঁই দেওয়া যায়। তাই বাড়ছে কবরের উপর কবর।  রাজধানীর কবরস্থানগুলোয় একই কবরে একের অধিক মৃত ব্যক্তিকে সৎকার করা হচ্ছে। এক কবরে ব্যবহার হচ্ছে একাধিক নামফলক। রাজধানীর আজিমপুর করবস্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, অসংখ্য কবর একটি আরেকটির গায়ে গায়ে লাগানো। কবরগুলোর উপর দেখা যায় একের অধিক সাইনবোর্ড লাগানো। অর্থাৎ একের অধিক মানুষের জায়গা হয়েছে একটি কবরেই। কখনও কখনও সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবার থেকে, ভিন্ন এলাকা থেকে তারা এসেছেন। আজিজপুর করবস্থানে গিয়ে কথা হয় আছিয়ার সঙ্গে।তিনি একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, কামরাঙ্গীরচর তার বাসা। পরিবারের সকলকে সংকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এ  কবরস্থানে। তার ছেলের করবটি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ নেওয়ার জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশেন ঘোরাঘুরি করেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি আরও জানান, কিছু দিন পরে দেখি ছেলের কবরটির চিহৃ হারিয়ে গেছে। সেখানে আবার নতুন করে অন্য এক লোককে কবর দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে যারা কাজ করে তাদের কিছু টাকা দিলে কবর দেখভাল করে। কবরগুলো বছরের পর বছর থাকলে ভাঙ্গা হয় না। কিন্তু যারা টাকা না দেয় তাদের কবর সিটি করপোরেশন বেধে দেওয়া ২ বছর মেয়াদ থাকলে্ও ৬ মাস পরে ভেঙ্গে নতুন করে কবর দেওয়া হয়। এমনকি মৃতদেহের কঙ্কালও বিক্রি করে দেওয়া হয়। আকবর নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, আমার বাবাকে দুই বছর আগে আজিজপুর কবরস্থানে সংকারের ব্যবস্থা করা হয়। একদিন এসে দেখি আমার বাবার কবরের উপর নতুন করে আরও একজনের কবর দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন পরে গিয়ে দেখতে পাই বাবার কবরের পাশে তিনটি ভিন্ন নামের প্লেট লাগানো আছে। স্থায়ী কবরের ব্যবস্থা না থাকায় নির্দিষ্ট সময় পর একই জায়গায় পুনরায় কবর দেওয়া হয়েছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে আপনজনের শেষ স্মৃতিটুকুও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিমপুর কবরস্থানের ‘মোহরার’(তত্ত্বাবধায়ক) মো. নুরুল হুদা একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের মোট ৮টি কবরস্থান রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণের জুরাইন ও আজিমপুরে আর ২০১২ সাল থেকে ঢাকা উত্তরের ৬ টি কবরস্থানে স্থায়ীভাবে আর কোনো কবরের জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ বছর, এরকম নানা মেয়াদে সেখানে জায়গা বরাদ্দ আছে খুব অল্প কিছু কবরের। যার জন্য দেড় লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। কিন্তু সেটি যারা পারছেন না তাদের জন্যই অস্থায়ী কবর। আর সেই সংখ্যাটিই বেশি। দু’বছর পর পর সেসব কবরে যোগ করা হয় আরেকটি মরদেহ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন কবরস্থান নির্মাণ করার মতো জায়গা নেই। এ জন্য আমরা আগের কবরস্থানগুলো সংস্কার শুরু করেছি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাহিরে করবস্থানের ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন কবরস্থান হলে কবরের জায়গা সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান হবে। / এআর /

দেড় কোটি মানুষের শহরে ২ লাখ ৩৩ হাজার কবর

দিনে দিনে বাড়ছে রাজধানীর জনসংখ্যা। প্রতিদিনিই কাজের সন্ধানে রাজধানীমুখী হচ্ছেন মানুষ। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হয়নি নগরবাসীর জন্য শেষ শায়িত স্থানের সংখ্যা। এর ফলে রাজধানীবাসীর মরদেহ সৎকার সুবিধা নিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন সময় মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কবরের সংকট রয়েই গেছে।  কাগজে কলমে ঢাকা জেলার জনসংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। তবে বাস্তবে সংখ্যাটা আরও বেশি। আর রাজধানী ঢাকায় প্রায় দেড় কোটি মানুষের শহরে রয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ জনের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ৮টি কবরস্থান রয়েছে। এছাড়া খ্রিস্টানদের মরদেহ সৎকারের জন্য রাখা হয়েছে তিনটি কবরস্থান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত আবাসিক ভূমি উন্নয়ন আইনে রাজধানীর প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য ০.০৪ একর জমি রাখার কথা বলা হয়েছে ধর্মীয় উপাসনায়, মরদেহ সৎকার ও কমিউনিটির অন্যান্য সামাজিক সুবিধার জন্য। যেকোনো নতুন আবাসিক এলাকা তৈরির ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করেই এর পরিকল্পনা পাস করানোর নিয়ম। এটা করা হয়েছে ২০০৪ সালে। ১৯৫৯ সালে ঢাকায় কবরস্থানের জন্য একটা মাস্টারপ্ল্যানও হয়েছিলো। এরপর ১৯৯৫ এবং ২০১৫ সালে আবারও প্ল্যান করা হয়। কিন্তু বারবার উদ্যোগ নিলেও আলোর মুখ দেখেনি মাস্টারপ্ল্যানগুলো। রাজধানীর কবরসমূহ আজিমপুর: রাজধানী সব থেকে পুরানো কবরস্থান আজিমপুর । প্রায় ৭০ বছর আগে ২৭ একর জমির উপরে প্রতিষ্ঠা করা হয় আজিমপুর গোরস্তানের। এখানে স্থায়ী কবর ৬ হাজার ৫০০, অস্থায়ী কবর ৩০ হাজার মিলিয়ে মোট ৩৬ হাজার ৫০০ লোকের কবর দেওয়া ব্যবস্থা রয়েছে। জুরাইন কবরস্থান : এর মোট আয়তন ১৭.২৬ একর যার মধ্যে সাধারণ কবরস্থান ১২ একর আর সংরক্ষিত রয়েছে ৫.২৬ একর জায়গা। এখানে স্থায়ী কবর ২ হাজার ৬৯৪ ও অস্থায়ী কবর ৪১ হাজার। মোট ৪৩ হাজার ৬৯৪ মানুষের কবর দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে জুরাইন কবরস্থানে। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান: ৬৫ একর জায়গায় স্থায়ী কবরের সংখ্যা ৩০ হাজার। পাশাপাশি অস্থায়ী কবরের সংখ্যা ৬১ হাজার। মোট ৯১ হাজার লোক কবরের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে। বনানী কবরস্থান: ১০ একর জায়গায় স্থায়ী কবরের সংখ্যা ৭ হাজার ৫১৪ ও অস্থায়ী কবরের সংখ্যা  ৪ হাজার ৫০০। মোট ১২ হাজার ৪টি কবর রয়েছে ওখানে। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর: ১.১০ একরে স্থায়ী কবর ৮৪ ও অস্থায়ী কবর ৫৮০ মিলিয়ে মোট ৬৬৪ লোকের কবর দেওয়া ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর: ৬ একর জমিতে ২ হাজার ৫০০ লোকের কবর দেওয়ার ধারণ ক্ষমতা আছে। খিলগাঁও কবরস্থান : খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ৫ দশমিক ৩৭ একর জমিতে নির্মিত এই কবরস্থানে অন্তত দুই হাজার ৭০০ লাশের দাফন করার ব্যবস্থা রয়েছে। রায়েরবাজার কবরস্থান: রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পেছনে দেশের সবচেয়ে বড় কবরস্থান নির্মাণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রায়েরবাজার কবরস্থানে মোট জমির পরিমাণ ৯৬ দশমিক ২৩ একর। মূল কবরস্থান ৮১ দশমিক ৩০ একর। একসঙ্গে সাড়ে ৮৫ হাজার মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এছাড়া তেজগাঁও হোলি রোজারি চার্চের পাশে, মোহাম্মদপুর এবং ওয়ারী এর মধ্যে তেজগাঁও তিনটি স্থানে খ্রীষ্টান ধর্মীয় লোকেদের জন্য ২ হাজার ৫০০ লোকের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আজিমপুর কবরস্থানের ‘মোহরার’ (তত্ত্বাবধায়ক) মো. নুরুল হুদা একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুয়ায়ী একটি কবর ২ বছর রাখা হয়। জায়গা সংকটের কারণে পুরানো কবর ভেঙ্গে নতুন করে কবর দেওয়া হয়। আগে স্থায়ীভাবে বরাদ্দের ব্যবস্থা থাকলেও এটা বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে কবরের উপরে কবর দেয়ার অনুমতি আছে। ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে দেখা গেছে, অসংখ্য কবর কোনটি কার খবর তা চেনার লেশমাত্র নেই। একটি আরেকটির গায়ে লেগে আছে। কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। অসংখ্য কবরের উপরে দেখা একাধিক লোকের সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। অর্থাৎ একের অধিক মানুষের জায়গা হয়েছে একেকটি কবরে। কখনো কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবার থেকে, ভিন্ন এলাকা থেকে তারা এসেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা লৎফুর রহমান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, দক্ষিণ সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন করে কবরস্থান করার মতো জায়গা আছে কি-না তা অনুসন্ধানে কাজ চলছে। রাজধানীর কবরস্থানে চাপ কমাতে ঢাকার বাইরে নিজস্ব এলাকায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া এবং দাফনে কিছু আর্থিক সহায়তা করার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নগরবিদরা বলছেন, ঢাকার জনসংখ্যা এখন দেড় কোটির উপরে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম নাজেম বলেন, আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কবর, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টারসহ সামাজিক যেসব সুবিধার দরকার তাতে পরিকল্পনার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এখনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কঠিন পরিস্থিত তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।  টিআর/ এমজে/    

‘সহজ’ আয়ের পথ ছাড়তে রাজি নয় ভিক্ষুকরা

‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ বর্তমান সরকারের অনেকগুলো উন্নয়নমুখী পদক্ষেপের মধ্যে একটি। কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাব ও ভিক্ষুকদের কাজ করতে না চাওয়ার মনোভাবে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না সরকারের নেওয়া প্রশংসনীয় এ পদক্ষেপে। ভিক্ষুকরা আবারও ফিরে যাচ্ছেন পুরনো পেশায়। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১০ সালের আগষ্টে এই প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারের সময়োপযোগী এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ঢাকাসহ সারাদেশে কাজ করছে প্রত্যেক এলাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। আর তাদেরকে সহযোগিতা করছে সমাজসেবা অধিদফতর, ইসলামী ফাউন্ডেশন এবং সিটি কর্পোরেশনগুলো। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম. বজলুল করিম চৌধুরী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানান, ভিক্ষাবৃত্তি আইনগতভাবে একটি অপরাধ এবং নৈতিকভাবেও এটি সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু অনেকে শারীরিক কারণে বা সহায় সম্বল হারিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়। একইসঙ্গে কেউ কেউ অভ্যাসগত কারণে ভিক্ষা করে। যথেষ্ঠ শক্তি ও সামর্থ্য থাকার পরও ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত এমন ভিক্ষুকের সংখ্যাও ঢাকায় কম নয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভীরু ও কুসংষ্কারাচ্ছন্ন। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে একটি অপরাধী চক্র ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিয়ে তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আইন যেমন ভিক্ষাবৃত্তি সমর্থন করেনা তেমনি পবিত্র ইসলাম ধর্মও ভিক্ষাবৃত্তি সমর্থন করেনা। ভিক্ষুকদের ব্যবহার করা ওই অপরাধীচক্রকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেনো-এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মানুষ সচেতন হলে অপরাধীরা পার পাবে না। এজন্যই আমরা আগে মানুষকে সচেতন করতে চাচ্ছি। এরপরও কেউ যদি এসব চক্রের ব্যাপারে আমাদের অভিযোগ করে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আইনী ব্যবস্থা নেব। সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে ‍ভিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়ার জন্য সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এজন্য বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। গত ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ তারিখে রমনা থানা এলাকার ৫৭ টি মসজিদে লিফলেট বিতরণ এবং খুতবায় ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে বয়ান করা হয়। এছাড়া ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৩০টি জোনের সব মসজিদকে কেন্দ্র করে সচেতনতা কার্যক্রম চালু আছে বলে জানা গেছে। গত বছরের ১৮ এপ্রিল ঢাকার মসজিদগুলোতে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) তত্বাবধানে ১২ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়। এপ্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম. বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, সাধারন মানুষের আবেগকে পুঁজি করে যেনো কেউ ভিক্ষাবৃত্তির মতো অবৈধ কাজে না নামতে পারে, সেজন্য আমরা মসজিদে লিফলেট বিতরণ করে সাধারণ মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছি। এছাড়া ২০১৬ সালের ৪ জুন ২০০ জন ভিক্ষুকের অর্শগ্রহণে `পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণ` শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করেছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর। আইনী ব্যবস্থা গত বছরের ৮ জুন তারিখে `ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যাক্তি পুনর্বাসন আইন ২০১১` এর আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল রূপসী বাংলা, দূতাবাস এলাকাসমূহ, কূটনৈতিক জোন, বেইলী রোড, হোটেল রেডিসন এলাকাগুলোকে ইতোমধ্যে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকার পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে বলে দাবি করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম. বজলুল করিম চৌধুরী। ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় ভিক্ষা না করার জন্যও কয়েকদিন পর পর অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাইকিং করা হয়। আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ ঢাকা মহানগরে সমাজসেবা অধিদফতরের উদ্যোগে ২০১১ সালে ১০টি জোনে ১০টি এনজিও-র মাধ্যমে ১০ হাজার ভিক্ষুকের উপর জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়। এদের মধ্য থেকে ২ হাজার ভিক্ষুককে নিজ নিজ জেলায় পুনর্বাসনের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ও জামালপুরে ৬৬ জন ভিক্ষুককে রিকসা, ভ্যান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য পুঁজি দেওয়া হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ভিক্ষুকই তাদের রিকসা, ভ্যান বিক্রি করে আবার ফিরে এসেছে ভিক্ষাবৃত্তির পেশায়। তবে জামালপুরের ভিক্ষুকরা নতুন পেশায় গিয়ে অনেকখানি সফল বলে জানান কর্মকর্তারা। ২০১৭ সালে ১১৪ জন ভিক্ষুককে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়। এদের মধ্যে ৭৬ জনকে পারিবারিক এবং ৩৮ জনকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ খাতে ২০১৫-১৬ সালে ৩৯ লক্ষ টাকা এবং ২০১৬-১৭ সালে ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট টাকায় ৭১৭ জনকে জেলা পর্যায়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কার্যক্রমের ফলাফল একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার এই উদ্যোগটি হাতে নিলেও, সুনির্দিষ্ট তদারকির অভাবে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। অনেক ভিক্ষুক আবার আগের পেশায় ফিরে আসছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ ভিক্ষুকই এ পেশা ছাড়তে রাজী নয়। অনেকেই অল্প কিছুদিনের মধ্যে এ পেশায় আবার ফিরে আসছেন। তাছাড়া ভিক্ষুকদেরকে নানাভাবে ব্যবহার করে যারা পরোক্ষভাবে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলেও জানান তিনি। / এআর /

ভালোবাসা দিবসে ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতার প্রতীক ফুলের চাহিদা কোনো কালেই কম ছিলো না। ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। সারা বছরই বিয়ে, জন্মদিন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ নানান অনুষ্ঠানে প্রয়োজন ফুলের। রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভালোবাসা দিবসের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসবও। প্রতিবারের মতো এবারও তাই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ফুল বাজারগুলোতে লেগেছে ব্যস্ততার ছোঁয়া। ক্রেতার হাতে তরতাজা ফুল পৌঁছে দিতে এরইমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি ফুলের বাজার আগারগাঁওয়ে দিবসটিতে ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কয়েকটি ফুল বাজার আগারগাঁও, শাহবাগ  ও ফার্মগেট  ঘুরে জানা যায়, এবার রাজধানীর বেশির ভাগ ফুল যশোরের গদখালি থেকে কেনা হচ্ছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে সারা দেশে ফুলের চাহিদা হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। তাছাড়া পরিবহন খরচ ফুলের বান্ডিল প্রতি অন্য সময়ের থেকে বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি। যার প্রভাবে বাজারে ফুলের দাম একটু বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। আগারগাঁও পাইকারী ফুল বাজার সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ ফুল সমিতির সহ সভাপতি এ আর বাচ্চু খাঁ বলেন, বছরের কয়েকটি দিন আমাদের বেচাকেনার জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়। এসব দিনগুলোর মধ্যে বিশ্বভালোবাসা দিবসে আমাদের সবচেয়ে বেশি বেঁচাকেনা হয়। দিবসটি ঘিরে যশোরের গদখালী, ঝিনাইদহ, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীতে ফুল আসবে। দিবসটিতে আমরা ক্রেতার কাছে তরতাজা ফুল পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। চাষীদেরকে ১৫ দিন আগের ফোটা ফুল, ১৫ দিন পরে না বিক্রির জন্য আগেই জানিয়ে দিয়েছি। আশা করছি এ দিনে শুধু রাজধনীর আগারগাঁও বাজারেই বিক্রি হবে ২০ কোটি টাকার ফুল। সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগারগাঁওয়ের পাইকারী এ বাজারটিতে ১ হাজার গাঁদাফুল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ১ হাজার জারবেরা বিক্রি হচ্চে ৬০০ টাকা, একশ’ গোলাপ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বিভিন্ন ধরণের গ্লাডিয়াস গড়ে একশ’টির দাম পড়ছে ৭০০ টাকা, রজনী গন্ধা একশ’টির দাম ১ হাজার টাকা। আগারগাঁও পাইকারী ফুল বাজার সমিতি ও বাংলাদেশ ফুল সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হোসাইন বলেন, আজকের বাজারদর দিয়ে বিশ্বভালোবাসা দিবসের বেচাকেনা তুলনা করা যাবে না। ওই দিন আজকের তুলনায় আড়াই থেকে ৩ গুণ পর্যন্ত দাম বেড়ে যাবে। কারণ ওই দিন চাহিদা থাকে অনেক। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতা ফুল পেলেই খুশি। দাম বেশি হলেও তার জন্য ক্রেতার অভিযোগ থাকে না। আজকের যে গোলাপ ৮ টাকা, ওইদিন সে গোলাপ বিক্রি হবে হয়তো ১৬ থেকে ২০ টাকা। বাজারে যশোরের গদখালি থেকে ফুল বিক্রি করতে আসা মাসুম রানা বলেন, আমি যশোরের গদখালিতে আড়াই বিঘা জমিতে জারবেরা চাষ করেছি। মানিকগঞ্জের সিংগাইরও আড়াই বিঘা জমিতে জার্বেরা চাষ করেছি। আগামীকাল বাজারে ৪ হাজার জারবেরা বিক্রি করবো। আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আগের দিনে বিক্রি করবো ৪০ হাজার ফুল। একইভাবে বাজারে ঝিনাইদহ থেকে আসা ফুল চাষী মতিয়ার রহমান বোরবার বলেন, আমি আজ বাজারে ১ লাখ গাঁধা ফুল, ৫০ কেজি রজনী পাপড়ী ও ৩ হাজার দেশী চন্দ্র মল্লিকা এনেছি। ভালোবাসা দিবসে আমার ফুল সরবরাহের পরিমান এর চেয়ে ৫গুণ বেশি হবে। পাইকারী এ বাজারের নিকটবর্তী আগারগাঁও বাসস্ট্যান্ড খুচরা ফুলের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে গোলাপের একটি স্টিক বিক্রি হচ্ছে রকম ভেদে ১২ থেকে ১৫ টাকা, জারবেরা ২০ টাকা, রজনী গন্ধ্যা ১০ টাকা, গ্লাডিওলাস ১৫ থেকে ২০ টাকা, গাঁধা চেইন ১০ টাকা। এছাড়া বাজারে প্রতি ২০ ইঞ্চি ফুলের ডালা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ৩০ ইঞ্চি ফুলের ডালা ১২’শ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৩৮ ইঞ্চি ২৫’শ থেকে ৩২’শ টাকা, ভিআইপি ৫ হাজার ৮ হাজার টাকা। বাজারে নীলকণ্ঠ ফুল ঘরের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের রোজ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। তবে ওই দিন বিকিকিনি তিনগুণেরও বেশি বেড়ে যাবে বলে আশা করছি। আশা করছি ওই দিন আমার দোকানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেচাকেনা হবে। তবে বাজারে ফুলের দাম বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে ফুলের তৈরি অন্যান্য জিনিসেরও। এখন ফুলের তৈরি এনবুকে ১৩০ টাকা, গাদা ফুলের মালা প্রতি পিছ ২০ টাকা, কাঠবেলি মালা প্রতি পিছ ১০ টাকা, ফুলের রিং ২০ টাকা, ফুলের গয়না সেট ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। শাহবাগের ফুলবাহার পুষ্প কেন্দ্রের খুচরা বিক্রেতা জালাল মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে ফুলের দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়। কারণ ৪ থেকে ৫ টাকা লাভ না করলে তো ব্যবসা চলে না। এছাড়া আমরা ফুল ব্যবসায়ীরা মূলত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যবসা করি। এসময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস ছাড়াও বিয়ে ও কনসার্টের আয়োজন চলে। তখন ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট দামের বাইরে গিয়েও যে যার মতো ফুল বিক্রি করে। দেশে উৎপাদিত ফুল নিয়ে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, ১৯৮৩ সালে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। মোট উৎপাদিত ফুলের ৩১ শতাংশ গ্লাডিওলাস, ২৪ শতাংশ গোলাপ, ১৯ শতাংশ রজনীগন্ধা। আরকে// এআর  

প্রশংসা পাচ্ছে রাজধানীর আধুনিক টয়লেট

রাজধানী ঢাকার মহানগরীর দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত আধুনিক টয়লেটগুলো প্রশংসা পাচ্ছে নগরবাসীর। ক্রমাগতভাবে বদলে যাওয়া এসব আধুনিক টয়লেট বা শৌচাগার ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধবিহীন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ  এবং ঝকচকে-তকতকে এসব শৌচাগার ব্যবহারে স্বস্তিবোধ করছেন এর ব্যবহারকারীরা। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন পাবলিক টয়লেট সরেজমিনে দেখা যায় যে, এগুলোর চেহারা চিরাচরতি পাবলিক টয়লেটের থেকে একেবারে পাল্টে গেছে। নারী, পুরুষ এবং প্রতিবন্ধীদের শৌচাগার ব্যবহারের জন্য আছে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা। নিয়মিত পানি সরবরাহের কারণে প্রাকৃতিক কাজ করা, হাত ধোয়া, খাবার পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে বেশ আরামে। আছে গোসলেরও ব্যবস্থা। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংগ্রহের জন্য আছে সোলার সিস্টেম। যেহেতু এই টয়লেটের ব্যবহারকারীদের বড় অংশই হল ভ্রাম্যমাণ লোকজন তাই তাদের কথা চিন্তা করে এখানে রাখা হয়েছে লকারেরও সুবিধা। নিরাপত্তার জন্য আছে সার্বক্ষণিক ক্লোজড সার্কিড ক্যামেরা। টয়লেট ব্যবহারের জন্য আছে নির্দিষ্ট ফি। সাধারণ ব্যবহারের জন্য ৫ টাকা, গোছল করলে ১০ টাকা আর লকার ব্যবহার করলে ৫ টাকা ফি দিতে হবে। বিনিময়ে পাওয়া যাবে টিকিটও। তবে প্রতিবন্ধীরা এসব টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন বিনামূল্যে। এসব টয়লেটে সব থেকে বেশি উপকৃত হচ্ছেন নারীরা। মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে অবস্থিত ডিএনসিসি’র টয়লেট ব্যবহার শেষে কলেজ ছাত্রী কাশফিয়া শ্রাবন্তী শান্তা বলেন, “চিড়িয়াখানা ঘুরতে এসেছিলাম। সেখানেই বাথরুমের বেগ পাচ্ছিল। কিন্তু চিড়িয়াখানার ভেতরে থাকা টয়লেট দেখে আর রুচি হল না। যাওয়ার সময় খেয়াল করেছিলাম যে এই রোডেই একটি পাবলিক টয়লেট আছে। বাইরে থেকে দেখে ভালও লেগেছিল। ভাবলাম এখানেই আসি। এখানকার পরিবেশটা বেশ স্বস্তিদায়ক”। পাবলিক টয়লেটগুলো ব্যবস্থাপনার জন্য আছে একটি কমিটি। এই কমিটিই নিয়মিত টয়লেটের তদারকি করে থাকে। টয়লেট ব্যবহারকারীদের দেওয়া টাকা জমা হয় একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সেই অর্থ দিয়েই কমিটির মাধ্যমে টয়লেট পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও মেরামতের কাজ করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, এর আওতায় পাবলিক টয়লেট আছে ৩৬টি। এগুলোর মধ্যে ১৭টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট। আর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বলছে, ৩০টি নতুন আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছে তারা। এর পাশাপাশি ১৭টি পুরনো টয়লেট আধুনিক নকশায় সংস্কার করেছে। সবগুলোই এখনও চালু আছে। ২০১৮ সালের মধ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনে আধুনিক পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা হবে প্রায় ১৭০টি। ডিএনসিসি’র পরিবেশ, জলবায়ু ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. তারিক বিন ইউসুফ ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “আপগ্রেডেশন, রিজেনারেশন এবং গ্রিনিং অফ ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশন এরিয়া’ শীর্ষক এক প্রজেক্টের মাধ্যমে ডিএনসিসি এলাকার মধ্যকার পাবলিক টয়লেটগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওয়াটার এইডের সাহায্য ১৫টি এবং ওয়ার্ল্ড টয়লেট অ্যাসোসিয়েশন এর পৃষ্ঠপোষকতায় স্পেস নামক একটি এনজিও ১টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও পরিচালনা করছে। এছাড়াও আরও একটি টয়লেট নির্মানাধীন আছে। আর ডিএনসিসি নিজ অর্থে ১টি টয়লেট নির্মাণ করেছে। আরও ২টি নির্মাণাধীন আছে। আর পুরো প্রজেক্টের আওতায় আরও ৭৩টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। তবে এই প্রজেক্টের সব থেকে বড় সমস্যা হল এই যে, পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাই পাই না আমরা”। আর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, “আমাদের পুরান ঢাকায় জায়গা পাওয়া এমনিতেই এক সমস্যা। তারপরেও আমরা টয়লেটগুলো আধুনিকায়নে কাজ করছি। আরও ২০-১১টি নতুন আধুনিক টয়লেট নির্মাণের কথা রয়েছে”।   টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি