ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:২৪:০৫

রমজানপণ্যের বাজার এখনও স্থিতিশীল, কমেছে চিনির দাম

রমজানপণ্যের বাজার এখনও স্থিতিশীল, কমেছে চিনির দাম

পবিত্র রমজানের এখনও সপ্তাহ তিনেক বাকি। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে রোযার প্রস্তুতি। রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্য আগেভাগে ক্রয় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। যার ফলে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাংস, ডিম ও মাছসহ কিছু পণ্য। তবে রমজানকে ঘিরে প্রতিবছর ছোলা, বুট, ডাল, রসুন, সয়াবিন, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়লেও এবার উল্টো। রমজান নির্ভর ওইসব পণ্যের কোনো কোনোটিতে দাম কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সিন্ডিকেট  ও কারসাজি চক্র এখনও নিস্ক্রিয় আছে। আগের রমজানগুলোতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষেছেন পাইকারদের। আর পাইকাররা দুষেছেন সরবরাহ ঘাটতিকে। এবার এখনও এ দোষাদোষির চিত্র দেখা যায়নি। তাই বাজার আপন গতিতে চলছে। আর তার সুফল সাধারণ ক্রেতারা ভোগ করছেন। তারা সহনীয় দামে পণ্য ক্রয় করতে পারছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত হবে বাজারের এ সহনীয় দামের চিত্র ধরে রাখতে তদারকি ব্যবস্থা কঠিন ও বলবৎ রাখা। রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর  কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ও পাইকারি বাজারে রমজান মাসে বেশি চাহিদা থাকে এমন পণ্যগুলোর দামের ব্যবধান আগের তুলনায় কম। আজ সোমবার রাজধানীর পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত কারওয়ান বাজার ও বাবুবাজার এবং খুচরা বাজার হিসেবে পরিচিত রামপুরা বাজার ও ফকিরাপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সপ্তাহ তিনেক আগেও যে ডিম প্রতি হালি ২৬ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। এখন তা হালিপ্রতি ৩০টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার মাংসের মধ্যে পোল্ট্রি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৪৯০ টাকা। সবজির দামও কিছুটা চড়া। প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যগুলোর দাম আগের তুলনায় কিছুটা বাড়তি হলেও স্থিতিশীল বা ক্ষেত্রবিশেষে কম দামে বিক্রি হচ্ছে রমজানে চাহিদাপূর্ণ পণ্যগুলো। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা (কালো দেশী) বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, সাদা ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা। চিনি ৫৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ৩৬ টাকা ও ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্য তেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। পামওয়েল ৭০ থেকে ৭২ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১০৮ টাকা থেকে ১১০টাকা এবং ৫ লিটারের বোতলজাত তেল ব্র্যান্ডভেদে ৫০০ থেকে ৫১৫ টাকা। মসুর ডাল ইন্ডিয়ান ৫৬ টাকা, দেশী ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ইন্ডিয়ান প্রতিকেজি ৯০ টাকা। খেঁজুর প্যাকেটজাত লাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, শুকনা খেঁজুর বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। রমজান আসন্ন হলেও এসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল  বা তুলনামূলক কম থাকার কারণ জানতে চাইলে রাজধানীর রামপুরা বাজারে আল্লাহর দান মসল্লা ঘরের প্রোপ্রাইটর মো. রাসেল বলেন, অন্যান্য বার এতোদিন দাম বেড়ে যায়। এবার এখনও দাম বাড়েনি। আমরা ইচ্ছা করলেই দাম বাড়াতে পারি না। পাইকাররা আমাদের কম দামে দিচ্ছে তাই আমরাও দিতে পারছি। এ ধারা সরকার ধরে রাখতে পারলে এবার রমজানে ভোক্তারা পণ্য ক্রয়ে স্বস্তি পাবেন। একই বাজারের ওমর ফারুক ষ্টোরের প্রোপ্রাইটর মো. মিজানুর রহমান বলেন, রমজানকে ঘিরে অধিক চাহিদাপূর্ণ পণ্যগুলোর মজুদও বেড়েছে আবার উৎপাদনও বেড়েছে। দেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও হয়নি। তাই পণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে। খুচরা বাজারের সঙ্গে পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম তুলনামূলক দাম জানতে রাজধানীর বাবু বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারের দামের তুলনায় পাইকারি বাজারের দামে খুব বেশি ব্যবধান নেই। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ছোলা, বুট, ডাল ও রসুনে ৫ থেকে ১০ টাকা ব্যবধান। সয়াবিন ও চিনিতে ৩ থেকে ৫ টাকা ব্যবধান। আর খেজুরে ১০ থেকে ১৫ টাকা ব্যবধান। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের ভাই ভাই জেনারেল ষ্টোরের প্রোপ্রাইটর মো. মাসুম বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে রমজাননির্ভর খাদ্য পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। এখন পর্যন্ত খুচরা ও পাইকারি বাজারে পণ্যের দামও স্থিতিশীল আছে। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশ থাকায় মনে হচ্ছে এবার রমজান মাসে আমদানিকারক ও পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াতে পারবে না। এ বাজারের আনোয়ার  ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর নজরুল ইসলাম বলেন, এবার রমজান উপলক্ষে পণ্যের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো দেখছি চিনির দাম কিছুটা কমেছে। চিনির দাম ক্ষেত্র বিশেষে ২শ’ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমরা এক মাস আগেও ৫০ কেজি ওজনের যে চিনির বস্তা ক্রয় করতাম ২৭শ’ টাকায় এখন সেই একই চিনি বস্তাপ্রতি ২৫শ’ টাকা কিনতে পারছি। তাই বলা যায় এবার রমজানে পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ক্ষেত্র বিশেষে কমেছে। তবে কোনো পণ্যের দাম কমলে আবার সেটা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই রমজানের আগ মুহুর্তে আবার এসব পণ্যের দাম বাড়তেও পারে। চিনির দাম কমার কারণ জানতে চাইলে বাবু বাজার চিনি ব্যবসায়ী শফিকুল আলম বলেন, পণ্যের দাম বাড়া-কমা বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। চিনির দামও সে নিয়মেই কমছে। তবে ধারণা করে বলা যায় আগামী রমজান ও ঈদের বাজারকে ধরতে ব্যবসায়ীসহ চিনির মিল মালিকদেরও অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। তাই রমজানের আগে মিলে মজুদ থাকা অতিরিক্ত পণ্য কম দামে হলেও তারা ছেড়ে দেয়। ঈদের আগ মুহুর্তে নতুন উৎপাদিত পণ্য বাজারে ছাড়ে। তাই রমজানের দুই মাস আগে থেকে চিনির দাম কমেছে। এছাড়া সরকারের বাজার মনিটরিং কঠিন হওয়াও একটি কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, চিনিসহ রমজানে অধিক চাহিদাপূর্ণ পণ্যগুলোর দাম বিশ্ববাজারে স্থিতিশীল আছে। যার কারণে আমাদের দেশীয় বাজারও স্থিতিশীল আছে। ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ এসব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রমজানের চাহিদাপূর্ণ পণ্য পরিবহনে কোন প্রকার  চাঁদাবাজি হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। যার সুফলে বাজারে এখনও পণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা আশা করবো আমাদের বন্দরগুলো যথাযথ কার্যক্রমের মাধ্যমে পণ্যের এ দাম স্থিতিশীল-ই থাকবে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে টিসিবি প্রতি বছরই প্রস্তুত থাকে। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাজার এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আগামীতেও পণ্যের দামও বাড়বে না বলে আশা করছি। বাজার চাহিদার কতটুকু টিসিবি পূরণ করতে পারবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিসিবির পণ্য দেশের সব শ্রেণীর মানুষের চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। তবে মানুষের চাহিদা পূরণে আমাদের অংশগ্রহণ একেবারে কমও নয়। জরুরি মুহূর্তে বা অন্য যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটি ২৭৮৪ জন ডিলার রয়েছে। ১৮৭টি ট্রাকসেল কাজ করছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, বিভাগীয় শহরে ৪টি এবং জেলা শহরগুলোতে ২টি করে ট্রাকসেল কাজ করবে।এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে টিসিবির নিজস্ব ১০টি বিশেষ খুচরা সেলের দোকান রয়েছে। যেগুলো রমজানের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খুচরা পণ্য বিক্রি করবে। অন্য সময় এ কেন্দ্রগুলো দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এবার রমজান উপলক্ষ্যে টিসিবি তিন ধাপে পণ্য সরবরাহ করবে। প্রথম দফায় রমজানের ১০ দিন আগে পণ্য সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় দফায় রমজানের প্রথম সপ্তাহে এবং তৃতীয় ও শেষ দফায় রমজানের মাঝামাঝি পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে শেষ  দফায় বাজারে পণ্যের চাহিদা বিবেচনা করে পণ্য ছাড়া হবে। হুমায়ুন কবির বলেন, রমজানকে সামনে রেখে চাহিদার চেয়ে বেশি মজুদ করা হয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রোজার অপরিহার্য পণ্য ছোলা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এরইমধ্যে কী পরিমাণ ছোলা মজুদ করা হয়েছে তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। দামের ক্ষেত্রে এতটুকু বলা যায় যে টিসিবির পণ্য বাজার দরের চেয়ে কম দামেই বিক্রি হবে। আরকে// এআর  
বিসিএস ক্যাডার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নীতিমালায় পরিবর্তন আসছে

পরিবর্তন আসছে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায়। শুরু থেকে শুধুমাত্র বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হলেও এখন এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে প্রশিক্ষণের ফলাফলও। ক্যাডার সার্ভিস নিয়োগ পাওয়ার পর প্রশিক্ষণের ফলাফল তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে অনেকটাই অবদান রাখবে। এমন একটি খসড়া প্রস্তাবনা প্রণয়ণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিবিএস পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের ফলাফল সমন্বয়ে আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে। এমন বিধান রেখেই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা-১৯৮৩ সংশোধন হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই সংশোধনীর খসড়া তৈরি করেছে। এখন যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে সংশোধনী আনা হবে। নতুন প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিসিএস নিয়োগকালীন পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণের সমন্বয় তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার ৬০ শতাংশ আর বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ৪০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হবে। প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার উপর নির্ধারিত নম্বরের ভিত্তিতে তাদের আন্ত:ক্যাডার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। তবে বর্তমানে শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয় বিসিএস পরীক্ষার ফলের উপর ভিত্তি করে। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমন বিষয় দেখা হয় না। এখানে নানা বিষয় দেখা হয়। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতা হচ্ছে একটি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,  এবিষয় আলোচনা চলছে। বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে বিধিগত কোন জটিলতা আছে কি-না তা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে নিয়োগপ্রাপ্তদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন না করে সরাসরি পিএসসিতে অথবা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই ব্যাচের সব কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ অভিন্ন সিলেবাসে করার বিষয়টিও বিধিমালায় যুক্ত করা উচিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিসিএস কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে বিদ্যমান পদ্বতি সংশোধনে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। পরে জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ক্যাডার সার্ভিসে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা আরও পর্যালোচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কয়েকটি সভা করে বিধিমালা সংশোধনের সুপারিশ করে। ওই সূত্র আরও জানায়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের সিলেবাস হবে অভিন্ন। বর্তমানে পৃথক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পৃথক সিলেবাসে কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও সামঞ্জস্য থাকে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে প্রশিক্ষণ প্রার্থীদের মূল্যায়নের নিয়ম করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ইত্যাদি বিষয়েও নীতিমালা তৈরির বিষয়টিও থাকছে ওই বিধিমালায়। এ বিষয় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসির) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ ই ম নেছার উদ্দিন বলেন, কমিশনের মতামত ইতোমধ্যে প্রতিবেদন আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমার কোনো মতামত নেই। তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে মেধা স্কোর সমন্বয় করতে হলে বিদ্যমান বিধিমালা বিশেষ করে বিসিএস নিয়োগবিধি ১৯৮১, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা ১৯৮৩ সংশোধন প্রয়োজন। এটি করতে জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালা যাতে সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। টিআর/ এআর

রহস্যই থেকে যাচ্ছে ‘সুবোধ’

‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই ‘, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, সময় এখন পক্ষে না, ‘সুবোধ এখন জেলে! পাপবোধ নিশ্চিন্তে করছে বাস মানুষের হৃদয়ে।’ খাঁচায় বন্দি সূর্য হাতে অগোছালো চুল-দাঁড়ির এক তরুণের নাম ‘সুবোধ’। বিধ্বস্ত আর বিপর্যস্ত চেহারার এই সুবোধ ও তাকে উদ্দেশ্য করে এই লেখা এই গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্রগুলো গত বছর আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে দেখা মেলে। এটি পুরোনো খবর। নতুন সংবাদ হলো রাজধানীতে সুবোধ সিরিজের আবারও নতুন দেয়ালচিত্র চোখে পড়ছে। এবারের দেয়ালচিত্রে দেখা যাচ্ছে বিষাদগ্রস্ত এক কিশোরীর অবয়ব। তার বুকে নকশাদার ফ্রেমে বাঁধানো লাল-সবুজের পতাকা নগরবাসীর মনোযোগ কাড়ছে।

একই সময়ে ৩ নিয়োগ পরীক্ষা: বিপাকে চাকরিপ্রার্থীরা

একই সময়ে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষার সময় নির্ধারিত করায় বিপাকে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- জীবন বীমা কর্পোরেশন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পরীক্ষার জন্য আগামী  ২০ এপ্রিল শুক্রবার  দিন ধার্য  করা হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই এই তিন নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছেন। জানায় যায়, আগামী ২০ এপ্রিল শুক্রবার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেডের পরীক্ষা সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। অন্য দিকে একই দিনে জীবন বীমা কর্পোরেশনে জুনিয়র অফিসার পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৯টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষা একই সাথে এমসিকিউ এবং লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। অপরদিকে সোনালী ব্যাংক অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষা হবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান জানান, একজন চাকুরিপ্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু প্রায় অভিন্ন সময়ে একাধিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমাকে যে কোন একটা পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। অথচ একজন বেকারের নিকট হতে আবেদন ফি হিসেবে অনেক টাকাও নেওয়া হচ্ছে। আমরা সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাই এবং পরীক্ষাগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নেওয়ার দাবি জানাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য সচিব মো. মোশাররফ হোসেন খান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, দেখুন এক বছরে প্রায় ৫২ টি শুক্রবার পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কিছু শুক্রবারে বিভিন্ন দিবস থাকে যার ফলে ওই সময় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয় না। এ অল্প সময়ের মধ্যে আমাদেরকে অনেক পরীক্ষা নিতে হয়।   এমএইচ/টিকে

বেপরোয়া চালক, অসতর্ক পথচারীতে বাড়ছে দুর্ঘটনা

বেপরোয়া চালক আর অসতর্ক পথচারীর যত্রতত্র পারাপার সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাস মালিকরা অর্থবিত্তে বলীয়ান, রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রতাপশালী হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার মামলা হলেও সুস্থ বিচার পায় না ভুক্তভুগীরা। অনেকেই আবার মামলা করেন না। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিজয় সরণি মোড় ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা বেড়েছে। শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও থানার তথ্য মতে, শাহবাগ থানায় ২০১৫ সালে বেপরোয়া গাড়ি চাপায় মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয় আটটি। অথচ এর পরের বছর ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯টি। আর ২০১৭ সালেই মামলা হয়েছে ১৬টি। একই চিত্র তেজগাঁও থানাতেও। ২০১৫ সালে তেজগাঁও থানায় নয়টি মামলা হলেও পরের বছর সড়কে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৬টি। চলতি বছর শুরু থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই তিনটি থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় আরও ১০টি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এবিষয় সহকারী কমিশনার সাইফুল আলম মোজাহিদ ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগে কর্মরত আছেন। গত ২৬ মার্চ ভোরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য চকবাজারের বাসা থেকে পুলিশের গাড়িতে করে দারুস সালাম যাচ্ছিলেন। শাহবাগ মোড়ে মৎস্য ভবন থেকে আসা একটি ট্রাক তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ওই গাড়ি থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মুজাহিদ ও তাঁর গাড়িচালক পুলিশ কনস্টেবল কামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েক দিন আগে হাসপাতাল থেকে বাসায় আসা অসুস্থ এই পুলিশ কর্মকর্তা এখনো কাজে যোগ দিতে পারেননি। দুই যুগের বেশি সময় ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই নামের সংগঠনটি। এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলছিলেন, চালকেরা কোনো মতে গাড়ি চালাতে জানেন। তাঁদের নেই প্রশিক্ষণ আবার অনেকেই মাদকাসক্ত। তাঁদের সংগঠন অনেক শক্তিশালী। এ কারণে তাঁদের অনেক সাহস। তাঁরা ইচ্ছা মতো গাড়ি চালান। পাঁচজন হেলপার ও গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস মালিককে জমা বাবদ দৈনিক আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা দিতে হয়। এতো টাকা জমা দিয়ে ভালো ভাবে চলার মতো তাদের উপার্জন হয় না।  বাসচালক রশিদ বলছিলেন, পাঁচ বছর আগেও দিনে বাস মালিককে দিতে হতো ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। অথচ এখন দৈনিক ২৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। তেলের খরচ, হেলপারদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ মেটানোর পর যদি কিছু থাকে, তা নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়। বিআরটিসি বাসের সুপারভাইজার বিল্লাল হোসেন বলেন, বাস মালিক ভাড়া বাড়ানোর কারণে চালক চাপে থাকেন। দ্রুত যাত্রী তোলার জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। বাস চালকেরা বেশি লাভের আশায় মালিকদের কাছ থেকে বাস ভাড়া নিচ্ছেন বলে জানান ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।  তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় রাস্তায় চালকেরা তাড়াহুড়ো করে থাকেন। এ কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। আর কম বয়সী অদক্ষ চালকেরাও বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। বাস চালকদের কাছে মালিকেরা যাতে এভাবে বাস বাড়া না দিতে পারেন, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মনে করেন, কয়েক বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। এর কারণ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের নিয়ে সরকারের মাথা ব্যথা নেই। ২০০৯ সালের পরপরই  সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেভাবে কাজ করে, এখন সেভাবে কাজ করছে না। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কাঁচামালের কাজ করতেন বরিশালের বাকেরগঞ্জের খোকন মৃধা। স্ত্রী হাজেরা বেগম এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বরিশালে বাস করেন। সংসার খরচ বাবদ মাসে সাত হাজার টাকা পাঠাতেন খোকন। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হাজেরা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী খোকন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্বামীকে হারানোর পর কীভাবে সংসার চলছে, জানতে চাইলে হাজেরা বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে বড় বিপদে আছি। পরের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে বেঁচে আছি। খোকনের মৃত্যুর বিষয়ে হাজেরা বলেন, প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আমার স্বামী মারা যান। তার মালিক অনেক বড়লোক। সেই গাড়িও তিনি ছাড়িয়ে নিয়েছেন। গাড়ির চালকও জামিনে আছেন। জনতা ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী আবুল হাশেম জাতীয় জাদুঘরের সামনে মারা যান গত ৭ জানুয়ারি। তাঁর চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বললেন, ঢাকায় চাকরি করে দুই ছেলে সাইদুল ও হাসানের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন তাঁর ভাই। সড়ক দুর্ঘটনায় তার ভাই মারা যাওয়ার কারণে এখন তাঁদের খরচ কে চালাবে? লেখাপড়া ছেড়ে এখন তাঁরা কাজে নেমেছেন। টিকে

রাজীবের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়

জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে- এ তিন কাজ সৃষ্টিকর্তার হাত দিয়ে। এমনটাই বিশ্বাস করেন নিয়তিবাদীরা। তবে নিয়তি নির্ধারিত হলেও অনেক কিছুই মেনে নেওয়া কষ্টের। মেনে নেওয়া যায় না। সমাজ জীবনে প্রতিনিয়ত এরকম মেনে নিতে না পারা অসংখ্য ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। অনাকাঙি্ক্ষত অনেক ঘটনা আমাদের মনে যেমন ক্ষোভ জন্ম দেয় তেমনি রক্তক্ষরণ বাড়ে হৃদয়ের। আমাদের তেমনি একটি রক্তক্ষরণ হচ্ছে রাজীব হোসেনের জন্য। গতকাল রাত পৌঁনে একটায় রাজীব মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পন করেন। এর আগে পনের দিন রাজীব লড়াই করেছে মৃত্যুর সাথে। প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের নাগরিক জীবনের বড় প্রতিচ্ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। আমাদের আনন্দ বেদনা, হাসি কান্না, ভালো লাগা বা খারপ লাগা, নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকি ভার্চুয়াল জগতে। রাজীবও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রধান বিষয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে রাজীবকে হারানোর বেদনায় চলছে রাগ, ক্ষোভ, হতাশার বহি:প্রকাশ। চলছে অশ্রুপাত। সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া তার ফেসবুকে লিখেছেন, "যেভাবে বাসের হাতলে তোমার হাত চাপা পড়েছিল তার দায় কার? তোমার নাকি এই বল্গাহীন, আইনের শাসনরহিত রাষ্ট্র বা সমাজের? এখন তুমি এসবের ঊর্ধ্বে। অনেক দূরে…বাসের চিপায় তোমার হাতের ছবি, বগল থেকে পড়ে যাওয়া হাত দেখে প্রার্থনা করেছিলাম, তুমি যেনো আর ফিরে না আসো। কর্তনকৃত হাত, রুগ্ন সমাজ, সন্ত্রস্ত রাষ্ট্র তোমাকে আরও অনেক কষ্ট দিত। অ-নে-ক কষ্ট। আপাতত সেই কষ্ট থেকে মুক্তি। ভাই আমার, যেখানে থাকো ভাল থেকো।" এই স্ট্যাটাসে রাজীবের হাত হারানোর যন্ত্রনা শুধু রাজীবের নয়, বরং সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ার অভিব্যাক্তি লক্ষ্য করা যায়। রাজীবকে নিয়ে যে স্ট্যাটাসগুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এসেছে তার অনেকগুলোতে দেখা গেছে ক্ষোভ। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যখন উল্টো ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় থাকেনা, তেমনি ঘুরে দাঁড়ানোর আহবানও দেখা যায় কোনো কোনো স্ট্যাটাসে। তেমনি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন স্নিগ্ধা দাস গুপ্ত নামে একজন সমাজকর্মী। তিনি তার স্ট্যাটাসে বলেন, "এটা শুধু নিছক একটা নিউজ হওয়ার কথা না। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষায় যাওয়া একটা দেশের ভবিষ্যৎ চলে গেছে। প্রতিটি ছাত্রের উচিত ওলট পালট করা ভূমিকম্প করা। তারপর প্রশাসন কি করবে তা দেখা।" ফেসবুকে শরীফ নিজাম নামে একজন তার অনুভূতি প্রকাশ ককরেছেন এভাবে। "একদা এ শহরে রাজীব ছিল, সাথে স্বপ্নরাও ....... জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে বেড়ে উঠা রাজীব চলে গেলেন। জীবনের আঁকাবাঁকা পথে চলতে চলতে দানব বাস রাজীবের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। অনেকটা অভিমান করেই..... দুই সপ্তাহ আগে প্রাণ–টগবগে দুচোখে স্বপ্ন জ্বলজ্বল করা রাজীব এখন স্মৃতি হয়ে গেলেন। দুর্ঘটনার পর অনেক অভিমান করে হাসপাতালে একবার বলেছিলেন, ‘রাজীব কে? রাজীব মারা গেছে!’ কার সঙ্গে অভিমান করেছিলেন, সেটা আর কখনো জানা হবে না। লড়াই করে বড় হয়েছিলেন। এই শহর তাঁর লড়াইকে সম্মান দিয়ে দাঁড়ানোর মতো এক চুল জায়গাও দিল না। এখন শেষ আশ্রয়ের জন্য তিনি চলে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে। আর কখনো স্বপ্ন দেখার জন্য তাঁকে ফিরতে হবে না ইট-কাঠের এই শহরে...." তবে রাজীবকে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন জামিল আল ফয়সাল নামে একজন। তাঁর স্ট্যাটাসে উঠে আসে রাজীবের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক অজানা কথা। স্ট্যাটাসটি হলো "আর কত জীবন অকালে ঝরে যাবে? খুব ভালো করে পৃথিবীটাকে বুঝার আগেই “মা” পৃথিবী থেকে চলে যায়, ছোট দুই ভাই আর বাবা। মা মারা যাবার কিছুদিন পর বাবা অনেকটা পাগলের মতো হয়ে যায়, বাড়ি থেকে হয়ে যায় নিরুদ্দেশ। একদিন পাওয়া যায় মৃতদেহ! কি নিষ্ঠুর বাস্তবতা!! পৃথিবীতে বাবা-মা দুজনের কেউ নেই। ছোট দুই ভাই সহ নানী বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিছুদিন পরে আবার নানিও মারা যায়। বাবা-মা মারা যাবার পর দাদা-দাদী বা নানা-নানীই আশ্রয়স্থল, কিন্তু দাদী বা নানী মারা যাবার পরে আসলে দূষিত অক্সিজেন ছাড়া আর কিছুই থাকে না দুনিয়ায়। নানা-দাদা অথবা মামা-কাকারা কখনোই সেভাবে আপন হয়ে উঠে না। নানী মারা যাবার পর ঢাকায় খালার বাসায় থেকে হাই স্কুল। আর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকে ভর্তি হয়। ছোট দুই ভাই এতীমখানায়। নিয়মিত টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতো আর এক্সট্রা কিছু ইনকাম করতে কম্পিউটার কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ। উদ্দেশ্য একটাই নিজে কিছু করা। মা-বাবা কেউ নেই ছোট দুইটা ভাই এতীমখানায়..... সেদিন খালার কাছে গেলে খালা বিয়ে করে জীবন শুরু করতে বলে কিন্তু তার উত্তর “খালা সবকিছুই গুছিয়ে নিয়ে এসেছি, অল্প কিছুদিন পরেই সব সমাধান হয়ে যাবে। ঠিক তার পরের দিন দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডান হাত ছিড়ে যায়। লেগে থাকে অন্য গাড়িতে, মাথার খুলি ভেঙ্গে যায়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একটানা ৭ দিন অচেতন। গতকাল রাত ১২টা ৪০ মিনিটে পৃথিবী ছেড়ে মা-বাবার কাছে চলে যায় রাজীব। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ছোট দুই ভাই এখনো এতীমখানায়... গরু-ছাগল চিনতে পারলেই হয়তো আমরা ড্রাইভারি লাইসেন্স দিয়ে দিবো, দুই-তিন হাজার টাকা এক্সট্রা দালালকে দিয়েই করিয়ে নিবো ড্রাইভারি লাইসেন্স। কিন্তু এমন হাজার হাজার রাজিবের কাছে কি জবাব দিবো? তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।" জীবন সংগ্রামকে পুঁজি করে স্বপ্ন পূরণের পথে ছিল তার যাত্রা। সে যাত্রা পিষ্ঠ হয় রাস্তায়। এখনই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। টিকে

রমজানের দশদিন আগেই পণ্য সরবরাহ করবে টিসিবি

রোজা শুরু হতে এখনও মাস খানেক বাকি। রমজান শুরুর আগেই পণ্য মজুদ বাড়াতে তৎপর রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। লক্ষ্য রোজার বাজারে খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ ঠিক রাখা এবং জনদুর্ভোগ লাঘব করা। প্রতি বছর রমজানে ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার বাড়তি চাহিদায় দেশের বাজারে দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এমনকি ওই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এ কারণে এবার আগে থেকেই এসব পণ্য পর্যাপ্ত মজুদ করেছে টিসিবি। মজুদকৃত পণ্য শেষ রমজান পর্যন্ত ক্রেতাদের হাতে তুলে দেবে টিসিবি। এ বিষয়ে টিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান। তবে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে টিসিবি প্রতি বছরই প্রস্তুত থাকে। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা আরো সহজ হবে এবং পণ্যের দামও বাড়বে না বলে আশা করছি। বাজার চাহিদার কতটুকু টিসিবি পূরণ করতে পারবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিসিবির পণ্য দেশের সব শ্রেণীর মানুষের চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। তবে মানুষের চাহিদা পূরণে আমাদের অংশগ্রহণ একেবারে কমও নয়। জরুরি মুহূর্তে বা অন্য যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটি ২৭৮৪ জন ডিলার রয়েছে। ১৮৭টি ট্রাকসেল কাজ করছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, বিভাগীয় শহরে ৪টি এবং জেলা শহরগুলোতে ২টি করে ট্রাকসেল কাজ করবে।এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে টিসিবির নিজস্ব ১০টি বিশেষ খুচরা সেলের দোকান রয়েছে। যেগুলো রমজানের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খুচরা পণ্য বিক্রি করবে। অন্য সময় এ কেন্দ্রগুলো দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এবার রমজান উপলক্ষ্যে টিসিবি তিন ধাপে পণ্য সরবরাহ করবে। প্রথম দফায় রমজানের ১০ দিন আগে পণ্য সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় দফায় রমজানের প্রথম সপ্তাহে এবং তৃতীয় ও শেষ দফায় রমজানের মাঝামাঝি পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে শেষ  দফায় বাজারে পণ্যের চাহিদা বিবেচনা করে পণ্য ছাড়া হবে। প্রতিবছর রমজানে চাহিদা বাড়ায় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। এ বছরও রমজানকে সামনে রেখে ডিলার চাহিদার বেশি পণ্য মজুদ করেছে টিসিবি। এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, রমজানকে সামনে রেখে চাহিদার চেয়ে বেশি মজুদ করা হয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রোজার অপরিহার্য পণ্য ছোলা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এরই মধ্যে কী পরিমান ছোলা মজুদ করা হয়েছে তা বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া বাজারে পণ্যের দাম মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে টিসিবির বিশেষ কোন কমিটি কাজ না। তবে শুধু টিসিবির পণ্য সরবারহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখতে মনিটরিং কমিটি দেশব্যাপী তৎপর থাকবে বলেও জানান মুখপাত্র। টিসিবির পণ্যের দামের ব্যাপারে হুমায়ুন কবির বলেন, রমজানের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব পণ্যের দাম নির্ধারণ করবে। এর আগে দামের বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। এমনকি কি পরিমান পণ্য মজুদ করা হয়েছে তাও আগে থেকে বলা যাবে না। দেখা গেছে, প্রতি বছর রমজানে বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। বিশেষ কয়েকটি পণ্য নিয়ে সিন্ডিকেটের কারসাজি শুরু হয়। কখনও চিনি নিয়ে, কখনও ছোলা নিয়ে কেলেঙ্কারি চলে। কখনও পেঁয়াজ ও রসুন চলে যায় সিন্ডিকেটের কবলে। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট রমজান মাসের বাড়তি চাহিদা পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। রমজান শুরুর দু-তিন মাস আগ থেকে সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা শুরু হয়। সিন্ডিকেটের বিষয়ে টিসিবির কি প্রস্তুতি আছে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, টিসিবি মনিটরিং করে না। এটার জন্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও বাণিজ্যমন্ত্রণালয় কাজ করে। তবে সিন্ডিকেটের যে বিষয়টি সেটার জন্যই টিসিবি বাজারে পণ্য সরবরাহ করে। যেন কোন পক্ষ কৃত্তিম সংকট তৈরি করতে না পারে। আরকে// এআর

এখনো আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর ৪ বছর পার হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর। অথচ প্রতিবন্ধী ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন সমূহের প্রাণের দাবি এ অধিদপ্তরের বাস্তবায়ন। প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহণে কোনো উদ্যোগ না থাকায় জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদে এই নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে এ অধিদপ্তর উদ্বোধন করেন। জাতিসংঘ ব্যক্তি অধিকার সনদ বিশ্বে প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়ন দর্শন ও যুগান্তকারী পরিবর্তনে বিশ্বাসী। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ এই সনদ অনুসমর্থন করে। এছাড়াও ৪৬ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ করে।  কিন্তু সনদ অনুযায়ী সে সময় অন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে সনদের আলোকে আইন প্রনয়ণ এবং তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কাঠামো গঠণ করেন। সেই অনুসারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন- ২০১৩ ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন- ২০১৩ পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ২০১০ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। একই বছরের আগস্ট মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন দেয়। সরকার তখন জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রের প্রাঙ্গনে অধিদপ্তরের জন্য নয় তলা ভবন নির্মাণ শুরু করে। নানা জটিলতা কাটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় তার অনুমোদন দেয়। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ নানা জটিলতায় প্রক্রিয়া থেমে যায়। ২০১৬ সালে `প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়নে চাই প্রতিনিধিত্ব` শীর্ষক এক সেমিনারে ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে গড়িমসির জন্য আমলাতন্ত্রকে দায়ী করেন। যদি সিআরপিডি অনুসমর্থনকারী আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ২০১২ সালের মে মাসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্ষমতায়ন অধিদফতর চালু করে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতকেই প্রতিবন্ধী মানুষের একমাত্র খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  অথচ প্রতিবন্ধী মানুষদের সংগঠিত করা, নেতৃত্বের বিকাশ, দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সহ উদ্যোক্তা বিকাশে যাতায়াত, সর্বত্র প্রবেশগম্যতা, নিশ্চিতের জন্য এখনো কার্যক্রম পরিচালণার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য,  তদারকি বা সমন্বয়ের জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো একক প্রতিষ্ঠান নেই। কিন্তু জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদ অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য আইন বাস্তবায়ন, প্রচলিত আইন সমূহের সামঞ্জস্যকরণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রনয়নে কর্মসূচী তদারকি, সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করতে এ অধিদফতর প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। প্রতিবন্ধী সংগঠন বি- স্ক্যান এর সভাপতি সাবরিনা সুলতানা একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, প্রতিবন্ধী অধিদফতর বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন বিষয়ে কর্মী গড়ে তোলা সহজ হবে। একই সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল বাজেট কাঠামো গড়ে তোলা সহজ হবে। পিএনএসপি- এর সভাপতি সালমা মাহবুব বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর প্রতিষ্ঠিত হলে, বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিযোগ প্রদান ও প্রতিকার সহ জাতীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই অধিদফতর ভূমিকা রাখবে। সংবিধানে দেশের সকল নাগরিকের সমঅধিকার দিলেও সর্বস্তরে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দেবে এটাই প্রত্যাশা। টিকে

চিকিৎসকদের অবহেলায় বাড়ছে দুর্ভোগ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বহির্বিভাগে ভিড় করছে। সকাল ও দুপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশরা সেবা দিয়ে থাকলেও বৈকালিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে কেবল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাই তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা পেতে দেশের প্রান্তিক এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী এসে ভিড় করছে হাসপাতালটিতে। তবে চিকিৎসকদের অবহেলা ও কর্মচারীদের দৌরাত্ম্যে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। স্বল্পমূল্যে মানুষকে বিশেষ সুবিধে দিতে ২০১১ সালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈকালিক বিশেষায়িত (বিশেষজ্ঞ) বহির্বিভাগ (আউটডোর) চিকিৎসা সেবা চালু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুরুর দিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবাকার্যক্রমের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালে বৈকালিক সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এই সেবা চালুর পর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে ঢাকা আসতে থাকেন শত শত রোগী। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও, বাড়ানো হয়নি চিকিৎসকের সংখ্যা। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা প্রাইভেট চেম্বারমুখো হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে, বৈকালিক সেবায় প্রতিদিন ২৩টি বিভাগের অধীনে সর্বোচ্চ ২০ জন করে ৪৬০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিনই বৈকালিক সেবা নিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজারো মানুষ বৈকালিক সেবা নিতে হাসপাতালে হাজির হন। তবে মাত্র ৪৬০ জন রোগী এ সেবা নিতে পারলেও চিকিৎসক না দেখিয়েই ফিরতে হয় শত শত রোগীকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষদেরকে। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক এলাকা থেকে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৈকালিক সেবা নিতে আসা রোগীরা সকাল ১০টা থেকেই হাসপাতালের সামনে লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর দুপুর ১২ টা থেকে টিকিট বিতরণ শুরু হয়। এতে হাজারো রোগী ও তাঁর স্বজনরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। বিশেষ করে, বৈকালিক সেবায় কর্মচারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীদের গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। অনেক সময় কর্মচারীরা রোগী ও তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে ১০০-৩০০ টাকার বিনিময়ে ‘কর্মচারী কোটায়’ টিকিট সংগ্রহ করে দেন। এতে অনেকেই লাইনের প্রথমদিকে দাঁড়িয়ে থাকলেও বেশির ভাগ সময় তাঁদেরকে জানানো হয়, ‘টিকিট শেষ হয়ে গেছে’। তাই চিকিৎসা সেবা না নিয়েই তাদেরকে ফেরত যেতে হয় নিজ নিজ ঠিকানায়। বৈকালিক স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা শায়লা নাজনীন বলেন, মেডিসিনের একজন বিশেষজ্ঞ দেখাতে আমি টানা দুদিন এসে এখানে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু টিকিট না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়েছে। তবে ওইদিন দেখেছি, অনেকে দুপুরের দিকে এসেও চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। কর্মচারীরা তাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে সিরিয়াল ব্রেক করে তাদেরকে টিকিট দিয়েছেন। তাই আমাদের খালি হাতে ফেরত যেতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের এখন প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার দেখাতে হবে। তবে রোগীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু টিকিটে সমস্যা-ই নয়, পরপর চিকিৎসক বদলের কারণে বদলে যাচ্ছে রোগীর প্রেসক্রিপশানও। সঙ্গে বদলাচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধরণও। এর সঙ্গে যুক্ত নতুন নতুন ওষুধ। এতে রোগীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে, সংশয়-সন্দেহ। এমনই একজন রোগী সমবায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল জলিল। তিনি বলেন, ‘আমি অর্থপেডিক ডিপার্টমেন্ট গত ৩০ ডিসেম্বর ডাঃ ইউছুপ আলিকে পায়ের ব্যাথা সংক্রান্ত সমস্যার কারণ দেখালে তিনি আমাকে এমআরআই করার পরামর্শ দেন। সাথে দুই মাসের মেডিসিন দেন । আমি এমআরআই না করিয়ে মেডিসিন খেতে থাকি। তার মাস খানেক পর ২৩ জানুয়ারি আবার এখানে আসি, কিন্তু দেখা হয় অন্য ডাক্তারের সাথে। নতুন ডাক্তার আবার মেডিসিন লিখে দিল। এরপরে এমআরআই করিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি এসে সেই রিপোর্ট দেখল আরেক ডাক্তার। আবার তিনি ১৪ দিনের নতুন ওষুধ দেন। ওষুধ খাওয়ার পরও ফের আমাকে আসতে হলো। কোনো প্রতিকার-পেলাম না। তাই ভাবছি কোনো প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার দেখাবো।   এদিকে আরেক রোগী আয়েশা আকতার বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে মন মত সেবা পাচ্ছি না । ডাক্তারকে ভালো ভাবে সমস্যার কথা বলার আগেই তিনি (ডাক্তার) মেডিসিন লেখা শুরু করল। তিনি আমার কথা শুনতে নারাজ। শুধু (ইন্টার্ন) শিক্ষানবিশদের মাধ্যমে দেখেন। তাড়াহুড়া করে রোগী দেখেন । প্রাইভেট চেম্বারে যেভাবে সময় নিয়ে দেখেন এখানে সেইভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখলেন না। যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় মনটাই খারাপ হয়ে গেল’। রোগীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, হাসপাতালটির পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, এমন অভিযোগ আমার জানা নেই। বৈকালিক সেবাকে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ দাবি করে তিনি বলেন, এখান থেকে খুব স্বল্প খরচে সাধারণ মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নিতে পারছে। তিনি আরও জানান, ৩০ টাকার বিনিময়ে সকালে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা পেয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিকেলে ২০০ টাকার বিনিময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সকালের তুলনায় বিকালে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা আড়াইটায় অফিস শেষ করে তিনটায় বাড়তি সেবা অর্থাৎ জনসেবার জন্য বসেন। টিকেটের অর্থ থেকে চিকিৎসকরা পান ১০০ টাকা। বাকি টাকা হাসপাতালের তহবিলে যায়। প্রতিদিন দূর দুরান্ত থেকে হাজারো রোগী আসেন। এখানে অনেক অনেক চিকিৎসক বসেন , যাদের সাক্ষাৎ পেতে গেলে অনেক দিনের সময় লাগে। এখন যেহেতু তাঁরা এখানে বসেন, তাই আমি মনে করি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষ এসে ভালোই  সেবা পান। ভবিষ্যতে এই সেবাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আরও বেশি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।    স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোড়গোরায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের মানুষ যাতে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পান, সেজন্য গ্রাম পর্যায়ে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে । এরই অংশ হিসেবে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম জোরদার করে সরকার। ভিডিও:  এমজে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি