ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ৫:১৩:২৩

প্লাস্টিক দ্রব্য শরীরের যে ৫ ক্ষতি করে

প্লাস্টিক দ্রব্য শরীরের যে ৫ ক্ষতি করে

একাধিক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সিংহভাগ প্লাস্টিকের জিনিসপত্রে, যেমন ধরুন খাবার প্লেট থেকে ব্রাশ, জলের বোতল থেকে কাপে এত মাত্রায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে যা ধীরে ধীরে আমাদের আয়ু কমায় চোখে পরার মতো। ব্যবহৃত প্রায় সব প্লাস্টিকের সামগ্রিতেই লুকিয়ে রয়েছে একটি বিষ, যার নাম এক্সেনোস্ট্রেজেন। এটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে হরমোনাল ইমব্যালেন্স দেখা দেওয়ার কারণে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এক্সেনোস্ট্রেজেন আরও যেভাবে ক্ষতি করছে প্লাস্টিকের বোতল থেকে শুরু করে থালা, বাটিতে উপস্থিত থাকে এই কেমিকালটি। তাই তো এমন বাসন বা বোতল ব্যবহার করা মাত্র খাবারে এক্সেনোস্ট্রেজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে এমন পানি, ভাত বা অন্য কোনও খাবার দীর্ঘ দিন ধরে খেয়ে গেলে শরীরের অবনতি ঘটতে শুরু করে। বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় সব ধরনের প্লস্টিকের সামগ্রিতেই এই উপাদানটি উপস্থিত থাকে। এমনকী যেসব প্লাস্টিকের বাসন পত্রে "বি পি এ" ফ্রি লেখা থাকে সেগুলিতেও এক্সেনোস্ট্রেজেনের মাত্রা বিপদ সীমার উপরে থাকে। ফলে এমন প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহার করলে দেহের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়। প্লাস্টিক জিনিস ব্যবহারে সাধারণত যেসব শারীরিক সমস্যাগুলি হতে পারে- ১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায় প্লস্টিক বোতলে রাখা ঠান্ডা পানি খেতে তো ভাল লাগে। কিন্তু সেই পানিই আপনার আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। একাধিক গবেষণায় একথা প্রামাণিত হয়েছে যে, প্লস্টিক বোতলে থাকা একাধিক রাসায়নিক আমাদের রক্তে মিশে যাওয়ার পর একে একে শরীরের একাধিক অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই কমিয়ে দেয় যে নানাবিধ সংক্রমণের আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।  ২) বাইফেনাল এবং শরীর প্লাস্টিক বোতলে পানি রাখলে "বাইফেনাল-এ" নামে একটি রাসায়নিক পানির সঙ্গে মিশে যায়। তারপর সেই পানি শরীরে প্রবেশ করলে ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি, বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই আর প্লাস্টিক বোতলে পানি না রেখে আগের মতো কাঁচের বোতল ব্যবহার শুরু করুন। দেখবেন শরীর সুস্থ থাকবে। ৩) শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিকের পরিমাণ বেড়ে যায় প্লাস্টিক বোতলে উপস্থিত হাজারো কেমিক্যাল পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে আরও বেশ ক্ষতিকর কেমিক্যালের জন্ম দেয়, যেমন ফ্লোরায়িড, আর্সেনিক এবং অ্যালুমিনিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীরের পক্ষে ভাল নয়। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে এই রসায়নিকগুলি শরীরে নিয়মিত ঢুকলে বিষক্রিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ৪) ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে প্লাস্টিক বোতলে উপস্থিত ‘ফেতালেটস’ নামক একটি রাসায়নিক পানির সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্র কোষের ভিভাজনে নানা পরিবর্তন হতে শুরু করে, যা থেকে লিভার ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ৫) পানি নয় বিষ পান করছেন আমরা অনেকেই গাড়িতে ব্লাস্টিক বোতলে পানি রেখে দেই। এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলেই প্লাস্টিক বোতলে ডায়োক্সিন নামে এক ধরনের বিষাক্ত উপদানের জন্ম হয়। এই উপাদানটি পানির সঙ্গে বারে বারে শরীরে প্রবেশ করলে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এই ক্ষতিকারক উপাদানটি শুধু প্লাস্টিকেই নয়, রয়েছে টিনজাত খাবারে, ক্যান সোডা, প্রেস্টিসাইড, মাংস, বিউটি প্রডাক্টে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভে, এমনকী বাথ কন্ট্রোল পিলেও এই উপাদানটির উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। সূত্র : বোল্ডস্কাই্ কেএনইউ/  
যেভাবে পশু কোরবানি করবেন

ঈদুল আজহার সময় মূলত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবাই করা মুস্তাহাব। যদি নিজের দ্বারা জবাই করতে সম্ভব না হয় তবে অন্যের দ্বারা জবাই করানো হয়। এক্ষেত্রে জবাইয়ের সময় কোরবানি দাতা সামনে থাকা উত্তম। কোরবানির পশু জবাইয়ের আগে কিছু নিয়ম জানা জরুরি। আসুন জেনে নেই, কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম ও দোয়া। পশু জবাই বা নহরের পদ্ধতি জবাই করার সময় পশু ক্বিবলামুখী করে শোয়াতে হবে। অতঃপর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ বলা পরিত্যাগ করলে জবাইকৃত পশু হারাম বলে গণ্য হবে।আর যদি ভুলবশত বিসমিল্লাহ ছেড়ে দেয় তবে তা খাওয়া বৈধ। কোরবানি শুদ্ধ জবাই করার সময় পশুর কণ্ঠনালী, খাদ্যনালী, এবং উভয় পাশের দুটি রগ অর্থাৎ মোট চারটি রগ কাটা জরুরি। কমপক্ষে তিন যদি তিনটি রগ কটা হয় তবে কোরবানির শুদ্ধ হবে।কিন্তু যদি দু’টি রগ কাটা হয় তবে কুরবানি দুরস্ত হবে না। (হিদায়া) জবাই করার সময় ছুরি ভালোভাবে ধার দিতে হবে। যাতে করে জবাইয়ের সময় পশুকে খুব বেশি কষ্ট করতে না হয়। যেমন- এক ছুরি দিয়ে জবাই শুরু করে চামড়া কিছু কাটার পর আর না কাটা কোনো ব্যক্তি জবাই করার সময় জবাইকারীর ছুরি চালানোর জন্য সাহায্য করে, তবে তাকেও ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলা। কোরবানির পশু  জবাইয়ের দোয়া কোরবানির পশু জবাই করার সময় মুখে (উচ্চ স্বরে) নিয়ত করা জরুরি নয়। অবশ্য মনে মনে নিয়ত এ নিয়ত করা যে, ‘আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করছি। তবে মুখে দোয়া পড়া উত্তম। কোরবানির পশু ক্বিবলার দিকে শোয়ানোর পর এ দোয়া পাঠ করা- ‘ইন্নি ওয়াঝঝাহতু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বি-জালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা’ অতঃপর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কুরবানির পশু জবাই করা। কোরবানির পশু জবাই করে এই দোয়া পড়তে হবে- ‘আল্লাহুম্মা তাকাব্বালহু মিন্নি কামা তাকাব্বালতা মিন হাবিবিকা মুহাম্মাদিও ওয়া খালিলিকা ইবরাহিমা আলাইহিমাস সালাতা ওয়াস সালাম।’ যদি কেউ একাকি কুরবানি দেয় এবং নিজে জবাই করে তবে বলবে মিন্নি, আর অন্যের কোরবানির পশু জবাই করার সময় ‘মিন’ বলে যারা কোরবানি আদায় করছে তাদের নাম বলা। আল্লাহ তা’আলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত নিয়মে কুরবানি আদায় করার তাওফিক দান করুন। সবার কোরবানিকে কবুল করুন। আমিন। কেআই/

সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহারে হতে পারে যেসব বিপদ

জীবন এখন উঠতে-বসতে, হাঁটতে-চলতে, সর্বক্ষণই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে৷ এতে দেখা যায়, যে কোন ধরণের কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন পাসওয়ার্ড। সোশ্যাল মিডিয়া, নেট ব্যাংকিং ইত্যাদির আলাদা আলাদা কাজের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড মাথায় সেভ রাখতে হচ্ছে৷ আর তা যদি হয় বেশি কঠিন তাহলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে৷ সে কারণে ঝুঁকি সামলাতে অনেকেই সহজ পাসওয়ার্ড বেছে নিচ্ছেন৷ কিন্তু এতে বেড়ে যায় বিপদ৷ স্পোর্টস পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাডিডাস জানিয়েছে, চলতি বছর এমন বেশ কিছু পাসওয়ার্ডের ব্যবহার বেড়েছে যা হ্যাকাররা সহজেই হ্যাক করতে পারে৷ তাই তাদের ক্রেতাদের সতর্ক করেছে অ্যাডিডাস৷ তারা জানিয়েছে, অত্যন্ত সহজ এবং প্রচলিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করাই ভাল৷ এতে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে৷ মোবাইল বা ল্যাপটপকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যান্টি-ভাইরাস, ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে থাকি৷ ঠিক একইভাবে পাসওয়ার্ডটিও শক্তিশালী হওয়া জরুরি৷ তা সে ব্যাংকিং অ্যাপই হোক বা ই-মেলের৷ আরও একটি মারাত্মক ভুল করে থাকেন অনেকে৷ তা হল- একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ডের ব্যবহার৷ ভাবুন একবার, হ্যাকাররা আপনার একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারলে বাকি কাজটা তাদের জন্য জলের মতো সোজা হয়ে যাবে৷ SplashData-র তরফে চলতি বছরের বিপদজনক ১০০টি পাসওয়ার্ড প্রকাশ করা হয়েছে৷ বিভিন্ন পাবলিক ডোমেন থেকে যে সমস্ত বেশি ফাঁস হয়েছে, তার ভিত্তিতেই একটি তালিকা তৈরি করেছে তারা৷ তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর কুড়িটি পাসওয়ার্ড জানানো হল এই প্রতিবেদনে- ১২৩৪৫, ১২৩৪৫৬৭৮, পাসওয়ার্ড, কোয়ার্টি, ফুটবল, আইলাভইউ, অ্যাডমিন, ওয়েলকাম, মাঙ্কি, লগইন, এবিসি১২৩, স্টারওয়ার্স, ১২৩১২৩, ড্রাগন, মাস্টার, হ্যালো, ফ্রিডম, হোয়াটএভার, লেটমিইন, ৬৫৪৩২১৷ এইরকম সহজ পাসওয়ার্ড দেওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন। কেএনইউ/

অল্পতেই ঠাণ্ডা লেগে যায় ৭ কারণে

সারা দিন বৃষ্টিতে ভিজেও বেজায় তরতাজা থাকে অনেকেই। অথচ ছাতা মাথার ওপর ছড়িয়ে দিয়ে চলাফেরা করেও মুক্তি নেই আপনার? ছিটেফোঁটা বৃষ্টির পানিতেও ঠাণ্ডা লেগে যায়? আসলে আমাদের কিছু অভ্যাস ও অনিয়মের কারণেই দুর্বল হয়ে যায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর এর ফলে অল্প ঠাণ্ডাতেই শরীর কাবু হয়ে পড়ে। তাহলে কী করবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক- হাত দিয়ে অনবরত মুখমণ্ডল স্পর্শ করলে অপরিষ্কার হাতে থাকে নানা রকম জীবাণু। ফলে সে হাতে মুখমণ্ডল স্পর্শ করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। হাতের স্পর্শ লাগলে ঠাণ্ডার ভাইরাস চোখ, নাক ও মুখের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তাই সব সময় সঠিক নিয়মে হাত পরিষ্কার করতে হবে। তা হতে পারে সাবান ও পানি দিয়ে, নয়তো অ্যালকোহল হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে। এ ক্ষেত্রে হাতের এপিঠ-ওপিঠ ভালোভাবে ধুতে হবে। এছাড়া খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাওয়ার আগে, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার আগে ও পরে, শরীরের কোথাও কেটে গেলে তা ব্যান্ডেজ করার আগে ও পরে, বাথরুম ব্যবহারের পর, শিশুর ন্যাপি ও ডায়াপার পাল্টানোর পর, হাঁচি ও কাশি দেওয়ার পর, পোষা প্রাণীকে স্পর্শ ও খাওয়ানোর পর, ময়লা-আবর্জনা ফেলার পর অবশ্যই ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চললে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, ডি, জিংক ও পর্যাপ্ত পানি না রাখলে অল্পতেই ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আর পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। তাই রাতে নিশ্ছিদ্র ঘুম হওয়া খুবই জরুরি। ব্যায়াম না করলে নিয়মিত ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। অ্যালার্জির সমস্যা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে অল্প ঠাণ্ডা লাগলেই তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। ডিহাইড্রেশন ঠাণ্ডা প্রতিরোধে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা খুবই জরুরি। পানি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থতায় দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান জরুরি। কর্মস্থলের বিরূপ পরিবেশ বেশির ভাগ কর্মস্থলেই সারাক্ষণ এয়ারকন্ডিশনার চলতে থাকে। তাছাড়া একই কি-বোর্ড একাধিকজন ব্যবহার, ডেস্ক নিয়মিত পরিষ্কার না করা ইত্যাদি কারণেও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে। তাই ডেস্কের ড্রয়ারে সব সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন। পাশাপাশি নিয়মিত ডেস্ক পরিষ্কার রাখুন। একে//

বাবা হতে চাইলে ভুলেও খাবেন না এই ৫ খাবার

ডব্লিউএইচও এর প্রকাশ করা একটি রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে সারা বিশ্বে ইনফার্টিলিটিতে আক্রান্ত দম্পতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-৮০ মিলিয়ানে। সব চেয়ে ভয়ের বিষয়টা হচ্ছে, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কারণ ছাড়াও কিছু খাবারের কারণেও এমন সমস্যা আরও বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ সম্পর্কে প্রায় সিংহভাগেরই কোনও ধরণা নেই। ফলে অজান্তেই মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে ২৫-৩৫ বছর বয়সিরা তাদের কর্মজীবনের কারণে বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে খেয়ে থাকেন। আর সেক্ষেত্রে জাঙ্কফুডই হয় তাদের প্রথম পছন্দ। ফলে যা হওয়ার তাই হয়! একদিক যেমন নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তেমনি স্পার্ম কাউন্ট কমে যাওয়ার কারণে বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রেও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। একাধিক গবেষণার পর কিছু খাবারকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে এই সব খাবার নিয়মিত খেলে পুরুষদের শরীরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হয় যে ধীরে ধীরে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই বাবা হওয়ার ইচ্ছা থাকলে এইসব খাবার থেকে দূরে থাকাই বাঞ্জনীয়। এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে, সেগুলো হল... ঠাণ্ডা পানীয় বেশ কিছু গবেষণা এ কথা প্রমাণ করেছে যে, নিয়মিত কোল্ড ড্রিঙ্ক পান করলে স্পার্ম কাউন্ট চোখে পরার মতো কমে যেতে থাকে। ফলে এক সময় গিয়ে বাবা হওয়ার ক্ষমতাটাই চলে যায়। তাই এবার থেকে তেষ্টার সময় গলা ভেজাতে কোল্ড ড্রিঙ্কের পরিবর্তে জুস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ক্ষতি হবে কম, উপকার পাবেন বেশি। প্রসেসড মিট প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া তো প্রায় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এমনটা হবে নাই বা কেন বলুন! অফিসের চাপে এখন আর কারও হাতেই রান্না করার সময় নেই। তাই অগত্যা এমন ধরনের খাবারেই ফ্রিজ ভরাতে বাধ্য় হচ্ছে অনেকে। কিন্তু বুঝতে পারছেন না এমন খাবার খাওয়ার কারণে শরীরের কতটা ক্ষতি হচ্ছে। ২০১৪ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তাতে দেখা গেছে, প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে স্পার্ম কাউন্ট প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। আর এমনটা হলে যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা যে আর দূর থাকে না, সে কথা তো বলাই বাহুল্য! সোডা একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সোডা ওয়াটার পান করলে শরীরের ভেতরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে। তাই বাবা হওয়ার পরিকল্পনা যদি করে থাকেন, তাহলে এই ধরনের পানীয় থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। চিজ এবং ফুল ক্রিম দুধ ২০১৩ সালে হিউমেন রিপ্রোডাকশনের উপর করা এক গবেষণা অনুসারে, দীর্ঘ দিন ধরে চিজ এবং ফুল ফ্যাট মিল্ক খেলে স্পার্ম কাউন্ট চোখে পরার মতো কমে যায়। তবে তাই বলে দুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না যেন! শুধু ফুল ফ্যাট মিল্কের বিকল্প কিছু একটা খুঁজে নিলেই চলবে। অ্যালকোহল বেশি হলে তো কোনও সুযোগই নেই। কিন্তু অল্পতেও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কারণ অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নানাবিধ ক্ষতি সাধন করে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হল স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেওয়া। তাই এবার থেকে যখন পানীয়র গ্লাস হাতে আয়েশ করবেন, তখন একবার ভাববেন এমনটা করাতে আপনার ভবিষ্য়ত অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে না তো! প্রসঙ্গত, এই খাবারগুলোর পাশাপাশি আরও কতগুলো বিষয় আছে, যা স্পার্মের স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটিয়ে থাকে। যেমন ধরুন... টাইট জাঙ্গিয়া: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইট আন্ডারওয়্যার পরলে যৌন অঙ্গ এবং তার আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে স্পার্মের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাবা হওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই জাঙ্গিয়ার পরিবর্তে বক্সার পরা শুরু করুন। দেখবেন আর কোনও ভয়ই থাকবে না। মাত্রাতিরিক্ত হারে স্মোকিং: বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত হারে ধূমপান করলে স্পার্ম উৎপাদনের ক্ষমতা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্পার্ম কাউন্টও কমে। তাই পরের প্রজন্মের মুখ যদি দেখতে হয়, তাহলে নেশায় নিয়ন্ত্রণ আনাটা জরুরি। কোলে ল্যাপটপ রাখলে: খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই কোলে ল্যাপটপে রেখে কাজ করেন। কিন্তু এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ এমনটা করলে পেটের নিচের অংশের তাপমাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে স্পার্মের উৎপাদন কমতে শুরু করে। তাই তো কাজ করার সময় ল্যাপটপ কোলে রাখতে মানা করা হয়। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

হঠাৎ কেটে গেলে কী করবেন?

তাড়াহুড়োয় বা অসাবধানে প্রায়ই ছোটখাটো কাটাছেঁড়ার সম্মুখীন হই আমরা। পরিবারে শিশুরা থাকলে তো চোট-আঘাতের ভয় আরও বেশি। যে কোনও কাটাছেঁড়াতেই জীবাণুনাশক নানা ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু সেই সঙ্গে এ-ও জেনে রাখা উচিত, হঠাৎ কেটে গেলে সামলাবেন কীভাবে, কী করেই বা রক্তক্ষরণ বন্ধ করে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচানো যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, কেটে যাওয়ার আকস্মিকতায় সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে আমরা এমন কিছু ভুল করে বসি, যাতে ক্ষতস্থান শুকোতে দেরি হয়, সংক্রমণের সম্ভাবনাও থেকে যায়। তাই ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি জানা থাকলে রক্ত ক্ষরণ কমাতে ও আচমকা ধেয়ে আসা বিপদে তা কাজে আসে। প্রাথমিক যত্নে খানিকটা আরামও বোধ করেন মানুষ। তাই জেনে নিন হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে কী কী করণীয়। ১. কেটে গেলে কীসে কাটছে, তাতে নজর রাখুন। লোহা বা জং ধরা ধারালো কিছুতে কাটলে চিকিৎসকের পরামর্শের সঙ্গে অবশ্যই সংক্রমণরোধী ইঞ্জেকশন নিন। ২. কেটে গেলে প্রথমেই জায়গাটা ভাল করে ধুয়ে নিন। অনেকেই নানা সুগন্ধী সাবান দিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করেন। সেটা না করে বরং ব্যবহার করুন অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল সাবান। ৩. ক্ষতস্থান ধুয়ে তার উপর একটা পরিষ্কার কাপড় বা গজ চেপে ধরলে রক্ত ক্ষরণ খানিকটা কমে। গাঢ় হয়ে কাটলে ক্ষতস্থানের মুখে চিনি লাগিয়ে নিন। চিনির দানা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ৪. হাতের কাছে মজুত রাখুন সংক্রমণরোধী নানা মলম ও ওষুধ। রক্তক্ষরণ কমলে বাড়িতে থাকা মলম স্থানটিতে লাগিয়ে গজ কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন। কাটাছেঁড়ায় তুলো দেওয়া আমাদের অভ্যাস। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, কাটাছেঁড়ায় তুলো দিলে, তুলোর আঁশ ত্বকে আটকে যায়, তাই তুলোর পরিবর্তে গজ কাপড় ব্যবহারই ভাল। ৫. হালকা কাটাছেঁড়া নিয়ে বাইরে বেরতে হলে তা ব্যান্ডেজে ঢেকে রাখুন। কিন্তু বাড়িতে থাকাকালীন কিছুটা সময় মলম বা ওষুধ লাগিয়ে খোলা হাওয়ায় রাখুন ক্ষতস্থান। এতে ক্ষত শুকোবে তাড়াতাড়ি। ৬. ডায়াবিটিস থাকলে অনেক সময় ক্ষত শুকোতে দেরি হয়। কিন্তু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত নন এমন কারও দীর্ঘ দিন ক্ষত না শুকোলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কেটে যাওয়ার পর রক্তপাত বন্ধ না হলে, ক্ষতে জ্বালা দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

পকেটমারি এড়িয়ে চলুন ৬ উপায়ে

টাকা পয়সা হারানোর অভ্যাস আছে আপনার? ভিড় ট্রেনে-বাসে বহু বার পকেটমার হয়েছে বা খোয়া গেছে ব্যাগ? আর ব্যাগ হারানোর পর যে কী হয়রানি হয় তা কে না জানে! শুধু টাকা-পয়সা হারানোই নয়, মানিব্যাগে থাকা নানা দরকারি নথি, ব্যাংকের কার্ড এসব হারানোর সমস্যা আরও বেশি। চুরির পর তা নিয়ে ব্যাংকে দৌড়োদৌড়ি, থানায় অভিযোগ দায়ের এসব নিয়েও কম ছুটোছুটি পড়ে না। সচেতন হলেও ভিড় বাসে-ট্রেনে সব সময় পকেটমারি রুখে দেওয়া যায় না- তা ঠিকই। তবে কিছু নিয়ম মানলে পকেটমারি হলেও হয়রানি কমবে আপনার। টাকা-পয়সার দিক থেকেও সামলে উঠতে পারবেন ক্ষতি, সঙ্গে নথিপত্র হারালেও সামাল দেওয়া যাবে। কী কী উপায়ে তা সম্ভব দেখে নিন। ১. একসঙ্গে অনেক টাকা-পয়সা রাখবেন না মানিব্যাগে। বরং, একটা হাতব্যাগ বা পাশে ঝোলানো অফিসব্যাগ সঙ্গে রাখুন, সেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখুন টাকা-পয়সা। মূল মানিব্যাগে দিনের খুব প্রয়োজনীয় টাকাটুকুই রাখুন। যা খোয়া গেলেও খুব ক্ষতি হবে না। ২. অনেককেই ব্যবসার প্রয়োজনে অনেক টাকা একসঙ্গে বহন করার অবস্থা হলে একটু কৌশল অবলম্বন করুন। ব্যাগের বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করুন। অনেক টাকা একসঙ্গে বহন করতে হলে টিফিনবক্স বা আলাদা কোনও প্যাকেটে তা নিন। টিফিনবক্স সাধারণত, চুরি যাওয়ার ভয় থাকে না। ৩. অনেকেরই অভ্যাস, সব ধরনের কার্ড মানিব্যাগেই রাখা। প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড ও ব্যাংকের নানা কার্ড রাখতে কার্ড হোল্ডার ব্যবহার করুন। সেটা ফেলে রাখুন ব্যাগের কোনও নির্দিষ্ট জায়গায়। মানিব্যাগে কখনওই নয়। তাতে কার্ড হারানোর ভয় কমবে। ৪. ব্যাগের এ দিক ও দিকে খুচরো ছড়িয়ে না রেখে বরং রাখুন মূল মানিব্যাগে। খুচরো বেশি থাকলে ব্যাগ ভারী হয়। কেউ চুপিসাড়ে তুলতে গেলে পয়সার আওয়াজও হয়। এ ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে যেতে পারেন। ৫. অনেকেই প্যান্টের পিছনের পকেটে রাখেন মানিব্যাগ। ভিড় বাসে-ট্রেনে বা জনবহুল জায়গায় সব সময় খেয়াল রাখা যায় না। তাই প্যান্টের পিছনের পকেটে টাকার ব্যাগ রাখার অভ্যাস বন্ধ করুন। হাতব্যাগে রাখুন তা। ৬. হাঁটার সময় এমনভাবে ব্যাগ নিন হাতব্যাগের চেনের দিকগুলো নিজের সামনের দিকে রাখুন। তাতে সহজেই চেনের মুখগুলোর দিকে নজর রাখতে পারবেন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

সাপে কামড়ালে ভুলেও করবেন না ৫ কাজ

গরম আর বর্ষা এই দুই ঋতুতে সাপের উপদ্রব বাড়ে। প্রত্যেক বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে। তার মধ্যে বেশির ভাগ মৃত্যুই সাপ কামড়ানোর পর পরই রোগীর যত্নে গলদ থাকার জন্য। শুধু গ্রাম বলেই নয়, শহরাঞ্চলেও মানুষের ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। সাপে কামড়ালে অধিকাংশ মানুষেরই যে ভয় ও জ্বালায় হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এ কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু অনেক কিছু জানার পরেও যে বিশেষ বিষয়গুলোয় আমরা ভুল করে থাকি তাতেই ঘটে হিতে বিপরীত। চলুন জেনে নিই সাপে কামড়ালে কী কী করলে তা ডেকে আনতে পারে বিপদ। ১. শরীরের যেখানে সাপ কামড়াবে, সেই জায়গাটিকে বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। হাঁটা-চলা করানোর চেষ্টা তো একেবারেই নয়। বেশি নাড়াচাড়ার শরীরের পেশীতে টান পড়ে। রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। ২. অনেকেই সাপে কামড়ানোর ক্ষতের পাশে কিছুটা জায়গা চিরে বা কেটে দেন। ভাবেন, এতে ক্ষতে থাকা বিষ বেরিয়ে যাবে। একেবারেই ভুল ধারণা। বরং এমন করলে রক্তে আরও দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। এতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। ৩. ব্যথা হবেই। কিন্তু ব্যথা কমানোর ওষুধ কখনও দেবেন না এ ক্ষেত্রে। এতে রোগীর প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে না, চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটবে। ৪. স্ট্রেচারে শোওয়ানোর মতো করে সোজা করে রোগীকে শোওয়ান। কাত করে, বেশি হাত-পা নাড়িয়ে শোয়াবেন না। লক্ষ রাখতে হবে কোনও ভাবেই যেন বিষ ছড়িয়ে পড়ার কোনও সম্ভাবনা না তৈরি হয়। ৫. সাপে কামড়ালে সব চেয়ে প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসার। কোনও রকম কুসংস্কারের ফাঁদে পা না দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিয়ে যান হাসপাতালে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ট্রেন-বাসে ঘুম আসে কেন, জানেন?

ট্রেন ছুটছে হুড়মুড়িয়ে, কামরার ভিতরে তিলধারণের জায়গা নেই। তার মধ্যেই হকারদের বিক্রিবাটা, শিশুর কান্না, পা মাড়ানো নিয়ে গলাবাজি— সবই চলছে পুরোদমে। তবু তারই মধ্যে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন কোণার সিটের ভদ্রমহিলা। এ ছবি কোনও সিনেমার রিল বা উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা নয়। বরং রোজকার জীবনে এমন দৃশ্য প্রায় সকলেরই চোখ-সওয়া। যে হইহট্টগোলে দু’চোখের পাতা এক করার জো নেই, সেখানেও ঘুমিয়ে কাদা এক শ্রেণির মানুষ! কিন্তু এক বারও ভেবে দেখেছেন কি, কেন এমন হয়? ঘুম কি এখানে শুধুই ক্লান্তিজনিত কারণ? নাকি যানবাহনে উঠলেই ঘুমিয়ে নেওয়া আদতে স্নায়ুরই কোনও কারসাজি? এমন মানুষদের মধ্যে কি পড়েন আপনি? পড়ে আপনার কোনও চেনা মুখ? চিকিৎসকেরা কিন্তু মোটেই হালকা করে দেখছেন না এই ‘অসুখ’। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সমর চৌধুরী যেমন এই কারণের নেপথ্যে মস্তিষ্কের থ্যালামাস-হাইপোথ্যালামাস অংশের ভূমিকার কথা বলছেন। তিনি জানাচ্ছেন, শরীরে অক্সিজেনের অভাব হলেই হাই ওঠে, পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন ঘুমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকের মধ্যেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমিয়ে পড়ার স্বভাব আছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিদ্রা বা ‘ইনসমনিয়া’ যেমন দুশ্চিন্তার কারণ, তেমনই অতিরিক্ত ঘুম বা ‘সমলোলেন্স’-ও উদ্বেগের বিষয়। সারা দিনের ক্লান্তি থাক বা না থাক, অনেকেই যেখানে-সেখানে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন সহজে। কারণ, এ সব ক্ষেত্রে গাড়ির দুলুনি বা গতি তার শরীরকে আরাম দেয়। সামান্য আরাম পেলেই তাদের স্নায়ুগুলি তাতে সাড়া দেয় ও ‘হাইপক্সিয়া’ বা ঘুমের উদ্রেক হয়। মস্তিষ্কের কোষে অক্সিজেনের অভাবে ক্লান্তিজনিত যে ঘুম আসে আর আরামজনিত কারণে আমাদের যে ঘুম পায়, তা কিন্তু একে অপরের পরিপূরক। তবে এই অভ্যাস অল্পবিস্তর থাকলে তা নিয়ে অত মাথা ঘামান না কেউই। কিন্তু তা বাড়াবাড়ি রকমের হলে তা অবশ্যই অসুখ। সে ক্ষেত্রে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্লিপিং ডিসঅর্ডার নিয়ে চিকিৎসা করেন এমন কারও পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে ঘুমের এই অস্বাভাবিকতা বুঝতে হলে, ঘুম ও শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সম্পর্কটাকেও বোঝা দরকার। মানুষের শারীরবৃত্তীয় কাজের অন্যতম ঘুম শরীরের নানা দিকের ভারসাম্য তো রক্ষা করেই, সঙ্গে মানুষের সারা দিনের কাজকেও নিয়ন্ত্রণ করে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজের শারীরবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চিকিৎসক মনিকা সাধু জানালেন, এক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাপ্তি হওয়া উচিত ৬-৮ ঘণ্টা। এর মধ্যে প্রতি ৭০-৯০ মিনিট মানুষ ঘুমচক্রের দু’টি অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়। ১) নন র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (এনআরইএম), ২) র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম)। ছ’-আট ঘণ্টার ঘুমে প্রায় চার-পাঁচটি ঘুমচক্র চলে। এর মধ্যে প্রথম দিকের এনআরইএনে হালকা ঘুমের পরেই গাঢ় ঘুম আসে। তার পরেই আসে আরও গভীর ঘুমের আরইএন। ফের আসে এনআরইএন, আর তার পর আসে আরইএন। এই ভাবেই ঘুমন্ত মানুষের শরীরে চক্রটি চলে। কিন্তু ঘুমের মধ্যে তা বোঝা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায়, এই স্লিপিং সাইকেলেই থেকে যায় গলদ, ঘুমের ঘাটতি। যেহেতু সেটা সহজে বুঝে ওঠা যায় না, তাই মনে হতেই পারে, এই তো ঘুমিয়ে উঠলাম, ফের ঘুম পাচ্ছে কেন! সঙ্গে ট্রেনের দুলুনি, বাস বা অন্য যানবাহনের গতি শরীরে আরাম এনে দেয়। মামুষ পাড়ি দেন ঘুমের দেশে। আবার নারকোলেপ্সি অসুখে ঘুম শুরু হয় র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএন) দিয়ে। এই সব রোগীর কিন্তু দিনের বেলা হঠাৎ হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের সময় শরীর প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের জোগান না পেলেও তা ঘুমে ব্যাঘাত হানে। একে বলে অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই ধরনের মানুষরা যেখানে-সেখানে, এমনকি, গাড়ি চালাতে চালাতেও ঘুমিয়ে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রভাবে অনেকে নাকও ডাকেন। তাই নাক ডাকাকেও একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বয়স হলেই নাক ডাকে মানুষ— এই মিথও তাই ভুলে যাওয়া উচিত। এ ছাড়া অ্যানিমিয়ার রোগীদেরও শরীর ক্লান্ত তাকে। ফলে তাঁরাও ঘুমিয়ে পড়তে পারেন সামান্য অবসরল পেলেই। তা হলে কি ট্রেনে-বাসে ঘুমের শারীরিক আরামজনিত কারণের সঙ্গে অন্য কোনও মানসিক কারণও কাজ করে? মনস্তত্ত্ববিদ জয়রঞ্জন রামের মতে, তা একেবারেই নয়। তিনি মনে করেন, ঘুম মানুষের শারীরিক ক্লান্তির উপরই নির্ভর করে। কতটুকু প্রয়োজন আর কতটুকু জুটছে এই অঙ্কই এখানে প্রধান। তবে অনেকেই ঘুম নিয়ে খুঁতখুঁতে হন, যেখানে-সেখানে ঘুমোতে পারেন না। সে সব পছন্দকে মানসিক অসুখের পর্যায়ে ফেলা যায় না। কিন্তু এই পছন্দ-অপছন্দের বাড়াবাড়ি ঘটলে তাকেও এড়ানো উচিত নয়। তাই ট্রেনে-বাসে যদি ঘুমোন তবে খেয়াল রাখুন শরীরে ঘুমের চাহিদা আদৌ মেটেনি বলেই কি এমন হচ্ছে? তা হলে কিন্তু দ্রুত পরামর্শ নিন চিকিৎসকদের। এমজে/

যে চিহ্ন দেখলে মুরগির মাংস কিনবেন না

ভাল করে জেনে রাখুন কোন ধরনের মাংসকে পরিত্যাগ করা উচিত। আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘এওএল.কম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ‘কমপ্যাশন ইন ওয়ার্ল্ড ফার্মিং’ একটি শিক্ষনীয় ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়েছে। চিকেন ব্রেস্টে এক ধরনের ‘হোয়াইট স্ট্রিপিং’ বা সাদা দাগ লক্ষ করা যায়। এই ধরনের মাংস না খাওয়াই ভাল। এমন নয় যে এই মাংস সহজে হজম হতে চায় না। দিব্যি সহজপাচ্য মুরগির অন্য অংশের মতোই। কিন্তু বিপদ অন্য জায়গায়। আসলে এই ধরনের দাগ এক ধরনের ‘মাসল ডিজঅর্ডার’কে চিহ্নিত করে। এই দাগ থাকার অর্থ মাংসটির গুণমান ঠিক নেই। পাশাপাশি এটি মাংসটির ফ্যাট কনটেন্টও ২২৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। কেন এমন দাগ হয় মুরগির শরীরে? আসলে দ্রুত বেশি মাংস উৎপাদনের কারণেই এমনটা ঘটে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ৬ পাউন্ড মাংস উৎপাদন করতে যেখানে আগে ৭০ দিন লাগত, এখন লাগে ৪৭ দিন। সুতরাং, এবার থেকে মুরগি কেনার সময়ে একটু খেয়াল রাখুন। এই ধরনের দাগ থেকে সাবধান। সূত্র: এবেলা একে//

যেভাবে বুঝবেন ডায়াবেটিস বাসা বাঁধতে শুরু করেছে শরীরে

আধুনিক জীবনযাত্রার ধরন ও টেনশনে ডায়াবিটিস হানা দিতে পারে যখন তখন। এর প্রভাবে জন্ম নেয় আরও আনুসাঙ্গীক অসুখ। ডায়াবিটিসের প্রভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হয় চোখ, কিডনি, চুল ইত্যাদি। শরীরে ডায়াবিটিস বাসা বাঁধতে শুরু করেছে জানতে পারলে কিন্তু আগাম সচেতন হওয়া যায়। কীভাবে তা বোঝা যায়, জানেন? ১. সারা দিন পরিশ্রমের পর ক্লান্ত হওয়া তো স্বাভাবিক। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা সারা দিনই ঘুম-ঘুম ভাব, ক্লান্তি কিন্তু ভাল কথা নয়। দীর্ঘ দিন এমন হলে রক্ত পরীক্ষা করান। রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে এমন ক্লান্তি থাবা বসায়। ২. চি২. কিৎসকদের মতে, প্রতি দিন গড়ে ১০০টা চুল পড়ে, আবার ১০০টা চুল গজায়। বর্ষা কালের আবহাওয়ার কারণে চুল পড়ার সংখ্যা খানিক বাড়ে। কিন্তু আপনার কি সারা বছরই অত্যধিক চুল পড়ছে? তাহলে সাবধান হোন। পরামর্শ নিন চিকিৎসকের। হতেই পারে, এই চুল পড়া ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত। ৩. রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে অনেক সময় শরীরে লাল, বাদামি বা হলদেটে দাগ দেখা যায়। একে চিকিৎসার পরিভাষায় ‘নেক্রোবায়োসিস লিপিডিক’ বলা হয়। ডায়াবিটিস হানা দেওয়ার আগে অনেকের শরীরেই এমন দাগ হয়। তেমন হলে সচেতন হোন তখনই। ৪. ঘন ঘন পানি তেষ্টা পাচ্ছে? মাঝ রাতে জিভ শুকিয়ে এসে ঘুম ভাঙছে? রক্তে শর্করা বৃদ্ধির অন্যতম লক্ষণ এটি। শর্করা শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায়। ডায়াবিটিকদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মান বেড়ে গেলেও এমন উপসর্গ দেখা যায়। তাই সাবধান হতে হবে এমন হলেও। ৫. অনেকক্ষণ তরল জাতীয় কিছু না খেলেও বারবার টয়লেটে ছুটতে হচ্ছে? কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না প্রস্রাব? এমন হলে সচেতন হোন। সঙ্গে প্রস্রাবের রং, গন্ধ ও কত বার তা হচ্ছে সে দিকেও নজর রাখুন। প্রস্রাবের রং হলদেটে কি? অনেক সময় প্রস্রাবের পর কমোডে বাসা বাঁধে পিঁপড়ে! এমন হলে দেরি না করে দ্রুত পরামর্শ নিন চিকিৎসকের। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে বাঁচার উপায়

সামান্য একটু অসতর্কতার কারণে নাগরিক জীবনে ঘটে নানাবিধ দুর্ঘটনা। তাই প্রতি দিনের তাড়াহুড়ো আর ব্যস্ততার মধ্যেও দুর্ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয় নানামুখী সতর্কতা। তবে নানাবিধ এ সতর্কতার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যাস সিলিন্ডার ভাল ভাবে বন্ধ হল কি না, গ্যাসের নব বন্ধ হয়েছে কি না— এ সব অত্যন্ত জরুরি ভাবনা। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচার কিন্তু প্রাথমিক শর্ত এটাই। এর পরেও বেশ কিছু জরুরি বিষয়ে নজর রাখলেই এড়ানো যায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। সিলিন্ডারের পাইপ, গ্যাসের রেগুলেটর ইত্যাদির ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখলেই বাড়িকে নিরাপদ রাখা যায়। জানেন কি, ঠিক কোন কোন দিকে যত্নবান হলে বাড়িকে সুরক্ষা দেওয়া যায়? সিলিন্ডার গরম হতে পারে এমন কোনও কাজ করবেন না। অনেকেই গ্যাসের রেগুলেটর বা দেশলাই ব্যবহারের পর অবহেলার সঙ্গে তা রেখে দেন সিলিন্ডারের উপরেই। এই দু’টি জিনিসের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখুন। গ্যাসের পাইপটির গায়ে ভারত সরকারের ‘আইএসআই’ ছাপ আছে কি না দেখে নিন। না থাকলে সেই সিলিন্ডার অবিলম্বে পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থাকে ফেরত দিন। পাইপটির দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। রান্নাঘরে ঢুকেই গ্যাসের গন্ধ পেলে তখনই বেরিয়ে আসুন রান্নাঘর থেকে। ওই অবস্থায় কোনও সুইচ বোর্ড বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালু করবেন না। গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে বুঝলে দ্রুত খবর দিন পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থার হেল্প লাইন নম্বরে। সেফটি ক্যাপ ব্যবহার করুন। রান্নাঘর থেকে বেরনোর পরেই সিলিন্ডারের মুখ ঢেকে রাখুন সেফটি ক্যাপে। অনেকেই পাইপ পরিষ্কার করতে সাবান ব্যবহার করেন। এটা অত্যন্ত ভয়ের। পরিষ্কার শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন। খুব নোংরা হলে হালকা করে জলে ভিজিয়ে নিন কাপড়। সেই কাপড়েই পরিষ্কার করুন গ্যাসের পাইপ। পাইপ পরিষ্কার করতে অনেকে গ্যাসের পাইপের গায়ে কোনও কাপড় বা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখবেন না। এমন করলে পাইপ থেকে গ্যাস লিক হলে ধরা পড়বে না। একই পাইপ বছরের পর বছর ব্যবহার না করে প্রতি দুই থেকে তিন বছর অন্তর বদলে ফেলুন। গ্যাসের রেগুলেটরের নজল ভাল করে পাইপ দিয়ে ঢেকে রাখুন। গ্যাস বন্ধ করে বেরনোর আগে দেখে নিন গ্যাসের পাইপ যেন কোনও ভাবে গরম বার্নারের গায়ে লেগে না থাকে। সূত্র- আনন্দ বাজার পত্রিকা আরকে//

পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে অতিরিক্ত উষ্ণতা

এবারের গ্রীষ্মে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণ তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে স্ক্যান্ডিনেভিয়া হয়ে জাপান পর্যন্ত অনেক দেশেই আরো কয়েকদিন এই তাপদাহ অব্যাহত থাকার কথা। অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে কয়েক হাজার মানুষের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াকে কেন্দ্র করে জাপান কিছুদিন আগে জাতীয় দুর্যোগ অবস্থা ঘোষণা করে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, পূর্ব কানাডা, আলজেরিয়া ও নরওয়েতে উচ্চ তাপমাত্রা সংক্রান্ত বিভিন্ন নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে এ বছর। ওমানে রাতের তাপমাত্রার মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ওমানের ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার হিসেবে সবচেয়ে বেশি। সুইডেনের উত্তরাঞ্চলের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের মেরু এলাকায়। গ্রীসের এথেন্সের কাছে দাবানলে এরই মধ্যে মারা গেছেন অন্তত ৮০ জন। জুলাই মাসের শুরু থেকে অনেক দেশেই তাদের নিয়মিত গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। যেসব দেশে গড় তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে সেগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, স্ক্যান্ডিনেভিয়া (মূলত নরওয়ে আর সুইডেন), পূর্ব কানাডা, পূর্ব সাইবেরিয়ার বেশকিছু এলাকা, জাপান ও কাস্পিয়ান সাগর সংলগ্ন এলাকা। যেসব দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে সেগুলো হলো- স্পেন ও পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চল, রাশিয়ায় উত্তর সাইবেরিয়ার কিছু অঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকার সর্বদক্ষিণাঞ্চল। কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তৈরি করা মানচিত্র অনুযায়ী ইউরোপের সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই ছিল ২০১০`এ। সে সময় গড়ের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়। এ বছরের জুলাইও ইউরোপের উষ্ণতম জুলাই মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জুন মাস কতটা উষ্ণ ছিল? যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার্স ফর এনভায়রনমেন্টাল ইনফরমেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮০ সালের পর থেকে পঞ্চম উষ্ণতম জুন মাস ছিল এ বছর। উষ্ণতম জুন ছিল ২০১৬ সালে। তখন বিশ্বের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৯১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়া টানা ৪২তম জুন এবং টানা ৪০২তম মাস ছিল জুন ২০১৬। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ কী? বিশ্বের নানা জায়গায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোনও একটি সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। বিবিসি`র বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডেভিড শুকম্যান বলেন, ‘অবাক করা বিষয় হলো, বর্তমানে একই সময়ে একাধিক তাপদাহ অনুভূত হচ্ছে।’ ‘পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এমনটাও বলছেন না যে প্রতি বছরই এমন তাপদাহ থাকবে। কিন্তু তারা বলছেন মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন বাড়বে’, বলেন শুকম্যান। সূত্র: বিবিসি একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি