ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:০৯:৫০

সুস্থ শিশুর জন্য হবু পিতারও করতে হবে ডায়েট

মার্কিন গবেষণা

সুস্থ শিশুর জন্য হবু পিতারও করতে হবে ডায়েট

সুস্থ শিশুর জন্ম দেওয়ার জন্যে হবু পিতাকেও ডায়েট করা করতে হবে। মার্কিন বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতোদিন ধরে চিকিৎসকরা সুস্থ্য শিশুর জন্য শুধু হবু মায়েদেরই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সুস্থ সন্তানের জন্য পুরুষকেও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। কারণ এখানে পিতার ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, সুস্থ সন্তানের জন্যে হবু পিতাদেরও ডায়েট করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, সন্তানের স্বাস্থ্য কেমন হবে সেটা নির্ভর করছে সেক্স করার আগে পিতা কি ধরনের খাবার খেয়েছেন তার ওপর। আমেরিকার সিনসিনাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সুস্থ সন্তান জন্মদানের জন্যে মায়ের মতো পিতার ডায়েটও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ মৌমাছির ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তাদের খাবারে যদি কার্বোহাইড্রেট খুব বেশি এবং প্রোটিন কম থাকে তাহলে তাদের জন্ম দেওয়া সন্তানের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম হয়।মানুষের জিনের সাথে এই মৌমাছির জিনের অনেক মিল রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের গবেষণা থেকে এটা স্পষ্ট যে সুস্থ শিশু জন্মদানের জন্যে পিতাকে কম কার্বোহাইড্রেট ও বেশি প্রোটিন আছে এধরনের খাবার খেতে হবে। সিনসিনাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে জীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল পোলক এবং জশুয়া বেনয়েতের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। অধ্যাপক পোলক বলেন, "আমরা সত্যিই বিস্মিত হয়েছি। বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আমরা দেখেছি যে এবিষয়ে মায়েরাই প্রচুর যত্নশীল হন। কিন্তু নবজাতকের স্বাস্থ্যের সাথে যে পিতারও ভূমিকা থাকতে পারে সেটা দেখে আমরা অবাক হয়েছি।" সূত্র:বিবিসি এম/এআর
নিলামে কেনা মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে করণীয়

পুলিশ বা কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জব্দকৃত গাড়ি আদালতের নির্দেশে আয়োজিত নিলামে যে কেউ অংশ গ্রহণ করতে পারেন। এ নিলাম থেকে কিনতে পারেন আপনার পছন্দের মোটরসাইকেল। অনেক সময় এই মোটরসাইকেল কেনার পরও কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বিপদে পড়তে হয়। রেজিস্ট্রেশনের কোনো কাগজপত্র না থাকায় এ বিপত্তি ঘটছে প্রতিনিয়ত। নিলামে কেনা মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যে কোনো নিলাম (থানা, কাস্টমস) এর পেপার কাটিং, সি.এস কপি/ তুলনামূলক বিবরণী, সর্বোচ্চ দরপত্র গ্রহণ, বিক্রয় আদেশ, বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক সিসি নির্ধারণ, টাকা জমার রশিদ সমূহ, কাস্টমস অফিসারের মন্তব্য, কাস্টমস অফিসারের ছাড়পত্র, কাস্টমস ডেলিভারী অর্ডার, কাস্টমস ডেলিভারী মেমো, কাস্টমস ডেলিভারী ইনভয়েস, নিলাম ক্রেতার অঙ্গিকারনামা লাগবে। এছাড়া আপনার লাগবে বিক্রেতার ১৫০ টাকার এফিডেভিট, ক্রেতার ১৫০ টাকার এফিডেভিট, টি.ও, টি.টি.ও, বিক্রয় রশিদ, ক্রেতার টি.আই.এন. সার্টিফিকেট, মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক গাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন, এইচ ফরম পূরণ, পরিচালক (ইঞ্জিঃ) বিআরটিএ এর অনুমোদন, টাকা জমার রশিদ সমূহ। এসব কাগজপত্র বিআরটিএতে জমা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা যাবে সহজে। আর/ডব্লিউএন

ব্লু হোয়েল, আতঙ্ক না সাবধানতার বিষয়?

ব্লু হোয়েল গেম খেলে হলিক্রসের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে—এমন একটি গুঞ্জনের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র বেশ সরগরম।   স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মনে কিছুটা হলেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ পরামর্শ চেয়ে বসেছেন এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি। বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকে পরামর্শমূলক অনেক কিছু লিখেছেন, ইউটিউবে ব্লু হোয়েল নিয়ে অনেক ভিডিও প্রকাশিত রয়েছে যাতে এ গেমস থেকে রক্ষা পাওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করা হয়েছে। হলিক্রস কলেজের একটি কিশোরী ব্লু হোয়েল গেম খেলে আত্মহত্যা করেছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে সে বিষয়টিও এখনও প্রমাণিত হয়নি। কারণ, মেয়েটার শরীরে ব্লু হোয়েলের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আত্মহত্যার ধরনটিও আরও আট-দশটা আত্মহত্যার ঘটনার মতোই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেখে নিন গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ

শহুরে জীবনে রান্নার কাজে তরলীকৃত গ্যাসের বিকল্প নেই বললেই চলে। ইদানীং মফস্বল শহরেও রান্নার কাজে তরলীকৃত গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। এ সুযোগে বিভিন্ন কোম্পানি সিলিন্ডারে করে গ্যাস সরবরাহ করছে। কিন্তু প্রায়শই শোনা যাচ্ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা। তাই ‍দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দেখে নিন গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ। সব জিনিসের মত সিলিন্ডারেরও মেয়াদ শেষ বা expire date থাকে। যা আমরা অনেকে জানি না। আর মেয়াদ শেষ হওয়া কোনো সিলিন্ডার ঘরে রাখা মানে টাইম বোমা রাখার সমান। সিলিন্ডারের গায়ে মার্ক করা কালো রংয়ের লেখাটাই হলো এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ। এখানে A, B , C, D সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়েছে। A = বছরের প্রথম তিন মাস যেমন জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ। B = পরের তিন মাস: এপ্রিল, মে, জুন। C = জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাস। D = অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসকেই বোঝানো হয়। আর সবার শেষে বছরের শেষ দুই ডিজিট থাকে, অর্থাৎ 13 মানে 2013  খ্রিস্টাব্দ। যদি  আপনার সিলিন্ডারে C18 থাকে তার মানে হল 2018 সালের জুলাই, আগস্ট, অথবা সেপ্টেম্বর মাসেই আপনার সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ বা (expire date) হবে। ডব্লিউএন

‘৯৯৯’ তে ফোন দিয়ে পাবেন নাগরিক সেবা

এখন থেকে পুলিশি, ফায়ার এমনকি অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা পাওয়া যাবে একটি মাত্র নাম্বারে। সেবা প্রত্যাশিরা ৯৯৯ নম্বরে ডায়াল করেই এ সেবা নিতে পারবেন। আজ রোববার সচিবালয়ে হটলাইন চালু সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ কথা জানান। মতবিনিময় সভায় তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সেবা সুরক্ষা সচিব ফরিদ উদ্দীন আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইপিজি) এ কে এম শহীদুল হক, আইসিটি সচিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,  প্রধানমন্ত্রীর তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আমরা দীর্ঘ একবছর এই জরুরি সেবা নিয়ে কাজ করছি।শিগগির তার সুফল পাওয়া শুরু হবে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং সব ধরনের সহায়তা একসঙ্গে পেতে এই হটলাইন চালু করছে সরকার।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে গত বছরের ১ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে চুল হয় ৯৯৯ কল সেন্টারটি। আরকে//এআর

যে কারণে রাতভর ফোন চার্জ দেবেন না

অফিস শেষে বাসায় ফিরে মুঠোফোন চার্জে দেওয়া আমাদের অভ্যাস। মাঝে মধ্যে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফোন চার্জে দিয়ে আমরা বিছানায় গা এলিয়ে দিই। রাতভর চার্জেই থাকে ফোন। এভাবে ফোনে সারা রাত চার্জ দেওয়ায় ফলে মুঠোফোনের অনেকগুলো ক্ষতি বয়ে আনে। সারারাত মোবাইলে চার্জ দিয়ে ফোনের ক্ষমতাকে নিজের অজান্তেই একটু একটু করে নষ্ট করছেন আপনি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিজের স্মার্টফোন রাতে চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, তারা গড়ে বছরে তিন থেকে চার মাস মোবাইল চার্জে ব্যয় করেন। এতে একদিকে যেমন ইলেকট্রিক বিল বাড়ছে, অন্যদিকে আয়ু কমছে ফোনেরও। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মোবাইল ফোনের চার্জ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে গেলেই চার্জ দিতে হবে। এর থেকে বেশি চার্জ থাকলে মোবাইলে চার্জ দেয়ার প্রয়োজন নেই। মোবাইলের আয়ু বাড়াতে মোবাইল ফোনকে ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রা থেকে যতটা সম্ভব স্মার্টফোনকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়, ততটাই মঙ্গল। তাই কখনই দরকারের চেয়ে বেশি সময় ধরে ফোন চার্জে বসিয়ে রাখা উচিত নয়। যাদের মধ্যে সারা রাত মোবাইল চার্জে বসিয়ে রাখার প্রবণতা রয়েছে, তারা এখনই বদলে ফেলুন এ অভ্যাস। সূত্র : টেক ওয়ার্ল্ড।

সাপ! ওরে বাপরে বাপ!

সাপ! ওরে বাপরে বাপ! সাপ দেখে ভয়ে আঁতকে উঠেন সবাই, যদি ছোবল মারে! কিন্তু সাপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনার ভয় একেবারে কমে যাবে। কারণ, সাপ প্রকৃতপক্ষে মানুষ শিকার করে না। সাপকে উত্তেজিত করা না হলে বা সাপ আঘাতগ্রস্ত না হলে তারা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। কনস্ট্রিক্টর ও বিষহীন সাপগুলো মানুষের জন্য কোনো হুমকি নয়। বিষহীন সাপের কামড় মানুষের জন্য ক্ষতিকরও নয়। কারণ তাদের দাঁত মূলত কোনো কিছু আঁকড়ে ধরা ও ধরে রাখার জন্য। বর্ষার পানি মাটির গর্তে ঢুকলে বেঁচে থাকার জন্য সাপ বের হয়ে আসে এবং মানুষকে দংশন করতে পারে। সাপের সর্বমোট ১৫টি পরিবার, ৪৫৬টি গণ, এবং ২,৯০০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। খুব ছোট, ১০ সে.মি. (থ্রেড সাপ) থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ ফুট বা ৭.৬ মিটার (অজগর ও অ্যানাকোন্ডা) পর্যন্ত হতে পারে সাপ। সম্প্রতি আবিষ্কৃত টাইটানওবোয়া (Titanoboa) সাপের জীবাশ্ম প্রায় ১৩ মিটার বা ৪৩ ফুট লম্বা। পৃ্থিবীর বেশিরভাগ প্রজাতির সাপ বিষহীন। বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ সাপ বিষহীন। আর যেগুলো বিষধর সেগুলো আত্মরক্ষার চেয়ে শিকার করার সময় বিভিন্ন প্রাণিকে ঘায়েল করতেই বিষের ব্যবহার বেশি করে। কিছু মারাত্মক বিষধর সাপের বিষ মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর কারণ ঘটায়। সাপ যখন কাউকে আক্রমণ করে তখন তার গতি এত বেশি থাকে যে,  চোখের পলকেই চারবার ছোবল মারতে পারে। একবার ছোবল দিতে সাপের সময় লাগে ৪৪ থেকে ৭০ মি.লি সেকেন্ড। অন্যদিকে মানুষের একবার চোখের পলক ফেলতে সময় লাগে ২০০ মি.লি সেকেন্ড। এ কারণে সাপের চারবার ছোবল দিতে যত সময় লাগে সে সময়ে মানুষ একবার চোখের পলক ফেলতে পারে। মানুষ সাপের মতো এত দ্রুতগতি অর্জন করতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অচেতন হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, সাপের রয়েছে দীর্ঘ সময় শিকারের জন্য ওঁত পেতে থাকার ক্ষমতা। এ সময় তারা এতটাই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয় যে নিজে থেকে জানান না দিলে তা অন্য কেউ বুঝতে পারে না। এসব নানা কারণে সাপ ‘অতীন্দ্রিয় ক্ষমতাধর’ বলেই মনে করছেন গবেষকরা। বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ শিকারী সাপের অন্যতম হলো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‌্যাটলস্নেক। এটি ঘাসের জঙ্গলে অত্যন্ত দক্ষভাবে লুকিয়ে থাকতে পরদর্শী। এগুলো স্বাধীনভাবে বাঁচতে পছন্দ করে। ঝোঁপ ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে এবং সুযোগ পেলে শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে শিকার ধরার জন্য তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতেও পারদর্শী। কোনো কোনো সাপ শিকারের জন্য দীর্ঘ দুই বছর অপেক্ষা করতে পারে। তবে কোনো শিকার পাওয়া গেলে তারা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রাণি হয়ে উঠে। সাপের ক্ষমতা কখনোই আকার কিংবা আকৃতির উপর নির্ভর করে না। যে সাপের গতি যত বেশি, সে সাপ তত দক্ষ। এ গতিই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। গবেষণায় জানা গেছে, সাপের দ্রুতগতি অর্জনের পেছনে কাজ করছে তাদের অত্যন্ত কার্যকর পেশি। মানুষের দেহে রয়েছে ৭০০-৮০০ পেশি। অন্যদিকে সাপের রয়েছে ছোট ছোট ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ পেশি। তবে মানুষের পেশিগুলোর তুলনায় সাপের পেশি এত কার্যকর হওয়ার কারণ কি, সেটা এখনও অনুধাবন করতে পারেননি গবেষকরা। তবে গবেষকদের ধারণা, সাপের পেশিগুলো একত্রে সংযুক্ত থাকায় তা রাবার ব্যান্ডের মতো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে। সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা সাপের এসব বিষয় গবেষণা করে অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানার গবেষক ডেভিড পেনিং এ বিষয় গবেষণার জন্য বেশ কয়েক মাস র‌্যাটলস্নেক পর্যবেক্ষণ করেন। তারা স্পিড ক্যামেরাসহ নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সাপের আক্রমণের সময়ের গতি পরিমাপ করেন। এ বিষয়ে ডেভিড পেনিং বলেন, ‘আমরা যে প্রাণীর কথা বলছি তা তার শিকারকে আক্রমণ ও তার কাছে পৌঁছাতে এত কম সময় ব্যবহার করে যে, সে আগে বুঝতেও পারে না যে তাকে আক্রমণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, এটি শুধু র‌্যাটলস্নেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। বিশ্বের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সাপের প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে পাতলা থেকে শুরু করে বিশালাকার অজগর পর্যন্ত সাপের প্রায় একই ক্ষমতা দেখা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, কাউকে বিষধর সাপ দংশন করলে সঙ্গে সঙ্গে তার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে­ বমি, মাথাঘোরা, কামড়ানোর স্খানে ফোলা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, চোখে ডাবল দেখা, ঘাড়ের মাংসপেশী অবশ হয়ে ঘাড় পেছনের দিকে হেলে পড়া। এমন হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। হাসপাতালে নেয়ার আগে আক্রান্ত জায়গা নাড়াচাড়া করা যাবে না। হাত বা পায়ে কামড় দিলে হাতের পেছনের দিকে কাঠ বা বাঁশের চটা বা শক্ত জাতীয় কিছু জিনিস রেখে শাড়ির পাড় বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে বেঁধে দিতে হবে। আক্রান্ত জায়গা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে। লক্ষ রাখবেন বেশি টাইট করে বাঁধা যাবে না। বাঁধলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়ে গ্যাংগ্রিন হতে পারে। বিষ শিরা দিয়ে নয়, লসিকাগ্রন্থি দিয়ে শরীরে ছড়ায়। সাপে কাটা রোগীকে ওঝা-বৈদ্য বা কবিরাজ না দেখিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। আক্রান্ত জায়গায় কাঁচা ডিম, চুন, গোবর কিছুই লাগাবেন না। এতে সেল্যুলাইটিস বা ইনফেকশন হয়ে রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারে। সূত্র : বিবিসি।

নিজেকে জানুন বসে বসে

মানুষ চিনতে মনোবিদ কিংবা গোয়েন্দারা অনেক সময় "বডি ল্যাঙ্গুয়েজ" এর সাহায্য নিয়ে থাকেন। কারণ মনোবিদ ও গোয়েন্দাদের মতো প্রতিটি মানুষেরই একটা শরীরি ভাষা আছে, সে ভাষা বুঝতে পারলে সহজেই মানুষের ভেতরের রূপটা চিনতে পারা যায়। মানুষকে চিনবেন কীভাবে, এই নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত গোয়েন্দারা একাধিক বই লিখেছেন। সেই সব বইয়ের কোনো কোনোটায় আজব কিছু বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বসার স্টাইল দেখে মানুষ চেনার উপায় একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মানুষের বসার ধরণ আলাদা হয়। এও এক ধরনের শারীরি ভাষা। তাই বসার ধরণ বিশ্লেষণ করেও কোনো অচেনা মানুষ কিংবা নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে যাওয়া সম্ভব। বসার ধরণ ১: কাউকে যদি এইভাবে বসতে দেখেন, জানবেন তিনি বেজায় দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ। শুধু তাই নয়, এমন মানুষেরা বিপদ দেখলেই ছুট লাগায়। ছোট হোক কী বড়, কোনো ধরনের সমস্যা সামলানোর ক্ষমতাই এদের থাকে না। এক কথায় এমন মানুষদের মনের জোর খুব কম হয়। সহজ কথায় ভীতুও বলা যেতে পারে। তবে এদের চরিত্রের কিছু দিক বেশ চমকপ্রদও বটে। যেমন, এমন মানুষেরা খুব ক্রিয়েটিভ হন। তাই তো শিল্পী হিসেবে খুব সফল হন। বসার ধরণ ২ এরা কাল্পনিক মনের অধিকারী হন। অন্য ধরনের নানা ভবনা সারাক্ষণ এদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। হাসি-খুশি থাকার বিষযেও এদের জুড়ি মেলা ভার। তাই তো মন খারাপ করা প্রায় সব কিছু থেকেই দূরে থাকতে ভালোবাসেন এমন মানুষেরা। সহজ কথায় জীবনে কীভাবে বাঁচতে হয়, তা এমন মানুষদের থেকেই জানা উচিত। তাই এমন কাউকে পেয়ে গেলে লেগে থাকুন তার সঙ্গে। আপনার জীবনও আনন্দময় করে তুলবেন তিনি। বসার ধরণ ৩: এমনভাবে যারা বসে থাকেন, তারা সাধারণত খুব শৃঙ্খলাপরায়ণ হন। সময়ের কাজ সময়ে করতে খুব ভালবাসেন। সেই সঙ্গে বেশ চুপচাপ থাকতেও পছন্দ করেন। বসার ধরণ ৪: জীবন যে খাতেই যাক না কেন, এরা কোনো কিছু নিয়েই বেশি ভাবতে চান না। তাই তো সিদ্ধান্ত নিতে কোনো সময় কষ্ট করতে হয় না। কারণ এদের মন যা বলে, তাই করতেই এমন মানুষেরা ভালবাসেন। তবে এদের চরিত্রের সবথেকে ভালো দিক হল, এমন মানুষের কোনো কিছু নিয়েই তাড়াহুড়ো করেন না। কারণ এরা বিশ্বাস করেন, "ঠিক ঠিক সময়ে ঠিক জিনিস হবে, অযথা তাড়াহুড়ো করে কোনো লাভই হয় না।" সূত্র : বোল্ডস্কাই।    ডব্লিউএন    

সন্তান গর্ভাবস্থায় পেট ফেটে যাওয়া থেকে বাঁচতে

শিশু গর্ভে থাকার সময় মায়ের পেটে ফাটা দাগ দেখা দেয়। শিশুর জন্মের পরও পেটের ত্বকে লম্বা লম্বা দাগ থাকে অনেক সময়। তবে গর্ভাবস্থায় সচেতন থাকলে দাগহীন পেট রাখা সম্ভব ৷ দাগের কারণ: একজন মা গর্ভাবস্থায় প্রায় ৪০ সপ্তাহ ধরে দুই লিটার পানিসহ সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন৷ তাছাড়া জরায়ুসহ পেটের ত্বকের টিস্যু এমনভাবে তৈরি, যা ধীরে ধীরে রাবারের মতো বড় হয় ৷ কারণ গর্ভে থাকা সন্তানের আকার বড় হওয়ার সঙ্গে পেটও বড় হতে থাকে ৷ এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই পেটে টান পড়ে ৷ এতে পেটে প্রথমে লালভাব, নীল সবশেষ ফাটা দাগ দেখা দেয় ৷ এই দাগ শিশুর জন্মের আগে পেট, ঊরু ও নিতম্বে হয় ৷ তবে এর পেছনে কিছুটা বংশগত কারণও থাকতে পারে ৷ খাদ্যাভাস: পেটকে দাগমুক্ত রাখতে গর্ভবতী থাকাকালীন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে ৷ খাবার তালিকায় রাখতে হবে শস্যদানাযুক্ত খাবার, মাছ, বিভিন্ন সবজি- ব্রোকলি, গাজর, ভিটামিন ‘ই’ ও ‘সি’ যুক্ত খাবার, চিনিবিহীন চা এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে৷ হাঁটাচলা: মনে রাখবেন যত বেশি হাঁটবেন তত ভাল। হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন হয় ৷ এর ফলে ত্বক দাগ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাছাড়া গর্ভবতীরা ‘ইয়োগা’ বা যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। তবে মা ও শিশুকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে সাঁতার কাটা ৷ ‘ঠাণ্ডা-গরম’ শাওয়ার:  মনে রাখবেন ঠাণ্ডা-গরম শাওয়ার আপনার ত্বকের জন্য অনেক ভাল। এক্ষেত্রে প্রথমে ঠাণ্ডা, পরে গরম, আবার ঠাণ্ডা এভাবে শাওয়ার নিতে হবে। এতে ত্বকে ব্লাড সার্কুলেশন ভালোভাবে হয় ৷ গর্ভধারণের শুরু থেকেই এটা করা উচিত ৷ রোজ গোসল করার সময় পেট, নিতম্ব, ঊরু ও স্তনে আলাদা আলাদাভাবে ঠাণ্ডা-গরম-ঠাণ্ডা পানির শাওয়ার নিন ৷ তেলের মাসাজ: পেটের সন্তানের জন্ম যাতে সহজভাবে হয় সেজন্য গর্ভবতী নারীদের পেটে তেল মালিশ করার প্রচলন চালু আছে ৷ জার্মান ফার্মাসিস্ট তানিয়া ফ্রানৎস জানান, সবচেয়ে ভালো হয় বাদাম তেল মালিশ করা হয় পেটে। কারণ বাদাম তেল ত্বককে মসৃণ ও সুন্দর রাখে ৷ এক্ষেত্রে অবশ্যই আস্তে আস্তে মালিশ করতে হবে। কোনোভাবে যেন পেটে চাপ না লাগে ৷ এভাবে নিয়মিত যত্ন নিলে অনেকটাই দাগমুক্ত রাখা সম্ভব৷ সূত্র : ডয়েচে ভেলে। /আর/এআর

ফেসবুকে ভুয়া সংবাদ চিনবেন যেভাবে

বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় `ফেক নিউজ` এর ছড়াছড়ি। ভুয়া নিউজের ভিড়ে কোনটা সঠিক নিউজ চেনার উপায় নেই। আর এসব ‘ফেক নিউজের’ কারণে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে ফেসবুক, গুগল বা টুইটারের মতো সোশাল মিডিয়াকে। অবশ্য গত  কয়েক বছর ধরেই ফেসবুক `ফেক নিউজ` এর দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে।`ফেক নিউজ` ছড়ানোর দায়ে অনেক দেশে ফেসবুক-এর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। চলতি বছর ইতালিতে `ফেক নিউজ` বিরোধী  বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ভুয়া নিউজ চেনার উপায় নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে ফেসবুক। জেনে নিন আপনি কীভাবে চিনবেন ভুয়া নিউজ - সন্দেহপ্রবণ হেডলাইন: ফেক নিউজের ক্ষেত্রে হেডলাইন হবে বেশি চিত্তাকর্ষক। এ ধরনের হেডলাইনে বিস্ময় সূচক বা প্রশ্ন চিহ্ন থাকলেই সতর্ক হন। আবার হেডলাইনের শব্দগুলি যদি অত্যাধিক বোল্ড বা অবিশ্বাস্য কিছু দাবি করা হয়, তাহলে নিশ্চিত থাকুন সেটি ভুয়া নিউজ। ইউআরএলটি চেক করুন: যদি আপনার কোন ধরণের সন্দেহ হয় তাহলে ইউআরএলটি ভালো করে চেক করুন। অনেক সময় অন্যকোনো সাইটের ইউআরএল-এ সামান্য শব্দের পরিবর্তন করে ফেক নিউজ আপলোড করে। তাই আপনি অবশ্যই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউআরএলটি ইন্টারনেটের সার্চ করুন। দেখুন ওই ইউআরএল-এ এমন কোনো খবর আর কেউ করেছে কি না। খবরের উৎস: যে খবরটি প্রকাশ করেছে, সেই খবরটির উৎস আপনাকে যাচাই করতে হবে। দেখতে হবে কোনো প্রতিষ্ঠিত স্থান থেকে খবরটি প্রকাশ হয়েছে কিনা। অস্বাভাবিক ফরম্যাটিং: মনে রাখবেন, ভুয়া নিউজে ভুল বানান এবং অদ্ভুত লে-আউট দেখা যায়। তাই আপনি এটি দেখেই বুঝে নিতে পারেন এটি ফেক নিউজ। ফটো, ভিডিও যাচাই করুন: আপনাকে ফটো বা ভিডিও অবশ্যই যাচাই করে দেখতে হবে। কারসাজি করা চিত্র বা ভিডিও দেখলে সতর্ক হন। পাশাপাশি এই ছবি বা ভিডিওগুলো কোনো ব্র্যান্ডেড সোর্স-এ ব্যবহার হয়েছে কি না ভাল করে দেখে নিন। খবরের তারিখ: তারিখগুলো কবে প্রকাশ হয়েছে ভালোভাবে দেখুন। এমন খবর বলা হয়েছে, যেটা অন্য কোথাও দেখেননি তাহলে নিউজে বলা তারিখগুলো দেখে নিন ভাল করে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনে দেখুন ওই খবর আর কেউ করেছে কি না। মনে রাখবেন জাল খবরের সাইটগুলো খবরের তারিখ বদলে দেয়। প্রমাণ যাচাই: খবরের উৎস ভালো করে দেখুন। এটি সত্য কিনা না সেটি অন্য সাইটে প্রকাশ হয়েছে কিনা যাচাই করুন। একই খবর  অন্য কোথাও আছে কিনা দেখুন: নিবউজটি অন্য কোনো সংবাদের উৎস কিনা দেখুন ভাল করে। সঙ্গে  কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম এ খবর করেছে কি না সেটিও দেখে নিন। খবর না কৌতুক: ফেক নিউজে অনেক সময় হাস্যরস বা কৌতুকের উদ্রেক টেনেপ্রকাশ করা হয়। এই হাস্যরস বা কৌতুক ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন। এটি থাকলে আপিন নিশ্চিত হতে পারেন যে এটি ফেক নিউজ। ইচ্ছাকৃত জাল: পাঠক আকর্ষণে এমন কিছু নিউজ প্রকাশ করা হয়, যা  ইচ্ছাকৃতভাবে জাল বানানো।   /আর/এআর

মেদ-ভুরি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন

বাড়তি মেদ কি আপনার জন্যে সমস্যা? আপনার ওজন কি বেশি? আপনি কি দেখতে স্থুলকায়? বাড়তি ওজনের ফলে আপনার চলাফেরা ও কাজকর্মে অসুবিধা হচ্ছে? আপনি কি খুব ভোজনবিলসী? উচিত নয় জেনেও কি আপনি মজাদার খাবারের লোভ সংবরণ করতে না পারায় দিন দিন মোটাই হয়ে চলছেন? আপনার ওজন বৃদ্ধির কারণ কি অতিরিক্ত পানাহার, না ঠিক মতো ব্যায়াম না করা? অথবা ব্যায়াম করার পরও কি আপনার ওজন কমছে না? ডায়েটিং ও ব্যায়াম করার পর দুই থেকে তিন কেজি ওজন কমার পরই কি করেকদিনে আপনার ওজন তিন থেকে চার কেজি ওজন বেড়ে যায়? অবশ্য আপনার ওজন বাড়ার কারণ অতিভোজন না হয়ে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করার প্রবণতাও হতে পারে। এ জন্যে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তান চমৎকার ফল নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু খাবার কমানো বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নি:সন্দেহে একটি কঠিন কাজ। শুধু ইচ্ছে শক্তি প্রয়োগ করে এক্ষেত্রে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা খুব কম। তবে মনছবি প্রয়োগ করে আপনি এক্ষত্রেও অসাধ্য সাধান করে পারেবন। খাবারের ব্যাপারে আমাদের সাধারণ ধারণা একেবারে অবৈজ্ঞানিক। আমরা যাকে স্ট্যান্ডার্ড খাবার তালিকা বলি তেমন স্ট্যান্ডার্ড খাবার বলে কিছু নেই। প্রত্যেক মানুষের খাবারের স্ট্যান্ডার্ড নিধার্রিত হয় তার দেহ মনের কোয়ান্টাম লেভেল থেকে। যে কারণে একজন প্রচুর খেয়েও শরীরের মেদ জমাতে পারে না, আর একজন পানি খেয়েও মেদ বাড়িয়ে ফেলে। অবচেতনে তথ্যের পুনর্বিন্যাস দ্বারা একজন মানুষ খুব কম খেয়েও সুন্দর স্বাথ্যের অধিকারী হতে পারেন। আমাদের দেহ মন প্রক্রিয়া আসলে পরিবেশ ও প্রয়োজনের সাথে চমৎকার খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ডায়েট বিশেষজ্ঞ ডা. পল রোয়েন খাবার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন। দীর্ষ ৩০ বছর গবেষণার পর তিনি বলেছেন, রাতে ভুরিভোজ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং হঠাৎ মৃত্যুর জন্যে এক আদর্শ ব্যবস্থা। তিনি সকালে ও রাতে খাবারের ফলাফলের বর্ণনায় একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন। এতে ৭ জন স্বেচ্ছাসেবক সকালে নাস্তায় দুই হাজার ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করার পার দেখা যায় যে, তাদের ওজন কমে গেছে। আবার এই সাত জনই রাতে দুই হাজার ক্যালোরি খবার গ্রহণ করার পর দেখা যায় যে, তাদের ওজন কমার পরিবর্তে বেড়ে গেছে। গ্রাম বাংলায় এ ব্যাপারে একটা চমৎকার প্রবাদ প্রচলিত আছে-নাস্তা করো রাজার মতো, দুপুরে খাও রাজপুত্রের মতো আর রাতে খাও ভিখারীর মতো। ডা. পল রোয়েন তাই পরামর্শ ছিলো এরকম। ১. সকালে ভরপেটে নাস্তা করুন। ২. দুপুরে তৃপ্তির সাথে খান। ৩. রাতে হালকা খাবার গ্রহণ করুন। এটাই হচ্ছে খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যসম্মত পন্থা। আর কী পরিমাণ খাবার খাবেন, তা নির্ধারণ করবে আপনার পাকস্থলীর আয়তন। আর পাকস্থলী কতটুকু খাবারে পূর্ণ করবেন, সে ব্যাপারে ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর একটি বাণী প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, তুমি তোমার পাকস্থালীর এক তৃতীয়াংশ খাবার এবং এক তৃতীয়াংশ পানিতে পূর্ণ করো। আর বাকি এক তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখে। খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে এই নিয়ম পালন করে মনের তথ্যভাণ্ডার পুনর্বিন্যাস করলে আপনি যেমন দেহ চান ঠিক তেমন দেহেরই অধিকারী হতে পারবেন।   খাবার নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন অতিভোজন বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্যে আপনি প্রথমে প্রত্যয়ন রচনা করুন। প্রথমে বর্তমান অবস্থায় বিবরণ লিখুন। ওজন কত? কী কী খান? কী কী খাওয়া পছন্দ করেন তার তালিকা তৈরি করুন। কেন আপনি ওজন কমাতে চান বা কেন খাদ্যাভাস পরিবর্তন করতে চান তার কারণগুলো এক এক করে বিস্তারিত লিখুন। কত ওজন কমাতে চান তা লিখুন। মেদ আপনার স্বাস্থ্য হানির কতটা কারণ তা লিখুন। অথবা আপনি কি শুধু আকর্ষনীয় হওয়ার জন্যে স্লিম হতে চাচ্ছেন? কী কারণে আপনি খাবর নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধ করুন। তাহলেই অবচেনের তথ্যভাণ্ডারকে আপনি পুনর্বিন্যাস্ত করতে পারবেন। মেডিটেশনে বসে আপনার মন ছবি মনিটরে দেখুন। আপনার ওজন কমিয়ে দেহকে যে অবস্থায় নিয়ে যেত চান তার ছবি দেখুন। ওজন কমলে আপনাকে কেমন লাগবে তা ভিজুয়ালিইজ করুন, অনুভব করুন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে নতুন যে খাবার খেতে চাচ্ছেন, সেগুলো খুব ভালোভাবে ভিজুয়ালাইজ করুন এবং নিজেকে বুলন এইকুটু খেলেই আমার চলে যাবে। মনকে বলনু ও অনুভব করুন, নির্ধারিত খাবার খেলে আর আপনার ক্ষুধা লাগবে না। যে খাবারগুলো আপনি বর্জন করতে চান, এক এক করে স্কিনে এন ক্রস চিহ্ন দিয়ে বাতিল করে দিন অথবা তা এমন আজেবাজে জিনিস হিসেবে কল্পনা করুন, যেন তা খেতে নিলেই আপনার বমি ভাব চলে আসে। আপনার ওজন কমে গিয়ে নির্ধারিত ওজন এসে দাঁড়িয়েছে তা অবলোকন করুন। বাস্তবে এরকম সুন্দর ও অর্কণীয় হয়ে উঠলে আপনার মনে যে আনন্দানুভূতি হতো, তা সবগুলো ইন্দ্রিয় ও পূর্ণ আবেগ দিয়ে অনুভব করুন। ‍পূর্ণ আবেদন দিয়ে আপনার সাফল্যের অনুভূতির সাথে সবকিছুকে সম্পৃক্ত করুন। শরীরের ওজন কমানো ক্ষেত্রে সবসময়ই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ধাপে ধাপে লক্ষ্য পানে অগ্রসর হোন। এক নাগাড়ে ৪০ দিন অনুশীলন অব্যাহত রাখুন। প্রয়োজনে সময় বাড়িয়ে দিন। আপনার ওজন সুনিশ্চিতভাবে হ্রাস পাবে। খাদ্যাভাস পরিবর্তনে আপনি অবশ্যই সফল হবে। আর ওজন বাড়াতে চাইলে ঠিক এর উল্টোটা করুন।   টিকে

ফেসবুকে বন্ধু হওয়ার আগে যা জানা জরুরি

সামাজিক যোগাযোগের শীর্ষ মাধ‍্যমে পরিণত হয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিদিনই অনেক মানুষই আপনার বন্ধু তালিকায় যুক্ত হতে চান। নিজেরাও অনেক সময় পরিচিত মানুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে থাকি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু হওয়ার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি। কারণ ফেসবুক এখন একটি ব‍্যক্তিগত ভার্চুয়াল ডায়েরিতে পরিণত হয়েছে। তাই বন্ধু হওয়ার আগে জেনে নিন কিছু বিষয়। বন্ধু হওয়ার আবেদন :  অনেক অচেনা মানুষই আপনার বন্ধু হবার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠায়। তাদের সবার উদ্দেশ্যই ভালো হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কারো বন্ধু হওয়ার আবেদন গ্রহণ করার আগে তার প্রোফাইলটি ভালো করে দেখে নিন। অপরিচিতদের রিকোয়েস্ট না পাঠানো : সাধারণত ফেইসবুকের সচেতন ব‍্যবহারকারীরা অপরিচিত মানুষের রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেন না। আবার অপরিচিত মানুষকে রিকোয়েস্ট পাঠালে অনেকেই বিরক্ত হতে পারেন। তাই অচেনা মানুষকে রিকোয়েস্ট না পাঠিয়ে চেনা মানুষকে পাঠান। শেয়ার করুন সাবধানে : সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যম এখন ব‍্যক্তিগত ডায়েরি। এখানে প্রতি মুহূর্তে ব‍্যক্তিগত জীবনের অনেক তথ্য, স্মৃতি ও ছবিসহ অনেক কিছুই শেয়ার করা হয়। তাই একান্ত ব‍্যক্তিগত কোনো পোস্ট অচেনার বন্ধুদেরকে দেখাতে চান কিনা তা ভেবে দেখা উচিত। কেন রিকোয়েস্ট : কী কারণে রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছেন এটি খেয়াল রাখবেন। আপনি অনেককেই চিনতে পারেন কিন্তু তারাও যে আপনাকে চিনবে এমন কোনো কথা নেই। তাই কি কারণে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন তা জানিয়ে একটি বার্তাও পাঠাতে পারেন। আর/ডব্লিউএন

পাসপোর্ট হারালে কী করবেন…

পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটি হারালে বেশ ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। এটি হারিয়ে গেলে বিড়ম্বনা তো আছেই, বড় ধরনের অনিশ্চয়তায়ও পড়তে হয় মাঝেমধ্যে। বিদেশ ভ্রমণকালে দুর্ঘটনাবশত আপনার মূল্যবান পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে, তো বিপদের শেষ নেই। বিদেশে পাসপোর্ট হারানো গেলে দ্রুত ওই দেশের পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে কিংবা পাসপোর্টটি যে এলাকায় হারিয়ে গেছে সেই থানায় পাসপোর্ট হারানোর সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সঠিক প্রমাণাদির অভাবে আপনাকে কারাগারেও যেতে হতে পারে। দ্রুত আপনি বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করবেন। আপনি যদি পাসপোর্টের ফটোকপি ও রোডপাস বা রাস্তায় চলাচলের প্রত্যয়নপত্র  নিয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করেন তাহলে নতুন পাসপোর্ট তৈরিতে তারা আপনাকে সহায়তা করবে। কোনো ট্র্যাভেল এজেন্সি যদি আপনার ভ্রমণে সহায়তা করে থাকে তারাও আপনাকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে। তারপর বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস ও ইমিগ্রেশন অফিস আপনার সব তথ্য পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন পাঠাবে যা আপনাকে দেশে ফেরত আসতে সাহায্য করবে। বিদেশে অবস্থান করার সময় আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে সেদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস । দূতাবাসের কনস্যুলার শাখা থেকে আপনার পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের আগেই নবায়ন করা ভালো। //এম//এআর    

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি