ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:২৬:৫৯

সমস্যা যখন ফেসবুক!

সমস্যা যখন ফেসবুক!

রাফসান মাহমুদ ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মঠ ও সময়জ্ঞান সম্পন্ন হওয়ায় অফিসেও সে আদর্শ। তবে সম্প্রতি বেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে রাফসানের। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় গেলেও হাতে থাকে এন্ড্রয়েড ফোন। প্রথমদিকে কিছুক্ষণ ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করেই ঘুমিয়ে পড়তো রাফসান। তারপর আস্তে আস্তে সময়ের মাত্রা বাড়তে থাকে। আগে নিয়মিত রাত এগারোটার মধ্যে ঘুমালেও এখন প্রায়ই ঘুমাতে যায় প্রায় শেষ রাতের দিকে। এতে আগের মতো আর সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না রাফসান। তাই অফিসে পৌঁছতেও দেরি হচ্ছে তার। নিত্যদিন অফিসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় শুনতে হয় বসের বকুনি। তবে একপর্যায়ে শুরু হয় আল্টিমেটাম। রাফসান বুঝতে পারে তার এই সমস্যার জন্য দায়ী ফেসবুক। রাত বারোটার পর চ্যাট করতে তাঁর খুব ভালো লাগে। সে বুঝতে পারে তার ঘুমের ক্ষতি হচ্ছে। অফিসে যেতে দেরী হবে। কিন্তু সে নিরুপায়। অরন্য ও মাহী প্রেম করে পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করেছেন। দু`জনের পরিবারের কেউই মেনে নেয়নি এ বিয়ে। দু`জনেই রাজধানীর দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। ভালোবাসার সংসারটি দুজনে মিলে সুন্দর করে সাজাচ্ছেন। দুজনই সুখী। তবে ইদানীং তাদের সেই ভালবাসায় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাহী খেয়াল করে অরন্য বাসায় ফিরেই আগের মতো তার সাথে কথা বলেনা। কার সাথে সারাক্ষণ চ্যাট করে। রাতে ঘুমানোর সময়ও হাতের এন্ড্রয়েড মোবাইটি তার সঙ্গী। একদিন মাহী গোপনে অরন্যের ফোনটি তার হাতে নেয়। তারপর মাহীর পৃথিবী ঘুরতে থাকে। এই ছেলের জন্যই কী আমি এক কাপড়ে সবাইকে ছেড়ে এসেছি? তারপর কান্নাকাটি, ভুল বুঝাবুঝি। অরণ্য স্বীকার করে, সে ভুল করেছে। সে এটাও বুঝতে পারে এই ভুলের জন্য দায়ী ফেসবুক। নাদিয়া`র সমস্যাটা একটু অন্যরকম। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে সে। ফেসবুকের কল্যাণে তার সাথে পরিচয় হয় মাহফুয নামের এক তরুণের। প্রথমে হাই-হ্যালো, তারপর দীর্ঘ আলাপ। এরপর আবেগের কাছে ধরাশায়ী হওয়া। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, যেদিন তাদের দুজনের মধ্যে দেখা হবে সেদিনই তারা বিয়ে করবে। বিয়েটাও হয়তো হয়ে যেতো। যদি না নাদিয়ার মায়ের কাছে বিষয়টা ধরা না পড়তো। নাদিয়ার মা খবরটা নাদিয়ার বাবার কানে পৌঁছান। নাদিয়ার বাবা চৌকস সরকারি কর্মকর্তা। খোঁজ খবর নিয়ে আবিষ্কার করলেন, মাহফুয নামে ছেলেটির দেওয়া সকল তথ্য মিথ্যা। মাহফুয তার আসল নাম নয়। সে যে ইউনিভার্সিটির কথা তার প্রোফাইলে লিখেছে সেই ইউনিভার্সিটি দূরের কথা, এসএসসির গণ্ডিও পার হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মেয়েদের সঙ্গে ফ্রড করে, প্রেমের ফাঁদে ফেলায় তার কাজ। এরই দায়ে ছেলেটি আগেও একবার পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছিল। অবশেষে নাদিয়া বুঝতে পারে, তার আজকের অবস্থার জন্য দায়ী ফেসবুক। কেবল রাফসান, অরণ্য, নাদিয়া-ই নয়। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে এরকম হাজারো ঘটনার জন্ম হচ্ছে। যার জন্য কোনো না কোনো ভাবে দায়ী ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির কল্যাণে নানা ধরণের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসএ্যাপ, ভাইবার, ট্যাঙ্গো, ইনস্ট্রাগ্রাম, ইমো, স্কাইপি এখন খুব পরিচিত নাম। তবে নানা কারণে আমাদের দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। শুধু আমাদের দেশে নয়, বাণিজ্যিকভাবে সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে দাপুটে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফেসবুক অন্যতম। মার্ক জুকারবার্গ ও তার বন্ধুদের এ আলোচিত আবিষ্কারটি একদিকে যেমন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনি জন্ম দিয়েছে নানা সমস্যারও। ‘উই আর সোশ্যাল ও হুটস্যুট’ নামক প্রতিষ্ঠানের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ফেসবুক ব্যবহারের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। এখানে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে। আর বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহার করছে ১২০ কোটি মানুষ। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোতে ফেসবুকে আসক্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সমাজে নৈতিকতার স্খলন দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে সামাজিক অবক্ষয়। শুধু তাই নয়, এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও। ফেসবুকের ক্ষতিকর প্রভাবের অন্যতম উদাহরণ রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা। তেমনি একের পর এক ব্লগার হত্যার জন্যও ফেসবুকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি করে বেশ কয়েকবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ফেসবুকে। যা আইনগত দিক খেকে দন্ডনীয় অপরাধ। একই ভাবে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে অন্যের সম্মানহানি করা, কারো চরিত্র হনন করার জন্যও সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুককে বেছে নেওয়া হচ্ছে। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বা পারিবারিক, সামাজিক শত্রুতা হাসিলের জন্য ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে অন্যের সম্মানহানি করা এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘অনেকেই অন্যকে হেনস্তা করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খোলেন । বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে হেনস্তার পরিমাণ অনেক বেশি। তারা ওই আইডির মাধ্যমেই অশালীন মন্তব্য ও আপত্তিকর ছবি আপলোড করেন। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর এসএমএসও পাঠানো শুরু করেন। এমন অনেক মামলা আমার কাছে আসে। সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফেসবুকে পরিচিতজনদের দ্বারাই তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার’।  ফেসবুক আসক্তি:ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে একসময় ফেসবুকে নির্ভরশীল হয়ে পড়া ও বেশকিছুক্ষণ ফেসবুকের বাইরে থাকতে না পারাই ফেসবুক আসক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ফেসবুক আসক্তের পরিমাণ বাড়ছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। অর্থব্যায়: ফেসবুক ব্যাবহারে ফলে বাড়ছে আর্থিক ব্যায়। মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর নানা ধরণের চমকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পা ফেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অনেকেই। এমনকি সীমিত আয়ের মানুষরা এর দ্বারা বেশি ক্ষতির শিকার। চোখ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি:বিশেষজ্ঞরা বলছেন ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এন্ড্রয়েড ফোন ও পিসি থেকে নির্গত রশ্মি চোখ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের জন্য তা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কাজের ক্ষতি:ফেসবুকের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো কাজের ক্ষতি। পড়াশুনা, অফিসের কাজ, পারিবারিক কাজসহ প্রচুর সময় নষ্ট হয় ফেসবুকের পেছনে। সামষ্টিকভাবে আমরা বছরে ফেসবুকের পেছনে কী পরিমাণ সময় নষ্ট করি, তার পরিমাণ কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। পড়ালেখার ক্ষতি: ফেসবুকের ক্ষতির শিকার শিক্ষার্থীসহ জ্ঞানপিপাসুরাও। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফেসবুক আসক্তির ফলে একদিকে যেমন তারা পড়াশুনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের স্মৃকিশক্তিও লোপ পাচ্ছে। বিশেষ করে, তাদের মস্তিস্কের বড় একটা অংশ দখল করে নিচ্ছে ভার্সুয়াল জগৎ। এএ/ এমজে/
স্মার্টফোন আসক্তি, বাড়ছে অশান্তি

রাজধানীর একটি স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ছে শমসের আলী জিতু। তার বাবা তৃতীয় গ্রেডে সরকারি চাকরি করেন। মা গৃহিণী। জিতু`র বড় বোন ঢাকার একটি কলেজের ছাত্রী। আর ছোট ভাই ক্লাস ফোরে পড়ে। ইদানীং জিতুর খুব মন খারাপ। ক্লাসে বন্ধুদের সাথে আগের মতো মেশেনা। বাসায় আগের সেই হৈ-হুল্লোড় নেই। জিতুর মা প্রথম দিকে বুঝে উঠতে পারেন নি বিষয়টি কী। কিন্তু কয়েকদিন পর তার কাছে আসল ব্যাপার পরিষ্কার হয়। জিতুর সহপাঠীদের সবার হাতেই স্মার্ট ফোন আছে। জিতু এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বায়না করেছে তাকে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার জন্য। তার বাবা ধমক দিয়ে বলেছেন, ‘ভাল করে পড়। এখন তুই স্মার্ট ফোন দিয়ে কী করবি’? জিতু এখন ক্লাসে হীনমন্যতায় ভোগে। সবাই ক্লাসে ফোন নিয়ে আসে। ক্লাসে সুযোগ পেলেই মোবাইল ফোনে নানা ধরণের গেমস নিয়ে মেতে থাকে তারা। বন্ধুদের অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। তারা ফেসবুকে নানা ধরনের ছবি পোষ্ট দেয়। কিন্তু জিতু পারে না। তাই নিজেকে ছোট মনে হয় জিতুর। এদিকে রাজধানীর একটি কলেজে সবে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে জিতুর বোন শারমিন।বন্ধুদের সবাই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক বা হোয়াটসএ্যাপ ব্যবহার করে। এরইমধ্যে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখতে মন দেওয়া নেওয়া করে ফেলেছেন শারমিন। তবে ইচ্ছে করলেই সে মনের মানুষটির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারেনা, ছবি শেয়ার করতে পারে না।বাবা-মায়ের কাছে বলে লাভ নেই, জিতুর ঘটনা থেকে টের পায় সে। তবে এসএসসি পরীক্ষার পর মা তাকে কানের দুল পড়িয়ে দিয়েছিল। দুলগুলো তার নানীর স্মৃতি।শারমিন দুল জোড়া পড়েনা। আলমারীতে পড়ে আছে। স্মার্ট ফোনের টাকা জোগাড় করতে দুল জোড়ার দিকে হাত বাড়ায় শারমিন। কোনো রকমে মায়ের হাতে ধরা খেলে কেমন অভিনয় করবে তাও মনে মনে রিহার্সেল করতে থাকে শারমিন। এবার আসা যাক মাহফুযের কথায়। মাহফুয ডিগ্রী পাশ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করছে গত আট মাস। তার গাড়ি ভাড়া ছাড়া বাকি টাকাটা সে খুব যত্ন করে জমায়। জমানোর কারণ তার একটি ভাল এন্ড্রয়েড ফোন চায়-ই চায়। দৈনন্দিন জীবনে আর কিছু দরকার নেই। শুধু চায়, একটি স্মার্ট ফোন। জিতু, শারমিন বা মাহফুয নয়। দেশের সব বয়সের ছেলে-মেয়েদের কাছে আকর্ষণের বস্তু স্মার্ট ফোন। স্মার্ট ফোন হাতে না থাকলে স্মার্ট হওয়া যাবেনা, এমনটাই বিশ্বাস সকলের। দৈনন্দিন জীবনে কাপড়-চোপড় বা খাওয়া দাওয়ার চাইতে স্মার্ট ফোনের গুরুত্ব কম নয়। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সূত্র অনুযায়ী দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার কারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। এদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক তরুণ-তরুণী। স্মার্ট ফোন আমাদের জীবনের একটি অনুসঙ্গ। প্রযুক্তির প্রসারে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ট্যাঙ্গো, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, গুগল, মেইল এসব এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এসবের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করে স্মার্ট ফোন। কিন্তু স্মার্ট ফোনের জন্য মরিয়া হয়ে যাওয়া বা স্মার্ট ফোন না থাকলে হীণমন্যতায় ভোগা তরুণদের জীবন অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। মনোবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী হীনমন্যতায় ভোগার ফলে মানুষ তার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। সব কিছুতেই তার মধ্যে `না` বোধক মনোভাব তৈরী হয়। অতিরিক্ত হীনমন্যতা তার মধ্যে বিষন্নতার জন্ম দেয়।স্মার্ট ফোনের অতিরিক্তি আসক্তি তরুণদেরকে অপরাধে উৎসাহী করে। তারা স্মার্ট ফোন কেনার টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে পা বাড়ায়। একটি জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশে শিশু- কিশোররা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে খুন হওয়ার সংখ্যা ২২৩টি। এর মধ্যে ১০৬ টি ঘটনা ঘটেছে মোবাইল ফোন কেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে। যা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি থেকে খুনাখুনি পর্যন্ত গড়ায়। রাজধানীর একটি স্কুলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষিকা জানান, ক্লাসে একজনের ব্যাগ থেকে অন্যজন মোবাইল চুরি হওয়ার বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। রাশেদা আকতার একজন গৃহিনী। স্বামী সন্তান নিয়ে মোটামুটি সুখের সংসার ছিল তার। তার বড় ছেলে অভ্র এবার ক্লাস টেনে পড়ছে। স্মার্ট ফোন কেনার বায়না মেটাতে শেষ পর্যন্ত হাত দিতে হয় দীর্ঘদিনের জমানো ব্যাংক এ্যাকাউন্টে। কিন্তু মোবাইল ফোন কেনার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তা ছিনতাই হয়। অভ্র এখন আবার বায়না করছে তাকে নতুন স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার জন্য। বাজারে বর্তমানে হরেক রকমের স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়। মোটামুটি চলনসই একটি স্মার্ট ফোন কিনতে গুনতে হয় কমপক্ষে আট হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এটাকাটা অনেক সময় পুরো এক মাসের খরচ বা খরচের একটি অংশ। সেখানে সন্তানদের স্মার্ট ফোন কেনার বায়না, বা স্মার্ট ফোন না থাকলে হীন মন্যতায় ভোগা ওই পরিবারের জন্য অশান্তি ডেকে আনে। যা আমাদের কারো কাম্য নয়। এএ/ এমজে

বিমানে মানুষ কেন ভুলভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়ে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সে মাঝ-আকাশে দুর্ঘটনায় পড়ার পর বিমানের ভেতরকার একটি ছবিতে দেখা যায়, যাত্রীদের প্রায় সকলেই ভুলভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়ে রয়েছেন। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, মানুষ কেন ভুল ভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়ে? সাবেক একজন ব্রিটিশ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ববি ল্যরি বলছেন, বিমান ভ্রমণের সময় যাত্রীরা প্রায় কেউই ভ্রমনকালীন সময়ের নির্দেশনাগুলো ঠিক মত শোনেন না। বিমান আকাশে ওড়ার পরপরই ক্রুরা ইন-ফ্লাইট ডেমনস্ট্রেশন, অর্থাৎ ভ্রমনকালীন সময়ে করনীয় সম্পর্কে যেসব ব্যাখ্যা দেন, তা প্রায় কেউই মন দিয়ে শোনেন না। কিন্তু জরুরি মূহুর্তে যাত্রীদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা না গেলে, অক্সিজেনের অভাবে একজন মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে। এছাড়া রয়েছে ভুলভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়া। ভ্রমনকালীন সময়ে তিনটি উপায়ে যাত্রীদের বলা হয়, কিভাবে অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। শুরুতে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হাত নেড়ে বুঝিয়ে দেন। এরপর যাত্রীদের সিট পকেটে রাখা সেফটি কার্ডেও লেখা থাক নির্দেশনা। আর সর্বোপরি যখন মাথার ওপর থেকে অক্সিজেন মাস্কটি যাত্রীদের একেবারে মুখের সামনে ঝুলে পড়ে, যে ব্যাগটির ভেতরে মাস্ক থাকে তার গায়েও লেখা থাকে নির্দেশনা। এগুলো খেয়াল করতে হবে। এজন্য কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখার পরামর্শ দেন ল্যরি। প্রথমেই দেখতে হবে অক্সিজেন মাস্কটি যেন মুখ ও নাকের পুরোটা ঢেকে দিতে পারে। এরপর মাস্কের সঙ্গে লাগানো প্লাস্টিকের ব্যান্ডটি মাথার পেছনে টেনে দিতে হবে, যাতে সেটি মাস্কটিকে মুখের সঙ্গে আটকে রাখতে পারে। কোনও কারণে মাস্কটি অকার্যকর মনে হলে, ঘাবড়ে না গিয়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে পাশের যাত্রীর সঙ্গেও ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে ল্যরি তার অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, কোনও সমস্যা দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরণের তাড়াহুড়া শুরু হয়ে যায়, দ্রুত কিভাবে মাস্কটি পড়তে পারবেন। তাছাড়া আসন্ন কোনও বিপদের আশংকায় অনেকেই নার্ভাস হয়ে পড়েন। অনেকেই হয়তো একসঙ্গে অভিযোগ জানান যে, কেন বিষয়টি তাকে আগে জানানো হলো না। কিন্তু সাধারণত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে তর্ক করেন না। হাসিমুখে বলেন, আমরা জানাতে চেষ্টা করেছিলাম, এখন দয়া করে আপনারা নিজের আসনে ফিরে যান। সূত্র: বিবিসি একে/

ইউটিউবে শিশুদের নিরাপদ রাখার ৩ কৌশল

ভিডিও দেখার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইউটিউব। শিশুরাও ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পছন্দ করে।কিন্তু শিশুদের জন্য ইউটিউবে ভিডিও দেখা যদি উপযুক্ত করা না হয় তাহলে ঘটতে পারে বিপত্তি।তারা সহজেই ভুলের দিকে পা বাড়াতে পারে বা খারাপ কিছুর দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। তাই আপনি কিভাবে শিশুদের ইউটিউব ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ করবেন তার তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো। ১) জিমিইল আইডি দিয়ে ইউটিউবে লগ ইন করুন প্রথমে শিশুর জন্য জিমেইল আইডি খুলে নিতে হবে।এরপর যে কম্পিউটারে শিশুটি ইউটিউবে ব্যবহার করবে সেখানকার ব্রাউজারে গিয়ে ইউটিউব ওয়েবসাইটটিতে যেতে হবে। এরপর ইউটিউবের ডান পাশে থাকা লগ ইন অপশনে ক্লিক করে শিশুটির জন্য খোলা জিমেইল আইডিটি দিয়ে লগ ইন করতে হবে। ২) কম্পিউটারে ইউটিউবের Restricted Mode  চালু করুন ইউটিউবের হোম পেইজের বাম পাশে থাকা সাইডবারের নিচে থাকা ‘settings’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেটিংস পেইজে নিচের দিকে ‘Language’, ‘Country’, ‘Restricted Mode ’, ‘Help’ লেখা চারটি অপশন দেখা যাবে। এরপর Restricted Mode নামে একটি অপশনে ক্লিক করতে হবে।এরপর ‘on’ অপশন সিলেক্ট করে ‘save’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এতে করে আর ছোটদের অনুপযোগী ভিডিও সার্চ লিংক এসে হাজির হবে না। ৩) স্মার্ট ফোনে ইউটিউবের Restricted Mode  চালু করুন ফোনে থাকা ইউটিউব অ্যাপের ‘Restricted Mode’ অপশনটিও চালু করে রাখা যাবে। এর জন্য প্রথমে ফোনে থাকা ইউটিউব অ্যাপে গিয়ে ডান পাশে থাকা ইউজার প্রোফাইলের আইকনে ক্লিক করতে হবে। তারপর নতুন একটি পেইজ চালু হবে সেখান থেকে ‘settings’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে থেকে ‘General’ অপশনে ক্লিক করলে ‘restricted mode’ অপশনটি আসবে।   এমএইচ/টিকে

মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা

যারা রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায় সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি। গবেষণায় দেখা যায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়। রাত জাগার অভ্যাস বদলাতে রাতের বেলা মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যবহার কমাতে হবে। বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরণের মানুষকে বেছে নিয়েছেন। যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা প্রতিরাতে নিয়মিত রাত জাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের দেহঘড়ি অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে। রাত জাগার বদভ্যাস যারা গড়ে তুলেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির শিকার হন। ৩০ শতাংশের থাকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। সুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যালকম ভনের মতে রাত জাগার এই সমস্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। এই সমস্যা দূর করতে অর্থাৎ সূর্যোদয় সূর্যাস্তের সঙ্গে দেহঘড়ির সামঞ্জস্য ঘটাতে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে এ বিষয়ে আরো গভীর গবেষণার প্রয়োজন বলে জানান তিনি। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন এ ধরণের বদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে রাত জাগার কারণে আপনার শরীর মন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, এমনটাও ভাবার কোন কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অধ্যাপক নুটসন। তিনি জানান, শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিজের দেহঘড়িকে নিয়মের মধ্যে আনতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা: ১. আপনার শোবার জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে সূর্যের আলো সহজেই পৌছায় কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার থাকে। ২. প্রতিরাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং সেটা যেন খুব দেরিতে না হয়। ৩. সুস্থ লাইফস্টাইলের জন্য যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন সেগুলো আয়ত্বে আনতে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া। ঘুমের সময়ের সঙ্গে কোন অবস্থাতেই আপোষ করা যাবে না। ৪. দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা করা। ৫. ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকা। তথ্যসূত্র: বিবিসি।এসএইচ/

শিশুদের কম্পিউটার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

কম্পিউটারে শিশুর জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরির করার মাধ্যমে  আপনার শিশুর কম্পিউটার ব্যবহার সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টে শিশুরা কী কী করতে পারবে তাও নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। কম্পিউটারের মূল ব্যবহারকারী চাইলে এরকম করতে পারেন। এখানে ব্যবহারকরীদের জন্য পছন্দমতো ডেস্কটপ ও অন্যান্য সেটিং সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিশুদের জন্য নতুন অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলবেন তা আপনাদের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো। *অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রথম উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সেটিংস অপশনে যেতে হবে। *এরপর ‘accounts’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে নতুন একটি পেইজ চালু হবে। * এই পেইজের বাম পাশে থাকা অপশনগুলো থেকে ‘Family & other people’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর নতুন যে পেইজটি চালু হবে সেখান থেকে ‘add a family member’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। * তারপর কম্পিউটারের এডমিন পাসওয়ার্ড চাইবে, তা দিলে নতুন একটি পেইজে প্রদর্শিত হবে। আপনি যে ইউজার অ্যাকাউন্ট খুলছেন তা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নাকি শিশুর জন্য তা জানতে চাইবে। * সেখান থেকে ‘add an child’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। তারপর একটি ‘ইমেইল আইডি দিয়ে নেক্সট বাটনে ক্লিক করতে হবে। *যদি শিশুটির জন্য আলাদা মেইল আইডি না থাকে তাহলে নিচে থাকা ‘the person i want to add doesn’t have an email adress’ অপশনটিতে ক্লিক করে নতুন একটি মেইল আইডি তৈরি করে নেওয়া যাবে। * এরপর ‘confirm’ বাটনে চাপতে হবে। এতে শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। শিশুরা যখন কম্পিউটার ব্যবহার করবে তখন স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট অপশন থেকে শিশুর জন্য খোলা অ্যাকাউন্টটি নির্বাচন করে দিতে হবে। * শিশুর অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার বা গেইমের বাইরে কিছু ব্যবহার করতে পারবে না। এমন কি কতো সময় ধরে পিসি ব্যবহার করেছে, সেই হিসাবও দেখা যাবে। এর জন্য যেতে হবে ওয়েব ব্রাউজারের ঠিকানায় । * তারপর মাইক্রোসফট আইডির এডমিন ইউজার নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। যেখানে ‘Family members’ অপশনে পাওয়া যাবে অ্যাকাউন্টটি। * সেখানে শিশুটি কতো সময় কম্পিউটার ব্যবহার করবে, কী কী অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এমএইচ/টিকে

বন্ধুর হোয়াটসঅ্যাপে গোপনে নজরদারি চালাবেন যেভাবে

বিশ্ব জুড়ে কয়েক কোটি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। মেসেজ, ছবি, ভিডিও শেয়ার করতে এই অ্যাপের জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি বেশ কিছু নতুন আপডেটও আনা হয়েছে এই অ্যাপে। মেসেজ ডিলিট করার অপশনও দেওয়া হয়েছে। গোপনীয়তা বাড়াতে আরও নানা ধরনের আপডেটও নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে হ্যাকারদের পক্ষে সবই সম্ভব। এক নতুন অ্যাপে বন্ধুর হোয়াটসঅ্যাপেও এবার নজর রাখা সম্ভব হবে। এমনই এক অ্যাপ এনেছে লাইফহ্যাকার নামে একটি সংস্থা। যার মাধ্যমে বন্ধু উত্তর না দিলেও তার গতিবিধির উপর নজর রাখা যাবে। অনেকেই ব্লু টিক, লাস্ট সিন এসব হাইড করে রাখেন। ফলে আপনার মেসেজটি সে দেখল কি-না, তা জানার উপায় থাকে না। উত্তর না এলেও অপেক্ষা করে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। এই অবস্থাতেই বন্ধুর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারেন এই অ্যাপের মাধ্যমে। অ্যাপটির নাম ‘চ্যাটওয়াচ’। এটি ডাউনলোড করা যাবে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড দুই প্ল্যাটফর্মেই। সংস্থার দাবি, এর সাহায্যে সহজেই নজর রাখতে পারবেন আপনার বন্ধুর গতিবিধির উপর। সংস্থার ওয়েবসাইটে ‘চ্যাটওয়াচ’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই অ্যাপের সাহায্যে বন্ধু, পরিবারের সদস্য, সহকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইন/ অফলাইন অ্যাক্টিভিটির ওপর নজর রাখতে পারবেন। তাদের লাস্ট সিন ফিচার গোপন করা থাকলেও। কখন তাঁরা শুতে যাচ্ছেন, কতক্ষণ ঘুমোচ্ছেন, এমনকী বন্ধুদের চ্যাট প্যাটার্ন তুলনা করে দেখে বুঝতেও পারবেন তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন কিনা। তবে, এই অ্যাপ ডাউনলোড করার পর রেজাল্ট দেখাতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। অ্যান্ড্রয়েড ইউজাররা এই অ্যাপ প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারলেও অ্যাপল স্টোরে এই অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাপল স্টোরে কেন এই অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: কলকাতা টুয়েন্টি ফোর একে// এআর

জিও প্রাইম মেম্বারশিপ ‘রিনিউ’ করবেন যেভাবে

সম্প্রতি শেষ হয়েছে রিলায়েন্স জিও-র প্রাইম অফারের বৈধতা। যদিও সেই অফার আরও এক বছর বহাল রাখার কথা ঘোষণা করেছে রিলায়েন্স। তবে অনেকেই বুঝতে পারছেন না অফারটি রিনিউ করতে গেলে ঠিক কী করতে হবে। সংস্থার তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিও তার সদস্যদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়। অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে জিও সদস্যদের। নতুন জিও গ্রাহকদের জন্য এই অফার। বছরে ৯৯টাকা দিয়েই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে আপনা আপনি রিনিউ হয়ে যাবে না অফারটি। আপনাকে ম্যানুয়ারি পুরো প্রক্রিয়া সারতে হবে। দেখে নিন কিভাবে রিনিউ করবেন সেই অফার ১. মাইজিও অ্যাপটি খুলুন। কারও যদি এই অ্যাপ না থাকে, তাহলে প্লে স্টোরে গিয়ে ডাউনলোড করুন। এবার জিও নম্বর দিয়ে লগ ইন করুন। ২. অ্যাপে ঢুকে আপনি দেখতে পাবেন ‘গেট নাও’ ট্যাব। যাতে লেখা রয়েছে ‘কনগ্রাচুলেশনস! এক্সটেন্ড জিও প্রাইম ফর এ ইয়ার, ফ্রি। এবার এটির উপর ট্যাপ করুন। ৩. এবার আরও একটি ট্যাব খুলে যাবে। যেখানে লেখা আছে, জিওপ্রাইম ইজ গেটিং বিগার, ইউ ‍আর ভ্যালুড জিও প্রাইম মেমবার এন্ড উই আর এক্সটেন্ডিং ওয়ান ইয়ারস সাবস্ক্রিপশন এবসুলিউটলি ফ্রি ফর ইউ। সেখানে ক্লিক করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করুন। ৪. এরপর আসবে আরও একটি মেসেজ। সেখানে লেখা থাকবে, রিকোয়েস্ট সাবমিটেড সাকসেসফুলি। ইউর রিকোয়েস্ট টু এভেল ফ্রি জিও প্রাইম মেমবারশিপ ফর এ ইয়ার হেজ বিন রেজিস্টার্ড সাকসেসফুলি। ইউ কেন নাউ এনজয় জিও প্রাইম বেনিফিটস ফর এনাদার ইয়ার। এই মেসেজ দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার জিও প্রাইম মেম্বারশিপ রিনিউ হয়ে গিয়েছে। সূত্র: কলকাতা টুয়েন্টিফোর একে// এআর

যেভাবে পাবেন তুরস্কের ভিসা

‘এশিয়ার প্রবেশদ্বার’ বলা হয় তুরস্ককে। অটোম্যান সাম্রাজ্যসহ ইউরোপ আর এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এই তুরস্ক পর্যটকদের কাছেও বেশ আকর্ষণীয় জায়গা। পাঠকদের জন্য তুরস্ক ভ্রমণে ভিসা আবেদনের বিভিন্ন দিক নিয়েই আজকের এই আয়োজন। আবেদন প্রক্রিয়া তুরস্কের ভিসা আবেদনের জন্য মূল ধাপ তিনটি। প্রথম ধাপটি হল ‘প্রি-অ্যাপ্লিকেশন’। এই ধাপে www.visa.gov.tr এই লিংকে গিয়ে একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরমে জানতে চাওয়া বিষয়গুলোর সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। এই ধাপে আবেদনকারীর জাতীয়তা, পাসপোর্ট নম্বর, তুরস্ক ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং কোন দেশের তুরস্ক দূতাবাসে ভিসা আবেদন ফরম জমা দেবেন আবেদনকারী তা জানতে চাওয়া হয়। এই তথ্যগুলো পূরণ হয়ে গেলে একটি চুক্তিনামা আসবে। যার সাথে ‘সম্মত’ হলে ভিসা আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে। এই জায়গাটায় এসে ভিসা আবেদনের সাথে যেসব দলিল বা ডকুমেট প্রয়োজন তার একটি তালিকাও পাওয়া যাবে। এগুলো হলঃ ১) ছবি ২) আয় সম্পর্কিত দলিল ৩) বিমান বুকিং এর টিকেট ৪) হোটেল বুকিং অথবা আমন্ত্রণ পত্রের দলিল ৫) আবেদনকারী দেশে ফিরে আসবেন এই সম্ভাবনার স্বীকৃতিস্বরুপ প্রমাণাদি যেমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর ৬) পরিচিতিমূলক চিঠি ‘প্রি-অ্যাপ্লিকেশন’ ধাপে যারা বিবেচিত হবেন তাদেরকে পরবর্তী ধাপ ই-ভিসা’র জন্য যোগ্য ঘোষণা করা হবে। ই-ভিসার জন্য যোগ্য ঘোষিত হলে www.evisa.gov.tr এই লিংকে গিয়ে মূল ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ এই ধাপে আবেদনকারীকে তার পাসপোর্টও ভিসা অফিসে জমা দিতে হবে। তৃতীয় আর শেষ ধাপটি হল সরাসরি সাক্ষাৎকার পর্ব। এই ধাপে আবেদনকারী যে ভিসা অফিসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন সেই অফিসের একজন কর্মকর্তার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। এসময় দুই পক্ষের কথোপকথনে নির্ধারিত হবে আবেদনকারী ভিসা পাবেন কী পাবেন না। সাধারণ তথ্যাবলী ১) বিভিন্ন দেশ থেকে তুরস্ক ভ্রমণের জন্য যেসব ক্যাটেগরিতে ভিসা দেওয়া হয় তা হল- ১)ভ্রমণ/ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, ২) অফিসিয়াল ভিসা, ৩) শিক্ষার্থী বা শিক্ষা উদ্দেশ্যে ভিসা, ৪) কর্মী ভিসা, ৫) অন্যান্য ভিসা (যেমনঃট্রানজিট, চিকিৎসা ইত্যাদি)। ২) যে তারিখ পর্যন্ত একজন আবেদনকারী তুরস্কে অবস্থান করতে চান তার থেকে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক। ৩) ভিসা পাওয়া একজন ব্যক্তি প্রতি ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিনের বেশি তুরস্কে অবস্থান করতে পারবে না। এর থেকে বেশি সময় তুরস্কে অবস্থান করতে হলে ঐ ব্যক্তিকে ‘স্বল্প মেয়াদে বসবাসের অনুমতি’ নিতে হবে। ৪) ভিসা পাওয়া ব্যক্তিকে তুরস্ক ভ্রমণের সময় ইন্সুরেন্স করিয়ে নিতে হবে। ৫) কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী অথবা অফিসিয়াল পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের তুরস্ক ভ্রমণের জন্য ভিসার প্রয়োজন নেই। তবে এর বাইরে সাধারণ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিদের তুরস্ক ভ্রমণে ভিসার প্রয়োজন হবে। তবে কারও যদি সেনজেন ভিসা থাকে আর সেই ভিসার যদি মেয়াদ থাকে তাহলে সেই ভিসা দিয়েও তুরস্ক ভ্রমণ করতে পারবেন একজন বাংলাদেশি। কিন্তু যদি সেনজেন ভিসা না থাকলে তাহলে আবেদনকারীকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য অথবা আয়ারল্যান্ডে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে একজন আবেদনকারীকে প্রাথমিক পর্যায়ে এক মাস মেয়াদী ‘সিঙ্গেল-এন্ট্রি’ ভিসা দেওয়া হবে। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ঘুরে আসতে পারেন এই লিংকে- www.konsolosluk.gov.tr এসএইচএস/টিকে

তথ্য চুরি থেকে বাঁচতে যেভাবে বদলাবেন ফেসবুকের সেটিংস

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা বিতর্কে নিজেদের তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঘোর অমানিশার মুখে কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারী। ধোঁয়াশা কাটাতে সম্প্রতি জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপদে রাখাতে অনেক নতুন ফিচার আনা হচ্ছে।  এবার ব্যবহারকারীরাও নিজেদের ফেসবুকের সেটিংসে এমন কিছু পরিবর্তন করতে পারেন, যাতে তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। যদিও হ্যাকারদের দৌরাত্ম্যে সুরক্ষিত থাকার উপায় নেই। তবুও, ফেসবুক সেটিংসে কোনো পরিবর্তন করলে তথ্য সুরক্ষিত থাকবে তা জেনে রাখা দরকার।কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর তথ্য চুরি যাওয়ার ভয়ে বহু মানুষ তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টই বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু এটা কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ, পরে ফের ফেসবুকে ফিরলে একই রকম সমস্যার মুখে পড়তে পারেন সেই ব্যক্তি। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ফেসবুক API-এর সুরক্ষাবিধিতে রদবদল করার পরামর্শ দিচ্ছে সংস্থাটি। ফেসবুক API বা All Platform Apps, যার মধ্যে রয়েছে ফার্মভিল, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপও। তবে, তার আগে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আপনি যদি সমস্ত API নিষ্ক্রিয় করে দেন, তাহলে আর এই অ্যাপগুলি ফেসবুক লগ ইন করে ব্যবহার করতে পারবেন না।অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে যা করবেন-১) প্রথমে ফেসবুকে লগ ইন করুন;২) এবার অ্যাপ সেটিংস অপশন বেছে নিন;৩) এবার অ্যাপস, ওয়েবসাইট অ্যান্ড প্লাগইনস অপশন থেকে এডিট অপশনে ক্লিক করুন;৪) সেখানে ‘Apps other use’ অপশন থেকে এডিট বাটনে ক্লিক করুন;৫) এবার সেখান থেকে আপনি যে যে অ্যাপ আপনার তথ্য জানুক, এটা চান না, সেই অ্যাপগুলিকে আনচেক করে দিতে পারেন।সূত্র : জিনিউজ।/ এআর /

রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে ব্যাগ বহন করা যাবে না কাল

স্বল্পন্নোত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণ উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পিঠে ঝুলানো ব্যাগসহ সব ধরনের ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ধারলো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা আগুন জ্বলাতে পারে এমন বস্তুও বহন করা যাবে না। সচিবালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।এর আগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ওই দিন দেশব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, `পিঠে এক ধরনের ব্যাগ বহন করা হয় যেটা ছাত্র বা যুবক শ্রেণি ব্যবহার করে। অনুষ্ঠানের দিন অর্থাৎ ২২ মার্চ এ ধরনের কোনো ব্যাক-প্যাকসহ কোনো রকম ব্যাগ বহন করতে দেব না।`তিনি জানান, ধারলো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা আগুন জ্বলাতে পারে এমন বস্তুও বহন করতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারণ সারাদেশে এ দিন বিরাট সমাবেশ হবে। এজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।তিনি আরও বলেন, ওইদিন সচিবালয়ে বেলা ৩টার পর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যারা প্রবেশ করে ভেতরে অবস্থান করবেন, তারাও বের হতে পারবেন না।/এআর/

ফেসবুক প্রোফাইলে অস্থায়ী ছবি দেওয়ার কৌশল

বিশেষ দিবস বা কোনো উৎসব উপলক্ষে অনেকেই ফেসবুকে নতুন প্রোফাইল ছবি কিংবা ফ্রেম যুক্ত করলেও উৎসব শেষ হলে তা সরিয়ে আবারও পুরানো প্রোফাইল ছবিতে ফিরে যান তারা। কিন্তু পুনরায় বিশেষ দিবসের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে পুরাতনটি যুক্ত করাটা অনেকের কাছেই বিরক্তির ব্যাপার। তাই যার বিশেষ দিবসে প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেন না। এমন ব্যোবহারকারীদের জন্য অস্থায়ী প্রোফাইল ছবি যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে ফেসবুকে। এতে ব্যবহারকারীরা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন প্রোফাইলে ছবিটি কতোদিন থাকবে। ফলে নির্দিষ্ট দিন শেষ হলে পুরাতন ছবিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রোফাইল ছবিতে যুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু কিভাবে ফেইসবুকে অস্থায়ীভাবে একটি প্রোফাইল ছবি দিতে হয়? প্রথমেই ফেইসবুকে লগইন করে প্রোফাইল ছবির উপরের থাকা ‘update profile picture’ অপশনে ক্লিক করে যে ছবিটি প্রোফাইল ছবি বা ফ্রেমটি যুক্ত করতে চান তা সিলেক্ট করতে হবে। তারপর ছবিটির বাম পাশে নিচে ‘Make Temporary’ অপশনটিতে ক্লিক করে কয়দিনের জন্য ছবিটি প্রোফাইলে যুক্ত করতে চান তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এতে ঘণ্টা, দিন, মাস কিংবা চাইলে আপনি আপনার মতো সময় নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। সময় নির্ধারণ করে দিয়ে সেইভ বাটনে ক্লিক করতে হবে। সূত্র : টেক ওয়ার্ল্ড। একে// এআর

ফেসবুক চ্যাটে কারও কাছে অফলাইন থাকবেন যেভাবে

ফেসবুকের ইনবক্সে অনলাইনে থাকলে অনেকে নক করা শুরু করেন। অনেক সময় দেখা যায়, যাকে আপনি এড়িয়ে যেতে চান তিনিই হয়ত বেশি বেশি বিরক্ত করছেন। এমনকি বন্ধু তালিকার কেউ কেউ আপত্তিকর বার্তাও পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে প্রেরক বন্ধুকে অনেকেই ব্লক করেন বা ফেন্ড লিস্ট থেকে ফেলে দেন। কিন্তু কাছের কেউ বা অতি পরিচিত কেউ হলে তাদের রিমুভ বা ব্লক করা যায় না। এ ক্ষেত্রে যে বন্ধুর সঙ্গে চ্যাট করা থেকে বিরত থাকতে চাইছেন চাইলে তাকে এড়িয়ে যেতে পারেন। আপনি অনলাইনে থাকলেও তার কাছে চ্যাটে অফলাইনে থাকা যায়। কিভাবে কাজটি করবেন? ফেসবুকে লগইন করার পর যে বন্ধুকে অফলাইনে রাখতে চান তার চ্যাট বক্সে যান। তারপর চ্যাট বক্সের উপরের কোনায় থাকা সেটিংস অপশনে ক্লিক করে ‘trun off chat for…’ অপশনটি ক্লিক করতে হবে। তাহলে ওই নির্দিষ্ট বন্ধুটির চ্যাটবক্স অফলাইন হয়ে থাকবে। ফলে আপনি অনলাইনে থাকলেও ওই বন্ধু দেখবে আপনি অফলাইনে আছেন। একে// এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি