ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:১৮:১৬

শরীরে যে ৪ লক্ষণ দেখলেই ডাক্তারের কাছে যাবেন

শরীরে যে ৪ লক্ষণ দেখলেই ডাক্তারের কাছে যাবেন

মানবদেহে কখন কী ভাবে রোগ বাসা বাঁধে, তার কোনও ঠিক ঠিকানা নেই। অনেক সময় তৎক্ষণাৎ বোঝা গেলেও, এমন বহু রোগ আছে যা বুঝতে আপনার বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যায়। আর তত দিনে সেই রোগ অনেক গভীরে পৌঁছে যায়। শরীরে যে সব রোগ বাসা বাঁধে, তার অধিকাংশই স্ট্রেস থেকে আসে। এমনকী মানসিক ব্যাধিও দেখা দিতে পারে স্ট্রেস থেকে। ‘নাফিল্ড হেলথ’-এর বিশেষজ্ঞ টিম হিপগ্রেভ জানিয়েছেন, শরীরে চারটি লক্ষণই আগাম জানান দেয় যে, আপনার দেহে রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। তাহলে দেখে নেওয়া যাক, কী সেই লক্ষণগুলি— কাজ করার ক্ষমতা কমতে থাকলে কাজ করার ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমতে থাকলে বা শরীরে এনার্জির অভাব বোধ করলে বুঝবেন রোগ বাসা বাঁধছে। মূলত স্ট্রেস থেকেই এই লক্ষণ আসে। এর থেকে হরমোন জনিত সমস্যাও তৈরি হয় ও মানসিক ব্যাধি, ঘুম কম হওয়া ইত্যাদিও শুরু হয়। দাঁতে ব্যথা চোয়ালে ব্যথা বা দাঁত কিড়মিড় করা, মাথায় ব্যথা, দাঁতের সমস্যা— ইত্যাদিও হয় স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি থেকে। অনেক সময়ে ঘুমের মধ্যেও অনেকে দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকেন, যার ফলে মাড়ি বা জিভি কেটে যায়। এর খেকে মুখে ইনফেকশন পর্যন্ত হতে পারে। মুখের ইনফেকশন বছরের পর বছর ফেলে রেখে দিলে মুখে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন? অর্থাৎ শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে গিয়েছে। নিয়মিত এমন হতে থাকলে এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান। খাদ্যাভ্যাস বদলে গেলে স্ট্রেস থেকে রোজকার খাদ্যাভ্যাসও বদলে যায়। স্ট্রেস থাকলে তখন ভাত রুটির থেকেও চটজলদি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। খিদে খুব বেড়েও যেতে পারে, আবার কমেও যেতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন মানে পেটের বড় অসুখের ইঙ্গিত। তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র: এবেলা একে//  
সাবধান! পর্নোগ্রাফিতে বুঁদ কিশোর-তরুণরা

বাবুল সাহেব তার ছেলে মেয়েদের দেখে নিজের ছোট বেলার কথা ভাবেন। যেই বয়সে তিনি দাপিয়ে মাঠে ফুটবল খেলেছেন, পুকুরে সাঁতার কেটেছেন, বন্ধুদের সাথে রেললাইন ধরে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন, সেই বয়সে তার ছেলেমেয়েরা আলাদা আলাদা নিজেদের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। অনেক ডাকাডাকি করে খাওয়াতে হয়। অপ্রয়োজনে কারো সাথে কথা বলেনা। এটা কী ওদের স্বাভাবিক আচরণ, প্রশ্ন বাবুল সাহেবের। আলীম সাহেবের সন্তানদেরও একই অবস্থা। আলিম সাহেব খুশী। ছেলেমেয়েরা বাইরে ঘোরাঘুরি করলে অযথা চিন্তা বাড়ে। যা দিনকাল পড়েছে, তার চেয়ে রুমে আছে। খারাপ কী? দু`জনেই বাবা। তাদের দু`জন-ই আলাদাভাবে সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত। কিন্তু তারা কি জানেন, এক নীল দংশন প্রতিদিন তিলে তিলে শেষ করছে তার সন্তানের মানসিক জগত? কাগজে কলমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল ফোন নেওয়া নিষিদ্ধ হলেও কার্যত তা মানছে না কেউ। শিশুদের আচরণ ও মনোজগত নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন শিক্ষাবিদ সালেহা খন্দকার। তিনি দাবি করেন, এসএসসি পাশ করার আগে প্রায় ৭৬ শতাংশ শিশু মোবাইল ব্যবহার করে। এদিকে `মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন` নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। গ্রামীণফোনের অভিভাবক কোম্পানি টেলিনরের দাবি অনুযায়ী, দেশে ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ভাবে সাইবার হুমকির শিকার। মাহিয়ান ( ছদ্মনাম) পড়ছেন রাজধানীর একটি নামি-দামী প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিবেদকের সাথে তার কথা হলো ধানমণ্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায়। স্কুল ড্রেস পরা এ শিক্ষার্থীকে কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলো, সে দামী স্মার্ট ফোনে কী করে। প্রথম ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম নিয়ে কথা বললেও ধীরে ধীরে সে স্বীকার করে মোবাইলে নানা ধরণের মুভি দেখে সে। কী ধরণের মুভি দেখে এমন প্রসঙ্গে একপর্যায়ে আসে পর্নোগ্রাফি মুভির কথা। প্রথমে লজ্জা পেলেও পরে সে স্বীকার করে মোবাইলে ও বাসায় পিসিতে পর্নোগ্রাফি দেখে সে। তবে `পর্নোগ্রাফি` শব্দটি সে বা তার বন্ধুরা ব্যবহার করেনা। তাদের কাছে এটি থ্রি এক্স বা ন্যুড ছবি। শুধু মাহিয়ান নয়, তার কমবেশী সব বন্ধু মোবাইল পর্ণ আসক্ত। জিনিয়া( ছদ্মনাম) অবশ্য একটু আলাদা। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জিনিয়া জনায় মোবাইল ফোন ছাড়া চলেই না। শুধু ঘুমানোর সময় ছাড়া অন্য সব সময় তার মোবাইল ফোনের দরকার হয়। কী করে তারা মোবাইল ফোনে? উত্তর শুনতে পারেন জিনিয়ার মু্খেই। জিনিয়া বলেন, আমরা বন্ধুরা নিজেরা নিজেরা যোগাযোগ করি। বিভিন্ন মুভি দেখি। ইংলিশ মুভি দেখি। ইংলিশ মুভির কথা বলার পরে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেশ করি অ্যাডাল্ট ছবি দেখে কি না? জিনিয়া প্রথমে বিব্রত হলেও পরে আস্তে আস্তে স্বীকার করে সেও তার বন্ধুরা মোবাইলে ‘অ্যাডাল্ট ছবি’ দেখে। শুধু তাই নয়, নিজে যেমন দেখে, তেমনি অন্য বন্ধুদের মাঝেও ছড়িয়ে দেয় সেই মুভি। ব্যতিক্রম কিছু দেখলে প্রবল উত্তেজনায় একে অপরের সাথে আলাপ করে। শুধু মাহিয়ান বা জিনিয়া নয়, বরং পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত শিক্ষার্থীর পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। কেন শিশু-কিশোরদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি আসক্তি বাড়ছে? এমন প্রশ্নে সমাজ বিজ্ঞানীরা দায়ী করছেন মোবাইল ফোনকে। অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহারের পরিমাণও কম নয়। খুব অল্প বয়সে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রযুক্তি চলে আসায় তারা বুঝতে পারেনা এর সঠিক প্রয়োগ কী। আর তাই ক্রমেই বিপদগামী হচ্ছে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের প্রধান মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, ‘পর্নোগ্রাফি আসক্তিসহ প্রযুক্তির অপব্যবহারের জন্য সবচেয়ে দায়ী মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা। তাছাড়া বাবা-মায়েরা সন্তানদের বদ্ধ রুমে কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেন। এর ফলেও তারা পর্নোগ্রাফিগ্রাফিতে বেশি আসক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন- এর ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শতকরা ৭৮ শিক্ষার্থী গড়ে আট ঘন্টা মোবাইলের পেছনে ব্যায় করে। আর শুধু প্রেম করার উদ্দেশ্যে মোবাইল ব্যবহার করে শতকরা ৪৪ শিক্ষার্থী। ধানমন্ডির একটি স্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্রী লুবনা ( ছদ্মনাম) বলেন, ক্লাসে কোনো মেয়ের বয় ফ্রেন্ড নেই মানে সে অবহেলিত। তার কোনো স্ট্যাটাস নেই। বয়ফ্রেন্ড না থাকাটা একটা লজ্জার ব্যাপার। ক্লাসের আড্ডায় প্রতিযোগিতা চলে কে কার গার্লফ্রেন্ডকে কী গিফট করলো, মেসেঞ্জারে কে কী লিখলো এসব নিয়ে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার বলেন, ‘মাদক যেমন শরীরের ক্ষতি করে তেমনি পর্নো আসক্তি আমাদের শিশুদের চিন্তার জগতকে নষ্ট করে। স্বাভাবিক চিন্তা শক্তি ব্যাহত করে। একটা প্রজন্মকে চিন্তার জগতে শেষ করে দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকর অস্ত্র আর হতে পারে না।’ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা মাদকাসক্তদের চেয়েও বেশি ঝুঁকিতে আছে। প্রমাণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভার বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে পর্নোগ্রাফির আসক্তি হেরোইনের মতোই। শুধু প্রয়োগটা ভিন্ন। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের মস্তিষ্কে মাদকাসক্তদের মতোই নেশা কাজ করে। মাদক গ্রহণের ফলে আসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের যে অংশে অনুভূতি কাজ করে, পর্ন দেখার ফলে ঠিক সেই অংশই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। । মাদকাসক্তদের যেমন স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে, বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা নেমে আসে, তেমনি পর্নো আসক্তরাও ধীরে ধীরে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে এবং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, পর্নো আসক্তি শিশু-কিশোরদের অপরাধ প্রবণ করে তোলে। শুধু তাই নয়, সমাজে ধর্ষণ, ইভটিজিংসহ নানা ধরণের যৌন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফি আসক্তি বড় ভূমিকা রাখছে। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপরাধীর মেধ্যে কোনো না কোনোভাবে পশুত্ব জেগে ওঠে। আর এর জন্য অনেকাংশে দায়ী প্রযুক্তির সহজলভ্যতা। তাই বাবা-মার উচিত, সন্তানের হাতে স্মার্টফোন-ট্যাব-নোটবুক, পিসি তুলে দেওয়ার পূর্বে একবার ভাবা। আর শিশু-কিশোররা যাতে গোপনে এগুলো ব্যবহার করতে না পারে সেদিকটা খেয়াল করা। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফি আহমেদ বলেন, কোনো সমাজ বা সভ্যতাকে আক্রান্ত করতে হলে তাদের শিশু কিশোরদের টার্গেট করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস বা মাদকের মতো পর্নোগ্রাফিগ্রাফিতে শিশু কিশোরদের আসক্ত করাও তার একটি ধারাবাহিকতা পদক্ষেপ মাত্র। শিশু কিশোরদের পর্নোগ্রাফি সহ নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা সচেষ্ট হবেন এটাই সবার প্রত্যাশা। এ সংক্রান্ত আরও পড়ুন: শিশুদের নীরব ঘাতক মোবাইল ফোন! ভয়াবহ ইন্টারনেট আসক্তিতে শিশুরা: বাবা-মা কি করছেন? সমস্যা যখন ফেসবুক! স্মার্টফোন আসক্তি, বাড়ছে অশান্তি এমজে/

শিশুদের নীরব ঘাতক মোবাইল ফোন!

নার্গিস আক্তার জুঁই। রাজধানীতে একটি বেসরকারী ব্যাংকে চাকরী করেন। প্রতিদিন সকালেই ছুটতে হয় অফিসে। তার চার বছর বয়সী বাচ্চাটা মা যাওয়ার সময় কান্না জুড়ে দেয় সাথে যাওয়ার জন্য। অগত্য কী আর করা। প্রথম প্রথম বাচ্চার হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দিতেন। ভিডিও গেম খেলার জন্য। বাচ্চা সেটা নিয়ে শান্ত হতো। জুঁই বুঝলেন, বাচ্চাকে শান্ত করার জন্য এটা ভাল পদ্ধতি। এরপর নিজেই বাচ্চার জন্য কিনে আনলেন আলাদা ট্যাব। বাচ্চা এখন দিন রাত সেই ট্যাব হাতেই থাকে। ঘুমুতে গেলেও ট্যাব, খেতে গেলেও ট্যাব। ট্যাবেই যেন তার নিত্য সঙ্গী। শরাফত সাহেব খুব খুশী। অফিসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে বলেন, আমার ছেলেটা মোবাইলে খুব পাকা। নিজে নিজে ইন্টারনেট থেকে নানা ধরনের অ্যাপস ডাউনলোড করা, এটা ওটা বের করা সব পারে। সহকর্মীরা উৎসাহ দেয়। বাহ, মেধাবী ছেলে আপনার। সরাফত সাহেব আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন। সাহেদা বেগমের দুই সন্তান। চার বছর ও দু`বছর বয়স তাদের। একেবারেই খেতে চায়না। খাওয়াতে বসালেই নানা বায়না। প্রতিবেশীদের দেখা দেখি সাহেদা বেগম খাওয়ানোর সময় বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন দেন। তারা ইউটিউবে গান শুনতে শুনতে, কার্টুন দেখতে দেখতে খায়। সাহেদা বেগম নিশ্চিন্ত হন। যাই হোক, বিনা ঝামেলায় বাচ্চারা এখন পেটপুরে খায়। এভাবেই বাবা-মায়েরা সন্তানকে শান্ত রাখতে বা তাদের দাবি মেটাতে সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্ট ফোনসহ নানা ধরণের দামী গেজেট। এতে একদিকে যেমন বাবা মায়েরা নিশ্চিন্ত হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি তারা এটাকে আভিজাত্যের অংশ মনে করছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিজ্ঞানের দাবি, শিশুদের হাতে মোবাইল ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক্স গেজেট দেওয়া উচিত নয়। এতে নানা ধরনের রোগের জন্ম হয় শিশুদের শরীরে। নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. প্রাণ গোলাপ দত্ত একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, মোবাইল ফোন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রশ্মি শিশুদের দৃষ্টিশক্তির ভীষণ ক্ষতি করে। যেসব শিশু দৈনিক পাঁচ-ছয় ঘন্টা মোবাইল ফোনে ভিডিও গেম খেলে, খুব অল্প বয়সে তারা চোখের সমস্যায় পড়বে। ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত একুশে টেলিভিশন অনলাইনের কাছে দাবি করেন, সেদিন খুব বেশী দূরে নয় যেদিন মোবাইল ফোনকে সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা যায়, ১১ বছর বয়সী শিশুদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জন মোবাইল ফোন নিয়মিত ব্যবহার করে। বাংলাদেশে তেমন কোনো গবেষণা প্রতিবেদন তৈরী না হলেও অনুমাণ করতে কষ্ট হয়না পরিমাণটা কম নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠাণ `উই আর সোশ্যাল` ও `হুট স্যুট` নামক প্রতিষ্ঠানের করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারত ও তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। চীনের মতো প্রযুক্তি বান্ধব রাষ্ট্রে যেখানে শিশুরা দৈনিক দুই ঘন্টা মোবাইল ফোনে ব্যবহার করে, সেখানে ভারত ও তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোতে শিশুরা গড়ে পাঁচ ছয় ঘন্টা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেন, খেলাচ্ছলেই শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন দেয় বাবা মায়েরা। তারা মোবাইলের নানা দিক ঘুরে বিভিন্ন বিষয় বের করে। বাবা মা তখন হাসি দেয়। সেই হাসির অর্থ, ` আমার বাবু পারে`। এর ফলে বাচ্চা দ্বিগুণ উৎসাহী হয়। কিন্তু আমাদের বাবা মায়েরা জানেন না, এটা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার জন্য নীরব ঘাতক। ড. মাহফুযা খানম এ সময় বলেন, বয়স্কদের চেয়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। মস্তিষ্কের গঠন নরম। ফলে মোবাইল ফোনসহ নানা ধরণের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের ব্যবহার তাদের নানা ধরনের রোগের ঝুঁকিতে ফেলে। একই কথা বললেন বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে তিনি বলেন, শিশুদের মস্তিষ্ক ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর রস্মি ধারণের উপযুক্ত নয়। তাছাড়া মোবাইলের যে ভলিউম তার কম্পন খুবই ভয়াবহ। শিশুরা একনাগাড়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তাদের মৃগি রোগ ও হাঁপানীর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা এক মিনিট মোবাইলে কথা বললে মস্তিষ্কে যে কম্পন সৃষ্টি হয় তা স্থির হতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। ওই গবেষণায় আরো দাবি করা হয়, যেসব বাচ্চারা দৈনিক পাঁচ-ছয় ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করে তাদের বুদ্ধির বিকাশ সাধারণ বাচ্চাদের চেয়ে কম হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, নগর জীবন আমাদের সম্পর্কগুলোকে জটিল করছে। আমরা সময় পার করার জন্য ও বিনোদনের অনুসঙ্গ হিসেবে আমাদের শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিচ্ছি। এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে ভাবছি না। মোবাইলের পরিবর্তে তাদের হাতে বই দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত খেলাধূলার সুযোগ দেওয়া উচিত। পারিবারিক সম্পর্কগুলোর চর্চা বাড়ানো উচিত। একটা সুস্থ আগামী প্রজন্মের জন্য এর বিকল্প নেই। শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের দৈহিক ও মানসিক সুস্থ গঠনের লক্ষ্যে আমরা আরো সচেতন হবো এটাই প্রত্যাশা। এমজে/

বজ্রপাত থেকে বাঁচবার ৯ উপায়

বৈশাখের তীব্র গরমে স্বস্তি এনে দেয় এক পসলা বৃষ্টি। কিন্তু এই স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে আসা বজ্রপাত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন কালবৈশাখীর সময়।  আর কালবৈশাখীর সময় বাজ পড়া স্বাভাবিক বিষয়। এর ফলে ঘটে প্রাণহানিও। তবে একটু সতর্ক থাকলে এ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বাড়ির মধ্যে থাকলে কিছুটা বাঁচা যায়। তবে রাস্তায় থাকাকালীন এমন পরিস্থিতি সামনে পড়লে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন? ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে নয়টি পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর- পাকা বাড়ির নীচে আশ্রয় নিন ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনও অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনও দালানের নীচে আশ্রয় নিতে পারেন। উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকুন বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এ সব জায়গায় যাবেন না বা কাছাকাছি থাকবেন না। ফাঁকা জায়গায় কোনও যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে। জানালা থেকে দূরে থাকুন বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন। ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে আহত হন। টিভি-ফ্রিজ থেকে সাবধান বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাষ পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন। গাড়ির ভেতর থাকলে যা করবেন বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করুন। যদি প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্মুখীন হন তবে গাড়ি কোনও গাড়িবারান্দা বা পাকা ছাউনির নীচে নিয়ে যান। এ সময় গাড়ির কাঁচে হাত দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। রাস্তায় বের না হওয়াই মঙ্গল বৃষ্টির সময় রাস্তায় জল জমাটা আশ্চর্য নয়। তবে বাজ পড়া অব্যাহত থাকলে সে সময় রাস্তায় বের না হওয়াই মঙ্গল। একে তো বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। উপরন্তু কাছাকাছি কোথাও বাজ পড়লে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। খালি পায়ে বা পা খোলা জুতো নয় বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বেরোতেই পা ঢাকা জুতো পড়ে বের হোন। রবারের গাম্বুট এ ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো কাজ করবে। চার পাশে খেয়াল রাখুন বজ্রপাতের সময় রাস্তায় চলাচলের সময় আশেপাশে খেয়াল রাখুন। যে দিকে বাজ পড়ার প্রবণতা বেশি সে দিক বর্জন করুন। কেউ আহত হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর একে// এআর

ভয়াবহ ইন্টারনেট আসক্তিতে শিশুরা: বাবা-মা কি করছেন?

ব্যবসায়ী আইয়ুব সাহেব তার সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বাস করেন রাজধানীর বনানী এলাকায়। স্ত্রী পেশায় একজন শিক্ষিকা। এই দম্পত্তির ঘরে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান। বড় ছেলে সাজেদ পড়ছে অষ্টম শ্রেণীতে, আর ছোট ছেলে শাকি চতুর্থ শ্রেণীতে। পেশাগত কারণে দুজনকেই থাকতে হয় ঘরের বাইরে। আর বাসায় সন্তানদের সময় কাটে কম্পিউটার, ট্যাব ও স্মার্ট ফোন নিয়ে। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোনে কী করে। শাকি জানায়, সে সবসময় নানা ধরণের গেম ডাউনলোড করে ও খেলে। পাশাপাশি ইউটিউবে নানা ধরণের গান শুনে সময় কাটে। শুধু বাসা-ই নয়, এমনকি স্কুলেও তাদের সঙ্গী স্মার্টফোন ও ট্যাব। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া সাজেক জানায়, সে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুক, হোয়াটস্ এ্যাপ, ভাইবার, ইনস্ট্রাগ্রাম- প্রত্যেকটিতে একটি করে এ্যাকাউন্ট আছে তার। তবে তার বেশি সময় কাটে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রাহুল স্বীকার করে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মেসেঞ্জার অনেক সহজ। কারণ এতে মোবাইল ফোনের মতো বিল কাটেনা। বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ চ্যাট না হলে তার অস্থির লাগে। তাই বাসায় সারাক্ষণ তার সঙ্গী স্মার্ট ফোনটি। এক মুহূর্ত নিজের কাছ থেকে আড়াল করতে চায় না নিজের কাছে থাকা স্মার্ট ফোনটি। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আকাশের কাছে জানান, সারাদিনই সে ফেসবুকে থাকে। স্কুলেও গোপনে ফেসবুক ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, স্কুলের বন্ধুদের কাছ থেকে নতুন নতুন ভিডিও, মুভি, গান শেয়ার করাও তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাজেদ,শাকি, আকাশ, রিয়াদ, শাওন, হেনা, দীপ, নুসরাত-সবাই শিশু-কিশোর। তাদের সবারই একটা জায়গায় মিল। আর তা হলো, সবাই ইন্টারনেটে মারাত্মকভাবে আসক্ত। এটাই শিশু-কিশোরদের বর্তমান চেহারা। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের প্রতি শিশু কিশোরদের এই প্রীতি কে মনোবিজ্ঞানীরা ইন্টারনেট আসক্তি বা মোবাইল ফোন আসক্তি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তাদের ভাষায়, মানুষ যখন কোনো কিছুর প্রতি নির্ভরশীল হয়ে যায়, ওই জিনিশ ছাড়া যখন তার নানা ধরণের শারীরিক ও মানসিক বিকার দেখা দেয় তাই আসক্তি। মানুষ যখন কোনো কিছুর প্রতি নির্ভরশীল হয় তখন তা ব্যবহার করতে না পারলে তার মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। তার জীবনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির চরম সম্প্রসারনের যুগ। সময়ের কারণে কম্পিউটার, দামী এন্ড্রয়েড মোবাইল, ভিডিও গেমস সবার হাতের নাগালে। ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসএ্যাপ, ইনস্ট্রাগ্রাম- এ অবাধ বিচরণ এখন সবার জন্যই সহজ। আর অবাধ বিচরণ করার ফলেই মানুষের মধ্যে একটা পর্যায়ে জন্ম নেয় আসক্তি। ইন্টারনেটের আনাচে কানাচে ঘোরাঘুরি করতে করতে যে তার মধ্যে আসক্তি নেওয়া সম্ভব তা প্রথম মনোবিজ্ঞানীদের নজরে আসে ১৯৯৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের সিনসিনেটি শহরে এক নারী দৈনিক তেরো ঘন্টা তার বন্ধ ঘরে কাটাতো। তাকে যখন সেই ঘর থেকে বের করে আনা হয় তখন তার মধ্যে নানা ধরণের শারীরিক ও মানসিক বিকার দেখা দেয়। কিছু কিছু বিকার অতিরিক্ত পাগলামী পর্যায়ের। এ ব্যাপারে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা মদ পান করে, ইয়াবা সেবন করে, হিরোইন, পেথিড্রিন সহ নানা ধরণের মাদক নেয় তারা তাদের সময় মতো মাদক নিতে না পারলে তাদের মধ্যে নানা ধরণের বিকার দেখা দেয়। সে খুব অস্থির হয়ে পড়ে। অনেকে প্রথমদিকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইন্টারনেট আসক্তিও এর ব্যতিক্রম নয়। কেউ যখন আসক্ত হয়ে পড়ে তখন সে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে যায়। পৃথিবীতে ইন্টারনেট আসক্তির দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে চীন। সেখানে ইন্টারনেট আসক্তদের পূণর্বাসনের জন্য আলাদা ক্যাম্প করা হয়েছে। মধ্যরাতের পর যেনো কেউ ভিডিও গেমস খেলতে না পারে তেমন আইন প্রয়োগের কথাও ভাবছে চীন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে ২, ২০০ জন শিশুর উপর গবেষণা চালিয়ে প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন ইন্টারনেট আসক্ত বলে দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। যা তাদের অভিভাবকদের বড় দু:শ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারনেট জগতে প্রায় ৪৫ কোটি পর্ণো সাইট আছে। ইন্টারনেট আসক্ত শিশু কিশোরদের অনেকেই সহজে ঢুকে পড়তে পারে এসব সাইটে। যা তাদের চিন্তার জগতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে খুব সহজে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চিন্তার জগত ও ১৮ বছরের নিচে যারা তাদের চিন্তার জগত এক নয়। ফলে অনেক বিষয়ের জন্য তাদের মানসিকতা প্রস্তুত নয়। ফলে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। একই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, যেসব শিশু কিশোর বেশীরভাগ সময় সাইবার জগতে কাটায় তাদের কে নানা প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করে সাইবার অপরাধীরা। পরে তাদের দিয়ে নানা ধরনের অন্যায় কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রবিন বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি কোনো রোগ নয় বরং অনেকগুলো রোগের জন্য দায়ী একটি বড় সমস্যা। এই আসক্তি সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর ফলে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে। যে কোনো কাজে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তারা একা একা থাকতে চায়। আবার অন্য বয়সীদের ক্ষেত্রেও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। যার প্রভাব অন্য সকল কাজে পড়ছে। এমন সমস্যাকে অবহেলা না করে এখনই এর বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন করা দরকার। তবে শিশু কিশোরদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি বেড়ে যাওয়ার জন্য শুধু তাদেরকে নয়, বরং পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে দায়ী করলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। তিনি বলেন, আমরা আমাদের শিশুদের খেলার মাঠ দিতে পারছিনা। তাদের সুস্থ বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। ভাল সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো আবহ নেই। এর ফলে তারা সময় কাটাতে বেছে নিচ্ছে এন্ড্রয়েড, ট্যাব সহ নানা আইটেম। তাদের সুস্থ বিনোদন চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে চলা সম্ভব নয়। তাই বলে আমাদের আগামী প্রজন্ম `আসক্ত` হয়ে ঝুঁকির মুখে থাকবে তা কারো নয়। সচেতন হওয়ার এখনই সময়। এএ/ এমজে

কিশোর-কিশোরীর ইন্টারনেট আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

নেশা নানা রকমের হতে পারে ৷ বিশ্বে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের পক্ষে আজ সবচেয়ে বড় ‘অ্যাডিকশন` হলো কম্পিউটার-স্মার্টফোন-অনলাইন-ইন্টারনেটের নেশা৷ কিন্তু এই নেশা থেকে বাঁচার উপায়ও আছে৷ এই নেশায় আসক্তদের একজন হলেন জার্মানের এরিক। তার নেশা ছিল ‘সকেন` অর্থাৎ জার্মানে যাকে বলে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত ভিডিও গেম, চ্যাটিং, সারাক্ষণ অনলাইন থাকা ইত্যাদি৷ এক কথায়, বার্লিনের ২০ বছরের এই তরুণটি ছিল ইন্টারনেট আসক্ত। তার সারা জীবনটা জুড়ে ছিল কম্পিউটার আর স্মার্টফোন৷ এরিক জানান, আমার রেকর্ড হলো একবারও না থেমে বিশ ঘণ্টা ইন্টারনেটে থাকা৷ বাথরুমে যাওয়ার জন্য যেটুকু সময় যেত, সেই সময়টা কম্পিউটারের বাইরে থাকত। তবে খাওয়াদাওয়া সব কম্পিউটারের সামনে৷ সকালে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকে। আসলে প্রায় পরদিন সকাল অবধি৷ এক বছর স্কুল, বন্ধুবান্ধব, সামরিক সেবা সব ছেড়ে দেয় সে। কেননা তার আর ওসবের জন্য সময় ছিল না৷ তার দিন কাটত সাইবার জগতে৷ তখনই আমি ভাবলাম যে, আমার সাহায্য দরকার, নিজেকে বদলানো দরকার; নয়তো আমি গোল্লায় যাব৷ প্রথমে এরিক নিজেই চেষ্টা করেছে কম্পিউটার বাক্সবন্দি করে। পরে এরিক খেয়াল করে শুধু এসব করে হবে না৷ তখন সে একটা কাউন্সেলিং সেন্টারে যায়৷ মুক্তির পথ: বাড়িতে মায়ের সঙ্গে খালি চেঁচামেচি। এজন্য আমি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ছেড়ে গেছি। ১৫ বছর বয়স থেকে একা বাসা নিয়ে থেকেছি৷ স্কুলেও আগে সবাই আমাকে ঠাট্টা করত, জ্বালাত আমার পক্ষে যা প্রায় অসহ্য ছিল৷ তারপর যখন বাড়িতে আসতাম, তখন কম্পিউটারটা যেন আমার জন্য অপেক্ষা করত: গেমস খেলতে শুরু করলেই সমস্ত খারাপ চিন্তা, ভালো লাগা না-লাগা, সব যেন ঢাকা পড়ে যেত৷ সেটাই তখন অভ্যেস হয়ে দাঁড়ায়৷ এরিক ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্ত হতে চায়, তাই সে একটি ক্লিনিকে দু`মাস ধরে থেকে থেরাপি করছে। অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে তো বটেই, আবার একক থেরাপিও চলে৷ এখন সে অনেক ভালো বোধ করছে৷ এখন বেশ অদ্ভুত লাগে৷ আগের তুলনায় মনে হয় যেন আমার কিছু একটা নেই৷ তার ধারনা তার ভেতরের ঐ তাড়নাটা আর অত নেই। মন ভালো করার জন্য কম্পিউটার, স্মার্টফোন, অনলাইন আর অত জরুরি নয়৷ ইতিমধ্যে এরিক অ্যানালগ ও রিয়্যাল টাইমে সময় কাটাতে শিখেছে। এখন সে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার চেয়ে খেলাধুলা করে৷ তার একটা নতুন শখ তৈরি হয়েছে। এখন সে নিজেই কমিক আঁকে, এই পন্থায় তার চাপা পড়া আবেগ-অনুভূতিগুলো একটা নতুন অভিব্যক্তি পায়৷ কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন ছাড়া বেঁচে থাকা সহজ নয়, বিশেষ করে যখন সে প্রলোভন সর্বত্র৷ সেই হিসেবে এরিককে এখনও ‘ক্লিন` বলা চলে না! সূত্র: ডিডব্লিউ আর / এআর

‘সব শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা দিতে হবে’

দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের শিক্ষা দিতে হবে। সেইসাথে সব ধর্মের ব্যাপারেই একজনকে জানার সুযোগ দিতে হবে, কারণ সত্য এক কিন্তু সত্যে পৌঁছানোর পথ অনেক। যে পেশাতেই একজন মানুষ থাকুক না কেন, সবাই জীবনে সফল হতে চায়। কীভাবে চলব, কী করব সেই নির্দেশনা পেলে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো তার জন্যে সহজ হয়। ‘সফলতা‘ বইটি লেখার উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন জানতে পারে সে কীভাবে সফলতার পথে অগ্রসর হবে। প্রথমত, সফল হতে হলে শরীর ও মন দুটোকেই সুস্থ রাখতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রমের অভাবে বর্তমানে বহু মানুষ অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আর তরুণ প্রজন্ম ভিডিও গেমস ও স্মার্টফোন নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকায় আবেগ-অনুভূতিশূন্য হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মানব একসময় দানবে পরিণত হতে পারে, যা মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি মানুষকে মনেপ্রাণে সৎচিন্তা করতে হবে। কারণ আপনি যে চিন্তাকে প্রাধান্য দেবেন, বাস্তবে সেটারই প্রতিফলন ঘটবে। পবিত্র কোরআন ও বাইবেলে একথাই বলা আছে। নামাজ-প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে চঞ্চল মনকে প্রশান্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, নিরলস কাজ করতে হবে। আর কাজে সফল হলে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। জীবনে সবসময় সফলতা আসে না। পরিশ্রমের পরেও কখনো যদি বিফল হন, সবর করুন ও চেষ্টা চালিয়ে যান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জীবনে সফল হতে চাইলে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এছাড়া এগোনো যাবে না। আর চারপাশের সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন, বিনয়ী হোন। সময়কে কাজে লাগান। যার যার অবস্থান থেকে একজন মানুষ যদি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে এবং কারো ক্ষতি না করে, তবে সে প্রশান্ত জীবন লাভ করতে পারবে। ১৮ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে একথা বলেন বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগে. (অব.) ডা. আব্দুল মালিক। এবছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত তার নতুন বই ‘সফলতা‘-র বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোকপাত করেন তিনি। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল মালিক তার বক্তব্যের শেষে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্যে গুরুজী শহীদ আল বোখারী ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। এমজে/

সমস্যা যখন ফেসবুক!

রাফসান মাহমুদ ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মঠ ও সময়জ্ঞান সম্পন্ন হওয়ায় অফিসেও সে আদর্শ। তবে সম্প্রতি বেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে রাফসানের। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় গেলেও হাতে থাকে এন্ড্রয়েড ফোন। প্রথমদিকে কিছুক্ষণ ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করেই ঘুমিয়ে পড়তো রাফসান। তারপর আস্তে আস্তে সময়ের মাত্রা বাড়তে থাকে। আগে নিয়মিত রাত এগারোটার মধ্যে ঘুমালেও এখন প্রায়ই ঘুমাতে যায় প্রায় শেষ রাতের দিকে। এতে আগের মতো আর সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না রাফসান। তাই অফিসে পৌঁছতেও দেরি হচ্ছে তার। নিত্যদিন অফিসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় শুনতে হয় বসের বকুনি। তবে একপর্যায়ে শুরু হয় আল্টিমেটাম। রাফসান বুঝতে পারে তার এই সমস্যার জন্য দায়ী ফেসবুক। রাত বারোটার পর চ্যাট করতে তাঁর খুব ভালো লাগে। সে বুঝতে পারে তার ঘুমের ক্ষতি হচ্ছে। অফিসে যেতে দেরী হবে। কিন্তু সে নিরুপায়। অরন্য ও মাহী প্রেম করে পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করেছেন। দু`জনের পরিবারের কেউই মেনে নেয়নি এ বিয়ে। দু`জনেই রাজধানীর দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। ভালোবাসার সংসারটি দুজনে মিলে সুন্দর করে সাজাচ্ছেন। দুজনই সুখী। তবে ইদানীং তাদের সেই ভালবাসায় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাহী খেয়াল করে অরন্য বাসায় ফিরেই আগের মতো তার সাথে কথা বলেনা। কার সাথে সারাক্ষণ চ্যাট করে। রাতে ঘুমানোর সময়ও হাতের এন্ড্রয়েড মোবাইটি তার সঙ্গী। একদিন মাহী গোপনে অরন্যের ফোনটি তার হাতে নেয়। তারপর মাহীর পৃথিবী ঘুরতে থাকে। এই ছেলের জন্যই কী আমি এক কাপড়ে সবাইকে ছেড়ে এসেছি? তারপর কান্নাকাটি, ভুল বুঝাবুঝি। অরণ্য স্বীকার করে, সে ভুল করেছে। সে এটাও বুঝতে পারে এই ভুলের জন্য দায়ী ফেসবুক। নাদিয়া`র সমস্যাটা একটু অন্যরকম। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে সে। ফেসবুকের কল্যাণে তার সাথে পরিচয় হয় মাহফুয নামের এক তরুণের। প্রথমে হাই-হ্যালো, তারপর দীর্ঘ আলাপ। এরপর আবেগের কাছে ধরাশায়ী হওয়া। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, যেদিন তাদের দুজনের মধ্যে দেখা হবে সেদিনই তারা বিয়ে করবে। বিয়েটাও হয়তো হয়ে যেতো। যদি না নাদিয়ার মায়ের কাছে বিষয়টা ধরা না পড়তো। নাদিয়ার মা খবরটা নাদিয়ার বাবার কানে পৌঁছান। নাদিয়ার বাবা চৌকস সরকারি কর্মকর্তা। খোঁজ খবর নিয়ে আবিষ্কার করলেন, মাহফুয নামে ছেলেটির দেওয়া সকল তথ্য মিথ্যা। মাহফুয তার আসল নাম নয়। সে যে ইউনিভার্সিটির কথা তার প্রোফাইলে লিখেছে সেই ইউনিভার্সিটি দূরের কথা, এসএসসির গণ্ডিও পার হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মেয়েদের সঙ্গে ফ্রড করে, প্রেমের ফাঁদে ফেলায় তার কাজ। এরই দায়ে ছেলেটি আগেও একবার পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছিল। অবশেষে নাদিয়া বুঝতে পারে, তার আজকের অবস্থার জন্য দায়ী ফেসবুক। কেবল রাফসান, অরণ্য, নাদিয়া-ই নয়। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে এরকম হাজারো ঘটনার জন্ম হচ্ছে। যার জন্য কোনো না কোনো ভাবে দায়ী ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির কল্যাণে নানা ধরণের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসএ্যাপ, ভাইবার, ট্যাঙ্গো, ইনস্ট্রাগ্রাম, ইমো, স্কাইপি এখন খুব পরিচিত নাম। তবে নানা কারণে আমাদের দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। শুধু আমাদের দেশে নয়, বাণিজ্যিকভাবে সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে দাপুটে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফেসবুক অন্যতম। মার্ক জুকারবার্গ ও তার বন্ধুদের এ আলোচিত আবিষ্কারটি একদিকে যেমন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনি জন্ম দিয়েছে নানা সমস্যারও। ‘উই আর সোশ্যাল ও হুটস্যুট’ নামক প্রতিষ্ঠানের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ফেসবুক ব্যবহারের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। এখানে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে। আর বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহার করছে ১২০ কোটি মানুষ। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোতে ফেসবুকে আসক্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সমাজে নৈতিকতার স্খলন দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে সামাজিক অবক্ষয়। শুধু তাই নয়, এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও। ফেসবুকের ক্ষতিকর প্রভাবের অন্যতম উদাহরণ রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা। তেমনি একের পর এক ব্লগার হত্যার জন্যও ফেসবুকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি করে বেশ কয়েকবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ফেসবুকে। যা আইনগত দিক খেকে দন্ডনীয় অপরাধ। একই ভাবে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে অন্যের সম্মানহানি করা, কারো চরিত্র হনন করার জন্যও সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুককে বেছে নেওয়া হচ্ছে। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বা পারিবারিক, সামাজিক শত্রুতা হাসিলের জন্য ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে অন্যের সম্মানহানি করা এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘অনেকেই অন্যকে হেনস্তা করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খোলেন । বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে হেনস্তার পরিমাণ অনেক বেশি। তারা ওই আইডির মাধ্যমেই অশালীন মন্তব্য ও আপত্তিকর ছবি আপলোড করেন। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর এসএমএসও পাঠানো শুরু করেন। এমন অনেক মামলা আমার কাছে আসে। সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফেসবুকে পরিচিতজনদের দ্বারাই তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার’।  ফেসবুক আসক্তি:ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে একসময় ফেসবুকে নির্ভরশীল হয়ে পড়া ও বেশকিছুক্ষণ ফেসবুকের বাইরে থাকতে না পারাই ফেসবুক আসক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ফেসবুক আসক্তের পরিমাণ বাড়ছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। অর্থব্যায়: ফেসবুক ব্যাবহারে ফলে বাড়ছে আর্থিক ব্যায়। মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর নানা ধরণের চমকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পা ফেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অনেকেই। এমনকি সীমিত আয়ের মানুষরা এর দ্বারা বেশি ক্ষতির শিকার। চোখ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি:বিশেষজ্ঞরা বলছেন ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এন্ড্রয়েড ফোন ও পিসি থেকে নির্গত রশ্মি চোখ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের জন্য তা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কাজের ক্ষতি:ফেসবুকের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো কাজের ক্ষতি। পড়াশুনা, অফিসের কাজ, পারিবারিক কাজসহ প্রচুর সময় নষ্ট হয় ফেসবুকের পেছনে। সামষ্টিকভাবে আমরা বছরে ফেসবুকের পেছনে কী পরিমাণ সময় নষ্ট করি, তার পরিমাণ কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। পড়ালেখার ক্ষতি: ফেসবুকের ক্ষতির শিকার শিক্ষার্থীসহ জ্ঞানপিপাসুরাও। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফেসবুক আসক্তির ফলে একদিকে যেমন তারা পড়াশুনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের স্মৃকিশক্তিও লোপ পাচ্ছে। বিশেষ করে, তাদের মস্তিস্কের বড় একটা অংশ দখল করে নিচ্ছে ভার্সুয়াল জগৎ। এএ/ এমজে/

স্মার্টফোন আসক্তি, বাড়ছে অশান্তি

রাজধানীর একটি স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ছে শমসের আলী জিতু। তার বাবা তৃতীয় গ্রেডে সরকারি চাকরি করেন। মা গৃহিণী। জিতু`র বড় বোন ঢাকার একটি কলেজের ছাত্রী। আর ছোট ভাই ক্লাস ফোরে পড়ে। ইদানীং জিতুর খুব মন খারাপ। ক্লাসে বন্ধুদের সাথে আগের মতো মেশেনা। বাসায় আগের সেই হৈ-হুল্লোড় নেই। জিতুর মা প্রথম দিকে বুঝে উঠতে পারেন নি বিষয়টি কী। কিন্তু কয়েকদিন পর তার কাছে আসল ব্যাপার পরিষ্কার হয়। জিতুর সহপাঠীদের সবার হাতেই স্মার্ট ফোন আছে। জিতু এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বায়না করেছে তাকে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার জন্য। তার বাবা ধমক দিয়ে বলেছেন, ‘ভাল করে পড়। এখন তুই স্মার্ট ফোন দিয়ে কী করবি’? জিতু এখন ক্লাসে হীনমন্যতায় ভোগে। সবাই ক্লাসে ফোন নিয়ে আসে। ক্লাসে সুযোগ পেলেই মোবাইল ফোনে নানা ধরণের গেমস নিয়ে মেতে থাকে তারা। বন্ধুদের অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। তারা ফেসবুকে নানা ধরনের ছবি পোষ্ট দেয়। কিন্তু জিতু পারে না। তাই নিজেকে ছোট মনে হয় জিতুর। এদিকে রাজধানীর একটি কলেজে সবে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে জিতুর বোন শারমিন।বন্ধুদের সবাই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক বা হোয়াটসএ্যাপ ব্যবহার করে। এরইমধ্যে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখতে মন দেওয়া নেওয়া করে ফেলেছেন শারমিন। তবে ইচ্ছে করলেই সে মনের মানুষটির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারেনা, ছবি শেয়ার করতে পারে না।বাবা-মায়ের কাছে বলে লাভ নেই, জিতুর ঘটনা থেকে টের পায় সে। তবে এসএসসি পরীক্ষার পর মা তাকে কানের দুল পড়িয়ে দিয়েছিল। দুলগুলো তার নানীর স্মৃতি।শারমিন দুল জোড়া পড়েনা। আলমারীতে পড়ে আছে। স্মার্ট ফোনের টাকা জোগাড় করতে দুল জোড়ার দিকে হাত বাড়ায় শারমিন। কোনো রকমে মায়ের হাতে ধরা খেলে কেমন অভিনয় করবে তাও মনে মনে রিহার্সেল করতে থাকে শারমিন। এবার আসা যাক মাহফুযের কথায়। মাহফুয ডিগ্রী পাশ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করছে গত আট মাস। তার গাড়ি ভাড়া ছাড়া বাকি টাকাটা সে খুব যত্ন করে জমায়। জমানোর কারণ তার একটি ভাল এন্ড্রয়েড ফোন চায়-ই চায়। দৈনন্দিন জীবনে আর কিছু দরকার নেই। শুধু চায়, একটি স্মার্ট ফোন। জিতু, শারমিন বা মাহফুয নয়। দেশের সব বয়সের ছেলে-মেয়েদের কাছে আকর্ষণের বস্তু স্মার্ট ফোন। স্মার্ট ফোন হাতে না থাকলে স্মার্ট হওয়া যাবেনা, এমনটাই বিশ্বাস সকলের। দৈনন্দিন জীবনে কাপড়-চোপড় বা খাওয়া দাওয়ার চাইতে স্মার্ট ফোনের গুরুত্ব কম নয়। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সূত্র অনুযায়ী দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার কারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। এদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক তরুণ-তরুণী। স্মার্ট ফোন আমাদের জীবনের একটি অনুসঙ্গ। প্রযুক্তির প্রসারে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ট্যাঙ্গো, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, গুগল, মেইল এসব এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এসবের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করে স্মার্ট ফোন। কিন্তু স্মার্ট ফোনের জন্য মরিয়া হয়ে যাওয়া বা স্মার্ট ফোন না থাকলে হীণমন্যতায় ভোগা তরুণদের জীবন অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। মনোবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী হীনমন্যতায় ভোগার ফলে মানুষ তার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। সব কিছুতেই তার মধ্যে `না` বোধক মনোভাব তৈরী হয়। অতিরিক্ত হীনমন্যতা তার মধ্যে বিষন্নতার জন্ম দেয়।স্মার্ট ফোনের অতিরিক্তি আসক্তি তরুণদেরকে অপরাধে উৎসাহী করে। তারা স্মার্ট ফোন কেনার টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে পা বাড়ায়। একটি জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশে শিশু- কিশোররা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে খুন হওয়ার সংখ্যা ২২৩টি। এর মধ্যে ১০৬ টি ঘটনা ঘটেছে মোবাইল ফোন কেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে। যা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি থেকে খুনাখুনি পর্যন্ত গড়ায়। রাজধানীর একটি স্কুলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষিকা জানান, ক্লাসে একজনের ব্যাগ থেকে অন্যজন মোবাইল চুরি হওয়ার বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। রাশেদা আকতার একজন গৃহিনী। স্বামী সন্তান নিয়ে মোটামুটি সুখের সংসার ছিল তার। তার বড় ছেলে অভ্র এবার ক্লাস টেনে পড়ছে। স্মার্ট ফোন কেনার বায়না মেটাতে শেষ পর্যন্ত হাত দিতে হয় দীর্ঘদিনের জমানো ব্যাংক এ্যাকাউন্টে। কিন্তু মোবাইল ফোন কেনার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তা ছিনতাই হয়। অভ্র এখন আবার বায়না করছে তাকে নতুন স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার জন্য। বাজারে বর্তমানে হরেক রকমের স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়। মোটামুটি চলনসই একটি স্মার্ট ফোন কিনতে গুনতে হয় কমপক্ষে আট হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এটাকাটা অনেক সময় পুরো এক মাসের খরচ বা খরচের একটি অংশ। সেখানে সন্তানদের স্মার্ট ফোন কেনার বায়না, বা স্মার্ট ফোন না থাকলে হীন মন্যতায় ভোগা ওই পরিবারের জন্য অশান্তি ডেকে আনে। যা আমাদের কারো কাম্য নয়। এএ/ এমজে

বিমানে মানুষ কেন ভুলভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়ে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সে মাঝ-আকাশে দুর্ঘটনায় পড়ার পর বিমানের ভেতরকার একটি ছবিতে দেখা যায়, যাত্রীদের প্রায় সকলেই ভুলভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়ে রয়েছেন। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, মানুষ কেন ভুল ভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়ে? সাবেক একজন ব্রিটিশ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ববি ল্যরি বলছেন, বিমান ভ্রমণের সময় যাত্রীরা প্রায় কেউই ভ্রমনকালীন সময়ের নির্দেশনাগুলো ঠিক মত শোনেন না। বিমান আকাশে ওড়ার পরপরই ক্রুরা ইন-ফ্লাইট ডেমনস্ট্রেশন, অর্থাৎ ভ্রমনকালীন সময়ে করনীয় সম্পর্কে যেসব ব্যাখ্যা দেন, তা প্রায় কেউই মন দিয়ে শোনেন না। কিন্তু জরুরি মূহুর্তে যাত্রীদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা না গেলে, অক্সিজেনের অভাবে একজন মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে। এছাড়া রয়েছে ভুলভাবে অক্সিজেন মাস্ক পড়া। ভ্রমনকালীন সময়ে তিনটি উপায়ে যাত্রীদের বলা হয়, কিভাবে অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। শুরুতে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হাত নেড়ে বুঝিয়ে দেন। এরপর যাত্রীদের সিট পকেটে রাখা সেফটি কার্ডেও লেখা থাক নির্দেশনা। আর সর্বোপরি যখন মাথার ওপর থেকে অক্সিজেন মাস্কটি যাত্রীদের একেবারে মুখের সামনে ঝুলে পড়ে, যে ব্যাগটির ভেতরে মাস্ক থাকে তার গায়েও লেখা থাকে নির্দেশনা। এগুলো খেয়াল করতে হবে। এজন্য কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখার পরামর্শ দেন ল্যরি। প্রথমেই দেখতে হবে অক্সিজেন মাস্কটি যেন মুখ ও নাকের পুরোটা ঢেকে দিতে পারে। এরপর মাস্কের সঙ্গে লাগানো প্লাস্টিকের ব্যান্ডটি মাথার পেছনে টেনে দিতে হবে, যাতে সেটি মাস্কটিকে মুখের সঙ্গে আটকে রাখতে পারে। কোনও কারণে মাস্কটি অকার্যকর মনে হলে, ঘাবড়ে না গিয়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে পাশের যাত্রীর সঙ্গেও ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে ল্যরি তার অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, কোনও সমস্যা দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরণের তাড়াহুড়া শুরু হয়ে যায়, দ্রুত কিভাবে মাস্কটি পড়তে পারবেন। তাছাড়া আসন্ন কোনও বিপদের আশংকায় অনেকেই নার্ভাস হয়ে পড়েন। অনেকেই হয়তো একসঙ্গে অভিযোগ জানান যে, কেন বিষয়টি তাকে আগে জানানো হলো না। কিন্তু সাধারণত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে তর্ক করেন না। হাসিমুখে বলেন, আমরা জানাতে চেষ্টা করেছিলাম, এখন দয়া করে আপনারা নিজের আসনে ফিরে যান। সূত্র: বিবিসি একে/

ইউটিউবে শিশুদের নিরাপদ রাখার ৩ কৌশল

ভিডিও দেখার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইউটিউব। শিশুরাও ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পছন্দ করে।কিন্তু শিশুদের জন্য ইউটিউবে ভিডিও দেখা যদি উপযুক্ত করা না হয় তাহলে ঘটতে পারে বিপত্তি।তারা সহজেই ভুলের দিকে পা বাড়াতে পারে বা খারাপ কিছুর দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। তাই আপনি কিভাবে শিশুদের ইউটিউব ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ করবেন তার তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো। ১) জিমিইল আইডি দিয়ে ইউটিউবে লগ ইন করুন প্রথমে শিশুর জন্য জিমেইল আইডি খুলে নিতে হবে।এরপর যে কম্পিউটারে শিশুটি ইউটিউবে ব্যবহার করবে সেখানকার ব্রাউজারে গিয়ে ইউটিউব ওয়েবসাইটটিতে যেতে হবে। এরপর ইউটিউবের ডান পাশে থাকা লগ ইন অপশনে ক্লিক করে শিশুটির জন্য খোলা জিমেইল আইডিটি দিয়ে লগ ইন করতে হবে। ২) কম্পিউটারে ইউটিউবের Restricted Mode  চালু করুন ইউটিউবের হোম পেইজের বাম পাশে থাকা সাইডবারের নিচে থাকা ‘settings’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেটিংস পেইজে নিচের দিকে ‘Language’, ‘Country’, ‘Restricted Mode ’, ‘Help’ লেখা চারটি অপশন দেখা যাবে। এরপর Restricted Mode নামে একটি অপশনে ক্লিক করতে হবে।এরপর ‘on’ অপশন সিলেক্ট করে ‘save’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এতে করে আর ছোটদের অনুপযোগী ভিডিও সার্চ লিংক এসে হাজির হবে না। ৩) স্মার্ট ফোনে ইউটিউবের Restricted Mode  চালু করুন ফোনে থাকা ইউটিউব অ্যাপের ‘Restricted Mode’ অপশনটিও চালু করে রাখা যাবে। এর জন্য প্রথমে ফোনে থাকা ইউটিউব অ্যাপে গিয়ে ডান পাশে থাকা ইউজার প্রোফাইলের আইকনে ক্লিক করতে হবে। তারপর নতুন একটি পেইজ চালু হবে সেখান থেকে ‘settings’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে থেকে ‘General’ অপশনে ক্লিক করলে ‘restricted mode’ অপশনটি আসবে।   এমএইচ/টিকে

মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা

যারা রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায় সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি। গবেষণায় দেখা যায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়। রাত জাগার অভ্যাস বদলাতে রাতের বেলা মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যবহার কমাতে হবে। বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরণের মানুষকে বেছে নিয়েছেন। যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা প্রতিরাতে নিয়মিত রাত জাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের দেহঘড়ি অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে। রাত জাগার বদভ্যাস যারা গড়ে তুলেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির শিকার হন। ৩০ শতাংশের থাকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। সুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যালকম ভনের মতে রাত জাগার এই সমস্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। এই সমস্যা দূর করতে অর্থাৎ সূর্যোদয় সূর্যাস্তের সঙ্গে দেহঘড়ির সামঞ্জস্য ঘটাতে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে এ বিষয়ে আরো গভীর গবেষণার প্রয়োজন বলে জানান তিনি। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন এ ধরণের বদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে রাত জাগার কারণে আপনার শরীর মন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, এমনটাও ভাবার কোন কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অধ্যাপক নুটসন। তিনি জানান, শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিজের দেহঘড়িকে নিয়মের মধ্যে আনতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা: ১. আপনার শোবার জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে সূর্যের আলো সহজেই পৌছায় কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার থাকে। ২. প্রতিরাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং সেটা যেন খুব দেরিতে না হয়। ৩. সুস্থ লাইফস্টাইলের জন্য যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন সেগুলো আয়ত্বে আনতে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া। ঘুমের সময়ের সঙ্গে কোন অবস্থাতেই আপোষ করা যাবে না। ৪. দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা করা। ৫. ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকা। তথ্যসূত্র: বিবিসি।এসএইচ/

শিশুদের কম্পিউটার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

কম্পিউটারে শিশুর জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরির করার মাধ্যমে  আপনার শিশুর কম্পিউটার ব্যবহার সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টে শিশুরা কী কী করতে পারবে তাও নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। কম্পিউটারের মূল ব্যবহারকারী চাইলে এরকম করতে পারেন। এখানে ব্যবহারকরীদের জন্য পছন্দমতো ডেস্কটপ ও অন্যান্য সেটিং সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিশুদের জন্য নতুন অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলবেন তা আপনাদের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো। *অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রথম উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সেটিংস অপশনে যেতে হবে। *এরপর ‘accounts’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে নতুন একটি পেইজ চালু হবে। * এই পেইজের বাম পাশে থাকা অপশনগুলো থেকে ‘Family & other people’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর নতুন যে পেইজটি চালু হবে সেখান থেকে ‘add a family member’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। * তারপর কম্পিউটারের এডমিন পাসওয়ার্ড চাইবে, তা দিলে নতুন একটি পেইজে প্রদর্শিত হবে। আপনি যে ইউজার অ্যাকাউন্ট খুলছেন তা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নাকি শিশুর জন্য তা জানতে চাইবে। * সেখান থেকে ‘add an child’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। তারপর একটি ‘ইমেইল আইডি দিয়ে নেক্সট বাটনে ক্লিক করতে হবে। *যদি শিশুটির জন্য আলাদা মেইল আইডি না থাকে তাহলে নিচে থাকা ‘the person i want to add doesn’t have an email adress’ অপশনটিতে ক্লিক করে নতুন একটি মেইল আইডি তৈরি করে নেওয়া যাবে। * এরপর ‘confirm’ বাটনে চাপতে হবে। এতে শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। শিশুরা যখন কম্পিউটার ব্যবহার করবে তখন স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট অপশন থেকে শিশুর জন্য খোলা অ্যাকাউন্টটি নির্বাচন করে দিতে হবে। * শিশুর অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার বা গেইমের বাইরে কিছু ব্যবহার করতে পারবে না। এমন কি কতো সময় ধরে পিসি ব্যবহার করেছে, সেই হিসাবও দেখা যাবে। এর জন্য যেতে হবে ওয়েব ব্রাউজারের ঠিকানায় । * তারপর মাইক্রোসফট আইডির এডমিন ইউজার নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। যেখানে ‘Family members’ অপশনে পাওয়া যাবে অ্যাকাউন্টটি। * সেখানে শিশুটি কতো সময় কম্পিউটার ব্যবহার করবে, কী কী অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এমএইচ/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি