ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন, ২০১৮ ১০:০৮:১৫

যে গ্রামে একজনের অপরাধের দায় গোটা সম্প্রদায়ের

যে গ্রামে একজনের অপরাধের দায় গোটা সম্প্রদায়ের

পৃথিবীর বুকে এমন একটি জনপদ আছে যেখানে ব্যক্তির অপরাধের দায় নিতে হয় গোটা সম্প্রদায়কে। একশ’ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে এই ‘আইন’ চলছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ওই আইনানুযায়ী, সীমান্তে কোনো অপরাধ হলেই তার বিচারের দায়ভার নেবে সেই জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব আইনি পরিষদ। এই নৃগোষ্ঠীর আইনি সংস্থাকে বলা হয় জিরগা। যার সদস্যরা হলেন গ্রামের অভিজ্ঞ প্রবীণরা। তারা মূলত অপরাধের তদন্ত করেন এবং কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিচারের রায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিযুক্ত রাজনৈতিক এজেন্টের মাধ্যমে ঘোষণা করেন।ব্রিটিশ শাসকদের এমন আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছিল যেন, প্রতিটি এলাকায় তাদের প্রভাব বজায় থাকে। তবে এই ব্রিটিশ আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হল, কেউ যদি অপরাধ করে পালিয়ে যায় তবে তার আত্মীয় স্বজন বা কমিউনিটির সদস্যদের আটক করা হতো।ধারণা ছিল, এতে জড়িত ব্যক্তি চাপে পড়ে ধরা দেবে। এমন বিধানের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন দোষ না করেই একজনের জন্য শাস্তি পেতো এক দল মানুষ।পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এখনও শত বছরের পুরানো আইনের আওতায় নিপীড়নের শিকার। এখনও ওই গ্রামে কেউ অপরাধ করে পালিয়ে গেলে তার দায় নিতে হয় গোটা কমিউনিটিকে।পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার মাইল দূরেই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান। কয়েক বছর আগেও সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত অঞ্চলটিকে তাদের যোগাযোগ ও চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করতো।গত কয়েক দশক ধরে দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় বাস করে আসছে একটি উপজাতি গোষ্ঠী। যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের বলতে গেলে কোন যোগাযোগই নেই।তবে সম্প্রতি তাদেরকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে সরকার।আর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পাশের শহর জামরুদের সাধারণ মানুষ। তারা জানান এতোদিন একজনের অপরাধের জন্য পুরো এলাকার মানুষকে জেলে যেতে হতো। এখন আর তা হবেনা।জামরুদ শহরের বাইরে একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দা নিরাম গুল। তিনি বিবিসিকে দেখাচ্ছিলেন যে ৪ বছর আগে সেনাবাহিনীর লোকেরা তার বাড়ির একটা অংশ ধ্বংস করে দিয়েছিল।তিনি বলেন, এক রাতে তালেবান জঙ্গিরা, সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালালে ৮ জন মারা যান। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর লোকেরা আমাদের গ্রামে আসে আর কোন কারণ ছাড়াই আমার বাড়িটা ভেঙ্গে দিয়ে যায়। তারা বলে যে ওইদিনের ঘটনার জন্য নাকি আমরা সবাই দায়ী। এই এলাকায় যা কিছুই হোক তার দায় নাকি আমাদেরই নিতে হবে- বলেন নিরাম গুল।নিরাম গুলের মতো এই উপজাতির অন্য সদস্যরা এই ব্রিটিশ সীমান্ত অপরাধ আইনকে কালো আইন বলে আখ্যা দিয়েছে।গ্রামের প্রবীণ সদস্য মালিক ইস্রাউল আফ্রিদি জামরুদ শহরের স্থানীয় বিচার পরিষদ বা জিরগার প্রতিষ্ঠাতা।তিনিও এই ব্রিটিশ আইনের নিন্দা জানান। তবে সেটা পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও আপত্তি আছে তার।তিনি মনে করেন ব্রিটিশরা এই ধরণের আইন করার আগে স্থানীয়দের সাথে কোন আলোচনা না করে ভুল করেছিল।তবে তিনি বলেন, আমি এটা মানি যে, সীমান্ত অপরাধ আইনে কিছু সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে সেটা পুরোপুরি তুলে দিয়ে পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হবে সেটাও চাইনা।আইনের সংস্কারের মাধ্যমে হয়তো পরিবর্তন আনা সম্ভব। না হলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাষ্যমতে ছবির মতো সুন্দর এই গ্রামটির গায়ে "পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক স্থানের" দাগ পড়ে যাবে।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /
প্রকৃতির বিস্ময়ভরা গ্রাম

যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ঘরবাড়ি, দালান, উঠোন থেকে রাস্তাঘাট সবই ঢেকে গিয়েছে ঘন লতাপাতায়। রাস্তার দু’ধারে মাথা উঁচিয়ে রয়েছে আঙুরলতা। চিনের শেঙশান দ্বীপে অবস্থিত জনমানব শূন্য ওই গ্রামটিকে বলা হয় ‘ভূত গ্রাম’। কেমন দেখতে সেই গ্রাম? কেন ডাকা হয় এই নামে? দেখে নিন গ্যালারির পাতায়। সাংহাইয়ের উপকূল থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্বে শেঙশান দ্বীপের ছোট্ট গ্রাম হাওটাওওয়ান। সাংহাই থেকে জলপথে গ্রামটিতে যেতে সময় লাগে ঘণ্টা পাঁচেক। পুরোপুরি সবুজে ছাওয়া গ্রামটি দীর্ঘদিনই ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে।     গ্রামটির ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সবই সবুজ গাছপালায় ঢেকে গিয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ণ ও মাত্রা ছাড়া দূষণ যখন সবুজ প্রকৃতিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে, এই রকম একটা গ্রামের ছবি দেখে বিস্ময় হতবাক গোটা বিশ্ব। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা গ্রামটি এক সময় পাহাড় কেটেই তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ছোট ছোট মাটির বাড়িগুলিও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সাজানো। গ্রামটির আয়তন প্রায় ৫০০ বর্গ কিলোমিটার। এক সময় প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস ছিল এই গ্রামে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পেশায় জেলে। কমপক্ষে ৬০০ পরিবারের বাস ছিল এই গ্রামে। ১৯৫০ সালে পাহাড় কেটে গ্রামটি তৈরি করা হয়। শহরাঞ্চল থেকে অনেকটাই দূরে প্রান্তিক এই গ্রামটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একেবারেই অনুন্নত। সেই সঙ্গে খাবার ও পানীয় জলের জন্যও গ্রামবাসীদের অনেক দূরে পাড়ি দিতে হত। একদিকে পাহাড়ে ঘেরা রুক্ষ পরিবেশ, অন্যদিকে জীবনধারণের নানা অসুবিধার মুখোমুখি হয়ে একে একে গ্রামবাসীরা তাঁদের ভিটেমাটি ছাড়তে শুরু করেন। শোনা গিয়েছে, কাজের সূত্রেও জেলে পরিবারের অনেকে তাঁদের ভিটে ছেড়ে শহরে পাড়ি দেন।   ১৯৯০ সাল নাগাদ হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার ছাড়া গোটা গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বাড়িই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে ধীরে ধীরে ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করে গাছগাছালি। সমস্ত বাড়িগুলির গা বেয়ে উঠতে থাকে আঙুর গাছ। এক সময় দেখা যায় গোটা গ্রামটিই সবুজে আবৃত হয়ে গিয়েছে। ঘরবাড়ি, দালান, উঠোন কোনও কিছুই বাকি নেই। গ্রামের আদি বাসিন্দাদের দাবি, উপযুক্ত খাদ্য, পানীয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবেই তাঁরা শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল গ্রামটি। যাঁরা থেকে গিয়েছিলেন তাঁরাও অনেকটা দূরে পাহাড়ের উপর আশ্রয় নিয়েছিলেন। লোকজনের বাস থাকায় গ্রামটির নাম হয়ে যায় ‘ভূত গ্রাম’।  প্রকৃতির কোলে হারিয়ে গিয়ে গ্রামটিও এক সময় চলে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। ২০১৫ প্রথম এই গ্রামের খোঁজ পান চিনের এক তরুণ ফোটোগ্রাফার কুইং জিয়ান। তিনিই প্রথম এই গ্রামের বেশ কিছু ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। সবুজে ছাওয়া এমন গ্রাম দেখে হতবাক হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। পরবর্তীকালে গবেষণার কাজে হোক বা নিছক পর্যটনের জন্য, বহু মানুষের পা পড়ে এই গ্রামে। খোঁজ শুরু হয় এক সময় গ্রামে বসবাস করা পরিবারদের। ছবি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় হাওটাওওয়ান।  গ্রামটি নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন ওয়াং পরিবার। বছর সাতাশের ওয়াং জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবার যখন গ্রাম ছাড়েন তখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর। কাজের সন্ধানেই গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তাঁর পরিবার। এখন তাঁদের ছোট্ট বাড়িটি নাকি আঙুরলতায় ছেয়ে গিয়েছে। একই অভিজ্ঞতা ঝু মান্ডিরও। তিনি জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢালে তাঁদের তিন তলা বাড়িটা সবুজ লতাপাতায় ভরে গিয়েছে। কাঠের দরজা ভেঙে ডালপালা মেলেছে আঙুর গাছের সারি। তবে, গ্রামটিতে এখনও জনা পাঁচ লোক বাস করেন। তাঁরা পাহাড়ের উপর নিজেদের জন্য আলাদা ঘর বানিয়ে নিয়েছেন। এমনই একজন গ্রামবাসী বছর বাষট্টির প্রৌঢ় জানিয়েছেন, গ্রামটিতে এক সময় বহু মানুষের বাস ছিল। এখন কান পাতলে গাছপালার শিরশিরানি শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। তবে, ইদানীং গ্রামটিতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। এমনই একজন বছর বাইশের কলেজ ছাত্রী হুয়াং ডান বলেছেন, চারদিকে যখন গাছপালা সাফ করে ঘরবাড়ি গড়ে তুলছে মানুষ, সেই সময় এমন একটা জায়গার খোঁজ পাওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর কথায়, “এখানে এসে মনে হচ্ছে শুরু থেকেই জায়গাটা প্রকৃতিরই ছিল। মানুষ চলে গিয়েছে, প্রকৃতি আবার তার ঠাঁই ফিরে পেয়েছে।’’ গোটা গ্রামটিরই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন সরকারের হাতে। পর্যটন স্থল হিসেবেই হাওটাওওয়ানের পরিচিতি বেড়েছে। আগে বিনামূল্যে গ্রামে ঘোরার সুযোগ করে দেওয়া হলেও বর্তমানে মাথা পিছু ৫২৬ টাকা (ভারতীয় টাকায়) টিকিটের দাম ধার্য করেছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আনন্দবাজার এসি    

কলম্বাসের হারিয়ে যাওয়া সেই চিঠি

ইতালির পর্যটক ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কার করেছিলেন বহুকাল আগে। ওই সময়ে রাজা ফার্দিনান্দ ও রানি ইসাবেলাকে যে চিঠিটি লিখেছিলেন কলম্বাস কিছুকাল আগে হারিয়ে গিয়েছিল সেটি। উদ্ধারের পর পাঁচশ’বছর আগের সেই চিঠিটি গত বৃহস্পতিবার স্পেনকে ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে স্পেনের রাষ্ট্রদূত পেদ্রো মোরেনেসের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়। কলম্বাস ১৪৯৩ সালে চিঠিটি লিখেছিলেন স্পেনের রাজা ও রানিকে। ইতালির এই অভিযাত্রীর আমেরিকা আবিস্কারের (তখন ধারণা ছিল ভারত আষ্কিার) পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন তারাই। তবে শেষ জীবনে দুর্ভোগই ছিল কলম্বাসের সঙ্গী।চিঠিতে কলম্বাস ক্যারিবীয় পাহাড়, উর্বর ভূমি, সোনা ও আদিবাসীদের কথা লিখেছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় লেখা চিঠিটি রাজা ফার্দিন্যান্দ ও ইসাবেলা রোমে পাঠিয়ে লাতিন ভাষায় রূপান্তর করিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর হাতে লিখে এর অসংখ্য কপি করা হয়। কলম্বাসের নতুন মহাদেশ আবিস্কারের খবর ছড়িয়ে দিতে এই কপিগুলো বিলি করা হয় ইউরোপের রাজা ও রানিদের মধ্যে।লাতিন ভাষার এই চিঠিরই একটি কপি সংরক্ষিত ছিল স্পেনের বার্সেলোনার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব কাতালোনিয়ায়। কিন্তু এক দশক আগে জানা যায়, সেখানে আসল চিঠিটি নেই, রয়েছে জাল একটি চিঠি।তখন স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টির তদন্তে নামে। ২০১২ সালে তদন্তকারী নিশ্চিত হয় যে আসল চিঠিটি খোয়া গেছে বার্সেলোনা থেকে।চুরির পর আসল চিঠিটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। ছয় লাখ ইউরোর বিনিময়ে দুজন ইতালীয় বই বিক্রেতা চিঠিটি বিক্রি করেছিলেন।২০১৩ সালের মার্চে যখন চিঠিটি পুনরায় হাতবদল হয় নয় লাখ ইউরোতে, ওই সময় ঘটনাটি নজরে আসে তদন্তকারীদের। এরপর চিঠির ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। ওই ব্যক্তি জানতেন না যে এই চিঠিটি বার্সেলোনা থেকে চুরি হয়েছিল।এটি যে কলম্বাসের সেই ঐতিহাসিক চিঠিই, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তা উদ্ধার করে স্পেনের কাছে ফিরিয়ে দেল যুক্তরাষ্ট্র।/ এআর /

মানুষের উচ্চতার চেয়ে বড় মুদ্রা

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছয়শরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চল। এর পশ্চিমে ফিলিপাইন, দক্ষিণ-পশ্চিমে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণে পাপুয়া নিউগিনি ও মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্বে পলিনেশিয়া। মাইক্রোনেশিয়ার অন্যতম একটি দ্বীপ ইয়াপ। প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক ইয়াপে বেড়াতে যান। অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে ইয়াপে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা লাভ করেন পর্যটকরা। স্বতন্ত্র সেই অভিজ্ঞতা হল, বিশাল আকৃতির ‘পাথুরে শিলা মুদ্রা। প্রাচীনকাল থেকে ভারী ও বড় পাথুরে মুদ্রা দিয়ে এখানে বিনিময় প্রথা চালু রয়েছে। কয়েক সেন্টিমিটার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭ মিটার ব্যাসের মুদ্রাও রয়েছে। কোনো কোনো শিলা মুদ্রার উচ্চতা মানুষের সমান। মূলত এখানকার গ্রামবাসীর সম্মান ও আভিজাত্যের প্রতীক এ দৈত্যাকার মুদ্রা। পাথুরে মুদ্রাগুলো ইয়াপ দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের দখলে রয়েছে। যার বাড়িতে বা যে গ্রামে বেশি পাথুরে মুদ্রা রয়েছে, ধরে নেয়া হয়- কৃষ্টি-কালচার, আভিজাত্যে তারাই উৎকৃষ্ট। এই মুদ্রার বিনিময় প্রথা চালু রাখতে প্রতিটা গ্রামেই রয়েছে নিজস্ব পাথুরে শিলার মানি ব্যাংক। জানা যায়, কয়েকশ’ বছর আগে ইয়াপের জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। দুর্ঘটনাবশত তারা গিয়ে ওঠেন ৪০০ কিলোমিটার দূরের দেশ পালাউতে। সেখানে তারা গোলাকৃতির চুনাপাথর দেখতে পান। তারা একটি চুনাপাথর ঘষেমেজে ইয়াপে নিয়ে আসেন। পাথরটি দেখতে গরুর গাড়ির চাকার মতো। ইয়াপবাসীর কাছে এর নাম ‘রাই’। জেলেরা যখন চুনাপাথর নিয়ে এলেন, তখন গ্রামবাসী এটাকে ‘টাকা’ বলতে শুরু করলেন। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পালাউ থেকে গোলাকৃতির চুনাপাথর আনা শুরু করেন। আনা-নেয়ার সুবিধার জন্য এর মাঝখানে একটি গোলাকৃতির ছিদ্র করা হয়। পাথুরে মুদ্রার দখলে নিতে কম লড়াই হয়নি এখানে। এমনকি চুনাপাথর আনতে গিয়ে বহু জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কখনো কখনো একটি নৌকার কেউ ফিরে আসতে পারতেন না। ইয়াপের প্রধানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগুলো আনা হতো। তখন ইয়াপের প্রধানদের মধ্যে বেশ দ্বন্দ্ব ছিল। কার থেকে কে বেশি ধনী হবেন সেই প্রতিযোগিতা ছিল। ফলে তারা প্রচুর লোক নিয়োগ করে এসব পাথর নিয়ে আসতেন। অনেক সময় এক প্রধানের পাঠানো লোকদের গুম করে ফেলতেন অন্য প্রধানের লোকেরা। ফলে পাথুরে মুদ্রা আনতে গিয়ে অনেক প্রাণহানি ঘটত। সচরাচর কেনাকাটার জন্য তারা এই মুদ্রা ব্যবহার করতেন না। মূলত বড় কোনো লেনদেন, বিয়ের উপহার, ক্ষতিপূরণ দিতে এ মুদ্রা ব্যবহার করা হতো। আর কেনাকাটার জন্য ব্যবহার করতেন মুক্তার মুদ্রা। ১৮৯৮ সালের পর থেকে পাথুরে মুদ্রার ব্যবহার কমতে থাকে। সেসময় স্পেন-আমেরিকা যুদ্ধের পর ইয়াপে ডেভিড ডিন ও’কেফ নামে এক শাসক আসেন। তিনি পাথরের মুদ্রা তৈরির আধুনিক সরঞ্জামাদি এনে দেন। আর পালাউ থেকে প্রচুর চুনাপাথর আনতে বড় একটি জাহাজ নিয়ে আসেন। এরপর ইয়াপের লোকজন প্রচুর পাথুরে মুদ্রা তৈরি করে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় ও মূল্য কমতে থাকে। একসময় পালাউ থেকে চুনাপাথর আনা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এই এলাকায় মুদ্রার জায়গা দখল করে নিয়েছে মার্কিন ডলার। সূত্র : ডয়েচে ভেলে। আরকে// এআর

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রিনহাউস

শীতপ্রধান দেশগুলোর জলবায়ু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালা বিশেষ করে শাকসবজি, ফুল ও ফলের জন্য উপযোগী নয়। ধীরে ধীরে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য গ্রিনহাউস প্রক্রিয়া চালু করা হয়। আর এই লক্ষ্যে লন্ডনের কিউ গার্ডেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাতিশীতোষ্ণ ঘর তৈরি করেছে যাতে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে। এটি ৫ বছর ধরে সংস্কারের পর সম্প্রতি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রজাতির ১০ হাজারেরও বেশি গাছ নিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাচের তৈরি বাগান বলে পরিচিতি লাভ করেছে। ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হয় এ কাচঘরটি সংস্কারে।পৃথিবীর বিরল প্রজাতি ও বিলুপ্তির পথে থাকা গাছগুলো এ আবদ্ধ ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। বিশাল আকৃতির এই কাচঘরটি প্রথম খোলা হয় ১৮৬৩ সালে। পরে ২০১৩ সাল থেকে সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয়।বন্ধু-পরিবার নিয়ে বেড়ানোর জন্য শিশু থেকে বুড়ো সব বয়সী মানুষের জন্য উদ্যানটি খুবই মনোমুগ্ধকর। পাশাপাশি গবেষণার এক অনবদ্য স্থানও এই ভিক্টোরিয়ান কাচঘর।বিচিত্র উদ্যানটিতে ৫ হাজার ২৭০ লিটার রং ব্যবহার করা হয় সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যা দিয়ে প্রায় চারটি ফুটবল খেলার মাঠ রং করা যায় অনায়াসে।এটির সংস্কারের কাজে ব্যবহৃত কাঠের ভারা বা তক্তা যদি খুলে খুলে সাজিয়ে রাখা হয় তবে তার দৈর্ঘ্য হবে ১৮০ কিলোমিটার। কাচের বাগানটিতে ৪০০ নিজস্ব ও ভাড়া নির্মাণকর্মী প্রকল্পটির কাজ শেষ করে ১ হাজার ৭৩১ দিনে।লন্ডন ভ্রমণে গেলে অনলাইনে টিকিট বুকিং নিয়ে ঘুরতে পারেন অপার সৌন্দর্যের কিউ গার্ডেন।এখানে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আমেরিকাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার গভীর বনের বিশেষ বিশেষ জাতের উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলো দর্শনার্থীদের বেশ নজর কাড়ে। এই কিউ গার্ডেনে এটি পৃথিবীর বিস্ময়কর সবচেয়ে বড় কাচঘর। এখানে বিরল প্রজাতির গাছপালা সবাইকে বিস্মিত করবে।উদ্যান, বিজ্ঞান ও নকশাসহ সব কিছু মিলিয়ে এটি পৃথিবীতে একেবারে আলাদা একটি বৈশিষ্ট্যের বলে মনে করেন লন্ডনের কিউ গার্ডেনের উদ্যানবিষয়ক পরিচালক রিচার্ড বার্লি।সূত্র : এনডিটিভি।/ এআর /

সাত মাথার খেজুরগাছ : রহস্য ভেদ হয়নি ৫০ বছরেও

খেজুর গাছের মাথা কয়টা? প্রশ্ন শুনে ভাবছেন অবান্তর? অন্তত ফরিদপুরের এই খেজুরগাছটি দেখলে এই প্রশ্ন মনে উঁকি দিতেই পারে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার মনিকোঠা এলাকায় একটি খেজুরগাছ আছে যার মাথা সাতটি। প্রতিটি মাথা-ই প্রায় সমান উচ্চতার, যে কারণে কোনটি মাথা কোনটি কান্ড সেটি বুঝা কঠিন। মনিকাঠা বাজার থেকে সদরপুরের আটরশিগামী সড়কের পাশে সরকারি জমিতে খেজুরগাছটি জন্মেছে। গাছটি স্থানীয়দের কাছে ৫০ বছর ধরে এক ধরনের রহস্য হয়ে আছে।স্থানীয়রা বছরের পর বছর ধরে এটি দেখছে, তবুও আগ্রহ কমেনি। যারাই এর কাছ দিয়ে যায় কিছুসময়ের জন্য দাঁড়ায়। উপরের দিকে তাকায়। আর মনে মনে বলে প্রকৃতির কী খেলা। এলাকায় নতুন কোনো আগন্তুক আসলে তো কথাই নেই। কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছবি তোলায়, কেউ এর সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়ায়। স্থানীয়রা জানান, গাছটি কে কবে লাগিয়েছিলেন, তা কেউ জানেন না। সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় গাছটি বেড়ে উঠেছে। কবে গাছটির সাত মাথা বিস্তৃত হয়েছে, তা–ও কারও জানা নেই।মনিকোঠা গ্রামের কৃষক আসগর আলী (৫৫) বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি খেজুরগাছটি দেখছেন। ৫০ থেকে ৫৫ বছরের বেশি হবে গাছটির বয়স। স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক শিব শঙ্কর বলেন, আগে সদরপুর উপজেলায় অনেক খেজুরগাছ ছিল। ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে অনেক খেজুরগাছ কাটা পড়েছে। এখন আর তেমন করে খেজুরগাছ চোখে পড়ে না। তবে গাছটি সাত মাথাবিশিষ্ট বলেই হয়তো কেউ কাটতে সাহস পায়নি।সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান বলেন, সচরাচর এমন খেজুরগাছ দেখা যায় না। অতিরিক্ত ফাইটো (বৃদ্ধি বা গ্রোথ) হরমোনের কারণে অনেক সময় এমনটি হতে পারে।/ এআর /

১২৩০ বছরের পুরোনো গাছ

ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে ইতালিতে। গাছটির বয়স এক হাজার ২৩০ বছর। দেশটির‘পলিনো ন্যাশনাল পার্ক’-এ পাইন গাছটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গাছটি এখনও নাকি বাড়ন্ত অবস্থায় আছে। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন ‘ইটালাস’। গবেষকরা জানান, এক হাজার ২৩০ বছরের জীবদ্দশায় বৃক্ষটিকে নানা প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবেলা করতে হয়েছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ছিল দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির মতো ঘটনাও।গবেষকরা বলছেন, উঁচু একটি পাহাড়ের চূড়ার অংশ বৃক্ষটির জন্ম। ফলে জীবদ্দশার বেশির ভাগ সময় একটি শীতল তাপমাত্রা পেয়েছে বৃক্ষটি। আর এ কারণেই সম্ভবত প্রতিকূল আবহাওয়াও বৃক্ষটির বেড়ে ওঠা দমাতে পারেনি। এমনকি গত কয়েক দশকে বৃক্ষটি নতুন করে অনেক ডালপালা মেলেছে।এ বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি ছাপা হয়েছে ‘ইকোলজি’সাময়িকীতে। তাতে গবেষকরা বলছেন, ‘ইটালাস’-এর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। এসব তথ্যের মাধ্যমে বোঝা যাবে, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বনাঞ্চল কী কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।গবেষণাটি করেছেন ইতালির ‘ইউনিভার্সিটি অব তুসিকা’র একদল গবেষক। তাঁরা জানান, কয়েক বছর আগে তাঁরা গাছটির সন্ধান পান। এরপর প্রায় চার বছর এটি নিয়ে গবেষণা করেন তাঁরা। সূত্র : ডেইলি মেইল।/ এআর /

ডাকাত যখন ধর্মযাজক

তাতসুয়া সিন্দো । জাপানে ডাকাত সিন্দো নামেই বেশি পরিচিত তিনি। মদের ব্যবসা ছেড়ে তিনি এখন পুরোদমে ধর্মগুরু।এমন কি তার মদের বারটি এখন প্রার্থনা কক্ষ। জাপানের রাজধানী টোকিওর ছোট্ট শহর কাওয়াগুচি। শহরের এক প্রান্তের একটি মদের বারের দরজায় লেখা ‘জুন ব্রাইড’। পঁচিশ বছর ধরে এ অঞ্চলের অধিবাসীর কাছে নিরিবিলি সময় কাটানোর এটাই একমাত্র স্থান। দীর্ঘদিনের পরিচিত বারটির বাইরে  তেমন পরিবর্তন না এলেও এর ভেতরে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বার ও মঞ্চের জায়গায় এখন ভিন্নধর্মী আসবাবপত্র। কারণ জুন ব্রাইড আর এখন মদ বিক্রির দোকান নয়, এটি বর্তমানে একটি উপাসনালয়। জুন ব্রাইডের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকেই সেনসি তাতসুয়া সিন্দো দু’হাত তুলে সবার জন্য প্রার্থনা করেন- এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। ৪৪ বছরের সিন্দোকে দেখলে এখনও তরুণ মনে হয়। সিন্দোর চারপাশে এখন যারা ভিড় করে  ধর্মকথা শুনছেন তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের সঙ্গে অতীতে তার শত্রুতা ছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মাফিয়া গ্যাং ইয়াকুজাতে যোগ দিয়েছিলেন সিন্দো। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রতিবছর দশ হাজারেরও বেশি জাপানি তরুণ ইয়াকুজাতে যোগ দেয়। সিন্দোর মতে, `কম বয়সী তরুণদের অধিকাংশই আসে ঝামেলাপূর্ণ পরিবারগুলো থেকে। আনুগত্য আর বিশ্বাস হল ইয়াকুজা পরিবারের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু সিন্দো যতই এই আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ভেতরে প্রবেশ করতে লাগলেন ততই বুঝতে পারলেন রক্তের মূল্য কতটা। সিন্দো জানান তার খারাপ অনুভূতির কথা। তিনি বলেন,‘ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আমার বসকে হত্যা করা হয়েছিল। মানুষের পায়ে গুলি করে অকেজো করে দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গেই যে মানুষটি মাদক সেবন করত, সে বিষক্রিয়ায় মারা যায়। আত্মহত্যাও করেছে অনেকে।সামনে থেকে অনেক মৃত্যু দেখেছি আমি। যে মানুষটি অন্যকে হত্যার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিল তাকেও ছুরিকাঘাতে মরতে দেখেছি।’ সিন্দোর পুরো শরীরে তার অতীত জীবনের স্মৃতিচিহ্ন আজও রয়ে গেছে। তার বুক ও হাত দুটো ভারি ট্যাটু দিয়ে ভর্তি । জাপানে মাফিয়াদের সদস্য হলে এমন ট্যাটু এঁকে দেওয়া হয়।এই ট্যাটু লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হয়। কিন্তু যখন অন্য গ্যাংয়ের সঙ্গে লড়াই বাঁধে তখন সবাই তাদের গায়ের পোশাক খুলে ফেলেন। মোট সাতবার গ্রেপ্তার হন সিন্দো। বয়স ২২ হওয়ার আগেই তিনি তিনবার কারাবরণ করেন। ৩২ বছর হওয়ার আগেই জীবনের প্রায় দশ বছর কারাগারে কাটিয়ে দেওয়ার পর ইয়াকুজার আরও ভেতরে চলে যান তিনি। কিন্তু কারাগারে থাকার সময়ে তার মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি মাফিয়া জগৎকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানান। একজন ধর্মযাজক হিসেবে জীবন অতিবাহিত করার সিদ্ধান্ত নেন।    কেআই/ এআর  

১১১ অবিকৃত মমির রহস্য ভেদ হয়নি আজও

মমি সব সময়ে যে ‘করা’ হয়, এমন নয়। প্রাকৃতিক কারণেও অনেক সময়ে মৃতদেহ অমরত্ব লাভ করে। সেই উদাহরণ খুব বেশি নয়। কিন্তু মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো শহরে এই ‘অসম্ভব’টি রীতিমতো সম্ভব। এই শহরে রক্ষিত ‘স্বাভাবিক’ মমির সংখ্যা ১১১। যেগুলোর কোনোটিতেই পঁচন ধরেনি, অবিকৃত।গুয়ানাহুয়াতোর মমি মিউজিয়ামের খ্যাতিই এই ১১১টি মমির কারণে। কী করে এবং কোথায পাওয়া গেল এই ১১১টি মমি? জানা গেছে, মেক্সিকোর প্রাচীন আজটেক সভ্যতায় মমিকরণের প্রচলন ছিল। তা নিয়ে গল্প-উপন্যাসও কম লেখা হয়নি। গুয়ানাহুযাতোর এই মিমিগুলি মোটেই আজটেক সভ্যতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এই ১১১টি মমিকে কোনো প্রত্নক্ষেত্র থেকে আমদানিও করা হয়নি। এরা সবাই স্থানীয় মানুষ এবং এরা মমি হয়েছিল ১৮৩০-এর দশকে। ১৮৩৩ সালে গুয়ানাহুয়োতোয় কলেরা মহামারী আকারে দেখা দেয়। এতে এত বেশি মানুষ মারা যেতে থাকে যে, তাদের কবর দেওয়াই দায় হয়ে দাঁড়ায়। কলেরা প্রতিরোধের কারণেও মৃতদেহ দ্রুত সৎকার করাটা জরুরি ছিল। কিন্তু বাধ সাধতে শুরু করে সেই শহরের বারিয়াল ট্যাক্স। কবর দিতে গেলে কবরখানা কর্তৃপক্ষকে একটা মোটা টাকা দিতে হত মৃতের পরিবারকে। এই টাকা একবারে অথবা বার্ষিক কিস্তিতে দেওয়া যেত। কিন্তু যারা দিতে অক্ষম, তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহ নিয়ে পড়তে হতো বিপুল দুর্বিপাকে। যারা বেশি টাকা দিত পারত, তাদের পরিজনের মৃতদেহ কবরের জায়গা করে দেওয়া হতো যারা টাকা দিতে পারেনি, তাদের পরিজনের কবর সরিয়ে। এই সময়ে লোমিঙ্গো লেরয় নামের এক চিকিৎসক মারা যান। তাঁর মৃতদেহ কবর থেকে তুলে অন্য মৃতদেহকে জায়গা করে দিতে হয়। কবর থেকে তোলার পরে দেখা যায়, তাঁর মৃতদেহ প্রায় অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। এর পরে ওই কবরখানা থেকে আরও মৃতদেহ তুলে দেখা যেতে থাকে, অনেক মৃতদেহই অবিকৃত অবস্থায় থেকে গিয়েছে। এই মৃতদেহগুলিকে নিয়েই গড়ে ওঠে গুয়ানাহুয়াতোর মমি মিউজিয়ামের সংগ্রহ।কী কারণে এই মৃতদেহগুলোতে পচন ধরেনি, তাই নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আজও তেমন কোনো সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। রে ব্র্যাডবেরির মতো যুগন্ধর সাহিত্যিক গুয়ানাহুয়াতোর এই মমিদের নিয়ে লিখেছেন ‘দ্য নেক্সট ইন লাইন’-এ মতো বিখ্যাত ছোটগল্প। মমি মিউজিয়ামকে তাঁর সিনেমায় স্থান দিয়েছেন জার্মান পরিচালক ওয়ার্নার হারজগ।  সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।/ এআর /

১২ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম যে দ্বীপে

ব্রাজিলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি দ্বীপ ফার্নান্দো দে নরোনহা। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশও। তবে এতে দীর্ঘদিন ধরে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ। দ্বীপটিতে এক যুগ পর কোনো শিশুর জন্ম হলো। এজন্য দ্বীপটির বাসিন্দাদের আনন্দের শেষ নেই। দ্বীপটিতে মোট ৩ হাজার বাসিন্দা বাস করেন। সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র্যের কারণে এই দ্বীপটি ২০০১ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। বিরল উদ্ভিদ এবং জীবজন্তু সমৃদ্ধ দ্বীপটি একটি সংরক্ষিত অঞ্চল।দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ থাকায় এতদিন দ্বীপটির ভূখণ্ডে কোন শিশুর জন্ম হয়নি। সেখানে হঠাৎ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এক নারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নারী বলেন, তিনি জানতেনই না যে তিনি গর্ভবতী। তিনি বলেন, হঠাৎ খুব পেট ব্যথা করছিলো। টয়লেটে যাওয়ার পর দেখি দু পায়ের মাঝখান দিয়ে কি যেন একটা বের হচ্ছে। এরপর শিশুটির বাবা এসে উদ্ধার করলেন এই নারীকে। তিনি জন্ম দিয়েছেন একটি ফুটফুটে কন্যা শিশুর।তার পরিবারও জানালো গর্ভধারণ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কথা। এই সন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি এক অর্থে আইন অমান্য করেছেন। তবে সে নিয়ে কর্তৃপক্ষ বা দ্বীপের বাসিন্দা কেউই ভাবছেন না। বরং সবাই তাকে সহায়তা করছেন। শিশুর জন্য দরকারি জিনিসপত্র ও কাপড় কিনে দিচ্ছেন।ফার্নান্দো দে নরোনহা দ্বিপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যেও পরিচিত।দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো- সেখানে একটা মাত্র হাসপাতালে মায়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগ নেই। তাই গর্ভবতীদের দ্বীপের বাইরের কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হতো।কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার ভয়ে সেখানে প্রসবের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।এই দ্বীপটি সম্পর্কে আরেকটি তথ্য হল এটি কোন পৌরসভা বা প্রশাসনের অধীনে নেই। যা আধুনিক বিশ্বে বিরল। তবে দ্বীপটিতে রয়েছে সুন্দর সমুদ্র সৈকত। যার অনেকগুলো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অতুলনীয় বলে খেতাব পেয়েছে। রয়েছে ডলফিন, তিমি, বিরল পাখি আর কচ্ছপ সহ আরো নানা প্রাণীর সংরক্ষণ।এসব প্রাণী সংরক্ষণের জন্যেও দ্বীপটিতে জনসংখ্যা কম রাখার ব্যাপারে সরকারী চাপ রয়েছে।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

হাওয়াই দ্বীপে আগ্নেয়গিরিতে প্রকৃতির খেলা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কিলাওয়েয়া হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে। জ্বালামুখ থেকে উদগীরণ হতে থাকে টগবগ করে ফুটতে থাকা লাভা, ছাই, ধোয়ার কুণ্ডলী আর গ্যাস।দু’সপ্তাহ পর এখনও অগ্ন্যূৎপাত। এই আগ্নেয়গিরির নাটকীয় কিছু ছবি এর পর থেকে বিস্ময় তৈরি করেছে অনেকের মধ্যে।আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তামসিন মাথার ও ডেভিড পাইল আগ্নেয়গিরির নাটকীয় এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেন। জানা গেছে, হাওয়াই দ্বীপের সবচেয়ে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি হল এই কিলাওয়েয়া। ১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়। সেই লাভার ঝরনা আর তার স্রোতে ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চাপা পড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু আগ্নেয়গিরিটির কারণে দ্বীপের সাথে নতুন জমিও তৈরি হয়েছে। ২০০৮ সালে গ্যাস বের হওয়ার নতুন মুখ তৈরি হতে থাকে।কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখে রীতিমতো লাভার লেক তৈরি হয়ে গেছে।এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলে বন্যার পানির মতো গনগনে সেই লাভার উচ্চতা বাড়তে থাকে। আবার কয়েক সপ্তাহ পর আবার তা নেমে যায়।কিলাওয়েয়ার লাভাকে বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে গরম। জ্বালামুখের আশপাশে রয়েছে নালার মতো। সেগুলো থেকে ধীরে ধীরে যখন লাভার স্রোত নামতে থাকে তার উপরের অংশে আস্তরণ তৈরি হয়। কিন্তু নিচের দিকে ঠিকই চলে লাল গনগনে লাভার স্রোত। একই সঙ্গে আস্তে আস্তে স্তর পরে যাওয়া কালো শুকনো লাভা সামনে এগুতে থাকে। মনে হয় যেন সিমেন্টের ব্লক কিন্তু অনেক বেশি কালো তার রঙ। তার নিচে ধ্বংস হতে থাকে জমি। কখনো স্তর ভেঙে বেরিয়ে আসে নতুন সরু ধারা।ভূতাত্ত্বিকরা ১৯৯২ সাল থেকে কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরির উপর নজর রাখছেন। কিভাবে পৃথিবীর মাটির আবরণের নিচে এর কার্যক্রম চলে সে সম্পর্কে তাদের বেশ ধারনা হয়েছে। তাদের মতে উদগীরনের ধাপে ধাপে ভূপৃষ্ঠে নতুন ফাটল দেখা দেয়। এর কোনটা দিয়ে গরম গ্যাস বের হয়। আবার কোথাও থেকে জ্বলন্ত লাভা।ধীরে ধীরে লাভা লেকে লাভার উচ্চতা কমতে থাকে এবং তা ভূপৃষ্ঠের পানির স্তরে নেমে যায়। এসময় বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভূপৃষ্ঠের পানির সঙ্গে মিশে গেলে ধোয়ার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তৈরি হওয়া গ্যাসে থাকে সালফার ডাই-অক্সাইড। যা বাতাসের মান নষ্ট করে দেয়। তার ফলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে।আগ্নেয়গিরি নিয়ে বহু গবেষণা হলেও এর অনেক আচরণ এখনো সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া যায় না।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

নস : ভুতুড়ে এক হ্রদ

ক্যামেরুনের রাজধানীর ৩১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে একটি হ্রদ। নাম নস। এটি লম্বায় দুই কিলোমিটার, প্রশস্ত মাত্র ১ দশমিক ২ কিলোমিটার। আর গভীরতা দুইশ’ ৮ মিটার। হৃদটির রয়েছে একটি কালো অধ্যায়, যে কারণে লোকজন এটিকে ভুতুড়ে হৃদ হিসেবেই জানে। ১৯৮৪ সালের কথা। তখন হৃদটিতে হঠাৎ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উদগীরিত হয়। যা বাড়তে থাকে। ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্টে নস হ্রদ থেকে উদগীরিত গ্যাসের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক রাতেই মারা যান ১ হাজার ৭৪৬ জন। সঙ্গে ৩ হাজার ২০০ গবাদিপশুরও সমাধি হয়। স্থানীয়ভাবে হ্রদটি অশুভ হিসেবে পরিচিত। অনেক আগে থেকেই এটিকে নিয়ে বহু লোমহর্ষক লোককথা প্রচলিত আছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই হ্রদে এক অশুভ আত্মা বাস করে, যে প্রায়ই হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী মানুষজনকে মেরে ফেলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে, এই হ্রদটি ৪০০ বছর আগে এক আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ওপর সৃষ্টি হয়েছিল। এ ধরনের হ্রদে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। নস হ্রদের পানি অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে স্থির। এখানে বায়ু চলাচলের ফলে পানিতে ঢেউ ওঠে না বললেই চলে। যে কারণে হ্রদে জমে থাকা গ্যাস পানি থেকে বের হতে পারে না। ফলে পুরো হ্রদটি এক বিরাট গ্যাস চেম্বার বা প্রকোষ্ঠের মতো কাজ করে, যার ভেতর গ্যাসের চাপ অনেক বেশি। হ্রদের যতই গভীরে যাওয়া যায় ততই গ্যাসের চাপ বাড়তে থাকে। প্রতি গ্যালন হ্রদের পানিতে পাঁচ গ্যালন কার্বন ডাই-অক্সাইড মিশে আছে। পদার্থবিজ্ঞানের মতে, পুরো হ্রদটি কাজ করে বিশাল এক টাইম বোমার মতো। ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট হ্রদে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছিল। হঠাৎ হ্রদের পানি ঝর্ণা আকারে ৩০০ ফুট ওপরে উঠে গেল। খুব সম্ভবত হ্রদের তলদেশে ভূমিধস বা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। আর এটার ফলাফল ছিল ভয়াবহ। আক্ষরিক অর্থেই যেন হ্রদে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যা থেকে শুরু হয় সুনামি। কিন্তু সবচেয়ে আতঙ্কের ছিল পানির সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উদগীরণ। টানা ২০ সেকেন্ড ধরে ১.২ ঘন কিমি এলাকাজুড়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্যাসের কারণে হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী কারোই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না। নস লেকের কাছে বসবাসকারী ৮০০ জনের মধ্যে মাত্র ৬ জন বেঁচে যান। তাও তারা মোটরগাড়িতে করে দ্রুত সে এলাকা ত্যাগ করার কারণে। পুরো এলাকাজুড়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। সে যেন এক মহাপ্রলয়। ধোঁয়ার মেঘ হ্রদ থেকে ২৫ কিমি দূরে ছড়িয়ে যায়। যারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘরের বারান্দায় বা দরজা খুলে বের হয়ে আসে, তারা সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে মারা যান। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হ্রদের আশপাশের গ্রামগুলোতে বসবাসকারী ১ হাজার ৭৪৬ জন মানুষ আর ৩ হাজার ২০০ গবাদিপশু মারা যায়। হ্রদের পানি মুহূর্তে পরিষ্কার নীল রং থেকে গাঢ় লাল রং ধারণ করে। কারণ হ্রদের তলদেশ থেকে আয়রন বা লোহা ভেসে উঠছিল। ভয়াবহ এ ঘটনার পর হ্রদটিকে গ্যাসমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু তা খুব অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা ১৯৮৬ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে কোনো সময় আবারও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। সূত্র : উইকিপিডিয়া। / এআর /  

যমজদের গ্রাম

গ্রামটিতে এলে যেকোনো আগন্তুক চমকে যাবেন ৷ গ্রামের রাস্তাঘাট, খেলার মাঠে, স্কুলে বা অফিসে সর্বত্র জোড়ায় জোড়ায় মুখ দেখতে পাবেন৷ গ্রামের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, তাঁর স্কুলেই ১৭ জোড়া যমজ আসে রোজ৷ আবার খেলার মাঠে যমজ খেলোয়াড়দের নিয়েও দর্শকরা মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিতে পড়েন৷ ব্যাপারগুলো যেমন মজার তেমনই আশ্চর্যের৷  আশ্চর‌্য ওই গ্রামের নাম কোডিনহি। দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম এটি৷ কোচি বন্দর থেকে মাত্র ১৫০ কিমি দূরত্বে। এই গ্রামে ঢুকে এমন দৃশ্যই দেখবেন আপনি ৷ বর্তমানে এই গ্রাম বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়েছে ‘যমজদের গ্রাম` হিসেবে৷ বিজ্ঞানীরাও স্তম্ভিত এখানকার যমজদের ক্রমবর্ধমান জন্মহার দেখে! কোডিনহি গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে যমজ ভাই-বোন৷ গ্রামে ঢোকার আগেই সাইনবোর্ডে দেখতে পাবেন, ‘ঈশ্বরের একান্ত আপন যমজদের গ্রাম – কোডিনহি৷` এখানে হাজারটি জন্মের মধ্যে ৪২টি জন্মই যমজদের৷ ২০০৮ এর পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যাবে, এই গ্রামে জন্ম নিয়েছিল ২৬৪ যমজ শিশু, সংখ্যাটা বেড়ে এখন ৪৫০ এ দাঁড়িয়েছে৷ সারা বিশ্বে যমজ সন্তান প্রসবের যে হার, কেরালার এই গ্রামে সে হার প্রায় ছয় গুণ বেশি৷ গ্রামের ৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম হলেও হিন্দুদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্মের হার একইরকম৷ যমজের জন্মের এই আশ্চর্য ঘটনা বিশ্বে কেবল কোডিনহিতে নয়, আরও দু`টি গ্রামেও ঘটে৷ নাইজেরিয়ার ইগবো ওরা এবং ব্রাজিলের ক্যানডিডো গডোই নামের গ্রামে৷ এই দু`টি গ্রামের যমজ সন্তান জন্মের ব্যাখা অবশ্য পাওয়া গেছে৷ কিন্তু এই ইন্টারনেটের যুগে এসেও বিজ্ঞানীরা সঠিকভাবে কোডিনহির ব্যাখা দিতে পারছেন না৷ জানা গেছে, গ্রামটিতে যমজ শিশু জন্মের এই ধারা শুরু হয়েছিল ৬০-৭০ বছর আগে৷ যমজের সংখ্যা এরপর ক্রমেই বেড়েছে৷ দেখা গেছে, বিয়ের পর কোনো নারী এই গ্রামে এলে তিনিও যমজ সন্তান প্রসব করছেন৷ স্থানীয় চিকিৎসক শ্রীবিজু জানালেন, পাশ্চাত্যের মতো এ গ্রামে সন্তান জন্মের জন্য কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না৷ সাধারণত কমবয়সি নারীরাই প্রথমবারের মাতৃত্বে এমন যমজ সন্তানের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন৷ আর গ্রামবাসীরা তো যমজ জন্মের এই ব্যাপারটিকে ঐশ্বরিক আশীর্বাদ বলে ধরে নিয়েছেন৷ গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক যমজরা এখনও বেঁচে৷ কুনহি পাথুটি এবং পাথুটি নামের সত্তর বছরের এই দুই বোনের দাবি, সবটাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ৷ বিজ্ঞান কিছুই করে উঠতে পারবে না৷ তাঁরা তো যমজ পেরিয়ে এখন ট্রিপ্লেট (তিনটি বাচ্চার একসঙ্গে জন্ম) আর কোয়াড্রপ্লেট মানে চারটে বাচ্চাও জন্মাতে দেখছেন৷   তবে বিজ্ঞানীরা হাল ছেড়ে দেননি৷ যমজ জন্মের নেপথ্যে জেনেটিক, অর্থাৎ জিনগত নাকি আবহাওয়ার কারণ দায়ী, তার পরীক্ষা চলছে৷ বিভিন্ন দেশ থেকে বিজ্ঞানীরা যমজদের বিভিন্ন জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করে চলেছেন৷ ২০০৬ সালে এই যমজদের সুরক্ষার জন্য সমিতিও গড়ে উঠেছে৷ দুঃস্থ যমজদের পরিবারকে সাহায্যের জন্য এই সমিতি গড়ে তোলা হয়েছে৷ ভারতবর্ষে এমন সমিতি আর নেই৷ আপাতত সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের চোখের মনি এই গ্রাম৷ দেখা যাক, আরও কত কী অভিনব হয় যমজদের গ্রামে! সূত্র : ডয়েচে ভেলে। /এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি