ঢাকা, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১:৩৪:৩৪

দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে জারবেরা

দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে জারবেরা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ছোট ঘিঘাটির মাঠে জনপ্রিয় হচ্ছে বিদেশি ফুল জারবেরা। এ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়া বিদেশি জাতের এ ফুল লাল, সাদা, হলুদ ও গোলাপিসহ ৮টি বাহারি রঙের হয়ে থাকে। ক্ষেত থেকে তোলার পরও ১০ থেকে ১৫ দিন তাজা থাকায় বাজারে এ ফুলের চাহিদা বেশ। ত্রিলোচনপুর গ্রামের ফুলচাষী ও ব্যবসায়ী টিপু সুলতান এবং নূর মোহাম্মদ যৌথভাবে ২০১৭ সালের জুনে ৩ বিঘা জমিতে জারবেরা ফুলের চাষ শুরু করেন। বীজ এবং ফুল ক্ষেতের উপর ছাউনি দিতে বিশেষ ধরনের পলিথিন আনা হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। রোপণের তিন মাস পর থেকে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। একটি গাছ একাধারে দুই থেকে তিন বছর ফুল দেয়। কৃষিবিদ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জারবেরা ফুল চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বছরের যে কোনো সময় চাষ করা যায়। শীত মৌসুমে উৎপাদন বেশি হয়। এছাড়া দেশের বাজারে এ ফুলের দাম ও চাহিদা বেশি। তবে এ ফুল লাভজনক হলেও খরচ বেশি হওয়ায় চাষ করতে পারছেন না সাধারণ কৃষকরা। ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে শত শত একর জমিতে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ চাষ হচ্ছে। সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয় জারবেরা। ফুলচাষী টিপু সুলতান জানান, ২০১৭ সালের জুন মাসে ভারত থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৯৬ শতক জমিতে রোপণ করার তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বীজ রোপণ, ক্ষেতের চারপাশে বাঁশের বেড়া স্থাপন, উপরে ছাউনি, সার, ওষুধ ও শ্রমিক খরচসহ এ পর্যন্ত ৩৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফুল পরিচর্যা করার জন্য চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। এ ফুল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠানো হয়। গত ছয় মাসে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান টিপু। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জার্মান পরিবেশবিদ ডাক্তার ট্রগোট জারবেরের নামানুসারে ফুলটির নামকরণ করা হয়। জারবেরা চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বছরের যে কোনো সময় চাষ করা গেলেও শীত মৌসুমে উৎপাদন বেশি হয়। দেশের বাজারে এই ফুলের দাম ও চাহিদা বেশ। কিন্তু চাষের খরচও অনেক। একে// এআর
এবার ভালোবাসা দিবস লং স্টিক রোজে

ফুলকে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বিশেষ বিশেষ দিনগুলোয় প্রিয়জনের কাছ থেকে ফুল পেতে কার না মন চায়। আর এজন্য বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি বা এরকম বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। সামনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুল নিয়ে ব্যস্ত এখাতের সংশ্লিষ্টরা। তাই যশোরের গদখালী ইউনিয়নের ফুলচাষিদের বিশ্রামেরও ফুরসত নেই এখন! `ফুলের রাজধানী` হিসেবে খ্যাত এ এলাকা থেকেই জোগান আসে দেশের মোট চাহিদার ৭০ ভাগ ফুল বলে জানা গেছে। চলতি মৌসুমে তারা বাজারে এনেছেন `লং স্টিক রোজ` নামে গোলাপের একটি নতুন জাত। কেবল ভোক্তার মন নয়; নতুন এ গোলাপ চাষিদেরও ভাগ্য রাঙাবে বলে আশা করছেন সংশ্নিষ্টরা। ইনামুল হোসেন নামে গদখালীর একজন চাষি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিশেষ জাতের এ গোলাপের চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই চলতি মৌসুমে এ ফুল উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন। ইনামুল হোসেন জানান, ভারতের পুনে থেকে চারা এনে ৪০ শতক জমিতে লং স্টিক রোজের চাষ করেছেন। উৎপাদন ব্যয় হয়েছে সব মিলিয়ে সাড়ে ১০ লাখ টাকা। এক বছরেই পুরো বিনিয়োগ উঠে আসবে বলে জানান ইনামুল। এরই মধ্যে কয়েক দফা ফুল বাজারজাত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠিকমতো পরিচর্যা পেলে এ ক্ষেত থেকে একটানা ১০ বছর ফুল মিলবে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, অন্য জাতের গোলাপ ফুল গাছ থেকে তোলার পর যেখানে চার থেকে পাঁচ দিনের বেশি রাখা যায় না, সেখানে লং স্টিক গোলাপ রাখা যায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত। এর স্টিক বেশ শক্ত। এসব কারণে অন্য জাতের গোলাপ যেখানে তিন থেকে চার টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে লং স্টিক রোজ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। সম্প্রতি গদখালীতে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দোল খাচ্ছে রঙ-বেরঙের হরেক রকম ফুল। বাতাসে ফুটন্ত ফুলের সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় ফুলের হাসি লেগেছে চাষিদের চোখেমুখে। `লং স্টিক রোজ`-এর পাশাপাশি এ বছর ভালোবাসা দিবসে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ও ইউরোপের অপূর্ব ফুল জারবেরা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে বেশি মূল্য পাওয়ায় লং স্টিক রোজ নিয়ে চাষিদেরও আগ্রহ বেড়েছে। স্থানীয় হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের আসলাম হোসেন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে গোলাপ ও দুই বিঘাতে গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করেছেন। বর্তমানে গোলাপ তিন টাকা ও গ্লাডিওলাস দুই থেকে চার টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে গোলাপ রোপণে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর একবার রোপণে সাত থেকে আট বছর গোলাপ ফুল পাওয়া যায়। এখান থেকে বছরে অন্তত দুই লাখ টাকা লাভ হয়। এসএইচ/

যে গ্রামে বাস শুধুই শতবর্ষীদের

ইতালির সারদিনিয়ার মানুষের গড় আয়ু একশো বছরের কাছাকাছি। সারাদিনিয়ার মতো গ্রিসের ইকারিয়া, কোস্টারিকার নিকোইয়া, জাপানের ওকিনওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডার মতো জায়গাতেও মানুষের গড় আয়ু একশোর কাছাকাছি। তবে এসব জায়গায় প্রতি চার জনে একজন শতায়ুর অধিকারী হন। কিন্তু সারাদিনিয়ায় প্রতি দু’জনের একজন শতায়ুর অধিকারী। শুধু তাই নয়, সারদিনিয়ায় শতায়ু অর্জনকারী নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় একই রকম। তবে এখানে সবচেয়ে বেশি বয়স লাভ করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বৈশিষ্টমন্ডিত তিয়ানা গ্রামটি। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের বয়সই প্রায় একশ’ বছর। একশ’ বছরের বেশিদিন বেঁচে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে তিনগুণ রয়েছে তিয়ানা গ্রামে। এ কারণেই এই গ্রামটি অন্য সব অঞ্চল থেকে ব্যতিক্রম। তিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা অ্যান্থেনিয়ো টডেই হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র স্বীকৃত মানুষ যিনি একই সাথে তিনটি শতক পেয়েছেন। উনিশ শতকের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করে অ্যান্থেনিয়ো বেঁচে ছিলেন একুশ শতকের শুরু পর্যন্ত। ১১০ বছর বয়সে ২০০২ সালে মারা যান তিনি। তার ছেলে ৮৪ বছর বয়সী টোনিয়োর আশা করেন একশো বছর বেঁচে থাকবেন। মূলত উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য, সুষম খাবার এবং শারীরিক কসরতের কারণে এখানকার মানুষ দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হয়। গবেষকদের মতে, সামাজিক মিথষ্ক্রিয়া এখানে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। পরিবারের সদস্যদের সুসম্পর্ক, সেবা এবং নিজস্ব সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে পারস্পারিক কর্মকাণ্ড বেশি দিন বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। তবে তিয়নার বাসিন্দারা মনে করেন, বেশিদিন বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যের চেয়ে সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ই বেশি ভূমিকা রাখে। জনতত্ত্ববিদ এবং চিকিৎসক ড. গিয়োভান্নি পেস এক গবেষণায় দেখতে পান, সারদিনিয়ায় মানুষের মৃত্যু হার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। এখানে বেশ কিছু গ্রামে মানুষের গড় আয়ু বেশি। যেসব অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু বেশি সেসব অঞ্চলকে তিনি ‘ব্লু জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এবং বিশেষ এক মানচিত্র প্রস্তুত করেন। এই মানচিত্রে সারদিনিয়ার পাশাপাশি গ্রিসের ইকারিয়া এবং কোস্টারিকার নিকোইয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেন গিয়োভান্নি। সূত্র: সিএনএন একে// এআর

লুসি হল্টকে লেখা শেখ রেহানার চিঠি

পুরো নাম লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট। জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে। ৫৮ বছর ধরে বাংলাদেশে আছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুশ্রূষা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা ফিরে গেছেন। কিন্তু লুসির ইচ্ছা, এ মাটিতেই দেহ রাখবেন। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই এখানে তাঁর। বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে থাকেন তিনি। বাংলাকে ভালোবেসে, বাংলার মানুষের সেবা করে পার করেছেন ৫৮ বছর। দুঃখ এই—দেশটির নাগরিকত্ব পাননি। সরকার অবশ্য তাঁর ভিসা ফি মওকুফ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিজয় দিবসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ তাঁকে সম্মাননা দিয়েছে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে লুসি হল্টের ছিল নিবিড় যোগাযোগ। যেটির প্রমাণ মেলে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ মেয়ে শেখ রেহানার লেখা এক চিঠিতে। ওই চিঠিতে শেখ রেহানা লিখেছেন, আপনার লেখা দুটো চিঠি ও পারসেল মা (ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) পেয়েছেন। শুধু সময়ের অভাবে চিঠির উত্তর দিতে পারেন নাই। অনেক ধন্যবাদ আপনার উপহারের জন্য। ১৯৬০ সালে লুসি বাংলাদেশে আসেন। যোগ দেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়ানোর কাজ নেন। এরপর থেকে ঘুরেফিরে বাংলাদেশেই আছেন। যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে কাজ করেছেন তিনি। অবসরে গিয়েছেন ২০০৪ সালে। ফিরে এসেছেন বরিশালে। মিশন প্রাঙ্গণে একটি ছোট্ট টিনের ঘরে তাঁর থাকার ব্যবস্থা। সেখানে আসবাব বলতে ছোট একটি কাঠের চৌকি আর কাঠের ছোট দুটি টেবিল। পাশে একটি তাকে কিছু বই ও পুরনো ডায়েরি। যশোর ক্যাথলিক চার্চ স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন লুসি ১৯৭১ সালে। যুদ্ধ শুরু হলে চার্চের সহকর্মীরা খুলনা চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু লুসি যুদ্ধাহতদের সেবা করার মানসে যোগ দেন যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে। এরপর থেকে লুসি এদেশেই রয়ে গেছেন।লুসি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমি এতটাই শ্রদ্ধা করতাম যে ১৯৭২ সালে আমি নিজ হাতে ডাইনিং টেবিলের ম্যাট বানিয়ে তাঁর স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা মায়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি চিঠি দিয়েছিলেন। লুসি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখতে পারায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।’  / এআর /

যে দ্বীপ শুধুই নারীদের

পৃথিবীতে এমন একটা দ্বীপ রয়েছে, যেখানে শুধু নারীরাই যেতে পারবে। ওই দ্বীপে পুরুষ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। ‘‌সুপারসি’ নামের এই দ্বীপটি ফিনল্যান্ডে। ক্রিশ্চিয়ানা রোথ নামে এক মার্কিন তরুণী একটি দ্বীপ খুঁজে পেয়েছিলেন ফিনল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে। বাল্টিক সাগরের সবুজ নীল পানির উপর জেগে থাকা একটুকরো এই ভূখণ্ডটির নাম দিয়েছিলেন ‘‌সুপারসি’‌। ক্রিশ্চিয়ানা তখনই মনে মনে পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন দ্বীপটি শুধু নারীদের জন্য তৈরি করবেন। ভাবা মাত্রই কাজ। সবুজে ঘেরা ছোট্ট এই দ্বীপটিতে তিনি তৈরি করেন একটি রিসোর্ট। যেখানে থাকার অধিকার পাবেন শুধু মেয়েরাই। একেবারে স্বাধীন আর মুক্ত মনে ঘুরে বেড়াতে পারবেন তারা। এই রিসর্টের নামে ক্রিশ্চিয়ানা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কমিউনিটিও তৈরি করেন। তার নাম দেন ‘সুপারসি কমিউনিটি’‌। ক্রিশ্চিয়ানা জানিয়েছেন, সবসময় পুরুষসঙ্গীকে নিয়েই বেড়াতে যেতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতায় তিনি বিশ্বাসী নন। নিরাপত্তার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা পুরুষদের সঙ্গে বেড়াতে যান। এমন পরিস্থিতিতে মেয়েদের মুক্ত করেই এই ‘‌সুপারসি’ দ্বীপের ভাবনাচিন্তা তার মাথায় এসেছে বলে জানান তিনি। ক্রিশ্চিয়ানা বলেন, ‘‌সুপারসি’ মেয়েদের মনের বিভিন্ন ইচ্ছে পূরণের সুযোগ করে দেবে। এখানে মেয়েরা যতখুশি আনন্দ, হৈ হুল্লোর করতে পারবেন। কেউ তাদের বাধা দেবে না। কেউ নজরদারিও চালাবে না। সূত্র: গ্লোবাল নিউজ একে// এআর  

বেটে মানুষদের সেই লিলিপুট গ্রাম!

বেটে-খাটো মানুষদের গ্রামের কথা উঠে এসেছে জোনাথান সুইফটের বই গালিভারস ট্রাভেলসে। লিলিপুট নামের একটি দ্বীপ দেশের তীরে যান গালিভার। সেখানে তার দেখা হয় লিলিপুটের বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাদের উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটারের বেশি নয়। সুইফটের লিলিপুট রাজ্যের সঙ্গে তুলনীয় একটা গ্রামের সন্ধান পাওয়া গেছে ইরানের পূর্বাঞ্চলে। গ্রামটির নাম মাখুনিক। ১৫শ’ বছরের পুরনো এ গ্রামটি আফগানিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের আড়ালে অবস্থিত। এখন থেকে ১০০ বছর আগেও মাখুনিক নামের এ গ্রামের অধিবাসীরা উচ্চতায় মাত্র ১ মিটারের মতো ছিল (প্রায় ৩ ফিট)। ইরানিদের গড় উচ্চতার চেয়ে এরা প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার খাটো। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশক পর্যন্ত গ্রামটির কথা জানাই ছিল না বিশ্ববাসীর। এমনকি ইরানের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরও জানা ছিল না- তাদের মানচিত্রের কাছাকাছিই রয়েছে এমন একটি বিস্ময় জাগানো গ্রাম। ১৯৪৬ সালে গ্রামটির অস্তিত্ব আবিস্কার করে একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ। গ্রামটি আবিষ্কারের পর বিভিন্ন সময়ে সেখানে হাজির হয়েছেন নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায়। বরাবরই নতুন নতুন বিস্ময়ের দেখা পেয়েছেন তারা। এখানকার বাড়িগুলোর আকার খুব ছোট। বাড়িগুলোর আকারই বলে দেয়, সেখানকার মানুষ ছোট আকৃতির ছিল। এর প্রমাণ মেলে পরে। ২০০৫ সালে এখানে ২৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি মমি করা দেহ পাওয়া যায়। এ আবিষ্কারে এমন বিশ্বাসে হাওয়া দেয় যে, মাখুনিকসহ ১৩টি গ্রাম একসময় ’বেটে মানুষদের শহর ছিল’।২০০৬ সালের এক জরিপ মতে, বর্তমানে গ্রামটিতে ৭০০ মানুষের বাস। এরা কেউই তাদের পূর্বপুরুষদের মতো নয়। তবে পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য মেনে তাদের ঘরবাড়ি আগের মতোই রয়ে গেছে। মাখুনিকের মানুষেরা কী কারণে বেটে ছিলেন সে প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজেছেন বিজ্ঞানীরা। এটা করতে গিয়ে বিভিন্ন মত দিয়েছেন তারা। সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মতটি হল এ গ্রামের মানুষ কয়েকটি কারণে লম্বা হতে পারেনি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হল, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ ও ভিটামিনের অভাব ও সেখানকার পারদযুক্ত পানি পান করা।এছাড়া নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বিয়ে করা।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

মায়া সভ্যতার ৬০ হাজার নিদর্শন সন্ধান

মায়া সভ্যতার ৬০ হাজার নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতিত্ত্ববিদেরা। গুয়েতেমালায় পাওয়া এসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে সাত তলা পিরামিড, রাজপ্রাসাদ, সুউচ্চ সড়ক।যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ মায়া সভ্যতার ৬০ হাজার স্থাপনা পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার গুয়েতেমালার প্যাকুয়াম ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান সাময়িকী ‘লাইভ সায়েন্সে’ মায়া সভ্যতার নিদর্শন পাওয়ার বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।মায়া সভ্যতার হাজার হাজার নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। গ্রাউন্ড-পেনেট্রেটেড লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯০০ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে হারিয়ে যাওয়া এসব নিদর্শন পেয়েছেন তারা। মায়া সভ্যতার অধিবাসীরা ওই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই নিদর্শনগুলো কয়েক শতাব্দী ধরে জঙ্গলে পাতা-গুল্মের মধ্যে ঢাকা ছিল।মেসো-আমেরিকায় বেড়ে ওঠা ওই সভ্যতা অন্যদের চেয়ে প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নত ছিল। অত্যাধুনিক গণিত এবং প্রকৌশলবিদরা এগুলো চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে তারা মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ মেক্সিকোজুড়ে আরও নিদর্শন খোঁজার কাজ করছেন।প্রত্নতত্ত্ববিদদের দলটি পেটেন জঙ্গলের প্রায় ৮১০ বর্গমাইল (২,১০০ বর্গকিলোমিটার) এলাকায় গবেষণা চালিয়েছে। গুয়েতেমালার পর্যটন এলাকা তিকাল শহরে একটি সাত তলা পিরামিডের সন্ধান পেয়েছেন তারা। পিরামিডটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা (৩০ মিটার)। এতদিন একে ছোট পাহাড় ভাবা হতো। এ জন্য এটি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। তিকাল একসময় মায়া সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।গবেষণা দলের প্রধান তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো এস্ত্রাদ-বেলি বলেন, ‘মায়া সভ্যতার বাসিন্দাদের তৈরি অকল্পনীয় সুদৃঢ় এবং প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যগুলো পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাঠামো নির্মাণে নতুন মাত্রা এনে দেবে।’গবেষক দল ‘লিডার’ নামের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ থেকে তোলা ছবিতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ঘন জঙ্গলের গাছের আচ্ছাদন সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ‘লিডার’-এ লেজার রশ্মি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর ত্রিমাত্রিক প্রতিচ্ছবি তৈরি করা যায়। এর ফলে তারা ঘন গাছ ও লতাগুল্মের আড়ালে ঢাকা পড়া সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন।তুলেন ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ডক্টর মারসেলো ক্যানুটো বলেন, ‘আমরা পশ্চিমারা দম্ভ করতাম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জটিল সভ্যতার বিকাশ সম্ভব নয়। ধারণা ছিল, সেখানে সভ্যতা ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। কিন্তু মধ্য আমেরিকা মহাদেশ ও ক্যাম্বোডিয়ার অ্যাংকর ওয়াটে নতুন আবিষ্কারের ফলে এখন মনে হচ্ছে সমৃদ্ধ সমাজ ব্যবস্থার যাত্রা শুরুই হয়েছিল ওই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে।’সূত্র : এনডিটিভি/ এআর /

যে গ্রাম শুধু নারীর

পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা সত্যিই আছে যেখানে কোনো পুরুষ নেই। গ্রামজুড়ে শুধুই নারীদের বাস। শুনতে অবাক লাগলেও এমন একটি গ্রাম রয়েছে মিসরে। আল-সামাহা নামক ওই গ্রামে কোনো পুরুষ নেই। শুধু তাই নয়, সেখানে কোনো পুরুষ প্রবেশের অনুমতিও নেই। বর্তমানে ৩০৩ জন নারী বাস করছেন সেখানে। কোনো নারী যদি বিয়ে করেন তাহলে তৎক্ষণাৎ তাকে গ্রাম ছাড়তে হয়। গ্রামটির অবস্থান দক্ষিণ মিসরের আসওয়ান শহর থেকে ১২০ কি.মি দূরে ইদফো নামক ছোট শহরে। আসলে মিশরের সরকার বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদেরকে এই গ্রামটি দিয়েছেন। গ্রামটির চারপাশে আছে চাষাবাদের জন্য জমি। পশু-পাখি পালন ও চাষাবাদ করে জীবন ধারণ করেন গ্রামে বসবাস করা নারীরা। গ্রামের প্রত্যেক নারীকে একটি করে বাড়ি ও এক খণ্ড করে জমি দেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রধান তত্ত্বাবধানকারী হামদি আল কাশেফ বলেন, ১৯৯৮ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজেক্টের অধীনে দুটি গ্রাম বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের দেয়া হয়। উল্লেখ্য, একই ধরনের একটি গ্রাম দেখা যায় আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায়র উত্তরাঞ্চলে। ওই গ্রামের নাম ‘উমোজা’। প্রায় ৩০ বছর আগে রেবেকা লোলোসোলি নামের এক নারী নারীকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নির্যাতন ও লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাতে এই গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। এমন আরেকটি গ্রাম রয়েছে ব্রাজিলে। নোইভা ডো করডেরিয়ো এমন একটি গ্রাম যেখানে শুধু সুন্দরী নারীরাই বাস করেন। ১৮৯০ সালে এক মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়া হলে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তিনি চলে আসেন গ্রামটিতে। মারিয়া সেনহোরিনা ডে লিমা নামের সেই মেয়েটি ১৮৯১ সালে এই গ্রামের পত্তন করেন। সূত্র: সৌদি গেজেট একে// এমজে

পাউরুটির এক অদ্ভূত জাদুঘর

পাউরুটির জাদুঘর। সেটি আবার কেমন? অবাক হলেন? ঘটনা কিন্তু সত্যি। পাউরুটির ইতিহাস নিয়ে একটা জাদুঘর রয়েছে অস্ট্রিয়ায়। যেটি দেখতেও অসাধারণ। অনেকটা পাউরুটির মতো। জাদুঘরটির নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। প্রায় ১ হাজার বর্গমিটারজুড়ে একটি পাউরুটি তুলে ধরা হয়েছে এতে।অদ্ভূত এই জাদুঘরটি অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরের উপকণ্ঠে আস্টেন জেলায় অবস্থিত। এর নাম ‘পানেউম’ জাদুঘর। এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার আউগেনডপলার। তিনি মূলত বেকিং কোম্পানির মালিক। পিটার বলেন, আমরা দর্শকদের দেখাতে চাই, পাউরুটি কিভাবে বিগত ছয় থেকে আট হাজার বছর ধরে মানবজাতির ইতিহাসের ওপর প্রভাব রেখেছে। শুধু খাদ্য নয়- কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি, ধর্মসহ মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রেই রুটির ভূমিকা রয়েছে।প্রায় ৯ হাজার বছর প্রাচীন ‘গ্রেন স্ল্যাব’ বা শস্যের ফলকের মাধ্যমে মিউজিয়ামে রুটির আদি যুগও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যে রুটিকে কিভাবে সম্মান দেখানো হয়েছে মিউজিয়ামে তারও দৃষ্টান্ত দেখা যায়।যেমন, দক্ষিণ আমেরিকা বা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায়। শিল্পের ক্ষেত্রেও রুটি তৈরির প্রক্রিয়া কিভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তারও দেখা মেলে এখানে।জাদুঘর তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, যে মুহূর্তে কিছুই ছিল না, তখন রুটিই ছিল সম্বল। তা সে যতই খারাপ হোক না কেন। সেটা খেয়ে বেঁচে থাকার উপায় ছিল। পাউরুটি না থাকলেই লোকে বুঝত, আর কিছুই নেই। এটাই পাউরুটির বৈশিষ্ট্য। এ জন্যই তিনি এটি নির্মাণ করেন।ভিয়েনার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি সংস্থা কোয়প হিমেলবাউ এ জাদুঘরের নকশা তৈরি করেন। কোয়প হিমেলবাউ সংস্থা তাদের উদ্ভাবনী নকশার জন্য গোটা বিশ্বেই পরিচিত। ফ্রাংকফুর্ট শহরে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতর থেকে শুরু করে মিউনিখ শহরের বিএমডব্লিউ ওয়ার্ল্ড, ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে বিজ্ঞান ও নৃতত্ত্ব জাদুঘর ভবনও তাদেরই সৃষ্টি।‘পানেউম’ জাদুঘর ভবনটি সংগ্রাহকের ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর মঞ্চ করে তোলাই ছিল লক্ষ্য। প্রদর্শনীর বস্তুগুলো শুধু কাচের কেসের আড়ালে রাখা হয়নি, দেয়াল ও সিলিংয়েও কিছু শোভা পাচ্ছে। পিটার আউগেনডপলার নিজেই বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায় ১ হাজার ২০০ নমুনা সংগ্রহ করেছেন। যেগুলো স্থান পেয়েছে এতে। ভবনের ভেতরে ঘোরানো সিঁড়ি দিয়ে দর্শকরা চারতলার ওপর জাদুঘরের মূল কাঠের কামরায় পৌঁছতে পারেন।সূত্র : ডেইলি মেইল। / এআর /

মাটির নিচে রহস্যঘেরা গ্রাম

চীনের হুনান প্রদেশের সানমেনেক্সিয়ায় আছে রহস্যঘেরা এক গ্রাম; যার অবস্থান মাটির নিচে। অদ্ভুত এই গ্রামের ঘরগুলো সমতল থেকে কমপক্ষে ২২ থেকে ২৩ ফুট নিচে। আর এগুলো ৩৩ থেকে ৩৯ ফুট পর্যন্ত লম্বা। গ্রামটিতে প্রায় ২০০ বছর ধরে মানুষ বাস করছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি রয়েছে। সেখানে এখনও বাস করছেন ৩ হাজার মানুষ। বাকিরা এই জায়গা ছেড়ে আধুনিক ঘরবাড়িতে চলে গেছেন। এই গ্রামে বসবাসকারী ইয়াং গুয়ারাং নামের এক নারী জানান, মাটির নিচে তার ঘরটি খুবই আরামদায়ক। কারণ, এটি শীতকালে গরম আর গরমকালে ঠাণ্ডা থাকে।মাটির নিচে তৈরি ওই ঘরগুলোতে শীতকালে তাপমাত্রা থাকে ১০ ডিগ্রি । আর গরমে এই তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয় না।ঐতিহাসিকদের মতে, চীনের পার্বত্য এলাকায় ৪ হাজার বছর আগে, ব্রোঞ্জ যুগে এই ধরনের বাড়ি তৈরি হত । মাটির তৈরি এই ঘরগুলোকে বলা হয় `ইয়াংয়োডং`। এর অর্থ হলো গুহা ঘর। ছয় প্রজন্ম আগে এখানে মানুষের বসবাস শুরু হয়। ২০১১ সাল থেকে গ্রামটি চীনা ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। স্থানীয় সরকার এটি সংরক্ষণ করছে। আগামীতে পর্যটকদের জন্য গ্রামটি আরও আকর্ষনীয় করার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গুহা ঘরগুলো বিদ্যুত সংযোগসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এসব ঘর। সেই সঙ্গে এগুলো শব্দ নিরোধকও। অনেক পর্যটক গ্রামটিতে ঘুরতে আসেন। ২১ ইউরো দিলে এক মাসের জন্য মাটির নিচের এই গ্রামের একটি ঘর ভাড়া পাওয়া যায়। আর ৩২ হাজার ইউরো দিলে এখানকার একটি ঘর কেনাও যায়। চারকোনা বাড়িগুলো রয়েছে মাটির তলায়। বাড়িগুলো দেখতে পর্যটকরাও সেখানে যায়, ফলে এগুলো সংরক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। এগুলো ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এগুলো সাউন্ড-প্রুফও। আশেপাশের জায়গা চাষের কাজে ব্যবহার করা যায়। সূত্র: ডেইলি মেইল/ এআর  

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক গুহা

এ যাবৎকালের  সবচেয়ে দীর্ঘ ও বৃহৎ সামুদ্রিক গুহার সন্ধান পাওয়া গেছে। সাক আতুন নামের এই গুহা মেক্সিকোয় অবস্থিত। আয়তনে এটি  ৩৪৭ কিলোমিটার বা ২১৬ মাইল লম্বা। প্রাগৈতিহাসিক কালের এই গুহাটি দোস ওহোস নামের ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অপর একটি গুহার সঙ্গে যুক্ত। মেক্সিকোর তুলুম বিচ রিসোর্টের কাছে পাওয়া বিশ্বের বৃহত্তম ও দীর্ঘতম গৃহাটি ‘প্রাচীন মায়া সভ্যতার ওপর আলো ফেলবে’ বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি স্কুবা ডাইভাররা পানিভর্তি এই সুড়ঙ্গ গুহাটি আবিস্কার করেছেন; যা অনেকটাই অন্তঃসলিলা নদীর মতো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুহা আবিস্কারের ফলে ওই অঞ্চলে গড়ে ওঠা এবং বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন মায়া সভ্যতা বিষয়ে অনেক রহস্যের সমাধান মিলবে।অসংখ্য পার্শ্ব-সুড়ঙ্গ থাকায় এটা ডুবুরিদের কাছে গোলকধাঁধার চেয়ে কম নয়। প্রথমে এটিকে দুটি আলাদা সুড়ঙ্গ হিসেবে মনে করা হয়েছিল। পরে সুদক্ষ ডুবুরি আর বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে প্রমাণ হয়, আসলে এটি একটি গুহারই অংশ। অনেকে মনে করছেন, প্রাচীন মায়ান শহরগুলো মাটির তলার এই সুড়ঙ্গ দিয়ে পরম্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে শহরের বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করত। গুহাটির  অবস্থান পূর্ব মেক্সিকোর কোয়ান্টানা রু রাজ্যের টুলুমের কাছে; যার নামকরণ করা হয়েছে স্যাক অ্যাক্টন। গ্রান অকুইফারো মায়া প্রজেক্টের (জিএএম) অধীনে চালানো অনুসন্ধানে এর খোঁজ পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান ও সংরক্ষণ বিষয়ে গবেষণা করা হয়। ইউকাটান উপদ্বীপ অঞ্চলের পানির তলার জগৎ পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কাজ করা হয়। কিছুদিন কাজ করার পর প্রথম দিকে অনুসন্ধান দল মাটির নিচে কয়েকটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পায়। এরপর ব্যাপক তল্লাশিতে দেখা যায়- এগুলো ৩৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ-গুহার অংশ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। জিএএমের অনুসন্ধান দল যখন প্রথমে গুহাটির মাপজোখ করে, তখন স্যাক অ্যাক্টনের দৈর্ঘ ২৬২ কিলোমিটার (১৬৩ মাইল) বলে জানা যায়। ওই সময়ে ডুবুরিরা এর পাশেই আরেকটি সুড়ঙ্গ পান যার দৈর্ঘ্য ছিল ৮৫ কিলোমিটার; যা দোস ওজোস নামে পরিচিত। প্রথমে তারা দুটি আলাদা টানেল মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন আসলে একটি গুহারই অংশ। জিএএম পরিচালক ও আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজিস্ট জুয়েরিলামো ডি এন্ডা বলেন, দোস ওজোস আদতে স্যান অ্যাক্টনেরই অংশ। এ আবিষ্কার মায়াসভ্যতা থেকে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের সময়কার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। সূত্র :সিএনএন/ এআর

ইতিহাসের সাক্ষী ‘রোজ গার্ডেন’

সময়ের ব্যবধানে ঢাকার অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা হারিয়ে গেছে। তবে এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে আদিকালের বহু ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত কিছু স্থাপনা। এসব প্রতিষ্ঠান ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে। এমনি একটি প্রাচীন স্থাপনার নাম ‘রোজ গার্ডেন’। এই প্রাসাদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি যোগসূত্র রয়েছে। রোজ গার্ডেন ঋষিকেশ দাসের একটি কীর্তি। নগরীর টিকাটুলির কেএম দাস রোডের শেষ মাথায় বিশাল দেয়ালের ভেতরে এর অবস্থান। একসময় এটি বেঙ্গল স্টুডিওর অধীনে ছিল। এর নান্দনিক ডিজাইন ও চারপাশের সৌন্দর্য্য যে কাউকে মাত করে দেয়।ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি যোগসূত্র আছে। এটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সূতিকাগার বলা চলে। ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) গঠনের প্রাথমিক আলোচনা সভা এই বাড়িতে হয়েছিল। এ কারণে অনেকে বাড়িটিকে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান হিসেবে বলে থাকেন। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই প্রাসাদটির ইতিহাস না জানলেও কালের সাক্ষী হয়ে থাকা রোজ গার্ডেন দেখতে প্রতিনিয়তই অসংখ্য মানুষ রোজ আসেন। শুভ্র সাদা ভবন দেখতে অনেকটা হোয়াইট হাউসের মত। সবুজ ঘাসের আঁচল পাতা সেই উঠোন পেরোলে একটি অপরিসর জলাশয়। সেখানে রয়েছে শান বাঁধানো পুকুর। পুকুরে সাঁতার কাটছে কয়েকটি হাঁস। বাড়িটির সীমানার ভেতরে আছে বড় একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। ঘাসে ঢাকা লন। আছে বসার জন্য বেঞ্চ। রয়েছে শ্বেত মার্বেলের ছোট কয়েকটি মূর্তি। প্রাসাদের সামনে রয়েছে একটি কৃত্রিম ফোয়ারা। বাড়ির পেছন দিকটাতে রয়েছে ফুল-ফলের বাগান। সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-মুরগি। তার মাঝখানে ধবধবে সাদা একটি প্রাসাদ। বাড়িটির সৌন্দর্য আগের মতো নেই। চারপাশে গড়ে ওঠা আকাশচুম্বী ভবনের কারণে রোজ গার্ডেন সহজে খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। তবে সব কিছুর মধ্যেও কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে দৃষ্টিনন্দন চোখ জুড়ানো সেই সাদা প্রাসাদ।নিতান্তই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস সমসাময়িক জমিদারদের ওপর অনেকটা জেদের বশেই ১৯৩০ সালে ২২ বিঘা জমির ওপর নির্মাণ করেন এই চমৎকার প্রাসাদ। ভবনটির মোট আয়তন সাত হাজার বর্গফুট। উচ্চতায় পঁয়তাল্লিশ ফুট। ছয়টি সুদৃঢ় থামের ওপর এই প্রাসাদটি স্থাপিত। প্রতিটি থামে লতাপাতার কারুকাজ করা। ভবন নির্মাণের কিছু দিন পর ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে যান। ১৯৩৭ সালে রোজ গার্ডেন বিক্রি হয়ে যায় খান বাহাদুর আবদুর রশীদের কাছ। তখন এর নতুন নামকরণ হয় ‘রশীদ মঞ্জিল’। পরে আবদুর রশীদের মেজ ছেলে কাজী আবদুর রকীব এর মালিকানা পান। ১৯৯৫ সালে আবদুর রকীবের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী লায়লা রকীব বাড়িটি দেখাশোনা করেন। লায়লার স্বামীর বড় ভাই কাজী মোহাম্মদ বশির যাকে হুমায়ুন সাহেব নামেও ডাকা হতো। পরে তার নামে বাড়িটি পরিচিতি পায়।রোজ গার্ডেন বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। তাই দর্শনার্থীরা চাইলেই যখন খুশি ভেতরে যেতে পারে না। ভেতরে ঢুকে দেখতে চাইলে আগে যোগাযোগ করে নিতে হবে। বাড়িটির মূল ফটক কেএম দাস রোডে হলেও সামনের অংশটি বিক্রি করে দেয়ায় একটু ঘুরে পেছনের আরকে মিশন রোডের গেট দিয়ে ঢুকতে হয়। / এআর /

ময়মনসিংহের চিত্র পাল্টে দিয়েছে কলসিন্দুরের মেয়েরা

ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রামের ভাগ্য বদলে দিয়েছে ফুটবলার মেয়েরা। এরইমধ্যে গ্রামবাসী পেয়েছে বিদ্যুৎ। স্কুল পেয়েছে নতুন দুটি ভবন। তৈরি হয়েছে রাস্তা-ঘাট। শুধু নিজেদের গ্রামই নয়, দেশের ফুটবলের ইতিহাসও বদলে দিয়েছে কলসিন্দুরের মেয়েরা। এখন শুধু গ্রামবাসী নয়, তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে গোটা দেশ। দেশের আর ৮/১০টি গ্রামের মতোই সাধারণ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামটি। চার বর্গকিলোমিটারের গ্রামটিতে প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস। কৃষিই তাদের প্রধান জীবিকা। তবে মাছ ধরা আর ছোট-খাট ব্যবসাও করেও পেট চালান অনেকে। দেশ-বিদেশে এই গ্রামটির পরিচিতি এনে দিয়েছে ফুটবলার মেয়েরা। মেয়েদের ফুটবল খেলা ও বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে গ্রামবাসী বাধ্য হয়েছে চিন্তা-চেতনাকে বদলাতে। বদলে গেছে মানসিকতাও।মেয়েদের এখন আর কেউ খেলতে বাধা দেয় না। বরং দেয়া হচ্ছে উৎসাহ। এই ফুটবলারদের আগের মত এখন আর সামাজিক বাধা নেই। কিছুটা হলেও আর্থিক উন্নতি হয়েছে মারিয়া-মার্জিয়াদের পরিবারের। কলসিন্দুরের দেখাদেখি এবার নান্দাইল ও ভালুকা স্কুলেও মেয়েদের ফুটবল দল গঠন করা হয়েছে। মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যে গামারিতলা ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে কলসিন্দুর করার প্রস্তাব করেন সেখানকার চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কলসিন্দুরের মেয়েদের সাফল্যের শুরুটা নেপালে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের ফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। পরের বছর তাজিকিস্তানেও মুকুটটা ধরে রাখে তহুরারা। সে টুর্নামেন্টে সেরা গোলদাতা বাংলাদেশের মেসিখ্যাত তহুরা। এবার সাফ শিরোপা জয়। আর সেরা গোলদাতা লিটেল মেসি তহুরা। শুধু সাফ নয় মেয়েরা এগিয়ে যেতে চায় আরো বহুদূর। যদিও শুরুটা এমন সহজ ছিল না। কু-সংস্কার ছিল এলাকার মানুষের মধ্যে। মেয়েদের ফুটবল খেলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না, তারা। অভিবাবকদের রক্তচক্ষু আর গ্রামবাসীর টিপ্পনিতো ছিলোই। সঙ্গে অভাব-অনটন। তাই বলে, থেমে থাকেননি মফিজ উদ্দিন স্যার। ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েদের অভিবাবকদের বুঝিয়েছেন। তাকে সহায়তা করেছেন প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিনতি রানী শীল। তাদের সীমাহীন চেষ্টায় থেমে থাকেনি অদম্য এ নারী ফুটবলাররা। অভিবাবকদের রক্তচক্ষু ও এলাকাবাসীর টিপ্পনির তোয়াক্কা না করেই অনুশীলন করেছেন একাগ্র চিত্তে। নারী ফুটবলকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি