ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:৩৩:১৬

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবস আজ

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবস আজ

আজ ২১ জুন বিশ্বব্যাপী ‘হাইড্রোগ্রাফিক দিবস-২০১৮’ পালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।২০০৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) এবং তার সদস্য দেশসমূহে হাইড্রোগ্রাফির উপর সর্বসাধারণের কাছে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।এসএ/
আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস

আজ বুধবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস। শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রতি বছর আজকের এই দিনে দিবসটি পালন করে। এ বিষয়ে সংস্থাটি কিছু কর্মসূচিও পালন করবে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। যা শরণার্থী সংখ্যার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। আশ্রয়দাতা দেশের মধ্যে তুরস্ক নতুন শরণার্থী নিবন্ধনের সংখ্যায় সবচেয়ে বৃহত্তম। দেশটি সিরিয়ার ছয় লাখ ৮১ হাজার অধিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করেছিল।প্রতিবেদন অনুসারে কক্সবাজার জেলায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে দেশটির স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্পদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।২০ জুন আন্তর্জাতিক শরণার্থী  দিবসকে সামনে রেখে প্রতি বছর ইউএনএইচসিআর-এর গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয়  এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ওপর ইউএনএইচসিআর, সরকার ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থা কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরা হয়।প্রকাশিত বাৎসরিক গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাষ্ট্রহীন এবং উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন। গত আগস্টে মিয়ানমারে নৃশংস সহিংসতা চলাকালে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ শরণার্থী বাংলাদেশে আসে। সে সময় থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে, যা গত দুই দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় এবং দ্রুততম শরণার্থী প্রবাহ ছিল। কক্সবাজারের কুতুপালং, বালুখালি এখন বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী আশ্রয়স্থল। ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্যোগময় আবহাওয়ার সময় বিশেষ করে মে ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়ছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ২৭ লাখের অধিক শরণার্থী তাদের বাড়ি থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যায়, যাদের অধিকাংশ (৮৮ শতাংশ) মাত্র তিনটি দেশ (দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, মিয়ানমার) থেকে পালিয়ে গেছে।বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বৃহৎ অংশ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তাদের অর্ধেকের বেশির বয়স ১৮ বছরের নিচে, অর্ধেকের বেশি নারী ও মেয়ে শিশু এবং এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অনেকেই নিজ দেশে যৌন নির্যাতন এবং মানসিক আঘাতসহ চরম সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। ইউএনএইচসিআর মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব প্রদানসহ সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এসএ/  

আমার বাবা আমার আইডল

আমার বাবা মরহুম আলহাজ এম হজরত আলী, যাকে অঞ্চলের মানুষ `সাহেব` হিসেবে সম্মান করেন। এখনো কোথাও গিয়ে দাঁড়ালে আমাদের ভাই বোনদের পরিচয় জোটে বারইপাড়ার সাহেবের ছেলে-মেয়ে বলে। আমার দাদা মরহুম সোনাউল্লাহ সরকার ছিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার বারইপাড়ার অবস্হাসম্পন্ন সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব। তিনি তার বাড়িতেই ছেলে মেয়ের পড়াশোনার জন্য যে চার কিলোমিটার দূরের বীর বাসিন্দা গ্রামের এক পণ্ডিতকে গৃহশিক্ষক রাখেন। গ্রামে কোন স্কুল ছিল না। স্কুল ছিল ৮ কিলোমিটার দূরে। দাদা তার চাচা শ্বশুর জয়েন সরকারসহ গ্রামের বিদ্যানুরাগী নিয়ে বৃটিশ আমলে বারইপাড়া প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বাবা ছিলেন সে স্কুলের প্রথম ছাত্র। বাবা কালিহাতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৮ সালে মেট্রিক, করটিয়া সাদত কলেজ থেকে আইকম পাশ করে আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহে বিকম ভর্তি হন। এসময় তিনি সরকারি ময়মনসিংহ জেলা রেভিনিউ অফিসে চাকরিতে যোগ দেন। এ অফিসের জেলা রেভিনিউ অফিসার ছিলেন সাঈদ হোসেন সাব (নামটা ভুল হতে পারে)। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি। আব্বা অংকে ও ইংরেজীতে ভালো ছাত্র হওয়ায় তিনি তার মেয়ে ডলি, পলিদের গৃহশিক্ষকের দায়িত্ব দেন। আব্বার বন্ধু আওয়ামী লীগের, তখন ছাত্রলীগ নেতা পরে এমএন এ হাতেম আলী তালুকদার মাঝে মাঝেই ঐ বাসায় যেতেন। তিনি হোসেন সাব ও ডলি পলির আম্মাকে বলেন হজরত আমাদের বন্ধু। এর ফলে চাকরির পাশাপাশি আব্বার ক্লাস করার সুযোগ ঘটে। পরে ইস্ট পাকিস্তান জুট মার্কেটিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হলে বঙ্গবন্ধুর বোন আব্বাকে এই করপোরেশনের চাকরিতে যোগদানে সহায়তা করে। যা স্বাধীনতা পরবর্তীতে বিজেএমসি নামকরণ হয়, এখানে পারচেজিং অফিসার পদে যোগ দেন‌ আব্বা। বাবার চাকরির সুবাদে আমার স্কুল জীবনে বিভিন্ন জেলায় যুক্ত হয়েছে ৭ টি স্কুল। মানুষ হিসেবে তিনি তিনি ছিলেন সৎ আদর্শবান। আব্বা আমাদের ৫ ভাই ২ বোনকেই পড়াশোনা করাতেন নিজে। পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতেন, সে অনুযায়ী গুরুত্ব দিতেন। আমি লালমনিরহাট মডেল হাইস্কুলে ভর্তি হই ক্লাস ফাইভে, ১৯৬৬ সালে। আব্বা প্রধান শিক্ষককে বলে দিলেন নিয়ম শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করলে যেনো ক্ষমা না করা হয়। ভয়ে আমি ঠিকভাবে পড়াশোনা করে দ্বিতীয় হয়ে সিক্সে ওঠি। বাবা খুব খুশী হয়েছিলেন। বাবা আমাদের ভাই-বোনদের একটা কথা প্রায়ই বলতেন এ দেশের অসংখ্য ছেলে মেয়ে পড়ার সুযোগ পায়না, সে দিক থেকে তোমরা এটা পাচ্ছো। তিনি বলতেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করো না। যখন যে দায়িত্ব পাবে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। মনে রাখবে এটাও ইবাদতের সামিল। আব্বা যে ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন, অসৎ হলে আমাদের এতো সংগ্রাম করতে হতো না। তিনি আমাদের ৭ ভাইবোনকেই উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। এর মধ্যে যে ৪ জন স্নাতকোত্তর, দুজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, একবোন গ্রাজুয়েট। পড়াশোনা শেষে আমার ৪/৫ টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র আসে, কিন্তু আব্বার ইচ্ছেতেই বিআরসি `৮৩ ব্যাচে সোনালী ব্যাংকে যোগ দেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, আব্বা ছিলেন কসবার কুটিতে। তিনি সাহস দিয়ে চিঠি লিখতেন দেশ স্বাধীন হবেই। তার এই চিঠি আমাদের বাড়িতে থাকা ক্যাম্পের (৫০) জনের প্লাটুনের বন্ধুদের পড়ে শোনাতাম। তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ৭১ সালে তিনি ব্রাম্মণবাড়িয়ার ভারত সীমান্তবর্তী কুটিতে জেএমসির পারচেজিং অফিসার ছিলেন। একবার মুক্তিযোদ্ধারা কুটি বাজারের পাটের গোডাউনে আগুন ধরাতে গেলে তিনি তাদের পরামর্শ দেন, আগুন নয়, এটা আমাদের সম্পদ হিসেবে রক্ষা করতে হবে। কারণ স্বাধীনতার পর এই পাট রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে। বরং কোন পাট যাতে এখান থেকে কোন কোম্পানি ঢাকা না পাঠায় তা প্রতিরোধ করতে হবে। পরে তিনি অন্যান্য কোম্পানিকে বলে দেন, হেড অফিস পাট পাঠাতে বললে বলে দিবেন রাস্তা নিরাপদ নয়। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা ও এমএন এ সিরাজুল হক এ জন্য আব্বাকে ধন্যবাদ জানান। আল্লাহ আমাদের পিতা মাতার কবর আজাব মাফ করে দিন। //আরকে//

বাবাকে মনে করে...

আমার বাবা আজিজ আহমেদের একটি সাইকেল ছিল।সেই সাইকেলের সামনের রডে কাঠ দিয়ে ছোট একটি সিট বানিয়েছিলেন।ওই ছোট সিটে আমাকে বসিয়ে তিনি সাইকেল চালাতেন।সিটে বসে যখন হ্যান্ডেল ধরতেন মাঝখানে ছোট্ট আমি বসা থাকতাম।বাবার বিশাল বুক জুড়ে আমি,দুই বাহু দিয়ে আটকানো,কঠিন নিরাপত্তা।বাবা জোরে সাইকেলের প্যাডেল মারতেন,চলতো দূরন্ত গতিতে।আমি বলে উঠতাম আরো জোরে,আরো জোরে।খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল থেকে বিআইডিসি রোড দিয়ে সাইকেল চলে যেতো চিত্রালী মোড় পর্যন্ত,কখনো বা নতুন রাস্তার মোড়।আবার ঘুরে প্লাটিনাম মোড়।বাবার নাকের নিঃশ্বাসে আমার মাথার চুল উড়তো,শরীরের উত্তাপ ওম দিতো মুরগির ছানার মতো।

বাবারা কি সারাজীবনই পুড়েন 

শৈশব, কৈশোর আর যৌবন... চোখের সামনে পার হয়ে গেলো সব। বয়সের হিসেবে যৌবনের দুরন্তকাল চলে এখন।      নাটোরের বড়াল নদীর তীরে এক অখ্যাত পাড়া গাঁয়ে বাড়ি আমাদের। ছোট এক কৃষকের ঘরে একান্নবর্তী পরিবারে দু‘ভাই আর এক বোনের সংসারে ছোট আমি। সংসারের সম্পদ বলতে অল্প কিছু জমিজমা। তাতে চাষাবাদ, সাথে বর্গা নেওয়া আরো কিছু জমি। তাতেও যখন হয় না, তখন অন্যের জমিতে বাবার কামলাগিরি। হেমন্তের শেষ দিকে সারাগ্রাম জুড়ে চলতো নবান্ন উৎসব। শান্তা চাচা, মফিজ খালু বা ফরহাদ ভাইদের জমিতে তখন ধান কাটার ধুম, যেন পুরো এক উৎসব। খুব সকালে ধানের জমিতে কাস্তের খ্যাস খ্যাস শব্দে চলতো ধানকাটার হিড়িক। কে কত দ্রুত কাটতে পারে ধান, চলতো অলিখিত এক প্রতিযোগিতা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুদু চাচার মহিষের গাড়িতে করে তা বাড়িতে আনা। ধান মাড়াইয়ের আধুনিক যন্ত্র আসেনি তখনো। মহিষ বা গরু ঘুরিয়ে ধান আলাদা করা। আমাদের আর কতটুকুই জমি, ওজন মাপার স্কেলে কয় মণই ধান! প্রায়ই দেখতাম বাবাকে অন্যের জমিতে দিনমজুরগিরি করতে। পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণ পোষণ। বাড়িতে কেউ না কেউ অতিথি হয়ে থাকতো বলতে গেলে সারাক্ষণই, মায়ের কূলের নয়তো বাবার কূলের। তিন ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ যোগানো। সবকিছু সামলে নেওয়া বাবার পক্ষে সহজ ছিল না মোটেও। স্কুলের পাঠে কেবল টু থ্রি ক্লাসে পড়ি তখন। রঙিন স্লেট, লাল রঙের টুবি, থ্রিবি পেন্সিল আর মহানগরের মোটা খাতা... ১৫-২০ টাকা লেগে যেতো তাতে। সপ্তাহে হাট বসতো দুদিন, মঙ্গল আর শুক্রবার। আমার জন্য খুশির দিন। বাবার সাথে বাজারে গেলে গুঁড়ের মোওয়া আর দাঁতভাঙ্গা পাওয়া যাবে। সাথে সুযোগ মতো আমার খাতাকলম। হাটবার এলেই তাই বাবার পিছনে পিছনে ঘুরতাম। কিন্তু হাটের দিন বাবার মুখটা মলিন থাকতো প্রায়ই। মোটা চাল, তরিতরকারি, আর কখনো বা পাঙ্গাস বা সিলভার কার্প মাছ। বেশিরভাগ হাট বারেই আমার খাতাকলমের স্বপ্ন পূরণ হতো না। বাবা বলতেন, কিনে দেবো সামনে বার ঠিকই। কচি হৃদয়ে মনখারাপের ছায়া। মুড়ি মুড়কি খেতে খেতে বাজারের ব্যাগ কাঁধে বাড়ি ফিরতাম। প্রাইমারি, হাইস্কুল বা কলেজ, বেশিরভাগ সময়ই তো কাটলো অপূর্ণ স্বপ্ন লালন করে। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়েও তো, সহপাঠীদের সাথে এক্সকারসন, ছুটিতে ঘুরতে বেরিয়ে পড়া সিলেটের জাফলং কিংবা সুন্দরবন, তাও তো হয়ে উঠেনি। হাসিমুখে বাবার কত স্বপ্ন বিনির্মাণ, বড় হলে সব পাবি দেখিস। এত ভালো কিছু পাবি, তখন আর এসব মনেই থাকবে না। স্বল্পশিক্ষিত বাবার চোখে মুখে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নের ঝিলিক। কত ঈদই তো আসে যায়। সেই ঈদের কথা ভুলতে পারি না এখনো। ত্রিশটা রোজা শেষে পশ্চিমাকাশে চাঁদ দেখা দিয়েছে। খেজুর গাছের হাওই দিয়ে ছেলেমেয়েদের আতশ বাজি, হই হুল্লোড়, ঈদ এলো, ঈদ এলো রে গানের কোরাস। এখন মনে হয়, সে সময় কেবল নীরব আর নিস্তব্ধ ছিল আমাদের পরিবারেই। রাত পোহালেই ঈদ। নতুন জামা তো দূরের কথা, সামান্য সেমাই চিনি কেনার জন্য একশ টাকা দরকার, তাও কেন জানি যোগাড় হচ্ছিল না। বাতির কালি ওঠা আলোয় আমি পড়ার টেবিলে চুপচাপ, যেন স্থির। বাবা এসে পাশে বসলেন, ‘কি লাগবে তোর।’ বাবার মুখের দিকে তাকানোর সাহস ছিল না সে সময়। -কিচ্ছু লাগবে না বাবা। হাউমাউ করে কেঁদে উঠি। বাবা আগলে ধরেন বুকের মাঝে। বলে উঠেন, পাগল ছেলে। তুই একদিন ব্যাগ ভর্তি করে সবার জন্য শপিং করবি, ভ্যান ভর্তি করে বাজার নিয়ে আসবি। আর কটা দিন, দেখতে দেখতে চলে আসবে দেখিস।ঘুম থেকে উঠে সকালে ঠিকই আমাদের সবার নতুন জামাকাপড় পেয়েছি। আর ঈদের প্রয়োজনীয় বাজারও এনেছিলেন বাবা। রাজ্যের দুঃখ নিয়ে ঘুমানো এই আমি, সকালে প্রিয় জুঁতা পেয়ে এত খুশি হয়েছিলাম, আর কখনো এত খুশি হয়েছিলাম কি না, মনে পড়ছে না। আমার বাবা, স্বপ্নচারী একজন ব্যক্তি। স্বপ্ন লালন করতেন, আমাদের ভাইবোনদের মাঝে তা বিলিয়ে দিতেন। ছোটবেলায় বাবার পাশেপাশে ঘুরঘুর করতাম। বাবা গরুর লাঙল নিয়ে হই, হই, ডানে, ডানে, বামে বামে, থাম থাম করে উর্বর জমি চাষ করতেন। ঘামে নেয়ে পড়তো সারা শরীর। বাড়ি থেকে মাথায় করে বাবার জন্য ভাত আর পানি নিয়ে যেতাম। বিশ্রামের সময় বাবা খেতেন, আর গল্প করতেন। খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতাম। ভাবতাম, বাবা এত জানেন কি করে? পড়ালেখা শেষে আজ চাকরি করি। ব্যস্ততা এতই বেশি, এক ঈদে ছুটি পেলে অন্য ঈদ কাটে অফিসেই। আজ সত্যিই, ব্যাগ ভর্তি করে সবার জন্য শপিং করি। বাবার জন্য কয়েক পস্তর কাপড় কিনি, একটা পছন্দ না হলে অন্যটা পড়বেন। আর, ঈদের বাজারসহ সংসারের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের বাড়তি যোগান। এখন চাইলেই কিনতে পারি অনেক কিছু, ইচ্ছে হলেই ঘুরতে যেতে পারি, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে। কিন্তু ছোট্টবেলায় ঘুম থেকে জাগার পরে দেড়শ টাকার রঙিন জুঁতা পাওয়ার যে আনন্দ, সেই আনন্দের সিকিভাগও মনে টের পাই না। বাবা আজ বয়সের হিসাবে ভর সন্ধ্যায়। শুশ্ম্রমন্ডিত দাঁড়িতে ইবাদত বন্দেগীতেই কাটে সময় তাঁর। চেয়ে থাকেন পথপানে, কখন ছেলেমেয়ে বাড়িতে আসে? বাবা কি আজো আমাদের দেখেন? সেই ছোট্টবেলার শুভ্রদের বড় হয়ে যাওয়া, তরতর করে পরিণত হয়ে ছোট্ট বাবুদেরই আবার বাবা হওয়া? চাইলেই বাবা এখন শুভ্রদের দেখতে পারেন না, ছুঁয়ে দিতে পারেন না ছোটছোট নাতিপুতিদের। বাবার হৃদয়টা কি পুড়ে যায়? সেই যে, ছোট্টবেলায় পুড়তো শুভ্রদের আবদার পূরণ না করতে পারায়? আচ্ছা, বাবারা কি সারাজীবনই পুড়েন এভাবে? এখন ঈদ এলেই মনে ভয় জাগে, ছুটি পাবো তো! নানা কাজে, নানা অসুবিধায় দেশের বাড়িতে আর যাওয়া হয় না। ঈদের সময় হুহু করে মনটা। সবার কথা মনে পড়ে যায়। আজ, ব্যস্ত এই মেগাসিটিতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি নিজের পোশাকের জৌলুশ! মনে পড়ে ছোটবেলার পাওয়া না পাওয়ার ঈদের কথা, পুরনো পাঞ্চাবি টেনেটুনে ঈদগাহে যাওয়ার স্মৃতি। মনে থাকবেও সারা জীবন। মা- কে মনে পড়ে যায়, মনে পড়ে বাবাকেও। কত ঈদ আসে, আসে কত বাবা দিবস, মুখ ফুটে তো কখনোই বাবাকে বলা হয় না বাবা, মিস করি তোমাকে, ভালবাসি। নিজেকে প্রশ্ন করি, বাবার কথা মতো, সব পাবি, পেয়েছি কি সব? চাইলেই যে বাবাকে দেখতে পারি না, ছুঁতে পারি না মাকে! এটাকে কি সব পাওয়া বলে বাবা? লেখক: বিজনেস রিপোর্টার, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর  এসি     

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

ভরসা ও ছায়ার নাম বাবা। পরম নির্ভরতার প্রতীক। আজ রোববার বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর রোববার হিসেবে আজ ১৭ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি। সারা বিশ্বের সন্তানেরা পালন করবেন এই দিবসটি। পিতার প্রতি সন্তানের সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। সন্তানরা তাদের প্রিয় জন্মদাতার জন্য নানা উপহার কিনবে, দিবে। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি হাতড়াবে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিক থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। ধারণা করা হয়,  ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু হয়। শুরুর দিকে বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না, বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাবা দিবসকে ঘিরে নাটক, টকশোসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে রেডিও ও টিভি চ্যানেলগুলো। বাবা দিবসে শ্রদ্ধা আর ভালবাসা পূর্ণতাপাক, দৃঢ় হোক পরিবারের বন্ধন। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। একে//

ভয়াল মাগুরছড়া ট্রাজেডি দিবস আজ

আবারও ফিরে এসেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জবাসীর ভয়াল স্মৃতির দিন মাগুরছড়া ট্রাজেডি দিবস। ১৪ জুন আসলেই মৌলভীবাজার জেলাবাসীকে মনে করিয়ে দেয় সেই ভয়াল স্মৃতির কথা। সেদিন মানুষের মন কত ভীত ছিল। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে ১টা ৪৫ মিনিটে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে বিস্ফোরণের প্রচন্ড শব্দে কেঁপে ওঠে ছিল গোটা কমলগঞ্জ। আগুনের লেলিহান শিখায় লাল হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজার জেলার সুনীল আকাশ। ভীত-সন্ত্রস্ত লোকজন ঘরের মালামাল রেখে প্রাণভয়ে ছুটে ছিল দিগ্বিদিক। প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় লাফিয়ে উঠা আগুনের লেলিহান শিখায় লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। আগুনের শিখায় গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেষ্ট, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, জীববৈচিত্র্য, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ফুলবাড়ী চা বাগান, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট- চট্টগ্রাম রেলপথ এবং কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণবাদীদের তথ্য মতে, ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ সাধন হয়। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ ১৬৩ দিন বন্ধ থাকে। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি। বিভিন্ন সংগঠন মাগুরছড়া দুর্ঘটনার যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ২০ বছরেও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের পরিত্যক্ত এলাকার উত্তর টিলায় সবুজায়ন করা হয়েছে। মূল কূপটি এখনো পুকুরের মতো ধারণ করে টিকে আছে। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। টিলার ওপর সবুজ বনায়নের উদ্যোগ নিলেও মাঝে মধ্যে আগুনের পোড়া ডালপালাবিহীন কালো রঙের গাছগুলো অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনায় সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এসএ/    

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস আজ। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১০ জন বাঙালি শহীদ হন।এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি।রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক- সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে।আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- এদিন সূর্যোদয়ের পর বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজকপক্ষ থেকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়।পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন।৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপনের দাবি জানানো হয়।বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে।এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন।পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়।এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে।অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাক শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে আগামীকাল ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল শাখাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : বাসসএসএ/

ঢাকায় প্রতিদিন জমছে দুই কোটি পলিথিন: পবা

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন দুই কোটি পলিথিন জমছে বলে দাবি করেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকায় সংগঠনের কার্যালয়ে ‘প্লাস্টিক দূষণ: পরিবেশের জন্য হুমকি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই পরিসংখ্যান দিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনটি। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই পলিথিনকে ঢাকার জলাবদ্ধতার জন্য প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পবা। অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পবার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সোবহান বলেন, ‘রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় ১২০০ কারখানায় নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর বেশিরভাগই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। ‘ঢাকায় প্রতিদিন দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়, যেগুলো পলিথিন বর্জ্য। এ বর্জ্য সামান্য বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সোবহান জানান, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ৭৯ শতাংশ প্লাস্টিক বা পলিথিন বর্জ্য পানিতে মিশে জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।  ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত প্লাস্টিকের বোতল, বিভিন্ন সামগ্রী এবং পলিথিন ব্যাগের অধিকাংশই পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন না করে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে খাল, নদী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। জলজ প্রাণী তা গ্রহণ করছে।’ জলজ প্রাণীর মাধ্যমে এই প্লাস্টিক আবার মানুষের খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পবার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১০ সালে প্লাস্টিক  ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিবছর এই সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে পাঁচ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং বড়  শিল্প কারখানায় ১২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। দেশে এখন প্লাস্টিক পণ্যের জনপ্রতি ব্যবহার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫ কেজিতে। পবার আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশে প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহারে পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণের ওপর ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘নিষ্ক্রিয়তায়’ সেই আইন কার্যকর করা যায়নি বলে অভিযোগ করেন অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সোবহান। পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দোষারোপ করে তিনি ’রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাবকে  প্লাস্টিক দূষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়ায় (রিসাইকেল) প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের সদিচ্ছা নেই বলেও মনে করেন তিনি। সভায় বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানিকৃত পলি প্রোপাইলিন পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেন বক্তারা। টিস্যু ব্যাগ আমদানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তারা। সভায় আলোচক হিসেবে যোগ দেন স্পারসোর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল কাদির, পবার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, সম্পাদক শাহিন আহম্মেদ। প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও উদ্যোগ প্লাস্টিকের ব্যবহার ও উৎপাদন কমিয়ে আনাসহ নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেওয়া পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিয়ে ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একটি গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় বলেছিলেন, প্রতিবছর ৮ মিলিয়ন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে পড়ছে। এতে ৮ বিলিয়ন ডলারের সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিকজাত পণ্যকে সমুদ্র ও সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য কেবল হুমকিই নয়, প্রতিবছর হাজারও সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   আগামি ৯ জুন কুইবেকে অনুষ্ঠেয় জি-সেভেন আউটরিচ বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য হবে সমুদ্রকে দূষণ থেকে রক্ষা করা এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিকূলতা মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি। এতে সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা বন্ধের মত চ্যালেঞ্জগুলোর উপরেও ওই বৈঠকে আলোকপাত করা হবে বলে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার অটোয়ায় এক ঘোষণায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ বেড়ে যাওয়া, আবহাওয়া বিরূপ হয়ে ওঠা এবং অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণের কারণে আমাদের সমুদ্র ও উপকূল বিরাট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের দূষণ কমিয়ে আনতে ৫০টি দেশ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এতে বলা হয়, অনেক উন্নয়নশীল দেশেই প্লাস্টিকের ব্যাগ নর্দমা আটকে দিয়ে বন্যার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়। বেশ কয়েকটি দেশে প্লাস্টিক বিষয়ে বিধি নিষেধ থাকলেও সে সব বিধি নিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এমন উদ্বেগও জানিয়েছে জাতিসংঘ। কেআই/ এসএইচ/

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস

আজ ৫ জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে এ বিশ্বকে বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিবছর ৫ জুন দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি’ এবং স্লোগান ‘প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি’। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে প্রতিবছর সারা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে এ দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বানীতে বলেন, জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। `বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রতিবেশের টেকসই ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে।   টিআর/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি