ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৩:১৩

কারওয়ান বাজারের যমদূত

কারওয়ান বাজারের যমদূত

গান-বাজনা আর অশ্লীল শব্দ শুনে এক শ্রেণির মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত তরুণীদের দেখে আশপাশের মানুষের ভীড় আরো বেড়ে যায়। এরপর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বরোগের ওষুধ নিয়ে হাজির হন মজমার মূল ব্যক্তি। নানা রকম আশ্বাস, বিশ্বাস আর প্রমাণ উপস্থাপন করে প্রচারণা চালান। এ সময় পাশ থেকে পূর্বের ক্রেতারা এসে উপকার পেয়েছেন মর্মে আরো ওষুধ নিতে চান। উপস্থিত দর্শকদের বিশ্বাস আরো গাঢ় হয়। তারাও চেয়ে বসেন ওষুধ। জমে যায় মজমা।
অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তে নাখোশ বাংলাদেশ

দেশের তৈরি পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কর্মরত ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড নির্ধারিত সময়ের পর আরও তিন বছর বাংলাদেশে তাদের কার্যোক্রম পরিচালনা করতে চাইছে। বাংলাদেশে পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের পর্যকবেক্ষণ ও তদারকি ২০২১ সাল পর্যিন্ত চালিয়ে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাকর্ড। সংস্থাটি সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে। সরকার, গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠনসহ অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে শিগগিরই তারা এ নিয়ে আলোচনায় বসতে চায়। এর পরপরই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে অ্যাকর্ড। কিন্তু অ্যাকর্ডের এ সিদ্ধান্তে নাখোশ দেশের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট তিন পক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত বলা হয়েছে। মালিকরা বলছেন অহেতুক আর শ্রমিক নেতারা অতিরিক্ত খবরদারি হিসেবেই দেখছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাকর্ডকে সময় বৃদ্ধির নামে খবরদারি জোরদার করার সুযোগ না দিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ কমিটি করা যেতে পারে। যেই কমিটিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, এক্সপার্ট, গার্মেন্ট মালিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও শ্রমিক প্রতিনিধি থাকবেন। তারা কারখানাগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতের তাগিদ দিতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অ্যাকর্ড গঠিত হয়। ২২০টির বেশি ইউরোপীয় ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং দুটি বৈশ্বিক ইউনিয়ন অ্যাকর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে। পাঁচ বছরের জন্য অ্যাকর্ড গঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী বছরের মে মাসে সংস্থাটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। তবে কারখানার সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অ্যাকর্ড তাদের সময়সীমা ২০২১ সাল পর্যকন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই ইস্যুতে এরইমধ্যে চার দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৈঠকে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটসহ  ওইসব দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, নীতিগত সিদ্ধান্তটি (মেয়াদ বৃদ্ধি) নেয়ার আগে অ্যাকর্ডের উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আগে আলাপ করে নেওয়া। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিত নয় বলে বৈঠকে রাষ্ট্রদূতদের জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অ্যাকর্ড প্রস্তাব দিতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিক সমিতি বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, অ্যাকর্ড ২০১৩ সালে ৫ বছরের জন্য অগ্নি নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার, কারখানার কর্মপরিবেশ এসব নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। তাদের হাতে এখনও এক বছর আছে। বিগত চারটি বছর তারা আমাদের কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছে। এতে কি অর্জিত হয়েছে? তাদের পরিদর্শিত কারখানাগুলোতেও অগ্নিকান্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে তারা কি পরিদর্শন করছে? এটা পরিদর্শন নাকি খবরদারি? এছাড়া তাদের খবরদারিতে অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং বহু শ্রমিক বেকার হয়েছেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পর্যবেক্ষণের দরকার হলে দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী তদারক কমিটি বা সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। অ্যাকর্ড কথায় কথায় সম্পর্ক ছিন্ন করবে আর আমাদের পণ্যের কম মূল্য দিবে তা হতে পারে না। পণ্যের মূল্য না বাড়িয়ে তাদের এ খবরদারি অহেতুক। সরকার ও  মালিক পক্ষের সঙ্গে একই মত পোষণ করছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুল হাসনান নাইন বাবু বলেন, অ্যাকর্ডের খবরদারিতে অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। অনেক শ্রমিকও বেকার হয়েছেন। তাদের পরিদর্শিত কারখানা সার্টিফাই হওয়ার পরও দুর্ঘটনা ঘটেছে। তা হলে লাভ কি হল? লাভের লাভ অ্যাকর্ডের খবরদারি। আমার দেশের মালিক পক্ষের হয়রানি আর শ্রমিকদের বেকারত্ব। তাই আমি মনে করি, অ্যাকর্ডের তদারকির আর দরকার নেই। বরং দেশের সরকার, মালিক, শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদারকি সেল বা সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। যারা কারখানাগুলো পরিদর্শন করে কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে।   তবে এ বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম সভাপতি মোশরেফা মিশু কিছুটা ভিন্ন মত পোষন করেন। তিনি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমরা চাই বা না চাই তারা আমাদের ওপর খবরদারি চলবেই। কারখানা পরিদর্শনের পর অ্যাকর্ড যেসব নির্দেশনা দিয়েছিল সেগুলোর প্রায়ই এখনও অসমাপ্ত রয়েছে। বাকি এক বছরে সেগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে যাবে। অ্যাকর্ডের পর্য বেক্ষণ ও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া যেতে পারে। এদিকে অ্যাকর্ডের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের তালিকাভূক্ত ১ হাজার ৫৩৪টি তৈরি পোশাক কারখানার অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও ভবনের কাঠামোগত ত্রুটির ৭৭ শতাংশ সংস্কারকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। চার শতাধিক কারখানার ৯০ শতাংশ ত্রুটি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে পাওয়া সব ত্রুটি সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করেছে ৬৫টি পোশাক কারখানায়। এছাড়া সব ধরনের সংস্কারকাজ শেষ করার সাফল্য অর্জন করেছে সাতটি কারখানা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ বলেন, কয়েক মাস ধরেই অ্যাকর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্র্যান্ড ও গ্লোবাল ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অনেক বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে (সময় বৃদ্ধি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আমিরুল হক আমিন বলেন, অ্যাকর্ডের অধীনে থাকা কারখানাগুলো অনেক সংস্কারকাজ শেষ করেছে। আরও কাজ বাকি আছে। তাই সময় লাগবে। আমি মনে করি না, অ্যাকর্ডের কারণে পোশাকশিল্পের কোনো ক্ষতি হবে। বরং কর্মপরিবেশের উন্নতি হবে, বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও আস্থা আরও বাড়বে। তাই সময় বাড়ালে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য ইতিবাচকই হবে।//এআর

মাটিছাড়াই পানির ওপর তরমুজ চাষ

গাছের নিচে মাটি নেই। ঘন সবুজ লতা। লতার ফাঁকে সবুজ রঙের তরমুজ। মাটি ছাড়াই এভাবে পানির ওপর তরমুজ চাষ হচ্ছে। এ দৃশ্য পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের। সেখানে পানিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। মাটিবিহীন পানিতে ফসল উৎপাদনের এই কৌশলকে হাইড্রোপনিক বলে, যা একটি অত্যাধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। তাই সারা বছর কিংবা অমৌসুমেও সবজি, ফল, ফুল চাষাবাদ করা যায়। এভাবে তিন মাস পরপর বছরে চার বার আবাদ করা যায় হাইড্রোপনিক পদ্ধতির তরমুজ। এ পদ্ধতির তরমুজ চাষাবাদে মাটিবাহিত ও কৃমিজনিত রোগ হয় না। কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম হওয়ার কারণে কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। তাই অনায়াসে অর্গানিক ফসলের সম্ভার গড়ে তোলাও সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ছোট-বড় উভয় পরিসরে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিচ্ছন্নভাবে ফসল উৎপাদন করা যায়। এটি হোম-ফার্মিংয়ের জন্য একটি আদর্শ প্রযুক্তি। এটি খুবই লাভজনক। পাশাপাশি অর্থকরী ও মানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ১৯৯৭ সালে জাপানে হাইড্রোপনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নেন। তিনি এই প্রযুক্তি প্রথম বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। শুধু তরমুজ নয়, মাটি ছাড়াই জন্মাবে প্রিয় ফসল, ফুল, সবজি। মাটির পরিবর্তে পানিতেই জন্মাতে পারবেন টমেটো, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, ক্ষীরা, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, অ্যানথরিয়াম, গাঁদা, গোলাপ, অর্কিড, চন্দ মলিকাসহ আরও অনেক ফসল। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই সবজি ও ফল উৎপাদন করা সম্ভব। এই চাষাবাদে কোনো কীটনাশক প্রয়োজন হবে না। এমনকি সার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাই অনায়াসে গড়ে তোলা যাবে অর্গানিক ফসলের সম্ভার। সেই গবেষণার সূত্র ধরেই ওই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র । পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ঘেঁষে উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। এ প্রতিষ্ঠানটির এককোণে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ শুরু হয় গত বছর জুলাই থেকে। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের এই তরমুজ বাগানটিতে প্লাস্টিকের পাইপ ছিদ্র করে ১৪০টি তরমুজের চারা রোপণ করা হয়েছে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে ফলন এসে গাছে ঝুলে বড় হচ্ছে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে করা তরমুজ। এভাবে তিন মাস পরপর বছরে চার বার আবাদ করা যায় হাইড্রোপনিক পদ্ধতির তরমুজ। জুলাইয়ের প্রথম দিকে যে তরমুজ আবাদ হয়েছে তা ইতিমধ্যে অনেক বড় হয়ে গেছে এবং তিন মাস শেষে তা আরও অনেক বড় হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যাক্তারা। তরমুজ আবাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, গত বছরে জুলাই থেকে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজ আবাদ শুরু করেন এবং এতে তারা সফলও হন। বর্ষাকালে এ অঞ্চলের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে তাদের কোনো কাজ থাকে না, তারা বেকার হয়ে পড়েন। এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ শুরু করলে কৃষকদের ভাগ্যবদল এবং আয়ের বড় একটি উৎস হবে। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবেন।উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এ পদ্ধতিতে পাইপে সংরক্ষিত পানিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তরল আকারে প্রয়োগ করে সারা বছর তরমুজসহ বিভিন্ন ফল ও শাক-সবজি উৎপাদন করা সম্ভব বলে মনে করেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। //এআর

কারওয়ান বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে মাদক বাজার

কাঁচা বাজারের পাইকারি মার্কেট হিসেবে পরিচিত রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে আরেক বাজার। তবে এটি মাছ কিংবা সবজির বাজার না, এটি মাদকের বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয়ে এ বাজার সকাল ১০টার আগেই শেষ হয়ে যায়। আবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। মাদকের বাজারের সঙ্গে জুয়াড়িরা বসায় জুয়ার আসর। যেন দেখার কেউ নেই। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় শিগগিরই শতভাগ মাদকমুক্ত এলকায় পরিণত হবে কারওয়ান এলাকা। জানা গেছে, কারওয়ান বাজার রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা বস্তিতে রয়েছে প্রায় ৮ শতাধিক ঝুপড়ি ঘর। প্রতিটি ঝুপড়ি ঘরই যেন এক-একটি মাদকের দোকান। প্রকাশ্যেই ঝুপড়ি ঘরের সামনে মাদক বিক্রি হয়। গাঁজা থেকে শুরু করে ইয়াবা, ফেনসিডিল সব মাদকই এই বস্তিতে সহজলভ্য। এ বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ইয়াবা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে গাঁজা এবং তৃতীয় অবস্থানে হেরোইন। তবে ফেনসিডিল প্রকাশ্যে না আনলেও চাহিদার আলোকে ঘর থেকে এনে দেয় বিক্রেতারা। জানা গেছে, কারওয়ান বাজার রেলওয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪০০ জন। যাদের শতভাগই নারী। মাদক ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। সকালের ক্রেতা সাধারণত ৩০-ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা আর বিকেলের ক্রেতা ছাত্র-যুবক। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। মাদকের পাশাপাশি এখানে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর। যেখানে প্রতিনিয়ত সর্বশান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ক্রেতা সেজে এই প্রতিবেদক সনিয়া (ছদ্দনাম) নামের এক মাদক বিক্রেতার কাছে ইয়াবার দাম জানতে চয়ে। জবাবে সনিয়া জানায় চম্পা ৩২০ টাকা লাগব, সেভেন আপ আছে ৬’শ টাকা। প্রতিবেদক অন্যজনের কাছে গাঁজার দাম জানতে চাইলে বলে, স্টিক পড়ব ৫০ টাকা। তবে সে জানাল তার কাছে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকার স্টিকও আছে। ফেনসিডিল পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সে বলে পাওয়া যাব তবে ৬শ’ টাকা লাইগব। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে মাদক কিনতে আসা সিহাব জানায়, স্কুলে থাকাবস্থায় বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সিগারেট ধরি। ২০১০ সালে কলেজ জীবনে ধরি হেরোইন। পরিবারের উদ্যোগে চিকিৎসায় কিছুদিন ভালো ছিলাম। পরে ফেনসিডিলে আসক্ত হই। এখন ‘বাবা’ (ইয়াবা) খাই। কারওয়ান বাজারের রেললাইনের এ বাজারে চার রকমের ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গাঢ় লাল রঙের ‘চম্পা’ প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। টেকনাফে এটি কেনা হয় ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়। হালকা গোলাপী রঙের ‘আর সেভেন’ ইয়াবার দাম সবচেয়ে বেশি। এটি ঢাকায় কমপক্ষে ৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। হালকা গোলাপী রঙের আরেক ধরনের ইয়াবার নাম ‘জেপি’। এর খুচরা মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। ‘ডগ’ নামের মাটি রঙের ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এছাড়াও বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে দেশেই তৈরি হচ্ছে এক রকমের ভেজাল ইয়াবা। এগুলো ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়। তবে বিশেষ বিশেষ কোনো উপলক্ষ্যে প্রতিটি ইয়াবা ট্যাবলেটের খুচরা দাম ১ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। আর গাঁজা বিক্রি হয় ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি স্টিক।  এছাড়া এ বাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দামে মিলছে ‘ছোট পুরিয়া’ ও ‘বড় পুরিয়া’র হিরোইন। এক পুরিয়ায় এক থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত হেরোইন থাকে। মনোবিদ্যা বিশেষজ্ঞ জিএম তরিকুল ইসলাম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, মাদকাসক্তরা নিজেদের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংস করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক ও যোগসাজশ আছে। পুলিশ-অপরাধীর এই নেটওয়ার্ক বিপজ্জনক। এটাকে নির্মূল করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধ মাদকের চোরা ব্যবসা ও অপব্যবহার রোধে আইনের যেমন সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ আছে।  এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রশিদ ইটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত আমরা বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করছি। সাদা পোশাকে ডিউটিতে আছে আমাদের বাহিনীর সদস্যরা। কয়েক দিন ধরে একাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে হাত করেই এই ব্যবসা চলছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা গোপনে কেউ করছে কিনা বলতে পারব না। তবে এ ধরনের কাজের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহার হোসেন ইটিভি অনলাইনকে বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের থানায় কিছু এলাকা পড়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযানে যাচ্ছি। বলতে পারি আজকের পর থেকে আর মাদকের ব্যবসা থাকবে না ওই এলাকায়। ডব্লিউএন

কৃষকের মুনাফা যাচ্ছে  মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে

সবজির ভরা মৌসুম না হলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির কমতি নেই। কিন্তু সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও সে অনুযায়ী দাম কমেনি। কোনো কোনোটির দাম বেড়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ঢুকতেই কয়েক হাত বদল হয়ে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। ঢাকার বাজারে বেগুন, কচু, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজরসহ প্রতিটি সবজির দাম এখন উৎপাদক যে দাম পান তার চেয়ে চার গুন বেশি। চাষী যে দামে টাটকা সবজি বিক্রি করছেন রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা শহরের ভোক্তাদেরকে সেই সবজিই চারগুন দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, বৃষ্টিতে ভিজে যে সোনার ফসল ফলাচ্ছেন তার ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের কষ্টের ঘামমাখা টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে।    ভোক্তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা বারবার বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। কৃষকও যেমন ন্যায্য দামটি পাচ্ছেন না, তেমনি ভোক্তাদেরও পকেট কাটা যাচ্ছে। মাঝ থেকে প্রচুর মুনাফা তুলে নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। শনিবার ভোররাতে মেহেরপুর থেকে কারওয়ান বাজারে ছয়টি পিকআপে করে বিভিন্ন সবজি নিয়ে আসেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাঁদের একজনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকার মাঠ থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কচু, বেগুন, পেঁপে, লাউ, করলা, পটল, মিষ্টি কুমড়া কিনে ঢাকায় এনেছি। কেমন দামে কিনেছেন জানতে চাইলে শহিদুল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি কেজি কচুমুখি কৃষকের কাছ থেকে আমরা কিনেছি ১০টাকায়। আর বেগুন প্রতিকেজি ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫ টাকা, পটল ১৫ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা, ফুল কপি এবং বাঁধা কপি প্রতি কেজি ২০ টাকা (৩ টায় এক কেজি), সে হিসাবে কপি প্রতি পিচ ৭ টাকা, বড় লাউ ২০, করলা বড় ৪০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করেছি। তিনি জানান, গাড়িভাড়াসহ আমাদের কাওরানবাজারে এ সবজি নিয়ে আসতে প্রতিকেজিতে আরও দেড় থেকে দুই টাকা করে খরচ পড়ে যায়। অথচ এসব সবজিই মাত্র দুই হাত ঘুরে ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে চারগুন বেশি দাম দিয়ে। মাঝের দুই হাতেই বেড়ে যাচ্ছে সবজির দাম। এই দুই হাত হচ্ছে- পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী। ট্রাক থেকে কারওয়ান বাজারের ছোট ছোট মোকামে যাওয়া মাত্রই ১০ বা ১৫ টাকার কচুমুখির দাম হয়ে যাচ্ছে ৩৫ টাকা। অর্থাৎ এক হাত পার হতেই বেড়ে দাড়াল কেজিতে ২০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা সেই কচুমুখি পাইকারদের কাছ থেকে ৩৫ টাকায় সবজি কিনে খুচরায় বিক্রি করছেন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এখানে কেজিতে বাড়ল ২০ টাকা। এভাবেই প্রতিনিয়ত ভোক্তাদের বেশি বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে বিভিন্ন সবজি। শনিবার কারওরানবাজার থেকে রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুন বাগিচা কাঁচা বাজারে গিয়ে দামের এ তফাত দেখা গেছে। পাইকারি-খুচরা বাজারে এই ব্যবধানের কথা স্বীকার করলেও এ নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাননি শান্তিনগরের খুচরা বিক্রেতা শহিদ। তিনি বলেন, আমাদের পাইকারি বাজার থেকে সবজি আনতে যাতায়াত খরচ পড়ে যায় অনেক বেশি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আয়েশা নামের এক ক্রেতা জানান, প্রশাসনের মনিটরিং না থাকায় পাইকার খুচরা বাজারের এ বিস্তর পার্থক্য। এখানে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্রেতা সাধারণ। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে নির্দিষ্ট দামেই পণ্য পাওয়া যেত। কারওয়ান বাজার থেকে শান্তিনগর ও সেগুন বাগিচা কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বাজারের ৭ টাকার ফুলকপি মাত্র দুই বা তিন কিলোমিটার ব্যবধানে অন্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, ১০ টাকার পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, ১৫ টাকার পটল বিক্রি হয় ৪০ টাকায়, ৮০ টাকার টমেটো বিক্রি হয় ১৪০ টাকা, ২৮ টাকার চিচিঙা বিক্রি হয় ৫০ টাকায়, ১০টাকা হালি কলা বিক্রি হয় ২৫ টাকায়, ৮০ টাকার ছিম বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হলেও তা মানছেন না কেউই। তবে এসব বাজারে আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। গরু, মহিষ ও খাসির মাংস নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। বেশির ভাগ মাছের দাম আগের জায়গায় থাকলেও, বড় ইলিশের দাম হালিপ্রতি বেড়ে গেছে ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারি পারচালক (তদন্ত) মাসুম আরেফিন বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পাইকারি-খুচরা বাজারে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক ফারাক বন্ধের কোনো আইন বা শাস্তির বিধান নাই। তবে আমাদের এখানে (রাজধানী) সিটি করপোরেশন যে মূল্য তালিকা দিয়েছে সে বিষয়ে আমরা বাজার তদারকি করছি। তিনি বলেন, পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় এখানে মধ্যস্বত্বভুগিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আমরা আরও সতর্ক হব যাতে কেউ অধিক মুনাফা নিয়ে ভোক্তা না ঠকাতে পারে।  //এআর  

কৃষিতে সম্ভাবনার দিগন্ত

কৃষিই বাঙ্গালীর কৃষ্টি। এদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষিতে উন্নতির কারণে ১৬ কোটি মানুষের এদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন। দেশের ৮০-৮৫ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। দেশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় দারিদ্র্য দূরীকরণ ও গ্রামীণ উন্নয়নে কৃষি অর্থনীতির গুরুত্ব অনেক। আর এ গুরুত্ব থেকেই কৃষিকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা কৃষি অর্থনীতিতে গ্রাজুয়েশন ও গবেষণা করছেন তাদের জন্য রয়েছে বহুমাত্রিক কর্মক্ষেত্র। দিন দিন ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। রয়েছে দেশের বাইরেও কাজ করার অপার সুযোগ। সব মিলিয়ে কৃষি অর্থনীতির দিগন্ত এখন অনেক বিস্তৃত। প্রসপেক্ট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বটেই, কৃষি অর্থনীতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এ বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম এ বিষয়ে বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে এদেশে কৃষি অর্থনীতির গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা রয়েছে। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠাগুলোতে এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্ব উপলব্ধি করে কৃষি অর্থনীতিবিষয়ক কোর্স চালু করছে। বাড়ছে কর্মক্ষেত্র কৃষি অর্থনীতির ভাল রেজাল্ট করা মেধাবী গ্রাজুয়েদের দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মকমিশনের আওতাভুক্ত বিসিএসের যেকোনো সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করতে পারেন। যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে রয়েছে চাকরির সুযোগ। কৃষিভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে নিয়োগে এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কৃষি পড়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েটদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্রে কৃষি অর্থনীতির গ্র্যাজুয়েটরা চাকরি পাচ্ছেন। সুযোগ সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে এ বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন। এনজিও-আইএনজিও এছাড়া রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে (বেসরকারি সংস্থা) চাকরির সুযোগ। কোলপাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি, বিভিন্ন সার ও চিনি কারখানা, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এশিয়া ফাউন্ডেশন, ড্যানিডা, কেয়ার, ব্র্যাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, আশা, প্রশিকা, এসিআই, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে কৃষি অর্থনীতি গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। বেসরকারি বীজ কোম্পানি, পেস্টিসাইড ও ইনসেক্টিসাইড কোম্পানিগুলোতেও কৃষিবিদদের কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। এসিআই, ব্র্যাক, স্কয়ার, অ্যাগ্রোবেট, প্রাণ, লালতীর, ন্যাশনাল অ্যাগ্রোকেয়ার, কৃষিবিদ গ্রুপ, অ্যাকশন এইডের মতো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানেও উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ রয়েছে শুধু কৃষির গ্রাজুয়েটদের। কোথায় পড়বেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়তে পারেন। বিদেশে পড়ার সুযোগ কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েটদের জন্য বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে উচ্চশিক্ষার বিশাল সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও ভারতে প্রতিবছর বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাচ্ছেন এদেশের গ্রাজুয়েটরা। সাক্ষাৎকার : ড. হুমায়ুন কবির                                               কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েটদের প্রসপেক্ট নিয়ে ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা ড. হুমাযুন কবিরের। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কৃষি অর্থনীতি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে গ্রাজুয়েশন করেন। ২০০২ সালে লেকচারার পদে যোগ দেন বাকৃবিতে। ২০০৯ সালে বেলজিয়ামের গেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী এবং ২০১৩ সালে নবায়নযোগ্য শক্তি অর্থনীতির ওপর জার্মানীর গিসেন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষি উন্নয়নে ওপর বিভিন্ন গবেষণা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হল- প্রশ্ন: কৃষি অর্থনীতি বিষয়ের প্রসপেক্ট সম্পর্কে জানতে চাই? ড. হুমাযুন কবির : আপনাকে ধন্যবাদ। কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রসপেক্ট সম্পর্কে বলতে গেলে আগে কৃষি অর্থনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে হবে। কৃষি অর্থনীতিতে মূলত অর্থনীতির সব শাখা-প্রশাখা বিস্তারিত পড়ানো হয়। উৎপাদন, বিপণন, অর্থসংস্থান, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিসংখ্যান, অর্থনীতির পলিসি ইত্যাদি বিষয়গুলো কৃষির সঙ্গে বাস্তবধর্মী সম্পর্ক রেখে পড়ানো হয়। এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা অর্জিত জ্ঞান দ্বারা দেশ-বিদেশ, সরকারী-বেসরকারী, সব জায়গায় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। আমরা জানি বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির দেশ। কাজেই দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েট মেধার স্বাক্ষর রাখছেন এবং রাখবেন। প্রশ্ন : কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েটদের জব অপরচুনিটি সম্পর্কে জানতে চাই ? ড. হুমায়ুন কবির : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদ আছে। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে এখানকার চারটি অনুষদের ছাত্রদের নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদের ক্যাডার সার্ভিস নেই। কিন্তু পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায় আমাদের গ্রাজুয়েট দেশের সর্বোচ্চ প্রসাশন থেকে সর্বস্তরে বিরাজমান। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে উল্লেখ করার মত আমাদের গ্রাজুয়েটরা শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রবেশনারী অফিসার পর্যন্ত কাজ করছে। আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাজুয়েটরা কাজ করছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘভূক্ত বিভিন্ন সংস্থায় এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে  শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে কাজ করছেন আমাদের গ্রাজুয়েটরা। প্রশ্ন : কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েটদের চাহিদা রয়েছে এমন বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্র আছে কিনা ? ড. হুমায়ুন কবির: প্রথম শ্রেণীর সব পর্যায়ের চাকরিতে এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের অংশগ্রহণ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকে আমাদের গ্রাজুয়েটরা মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। হ্যাঁ আমাদের বিশেষভাবে কোনো সংস্থা নেই যেখানে শুধু আমাদের ছেলে-মেয়েরা কাজ করবেন। কিন্তু মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই ভালভাবে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু কৃষি বিপণন অধিদফতরকে আধুনিকিকরণের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতি ক্যাডার সার্ভিস চালু করা গেলে বাংলাদেশে এই সেক্টর আরও গতিশীল হবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রশ্ন: সরকারী চাকরিতে এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের অংশগ্রহণ কতটা রয়েছে, আপনার মূল্যায়ন? ড. হুমায়ুন কবির : আমি আগেই বলেছি বিসিএসে কৃষি অর্থনীতির কোনো টেকনিক্যাল ক্যাডার নেই। তবে জেনারেল ক্যাডারে যোগ দিতে পারে। কিন্তু ক্যাডার বহিভর্‚ক্ত শাখায় এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উলে­খযোগ্য সংখ্যাক শিক্ষার্থী চাকরি করছেন। আমাদের গ্রাজুয়েটরা বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য, সচিব, পুলিশসহ আরও অনেক শাখায় নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে কাজ করছেন। প্রশ্ন: স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরীর সুযোগ কেমন ? ড. হুমায়ুন কবির : কৃষি, অর্থনীতি ও পলিসি বিষয়ক স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় কৃষি অর্থনীতির আলাদা বিভাগ আছে। ওইসব বিভাগে মূলত আমাদের শিক্ষার্থীরা কাজ করে থাকে, তাদের অগ্রাধিকার রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থায় আমাদের শিক্ষার্থীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পর্কিত সব সেক্টরে আমাদের গ্রাজুয়েটদের কাজ করার সুযোগ বিস্তৃত এবং তারা করছেও। প্রশ্ন : দেশী-বিদেশী এনজিওগুলোতে নিয়োগে কৃষি অর্থনীতির ছাত্রদের চাহিদা রয়েছে কিনা? ড. হুমায়ুন কবির : আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর মধ্যে হেলেন কিলার, অক্সকামে চাহিদা রয়েছে কৃষি অর্থনীতির ছাত্রদের। এছাড়া দেশীয় বড় বড় এনজিও যেমনÑ ব্রাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, ইত্যাদিতেও এ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। প্রশ্ন: কৃষি অর্থনীতির গ্রাজুয়েটদের মধ্য থেকে এগ্রিবিজনেজ সেক্টরে উদ্যোক্তা বেরিয়ে আসছে কিনা ? ড. হুমায়ুন কবির : হ্যাঁ, বর্তমানে দেশে উলে­খ্যযোগ্য সংখ্যক শিল্পপতি আছেন যারা এই অনুষদ থেকে জ্ঞান অর্জন করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে  হাজার হাজার বেকারসমূহের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। প্রশ্ন : কৃষি খাতে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে ? ড. হুমায়ুন কবির :  ফুড প্রসেসিং এর উপর বেশি জোর দিলে আমাদের দেশে নতুন নতুন এগ্রোবেজড শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীন  কৃষি বিপণন অধিদফতর আরও যুগপযোগী করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশকে বেশি সেবা দিতে পারবে। পল­ী উন্নয়ন বিভাগকে আধুনিকতার মাধ্যমে আমাদের গ্রাজুয়েটদের আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। প্রশ্ন : কৃষি নিয়ে যারা পড়ছে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ হচ্ছে কিনা ? ড. হুমাযুন কবির : বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি সম্পর্কিত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা পাঠদান ও গবেষণা করছেন তাদের বেশিরভাগই বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া থেকে উচ্চতর ডির্গ্রী অর্জন করে দেশের উন্নয়নে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন। প্রতি বৎসর বাকৃবি থেকে উলে­খ্যযোগ্য সংখ্যাক গ্রাজুয়েটরা বিদেশে উচ্চতর শিক্ষায় বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাচ্ছেন। প্রশ্ন: কৃষি বিষয়ে পড়ার প্রতি হালের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে না কমছে ? ড. হুমায়ুন কবির :  কৃষি একটি প্রায়োগিক বিজ্ঞান, এই খাত দেশের উন্নয়নে দৃশ্যমান ভ‚মিকা রেখে চলেছে। যে কারণে আমরা আজকে খাদ্য স্বয়ংসস্পূর্ণ অর্জন করেছি। আজ কৃষি সার্বসিসটেস থেকে কর্মাসিয়াল লেভেল চলে গিয়েছে। নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। মৎস, সবজি উৎপাদন, পোলট্টি সেক্টরসহ ফসল বিজ্ঞানে বিপ্লব সাধিত হওয়াতে আজকে কৃষি একটি স্বয়ংসস্পূর্ণ ও আকষর্ণীয় সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব কারণে অন্য বিষয়ের চেয়ে কৃষি পড়ার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ড. হুমায়ুন কবির : আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি অনলাইনের প্রতি শুভ কামনা।      

বিসিএস আবেদনে ফি ৭০০ টাকা কেন

দেশের চাকরির বাজারে বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-ক্যাডার পদের চাকরিগুলোকেই সবচেয়ে ‘এলিট’ চাকরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জনপ্রশাসনে যুক্ত থেকে দেশের কাজে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ, সামাজিক মর্যাদা, চাকরির নিরাপত্তা, চাকরিজীবন শেষে পেনশন সুবিধা এবং অন্য আনুষঙ্গিক দিক বিবেচনায় রেখেই ক্যাডার সার্ভিসের চাকরিগুলো এখন তরুণ শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।  আর তাই দেশের চাকরি প্রত্যাশীদের  বড় একটি অংশ ক্যারিয়ার হিসেবে বিসিএসকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান দেন। ৩৮ তম বিসিএসের সার্কুলার জারির পর গতকাল সোমবার থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই  আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতি শিক্ষার্থীদের ৭০০ টাকা ফি গুনতে হচ্ছে। আবেদনকারীদের বেশিরভাগই তরুণ বেকার। বেকার জীবনের ঘানি টেনে চাকরির আবেদন করতে গিয়ে এই টাকা দিয়ে আবেদন করা অনেকের জন্যই কষ্টকর। চাকরি প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার ফি বাতিল করেছে। এখন রাষ্ট্রায়ত্ব কিংবা বেসরকারি কোনো ব্যাংকেই আবেদন করতে টাকা লাগে না। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানে (পিএসসি) আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭০০ করে  টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশের চাকরি প্রত্যাশী তরুণেরা। তাদের প্রশ্ন ব্যাংকে আবেদনে টাকা লাগে না, তবে বিসিএসে কেন? পিএসসির মাধ্যমে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এত টাকা নিয়ে কী করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়? এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতের সিভিল সার্ভিসে আবেদন করতেও ফি নেয়া হচ্ছে নামেমাত্র।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে পিএসসি ৭০০ টাকা ফি নেয়া অযৌক্তিক। গ্রাজুয়েশন শেষ করার থেকে চাকরিতে প্রবেশের সময়টুকু প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জন্যই কষ্টের। এই সময়টাতে অনেকেই অর্থকষ্টে ভোগেন। এসময় বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি যোগার করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের এই অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিসিএসে আবেদনের ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে আনা উচিত।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন সনি পিটার পেরেইরা। একাডেমিক পড়াশুনা শেষে এখন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ৩৭তম বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একাডেমি ডিগ্রি নেয়ার পর চাকরির জন্য আরও কমপক্ষে দুই বছর প্রস্তুতি নিতে হয়। মাস্টার্স পাশ করার পর পরিবার থেকে টাকা আনার মতো অবস্থা আমাদের অনেকেরই থাকে না। অন্য দিকে পরিবারের প্রত্যাশা থাকে পড়ালেখা শেষ, সন্তান এখন চাকরিতে প্রবেশ করবে। কষ্ট করে আর টাকা পয়সা দিতে হবে না। এমতাবস্থায় বিসিএসে আবদনের ক্ষেত্রে ৭০০ টাকা দিতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। এছাড়া পরিবার থেকে আরও একটি কথা শুনতে হয় যে, ‘চাকরি হতে আর কত দিন লাগবে’। একজন বেকারের কাছে এগুলো খুবই কষ্টের!’  একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্প্রতি পাশ করা মোহাম্মদ নাহিদ হাসান আক্ষেপ করে বলেন, ‘পড়াশুনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য সব থেকে ‘কঠিন ও বাজে’ সময়। এ সময় পকেটে না থাকে হাত খরচের টাকা, না থাকে উপার্জনের কোনো সুযোগ। অথচ এই সময়েই সরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন পরিমাণে ফি দিতে  হচ্ছে। পিএসসি- এর মত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আমাদের মত অসহায় বেকারদের কাছ থেকে এত টাকা নেওয়া সত্যি দুঃখজনক।’ ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নাসমারি আক্তার মলি বলেন,  ‘বিসিএসের একটা আবেদনের ক্ষেত্রে ৭০০ টাকার পাশাপাশি কিছু চার্জ কাটে। কম্পিউটারের (সাইবার সেন্টার) দোকান থেকে আবেদন করতে গেলে প্রতিটি আবেদন বাবদ আরও কিছু টাকা খরচ হয়। বলতে গেলে আবেদন করতে প্রায় এক হাজার টাকাই খরচ হয়ে যায়। এত আবেদনকারীর ভিড়ে চাকরি যে হবে, তারও কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নাই।’ সরকারি কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী নয়ন আহমেদ বলেন, ‘চাকরির জন্য ব্যাংকে আবেদন করতে টাকা লাগে না। অথচ পিএসসি সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও আবেদনের ক্ষেত্রে ফি বাবদ এত টাকা নেয়। এটা অন্যায়, মেনে নেয়া কঠিন।’ ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের শিক্ষার্থী জাসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিমাসে বিভিন্ন চাকরির আবেদনের জন্য সর্বনিন্ম খরচ হয় দু’হাজার টাকা। এছাড়া থাকা খাওয়া বাবদ আরও খরচ আছে। একজন কৃষক বা স্বল্প বেতনধারী পিতার পক্ষে বেকার সন্তানের এত খরচ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবুও তারা ধার দেনা করে, জমি বন্ধক দিয়ে এই খরচ যোগান দেন। প্রত্যাশা থাকে পড়ালেখা শেষেই ছেলে চাকরি পেয়ে যাবে। তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। কিন্তু চাকরির বাজারের যে অবস্থা তাতে দুই তিন বছর চেষ্টা করেও চাকরি হচ্ছে না। এমতাবস্থায় সরকারি চাকরিতে এত ফি নেয়া ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ এর মত’।’ বেকারদের কাছ থেকে আবেদন ফি না নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তো  বিভিন্ন আয়ের উৎস আছে। কিন্তু বেকারদের তো কোনো আয়ের উৎস নেই। অনেক বেকার লজ্জায় বাবার কাছে টাকা চায় না। কিন্তু এদের কত বেলা না খেয়ে কাটে! না খেয়েও আবেদনের টাকা দিতে হয়। এই কষ্ট কী কেউ বুঝবেন?’ তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি চাকরির অবেদনের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি লাগে না, লাগলেও নামেমাত্র। এমনকি  আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিসে আবেদনের ক্ষেত্রেও শিথীলতা আছে। দেশটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগ করে থাকে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন বাবদ ফি নেওয়া হয় মাত্র ২৫ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২ টাকা)। পৃথিবীতে বাংলাদেশই সম্ভবত সরকারি চাকরির আবেদনে এত বেশি টাকা ফি নিয়ে বিরল(!) দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আগে বিসিএসে আবেদন করতে ৫০০ টাকা ফি লাগলেও পিএসসি ৩৬তম বিসিএস থেকে তা বাড়িয়ে সাতশ’ টাকা করে নিচ্ছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্র মতে, সর্বশেষ ৩৭ তম বিসিএসে এক হাজার ২২৬ টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা  হয়। এই পদের বিপরীত আবেদন জমা পড়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ টি। প্রতি পদে আবেদনে ফি সাতশ’ টাকা ধরে হিসাব করলে দেখা যায়,  ১৭ কোটি চার লাখ ৩৩ হাজার দুইশ’ টাকা চাকরি প্রার্থীদের পকেট কেটে বের করে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক মুঠোফোনে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘প্রার্থীদের কাছ থেকে বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের ফি বাবদ যে টাকা নেওয়া হয় তা আসলে পিএসসি পায় না। সম্পূর্ণ টাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার নিয়ে নেয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচের জন্য মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে কমিশনকে টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রার্থীদের আবেদনের টাকা পিএসসির সরাসরি খরচ করার কোনো এখতিয়ার নেই।  তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয় কশিনকে পরীক্ষার খরচের জন্য যে টাকা দেয় তা যতসামন্য। পরীক্ষার কেন্দ্রে যারা দায়িত্ব পালন করেন, যে পরীক্ষককে দিয়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ করানো হয়, ভাইবা বোর্ডে যাদেরকে নিয়ে আসি তাদেরকে যথাযথ সম্মানি দিতে পারি না।’ চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের ফি নিচ্ছে না। বেকার চাকরি প্রার্থীদের আর্থিক দিক বিচেনায় পিএসসি এ ধরনের অথবা নামেমাত্র ফি দিয়ে আবেদনের কোনো উদ্যোগ নিতে পারে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে করেছে, তা আমার জানা নেই। পিএসসিতেও আগে এ ধরনের কোনো নিয়ম বা উদ্যোগ ছিলো না। তবে প্রার্থীদের বেকার জীবনের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করবো। যাতে আবেদনের ফি কমানো হয়।’ এ বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি। বিসিএস ক্যাডার ও নন ক্যাডার পরীক্ষার ফি নামেমাত্র নেয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে টেলিফোনে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব আয় রয়েছে। পিএসসির সে রকম কোনো আয় নেই। এ বিষয়ে কিছু করতে হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে করতে হবে। এখানে পিএসসির নিজস্ব কোনো এখতিয়ার নেই। তবে একেবারে ফ্রি করে দিলে কিছু সমস্যাও আছে। তখন দেখা যাবে কোনো প্রার্থী পরীক্ষা দিবে না কিন্তু আবেদন করে বসে আছে। পিএসসির কিন্তু প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য একটি প্রশ্ন ও আসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাই আমার বক্তব্য হচ্ছে আবেদনের ফি একেবারে ফ্রি না করে নমিনাল (নামেমাত্র) একটা ফি রাখা যেতে পারে।’ চাকরি প্রার্থীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনা করে আবেদন ফি কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকও। তিনি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘একজন গ্রাজুয়েটের পড়ালেখা শেষ করার পর চাকরিতে প্রবেশ করার সময়টুকু বেশ কষ্ট করতে হয়। এই সময়টাতে অনেকেই অর্থকষ্টে ভোগেন। এসময় বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি এর টাকা ম্যানেজ করা তাদের জন্য কষ্টের।  তাদের এই অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিসিএসে আবেদনের ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে আনা উচিত। সরকার ও পিএসসি এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারে।’  //এআর

প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি

জমিদারদের ঐতিহ্য আর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি। ১৮শ’ দশকে বাড়িটি একবার ভূমিকম্পে ভেঙ্গে পড়লে জমিদার আচার্য চৌধুরীর বংশধরেরা যুক্তরাজ্য ও ভারত থেকে কারিগর এনে ভূমিকম্প সহিষ্ণু করে পুনঃনির্মাণ করেন। ভবিষ্যতে যাদুঘর করার চিন্তা করছে প্রতœতত্ব বিভাগ। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ৪ ছেলে রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম বগুরা থেকে এসে মুক্তাগাছায় বসতি স্থাপন করেন। মুক্তাগাছা উপজেলার বেশিরভাগই ছিল তৎকালীন আলাপসিং পরগণার অন্তর্ভুক্ত। সে সময়ে এই পরগনায় খুব একটা জনবসতি ছিলনা। চারদিকে ছিলো বন আর জলাভূমি।মুক্তাগাছায় বসবাসের পর এরা প্রায় ২শ’ বছর দাপটের সাথে এখানে জমিদারি করেন। জমিদারি প্রথা ওঠে গেলে তাদের বংশধরেরা ভারতে চলে যান। এরপর থেকেই জমিদার বাড়িটি অবহেলা অযতেœ ধ্বংস হতে থাকে। পরে প্রতœতত্ব বিভাগ দায়িত্ব নিয়ে এর সংস্কার ও সৌন্দর্য্য বর্ধণের কাজ শুরু করে। জমিদার বাড়ি তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ায় খুশি জমিদার বংশের সদস্যরা। মুক্তাগাছার জমিদারির মোট অংশ ছিলো ১৬টি । ১৬ জন জমিদার এখানে শাসন করতেন। ১’শ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই বাড়িটি প্রাচীন স্থাপনাশৈলীর যেন এক অনন্য নিদর্শন। ভবিষ্যতে এটি যাদুঘর করা হবে বলে জানান প্রতœতত্ব বিভাগবিশাল আকারের পুকুর বিষ্ণু সাগর, চাঁন খার মসজিদ, ঘূর্ণায়মান নাট্য মঞ্চ, সাত ঘাটের পুকুরসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্পট দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থিরা।

ব্রিটেনে কারি শিল্পের প্রসারের দিকপাল এনাম আলী

ব্রিটেনে কারি শিল্পের প্রসারের দিকপাল এনাম আলী। তার লি রাজ রেস্টুরেন্ট প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে গর্বের প্রতিষ্ঠান। শুরুতে বৃটেনের এক রেস্তোরাঁয় সাধারণ শ্রমিকের কাজ করলেও পরবর্তীতে নিজেই হন মালিক। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পক্ষ থেকে পান ব্রিটিশদের সর্বোচ্চ রাজকীয় সম্মাননা মোস্ট এক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার খেতাব। চালু করেন কারি এ্যাওয়ার্ড।  ১৯৭৫ সাল। লেখাপড়ার জন্য সিলেট থেকে ব্রিটেনে পাড়ি জমান তরুণ বাঙ্গালী এনাম আলী। হাতখরচের জন্য কাজ নিলেন এক রেস্তোরাঁয়। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন কাজ করতে করতে ভাবলেন নিজেই প্রতিষ্ঠা করবেন রেস্টুরেন্ট । ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে ব্রিটেনের ইপসম এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন লি-রাজ রেস্তোরাঁ। তিনি জানান শুরুর দিকে বিদেশীরা তেমন আসতো না। তারা বিলেতি রেস্তোরাঁগুলোতে খেতো। পরে ধীরে ধীরে তারা এদেশীয় খাবার খেতে শুরু করে। সম্প্রতি গার্ডিয়ানের এক জরিপে ব্রিটেনের সেরা ১০ রেস্তোরাঁর একটি নির্বাচিত হয়েছে লি-রাজ।এনাম আলী জানান বৃটেনে বাংলাদেশী রেস্তোরা হলেও সবাই সেগুলোকে ইন্ডিয়ান বলে জানতো। পরে তিনি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের নাম পালটে শুরু করেন বাংলাদেশী নাম দেয়া। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে এখন প্রয়োজন দক্ষ শেফের। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শেফ তৈরী করে, বাংলাদেশও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। ১৯৬০ সালের ১লা জানুয়ারি সিলেটে জন্ম নেয়া এনাম আলী ব্রিটেনে আকাশচুম্বী খ্যাতি পেলেও ভোলেননি সবুজ শ্যামল মাতৃভূমির কথা। সিলেটে গড়ে তুলেছেন মহিলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।      

গাজীপুরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী

গাজীপুর শহরের প্রানকেন্দ্রে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী। আয়তনের দিক থেকে তৎকালীর ঢাকার নওয়াব এস্টেটের পরেই ছিল এই জমিদার বাড়ির অবস্থান। এই রাজবাড়ীর সাথে জড়িয়ে আছে ভাওয়াল রাজা সন্নাসী রমেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীর মৃত্যু ও ১২ বছর পরে আবির্ভাবের কাহিনী। প্রাসাদটি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়। মৃত্যুর পর এক রাজার জীবিত হয়ে ফিরে আসার কাহিনী নিয়ে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাওয়াল গড়ের সুউচ্চ এই প্রাসাদ।সেই রাজা হলেন রমেন্দ্র নারায়ণ। যিনি ছিলেন ভাওয়াল রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণের দ্বিতীয় সন্তান। ১৯০১ সালে রাজেন্দ্র নারায়ণ, পরে তার দুইভাই ও ১৯০৭ সালে মা- রানী বিলাসমনীর মৃত্যুর পর রাজা হন রমেন্দ্র নারায়ণ। একই বছর বিভাবতীকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯০৯ সালে অসুস্থ্য হয়ে দার্জিলিংয়ে মারা যান রাজা রমেন্দ্র। তাকে শ্বশানে নেয়ার পর হঠাৎ ঝড় উঠলে রানী বিভাবতী-সহ সবাই মৃতদেহ সৎকার না করে চলে যায়। তখনই প্রশ্ন উঠে বিভাবতীর পতিসেবা নিয়ে। এখানেই ঘটনার শেষ নয়, মৃত্যুর ১২ বছর পর সন্নাসী বেসে রাজা রমেন্দ্র নারায়ন রায় ফিরে আসেন জয়দেবপুরে। আদালতেও প্রমাণ হয় তিনিই সেই রাজা রমেন্দ্র। কিন্তু রায়ের মাত্র ৩দিন পরেই মারা যান তিনি। আর এর মধ্য দিয়েই বিলুপ্তি ঘটে ভাওয়াল রাজ বংশের।অবিশ্বাস্য সেই কাহিনীর স্বাক্ষী হয়ে আছে ১৫ একর জমির উপরে নির্মিত বিশাল এই প্রাসাদ। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত প্রাসাদটিতে রয়েছে বিশাল বারান্দা, নাট মন্দির, পদ্ম মন্দির ও তাল কাঠের সিঁড়ি।  ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজ বাড়ীটির সঠিক রক্ষনাবেক্ষন আর স্মৃতিরক্ষার দাবী গাজীপুরবাসীর।

বাংলাদেশের জামদানির বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে

বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে বাংলাদেশের জামদানির। ঈদ সামনে রেখে জাতীয় যাদুঘরে চলছে ১০দিনের জামদানি প্রদর্শনী। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের আয়োজনে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ী বিশেষ মূল্য ছাড়ে বিক্রি হলেও খুব একটা ভিড় নেই। তবে, দামি জামদানিও বিক্রি হচ্ছে প্রদর্শনীতে। জামদানি। ইউনেস্কোর ঘোষনায় হয়েছে ্ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ। যুগে যুগে জামদানি শিল্প হয়ে উঠেছে, হয়েছে বাঙ্গালি নারীর পোষাক সংস্কৃতির ধারক। কারিগরের হাতের নিপুন ছোয়ায় এক এ্কটি জামদানি ক্রেতাদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠে। ঈদ সামনে রেখে জাতীয় যাদুঘরে চলছে জামদানি প্রদর্শনী। দাম হাতের নাগালে যেমন আছে আবার দামি জামদানিরও অভাব নেই। প্রদর্শনীতে শাড়ী ছাড়াও স্থান পেয়েছে জামদানি পাঞ্জাবী, ওড়না ও থ্রি-পিস।ঈদের আগে ভালো মানের জামদানি পেয়ে বেশ খুশি ক্রেতারা।জামদানি শিল্পকে বাচিয়ে রাখার জন্যই এই প্রয়াস বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।প্রদর্শনী চলবে ২২জুন পর্যন্ত।প্রদর্শনীর শেষ দিকে বিক্রি ভালো হওয়ার আশা বিক্রেতাদের।

মৌলভীবাজারের ছেলে টমি মিয়া আজ বিশ্বখ্যাত রন্ধনশিল্পী

মৌলভীবাজারের ছেলে টমি মিয়া আজ বিশ্বখ্যাত রন্ধনশিল্পী। ১০ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে যাওয়ার পর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রেস্তোরায় প্লেট ধোয়ার কাজ দিয়ে। পরে রান্নাকেই বেছে নেন ক্যারিয়ার হিসেবে। বৃটেন সরকার রন্ধনশিল্পী টমি মিয়াকে দিয়েছে কারি কিং উপাধি। বাংলার এই ছেলের খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে।  ডাক নাম টমি মিয়া। পুরো নাম মোহাম্মদ আজমান মিয়া। মৌলভীবাজারের বারন্তী গ্রামে জন্ম তার। ১০ বছর বয়সে বাবা মার সাথে টমি মিয়া ব্রিটেনে যান। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য ছাত্রাবস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন ইংল্যান্ডের একটি রেস্তোরায় প্লেট ধোয়ার কাজ দিয়ে। এরপর বেছে নেন রান্নার কাজ। খোলেন রেস্তোরা। সেই থেকে শুরু, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ইংল্যান্ডে টমি মিয়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিশ্বের সেরা রন্ধন শিল্পী হিসেবে। তার হাতের রকমারি সুস্বাদু রান্না ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় লন্ডনে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুনাম কুড়িয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এ ব্রিটিশ। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের জন্যেও রান্না করেছেন। ব্রিটেনে টমি মিয়া পরিচিতি পেয়েছেন কারি কিং হিসেবে। এত খ্যাতির পরেও ভোলেন নি প্রিয় দেশকে। মাতৃভূমির টানে ১৯৮৬ সালে দেশে এসে নেন নানা উদ্যোগ। বেকারত্ব দূর করতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে খোলেন টমি মিয়া হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশে একটি ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলা তার স্বপ্ন।            

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি