ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২৪:২০

কবরের পাশেও তুলতে হবে সেলফি?

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটঃ পর্ব-৩

কবরের পাশেও তুলতে হবে সেলফি?

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সবাই কমবেশি ছবি তুলে রাখি। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা আর সেলফির কল্যাণে ছবি তোলা এখন আরও সহজ। তবে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের পরিমিত ব্যবহারবোধের অভাব অনেককে মানসিক রোগীতে পরিণত করেছে। ফলে তারা পরিবেশ পরিস্থিতি না বুঝে সেলফি তোলা নিয়ে মেতে উঠছেন। সেলফি কি? খুব সহজে বললে, নিজের মুঠোফোনের ক্যামেরা দিয়ে নিজেই নিজের ছবি তোলার বিষয়টিই এখন ‘সেলফি’ নামে পরিচিত। ইংরেজি ‘সেলফ’ শব্দ থেকে ‘সেলফি’ শব্দটির উদ্ভব। ‘সেলফ’ শব্দটির অর্থ “আত্ম” বা “স্ব” বা আরও সহজ করে বললে নিজের সাথে সম্পর্কিত কিছু। সাধারণত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু মুহুর্তকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতেই সেলফি তুলে থাকি আমরা। শুধু নিজের ছবি না বরং পরিচিতজনদের সঙ্গে নিজেদেরকে একই ফ্রেমে রেখে নিজেরাই তার ছবি তুলে নিতে পারি। সেলফি যখন মানসিক রোগ সেলফির ধারণাটা যথেষ্ট ইতিবাচক বিষয় হলেও, এটি এখন হয়ে উঠেছে এক প্রকার মানসিক রোগ। চারপাশের প্রেক্ষাপট যেমনই হোক সেলফি তুলতেই হবে। কয়েকটি ঘটনার দিকে তাকালেও বিষয়টি পরিস্কার হবে। ঘটনা-১ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে। সেসময় কয়েকজন যুবককে কফিনে থাকা মেয়র আনিসুল হকের মরদেহের সঙ্গেও সেলফি তুলতে দেখা যায়। ঘটনা-২ কক্সবাজারে চলন্ত হেলিকপ্টারের দরজা খুলে সেলফি তুলতে গেলে বিধ্বস্ত হয় কপ্টারটি। ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও বাংলাদেশের গর্ব সাকিব আল হাসানকে নামিয়ে আবার আকাশে উড়েছিল ওই হেলিকপ্টারটি। ঘটনা-৩ ইদানিং খাবারের রেস্টুরেন্ট আর দোকানগুলোতেও দেখা যায়, টেবিলে খাবার আসার পরেও অনেক সময় নিয়ে তার ছবি তোলা হয়। খাবার খাওয়ার থেকে খাবারের সঙ্গে ছবি তোলার প্রয়োজনই যেন বেশি মনে হয়। রাজধানীর একটি বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টের এক কর্মী মন্তব্য করেন, ‘অনেক গ্রাহকদেরই দেখি যে, খাবার খাওয়ার থেকে তার সঙ্গে সেলফি তুলতেই বেশি আগ্রহী। সেলফি তোলা হয়ে গেলে খাবারের প্রতি আর কোনো আকর্ষণই থাকে না যেন তাদের। মাঝে মাঝে মনে হয় যে, আমরা কিছু খাবার তৈরি করে রাখব। আর সেগুলো সেলফি তোলার জন্য ভাড়া দিব। আমার মনে হয় এতেও অনেক বিক্রি হবে।’ গত ২১ জানুয়ারি ভারতের হায়দ্রাবাদে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সেলফি ভিডিও তুলতে গিয়ে গুরুতরভাবে আঘাত পান টি সিলভা নামের এক তরুণ। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এছাড়া কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে দেখা যায় কয়েকজন যুবক প্রিয়জনকে কবরে শায়িত করার সময়ও সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন। প্রত্যেকটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও, অনেক কিশোর তরুণদের মধ্যে অবস্থা না বুঝে সেলফি তোলার এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীরা অতিরিক্ত সেলফি তোলা বা স্থান-কাল পাত্র না বুঝে সেলফি তোলার এই প্রবণতাকে মানসিক রোগ বলে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, গত বছর ২০১৭ সালে শুধু অসতর্কভাবে সেলফি তুলতে গিয়েই দেশটিতে নিহত হয়েছে ৭৮ জন। অনেকে আছেন যারা দিনে ২০ থেকে ২৫ বার নিজের সেলফি আপলোড দেন সামাজিক মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা যা বলেন এ বিষয়ে মনবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই কম বেশি সেলফি তুলি। সামাজিক মেলবন্ধনে এর দরকারও আছে। কিন্তু তা যখন অসচেতন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে করা হয় তখন তা এক ধরনের মানসিক রোগ। আমেরিকান এসোসিয়েশন অব সাইক্যাট্রিস্ট থেকেও এটিকে একটি মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা বলছে, এ ধরনের মাত্রাতিরিক্ত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সেলফি তোলার রোগের নাম হচ্ছে-স্যালিফাইটিস। মূলত আমাদের মধ্যে অনেকেই আমরা আত্মপ্রেম বা আত্মতুষ্টিতে ভুগি। আমরা যেখানেই থাকি না কেন সেখানেই নিজেকে বড় করে উপস্থাপন করতে চাই। এতে আশপাশের মানুষেরা কে কী ভাবল অথবা তাদের ওপর কী প্রভাব পরল তা আমলে নেই না। আমরা বুঝে উঠতে পারি না যে কোথায় কখন কী করা যায় আর যায় না। এ ধরনের মানসিকতার যারা আছেন তাদের মধ্যেই এমন সেলফি তোলার প্রবণতা বেশি। তথ্য-প্রযুক্তিবিদ তানভির হাসান জোহা ইটিভি অনলাইনকে বলেন, এটা এখন খুবই বাস্তব যে, মুঠোফোন-সেলফি এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। একটি মুহুর্তকে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে আলোকচিত্রের আবেদন এখনও আমাদের মধ্যে আছে। আর হালের সেলফি তো এই ধারণাটিই পালটে দিয়েছে। তবে আমাদেরকে যে কোন কিছুই দায়িত্ব নিয়ে করা উচিত। মুঠোফোনও তার বাইরে নয়। সেলফিও যদি সেই দায়িত্ববোধ আর প্রয়োজনীয়তা থেকে ব্যবহার করা যায় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’ / এআর /
ব্যাংকিং খাতের শীর্ষে পৌঁছাবে রূপালী ব্যাংক

রাষ্ট্রীয় মালিকনাধীন রূপালী ব্যাংকের সামগ্রিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাংকিং খাতের র্শীষে যাওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি, অনলাইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার, শ্রেণিকৃত ঋণ হ্রাস করা, গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মুনাফা অর্জনের মধ্যে দিয়ে শীর্ষে নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, রূপালী ব্যাংক সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ২০১৭ সালেই রেকর্ড মুনাফা হয়।  ২০১৩ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ২০৫ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে ছিল ২৩২ কোটি। ২০১৫ সালে ২৫০ কোটি, ২০১৬ সালে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান হয়। তবে ২০১৭ সালে লোকসান সমন্বয় করে ৫৩৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে ব্যাংকটি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির ২৬ নম্বর আদেশ ‘দ্য বাংলাদেশ ব্যাংকাস ন্যাশনালাইজেশন অর্ডার ১৯৭২’ বলে তৎকালীন মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড এবং অস্ট্রলেশিয়া ব্যাংক লিমিটেড-এই তিনটি ব্যাংকের সমন্বয়ে রূপালী ব্যাংক গঠিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি তথা ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক করার লক্ষ্যে ‘রূপালী ব্যাংক’ নাম দিয়ে এটিকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ব্যাংকটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭৫ এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সর্বশেষ ২০০১ সালেও বিএনপি-জামায়াত ব্যাংকটি বিক্রির জোর চেষ্টা করে। ব্যাংকের লোগো পরিবর্তন করা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা হয়। সৌদি যুবরাজের নামে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাঝে খেজুর বিতরণ করা হয়। ধনিক ও বণিক শ্রেণিরা ব্যাংক ঋণের নামে ব্যাংকটির অর্থ লুটপাট করে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এসব সমস্যা সমাধান করে যোগ্য হাতে ব্যাংকের নেতৃত্ব যাওয়াতে ব্যাংকটি আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট যোগদানের পর থেকে ব্যাংকের সামগ্রিক সমস্যা চিহ্নিত করে এর উন্নয়নে ব্যাপক কাজ শুরু করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মুনাফা অর্জন, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়, আমানত বৃদ্ধি, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (সিওরক্যাশ) চালুসহ নানামুখী উন্নয়ন ও পরিবর্তন এনেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত লোগো বটগাছ ফিরিয়ে  আনা হয়েছে।    গত পাঁচ বছরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আর ২০১৭ সালে এর পরিমান বেড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকের আমানতও বেড়েছে। ২০১৩ সালে এ ব্যাংকের আমানত ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ৩০ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। ব্যাংকের আমাদানি-রপ্তানির পরিমানও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে নগত আদায়ের পরিমান। ব্যাংকের লোকসানী শাখার সংখ্যা ৬৩ থেকে কমিয়ে ৩৩টিতে নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থাৎ আগে যে ৩০ শাখা লোকসান হতো সেসব শাখায় এখন লাভ হচ্ছে। সকল শাখায় অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। এতে করে গ্রাহকরা দেশের যে কোনো স্থান থেকে খুব সহজে রূপালী ব্যাংকের সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। পল্লী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় রূপালী ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মায়েরা ঘরে বসে শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেন। যেটি রূপালী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংক করতে পারেনি। এ সেবার আওতায় দেশের ১ কোটি গ্রাহক রয়েছেন। যারা নিয়মিত উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করছেন। জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল সাধারণ মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা। বঙ্গবুন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের সেই স্বপ্ন রূপালী ব্যাংকই বাস্তবায়ন করছে। আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও  মো. আতাউর রহমান প্রধান। রূপালী ব্যাংক সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান একজন যোগ্য ও দক্ষ লোক। তাঁর কর্মদক্ষতার মাধ্যমে তিনি ব্যাংকটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন। এটাকে স্বাগত জানানো দরকার। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে উদ্দেশ্যে রূপালী ব্যাংক সৃষ্টি করেছিলেন, তারই বাস্তব রূপ দিতে আমি কাজ করছি। আর এ কাজে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা আমাকে সার্বিক  সহায়তা করছেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে অনেক সমস্যা আছে। পর্যায়ক্রমে সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। ২০১৭ সালটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। আর ২০১৮ সাল হবে শীর্র্ষে যাওয়ার বছর। আমরা যেহেতু ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি তাহলে এবার শীর্ষেও যাওয়া যাবে। রূপালী ব্যাংক এখন একটি আধুনিক ব্যাংক। ভেতরে-বাইরে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় রূপালী ব্যাংক এখন শীর্ষে। টিকে

কোটি লোকের কর্মসংস্থানে বাস্তবায়িত হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বছরে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের প্রত্যাশা নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (স্পেশাল ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার জন্য এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি বরাদ্দ দেওয়া শুরু করেছে। এ অঞ্চলগুলো এখন বাস্তব রূপ পাচ্ছে। বেজা ইতিমধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করেছে। আর ৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। উৎপাদন শুরু হয়েছে চারটি অঞ্চলে। বর্তমানে ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলমান রয়েছে। বেজা আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। যেখানে ১ কোটির লোকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া মংলা ও মিরসরাই অঞ্চলের প্রথম পর্যায়ে ডেভেলপমেন্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং কক্সবাজারের নাফ ট্যুরিজম পার্ক ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের ২১২ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১ দশমিক ৫বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া মীরসরাই ও ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বেজা। দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বেজার এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন। তবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলমান রাখা এবং সঠিক সময়ে উৎপাদন শুরু করার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছেন। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে ১কোটি লোকের কর্মসংস্থানের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে আগামী ১৫ বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার রফাতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে বর্তমানে ২৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলমান রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে তা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড, সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। এখান থেকে দেশ বড় ধরনের বেনিফিট পাব যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। তবে এসব অঞ্চলে সার্বক্ষণিক গ্যাস, বিদ্যুৎ-এর ব্যবস্থা রাখতে হবে বলেও জানান সাবেক এ গর্ভনর। বেজার প্রকাশিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ৫০ বছরের চুক্তিতে সর্বনিম্ন তিন একর করে জমি বরাদ্দ পাবেন একজন বিনিয়োগকারী। ইজারার মূল্য এককালীন অথবা বছরে বছরে পরিশোধ করতে পারবেন তারা। আর বছরে বছরে পরিশোধের ক্ষেত্রে মূল্য বেশি পড়বে। তবে বেজা এককালীন মূল্য পরিশোধে আগ্রহীদের অগ্রাধিকার দেবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় শিল্প, বিশেষায়িত শিল্প, রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ জন্য বেজার কাছ থেকে ১২৫ ডলার বা ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ফরম কিনে তা পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বেজার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। বিনিয়োগ করলে ধাপে ধাপে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধার পাশাপাশি নানা ধরনের করের সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। গত ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করা হয়। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, মীরসরাইয়ে এরই মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি জমি নিয়েছে। সবগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন হলে দেশের দুই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সারাদেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্যও বিভিন্ন জেলায় জমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু হয়েছে। মিরসরাই ও ফেনীতে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। তবে প্রত্যেক জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মনে করে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ বিষয়ে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ একুশে টেলিভিশনকে জানান, দেশের প্রতিটি জেলাতে অর্থনৈতিক অঞ্চলক করা সম্ভব না। কারণ কোনো কোনো জেলাতে জমি সল্পতা আর ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণে প্রত্যেক জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মত বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে প্রতিটি অঞ্চলে না হলেও জেলাগুলোর কাছাকাছি কোনো স্থানে করা যেতে পারে। যেমন বগুড়াতে করলে দিনাজপুর জেলার পারবর্তীপুরে এটা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করিনা। আবার কুষ্টিয়া, খুলনার মতো জায়গাতে এগুলোর দরকার আছে। মূল কথা লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে।   সাবেক এ গর্ভনর আরও বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল আমাদের দরকার আছে। তবে মনে রাখতে হবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে। এখানে দক্ষিণ-উত্তরাঞ্চল বা অন্যান্য অঞ্চলগুলোকেও প্রাধান্য দিতে হবে। এক কথায় বৈষম্য না অর্থনৈতিক উন্নয়নই মুখ্য হতে হবে। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী একুশে টেলিভশনকে বলেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হবে ৩০ হাজার একরের। যার মধ্যে ১২ হাজার একর জমি বেজার অধীনে রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মিরসরাইয়ে জমি বরাদ্দের বিবরণপত্র প্রকাশ করে বেজা। তবে এখন পর্যন্ত জমি বরাদ্দ অথবা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের। এসব প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৬৫০ একর জমি পাবে। পবন চৌধুরী আরও বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে সেখানে ১ কোটির লোকের কর্মসংস্থান হবে। এখন চারটি অঞ্চলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বেজা সূত্র জানায়, মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ১ হাজার একর জমি রাখা হয়েছে। বেপজা সেখানে একটি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল করতে ১ হাজার ১৫০ একর জমি নিয়েছে। ইজারা দেওয়ার জন্য ৫৫০ একর জমি পেয়েছে বসুন্ধরা-গ্যাসমিন-পাওয়ার প্যাক কনসোর্টিয়াম। এ ছাড়া দেশের পোশাক শিল্পের জন্য ৫০০ একর জমি দেওয়া হবে। বেজার জনসংযোগ উপদেষ্টা মো. আব্দুল কাদির খান এ বিষয়ে জানান, সরকারিভাবে ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি বেসরকারি। বাকিগুলো সরকারি ও বিদেশী বিনোয়োগে নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর বেসরকারি ২৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ৫টি চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ৪টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদনে যাওয়া অঞ্চলগুলোর মধ্যে দুটি মেঘনা গ্রুপের, একটি আমানের ও অন্যটি বে-এর। কোন অর্থনৈতিক অঞ্চল পণ্য উৎপাদন শুরু করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরাদ্দ পাওয়া অঞ্চলের মধ্যে মেঘনা গ্রুপের অর্থনৈতিক অঞ্চলে টিস্যু পেপার তৈরি হচ্ছে, যা দেশের বাইরে রফতানি হচ্ছে। পাশাপাশি মেঘনা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চলে অত্যাধুনিক রোবট তৈরি হচ্ছে। যা শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে।   আর/টিকে

সবচেয়ে বড় পরিসরে এবারের বইমেলা

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন বাংলার সূর্য সন্তানরা। রফিক, শফিক, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেকের তাজা রক্ত নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন। তাঁদের আত্মোৎসর্গের ফলে প্রাণ পায় বাংলা ভাষা। অমর একুশের চেতনাকে ধারন ও নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মাদানের বার্তা পৌঁছে দিতে প্রতিবছর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবারও শুরু হতে হচ্ছে  বইমেলা। বাংলা একাডেমি আয়োজনে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন শুরু হয়ে মেলা চলবে মাসের শেষদিন পর্যন্ত। বইয়ের প্রদর্শনী ও বেচা-কেনার এমন বর্ণাঢ্য আয়োজন সারাবিশ্বেই বিরল। বাঙালির আবেগঘন ভালোবাসার অনিন্দ্য সুন্দর প্রকাশ বইমেলা একই সঙ্গে প্রাণের মেলা হিসেবে খ্যাত। শুধু বইকে কেন্দ্র করা হলেও কালক্রমে এটি হয়ে উঠেছে বঙ্গ-সংস্কৃতির বৃহৎ উৎসবে। পহেলা ফেব্রুয়ারি বৃস্পতিবার বিকেল ৩টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি মেলা পরিদর্শনে করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এগনিস মিডোস (যুক্তরাজ্য), ড. জয়েস অ্যাসউনটেনটেঙ (ক্যামেরুন), ইব্রাহিম এলমাসরি (মিশর), অরনে জনসন (সুইডেন)। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বইমেলা উপলক্ষে ২২ ও ২৩শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ফ্রান্স, স্পেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ ৮টি দেশের ১৫ জন কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী অংশগ্রহণ করবেন। বাংলা একাডেমি সূত্রে জানাগেছে, অন্যবার থেকে এবার মেলার পরিসর বাড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রকাশনা সংস্থা ও স্টলসমুহ। আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টল স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ সময়ের রং-তুলির কাজ। স্টল স্থাপনের স্টল রং করা, ব্যানার ঝোলানো, স্টলে বইয়ের সেলফ বসানো, লাইটিং করার কাজ এখন চলছে পুরাদমে। এব্যাপারে জানতে চাইলে একুশে টিভি অনলাইনকে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও একুশের বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন,  বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট জায়গায়। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৬টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮৩টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমি-সহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যাঁরা বই প্রকাশ করেছেন তাঁদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতবারের চেয়ে বেশি জায়গায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বিভিন্ন অঙ্গনের সিনিয়র ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রবেশের জন্য এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে একটি গেট বসানো হবে। মেলার সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে জনতা প্রকাশনির ব্যবস্থাপন নাসির আহমেদ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, বইমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দু’টো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের ৬টি  পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। এবারের মেলাতে তার প্রকাশনির ১০০টি নতুন বই আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি। এসময় তিনি বাংলা একডেমির সমলোচনা করে বলেন, মেলাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে আমি ভালো কোনো স্টল বরাদ্দ পাইনি। দলীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভালো জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বই অনুযায়ী তিনি প্যাভিলিয়ন পাওয়া যোগ্য এমন দাবি করে বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সঠিক জায়গায় স্টল বরাদ্দ পাইনি। এমনকি প্যাভিলিয়ন পেতে আবেদন করলেও দেওয়া হয়নি। বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নিরাপত্তাকর্মীরা। নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে আড়াইশত ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলা প্রাঙ্গণ ও পাশ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধূলিনাশক পানি ছিটানো, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন এবং প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা স্তম্ভ ও এর পার্শ্ববর্তী স্থানকে নান্দনিকভাবে বইমেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে যাতে স্বাধীনতার স্তম্ভের আলোক-বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গণ আলোকিত হয়ে ওঠে। সোহরাওয়াদী উদ্যানে পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের স্টল স্থাপনের কাজ পেয়েছে আরপিকে মিডিয়া। এটির মালিক ইবরাহিম খলিল বলেন, ‘আমরা পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের স্টল স্থাপনের কাজ পেয়েছি। এই স্টলটি তৈরি করতে খরচ হবে সাড়ে সাত লাখ টাকা। বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, এবার মেলাতে সব্বোর্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মেলাতে সব্বোর্চ নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে ব্যারের কন্ট্রোল রুম। এছাড়া গত বছরের থেকে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি রাখা হয়েছে। এছাড়া আইন শৃঙ্খালা বাহিনীর সদস্যেদের অস্থায়ী ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের কাছে নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার হচ্ছে।   টিআর/টিকে      

স্মার্টফোন-ইন্টারনেটে বাড়ছে পর্নগ্রাফি ও নানা অপরাধ

আধুনিক যুগে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এসবের অপব্যবহার হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে সামাজিক শৃংখলা। দিনে দিনে পর্নোগ্রাফি হয়ে উঠেছে খুবই সহজলভ্য। আর জঙ্গি কার্যক্রমের নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের মায়াজালে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণ-যুবকসহ সব বয়সী মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারিক মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতাই এসবের কারণ। এমন কোনো অ্যাপস যদি আবিস্কার করা সম্ভব হয় যে, টিনএজাররা স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জিনিস দেখতে পারবে, অপ্রয়োজনীয় জিনিস ছুঁতে পারবে না, তবেই এ সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। পর্নগ্রাফি ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের সুবাধে পর্নগ্রাফি এখন এতটাই নাগালে এসেছে যে, কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই এর দর্শক। তবে কিশোররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ জানার অতিরিক্ত কৌতুহল থেকেই অনেকে ঝুঁকছে পর্নগ্রাফির দিকে। পিছিয়ে নেই বয়স্করাও। সমাজ সচেতন বলে পরিচিত রাজনীতিবিদরাও এদিকে ঝুঁকে পড়ছেন। একটি ব্রিটিশ পত্রিকায় খবরে বলা হয়েছে যে, গেল বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ছয় মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা অধিবেশন চলাকালীন সময়েই রোজ গড়ে ১৬৫ বার পর্নোগ্রাফিক সাইটে ঢু মারেন।   ইন্টারনেটে ভিডিও দেখার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবও এখন মুক্ত নয় পর্নগ্রাফি থেকে। কেউ যদি ভিডিও দেখার এসব ওয়েবসাইটে পর্নো ভিডিও নাও দেখে থাকেন তবুও অনেক সময় এসব সাইট থেকেই ‘সাজেশন’ আকারে অশ্লীল ভিডিও’র লিংক দেওয়া হয়। তখন বুঝে বা না বুঝে সেই লিংকে ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন এমন অশ্লীল, আপত্তিকর ভিডিও। আর এসব ভিডিও খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিশোর এবং তরুণদের মাঝে। অনেকেই মনে করেন যে, পর্নগ্রাফি শুধু ছেলেরাই দেখে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক নারীও পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত। আর এসব ভিডিও দেখেই দিন দিন অনৈতিক-অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে তরুন-তরুণীরা। ভালোবাসার মত আত্মার সম্পর্ক এখন অনেকের কাছে শুধু শারীরিক সম্পর্কের আরেক নাম। এ বিষয়ে বিশিষ্ট মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামাল ইটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘ছোটদের মানসিক বিকাশে স্মার্টফোন-ইউটিউবের এমন ব্যবহার খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউটিউব বা সেক্সটিউবগুলোতে পর্ন ভিডিওগুলো দেখে শিশুকাল থেকেই তাদের মধ্যে এক ধরনের ভোগবাদি সত্ত্বা তৈরি হয়। তাদের নৈতিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নারী পুরুষের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটু গভীরে গেলে আমরা দেখতে পাব যে, একটি ছেলে একসঙ্গে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমে লিপ্ত। আবার একটি মেয়েও একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমে জড়িত। এ বিষয়গুলো কেন হচ্ছে? এ বিষয়গুলো হচ্ছেই আমাদের অসতর্ক এবং অসচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে।’ তাহলে এর সমাধান কী? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মোহিত কামাল বলেন, ‘একটা নিয়ন্ত্রণ যদি কোথাও রাখা যায় তাহলে এর সমাধান সম্ভব। এমন কোনো অ্যাপস যদি থাকে যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে যে, টিনএজাররা প্রয়োজনীয় জিনিস দেখবে, অপ্রয়োজনীয় জিনিস তারা দেখবে না, তাহলে ভালো হয়। আবার যেমন শিশুরা দিনে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে কিন্তু রাতে পারবে না। নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করতে পারবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারবে না। এমন যদি ব্যবস্থা করা যায় তাহলে অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব।’   ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদ স্মার্টফোন যে শুধু আমাদের জন্য অদৃশ্যমান এবং সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করছে তাই নয়। এর নেতিবাচক ব্যবহারের কুফল হাতেনাতেই পাচ্ছি আমরা। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ইন্টারনেটে যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক এস্টেট বা আইএস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাদের সদস্যদের সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। তাদের নেটওয়ার্ক এতটাই মজবুত যে, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সে ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক ভাঙতে আজও ব্যর্থ। এমনি বিশ্বজুড়ে তাদের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও চলে এই অনলাইন মাধ্যমেই। এমনই এক জঙ্গির নাম তাহাজুল ইসলাম (২২)। পুলিশ জানায়, একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করত তাহাজুল। রাতে সজাগ থেকে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ইউটিউবে ভিডিও দেখতেন তিনি। এভাবে ভিডিও দেখতে দেখতেই একদিন তিনি পেয়ে যান কিছু ধর্মীয় ভিডিও’র সন্ধান। ধর্মীর প্রতি অনুরাগ থেকেই সেগুলো নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করতে থাকেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় একদিন আমন্ত্রণ পান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হওয়ার। পুলিশকে তাহাজুল জানায় যে, তার জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার কোনো ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য ছিল না। মাত্র নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করা তাহাজুল নিজের অজান্তেই এসব ভিডিও দেখতে দেখতে একটা ঘোরের মধ্যে আটকা পরে যায়। নিজের প্রবল ইচ্ছা না থাকলেও হাটতে শুরু করেন এ পথে। তবে তথ্য-প্রযুক্তির ফাঁদ ব্যবহার করেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি তাকে আটক করেছে। সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ডিভিশনের প্রধান উপ কমিশনার আলিমুজ্জামান ইটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ পরিচালনা করে। আমরা নিয়মিতভাবে এদিকে নজর রাখছি। তবে কেউ কেউ আছে যারা না বুঝে এসবের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। বলা যায়, ইন্টারনেটের সচেতন ব্যবহার না করার কারণেই এমনটা হচ্ছে। তাই আমাদের সবারই উচিত ইন্টারনেটের সচেতন এবং ইতিবাচক ব্যবহার করা।’ এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রথম পর্বটি পড়ার জন্য ক্লিক করুন এখানে। / এআর /

চাকরির ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ

মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে ভুয়া বিজ্ঞাপ্তি দিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। সংঘবদ্ধ চক্রটি ভুল ঠিকানা দিয়ে ধরাছোয়ার বাইরে থেকে অদৃর্শভাবে বিপুল অঙ্কের এ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা। চাকরি প্রত্যাশীদের অভিযোগ, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপজেলা পরিদর্শক ও কর্মসূচি সংগঠকসহ পাঁচটি পদের বিপরীতে মোট ৮৮৪ জন নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে আগ্রহী প্রার্থীদের তিন কপি ছবি ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত আবেদনপত্র বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশের ১২ দিনের মধ্যে মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক বরাবর পাঠাতে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হয় (বাড়ি নং-৪৯, রোড নং-১০/এ, নিকুঞ্জ-১, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯)। এ ঠিকানায় আবেদন করা হলে আবেদনে উল্লেখিত নম্বর অনুযায়ী চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে ফোন করে ১২০০ টাকা চাওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন কথার মারপ্যাচে প্রার্থীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। অভিযোগের সূত্র ধরে গত বুধবার সরেজমিন অনুসন্ধানে যায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনের এই প্রতিবেদক। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে পুরো এলাকা ঘুরে ৪৯ নম্বর বাড়ির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রথমে চাকরি প্রত্যাশীর ছদ্মবেশে যাওয়ার কারণে স্থানীয়রা কিছু উপদেশমূলক কথা শোনান। স্থানীয়রা বলেন, না জেনে, না বুঝে এমন বাটপারদের কাছে কেন আপনারা আবেদন করেন? চাকরি না হলে হালচাষ করে খাওয়াও এর চেয়ে অনেক ভালো। এক চায়ের দোকানদার, মুদি দোকানদার ও বাড়ীর কেয়ারটেকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিকুঞ্জ-১, ১০/এ ঠিকানায় মোট ৮টি প্লট আছে। যার মধ্যে ১, ২ ও ৩ নম্বর প্লটে বড় বিল্ডিং করা হয়েছে। আর বাকি ৪ থেকে ৮ নম্বর প্লটে টিনশেডের বাড়ি। এর আশেপাশে কোথাও ৪৯ নম্বর বাড়ি নেই। নিজেকে একজন চাকরিপ্রার্থী পরিচয় দিয়ে ওই এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশ দোকানদার এস এম রাজন আহমেদের কাছে ওই ঠিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি কী ৪৯ নম্বর বাড়ি খুঁজচ্ছেন? চাকরির আবেদন করেছেন? হ্যাঁ সূচক উত্তর দিতেই রাজিব আহমেদ বলেন, আপনারা খোঁজ-খবর না নিয়ে কেন ভুয়া ঠিকানায় আবেদন করেন, আবার টাকা পয়সাও পাঠিয়ে দেন তা আমার বুঝে আসে না। আমর কাছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আগের দিন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিনশ’ আবেদনকারী এসেছে। আজ আপনি আসার আগে এ পর্যন্ত সাত জন এসেছে। রাজধানীর আশপাশসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা আসছে। ঠিকানা ভুয়া দেখে অনেক কাঁদছেন। অনেকে গালিগালাজ করে চলে যাচ্ছেন। আমি এখানে গত ৫ বছর ধরে দোকানদারি করি। এ নামে বা ঠিকানায় কোন প্রতিষ্ঠান কোনো দিন দেখিনি। এ বিষয়ে কথা হয় নিকুঞ্জ-১, ১০/এ ঠিকানার ৩ নম্বর বাড়ির কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হকের (আলম নামেও পরিচিত) সাথে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের খুঁজে গত দুই সপ্তাহে এখানে অনেক লোক এসেছে। এখনও আসছে। এ এলাকায় এই নামের কোনো প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার মনে হয় না। প্রতিদিনই আপনার মতো এমন অনেকে আসছে ওই ভুয়া ঠিকানা ধরে। ওই প্রতিষ্ঠান না পেয়ে সবাই আবার চলে যাচ্ছে। যাওয়ার সময় অনেকে থানায় অভিযোগ করবে বলেও জানিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মুদির দোকানি মো. রাজিব মিয়া বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। গত ৩০ বছর ধরে আমি নিকুঞ্জতে বসবাস করছি। আজ পর্যন্ত এ নামে বা ঠিকানায় কোনো বাড়ি চোখে পড়েনি। এ ঠিকানায় গত ১২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ জন করে আসছে। আজও এ পর্যন্ত তিনজন এসেছে। ওই ঠিকানা না পেয়ে সবাই মন খারাপ করে চলে যাচ্ছে। আমি তাদেরকে থানায় অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি। আর বলে পারছি না। এলাকায় নতুন কাউকে দেখলেই বুঝতে পারছি যে তিনি চাকরির আবেদনকারী। এদিকে বৃহস্পতিবারও সেখানে গিযেছিলেন চাঁদপুরের রফিকুল ইসলাম (তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় থাকেন), কিশোরগঞ্জের আব্দুল আজিজসহ (ফকিরাপুল থাকেন) বেশ কয়েকজন। রফিকুল ইসলাম একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ঠিকানা বরাবরে আবেদন করলে একটি মেয়ে আমাকে জানায়, আপনি চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ট্রেনিংয়ের জন্য (বিকাশ ০১৮৫৮৯২৩৮৪০) নম্বরে ১২৫০ টাকা পাঠাতে বলে। আমি টাকা পাঠানোর পর আমাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানের লোগো ছিল। কয়েকটি ঔষধের নামও লেখা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা না নিয়ে-ই চাকরিতে নিশ্চয়তা ও ট্রেনিংয়ের কথা শুনে আমার একটু সন্দেহ হয়। সন্দেহের ভিতরেই বিকাশে টাকা পাঠিয়েছিলাম। টাকা পাঠানোর পর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। যেহেতু ঢাকায় থাকি তাই সর্বশেষ নিজ চোখে প্রতিষ্ঠানটি দেখার জন্য যাই। কিন্তু এখন দেখছি আমার টাকাগুলো একেবারেই ভুয়া পাত্রে গেছে। আফসোস হচ্ছে একজন শিক্ষিত নাগরিক হয়ে ও ঢাকায় থেকে এমন বোকামি করলাম কী করে? একই ধোকায় ভুক্তভোগী আবেদনকারী নাটরের লালপুর কলেজের ছাত্র জয় আহমেদ। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক শেষ করা জয় কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ভাই দেশের শীর্ষ লেভেলের এমন পত্রিকায় এমন ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হবে আগে ভাবতে পারি নাই। অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলে আমি। এতোগুলো টাকা ওরা নিয়ে নিল? ভাই, আমার সত্যিই কান্না পাচ্ছে। অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম। ভেবেছিলাম ছোটখাট হলেও একটি চাকরি করি, জীবন বাঁচাই। কিন্তু ওরা আমার জীবনটাই যেন থামিয়ে দিল। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে মামলা বা অভিযোগ করবো তারও উপয় নেই। আমি ছাত্র, তার ওপর অর্থের অভাব, পরে আবার অন্য ঝামেলায় পড়ে যাব। এসব ভয়ে আর অভিযোগ করতে পারলাম না। দয়া করে একটু এর বিরুদ্ধে লিখেন। এদিকে পত্রিকায় ভুয়া এ বিজ্ঞপ্তির অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার বরিশাল সদরের মার্জানা আক্তার তিনা একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি আবেদন করি। আবেদনের পর আমাকে ০১৮৫৮৯২৩৮৪০ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য ১২০০ টাকা চাওয়া হয়। নারী কণ্ঠের ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে বলছি বলে জানান তিনা। এরপর আমি বলি আমার স্বামী নেই, এতো টাকা কোথা থেকে দিব? উত্তরে আমাকে ৫০ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বাকি টাকা নিয়োগের পর দিতে হবে বলে জানায়। তিনা আরো বলেন, আমাকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রেনিং দেওয়া হবে বলেও জানায়। আমি জানতে চাইলাম, আমাদের বরিশালে প্রতিষ্ঠানের কোনো শাখা আছে কী না। তিনি উত্তরে আমাকে বলেন যে, দেশের কোথাও আমাদের এখনও কোনো শাখা নেই। তবে পরে শাখা খোলা হবে। তিনা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের বরিশালে এক র‌্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে কথাও বলেছি। তখন র‌্যাব কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, আপনি আগে যারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তাদের অবহিত করেন। আমরা অ্যাকশানে যাব। একইভাবে কথিত ওই প্রতিষ্ঠানে কামাল হোসাইন নামের আবেদনকারী অভিযোগ করে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানান, আবেদন করার পর ওই অফিস থেকে কল করে ১২৫০ টাকা বিকাশ করতে অথবা অফিসে গিয়ে জমা দিতে বলে। এ আবার কেমন চাকরি? পরীক্ষা নেই, সাক্ষাৎকার নেই আগেই চাকরির ট্রেনিংয়ের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সারা দেশ থেকে তো তারা লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে। কেউ কী দেখার নেই? তবে একাধিক আবেদনকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে বাড়ির অস্তিত্ব না পাওয়া সত্বেও প্রতারক চক্রটি কীভাবে আবেদনগুলো সংগ্রহ করছে-এ প্র্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেন একুশে টেলিভিশন প্রতিবেদক। বিষয়টি স্পষ্ট হতে নিকুঞ্জ এলাকায় দায়িত্বরত র‌্যাব ক্যাম্প (সিপিসি)-এ যোগাযোগ করা হলে এডিশনাল এসপি হানিফ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। আসলে অবশ্যই তদন্তে নামবো। তবে আপনি পার্শবর্তী থানায় যোগাযোগ করতে পারেন। খিলক্ষেত থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে এ বিজ্ঞপ্তির ঠিকানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে দেওয়া এক ভুয়া বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ঠিকানায় কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী জয় আহমেদ ও মার্জানা আক্তার তিনার মাধ্যমে কীভাবে প্রতারক চক্র আবেদনপত্র সংগ্রহ করছে তা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রতারক চক্র কোনো সময় নম্বর বন্ধ রাখছে, কোনো সময় তা খোলা রাখছে। মাঝে মধ্যে মোবাইলে রিং বাজলেও রিসিভ হচ্ছে না। ফলে আবেদনকারীদের মাধ্যমেও প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ এর আশপাশের এলাকা বিশেষ করে টঙ্গী, গাজীপুর, মতিঝিল, মহাখালী ও খিলক্ষেতে কাজ করছে এমন প্রতারক চক্র। প্রতারক চক্রটি প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি নাম দিয়ে অভিনব কৌশলে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে। সম্প্রতি রাজধানীতে থাকা এ ধরনের একটি চক্রের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা হয়। এদের মধ্যে প্রতারক দম্পত্তিও ছিল। ওই চক্রের দুই নারীসহ পাঁচ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, চাকরির প্রতারক চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক এনজিওর নাম ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর গুটিয়ে নেয় অফিস। এমনই ভাবে গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ২০৯০টি পদে নিয়োগের জন্য ‘বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন বাস্তবায়নে শিশু বিকাশ কেন্দ্রর নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ধরা পড়ে প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য। দ্বীপক কুমার দেব নামে এক চাকরি প্রার্থীর মামলা এবং ২০ থেকে ২৫ জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্র্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল তাদের মতিঝিল থেকে গ্রেফতার করে। তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল আহসান খান। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হলো- মাহবুবুর রহমান, সুজিত কুমার ঘোষ, রোকসানা আক্তার, রবিন ও মায়া রানী রায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপ-কমিশনার মাসুদ রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, চাকরি প্রত্যাশীদের উচিত চাকরির আবেদন করার আগে জেনে বুঝে যাচাই-বাছাই করে আবেদন করা। আর গণমাধ্যমেরও উচিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যাচাই করা। এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাপানো থেকে বিরত থাকায় গণমাধ্যমের নৈতিকতার ভিতরে পড়ে। তিনি জানান, মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই অ্যাকশনে যাব।   আরকে/টিকে

মেলায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে বিনোদন

পথশিশু ও প্রতিবন্ধীরা কোনো বোঝা নয়; সমাজেরই অংশ। একজন হয়তো আশ্রয়হীন; অন্যজন শারীরিক বা বুদ্ধিগতভাবে প্রতিবন্ধী। তাদেরকে বুকে টেনে নেওয়ার নেই কোনো আপনজন। তাদের আবার কারো হয়তো ইচ্ছা থাকলেও বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এতো কিছু না থাকার সত্বেও তাদের যে সুন্দর একটি মন আছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের মনে যে সুপ্ত কিছু আশা বা ইচ্ছাও আছে সে ব্যাপারেও দ্বিমত করার সুযোগ নেই। মানতেই হবে তাদেরও মন আছে। বন্দি জীবন থেকে বাহিরে বের হয়ে সুন্দর ও নির্মল পরিবেশ দেখার ও বিনোদন নেওয়ার সাধও রয়েছে তাদের রয়েছে। তাদের সেই ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ করে দিয়েছে দুটি শিশু পার্ক। আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলার ২৬তম দিনে সরেজমিন দেখা যায়, পার্ক দুটিতে শিশুরা বিভিন্ন রাইডে চড়ে সবার সাথে হই হুল্লা আর আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে। শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও এ আনন্দে অংশ নিচ্ছে। সাধারণ শিশুদের জন্য প্রতিটা রাইডে যেখানে নেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সেখানে প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূ্ল্যে এ আনন্দ উপভোগের সুযোগ দিচ্ছে। বাণিজ্য মেলার পূর্ব পাশে (ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকে ইপিবি অফিসের নিকটবর্তী) প্রতিবন্ধী শিশুদের এ শখ মেটাচ্ছে সারিকা ফ্যান্টাসি এমাজিং ওয়াল্ড শিশু পার্কটি। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত, অটিস্টিক আর প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ রয়েছে এখানে। ট্রেন, টু-ইস্ট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, ঘূর্ণিসহ রয়েছে বেশ কয়েকটি রাইড। পার্কে দেখা হলো আবির আর আবিদ দুই ভাইকে। সঙ্গে রয়েছেন তাদের বাবা আব্দুল আজিজ। আবির ও আবিদের সঙ্গে আজিজও বোট রাইডিংয়ে উঠেছে। বোট থেকে নামার পর কথা হলো দুই জনের সঙ্গে। “রাইডে উঠে খুব আনন্দ পেয়েছো, তাই না?”-এমন প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই তারা এক সঙ্গে বলে উঠলো, “মজা মজা, হ্যাব্বি মজা।” রাইডে ভয় লাগছিলো কিনা-জানতে চাইলে তারা বলেন, “আব্বু আছে না? ভয় লাগবে কেন?” শম্পা ও সৌরভ নামের অন্য দুই শিশুও মেলায় এসেছেন তাদের মায়ের সঙ্গে। মা শবনম মুস্তারিনে ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আজ এলাম বাণিজ্য মেলায়। মেলায় অনেক কেনাকাটা করেছি বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু তাতে তাদের যতটা  খুশি করতে পেরেছি, তার চেয়ে বেশি আনন্দিত করতে পেরেছি এখানে নাগর দোলাই উঠিয়ে।” পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা গত ৫ বছর ধরে মেলায় এ ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করি। এখানে সাধারণ শিশুদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের বিনোদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামুল্যে তাদের এ সুযোগ করে দিয়েছি শুধু মানবিক মল্যবোধ থেকেই। কারণ তারাও সমাজের মানুষ।” একইভাবে মেলার পশ্চিম-দক্ষিণ কর্নারে মেসার্স অন্তরা এন্টারপ্রাইজ করেছে আর একটি  শিশু পার্ক। যেখানে ট্রেন, নাগরদোলা, ম্যাজিক বোট, সুইং চেয়ার, কর্পোরেট গাড়ি, হেলি কপ্টার, মেরি ঘোড়াসহ ১৫ ধরনের রাইড আছে। পার্কটিতে বিনোদন প্রেমী শিশু ও অভিভাবকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। পার্কের ম্যানেজার রিয়াজ আহম্মেদ ইটিভি অনলাইনকে বলেন, এবার মেলায় আমরা আশা করেছিলাম প্রতিদিন মেলায় গড় পড়তা ৫০ হাজার টাকা আয় আসবে। কিন্তু গড় পড়তা আয় আসছে ৪০ হাজার মতো। তবে আজ একটু বেশি হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তিনি জানান, পার্কটিতে পথশিশু ও প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে রাইডিংয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ শিশুদের জন্য বোট রাইডিং ৪০ টাকা ছাড়া সব রাইডিংয়ে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা করে।   আরকে/টিকে

স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট: ভয়াবহ আসক্তির শিকার ব্যবহারকারীরা

স্মার্টফোন বর্তমান সময়ের এক অপরিহার্য অংশ। তথ্যপ্রযুক্তির এ ছোঁয়ায় জনজীবনে যেমন গতিশীলতা এসেছে তেমনি এর অপব্যবহারের কারণে নেতিবাচবক প্রভাব পড়ছে আরও বেশি। দিন দিন আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে এই স্মার্টফোন। শিশু থেকে বয়ঃজ্যেষ্ঠ সব বয়সীদের মাঝে স্মার্টফোন আসক্তি এখন চরম পর্যায়ে। শিশু-কিশোরেরা পড়ার টেবিলে মুঠোফোনেই সময় বেশি ব্যয় করছে। আবার অভিভাবক মুঠোফোন নিয়ে নিলে উত্তেজিত হয়ে পড়ছে এসব শিশু-কিশোরেরা। রাত জেগে স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের সাইটে বা ইন্টারনেটে সময় ব্যয় করেছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের উপরে পড়ছে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব। ক্লাসে বা পড়শুনায় ঠিক মতো মনোযোগ দিতে পারছে না। অন্যদিকে প্রাপ্ত বয়স্করাও অফিস চলাকালীন সময়ে কাজ বাদ দিয়ে পরে থাকছেন ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইউটিউবে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক নাগাড়ে বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এর থেকে নির্গত গামা রশ্মির প্রভাবে দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। সেই সাথে মানসিক বিষন্নতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যতে দৈনন্দিন কার্যকর্মের অনীহা তৈরি হয়। মেজাজে অনেক সময়ই থাকে খিটখিটে। তাই স্মার্টফোন ব্যবহারের সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। শাহবাগ মোড়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র আবদুর নুর। হঠাৎ তার পাশ দিয়ে সজোরে বেরিয়ে গেল একটি প্রাইভেটকার। অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন নুর। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মুঠোফোন ব্যবহার করতে করতেই কোন দিকে খেয়াল না করেই সড়ক পার হচ্ছিলেন নুর। অনেকটা চালকের দক্ষতায় এড়ানো গেছে দুর্ঘটনা। নুরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেসবুকে তার এক বন্ধুর সঙ্গে চ্যাট (তাৎক্ষণিক বার্তালাপ) করছিলেন তিনি। চ্যাট করতে করতেই সড়ক পার হচ্ছিলেন কেন জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে বলেছেন ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবেন। নুরের মত এমনই স্মার্টফোন আসক্তিতে আছে দেশের হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা। নুরের মত সবাই এমন ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ পান না। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ কোটির বেশি জনসংখ্যার মধ্যে ৩০ শতাংশ মানুষ এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। অর্থ্যাৎ প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের হাতে আছে স্মার্টফোন। মুঠোফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আগামী পাঁচ বছরে এ সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে। অর্থ্যাৎ প্রায় ১০ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করবে। বিশাল এই ব্যবহারকারীর জন্য কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও নিচ্ছে সরকার। তাই সহজেই অনুমান করা যায় যে, সামনের দিনগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর পাশাপাশি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। তবে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার দিন দিন ‘আসক্তি’র পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং শিশুদের মধ্যে অনেকটা ‘মাদকাসক্তির’ মতই প্রভাব ফেলছে বিষয়টি। স্মার্টফোন এবং ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কথা বললে শুরুতেই যার নাম আসবে তা হল ফেসবুক। স্মার্টফোন যারা ব্যবহার করেন তাদের বেশিরভাগই এই ফেসবুকে অনেক সময় ব্যয় করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করার প্রজেক্ট থেকে শুরু হয়ে আজ তা বিশ্বের এক নম্বর ওয়েবসাইট। ফেসবুকে একজন ব্যবহারকারী তার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুমহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন যার মাধ্যমে তৈরি হবে সামাজিক যোগাযোগ। এমন একটি ধারণা থেকে তৈরি হলেও ফেসবুকই এখন অনেক অসামাজিক কর্মকাণ্ডের উৎসস্থল। নিজস্ব পরিমন্ডলের গণ্ডি পেরিয়ে এখন ফেসবুক নিজেই এক বিশাল দুনিয়া। তরুণদের ওপর প্রভাব আমাদের দেশে স্মার্ট মুঠোফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। অনেকের কাছেই মুঠোফোন এমন এক যন্ত্র যা ছাড়া একটা দিনও ভাবতে পারেন না তারা। পড়াশোনা, চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসার কাজেই অনেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকলেও সে সংখ্যা খুবই অল্প। বেশ কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজেদের একাকী সময় অথবা বিষন্নতার সময়ে তারা ফেসবুকে সময় ব্যয় করেন। বাস্তব জগতের সামাজিক উপাদানগুলোতে যুক্ত থাকার চেয়ে ভার্চুয়াল সামাজিক মাধ্যমে “অ্যাকটিভ” থাকতেই বেশি পছন্দ করে এখনকার তরুণ সমাজ। মিরপুরের ষাটোর্থ ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দীন বলেন, “আগে পাড়া মহল্লা বা পরিবারের অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিতাম। বলতে গেলে অনুষ্ঠান আমরাই মাতিয়ে রাখতাম। এখন আমাদের ছেলেদের দেখি তারা এসব অনুষ্ঠানে যেতেই চায় না। যদি যায়ও তাহলে ওই মোবাইল নিয়েই এক কোণায় বসে থাকে। আবার কাউকে দেখি শুধু সেলফি আর খাবারের ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়ার জন্যই এসব অনুষ্ঠানে যায়। এরা ফেসবুক, ইন্টারনেট ছাড়া আর কিছুই বোঝে না”। শিশুদের ওপর প্রভাব রাজধানীর পান্থপথে বসবাসরত ব্যবসায়ী রিপন মজুমদারের মেয়ের বয়স দুই বছর। মুঠোফোনের ইউটিউবে গান চালু না থাকলে রাতের খাবার খায় না জাওয়ারা। এমন কি মুঠোফোন ব্যবহার করে ইউটিউব ব্যবহারে পুরো পারদর্শী এই শিশু। রিপন মজুমদার ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “আগে দেখতাম ছোট বাচ্ছারা টিভিতে টম অ্যান্ড জেরি বা মিকি মাউসের কার্টুন দেখত। এখন দেখি তারা মুঠোফোনে ভিডিও দেখে। মুঠোফোন না দিলে কান্নাকাটি করবে। খাবেও না। এখন আমি বুঝতেছি না যে, অভিভাবক হিসেবে কী করব?” শিশুদের ওপর স্মার্টফোনের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে সরব হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও। শীর্ষ মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলে বিনিয়োগ করা দুই প্রতিষ্ঠান শিশুদের মুঠোফোন ব্যবহারে অভিভাবকদের সতর্ক এবং সচেতন করতে অ্যাপস নির্মাণের অনুরোধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে। জেনা পার্টনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার টিচার্স রিটায়ারমেন্ট সিস্টেম নামের ওই দুই প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি অ্যাপলকে এক চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ করে যে, অ্যাপল যেন এমন এক সফটওয়্যার বানায় যা দিয়ে শিশুদের বয়স এবং মুঠোফোন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়। আবার মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে শিশুদের মধ্যে। ছোটবেলা থেকেই মুঠোফোনের দেওয়া তথ্যের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে যাওয়াতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে কোন চর্চা তারা করে না। মুঠোফোন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি চিকিৎসকেরা বলছেন, মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে মানুষদের মাঝে স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলছে। অতিরিক্ত মুঠোফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে মানুষদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা দিনে ১৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ফোনের পেছনে ব্যয় করেন তাদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। ডাক্তার রামেন গোল বলেন, “আমরা এক গবেষণায় নিশ্চিত হয়েছি যে, সেলফোনের অধিক ব্যবহারে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যায় এবং ফিটনেসের জন্য হুমকি”। ভারতের জাসলক হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের সার্জন সঞ্জয় রয় এক গবেষণাপত্রে বলেন, “এই গবেষণায় প্রতিফলিত হয়েছে, সেলফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেরই ফোনের প্রতি এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়, যার ফলে সময় মতো খাবার খাওয়া বা ভ্রমণ করার প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ থাকে না। অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের জন্যও ওজন বৃদ্ধি পায় এবং নানা ধরনের শারীরিক  জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়ে এই সমস্যায় বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে”। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী ফোন ব্যবহারে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন তারা বড় হয়ে অনেকে দূরের জিনিস ভালো দেখতে পায় না। অনেকেই আবার স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে নিজেই ডাক্তার বনে যান। ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজেরাই নিজেদের চিকিৎসা করেন। দোকান থেকে নিয়ে আসেন ওষুধ। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফলাফল হয় ভয়াবহ। ইউটিউবের ভিডিও দেখে ওষুধ কিনে খেয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন নজিরও আছে খোদ আমাদের বাংলাদেশেই। বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন মুঠোফোন এবং ইন্টারনেট আসক্তি নিয়ে শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক ড.মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “সত্যিকারের মাদকাসক্তির সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক আসক্তির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।” সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শন পার্কারের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে জাফর ইকবাল বলেন, “শন পার্কার বলেছেন যে, শুধু খোদাই বলতে পারবে আমরা না জানি পৃথিবীর শিশুদের মস্তিষ্কের কী ক্ষতি করে যাচ্ছি”। মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মুহিত কামাল ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ বিষয়ে কাজ চলছে। আমাদের কাছেও মতামত চাওয়া হয়েছে। আমরা সবাই একটি বিষয়ে একমত হয়েছি ক্ষেত্রবিশেষে ফেসবুক বা ইন্টারনেট ব্যবহার আসক্তির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আমরা এটাকে বলি ‘নেট এডিকশন ডিসঅর্ডার’। “ডিসঅর্ডারের কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকবে। যখন কোন ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত অথবা সত্যিকার অর্থেই কোন কাজের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট বা ফেসবুক ব্যবহার করেন তখন কিন্তু তা ডিসঅর্ডার না। অনলাইনে আমরা অনেক কাজ করছি। তবে এসব ইতিবাচক ব্যবহারের বাইরে মানুষ অনেক সময়ই ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে যায়”। ইন্টারনেট অথবা মুঠোফোনে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ডা. মুহিত কামাল। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহা বলেন, “মানুষ যেভাবে ইন্টারনেটে ঝুঁকে পড়ছে তা সত্যিকার অর্থেই আসক্তির মত। এটি আমাদের স্বাভাবিক কাজেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তবে সবথেকে ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। আমার মতে ১৮ বছর বয়সের নিচের শিশু-কিশোরদের জন্য মুঠোফোন নয়। মুঠোফোন দিলেও তার ব্যবহার সীমিত করা উচিত। শিশুদের মানসিকতা বিকাশের অন্তরায় এই ইন্টারনেট”।  পাশাপাশি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের যথাযথ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিকে তো আর অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু এর ব্যবহার যেন সঠিক এবং ভাল কাজ লাগে সেদিকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। সবকিছুরই ভালো এবং মন্দ দুই দিক থাকে। প্রযুক্তিরও খারাপ দিক আছে। সেটিকে ভালভাবে ব্যবহার করার দায়িত্ব আমাদেরই”। এর পরবর্তী অংশ পড়ার জন্য ক্লিক করুন এখানে।   এসএইচ/টিকে

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েই মরতে চান লুসি হল্ট

১৯৭১ সালে চিঠি লিখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র জানিয়েছিলেন বিদেশিদের। নিজে ভিনদেশী হয়েও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়েছিলেন। তিনি বৃটিশ নাগরিক লুসি হল্ট। বর্তমানে থাকেন বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন চার্যের হোস্টেলে। যুদ্ধের পর তার দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ভালোবেসে থেকে গেছেন এ মাটিতেই। মুক্তিযুদ্ধের পর ৪৭টি বছর পেড়িয়ে গেলেও তিনি পাননি এদেশের নাগরিকত্ব। তার জীবনের শেষ আশা এদেশের নাগরিক হয়েই মরতে চান। লুসি হল্ট জানান, ইংল্যান্ডের নাগরিক তিনি। স্বল্প সময়ের জন্য সামাজিক কাজ করতে এসেছিলেন বাংলাদেশে। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে যান বাংলাদেশে। যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় অংশ নিয়ে অবদান রেখেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। গভীরভাবে ভালোবেসে ছিলেন বাংলাদেশকে। তাই এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিদেশিদের সমর্থন চেয়ে স্বজনদের কাছে দিয়েছিলেন চিঠি। তিনি জানান, ৭১ সালের ২ মে এই চিঠিটা লুসি তার মায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। মা মারা গেলে পরবর্তীতে লুসির বোন চিঠিটা ফেরৎ দেন লুসিকে। সে কারণেই সংরক্ষণে রয়েছে চিঠিটা। যেখানে লুসি উল্লেখ করেছিলেন বাঙালীরা পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ চায় না। পাকিস্তানি নয় বাঙালী হয়ে স্বাধীনভাবে বাচঁতে চায় তারা। যোগ্য নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে পেয়েছে বাঙালিরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে একমত প্রকাশ করে লুসি আরও প্রকাশ করেছিলেন পাক বাহিনীর হাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলার ভয়াবহতার তথ্যও। এ চিঠি পেয়ে সেময় লুসির পরিবার ইংল্যান্ডে ফিরতে বললেও যাননি লুসি। বরং অন্য দেশে থাকা বন্ধুদের চিঠিতে জানানবাংলাদেশ স্বাধীন হবার যৌক্তিকতা। স্বাধীনতার পরেও যশোর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরবে কাজ করেছেন মানবকল্যাণে। এসবের কোনো স্বীকৃতি পাননি তিনি। লুসি জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা ছিলেন স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা। যুদ্ধ শেষে মিসেস রহমানকে উপহার পাঠিয়েছিলেন লুসি। জবাবে ১৯৭৩ সালের ২০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানার সই করা একটি চিঠি পেয়েছিলেন বলে দেখান লুসি। সে চিঠিতে লুসিকে ধন্যবাদ জানান শেখ রেহানা। স্মৃতি হিসেবে ধরে রেখেছেন এসব চিঠি। ৪৭ বছর পার হতে চললেও কাউকেই এগুলো দেখাননি তিনি। তার এখন একটি-ই চাওয়া বাংলা মাটিতে শেষ বিদায়। সে জন্য তিনি বরিশালের মাটিতে কবরস্থ করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানও ঠিক করে রেখেছেন। তার প্রত্যাশা বাংলাদেশ তাকে দ্বৈত নাগরিকত্ব দিবে। গত বছর বরিশালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ডক্টর গাজী মো: সাঈফুজ্জামান তার সঙ্গে দেখা করে পাশে দাড়াঁনোর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এই একবছরেও সমাধান হয়নি তার নাগরিকত্বের আবেদনের। এ প্রসঙ্গে বর্তমান জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান জানান, তিনি বরিশালে নতুন এসেছেন। তাই এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি। দিনি আরও জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি রয়েছে।তাই এবিষয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আগামী মার্চের মধ্যে তার নাগরিকত্বের বিষয়টি সমাধান হবে। / এআর /

অভিনব কৌশলে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। দেশের শীর্ষ একটি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে একাধিক অভিযোগকারী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানান। অভিযোগকারীরা জানায়, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপজেলা পরিদর্শক ও কর্মসূচি সংগঠকসহ পাঁচটি পদের বিপরীতে মোট ৮৮৪ জন নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে আগ্রহী প্রার্থীদের তিন কপি ছবি ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত আবেদনপত্র আগামী ১২ দিনের মধ্যে পরিচালক মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র বরাবর পাঠাতে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হয় বাড়ি নং-৪৯, রোড নং-১০/এ, নিকুঞ্জ-১, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯। এ ঠিকানায় আবেদন করা হলে আবেদনে উল্লেখিত নম্বর অনুযায়ী চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে ফোন করে ১২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন কথার মারপ্যাচে প্রার্থীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগকারী বরিশাল সদরের মার্জানা আক্তার তিনা একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি আবেদন করি। আবেদনের পর আমাকে ০১৮৫৮৯২৩৮৪০ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য ১২০০ টাকা চাওয়া হয়। নারী কণ্ঠের ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে বলছি বলে জানায়। এরপর আমি বলি আমার স্বামী নেই, এতো টাকা কোথা থেকে দিব? উত্তরে আমাকে ৫০ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বাকি টাকা নিয়োগের পর দিতে হবে বলে জানায়। তিনা আরো বলেন, আমাকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রেনিং হবে বলে জানায়। আমি জানতে চাইলাম, আমাদের বরিশালে প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা আছে কী না। তিনি উত্তরে আমাকে বলেন যে, দেশের কোথাও আমাদের এখনও কোনো শাখা নেই।  তবে পরে শাখা খোলা হবে। তিনা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের বরিশালে এক র‌্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে কথাও বলেছি। তখন র‌্যাব কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, আপনি আগে যারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তাদের অবহিত করেন। আমরা অ্যাকশানে যাব। একইভাবে কথিত ওই প্রতিষ্ঠানে কামাল হোসাইন নামের আবেদনকারী অভিযোগ করে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানায়, আবেদন করার পর ওই অফিস থেকে কল করে ১২৫০টাকা বিকাশ করতে অথবা অফিসে গিয়ে জমা দিতে বলে। এ আবার কেমন চাকরি? পরীক্ষা নেই, সাক্ষাৎকার নেই আগেই চাকরির ট্রেনিংয়ের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সারা দেশ থেকে তো তারা লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে। কেউ কী দেখার নেই? স্নিগ্ধা নামের অন্য আবেদনকারীরও একই অভিযোগ। তবে অভিযোগের সূত্র ধরে কথিত ‘মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে’র হিউম্যান রির্সোর্সের পক্ষ থেকে বিকাশে টাকা চাওয়া ওই ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাওকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কথিত প্রতিষ্ঠান মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দেওয়া ঠিকানার নিকটবর্তী খিলক্ষেত থানায় যোগাযোগ করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে এ বিজ্ঞপ্তির ঠিকানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে দেওয়া এক ভুয়া বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া  ঠিকানায় কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপ-কমিশনার মাসুদ রহমান বলেন, চাকরি প্রত্যাশীদের উচিত চাকরির আবেদন করার আগে জেনে বুঝে যাচাই-বাছাই করে আবেদন করা। আর গণমাধ্যমেরও উচিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যাচাই করা। এ ধরণের বিজ্ঞপ্তি ছাপানো থেকে বিরত থাকায় গণমাধ্যমের নৈতিকতার ভিতরে পড়ে। তিনি জানান, মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই অ্যাকশনে যাব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ এর  আশপাশের এলাকা বিশেষ করে টঙ্গী, গাজীপুর, মতিঝিল, মহাখালী ও খিলক্ষেতে কাজ করছে এমন প্রতারক চক্র। প্রতারক চক্রটি প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি নাম দিয়ে অভিনব কৌশলে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে। সম্প্রতি রাজধানীতে থাকা এ ধরনের একটি চক্রের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা হয়। এদের মধ্যে প্রতারক দম্পত্তিও ছিল। ওই চক্রের দুই নারীসহ পাঁচ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, চাকরির প্রতারক চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক এনজিওর নাম ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর গুটিয়ে নেয় অফিস। এমনই ভাবে গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ২০৯০টি পদে নিয়োগের জন্য ‘বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন বাস্তবায়নে শিশু বিকাশ কেন্দ্রর  নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ধরা পড়ে প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য। দ্বীপক কুমার দেব নামে এক চাকরি প্রার্থীর মামলা এবং ২০ থেকে ২৫ জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্র্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল তাদের মতিঝিল থেকে গ্রেফতার করে। তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল আহসান খান। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হলো- মাহবুবুর রহমান, সুজিত কুমার ঘোষ, রোকসানা আক্তার,  রবিন ও মায়া রানী রায়। আরকে/টিকে

খামখেয়ালী সভার ধ্যানে-কর্মে রবীন্দ্র চর্চা

বাঙালি জাতির মহত্তম মনীষা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার একটি মননধর্মী সংগঠন হচ্ছে খামখেয়ালী সভা। এ সভায় ধ্যানে ও কর্মে রয়েছে রবীন্দ্র চার্চা। নিজেদের সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক চেতনা এবং তার অনিন্দ্য শিল্প ও সৌন্দর্যবোধের প্রসারে কাজ করছে খামখেয়ালী সভা।   সংগঠনটির সম্পর্কে খামখেয়ালী সভার সভাপতি মাহমুদ হাশিম বলেন, ১৮৯৭ সালে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘খামখেয়ালী সভা’ নামে একটি আড্ডা শুরু করেছিলেন। সেই আড্ডায় যোগ দিতেন জগদীশচন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাস, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ, প্রমথ চৌধুরী, শরৎচন্দ্রসহ অনেক গুণীজন। কিন্তু দুই বছর পরই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আড্ডাটি। ১১৫ বছর পর ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কিছু তরুণ রবীন্দ্র-অনুরাগীর উদ্যোগে শুরু হয় ঢাকায়  ‘খামখেয়ালী সভা’। বর্তমানে খামখেয়ালী সভার ৯টি কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান তিনি। কর্যক্রমগুলো হলো- মাসিক রবীন্দ্র-আড্ডা খামখেয়ালী সভার প্রথম ও অন্যতম প্রধান কর্মসূচি মাসিক রবীন্দ্র-আড্ডা। মাহমুদ হাশিম বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও কর্মের পূর্বনির্ধারিত কোনো বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ পাঠ ও মুক্ত আলোচনা হলো এ আড্ডার মূলপর্ব। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খামখেয়ালী সভার সভ্যরা, থাকেন আমন্ত্রিত আলোচকও। রবীন্দ্র অধ্যয়ন সভা নতুন সদস্যদের রবীন্দ্র সাহিত্যের সঙ্গে তাদের প্রাথমিক পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ২০১৬ সাল থেকে রবীন্দ্র অধ্যয়নসভা নামে একটি নতুন কোর্স চালু করেছে খামখেয়ালী সভা। এই কোর্সটিতে রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই পড়ানো হয়। এই কোর্সে উত্তীর্ণ হলেই কেবল খামখেয়ালী সভার স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করা যায়। বিশ্বসাহিত্য অধ্যয়ন সভা এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সাহিত্য নিয়ে লেকচার ভিত্তিক ক্লাস। মহাদেশ অনুসারে কোর্সটিকে ৬ পর্বে বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পর্ব ৬ মাসের। আগ্রহীরা সবকটি বা পছন্দের যে কোনো একটি পর্বে যোগ দিতে পারবেন। খালখেয়ালী আড্ডায় বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনদের নিয়ে প্রাণবন্ত এক আয়োজন হয় খামখেয়ালী আড্ডায়। মাহমুদ হাশিম বলেন, খামখেয়ালী সভার সদস্যরা এবং দেশ-বিদেশের আমন্ত্রিত অতিথিরা নিজেদের পছন্দের বিষয়ে ভাববিনিময়ের অবারিত বা সুযোগ পান অনন্দময় এ আড্ডায়। আন্তর্জাতিক সেমিনার প্রতিবছর বর্ষপূর্তিতে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করছে খামখেয়ালী সভা। বাংলাদেশ ও ভারতের রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞরা যোগ দেন সেমিনারে। বিদেশি রবীন্দ্র-গবেষকদের সহায়তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে গবেষণায় বিদেশি গবেষকের সহায়তা দিচ্ছে খামখেয়ালী সভা। এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাশিম বলেন, বর্তমানে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-গবেষক ইয়াং ওয়েই মিংকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি রবীন্দ্র সাহিত্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলা  ও বিশ্ব সাহিত্যের যে কোনো বিষয়ে গবেষণার জন্য ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি’ ঘোষণা করেছে খামখেয়ালী সভা। প্রতি বছর এক বা একাধিক গবেষককে দেওয়া হবে এ বৃত্তি। রবীন্দ্রগুণী সম্মাননা মাহমুদ হাশিম জানান, রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে গবেষণা, চর্চা ও প্রসারে জীবনব্যাপী অবদানের জন্য ‘রবীন্দ্রগুণী’ সম্মাননা দিচ্ছে খামখেয়ালী সভা। ২০১৬ সালে প্রথম সম্মাননা দেওয়া হয় ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিককে। ২০১৭ সালে বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সাদি মহম্মদকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। রবীন্দ্র লাইব্রেরি ও আর্কাইভ ২০১৫ সাল থেকে রবীন্দ্র লাইব্রেরি ও আর্কাইভের কার্যক্রম শুরু করেছে খামখেয়ালী সভা। রবীন্দ্রনাথের লেখা ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা বেশ কিছু বই দিয়ে সাজানো হয়েছে লাইব্রেরিটি। দেশ-বিদেশের রবীন্দ্র-গবেষকরা এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে লাইব্রেরিটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাশিম বলেন, ‘বাঙালির মহত্তম মনীষা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরে আমাদের এ আয়োজন। আনন্দ-বেদনা, সংকটে-সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ আজও আমাদের অনিঃশেষ প্রেরণার উৎস। খামখেয়ালী সভা মনে করে, বাঙালির সুন্দর ও পরিণত জাতি হয়ে ওঠবার পথে রবীন্দ্রনাথ অপরিহার্য। রবীন্দ্রনাথের শিখরস্পর্শী প্রতিভার সব দিক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। খামখেয়ালী সভার মধ্য দিয়ে আমরা তাঁকে গভীরভাবে পাঠ ও নতুন নতুন রূপে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি। কবি যে আনন্দলোক ও স্বপ্নলোক রেখে গেছেন তাঁর সাহিত্যকৃতির মধ্যে; তাঁর কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যে পথ দেখিয়ে গেছেন, আমরা সে আলোর পথযাত্রী।’ খামখেয়ালী সভার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহমুদ হাশিম জানান, ‘আমরা খামখেয়ালী সভার মাধ্যমে নতুন লেখক তৈরি করার পাশাপাশি এ সভাকে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া এবং  নির্বাচিত বাংলা ও বিদেশি সাহিত্য পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার কাজ করছি।’  এছাড়াও  যারা খামখেয়ালী সভার আদলে সভা করতে চায় তাদের সম্ভাব্য সব সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। আগামীতে ‘খাপছাড়া’ নামে ছোটদের আড্ডা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন খামখেয়ালী সভার সভাপতি মাহমুদ হাশিম। খামখেয়ালীর সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অভ্র বসু বলেন, রবীন্দ্রচর্চায় খামখেয়ালী সভা অসামান্য অবদান রাখছে। মাত্র ৪ বছরে বাংলাদেশ ছাড়া খামখেয়ালী সভা পশ্চিমবেঙ্গও পরিচিতি লাভ করেছে।   এম/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি