ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫৩:০৩

৪১তম বিসিএসও বিশেষ: নিয়োগ হবে কয়েক হাজার শিক্ষক

৪১তম বিসিএসও বিশেষ: নিয়োগ হবে কয়েক হাজার শিক্ষক

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে ও শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে ৪১তম বিসিএসকে বিশেষ বিসিএস হিসেবে নিয়ে শিক্ষক নিয়োগের চিন্তা করছে সরকার। ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পিএসসি ওই চিঠি এখনও হাতে না পেলেও এই প্রস্তাবের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি কলেজগুলোতে প্রায় দুই হাজারের মতো পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষাসহ নানা ধরণের ছুটিতে রয়েছেন বহু শিক্ষক। যার কারণে বহু সরকারি কলেজের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া নিয়মানুযায়ী সাধারণ বিসিএসের মাধ্যমে যে পরিমাণ শিক্ষক নেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে আরও কয়েক বছরেও শিক্ষক সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়। যে কারণে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চিকিৎসক নিয়োগের মতো করে শিক্ষক নিয়োগেও বিশেষ বিসিএস আয়োজনের কথা ভাবছে সরকার। শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাবের ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় সবাই একমত পোষণ করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয় জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বলেন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক সরকারি কলেজগুলোতে প্রভাষক পদে শিক্ষক সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চাহিদা পাঠানোর হয়েছে। তিনি বলেন, পিএসসির আয়োজিত সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যে সংখ্যক শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ আসে তাদের দিয়ে এ সংকট নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। এখনও অনেক কলেজে রয়েছে, যেখানে বিষয়ভিত্তিকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী কলেজের শিক্ষক ধার করে এনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। আবার এমনও আছে অন্য শিক্ষকরা বিষয় ভিক্তিক ক্লাস নিচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হলে এসব সমস্যা লাঘব করা সম্ভব হবে। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, আলিয়া মাদরাসাসহ ৩২৯টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে মোট ১৬ হাজার ৫৫৪টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৫০৭টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ২২১, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২৮৪ এবং প্রভাষক পদে আট হাজার ২৬টি পদ রয়েছে। দেশের ২১৫টি সরকারি কলেজে শিক্ষক সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। সবচেয়ে বেশি শূন্য প্রভাষকের পদ। এ পদ খালি আছে প্রায় দুই হাজারটি। শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবের বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, সরকারি কলেজ উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হলেও সেখানে চরম শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমেই এ সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের জন্য অফিসিয়াল আবেদন এখনও আমাদের হাতে এসে পৌছে নি। পেলে আইন পরিবর্তনসহ এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। জানা গেছে, এই বিশেষ বিসিএস আয়োজন করার ক্ষেত্রে পিএসসির চলমান আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। এ আইন পরিবর্তনের জন্য খসড়া আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান খসড়া আইন চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবে পিএসসি। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের জন্য ৩৯ তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করছে সরকার। আর কিছুদিন পরেই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরের তথা ৪০ তম বিসিএস হবে সাধারণ। ৪১ তম বিসিএস বিশেষ নেওয়ার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।  টিআর/ এআর    
কোমল পানির নামে কি বিষ খাচ্ছি?

বাইরে গরম পড়ছে বেশ। গরমে মানুষের দিশেহারা অবস্থা এক প্রকার বলা যায়। এমন গরমে দোকান থেকে কিনে কোমল পানীয় পান করেন না এমন কেউ আছেন ভাবাটা এক প্রকার কঠিন বলা যায়। ফ্রিজ থেকে বের করা একটি কোমল পানীয় অামাদের দেহ ও মনে এনে দেয় তৃপ্তি। কিন্তু অামরা কী একবারও ভেবে দেখেছি, এই কোমল পানীয় অামাদের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে যেসব কোমল পানীয় পাওয়া যায় তার কম বেশি সবই অামাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত হয় প্রচুর পরিমাণ চিনি। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি শরীরে পানি শোধন প্রক্রিয়ায় কোমল পানীয় কিডনির ওপর চাপ ফেলে। অর্থাৎ সাধারণ মিনারেল ওয়াটার শোধন যতোটা স্বাভাবিকভাবে হয় কোমল পানীয় তা না হওয়ায় কিডনীতে প্রভাব ফেলে। শুধু এখানেই শেষ নয়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হৃদপিন্ড, লিভার বা যকৃতও নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোমল পানীয় পানে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিষেধ করছেন কোমল পানীয় পান করতে। কোমল পানীয় আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত কি না, এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে ও হচ্ছে। সুইডিশ বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন, কোমল পানীয় আসলে কোমল নয়। প্রতিদিন একটি কোমল পানীয় পানে মূত্রথলিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক অাবদুস সালাম বলেন, কোমল পানীয় প্রস্তুত করার সময় যেসব রং মেশানো হয়, তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর ওই পানীয়কে আকর্ষণীয় করতে যে ‘ফুড অ্যাডিটিভ’ ব্যবহার করা হয় সেই উপাদানও কম ক্ষতিকর নয়। কোমল পানীয় মোটেও উপকারী নয়, এটি মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে। গবেষকদের দাবি, একটি ৫০০ গ্রামের কোমল পানীয়ের বোতলে ১৭০ ক্যালরি সোডা ও ১৫ চামচ চিনি ব্যবহার করা হয়, যা ক্ষুধামন্দা, অবসাদ, হার্ট অ্যাটাক, দাঁতের ক্ষয় এবং বন্ধ্যাত্বের মতো রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। কেবল তাই নয়, লিভার সিরোসিস, হাঁপানিসহ ফুসফুসের নানা জটিল রোগ, ওজন বেড়ে যাওয়া, পাকস্থলীতে ক্যান্সারসহ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকগুণ বেড়ে যায় কোমল পানীয় গ্রহণের ফলে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন ‘কোমল পানীয় পানে সাময়িক তৃষ্ণা মেটে, সাময়িক শান্তি হয়তো হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী বিবেচনায় এর প্রতিক্রিয়া সাংঘাতিক। কোনওভাবেই এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত রিফাইন সুগার মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘অনেকে মনে করে থাকেন কোমল পানীয় হজমে সাহায্য করে। কিন্তু মানব শরীর খাবার হযমের জন্য প্রয়োজন হয় সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। অথচ কোমল পানীয় গ্রহণ করার সময় এর তাপমাত্রা থাকে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর খাবারের পরপরই যখন একেবারে ফ্রিজ থেকে বের করা কোমল পানীয় পান করা হয়, তখন হজমে সাহায্য তো দূরে থাক, সেটি ভেতরে পচন ধরায়।’ তিনি অারও বলেন, যাদের হার্টে সমস্যা, কোলেস্টরেল বেশি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, ওজন বেশি তাদের কোনওভাবেই কোমল পানীয় পান করা যাবে না। ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায় পশ্চিমা দেশগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এই কোমল পানীয়। আর এই অতিরিক্ত ওজন মানবদেহের সব রোগের অন্যতম উৎস।’ কয়েকটি বিদেশি জার্নালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কোমল পানীয় যেন বরফের মতো জমাট না বাঁধে, সেজন্য এতে ইথিলিন গ্লাইকোল নামের এক ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর। যারা অধিকমাত্রায় এই জাতীয় পানীয় পান করে থাকেন, তাদের কিডনিতে পাথর জমা হওয়ার হার প্রায় তিনগুন বেশি। আবার এসব পানীয়তে যে স্যাকারিন ব্যবহার করা হয়, তা মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আবু সায়ীদ বলেন, বাজারে যেসব কোমলপানীয় পাওয়া যাচ্ছে তা মানুষের ব্রেইন, কিডনি ও লিভারকে ক্ষতিগগ্রস্ত করে। ঝুঁকি থাকে স্ট্রোক ও ক্যানসারেরও। কোমল পানীয়গুলোতে এক ধরনের কার্বোনেটেড সুডা থাকে যা খেলে মানুষের উদরাময় হয় ও ক্ষুধামন্দা হয়। এছাড়া কোমল পানীয়গুলোতে স্যাকারিন ও এসপার্টেজের উপস্থিতির কারণে তা মানুষের ব্রেইনের নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, স্নায়ু দুর্বল করে ফেলে এবং মূত্রথলিতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কোমল পানীয়গুলোতে আরও আছে প্রিজারভেটিস নামক এক ধরনের কেমিক্যাল যা লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. এ এস এম এ রায়হান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, কোমল পানীয়তে থাকে অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি। যা লিভার বা যকৃতের জন্য বিপদজনক। লিভার ফ্রুক্টোজ থেকে ফ্যাট বা চর্বি তৈরি করে। ফ্রুক্টোজ এক ধরণের শর্করা বা চিনি জাতীয় খাবার। অতিরিক্ত পরিমাণ পরিশোধিত চিনি এবং উচ্চ মাত্রার ফ্রুক্টোজ সম্বলিত সিরাপ লিভারে এক ধরণের চর্বির প্রলেপ তৈরি করে, যা থেকে পরবর্তীতে লিভারে রোগ তৈরি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শর্করা ও চিনি জাতীয় খাবার লিভারের জন্য অ্যালকোহলের মতই বিপদজনক। কোমল পানীয় হিসেবে অামরা টাকা দিয়ে কিনে যা তৃপ্তির সঙ্গে পান করছি তা কতোটা ক্ষতিকর তা হয়তো অামরা সরাসরি টের পাই না। কিন্তু চাইলে কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া যায়। এক চুমুক কোলা যদি এক ঘণ্টা ধরে মুখের ভেতরে রাখেন তাহলে দেখবেন দাঁতগুলো হলুদ হয়ে গেছে। আবার টয়লেট ক্লিনার হিসেবে কোক ঢেলে এক ঘণ্টা পর ওয়াস করলে দেখা যাবে, অন্যান্য ( বাজারে পাওয়া যায় এমন, হারপিক জাতীয়) টয়লেট ক্লিনারের চেয়ে সেটি বেশি পরিষ্কার করেছে। তাছাড়া ব্যাটারি বা লোহা জাতীয় দ্রব্যে জং ধরা কাটাতে, কাপড়ে মাংসের ঝোল লেগে গেলে কোমমল পানীয় ব্যবহার করে দাগ দূর করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষামূলকভাবে দাবি করছেন, এক গ্লাস কোকের ভেতরে একটি দাঁত রেখে দিলে এক সপ্তাহ পর সেই দাঁতের অস্তিত্ব থাকবে না। ১৫ বছর ধরে গবেষণা করার পর সুইডিশ বিজ্ঞানীরা অারও বলেছেন, যারা প্রতিদিন ৩০০ মিলিলিটার কোমল পানীয় পান করেন, অন্যান্য মানুষের চেয়ে তাদের মূত্রথলিতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা ৪০ শতাংশ বেশি। বিজ্ঞানীরা প্রায় ৪৫ থেকে ৭৩ বছর বয়সী আট হাজার সুস্থ মানুষের ওপর ১৫ বছর ধরে গবেষণা চালান। এ সময় তাদের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণা শেষে যাদের মূত্রথলিতে ক্যান্সার হয়েছে, তাদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সুস্থ মানুষের খাদ্যাভ্যাস মিলিয়ে দেখা হয়। দেখা গেছে, যারা কোমল পানীয় পান করেননি, তাদের চেয়ে যারা পান করেছেন তাদের মূত্রথলিতে ক্যান্সার হওয়ার হার ৪০ শতাংশ বেশি। তবে কোমল পানীয়র সঙ্গে মূত্রথলির ক্যান্সারের কী সম্পর্ক তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেন নি তারা। এসএইচ/

ঢাবিতে সান্ধ্যকোর্সের দাপটে দিশেহারা নিয়মিত শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিন দিন বাড়ছে সান্ধ্যকালীর কোর্সের দাপট। সহজেই ঢাবির সনদ লাভের আশায় অনেকেই ভর্তি হচ্ছে এই কোর্সে। ভর্তি পরীক্ষা সহজ হওয়ায় তুলনামূলক অল্প মেধাবীরাও এখানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। এদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও ঢাবির সান্ধ্যকোর্সে নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো টিউশন ফি। বাড়তি আয়ের আশায় শিক্ষকরা নিয়মিত ব্যাচগুলোর চেয়ে সন্ধ্যাকোর্সে ক্লাস নিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ নিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। চাকরি বাজারে প্রতিযোগী বেড়ে যাওয়ায় তারা কিছুটা দিশেহারাও।

ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদে পকেট শূন্য গ্রাহকদের 

দেশের ব্যাংকগুলোতে শিল্প ও প্রস্তুতকারক খাতের মেয়াদি ও চলতি মূলধন ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও এ সুদহার কমানো হয়েছে। ব্যাংক ঋণে সুদ কমানোর এ স্রোতধারার উল্টো পথে ক্রেডিট কার্ডের সুদ হার। অন্যান্য ঋণে সুদ হার যখন ৯ শতাংশের নিচে, তখন ক্রেডিট কার্ডে সুদহার সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদের যাতাকলে ক্রেডিট কার্ডধারীদের পকেট শূণ্য করছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।      শিল্প ঋণের পাশাপাশি কোনো কোনো ব্যাংক এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের সুদও কমিয়ে ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। সম্প্রতি আইপিডিসি ফাইন্যান্স নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অথচ ঋণ কমানোর এ প্রভাব পড়েনি ক্রেডিট কার্ডে।ফলে ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার এখনও অনেক বেশিই রয়ে গেছে।   তবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রেডিট কার্ডের ঋণের সুদহার অন্যান্য ঋণের থেকে বেশি। ক্রেডিট কার্ডের সুদহার সহনীয় মাত্রায় রাখার জন্য গত বছরে মে মাসে ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের সঙ্গে আরো ৫ শতাংশ যোগ করে ক্রেটিট কার্ডের ঋণের সুদহার নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে ব্যাংকগুলোর চাপে ওই বছরের আগস্টে ওই নির্দেশনা বদলে বিদ্যমান ঋণের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদহারের সঙ্গে আরো ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে ক্রেডিট কার্ডের ঋণের সুদহার নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে এই নীতিমালা কার্যকর করতে বলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশণা পালন করা হলে বর্তমানে শিল্পঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ ডিজিট ধরে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হার হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। অথচ ব্যাংকগুলোতে এখন ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারসহ কয়েক ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। এই ব্যাংকটির ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা কার্ডের বিপরীতে কোনো ঋণ নিলে বছরে সুদ দিতে হবে ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি ও বার্ষিক ফিসহ অন্যান্য ফি এবং এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বা মূসক তো রয়েছেই। ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ঋণের বার্ষিক সুদহার ২৭ শতাংশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ঋণের বার্ষিক সুদহার ২১ থেকে ২৩.৫০ শতাংশ (কার্ড ভেদে)। দি সিটি ব্যাংকের ভিসা ক্রেডিট কার্ডের ঋণের সুদ মাসে ২.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই ব্যাংকটির ভিসা ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ নিলে বছরে ৩০ শতাংশ হারে ১০০ টাকা সুদ দিতে হবে ৩০ টাকা। ব্যাংকটির আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের ঋণের মাসিক সুদহার ২.২৫ শতাংশ। অর্থাৎ আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ নিলে বছরে ১০০ টাকায় সুদ গুনতে হবে ২৭ টাকা। এ ছাড়া এই কার্ড ব্যবহার করে কিস্তিতে পণ্য কিনলে সমান মাসিক কিস্তির (ইএমআই) জন্য বার্ষিক সুদ গুনতে হবে ১৭ শতাংশ হারে। ইস্টার্ন ব্যাংকের সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডের ঋণের সুদহার মাসিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এই ব্যাংকটির ক্রেডিট কার্ডধারীদের ঋণের বিপরীতে বছরে সুদ গুনতে হবে ২৪ শতাংশ হারে। এই ব্যাংকটি সমান মাসিক কিস্তির ঋণে কোনো সুদ আরোপ করে না। যমুনা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ১৫ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১৮ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ২৪ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ২৫ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ২৭ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডধারীদের। দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী মুসলিমা করিম। তিনি সুদের এ উচ্চ হারে ক্ষোব প্রকাশ করে বলেন, ১ পয়সাও লিমিট ক্রস করলে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা ‘ওভার লিমিট ফি’, আবার লাস্ট ডেট ছুটির দিন হলেও ‘লেটপেমেন্ট ফি’সহ নানা রকম হিডেন চার্য। নানা অজুহাতে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সুদ হারের এ তালবাহনার ঋণ ‘মরণ ফাঁদ’ ছাড়া আর কিছুই না। লাস্ট ডেট ছুটির দিন হলেও পরের অফিস ডেতে লেটপেমেন্ট ফি ছাড়া বিল পরিশোধ করা যায় না। সবচেয়ে বড় ধরনের ধোঁকাবাজি। বহু কষ্টে এর থেকে বের হতে পেরেছি। উচ্চ সুদ হার থেকে রক্ষা পেতে আমি কার্ডটি এরই মধ্যে ফিরিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা থাকা দরকার। তা না হলে গ্রাহকরা এভাবে ঠকতেই থাকবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চুষে নিজেদের পেট ভরবে।    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবীদ ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের শিল্প বা উৎপাদনমুখী খাতের ঋণে সুদ হার আর ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার এক হবে না, ক্রেডিট কার্ডে একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু সেটা খুব বেশি হলেই আপত্তিকর। ব্যাংক সংশ্লিষ্টে এসব অযাচিত বিষয়ের নিয়ন্ত্রণকারী বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার বেশি মনে হলে তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেষণা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশ্য সুদের পাশাপাশি যদি হিডেন চার্জ নিয়ে তফসিলি ব্যাংকগুলো কোন অনিয়ম করে, তবে ভুক্তভোগীদের উচিত হবে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ দেয়া। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও উচিত হবে অভিযোগ অনুযায়ী কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।   বেসরকারি স্ট্যান্ডার্ন্ড ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমান স্বতন্ত্র পরিচালক) মো. নাজমুস সালেহীন বলেন, ক্রেডিট কার্ডে সুদহার আসলেই অনেক বেশি। এটা আমিও স্বীকার করি।তবে এটাও সত্য যে ক্রেডিট কার্ড সমাজের বিত্তবানরাই ব্যবহার করেন। এ কার্ডের ঋণ উৎপাদনমুখী কোন খাতের নয়। তাছাড়া ক্রেডিট কার্ডে একজন গ্রাহককে সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। আর শিল্প ঋণে ৫ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। উভয় ঋণ হিসাবে রাখতে খরচ একই হয়। অথচ ক্রেডিট কার্ডে স্বল্প ঋণের কারণে সুদ কম হয়।সব মিলিয়ে ব্যাংকের খরচ পোশাতে ক্রেডিট কার্ডে সুদ বেশি হয়। তবে এটা বর্তমানের চেয়ে কমানো উচিত বলে আমি মনে করি।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার উৎপাদনমুখী খাতে দেওয়া ঋণে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে কমানোর কথা বলেছেন।যদিও এখনও তা সব ব্যাংকে কমেছে কিনা প্রশ্নসাপেক্ষে। এখন কথা হলো ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদ হার অন্য ঋণে সুদহারের তুলনায় বেশি। এই বেশিটা এতো বেশি, যে পৃথীবীর সব দেশকেও টপকে গেছে। এটা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়াতে হবে। তবে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলো অনেক ধরনের ঋণের সুদহার কমিয়েছে। তার পরও কোনো কোনো ঋণের সুদহার ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বিদ্যমান ঋণের মধ্যে যেটা সর্বোচ্চ হার সেই হারের সঙ্গে ৫ শতাংশ যোগ করে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণ করতে। ব্যাংকগুলো সেটাই করছে। তিনি বলেন, ক্রেডিট কার্ড মূলত কেনাকাটার জন্য দেওয়া হয়। এটা দিয়ে একজন গ্রাহক ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনা সুদে ব্যাংকের টাকায় কেনাকাটা করতে পারে। কেউ যদি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ করতে চায় তাহলে তাকে একটু বেশি সুদ দিতে হবে। সারা বিশ্বেই ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বেশি। আরকে//এসি                                                                                                                                                                          

ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর-চিকনগুনিয়া-ডেঙ্গু: চিকিৎসকদের পরামর্শ

রাজধানীর বাংলামোটরের বাসিন্দা তাহমিনা আক্তার (৩২) হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। সঙ্গে তার বমি, মাথা ও শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা। সোমবার সকালে তার জ্বরের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ ডিগ্রিতে। পরে স্বজনরা নাহিদাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার একজন চিকিৎসক রোগের লক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, চিকনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এ নারী। চিকিৎসক তাকে ওষুধ প্রেসক্রাইব করে বাসায় পাঠিয়ে দেন। গল্পের শেষ এখানেই নয়। তার পরিবারের সবাই ক্রমান্বয়ে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তাহমিনার আক্রান্ত হওয়ার দু’দিন পর তার ছোট ভাই ফারুক একই রকম জ্বরে আক্রান্ত হয়। কিছু সময় পর পর জ্বরের মাত্র বাড়তে থাকে। জ্বর না কমায় তাকে রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ধরা পড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। গণমাধ্যম কর্মী রিজাউল করিম গত ৩দিন ধরে জ্বর আক্রান্ত সঙ্গে বমি হচ্ছে। মাঝে মাঝে জ্বরের মাত্র ১০৩ডিগ্রি ছাড়াচ্ছে। ডাক্তার দেখে্ কিছু ওষুধ দেন। তার জ্বর কমছে না। পরে ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ধরা পড়ে ভাইরাস জ্বর। শুধু নাহিদা আক্তার, ফারুক, রিজাউল নন, তাদের মতো আরও অনেকেই হঠাৎ করে ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় গেলে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তদের লম্বা লাইন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোজ কম করে হলেও দুই শতাধিক রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তার দেখাতে আসছেন। জ্বরের বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, অবহেলা না করে প্রয়োজনমতো বিশ্রাম ও ওষুধ সেবন করলে মুক্তি মিলবে এই রোগ থেকে। বৃষ্টিবাদলের এই সময়ে জমে থাকা জলে মশা বিস্তার লাভ করায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। বেশিরভাগ রোগী দ্রুত সুস্থ্য হলেও, চিকিৎসকরা বলছেন, চিকনগুনিয়ার জীবানু কিছু রোগীর শরীরে বয়ে বেড়াতে হয় সারা জীবন। চিকিৎসকরা বলছেন, এডিস মশার অবাধ বিচরণই চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু বিস্তারের মূল কারণ। আক্রান্ত হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবনের পরামর্শ তাদের।   চিকিৎসকরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনও এসব রোগের জন্য অনেকাংশেই দায়ী। তাই এর বিস্তাররোধে নীতিনির্ধারকসহ সর্বস্তরের মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ তাদের। পরিসখ্যান বলছে চলতি বছর এই জ্বরে গত রোববার পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৩৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন। তাদের একজন শক সিন্ড্রোমে মারা গেছেন। বাকি চারজন হেমোরেজিক (রক্ত বের হয়ে মৃত্যু) হয়ে মারা গেছেন।   করনীয় ভাইরাস জড়িত জ্বরের বিষয় জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, ভাইরাস জ্বর সাধারণত তেমন কোনো ভয়াবহ রোগ নয়। তাই এই জ্বরে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই জ্বরের জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক জরুরি নয়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খেলেই হয়। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম প্রয়োজন। ভাইরাস জ্বর হলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও জিঙ্কযুক্ত খাবার প্রাধান্য দিতে হবে। সাবধানে চলাফেলা করতে হবে। গরম এড়িয়ে চলতে হবে। পরিশ্রমের কারণে শরীরে ঘাম দেখা দিলে অবশ্যই পরিস্কার করতে হবে। যাদের অধিকাংশ সময় বাড়ি ও অফিসের বাইরে থাকতে হয় তারা অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করবেন। পোষাক হতে হবে অবশ্যই আরামদায়ক ও ঢিলেঢলা। যাতে খুব সহজে শরীরের ঘাম বের হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা শ্রমিক, বাচ্চা এবং বয়স্কদের বাড়তি সর্তক থাকতে হবে। এছাড়া রাস্তার খোলা খাবার পরিত্যাগ করে হবে সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব হলে বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে হবে। তবে যারা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হবে তাদের অবশ্যই কিছুক্ষণ পরপর শরীর পাতলা গামছা বা কাপড় দিয়ে স্পঞ্জ করতে হবে ও মাথায় পানি দিতে হবে। শরীর গরম হলেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ওষুধ খেতে হবে। জ্বর আক্রান্ত স্থায়িত্বকাল ৪-৫ দিন। তবে জ্বরের তীব্রতা বাড়লে অবশ্যই ডাক্তারের পরার্মশ নিতে হবে। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজনে জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ খেতে হবে। গিঁটের ব্যথার জন্য গিঁটের উপরে ঠাণ্ডা পানির স্যাঁক এবং হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে প্রাথমিক উপসর্গ ভালো হওয়ার পর যদি গিঁটের ব্যথা ভালো না হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। কোনো কারণে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। টিআর/ এআর    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি