ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ১১:৩০:৫৫

মাদকাসক্তির কারণে জন্ম হচ্ছে অস্বাভাবিক শিশুর   

মাদকাসক্তির কারণে জন্ম হচ্ছে অস্বাভাবিক শিশুর   

একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে তখন পুরো পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। খুশির আভা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একজন মাদকাসক্তের পরিবারে যখন কোনো সন্তান আসে তখন খুশি রূপ নেয় বিষাদে। দু’চোখে দেখা দেয় জমাট বাধা অশ্রু।  একজন মাদকসেবীর মাদক নেওয়ার কারণে তার শরীরের কোষগুলোর পরিবর্তন ঘটে যায়। হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সর্বোপরি মাদকের নীল বিষ ছড়িয়ে পড়ে তার সন্তানের ওপরেও। ফলে মাদকসেবীদের সন্তান অ্যাবনরমাল বা অস্বাভাবিক হয়ে জন্ম নিচ্ছে। একুশে টিভি অনলাইনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন সব তথ্য।     রুখসানা বেগম (ছদ্দ নাম) থাকেন রাজধানীর বেগুনবাড়িতে। পারিবারিকভাবেই তার বিয়ে হয়। স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত। সে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে। তার দাবি, স্বামীকে মাদক থেকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু ফেরানো সম্ভব হয়নি। দেড় বছরের মাথায় বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। তিনি বাবার বাড়ি চলে আসেন। এরপর সে প্রতিশ্রুতি দেয় মাদক ছেড়ে দেবে। কয়েক দিন ঠিক থেকে আবার শুরু করে। এ নিয়ে পরিবারে সুখ বলতে আর কিছুই থাকে না। এর মধ্যে সংসারে একটি পুত্র সন্তান আসে। রুখসানার মতে, তার কপাল এত খারাপ যে সন্তানটি কিছুটা অস্বাভাবিক বা অ্যাবনরমাল হয়ে জন্ম নেয়। রুখসানা বলেন, ‘‘সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ভেবে ছিলাম অন্তত একটা অবলম্বন পেলাম। কিন্তু আমার দুঃখ আরও বেড়ে গেল। সন্তানটি স্বাভাবিক নয়। ডাক্তার বলেন মাদকের প্রভাব সন্তানের ওপর প্রভাবিত হয়ে এমনটি হতে পারে।’’    বিয়ের আগে রোখসানা জানতেন না তার স্বামী মাদকাসক্ত। যখনই জানতে পারেন তার স্বপ্নময় জীবনটি একেবারে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে তার গায়েও হাত তুলে মাদকাসক্ত স্বামী। অন্ধকার রাতে তার অব্যক্ত কষ্টের হাহাকার কেউ দেখতে পায় না। এভাবে অসংখ্যা মাদকাসক্তের পরিবারে জন্ম নিচ্ছে অ্যাবনরমাল বা অস্বাভাবিক শিশু।   পারভিন সুলতানা (ছদ্দ নাম) থাকেন বাড্ডা। বিয়ের পরই তিনি জানতে পারেন স্বামী মাদকাসক্ত। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। স্বামীকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন মাদকাসক্ত কেন্দ্রে চিকিৎসাও করিয়েছেন। কিন্তু এরপরও সে মাদক ছাড়তে পারেনি। এর মাঝে তাদের কোল জুড়ে একটি ছেলে সন্তান আসে। কিন্তু ছেলেটি কিছুটা অস্বাভাবিক।     পারভিনের ভাষায়, ‘‘আমি জানিনা কেন এমন হলো। আমার বাচ্চাটা কিছুটা অ্যাবনরমাল মনে হচ্ছে। তার চিকিৎসা করাচ্ছি। ডক্তার বলছেন সমস্যা সেরে যাবে।’’  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো মাদকে যারা আসক্ত হচ্ছে তাদের শরীরে এক ধরনের  পরিবর্তন ঘটে। যা তার সন্তানের ওপর প্রভাবিত হয়। মাদকে শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। প্রজননক্ষমতার বিকাশকে ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত করে। মাদকের প্রভাবে সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বা অস্বাভাবিক হয়ে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি।             স্বামী বা স্ত্রী মাদকাসক্ত হলে সন্তান কেন অ্যাবনরমাল হবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ডা. তাজুল ইসলাম একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘‘গর্ভাবস্থায় কোনো মা যদি মাদক সেবন করে তখন সেটা ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করে। এর প্রভাব সরাসরি সন্তানের ওপর পড়ে। আর বাবা যদি মাদকসেবী হয় এ ক্ষেত্রে বিকলাঙ্গ বা অ্যাবনরমাল শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মাদক সেবনের কারণে মা বা বাবার শরীরের কোষগুলো পরিবর্তন হয়ে যায়। এটা সন্তানের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পরিবারে ঝগড়া, মারামারি, অশান্তি এসব সন্তানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে সন্তানও অনেক ক্ষেত্রে এ কারণে মাদকাসক্ত হয়ে যায়।’’    বর্তমানে সারাদেশে ছেয়ে গেছে মাদক। মাদকের এই ভয়াল গ্রাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ। যারা আজকে মাদকে আসক্ত তারাই জন্ম দিবে আগামী প্রজন্ম। সেই প্রজন্ম যদি সুস্থভাবে গড়ে না ওঠে তাহলে পুরো জাতিই অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাবে।   বিভিন্ন রিহ্যাবিলিটি সেন্টার ও মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ঘুরে জানা যায়, মাদকসেবীদের সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বা অস্বাভাবিক হয়ে জন্ম নিচ্ছে। তাদের কাছে এ রকম অনেক রোগী আসেন যাদের সন্তান অ্যাবনরমাল। তারা জানান, আমাদের কাছে অনেক মাদকসেবী আসেন যাদের সন্তান অস্বাভাবিক। এ ধরনের ঘটনা দিনকে দিন বাড়ছে। অস্বাভাবিক সন্তান জন্মের হার বাড়ছে। আগে আমরা এসব বিষয়ে জানতে না পারলেও এখন অনেকে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। এ রকম একটি মাদক সেবাকেন্দ্র হলি লাইফ। এর ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমাদের এখানে অসংখ্যা রোগী রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে এদের মধ্যে যারা বিবাহিত তাদের কারো কারো সন্তান অস্বাভাবিক এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে। প্রায়ই এ ধরনের রোগী আমাদের কাছে আসছে। বাবার মাদক সেবনের কারণে এর প্রভাব সন্তানের ওপর পড়েছে বলে আমি মনে করি।      একই ধরনের কথা বলেন ‘অর্জন’ মাদকাশক্তি চিকিৎসা ও পূণর্বাসন কেন্দ্রের কেইস ম্যানেজার রিয়াদ রহমান। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে যারা মাদকাসক্ত তাদের সন্তান প্রতিবন্ধি বা অস্বাভাবিকভাবে জন্ম নিচ্ছে এটা সঠিক। আমাদের কাছে এ ধরনের অনেক রোগী আছে। তারা চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেকে গোপনে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এক সময় মানুষ এসব বিষয়ে পরার্মশ করতে লজ্জা পেত। এখন অনেকে সচেতন তারা যে কোনো সমস্যা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। সন্তানের অস্বাভাবিকতা নিয়েও কিভাবে সুস্থ করা যায় এ নিয়ে পরামর্শ করছেন।’’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘প্রশান্তি’র এডমিন ফারুক রহমান মিন্টু বলেন, আমার এখানে ৪/৫ জন রোগী আছেন যাদের সন্তান অ্যাবনরমাল। এ ধরনের সমস্যা এখন দিনকে দিন বাড়ছে। মাদক তৈরির কেমিক্যাল পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে এটা বেশি ক্ষতি করছে। এক সময় মাদক শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতো আর এখন এটা ব্রেনের ওপর বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।’’         মাদক নেওয়ার ফলে এর প্রভাব সন্তানের ‍ওপর পড়ছে। সন্তান অস্বাভাবিক হচ্ছে   বাংলাদেশে এর কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘বর্তমানে বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা দেখি মাদকাসক্তদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মা-বাবা যদি মাদক সেবন করে, তাদের কারণে সন্তানের মধ্যে জার্ম বা ক্ষতিকর একটা প্রভাব প্রবেশ করে। যার কারণে সন্তানের মধ্যে কিছুটা অ্যাবনরমালিটি বা অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। এবং এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মাদক নেওয়ার কারনে অস্বাভাবিক সন্তান হতে পারে। তবে আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই। উন্নত দেশগুলোতে এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়।’’    বিষয়টির আরও গভীর অনুসন্ধানের জন্য যাওয়া হয় তেজগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে। সেখানকার নিরাময় কেন্দ্রের রেসিডেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট, ডাক্তার মো. রাহেনুল ইসলাম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘‘মা যদি মাদকে আসক্ত হয় তাহলে এটা সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর কারনে সন্তান খর্বকায় হয়ে যায়, সন্তানের খিচুঁনি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি হতে পারে, সন্তানের মধ্যে অস্থিরতা বেশি থাকে, অস্বাভাবিক সন্তান হয়। এছাড়া পরিণত বয়সে মা যদি অ্যালকোহল নেয় তাহলে সন্তান ৪০-৬০ ভাগ থাকে যারা মাদকাসক্ত হবে। আর বাবার মাদক নেওয়ার কারনেও একই ধরনের প্রভাব তৈরি হয়। পিতা মাতা মাদক নিলে পরিণত বয়সে সন্তানের মাদক নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মা বা বাবার মাদক নেওয়ার ফলে স্পার্ম এর পরিবর্তন ঘটে। যা পরবর্তীতে সন্তানকে আক্রান্ত করে।’’   ‘‘আর একটা বিষয় মা-বাবা যদি সব সময় একে অপরকে গালাগাল করে, সেটা সন্তানের ওপর পড়ে। এই আচরণগুলো পরবর্তীতে জেনেটিক্যালি তার মধ্যে প্রভাবিত  হয়।’’ বললেন ডাক্তার মো. রাহেনুল ইসলাম।    বর্তমানে আমাদের সমাজে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী মুখগুলো মাদকের বিষে নীল। এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতি একদিন মেধা শুন্য হয়ে যাবে। তাদের মাধ্যমে যে সন্তানগুলো জন্ম হবে তারা কোনো না কোনো ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসবে। যারা সমাজের কান্ডারি হওয়ার কথা তারা হয়ে ওঠবে বোঝা হিসেবে।   এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নাসরিন ওয়াদুদ। তিনি ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক ঢুকে গেছে। এর জন্য কে দায়ী? দায়ী হলো এই সমাজের কিছু প্রভাবশালী মানুষ। যারা মাদক ব্যবসা করে নিজেরা কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে। তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আইন তাদের কিছুই করতে পারে না। আমি মনে করি এদের এখন থামানো উচিৎ। যত বড় ক্ষমতাধরই হোক জাতিকে, যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সীমান্ত দিয়ে যাতে মাদক আসতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’’     /এসি/
সান্ধ্যকোর্সে পকেট ভারি শিক্ষকদের, অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের

গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই মূলত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু হয় সান্ধ্যকালীন কোর্স। আগে সীমিত পরিসরে চালু হলেও দিন দিন এর ব্যাপকতা বাড়ছে। আগে বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিপ্লোমা কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স করানো হতো। তবে এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ বিভাগেই চড়া টিউশন ফিতে ওইসব কোর্সের পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন মার্স্টার্স কোর্সের ব্যবস্থা আছে। এতে একদিকে যেমন যথাযথ শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে কোর্স ফি’র টাকাও যথাযথ খাতে ব্যয় হচ্ছে না। দিনের পর দিন এমন অসচ্ছতা চলতে থাকলেও যেন দেখার নেই কেউ। এদিকে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ বাড়লেও সান্ধ্যকালীন শিক্ষকদের মুখে তৃপ্তির ঢেঁকুর। কারণ শিক্ষার্থীদের পকেট কাটা গেলেও তাদের পকেট তো ঠিকই ভারি হচ্ছে।

ইফতার-সেহরী : রেস্তোরাঁ নির্ভরতা বাড়ছে নগরবাসীর

পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র করে হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্ভরতা বাড়ছে নগরবাসীর। একসময় পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ বাসা-বাড়িতে ইফতার-সেহরি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। সময়ের বিবর্তনে সে রীতিতে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। এখন নগরবাসী আয়েশ করে মুখোরোচক খাবার খেতে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভিড় জমান। এটি এক ধরনের বিনোদনেও পরিণত হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন কখনও বন্ধুরা মিলে কখনও পরিবারের সঙ্গে সেহরির স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে শেষ রাতে ছুটে যাচ্ছেন নগরীর নামকরা হোটেল-রেস্তোরাঁয়। ভোজনপিপাসু মানুষের এমন চাহিদার কথা মাথায় রেখে পুরান ঢাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় ইফতার-সেহরির সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরান ঢাকায় ২০০ থেকে ২৫০ হোটেল রেস্তোরাঁয় ইফতার-সাহরি পরিবেশন করা হচ্ছে। রোজা যত বাড়ছে রাতে সাহরিতে জনতার ভিড় তত বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকে রেস্তোরাঁ মালিক গলাকাটা দাম রাখছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলিফ্যান্ট রোডের ধানমন্ডি স্টার কাবাবের সহযোগী ম্যানেজার মো. রিপন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, নগরবাসীর চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা প্রতিবছর ইফতার-সাহরি পরিবেশন করি। গত বছরের তুলনায় এবার সেহরিতে রোজাদারদের খানাপিনা বেড়েছে। প্রতিনিয়ত আমাদের এখানে ১৫০ জনের উপর সেহরি খায়। এছাড়া বাসায় ছেলে-মেয়েরা খেতে চাইলেও এখান থেকে পার্সেল নিয়ে যায়। গরুর মাংস বাদে সাহরিতে স্টারের নিয়মিত মিলবে সব খাবার। জনপ্রতি মাছ-ভাত খেলে খরচ ২৩০ টাকা, মাংস-ভাত ১৫০ টাকায়। বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় সেহেরির আয়োজনের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকার অধিকাংশ হোটেল-রেঁস্তোরায় ইফতার-সাহরি খেতে আসা মানুষের ঢল নামে। এ ব্যাপারে কথা হয় পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের আফতাব রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আফতাবের সঙ্গে। একুশে টিভি অনলাইনের এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালের কাছে তাদের রেস্তোরাঁ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভিড় বেশি। এছাড়া ২০ রমজানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অধিকাংশ হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখানে সেহরি খেতে আসেন। এ হোটেলে সারা বছরই প্রতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে (১৭ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত) উটের মাংসের ভুনা খিচুড়ির ব্যবস্থা থাকে। তাদের এখানে সাহরিতে বিরিয়ানি, তেহারি, মোরগ পোলাও কাচ্চি বিরিয়ানি আর চিকেন বিরিয়ানি নগরবাসীর সব শ্রেণীর মানুষের কাছে অতি পরিচিত। তেহারির সর্বনিম্ন দাম ৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি ১ প্লেট ঊর্ধ্বে ২২০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ১৭০ টাকা। চিকেন বিরিয়ানি ১ প্লেট ২০০ টাকা, মোরগ পোলাও ১ প্লেট ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া  উটের মাংসও মিলে এখানে। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ইফতার ও সেহরিতে ভিড় বেশি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে রাজধানীর বেশকিছু হোটেল-রেস্তোরাঁ সেহরির ও মজাদার ইফতারের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাবের বনানী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, জয়কালী মন্দির, এলিফ্যান্ট রোড, জনসন রোড, ধানমন্ডি-২, মগবাজার ও গুলিস্তান শাখায় আছে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা। এছাড়া সেহরির আয়োজনে আলাউদ্দিন রোড, ঠাটারিবাজার, রায়সাহেব বাজার, চানখাঁরপুল, নাজিরাবাজার ও বংশাল এলাকার আল-ইসলাম, কালামস কিচেন, ঘরোয়া, ক্যাফে ইউসুফ, কামাল হোটেল, মামুন বিরিয়ানি, নাজিরিয়া, রাজধানী ও সোহাগ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের বেশ নামডাক আছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আতিক জানান, পরিবারের সবাই একসঙ্গে সেহেরী খাওয়া অন্য রকম স্বাদ। আর এখন রেস্‌টুরেন্ট একটু সময় ঘুরাঘুরি হলো। আতিকের স্ত্রী সুমিও যোগ করেন, বছরে এক মাস রোজা। এই মাসে একটা দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে রেস্তোরাঁয় সেহরি করার স্বাধ-ই আলাদা। সেহরির আয়োজন নিয়ে লালবাগের রয়েল হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট ব্যবস্থাপক আমিন বলেন, সেহরিতে আমরা মানসম্পন্ন খাবার পরিবেশন করছি। স্বাদ একই আছে। সেহরির খাবারে ভারী মসলার ব্যবহার কমানো হয়েছে। খাবার স্বাস্থ্যকর করতে আমরা বিশেষ খেয়াল রাখছি। নতুন ঢাকার অনেক রেস্তোরাঁও আছে সেহরির ব্যবস্থা। কম টাকায়  মানসম্মত খাবার পাওয়া যায়। এর মধ্যে গ্লোরিয়া জিনসের গুলশান-১, ২ ও ধানমন্ডি শাখায় পাবেন মাটন রেজালা, আচারি বিফ এবং ফিশেন মাস্টার। সঙ্গে ভাত আর সবজি। জনপ্রতি খরচ ৬৩২ টাকা। বনানীর হোটেল সেরিনায় তাদের তৈরি করা খাবারের পাশাপাশি পছন্দের খাবারের ফরমায়েশও দেওয়া যাবে। জনপ্রতি খরচ ১ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া রাজধানীর নামি-দামি হোটেলের মধ্যে ওয়েস্টিন খাজানা পান্থশালালা মেরিডিয়ান ৫ শত থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা মধ্যে সেহেরির ব্যবস্থা করেছে| এদিকে কেউ কেউ আবার সেহরি খেতে চলে যাচ্ছেন পদ্মা নদীর মাওয়া ঘাটে। সাদা ভাত, ভর্তা, ইলিশসহ নদীর অন্যান্য মাছ ও মাংস দিয়ে সারছেন সেহরির আহার। সেখানকার একটি রেস্তারাঁয় সেহেরি খেয়ে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সজিব হাসান জানান, বন্ধুদের নিয়ে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেহরি খেতে পদ্মা নদীর মাওয়া ঘাটে খেতে যাই। এবারও গিয়েছিলাম ইলিশ ভাজা দিয়ে সেহরি খাওয়ার স্বাদ নিতে। / এআর /  

এখনো জমেনি ঈদের বাজার: আশাবাদী বিক্রেতারা

রোজা শেষ হলেই ঈদ। ঈদের আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে কেনাকাটা। ধনী গরীব নির্বিশেষে ঈদ উপলক্ষে কেনা কাটা করে থাকে। নিজ নিজ সামর্থের কেনা কাটায় বড় অংশ থাকে পোশাক। এবারো ঈদ উপলক্ষে পোশাকের বাজার কেমন জমেছে তা দেখতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। দুপুর একটা। বাইরে বৃষ্টি। এর মধ্যেও দেখা গেল যমুনা ফিউচার পার্ক- এর মেইন গেইটে মানুষের জটলা। মার্কেটের ভিতরে শুনশান নীরবতা হলেও কয়েকটি দোকানে দু`এক জন করে ক্রেতাকে ঘুরা ফেরা করতে দেখা গেল। তেমনি একজন ক্রেতা আবুল মনছুর। তিনি বাড্ডা এলাকায় থাকেন। পেশায় ডেইরি ফার্ম ব্যবসায়ী। আবুল মনছুর তার ৬ বছর বয়সী সন্তানের জন্য শার্ট, পাঞ্জাবী ও প্যান্ট কিনেছেন। বাকি কেনা কাটা কখন করবেন জানতে চাইলে তিনি বললেন, আরো কয়েকদিন যাক। ছেলে বায়না ধরেছে। তাই নিয়ে যাচ্ছি। তেমনি আরেকজন ক্রেতা মাহবুবুল আলম। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী।  অনেকগুলো প্যাকেট দেখা গেল তার হাতে। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, পরিচিত আত্মীয় স্বজন, বাসার কাজের লোকজনদের জন্য কিনে ফেললাম। আরো কিছুদিন যাক। তখন নিজেদের জন্য কেনাকাটা করবো। ♦জমে উঠেনি ঈদের বাজার ঈদের বাজার বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে পরিচিত দৃশ্য। শপিং মলগুলোতে নারী পুরুষের ভীড়, দরদাম, দোকানের কর্মচারীদের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা। তার ছিঁটে ফোঁটাও এখনো শুরু হয়নি রাজধানীর অভিজাত শপিংমল হিসেবে পরিচিত যমুনা ফিউচার পার্কে। বরং এক ধরনের শান্ত নিরিবিলি ভাব। কেন এমন অবস্থা জানতে চাইলে কে ক্রাফট- এর শোরুম ম্যানেজার আমানউল্লাহ খান বলেন, রোজা শুরু হয়েছে মাসের শেষের দিকে। মানুষের হাতে টাকা পয়সা নেই। বেতন বোনাস হয়নি এখনো। বেতন বোনাস হলে ক্রেতাদের চাপ বাড়ে। আমানউল্লাহ খান আরো বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেচাকেনা বাড়লেও এটাকে ঈদের বাজার বলা যায় না। তবে আগামী শুক্র ও শনিবার থেকে বেচা কেনা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। অনেকটা একই কথার পুণরাবৃত্তি করলেন অঞ্জন`স- এর যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার শো`রুম ম্যানেজার আবুল হাসনাত। তিনি বলেন, বেচা কেনা অন্য সময়ের চেয়ে ভালো। তবে ঈদের আমেজ নিয়ে এখনো বেচা কেনা শুরু হয়নি। সামনের শুক্রবার থেকে জমে উঠতে পারে। গত বছর এমন সময়ে বেচা কেনা কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর আরেকটু ভালো ছিল। তবে মাসের শেষ দিকে রোজা শুরু হওয়ায় মানুষ এখনো শপিং মুখী হচ্ছেনা। আড়ং যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার ম্যানেজার পারভীন শায়লা মিতা বলেন, রোজা রেখে মানুষের শপিং করার এনার্জী থাকে না। সাধারণত রোজার আগে বেচা কেনা যা থাকে রোজা শুরু হওয়ার পর প্রথম সাত আট রোজা পর্যন্ত তাও থাকেনা। পারভীন শায়লা মিতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দু`বছর আড়ং শবে বরাত থেকে তাদের ডিসপ্লে দিয়েছে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। আড়ং- এর বেশ কিছু নির্দিষ্ট ক্রেতা রয়েছে। তবে ঈদ উপলক্ষে নতুন ক্রেতাও যোগ হয়। পনের রোজার আগ পর্যন্ত দুপুরের আগে বেচাকেনা হলেও পনের রোজার পর থেকে ইফতারের পরেও বেচা কেনা হওয়া শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে বেচা কেনা কম কি না এমন প্রশ্নের জবাবে একমত হলেন না রঙ বাংলাদেশ- এর শোরুম ম্যানেজার মো. সুমন। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে যারা শপিং করতে আসে তাদের অনেকেরই গাড়ী আছে। বৃষ্টি এখানে বেচা কেনায় কোনো প্রভাব ফেলেনা। তবে এখনো মানুষ ঈদের আমেজ নিয়ে শপিং করতে বের হয়নি। পোশাকের জগতে অভিজাত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত জেন্টল পার্ক। যমুনা ফিউচার পার্কে জেন্টলপার্ক- এর যে শো রুমটি আছে তার ম্যানেজার এমডি মামুন সরকার। এখনো অফিসগুলো বেতন-বোনাস না হওয়ায় মানুষ শপিং করতে আসছে না এমন যুক্তি মানতে নারাজ তিনি। তার ভাষায়, অধিকাংশ ক্রেতার ধারণা সময় যতো যায়, বাজারে পোশাকের বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব ততো বাড়ে। তাই পনের রোজার পরেই মানুষ শপিং মুখী হয়। তাছাড়া প্রথম দিকের রোজাগুলোতে মানুষ আরাম আয়েশে কাটাতে চায়। ঘরে ইফতার করে। তাই এখনো জমে উঠেনি ঈদের বাজার। ক্যাটস আই-এর শোরুম ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সামনে কী হয় বুঝা যাচ্ছেনা। তবে এখনো অবস্থা খুব মন্দা। তার ভাষায়, রোজার আগেও ভালো বেচা কেনা হতো। কিন্তু প্রথম রোজায় বেচা কেনার অবস্থা খুব খারাপ। কয়েকবছর ধরে পোশাকের বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইনফিনিটি। প্রতিষ্ঠানটির যমুনা ফিউচার পার্ক শাখায় আলাপ হলো তাদের সহকারী ম্যানেজার শোভন-এর সাথে। শোভন আশা করছেন, দশ-বারো রোজার পর ক্রেতা সমাগম বাড়বে।   ♦পাঞ্জাবি ও শাড়ির চাহিদা বেশি পুরুষের জন্য ঈদ পোশাক মানেই পাঞ্জাবি। তবে পাশাপাশি শার্ট প্যান্টের চাহিদাও আছে। মেয়েরা কিনছে থ্রি পিস। কয়েকটি দোকানে কথা বলে দেখা গেল ওয়েস্টার্ন ড্রেস-এর চাহিদা ও আছে। যমুনা ফিউচার পার্কের দোকানগুলোতে থ্রি পিস এর মূল্য সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা। মেয়েদের কুর্তি বিত্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৭০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। স্কার্ট ও টপস পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন  এক হাজার ৫০০ টাকা সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকায়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা শাড়ির। শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৭০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। বাচ্চাদের নানা ধরণের পোশাক পাওয়া যায় সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। ছেলেদের বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি সর্বনিম্ন ১,৬০০ টাকা সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা। ছেলেদের ফরমাল শার্ট পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৯৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ২০০০ টাকা। ক্যাজুয়াল শার্টের মূল্য ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। ছেলেদের পলো শার্ট ৭৫০ টাকা থেকে ১৯৫০ টাকা। প্যান্ট (ডেনিম) ২৪৫০ টাকা থেকে ৩৫৫০ টাকা, প্যান্ট (গ্যাভার্ডিন) ২২০০ থেকে ৩২০০ টাকা। মেয়েদের ওয়েস্টার্ন ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে ১৩৫০ টাকা থেকে ১৭৫০ টাকায়, টিনএজ কালেকশন-এর সর্বনিম্ন মূল্য ১৪৫০ টাকা। বিভিন্ন পার্টি ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। মেয়েদের আকর্ষণীয় গাউন পাওয়া যাচ্ছে এখানে ৪ হাজার ৭৯০ টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৫০ টাকা। টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি