ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৫৩:১৮

আহসান হাবীবের জন্মশত বর্ষ উদযাপিত

আহসান হাবীবের জন্মশত বর্ষ উদযাপিত

স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে কবি আহসান হাবীবের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করেছে আবৃত্তি একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই উপলক্ষে শুক্রবার  সন্ধ্যা ৭ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলাও আবৃত্তি মিলনায়তনে আলোচনা আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে কবি আহসান হাবীবের কবিতা নিয়ে আবৃত্তি প্রযোজনা ‘এই দেশ এই মৃত্তিকা’ পরিবেশন করা হয়। আবৃত্তিশিল্পীরা নৈপুণ্যময় আবৃত্তির মাধ্যমে শ্রোতাদের শ্রুতি-অনুভবে এবং চোখের সামনে কবিতার রূপায়িত দৃশ্যকে উপস্থাপন করেন। আবৃত্তিশিল্পীরা আহসান হাবীবের জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশের সমাজ ও সাহিত্যের উপর তার প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কবি আহসান হাবীবকে নিয়ে চর্চা করতে উদ্যেগী হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।   অনুষ্ঠানে ‘আবৃত্তি একাডেমি’ সংগঠনের বাহিরে থেকেই এসেছিল আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীরা। / এআর /    
কবি আখতার হুসেনের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

বাংলা কবি ও ছড়াকার আখতার হুসেনের চিকিৎসার জন্য ৩২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আখতার হুসেনের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন শেখ হাসিনা। আখতার হুসেন দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড ক্যান্সারে ভুগছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, চেক গ্রহণ করে আখতার হুসেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তাকে আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলতে দেখা যায়। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছিলেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর উপস্থিত ছিলেন। ৫৫ জন লেখকের গল্প নিয়ে প্রকাশিত গল্প সংকলন ‘জনকের মুখ’ সম্পাদনা করেছেন আখতার হুসেন। আর/ডব্লিউএন

আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব নভেম্বরে

‘আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট ২০১৭’ আগামী ৯ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ৩ দিনব্যাপী এই উৎসব চলবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। উৎসব উপলক্ষে রোববার একটি অভিজাত হোটেলে বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শুধু অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে লোকসংগীতের এই মহোৎসব উপভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইরান, ব্রাজিল, মালী, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জাপান থেকে প্রায় ১৪০ জন লোকসংগীত শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন এবারের অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সান কমিউনিকেশনস্‌ লি:-এর চেয়ারম্যান, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ঢাকা ব্যাংক লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ইস্পাহানী গ্রুপের পরিচালক এমাদ ইস্পাহানী, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মিস ফারজানা চৌধুরী, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লি:-এর হেড অব মার্কেটিং মালিক মো. সাঈদ। লোকসংগীতের এই মহোৎসবে এবারের উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন- বাংলাদেশের শাহজাহান মুন্সি, আরিফ দেওয়ান, ফকির শাহাবুদ্দিন, শাহনাজ বেলী, শাহ আলম সরকার ও আলেয়া বেগম, বাউলা, বাউলিয়ানা।   এসএ/ এআর  

উদযাপিত হলো উদীচীর ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

উদযাপিত হল দেশের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রোববার বিকালে ঢাকার শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনের বাইরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রবীণ কৃষকনেতা কাজী সোহরাব হোসেন। ‘চলছি তো অবিরাম মানুষের মিছিলে, লড়ছি তো মুক্তির শপথে’ শ্লোগান নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উদ্বোধক কাজী সোহরাব হোসেন। এসময় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধন ঘোষণার পর সংগঠন সঙ্গীত ‘আরশির সামনে একা একা দাঁড়িয়ে’পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। এরপর শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। এ পর্বের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় সদ্যপ্রয়াত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী ও উদীচীর উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন মণ্ডলের জীবনীর উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ফায়ারম্যান’। প্রমাণ্যচিত্রটির গবেষণা ও নির্দেশনা দিয়েছেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ। প্রদর্শনী শেষে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সফিউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। আলোচক হিসেবে অংশ নেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, উদীচীর সাবেক সভাপতি কামাল লোহানী, শিল্পী আনোয়ার হোসেন, উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি মাহফুজা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। সব শেষে ছিলো বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।   এসএ/এআর

স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’র সফল মঞ্চায়ন

নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের দেশ-বিদেশে প্রশংসিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’-র মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত সৃষ্টি ‘চিত্রাঙ্গদা’-র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। এদিন প্রযোজনাটির ৫৫তম প্রদর্শনী হয়। রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্যরপে এবং ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে কাব্যনাট্য পান্ডুলিপি অবলম্বনে। আধুনিক সময়ে মানবের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবিরূপে রচিত কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপিত হয়- মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচার্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং ‘যৌবনের দেবতা’ বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুন এবারে যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে- অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়। একই সঙ্গে এতে প্রকাশিত হয় সেই অনিবার্য সত্য- বাহ্যিক রূপের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান নারী-পুরুষের চরিত্রশক্তি। ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, রানা, জেবু, সুমাইয়া, সামাদ, তানিয়া, ঊষা, শাওন, অর্ক, সম্রাট, আলী, বিপুল, সুকুমার, অনিন্দ্য, বিমল প্রমুখ। প্রসঙ্গত, স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি ২০১১-এ সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষযক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত হয়। এসএ / এআর

লোকসংগীত উৎসবে নিবন্ধন করার নিয়ম

আগামী ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব ২০১৭’। বনানীস্থ বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রোজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলবে এ আসর। এ আসরে আপনিও অংশ নিতে পারবেন। খুবই সহজে এবং বিনামূল্যে উৎসবটি উপভোগ করতে পারবেন। এ জন্য আপনাকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন করতে http://dhakainternationalfolkfest.com/ ওয়েবসাইটটি যেতে হবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধনের সময় বেশ কিছু কাগজ উপস্থাপন করতে হবে। এগুলো হলো- জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের নম্বর বা স্কুল/কলেজের ফটো আইডি কার্ড। রেজিস্ট্রেশন সফল হলে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশপ্রত্র প্রিন্ট করতে হবে। অনুষ্ঠানস্থলে ৩ দিনের জন্য ৩টি আলাদা এন্ট্রিপাস প্রদর্শন করতে হবে। ফেসবুকের ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট’ পেইজটিতে পাওয়া যাবে আয়োজনের সব তথ্য।   এসএ / এআর

শিল্পকলায় ‘স্মৃতি সত্তার ভবিষ্যৎ’

জাতীয় শিল্পকলায় আয়োজন করা হয়েছে ‘স্মৃতি সত্তার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রয়াত শিল্পী ও আলোকচিত্রশিল্পী স্মরণানুষ্ঠান। একাডেমির চারুকলা বিভাগের আয়োজনে ৪ দিনব্যাপী এ স্মরণানুষ্ঠান শুরু হয়েছে রোববার। প্রথম দিনে শিল্পাচার‌্য জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসানকে স্মরণ করা হয়। শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনের এই স্মরণানুষ্ঠান উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের স্মৃতিচারণ এবং তাদের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করেন অধ্যাপক বুলবন ওসমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন, জয়নুল-পুত্র শিল্প সংগ্রাহক মঈনুল আবেদিন, কামরুল হাসান তনয়া সুমনা হাসান। অনুষ্ঠানে শিল্পাচার্যের শিল্পসত্তা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিল্প সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ ও কামরুল হাসানের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হক। রেকর্ডে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে।   এসএ / এআর

‘বিনোদিনী’র ১২৪তম প্রদর্শনী

আবারও মঞ্চ মাতালেন মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফ। দীর্ঘ এক বছর পর ‘বিনোদিনী’নাটকের মাধ্যমে তিনি মঞ্চে উঠলেন। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এটির মঞ্চায়ন হয়। আধুনিক বাংলা নাট্যমঞ্চের প্রথম নারী অভিনেত্রী শ্রীমতি বিনোদিনী দাসীর লেখা আত্মজীবনীর আলোকে এর নাট্যরূপ দিয়েছেন সাইমন জাকারিয়া। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। শিমূল ইউসুফের মঞ্চে ফেরা প্রসঙ্গে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলেন। এ নাটকের মাধ্যমে শিমূল ইউসুফ আবারও মঞ্চে নিয়মিত হচ্ছেন। গতকাল ‘বিনোদিনী’ নাটকটির ১২৪তম প্রদর্শনী হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘বিনোদিনী’ বিশ্বনাট্য অলিম্পিকস ও আন্তর্জাতিক মনোড্রামা উৎসবে মঞ্চস্থ হয় এবং প্রশংসিত হয়। অন্যদিকে নাসিরউদ্দিন ইউসুফের নির্দেশনায় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত শেক্সপিয়রস গ্লোব থিয়েটারে মঞ্চায়িত বাংলা ভাষার প্রথম নাটক ‘দ্য টেম্পেস্ট’। আর এর অভিনেত্রী হিসেবেও শিমূল ইউসুফ বেশ আলোচিত।   এসএ / এআর

‘বিনোদিনী দাসী’ ও আমাদের শিমূল ইউসুফ

নাট্যসম্রাজ্ঞী বিনোদিনী দাসী। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক বেদনাবিধূর ইতিহাসের নাম। সেই ইতিহাস নিজের অভিনয়ে ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফ। অভিনয়শিল্পী, সঙ্গীতপরিচালক, কোরিওগ্রাফার, পোশাক পরিকল্পনাসহ অসংখ্য মনোমুগ্ধকর কাজের কারিগর তিনি। দীর্ঘ একবছর পর ‘বিনোদিনী’ নাটকের মাধ্যমে আবারও মঞ্চে উঠছেন এই মঞ্চ সম্রাজ্ঞী। আজ ২৯ অক্টোবর, সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটি মঞ্চায়ন হবে। ‘বিনোদিনী’ ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম নাটকের একটি। নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন শিমূল ইউসুফ। নাটকটির গবেষণা ও গ্রন্থনায় সাইমন জাকারিয়া, নির্দেশনা উপদেষ্টা অধ্যাপক সেলিম আল দীন, নির্দেশনায় নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। নাট্যসম্রাজ্ঞী বিনোদিনী দাসী যখন প্রতিভার মধ্য গগণে অবস্থান করেছিলেন ঠিক তখনই তিনি ছিটকে পড়েছিলেন অভিনয় জীবন থেকে। এই বিস্ময় নারীর জীবনের পরতে পরতে লেখা আছে বেদনার কাব্যগাথা। তিনি অন্ধকার থেকে আলোতে বের হয়ে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অন্ধকারের বিরুদ্ধে করেছিলেন বিদ্রোহ। নিজের প্রতিভা এবং কর্মক্ষমতা দিয়েই যে সমাজের নিষ্ঠুরতা অতিক্রম করা যায় না বিনোদিনী দেবী তার জ্বলন্ত উদাহরণ। নাট্যাচার্য গিরিশচন্দ্র ঘোষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, বাংলার নাট্যমঞ্চে প্রথম শ্রেণীর অভিনেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন এই বিস্ময় নারী। গিরিশচন্দ্র ঘোষ এবং তৎকালীন নাট্যজগতের সম্ভ্রান্ত আসনে নাট্যাভিনেতাদের সঙ্গে বিনোদিনীও লড়াই করে চলেছেন, বাংলার নাটককে, কীভাবে আরও সমৃদ্ধ আসনে দাঁড় করানো যায়। ঠিক তখনই এক বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি বিদায় নেন তাঁর বড় ভালোবাসা নাট্যাঙ্গন থেকে। তখন তার বয়স মাত্র ২৩। এ যেন নক্ষত্র পতন! তার এই আসা যাওয়ার ইতিহাস বড়ই বেদনার। সেই বেদনার কথাই উঠে এসেছে ঢাকা থিয়েটারের ‘বিনোদিনী’র মধ্যে। সেই বিনোদিনী দাসী, যে কিনা নাট্যসম্রাজ্ঞী, তৎকালীন সময়ে তিনি যে কাজটি পারেননি, তাঁর অবস্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফ পেরেছেন। মঞ্চে যতবার ‘বিনোদিনী’ নাটকটি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন শিমূল ইউসুফ প্রতিবারই তিনি জয় লাভ করেছেন। জয় করেছেন দর্শকদের হৃদয়। কারণ দর্শক হারিয়ে যাওয়া বিনোদিনীকেই দেখেছেন শিমূল ইউসুফের মধ্যে। ১৮৭৪ সালে বিনোদিনী ১২ বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে ওঠেন গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটার ‘শত্রুসংহার’ নাটকের মাধ্যমে। নাটকটিতে তিনি ধ্রুপদীর সখীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত গ্রেট ন্যাশনাল, বেঙ্গল, ন্যাশনাল ও স্টার থিয়েটারে তৎকালীন যাবতীয় শ্রেষ্ঠ নাটকের প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করে যশ লাভ করেন তিনি। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান। তার অভিনয় জীবনে মোট ৮০টি নাটকে ৯০টিরও অধিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আধুনিক বাংলা নাট্যমঞ্চের প্রথম সেই নারী অভিনেত্রী শ্রীমতি বিনোদিনী দাসীর লেখা আত্মজীবনীর আলোকে ‘বিনোদিনী’ নাটকের নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে। নাটক ‘বিনোদিনী’ একটি ইতিহাসের স্বাক্ষী। সেই ইতিহাস প্রজন্মের কাছে ধরে রেখেছেন আমাদের মঞ্চকুসুম। যিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা থিয়েটারে যোগ দেন। এখন পর্যন্ত তিনি ঢাকা থিয়েটারের ৩৪টির বেশি নাটকে অভিনয়শিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক, কোরিওগ্রাফার এবং পোশাক পরিকল্পনা, সহযোগী নির্দেশক ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজ করেছেন। ১৯৮১ সালে গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনকে সংগঠিত করতে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। শৈশব থেকে শিমূল ইউসুফ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত এবং গণসঙ্গীতে ওস্তাদ হেলাল উদ্দিন, পিসি গোমেজ, ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, শেখ লুৎফর রহমান, আব্দুল লতিফ, ওস্তাদ ইমামউদ্দীন এবং সুধীন দাসের কাছে দীর্ঘদিন তালিম নেন। তিনি আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যানিকেতন থেকে সঙ্গীতে ডিপ্লোমা লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক বিজ্ঞানে ডিগ্রি নিয়েছেন। রেডিও, টেলিভিশন ও মঞ্চের শিল্পী শিমূল ইউসুফ ১৯৭৪ সালে ঢাকা থিয়েটারে যোগদানের পর থেকে পুরোপুরি মঞ্চে নিজেকে নিয়োজিত করেন। পাশাপাশি শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের জীবনে শিমূল ইউসুফ দুই সহস্রাধিক নজরুল সঙ্গীত, গণসঙ্গীত- রেডিও, টেলিভিশন ও মঞ্চে পরিবেশন করেন এবং মঞ্চের ষোল শতাধিক মঞ্চায়নে সফল অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- মুনতাসীর, কসাই, চর কাঁকড়া, শকুন্তলা, ফণীমনসা, কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, চাকা, একাত্তরের পালা, যৈবতীকন্যার মন, মার্চেন্ট অব ভেনিস, বনপাংশুল, প্রাচ্য, বিনোদিনী, ধাবমান, নষ্টনীড়, দ্য টেম্পেস্ট সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। তাঁর একক অভিনয়ের নাটক ‘বিনোদিনী’ বিশ্বনাট্য অলিম্পিকস ও আন্তর্জাতিক মনোড্রামা উৎসবে মঞ্চস্থ হয় এবং ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। নাটকের প্রতি প্রেম এবং জীবনকে নাটকের জন্য উৎস্বর্গ করে দেওয়া বিনোদিনীর পরে মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। তা না হলে জীবনের এই প্রান্তে এসে যখন সবকিছু থেকে বিরোতি নেওয়ার কথা, তখনও মঞ্চে আলোছড়াতে প্রস্তুত আমাদের মঞ্চকুসুম।     এসএ/ এআর

বহির্বিশ্বে মূকনাটক ‘বীর পুরুষের গল্প’

প্যান্টোমাইম মুভমেন্টের নতুন প্রযোজনা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বীরপুরুষ কবিতা অবলম্বনে রিজোয়ান রাজনের রচনা ও নির্দেশনায় ‘বীরপুরুষের গল্প’ মূকনাটক আগামী ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির হলে মঞ্চস্থ হবে। ‘বীরপুরুষের গল্প’ মূকনাটকটি এ বছরের মার্চ-এপ্রিলে ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ও জাতীয় মূকাভিনয় উৎসবে দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। প্রযোজনাটির পাঁচটি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে ভারতে। মূকনাটকের কাহিনীতে রয়েছে- মায়ের অনুগত সন্তান আত্মরক্ষার কৌশল শিখে একদিন মাকে নিয়ে দেশান্তরে চলছিল। হঠাৎ ডাকাত দলের আক্রমণে যুবক ভীত না হয়ে অসীম সাহসিকতার সাথে ডাকাত দলকে পরাস্ত করে। খোকার বীরত্বে মুগ্ধ রাজা রাজকন্যাকে উদ্ধারের মিনতি জানায়। মায়ের অনুরোধে জীবনবাজী রেখে দু:সাহসিক অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে রাজকন্যাকে। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটি। প্রযোজনাটির নেপথ্যে কাজ করেছেন আলোক পরিকল্পনায় মোস্তফা কামাল যাত্রা, আবহ সঙ্গীতে রাজ ঘোষ, পোশাক পরিকল্পনায় তামিমা সুলতানা, কোরিওগ্রাফিতে সাজেদা সাজু, ফাইটিং প্রশিক্ষণে শহিদুল বশর মুরাদ এবং কারিগরি সহায়তা ও প্রযোজনা অধিকর্তা হিসাবে আছেন হুমায়ুন মোর্শেদ। উল্লেখ্য, বীরপুরুষের গল্প মূকনাটকটি আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ নাট্যোৎসব ব্যাংকক থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল-২০১৭ এ প্রদর্শিত হবে। মূকনাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজন, রানা, মুরাদ, অর্ণব, মেজবাহ, আবির, বাবলু, রানা (২), সাজু ও শিপা।   এসএ / এআর

জীবনে অপ্রাপ্তি নেই, ক্ষোভও নেই: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

অ্যামিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, আমার এ জীবনে কোন অপ্রাপ্তি নেই, ক্ষোভও নেই। আমি শিক্ষক হতে চেয়েছি, প্রাপ্যের অধিক পেয়েছি। ছোটবড় সবার ছাত্র হতে চেয়েছি, সেখানেও শিখেছি। আমি বহু ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষা দিয়েছি, আবার তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিও। বাংলাদেশের মাটিতে জন্মিনি, তবে এখানেই যেন অন্তিম আশ্রয় হয়, এ আমার প্রার্থনা।‘অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আশি বর্ষপূর্তি উদযাপন’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এসব বলেন কালজয়ী এ সাহিত্যিক। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে চন্দ্রাবতী একাডেমির উদ্যোগে ও এবি ব্যাংকের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান অশীতিবর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। আনিসুজ্জামান বলেন, জীবনের শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত থাকার সুযোগ হয়েছিল বলেই হয়তো আজকের আনিসুজ্জামান হয়ে উঠতে পেরেছি। অশীতিবর্ষপূতির এ অনুষ্ঠানে পিছনে ফিরে তাকালে দেখি অনেকের কাছেই ঋণী উল্লেখ করে এ মনিষা বলেন, সবার মতোই সর্বাগ্রে তিনিও তাঁর মা-বাবার কাছে ঋণী। বাবা তাঁকে সময় সচেতন হওয়া আর মা তাঁকে সত্যানুবর্তি হতে শিখিয়েছেন। দেশ ও ভাষার প্রতি মায়ের প্রচন্ড অনুরাগ থাকায় ভাষা আন্দোলনের সময় তাঁর মা তাঁকে ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে পেটপুড়ে খাইয়ে রণক্ষেত্রে পাঠিয়েছিলেন এবং পুলিশ ধরলে কি বলতে হবে সেটিও শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এ আলোকিত মানুষ তাঁর আনিসুজ্জামান হয়ে উঠার পিছনে অধ্যাপক অজিত গুহ, মুনীর চৌধুরী ও অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকসহ আরো যাদের অবদান রয়েছে, শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের কথাও স্মরণ করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আমাদের বাতিঘর। তিনি এ দেশ ও সমাজের আলোকবর্তিকা। অর্থমন্ত্রী আরোও বলেন, লেখক ও অধ্যাপকের যে চরিত্র হওয়া উচিত আনিসুজ্জামান তা হয়েছেন। তবে তাঁর আরো একটি চরিত্রের গুণ আমরা পাই, সেটি হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। এতে কেউ কষ্ট পেলেও তিনি তাঁর ‘সত্য’ বলা থেকে বিচ্যূত হন না। তিনি বলেন, এ জন্যই আনিসকে নিয়ে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সাহিত্য, কৃষ্টি, ঐতিহ্য গর্ববোধ ও তৃপ্তিবোধ করতে পারে। আমরাও তাঁকে নিয়ে গর্ব করতে পারি, কারণ তিনি আমাদের এসবের প্রতিনিধি। বাংলাদেশের এ বাতিঘরকে নিয়ে আরো আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, নারীনেত্রী মালেকা বেগম, মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। এ গুণীজনের উদ্দেশে প্রশংসাপত্র পাঠ করেন জাহিদ রেজা নূর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাঙ্গলিক সঙ্গীত পরিবেশন করে সুরের ধারার শিল্পীবৃন্দ। এর পরেই চন্দ্রাবতী একাডেমি প্রকাশিত ‘আনিসুজ্জামান সম্মাননা গ্রন্থ’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ৩২০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটির মূল্য ৫০০ টাকা। তবে অনুষ্ঠানস্থলে গ্রন্থটি ৩০০টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ গুণী ব্যক্তিত্বকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন বই, উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সূত্র:বাসস / এম / এআর  

শিল্পকলায় ‘সৃষ্টি-মীনাবাজার নৃত্যনাট্য উৎসব’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সৃষ্টি-মীনাবাজার নৃত্যনাট্য উৎসব ২০১৭’। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। উৎসব উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ১ নভেম্বর প্রদর্শিত হবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘তাসের দেশ’, ২ নভেম্বর রাধা কৃষ্ণের অমর প্রেম উপাখ্যান নিয়ে শেখ হাফিজুর রহমান রচিত ‘রাই কৃষ্ণ পদাবলী’, ৩ নভেম্বর আলীবাবা চল্লিশ চোরের কাহিনী থেকে নেওয়া ক্রীতদাস আবদুল্লাহ এবং অপরূপা সুন্দরী বাঁদী মর্জিনার প্রেম কাহিনী নিয়ে রচিত ‘বাঁদী-বান্দার রূপকথা’ এবং ৪ নভেম্বর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে পদাবলী যাত্রা ‘সোনাই মাধব’। সবগুলো নৃত্যনাট্যই সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে। নৃত্যনাট্যগুলোতে অভিনয় করবেন শিবলী মোহাম্মদ, শামীম আরা নিপা, আনিসুল ইসলাম হিরু, সুকল্যাণ ভট্টাচার্য, ডলি ইকবাল, সাবরিনা নিসা, লিয়াকত আলী লাকি, রোকসানা আক্তার রূপসা, জাহিদুল কবির লিটন, ওয়ার্দা রিহাব, সাব্বির আহমেদ খান বিজুসহ প্রথিতযশা অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। উৎসব উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা, আনিসুল ইসলাম হিরু, মিনাবাজারের সিইও শাহীন খান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর সামসদ মূর্তজা এবং সাঈদ আহমেদ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে নৃত্যশিল্পী এবং সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার-এর পরিচালক আনিসুল ইসলাম হিরু বলেন, নাট্যউৎসবকে ঘিরে যেমন উন্মাদনা তৈরি হয় তেমনি আবহ তৈরিতে সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার সচেষ্ট রয়েছে। নিয়মিত এবং আরও বৃহৎ আঙ্গিকে এই উৎসব আয়োজনের জন্যও তারা চেষ্টা করে যাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মীনা বাজার-এর সিইও শাহীন খান বলেন, ‘দেশের বাইরে অপেরা কিংবা ব্রডওয়ে’তে যেভাবে এধরনের নৃত্যনাট্য নিয়ে উৎসাহ দেখায় সে ধরনের উদ্যোগ আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। আর যারা নিচ্ছে এধরনের উদ্যোগ, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেগুলোও বড় কোন প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। জেমকন গ্রুপ বরাবরই শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় নৃত্যনাট্যের এই উৎসবকে এগিয়ে নিতে মীনা বাজার রয়েছে সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের এই আয়োজনের সাথে। জেমকন গ্রুপ-এর সিএইচআরও এবং মীনা সুইটস-এর সিইও সাঈদ আহমেদ বলেন, দেশে নৃত্যশিল্প আজ অবহেলিত। এই রুগ্ন শিল্পকে আবারো জাগিয়ে তুলবে এই নৃত্যনাট্য উৎসব। প্রফেসর সামসদ মর্তূজা বলেন, জেমকন-এর কনসার্ন ইউল্যাব এর নানা ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে খেলাধুলা, শিল্প-সাহিত্য, বিতর্ক, নাট্যকলা এসবই রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউল্যাব এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত। একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা টাইটেল স্পন্সর মীনা বাজার এবং কো-স্পন্সর কাজী এন্ড কাজী টি, মীনা সুউইটস, ইউল্যাব এবং সহযোগী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নৃত্যে এমন পৃষ্ঠপোষকতা অবহেলিত এই শিল্পকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। তিনি অন্যদেরকেও নৃত্যশিল্পে এমন পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানান। ৪ দিনব্যাপী এই নৃত্যনাট্য উৎসবের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে মীনাবাজার। সহযোগী স্পন্সর হিসেবে মীনা সুইটস, ইউল্যাব, অর্গ্যানিকেয়ার, কাজী এন্ড কাজী টি এবং সহযোগীতায় রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। এসএ/

নভেম্বরে হবে ফোক ফেস্টিভ্যাল

তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ শুরু হচ্ছে আগামী ৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ১১ নভেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্মি স্টেডিয়ামে রোজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দর্শকরা উপভোগ করবেন এই উৎসব। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভেন্যু ও তারিখ চূড়ান্ত হলেও এখনও শিল্পী নির্বাচন চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই বিশ্বের নানা প্রান্তের লোকশিল্পীদের নির্ধারণ করা হবে উৎসবের জন্য। গেল বারের উৎসবের চেয়ে আরও বেশি বর্ণিল করে তুলতে সবরকম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অন্যবারের আসরের মতো এবারও দর্শকরা বিনামূল্যে শুধুমাত্র অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। এজন্য dhakainternationalfolkfest.com ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের নম্বর বা স্কুল/কলেজের আইডি কার্ড প্রয়োজন হবে। রেজিস্ট্রেশন সফল হলে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশপত্র প্রিন্ট বা সংগ্রহ করতে হবে। কবে থেকে শুরু হবে রেজিস্ট্রেশন তা জানতে চোখ রাখতে হবে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ পেজটিতে। ফেসবুকের ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ পেজটি এবং এর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখার সুযোগ থাকবে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে হবে ১৬৩৭৪ নম্বরে।   এসএ / এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি