ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:৩০:০৯

শেষ হলো পেন্সিলের প্রথম বর্ষপূর্তি উৎসব

শেষ হলো পেন্সিলের প্রথম বর্ষপূর্তি উৎসব

‘জীবনের যত রঙ’ স্লোগানে শিল্পকলা একাডেমিতে ‘পেন্সিল’ এর পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের সমাপনী দিন ছিল শনিবার। প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে উৎসবের আয়োজন করে সাহিত্যচর্চা বিষয়ক অনলাইন গ্রুপ ‘পেন্সিল’। গত ১২ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ৬ নং হলে উৎসব শুরু হয়। শনিবার সমাপনী দিনে মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দর্শকদের জন্য গান পরিবেশন করেন পেন্সিলের সদস্য আসমা দেবযানী, মুজাহিদুল হক লেলিন, কিশোর ক্লাডিয়াস, সুস্মিতা মন্ডল, নাঈমা পারভীন অনামিকা এবং পেন্সিলের ব্যান্ড দল চান্দের গাড়ি। কবিতা আবৃত্তি করেন, শামসুর নাহার, নাঈমা পারভীন অনামিকা প্রমুখ। অনবদ্য এই অনুষ্ঠানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুদের আঁকা ছবির জন্য পেন্সিলের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। পাঁচদিনের এই আয়োজনে পেন্সিলের আলোকচিত্রীদের তোলা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী করা হয়। আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে পেন্সিলের উদ্যোক্তা ডা. এস এম নিয়াজ মাওলা জানান, উৎসবে পেন্সিল ও তার পরিবারের সদস্যদের আলোকচিত্র ও চিত্রকলা প্রদর্শনী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়া পেন্সিল সদস্যের কবিতা আবৃত্তি পরবর্তী সময়ে ‘তবু কবিতায় বলে দিয়েছি’ নামক অ্যালবাম আকারে প্রকাশিত হবে। পেন্সিলের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে ডা. নিয়াজ জানান, আমরা কয়েকজন সমবয়সী বন্ধু, যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে পড়াশোনা করছি। সবার মনে প্রায়ই একটা চিন্তা আসতো যে আমরা সাহিত্য বা লেখালিখি বিষয়ক একটা গ্রুপ খুলবো। সে চিন্তা থেকেই ২০১৬ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকে একটি গ্রুপ চালু করা হয়। যেটি আমি ওপেন করেছিলাম। নাম দেয়া হয় ‘পেন্সিল’। ‘পেন্সিল’ নাম দেয়ার কারণ হলো, আমরা শৈশবে কিন্তু পেন্সিল দিয়েই লেখা শুরু করি, ভুল হলে আবার মুছে লিখি। এই পেইজে যারা লিখবেন তাদের লেখালিখির একটা হাতেখড়ি হবে। ভুল-ভ্রান্তি যাই হোক, কিছু একটা লেখা শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে লেখালিখির অভ্যাসটা তৈরি করা, উৎসাহ পাওয়া। সেই চিন্তা থেকেই ‘পেন্সিল’ নাম দেয়া হয়। পেন্সিলের সদস্য নাঈমা পারভীন অনামিকা একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, শিল্প সাহিত্য এখন বিলুপ্তপ্রায়। নতুন প্রজন্মের জন্য শিল্প সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পেন্সিল একটি দারুণ পদক্ষেপ। পেন্সিলের ফেসবুক গ্রুপে দেশব্যাপী ত্রিশ হাজার সদস্য রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, অধ্যাপক, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কেআই/ডব্লিউএন
লোক মেলার পার্বণ সমাপ্ত

লোকমেলার চিরায়ত রূপ দেখা গেছে রাজধানীতে। দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করলেন ভেলা ভাসানি, লালকাঁচ ও গাজীর পটের পরিবেশনা। ঐতিহ্যের স্বরূপ সন্ধানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে এই আয়োজনই যেন হয়ে উঠেছিল গ্রামীণ একটি মঞ্চ। ‘রঙ্গ ভরা বঙ্গ’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘লোকমেলার পার্বণ উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিন ছিল শনিবার। ২৮ জুলাই দুই দিনব্যাপী এই ‘লোকমেলার পার্বণ উৎসব’ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গতকালের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ। আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন, আলোকচিত্রী বুলবুল আহমেদ, ইউডার চারুকলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আলাউদ্দিন আহমেদ, বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক আমিনুর রহমান সুলতান ও ‘রঙ্গ ভরা বঙ্গ’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান উজ-জামান। লোকসাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গতকাল ছিল দোহারের মাদার বাঁশ, মধুপুরের রে রে ও মুন্সীগঞ্জের ভেলা ভাসানির পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় গাজীর পট, লালকাঁচ ও বেহুলার ভাসান। এছাড়া প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে ‘বাংলার মেলা বাংলার পার্বণ’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রথম দিন নরসিংদী থেকে আসা ফজল আলীর দল গাজীরপট, বিক্রমপুর থেকে আসা অজিত গোস্বামীর দল লালকাঁচ ও  টাঙ্গাইল থেকে আসা রহিম বাদাইমার দলের ভাসান গান পরিবেশিত হয়। 

ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক পেয়েছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

দেশের বরেণ্য রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে “ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ও পুরস্কার” প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বৃহস্পতিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে তাঁর হাতে এই স্বর্ণপদক ও পুরস্কার তুলে দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় “ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড”-এর উদ্যোগে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রয়াত শিল্পী ফিরোজা বেগমের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এসিআই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা এম আনিস উদ দৌলা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগীত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন মিসেস টুম্পা সমদ্দার। এ সময় প্রয়াত শিল্পী ফিরোজা বেগমের দুই ছেলে শাফিন আহমেদ ও হামীন আহমেদসহ দাতা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের ২০১৬ সালের বিএ সম্মান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করায় জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা “ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ও পুরস্কার” লাভ করেন।

চিকিৎসা সহায়তায়  মঞ্চ নাটকের  প্রদর্শনী

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের পক্ষ থেকে মঞ্চ নাট্যশিল্পীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে ফেডারেশানের পক্ষ থেকে জুলাই এবং আগস্ট মাসে ৪টি মঞ্চ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে মহাকাল নাট্য স¤প্রদায় এর নতুন নাটক “শিবানী সুন্দরী”। নাটকটি রচনা করেছেন সালাম সাকলাইন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ।চিকিৎসা সহয়াতায় প্রর্দশণীর ব্যাপারে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের মাসুদ আলম বাবু বলেন ‘প্রত্যেক মঞ্চ নাট্যশিল্পীই আমাদের স্বজন। দুঃসময়ে আমরা একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে চাই। আর এই মানবিক আর্তি থেকেই মঞ্চ নাট্যশিল্পীদের চিকিৎসা সহায়তায় তহবিল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় সফলভাবে তহবিল গঠিত হবে এবং মঞ্চ নাট্যশিল্পীদের চিকিৎসা সহায়তায় পাশে দাঁড়াতে পারবো এই প্রত্যাশা করছি।’

‘ক্যানসার হাসপাতাল করতে চেয়েছিলেন  ‍হুমায়ূন’

ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন ছিল। আর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুণীজন, নীতিনির্ধারকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে এ কথা বলেন শাওন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট বোন সুফিয়া হায়দার, শাওনের সঙ্গে তাঁর বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, মা জহুরা আলী, ছেলে নিষাদ, নিনিতসহ শত শত হুমায়ূন ভক্ত। মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের ডাকে ভক্ত-অনুরক্তরা যেভাবে এগিয়ে আসতেন, আমার ডাকে, আমার আহ্বানে সেভাবে এগিয়ে আসবেন না। তাঁর এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে অংশ নিতে হবে। আমি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।   //আর//এআর

তুমি আছ হৃদয়ের ক্যানভাসে, রবে চিরদিন

তিনি কথার জাদুকর, গল্পের রাজপুত্র। না ফেরার দেশে চলে গিয়েও তিনি আছেন। আজও তার স্থান বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়, রবে চিরদিন। তিনি আর কেউ নন- কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। পাঁচ বছর আগে শ্রাবণের এই দিনে পাড়ি জমান হুমায়ূন আহমেদ। আজ বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র হুমায়ূনের প্রয়াণ দিবস। নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লাখো মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরদিন তার মরদেহ সমাহিত করা হয় গাজীপুরের নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়। আজ লেখকের মৃত্যু দিবসে তার সমাধিক্ষেত্র ভরে উঠেছে  ফুলে ফুলে। ভক্ত ও অনুরাগীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনার মাধ্যমে লেখকের প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছেন। আত্মজৈবনিক গ্রন্থে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন- ‘কল্পনায় দেখছি নুহাশ পল্লীর সবুজের মধ্যে শ্বেতপাথরের কবর, তার গায়ে লেখা- ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে, নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে।’ সে কথাগুলো কাচের এপিটাফ করে তার সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন নিজের নকশায় সাজিয়েছেন স্বামীর কবর। সেখানে আজ ভোরে শ্রদ্ধা জানান শাওন ও তার দুই শিশুপুত্র নিনিদ ও নিষাদ। এরপর হাজারও হুমায়ূন ভক্ত নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো শুরু করে প্রিয় লেখককে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশ পলীর পার্শবর্তী এতিমখানার অনাথ শিশুদের জন্য খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে  হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের খাবার। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, মধ্যাহ্ন, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনী দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেঁটুপুত্র কমলা। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ অসম্ভব জনপ্রিয় হয়। তার হাসির নাটক ‘বহুব্রীহি’ এবং ঐতিহাসিক নাটক ‘অয়োময়’ বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন। ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে। হুমায়ূন আহমেদ কিংবদন্তি হয়ে আছেন বাংলাদেশের টিভি নাটকের জগতেও। ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনা শুরু করেন তিনি। উনিশশ’ আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের নাটকগুলো এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে তার সৃষ্টি করা চরিত্রদের বিপদে রাস্তায় নেমে আসত মানুষ। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বাকের ভাইকে ফাঁসি না দেয়ার জন্যে লেখকের বাড়ি ঘেরাও করেছিলেন দর্শকরা। দর্শকদের মিছিল বের হয়েছিল। কথা শোনেননি বাকের ভাইয়ের স্রষ্টা হুমায়ূন। বড্ড বেরসিক (!) ছিলেন। সমাজের দৈনতাকে বাস্তবতায় দেখাতে বাকের ভাইকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়িয়েছিলেন তিনি। তার অন্যতম নাটকগুলোর মধ্যে এইসব দিন রাত্রি, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, অয়োময়, আজ রবিবার, তারা তিনজন, আমরা তিনজন, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম, জল তরঙ্গ, ইবলিশ উল্লেখযোগ্য। একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় এক নাম। হুমায়ূন আহমেদে মৃত্যতে শোক প্রকাশ করে স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘সব গুণী মানুষ একে একে চলে যাচ্ছে। হুমায়ূনকে হারিয়ে অনুভব করছি, আপনজন হারানোর বেদনা। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের জন্য আমরা যারা কাজ করে আসছি, হুমায়ূন আহমেদ তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মানুষকে হলমুখী করেছিলেন।’ মূলত তার চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ তৈরি হয় নব্বই দশকের প্রথম দিকে। এই আগ্রহ আর সীমাহীন স্বপ্ন ছিল জীবনের শেষভাগেও। মোট ৮টি ছবি নির্মাণ করে গেছেন তিনি। ছবিগুলো হলো আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আমার আছে জল আর ঘেটুপুত্র কমলা। হুমায়ূন আহমেদ চিরদিন সম্মানিত হয়ে থাকবেন আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, ডলি জহুর, সুবর্ণা মুস্তাফা, আলী জাকের, জাহিদ হাসান, মেহের আফরোজ শাওন, স্বাধীন খসরু, ডা. এজাজ, মাহফুজ আহমেদ, কুদ্দুস বয়াতি, বারী সিদ্দিকী, ফারুক আহমেদ, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, প্রাণ রায়, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, শামীমা নাজনীনের মতো অসংখ্য নন্দিত শিল্পীদের কারও কারও উত্থান ও কারও বা অনিন্দ্য বিকাশের কারিগর হিসেবে। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। //এআর

একুশে পদক ২০১৮-এর মনোনয়ন আহ্বান

একুশে পদক ২০১৮-এর মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সকল জেলা প্রশাসক এবং স্বাধীনতা পদক/একুশে পদকে ভূষিত সুধীবৃন্দকে আগামী ২ অক্টোবর, ২০১৭ এর মধ্যে মনোনয়ন/প্রস্তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একুশে পদক প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য বছরের ন্যায় ২০১৮ সালে সরকার কর্তৃক ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, চারুকলাসহ সকল ক্ষেত্রে), মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, রাজনীতি, ভাষা ও সাহিত্য এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি (জীবিত/মৃত), গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে একুশে পদক প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলী, একুশে পদক নীতিমালা এবং মনোনয়ন প্রস্তাবের ফর্ম  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে। কেআই/ডব্লিউএন 

জাতীয় নাট্যশালায় ‘ক্রীতদাসের হাসি’

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসটি মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আগামী ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় নাগরিক নাট্যাঙ্গনের প্রযোজনায় ‘ক্রীতদাসের হাসি’ মঞ্চায়িত হবে। কথাশিল্পী শওকত ওসমানের উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন মঞ্চ ও টিভি অভিনেত্রী হƒদি হক এবং নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব লাকী ইনাম। নাটকটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোতে অভিনয় করছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের কিছু শিল্পী। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ নাটকটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও বর্বর স্বৈরশাসন। আইয়ুব খানের অপশাসনের যে গল্পটি খলিফা হারুন অর রশিদের চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রায়ণ করা হয়েছে, তা যেন আজও ভাস্বর। সেই নাটকে হাসল না ক্রীতদাস। আইয়ুবি অপশাসনের ইতিহাস উঠে এসেছে নাটকের ভাঁজে ভাঁজে। নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক লাকী ইনাম বলেন, অসম্ভব মেধাবী সাহিত্যিক ছিলেন শওকত ওসমান। তিনি খলিফা হারুন-অর-রশিদের গল্পের মধ্য দিয়ে রূপকার্থে তুলে এনেছেন আইয়ুব খানকে। যার শাসন বাংলার মানুষ মেনে নেয়নি। আমরা সেই গল্পটিকেই নাট্যরূপ দিয়েছি। প্রসঙ্গত, ‘ক্রীতদাসের হাসি’ নাটকটি গত ২ জানুয়ারি ২০১৭ পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে শওকত ওসমানের জš§-শতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল এবং ২১শে ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী হয়।

নাট্যশালায় আজ ‘জবর আজব ভালোবাসা’

নাটক পাড়া-খ্যাত রাজধানীর সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালায় আজ মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে নতুন নাটক `জবর আজব ভালোবাসা’। নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে থিয়েটারওয়ালা রেপার্টরি মঞ্চস্থ হবে নতুন এ নাটক। আজ শুরু হয়ে এটি চলবে আগামীকালও। তিনটি চরিত্রে সাজানো প্রযোজনাটির রূপান্তর ও নির্দেশনা দিচ্ছেন সাইফ সুমন। অন্তন চেখভের নাটক অবলম্বনে এটি অনুবাদ করেছেন মোবারক হোসেন খান। নাটকে তিনটি চরিত্রে অভিনয় করবেন দেশের শীর্ষ তিনটি নাট্যদলের মেধাবী তিনজন অভিনয়শিল্পী। তারা হলেন- রিয়াজ হোসেন (থিয়েটার আর্ট ইউনিট), সংগীতা চৌধুরী (নাট্যকেন্দ্র), রামিজ রাজু (প্রাঙ্গণেমোর)। নাটকের নির্দেশক থিয়েটার আর্ট ইউনিটের সাইফ সুমন। //আর

না ফেরার দেশে একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা সুব্রত সেনগুপ্ত

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্ত আর নেই। রাজধানীর ‍গ্রিন লাইফ হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান।   সুব্রত সেনগুপ্তের স্ত্রী জলি সেনগুপ্ত জানান , “ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফোন আসে, তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরে সাড়ে ৬টার দিকে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।” চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সুব্রতর প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে আরও কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গ্রিন লাইফের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বেশ কিছু দিন। জলি সেনগুপ্ত আরও জানান, শেষকৃত্যের জন্য হাসপাতাল থেকে তার স্বামীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পোস্তগলা মহাশ্মশানে। স্বদেশী আন্দোলনের নেতা সুধীর সেনগুপ্তের পুত্র সুব্রত সেনগুপ্ত এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার মায়ের আপন বোন। একাত্তরে যখন বাঙালির স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়, সুব্রত তখন ঢাকার সেগুনবাগিচায় ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এক পর্যায়ে কসবা হয়ে আগরতলা চলে যান সুব্রত সেনগুপ্ত। সেখান থেকে যান কলকাতায়, যোগ দেন বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। জলি বলেন, ২০১৩ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তার স্বামী শয্যাশায়ী ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও টাকার অভাবে ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারেননি তারা। সুব্রত-জলি দম্পতির দুই ছেলে শুভদীপ সেনগুপ্ত ও সংগীত সেনগুপ্ত দুজনই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লেখাপড়া করছেন। ‘রক্ত চাই রক্ত চাই, অত্যাচারীর রক্ত চাই’, ‘ছোটরে সবাই বাঁধ ভাঙা অগণিত গ্রাম মজুর কিষাণ’, ‘শোন জনতা গণ জনতা’সহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গাওয়া মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু গান সুব্রত সেনগুপ্তর রচনা করা। গীতিকার সুব্রত একুশে ফেব্র্রুয়ারি নিয়ে ১৬০টি গান, আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ৫৫৫টি গান রচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত চান চলচ্চিত্র ঐক্যজোট নেতারা

যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা বন্ধে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৬টি সংগঠনের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম ‘চলচ্চিত্র ঐক্যজোট’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এ তথ্য জানান। জানা গেছে, যৌথ প্রযোজনার নামে বাংলাদেশে ভারতীয় চলচ্চিত্র চালানোর হচ্ছে। এবং এ ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা মানা হচ্ছে না। চলচ্চিত্র ঐক্যজোট অভিযোগ করছে, সেন্সর বোর্ড যৌথ প্রযোজনার নিয়ম না মেনে তৈরি হওয়া ‌‘বস টু’ ও ‘নবাব’ ছবি দুটির ছাড়পত্র দিয়েছে ঈদের আগে। ছবি দুটির ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছে চলচ্চিত্র ঐক্যজোট। তারপরও অজানা কারণে ছবি দুটো ছাড়পত্র পেয়েছে।  মূলত: এসব বিষয়ে অবহিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত চান ঐক্যজোট নেতারা।   ডব্লিউএন

সঙ্গীত গবেষক করুণাময় গোস্বামী আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীত গবেষক করুণাময় গোস্বামী (৭৩) আর নেই। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় বারিধারা ডিওএইচএসে নিজের বাসায় তিনি মারা গেছেন। তাঁর নিকট আত্মীয় সৌরভ ভট্টাচার্য্য এই সঙ্গীতজ্ঞের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সৌরভ গণমাধ্যমকে বলেন, “মেসো (করুণাময় গোস্বামী) বৃহস্পতিবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। আমেরিকা ও কানাডাপ্রবাসী দুই সন্তান ফিরলে তার শেষকৃত্য হবে। ১৯৪২ সালের ১১ মার্চ জন্ম নেওয়া করুণাময় গোস্বামী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘সংগীত কোষ’র রচয়িতা। সঙ্গীত নিয়ে তার অনেকগুলো বই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শোক: একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীত গবেষক করুণাময় গোস্বামীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় তিনি শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতে করুণাময় গোস্বামীর অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।  

কবি আবুল হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চল্লিশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি আবুল হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। ‘৪৭-এর দেশভাগের পর কেউ কেউ যখন রবীন্দ্র-সাহিত্য বর্জনের কথা বলেছেন, ইসলামী ধারায় কাব্যচর্চায় মনোযোগী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সে সময় আবুল হোসেন আধুনিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে কবিতার মূলধারাকে বেগবান করার কাজে প্রয়াসী হয়েছিলেন। কবিতার শুদ্ধতায় বিশ্বাসী আবুল হোসেন বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার আরুয়াডাঙা গ্রামে ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন।তার মায়ের নাম মেহেরুন নেসা। তাঁর পৈতৃক নিবাস খুলনা জেলার দেয়াড়া গ্রামে। তাঁর শৈশব কাটে পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে, এরপর কলকাতায় ও পরবর্তীকালে বাংলাদেশে। তিনি ১৯২৯ সালে সাত বছর বয়সে কৃষ্ণনগর কলিজিয়েট স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন কুষ্টিয়া হাইস্কুল থেকে। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪২ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক ও পরে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি কবিতাচর্চা শুরু করেছিলেন স্কুল জীবন থেকেই। তখন থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চা আর সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক সংগঠনের লালনে তিনি সময় দিয়েছেন । তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র পরিষদের সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির কার্যকরী পরিষদ, পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ডের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন রবীন্দ্র চর্চাকেন্দ্রের সভাপতি। তাঁর রচিত  গ্রন্থসংখ্যা ২৫টি। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নববসন্ত’ ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়। অন্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে-বিরস সংলাপ (১৯৬৯), হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস (১৯৮২), দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে (১৯৮৫), এখনও সময় আছে (১৯৯৭), আর কিসের অপেক্ষা (২০০০), রাজকাহিনী (২০০৪ ) অন্যতম। ২০০৭ সালে `আবুল হোসেনর ব্যঙ্গ কবিতা` ও গদ্যের বই `দুঃস্বপ্নের কাল`, ২০০৮ সালে `প্রেমের কবিতা` ও `কালের খাতায়`, ২০০৯ সালে গদ্য `স্বপ্ন ভঙ্গের পালা` বইগুলি প্রকাশিত হয়। তাঁর অনুবাদ করা কবিতাগুলি হচ্ছে- `ইকবালের কবিতা`, `আমার জন্মভূমি`, `অন্য ক্ষেতের ফসল`। ২০০০ সালে তিনি `আমার এই ছোট ভুবন`, ২০০৫ সালে `আর এক ভুবন` নামে দুটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ লিখেন। তাঁর অনুদিত উপন্যাস হচ্ছে `অরণ্যের ডাক`। `পার্বত্যের পথে` নামক ভ্রমণ কাহিনীও লিখেছেন তিনি। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কর্মজীবনে তিনি উচ্চপ্রদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে প্রথম তিনি কলকাতা আয়কর কমিশনারের অফিসে এক্সামিনার অব অ্যাকাউন্টস পদে যোগ দেন। ভারত ভাগের পর তিনি ময়মনসিংহে সহকারী বিক্রয় কর অফিসার হিসেবে আসেন। এর দুই-আড়াই বছর পর ১৯৫০ সালের মাঝামাঝিতে তিনি ঢাকার রেডিও পাকিস্তানে একটি সমপর্যায়ের চাকরিতে যোগ দেন। এরপর তিনি ব্যাংককে সিটো পাবলিক ইনফরমেশন অফিসে ইন্টারন্যাশনাল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর তিনি সেখান থেকে বাংলাদেশে ফিরে তিনি জনসংযোগ বিভাগে যোগ দেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। প্রথম যৌবনে লেখক হিসেবে দাঁড়িয়ে-পড়া এই শিল্পী ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। আবুল হোসেন সাহিত্যে অবদানের জন্য সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য তিনি ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় কবিতা পুরস্কার নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, পদাবলী পুরস্কার, কাজী মাহবুবুল্লাহ পুরস্কার ও স্বর্ণপদক, আবুল হাসানাৎ সাহিত্য পুরস্কার, জনবার্তা স্বর্ণপদক, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, জনকন্ঠ গুণীজন সম্মাননা ও জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রখ্যাত লেখক আকবর উদ্দিনের জেষ্ঠ কন্যা সাহানার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৪ সালের ২৯ জুন, ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে গুণী এই সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি