ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:০১:৩৭

এক টুকরো ‘ভূস্বর্গ’

সাল হাশিশ

এক টুকরো ‘ভূস্বর্গ’

মাঝেমাঝে স্বর্গটাকে খুব কাছাকাছি মনে হয়। বিশেষ করে মিশরের মতো পুরাতত্ত্ব নিদর্শনে ভরপুর একটি দেশে গেলে মনে হবে স্বর্গে চলে এসেছি। বিশেষ করে এর উপকূলের কাছে এলাকাগুলো দেখলে যেকোনো পর্যটকরা থমকে যান। অঞ্চলটা যেন একটি রিসোর্ট শহর। সারাবছর অসংখ্য পর্যটক ভীড় জমান মিশরে। পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিসোর্টগুলো সৈকতের আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে এখানে। যাতে স্বল্প খরচে থাকার সুবিধা পান পর্যটকরা। হারাগাদা, শার্ম এল শেখ শহরের কথাই বলা যাক। এসব স্থানে কম খরচে থাকা যাবে। অন্যদিকে, এল গোনা, আইন এল সোখনা এবং নর্থ কোস্টে বিলাসী পর্যটনের ব্যবস্থাও আছে। গুস্টোর সৈকতও অসাধারণ এক স্থান। এখানে দাঁড়ালে চোখের সামনে অপরূপ সব দৃশ্য ঘোরাফেরা করতে থাকবে। এমনকি সৈকতের সাদা ছাতাগুলোও অসম্ভব সুন্দর লাগে দেখতে। অসম্ভব ভালো কাটবে দুপুরটা । ব্যাপক আয়োজন চলে এসব সৈকতে। একবার গেলে বুঝতে পারবেন মিশরীয়রা কতটা আনন্দ করতে পারে।  এরপর আসা যাক সাল হাশিশের কথায়। অসম্ভব সুন্দর এক জায়গা সাল হাশিশ। সাল হাশিশে গেলে দুই চোখ জুড়িয়ে যাবে। সাগরে বিশাল একটা অংশ চোখের সামনে ভেসে থাকবে। বিনোদনের অনেক ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এখানে দেখতে পারবেন রাস্টিক হর্স ক্লাবের ঘোড়া, বানর এবং উঁটের আস্তাবল। সাল হাশিশে কয়েকটা দিন থাকার পর এই স্মৃতি বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে পারবেন। অনাবিল প্রশান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন এখানে  ঘুরতে আসা পর্যটকরা। সূত্র : ঈজিপশিয়ান স্ট্রিটএমআর/এআর
উদ্বাস্তু-শরণার্থীদের স্বাগত জানায় যে দেশ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-হত্যাযঞ্জ থেকে বাঁচতে ঝাকে ঝাকে শরনার্থী প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কয়েক লাখ শরনার্থী ঠাই নিয়েছে। সরকার মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করেছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ তাদের পাশে দঁাড়িয়েছে। বিপদগ্রস্তদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন অনেকে। রোহিঙ্গাদের মত বিশ্বের নানা দেশেই বিপদে পড়ে শরণার্থীরা ভিড় করেন। কিন্তু সবাই তাদের সাদরে গ্রহণ করে না। এদের ঠেলে দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী দেশ হলো আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত উগান্ডা। এ দেশ থেকে কোনো শরণার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। শরণার্থীদের দেওয়া হয় আইডি কার্ড। যেটি ব্যবহার করে তারা চাকরি করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে কিংবা নিজেদের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে পারে।  উগান্ডাতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই শরণার্থীদের খোঁজখবর রাখা হয়। শরণার্থীরা চাইলেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ফোন করতে পারেন। উগান্ডা কেন শরনার্থীদের বন্ধু বেশ কয়েকটি কারণে উগান্ডার শরণার্থী নীতি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বলে মনে করা হয়। শরণার্থীরা উগান্ডায় এলে তাদের শরণার্থী শিবিরে রাখা হয় না। তার বদলে একখণ্ড জমি দেওয়া হয়। যে জমিতে তারা বসবাস করতে পারবে এবং কৃষিকাজ করে নিজেদের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করে নিতে পারবে। উগান্ডায় শরণার্থীরা প্রবেশ করলে তাদের প্রত্যেককে একটি করে আইডি কার্ড দেওয়া হয়। এতে তারা আইনগতভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এ কার্ড ব্যবহার করে তারা উগান্ডার ভেতরের যে কোনো স্থানে নিজেদের ইচ্ছেমতো যাতায়াত করতে পারে। শরণার্থীদের দেওয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে তারা চাকরি করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে কিংবা নিজেদের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে পারে। উগান্ডাতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই শরণার্থীদের খোঁজখবর রাখা হয়। শরণার্থীরা চাইলেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ফোন করতে পারেন তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানিয়ে। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার সংখ্যার দিক দিয়েও উগান্ডা এগিয়ে রয়েছে। প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে উগান্ডায়। ফলে বিশ্বের পঞ্চম শরণার্থী গ্রহণকারী দেশের মর্যাদা পেয়েছে উগান্ডা। সূত্র : বিবিসি।//এআর

নির্বাসিতের কুখ্যাত কয়েকটি দ্বীপ

রাষ্ট্রের কাছে ভিন্ন মতাবলম্বী, রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক ও দাগী আসামিদের নির্বাসনের জন্য একসময় বিখ্যাত হয়েছিল কয়েকটি দ্বীপ। এসব দ্বীপে স্থান হয়েছিল নেলসন ম্যান্ডেলা, নেপোলিয়ন বেনাপোর্টসহ বিখ্যাতসহ মানুষের। আর সেই দ্বীপগুলোই পরিচিত কুখ্যাত দ্বীপ হিসেবে। নানা কারণেই এসব দ্বীপ আজও আলোচিত। পর্য।টকদের জন্যও আকাঙ্খিত গন্তব্য।  ওইসব দ্বীপ নিয়েই এবারের ফিচার।রোবেন দ্বীপকেপটাউন থেকে সাত মাইল দূরের রোবেন দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় নেলসন ম্যান্ডেলাকে। কালো মানুষদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসিত হন ম্যান্ডেলা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে রোবেন দ্বীপ একই সঙ্গে ডাচ ও ব্রিটিশদের বন্দিশালা হিসেবেও ব্যবহূত হতো। এখানে কুষ্ঠরোগ নিরাময়কেন্দ্র ও মানসিক হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। ম্যান্ডেলা ছাড়াও এখানে অন্তরীণ ছিলেন রবার্ট সোবুকে এবং বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। এ সময় তাঁরা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করেছেন। ১৯৯৭ সালে এক হাজার ৪৪৭ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই দ্বীপে জাদুঘর স্থাপন করা হয়। ফ্রেঞ্চ গায়ানাইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য এক স্থান এই দ্বীপ। ১৮৫৪ সালে নেপোলিয়ন-৩ এখানে বন্দিশালা প্রতিষ্ঠা করেন। মোট চারটি বন্দিশালা ছিল এ দ্বীপে। এখানে প্রায় ৮০ হাজার ফরাসি নাগরিককে অন্তরীণ রাখা হয়। এই দ্বীপকে শুকনো গিলোটিন বলা হতো। ১৯৩৮ সালে বন্দিশালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ হাজার বন্দীকে খুন করা হয় বন্দিশালাগুলোতে। এই দ্বীপে বন্দী ছিলেন হেনরি শ্যারিয়ার। ১৯৬৮ সালে লেখা তাঁর প্যাপিলন বইটি প্রকাশের পরপরই বিক্রির তালিকায় শীর্ষে স্থান করে নেয়। পরে এই বই থেকে সিনেমাও তৈরি হয়।রবিনসন ক্রসো দ্বীপ১৭০৪ সালে এক অস্ত্রবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ঝগড়া করার পর আলেকজান্ডার সেলকার্ককে প্রশান্ত মহাসাগরের ইসলা মিয়াস তিয়ারা নামের এক দ্বীপে ফেলে রেখে জাহাজের বাকি সবাই চলে যায়। প্রায় পাঁচ বছর সেই দ্বীপে একমাত্র মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করেন সেলকার্ক। চিলির বালপারাইসো থেকে ৪৮ মাইল দূরের এই দ্বীপে তিনি শিকার আর ফলমূল খেয়ে বেঁচে টিকে ছিলেন। পরে ১৭০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপের কাছ দিয়ে যাওয়া এক জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হয়, সেলকার্কের এই দুঃসাহসিক পাঁচ বছর নিয়েই ডেনিয়েল ডিফো রবিনসন ক্রুসো নামে উপন্যাস লিখেন। পরে চিলির সরকার ১৯৬৬ সালে এই দ্বীপের নামকরণ করে রবিনসন ক্রুসো দ্বীপ।পাটমোসএজিয়ান সাগরের মাঝখানে ১৩ বর্গমাইলের একটি পাহাড়ি দ্বীপ পাটমোস। ৯৫ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট জনকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেয় রোমানরা। গসপেল বা নতুন বাইবেল আর নতুন টেস্টামেন্ট বলে পরিচিত রিভিলেশনস বই রচনা করেন তিনি এই দ্বীপে বসে। প্রায় ১০০ বছর পর সেন্ট জনের স্মরণে এক সন্ন্যাসী এখানে প্রতিষ্ঠা করেন এক আশ্রম, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো এ দ্বীপকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।সেন্ট হেলেনাদক্ষিণ আটলান্টিকের মাঝামাঝি এই দ্বীপের অবস্থান। অ্যাঙ্গোলা থেকে এক হাজার ২০০ মাইল এবং ব্রাজিল থেকে এক হাজার ৮০০ মাইল দূরের এই দ্বীপকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম স্থান বলে বিবেচনা করা হয়। ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নেপোলিয়নকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। ১৮২১ সালে এই দ্বীপেই মৃত্যুবরণ করেন নেপোলিয়ন। এই দ্বীপে অন্তরীণ থাকাকালে তিনি বই পড়া, বাগান করা আর নিজের স্মৃতি রোমন্থন করে সময় কাটাতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৫১ বছর। সম্প্রতি এই দ্বীপটি পর্যেটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।  সূত্র: উইকিপিডিয়া ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন অবলম্বনে।//এআর

পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নেপোলিওনের স্মৃতিবিজড়িত হেলেনা দ্বীপ

অবশেষে পর্যীটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো নেপোলিওন বেনাপের্টের স্মৃতিবিজরিত সেইন্ট হেলেনা দ্বীপ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ছোট ব্রিটিশ দ্বীপে যেতে নৌকাই ভরসা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান কোম্পানি এয়ারলিঙ্ক সাপ্তাহিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। কেপ টাউন এবং জোহানেসবার্গ থেকে বিমানে চেপে যাওয়ার ব্যবস্থা করে হয়েছে সেইন্ট হেলেনায়। একটি কারণেই আইল্যান্ড অব সেইন্ট হেলেনা বিখ্যাত হতে পারে। ওই দ্বীপে ১৮১৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮২১ সাল পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ সম্রাট নেপোলিওন বোনাপোর্ট নির্বাসিত ছিলেন। এটি একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ। বহুকাল ধরে মানুষের দৃষ্টির বাইরে ছিল। কিন্তু এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।    নামিবিয়া উপকূল থেকে পশ্চিমের দিকে দক্ষিণ আটলান্টিকে অবস্থিত এই দ্বীপ। সেইন্ট হেলেনা পৃথিবীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে প্রবেশাধিকার দারুণভাবে সংরক্ষিত। বড় একটি কারণ হলো, উনিশ শতকে খোদ নেপোলিওনকে নির্বাসিত করা হয় এখানে। মাত্র ১২২ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপে রয়াল মেইল শিপ সেইন্ট হেলেনার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসেন পর্যটকরা। কেপ টাউন থেকে পৌঁছতেই ৫ দিন সময় লেগে যায়।   সেইন্ট হেলেনাতে পা ফেললেই এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি হবে। প্রথমেই মনে হবে, নেপোলিওন যেখানে বহু বছর সময় বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন, সেখানে আপনি ঘোরাফেরা করছেন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে পারবেন। ডায়ানাস পিক ন্যাশনাল পার্ক সমুদ্রপৃষ্ঠ তেকে ৮২৩ মিটার উঁচুতে। সেখান থেকে দ্বীপের সৌন্দর্য পুরোপুরি চাক্ষুস হবে।  সেইন্ট হেলেনা দ্বীপে রয়েছে একমাত্র বন্দর জেমসটাউন। পর্যটকরা এখানেই এসে নামেন। যারা অভিযানে নামতে চান তারা জ্যাকোবস ল্যাডার বেয়ে ৬৯৯ পদক্ষেপ পাড়ি দিতে হবে। এটা এক ঐতিহাসিক মই। এই দ্বীপ ছাড়তেও হবে জেমসটাউন বন্দর থেকে। এখানে শহরের যে পার্ক রয়েছে সেখানে গেলে দেখা মিলবে কিছু স্থানীয় উদ্ভিদের। এগুলো অনেক কাজের। রোগবালাই তাড়ানো থেকে শুরু করে অনেক উপকারে লাগে।  ফ্রেঞ্চ সম্রাটদের নির্বাসন হিসাবে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়েছে সেইন্ট হেলেনা। সাবেক কর্সিকান জেনারেল ১৮১৫-১৮২১ সাল এখানেই নির্বাসিত ছিলেন। তার স্থানীয় নিবাস লংউড হাইজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এখানকার ব্রায়ার্স প্যাভিলিওনে ছিলেন। এই ভবনগুলো পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।  তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস//এআর

কানাডার গোলাপী নদী

কানাডায় এক আজব ঘটনা ঘটেছে। একটি গোলাপী নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে। মাঝেমধ্যেই যার পানি গোলাপী আভা ধারণ করে। এর ছবি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে। কানাডার অ্যালবার্টা ওয়াটরন লেকস ন্যাশনাল পার্কের ক্যামেরন জলপ্রপাতে এ রকম গোলাপি রংয়ের জলধারা দেখতে পাওয়া যায়। তবে রোজ নয়। সাধারণত এই জলপ্রপাতের রং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, এবং সেই দৃশ্যও কম রোমাঞ্চকর নয়। ভাগ্য ভালো থাকলে গোলাপি জলের ধারা দেখতে পাবেন আপনিও। সত্যি কথা বলতে কী, এই দৃশ্য পর্যটকরা দেখতে পেলে নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করেন। কিন্তু কেন এই নদীতে গোলাপি পানি দেখতে পাওয়া যায়? কী রহস্য রয়েছে এর পেছনে? স্থানীয়রা বলছেন, যেদিন খুব বৃষ্টি হয়, সেদিনই গোলাপি পানির ধারা নেমে আসতে দেখা যায় পাহাড়ের ওপরের নদী থেকে। আসলে পাহাড়ের ওপরের দিকের মাটিতে অ্যাগ্রোলাইট নামে এক রাসায়নিক মিশ্রিত পলি দেখতে পাওয়া যায়। যা বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে নদীতে মিশলে পানির রং খানিকটা লাল বা গোলাপি হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে সূর্যের আলো এসে পড়লে যে কী মোহময়ী হয়ে ওঠে, সেটা এই ছবিগুলি দেখলেই বুঝতে পারবেন। ফটোগ্রাফাররা বলছেন, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে গেলে এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা যেতে পারে। যদিও এই দৃশ্য দেখতে পান ভাগ্যবানরাই। ঠিক যেভাবে স্বামীকে নিয়ে জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে এই দৃশ্য চাক্ষুষ করেন রচেল কফে। চোখের সামনে বর্ণহীন জলকে প্রথমে গোলাপি ও পরে টমেটোর মতো লাল হয়ে উঠতে দেখেন। তিনি নিজেই বলছেন, `আমি গত ৬ বছর ধরে মাঝেমধ্যেই এখানে বেড়াতে এসেছি। কিন্তু কখনো এ রকম দৃশ্য দেখিনি। ভাবলে আমার গায়ে এখনো কাঁটা দিয়ে উঠছে। সূত্র : ডেইলি মেইল।//এআর

বেডরুম আকর্ষনীয় করবেন যেভাবে

নিজের শয়ন কক্ষ ও অতিথি কক্ষ সুন্দর সাজসজ্জামন্ডিত থাকুক, সেটি কে না চায়। ঘরের সৌন্দর্যবর্ধক কিছু টিপস আনুসরণ করে আপনার ঘরকে করতে পারেন আরোও আকর্ষনীয় ও সৌন্দর্যমন্ডিত। ১। আমরা সবসমই চাই আমাদের ঘর আকর্ষনীয় ও সুন্দর থাকুক। এটি করার জন্য আপনার ঘরে ব্যবহার করতে পারেন সুন্দর  সুন্দর লাইট, আরামদায়ক বালিশ এবং নান্দনিক সাদা পর্দা। ২। যখন দেখবেন আপনার গৃহে আসবাবপত্রে ভরে গেছে এবং তা আপনার অসস্থির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তখন বিরক্ত না হয়ে তা পরিষ্কার করে ফেলুন । এটি আপনার মন থেকে খারাপ প্রভাব দূর করে দিবে এবং শান্ত রাখবে। গৃহে আপনাকে রাখবে প্রাণবন্ত এবং পরবর্তী সপ্তাহের জন্য সুন্দর কিছু পরিকল্পনা করতে পারবেন। ৩। আপনার বিছানার পাশে একটি টেবিল রাখতে পারেন । আর টেবিলে রাখবেন আকর্ষনীয় বাতি এবং লম্বা একটি ক্যান্ডল যা আপনাকে ঘরকে আকর্ষনীয় করে তোলবে। ঘরকে দেখাবে আকর্ষনীয়। ৪।আপনার বেড রুম হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থেকে ক্লান্তি শেষে শান্তির পরশ নেন। তাই আপনার বেড রুমের জানালার বারান্দায় কিছু সবুজ গাছ লাগাতে পারেন যা আপনার বেডরুমকে করবে আকর্ষনীয়। আপনি সবুজাভ নির্মল প্রকৃতি থেকে পেতে পারেন শান্তির পরশ। বেডরুমে নিয়ে আসতে পারেন শান্তির আবহ । আপনি লম্বা শ্বাস গ্রহণ করুন। রাগান্বিত আবস্থায় শান্ত থাকুন। সূত্র : টাইম্স অব ইন্ডিয়া। //এম//এবার

ব্যাথা দূর করবে ১০ প্রাকৃতিক উপাদান

১.আদা আদা আর্থ্রাইটিস ব্যথা, পেট ব্যাথা, পেশী যন্ত্রণা, বুকের ব্যথা এবং মাসিক ব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে।   ২.কফি  কফিতে থাকা ক্যাফফেইন সংবেদনশীল ব্যাথা নিরাময়ে কাজ করে। এটি মাইগ্রেন দূর করতে দূর করবে।   ৩.লবঙ্গ লবঙ্গ দাঁত ব্যথা এবং দাঁতের মারির ব্যাথা নিরাময়ে কাজ করে থাকে।   ৪. চেরি চেরি প্রদাহ ও প্রদাহের জন্য দায়ী সব উপসর্গ দমন করতে সাহায্য করে।   ৫. দই দই  প্রদাহ ও ব্যথার উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে। এছাড়া দই হজম করতে এবং পেট ব্যথা উপশম করে।   ৬. সয়া সয়া বাতের ব্যথা উপশমে সয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   ৭. হলুদ হলুদ দাতের ব্যথা,পিঠের ব্যথা,প্রদাহজনক ব্যথা,পেশীবহুল ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।   ৮.অল্প মাত্রায় লবন লবনপানি শুণ্যতাজনিত সমস্যা দূর করার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যথা উপশম করে।   ৯.মেন্থল মেন্থল মাথা ব্যাথা,দাঁতের ব্যথা, ¯œায়ুর ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।    ১০. লাল আঙ্গুর লাল আঙ্গুর জয়েন্ট ও পিটের ব্যথা দূর করতে লাল আঙ্গুর খুবই উপকারী ।   সূত্র : টাইম্‌স অব ইন্ডিয়া।   //এম//এআর    

বিশ্বের ৬টি ভুতুড়ে শহর

ভুতের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এ বিষয়ে আগ্রহের কমতি নেই কারো। ভুত শব্দটি শুনলেই আতকে উঠেন অনেকে। মনের গহীনে কেমন যেন করতে থাকে। আবার কেউ কেউ এর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাহলে ভুতুড়ে শহরের অস্তিত্ব কি আছে? এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন জাগে আমাদের মনে। আসুন জেনে নেই বিশ্বের কিছু ভুতুড়ে শহর সম্পর্কে। অ্যানিতুরস্কের এই ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী অনেক পুরনো। মেডিয়াভেলিয়ান যুগের আর্মেনীয়রা এ শহর গড়ে তোলেন। রাজপ্রাসাদ, সেনাদুর্গসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে এ শহরে। এক সময় এখানে বহু মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু এখন সবই শূন্য। এখন সেখানে নাকি ভূতের বাস। হাশিমা দ্বীপ হাশিমা দ্বীপটি জাপানে অবস্থিত। স্থানীয়রা দ্বীপটিকে ‘গানকানজিমা’ নামে ডাকেন। নাগাসাকি বিস্ফোরণের কারণে জাপানের যে ৫০৫টি দ্বীপ বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে হাশিমা তার একটি। দ্বীপটি ‘ভুতের দ্বীপ’ নামেও পরিচিত। প্রিপায়াতইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে বেলারুশ সীমান্তে রয়েছে প্রিপায়াত শহর। চেরনোবিল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সময় এই দ্বীপ শহরটি গড়ে ওঠে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিল বিস্ফোরণের পর সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকে শহরটি জনমানবশূন্য ভূতুরে শহর। ভরশাসাইপ্রাসের ফামাগাস্টা শহরের চার ভাগের এক ভাগ এলাকা ভরশা শহর নামে পরিচিত। ১৯৭৪ সালে এ শহরে আগ্রাসন চালায় তুরস্ক। এরপর থেকে ওই শহরে আর কোনো মানুষ বসবাস করে না। ফলে এক নিস্তব্ধ নগরীতে পরিণত হয় ভরশা। সেখানে এখন শুধুই সুনশান নিরবতা। ওরাডার সুর গ্নেন পশ্চিম-মধ্য ফ্রান্সের একটি গ্রামের নাম ওরাডার সুর গ্নেন। এখানে মানুষের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনীর আক্রমণে এখানকার সবাই মারা যান। প্রায় ৭০ বছর ধরে গ্রামটি খা খা করছে। কলম্যানস্কোপ এটি দক্ষিণ নামিবিয়ার মরু অঞ্চলের পরিত্যক্ত একটি শহর। এক সময় এ শহর জার্মান হিরা ব্যবসায়ীদের আস্তানা ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হিরার খনির অবক্ষয়ের পরে জনহীন বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে শুরু করে। পরে পুরো এলাকা বিস্তির্ন মরুভূমিতে পরিণত হয়। সূত্র : দ্যা ভিজিটর।//এআর

জাপানের যে দ্বীপে নারীরা নিষিদ্ধ

ওকিনোশিমা দ্বীপটি জাপানের দক্ষিণ কিয়ুশু উপকূলে অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে এটি পবিত্র দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। এ দ্বীপটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কোনো নারী নেই। এমনকি নারীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ সেখানে। ওকিনোশিমা দ্বীপটির আয়তন শূন্য দশমিক তিন বর্গমাইলেরও কম। জাপানিদের প্রধান তিনটি ধর্মীয় মঠের একটির অবস্থান এই দ্বীপে। এ কারণেই দ্বীপটি জাপানিদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। চতুর্থ শতাব্দীতে এখানে এসে জেলেরা তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করত বলে জানা যায়। ধর্মযাজক ও মঠের কর্মচারীরাই শুধু এ দ্বীপে বসবাস করে। এই দ্বীপটিতে রয়েছে ঐতিহাসিক যুগের প্রচুর মূল্যবান শিল্পকর্ম। কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে আবিষ্কৃত অন্তত ৮০ হাজার শিল্পকর্ম রয়েছে দ্বীপটিতে, যা জাপান সরকার জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রাচীনকাল থেকেই এই দ্বীপে নারীদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মঠের যাজকেরা দ্বীপটির দেখাশোনা করেন। স্থানীয় শিন্তো ধর্মগোষ্ঠীর বাসিন্দারা এই দ্বীপটিকে দেবতাদের বাসস্থান মনে করে। তাই তাদের কাছে দ্বীপটি পবিত্র জায়গা হিসেবে পরিচিত। দ্বীপে মহিলাদের প্রবেশ কেন নিষিদ্ধ হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে দু’টি মত প্রচলিত আছে। একটি হলো মূল ভূখণ্ড থেকে দ্বীপে আসার পথটি বিপজ্জনক হওয়ায় অতীতে নারীদের সেখানে নেয়া হতো না। অন্যটি হলো মহিলাদের ঋতুস্রাবজনিত অপবিত্রতার কারণে হয়তো ধর্মবিদেরা তাদের এখানে নিষিদ্ধ করেছেন। শিন্তো ধর্মযাজকেরা ওকিনোশিমা দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ মানুষের জন্য এ দ্বীপ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন ধর্মযাজকেরা। প্রতি বছর মে মাসে এখানে মঠের বার্ষিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় এই আইন কিছুটা শিথিল করা হলেও ধর্মহীন লোকদের জন্য দ্বীপে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দ্বীপ পরিদর্শনে আসা লোকদের জন্য দ্বীপের আইন এতই কঠোর যে, দ্বীপ থেকে একটি পাথর কিংবা গাছের পাতাও তারা নিতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দারাও এসব আইন মেনে চলে। ফলে দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই আকর্ষণীয়। দ্বীপের মৎস্যজীবীদের নেতা তাদাহিকে নাকামুরা বলেন, ‘স্থানীয় মৎস্যজীবীরা প্রাচীন যুগ থেকেই দ্বীপটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, যার ফলে তারাও সুরক্ষিত থাকে।’ জাপান সরকার ওকিনোশিমা দ্বীপটিকে ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৭ সালে জাপানের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি স্থানকে ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্য তালিকার জন্য প্রস্তাব করা হবে, তার মধ্যে এটি অন্যতম। জাপানে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এমন ধর্মীয় জায়গা শুধু এটিই নয়। হনশু দ্বীপের ইয়োশিনো-কুমানো ন্যাশনাল পার্কের সানজো পর্বত নারীদের জন্য নিষিদ্ধ। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ পর্বতটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি তীর্থস্থান। এ রকম আরো কয়েকটি জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থান রয়েছে, যেখানে নারীদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আছে। সূত্র দ্য টেলিগ্রাফ। //এআর

সঙ্গী বেছে নিন খাদ্যাভ্যাস দেখে

সঙ্গী কিংবা বন্ধুর ব্যক্তিত্ব বোঝার অনেক কৌশল আছে। এর জন্য তার চালচলন পর্যবেক্ষণ করতে হবে না। তার চোখেও চোখ রেখে গভীর দৃষ্টিপাত করতে হবে না। এমনকি গোপনে তাকে অনুসরণও করতে হবে না। কেবল খাদ্যাভ্যাস দেখেই তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাবে। অন্তত বিশেষজ্ঞরা এমনটিই মনে করেন। আসুন সঙ্গী বেছে নেওয়ার কৌশল জেনে নিই।  *অনেকে খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে নিখুঁত হতে চান। তারা নিয়ম মেনে এগিয়ে যেতে থাকেন। একটা পদ শেষ করে তবেই অন্য পদের দিকে এগিয়ে যান। এরা সাধারণত সব কাজে নিখুঁত হতে চান। খুতখুতে স্বভাবে এ মানুষগুলো খুবই পর্যবেক্ষণশীল হয়ে থাকেন। *রোমাঞ্চপ্রিয় সঙ্গী-সঙ্গিনীরা খাবারের তালিকার বাইরের খাবার খোঁজেন। এরা খাবার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে ভালোবাসেন। এরা রোমাঞ্চের খোঁজ করেন। নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কারের আগ্রহ এদের মধ্যে অনেক বেশি। কাজেই তাদের সঙ্গে সময় কাটানোও বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।  * আপনার সঙ্গী-সঙ্গিনী কি খুবই ধীরে ধীরে খান? অনেকে একসঙ্গে বসলে কি তিনিই সবার পরে খাওয়া শেষ করে ওঠেন? তাহলে আপনি খুশী থাকতে পারেন। এ ধরনের মানুষ আত্মবিশ্বাসী এবং ধীরস্থির মানসিকতার অধিকারী হন প্রকৃতিগতভাবেই। তা ছাড়া ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে। * যদি তিনি দ্রুত খান তবুও মন্দ নয়। এরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন। লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যান। এরা সব সময়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। চটপটে হয়ে থাকেন তারা। তবে মাঝে মধ্যেই অধৈর্য্য হয়ে ওঠেন। কাজেই এদের মধ্যেও নেতিবাচক কিছু মিলবে না।  *খাওয়া নিয়ে যারা অতিব্যস্ত হয়ে পড়েন তাদের বিষয় আবার আলাদা। এরা কিন্তু নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে চান না। নতুন কিছু নিয়ে পরীক্ষামূলক কিছু চালাতেও অনাগ্রহী। গবেষণায় বলা হয়, এরা সঙ্গী হিসাবে চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। তারা নিজেরাই নানা কারণে  শঙ্কায় থাকেন। তাই তাদের সঙ্গে সময় কাটানো বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে।  সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া //এআর

ভাসমান সবজি চাষে সফলতা

কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ এলাকা নিন্মাঞ্চাল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকে বহু জমি। উত্তরাঞ্চলের হাওড় এলাকা শুকনো মৌসুমেও পানিতে ডুবে থাকে। সে কারণে দানাশষ্যসহ সবজি উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে গ্রামে সবজি চাষ করা সম্ভব না হওয়ায় রাজধানীসহ গোটা দেশে শাক-সবজির সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি মানুষজন। এ দিকটা বিবেচনা করে গবেষণা শুরু করেন বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা। তেমনি এক গবেষণায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জের রহমতপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।  রহমতপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ভাবে ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। পরীক্ষামূলক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ শুরুর চিন্তা করছেন গবেষকরা। এমনটি সম্ভব হলে  সবজি চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে জানান গবেষকরা।  ভাসমান কৃষি বিষয়ক গবেষণা কর্মসূচির প্রধান গবেষক  ড. মো. আলীমুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৪ সালে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন তারা। এরইমধ্যে গবেষণা মাঠে ‘ভাসমান বেড ও মাঁচা পদ্ধতিতে’ চাষকৃত লতাজাতীয় সবজি যেমন- শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলা প্রভৃতি ফসলের আশাব্যাঞ্জক ফলন পাওয়া গেছে। তবে ভাসমান বেডে হাইব্রিড জাতের সবজির ফলন স্থানীয় জাতের তুলনায় অনেক বেশি।    কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল ওহাব বলেন  ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, কল-কারখানা নির্মাণের ফলে প্রতিবছর চাষের জমি কমে যাচ্ছে। গত তিন দশকে দেশে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর কৃষি জমি কমে গেছে এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পাশাপাশি শাক-সবজিকে তীব্র প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। কৃষি জমি হ্রাসের ফলে বিকল্প উপায়ে সবজি চাষে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে জলাবদ্ধ এলাকায় বাঁশের মাচা তৈরি করে কিংবা সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে তাতে সবজি চাষাবাদ করা হয়। মাটি থেকে সহজেই সবজি চারা ওই মাচায় বেয়ে বেড়ায়। এই পদ্ধতিতে লাউ, শিম, কুমড়া, ঝিঙ্গা, শশা, কাকরল, কইডা, করলা, ধুন্দল ইত্যাদি সবজি চাষাবাদ করা সম্ভব। এভাবে পুকুরে মাছ ও সবজির সবন্বিত চাষাবাদও সম্ভব।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী দেশে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর মধ্যম নিচু থেকে অতি নিচু জমি রয়েছে যা দেশের মোট ভূমির শতকরা প্রায় ২১ ভাগ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, হঠাৎ উপকূলীয় বন্যার কারণে সারা দেশে ব্যাপক এলাকা জলমগ্ন থাকে। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও হাওড় অঞ্চল অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলে ও সিলেটের হাওড়াঞ্চলে ভাসমান সবজি চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।   গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক লাগসই ভাসমান কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে জলমগ্ন বা পতিত জমি ফসল আবাদের কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে ফসলের সার্বিক উৎপাদন বাড়বে যা পরিবর্তিত জলবায়ুগত পরিস্থিতিতে দেশের জলমগ্ন এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।//এআর

গাছ দিয়ে ঠান্ডা করতে পারেন ঘর

ঘরে যদি একটু সবুজের ছোঁয়া থাকে, তখন ঘরটি দেখতে এমনিতেই ভালো লাগে। আর সবুজ, অর্থাৎ গাছ থাকলে এমনিতেই অক্সিজেনের প্রবাহ বেড়ে যায়, ঘর এতে হয়ে ওঠে ঠান্ডা ও প্রশান্তি । এই গ্রীষ্মে আসলে ঘরকে প্রাকৃতিক উপায়ে যদি শীতল রাখতে চান, তাহলে ঘরোয়া পরিবেশে রাখা যায় তবে এমন গাছের বিকল্প নেই। চলুন টাইমস অব ইন্ডিয়ার সৌজন্যে জেনে নিই কী করে গাছের মাধ্যমে ঘরে শীতল ভাব আনা যায়। ঘরে ও বাইরে সবুজের ছোঁয়া ঘরের ভেতরের তাপ কমিয়ে আনে গাছ। গাছ শুধু তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে না, ঘরের ভেতরে বাতাস সঞ্চালনেও সহায়তা করে থাকে । তাই ঘরের ভেতরে, বারান্দায় অথবা ঘরের বাইরে মূল ফটকে গাছ লাগান। চোখের আরামের জন্য হলেও আসে পাশে সবুজ গাছ দরকার । পোড়ামাটির টব ব্যবহার করুন ঘরে গাছ লাগানোর জন্য মাটির পাত্র ব্যবহার করবেন। মাটির টবে পানি শোষণক্ষমতা বেশি থাকে, এতে গাছ ভালো জন্মায়। এ ছাড়া প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করতে পারেন, হালকা বলে এটিকে সহজে সরানো যায়। তবে প্লাস্টিকের টবের থেকে মাটির পাত্রে গাছ ভালো থাকে।টব অ প্লাস্টিকের পাত্র পরিবেশ বান্ধব । অন্দর মহলে গাছ শৌখিন ব্যক্তিরা ঘর সাজানোর জন্য বেছে নিতে পারেন গাছ। শোবার ও বসার ঘরে অথবা খাবার টেবিলের ওপর ছোট গাছ লাগান । স্নানঘরে সবুজের ছোঁয়া প্রশান্তি বাড়িয়ে দেবে স্নান ঘরের গাছ। এতে শ্বাসপ্রশ্বাসে শীতল ভাব পাবেন। অন্য রকম স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়বে স্নানঘরে, যদি সেখানে ছোটখাটো গাছ রাখতে পারেন। বাদ যাবে না রান্নাঘরও রান্নাঘরে ছোট গাছের টব রাখা খুবই জরুরি । রান্নাঘরে ঠান্ডা ভাব রাখতে গাছ প্রধান ভুমিকা রাখে । কেননা, রান্নাঘরটি এমনিতে গরম আবহাওয়া বিরাজ করে তাই সেখানে শীতল ভাব আনার জন্য গাছের জুড়ি নেই।এতে করে পরিবেশ যেমন সুন্দর থাকবে ঠিক তেমনি শীতলতা ঘর জুড়ে থাকবে । / কে আই//এআর

পুরুষের যেসব গুণে নারীরা দুর্বল

পুরুষের কিছু গুণাবলি নারীকে আকর্ষণ করে, পুরুষের প্রতি দুর্বল করে তোলে। তা সব সময় উচ্চতা, গায়ের রং বা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়। কাঙ্ক্ষিত পুরুষের মাঝে আরও বিশেষ কিছু খোঁজেন নারীরা। বিষয়টা পুরোপুরিই মনো-দৈহিক। শরীর তো আছেই, সঙ্গে অবশ্যই থাকতে হবে আবেগ-অনুভূতিও। যারা প্রেম করতে চান, নারীর মন জয় করতে চান এসব গুণের চর্চায় মনোযোগী হতে পারেন আজ থেকেই। ফিটফাট থাকুনপ্রায় সব নারীরাই দীর্ঘদেহী পুরুষ পছন্দ করেন। তবে উচ্চতাই শেষ কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। আসল বিষয় হলো নারী বুঝতে চায় আপনি নিজের যতœ নিতে, ফিটফাট থাকতে পারছেন কি না। তাঁরা ভাবেন, যে পুরুষ নিজের দেখভাল করতে পারেন না, তিনি আমার দেখভাল করবেন কী করে?সুতরাং এলোমেলো থাকা, মোজায় গন্ধ, শরীওে ঘামের গন্ধ, ময়লা শার্ট বা জিনসের উদাসীনতার দিন শেষ। হালের নারীরা এসব একেবারেই পছন্দ করেন না। নারীর মন পেতে হলে এসব খামখেয়ালিপনা আজই ছাড়ুন। রুচিশীল হোন দামি ব্র্যান্ডের জামা-জুতো হতে হবে বিষয়টা মোটেও এমন নয়। আর যদি একটার সঙ্গে বেমানান আরেকটা এই ব্র্যান্ডের শার্ট, ওই ব্র্যান্ডের জুতো, সেই ব্র্যান্ডের জিনস হয় তাহলে তা আপনাকে দেখেই দৌড়ে পালাতে পারে যে কেউ। তাই সাধারণ দোকান থেকে কেনা হলেও পোশাকে-আশাকে নিজের রুচি পছন্দটা তুলে ধরুন। আর খেয়াল রাখুন তা যেন আপনার শারীরিক গড়ন আর গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই হয়। নিজের একটা স্টাইল গড়ে তুলুন।আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি যেমন নারীদের ‘সন্ন্যাসিনী’ সেজে থাকা পছন্দ করেন না, ঠিক তেমনি আধুনিক নারীরাও ‘অফিস টাইপ’ পোশাকের পুরুষদের পছন্দ করেন না। রসবোধনিরস কাউকে নারীরা পছন্দ করেন না। রসবোধ থাকাটা যে কারও জন্যই উঁচুমানের গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কাঙ্ক্ষিত পুরুষের চরিত্রে নারীরা এটা খোঁজেন। প্রাত্যহিক জীবনে এমনিতেই বহু ঝুট-ঝামেলা নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে থাকার মতো যথেষ্টই কারণ থাকে নারীদের। তাই একজন মনমরা টাইপ সঙ্গী তাঁদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই নিজে হাসুন, তাঁর মুখেও হাসি ফোটান।তবে খেয়াল রাখতে হবে ঠাট্টা-তামাশা করতে গিয়ে সব সময়ই অন্য কাউকে খাটো করা, আঘাত করা মোটেই কাজের কথা না। অনেক নারীই এটা রীতিমতো অপছন্দ করেন। আর যে পুরুষ হাসিমুখে নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন, নিজেকে নিজেই মশকরা করতে পারেন, তাঁর প্রতি নারীদের আকর্ষণ কতটা তীব্র সে বিষয়ে আমরা কিছু বলব না, আপনি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখুন। দায়িত্ববান         নারীরা সব সময়ই বারবারই এটা নিশ্চিত হতে চান যে তাঁকে কেউ ভালোবাসছেন, তাঁর খেয়াল রাখছেন। তাঁর হাত ধরে হাঁটা, সুযোগ পেলে একসঙ্গে সূর্যাস্ত দেখা হোক তা বারান্দায় দুই মিনিটের জন্য, মাঝেমধ্যেই জড়িয়ে ধরা, রাস্তা পেরোনোর সময় তাঁর খেয়াল রাখার মতো কাজগুলোকে মোটেই অবহেলা করবেন না। আপনার এসব ছোট ছোট অভ্যাস থেকে অনেক কিছুই বোঝা যায়। কখনো কখনো রাস্তায়, বেড়াতে গিয়ে সবার সামনে তাঁর হাত ধরে হাঁটা মানে আপনি তাঁকে নিয়ে গর্বিত। তবে এ চর্চা যেন হয় জড়তাহীন, সাবলীল আর আতিশয্য বর্জিত।ও চোখে চোখ পড়েছে যখনইতাঁর চোখে চোখ রেখে তাকান। মিষ্টি করে একবার হাসুন। ভালোবাসার চোখে সরাসরি তাঁর চোখে তাকালে একজন নারী যে অনুভূতি পান তার তুলনা করা দুষ্কর। আপনার ওই চাহনিতে নিজেকে লাখে একজন মনে হতে পারে তাঁর। আর মাঝেমধ্যেই চোখে চোখ রেখে তাকানোটা জরুরি। কেননা, অনেক কথায় যা হয় না, চোখের ভাষায় সেটা বলা হয়ে যেতে পারে। সূত্র : এ বলো।//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি