ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১১:১৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামী স্থাপত্যকলার প্রাচীন স্থাপনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামী স্থাপত্যকলার প্রাচীন স্থাপনা

আম, কাঁসা, পিতল, নকশী কাঁথা, রেশমসহ গম্ভীরা, মেয়েলীগীতের মতো লোক উপাদানে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। ইসলামী স্থাপত্যকলার অজস্র নিদর্শন বুকে ধারন করে আছে। যা এক সময় ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের এক উল্লেখযোগ্য জনপদ। শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সমৃদ্ধ নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসও অত্যন্ত গৌরবময়। গৌড়-প্রাচীন বাংলার রাজধানী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে এ প্রাচীন নগরী। পাঁচ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রাচীন আমলে নির্মিত অসংখ্য স্থাপনা। এখানে রয়েছে সোনামসজিদ, তোহাখানা, তোহাখানা তিনগম্বুজ মসজিদ, দারসবাড়ি মসজিদ, খঞ্জন দীঘির মসজিদ, ধনাইচক মসজিদ, কোতোয়ালী গেট (নগর দ্বার), হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজারসহ বেশ কয়েকটি দিঘি। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের অনন্য নির্দশন ও আভিজাত্যের সাক্ষি। সোনা মসজিদ-প্রথমেই চোখে পড়বে ছোট সোনা মসজিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনা মসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। ১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহের আমলে এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। সুলতানী আমলের স্থাপনাগুলোর শিল্প ভাস্কর্যের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন। এই মসজিদে চৌচালার মত তিনটি এবং দুই পাশে ১২টি গোলাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোর তলদেশে বিভিন্ন ফল-ফুলের গুচ্ছ, লতাপাতার নকশা করা আছে। এই মসজিদ চত্বরেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও মেজর নাজমুল হকের সমাধি। তিন গম্বুজ মসজিদ- ছোট সোনা মসজিদ থেকে কয়েকশ’ গজ দূরেই রয়েছে তিন গম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদটি শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ) ১৬৩৯-৫৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন। এর দৈর্ঘ্য উত্তর-দক্ষিণে ১১৬ ফুট ও প্রস্থ ৩৮ ফুট। শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার-তিন গম্বুজ মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার। ১২ দরজা বিশিষ্ট চতুষ্কোনায়তন সমাধিটির পাশেই রয়েছে আরও কয়েকজন সাধক পুরুষের সমাধি।পহেলা মহররম হযরত শাহ নেয়মাতুল্লাহর জন্ম ও মৃত্যুর দিন বলে এই দিনে প্রতিবছরই এখানে ওরস পালন করা হয়। এছাড়া ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবারও এখানে ওরস পালন করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত থেকে অনেক ভক্ত সেদিন ওরসে উপস্থিত হয়। দারসবাড়ি মসজিদ-ছোট সোনা মসজিদ ও কোতয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরে দারসবাড়ি মসজিদ অবস্থিত। স্থানীয় জনসাধারণ এই স্থানকে দারসবাড়ি বলে থাকেন। দারস শব্দের অর্থ শিক্ষা। বর্তমানে এই স্থানটি জনশূন্য। ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের আমলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। এই মসজিদের অভ্যন্তরে দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্ন রয়েছে। এখন শুধু মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। দারসবাড়ি মসজিদের বাহির এবং অভ্যন্তর দেয়ালে টেরাকোটা খচিত। আশপাশের যে ক’টি মসজিদ আছে সে সব চেয়ে এ মসজিদটি অধিকতর সুন্দর। একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল এখানে। মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। খঞ্জনদিঘির মসজিদ-দারসবাড়ি মসজিদের দক্ষিণ দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বল্লাল সেন খননকৃত বালিয়া দিঘির দক্ষিণ পাড় ঘেঁষে পূর্বদিকে কিছুদূর গিয়ে চোখে পড়ে খঞ্জন দিঘির মসজিদ। এক জলাশয়ের পাশেই অবস্থিত খঞ্জনদিঘির মসজিদটি অনেকের নিকট খনিয়াদিঘির মসজিদ নামে পরিচিতি। আবার অনেকে একে রাজবিবি মসজিদও বলে থাকেন। এই মসজিদের আয়তন ৬২ ও ৪২ ফুট। মূল গম্বুজটির নিচের ইমারত বর্গের আকারে তৈরি। এই বর্গের প্রত্যেক বাহু ২৮ ফুট লম্বা। ইটের তৈরি এ মসজিদের বাইরে সুন্দর কারুকাজ করা রয়েছে। খঞ্জনদিঘির মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল এবং কে নির্মাণ করেছিলেন সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তবে মসজিদ তৈরির নমুনা দেখে পন্ডিতেরা অনুমান করেন যে এটি ১৪ শতকে নির্মিত হয়েছিল। ধনাইচকের মসজিদ-খঞ্জনদিঘি মসজিদের অদূরেই রয়েছে আরও একটি প্রাচীন মসজিদ। এই মসজিদটির নাম ধনাইচকের মসজিদ। এটিও ১৪ শতকে নির্মিত হয়েছে। এর দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য। এছাড়াও এ উপজেলায় রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর। যেভাবে যাবেন-রাজধানী ঢাকা থেকে বাসযোগে সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে অথবা শিবগঞ্জে যেতে পারেন। যেখানে থাকবেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও শিবগঞ্জ বাজারে এসি, নন এসি আবাসিক হোটেল, সোনামসজিদের সামনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ডাকবাংলো ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে। এসএইচ/
স্বচ্ছ পানির নিচে রহস্যময় গুহা

আজকের যুগেও পৃথিবীর অনেক প্রান্তে মানুষের পা পড়েনি, এমনটা বিশ্বাস করাটা কঠিন৷ তবে জার্মানির একটি আশ্চর্যজনক জলাধারকে ঘিরে এমনই এক রহস্যময় জগত রয়েছে৷ গবেষকরা ধীরে ধীরে সেখানে অনুসন্ধান শুরু করেছেন৷ জলাধারটির নাম ব্লাউটফ। জার্মানির অন্যতম রহস্যময় জলাধারগুলির একটি এটি৷ সেখানে নতুন করে বহু কিছু আবিষ্কার করার আছে৷ উপর থেকে দেখা  না গেলে ও স্বচ্ছ নীলাভ পানির গভীরে এক লুকানো জগত রয়েছে৷ অসংখ্য গুহা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত আছে এখানে ৷ এই গুহার  সব অংশে এখনো মানুষ প্রবেশ করেনি৷ জার্মানির সেরা ডুবুরি গবেষকদের অনেকেই সেই রহস্য সমাধান করতে সচেষ্ট ৷ এমনিতে তাঁরা বিভিন্ন পেশায়  কাজ করেন৷ কিন্তু সময় পেলেই তাঁরা এই গুহারাজ্যের রহস্য উন্মোচনে ডুব দেন৷ তাঁদের একজন  গুহা গবেষক ইয়খেন মালমান । তিনি  বলেন, যেখানে কেউ কখনো যায়নি, সেখানে যাওয়ার রোমাঞ্চই আলাদা ৷ সেখানে বহু জায়গা এখনও আবিষ্কারই হয়নি ৷ ফলে রোমাঞ্চ তো থাকবেই৷ পানির নীচে গুহায় ডুবুরি হিসেবে বিচরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ৷ সরু পথে বারবার ওঠানামা করলে চাপ সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে৷ বেশ কয়েকজন ডুবুরি ব্লাউটফে মারাও গেছেন ৷ ব্লাউটফের  গোটা এলাকার আয়তন ১৬০ কিলোমিটারের বেশি ৷  বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে ব্লাউটফে জমা হয়৷ চারপাশে সবুজ শ্যামল গাছ-লতাগুল্ম থাকায় স্বচ্চ পানির বুকে এক অসাধারণ প্রতিবিম্ব লক্ষ্য করা যায়। গবেষকরা প্রথম প্রথম সেখানে গিয়ে অভিভূত হন রহস্যময় জলাধারের সৌন্দর্য্যে। গবেষকরা এই গুহা ও পানির পথ সম্পর্কে আরও জানতে চান ৷ ডাইভার প্রোপালশন ভেহিকেলে চেপে পানির নীচে ২০ মিটার গভীরে যাওয়া যায়৷ সেখানে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গুহার প্রবেশপথ ৷ উল্টো দিকের স্রোত সেখানে বেশ শক্তিশালী৷ তার চাপে ডুবুরিদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ প্রবেশপথের অন্যদিকে অন্ধকার৷ বিশাল খোলা জায়গাটির নাম ম্যোরিকে ক্যাথিড্রাল৷ মাটির ৪০ মিটার নীচে এই জায়গাটি বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন। ডুবুরিদের কিছু হলে বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়ার কোনো আশা নেই৷ কিন্তু কৌতুহলের বশে তাঁরা এগিয়ে চলেন৷ তাঁরা নতুন পথ ও অন্যান্য গুহার সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পেতে চান৷ কয়েক বছর আগে গবেষকরা প্রথমবার এই গোপন পথের অস্তিত্ব জানতে পারেন৷ পাথরের কারুকর্যভরা জাদুময় এক জগতের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলার রোমাঞ্চই আলাদা ৷ আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, মনে সব সময়ে উত্তেজনা কাজ করে৷ বিশাল এই প্যাসেজের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে প্রথমে কোনো উপলব্ধি না হলে ও আবিষ্কারের দু-একদিন পর মনে সেই বোধ আসে৷ কারণ, এখানে যে এমন অপরূপ সুন্দর কিছু থাকতে পারে, কেউ তা ভাবেনি৷ অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় এই মানুষগুলি এই পাতাল জগতের সামগ্রিক পরিমাপ করতে চান ৷ তার জন্য জমির উপর থেকে প্রবেশের একটা পথের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সব সরঞ্জাম পৌঁছানো যায়৷ বিশেষ ড্রিলিং যন্ত্রের সাহায্যে মাটিতে প্রায় ২০ মিটার গভীর এক গর্ত খোঁড়া হয়েছে৷ ‘স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন’ নামের এক সদ্য-আবিষ্কৃত গুহায় বেরিয়ে আসতে চান তাঁরা৷ এখন শুধু সফল হবার অপেক্ষা। সূত্র : ডয়েচে ভেলে। //এন//এআর

সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ে ছাদহীন হোটেল

খোলা আকাশের নিচে অবস্থিত শূন্য তারকা বিশিষ্ট হোটেল। হোটেলটির দালানের ওপর কোন ছাদ বা দেয়াল নেই। তারপরও সেখানে মানুষের ভিড়, প্রকৃতির ছোয়া পেতে। হোটেলটিতে একমাত্র তারকা হলেন অতিথিরা ৷ হ্যাঁ এমনই একটি হোটেল সুইজারল্যান্ডের গনটেন গ্রামের কাছে গ্যোবসি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত৷ ভূমি থেকে ১২শ’ মিটার উঁচুতে হোটেলটি নির্মাণ করেছিলেন যমজ দুই ভাই ফ্রাংক ও পাট্রিক রিকলিন৷ ফ্রাংক রিকলিন বলেন, শূন্য তারকা হোটেলের অন্যতম আকর্ষণ হলো অতিথিরা। যখন তারা এখানে আসেন তখন বুঝতে পারেন না যে, এটি আসলে কী৷ এটি কি একটি শিল্পকর্ম, নাকি পর্যটনকেন্দ্র? তিনি বলেন, অতিথিদের এভাবে একটু অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার বিষয়টি বেশ দারুণ ৷ হোটেলে কোনো ওয়ালপেপার নেই। তারপরও আশেপাশের দারুণ দৃশ্যের জন্য সারা বিশ্ব থেকে মানুষ আসে এখানে। পর‌্যটকদের কাছে এটি যেন স্বপ্নপূরী। পাট্রিক রিকলিন বলেন, আমরা এই বিছানা তৈরি করেছি। এর শুরু থেকে সবসময় অতিথি থাকছেন৷ এটি আসলে বিলাসিতা উপভোগের অনন্য এক উপায়। রিসেপশনিস্ট কাম বাটলার হলেন ক্যোবি ডিটরিশ৷ তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি এই কাজ করেন৷ তিনি বলেন, প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি যে, আমার জন্য এমন অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে৷ আমি এই হোটেলের অংশ হতে পেরে আনন্দিত৷ ফ্রাংক রিকলিন বলেন,  এই হোটেলের তারকা হলেন অতিথিরা ৷ এটিই শূন্য তারকা হোটেলের দর্শন৷ যখন আমরা অতিথিদের প্রতিক্রিয়া দেখি, তাদের চলাফেরা ও উৎসাহ দেখি, তখন আমরাও অনুপ্রাণিত হই৷ আমরা বুঝতে পারি, আমাদের কনসেপ্টটা সফল হয়েছে৷ হোটেলের অতিথি আন্দ্রেয়া তাসির্তো বলেন, আমার প্রথমে স্বপ্ন মনে হয়েছিল ৷ তারপর সকালে উঠে মনে হলো, ওটা স্বপ্ন ছিল না৷ বিছানাটা বেশ আরামদায়ক ছিল, খুবই ভালো ঘুমিয়েছি৷ অনেক কোম্পানি এই দুই শিল্পীকে তাদের কনসেপ্ট নিয়ে ব্যবসা করার প্রস্তাব দিয়েছিল ৷ এর মধ্যে একটির মূল্য ছিল কয়েক মিলিয়ন ইউরো ৷ কিন্তু তাঁরা তাতে রাজি হননি ৷ কারণ হোটেলের ভবিষ্যতের বিষয়টি তাঁরা খোলা রাখতে চান৷ সূত্র : ডয়েচে ভেলে। /আর/এআর

জিলান্ডিয়া : পৃথিবীর ‘ডুবন্ত’ মহাদেশ

পৃথিবীর বর্তমান ৭টি মহাদেশের বাইরে আরও একটি মহাদেশ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের প্রায় তিনভাগের দুইভাগের সমান। ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার আয়তনের নতুন এই মহাদেশের ৯৪ ভাগই পানির নিচে। নতুন মহাদেশটির বেশিরভাগই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে অবস্থিত। দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড থেকে এটি কাছাকাছি হওয়ায় নতুন এ মহাদেশকে `জিলান্ডিয়া` নামে অভিহিত করা হয়েছে। এটিকে পৃথিবীর লুকায়িত বা ডুবন্ত মহাদেশও বলছেন বিজ্ঞানীরা।যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী প্রশান্ত মহাসাগরে নয় সপ্তাহ ভ্রমণের পর বুধবার অষ্টম মহাদেশের তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিকাল সোসাইটির গবেষণায় এমন ইঙ্গিত মিলেছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ৮ কোটি বছর আগে এই অঞ্চলটি পানির উপরে ছিল এবং সেখানে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বসবাস ছিল। মহাদেশ হওয়ার জন্য যেসব উপাদান থাকা দরকার পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট এই মহাদেশে তার সবই আছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। এটি নিউজিল্যান্ড, ক্যাথাম উপদ্বীপ ও নি্‌উ ক্যালোনোডিয়া অঞ্চল ঘিরে অবস্থিত। এর এলাকা চিহ্নিত। এক সময় মানব জাতির বসবাসের চিহ্নও পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন প্রায় ৮ কোটি বছর আছে এই মহাদেশটি অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এক সময় এটি পানিতে তলিয়ে যায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ)-এর বিজ্ঞানীদের ৩২ সদস্যের একটি দল `গবেষণা জাহাজ`-এ করে প্রায় দুই মাস ওই অঞ্চল ভ্রমণ করে। ভ্রমণ শেষে তারা এসব তথ্য প্রকাশ করেন।এনএসএফ`র প্রশান্ত মহাসাগর বিভাগের প্রোগ্রাম পরিচালক জামিয়া আল্লান এক বিবৃতে মহাদেশটি প্রায় ৬ কোটি বছর আগে পানির নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের এই অভিযানটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাস, পর্বত গড়ে ওঠার তথ্য এবং ভূখণ্ডের অভ্যন্তরের প্লেটের গঠন পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।জিলান্ডিয়ার বেশিরভাগ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পানির নিচে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এক সময় এতে বসতি গড়ে উঠবে বলেও ভবিষ্যতবানী করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র : সিএনএন, হিন্দুস্তান টাইম্স ও দ্য টেলিগ্রাফ।//এআর

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য

এই গ্রীষ্মেই ১৫০-এ পা রাখছে কানাডা। উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা একটি বিশাল দেশ। আয়তনে বিশ্বের দ্বিতীয় দেশটি প্রাকৃতিক শোভায় অনন্য। এদেশে প্রকৃতি নির্মল। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন হলো রকি পর্বতমালা। পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু রকি পর্বতমালা। এখানকার একটি অনন্য আকর্ষণ হলো পর্বতমালার ভেতর দিয়ে চলাচল করা ট্রেন। এই ট্রেন থেকে দেখা যায় রকি পর্তবমালার অনন্য সৌন্দর্য। ভেনকুভার থেকে ট্রেনযোগে বানফে যাওয়ার পথে বিভিন্ন ধরনের বিরল প্রাণীর দেখা মেলে। দেখা যায় সবুজ শ্যামল প্রকৃতি। যা দেখছে চোখ জুড়িয়ে যায়। পর্যটক বিমোহিত হন এই সৌন্দর্যে। রকি পর্বতমালায় ট্রেন থেকে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের হরিণ, ঈগল ও কালো ভাল্লুক ছাড়াও বহু বিরল প্রজাতির প্রাণী। যা মোহিত করে এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের। দৃষ্টি কেড়ে নেয় রকি পর্বতমালার বন-জঙ্গলও। গাছগাছালি ও ফুলের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। দেখে মনে হবে যেন, প্রকৃতি নিজ হাতে সবকিছু গড়েছে। কোনো খুঁত নেই। পাহাড়ি এলাকায় সবকিছু যেন স্তরে স্তরে সাজানো।সূত্র : ডেইলি মেইল। //এআর

বিনোদনের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষা

দেশের একমাত্র প্ল্যানেটেরিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার। এর অবস্থান রাজধানীর বিজয় সরণী এলাকায়। ‘বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা’ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এটি। দেশের সব নাগরিক বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও তথ্য দিতে এবং মহাকাশ বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা। দেশের একমাত্র প্ল্যানেটেরিয়াম এরইমধ্যে দৃষ্টি কেড়েছে বিজ্ঞান মনস্কদের। রোজ এখানে ভিড় করেন শিক্ষার্থী থেকে নানা বয়সী মানুষ। বিনোদনের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়া হয় এখানে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে এবং মানুষকে সচেতন করতে দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে নভোথিয়েটার প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে নভোথিয়েটার তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের অন্যতম আকর্শন হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ৫টি মহাকাশ বিষয়ক প্রদর্শনী। প্রতিটি প্লানেট শো আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে তৈরী করা হয়েছে। আপনি প্রতিটি শোতে পাবেন বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কারের তথ্য । পাচঁটি শো হলো-মিশন টু ব্লাক হোল, গুড নাইট গল্ডিলকস, জার্নি টু দ্য স্টার, ডন অফ দ্য স্পেস এজ এবং সিস্ফনি অফ দ্যা স্টারি স্কাই। প্রতিটি শো’র শুরুতে থাকছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সহমানের ঐতিহাসিক জীবন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর গৌরবোজ্জল ভূমিকার উপর নির্মিত ৩০ মিনিটের একটি ডিজিটাল ফিল্ম। এছাড়া এখানে রয়েছে ৫ডি মুভি থিয়েটার, ক্যাপসুল রাইড সিমুলেটর, গ্রহ ও সৌরজগতের প্রতিরূপ এবং নতুনভাবে সংযুক্ত হয়েছে ৩০টি বিজ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল এক্সিবিটস গ্যালারি। এই প্রদর্শনীতে আছে পদার্থ বিদ্যার সূত্র পর্যবেক্ষণ, টাচ মিতে আলোর প্রতিবিম্বের মাধ্যমে ডায়নোসরের ছবি রয়েছে। নিজের ইচ্ছেমতো প্রাণী তৈরি করে নিজের অনুগত করার খেলা, বিভিন্ন গ্রহে আপনার ওজন কত তা জানা, মনিটরের মাধমে পিয়ানো বাজানো, টর্নেডো সিস্টেম দেখা, ডিজিটাল গেমসহ নানা প্রদর্শনী রয়েছে নভোথিয়েটারে। নভোথিয়েটারের এসব আকর্ষণ দেখতে রোজ দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় এখানে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে আসেন। কেউ আসেন সন্তানকে আধুনিক বিজ্ঞান সম্পর্কে পরিচিত করতে। কেউ এ সম্পর্কে জানতে। বিনোদনের মাধ্যমে কিভাবে মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে জানা যায়, সেটি সম্পর্কে জানতেও অনেকে আসেন এখানে। মঙ্গলবার দুপুরে নভোথিয়েটারে গিয়ে দেখা মেলে একঝাক শিক্ষার্থীর। কেন নভোথিয়েটারে এসছো-এমন প্রশ্নের জবাবে মিরপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী সানজিদা জানায়, টাচ মিতে ডায়নাসরের ছবি দেখতে এখানে এসেছি। বন্ধুদের কাছে শুনে আগ্রহ তৈরি হয়। ভাবলাম একবার দেখি আসি। তাই স্কুলছুটির পর চলে আসি। শাহীন কলেজের বিজ্ঞানের এক শিক্ষার্থী জানায়, ডিজিটাল গেম সম্পর্কে পরিচিত হতে এখানে আসা। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র দেখার আগ্রহ থেকেও এখানে আসা হয়েছে। ৮ বছর বয়সী এক শিশুর সঙ্গে এসেছেন তার মা। ডেমরা থেকে আসা ওই নারী জানান, মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ে ছেলেকে পরিচিত করতে তিনি এখানে এসেছেন।     এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আবুল বাশার মো. জহুরুল ইসলাম একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে বলেন, আমরা নভোথিয়েটারের প্রতিটি শোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জীবন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর গৌরবোজ্জল ভূমিকা নিয়ে একটি ডিজিটাল ফিল্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন আধুনিক বিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারে এবং বিজ্ঞান নিয়ে যেন তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় সেজন্য বিজ্ঞানের শো গুলোকে বিনোদনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি। টিকিট মূল্য প্লানেট শো’র জন্য ১০০টাকা, ডিজিটাল এক্সিবিটসের জন্য ৫০ টাকা, ৫-ডি মুভি থিয়েটারের জন্য ৫০ টাকা এবং সিমুলেটর রাইডের জন্য টিকিট মূল্য ৫০টাকা। সময় সপ্তাহিক ছুটি বুধবার ছাড়া রোজ এটি খোলা থাকে। এছাড়া শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং অন্যদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। /এম/এআর      

সাড়ে তিন হাজার টন বালির প্রাসাদ!

প্রাসাদ বালির তৈরি ! তাও আবার ১৬.৬৮ মিটার (৫৪.৭২ ফুট) লম্বা । কি অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ এরকমই একটি প্রাসাদ জার্মানির ডুইসবর্গে তৈরি করেছেন ১৯ জন ভাস্কর। এই কাজে অর্থ সহায়তা দিয়েছে জার্মানির একটি ট্রাভেল অপারেটর কোম্পানি। সাড়ে তিন মাস ধরে এই প্রাসাদ নির্মাণ করতে প্রায় তিন হাজার ৫০০ টন বালি লেগেছে। নিজেদের এই বিশাল প্রাসাদের নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে উঠানোই ছিল ট্রাভেল অপারেটর কোম্পানি আর নির্মাণশিল্পীদের উদ্দেশ্য। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধি জ্যাক ব্রোকব্যাংক বিশাল এই প্রাসাদকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বালির প্রাসাদ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। বছরের গোড়ার দিকে ভারতে বানানো ১৪.৮৪ মিটার লম্বা এক বালুর প্রাসাদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এ প্রাসাদটি । বালুর প্রাসাদটিকে সাজানো হয়েছে অ্যাথেন্সের অ্যাক্রোপোলিস, বার্সেলোনার সাগ্রেদা ফ্যামিলিয়া, পিসার হেলানো স্তম্ভ নামক পৃথিবীর বিখ্যাত স্থাপত্য দিয়ে ।  পর্যটকদের জন্য সেপ্টেম্বরের প্রায় পুরো সময়টাই রেখে দেওয়া হবে এ প্রাসাদ। /এম/এআর

কুষ্ঠরোগীদের নির্বাসনে পাঠানো হতো যে দ্বীপে

কুষ্ঠরোগীর বসতি হিসেবে পরিচিত  গ্রিসের স্পিনালঙ্গা দ্বীপ। এর আগরে দিনগুলোর কথা একসময় অজানা ছিল। সময় বদলেছে। কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা এই রহস্যময় দ্বীপটি সম্পর্কে এখন জানা যাচ্ছে অনেক কিছুই। রহস্যময় এই স্পিনালঙ্গা উপনিবেশটি ক্রীটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্লাকার (বর্তমানে গ্রীস) কাছে  অবস্থিত। ভেনিসীয় ও অটোমান শাসনামলে প্লাকা সামরিক বাহিনীর কেল্লা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মধ্যযুগীয় রাজধানী প্লাকা স্পিনালঙ্গা দ্বীপের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। ১৯০৪ সালে ক্রীটবাসী স্পিনালঙ্গা থেকে তুর্কিদের বিতারিত করার পর দ্বীপটি কুষ্ঠরোগীর দ্বীপে পরিণত হয়। সেসময় কুষ্ঠরোগীকে ‘মরার আগেই মৃত’ বলা হত। ১৯১৩ সালে ক্রীট গ্রিসের অংশে পরিণত হওয়ার পর কুষ্ঠরোগীদের স্পিনালঙ্গাতে পাঠানো হয়। তখন স্পিনালঙ্গায় প্রায় ৪০০ বাসিন্দা নিয়ে গড়ে উঠে একটি উপনিবেশ। দরিদ্র বাসন্দিারা পুরোনো কেল্লায় বসবাস করতো তখন। একবার কেউ কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হলে তার সব সম্পদ জব্দ করা হত, তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হত এবং তাকে স্পিনালঙ্গাতে নির্বাসন দেয়া হত। সেখানে তারা কখনো কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা পেত না। অন্যান্য রোগে কেউ আক্রান্ত হলেই কেবল চিকিৎসা করতেন এই দ্বীপে নিযুক্ত একমাত্র ডাক্তার। এমনকি ১৯৪০-এর দশকের গোড়ার দিকে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা বের হলেও ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চিকিৎসা পায়নি স্পিনালঙ্গাবাসী। পরে এক ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ এই দ্বীপ পরিদর্শন করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করার জন্য দ্বীপের ডাক্তার ও রাষ্ট্রকে অমান্য করে একটি লজ্জাজনক রিপোর্ট তৈরি করেন। এরপর থেকেই কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা সেবা পেতে শুরু করে স্পিনালঙ্গার বাসিন্দারা। ১৯৫৭ সালে উপনিবেশটি বন্ধ হয়ে যায়। গ্রিক সরকার উপনিবেশের সব চিহ্ন ধ্বংস করার চেষ্টা করে। উদ্বিগ্ন সরকার এই উপনিবেশের অস্তিত্ব মুছে  ফেলতে সব ফাইল পুড়ে ফেলে। জীবিত কুষ্ঠরোগীদের নিষেধ করা হয় তাদের অভিজ্ঞতার কথা অন্য কারো কাছে বলতে। ১৯৫৭ সালের পর স্পিনালঙ্গা পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে মনে হয়েছে যে, এখানে স্পিনালঙ্গা কখনই ছিল না। সূত্র : বিবিসি।//এআর

রোবট এবার দন্ত চিকিৎসক

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি রোবট। সেই রোবট এবার দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছে। মানুষের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই সফল অস্ত্রোপচার করেছে রোবট। মাড়িতে অস্ত্রোপচার করে নতুন দাঁত বসিয়ে দিয়েছে চীনে তৈরি এই রোবট। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রোবটের হাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন দাঁত বসানোর ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফোর্থ মিলিটারি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির স্টোমেটোলজিকাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সেখানেই অস্ত্রোপচারটি হয়েছে। হাসপাতালটির চিকিৎসক জাও ইমিন সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, কোনো ধরনের ভুল না করে দাঁতের অস্ত্রোপচার সফলভাবে করার জন্যই রোবটটি তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, এক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারটি রোবটের মাধ্যমেই হয়। চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকলেও তাদের কোনো সক্রিয় সহায়তা করতে হয়নি। চীনের শানছি প্রদেশে জিয়ান শহরে এক নারী নিজের নতুন দুটি কৃত্রিম দাঁত বসানোর কাজটি রোবটের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। রোবটটি তৈরি করেন বেইজিংয়ের বেইহাং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। চীনে দন্ত চিকিৎসক অপ্রতুল বলে রোবটের মাধ্যমে কাজটি করার এই প্রক্রিয়া। হংকং ও সিঙ্গাপুরেও দন্ত চিকিৎসকের সঙ্কট রয়েছে। একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চীনে ৪০ কোটি মানুষের দাঁতের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের অভাবে অনেকে হাতুড়েদের উপর ভরসা করেন। এতে অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় রোগীদের বিপাকে পড়তে হয়। রোবট দন্ত চিকিৎসক এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে বলে চীনের গবেষকরা আশাবাদী। আর/ডব্লিউএন

নান্দনিক স্থাপত্যের নিদর্শন বায়তুল আমান

বরিশাল-বানারীপাড়া সড়ক ধরে এগিয়ে গেলে উজিরপুর উপজেলা। যা বরিশাল মহানগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। সড়কের পাশে গুঠিয়ার চাংগুরিয়া গ্রাম। এ গ্রামেই অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মসজিদ। ১৪ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন বাইতুল আমান জামে মসজিদ ও কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের কাছে এটি গুটিয়া মসজিদ হিসেবে পরিচিত। সৌন্দর্য ও এর বিশালতায় এটিকে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জামে মসজিদ।  জানা গেছে, ১৪ একর জমির উপর প্রথম ২০০৩ সালে মসজিদটির স্থাপনার কাজ শুরু হয়।  প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০০৬ সালে এটির কাজ শেষ হয়। সে বছরই সর্ব সাধারণের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। মসজিদটিতে ব্যাবহার করা হয়েছে উন্নমানের কাঁচ, ফ্রেম, বোস স্পিকার। যেটির কারনে এই মসজিদের আজান বিশেষভাবে শ্রুতিমধুর হয়েছে। এছাড়া মসজিদটির সীমানার মধ্যে ঈদগাহ্ ময়দান, দিঘি, এতিমখানা, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক, পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান রয়েছে। এই মসজিদটির তত্ত্বাবধানে ৩০ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যাবস্থা রয়েছে মসজিদটিতে। উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু। চাংগুরিয়ার নিজবাড়ির সামনে ব্যক্তিগত খরচে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন তিনি। ২০০৩ সালে মসজিদটির স্থাপনার কাজ শুরু হয়। প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে মসজিদের কাজ সম্পন্ন হয়। ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে এ মসজিদটির উদ্বোধন করেন ছারছিনা দরবার শরীফের পীর মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ। এরপর থেকে প্রতিদিনই হাজারো দর্শণার্থী মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ পড়তে আসেন। মসজিদ কমপ্লেক্সের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এখানে জমজম কূপের পানিসহ কাবা শরীফ, আরাফার ময়দান, জাবালে নৃর, জাবালে রহমত, নবীজীর জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান, খলিফাদের কবরস্থান, মসজিদে রহমত সহ বিখ্যাত মসজিদ এবং বিখ্যাত জায়গা সমূহের মাটি সংরক্ষণ করা আছে। যা পর্যটকদের জন্য একটা বিশেষ আকর্ষণ। কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি বৃহৎ মসজিদ-মিনার, ২০ হাজার অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান, এতিমখানা, একটি ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিংব্যবস্থা, হেলিপ্যাড, লেক-পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান রয়েছে। কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশ পথের ডানে বড় পুকুর। দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য পুকুর পাড়ের রাস্তা পাকা করে দেয়া হয়েছে। রয়েছে মোজাইক দিয়ে পুকুরের শান বাঁধানো ঘাট। ঘাটের পাশে বাদাম গাছ। যার নিচে বসে বাতাসের শীতল ছায়ায় শরীর জুড়িয়ে নিতে পারেন মুসল্লীরা। পুকুরের পশ্চিম দিকেই মসজিদ। মসজিদটির তিন পাশে খনন করা হয়েছে কৃত্রিম খাল। যা নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক। মসজিদের সামনের পুকুরটি এমনভাবে খনন করা হয়েছে যে পানিতে মসজিদটির পুরো প্রতিবিম্ব দেখা যায়। বায়তুল আমান মসজিদ লাগোয়া মিনারটির উচ্চতা ১৯৩ফুট। ঘাটের ঠিক উল্টোদিকে মসজিদের প্রবেশ পথে বসানো হয়েছে দুটি ফোয়ারা। রাতে আলোর ঝলকানিতে ফোয়ারাগুলো আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। ২০টি গম্বুজের স্থাপত্যকলায় সাজানো হয়েছে বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও কমপ্লেক্স। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নামকরা মসজিদগুলোর নকশার অনুকরনে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয় করে এটি নির্মাণ করা হয়। মাঝখানের কেন্দ্রীয় গম্বুজের চারপাশে বৃত্তাকারে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে পবিত্র আয়াতুল কুরসি। গোটা মসজিদের ভেতরের চারপাশ জুড়ে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে সুরা আর রহমান। ভেতরের চারকোনের চার গম্বুজের নিচে, প্রবেশ তোরণের সামনে এবং ভেতরের দর্শনীয় কয়েকটি স্পটে শোভা পাচ্ছে আল কুরআনের বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফি। এসব সুদৃশ্য ক্যালিগ্রাফি এবং আলপনা করা হয়েছে বর্ণিল কাচ, মূল্যবান মার্বেল পাথর, গ্রানাইট ও সিরামিক দিয়ে। ভেতরের নয়টি গম্বুজে বিশালাকৃতির নয়টি অত্যাধুনিক ও মূল্যবান ঝাড়বাতি বসানো হয়েছে। মসজিদটির মেঝেতে বসানো হয়েছে ভারত থেকে আনা সাদা মার্বেল পাথরের টাইলস। মসজিদটির ভেতরে এক হাজার ৪০০ মুসল্লী একসঙ্গে নামায আদায় করতে পারেন। বাইরের অংশে আরো ৫ হাজার মুসল্লী একত্রে নামায পড়তে পারেন। মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যাবস্থা রয়েছে। মুসুল্লীদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে বিদেশ থেকে আনা অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। মসজিদের উত্তরপাশে দুইতলা বিশিষ্ট ভবনে রয়েছে কমপ্লেক্সের অফিস, খতিব ও মুয়াজ্জিনের কোয়ার্টার, এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসা। এছাড়া মসজিদটির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে আড়াই একর জায়গায় রয়েছে কবরস্থান। বিদ্যুৎ লাইনের পাশাপাশি রয়েছে ১৫০/১৫ কেভিএ শক্তিসম্পন্ন নিজস্ব দুটি জেনারেটর। যার আলোকসজ্জায় মসজিদটি রাতে অনেক বেশি নয়নাভিরাম মনে হয়। কারণ এর ভেতরে-বাইরে এমনভাবে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, যা দর্শকদের নিয়ে যায় অপার্থিব জগতে। চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন এই মসিজিদ কমপ্লেক্সটি ধীরে ধীরে সমগ্র বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে উঠেছে।কিভাবে যাবেনঢাকা থেকে বরিশালে সড়কপথে আপনি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে বেশকিছু বাস বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বেশীরভাগ বাস পাটুরিয়া ঘাট অতিক্রম করে বরিশালে যায়। আবার কিছু কিছু বাস মাওয়া ঘাট অতিক্রম করে বরিশালে যায়। ঢাকা থেকে আগত বাসগুলো বরিশালের নখুলাবাদ বাস স্ট্যান্ডে থেমে থাকে।ঢাকা থেকে বরিশালে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে আছে- শাকুরা পরিবহন, ঈগল পরিবহন, হানিফ পরিবহন। কোথায় থাকবেনমসজিদ কমপ্লেক্সের কাছাকাছি তেমন কোন থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে বরিশালে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল রয়েছে। খাবার সুবিধাইলিশ ও সামুদ্রিক মাছের জন্য বরিশালের খ্যাতি আছে। এছাড়া এখানকার খাবার হোটেলগুলোতে আপনি দেশী ও স্থানীয় খাবারও পেয়ে যাবেন।//এস//এআর

উদ্বাস্তু-শরণার্থীদের স্বাগত জানায় যে দেশ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-হত্যাযঞ্জ থেকে বাঁচতে ঝাকে ঝাকে শরনার্থী প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কয়েক লাখ শরনার্থী ঠাই নিয়েছে। সরকার মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করেছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ তাদের পাশে দঁাড়িয়েছে। বিপদগ্রস্তদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন অনেকে। রোহিঙ্গাদের মত বিশ্বের নানা দেশেই বিপদে পড়ে শরণার্থীরা ভিড় করেন। কিন্তু সবাই তাদের সাদরে গ্রহণ করে না। এদের ঠেলে দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী দেশ হলো আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত উগান্ডা। এ দেশ থেকে কোনো শরণার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। শরণার্থীদের দেওয়া হয় আইডি কার্ড। যেটি ব্যবহার করে তারা চাকরি করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে কিংবা নিজেদের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে পারে।  উগান্ডাতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই শরণার্থীদের খোঁজখবর রাখা হয়। শরণার্থীরা চাইলেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ফোন করতে পারেন। উগান্ডা কেন শরনার্থীদের বন্ধু বেশ কয়েকটি কারণে উগান্ডার শরণার্থী নীতি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বলে মনে করা হয়। শরণার্থীরা উগান্ডায় এলে তাদের শরণার্থী শিবিরে রাখা হয় না। তার বদলে একখণ্ড জমি দেওয়া হয়। যে জমিতে তারা বসবাস করতে পারবে এবং কৃষিকাজ করে নিজেদের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করে নিতে পারবে। উগান্ডায় শরণার্থীরা প্রবেশ করলে তাদের প্রত্যেককে একটি করে আইডি কার্ড দেওয়া হয়। এতে তারা আইনগতভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এ কার্ড ব্যবহার করে তারা উগান্ডার ভেতরের যে কোনো স্থানে নিজেদের ইচ্ছেমতো যাতায়াত করতে পারে। শরণার্থীদের দেওয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে তারা চাকরি করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে কিংবা নিজেদের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে পারে। উগান্ডাতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই শরণার্থীদের খোঁজখবর রাখা হয়। শরণার্থীরা চাইলেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ফোন করতে পারেন তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানিয়ে। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার সংখ্যার দিক দিয়েও উগান্ডা এগিয়ে রয়েছে। প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে উগান্ডায়। ফলে বিশ্বের পঞ্চম শরণার্থী গ্রহণকারী দেশের মর্যাদা পেয়েছে উগান্ডা। সূত্র : বিবিসি।//এআর

নির্বাসিতের কুখ্যাত কয়েকটি দ্বীপ

রাষ্ট্রের কাছে ভিন্ন মতাবলম্বী, রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক ও দাগী আসামিদের নির্বাসনের জন্য একসময় বিখ্যাত হয়েছিল কয়েকটি দ্বীপ। এসব দ্বীপে স্থান হয়েছিল নেলসন ম্যান্ডেলা, নেপোলিয়ন বেনাপোর্টসহ বিখ্যাতসহ মানুষের। আর সেই দ্বীপগুলোই পরিচিত কুখ্যাত দ্বীপ হিসেবে। নানা কারণেই এসব দ্বীপ আজও আলোচিত। পর্য।টকদের জন্যও আকাঙ্খিত গন্তব্য।  ওইসব দ্বীপ নিয়েই এবারের ফিচার।রোবেন দ্বীপকেপটাউন থেকে সাত মাইল দূরের রোবেন দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় নেলসন ম্যান্ডেলাকে। কালো মানুষদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসিত হন ম্যান্ডেলা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে রোবেন দ্বীপ একই সঙ্গে ডাচ ও ব্রিটিশদের বন্দিশালা হিসেবেও ব্যবহূত হতো। এখানে কুষ্ঠরোগ নিরাময়কেন্দ্র ও মানসিক হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। ম্যান্ডেলা ছাড়াও এখানে অন্তরীণ ছিলেন রবার্ট সোবুকে এবং বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। এ সময় তাঁরা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করেছেন। ১৯৯৭ সালে এক হাজার ৪৪৭ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই দ্বীপে জাদুঘর স্থাপন করা হয়। ফ্রেঞ্চ গায়ানাইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য এক স্থান এই দ্বীপ। ১৮৫৪ সালে নেপোলিয়ন-৩ এখানে বন্দিশালা প্রতিষ্ঠা করেন। মোট চারটি বন্দিশালা ছিল এ দ্বীপে। এখানে প্রায় ৮০ হাজার ফরাসি নাগরিককে অন্তরীণ রাখা হয়। এই দ্বীপকে শুকনো গিলোটিন বলা হতো। ১৯৩৮ সালে বন্দিশালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ হাজার বন্দীকে খুন করা হয় বন্দিশালাগুলোতে। এই দ্বীপে বন্দী ছিলেন হেনরি শ্যারিয়ার। ১৯৬৮ সালে লেখা তাঁর প্যাপিলন বইটি প্রকাশের পরপরই বিক্রির তালিকায় শীর্ষে স্থান করে নেয়। পরে এই বই থেকে সিনেমাও তৈরি হয়।রবিনসন ক্রসো দ্বীপ১৭০৪ সালে এক অস্ত্রবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ঝগড়া করার পর আলেকজান্ডার সেলকার্ককে প্রশান্ত মহাসাগরের ইসলা মিয়াস তিয়ারা নামের এক দ্বীপে ফেলে রেখে জাহাজের বাকি সবাই চলে যায়। প্রায় পাঁচ বছর সেই দ্বীপে একমাত্র মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করেন সেলকার্ক। চিলির বালপারাইসো থেকে ৪৮ মাইল দূরের এই দ্বীপে তিনি শিকার আর ফলমূল খেয়ে বেঁচে টিকে ছিলেন। পরে ১৭০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপের কাছ দিয়ে যাওয়া এক জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হয়, সেলকার্কের এই দুঃসাহসিক পাঁচ বছর নিয়েই ডেনিয়েল ডিফো রবিনসন ক্রুসো নামে উপন্যাস লিখেন। পরে চিলির সরকার ১৯৬৬ সালে এই দ্বীপের নামকরণ করে রবিনসন ক্রুসো দ্বীপ।পাটমোসএজিয়ান সাগরের মাঝখানে ১৩ বর্গমাইলের একটি পাহাড়ি দ্বীপ পাটমোস। ৯৫ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট জনকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেয় রোমানরা। গসপেল বা নতুন বাইবেল আর নতুন টেস্টামেন্ট বলে পরিচিত রিভিলেশনস বই রচনা করেন তিনি এই দ্বীপে বসে। প্রায় ১০০ বছর পর সেন্ট জনের স্মরণে এক সন্ন্যাসী এখানে প্রতিষ্ঠা করেন এক আশ্রম, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো এ দ্বীপকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।সেন্ট হেলেনাদক্ষিণ আটলান্টিকের মাঝামাঝি এই দ্বীপের অবস্থান। অ্যাঙ্গোলা থেকে এক হাজার ২০০ মাইল এবং ব্রাজিল থেকে এক হাজার ৮০০ মাইল দূরের এই দ্বীপকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম স্থান বলে বিবেচনা করা হয়। ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নেপোলিয়নকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। ১৮২১ সালে এই দ্বীপেই মৃত্যুবরণ করেন নেপোলিয়ন। এই দ্বীপে অন্তরীণ থাকাকালে তিনি বই পড়া, বাগান করা আর নিজের স্মৃতি রোমন্থন করে সময় কাটাতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৫১ বছর। সম্প্রতি এই দ্বীপটি পর্যেটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।  সূত্র: উইকিপিডিয়া ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন অবলম্বনে।//এআর

পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নেপোলিওনের স্মৃতিবিজড়িত হেলেনা দ্বীপ

অবশেষে পর্যীটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো নেপোলিওন বেনাপের্টের স্মৃতিবিজরিত সেইন্ট হেলেনা দ্বীপ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ছোট ব্রিটিশ দ্বীপে যেতে নৌকাই ভরসা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান কোম্পানি এয়ারলিঙ্ক সাপ্তাহিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। কেপ টাউন এবং জোহানেসবার্গ থেকে বিমানে চেপে যাওয়ার ব্যবস্থা করে হয়েছে সেইন্ট হেলেনায়। একটি কারণেই আইল্যান্ড অব সেইন্ট হেলেনা বিখ্যাত হতে পারে। ওই দ্বীপে ১৮১৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮২১ সাল পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ সম্রাট নেপোলিওন বোনাপোর্ট নির্বাসিত ছিলেন। এটি একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ। বহুকাল ধরে মানুষের দৃষ্টির বাইরে ছিল। কিন্তু এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।    নামিবিয়া উপকূল থেকে পশ্চিমের দিকে দক্ষিণ আটলান্টিকে অবস্থিত এই দ্বীপ। সেইন্ট হেলেনা পৃথিবীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে প্রবেশাধিকার দারুণভাবে সংরক্ষিত। বড় একটি কারণ হলো, উনিশ শতকে খোদ নেপোলিওনকে নির্বাসিত করা হয় এখানে। মাত্র ১২২ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপে রয়াল মেইল শিপ সেইন্ট হেলেনার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসেন পর্যটকরা। কেপ টাউন থেকে পৌঁছতেই ৫ দিন সময় লেগে যায়।   সেইন্ট হেলেনাতে পা ফেললেই এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি হবে। প্রথমেই মনে হবে, নেপোলিওন যেখানে বহু বছর সময় বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন, সেখানে আপনি ঘোরাফেরা করছেন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে পারবেন। ডায়ানাস পিক ন্যাশনাল পার্ক সমুদ্রপৃষ্ঠ তেকে ৮২৩ মিটার উঁচুতে। সেখান থেকে দ্বীপের সৌন্দর্য পুরোপুরি চাক্ষুস হবে।  সেইন্ট হেলেনা দ্বীপে রয়েছে একমাত্র বন্দর জেমসটাউন। পর্যটকরা এখানেই এসে নামেন। যারা অভিযানে নামতে চান তারা জ্যাকোবস ল্যাডার বেয়ে ৬৯৯ পদক্ষেপ পাড়ি দিতে হবে। এটা এক ঐতিহাসিক মই। এই দ্বীপ ছাড়তেও হবে জেমসটাউন বন্দর থেকে। এখানে শহরের যে পার্ক রয়েছে সেখানে গেলে দেখা মিলবে কিছু স্থানীয় উদ্ভিদের। এগুলো অনেক কাজের। রোগবালাই তাড়ানো থেকে শুরু করে অনেক উপকারে লাগে।  ফ্রেঞ্চ সম্রাটদের নির্বাসন হিসাবে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়েছে সেইন্ট হেলেনা। সাবেক কর্সিকান জেনারেল ১৮১৫-১৮২১ সাল এখানেই নির্বাসিত ছিলেন। তার স্থানীয় নিবাস লংউড হাইজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এখানকার ব্রায়ার্স প্যাভিলিওনে ছিলেন। এই ভবনগুলো পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।  তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি