ঢাকা, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১:৩৩:২৮

নাচ ময়ূরী নাচ রে

নাচ ময়ূরী নাচ রে

শীতের হিম সকালে গিয়েছিলাম জাতীয় চিড়িয়াখানায়। আমাদের মত অনেকেই এসেছেন দর্শনার্থী হয়ে। উপস্থিত দর্শনার্থীদের সংখ্যা মোটামুটি ভালোই ছিলো। টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানতে পারি- প্রায় প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। বিনোদন প্রেমীরা শহরের কোলাহল থেকে একটু মুক্তি পেতে এবং কিছুটা সময় পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে ছুঁটে আসেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়। একটা সময় ছিলো যখন এই চিড়িয়াখানায় পশু-পাখির উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। সেই দৃশ্য এখন অতীত। আগের মত পরিবেশ নেই। নেই পশুপাখির ডাক ও গর্জন। প্রায় ৭৫ হেক্টর আয়তনের এই চিড়িয়াখানায় পর্যাপ্ত পশুপাখি না থাকায় দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হচ্ছেন। চিড়িয়াখানার অধিকাংশ খাচাই এখন পশু-পাখি শূণ্য। তবে সব হতাশার মধ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে একটা পাখি। অতি সুদর্শন এক প্রজাতির পাখি। যার নাম ‘ময়ূর’। স্ত্রী পাখি ‘ময়ূরী’ নামে পরিচিত। চিড়িয়াখানায় এই একটি প্রাণী দেখে আমি পুরো দিনের বিনোদনটা উপভোগ করেছি। একদিকে ময়ূরের ডাক, অন্যদিকে নৃত্য। সেই সঙ্গে আমার ক্যামেরায় মডেল হয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ময়ূর ও ময়ূরীর মডেলিং, আমাকে মুগ্ধ করেছে। অসাধারণ সেই দৃশ্য। যা দেখে আমি ময়ূরীর প্রেমে পড়েছি। এ সুযোগটি অবশ্য ময়ূর নিজেই করে দিয়েছে। নৃত্যরত অবস্থায় পেয়েছি তাদের। যাদিও গানে গানে বলা হয় ‘নাচ ময়ূরী নাচ রে’ তবে ময়ূরী কিন্তু সহজে নাচে না। নাচে পুরুষ ময়ূর। যারা স্ত্রী ময়ূরীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নৃত্য করে। পুরুষ ময়ূর পাখি দেখতে অতি সুন্দর হলেও কণ্ঠস্বর কর্কশ। আজ জানাবো ময়ূরের সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য - অনেকেই ময়ূরের পালককে মঙ্গলের চিহ্ন হিসেবে ভেবে থাকেন। যে কোনো শুভ কাজে বা মঙ্গলের চিহ্ন হিসেবে ময়ূরের পালক ব্যবহার করা হয়। কেউ কেউ আবার বাড়িতে ময়ূরের পালকও রাখেন। কিন্তু আমরা অনেকেই ময়ূর সম্পর্কে পুরোপুরি জানিনা। ময়ূর (Phasianidae) [ফ্যাজিয়ানিডি] পরিবারের অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত সুন্দর একটি পাখি। এশিয়ায় (Pavo) [পাভো] মোট দুই প্রজাতির এবং আফ্রিকায় (Afropavo) [আফ্রোপাভো] একটি ময়ূরের প্রজাতি দেখা যায়। এশিয়ার প্রজাতি দু’টি হচ্ছে- নীল ময়ূর আর সবুজ ময়ূর। আফ্রিকার প্রজাতিটির নাম কঙ্গো ময়ূর (Afropavo congensis)। নীল ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে এদের দেখা যায়। পূর্বে বাংলাদেশে এরা বিস্তৃত থাকলেও এখন সম্ভবত বিলুপ্ত। সবুজ ময়ূর মায়ানমার থেকে জাভা পর্যন্ত বিস্তৃত। আশঙ্কাজনক হারে বিশ্বব্যাপী কমে যাচ্ছে বলে এরা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহাসিকভাবে প্রজাতিটি মায়ানমারের জাতীয় প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এসব ময়ূরের পাশাপাশি সাদা ময়ূরও দেখা যায়। এদের দেহ শুধু সাদাই নয়, চোখও নীল। প্রকৃতপক্ষে নীল ময়ূরই সাদা ময়ূর, জিনগত মিউটেশনের কারণে এদের এমনটি দেখায়। ময়ূরের সব প্রজাতি সাধারণত বনে বাস করে এবং মাটিতে বাসা বাঁধে। তবে মাঝে মাঝে লোকালয়েও দেখা যায়। বিশেষ করে সংরক্ষিত এলাকায় এরা মানুষের খুব কাছে চলে আসে। এরা সর্বভূক। চারা গাছের অংশ, কীটপতঙ্গ, বীজের খোসা, ফুলের পাপড়ি এবং ছোট ছোট সন্ধিপদ প্রাণী খায়। এরা ডিম পাড়ে ও ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। ছোট বাচ্চাগুলো মুরগির বাচ্চার মতই মায়ের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে খাবার খায়। বিপদ দেখলেই মায়ের ডানার নিচে এসে লুকায়। ছোট বাচ্চারা মুরগির বাচ্চার মতই মায়ের পালকের আড়ালে, আবার কখনো বা পিঠের উপর লাফিয়ে ওঠে। স্ত্রী ময়ূরকে আকৃষ্ট করার জন্য পুরুষ ময়ূর পেখম তোলে। এ কারণেই এরা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে ভারতীয় ময়ূরের মত সাদা ময়ূরের পেখমে সোনালী পালক বা নীল রংয়ের বড় ফোঁটা নেই। সাদা ময়ূর সম্পূর্ণ সাদা। স্ত্রী ময়ূরও পেখম তোলে। তবে তা শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্য। স্ত্রী ময়ূরের পেখম আকারে অনেক ছোট। কথিত আছে যে, প্রাচীন যুগে একসময় ময়ূরের লেজ নিষ্প্রভ ছিল। রাবন এবং দেবরাজ ইন্দ্রের যুদ্ধের সময় ময়ূর তার লেজ বিস্তৃত করে দিয়েছিল, যাতে দেবরাজ ইন্দ্র সেখানে লুকতে পারেন। নিজের লেজ দিয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে রক্ষা করতে সফল হয়েছিল ময়ূর। এরপর থেকে ময়ূরের পালককে মঙ্গলময় বলে স্বীকৃতি দেব দেবতারা। এরপর থেকেই দেবরাজ ইন্দ্রকে ময়ূর সিংহাসনে উপবিষ্ট হতে দেখা যায়। ময়ূরকে ধন-সম্পদের প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। আর এই কারণেই বাড়িতে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি করতে অনেকে বাড়িতে ময়ূরের পালক রাখেন। এছাড়া এমনও মনে করা হয়, ময়ূরের পালক বাড়িতে রাখলে, বাড়িতে মশা-মাছি, পোকা-মাকড়ের উপদ্রব হয় না। ভগবান কৃষ্ণকে তার মুকুটে ময়ূরের পালক ধারণ করতে দেখা যায়। তাই ময়ূরের পালককে হিন্দুত্বের অন্যতম চিহ্ন বলে মনে করা। যেহেতু যুদ্ধের সময় ময়ূর নিজের লেজ দিয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে রক্ষা করেছিল, তাই একে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। ময়ূর আমাদের মনে আনন্দ এবং একাত্মতা নিয়ে আসে। একে গর্বেরও চিহ্ন বলে ধরা হয়। হিন্দু ধর্মে কথিত আছে, দেবরাজ ইন্দ্রকে একবার পশুর রূপ ধারণ করতে হয়েছিল। তিনি ময়ূরের বেশ ধারণ করেছিলেন। ময়ূর এবং বৃষ্টির মেলবন্ধন তো আমরা সকলেই জানি। ময়ূরই একমাত্র প্রাণী, যে বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করা হয়। বৃষ্টি আসার আগে ময়ূরের নাচ আমরা অনেকেই দেখেছি। তবে ময়ূরের কান্না খুবই কম শোনা যায়। বলা হয়, যদি কোনও পরিবারে কারও মৃত্যু আসন্ন হয়ে থাকে, তাহলে ময়ূরকে কাঁদতে দেখা যায়। বিশাল রঙিন পেখম ময়ূরের অন্যতম আকর্ষণ। রঙের বিন্যাস, সৌন্দর্য এবং চালচলনে আভিজাত্য ময়ূরকে সব পাখির থেকে আলাদা করে। এই ময়ূরকে নিয়ে হয়েছে অসংখ্য গান। লেখা হয়েছে অনেক কবিতা। ময়ূর কিন্তু তার এই সুন্দর পেখম নিয়েই জন্মলাভ করে না। ৩ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষ ময়ূরের লেজ জন্মে না। এমনকি অনেক দিন পর্যন্ত এদের স্ত্রী ও পুরুষ হিসেবে আলাদাভাবে বোঝাও যায় না। ময়ূর এবং ময়ূরী একদম একই রকম থাকে দেখতে। ৬ মাস বয়স থেকে ময়ূর রং বদলাতে শুরু করে। ময়ূর প্রতি বছর তাদের প্রজনন সময়ের পর পেখম বদলায়। পাখাগুলো দেহ থেকে ঝরে পড়ে। সেগুলো জড়ো করে সহজেই সংগ্রহ বা বিক্রি করা যায়। ময়ূরের পালক নিয়ে ব্যবসা করার জন্য ময়ূর মেরে ফেলার প্রয়োজন হয় না। মজার বিষয় হচ্ছে- ময়ূর কিন্তু উড়তেও পারে। বিশাল পেখম থাকা সত্ত্বেও তারা ভালোই উড়তে পারে। ময়ূরের পেখম ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের শরীরের ৬০ ভাগই হল পেখম। এসএ/  
জেনেভার ভাঙা চেয়ারের নেপথ্যে

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে একটি হচ্ছে জাতিসংঘ অফিস চত্বর। জাতিসংঘ অফিসের গেটের সামনে টানানো আছে এক বিশাল ভাঙা চেয়ার। এর তিন পা আছে কিন্তু আর এক পা দোমড়ানো-মোচড়ানো মাঝখান থেকে ভাঙা। জাতিসংঘ অফিসের গেটে এমন একটি ভাঙা চেয়ার থাকার কারণ তো অবশ্যই রয়েছে। ভুমি মাইন ও গুচ্ছ বোমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক প্রতীক স্বরূপ এই ভাঙ্গা চেয়ার। চেয়ারের নিচে ভূমিতে খোদাই করে লেখা আছে সশস্ত্র সহিংসতার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ। এই ভাঙা চেয়ার হচ্ছে ভঙ্কুরতা ও সামর্থ্য, অনিশ্চয়তা ও স্থিতিশীলতা, নিষ্ঠুরতা ও মর্যাদার প্রতীক। ২১ শতকের সবচেয়ে শিল্প প্রতিকী হিসেবে খ্যাত কাঠের তৈরী এই স্মারক ভাস্কর্যটি তৈরী করেছেন সুইস শিল্পী ডেনিয়েল বারসেট ও মিস্ত্রি লুইস। এই ভাস্কর্যটি তৈরি করতে সাড়ে পাঁচ টন কাঠ লেগেছে। এর উচ্চতা ১২ মিটার। ভাঙা চেয়ারটি জাতিসংঘে আসা নানা রাজনৈতিক ব্যক্তি ও অন্যদের স্মরণ করিয়ে দেয় এই প্রতিবাদের কথা। এর বার্তা হচ্ছে- ভূমি মাইন ও গুচ্ছ বোমার শিকার বেসামরিক লোকদের স্মরণ করা, ভূমি মাইন নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে নিজ নিজ সরকারকে চাপ দেওয়া। এটি মূলত: জাতিসংঘে আসা বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে মনে করিয়ে দিতে চায় যে, ভূমি মাইন ব্যবহার বন্ধ না করলে তারা যে চেয়ারে বসে আছে তার নিচেও একটি ভূমি মাইন থাকতে পারে যা বিস্ফোরণ ঘটে তাদের একটি উড়ে যেতে পারে। হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৭ সালের ১৮ আগস্ট জেনেভায় জাতিসংঘের প্রবেশ পথের বিপরীতে ভাঙ্গা চেয়ারের ভাস্কর্যটি স্থাপন করে। উদ্দেশ্য হল ভূমি মাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং ভূমি মাইন বিষয়ে ডিসম্বর ১৯৯৭ সালে স্বক্ষরিতব্য অটোয়া চুক্তিতে অধিক সংখ্যক দেশের সম্মতি লাভ করা। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ-এ ৪০টি দেশের অনুমোদনের মাধ্যমে অটোয়া চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে কার্যকর হয়। পরে বহু দেশ কর্তৃক এই চুক্তি অনুমোদন না করা এবং অধিক জনসমর্থনের জন্য এই স্বাক্ষরটি ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রদর্শন করা হয়। সাময়িকভাবে এটি সরিয়ে ফেলা হলেও ২০০৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তা পুনঃস্থাপন করা হয়। ১৯৯৭ সালে প্রথম জাতিসমূহকে ভূমি মাইন নিষিদ্ধ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং পরে ২০০৭ সালে গুচ্ছ বোমা নিষিদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ভাঙা চেয়ার স্থাপন করা হলেও এটি বর্তমানে ভূমি মাইন ও গুচ্ছ বোমায় বেসামরিক লোকজনের হাত-পা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিধি এক প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। সূত্র: দ্য কালচার ট্রিপ একে / এআর

‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র’

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ১৮৪৮ থেকে আজ পর্যন্ত ৫৮টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেয়র ও সিনেট সদস্যসহ মোট ৫৮ রাজনীতিক আততায়ীর হাতে নিহত হন। এবারের পর্বে থাকছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিহতের নেপথ্য কাহিনী- রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড শব্দটি শুনা মাত্রই চোখের সামনে প্রথমে ভেসে ওঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের কথা। গৃহযুদ্ধের পর পরই যুক্তরাষ্ট্রকে পুণর্গঠনে যে ব্যক্তিটির ভূমিকা অপরিসীম, তিনি আর কেউ নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন। গণতন্ত্র বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য যে মডেল তিনি দাঁড় করিয়েছেন তা বিশ্বব্যপী সমাদৃত। আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন, ‘ডেমোক্রেসি ইজ দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল এন্ড ফর দ্য পিপল’ (গণতন্ত্র হলো জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার)। সারা দুনিয়াব্যপী সমাদৃত হয়ে উঠলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হেরে যান। ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশিংটনের ফোর্ডস থিয়েটারে নাটক দেখাকালে অভিনেতা জন উইলকিস বুথ নিজের পকেট থেকে বন্দুক বের করে প্রেসিডেন্টকে গুলি করেন। এতে লিঙ্কনের মাথায় গুলি লাগে। আব্রাহাম লিঙ্কন সঙ্গেসঙ্গে মাঠিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই সময় দর্শকদের একজন ছিলেন ডাক্তার। তিনি লিঙ্কনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পরের দিন ভোর ৭:২২ মিনিটে আব্রাহাম লিঙ্কন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই কোনো প্রেসিডেন্টকে হত্যার প্রথম ঘটনা। তবে এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রথম ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সুত্রপাত হয় ১৮৪২ সালে। দেশটির হোয়িগ পার্টির নেতা চার্লস চিপি আর্নটকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শুরু হয়। রাজনৈতিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে উইন্সকিন্সের ম্যাডিসনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় তিনি উইন্সকিন্সের প্রাদেশিক প্রশাসক ছিলেন। ঘটনার ৫ বছর পরে ১৮৪৭ সালে নিউ মেক্সিকোর গভর্নর চার্লস বেনেটকে গুলি করে  হত্যা করে দুবৃত্তকারীরা। এদিকে ৫৮ হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশই ঘটেছে ডেমোক্রেট পরিবারের। দুজন প্রেসিডেন্টসহ ২৮ রাজনীতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এমনকি ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির পুরো বংশই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক নেতা ডারউইন ব্রাউনের হত্যার মধ্য দিয়ে ডেমোক্রেট পরিবারে প্রথম ধাক্কা লাগে। এরপর একে একে ডেমোক্রেটের আরও ২৭ প্রাণ ঝরে যায়। অপরদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পরিবার থেকে ঝরে যায় আরও ১৩ প্রাণ। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের জোস ফ্রান্সিসকো শেভস এর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান দলের রাজনীতিবিদদের গুপ্তহত্যা শুরু হয়। এরপর একে একে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন, জেমস এ গারফিল্ড ও উইলিয়াম মেকাইনলি। প্রেসিডেন্টগণ ছাড়াও অনেক রিপাবলিকান সিনেট সদস্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ১৮৮১ সালের ২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র্রে ২০তম প্রেসিডেন্ট জেমস এ গারফিল্ডকে সরকারি কর্মকর্তা চার্লস জে গিতাউ গুলি করে হত্যা করে। ওয়াশিংটনের বাল্টিমোর ও পটোম্যাক রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে এক জনাকীর্ণ জায়গায় তাকে গুলি করেন চার্লস জে গিতাউ। ১১ সপ্তাহ তাকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাকাইলি ১৯০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একটি গির্জায় ভ্রমণকালে আতঁতায়ীর গুলিতে নিহত হন। ওই আঁততায়ীর নাম সিজোলগুজ। সিজোলগুজ কয়েকবার ম্যাকাইলিকে হত্যা চেষ্টা করেন। তবে অবশেষে টেম্পল অব মিউজিকে বক্তৃতাকালে তাকে গুলি করে হত্যা করে ওই দুবৃত্তকারী।  ম্যাকাইলির পাকস্থলিতে দু রাউন্ড গুলি করেন সিজোলগুজ। এদিকে ডেমোক্রেট দলের সবচেয়ে বড় বিয়োগের নাম জন এফ কেনেডি। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিজেও ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন বছরের মাথায় আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান। তার ছোট ভাই রবার্ট এফ কেনেডিও ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রার্থী হওয়ার পরই আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। কেনেডি পরিবারের এ দুর্ভাগা পরিণতির কারণে বিশ্বজুড়ে একে `কেনেডি ফ্যামিলি কার্স` বা কেনেডি পরিবারের অভিশাপ নামে ডাকা হয়। সর্বশেষ টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান নেতা মার্ক হাসেস ২০১৩ সালে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। তিনি টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সুত্র: উইকিপিডিয়া এমজে/ এআর  

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বাড়ি

একটা বাড়ি ঝর্ণার ওপর। কৃত্তিম ঝর্ণা না। প্রাকৃতিক ঝর্ণা সঙ্গে নিরেট বড় বড় পাথর। এর ওপরেই একটি বাড়ি। কল্পনা করে দেখুন তো একবার। কেমন রোমাঞ্চকর মনে হয় না? এমনি একটি বাড়ি আছে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায়। ১৯৩০ এর মাঝামাঝি সময়ে এ বাড়িটি নির্মাণ করেন সেসময়ের বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি ফ্র্যাঙ্ক লিওড রাইট। প্রাকৃতিক ঝর্ণা এবং বেডরকের ওপর নির্মাণ করেন তিনি ‘ফলিং ওয়াটার’। পিটসবার্গের এডগার্ড জুনিয়র কফম্যান নামে এক ব্যবসায়ী মার্কিন এ স্থপতিকে পাহাড়ের ওপরে একটি বাড়ি নির্মাণ করার প্রস্তাব করেন যেখান থেকে তিনি ঝর্ণা দেখতে পারবেন। খেয়ালী স্থপতি রাইট জবাব দিলেন, আমি চাই না আপনি শুধু ঝর্ণা দেখবেন। বরং আমি চাই আপনি ঝর্ণার সঙ্গেই থাকবেন। আর তখনই স্রোতস্বিনী ঝর্ণার ওপর এ দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন রাইট। টানা কয়েক মাসের গবেষণা এবং কয়েক হাজার খসড়ার নকশার মধ্যে দিয়ে বাড়িটির নকশা চূড়ান্ত হয়। নকশা তৈড়িতে এ স্থপতিকে মাথায় রাখতে হয় গাছ, পাথর, নদী এবং ঝর্ণার। পুরো নির্মাণশৈলীতে পাওয়া যায় রাইটের সৃজনশীল এবং একগুয়ে ও খামখেয়ালী কাজের ছাপ। বাড়ির মালিক যেন তার করা নকশার পরে পরিবর্তন করতে না পারেন তাই বাড়িটির বেশিরভাগ আসবাবই বাড়ির দেয়ালের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তার খামখেয়ালীর একটি গল্প বেশ প্রচলিত যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য শিল্পে। রাইটের নকশায় নির্মাণ করা একটি বাড়ির মালিক ছাদ থেকে পানি পরার অভিযোগে ফোন করেন তাকে। ফোনে তিনি জানান, ছাদ থেকে পানি পরার কারণে তাকে বারবার চেয়ার নিয়ে জায়গা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। জবাবে রাইট বলেন, আমার নকশায় যেখানে চেয়ারের অবস্থান ছিল আপনি সেখানেই চেয়ার রেখে বসুন। আপনি আমার নকশা মানকে কমিয়ে দিচ্ছেন। ১৯৩৮ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর টাইম ম্যাগাজিন আখ্যায়িত ‘মোস্ট বিউটিফুল জব ফলিং ওয়াটার’ নির্মাণে ব্যয় হয় সেসময়ের ১লাখ ৫৫ হাজার ডলার। যা বর্তমান সময়ে ২.৭ মিলিয়ন ডলারের সমান। আর পুরো প্রকল্পে রাইট পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ৮০ হাজার ডলার। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সংস্কার কাজেই বাড়িটির পিছনে ব্যয় হয় ১১.৫ মিলিয়ন ডলার। বাড়িটির মালিক এডগার পত্নী লিলিয়ানে ১৯৫২ সালে আত্মহত্যা করেন। এর তিন বছর পর মারা যান ডগার। এরপর ১৯৬৩ সালে তাদের সন্তান এডগার জুনিয়র বাড়িটিকে ওয়েস্টার্ন পেনসিলভানিয়া কনজারভেন্সী কর্তৃপক্ষকে দান করেন। তবে ১৯৮১ সালে এডওয়ার্ড জুনিয়র তার সহধর্মিণী পল মায়েনকে নিয়ে বাড়িটিতে একটি ক্যাফে এবং গিফট শপ চালু করেন। একজন সাধারণ দর্শনীর্থী হিসেবেও যে কেউ ঘুরে দেখতে পারে গাড়িটি। পিটসবার্গ থেকে ২০কি.মি দূরে অবস্থিত এ বাড়িটি এখন জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৮১ সালের পর এখন পর্যন্ত বাড়িটি পরিদর্শনে আসেন অন্তত ৫লক্ষ দর্শনার্থী। সেসময়ে ইউরোপিয়ান ধাচের বাড়ি বানানোর রীতির বাইরে গিয়ে বানানো ‘ওয়াটার ফল’-কে আমেরিকান ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্ট ‘আমেরিকান স্থাপত্য কাজের মধ্যে সর্বকালের সর্বসেরা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। আমেরিকান আর্কিটেক্ট এসোসিয়েশনকে প্রত্যাখ্যান করা এ খামখেয়ালী স্বাধীনচেতা স্থপতি ১৯৫৯ সালে ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বলা হত ‘বয়স্ক শিক্ষানবিশ’। তিনি উত্তর দিতেন- ‘পৃথিবীর সবথেকে বয়স্ক শিক্ষানবীশ। সূত্রঃ বিবিসি //এস এইচ এস// এআর         

সামরিক জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। এ বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করেও ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। সামরিক বাহিনীর এমন নানা সাফল্যের নিদর্শন ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্মৃতি নিয়ে রাজধানীর বিজয় সরণিতে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৮৭ সালে এই সামরিক জাদুঘরটি মিরপুর সেনানিবাসে স্থাপন করা হয়েছিল। পরে স্থানের গুরত্ব এবং দর্শকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ১৯৯৯ সালে জাদুঘরটি স্থায়ীভাবে বিজয় সরণিতে স্থানান্তর করা হয়। এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত রাইফেল, বন্দুক, মর্টারশেল, হাতব্যাগ, টুপি, চশমা, মানিব্যাগ ও ইউনিফর্ম রাখা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে বেল্ট, টাই, স্টিক, ডায়েরি, বই, পরিচয়পত্র, কলম, মেডেল, খাবারের প্লেট, পানির মগ, পানির গ্লাস, রেডিও, শার্ট, প্যান্ট, র্যাংক ব্যাজসহ টিউনিক সেট (বিশেষ পোশাক), ক্যামেরা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, লোহার হেলমেট, হ্যান্ড মাইক, রক্তভেজা প্যান্ট-শার্টসহ আরো অনেক কিছু। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এমএম রাইফেল, মর্টার, মর্টার শেল, সার্চ লাইট, রায়ট রাবার শেল, রিভলবার, এলএমজি, মেশিনগান, এমএম এলএমজি, বোর রিভলবার,  বোর শটগান, এমএম এসএমজি প্রভৃতি। তাছাড়া জাদুঘরের দেয়ালজুড়ে সেঁটে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সামরিক সদস্যদের যুদ্ধের সময়ের ডায়েরি, হাতে লেখা বিভিন্ন বার্তা, আলোকচিত্র ও পোস্টার। এই জাদুঘরটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সামরিক জাদুঘরের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ট্যাংক পি টি-৭৬। রাশিয়ার তৈরি এই ট্যাংকটি পানিতেও ভেসে চলতে সক্ষম। এই ট্যাংকটি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে বাংলাদেশ বাহিনী কর্তৃক পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নিকট হতে উদ্ধার করা হয়। সামরিক জাদুঘরের মাঠের উত্তর ও পূর্ব দিক দিয়ে সুসজ্জিতভাবে সাজানো রয়েছে আরও ১৬টি ট্যাংক ও কামান। এগুলো খোলা আকাশের নীচে রাখা আছে। মাঠের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে সারিবদ্ধভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত ১০৫/৫২ সি এম ক্রুপ গান, ১৯৭৩ সালে মিসর কর্তৃক আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ব্যবহৃত ব্যারেল ১০০ মি. মি. ট্যাংক গান, অষ্টাদশ শতাব্দীর ছয়টি ছোট-বড় কামান। মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রদর্শিত হচ্ছে মোটরলঞ্চ ‘এম এল সূর্যোদয়’। এটি জাপান সরকার অনুদান হিসেবে দিয়েছিল। মূল ভবনের দোতলায় রয়েছে ৮টি গ্যালারি। প্রথম গ্যালারিতে হাত-কুঠার, তীর, ধনুকসহ পুরনো যুগের অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। দ্বিতীয় গ্যালারিতে রয়েছে ডিবিবিএল গান, এসবিবিএল গান, বিশেষ ব্যক্তিবর্গের ব্যবহৃত হাতিয়ারসহ যুদ্ধাস্ত্র। তৃতীয় গ্যালারিতে রয়েছে এলএমজি, এসএমজিসহ মাঝারি ধরনের অস্ত্র। চতুর্থ গ্যালারিতে রয়েছে মর্টার, স্প্যালো, এইচএমজিসহ ভারী অস্ত্র। পঞ্চম গ্যালারিতে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর শীত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক পরিচ্ছদ, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ ও ফিতা। ষষ্ঠ গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল, সেক্টর কমান্ডারদের পোর্ট্রেট, কিছু ব্যবহার্য সামগ্রী। সপ্তম গ্যালারির নাম দেয়া হয়েছে ‘বিজয় গ্যালারি’। এতে সশস্ত্র বাহিনীর যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন তাদের পোর্ট্রেট ও সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অষ্টম গ্যালারিতে রয়েছে সাবেক সব সেনাপ্রধানের তৈলচিত্র, বীরশ্রেষ্ঠ ও বীরপ্রতীকদের নামের তালিকা। ভবনের নীচতলায় প্রদর্শিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী যে গাড়িটি নিয়ে বিভিন্ন যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন সেই জিপ। এর পাশাপাশি রয়েছে গোলন্দাজ বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত ১৪.৫ মি. মি. কোয়াড বিমান বিধ্বংসী কামান, ১২০ মি. মি. মর্টার ব্রান্ডেট এ এম ৫০, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর ব্যবহৃত ৬ পাউন্ডার ট্যাংক বিধ্বংসী কামান, ১০৬ মি. মি. রিকয়েললেস রাইফেল। আরও আছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে উদ্ধারকৃত স্টাফ কার মার্সিডিজ বেঞ্জ ও সিলিন্ডার ২০০০ সি সি। সামরিক জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষণ ‘মুজিব কর্নার’। এটি মূল ভবনের নীচতলায় পশ্চিম পাশের কক্ষে সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ৩০টি অঙ্কিত আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। এছাড়া ‘ইতিহাস দর্পণ’ নামে একটি আইটি কর্নার আছে এ জাদুঘরে। এখানে দুটি রুমের মধ্যে একটি ১১টি আকর্ষণীয় টাচ স্কিন কম্পিউটারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত চলচ্চিত্র এবং দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে করণীয় এবং অন্যটিতে বড় স্ক্রিনে ‘১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ নামের এক ঘন্টা ৫০ মিনিটের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সামরিক জাদুঘরের ‘ইতিহাস দর্পণ’ কর্মকর্তা আমিন জানান, এখন বিজয়ের মাস এ কারণে এখানে প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার লোক আসবে। দর্শনার্থীর সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে লোকজন আসা কমে যায়। তবে এর কাজ শেষ হলে এখানে আবার আসবে । তিনি একটু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পায়। আমরা ছুটি পাই মাত্র একদিন। এটা একটা বৈষম্য। তিনি জানান, যে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে, সেখানে সামরিক বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধার আরও অনেক ইতিহাস সংযুক্ত করা হবে। এ সময় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিদর্শনে আসে। তবে অন্যান্য জাদুঘরের মতো প্রবেশ মূল্য থাকলে সবার মধ্যে একটা আকর্ষণ থাকত। এ জাদুঘর সপ্তাহে পাঁচ দিন খোলা থাকে। দিনগুলো হচ্ছে শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার। গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আর শীতকালে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বুধবার বন্ধ থাকে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। জাদুঘরে দর্শনার্থীরা মনোযোগ সহকারে ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর মুগ্ধ হচ্ছেন। মুগদা থেকে আসা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আফরা আনাম জেসি বললেন, ‘পুরো মিউজিয়াম ঘুরে দেখছি। অনেক কিছুই জানা হচ্ছে।’ পুরো জাদুঘরটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে একজন দর্শনার্থী মুক্তিযুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অবদান জানার পাশাপাশি এ বাহিনীর ইতিহাসও জানতে পারবেন।   /ডিডি/

পাখি বিহীন বিলে মাছ নেই

বাংলাদেশের যে বিলগুলোতে পাখি দেখা যায় না, সেই বিলগুলিতে কোন মাছ নেই বলে জানিয়েছেন পাখি গবেষক ইনাম-আল হক। “মানুষের একটি সাধারণ ধারণা আছে যে, বিলের পাখিগুলো সব মাছ খেয়ে ফেলে, কিন্তু এটা সত্য নয়। বিলের পাখি কোন মাছ খায় না, খায় মাইক্রোস্কপিক জুপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন। আর এসব উদ্ভিদ খেয়ে তারা যে মলত্যাগ করে, তা খেয়েই মাছ বেঁচে থাকে” বলে দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশে পাখি ও প্রকৃতি বিষয়ক গবেষক ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক গত ৪ ডিসেম্বর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘পাখি ও প্রকৃতি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এম শমশের আলী। বাংলাদেশের বিলগুলিতে পাখির অবদান তুলে ধরে ইনাম-আল হক বলেন, পাখির মল হচ্ছে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় এক লক্ষ পাখি আছে। এই পাখিগুলো যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম জলজ উদ্ভিদ খায়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ গ্রাম করে তারা মলত্যাগ করে। এতে টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিদিন পাঁচ টন সার পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। আর শুধু এ কারণেই টাঙ্গুয়ার হাওর মৎস্য সমৃদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশে ১১ হাজার বিল আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ হাজার বিলে আমাদের কি সার দেওয়া সম্ভব ছিল? ছিল না । তবে এই সার দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে পাখিরা । মূলত,পাখিরা নীরবে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে যাচ্ছে মানবজাতিকে, যা আমরা টেরও পাচ্ছি না। এসময় তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর বিলগুলিতে ২৫ প্রজাতির হাঁস আসে। অনেকেই মনে করেন, এগুলি বিলের মাছ খেয়ে ফেলে, কিন্তু এটা সত্য নয়। আসলে এ হাঁসগুলোর ঠোঁট এত চ্যাপ্টা যে মাছ ধরে খাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা মূলত খায় মাইক্রোস্কপিক জুপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন। ডিমওয়ালা মাছ খেয়ে আমরা নিজেরাই আসলে বিলের মাছ শেষ করেছি। এদিকে অরণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা বেঁচে আছি পৃথিবীর সব অরণ্যের ওপর নির্ভর করে। গাছের পাতা থেকে পাওয়া অক্সিজেন গ্রহণ করে আমরা বেঁচে থাকি। তবে এই পাতা পোকামাড় নষ্ট করে ফেলে। তবে ফুটকি নামের এক জাতের পাখি আছে যারা এ পোকা-মাকড়গুলো খেয়ে ফেলে পাতাকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে। আর এই ফুটকি পাখি আসে সাইবেরিয়া থেকে। প্রতি বছর শীতকালে প্রায় পাঁচ কোটি ফুটকি পাখি সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসে বাংলাদেশে। পৃথিবীর ৭০ শতাংশ পাখি পোকামাকড় খায়। বাকিরা মাংসাশী আর মাত্র ৫ শতাংশ শস্য ও ফল খায়। প্রকৃতির ভারসাম্য বলতে বোঝায়- এখানে গাছ থাকতে হবে, পাখি থাকতে হবে, পোকাও থাকতে হবে। কিন্তু কোনোটির পরিমাণই বেশি হওয়া যাবে না। তবেই আমরা মানুষেরা টিকে থাকব। প্রকৃতির এই ভারসাম্য বজায় রাখছে পাখি। তাই আমরা আসলে সরাসরি পাখির ওপর নির্ভরশীল। পাখি বাঁচিয়ে রেখেছে পৃথিবীর অরণ্যগুলোকে। এদিকে সমাপনী বক্তব্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম শমশের আলী বলেন, আমাদের জীবন ও পরিবেশের সাথে পাখি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও বার বার এসেছে পাখির প্রসঙ্গ। হযরত সোলায়মানের সাথে হুদহুদ পাখির ঘটনায় আমরা দেখি, রাজার সভাসদও হতে পারে পাখি। কারণ হুদহুদ পাখি ছিল সোলায়মানের সভায় বার্তাবাহক। আবার হযরত দাউদের সাথে পাখিরাও আল্লাহর গুণগান গাইত। ছোট ছোট আবাবিল পাখিরা মিলে যুদ্ধ করেছিল পবিত্র কাবাঘর রক্ষায়। এই আবাবিল পাখি আমি দেখেছি বান্দরবানের লামার কোয়ান্টামমে গিয়ে। পাখিদের কাছ থেকে শৃঙ্খলা শিখতে হবে জানিয়ে ড. শমসের আলী বলেন, আমরা যখন বাসে-ট্রেনে যাতায়াত করি তখন প্রায়ই ভিড় লেগে যায়, ধাক্কাধাক্কি হয়। কিন্ত লক্ষ লক্ষ পাখি একসাথে উড়ে গেলেও সেখানে একটা অনবদ্য শৃঙ্খলা বজায় থাকে।   এমজে/        

দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে যা প্রয়োজন

প্রেম-ভালোবাসা মানুষের জীবনে অমূল্য সম্পদ। প্রত্যেক মানবিক সম্পর্কেই প্রেম, ভালোবাসা, ঝগড়া ও দুঃখের সংমিশ্রণ থাকে। একটি সম্পর্কের ভিত্তি শুধুমাত্র ভালোবাসাই নয়। তার সঙ্গে আরও থাকে বিশ্বাস, সততা, বোঝাপড়া এবং আত্মত্যাগ। ভালোবাসার সম্পর্ক কোনো রুপকথার গল্প নয়। দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে যা করতে হবে।দম্পতিরা এক সঙ্গে থাকুন-আপনি যদি মনে করে থাকেন যে সুখী দম্পতিরা কখনো একে অপরের থেকে আলাদা হন না তবে আপনি খানিকটা ভ্রান্তির মধ্যে আছেন। প্রত্যেক মানুষই কিছুটা সময় নিজের সান্নিধ্যে কাটাতে চায়। আপনিও যদি এমন হয়ে থাকেন তবে নিজেকে দোষারোপ করার কোন দরকার নেই। পরিবার ও প্রিয় মানুষের দায়িত্ব থেকে কিছুটা সময় অব্যাহতি দেওয়া দোষের কিছু নয়। এক সঙ্গে থাকলে তাতে ভালোবাসা আরও গভীর হয়।একে অপরের বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনকে আপন মনে করা-আপনার সঙ্গী যে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের পরিপূর্ণভাবে ভালোবাসবে, এমনটি আশা করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার সঙ্গীর পরিবারের সঙ্গেও যে আপনি একদম একাত্ম হয়ে যাবেন, সেটিও আশা করা বৃথা। আপনারা দুজন দুজনকে পছন্দ করেন বলেই একটি সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এর পর সবার সঙ্গে খানিকটা তাল মিলিয়ে চলতে হবে যেন কোনভাবেই কেউ অপমানিত বোধ না করে। নিজস্ব আশা এবং সীমাবদ্ধতা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। এতে করে যোগাযোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।ঝগড়া এড়িয়ে চুলন-ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কে যারা কখনো ঝগড়া করেন না, তারা আসলে একজন আরেকজনের প্রতি কোন মায়াই প্রদর্শন করেন না। ঝামেলাবিহীন জুটিগণ সাধারণত সম্পর্ক শেষ করার তালেই থাকেন। তার মানে এই নয় যে বড়সড় যেকোন ঝগড়া সম্পর্কের জন্য উত্তম, সেগুলো মারাত্মক হতে পারে কিন্তু ছোটখাট যেকোন কলহ-বিবাদ সম্পর্কের জন্য ভালো। এটি যেকোন সম্পর্ককে গাড় করে। কেননা, একটি ঝগড়ার পর যখন নিজেরা নিজেদের মধ্যে সেটি মিটমাট করে ফেলেন তাতে করে সম্পর্ক আরো গভীর ও আন্তরিক হয়।বাস্তববাদী হোনআপনি কি বিয়ের পরও আশা করেন আপনার স্ত্রী/স্বামী সেই আচরণ করবে যা সে করতো বিয়ের আগে প্রেমিক/প্রেমিকা হিসেবে?দাম্পত্যজীবনে অশান্তির একটা বড় কারণ এই অবাস্তব, অলীক প্রত্যাশা। কারণ বাস্তবজীবনে অলীক প্রত্যাশাগুলো যখন বাস্তবায়িত না হয় তখন তা আশাভঙ্গ ও মর্মপীড়ার কারণ হয়। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটা এখন প্রমাণিত যে, প্রেমের প্রাথমিক উন্মাদনা ক্ষণস্থায়ী। আপনি যাকেই বিয়ে করেন না কেন, সে কখনোই ১০০% নিখুঁত হবে না। সারাক্ষণ শুধু আপনার চিন্তা করবে না। সুখী হতে হলে আপনাকে তাই বাস্তববাদী হতে হবে। আপনার সঙ্গী বোঝার চেষ্টা করুন-দাম্পত্যজীবনে সমস্যার একটা অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেরাই যে সমস্যার জন্যে দায়ী – এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা সবসময় মনে করি: আমি ঠিক, আমার স্বামী/স্ত্রী ভুল। অথবা মনে করি ও আমার প্রতি অন্যায় করছে কিংবা মনে করি যে ও আমাকে বোঝে না। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে, আরেকজনকে বোঝার জন্যে আমিই আগে উদ্যোগ নিতে পারি।দাম্পত্যজীবনে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার অন্যতম উপায় হলো, নিজের ভুলগুলো নিজেই খুঁজে বের করা এবং অপরপক্ষের অবস্থান থেকে দেখার চেষ্টা করা। আমরা এটা কখনোই আশা করতে পারি না যে, আমি যা করি না, আমার স্বামী/স্ত্রী সেটা করবে। আমরা যখন ধরে নিই যে, সমস্ত ভুল আরেকজনের, তখন ভুল বোঝাবুঝি দূর করার দায়ও আমরা তার ওপরই চাপিয়ে দিই। যদি আমরা শুধু এটা মনে করতাম যে, বোঝাবুঝির অভাব হলেই ভুল বোঝাবুঝি হয়, তখন আমরাই উদ্যোগ নিতাম। কোন সমস্যাই আর সমস্যা থাকতো না। পরিবারে সময় দিন, সম্পর্ক লালন করুনজীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো পরিবারিক জীবনেও আপনি যদি সাফল্য চান, আপনাকে পরিবারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা কিংবা ক্লাবে তাস বা পুল খেলে সময় কাটানোর চাইতে পরিবারে সময় দিলে সেটা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যে ভালো হবে। মনে রাখবেন, বাসায় থাকা আর পরিবারের সাথে সময় কাটানো – দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। বাসায় থাকলে টিভি না দেখে পরস্পরের সাথে কথা বলুন, অনুভূতি-মতামত-পরামর্শ বিনিময় করুন। অফিসের চাপ, ঝামেলা বা টেনশনকে অফিসে রেখে শুধুমাত্র পরিবারকেই সময় দিন। সুযোগ থাকলে ঘরের কাজে স্ত্রীর সাথে অংশ নিন। এসএইচ/

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামী স্থাপত্যকলার প্রাচীন স্থাপনা

আম, কাঁসা, পিতল, নকশী কাঁথা, রেশমসহ গম্ভীরা, মেয়েলীগীতের মতো লোক উপাদানে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। ইসলামী স্থাপত্যকলার অজস্র নিদর্শন বুকে ধারন করে আছে। যা এক সময় ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের এক উল্লেখযোগ্য জনপদ। শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সমৃদ্ধ নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসও অত্যন্ত গৌরবময়। গৌড়-প্রাচীন বাংলার রাজধানী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে এ প্রাচীন নগরী। পাঁচ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রাচীন আমলে নির্মিত অসংখ্য স্থাপনা। এখানে রয়েছে সোনামসজিদ, তোহাখানা, তোহাখানা তিনগম্বুজ মসজিদ, দারসবাড়ি মসজিদ, খঞ্জন দীঘির মসজিদ, ধনাইচক মসজিদ, কোতোয়ালী গেট (নগর দ্বার), হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজারসহ বেশ কয়েকটি দিঘি। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের অনন্য নির্দশন ও আভিজাত্যের সাক্ষি। সোনা মসজিদ-প্রথমেই চোখে পড়বে ছোট সোনা মসজিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনা মসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। ১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহের আমলে এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। সুলতানী আমলের স্থাপনাগুলোর শিল্প ভাস্কর্যের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন। এই মসজিদে চৌচালার মত তিনটি এবং দুই পাশে ১২টি গোলাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোর তলদেশে বিভিন্ন ফল-ফুলের গুচ্ছ, লতাপাতার নকশা করা আছে। এই মসজিদ চত্বরেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও মেজর নাজমুল হকের সমাধি। তিন গম্বুজ মসজিদ- ছোট সোনা মসজিদ থেকে কয়েকশ’ গজ দূরেই রয়েছে তিন গম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদটি শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ) ১৬৩৯-৫৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন। এর দৈর্ঘ্য উত্তর-দক্ষিণে ১১৬ ফুট ও প্রস্থ ৩৮ ফুট। শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার-তিন গম্বুজ মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার। ১২ দরজা বিশিষ্ট চতুষ্কোনায়তন সমাধিটির পাশেই রয়েছে আরও কয়েকজন সাধক পুরুষের সমাধি।পহেলা মহররম হযরত শাহ নেয়মাতুল্লাহর জন্ম ও মৃত্যুর দিন বলে এই দিনে প্রতিবছরই এখানে ওরস পালন করা হয়। এছাড়া ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবারও এখানে ওরস পালন করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত থেকে অনেক ভক্ত সেদিন ওরসে উপস্থিত হয়। দারসবাড়ি মসজিদ-ছোট সোনা মসজিদ ও কোতয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরে দারসবাড়ি মসজিদ অবস্থিত। স্থানীয় জনসাধারণ এই স্থানকে দারসবাড়ি বলে থাকেন। দারস শব্দের অর্থ শিক্ষা। বর্তমানে এই স্থানটি জনশূন্য। ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের আমলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। এই মসজিদের অভ্যন্তরে দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্ন রয়েছে। এখন শুধু মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। দারসবাড়ি মসজিদের বাহির এবং অভ্যন্তর দেয়ালে টেরাকোটা খচিত। আশপাশের যে ক’টি মসজিদ আছে সে সব চেয়ে এ মসজিদটি অধিকতর সুন্দর। একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল এখানে। মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। খঞ্জনদিঘির মসজিদ-দারসবাড়ি মসজিদের দক্ষিণ দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বল্লাল সেন খননকৃত বালিয়া দিঘির দক্ষিণ পাড় ঘেঁষে পূর্বদিকে কিছুদূর গিয়ে চোখে পড়ে খঞ্জন দিঘির মসজিদ। এক জলাশয়ের পাশেই অবস্থিত খঞ্জনদিঘির মসজিদটি অনেকের নিকট খনিয়াদিঘির মসজিদ নামে পরিচিতি। আবার অনেকে একে রাজবিবি মসজিদও বলে থাকেন। এই মসজিদের আয়তন ৬২ ও ৪২ ফুট। মূল গম্বুজটির নিচের ইমারত বর্গের আকারে তৈরি। এই বর্গের প্রত্যেক বাহু ২৮ ফুট লম্বা। ইটের তৈরি এ মসজিদের বাইরে সুন্দর কারুকাজ করা রয়েছে। খঞ্জনদিঘির মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল এবং কে নির্মাণ করেছিলেন সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তবে মসজিদ তৈরির নমুনা দেখে পন্ডিতেরা অনুমান করেন যে এটি ১৪ শতকে নির্মিত হয়েছিল। ধনাইচকের মসজিদ-খঞ্জনদিঘি মসজিদের অদূরেই রয়েছে আরও একটি প্রাচীন মসজিদ। এই মসজিদটির নাম ধনাইচকের মসজিদ। এটিও ১৪ শতকে নির্মিত হয়েছে। এর দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য। এছাড়াও এ উপজেলায় রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর। যেভাবে যাবেন-রাজধানী ঢাকা থেকে বাসযোগে সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে অথবা শিবগঞ্জে যেতে পারেন। যেখানে থাকবেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও শিবগঞ্জ বাজারে এসি, নন এসি আবাসিক হোটেল, সোনামসজিদের সামনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ডাকবাংলো ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে। এসএইচ/

স্টিল নির্মিত ভবনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

দেশে স্টিল নির্মিত ভবনের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও মেঘা প্রকল্পগুলোতে স্টিলের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এতে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবদান রাখতে শুরু করেছে। ভূমিকম্প সহনীয় স্থিতিস্থাপক ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় প্রকল্পসহ বর্তমানে দুবাইয়ের বুর্জ  খলিফাও স্টিল দ্বারা নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পরিবেশের সুরক্ষায়  আরসি বিল্ডিং ( ইট-সিমেন্ট নির্মিত ভবন) এর তুলনায় স্টিল বিল্ডিং সহনীয় হওয়ায় বর্তমানে সচেতন মহলে স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। দেশে ২০০২ সালে স্টিল নির্মিত ভবনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রায় পাঁচ শতাংশ ভবন স্টিল দ্বারা নির্মিত হচ্ছে । আগামী ১০ বছরে তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ স্টিল বিল্ডিং ম্যানোফেকচারিং অ্যাসোসিয়েশানের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার। স্টিল বিল্ডিং এর ডাক্টাইল অনেক বেশি হওয়ায় তা ভূমিকম্প সহনীয়। ভূমিকম্পের কারণে এটি দুলবে, তবে কখনো ভেঙ্গে পড়বে না। অন্যদিকে আরসি বিল্ডিং এর ‘রাইজিডিটি’ বেশি হওয়ায় ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রার চেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা ভেঙ্গে পড়বে। তাই স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে মনে করেন অনেকে। স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, স্টিল বিল্ডিং যেভাবে ইচ্ছে, ঠিক সেভাবে ডিজাইন করা যায়। শুধু তাই নয়, ‘ইনটেরিয়র ডিজাইনের’ সুবিধার্থে ভবনের যে কোন তলা থেকে দেয়াল সরিয়ে নেওয়া যায়। পিলার সরানোর প্রয়োজন হলে সেটিও সরিয়ে নেওয়া যায়। এদিকে স্টিল বিল্ডিং নির্মাণের  কয়েক বছর পর কেউ চাইলে তার পুরো ভবনটি সরিয়ে নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভবন নির্মানে ব্যবহৃত কাঁচামালের ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিপরীতে আরসি বিল্ডিং সরাতে হলে সমস্ত ভবনটিই ভেঙ্গে ফেলতে হয়। তাই ভবন ভবিষ্যতে সরাতে হতে পারে, এমন আশঙ্কা যারা করছেন তাদের মধ্যে স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে স্টিলখাতে জনবলও বাড়ছে। বর্তমানে এই খাতটিতে কমপক্ষে এক লাখ শ্রমিক কাজ করছে বলে জানান প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এই খাতটিতে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে, যাদের অনেকে বিদেশে গিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।  এসএইচ/            

আলীর ঘাটে সংগ্রামী আলীর জীবন

এক সময়ে একটি স্বপ্নকে পুজি করে শরিয়তপুরের জাজিড়া থানার কাইজারচর গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন গ্রামের সহজ সরল যুবক মোহাম্মদ আলী মিয়া। স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজধানীতে তার কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে হবে এক টুকরো জমি, হবে বাসস্থানের ব্যবস্থা। সেই লক্ষেই প্রথমে ১৯৬৫ সালে ঢাকার ইসলামবাগে ছোট একটি কক্ষ ভাড়া বসবাস শুরু করেন। বেঁচে থাকার জন্য প্রথমেই ছোটকাটরা এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় সপ্তাহে তিন টাকা বেতনে কাজ করেন। এতে করে কোনো রকম চলে যেত আলী মিয়ার জীবন। এভাবে একবছর যেতে না যেতেই চাকরিটি ছেড়ে দেন  তিনি। ভাবেন এ করে নিজের কোন স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না। বছরখানেক পরে তিনি চিন্তা করেন ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা চালিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন যাত্রা শুরু করবেন। যেই কথা সেই কাজ। একটা নৌকা তৈরি করে নেমে পরলেন মাঝি হিসেবে। কেরানীগঞ্জের জিনজিড়া পোলের ঘাট থেকে নদীর ওপার ইসলামবাগের চুনারঘাটের পাশেই যাত্রী নিয়ে নৌকা ভিড়াতেন। শুরু হল- নতুন করে একটি ঘাট। টগবগে যুবক মাঝি দেখে অনেকে ভাবতেন এই ছেলেটা কেন নৌকার মাঝি হল। যে ওই ঘাট পার হত সে-ই কিনা কথাটা বলতো। এক সময়ে সবাই তার নামটা জেনে গেল আলী মাঝি। দেখতে সুদর্শন চেহারার অধিকারী  প্রথম প্রথম অনেক সমস্যা হত। তবে এক সময়ে সব ঠিক হয়ে গেল। এভাবে কয়েকবছরের মধ্যে আলীর ঘাট হিসেবে ঘাটটি তার পরিচিতি লাভ করে। তখন পারাপার ছিল জন প্রতি তিন পয়সা করে। এভাবে কেটে যায় কয়েকটি বছর। ১৯৭৩ সালে একাকিত্ব জীবনের অবশান ঘটিয়ে সংসার জীবনের অধ্যায় শুরু করেন আলী। বিয়ে করেন আছিয়া আক্তার নামে এক মেয়েকে। কয়েকবছর পর আছিয়ার কোল জুরে আসে মেয়ে নাছিমা আক্তার ও তার কয়েকবছর পর আরেক মেয়ে নাজমা আক্তার। দুই মেয়েকে নিয়ে মাঝি আলী ও আছিয়া দম্পতির পরিবারের আনন্দটাই অন্যরকম। এভাবে কেটে যাচ্ছিলো আলীর সংসার জীবন। তার পরে আবারও পর্যায়ক্রমে দুই পুত্র সন্তানের বাবা হন আলী মাঝি। সব মিলে আলী আছিয়া দম্পতির চার সন্তান যার মধ্যে বড় দুজন মেয়ে ছোট দুজন ছেলে। সময়ের পরিক্রমায় সেই আলী ১৯৯৮ সালে কামরাঙ্গীর চরে একটি জায়গা কিনেন এবং সেখানে গড়ে তোলেন ছোট একটি বাড়ি। ভালই চলছিল সংসার জীবন। ঠিক তখন ভাগ্যবিধাতার নিয়তির খেলায় আলীর সাজানো সংসারটা কামরাঙ্গি চরের বেরিবাধ নামের সিডরে তুরুপের তাসের মত ভেঙ্গে যায়। জানা যায় ২০০৪ সালে কামরাঙ্গিচরের বেরিবাধ হওয়ার সময় তার জমিসহ ঘরটি ভেঙ্গে ফেলতে হয়। যদিও তৎকালিন সরকার বলেছিল যারা আছে তারা কমবেশি ক্ষতিপূরণ পাবে। তবে কে পেয়েছে কে পায়নি তা জানা নেই আলীর। আলী পাইনি এতটুকু জানালেন অকপটে। এতে একদম নিশ্ব হয়ে যায় আলী মিয়া। তাতেও হাল ছাড়েনি আলী। সে জানতেন জীবন জীবীকার একমাত্র হাতিয়ার নৌকার বেয়ে তাকে বাকি জীবনটা কাটাতে হবে। তাতেও আলী ভেঙ্গে পরেননি। স্বরেজমিনে গত সোমবার একুশে টেলিভিশনের এই প্রতিবেদক গিয়েছিল বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝিদের জীবন সংগ্রামের গল্প জানতে। কিন্তু সেখানে যেয়ে আলী নামের এক মাঝির জীবন সংগ্রামের এমন গল্প পাবে তা জানা ছিল না এই প্রতিবেদকের। গেীধূলীর শেষ লগ্নে আলীর নৌকায় চেপে বুড়িগঙ্গার পানিতে ভেসে ভেসে জানা গেল আলীর সংগ্রামী জীবনের পেছনে লুকিয়ে থাকা আরেক গল্প। অশ্রুসিক্ত কন্ঠে আলী বললেন, বাবা জীবনের কতটা বছর এই নৌকা করে মানুষ পারাপার করছি কেউ কখনো আমার কিংবা আমাদের মাঝিদের নিয়ে কিছু লেখে নাই। শোনে নাই সুখ দুঃখের গল্প। আপনি এই প্রথম আসলেন। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, আমার নামের ওপরে এই ঘাট আজও আছে অথচ আমি নিজেই প্রতিদিন এই ঘাটে সবার মতো ৭০ টাকা ও পোলের ঘাটে  ৩০ টাকা খাজনা দেই। তখন দুচোখে পানি ধরে রাখতে পারি না। তিনি আরও বলেন, এই ইসলামবাগে অনেকে আছে যারা আমার নৌকায় পার হয়ে কাজ করতে যাইতো এখন সাহেব। কি কমু বাবা আল্লায় যারে দেয় কে তারে ফিরায়। এই প্রতিবেদক বলেন, আপনার নামে এখনো ঘাট এই ভাবতে কেমন লাগে বিষয়টা। প্রথমে বলবো ভাল। তবে এই ঘাটটা কয়েকবার নাম বদলাইতে চাইছে কয়েকজন। কিন্তু কেউ আলীর ঘাট ছাড়া চেনে না। তাই মনে মনে বলি তোরা ইচ্ছা করলেই আমার নামটা বদলাতে পারবি না। তিনি তার পরিহিত সাদা গেঞ্জিটা ধরে ঝাকি দিয়ে বলে “আমি রাজা মহা রাজা”লোখে দেখলে দূর থাইকা কয় কি, কেমন আছ আলী ভাই? এতেই আমার শান্তি রে বাবা। এখন আলী স্ত্রী আছিয়া বেগম ও দুই ছেলেকে নিয়ে কামরাঙ্গীচরের একটি ভাড়া বাসায় থাকে। বড় ছেলে নূর ইসলাম কামরাঙ্গীচরের একটি মোবাইলের দোকানে চাকরি করে। এতে মাসে ১০ হাজার ও ছোট ছেলে জহিরুল ইসলাম সোয়ারীঘাট এলাকার ছোট কাটরায় একটি রং ছাপা কারখানায় মাসে আট হাজার টাকা বেতনে কাজ করে। আর আমি সব মিলে ১০-১২ হাজার টাকা পাই। এতে আমাদের ঘড় ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ চলে যায় ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে খাওয়া দাওয়া অন্যান্য খরচ নিয়ে কোন রকম সংসারটা চলছে। মন চাইলে কাজ করি মন না চাইলে কাজ করি না। এই হল আমি আলী মিয়ার বর্তমান অবস্থা। এভাবেই সোজা সাপটাভাবে আলী মাঝি জানালেন তার বর্তমান জীবনব্যবস্থার কথা। এর আগে কথা হয় এই ঘাটের মাঝি মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে বলে বাবা আমরা না হয় ঘাটের খাজনা দেই ঠিক আছে তবে আলী ভাইর খাজনা দিতে হয় এটা আমাগো অনেক খারাপ লাগে। তাই আলীর ঘাটের মাঝিদের জোর দাবি ঘাট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যাতে আলী ভাইর ঘাটের খাজনা মওকুফ করেন এবং তাদের খাজনাগুলো কমিয়ে নেন। তারা আরো জানান আগে এই ঘাটে অনেকরে কিছু দিতে হইত এখন আর হয় না। তার কথার সঙ্গে সুর ধরে মাঝি বাদশা মিয়া, মো. বাবুল,শফিকুলসহ আরও অনেক মাঝি একই কথা বলেন। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর মঝিদের অনেক বোবা কষ্টের কথাই আছে যা চুনারঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট, সুয়ারীঘাট, ইমামগঞ্জ ঘাট, বাবুবাজারঘাট, পোলের ঘাট ঘুরে জানা গেছে। তাই আলী মাঝির সরকারের প্রতি আকুল আবেদন সরকার যাতে তার নামের ওপরে ঘাটটিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়ে সারা জীবনের জন্য খাতা কলমে রাখেন। তাতে শেষ নিশ্বাস নিলেও লোকে যাতে নৌকা পার হলে বলে এই হল সেই আলীর ঘাট। এতেই আমার বড় শান্তি।   এসএইচ/

অতিথি পাখির কলরবে মুখর জাবি ক্যাম্পাস

ঋতুর পালাক্রমে হেমন্তের বিদায় নেওয়ার পরপরই সিগ্ধ সকালের কুয়াশা তার শীতের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। ইতোমধ্যে হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি-খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবুজ ক্যাম্পাসে লেগেছে শুষ্কতার ছোঁয়া। ক্যাম্পাসের লেকগুলো এখন লাল পদ্ম ফুলে ভরে উঠেছে। প্রকৃতির এমন উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ আঙ্গিনার লেকগুলোতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। প্রতি বছরের মতো এবারও অতিথি পাখিরা রক্তকমল শোভিত এই লেকগুলোতে জড়ো হতে শুরু করেছে। পাখিদের কলরবে ইতোমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো। এসব পাখি লাল শাপলার জলে কিচিরমিচির ডাকছে, আবার ডুব দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলার মাঝে। অতিথি পাখিদের এমন খুনসুঁটি আর ছোটাছুটি যে কারো মনকে মোহনীয় করে তুলেছে। ষড়ঋতুর এই দেশে শীত উৎসবটা অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে জাবি ক্যাম্পাসে একটু ভিন্ন রকম। কারণ, শীতের সময়ে অতিথি পাখির কিচিরমিচির আওয়াজের সাথে বসবাসের বিরল সুযোগ মেলে ক্যাম্পাসবাসীর। লাল শাপলার মাঝে দূর থেকে আসা বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির বাহারি খেলায় মেতে ওঠার দৃশ্যে লেকগুলো এখন সেজেছে নতুন সাজে। এমন নতুন সাজে সজ্জিত ক্যাম্পাস আর হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলি, জলকেলী, খুনসুঁটি দেখতে দর্শনার্থীরাও আসা শুরু করেছেন। নিজ চোখে অবলোকন না করলে উপলব্ধিতেও আসবেনা এর মোহনীয় সৌন্দর্য। লাল শাপলার মাঝে ধূসর রঙের হরেক প্রজাতির পাখি মেলে ধরেছে জাবি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে। প্রতি বছর উত্তরের শীতপ্রধান সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হওয়ায় টিকতে না পেরে অতিথি পাখিরা দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশে আসে। মূলত এরা অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে আসে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক অতিথি পাখি  আসে এ ক্যাম্পাসে। এরা অতি শীতপ্রবণ উত্তর মেরু থেকে নিজেদের বাঁচাতে শুধু ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসে। আবার মার্চের শেষ দিকে এরা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। বাংলাদেশে যে কয়টি অভয়াশ্রমে অতিথি পাখি আসে তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় ১০ থেকে ১২টি লেক থাকলেও পাখি আসে মূলত চারটি লেকে। এ লেকগুলোকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা তথ্যমতে, জাবির লেকগুলোতে ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম অতিথি পাখি আসে। তখন ক্যাম্পাসে ৯৮ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। সাধারণ দুই ধরনের পাখির আগমন ঘটে এ ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি ডাঙ্গায় বা শুকনো স্থানে বা ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি পানিতে থাকে ও বিশ্রাম  নেয়। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়। বর্তমানে জাবির এই আঙিনায় সরাল, পিচার্ড, গার্গেনি, মুরগ্যাধি, মানিকজোড়, কলাই, নাকতা, জলপিপি, ফ্লাইপেচার, কোম্বডাক, পাতারি, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটিসহ সর্বমোট ১৯৫ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে ১২৬টি দেশীয় প্রজাতির এবং ৬৯টি বিদেশি। প্রতি বারের মত এবারও পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে  জানুয়ারী মাসের প্রথম অথবা ২য় সপ্তাহে পাখি মেলার আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে পাখির বসবাসের উপযোগীর জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অতিথি পাখি আসা শুরু করলেও এদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, যে লেকগুলো কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল সেসবের বেশিরভাগই ছিড়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত মেরামত হয়নি। এ কারণে অনেক দর্শনার্থী লেকের কাছে গিয়ে পাখিকে বিরক্ত করেন, ভয় দেখান। পাখি যেনো বিরক্ত না হয় বা উড়ে চলে না যায় সে জন্য লেকগুলোর পাশে হর্ন বাজানো, কোনো ধরনের বাঁশি বাজানো, উচ্চ শব্দ করা, মিছিল করাসহ ইত্যাদি বিষয়ে সতর্কীকরণ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিতে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।   / এমআর / এআর

ভস্ম থেকে যেভাবে গড়ে ওঠলো নান্দনিক হিরোশিমা নগরী

চারদিকে কৃষ্ণচূড়া পেকম মেলে পুরো এলাকা রঞ্জিত করে রেখেছে। সবুজে সবুজে মাঠ ছেঁয়ে গেছে। রাস্তার দু-ধারে ম্যাপল ট্রি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পুকুরে-পুকুরে পদ্মফুল ফুটেছে । এ যেন এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বলছিলাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত জাপানের হিরোশিমা শহরের কথা। বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, পরবর্তী ৭০ বছরেও হিরোশিমা শহরে কোনো ব্যক্তি বসবাস করতে পারবে না। এমনকি সেখানে কোনো বীজও অঙ্কুরিত হবে না। বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে চ্যালেঞ্জ করে, কিভাবে গড়ে উঠেছে আজকের নান্দনিক হিরোশিমা? আর সেখানকার বর্তমান অবস্থা-ই বা কেমন? এসব নিয়ে এই ফিচার। বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন মোহাম্মদ জুয়েল। ছেলেমেয়েরা আনন্দে হৈ-হুল্লোর করছে। মন্দিরে পূজো দিচ্ছে একদল পুরোহিত, একটু পর পর ঢঙ্কা বাজছে। একদল আসছে তো আরেকদল মন্দির ত্যাগ করছে। এ যেন এক আনন্দের শহর।এমনই চিত্র সেই বিধ্বস্ত হিরোশিমার। শহরের পুণর্জাগরণ কিভাবে সম্ভব হলো- ১৯৪৫-এর ৬ আগস্টের পর হিরোশিমা শহরের কোথাও কোনো স্থাপনা অবশিষ্ট ছিল না। কোন পার্ক, গাছপালা, উদ্ভিদের লেশমাত্রও পাওয়া যেত না । তখন গবেষকরা বলেন, আমেরিকার ফেলা পারমাণবিক বোমা ‘লিটল বয়’ এর আঘাতে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, আর কখনো এখানে নগরী গড়ে উঠবে না। তবে এক বছর না পেরোতেই হিরোশিমার নাগরিকরা দেখতে পান, হিরোশিমার মৃত্তিকা ভেদ করে ছোট ছোট উদ্ভিদ জন্ম নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালে দেখা যায়, ধ্বংস হয়ে যাওয়া শত বছরের পুরানো গাছগুলো নতুন কুঁড়ি দিচ্ছে।আর এই চিত্র স্থানীয়দের হৃদয়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ তোলে। মূলত এ দুটি দৃশ্যই জাপানিদের জাতীয় গাছপালা রোপণে উৎসাহিত করে। এর পর থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেন, গবেষকদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে হিরোশিমাকে নবজাগরণ দিতে হবে। এদিকে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তাও হিরোশিমা পুনর্গঠনে ব্যপক ভূমিকা রাখে। হারিয়ে যাওয়া সবুজ ফিরিয়ে আনতে এরপর রাস্তার ধারে-ধারে গাছ লাগানো শুরু করেন স্থানীয়রা। ষোড়শ শতাব্দীতে ওয়াইকামাতে নির্মিত মিথাকাই মন্দিরকে এখন পর্য্টন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্দিরটি গড়ে উঠেছে ম্যাপল গাছের সঙ্গে । মনে হবে যেন, ম্যাপল গাছের উপর বেড়ে উঠছে মন্দিরটি। আবার কোথাও কোথাও ম্যাপল গাছ যেন মন্দিরটিকে লাল শাড়িতে সাজিয়েছে। এগুলো একদিনে হয়নি । ১৯৪৯ সালের ৬ আগস্ট সরকারিভাবে শহরটিকে সাজানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ঐ দিন ‘হিরোশিমা পিস মেমোরিয়্যাল সিটি কন্সট্রাকশন ল’ নামের একটি আইন কার্য্করের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হিরোশিমার নবযাত্রা। এই আইনটি ছিল মেয়র শিনজো হামাই ও স্থানীয়দের স্বপ্নের একটি প্রতিফলন। ১৯৪৭ সালে যখন হিরোশিমা প্রথম শান্তি মেলা (পিস ফেস্টিভাল)অনুষ্ঠিত হয়, তখন শিনজো হামাই বলেন, ‘যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে চলো আমরা একসঙ্গে হয়, এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত করি’ । কেবল এই আইন-ই হিরোশিমা পুণর্গঠনে একমাত্র ভূমিকা রাখেনি। এত সহজেই হিরাশিমার পুণর্জাগরণ হয়নি।শান্তি স্থাপনে প্রথমবারের মতো বিশ্বের কোন এক শহরের সব নাগরিক একত্রে কাজ শুরু করার নজির এটাই প্রথম।এটাও সত্য যে, তারা এখনো একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। এবং তারা এটাই করে যেতে চায়। তাদের চেষ্টার অন্যতম ফসল পিস মেমোরিয়্যাল পার্ক । জাপানের মটইসাও নদীর তীরে গড়ে উঠেছে পার্কটি । এর আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গ মিটার।৪৫’ এর পূর্বে এলাকাটি ব্যবসা বাণিজ্য ও আবাসিক এলাকা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। নদীর অপর তীরে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এলাকায় নির্মিত স্কেলিটাল ফর্ম অস্ত্র ও মরণবিধ্বংসী প্রচারণার অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি ৪৫’র পূর্বে স্থাপন করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করা হয়েছে।এটা হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল নামে পরিচিত। তবে স্থানীয়রা এটাকে জানে গেনবাকু ডমু।বছরে ১০ লাখেরও বেশি ট্যুরিস্ট এখানে আসে বলে বিবিসিকে জানায় এক কর্মকর্তা। জাপানে বর্তমানে পিস শব্দটি সবচে’ বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন রাস্তা, মোড়, পার্কের নামের সাথে পিস শব্দটি জুড়ে দিতে পছন্দ করছে জাপানিরা। জাপানের স্থানীয় ৪৯টি ভাষায় পিস শব্দটি লেখা হয়েছে। স্থানীয় মোটরচালিত বাইসাইকেলকে পিস বলে ডাকে। হিরোশিমার গভর্নর এবং পিস আর্ক চেয়ারম্যান হিদেহিকো উজাকি বলেন, আমরা শান্তির বাণী পুরো বিশ্বে পৌছে দিতে চাই, যাতে পুরো বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে আসে। শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়টি শুধু নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা হিরোশিমার প্রশাসকগণ। ১৯৮০ সালে তারা প্রতিষ্ঠা করে ‘মেয়রস ফর পিস প্রজেক্ট’ (শান্তি প্রকল্পের জন্য নগরপিতা) নামের একটি সংগঠন।তৎকালীন হিরোশিমার মেয়র তাকেশি আরাকি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।বর্তমানে সংগঠনটিতে ১৬২টি দেশের ৭ হাজার ৪৬৯টি শহর সংযুক্ত রয়েছে। ২০১৭ সালে ১৬টি শহর এই উদ্যোগের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে। শুরু থেকেই শান্তি স্থাপন বিষয়টি প্রাথমিকে পৌছে দেন নগরীর কর্তাব্যক্তিরা। সেখানে হিরোশিমার অতীত ও বর্তমান এবং শান্তি স্থাপনের গুরুত্ব নিয়ে পড়ানো হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সেখানকার শিক্ষার্থীরা পিস মেমোরিয়ার পার্কে ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করে থাকেন। হিরোশিমা শুধু নিজেদের মধ্যেই শান্তি স্থাপন করতে চায় না, হিরোশিমা চায় বিশ্বের সবার মধ্যে শান্তি স্থাপন। ‘যেখানে দেখিবে ছাঁই, কুঁড়াইয়্যা দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পার, অমূল্য রতন” এই প্রবাদটির যথাযথ উদাহরণ আজকের হিরোশিমা। তাই আসুন শান্তি স্থাপনে, বিশ্বজনমত তৈরি করি, পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের সংঘাতকে না বলি।’       / এআর /      

ভালো নেই ব্যক্তিগত গাড়ি চালকরা

দেশে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বর্তমানে ৫ লাখের বেশি। এর অধিকাংশই রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এসব গাড়ির মালিকানা প্রধানত দু’ধরণের। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক। গাড়ি অনুযায়ী চালকের সংখ্যাও প্রায় সমান সংখ্যক। কেমন আছেন এসব গাড়ির চালকরা? যার হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তু্লে দিয়ে আমি- আমরা নিশ্চিন্তে ফেসবুকিং করতে করতে, কখনো বা লতা মুঙ্গেশকরের গান শুনতে শুনতে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে নিরাপদে বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাই। দামী গাড়ির কাচের মত তাদের জীবন ঝকঝকে নয়, গাড়ির সিটের মত নরম বা শীতল নয়। বরং রাস্তার উত্তপ্ত রোদ বা ইট কংক্রিটের রাস্তার মত খটখটে। কথা বলছিলাম কাওরান বাজারে গাড়ি রেখে মালিকের অপেক্ষায় থাকা মো. রাসেলের সাথে। রাসেলের বয়স বাইশ। বাড়ি মাদারীপুর। বাবা ছিলেন রিক্সাচালক। সড়ক র্দূঘটনায় আহত হয়ে এখন বিছানায় পড়ে আছেন। ডাক্তাররা বলেছেন চিকিৎসা করলে সুস্থ হবেন। তবে সেই চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই। রাসেল ভাইদের মধ্যে বড়। 

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি