ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:৪৭:৫২

রোহিঙ্গাদের এইচআইভি ও হেপাটাইটিস পরীক্ষার চিন্তা

রোহিঙ্গাদের এইচআইভি ও হেপাটাইটিস পরীক্ষার চিন্তা

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মধ্যে হাম ধরা পড়েছে। এছাড়া দুই নারীর মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস (এইডস) পাওয়া গেছে। যাদের একজন ইতোমধ্যে মারা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশেপাশের এলাকায় পানিবাহিত সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হচ্ছে ব্যাপকহারে ডায়েরিয়ার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কয়েকটি সংক্রামক রোগ নির্ণয়ের জন্য শরণার্থীদের মধ্যে বড় আকারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে চাইছেন। মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় টিকা না থাকাটাকে প্রথম থেকেই বড় উদ্বেগ হিসেবে নিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বিবিসিকে জানান, সংক্রামক রোগের মধ্যে তারা এখন পর্যন্ত ৬ জন হামের রোগী পেয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে। তার মতে, গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে যে হাম এবং পোলিওর টিকা প্রদান এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাতে হামের মতো সংক্রামক রোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। তবে এখন বড় শঙ্কা রয়েছে ঐ এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার। তিনি বলেন, স্যানিটেশন যদি আমরা ইমপ্রুভ করতে না পারি, তাহলে যেকোনো মুহূর্তে ডায়রিয়া, কলেরা বা জন্ডিসের মতো আউটব্রেক হতে পারে। ডা সালাম আরো বলেন, বাংলাদেশের মতো মিয়ানমারেও পোলিও রোগ সেভাবে নেই। তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়াচ্ছেন। তবে অপুষ্টি এবং নিউমোনিয়ার প্রকোপের কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সহজেই যেকোনো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, মেদসাঁ স্যঁ ফ্রঁতিয়ে জরুরি সমন্বয়ক রবার্ট ওনাস বিবিসকে বলেন, ‘‘শরণার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত বসবাসের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানকার পুরো জনগোষ্ঠীর মধ্যেই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ব্যাপকহারের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, যেমন নিউমোনিয়া আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়া এবং খাবার ও পানির সঙ্কটে থাকা এসব মানুষেরা ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছেন এবং যার ফলে খুব দ্রুতই তাদের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী পেয়েছি যারা মৃত্যুর প্রায় কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। এর একটি কারণ হচ্ছে অনেকে এমন সব জায়গায় আছেন যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াটা কঠিন। সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা যারা কাজ করছে তাদের পক্ষেও সব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।" রাখাইন মিয়ানমারের সবচেয়ে দরিদ্র একটি রাজ্য এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যাপক অপ্রতুলতা রয়েছে। গত বছরও প্রায় ৮০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী আসলেও এবার এত অল্প সময়ের মধ্যে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসে পড়ায় ঠিক কী ধরণের স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে তা নির্ণয় করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিভিল সার্জন ড. সালাম বলছেন, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং হামের বাইরে প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে তারা দুজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী পেয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী মাত্রায় এ রোগগুলো আছে সেটি বের করতে তারা শরণার্থীদের মধ্যে বড় আকারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে চাইছেন। তিনি বলেন, "এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি-এর স্ক্রিনিংটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে আমরা অনুমান করতে পারবো যে কত শতাংশের মধ্যে এই রোগটা আছে। তখন আমরা সেই অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবো।"
রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ঠেকাতে পেট্রলবোমা হামলা!

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ দিচ্ছে রেডক্রস। কিন্তু ত্রাণ ঠেকাতে মরিয়া সেখানকার কিছু উগ্রপন্থী। ত্রাণ ঠেকাতে তারা পেট্রলবোমা হামলা চালিয়েছে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ওই ত্রাণ নিয়ে রাখাইন রাজ্যে যাচ্ছিল। খবর রয়টার্স। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার রাতে রাখাইনের রাজধানী সিতেতে রেডক্রসের কর্মীরা বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী নৌকায় তুলছিলেন। এই ত্রাণসামগ্রী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় রোহিঙ্গাবিরোধী শত শত উগ্র বৌদ্ধ বিক্ষোভকারী লাঠি-রড নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে ত্রাণকর্মীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। তবে এ ঘটনায় ত্রাণকর্মীদের কেউ হতাহত হয়নি বলে রেডক্রসের একজন মুখপাত্র জানান। খবর পেয়ে অন্তত ২০০ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে হাজির হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ফাকা গুলি ছোড়েন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার সময় অন্তত আটজন আহত হন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শী ও মিয়ানমারের সরকারি দপ্তর। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি চৌকিতে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। এর জাবাবে সেখানে সহিংস অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ। গুলি-আগুনে নিহত হয় অন্তত এক হাজার রোহিঙ্গা। অভিযানের মুখে প্রাণভয়ে সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। রাখাইনে কিছু রোহিঙ্গা এখনো থাকলেও তারা খাদ্যসংকটে পড়েছে। প্রাণভয়ে বাইরে বের হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সেখানে ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগ নেয় রেডক্রস। ডব্লিউএন

ট্রাম্পের হুমকিকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ বলল উ. কোরিয়া

জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা করলে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়াং-হো বুধবার নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের এ হুমকির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এদিন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সেখানে পৌঁছান রি ইয়াং-হো। হোটেলে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা রি ইয়াং-হো এর কাছে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে একটি কোরীয় প্রবাদের মাধ্যমে উত্তর দেওয়া শুরু করেন তিনি। রি ইয়াং-হো বলেন, ‘কুকুর ঘেউ ঘেউ করলেও যাত্রা থেমে থাকে না।’ অর্থাৎ যে যা বলছে বলুক, তাতে কিছুই যায় আসে না, যা চলছে তা চলবেই। তিনি বলেন, ‘তারা যদি কুকুরে মতো ঘেউ ঘেউ শব্দ করে আমাদের থামাতে চেষ্টা করে, তাহলে বলব, তারা দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছে।’ উত্তর কোরিয়া বলে আসছে, আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই তাদের এই পারমাণবিক কার্যক্রম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ বাকি বিশ্ব উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও দেশটির লাগাম টানতে পারছেন না। উপরন্তু নিষেধাজ্ঞা যত বাড়ছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমও তত বাড়ছে। জুলাই মাসে দুটি আন্তঃমহাদেশীয় বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে পিয়ংইয়ং। তাদের দাবি, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার এসব দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে ভাবিয়ে তুলেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান বলেছিল, কথা বলার দিন শেষ। আলোচনা বা কূটনীতি দিয়ে কাজ হবে না। কিন্তু এসব হুমকিকে উত্তর কোরিয়া যেন আমলেই নেয়নি। এ হুমকির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়াং-হো । সূত্র:বিবিসি এম/ডব্লিউএন

‘মিয়ানমারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত’

রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের উপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন। জেইদ রাদ আল-হুসেইন বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষে গুটিকয় রোহিঙ্গা চরমপন্থীদের কার্যক্রম একটা অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মিয়ানমারের দাবি, গত ২৪ আগস্ট রাতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইন রাজ্যে প্রায় দুই ডজন পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালায়। ওই সময় ১২ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এ ঘটনার পরই বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে মিয়ানমার সরকার। এরপর বিদ্রোহীদের ধরার নামে মিয়ানমার সরকার ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। যার ফলে শরণার্থী সংকটের শুরু হয়। দেশটির রাখাইন রাজ্যের উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা। দেশটিতে তাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই, সরকার তাদের বাইরে থেকে আসা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশহীন জনগোষ্ঠী হলো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বিচারে পুরুষদের হত্যা করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে। তাদের গ্রামগুলো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আর/ডব্লিউএন

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি তার দেশের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অজ্ঞতাপূর্ণ ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যা মিথ্যা তথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে পরিপূর্ণ। এ ধরনের বক্তব্য জাতিসংঘের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প তার বক্তৃতায় ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া ২০১৫ সালের পরমাণবিক চুক্তিকে আমেরিকার জন্য বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি একে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলেও মন্তব্য করেন।তিনি আরো বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো সম্প্রতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও অর্থায়ন বন্ধের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান তার বিপরীতে রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার জন্যও দোষারোপ করেন ইরানকে। জবাবে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা বা জিসিপিওএ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার প্রতি সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। তিনি আরো বলেছেন, জেসিপিওএ বাতিলের বিষয়ে ইরান কখনো প্রথম দেশ হবে না। বক্তৃতায় রুহানি তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেন যে, ইরানের সামরিক শক্তি কেবল নিজের প্রতিরক্ষার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হবে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, তারা নিজেকে শান্তিপ্রিয় দেশ বলে দাবি করছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।  রুহানি বলেন, ইরান চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ইরান নিরাপদ ও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য এবং সন্ত্রাসবাদ অবসানে জন্য অন্যদের সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবে বলে তিনি জানান। রুহানি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নবাগত দুর্বৃত্ত। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানকে ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে রুহানি এসব মন্তব্য করেন।    সূত্র:বিবিসি এম//এআর

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে উদ্বিগ্ন মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংকট কমছে বলে দাবি করেছেন দেশটির দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের অনুপ্রবেশে তার সরকার উদ্বিগ্ন বলেও উল্লেখ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় বুধবার তিনি জাতিসংঘে দেওয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির পরিবর্তে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন থিও। এর আগের দিনই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অং সান সু চি। তিনিও জাতিসংঘকে জোর দিয়ে বোঝাতে চেয়েছন যে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার পর এখন মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাখাইনে সংকট কমছে। থিও বলেন, তার সরকার এই সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। এএফপির খবরে জানা যায়, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মিয়ানমার থেকে পালানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে থিও অনেকটা সু চির মতোই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইনে আর কোনো সহিংসতা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। থিও আরও বলেন, ‘মুসলিমদের এখনো আগের মতোই বাংলাদেশে যাওয়ার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। কেন মুসলিমরা পালাচ্ছে, তা আমাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন।’ ভন থিও আরও দাবি করেন, সন্ত্রাসী হামলার পরই রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হয়েছে। অমুসলিমদের ওপরও ওর প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার সরাসরি উল্লেখ না করে ভন থিও সমর্থনের জন্য বাইরের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। থিও বলেন, ‘প্রথমেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি মানবিক ত্রাণের বিষয়টি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যারা অভাবে রয়েছে, তারাই ত্রাণ পাচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো বৈষম্য চাই না।’ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অং সান সু চির বক্তব্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে হতাশ করেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চিকে সামরিক জান্তা সরকার ১৫ বছর গৃহবন্দী করে রাখে। সে সময় তাঁর মুক্তির পক্ষে সোচ্চার ছিল এই মানবাধিকার সংস্থাগুলো। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর গত মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন সু চি। কিন্তু তিনি মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা উঠেছে।আন্তর্জাতিক সমালোচনার পাশাপাশি বিশ্লেষকেরা অবশ্য এও বলছেন, চাইলেও সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য সু চির নেই। //এআর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ চান ট্রাম্প

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘বলিষ্ঠ ও দ্রুত’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বুধবার প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানের কথা জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে।  জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্যে পেন্স মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তা না করা হলে “এটা ঘৃণা ও বিশৃঙ্খলার বীজ বপন করবে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ওই অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে এবং আমাদের সবার জন্যই হুমকি হয়ে উঠতে পারে,” বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পৌনে ৩ কোটি ডলার সহায়তা

সহিংসতার মুখে মিয়ানমারে থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের একথা জানান। মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায়ও ৩৫ লাখ ডলার দেওয়া হবে বলে জানান বার্নিকাট। এ নিয়ে এ বছর মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত ও সেখান থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সাড়ে নয় কোটি (৯৫ মিলিয়ন) ডলারে দাঁড়াচ্ছে বলে জানান বার্নিকাট। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার এই অর্থ দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়স্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি সহায়তা, স্বাস্থ্য সেবা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে।

ফিরতে পারবেন মাত্র ৭৫৪৮ জন রোহিঙ্গা!

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি যে শর্ত দিয়েছেন তাতে মাত্র ৭ হাজার ৫৪৮জন নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সু চি বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৯৯২ সালের চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী যাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড বা এনভিসি রয়েছে তারাই ফিরতে পারবেন। কিন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকারী প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৫৪৮ জনের এনভিসি কার্ড রয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০০ জন নিবন্ধন করেছেন। সু চি’র কথা অনুযায়ী তাদের এনভিসি না থাকলে তারাও ফিরতে পারবেন না। ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী রাখাইনে তখন থাকা ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড পেয়েছিলেন ৭৫৪৮জন। এর বাইরে আর কোনো কাগজপত্রই রোহিঙ্গাদের নেই। তাই ৭৫৪৮ জনের বেশি মানুষের নিবন্ধন সত্ত্বেও মিয়ানমারে ফেরার সুযোগ নেই।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে নীরব কেন সু চি?

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ,তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলছে। নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বহু রোহিঙ্গা শরনার্থী পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের এ অবস্থা দেখে বিশ্ববাসী দু:খ প্রকাশ করছে। অনেকেই এ অমানবিক অবস্থার অবসান চেয়েছে এবং তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্যি যে, শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ব্যপারে নীরব রয়েছেন। সেজন্য অনেকেই সু চির নোবেল কেড়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে অত্যন্ত সাবধানতা আবলম্বন করছেন সু চি। রোহিঙ্গাদের জন্য দেশটিতে জনগণের সহানুভূতি একেবারেই তলানিতে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয় বলে সরকারের যে দৃষ্ঠিভঙ্গি আছে, অধিকাংশ বার্মিজ জনগনের মতও তাই। এমনকি কয়েক প্রজন্ম ধরে এই রোহিঙ্গাদের অনেকেই দেশটিতে বসবাস করে এলেও অনেকেই তাদেরকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী মনে করে। গত বছরের অক্টোবরে এবং গত আগস্টে পুলিশের পোস্টে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (এআরএসএ) বিদ্রোহিদের হামলার পর এই দ্বন্ধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাখাইন রাজ্যে স্থানীয় বৌদ্ধরা আরো প্রতিকূলতায় রয়েছেন। কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলে আসছে। রোহিঙ্গাদেরকে বাঙালি হিসেবে দাবি করে বৌদ্ধরা। রাখাইনের অনেক বৌদ্ধে বিশ্বাস, তারা শেষ পর্যন্ত সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন। এমনকি তাদের পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা করছে তারা । রাখাইন জাতীয়তাবাদী পার্টি এএনপি স্থানীয় বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। বৌদ্ধদের জন্য দেশটির আইনশৃংখলা বাহিনীরও সহানুভূতি রয়েছে। পুলিশের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তাই রাখাইনের বৌদ্ধ। তবে বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যের আসল ক্ষমতায় সেনাবাহিনী। এই রাজ্যে প্রবেশ অত্যন্ত সীমিত এবং নিয়ন্ত্রিত।দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং এটা পরিষ্কার করেছেন যে, রোহিঙ্গাদের জন্য তার সহানুভূতি নেই। এমতাবস্থায় সু চি তাদের দেশের সেনাবাহিনী এবং জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে বাধ্য বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যতবেক্ষকরা। তাই রোহিঙ্গা মুসলিমদের ব্যপারে সু চি নিরব রয়েছেন।তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান। //এম//এআর

৬০০ কঙ্কাল রাম রহিমের ডেরায়!

ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ডেরায় প্রায় ৬০০ কঙ্কাল মাটি চাপা দিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সম্প্রতি হরিয়ানার সিরসায় রাম রহিমের ডেরার ব্যবস্থাপক বিপাসনা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পি আর নাইনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)। ওই জিজ্ঞাসাবাদেই পি আর নাইন এ তথ্য জানিয়েছেন বলে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনের জানিয়েছে  ইন্ডিয়া টুডে। এসআইটি’র জিজ্ঞাসাবাদে রাম রহিমের ঘনিষ্ঠ সহচর পি আর নাইন জানান, ডেরায় হত্যার পর প্রায় ৬০০ কঙ্কাল মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। জার্মানির একজন বিজ্ঞানীর পরামর্শে মাটিচাপা দেওয়া ওই কঙ্কালগুলোর উপর গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তারা তাদের জবানবন্দির সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপন করেছেন। এদিকে, রাম রহিমের অনুসারী এক নারী অভিযোগ করেছেন, ডেরায় সেবার জন্য সন্তানকে পাঠিয়ে গত ১২ বছর ধরে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি। হরিয়ানার পানিপথের ওই নারী জানান তিনি রাম রহিমের একজন ভক্ত। সেবার জন্য সন্তানকে ডেরায় পাঠাতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ডেরা কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞাপন দেখেই তিনি দুই মাস বয়সী সন্তানকে ডেরায় রেখে এসেছিলেন। এরপর থেকে ওই সন্তানের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন রাম রহিম সিং। তিনি ডেরায় কমপক্ষে দুই হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন এক সাধ্বী। রাম রহিম কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে হরিয়ানায় সিরসার ডেরায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেখানে অভিযানের শুরুর দিকে বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক ওষুধ জব্দ করা হয়। ডেরার ভেতরে সাধ্বী হোস্টেলে রাম রহিমের সরাসরি যাতায়াত ছিল। ওই যাতায়াতের জন্যই দুটি গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। ডেরার ‘গুফা’ থেকে সাধ্বী হোস্টেল পর্যন্ত একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার ডেরায় পানির নিচে গোপন ‘সেক্স কেভ’ বা ‘যৌন গুহার’ সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডেরার প্রাসাদ চত্বরে যে সুইমিং পুল রয়েছে, তার নিচেই ওই ‘যৌন গুহা’ গড়ে তুলেছিলেন রাম রহিম। গোপন গুহায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করতেন তিনি। শত শত আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ ও ভিডিও চিত্র সাংবাদিকের বিশাল একটি দল অভিযান চালিয়ে এই গুহার সন্ধান পায়। ডব্লিউএন

সু চিকে দেওয়া সম্মাননা কেড়ে নিল যুক্তরাজ্যের সংগঠন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা না রাখায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চিকে দেওয়া সম্মাননা ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের বৃহৎ একটি ট্রেড ইউনিয়ন। খবর গার্ডিয়ানের। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের সময় গণতন্ত্রের পক্ষে প্রচারের পুরস্কার হিসেবে সু চিকে বেশ কিছু সম্মাননা দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের কিছু প্রতিষ্ঠান। এখন তারা একযোগে সেগুলো পর্যালোচনা বা বাতিলের কথা ভাবছে। ঠিক সে সময়ে ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো। এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও জাতিগত নির্মূলকরণের কারণে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারে একসময়কার বিরোধী দলে থাকা সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক ডিগ্রি বাতিলের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগের সঙ্গে একাত্ম বিশ্ববিদ্যালয়টি। যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসন পুরস্কার বাতিলের পাশাপাশি এক ঘোষণায় বলেছে, সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক সদস্যপদও বাতিল করছে তারা। এ ছাড়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্দশা লাঘবে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেয় সংগঠনটি। ইউনিসনের প্রেসিডেন্ট মার্গারেট ম্যাককি গার্ডিয়ানকে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ভয়াবহ অবস্থায় আছে। অং সান সু চির সম্মানসূচক সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে এবং আমরা আশা করি, তিনি আন্তর্জাতিক চাপের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। গত ত্রিশ বছরে গ্লাসগো, বাথ অ্যান্ড ক্যামব্রিজসহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি পেয়েছেন সু চি। অক্সফোর্ডের উপদেষ্টারা ঘোষণা করেছেন, তারা সু চিকে দেয়া ১৯৯৭ সালের দ্য ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড পুরস্কার পরবর্তী মাসের উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনায় পুনর্বিবেচনা করবেন। ১৯৯৩ সালে সু চিকে সম্মানিত ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছিল অক্সফোর্ড। ১৯৯১ সালে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা অর্জন করেন এবং নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।//এআর

বেশি দেরি হওয়ার আগেই রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করুন : প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বেশি দেরি হওয়ার আগেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান করুন। রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণ বাস্তবায়নসহ ওআইসির সামনে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বেশি দেরি হওয়ার আগেই রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আমি ওআইসির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ওআইসির যে কোনো ধরনের উদ্যোগে অংশ নিতে প্রস্তুত আছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যুতে ওআইসি কন্ট্যাক্ট গ্রুপের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আল উথাইমিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি