ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৪:০৪

প্রাথমিক সমাপনীতে শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রাথমিক সমাপনীতে শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্ন

এখন থেকে শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্নে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন জাতীয় কর্মশালায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বিষয়ে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন হবে। প্রসঙ্গত, সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে পাবলিক পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা কমাছে বলে দাবি করে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চিন্তা করে উত্তর লেখার দক্ষতাও বাড়ছে বলে দাবি শিক্ষামন্ত্রীর। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে শুরু হওয়া প্রাথমিক সমাপনীতে ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সৃজনশীল প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছিল। পরে ২০১৩ সালে ২৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৩৫ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৫০ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে প্রতি বিষয়ে ৬৫ শতাংশ  সৃজনশীল প্রশ্নে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হয়। আর ২০১৭ সালে ৮০ শতাংশ সৃজনশীর প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বাকি প্রশ্ন ছিল ট্রাডিশনাল। একে// এআর
প্রশ্নফাঁস: ৪ শিক্ষকসহ গ্রেফতার ৫

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন শিক্ষক ও ফেসবুকের একটি গ্রুপের একজন অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তরখান ও গাজীপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-৩ এর একটি দল তাদের গ্রেফতার করে। র‌্যাব-এর পক্ষ থেকে এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি র‌্যাব। আজ সোমবার বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারতি জানানোর কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এবারের এসএসসি ও সমমানের সবকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এসব ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষা শেষে হাতে পাওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। নানা রকম ব্যবস্থা নেওয়ার পরও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে সরকার।’   একে// এআর

প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা সহায়ক ৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন

শনিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনের মূল মঞ্চে অমর একুশে বইমেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের যৌথ আয়োজনে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা সহায়ক ৩টি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা-বিকাশ ও সুস্থ-বিনোদনের জন্য তৈরি হওয়া এই প্রকল্পগুলো হল প্রাক প্রাথমিক ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি’ ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি; ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক মজাদার গেম ‘বিজ্ঞানের রাজ্যে’ এবং অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক এনিমেটেড কন্টেন্ট ‘হাতের মুঠোয় বিজ্ঞান’। এটুআই প্রোগ্রামের ইনোভেশন ফান্ডের সহায়তায় তৈরি হওয়া এই প্রত্যেকটি প্রকল্প শিশু-কিশোর ও অবিভাবকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি” প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাক প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের জন্যে শিক্ষাকে আরও আনন্দময় করতে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে যা গুগোল প্লে-স্টোর এ ‘Bookhela’ নামে পাওয়া যাচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক বইয়ের উপর বা বইয়ের পিডিএফ কপি নামিয়ে বর্ণের উপর অ্যাপটি ধরে স্পর্শ করলে সেখানে রাখা বস্তুটিকে উচ্চারণ সহ বাস্তবিক ভাবে দেখা যাবে এবং বাস্তব বস্তুর মতই ছুঁয়ে চারদিক ঘুরিয়ে দেখা যাবে। যেকোনো শব্দ এবং এর সংশ্লিষ্ট বস্তুর থ্রিডি চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শিশুদের মনোযোগ আকৃষ্ট হবে। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ক পাঠ্যপুস্তকের কনটেন্টের উপর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম এডুকেশনাল মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক গেম `বিজ্ঞানের রাজ্যে` যা খেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলাকে সহজেই শিখতে পারবে। গেমটি এন্ড্রয়েড প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে পাওয়া যাচ্ছে। অষ্টম-নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিবাবক সকলের জন্য তৈরি হয়েছে ‘হাতের মুঠোয় বিজ্ঞান’ যা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলোকে অ্যানিমেশন, গ্রাফিক্স ও মিউজিক এর মাধ্যমে সহজে আয়ত্ব করতে পারবে। এর সকল ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে ইউটিউবের ‘হাতের মুঠোয় বিজ্ঞান’ চ্যানেল, কিশোর বাতায়ন ‘কানেক্ট’ ও ‘শিক্ষক বাতায়ন’-এ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী, পরিচালক(ইনোভেশন) মোস্তাফিজুর রহমান, ই-লার্নিং স্পেশালিস্ট ফারুক আহমেদ, পলিসি স্পেশালিস্ট আফজাল হোসেন সারওয়ার, এডুকেশন টেকনোলজি এক্সপার্ট মো. রফিকুল ইসলাম, ইনোভেশন স্পেশালিস্ট শাহীদা সুলতানা, সিনিয়র সফটওয়ার ইঞ্জিয়ার শাকিলা রহমান, কনসালটেন্ট তানভীর কাদের, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসি/

এবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রশ্ন ফাঁস

এবার ফাঁস হয়েছে এসএসসি’র বালাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষার বহুনির্বচনী প্রশ্নপত্রও। আজ শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র হুবহু মিল পাওয়া গেছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আগের ১০টি বিষয়ের বহুনির্বচনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। আজ আবারও একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টির ক্ষেত্রেও। প্রশ্নফাঁসকারী চক্র বহুনির্বচনি প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার শুরুর এক ঘণ্টা আগে ছেড়ে দিয়েছে ইন্টারনেটে।   নানা রকম ব্যবস্থা নেওয়ার পরও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে সরকার।’ উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এবারের এসএসসি ও সমমানের সবকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এসব ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষা শেষে হাতে পাওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। একে// এআর

বরগুনায় পরীক্ষার সময় চলছে কোচিং বাণিজ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরগুনায় এসএসসি পরীক্ষার সময় অবাধে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এ কার্যক্রম। শিক্ষকরা কোচিং বন্ধে সঠিক নির্দেশনা না পাওয়ার কথা জানালেও প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে মাইকিংসহ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে সম্প্রতি পরীক্ষা চলাকালীন সব ধরনের কোচিং বন্ধ থাকার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছেও। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরগুনায় চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। কেউ কেউ কিন্ডার গার্টেনের সাইনবোর্ড অথবা ডে-নাইট স্কুলের নাম দিয়ে কৌশলে চালাচ্ছেন এই বাণিজ্য। তবে শিক্ষকরা বলছেন, প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাননি তারা। গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে কোচিং বন্ধ রাখার কথাও জানালেন কেউ কেউ। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সরকারি নির্দেশনার আলোকে সব ধরনের কোচিং বন্ধে মাইকিংসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলার সময় ফটোস্ট্যাট মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না অনেকেই। এসএইচ/

এবার রসায়নের প্রশ্ন ফাঁস, শিক্ষিকাসহ আটক ১৩

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস যেন থামছেই না। প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায়ই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। এবার ফাঁস হয়েছে আজকের রসায়ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র। নাটোরের লালপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার রসায়নের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ১০ পরীক্ষার্থী ও এক শিক্ষিকাসহ ১৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। উপজেলার চাঁনপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও উত্তরসহ তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আটককৃত পরীক্ষার্থীরা হলো- লালপুর উপজেলার কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের তহমিনা খাতুন, সুমি খাতুন, আছিয়া খাতুন, জান্নাতুন ফেরদৌস, মোছা. নুরে জান্নাত, মোছা. রত্না খাতুন, মোছা. নাসরিন জাহান, জিসান গাজী, সৈকত সরকার, মোছা. মাসুমা খাতুন, কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুন ফেরদৌস ও তার স্বামী সোহেল আহমেদ এবং এলাকাবাসী হাসান আলী। লালপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। সকালে কেন্দ্রের বাইরে বেশ কিছু শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে কিছু দেখছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ১০ শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন জব্দ করে তাদের ফেসবুক মেসেঞ্জারে রসায়নের পরীক্ষার প্রশ্নসহ উত্তর পাওয়া যায়। পরে দেখা যায় সেই প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের দেয়া প্রশ্নের মিল রয়েছে। এ ঘটনায় ফোনগুলো জব্দ করা হয়। এবং প্রশ্নফাঁসের দায়ে তাদের আটক করা হয়। এর আগে গণিত, পদার্থসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একে//  এআর

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্নফাঁসের সমাধান নয়: জাফর ইকবাল

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ অথবা ইন্টারনেট বন্ধ রেখে প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, তা আগে খুঁজে বের করতে হবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেটের মীরের ময়দানে আঞ্চলিক বেতার ভবনে বিশ্ব বেতার দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ কথা বলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষক। জাফর ইকবাল বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের কথা না ভেবে প্রয়োজনে বিজি প্রেসে প্রশ্ন না ছাপিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন ছাপানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে প্রশ্নফাঁস চলতে থাকলে শিক্ষার কোনো গুরুত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করে এই অধ্যাপক বলেন, সরকারকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে গত কয়েক বছর ধরেই সোচ্চার অবস্থানে থাকা এই লেখক বলেন, যখন তিনি শহীদ মিনারে বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলন করেছেন, সরকার তখন প্রশ্নফাঁসের কথা স্বীকারও করেনি। তিনি বলেন, কিভাবে প্রশ্নফাঁস রোধ করা যায় সে বিষয়ে ভেবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যারা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি দিতে হবে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়েই পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্ন এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ বিষয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, ব্যাংকার, অভিভাবকসহ গ্রেফতার হয়েছেন শতাধিক। একে// এআর

‘বই খুলে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা চলছে’

বর্তমান পদ্ধতিতে নেওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা ‘কোনোভাবেই সম্ভব নয়’ বলে মনে করেন মা্ধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। তাই আগামীতে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি। সোমবার রাজধানীতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি। পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সামনে ছাপানো কোনো প্রশ্ন নেই! বরং পরীক্ষার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা বই খুলেই উত্তর লিখতে পারছে! এমন অপরিচিত পরীক্ষা পদ্ধতি অনেকের কাছে অদ্ভুত শোনালেও আগামীতে এভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না, সেটাই এখন চিন্তা করতে হচ্ছে বলে জানান শিক্ষাসচিব। সোহরাব হোসাইন বলেন, ভিন্ন পদ্ধতিতে যাতে প্রশ্ন ছাপানোর প্রয়োজন না হয় সেই রকম কোনো কিছু করা যায় কি না সেজন্য তিন-চারটা কমিটি কাজ করছে এবং মন্ত্রণালয় থেকেও ভিন্নভাবে চিন্তা করা হচ্ছে এমন কিছু করা যায় কি না যে প্রশ্ন ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ লাখ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেয়। একটি প্রশ্ন ছাপাতে চার-পাঁচদিন সময় লাগে। একজন মানুষ যদি অসৎ হয়, সে যদি মনে করে আমি প্রতিদিন একটা বা দুইটা করে মুখস্থ করে যাব, বাইরে গিয়ে লিখেই রাখব। তার পর একসাথে করব, একটি প্রশ্ন হবে। এটি কীভাবে ঠেকাব? আমি ২০১৪ সালেই বলেছি এ পদ্ধতিতে প্রশ্ন আউট রোধ করা সম্ভব নয়।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর থেকে প্রতিটা পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ অভিযোগে রাজধানীসহ সারা দেশে পরীক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একে// এআর

পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে বাসভর্তি শিক্ষার্থীর হাতে এসএসসির প্রশ্ন

চট্টগ্রামের এক স্কুলের পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টা আগে পাওয়া এসএসসির পদার্থ বিজ্ঞানের এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষার আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। বন্দরনগরীর ওয়াসা মোড়ে পরীক্ষার আগে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে পটিয়া আইডিয়াল স্কুলের ৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিল। শ্যামলী পরিবহনের সেই বাসটিতে অভিযান চালিয়ে ওই প্রশ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ আলী। মুরাদ আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাঁচটি ফোনে পাওয়া পদার্থ বিজ্ঞানের এমসিকিউ প্রশ্ন মিলে গেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’ তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওয়াসা মোড়ে একটি বাসে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে দেখে তাদের সন্দেহ হলে বাসে উঠে দেখতে পান, শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু পড়ছে। পরে তাদের তল্লাশি করে বেশ কিছু মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পরে সেসব ফোনে কিছু প্রশ্নের সফট কপি পাই। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. হাবিবুর রহমান জানান, পরীক্ষা পরিচালনার বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একে// এআর

পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হচ্ছে ‘নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ’

এবার পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ’ বিষয়টি। তবে সংসদীয় কমিটি বলেছে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির আগে তারা সবকিছু দেখতে চায়। মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির এ সংক্রান্ত খসড়া প্রতিবেদন পেলে তারা যাছাই বাছাই করে দেখবে। বিষয়টিতে কোনো ধরনের সংযোজন-বিয়োজন করার প্রয়োজন আছে কিনা সেটি যাচাই করতেই আগামী বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ অফিসগুলোতে ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়। কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ, মো. মোজাম্মেল হোসেন, আমিনা আহমেদ, মনোয়ারা বেগম এবং রিফাত আমিন অংশ নেন। এসি/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি