ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

এরশাদের যত প্রেম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৪২ ১৫ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ২০:৩০ ১৫ জুলাই ২০১৯

ব্যক্তিজীবনে ভীষণ রোমাঞ্চ প্রিয় ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রাজনীতির মতো তার ব্যক্তিজীবনও ছিল রহস্যময়। সামরিক শাসনকালে তো বটেই, এর পরও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক প্রেম ও বিয়ের খবর শোনা গেছে। বিশেষ করে ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কও ছিল আলোচনায়। 

এ নিয়ে এরশাদের ভাষ্য ছিল, তিনি নারীদের কাছে যান না; নারীরাই তার কাছে আসেন। তার মৃত্যুর পর আবারও আলোচনা  আসছেন এই নায়ক । তার মৃত্যুর পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন আর্কাইভ থেকে তার সাক্ষাতকার প্রকাশ করেন এখানে তিনি তার কলেজ জীবনের প্রেমের স্মৃতি বর্ণনা করেন।

এরশাদ বলেন আমি যখন কলেজে পড়ি। সেই কলেজে শেফালী সরকার নামের একটি মেয়ে পড়তো। মেয়েটি দেখতে তেমন সুন্দর ছিলো না। কিন্তু অনেক আকর্ষণীয় ছিলো। কলেজের সবাই তাকে ভালোবাসতে চাইতো। আমরাও ভালো লাগতো। একদিন কে বা কারা কলেজের ছাদে ইটের খোয়া দিয়ে লিখে লেখেছিলো শেফালী তুমি সবার উপর। সেই দিন থেকে শেফারি উপরে তারও কিছু প্রেম তৈরি হয়। গোপনে গোপনে তিনিও প্রেমে পড়ে। এমনকি তাকে নিয়েও কবিতা লেখেন তিনি।

 শুধু তাই নয় এরশাদ চারজনকে বিয়ে করেছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। তারা হলেন রওশন, বিদিশা, মেরি ও জিনাত মোশাররফ। এর মধ্যে দুজনের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। একজন রওশন এরশাদ। রওশনের আগে এরশাদের আরেকটি বিয়ের কথা আলোচনায় ছিল অনেক দিন। পরে কবিকন্যা বিদিশাকে বিয়ে করার বিষয়টিও ছিল আলোচিত ঘটনা। তাদের এই বিয়ে টেকেনি। তবে বিদিশার ঘরে জন্ম নেওয়া এরিক ছিল এরশাদের সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। এরশাদের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, জীবন সায়াহ্নে সাবেক সেনাশাসকের ভাবনা ছিল শুধু এরিককে নিয়ে। বিদিশার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রওশনই ছিলেন এরশাদের স্ত্রী। 

তবে দীর্ঘদিন ধরে (জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত) দুজন দুই বাসায় থাকতেন। একান্ত প্রয়োজন বা রাজনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া তাদের মধ্যে তেমন কোনো আলাপচারিতা ছিল না। এমনকি মৃত্যুর আগে এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে থাকলেও রওশন তাকে দেখতে যাননি। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে মৃত্যুর আগে তিন দিন এরশাদকে দেখতে হাসপাতালে যান রওশন। এরশাদ-রওশন দম্পতির এক সন্তান শাদ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে বিয়ে করে তিনি বসবাস করছেন মালয়েশিয়ায়।

১৯৮৬ সালে খবর রটে এরশাদ মেরিকে বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে আর কখনো মেরিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। কথিত আছে, এরশাদ সে সময় বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চুকিয়ে নিয়ে মেরিকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে এক সন্তানের জননী মেরির লন্ডনে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এরশাদের অনেক বান্ধবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে জিনাত মোশাররফের নাম। ক্ষমতায় থাকাকালে জিনাতের সঙ্গে এরশাদের প্রেমের গল্প ছিল মুখে মুখে। এমনও শোনা যায়, তার নামের সঙ্গে মিল রেখে জিনাত মোশাররফ নতুন নামকরণ করেছিলেন জিনাত হুসেইন। এই প্রেম নিয়ে গণমাধ্যমে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন এরশাদ। এতে ঘর ভাঙে জিনাতের। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় সাবেক মন্ত্রী মোশাররফের সঙ্গে। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলে এরশাদের ইচ্ছায় সংরক্ষিত আসনে মহিলা সংসদ সদস্য হন জিনাত। জাতীয় পার্টির এক নেতা জানান, জিনাত মোশাররফ বর্তমানে স্থায়ীভাবে লন্ডনে বসবাস করছেন। পরে আর এরশাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না তার।

এরপর নিজ বয়সী কবি আবু বকরের মেয়ে বিদিশা ইসলামের প্রেমে পড়েন এরশাদ। প্রায় ৬ বছরের জেলজীবনে বিদিশার সঙ্গে প্রেম করে ২০০০ সালে এরশাদ ঘোষণা দেন, তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। বিদিশাকে নিয়ে স্বল্পস্থায়ী সংসারে এরশাদের জটিলতা না কমে বরং বাড়তে থাকে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিদিশা চুরির মামলায় জেলে যান। চুকে যায় তখনকার মতো এরশাদ-বিদিশা পর্ব।

বিদিশা-এরশাদের সন্তান এরিক এরশাদ বেঁচে থাকতে ঢাকাতেই বাবা-মার সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকত। মাসের বেশিরভাগ সময় বাবার সঙ্গেই বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকত। মৃত্যুর আগে এরশাদ ট্রাস্ট করে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ওই ট্রাস্টকে দিয়ে যান। সেই ট্রাস্টে এরিককেও রেখেছেন তিনি।

বিদিশা এখন স্থায়ীভাবে ঢাকাতেই আছেন। রাজনীতি না করলেও এরশাদের জাপার বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে। এমনকি এরশাদের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার ক্ষমতাও রাখতেন বিদিশা। এরশাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে বিদিশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন বলে খবর পাওয়া যায়। এমনকি এরশাদের শেষ জীবনে বিদিশা জাতীয় পার্টিতে যুক্ত হতে চান বলেও ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

শেষ জীবনে খুব নিঃসঙ্গ সময় কেটেছে এরশাদের। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে আলাদা বাস করতেন এরশাদ ও রওশন। রওশন এরশাদ গুলশানে আর এরশাদ থাকতেন বারিধারার দূতাবাস রোডের ১০ নম্বর প্রেসিডেন্ট পার্কে। বিদিশার সঙ্গে বিয়ের পর এরশাদ গুলশানের বাসা ছেড়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে চলে যান। বিদিশার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও এরশাদ ও রওশন এক ছাদের নিচে আসেননি। তবে রাজনীতিটা এখনো এক দলেই করছেন।

এরশাদের সংসার, প্রেম ও রোমাঞ্চ নিয়ে দলের কোনো নেতাই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। আলোচনাও করতে চান না। তবে তারা এ কথা বলেছেন যে, এ নিয়ে এরশাদের কোনো দিন কোনো অনুশোচনা ছিল না।

 টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি