শিশু রামিসা হত্যা: গ্রেপ্তার সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
প্রকাশিত : ১৯:৩৮, ২০ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য।
বুধবার শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গতবাল ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
পরে স্কুলে যাওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও রামিসাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা।
ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষে তারা দেখতে পান শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ। আর কাটা মাথা রাখা ছিল একটি বড় বালতির ভেতরে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া মরদেহ বিকৃত করারও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দায় স্বীকার করেন তিনি।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ। শিশুহত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এএইচ
আরও পড়ুন










