ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ১১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ নিয়ে কুরআন যা বলে

প্রকাশিত : ১৭:২৩ ৩০ মে ২০১৯

কুরআন বৈষয়িক ও আত্মিক জীবনকেও একই সূত্রে গেঁথেছে। সুস্পষ্টভাবেই বলেছে, আল্লাহর বিধান অনুসরণ করো- দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি সম্মানিত হবে। তেমনি আল্লাহর দয়া, করুণা ও অনুগ্রহের কথাও আছে এই পবিত্র আল কুরআনে।

কুরআনে দয়া ও করুণা নিয়ে আল্লাহ যা বলেন :

‘যদি আল্লাহর পথে (সত্যের পথে) নিহত হও বা মৃত্যুবরণ করো তবে তোমরা লাভ করবে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া, যা এ পৃথিবীতে জমা করা সম্ভব এমন সকল সম্পদের চেয়েও উত্তম।’ (সূরা আলে ইমরান ১৫৭)

‘হে মানুষ! আল্লাহ তোমাদের পৃথিবীতে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি মনোনীত করেছেন। তোমাদের অনেককে (চরিত্র, জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা, অর্থবিত্ত বা মর্যাদায়) অনেকের ওপর উচ্চ আসনে আসীন করেছেন। তোমাদের যাকে যা দিয়েছেন, সে আলোকেই তিনি তোমাদের পরীক্ষা নিবেন। তোমার প্রতিপালক যেমন কঠিন শাস্তি দেন তেমনি তিনি দয়া ও করুণার আকর।’ (সূরা আনআম ১৬৫)

‘(এরপর ইউসুফ আরো বলল) আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। মানুষের প্রবৃত্তি সবসময় কুপ্ররোচণা দেয়। প্রতিপালক যার ওপর দয়া করেন, সে (কুপথ থেকে) রক্ষা পায়। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা ইউসুফ ৫৩)

‘আমি ওদের দয়া করলেও, বর্তমান বিপদ মোচন করলেও ওরা অবাধ্যতার বিভ্রান্তিতেই গুরপাক খাবে।’ (সূরা মুমিনুন ৭৫)

‘তোমাদের ওপর আল্লাহর করুণা ও রহমত না থাকলে তোমরা কেউই রেহাই পেতে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম দয়ালু, বড়ই মেহেরবান।’ (সূরা নূর ২০)

‘তিনি করুণাবশত তোমাদের জন্যে রাত ও দিনের ব্যবস্থা করেছেন, যাতে তোমরা (পর্যায়ক্রমে) বিশ্রাম নিতে পারো, আর তাঁর অনুগ্রহ-সম্পদ থেকে তোমাদের প্রয়োজন অনুসারে সংগ্রহ করে শোকরগোজার হতে পারো।’ (সূরা কাসাস ৭৩)

দয়া ও করুণা আল্লাহর নীতি : ‘ওদের জিজ্ঞেস করো, মহাকাল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তার মালিকানা কার? জবাবে বলো, এসব কিছুর মালিকানা একমাত্র আল্লাহর! দয়া ও করুণাকে তিনি তাঁর নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সন্দেহ নেই, মহাবিচার দিবসে তিনি তোমাদের অবশ্যই সমবেত করবেন। কিন্তু যারা নিজেরাই নিজেদের প্রবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তারা কখনোই তা বিশ্বাস করবে না।’ (সূরা আনআম ১২)

আল্লাহর করুণার জন্য প্রার্থনা : ‘আল্লাহ কারো ওপরই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না। ভালো ও মন্দ যে যা উপার্জন করবে, তার প্রতিফল সেই পাবে। (তাই হে বিশ্বাসীরা! তোমরা প্রার্থনা করো) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের যদি ভুল বা ত্রুটি হয়, সেজন্যে আমাদের পাকড়াও করো না। প্রভু হে! আমাদের পূর্বসূরিদের ওপর যে-রূপ গুরুভার অর্পণ করেছিলে, আমাদের ওপর তেমন ভার চাপিয়ে দিও না। প্রভু হে! আমাদের ওপর সাধ্যাতীত কোন দায়িত্ব দিও না। আমাদের ক্ষমা করো। দয়া করো। তুমিই আমাদের প্রভু। সত্য অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।’ (সূরা বাকারা ২৮৬)

‘তখন আদম দম্পতি বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নিজেদের ওপরই জুলুম করেছি। তুমি ক্ষমা না করলে, দয়া না করলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।’ (সূরা আরাফ ২৩)

‘নূহ সঙ্গে সঙ্গে বলল, হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে অনুরোধ করা থেকে আমি তোমার কাছে পানাহ চাই। তুমি ক্ষমা না করলে, দয়া না করলে নিশ্চয়ই আমি ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’ (সূরা হুদ ৪৭)

‘স্মরণ করো আইয়ুবের কথা! সে তার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করল, রোগ-যন্ত্রণা, দুঃখ-কষ্টে আমি জর্জরিত। (প্রভু হে! দয়া করো!) তুমিই পরম করুণাময়।’ (সূরা আম্বিয়া ৮৩)

‘স্মরণ করো! আমার বান্দাদের মধ্যে একদল প্রার্থনা করত, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদের ক্ষমা করো, তুমি আমাদের দয়া করো। তুমিই করুণানিধান।’ (সূরা মুমিনুন ১০৯)

আল্লাহর দয়া ছাড়া পরিণাম ধ্বংস : ‘এরপরও তোমরা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে! তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেতে। তোমরা ভালোভাবেই জানো, তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের সীমা লঙ্ঘন করেছিল, আমি তাদের বলেছিলাম, ধিকৃত বানর হও! (অর্থাৎ এমন অধঃপাতে যাও যাতে চারদিক থেকে ধিক্কার বর্ষিত হয়।) এই ঘটনা তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্যে দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।’ (সূরা বাকারা ৬৪-৬৬)

‘আসলে সেদিন প্রভুর করুণা যে লাভ করবে, সে-ই শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে। আর এটাই চূড়ান্ত সাফল্য।’ (সূরা আনআম ১৬)

‘পরে যখন ওরা বুঝতে পারল যে, ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলো। ওরা বলল, আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের দয়া না করেন, ক্ষমা না করেন, তাহলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।’ (সূরা আরাফ ১৪৯)

‘হে মানুষ! তোমাদের ওপর আল্লাহর করুণা ও রহমত না থাকলে তোমরা কেউই অব্যাহতি পেতে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা নূর ১০)

যারা আল্লাহর করুণা থেকে বঞ্চিত : ‘যারা আল্লাহর বাণী ও আখেরাতে তাঁর সামনে জবাবদিহিতাকে সত্য বলে মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তারাই আল্লাহর ক্ষমা ও করুণার ব্যাপারে নিরাশ হবে। ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’

‘নিশ্চয়ই সেদিন ওরা ওদের প্রতিপালকের করুণা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এরপর ওদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর ওদের বলা হবে, এই সেই জাহান্নাম, যা তোমরা ‘কল্পকাহিনী’ মনে করতে।’ (সূরা মুতাফফিফিন ১৫-১৭)

এএইচ/

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি