ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

পেঁপে বীজ আর মধু একসঙ্গে খেলে কী উপকার জানেন?  

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৪২ ২৩ অক্টোবর ২০১৮

নানা রোগেই মধু ব্যবহার হয়। মধু রুচি বর্ধক। অন্যদিকে পেঁপে বীজও মানুষের জন্য উপকারি।একাধিক এনজাইম এবং উপকারি উপাদানে ঠাসা এই দুটি প্রকৃতিক উপাদনকে একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া শুরু করলে শরীরের ভেতরের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে দেহের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রোগ মুক্তির পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যায়।     

ফলে সার্বিকবাবে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে আয়ু বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ২ চামচ পেঁপের বীজের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে খেতে হবে। এমনটা করলে সাধারণত যে যে উপককারগুলি মিলবে, সেগুলি হল...

১. পিরিয়ডের সময়কার কষ্ট কমবে: বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে মাসের এই বিশেষ সময়ে প্রতিদিন পেঁপের বীজের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহের মাত্রা কমে। ফলে কষ্ট এবং অস্বস্তি কমতে সময় লাগে না।

২. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে: নিয়মিত পেঁপের বীজ এবং মধু খাওয়া শুরু করলে ত্বকের অন্দরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে বলিরেখা কমে, সেই সঙ্গে কমে ত্বকের বয়সও। ফলে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন মধু এবং পেঁপে বীজ দিয়ে বানানো পেস্ট মুখে লাগালেও কিন্তু সমান উপকার মেলে। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প সময়ে যদি ফর্সা, প্রাণচ্ছ্বল ত্বকের অধিকারী হয়ে উঠতে চান, তাহলে এই দুটি প্রকৃতিক উপাদানের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে ভুলবেন না যে...!

৩. পেশির শক্তি বাড়াবে: এই ওষুধটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন, যা পেশির গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো যদি পেশিবহুল শরীর পেতে চান, তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন এই ঘরোয়া ওষুধটি।

৪. ক্লান্তি দূর হবে: কোনও কোনও সময় ক্লান্তি আমাদের এতটাই দুর্বল করে দেয় যে এই জেট যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আপনিও যদি একই সমস্যা শিকার হয়ে থাকেন তাহলে পেঁপে এবং মধু মিশ্রিত এই ওষুধটি খাওয়া শুরু করুন। কারণ এতে রয়েছে গ্লকোসিনোলেট নামে একটি উপাদান, যা সেলেদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ক্লান্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৫. বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে: পেঁপের বীজ এবং মধুতে উপস্থিত বেশ কিছু এনজাইম স্পার্ম কাউন্টের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে এই দুটি প্রকৃতিক উপাদান একসঙ্গে খাওয়া শুরু করলে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

৬. সিরোসিস অব লিভারের মতো রোগের প্রকোপ কমবে: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে লিভার সিরোসিসের মতো রোগে ভুগছেন নাকি? তাহলে তো বন্ধু আর সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই নিয়মিত পেঁপের বীজ খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদনটি খাওয়া শুরু করলে এমন রোগের প্রকোপ তো কমেই, সেই সঙ্গে শরীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরাও বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে লিভার তো চাঙ্গা হয়ে ওঠেই, সেই সঙ্গে আরও নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে প্রথমে অল্প করে ড্রাই পেঁপে বীজ নিয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর সেই পাউডার থেকে এক চামচ নিয়ে লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এমনটা নিয়মিত করতে পারলেই কেল্লাফতে!

৭. পেটের অন্দরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ারা মারা পড়বে: স্টমাকে এইসব ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত হজমের সমস্যা বাড়বে। আর এই ধরনের রোগের হাত থাকে বাঁচাতে এই ঘরোয়া ওষুধটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে উপস্থিত নানা উপকারি উপাদান এইসব পোকাদের মেরে ফেলে। ফলে হজমের সমস্যা হয়ার সম্ভবনা অনেকাংশে হ্রাস পায়।

৮. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে: যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের তো এই ওষুধটি খাওয়া মাস্ট! কারণ পেঁপে এবং মধুতে রয়েছে বেশ কিছু লিপিডস এবং পটাশিয়াম, যা মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমনটা আমাদের সকলেই জানা আছে যে হজম ক্ষমতা যত ভাল হবে, তত শরীরে চর্বি জমবে কম। ফলে ওজন কমবে চোখে পরার মতো।

৯. নানাবিধ ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে: এই ওষুধটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে কোনও ভাইরাসই তেমন একটা ক্ষতি করতে পারে না। তাই আপনিও যদি ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে চান, তাহেল শীঘ্র খাওয়া শুরু করুন এই ওষুধটি।  

১০. শরীর বিষ মুক্ত হবে: এই ওষুধটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান, যা শরীর থেকে সব রকমের ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষ বার করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে কোনও রোগক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে হ্রাস পায়।

এসি

  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি