ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রাগ-ক্ষোভ-অভিমানের ৪ ক্ষতিকর দিক

প্রকাশিত : ১৩:২৬ ৬ এপ্রিল ২০১৯ | আপডেট: ১৫:৫৬ ৬ এপ্রিল ২০১৯

রাগ আর অভিমান ভিন্ন দুটি মানসিক অনুভুতি। রাগের সাথে হিংসাত্মক মনোভাব জড়িত থাকে। রাগ হলে একজন মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। রাগ দুই ধরনের হয়; প্রকাশিত রাগ এবং অপ্রকাশিত রাগ। যারা রাগ সহজেই প্রকাশ করে তারা সাধারণত ভাল মানুষ হয়ে থাকে, আবার কিছু মানুষ আছে যারা রাগ প্রকাশ করে না কিন্তু গোপনে অনেক বড় ক্ষতি হয়। 

১. পরিবারে অশান্তি :  রাগের কুফলের সবচেয়ে নির্মম বলি হয় আমাদের পরিবারের সদস্যরা। আমরা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের ওপর রাগ করি, সন্তানের ওপর রাগ করি, সেন্টিমেন্টে আঘাত দিয়ে কথা বলি। মনে রাখতে হবে, একটি সম্পর্ক গড়তে সময় লাগে, কিন্তু ভাঙতে সময় লাগে না। রাগের মাথায় এমন কথা বলে ফেলি যে, ২০ বছরের সম্পর্ক এককথায় নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষোভ পারিবারিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। মনে রাখতে হবে, যে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না, তাতে কখনো দেয়াল তুলবেন না।

২. মানসিক প্রশান্তি নষ্ট : জন্মগতভাবে প্রতিটি মানুষ স্ফটিক স্বচ্ছ হৃদয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে পারিপার্শ্বিক নেতিবাচকতায় প্রভাবিত হয়ে আপনি যখন রেগে যাচ্ছেন তখন এই অন্তরে আঁচড় পড়ে। অন্তরে যত আঁচড়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে আপনার প্রশান্তি তত কমতে থাকে। নিজেই ভেবে দেখুন, আপনার যখন রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান থাকে তখন ভেতরে প্রশান্তি অনুভব করেন কিনা? আসলে কাউকে কষ্ট দিয়ে, দুর্ব্যবহার করে কখনো প্রশান্তি পাওয়া যায় না।  

৩. রাগ যত বেশি রোগ তত বেশি : আমাদের এই শরীর এক মহাবিস্ময়কর জৈব কারখানা। এই কারখানায় যত রাসায়নিক বিক্রিয়া বা রি-একশন হয় পৃথিবীর তাবৎ কারখানা সবমিলিয়ে একত্রে এত রি-একশন হয় না।

আবার যখন আমরা রেগে যাই, তখন আমাদের শরীরের এড্রিনাল গ্লান্ডস (adrenal glands) কর্টিসোল (cortisol) এবং এড্রেনালিন (adrenaline) নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে থাকে।  এগুলো আসলে আমাদের শরীরে উৎপন্ন এক প্রকার বিষ বা টক্সিন।

আমরা যখন রেগে যাই, আমাদের দেহে কিছু জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। যেমন, হার্টরেট, ব্লাডপ্রেসার এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দীর্ঘসময় ধরে যদি এই রেসপন্স চলতে থাকে তাহলে অনেক ধরনের ক্রনিক রোগ হতে পারে। যেমন, ইনসমনিয়া, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, আলসার, মৃগীরোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাইগ্রেন, ব্যাকপেইন, ফুসফুসের অসুখ এমনকি ক্যান্সার। এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আয়ুষ্কালের ওপরও রাগের প্রভাব আছে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, রাগ যাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ। রাগ এবং স্ট্রেস আমাদের স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। কেউ যদি সার্বক্ষণিক চিন্তিত ও রাগান্বিত থাকেন, তাহলে তিনি তার আয়ু কমিয়ে ফেলছেন। বদরাগী বা রগচটা মানুষ বলে পরিচিতদের মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ বেশি। কোয়ান্টামে আমরা বলি, ক্ষোভ হচ্ছে এমন একটি বিষ যা আমি নিজে পান করছি কিন্তু প্রত্যাশা করছি প্রতিপক্ষ মারা যাবে।

. নেতিবাচকতা দুষ্টচক্রে জড়িয়ে যায় : রাগ-ক্ষোভ-অভিমানের কারণে একজন মানুষ অবচেতনে নেতিবাচকতার ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে। রাগের কারণে কোনো ক্ষতি বা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে সে অনুতাপ ও পাপবোধে ভোগে, যা তার ভেতরে অস্থিরতার সৃষ্টি করে। এ অস্থিরতার কারণে সে কাজে পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে ব্যর্থতা তার পিছু ছাড়ে না। তাই হতাশা বা হীনম্মন্যতা থেকেই হোক সে আবার রাগের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।

 

টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি