সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত
প্রকাশিত : ১০:৩৮, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের শতাংশ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ পাচ্ছে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন। এর মধ্যে ১১টি আসনে জামায়াত নিজের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটি এনসিপিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলেও অন্যটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্য শরিকদের কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপি বা অন্য কোনো সংগঠনের মতো ঘটা করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে না।
তিনি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের ১১ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি থাকছে দুটি। ভোটের পারসেন্টেজ অনুযায়ী বাকি দুটি জোটের দুই শরিক দলকে দেওয়া হবে। সেটি নিয়ে জোটে আলাপ চলছে। এর মধ্যে একটি এনসিপি পাচ্ছে, তা নিশ্চিত করেন তিনি।
দলের মনোনয়নে এবার জাতীয় নির্বাচনে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের পরিবারের কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন না। তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও জোটের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন অথবা নির্বাচন করে এমপি হতে পারেননি তাদের পরিবারের স্ত্রী বা সন্তান কেউ যদি যোগ্য ও জনপ্রিয় হন, তাকে বিবেচনা করা হতে পারে।
প্রার্থী চূড়ান্তে যেসব বিষয় নেওয়া হয়েছে বিবেচনায়
সংরক্ষিত আসনের জন্য তৃণমূল পর্যন্ত মতামত নেওয়া হয়েছে। মহিলা বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল, শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্বের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা।
আলোচনায় যারা
১২ জনের তালিকায় রয়েছেন— কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একাধিক সদস্য, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক শীর্ষ নেত্রী, গণমাধ্যমে পরিচিত মুখসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রীরা।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে জামায়াতের নারীনেত্রীদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নীতিগত অবস্থান পাল্টে নারী শাখা অভ্যুত্থানের পরে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করেছে, গণমাধ্যমেও হাজির হয়েছেন কেউ কেউ। তাদের কেউ কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজের নাম আলোচনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ড. ফেরদৌস আরা বকুল প্রার্থী হিসেবে দলের বিবেচনায় রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম আলোচনায় রয়েছেন। তিনি আগেও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন জামায়াতের হয়ে। এছাড়া দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান সুইটও রয়েছেন আলোচনায়।
জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম— এমন যোগ্য প্রার্থীদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দল পরিচালনার যোগ্যতা এবং দলীয় পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সততা, অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন; যোগ্যতার সঙ্গে আইন প্রণয়ন ও জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন— এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১২ জনের একটি তালিকা জামায়াত আমিরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
এএইচ
আরও পড়ুন










