ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩১:৫৫

আবাসন মেলায় কবরের প্লটের আগাম বুকিং 

আবাসন মেলায় কবরের প্লটের আগাম বুকিং 

ঢাকার মধ্যবিত্তের সারাজীবনের স্বপ্ন নিজের একটা ফ্ল্যাট বা বাড়ি করার জন্য এক টুকরো জমি। কিন্তু কবরের জমি কিংবা প্লট? সেটাও আবার জীবিত থাকতেই আগাম বুকিং?     ঢাকায় যে আবাসন মেলা চলছে, সেখানে এই অভিনব ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। মেলার শেষ দিনে গিয়ে দেখা গেল, তাদের স্টলেও ভিড় করছেন অনেকে। এদের একজন শফিকুল ইসলাম। অন্যান্য স্টলে ঘুরে একটি স্টলের সামনে এসে দাঁড়ালেন। এমআইএস হোল্ডিংস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি মেলায় কবরের জন্য প্লটের বুকিং নিচ্ছে। শফিকুল ইসলাম স্টলের কর্মীদের কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছিলেন প্রয়োজনীয় তথ্য। ইসমাইল হোসেন নামে একজন দর্শনার্থী বলছিলেন, ঢাকা শহরে কবরের স্থানের যে অপ্রতুলতা রয়েছে সে অনুযায়ী এই উদ্যোগটা তার কাছে ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। "এই জিনিসটা ঢাকা শহরের জন্য ঠিক আছে। কারণ ঢাকা শহরে কবরস্থান দিনে দিনে একটা সংকটের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা কবর দেয়ার পর হয়ত তিনমাস পর আবার সেখানে রিপ্লেস করা লাগছে। এখন এরা যদি সততার সাথে কবরগুলো মানুষকে বুঝিয়ে দিতে পারে তাহলে আমি মনে করি এটা খুব ভালো কাজ।" নিজের জন্য একটি কবরের প্লট বুকিং দিয়ে রাখা যায় কীনা, সেটা নিয়ে সত্যি সত্যি ভাবছেন ইসমাইল হোসেন। "চিন্তা-ভাবনা করবো, যদি দেখি তাদের কাগজপত্র, সরকারের অনুমোদন সব ঠিক আছে তাহলে আমি চিন্তা করবো এখানে একটা জায়গা কেনার।" বাংলাদেশে কবরের জন্য জমি বা প্লট বিক্রির বলা যেতে পারে এটাই প্রথম কোন বেসরকারি বাণিজ্যিক উদ্যোগ। এম আই এস হোল্ডিং লিমিটেডের এই প্রকল্পটি ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলছিলেন কেন তারা প্লট বা ফ্লাটের পরিবর্তে কবরস্থান তৈরির উদ্যোগ নিলেন? "এই খবরটা জানার পরে অনেকে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বলে কবর নিয়েও ব্যবসা করে! কিন্তু চিন্তা করলে দেখা যায় - যখন বাংলাদেশে মিনারেল ওয়াটার এসেছিল তখন মানুষ বলতো, পানি আবার কিনে খেতে হবে! কিন্তু সেই পানি এখন আমাদের সব সময় লাগে। তেমনি ভাবে এই বিষয় আমাদের জীবনের অংশ। আসলে নতুনত্বকে গ্রহণ করে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।" ঢাকায় ৮টি সরকারি কবরস্থান রয়েছে। ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ বছর, এরকম নানা মেয়াদে সেখানে জায়গা বরাদ্দ আছে খুব অল্প কিছু কবরের। যার জন্য দেড় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। কিন্তু সেটি যারা পারছেন না তাদের জন্যেই অস্থায়ী কবর। আর সেই সংখ্যাটিই বেশি। দুবছর পর পর সেসব কবরে যোগ করা হয় আরেকটি মরদেহ। তাই এখন এই স্থায়ী কবরস্থানকে ভালো ভাবে দেখছেন মেলায় আসা অনেকে। ঢাকার আজিমপুরের কবরস্থানটিতে ৩০ হাজারের মতো কবরের জায়গা হয়। বনানী কবরস্থানে রয়েছে ২২ হাজার কবরের জায়গা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলছিলেন তাদের এই মূহুর্তে রেডি কবরের প্লট রয়েছে দু্‌ই হাজার, তবে মেলায় দুশোটির মত বুকিং পেয়েছেন তারা। "আমাদের অনেক ভালো রেসপন্স আলহামদুলিল্লাহ। সবাই এটাকে ভালো বলছে। আমাদের ২০০টির মত বুকিং হয়েছে। আর এটা একদম নতুন। অনেকে জানে না। জানলে আস্তে আস্তে আমরা আরো ভালো রেসপন্স পাবো।" ঢাকা শহরের মানুষ যত বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে কবর দেয়ার জায়গার সংকট। এটাই কঠিন বাস্তবতা। তাই আপনজনের কবরের উপর অন্য কারো কবর যাতে না হয় সে কারণে অনেকে উৎসাহ প্রকাশ করেছেন স্থায়ী এই ব্যবস্থায়। সূত্র: বিবিসি বাংলা এসি   
প্রতি বছর বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা

ক্যানসারের নাম শুনলে যে কেউ ঘাবড়ে যান। কারণ ক্যানসারের অপর নাম মৃত্যু। ক্যান্সার নামের এই মৃত্যু বর্তমানে অধিকহারে বেড়েই চলেছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন, খাদ্যাভাসসহ নানা কারণে মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বে ক্যানসার প্রতিরোধে গবেষণা চললেও এখনও পুরোপুরি এর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়নি। তবে জীবন পদ্ধতি পরির্বতনের মাধ্যমে ক্যানসারকে জয় করা সম্ভব।  বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। প্রতি বছরই বাড়ছে আক্রান্তের হার। রোগী অনুপাতে চিকিৎসা সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ক্যানসার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশে নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ। প্রতিবছরই বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার। ক্যানসার বাড়ার কারণ     পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬৭ হাজার নারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাল্যবিয়ে কারণে নারীরা জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। এছাড়া, শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, বেশি বয়সে সন্তান ধারণ ও অতিরিক্ত ওজন- স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে, সার্বিকভাবে দেশে পুরুষদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ও মৃত্যুর হার বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, বছরে ৮৩ হাজারের বেশি পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে। এরমধ্যে ফুসফুস ও অন্ননালীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। বায়ুদূষণ রোধ ও খাদ্যে ভেজাল বন্ধ না হলে ক্যানসারে আক্রান্তের হার আরও বাড়বে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে প্রতিবছর ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫টি হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে ১৬০টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র থাকার কথা। এসি   

এক পায়ে পরীক্ষা দিচ্ছে হার না মানা তামান্না  

দুই হাত নেই। পা-ও নেই একটি। বাকি একটি মাত্র পা-ই তার চলার সম্বল। আর সেই এক পায়ে পরীক্ষা দিচ্ছে হার না মানা তামান্না। প্রথম দিনের পরীক্ষায় অন্যদের মতো অংশ নিয়েছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের রওশন আলীর মেয়ে তামান্না নূরা। তবে সারাদেশের লাখো পরীক্ষার্থীর চেয়ে একেবারেই ব্যতিক্রম তামান্না। জন্মগতভাবে হাত ছাড়া মাত্র একটি পা নিয়েই দুনিয়ার আলো দেখে সে। তবে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে হার মানতে বসেছে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা। কেউ মমতায়, কেউ বা করুণার চোখে তাকায়। কিন্তু এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই মেয়েটির। তার দৃষ্টি অনেক দূরে, শিক্ষার সর্বোচ্চ শিখরে। পা-ই এখন তার ‘স্বপ্নপূরণের হাতিয়ার’।       জানা যায়, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ঝিকরগাছার বাঁকড়া জে কে হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তামান্না। স্থানীয় বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছে সে। পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠীদের ধারণা, প্রাথমিক বৃত্তি ও জেএসসি’র ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এসএসসিতেও ভালো ফলাফল করবে তামান্না।     তামান্নার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে তামান্না কেজি, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রতিটি ফলাফলে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছে। পাশাপাশি ‘এডাস বৃত্তি পরীক্ষায়’ প্রতিবছরই বৃত্তি পেয়েছে। এছাড়াও ২০১৩ সালে পিইসি এবং ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে তামান্না। এক পায়ে ছবিও আঁকে সে। এর পেছনের গল্প মা-বাবার মরিয়া চেষ্টা, আর নিজের অদম্য ইচ্ছা। তামান্নার বাবা রওশন আলী সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবন্ধী মেয়ে জন্ম নেওয়ার খবর পেয়ে বিদেশের চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসি। মেয়েকে যত্নের সঙ্গে বড় করে তোলার ইচ্ছায়। জন্মের পর থেকে অর্থাভাবের পাশাপাশি সামাজিকভাবে অনেক প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়েছে তার মেয়েকে। তবে কখনো আমরা ভেঙে পড়িনি। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করেই তামান্নার মা খাদিজা পারভীন শিল্পী তাকে একটি পায়ের উপর ভর করে সব ধরনের শিক্ষা দিতে থাকে। তামান্না অক্ষরজ্ঞান তার মায়ের কাছ থেকেই শেখে। সে সময় বাড়ি থেকে দূরের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও নিয়মিত স্কুলে পাঠানো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। তাই স্থানীয় আজমাইন এডাস স্কুলে তাকে নার্সারিতে ভর্তি করানো হয়। তামান্নার শ্রবণ ও মেধাশক্তি এতো ভালো ছিল যে একবার শুনলে বিষয়টি সে দ্রুত আয়ত্ব করতে পারতো। তামান্নার বাবা রওশন আলী জানান, সামান্য কিছু জমি থেকে আসা আয়েই চলে তাঁর সংসার। সম্প্রতি তিনি চাকরি নিয়েছেন একটি নন এমপিও মাদ্রাসায়। সেখান থেকে কোনো বেতন পান না। তাই ঠিকমতো সংসার চালানোই দায়। তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে আগামীতে আর কতটুকুই করতে পারবেন তামান্নার জন্য এই চিন্তায় দিশেহারা তিনিও। মেয়ের জন্য মুখ ফুটে সহায়তা চাইতেও পারেন না এই শিক্ষক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে তাও জানেন না। তামান্নার মা খাদিজা পারভীন জানান, প্রথমে তাকে এলাকার একটি স্কুলও ভর্তি নিতে চায়নি। তাতে তারা থেমে যাননি। অক্ষর লেখা, পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক ধরিয়ে লেখা, তারপর কলম ধরিয়ে লেখা আয়ত্ব করে সে। ধীরে ধীরে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানো, পায়ের আঙুলের ফাঁকে চিরুনি, চামচ দিয়ে খাওয়া, চুল আঁচড়ানো সবই সে আয়ত্ব করে ফেলে। তার দক্ষতা সবার নজরে আসে। যখন তাকে ভর্তি করতে চায়নি, তখন এগিয়ে আসে স্থানীয় আজমাইন এডাস স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারা সানন্দে মেয়েটিকে ভর্তি করে নেয়। এরপর থেকে হুইল চেয়ারে করে তামান্নাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করেন তার বাবা। এ কাজে কখনো কখনো তামান্নার স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী অথবা প্রতিবেশীরাও সহায়তা করেন। আজমাইন স্কুলের পর তামান্নার বর্তমান স্কুল জোনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তামান্নাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। তামান্না নূরা জানান, ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে তামান্না বলেন, আমার জন্য দোয়া করবেন যেন ভালো ফলাফল করতে পারি। পাশাপাশি সব শিক্ষক, বাবা-মা, সহপাঠী সবার কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তামান্না। তামান্না আরো জানায়, তার খুব ইচ্ছা মেডিসিন বিষয়ে চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সে জানে না শারীরিক অসুবিধার কারণে তা সম্ভব হবে কি না। তার ইচ্ছা, যদি শারীরিক কারণে মেডিক্যালে পড়া না যায়, তা হলেও উচ্চশিক্ষার জন্য ভালো পড়াশুনা করতে এসএসসির পর যেন সে শহরে যেতে পারে। ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব হবে এই চিন্তায় মাঝে মধ্যেই হতাশ হয়ে পড়ে মেধাবী মেয়েটি। তামান্নার স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন খান জানালেন, ভর্তির পর থেকে তামান্নার জন্য স্কুলের সেশন ফিসহ অন্যান্য সব ফি মওকুফ করা হয়েছে। শুধু প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি আর কোনো সহায়তা সে পায়নি। তাই তার আগামী দিনের পড়াশুনা এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কামনা করেন তিনি।   এসি   

যে কারণে গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুদের চোখের সমস্যা বেশি

শিশুদের মাইয়োপিয়া বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টি রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন এই সংখ্যা বাড়ছে বেশি। তবে, কেনো শিশুরা চোখের সমস্যায় বেশি পড়ছেন এটা এখন বেশ আলোচনার বিষয়। বেশ কয়েক জন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার কারণ জানা গেছে। কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- ফোনে, ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখা এবং গেম খেলা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশন দেখা অন্যতম কারণ। তবে, চোখের এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে গ্রামের চেয়ে শহরেই বেশি। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, শহরে শিশুদের খেলাধুলার মাঠ না থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না। এতে তারা ঘরে বন্দি হয়ে সাধারণত টেলিভিশন দেখা কিংবা মোবাইল বা ট্যাবে গেম খেলেন। ফলে অতিরিক্ত সময় স্কিনে চোখ রাখায় তাদের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে আমরা ২৫০ জন রোগী দেখি। এর মধ্যে ক্ষীণ দৃষ্টি বা মাইয়োপিয়ার আক্রান্ত শিশু আসে গড়ে ৫০ জন। যারা বিভিন্ন ধরনের চশমাজনিত ক্রটি নিয়ে আসেন। যারা দূরে দেখতে পারে না, এ ধরনের চোখের ক্রটিকে বলে ক্ষীণ দৃষ্টি বা মাইয়োপিয়া, যে শিশুরা দূরেও কম দেখে কাছেও কম দেখে, এ ধরনের ক্রটিকে বলা হয়—‘হাইপারমেট্রপিয়া’, আরেক ধরনের চোখের সমস্যা নিয়ে শিশু আসে, যাদের আমরা বলি ‘এস্টিগমেটিজম’, যাদের সিলিন্ডার পাওয়ার বা এঙ্গেল পাওয়ারে ক্রটি থাকে। তিনি আরও বলেন, আজকাল শিশুরা অনেক বেশি গ্যাজেট ব্যবহার করছে। ফলে গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুদের এ ধরনের চোখের সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। টেকনোলজি শিশু ব্যবহার করবে তবে সেটা এক ঘণ্টার বেশি অবশ্যই নয়। চোখের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটবেলা থেকে স্মার্টফোন, ট্যাবে ভিডিও গেমসের আসক্তি শিশুদের চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসবের জন্য খেলার মাঠ বন্ধ হয়ে যাওয়া, লেখাপড়ার বাড়তি চাপ, সূর্যের আলোয় শিশুর না আসা, দিগন্তে সবুজের দিকে তাকিয়ে না থাকাকেই দায়ী করা হচ্ছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা বিভিন্ন স্কুলে শিশুদের চোখ পরীক্ষা করে থাকি। এতে দেখা যাচ্ছে গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুদের চোখের সমস্যাটা বেশি। তবে অবিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশু যদি টিভির সামনে গিয়ে টিভি দেখে, বোর্ডের লেখা ঝাপসা দেখে তাহলে চিকিত্সকের কাছে যেতে হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আনিসুর রহমান আনজুম বলেন, শিশুদের খেলার জায়গা নেই। তারা চার দেয়ালে আবদ্ধ থাকে। ঘরে বসে বসে তারা ট্যাব, মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপের স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা খাওয়া-দাওয়ার কথা বলি, কিন্তু সেটা অতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্কুলে মাঠ নেই এটাও শিশুদের এই ক্ষীণ দৃষ্টির একটি কারণ। এসএইচ/  

হেলিকপ্টার ভাড়া নেবেন যেভাবে

সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন ধারাও পাল্টে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বা অধিক ব্যস্ততায় কর্ম ঘন্টা বাঁচানোর জন্য মানুষ এখন ঘন্টার পর ঘন্টা বসে না থেকে স্বল্প সময়ে দূরত্ব অতিক্রম করতে চায়। তাই মানুষ ঝুঁকছে হেলিকপ্টার ব্যবহারের দিকে। কিন্তু ব্যায় বেশি হওয়ায় এক সময় উঁচু শ্রেণীর মানুষেরাই শুধু হেলিকপ্টার ব্যবহার করতো। আর এখন ভাড়া হাতের নাগালে থাকার কারণে সব শ্রেণী-পেশার মানুষই জরুরি প্রয়োজনে এর বাহক হচ্ছে।   বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে, যারা বাণিজ্যিকভাবে হেলিকপ্টার ভাড়া দেয়। এসব হেলিকপ্টার সাধারণত তিন থেকে সাতজন যাত্রী পরিবহন করতে পারে। কোম্পানিভেদে হেলিকপ্টার ভাড়ার তারতম্য রয়েছে। রয়েছে সেবার মান এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের তারতম্য। নিম্নে দেশের হেলিকপ্টার ভাড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরা হলো- হেলিকপ্টার ভাড়া পাওয়া যাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে     স্কয়ার এয়ার লিমিটেড: এই কোম্পানিটির ছয়জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন বেল-৪০৭ হেলিকপ্টারের ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর চারজন যাত্রী বহনে সক্ষম রবিনসন আর-৬৬-র ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় ৭৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও হেলিকপ্টারের প্রতি ঘণ্টায় ভূমিতে অপেক্ষমাণ চার্জ ছয় হাজার টাকা। সেই সঙ্গে প্রতি ফ্লাইটে ইনস্যুরেন্স খরচ হিসেবে গুনতে হবে দুই হাজার টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা: স্কয়ার এয়ার লিমিটেড স্কয়ার সেন্টার, ৪৮ মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। ফোন নম্বর: ০১৭১৩১৮৫৩৫২। web: http://www.squareair.com.bd/   সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইন্স:  এই এয়ারলাইন্সটি সাধারণ কাজের জন্য ঘন্টায় ৫৫ হাজার টাকায় হেলিকপ্টার ভাড়া দিয়ে থাকে। কিন্তু সিনেমার শুটিং, লিফলেট বিতরণসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজের জন্য ভাড়া ৩০ শতাংশ হারে বেশি। ভূমিতে অপেক্ষমাণ চার্জ প্রতি ঘণ্টার জন্য পাঁচ হাজার টাকা। এ ছাড়া পুরো খরচের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। এই কোম্পানি থেকে চাইলে নূন্যতম ৩০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া নেওয়া যায়। জ্বালানি খরচ, ইনস্যুরেন্সসহ বাকি সব কিছু কোম্পানিই বহন করে থাকে।   যোগাযোগের ঠিকানা: সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইন্স লিমিটেড, টাওয়ার হেমলেট, ১৬ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা। ফোন নম্বর ০২-৯৮৮০৪৯৬। http://www.southasian-airlines.com/     সিকদার গ্রুপ সিকদার গ্রুপের তিনটি হেলিকপ্টার রয়েছে। এগুলো হল বেল-৪০৪, আর-৬৬ ও আর-৪৪। সাত সিটের প্রতিটি হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে ভাড়া ঘণ্টায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। তিন সিটের ক্ষেত্রে ভাড়া ঘণ্টায় ৭২ হাজার টাকা। সঙ্গে ভ্যাট ১৫ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। এই কোম্পানির হেলিকপ্টার গুলোতেও প্রতি ঘণ্টায় ভূমিতে অপেক্ষমাণ চার্জ হিসেবে দিতে হবে সাত হাজার টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা: সিকদার গ্রুপ রাজ ভবন, দ্বিতীয় তলা, ২৯ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। ফোন নম্বর ৯৫৫০২৭১। www.rnraviation.com    ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড: ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড ৬ আসনবিশিষ্ট ইসি ১৩০বি-৪ হেলিকপ্টার সর্বনিম্ন ১ ঘণ্টার জন্য ভাড়া নেওয়া যাবে। প্রতি ঘণ্টায় ভাড়া গুনতে হবে এক লাখ টাকা। সেই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। ভূমিতে প্রতি ঘণ্টার জন্য এরা চার্জ করে থাকে ৫ হাজার টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা: ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড, ৪০ শহীদ তাজউদ্দীন সরণি, তেজগাঁও, ঢাকা। ফোন নম্বর ০১৭২৯২৫৪৯৯৬। https://www.impressaviation.com/    বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স লিমিটেড: বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ছয় থেকে সাতজন যাত্রী বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন বেল-৪০৭ হেলিকপ্টারের জন্য ভাড়া গুনতে হবে প্রতি ঘণ্টায় এক লাখ টাকা। আর তিনজন যাত্রী বহনে ক্ষমতা সম্পন্ন রবিনসন আর-৪৪-এর ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার টাকা। এই সব ভাড়ার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সংযুক্ত করতে হবে। যোগাযোগের ঠিকানা: বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স লিমিটেড, ৬৮/১ গুলশান এভিনিউ, গুলশান-১ ঢাকা। ফোন নম্বর ৯৮৮৫৭৭১-২, ৯৮৫৬৯৬৩-৪। http://phpfamily.co/bangla-international-airlines-ltd/ আরও কিছু কোম্পানি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকেন। সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- পিএইচপি গ্রুপ, বিআরবি কেবল, মেঘনা গ্রুপ, ইয়াং ইয়াং (আরিয়ান) গ্রুপ ও এমএস বাংলাদেশ প্রভৃতি।      এসি      

যে আলো ছড়িয়ে পড়ছে দেশ থেকে দেশান্তরে 

‘আমি প্রথম, আমি পারি, আমি পারবো,’ এমন শব্দ উচ্ছ্বারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাদের সকাল। এমন মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে জীবন গড়ার প্রত্যয়ে ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের আওয়াজে প্রতিদিন মুখরিত হয় পাহাড়। যেখানে এক সময় ছিল সীমাহীন অন্ধকার সেখানে আজ জ্বলছে আলোর মশাল। অসংখ্যা শিশু-কিশোরের কণ্ঠে বেজে উঠছে শাশ্বত রাগীনির অমোঘ সুর-মূর্ছনা। এমন সূরের মূর্ছনা পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দেশ থেকে দেশান্তরে।           বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে মাত্র ৭টি শিশুকে নিয়ে, ২০০১ সালে দুর্গম পহাড়ের নিরিবিলি পরিবেশে বাঁশের বেড়া আর টিনের চালের ঘরে যাত্রা শুরু করেছিল কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ সেখানে পড়ালেখা করছে প্রায় ২০০০ ছাত্র-ছাত্রী। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, এতিম, অনাথ ও অসহায় শিশুদের হাতে শিক্ষার আলোর মশাল তুলে দিতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। স্কুলটির লক্ষ্য শুধু গতানুগতিক শিক্ষা দেওয়া নয় বরং অবহেলিত শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তাইতো রোজ পুব আকাশে সূর্য উঠার আগেই শুরু হয়ে যায় নিরব জ্ঞানচর্চা। সুশৃংখল পরিবেশে দিনভর চলে বিদ্যাচর্চা। পাঠদানের ফাঁকে চলে খেলাধূলা এবং সুকুমার বৃত্তি ও সাংস্কৃতিক চর্চা। এসব শিশু-কিশোররা শুধু পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ নেই। তাদেরকে গড়ে তোলা হচ্ছে এক সুশৃংখল নিয়মের মধ্যে দিয়ে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পড়া-লেখা, খেলা, ব্যায়াম, প্রার্থনা, খাওয়া সবকিছুই চলে রুটিন মাফিক। শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখলে যে কেউ বিস্মিত হবেন। দক্ষ একদল শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সামাজিকতা-নীতি-মূল্যবোধ-ধর্মসহ জীবনের প্রতিটি বিষয়ে পাঠদানের মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে তাদেরকে ভিন্নভাবেই।        স্কুলটি সম্পর্কে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজের তত্ত্বাবধায়ক সালেহ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের ৩০টি ক্যাম্প আছে। তারা সমাজের বঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের খুঁজে বের করে এখানে নিয়ে আসে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদেরকে এখানে পড়ালেখা করানো হয়। রয়েছে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। বর্তমানে ২০টি জাতিগোষ্ঠীর ৬টি ধর্মের ২০০০ ছেলে-মেয়ে এই স্কুলে পড়ালেখা করছে। এখানে ছেলেদের জন্য ৬টি ও মেয়েদের জন্য ২টি হল রয়েছে। স্কুলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে মেডিটেশন, নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম, চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা, খেলাধূলা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের সংস্কৃতি চর্চা কার্যক্রম প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।     শিশুকানন   বান্দরবান লামার কোয়ান্টামমে এতিম শিশুদের জন্য তৈরি করা হয় শিশুকানন। ৫৪ জন এতিম শিশুকে নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই শিশুকানন। এ শিশুদেরকে আন্তরিক পরিচর্যায় আলোকিত মানুষ করে গড়ে তোলাই এই কার্যক্রমের লক্ষ্য।          নতুন শিশুকাননে স্থান পেয়েছে বাঙালি, মারমা, মুরং, চাক, ত্রিপুরা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা জাতিগোষ্ঠীর মোট ১৮১ জন শিশু। এ শিশুদের কেউ মাতৃহীন, কেউ পিতৃহীন, কারো মা-বাবা কেউই নেই, কেউ-বা আবার মা-বাবার বিচ্ছেদের ফলে অভিভাবকহীন। এমন নানা কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল এদের ভবিষ্যৎ। তাই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নিয়েছে এই শিশুদের অভিভাবকত্ব।   ইতোমধ্যেই এ শিশুদের পাঠ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কোয়ান্টামম-এর বোধিছড়া পাবলিক স্কুলে শিশু শেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তাদের সার্বক্ষণিক দেখভাল ও যাবতীয় তদারকির জন্যে রয়েছে কোয়ান্টাম শিশুকানন আবাসিকের উদ্যমী ও অভিজ্ঞ কর্মীবৃন্দ। দেশের যে প্রান্তেই থাকবে কোনো অসহায় অভিভাবকহীন শিশু, কোয়ান্টাম হবে তার ঠিকানা– সে লক্ষ্যেই গড়ে উঠছে নতুন শিশুকাননের সব অবকাঠামো।    শিশু সদন  কোয়ান্টামের শিশুসদন বঞ্চিত কন্যাশিশুদের আশ্রয়স্থল। বঞ্চিত জনপদের বঞ্চিততম জনগোষ্ঠী হলো এই কন্যাশিশুরা। লেখাপড়া দূরে থাক দুবেলা পেটপুরে খেতেও পায়না তারা। মায়ের স্নেহে, বাবার আদরে একটি শিশু বেড়ে উঠবে - সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এসব শিশুদের ভাগ্যে তা জোটে নি এমন ছিন্নমূল অভিভাবকহীন নবজাত শিশুদের লালনের জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কোয়ান্টাম শিশুসদন। ২০০৪ সালে এসব মেয়ে শিশুদের জন্য গড়ে তোলা হয় এই শিশুসদন। বর্তমানে ৩২৬টি মেয়েশিশু রয়েছে এখানে। যারা বেড়ে উঠছে কোয়ান্টামেরই সন্তান হয়ে।         কোয়ান্টাম শিক্ষার্থী ওরিয়েন্টেশন           কোয়ান্টাম শিক্ষার্থী ওরিয়েন্টেশন সাফল্যের প্রয়োজনীয় নির্দেশনারই এক গ্রন্থনা যার আন্তরিক অনুসরণ ধাপে ধাপে একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায় ক্লাসে ১ম ও জীবনে ১ম হওয়ার পথে। ২ দিনের এ ওরিয়েন্টেশনে শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকসহ স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ছাত্রছাত্রী কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট এতে অংশ নিতে পারে। বিষয়ভিত্তিক আলোচনার পাশাপাশি রয়েছে মেডিটেশন, এসাইনমেন্ট ও গ্রুপ ডিসকাশন। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সমস্যাকে সঠিকভাবে শনাক্ত ও দূর করার প্রক্রিয়ায় শামিল হতে পারে।     প্রতি ৫ কোয়ান্টার জন্য ১ কর্মী   কসমো স্কুলের ক্যাম্পাসই শিক্ষার্থীদের ঘরবাড়ি। একটি পরিবারে একজন সন্তান যেভাবে লালন-পালন বা ভালোবাসা পায়, যে মমতা-যত্ন পায়, কসমো স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কোয়ান্টামের প্রয়াস তার কম নয়, বরং বেশিই। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে গোসল করানো, চুল-নখ কাটা, কাপড় পরানো, কাপড় ধোয়া- কসমো স্কুলের এক বিশাল কর্মীদল নিবেদিত এসব যত্নায়ন কার্যক্রমে। প্রতি পাঁচ কোয়ান্টার জন্যে এখানে রয়েছে একজন কর্মী। তারা সার্বক্ষণিক তাদের দেখাশোনা করে।         ওরা অসুস্থ হয় খুবই কম!    কসমো স্কুলের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয় খুবই কম! সুষম খাবার ও নিবিড় যত্নের ফলে তাদের স্বস্থ্যে সব সময় ভালো থাকে। তবে দুই হাজার শিশুর আবাসিক এই স্কুলে জরুরি যেকোন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য স্থাপন করা হয়েছে কোয়ান্টাম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ‘শাফিয়ান’, যেখানে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ হয়। এছাড়া প্রতিটি আবাসনে আছে কয়েকজন করে সুস্বাস্থ্যয়ন কর্মী- যাদের কাজ হলো প্রতিদিন কোয়ান্টাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর রাখা।             ২৭টিরও বেশি মেধাসৃজন কার্যক্রম      কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের শিক্ষার্থীরা মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি নানা ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মেধাসৃজন নামের এসব সহপাঠ কার্যক্রমে কসমো স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থীই অংশ নিয়ে থাকে। এই কার্যক্রমে আছে ২৭টিরও বেশি ইভেন্ট। ২০১৮ সালের জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার যন্ত্রসঙ্গীত বিভাগে প্রথম পুরস্কার পায় কসমো স্কুলেরই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কী-বোর্ড বাদক।  শিক্ষায় সাফল্যে             কসমো স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পাশের হার শতভাগ। কসমো কলেজের এইচএসসি উত্তীর্ণ কোয়ান্টারা উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেতে শুরু করে। এদের মধ্যে যারা পরীক্ষা দিয়েছে (৫৬ জন) মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে সুযোগ পেয়েছে সরকারি মেডিকেল কলেজসহ চুয়েট, বুয়েট এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।   ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় ৭জন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় ৬জন শিক্ষার্থী। কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার জন্য ১০ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ১০ জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। এছাড়া মেডিকেলে ৩ জন, বুয়েটে ১ জন, চুয়েটে ১ জন এবং ৩ জন ভর্তি হয় হবিগঞ্জ, জামালপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজে। এ বিষয়ে সালেহ আহমেদ বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নয়, স্কুলের ২০১৭ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার রেজাল্ট ছিল অভাবনীয়। এই স্কুলের ছিল শতভাগ পাশ। পিইসিতে মোট ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮১ জন জিপিএ-৫ পায় এবং ১৪ জন পায় জিপিএ-৪ গ্রেড। এভাবে প্রতিটি ক্লাসেই তাদের রেজাল্ট ইর্ষনীয়।       শিক্ষার্থীদের ‘আমি পারি, আমি করবো, আমার জীবন আমি গড়বো’ এমন মন্ত্রে উজ্জীবিত করা হয়। এদের রেজাল্ট চমকে দিচ্ছে সবাইকে। পড়াশোনা, খেলা, ব্যায়াম, ধর্মচর্চা এবং মেডিটেশন এর মাধ্যমে তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে যার কারণে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সাফল্যের চিহ্ন রেখে যাচ্ছে।          এ বিষয়ে সালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এই স্কুলের পাঠদান থেকে শুরু করে সবকিছুই পরিকল্পিতভাবে হয়ে থাকে। ভোর ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে কার্যক্রম। সরকারি নিয়মেই ক্লাস চলে। মেডিটেশন, স্কুল, খেলাধুলা সবকিছুই রুটিন মাফিক হয়ে থাকে। এখানকার শিক্ষার্থীদের দিনে তিন বেলা খাবার ও চারবার নাস্তা দেওয়া হয়। প্রতিদিনের নাস্তায় থাকে একটি সিদ্ধ ডিম, ছোলা, নিমপাতা, কালজিরা ভর্ত্তা, সয়াদুধ ও বাদাম। আর তিন বেলা খাবারেও সাপ্তাহিক রুটিন মাফিক মাছ-মাংস-সবজি থাকে। আর এখানে ছোটদের স্কুলে যাওয়ার আগে ও দুপুরের পর মেডিটেশন করানো হয়। বড়দের সন্ধ্যার সময় মেডিটেশন করানো হয়।’               ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যে        ক্রীড়াক্ষেত্রেও রয়েছে কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অসামান্য সাফল্যে। ‘অলিম্পিকে সোনা আমি জিতবোই’ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কোয়ান্টাম তার ক্রিড়া কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের খেলোয়াড়রা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের দৃষ্টি পড়ে তাদের ওপর। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাদের সাফল্যের ভুয়সী প্রশংসা করেন।      জিমন্যাস্টিকস  কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের খেলোয়াড়রা ২০১৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৩২ তম জাতীয় বয়সভিত্তিক জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় ৫ টি স্বর্ণ, ৬ টি রৌপ্য ও ৩ টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে সবার নজরে চলে আসে। এরপর ২০১৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৩৩ তম জাতীয় বয়সভিত্তিক জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের খেলোয়াড়রা ৩ টি স্বর্ণ, ৩ টি রৌপ্য ও ৪ টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১০টি পদক লাভ করে। এর পরের বছরও তারা ৭ টি স্বর্ণ, ৬ টি রৌপ্য ও ৭ টি ব্রোঞ্জ পদকসহ মোট ২০ টি পদক অর্জন করে। ২০১৫ সালে ২১টির মধ্যে ২০টি পদক লাভ করে।    ২০১৫ সালে ইন্দো বাংলা গেমস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দলে ৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ১ জন খেলোয়াড় সুযোগ পায় এবং সে জাতীয় দলের সঙ্গে ক্যাম্পিংয়ে অংশগ্রহণ করে।    ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় ৯ টি স্বর্ণ, ১০ টি রৌপ্য ও ১০ টি ব্রোঞ্জ পদকসহ ৩৬ টি পদকের মধ্যে মোট ২৯ টি পদক অর্জন করে। এবারই প্রথমবারের মতো অনুর্ধ্ব ৮ বছর বালিকা বিভাগে বালিকা কোয়ান্টারা ২ টি ইভেন্টের ৬ টি পদকের ৫ টিই অর্জন করে। ২০১৭ সালে পল্টন জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত ৩য় জাতীয় বয়সভিত্তিক জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতা-২০১৭ এর বালক ও বালিকা বিভাগের বিভিন্ন বয়স ক্যাটাগরির ১৬ টি ইভেন্টে মোট ৫৩ টি পদকের মধ্যে ৩২ টি পদক অর্জন করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ১১ স্বর্ণ, ১০ টি রৌপ্য ও ১১ টি ব্রোঞ্জ পদক। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকসে ব্রোঞ্জ পদক পায়। খো খো খেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাফল্যে         কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের খেলোয়াড়রা ২০০৯ সালে ১ম জাতীয় স্কুল খো খো প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এরপর ২০১২ সালে ৫ম জাতীয় খো খো প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয় এবং ২০১৩ সালে রৌপ্য পদক অর্জন করে।        ২০১৫ সালে ঢাকার ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা কাপ খো খো টুর্নামেন্টে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০১৪ সালেও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়।      ২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটি ও শিলং -এ অনুষ্ঠিত ১২ তম সাউথ এশিয়ান গেমসের খো খো ইভেন্টের বাংলাদেশ পুরুষ দলে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশ দলের জন্য রৌপ্য অর্জন করেছে। এই প্রথমবারের মতো সাউথ এশিয়ান গেমস বা এস এ গেমসে অনুষ্ঠিত খো খো ইভেন্টে ভারত ছাড়াও শ্রীলংকা, নেপাল ও পাকিস্তান অংশগ্রহণ করে। ভারতের ইন্দোর (মধ্য প্রদেশ) ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ৩য় এশিয়ান খো খো চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ জাতীয় খো খো দল অংশগ্রহণ করে রৌপ্য পদক অর্জন করে। জাতীয় দলের ১২ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ১০ (দশ) জন খেলোয়াড় অংশ নেয়। টুর্নামেন্টে ৫টি দেশ অংশ নেয়। সেগুলো হচ্ছে ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া। এছাড়া, ৮ম বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক অর্জন, জাতীয় খো খো দলে খেলার যোগ্যতা লাভ, জাতীয় খো খো-তে রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অর্জন, ১ম জাতীয় স্কুল খো খো-তে চ্যাম্পিয়ন, বিজয় দিবস খো খো প্রতিযোগিতা-২০১৭ ও ২০১৮ এ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়।   টেবিল টেনিস   ২০১৭ সালে ৪৬তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিস ইভেন্টে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঢাকাতে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রামহিমলিয়ান বম এবং ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী পাঅং বম এই সাফল্য অর্জন করে এবং বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালে ৪৫ তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিস দ্বৈত ইভেন্টে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়া জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন, শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় দলগত ইভেন্টে রানার আপ, জাতীয় উম্মুক্ত টেবিল টেনিসে খেলার স্ট্যাটাস অর্জনসহ জেলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত খেলায় তারা সাফল্যে অর্জন করে। ২০১৫ সালের জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশেও রয়েছে তাদের অসাধারণ সাফল্য। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে প্রথমবারই ১ম স্থান অধিকার করে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। এর পরের বছরও তারা একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। এছাড়া চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহন করে তারা প্রথম স্থান অধিকার করে।     ব্যান্ড দলের সাফল্যে    ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের মার্চপাস্টের ছোট ও বড় দল প্রথম স্থান অধিকার করে গৌরব অর্জন করে।   ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশের কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কোনো স্কুল বাদক দল এই ব্যান্ড পরিবেশন করে। ৪৭ জন কোয়ান্টার সমন্বয়ে গঠিত ব্যান্ড দলে ছিলো অত্যাধুনিক ব্রাস ব্যান্ডের সরঞ্জামসমূহ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোয়ান্টাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। এরপরের বছরও তারা অংশ নেয় এবং প্রথম স্থান লাভ করে।   ডিসপ্লে তে সাফল্যে   এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ ও ২০১০ সালে চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ডিসপ্লেতে প্রথম স্থান অধিকার করে। জেলা পর্যায়েও রয়েছে ব্যাপক সাফল্যে। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ ডিসপ্লেতে প্রথম স্থান অধিকার করে। আরচ্যারি ২০১২ সালের ২১ জুন ৩১ জন কোয়ান্টাকে নিয়ে ১৫ দিনব্যাপী এক আরচ্যারি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয় কোয়ান্টামমে। আর এভাবেই যাত্রা শুরু করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজের আরচ্যারি টিম। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের আয়োজনে আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে সারাদেশ থেকে মাত্র ১০ জন প্রতিযোগী মনোনীত হয়। এদের ৩ জনই ছিল কোয়ান্টা। প্রশিক্ষণের ফলাফলে এরা যথাক্রমে প্রথম, চতুর্থ ও ষষ্ঠ হয়। এছাড়া বিশ্ব যুব অলিম্পিকের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয় কসমো স্কুলেরই এক কোয়ান্টা।       ২০১৪ সালের (১-১৪) এপ্রিল বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশন আর্মি এভিয়েশনে আয়োজন করে ১৪ দিনব্যাপী একটি আপগ্রেডিং কোর্স। এতে কসমো স্কুলের ৭ আরচ্যার কোয়ান্টা সুযোগ পায়। একই বছর ১ম ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে সেনাবাহিনী দলকে হারিয়ে ৪টি পদক লাভ করে।       আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রথম সুযোগ আসে ২০১৩ সালে। সে বছর একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিযোগী হিসেবে বিশ্ব যুব অলিম্পিকের সাব কন্টিনেন্টাল কোয়ালিফাইয়িং রাউন্ডে অংশ নিতে চাইনিজ তাইপে-তে যায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সপ্তম শ্রেণির একজন কোয়ান্টা। জাপানের প্রতিযোগীকে হারিয়ে সে ৪র্থ হয় এবং সুযোগ পায় বিশ্ব যুব অলিম্পিকে খেলার। ২০১৪ সালে চীনের নানজিংয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সে উন্নীত হয়। সে ছিল প্রথম কোনো পাহাড়ি বাংলাদেশি যে অলিম্পিক আরচ্যারিতে খেলার সুযোগ লাভ করে। পরবর্তীতে সে এশিয়ান আরচ্যারি গ্রান্ড প্রিক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় আসরেও অংশ নেয় যথাক্রমে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও চাইনিজ তাইপেতে। দ্বিতীয় আসরে অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক। ২০১৪ তে কোরিয়ার ইনচেনে যে ১৭ তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হয়, তাতেও বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে অংশ নেয় এই কোয়ান্টা! ২০১৫ সালে ৫ম কমনওয়েলথ ইয়ুথ গেমসের বাছাই দলেও সুযোগ পায় সে।   ১ম জাতীয় যুব আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৫-তে দলগতভাবে সোনা ও এককভাবে সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জ- তিনটিই পায় কোয়ান্টারা   ২০১৭ সালে ৯ম জাতীয় আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য আর্জন করে। ২০১৮ সালে ন্যাশনাল র‌্যাংকিং স্টেজ-২ তে সেরা দশে তিন কোয়ান্টার অন্তর্ভুক্তি ও ২য় যুব আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে একক ইভেন্টে স্বর্ণ পদক লাভ করে।    কাবাডি    ২০১৩ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল কাবাডি টিমের পথ চলা শুরু করে। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সহযোগিতায় জাতীয় কাবাডি প্রশিক্ষকের পরিচালনায় ১৫ দিনের কাবাডি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়।      ২০১৫ সাল থেকেই তারা অংশ নিতে শুরু করে জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসরে। ২০১৬-তে এ প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় ওরা। ২০১৭ সালে বান্দরবানে স্বাধীনতা দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়।  ২০১৭ সালে আইজিপি কাপ কাবাডি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন, চূড়ান্ত পর্বে রানার আপ হয়। ২০১৭ সালে কাবাডি প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।    হ্যান্ডবলে সাফল্যে        কোয়ান্টাম স্কুলের হ্যান্ডবলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে।  জতীয় হ্যান্ডবল ফেডারেশনের একজন প্রশিক্ষক এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে কসমো স্কুলের হ্যান্ডবল টিম।    ২০১২ সালে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন আয়োজিত দ্বিতীয় বিভাগ হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১২টি দলের মধ্যে চতুর্থ হয় কোয়ান্টাম এবং পরের বছর থেকে অর্জন করে প্রথম বিভাগে খেলার যোগ্যতা। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা। এতে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে অংশ নেয় কসমো স্কুলের ১৬ হ্যান্ডবল খেলোয়াড়। ৪৫টি জেলার মধ্যে সপ্তম হয় রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা।   ২০১৪ সালে `মার্সেল এলইডি টেলিভিশন প্রথম বিভাগ হ্যান্ডবল লীগে` অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ২০১৫ থেকে প্রিমিয়ার ডিভিশন লীগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কসমো স্কুল।  ২০১৫ সালে ২৬ তম জাতীয় পুরুষ হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে বান্দরবান জেলা দলের পক্ষে অংশগ্রহণ করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ৫ম স্থান অর্জন করে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এসএ গেমস উপলক্ষে হ্যান্ডবলের বাংলাদেশ জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির জন্যে যে বিশেষ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়, তাতে স্থান পায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের তিন কোয়ান্টা।  ২০১৬ সালে ২৭ তম জাতীয় পুরুষ হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে অংশগ্রহণ করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল চতুর্থ স্থান অর্জন করে।    ২০১৬ সালের (৯-১৩) অক্টোবর আইএইচএফ ট্রফির সাউথ সেন্ট্রাল জোনের প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয় বাংলাদেশ। কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের দুই কোয়ান্টা ছিল এ দলে। প্রতিযোগিতার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এক লক্ষ টাকা করে উপহার দেন।   ২০১৮ তে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লীগ খেলার সুযোগ পায় কোয়ান্টারা। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নামে গঠিত এই টিমের খেলোয়াড়রা সবাই নবম থেকে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। তাদেরকেই খেলতে হয় বয়স বড় অভিজ্ঞ, পেশাজীবী, এমনকি বিদেশি খেলোয়াড়সমেত সব দলের সাথে। প্রথমবার এসেই সবাইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কোয়ান্টারা।      কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের বালিকা হ্যান্ডবল টিম গঠিত হয় ২০১৬ সালে শিশুসদনের ২৩ জন বালিকা কোয়ান্টাকে নিয়ে। চলতে থাকে তাদের নিয়মিত অনুশীলন। ২০১৮ সালে তারা প্রথম অবতীর্ণ হয় প্রথম কোনো জাতীয় প্রতিযোগিতায়। ৪৭ তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উপজেলা, জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ের প্রতিটি খেলায় বিপুল ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তারা জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়। ‘বকুল অঞ্চল’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা মুখোমুখি হয় বাকি তিনটি অঞ্চল-চ্যাম্পিয়নের (গোলাপ, চাঁপা ও পদ্ম)। কিন্তু বয়সে বড় (কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেশাজীবী খেলোয়াড়সমৃদ্ধ) এসব দলের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে তারা পড়ে এবং চতুর্থ হয়। ২০১৮-র জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়ার হ্যান্ডবলে পর পর তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল। কোনো স্কুলের এটাই প্রথম অর্জন।   স্কুলের তত্তাবধায়ক সালেহ আহমেদ বলেন, কোয়ান্টামের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা, ব্যায়াম, খেলা-ধুলা, মেডিটেশনসহ সবকিছু নিয়েই তারা অন্যরকমভাবে গড়ে উঠছে। তারা সবকিছুতে সাফল্যের সাক্ষর রাখছে। এই স্কুলে তাদের জীবন গড়ার সব শিক্ষাই দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আগামী দিনে তারা দেশে-বিদেশে সব জায়গায় মানবতার কল্যাণে কাজ করবে বলে আমরা মনে করি।                           এসি    

দেশ ত্যাগ করা মানুষের ভিন্ন নামকরণের কারণ

এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাড়ি জমানো মানুষদের আমরা বিভিন্ন নাম দিয়ে থাকি। এ সব নাম আপনি প্রায়ই শুনে থাকবেন- অভিবাসী, শরণার্থী বা আশ্রয় প্রার্থী। কিন্তু নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়া মানুষকে কীসের ভিত্তিতে ভিন্ন নামকরণ করা হয়? সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিষয়ক কেন্দ্রের শিক্ষক শার্লট টাইলরের গবেষণার বিষয় এটি‌ই। সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষকে মিডিয়া কেন এবং কী ভিত্তিতে ভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকে- সে বিষয়ে লিখে থাকেন তিনি। ভিনদেশে পাড়ি দেওয়া মানুষের ভিন্ন নামকরণের কারণ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। অভিবাসী অভিবাসী সাধারণত এমন কাউকে বলা হয়, যে উন্নত জীবনযাত্রা বা কর্মসংস্থানের খোঁজে স্থান পরিবর্তন করে থাকেন। অর্থাৎ, আপনি যদি বাংলাদেশের অধিবাসী হন এবং বছরে কয়েকমাস কাজের খোঁজে বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ভারত বা নেপালে অবস্থান করেন, তাহলে আপনাকে অভিবাসী বলা যাবে। শার্লট টাইলরের মতে, অভিবাসী যথেষ্ট নিরাপদ একটি পরিভাষা। এমন নয় যে এটি ভবিষ্যতেও নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে বর্তমানে অভিবাসী বেশ নিরাপদ একটি পরিভাষা। তবে রাজনৈতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। কোনও ব্যক্তি যখন বিশেষ কোনও শাসনাবস্থা থেকে দূরে যেতে চায়, তখন এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। একটি দেশে ক্রমাগত অভিবাসীদের আগমন হতে থাকলে যখন সেই সংক্রান্ত খবরে বা লেখায় ‘ঢল’, ‘জোয়ার’ বা ‘বন্যা’র মত শব্দ ব্যবহার করা হয়, তখন অভিবাসীদের সঙ্গে ‘অমানবিক’ আচরণ করা হয় বলে মনে করেন মিজ টাইলর। কারণ এ রকম শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে অভিবাসীদের ‘পণ্য’ হিসেবে মূল্যায়ণ করা হয় বলে মনে করেন তিনি। প্রবাসী ভিনদেশে স্থায়ীভাবে যখন কেউ বসবাস করতে আসে তখন তাদের সাধারণত প্রবাসী বলা হয়ে থাকে। এই ধরণের মানুষ সাধারণত নিজের ইচ্ছাতেই নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমান। কর্মসংস্থান বা উন্নত জীবনের খোঁজের পাশাপাশি পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণেও অনেকে স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন। জোর পূর্বক বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয়, স্বেচ্ছায় ও স্বতস্ম্ফূর্তভাবে যারা স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমান তাদের প্রবাসী বলা হয়ে থাকে। শরণার্থী শরণার্থী বলা হয় এমন কোনও ব্যক্তিকে যিনি যুদ্ধ, গণহত্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে দেশান্তরী হন। শার্লট টাইলর বলেন, এটি সম্পূর্ণ অন্যরকম একটি পরিস্থিতি। যে মুহুর্তে আপনি কাউকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন, তখনই তার নির্দিষ্ট কিছু অধিকারকেও স্বীকৃতি দিতে হবে আপনার। তারা এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যা তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আশ্রয় প্রার্থী উপরের সবকটি প্রকারের মিশ্রণ হতে পারে একজন আশ্রয় প্রার্থী। তবে আশ্রয় প্রার্থীর বিশেষত্ব হলো, তিনি নিজ দেশ বাদে অন্য দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুরক্ষার জন্য আবেদন করেন। ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে যারা সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন তাদেরকেই কেবল আশ্রয় প্রার্থী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে জানান শার্লট টাইলর। টাইলর বলেন, আজকাল আশ্রয় প্রার্থীদের মধ্যেও আসল-নকল শ্রেণিবিন্যাসের একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ক্ষেত্রবিশেষে এটি যৌক্তিক হলেও তাদের আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। সূত্র: বিবিসি একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি