ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৬:৫৬:৫৪

কীভাবে পৃথিবীর দখল নিলো এই মুরগি

কীভাবে পৃথিবীর দখল নিলো এই মুরগি

লন্ডনে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় খুঁজে পাওয়া মুরগির হাড় নিয়ে গবেষণার পর বলা হচ্ছে, এখনকার মুরগি তাদের আদি প্রজাতির চেয়ে একবারে ভিন্ন।   পৃথিবীতে যে কোনো একটি সময়ে জীবন্ত মুরগির সংখ্যা ২৩০০ কোটি।বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে আমাদের পরিবেশ বদলে যাচ্ছে, মুরগি তার একটি প্রতীক। প্রাণীজগতে বিবর্তন ঘটে কম-বেশি ১০ লাখ বছর ধরে। কিন্তু মুরগির ক্ষেত্রে এই বিবর্তন হয়েছে অনেক কম সময়ে।জঙ্গলে মুরগি দিনে দিনে কমেছে, কিন্তু সেই সাথে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে দোকানে মুরগির সরবরাহ।  ব্রিটেনের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ড. ক্যারিজ বেনেট বলছেন, মুরগির যে সংখ্যা বৃদ্ধি, সেটা বিশ্বের অন্য যে কোনো প্রজাতির পাখির ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যাবেনা।"বলতে পারেন, আমরা মুরগির দুনিয়ায় বসবাস করছি।"  বিশ্বের মুরগির তুলনামূলক সংখ্যা যে কত বেশি, কিছু পরিসংখ্যান দিয়ে তা বোঝা যেতে পারে :-২০১৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৬,৬০০ কোটি মুরগি জবাই করা হয়েছে। সে তুলনায় মাংসের জন্য শুকর জবাই হয়েছে ১৫০ কোটি, গরু-মহিষ-ভেড়া জবাই হয়েছে ৩০ কোটি।     -বিশ্বে ফ্রাইড চিকেন অর্থাৎ ভাজা মুরগির দোকান রয়েছে ২৫,৫০০।     -পাঁচ থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা থেকে মাংসের জন্য উপযোগী ব্রয়লার মুরগি তৈরি হচেছ খামারে।-দু’শ বছর আগেও বিশ্বে যেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি কবুতর ছিল, এখন তা কমতে কমতে নিঃশেষ হওয়ার পথে।  ড. বেনেট বলছেন, অনেক পরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি করবে, তখন মাটির নীচে তারা হয়তবা "টিনের ক্যান, কাঁচের বোতল, প্লাস্টিকের টুকরো খুঁজে পাবে। সেই সাথে পাবে মুরগির হাড্ডি।"আট হাজার বছরে জঙ্গল থেকে ঘরে   বর্তমানের গৃহপালিত মুরগি লাল বন মুরগির বংশধর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ট্রপিক্যাল বা উষ্ণমন্ডলীয় জঙ্গলে বিচরণ ছিল এই লাল মুরগির।আট হাজার বছর আগে ঐ বন মুরগির প্রজাতিকে বশ মানিয়ে গৃহপালিত পাখিতে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারপর দ্রুতগতিতে তা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবী জুড়ে। ব্যবহৃত হতে থাকে মাংস এবং ডিমের জন্য।  পঞ্চাশের দশকে কৃত্রিমভাবে মুরগির আকৃতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই থেকে ওজনে ও আকৃতিতে মুরগির অবিশ্বাস্য পরিবর্তন হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা        এসি   
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ

কাতার, কুয়েত, আমেরিকা, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেনকেই আমরা সাধারণত উন্নত দেশ হিসেবে চিনি। কিন্তু এই সব দেশকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় উঠে এসেছে পশ্চিম ইউরোপের একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ ‘মোনাকো’। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই দেশটির মাথাপিছু আয় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। মোনাকো কখনো তাদের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করে না। কিন্তু ধারণা করা হয় যে, তাদের বাৎসরিক জিডিপি আয় প্রায় ৫.৭৪৮ বিলিয়ন ডলার। আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন, প্রাইভেট ও সরকারি ব্যাংকিং খাত (ফরেন কোম্পানি রিজার্ভ)। মোনাকোতে বিশ্বের অনেক নামিদামি আন্তর্জাতিক ব্যাংক রয়েছে, যারা তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা করে।এখানে প্রতি বছর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন পর্যটক আসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসে মন্টে কার্লোতে। এটিই জুয়াড়িদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মোনাকো সরকার ১৯২৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মোনাকো গ্রান্ড প্রিক্স (কার রেইস প্রতিযোগিতা) আয়োজন করে থাকে। এটি প্রতি বছরই মে মাসে আয়োজন করা হয়। মোনাকো কখনো তাদের আধিবাসীদের উপর ট্যাক্স আরোপ করে না।তবে ২০১৬ সালে মোনাকো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ট্যাক্স ট্রান্সপারেন্সি চুক্তি করেছে, যা ২০১৮ সাল নাগাদ কার্যকরী হতে পারে। মোনাকো একটি দেশ যেখানে কোনো কৃষি বা গ্রাম নেই। দেশটির পুরোটাই শহর। দেশটির ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়, মোনাকো ১৯৯৩ সালের ২৮মে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এটি রিপাবলিক অব জেনোয়া থেকে ১২৯৭ সালে ৮ জানুয়ারি স্বাধীনতা লাভ করে। সাংবিধানিক নাম প্রিন্সিপালিটি অব মোনাকো। দাফতরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ। দাফতরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ হলেও তারা বিভিন্ন ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মোনগাস্ক ও মোনাকান নামে ডাকা হয়। পতাকা হুবহু ইন্দোনেশিয়ার মতো, তবে আয়তনে ভিন্নতা আছে। আয়তন প্রায় ২.০২০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৩০৮ এর মতো। তিন দিকে ফ্রান্স আর অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর। ইতালির খুব কাছাকাছি। মুদ্রা ইউরো। গড় আয়ু ৮৯ বছরের বেশি। মোনাকোতে ১২৫ দেশের মানুষ বসবাস করে। রাজধানী মন্টে কার্লো ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত।এসএ/  

যে গ্রামের প্রত্যেক পুরুষ দু’বার বিয়ে বাধ্যতামূলক

হাতে হাত রেখে পরম ভালোবাসার বন্ধনে জীবন কাটিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই দু’জন বিয়ে করেন। পৃথিবীতে বেশীরভাগ দেশের মানুষ জীবনে একবারই বিয়ে করেন। তবে সংসার ভেঙে গেলে দ্বিতীয়বার বিয়ে দোষের কিছু নয়। কিন্তু এমন কথা কি শুনেছেন কোনো একটি এলাকার সবাই দুই বিয়ে করেন। ভারতের রাজস্থানে একটি গ্রামে এই রীতি প্রচলিত বহু দিন ধরে।   ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছের দেরাসর গ্রামটিতে প্রত্যেক পুরুষেরই দু’বার বিয়ে বাধ্যতামূলক। কিন্তু, তাতে কোনো সামাজিক বা আইনগত সমস্যা হয় না এই গ্রামে। কিন্ত কেন? দেখে নেওয়া যাক কারণগুলি- গ্রামে প্রায় ৬০০ মানুষের বাস। গ্রামটি মূলত মুসলিম অধ্যুষিত। রয়েছে কম বেশি ৭০টি পরিবার। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রত্যেক পরিবারই নাকি বংশ পরম্পরাগতভাবে বিয়ে নিয়ে এই রীতি মেনে আসছে। এক প্রকার জোর করেই ছেলেদের দ্বিতীয়বার বিয়ে দিতে বাধ্য করে তাদের পরিবার। গ্রামবাসীদের দাবি, আগে গ্রামে যত জন পুরুষ বিয়ে করতেন, তাঁদের কারওরই প্রথম পক্ষের স্ত্রী-র সন্তান হত না। তাই দ্বিতীয় বার বিয়ে করতে হত। সেই দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর গর্ভে নাকি সন্তান আসত। বহুকাল ধরে এমন ঘটনাই ঘটছে। তার পর সেটাকেই রীতি হিসেবে মেনে নেন গ্রামবাসীরা। এখনও নাকি এমন ঘটনাই ঘটে চলেছে গ্রামটিতে। যদিও এই ঘটনার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কেউই। গ্রামবাসীদের কথায়, প্রথমবার বিয়ের পর অনেকেই দীর্ঘকাল সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেছেন, এ রকম উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। দ্বিতীয় বার বিয়ে করাটাকে তাই এই গ্রামে শুভ বলেই মনে করা হয়। / এআর /

পুরো শহর বিক্রি করে দেবে নিউজিল্যান্ড!

নিউজিল্যান্ডের পুরো একটি শহর বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে ওই দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওই শহরটির নাম ‘লেইক ওয়েটাকি ভিলেজ’।  এটি নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের উত্তরের শহর দুনেদিন থেকে প্রায় ১১২ মাইল দূরে অবস্থিত। এই শহরের মূল্য ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন। এই শহরটি ১৯৩০ সালে বাঁধ শ্রমিকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ায় পর ১৯৮০ সালে ওই এলাকাটি খালি হয়ে যায়।   এই শহরটির আকার আকৃতি অত্যন্ত সুন্দর। এর ফলে অনেকের কাছে এটি আকর্শনীয় জায়গা হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও এ শহরটিতে রয়েছে আটটি বাড়ি, একটি রেস্টুরেন্ট, মাল্টি কার পার্কিয়ের জায়গাসহ অন্যান্য আকর্ষনীয় স্থান।  নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক এক রিয়েল এস্টেট এজেন্সি এক বিবৃতিতে বলেন, এই শহরটিকে ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে গড়ে তুলা সম্ভব। সম্প্রতি সম্পত্তি বিক্রি সংক্রান্ত নিউজিল্যান্ডে একটি আইন পাশ হয়। ওই আইনে বিদেশি নাগরিকরা দেশটির কোনো সম্পত্তি কিনতে পারবে না বলে জানানো হয়। ২০১৮ সালের আগস্টে এই আইনটি পাশ হয়। দেশটির ট্রেড মন্ত্রী ড্যাভিড পার্কার বলেন, প্রকৃত নাগরিকরাই নিউজিল্যান্ডের জমি কিনতে পারবেন।  তথ্যসূত্র: সিএনএন এমএইচ/

নিষিদ্ধ বইয়ের স্মৃতিস্তম্ভ

বিখ্যাত ব্যাক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় সব দেশেই স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভ তো ইট, কাঠ, পাথর, সিমেন্ট, লোহা দিয়েই তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, এমনটি কখনও শোনেছেন? হ্যাঁ এথেন্সে এমন একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। যার পুরোটাই বই দিয়ে তৈরি। এটি বিভিন্ন নিষিদ্ধ বইয়ে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে। দেখতে অনেকটা পিরামিডের মতো। পৃথিবীর ভ্রমণপিপাসু ও বইপ্রিয় মানুষের কাছে এই স্থানটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। রোজ দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় এতে। দেশে দেশে যেসব বই নিষিদ্ধ রয়েছে বা এক সময় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল তা দিয়েই এই স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। ১৯৩৩ সালে জার্মানির যে স্থানে নাৎসিরা বিপুলসংখ্যক বই পুড়িয়েছিল সেখানেই শিল্পকর্মটি স্থাপন করা হয়েছে। নাৎসিদের বই পোড়ানোর ওই ঘটনার পর ৮ দশক পার হয়েছে। আর এই তাক লাগানো কাজটি করেছেন আর্জেন্টিনার শিল্পী মারতা মিনুকিন। সব ধরনের সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ তিনি নিষিদ্ধ বই দিয়ে এ শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন। এটিতে বানাতে তিনি ব্যবহার করেছেন ১ লাখ নিষিদ্ধ বই। প্রতিটি বই প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। জার্মানির খামখেয়ালি আবহাওয়ার জন্যই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সী মিনুকিন দক্ষিণ আমেরিকার পপ শিল্পের আইকন। তিনি এই শিল্পকর্মটিকে তার সব কাজের মধ্যে ‘সবচেয়ে রাজনৈতিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। সূত্র : ডেইলি মেইল। / এআর /

যে দ্বীপ শুধুই ভালোবাসাবাসির...

ভালোবাসার দ্বীপ। নাম থাউজ্যান্ড আইল্যান্ড। এর আবিষ্কারক ফ্রান্সের স্যামুয়েল ডি চামপ্লেইন। ১৬০০ সালে। দ্বীপটির অবস্থান কানাডার ওনটেরিও লেক ও সেন্ট লরেন্স নদীর মাঝামাঝি। এ নদীর মাঝে রয়েছে ছোট ছোট অজস্র দ্বীপ। এদেরই একত্রে নাম দেওয়া থাউজ্যান্ড আইল্যান্ড। নাম থাউজ্যান্ড আইল্যান্ড হলেও এখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ দ্বীপ। জানা গেছে, এগুলো একসময় ইন্ডিয়ান নানা উপজাতির দখলে ছিল। তারা বড় বড় ঘরে বাস করত। দ্বীপে শস্য ফলাত। জীবিকার জন্য নদীতে মাছ, বনে পশু শিকার করত। থাউজ্যান্ড আইল্যান্ডে একটি দ্বীপ হল হার্ট আইল্যান্ড। দেখতেও হৃদয় আকৃতির। এ দ্বীপটি ১৮৯৫ সালে কিনে নেন জর্জ বোল্ট নামের এক তরুণ জার্মান ইমিগ্র্যান্ট। জর্জ ছেলেবেলায় জার্মানির রাইনল্যান্ড ক্যাসেলটি দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। জর্জ হার্ট আইলান্ডে সে রকমই একটি ক্যাসেল তৈরি করে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অত্যন্ত আকর্ষণীয় নকশায় নিখুঁত পরিকল্পনায় তৈরি হওয়ায় এই মনোরম দুর্গটি সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। দ্বীপটিতে একটি প্রাসাদদুর্গও রয়েছে- দেখতে ছবির মতো। এর নাম বোল্ট ক্যাসেল। সাড়ে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ১২০ কক্ষের অনন্য প্রাসাদসহ আরও ১১টি ভবন নির্মাণ যখন শেষ পর্যায়ে- তখন ১৯০৪ সালে বোল্টের কাছ থেকে নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে টেলিগ্রাফ এলো, ‘ক্যাসেল নির্মাণের যাবতীয় কাজ বন্ধ করে দাও, মিসেস বোল্ট আর নেই।’ সারা পৃথিবীর বিখ্যাত ৩০০ কারুশিল্পী ও মিস্ত্রি যারা এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন- তারা হাতুড়ি-শাবল আর সরঞ্জামাদি ফেলে চলে গেলেন নিজ নিজ দেশে। ক্যাসেলটির নির্মাণ কাজ শেষ হল না- আর কোনোদিনও শেষ হবে না। এখন এই ক্যাসেলটি দেখাশোনা করে অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে শুধু নির্মাণকর্মীরা যে অবস্থায় ক্যাসেলটি ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন, ঠিক সে অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখার জন্য। জর্জ সি বোল্ট আর কখনও আসেননি দ্বীপটিতে। যে স্ত্রীর ভালোবাসার জন্য এই প্রাসাদ, তিনিই তো চলে গেছেন চিরতরে। এসে আর কষ্ট বাড়িয়ে লাভ কী! প্রেয়সীর ভালোবাসাকে এরচেয়ে আর কিভাবে মর্যাদা দেওয়া যেত! এখন হাজার হাজার পর্যটক যখন এই ইতিহাস শোনেন তাদের চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে। তারা আফসোস করেন মিসেস বোল্টের জন্য। শ্রদ্ধা জানান জর্জ সি বোল্টকে ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টির জন্য। সূত্র: বিবিসি। / এআর /

২৩ হাজার পোস্ট-মর্টেম করেছেন যিনি

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. রিচার্ড শেফার্ড। ৯/১১ তে টুইন টাওয়ারে বোমা হামলায় নিহতদের থেকে শুরু করে ২০০৫ এর লন্ডন হামলার শিকাররা, ১৯৯৩ সালে খুন হওয়া সাড়া জাগানো স্টিফেন লরেন্স থেকে শুরু করে প্রিন্সেস ডায়ান’র মৃতদেহ- ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। দীর্ঘদিন যাবত এই কাজ করার ফলে দেখা দিয়েছে নানা ধরণের মানসিক জটিলতা। ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট পেশা তার মানসিক স্বাস্থ্যকে কতটা প্রভাবিত করেছে তা প্রকাশ করতে বিবিসি’র ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানকে রিচার্ড শেফার্ড বলেন, ‘এক জায়গায় ২০০টি টুকরা টুকরা, ক্ষতবিক্ষত প্রাণহীন দেহ আপনার মনে একটি ছাপ রেখে যায়’। ‘মৃত্যুর সঙ্গে আমি খুবই পরিচিত, গত ৩৫ বছর ধরেই মৃত্যুর সঙ্গে আমার পরিচয়- কিন্তু এর মধ্যে এমন একটা সময় আসে যখন এটিকে দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না’। মানসিক সমস্যার সূত্রপাত ডা. শেফার্ডে’র অনুমান অনুযায়ী তার ক্যারিয়ারে ২৩ হাজারেরও বেশি পোস্ট মর্টেম করেছেন তিনি। এর মধ্যে অনেক দেহই ছিল গত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়া মানুষের মরদেহ। দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকার কারণে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগতে হয়েছে তাকে। ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট হিসেবে সাফল্যের শীর্ষে থাকা অবস্থায়, তার বয়স যখন ষাটের কোঠায়, এই সমস্যা শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি। পানীয়ের গ্লাসে বরফের উপস্থিতি তাকে তার মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বোমা হামলায় নিহতদের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ড. শেফার্ড। সে সময় বরফ না থাকায় মৃতদেহগুলো শীতল রাখা সম্ভব হয়নি। সে সময় মানসিক সমস্যার সূত্রপাত হলেও ড. শেফার্ড মনে করেন এর গোড়াপত্তন হয় আরও বছর দশেক আগেই। ‘উদ্ভট এবং অস্বস্তিকর’ ‘হাঙ্গারফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর মানসিক অস্থিরতার প্রথম ইঙ্গিতটা পাওয়া যায়,’ বলেন ড. শেফার্ড। ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের হাঙ্গারফোর্ড এলাকায় বন্দুকধারী মাইকেল রায়ান নিজেকে হত্যা করার আগে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ড. শেফার্ডের প্রথম বড় কেস ছিল সেটি। ‘ওই ঘটনাটি খুবই উদ্ভট ও অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার ভেতরে। যা পরবর্তীতে ক্রমশ বিস্তার লাভ করে,’ বলেন ড. শেফার্ড। তার নতুন বইয়ে ডা. শেফার্ড লিখেছেন, এক সময় চোখ বন্ধ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি, কারণ তার মনে হতো চোখ বন্ধ করলে রক্তাক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার চিন্তাকে গ্রাস করবে। ‘পরিপাকতন্ত্র, স্যাঁতস্যাঁতে যকৃত, স্পন্দনহীন হৃদয়, ছিন্ন হাত, দম আটকানো রক্তের গন্ধ প্রতিনিয়ত আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতো’। তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমার মনে হতো এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মনে হয় মৃত্যুই ভালো’। তবে পোস্ট-মর্টেম বা ময়নাতদন্ত যে কোনও নির্দয় বিষয় নয় তা’ও মনে করিয়ে দেন তিনি। ‘মানুষের মধ্যে ভুল ধারণাটা কেন তৈরি হয়েছে তা আমি বুঝি। কিন্তু এটিও একটি জটিল অস্ত্রোপচার আর এর ফলে মৃতদেহগুলো দেখতে কদর্য হয়ে যায় না’। পেশাগত নৈতিকতা ড. শেফার্ড বলেন, ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে মূল কাজটিই হলো সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা। ‘সত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী,’ বলেন ড. শেফার্ড। ‘আমি মৃতের পরিবারকে সবচেয়ে নিখুঁত তথ্য জানানোর চেষ্টা করি’। ড. শেফার্ড জানান, মৃতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন তিনি হয়ে থাকেন তা হলো, ‘মৃত্যুর সময় কী সে ব্যথা অনুভব করেছিল?’ ড. শেফার্ড বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তরে পরিবারের সদস্যরা যতই আঘাত পাক না কেন, আমি সাধারণত সত্যটাই বলে থাকি’। সূত্র: বিবিসি একে//

মায়ের জন্য আমি ডিআইজি জাহাঙ্গীর

জীবনের কঠিন বাস্তবকে যারা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে পারে তাদের জন্য সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার। সেই সফলতার জন্য যার সব থেকে বড় অবদান সে হলো তার মমতাময়ী "মা"। একমাত্র মায়ের কারণে জাহাঙ্গীর কবির হয়েছেন ডিআইজি। তার মায়ের আত্মত্যাগ তার সফলতার মূল ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছে। সম্প্রতি ডিআইজি জাহাঙ্গীর কবির একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন জাহাঙ্গীর কবির ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২নং মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপাল পুর গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজী মো. আবু জাফর এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি। মাতা মৃত. লায়লা বেগম। তিনি পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তিনি জীবনে কি হবেন এমন কোন টার্গেট তার ছিল না। নিজের বড় ভাই ও মামার পড়াশোনার পেছনে পেছনে নিজেও পড়ে গেছেন। তার সফলতার পেছনে মা,বাবা,ভাই ও মামার ভূমিকা আছে। তবে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাহাঙ্গীর কবির ইতোমধ্যে সুনামের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় পদায়ন করেছেন। তিনি দেশের মানুষের সেবা দিয়ে যেতে চান। নিজ এলাকায় জনপ্রিয় একজন মানুষ। তিনি কখনো নিজেকে নিয়ে গর্ব বা অহংকার করেন না। সবার মতো নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ ভাবেন। তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান। ঝিনাইদহের এই কৃতি সন্তান বাজার গোপাল পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (বর্তমান বাজার গোপাল পুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ) পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৯২ সালে এসএসসি পাশের পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। তবে সেখানে হোস্টেল সুবিধা না থাকায় পড়তে পারেননি। পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সেখানে ভর্তির সুযোগ পান। তারপরে তিনি ১৯৯৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হোন। পরে তিনি ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জাহাঙ্গীর কবিরের সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা ছিল না। তিনি ভালো বেতনে সার্কে চাকরি করতেন। কিন্তু সহধর্মিনী নাজনীন নাহারের ইচ্ছা তার স্বামী সরকারি কোন চাকরি করুক। তার ফলপ্রসূতে তিনি জেল সুপারের স্পেশাল বিসিএস পরীক্ষায় অংগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি মেধায় ১ম স্থান অধিকার করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। ব্যক্তি জীবনে রাদ শারার ও রাদ শাহামাত দুই সন্তানের বাবা জাহাঙ্গীর কবির বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডি.আই.জি প্রিজন হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তিনি ২০০৮ সালে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে জেল সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।তারপর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ ও ২ হয়ে এআইজি হিসেবে কারা অধিদফতরে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কুমিল্লা জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মজীবন শুরু করেন। জাহাঙ্গীর কবির পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের শেষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথম কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করতে পারার সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। এসএইচ/

সঙ্গী সন্ধানে এক ঘটক বৃক্ষের গল্প

ওক গাছ। ৫০০ বছরের বেশি বয়সের বৃক্ষটি অনেক রমণীদের মনের বাসনা পূরণ করে আসছে। জার্মানির হ্যামবার্গ শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১০০ কিমি দূরে দ্যদওর বনের এ বৃক্ষটি গত ১ শতাব্দী ধরে নরনারীর সঙ্গী খুঁজে দিচ্ছে। পাশাপাশি শতোর্ধ্ব বিবাহ সম্পন্ন করেছে প্রাচীন বৃক্ষটি। জানা যায়, প্রিয় মানুষটিকে পাওয়ার জন্য অথবা ভালো বন্ধু সন্ধানের জন্য নারীরা এই গাছকে পত্র লিখে পাঠায়। তাদের না-বলা কথাগুলো লিখে। সেখানে যদি পত্র পড়ে কোনও পুরুষের কাছে ভালো লাগে বা পত্রপ্রেরকের স্বপ্নের সঙ্গে পুরুষের স্বপ্ন মিলে যায় তবেই তাদের মিল হয়। তবে যার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অসমতা থাকে, সে উত্তর দিতে না চাইলে পত্রটি পড়ে আবার সেখানে রেখে দেয়। এতে অন্যজন পড়ার সুযোগ পায়। আর এভাবেই যুগ যুগ ধরে সম্পর্কের অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে অসংখ্য নিঃসঙ্গ নর-নারী। প্রকাণ্ড ওক গাছটিতে রয়েছে অদ্ভুত রকমের একটি বড় ছিদ্র, যেটি পেতে ৩ মিটার উঁচু কাঠের মই বেয়ে উঠতে হয়। তাতে হলুদ রং দিয়ে চিহ্নিত করা গর্তে রয়েছে। প্রতিদিন পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বেগুনি রঙের চিঠির খাম নিয়ে ডাক পিয়ন হাজির হয় সেখানে। সেখানে ১৯৮৪ সাল থেকে ২০ বছর ধরে চিঠি বিতরণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন কার্ল হেইঞ্জ মার্টিন্স নামের এক ডাক পিয়ন। বর্তামানে তিনি অবসরে আছেন। ৭২ বছরের এই প্রবীণ জানান, এ বিষয়টি জাদুর মতো ও অনেক কল্পনাসমৃদ্ধ। উপমহাদেশের অনেক স্থান থেকেই সেখানে পত্র পাঠানো হয় বলে জানান তিনি। মার্টিন্স জানান, এটির আবিষ্কারের গল্প। ১৮৯০ সালের ঘটনা। একবার স্থানীয় একটি মেয়ে এক চকলেট প্রস্তুতকারক যুবককে পছন্দ করে। বাবা ছেলেটিকে দেখে অপছন্দ ও অসম্মতি করে। তাই তারা দু’জনে আর তেমন দেখা করতে পারে না। এর পরে অনেক দিন তারা গোপনে গোপনে চিঠি লেখে। সেই ওক গাছটির কাছে চিঠি লিখে রেখে যায়। এভাবে এক বছর পরই মেয়েটির বাবা ছেলেটিকে মেনে নেয় এবং মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়েটি সম্পন্ন হয় চির প্রাচীন শাখা ছড়ানো ওক গাছটির নিচে। এ ঘটনায় বিষয়টি খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে জার্মান ডাক বিভাগ ১৯২৭ সালে গাছটিতে নিজস্ব পোস্টকোড নম্বর ও একজন ডাক পিয়ন নিযুক্ত করে। আজ পর্যন্ত পোস্টকোড নম্বর ও ডাক পিয়ন রয়েছে। তিনি আরও জানান, সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘটক গাছটির কাছে এখন বছরে প্রায় ১ হাজার চিঠি আসে। সূত্র: বিবিসি একে//

৫৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদ

প্রকৃতির লীলাভূমি বাংলাদেশ। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অপার মহিমা। সঙ্গে আছে চোখ ধাধানো স্থাপত্য ও পুরাকীর্তিও। এসব পুরাকীর্তির একটি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ। প্রাচীন এই মুসলিম স্থাপত্য-শিল্পটি ৫৫৩ বছর আগের তৈরি। সেই সুলতানি আমলে। মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম ছিল মসজিদবাড়িয়া। জানা যায়, পরবর্তীতে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদবাড়িয়াকে মজিদবাড়িয়ায় পরিবর্তন করেন। কালের পরিক্রমায় মসজিদটির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। শিল্প ও স্থাপত্যের নিদর্শনগুলো যত্নের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবুও ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে ভিড় জমান শত শত দর্শনার্থী। পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বরগুনা জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বে মসজিদটির অবস্থান। ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াছ শাহী বংশের স্বাধীন সুলতান রুকনুদ্দিন শাহ্ তৎকালীন বাকলা দখল করে ১৪৬৫ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। চন্দ্রদ্বীপে (বর্তমান বরিশাল বিভাগের) এ মসজিদই ইটের নির্মিত সর্বপ্রথম স্থাপত্যকীর্তি। মসজিদটিতে একটি বারান্দা আছে। রয়েছে কারুকার্যমণ্ডিত তিনটি দৃষ্টিনন্দন মেহরাব। মসজিদের পূর্ব পার্শ্বে তিনটি খিলান পথ ও আট কোণার মিনারের মতো ছয়টি থাম রয়েছে। পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’টি করে জানালা আছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে দরজা-জানালার কপাট ও চৌকাঠগুলো ভেঙে পড়ার পথে। বিশাল এক গম্বুজ মসজিদটিকে অনিন্দ্য সৌন্দর্য দিয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭৫ ইঞ্চি পুরু। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কারুকাজকৃত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন কিছু নিদর্শন। কিন্তু অযত্নে দেয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার করলে মসজিদটি আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ইসলামি স্থাপত্যশিল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি