ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৪৬:৪৯

২৩ হাজার পোস্ট-মর্টেম করেছেন যিনি

২৩ হাজার পোস্ট-মর্টেম করেছেন যিনি

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. রিচার্ড শেফার্ড। ৯/১১ তে টুইন টাওয়ারে বোমা হামলায় নিহতদের থেকে শুরু করে ২০০৫ এর লন্ডন হামলার শিকাররা, ১৯৯৩ সালে খুন হওয়া সাড়া জাগানো স্টিফেন লরেন্স থেকে শুরু করে প্রিন্সেস ডায়ান’র মৃতদেহ- ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। দীর্ঘদিন যাবত এই কাজ করার ফলে দেখা দিয়েছে নানা ধরণের মানসিক জটিলতা। ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট পেশা তার মানসিক স্বাস্থ্যকে কতটা প্রভাবিত করেছে তা প্রকাশ করতে বিবিসি’র ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানকে রিচার্ড শেফার্ড বলেন, ‘এক জায়গায় ২০০টি টুকরা টুকরা, ক্ষতবিক্ষত প্রাণহীন দেহ আপনার মনে একটি ছাপ রেখে যায়’। ‘মৃত্যুর সঙ্গে আমি খুবই পরিচিত, গত ৩৫ বছর ধরেই মৃত্যুর সঙ্গে আমার পরিচয়- কিন্তু এর মধ্যে এমন একটা সময় আসে যখন এটিকে দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না’। মানসিক সমস্যার সূত্রপাত ডা. শেফার্ডে’র অনুমান অনুযায়ী তার ক্যারিয়ারে ২৩ হাজারেরও বেশি পোস্ট মর্টেম করেছেন তিনি। এর মধ্যে অনেক দেহই ছিল গত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়া মানুষের মরদেহ। দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকার কারণে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগতে হয়েছে তাকে। ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট হিসেবে সাফল্যের শীর্ষে থাকা অবস্থায়, তার বয়স যখন ষাটের কোঠায়, এই সমস্যা শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি। পানীয়ের গ্লাসে বরফের উপস্থিতি তাকে তার মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বোমা হামলায় নিহতদের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ড. শেফার্ড। সে সময় বরফ না থাকায় মৃতদেহগুলো শীতল রাখা সম্ভব হয়নি। সে সময় মানসিক সমস্যার সূত্রপাত হলেও ড. শেফার্ড মনে করেন এর গোড়াপত্তন হয় আরও বছর দশেক আগেই। ‘উদ্ভট এবং অস্বস্তিকর’ ‘হাঙ্গারফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর মানসিক অস্থিরতার প্রথম ইঙ্গিতটা পাওয়া যায়,’ বলেন ড. শেফার্ড। ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের হাঙ্গারফোর্ড এলাকায় বন্দুকধারী মাইকেল রায়ান নিজেকে হত্যা করার আগে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ড. শেফার্ডের প্রথম বড় কেস ছিল সেটি। ‘ওই ঘটনাটি খুবই উদ্ভট ও অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার ভেতরে। যা পরবর্তীতে ক্রমশ বিস্তার লাভ করে,’ বলেন ড. শেফার্ড। তার নতুন বইয়ে ডা. শেফার্ড লিখেছেন, এক সময় চোখ বন্ধ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি, কারণ তার মনে হতো চোখ বন্ধ করলে রক্তাক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার চিন্তাকে গ্রাস করবে। ‘পরিপাকতন্ত্র, স্যাঁতস্যাঁতে যকৃত, স্পন্দনহীন হৃদয়, ছিন্ন হাত, দম আটকানো রক্তের গন্ধ প্রতিনিয়ত আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতো’। তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমার মনে হতো এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মনে হয় মৃত্যুই ভালো’। তবে পোস্ট-মর্টেম বা ময়নাতদন্ত যে কোনও নির্দয় বিষয় নয় তা’ও মনে করিয়ে দেন তিনি। ‘মানুষের মধ্যে ভুল ধারণাটা কেন তৈরি হয়েছে তা আমি বুঝি। কিন্তু এটিও একটি জটিল অস্ত্রোপচার আর এর ফলে মৃতদেহগুলো দেখতে কদর্য হয়ে যায় না’। পেশাগত নৈতিকতা ড. শেফার্ড বলেন, ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে মূল কাজটিই হলো সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা। ‘সত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী,’ বলেন ড. শেফার্ড। ‘আমি মৃতের পরিবারকে সবচেয়ে নিখুঁত তথ্য জানানোর চেষ্টা করি’। ড. শেফার্ড জানান, মৃতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন তিনি হয়ে থাকেন তা হলো, ‘মৃত্যুর সময় কী সে ব্যথা অনুভব করেছিল?’ ড. শেফার্ড বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তরে পরিবারের সদস্যরা যতই আঘাত পাক না কেন, আমি সাধারণত সত্যটাই বলে থাকি’। সূত্র: বিবিসি একে//
মায়ের জন্য আমি ডিআইজি জাহাঙ্গীর

জীবনের কঠিন বাস্তবকে যারা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে পারে তাদের জন্য সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার। সেই সফলতার জন্য যার সব থেকে বড় অবদান সে হলো তার মমতাময়ী "মা"। একমাত্র মায়ের কারণে জাহাঙ্গীর কবির হয়েছেন ডিআইজি। তার মায়ের আত্মত্যাগ তার সফলতার মূল ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছে। সম্প্রতি ডিআইজি জাহাঙ্গীর কবির একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন জাহাঙ্গীর কবির ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২নং মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপাল পুর গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজী মো. আবু জাফর এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি। মাতা মৃত. লায়লা বেগম। তিনি পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তিনি জীবনে কি হবেন এমন কোন টার্গেট তার ছিল না। নিজের বড় ভাই ও মামার পড়াশোনার পেছনে পেছনে নিজেও পড়ে গেছেন। তার সফলতার পেছনে মা,বাবা,ভাই ও মামার ভূমিকা আছে। তবে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাহাঙ্গীর কবির ইতোমধ্যে সুনামের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় পদায়ন করেছেন। তিনি দেশের মানুষের সেবা দিয়ে যেতে চান। নিজ এলাকায় জনপ্রিয় একজন মানুষ। তিনি কখনো নিজেকে নিয়ে গর্ব বা অহংকার করেন না। সবার মতো নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ ভাবেন। তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান। ঝিনাইদহের এই কৃতি সন্তান বাজার গোপাল পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (বর্তমান বাজার গোপাল পুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ) পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৯২ সালে এসএসসি পাশের পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। তবে সেখানে হোস্টেল সুবিধা না থাকায় পড়তে পারেননি। পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সেখানে ভর্তির সুযোগ পান। তারপরে তিনি ১৯৯৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হোন। পরে তিনি ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জাহাঙ্গীর কবিরের সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা ছিল না। তিনি ভালো বেতনে সার্কে চাকরি করতেন। কিন্তু সহধর্মিনী নাজনীন নাহারের ইচ্ছা তার স্বামী সরকারি কোন চাকরি করুক। তার ফলপ্রসূতে তিনি জেল সুপারের স্পেশাল বিসিএস পরীক্ষায় অংগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি মেধায় ১ম স্থান অধিকার করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। ব্যক্তি জীবনে রাদ শারার ও রাদ শাহামাত দুই সন্তানের বাবা জাহাঙ্গীর কবির বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডি.আই.জি প্রিজন হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তিনি ২০০৮ সালে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে জেল সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।তারপর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ ও ২ হয়ে এআইজি হিসেবে কারা অধিদফতরে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কুমিল্লা জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মজীবন শুরু করেন। জাহাঙ্গীর কবির পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের শেষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথম কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করতে পারার সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। এসএইচ/

সঙ্গী সন্ধানে এক ঘটক বৃক্ষের গল্প

ওক গাছ। ৫০০ বছরের বেশি বয়সের বৃক্ষটি অনেক রমণীদের মনের বাসনা পূরণ করে আসছে। জার্মানির হ্যামবার্গ শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১০০ কিমি দূরে দ্যদওর বনের এ বৃক্ষটি গত ১ শতাব্দী ধরে নরনারীর সঙ্গী খুঁজে দিচ্ছে। পাশাপাশি শতোর্ধ্ব বিবাহ সম্পন্ন করেছে প্রাচীন বৃক্ষটি। জানা যায়, প্রিয় মানুষটিকে পাওয়ার জন্য অথবা ভালো বন্ধু সন্ধানের জন্য নারীরা এই গাছকে পত্র লিখে পাঠায়। তাদের না-বলা কথাগুলো লিখে। সেখানে যদি পত্র পড়ে কোনও পুরুষের কাছে ভালো লাগে বা পত্রপ্রেরকের স্বপ্নের সঙ্গে পুরুষের স্বপ্ন মিলে যায় তবেই তাদের মিল হয়। তবে যার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অসমতা থাকে, সে উত্তর দিতে না চাইলে পত্রটি পড়ে আবার সেখানে রেখে দেয়। এতে অন্যজন পড়ার সুযোগ পায়। আর এভাবেই যুগ যুগ ধরে সম্পর্কের অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে অসংখ্য নিঃসঙ্গ নর-নারী। প্রকাণ্ড ওক গাছটিতে রয়েছে অদ্ভুত রকমের একটি বড় ছিদ্র, যেটি পেতে ৩ মিটার উঁচু কাঠের মই বেয়ে উঠতে হয়। তাতে হলুদ রং দিয়ে চিহ্নিত করা গর্তে রয়েছে। প্রতিদিন পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বেগুনি রঙের চিঠির খাম নিয়ে ডাক পিয়ন হাজির হয় সেখানে। সেখানে ১৯৮৪ সাল থেকে ২০ বছর ধরে চিঠি বিতরণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন কার্ল হেইঞ্জ মার্টিন্স নামের এক ডাক পিয়ন। বর্তামানে তিনি অবসরে আছেন। ৭২ বছরের এই প্রবীণ জানান, এ বিষয়টি জাদুর মতো ও অনেক কল্পনাসমৃদ্ধ। উপমহাদেশের অনেক স্থান থেকেই সেখানে পত্র পাঠানো হয় বলে জানান তিনি। মার্টিন্স জানান, এটির আবিষ্কারের গল্প। ১৮৯০ সালের ঘটনা। একবার স্থানীয় একটি মেয়ে এক চকলেট প্রস্তুতকারক যুবককে পছন্দ করে। বাবা ছেলেটিকে দেখে অপছন্দ ও অসম্মতি করে। তাই তারা দু’জনে আর তেমন দেখা করতে পারে না। এর পরে অনেক দিন তারা গোপনে গোপনে চিঠি লেখে। সেই ওক গাছটির কাছে চিঠি লিখে রেখে যায়। এভাবে এক বছর পরই মেয়েটির বাবা ছেলেটিকে মেনে নেয় এবং মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়েটি সম্পন্ন হয় চির প্রাচীন শাখা ছড়ানো ওক গাছটির নিচে। এ ঘটনায় বিষয়টি খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে জার্মান ডাক বিভাগ ১৯২৭ সালে গাছটিতে নিজস্ব পোস্টকোড নম্বর ও একজন ডাক পিয়ন নিযুক্ত করে। আজ পর্যন্ত পোস্টকোড নম্বর ও ডাক পিয়ন রয়েছে। তিনি আরও জানান, সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘটক গাছটির কাছে এখন বছরে প্রায় ১ হাজার চিঠি আসে। সূত্র: বিবিসি একে//

৫৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদ

প্রকৃতির লীলাভূমি বাংলাদেশ। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অপার মহিমা। সঙ্গে আছে চোখ ধাধানো স্থাপত্য ও পুরাকীর্তিও। এসব পুরাকীর্তির একটি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ। প্রাচীন এই মুসলিম স্থাপত্য-শিল্পটি ৫৫৩ বছর আগের তৈরি। সেই সুলতানি আমলে। মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম ছিল মসজিদবাড়িয়া। জানা যায়, পরবর্তীতে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদবাড়িয়াকে মজিদবাড়িয়ায় পরিবর্তন করেন। কালের পরিক্রমায় মসজিদটির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। শিল্প ও স্থাপত্যের নিদর্শনগুলো যত্নের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবুও ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে ভিড় জমান শত শত দর্শনার্থী। পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বরগুনা জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বে মসজিদটির অবস্থান। ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াছ শাহী বংশের স্বাধীন সুলতান রুকনুদ্দিন শাহ্ তৎকালীন বাকলা দখল করে ১৪৬৫ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। চন্দ্রদ্বীপে (বর্তমান বরিশাল বিভাগের) এ মসজিদই ইটের নির্মিত সর্বপ্রথম স্থাপত্যকীর্তি। মসজিদটিতে একটি বারান্দা আছে। রয়েছে কারুকার্যমণ্ডিত তিনটি দৃষ্টিনন্দন মেহরাব। মসজিদের পূর্ব পার্শ্বে তিনটি খিলান পথ ও আট কোণার মিনারের মতো ছয়টি থাম রয়েছে। পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’টি করে জানালা আছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে দরজা-জানালার কপাট ও চৌকাঠগুলো ভেঙে পড়ার পথে। বিশাল এক গম্বুজ মসজিদটিকে অনিন্দ্য সৌন্দর্য দিয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭৫ ইঞ্চি পুরু। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কারুকাজকৃত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন কিছু নিদর্শন। কিন্তু অযত্নে দেয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার করলে মসজিদটি আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ইসলামি স্থাপত্যশিল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন। / এআর /

কক্লিয়ার ইমপ্লান্টে বদলে গেছে অর্পার জীবন [ভিডিও]

মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া তাসনিম খান অর্পা। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। অর্পা`র বয়স যখন দুই বছর তখন তার বাবা মা বুঝতে পারলেন তাদের মেয়ে কিছুটা অস্বাভাবিক। শব্দ শুনলে সাড়া দেয় না। অন্য শিশুদের মতো সহজে ডেকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় না। তাকে নিয়ে যাওয়া হলো ডাক্তারের কাছে। ডাক্তাররা নানা ধরনের পরীক্ষা করে জানালেন, অর্পা কানে শুনতে পায় না। সে কখনো কানে শুনতে পাবে না। যেকোনো বাবা মায়ের মানসিক অবস্থা তখন যেমন হয় অর্পা`র বাবা মায়ের অবস্থাও তেমনি হলো। মাথায় ভেঙ্গে পড়লো আকাশ। চোখে মুখে শুধুই অন্ধকার। এমন সুন্দর চঞ্চল একটা মেয়ে সারা জীবন প্রতিবন্ধীত্ব নিয়ে বেঁচে এটি তারা মেনে নিতে পারছিলেন না। অর্পার মা-বাবা এখানে-ওখানে মেয়েকে নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। এমন সময় জানতে পারলেন কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের কথা। অর্পার বাবা-মাকে অনেকে পরামর্শ দিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক কান গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদার- এর শরনাপন্ন হওয়ার জন্য। অনেকের পরামর্শ মতো অর্পার বাবা মা মেয়েকে নিয়ে ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদার- এর কাছে গেলেন। ২০০৯ সালে ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদার অর্পার কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের মাধ্যমে একটি ডিভাইস প্রতিস্থাপন করেন। প্রতিস্থাপনের একুশ দিন পর নিয়মানুযায়ী ডিভাইসটির সুইচড অন করা হয়। এর পর অর্পাকে স্বাভাবিক নিয়মে স্পিচ থেরাপী দেওয়া হয়। তারপর থেকে অর্পা অন্য স্বাভাবিক শিশুদের মতো শুনতে পারে। ধীরে ধীরে বয়স অনুযায়ী সে বলতেও শিখে। অর্পা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। পড়ালেখার পাশাপাশি তাঁর ছবি আকার হাত বেশ ভালো। অর্পার মা লায়লা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমরা যখন মেয়েকে নিয়ে অন্ধকার সমুদ্রে হাতড়াচ্ছি তখন কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের খবর আমাদের আশার আলো দেখায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা আমাদের মেয়েকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। ইনশাল্লাহ সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। জানা যায়, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট নামক ডিভাইসটি প্রতিস্থাপনের পর তাকে নিয়ম অনুযায়ী স্পিচ থেরাপী দেওয়া হয়। এরপর থেকে সে ধীরে ধীরে বলতেও শিখে। রাতে ঘুমানোর সময় ও গোসলের সময় ডিভাইসটি খুলে রাখতে হয়। ফলে এ সময় সে কোনো কিছু শুনে না। অন্যদিকে প্রতিরাতে ঘুমানোর সময় যখন ডিভাইসটি খুলে রাখা হয় তখন ডিভাসের ব্যাটারীতে ইলেকট্রিকের চার্জ দিয়ে রাখা হয়। জানা যায়, এই ডিভাইস ব্যবহারে অর্পাকে কোন ধরনের অস্বস্তিতে ভুগতে হয়না। এর কোনো ধরনের ক্ষতিকর দিক নেই বলেও দাবি করেন অর্পা`র মা লায়লা বেগম। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেভলপমেন্ট অব কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট গ্রোগ্রাম ইন বিএসএমএমইউ’ এর কর্মসূচি পরিচালক ও ইমপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদারের নেতৃত্বে একটি টিম ২০১০ সাল থেকে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বাংলাদেশে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট চিকিৎসায় পথিকৃত বিএসএমএমইউর অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ শ্রবণ প্রতিবন্ধী রোগীদের দেখছেন।  বাংলাদেশে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারিতে পথিকৃত এই চিকিৎসক এই সম্পর্কে জানান, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বা বায়োনিক ইয়ার হলো শ্রবণ সহায়ক অত্যাধুনিক এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা মারাত্মক বা সম্পূর্ণ বধির ব্যক্তিকে শব্দ শুনতে সহায়তা করে। ইমপ্লান্ট চালুর পর বধির ব্যক্তির কাছে তখন পৃথিবীটা শব্দময় হয়ে ওঠে। কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের দুটি অংশ- একটি অংশ কানের বাইরে থাকে, যে অংশে থাকে মাইক্রোফোন, স্পিচ প্রসেসর ও ট্রান্সমিটার এবং আরেকটি অংশ কানের ভেতরে থাকে, যে অংশে থাকে রিসিভারস্টিমুলেটর এবং ইলেকট্রোড। অপারেশনের মাধ্যমে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট অন্তঃকর্ণের কক্লিয়াতে স্থাপন করা হয়। মাইক্রোফোনের মাধ্যমে গৃহিত শব্দ এনালগ ইলেকট্রিক সিগনালে পরিবর্তিত হয়। স্পিচ প্রসেসর সেই সিগনালকে প্রসেসিং করে কোডেড ডিজিটাল সিগনালে রূপান্তর করে। ট্রান্সমিটার কয়েলের মাধ্যমে কোডেড সিগনাল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে ইন্টারনাল রিসিভার স্টিমুলেটরে প্রেরিত হয়। রিসিভার স্টিমুলেটর সেই কোডেড সিগনালকে ইলেকট্রিক ইমপালসে পরিবর্তিত করে ইলেকট্রোডে প্রেরন করে। ইলেকট্রোড ইলেকট্রিক ইমপালসকে অডিটরী নার্ভের মাধ্যমে মস্তিস্কে প্রেরন করে এবং মস্তিস্ক সেই ইমপালসকে শব্দ হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে শ্রবন প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি শব্দ শুনতে পায়। জানা গেছে, একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সেবা প্রদান করা হয়। এই টিমের মধ্যে থাকে ইএনটি সার্জন, অডিওলজিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট বা অডিটরিভারবাল থেরাপিস্ট, সাইকোলজিস্ট ও সমাজকর্মী। বিভিন্ন রোগে অন্তঃকর্ণের ক্ষতিগ্রস্ত কক্লিয়ার জন্য কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে শিশু বা ব্যক্তির শ্রবণ বধিরতার মাত্রা দেখার জন্য প্রথমে কিছু অডিওলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল টেস্ট করা হয়। এই টেস্টের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির। এর পর রোগীর সাইকোলজিক্যাল ও জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার উপযুক্ততার জন্য কিছু টেস্ট করা হয়। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির ২-৩ সপ্তাহ পর অডিওলজিস্ট সুইচ অন এবং ম্যাপিং করে যথার্থ শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তারপর ইমপ্লান্ট গ্রহিতাকে শব্দ শোনা ও ভাষা শেখানো হয় বা হ্যাবিলিটেশন করে স্পিচ থেরাপিস্ট। ডা. জোয়ারদার জানান, শুধু কক্লিয়ার স্থাপনের মাধ্যমেই এই চিকিৎসা শেষ নয়। রোগীকে ফলোয়াপে থাকতে হবে। কোনো সময় কোনো সমস্যা দেখা দিলে টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি জানান, দেশের বাইরেও এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি চালু আছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে রোগীরা এই টিমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। অা অা// এআর/

কনডমে জীবন সুরক্ষা হয় যেখানে

কেনিয়ার বন্দর নগরী মোম্বাসাতে মৎস্যজীবীরা নিজেদের জীবন সুরক্ষার জন্য কনডম ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে এর ব্যবহার ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কনডমকে তারা এক ধরনের সুরক্ষার জন্যই ব্যবহার করছেন, তবে কনডম বলতেই লোকে যে ধরনের সুরক্ষার কথা ভেবে নেয় - বিষয়টা মোটেও সেরকম নয়। জিনিসটা তাদের ভীষণ কাজে এলেও নিজেদের বাড়িতে এর জন্য অল্পবিস্তর মুশকিলে পড়তে হচ্ছে তাদের। তাহলে আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিভাবে কেনিয়ার জেলেরা জীবন সুরক্ষায় এই কনডম ব্যবাহার করে। আলি কিবওয়ানা মোয়াতেলা মোম্বাসার একজন জেলে - মাছ ধরতে যাকে প্রতি সপ্তাহেই ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে হয়। একটা কনডম হাতে নিয়ে তিনি দেখাচ্ছিলেন - প্রথমে ওটা খুলেই নিজের টি-শার্টে ঘষে ঘষে কনডমের গায়ের লুব্রিক্যান্ট বা পিচ্ছিল পদার্থটা তারা তুলে ফেলেন। তারপর সেই শুকনো কনডমটা দিয়ে জড়িয়ে ফেলেন নিজের মোবাইল ফোন - তারপর ওপরে বেলুনের মতো একটা গিঁট মেরে নিলেই, ব্যাস - কেল্লা ফতে! এভাবে কনডমে জড়িয়ে নিলেই আসলে জেলেদের মোবাইল ফোনগুলো ওয়াটারপ্রুফ হয়ে যায় - ভারত মহাসাগরের ঢেউ আছড়ে পড়লেও পানি ঢুকে মোবাইলগুলোর কোনও ক্ষতি হয় না। আর সমুদ্রে কেনিয়ার জেলেদের সুরক্ষার যেহেতু কোনও গ্যারান্টি নেই - তাই মোবাইল ফোন চালু থাকলে উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগে ভীষণ সুবিধে হয়। আলি মোয়াতেলা বলছিলেন, আমাদের নৌকা প্রায়ই উল্টে যায়, কিন্তু কনডমে মোড়ানো থাকলে মোবাইলগুলোর অন্তত কোনও ক্ষতি হয় না। আসলে আমরা গরিব মানুষ, বিপদে মোবাইলগুলো বাঁচানোর এই সহজ ও শস্তা উপায়টা আমরাই মাথা খাটিয়ে বের করেছি। মোবাইল চালু থাকলে সাগর থেকেই ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, একটা সময় ফিক্স করে আমাদের মাছ সোজা এনে সৈকতে খদ্দেরের কাছে বেচেও দিতে পারি। এমন কী নৌকাডুবি হলেও উদ্ধারকারী যানকেও মোবাইল থেকে সঠিক লোকেশন পাঠাতে পারি। কাজেই কনডমই আমাদের মোবাইলগুলো বাঁচিয়ে দিয়েছে!" মোম্বাসারই আর একজন মৎস্যজীবী জাফারি মাতানো। বছরকয়েক আগে সমুদ্রে তাদের নৌকা উল্টে গেলে তার সঙ্গী আরও চারজন জেলে ডুবে গেলেও তিনি রক্ষা পেয়ে গিয়েছিলেন। প্রায় দশ ঘন্টা ধরে সারারাত একটানা সাঁতরে তিনি কোনও ক্রমে পাড়ে এসে ওঠেন। জাফারি বলছিলেন, "আমাদের নৌকো যখন উল্টে যায়, তখন গভীর রাত। সকাল এগারোটা নাগাদ আমাদের তীরে এসে ভেড়ার কথা ছিল। প্রচন্ড ঢেউয়ে নৌকার মোট ছজন জেলেই আমরা পানিতে পড়ে যাই।" তিনি আরো জানান, বিরাট ঢেউ ঠেলে আমি আর আমার এক বন্ধু যে কীভাবে সাঁতরে পাড়ে এসেছিলাম ভাবাই যায় না। আমাদের বাকি চারজন কিন্তু মারা গিয়েছিল - অথচ সেদিন মোবাইল ফোন চালু থাকলে ওরাও হয়তো বেঁচে যেতে পারত!" কনডম এভাবে আজ জেলেদের জীবন বাঁচালেও এর কিন্তু অন্য একটা বিচিত্র সমস্যাও আছে। আলি মোয়াতেলা জানাচ্ছেন, "অনেক সময় এই কনডোমগুলো ভুল করে আমাদের পকেটেই রয়ে যায়। আর বাড়িতে সেটা দেখে ফেললেই সর্বনাশ - এই কনডোম তোমার কাছে কেন, এগুলো দিয়ে কী কর এসব নিয়ে বউয়ের সঙ্গে তুলকালাম শুরু হয়ে যায়।" "যতই বলি এগুলো আমরা পরিনি, আমাদের পেশার কাজে লাগে - কে শোনে কার কথা! শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনে কনডম জড়িয়ে পুরো ব্যাপারটা দেখানোর পর তারা বিষয়টি বুঝতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা   এমএইচ/

অ্যামাজনে নতুন নৃ-গোষ্ঠীর সন্ধান!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন অ্যামাজনের গহীনে খোঁজ মিলেছে নতুন এক নৃ-গোষ্ঠীর। যাদের সঙ্গে বহির্বিশ্বের কোনো যোগাযোগই ছিল না। এই বিচ্ছিন্ন জাতিটির সন্ধান দিয়েছে একটি ড্রোন। ড্রোনে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নতুন এ তথ্য পাওয়া গেছে। ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা চিত্র বলছে, ওই বনের আরও অন্তত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে যাদের সঙ্গে বহির্বিশ্বের কোনো যোগাযোগ নেই। তারা বিচ্ছিন্ন। ড্রোনে ধরা পড়া অ্যামাজনের ওই জায়গাটি জাভারি নদীর উপত্যকা। এটি পেরু ও ব্রাজিল সীমান্তের খুব কাছাকাছি একটি জায়গা। ব্রাজিল সরকারের ইন্ডিজিনাস সংস্থা `ফুনাই` ড্রোনের ভিডিওগুলো ধারণ করেছে। ড্রোনের ভিডিওতে দেখা যায়, গাছ দিয়ে আচ্ছাদিত একটি জায়গা। সেখানে কয়েকজন মানুষ হাঁটাহাঁটি করছেন। হাঁটাহাঁটি করা মানুষদের মধ্যে একজন ঘুরছেন বর্শা নিয়ে। সেখানে পাম গাছ ও খেজুর গাছ দিয়ে তৈরি বাড়ি, পাথর দিয়ে তৈরি ধারালো অস্ত্র যার হাতল কাঠের, এছাড়া কুঁড়েঘরের দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছবিগুলোও প্রকাশ করেছে ‘ফুনাই’। ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা চিত্র ‘ফুনাই’বলছে, এ অঞ্চলের আটটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে যাদের সঙ্গে বহির্বিশ্বের কোনো যোগাযোগ নেই। তারা বিচ্ছিন্ন। সূত্র : ডয়েচে ভেলে। / এআর /

এক যুগ পরপর ফোটে যে ফুল

ফুলের সুভাস নিতে কে না চায়? ফুলের সৌন্দর্যে সবাই মোহিত। এটি যে ভালোবাসার প্রতীক। কিন্তু জানেন কি ফুল নিয়ে অদ্ভূত সব কাণ্ডও রয়েছে। এমন একটি ফুল আছে যেটি প্রতি ১২ বছর পরপর ফোটে। কোনো কোনো প্রজাতি পরিস্ফুটিত হতে ১৬ বছর সময়ও লেগে যায়। ফুলটির নাম নীলকুরিঞ্জি। এটি নীলরঙা। এই অদ্ভূত ফুলটি ফোটে ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায়। ওই পর্বতমালাটিকে নীলকুরিঞ্জির রাজ্যও বলা যায়। ফুলটি দেখতে অনেকটা ঘণ্টার মতো। সাধারণত ফুলগুলো থোকায় থোকায় ফোটে। মাইলের পর মাইল যখন ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়, দেখে মনে হয়, কে যেন নীল-বেগুনি রঙের গালিচা পেতে দিয়েছে। প্রায় আগাছার মতোই এতগুলো বছর ফুলের গাছগুলো নিজের মতো করে বাঁচে-মরে। আবার নতুন করে পাতা গজায়। প্রকৃতির খেয়ালে নিজের মতো করেই বেড়ে ওঠে। কিন্তু যেই ফুলের সময় আসে, অমনি বনের চেহারাটাই পাল্টাতে থাকে। মনে হয়, কেউ যেন তুলি দিয়ে ক্যানভাসে নীল রঙের ফুলগুলো পরপর এঁকে চলেছেন। কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত রং বদলাতে থাকে। কুঁড়ি থেকে ধীরে ধীরে এই ফুল যখন ফুটতে থাকে, তখন নীল থেকে নীলচে-বেগুনি ও সবশেষে ফিকে বেগুনি রং ধারণ করে। ফুলের এমন ঐশ্বরিক পরিবর্তন দেখার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় লেগে যায় এ উপত্যকায়। গোটা পর্বত ঢাকা পড়ে এক আশ্চর্য নীল গালিচায়। এ ফুল প্রকৃতির এক বিস্ময়। সারা বছর তো নয়ই, এমনকি প্রতি বছরের কোনো বিশেষ সময়ও এই ফুল ফোটে না। ১২ বছর পরপর ফোটে এ ফুল। এ এলাকার আদিবাসীদের কাছে নীলকুরিঞ্জি শুভবার্তার প্রতীক। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্ট্রোবিল্যান্থেস কুনথিয়ানা। এক যুগ পরপর ভারতের তামিলনাড়ু ও কেরালা রাজ্যের নীলগিরি পাহাড়ে বেশি পাওয়া যায় নীলকুরিঞ্জি ফুলটি। স্থানীয়দের কাছে এটি কুরুঞ্জি নামেও পরিচিত। কেউ হঠাৎ ফুলটি দেখলে তেমন কোনো বৈশিষ্ট্যই চোখে পড়বে না। নীলকুরিঞ্জি ফুল ফুটলে নীলগিরির বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌমাছিসহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গের আধিক্য বহু গুণ বেড়ে যায়। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও ভূবিজ্ঞানীদের মতে, নীলকুরিঞ্জির বৈচিত্র্যময় রং, মিষ্টি গন্ধ ও মধু কীটপতঙ্গদের প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। তামিলনাড়ু ও কেরালা রাজ্যের আশপাশে এ ফুল দেখতে পাওয়া যায়। মুন্নার জেলার নীলগিরি পাহাড়েই সবচেয়ে বেশি ফোটে এ ফুল। শোনা যায়, নীলগিরি পাহাড়ের নামই হয়েছে এই ফুল থেকে। ২০০৬ সালে এমনই নীল রঙের ফুলে ঢেকে গিয়েছিল নীলগিরি। চলতি বছরে নীলগিরির বিস্তীর্ণ এলাকা ফের একবার ঢেকে গেছে নীলকুরিঞ্জি ফুলে। প্রায় ২৫০ প্রজাতির হয়ে থাকে নীলকুরিঞ্জি ফুল। এর মধ্যে শুধু ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ৪৬টির মতো প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়। ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার পাহাড়ই এই ফুল ফোটার আদর্শ স্থান বলে প্রকৃতিবিদরা মনে করেন। গাছগুলোর দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। প্রায় প্রজাতির ক্ষেত্রে এই ফুল ফোটে প্রতি ১২ বছরে মাত্র একবার। কয়েকটি প্রজাতির বেলায় এই ফুল ফুটতে ১৬ বছরও লেগে যায়। সাধারণত জুলাই থেকে ডিসেম্বর এ ফুল ফোটার আদর্শ সময়। সূত্র: ডেইলি মেইল। / এআর /

২০ লাখ টাকার ‘তুফান’ দেখতে কমলাপুরে ভিড়

ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি। রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে তাই শেষ সময়ের বেঁচা-কেনা চলছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে এসব কোরবানিযোগ্য গরু।অন্যান্য হাটের মতো রাজধানীর কমলাপুর হাটেও উঠেছে বিপুল সংখ্যক গরু।তবে এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা ও উৎসুক জনতার নজর কেড়েছে সবচেয়ে দামি গরু ‘তুফান’। যার দাম হাঁকা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। গরুর মালিক দিনাজপুরের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান। ‘তুফান’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই দুই বছর আগে বাছুর কিনে নিয়েছিলাম। এখন কমলাপুর বাজারের সবচেয়ে বড় গরু এটি। গরুর ব্যবসার পাশাপাশি আমি ম্যানেজমেন্টে পড়াশুনা করছি। আমার ইচ্ছে দেশে মাংসের চাহিদা মেটানো। ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে খামার করার চিন্তা রয়েছে। কমলাপুর গরু হাট ঘুরে দেখা যায়, অনেক বড় বড় গরু উঠেছে। এর মধ্যে ‘টাইগার’, ‘কালু’ অন্যতম।টাইগারের দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। কালুর দাম ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক গরু আছে। যেগুলোর দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি